Friday, October 25, 2024

পশ্চিমবঙ্গে অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে সবাইকে সাবধান হতে বললেন মমতা by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু পরেই ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভিতরকণিকা ও ধামারার কাছে ল্যান্ডফল করেছে ঘূর্ণিঝড় 'ডানা'।  শহর কলকাতা থেকে দক্ষিণবঙ্গ ও পশ্চিমের জেলাগুলি সারাদিনই ভিজছে অঝোরধারায়। এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাতভর নবান্নের কন্ট্রোল রুমে থেকে নজরদারি চালিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো পরিস্থিতিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়  সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু একইসঙ্গে এদিন বারবার রাজ্যে অশান্তির আশঙ্কাপ্রকাশ করে সবাইকে সাবধান হতে বলেছেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ দুষ্টুমি করতে পারে, অশান্তির ছক হতে পারে। দাঙ্গার একটা পরিস্থিতি হয়েছিল। পুলিশ, গোয়েন্দাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। সামনে কালীপুজা, জগদ্ধাত্রী পুজা। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে। সীমান্ত থেকেও দুষ্টু লোক ঢুকতে পারে। তা যাতে না হয়, পুলিশকে বলছি, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে।”  

সাংবাদিক বৈঠক শেষ করার আগেও তিনি ফের এনিয়ে পুুলিশ, গোয়েন্দাদের সতর্ক করেন। বার বারই উল্লেখ করলেন রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বারবার ত্রাণ শিবিরে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন 'দ্রুত দুর্যোগ কেটে যাবে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবরকম পরিষেবা পৌঁছে দিতে যেন দেরি না হয়।’

রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির কারণে বেশকিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সে সব জায়গা পরিদর্শন করে মেরামতির নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে জমা পানিতে  ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় পুরসভাগুলিকেই বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, লাগাতার বৃষ্টির কারণে এমনিতেই বন্যা পরিস্থিতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তারওপর লাগাতার পানি ছেড়ে ডিভিসি পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিচ্ছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ  ভেসে গেলেও এক পয়সা দেওয়া হয় না।’

mzamin

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পাঁচ ইসরাইলি সেনা নিহত

লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরাইলি পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেল আবিব। বৃহস্পতিবার রাতে এক হামলায় নিহত হন ওই সেনারা। নিহতের পাশাপাশি আরও সাত সেনা আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ৮নং আর্মড ব্রিগেডের ৮৯তম ব্যাটালিয়নের রিজার্ভ সেনা ছিলেন। এরমধ্যে মাওরি নামের এক সেনা ব্যাটালিয়নের উপকমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দখলদার ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রাথমিক তথ্যে জানিয়েছে, নিহত এসব সেনা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট ছোড়েন। হামলার মুখে পড়ার সময় ওই সেনাদের কাছে যুদ্ধ রসদ পৌঁছে দিচ্ছিল অন্যান্য সেনারা। প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানিয়েছে, রসদ গ্রহণের যে মিটিং পয়েন্ট ছিল সেখানে বেশ কয়েকটি রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। যারমধ্যে একটি রকেট আঘাত হানে একটি বাড়িতে। যেটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনারা। যারা রসদ পৌঁছে দিতে গিয়েছিল তাদের মধ্যেও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গাজা যুদ্ধের শুরুতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে। এতে করে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ এক বছর পার করেছে। তবে সম্প্রতি লেবাননের অভ্যন্তরে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। যাতে হিজবুল্লাহর সাথে তাদের উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছেছে। এরমধ্যে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হাশেম সাফিউদ্দিনকে হত্যা করেছে ইসরাইল।

mzamin

একদা লাদেনের ঘাঁটি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে সন্ত্রাসের নতুন কারখানা

ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ তিনটি সন্ত্রাসী সংগঠন  লস্কর-ই-তৈবা, হিজবুল মুজাহিদিন এবং জইশ-ই-মহম্মদ পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে দেশের সেনা ও গোয়েন্দা বাহিনীর  একটি ক্যাম্পাসে যৌথ প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করেছে। একটি সূত্র এনডিটিভিকে এখবর জানিয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে , ক্যাম্পটি 'সম্পূর্ণ নিরাপদ' কারণ পাশেই একটি পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্প রয়েছে। তাই সেনাবাহিনীর অনুমতি ছাড়া সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণে বহিরাগতদের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর  একজন  জেনারেল গোটা  শিবিরের তত্ত্বাবধান করছেন বলে মনে করা হচ্ছে , যেটি অস্ত্র পরিচালনা সহ যুদ্ধের একাধিক বিষয়ে  পুরুষ ও নারীদের  প্রশিক্ষণ দিচ্ছে । অ্যাবোটাবাদে সাবেক  আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন বাস করতেন এবং অপারেশন পরিচালনা করতেন -  প্রাচীর ঘেরা কম্পাউন্ডকে লক্ষ্য করে ২০১১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট হামলা চালায়। বিন লাদেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

২০১২ সালে পাকিস্তান সেই কাঠামো ভেঙে দেয়। লাদেনের সেই গুপ্তঘাঁটির ধ্বংসাবশেষের উপরেই এই নতুন জঙ্গি শিবিরটি হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। যেখানে একটি বড়সড় জঙ্গি তৈরির কারখানা চলছে। লস্কর, হিজবুল ও জৈশের তিন পান্ডা হাফিজ সৈয়দ, সৈয়দ সালাউদ্দিন এবং মাসুদ আজহার যার নেতৃত্বে রয়েছে। তিনজনেরই নাম রয়েছে এনআইএ-র জঙ্গি দমন বিভাগের খাতায়। নতুন ক্যাম্পটি তিনটি সংগঠনের জন্য একটি নিয়োগ কেন্দ্র বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি সেনা গাড়িতে হামলা সহ গত কয়েকদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পর নতুন সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রর  খবর সামনে এসেছে। ওই সন্ত্রাসী হামলায় দুই সেনা ও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হয়। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে জখম করা হয়। গান্ডেরওয়ালের জঙ্গি হামলাতেও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র নিয়ে দুজন পাকিস্তানি শ্রমিক শিবিরে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বেসামরিকদের উপর এই হামলাটি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ নিরপরাধ লোকদের উপর ‘জঘন্য ও কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা জানিয়েছেন’। সেই হামলার একদিন পর, তেহরিক লাবাইক ইয়া মুসলিম নামক একটি নবগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি ডেরা অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র : এনডিটিভি

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির আরও অভিযোগ

সাবেক স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটর সুইমস্যুট মডেল স্টাসি উইলিয়ামস বলেছেন, ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে স্পর্শ করেছিলেন। ওই সময় উইলিয়াম দেখা করতে গিয়েছিলেন বহুল আলোচিত যৌন নিপীড়ক জেফ্রে এপস্টেইনের সঙ্গে। সিএনএন থার্সডে অনুষ্ঠানে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেছেন স্টাসি উইলিয়ামস। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটেছিল তার সবিস্তারে বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে। তখন স্টাসি উইলিয়ামসের বয়স ছিল ২০-এর কোটায়। তিনি তখন ডেটিং করছিলেন এপস্টেইনের সঙ্গে। ওই সময় নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্পের অফিসের বাইরে তাকে স্পর্শ করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে স্টাসি উইলিয়ামসের তিনজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছে সিএনএন। তারা সবাই জানিয়েছেন যে তাদেরকে যথাক্রমে ২০০৬, ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে এসব বিষয়ে জানিয়েছেন স্টাসি উইলিয়ামস। তিনি বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে নিউ  ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউতে হাঁটছিলেন। এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে তাকে ট্রাম্প টাওয়ারে নিয়ে যান এপস্টেইন। অফিসের বাইরে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প। স্টাসি উইলিয়ামস বলেন, এরপর যা ঘটলো তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমাকে তুলে তার বুকের মধ্যে নিলেন। তার হাত আমার শরীরে। এরপরই তার হাত সচল হয়ে ওঠে। আমার বুকে, কোমরে এমনকি অন্য সব জায়গায় সঞ্চালিত হতে থাকে। পুরোটা সময় এভাবে তার হাত সঞ্চালিত হয়েছে। এতে আমি একেবারে জমে গিয়েছিলাম। কী ঘটতে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারিনি। স্টাসি উইলিয়ামস আরও বলেন, ট্রাম্পের হাত যখন এভাবে আমার শরীরে সঞ্চালিত হচ্ছিল তখন  এপস্টেইন এবং ট্রাম্প অব্যাহতভাবে গল্প করে যাচ্ছিলেন। তাদের দু’জনের মুখেই ছিল হাসি। এক পর্যায়ে সম্ভবত ট্রাম্পের একজন সহকারী প্রবেশ করেন রুমে এবং বেরিয়ে যান। সামাজিকতা রক্ষা করতে আমাকে হাসিমুখে থাকতে হয়। সেই হাসি আমার শরীরের ছিল না। বুঝতে পারছিলাম না আমার কথা বলা উচিত কিনা। আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত কিনা। স্রেফ জানতাম না। আমার জীবনে সবচেয়ে আকস্মিক ঘটনা এটা।

এই সাক্ষাতের খুব বেশি দিন পরের কথা নয়। ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি পোস্টকার্ড পান স্টাসি উইলিয়ামস। তার কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তার মডেলিং এজেন্সিতে তা ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। ওই পোস্টকার্ডটিতে ছিল ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো অবকাশযাপন কেন্দ্রের সামনে পাম বিচের ছবি। পোস্টকার্ডের অন্যপিঠে ট্রাম্প লিখেছিলেন- ‘স্টাসি, ইওর হোম অ্যাওয়ে ফ্রম হোম। লাভ, ডনাল্ড’।
তবে স্টাসি উইলিয়ামসের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্পের এবারের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির। তারা বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে নির্বাচনে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জুমকলে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক মুখপাত্র ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, নির্বাচনের দু’সপ্তাহ আগে এসব অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, পোস্টকার্ডে যে হাতের লেখা তা ট্রাম্পের লেখা না।
উইলিয়ামস বলেন, এই ঘটনার এক বছর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ওই সময় তার এজেন্ট তাকে নিউ ইয়র্কে এক নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত হন এপস্টেন। একই বছর প্লাজা হোটেলে ট্রাম্পের আয়োজনে বড়দিনের এক পার্টিতে এপস্টেনকে আরও একবার দেখেন উইলিয়ামস। এসময় তারা তিনজনে একসঙ্গে কথা বলেন। এর আগে একবার ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল।  উইলিয়ামের ঘনিষ্ঠ একজন সিএনএনকে বলে, এপস্টেনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উইলিয়াম তাদেরকে বলেছিলেন। সিটি প্রপার্টি রেকর্ড বলছে যে, এপস্টেইনের একজন বিশ্বস্ত সহযোগী ১৯৯২ সালে ফিফথ এভিনিউ থেকে একটি ব্রাউনস্টোন কিনেছেন। উইলিয়ামস বলেন, বড়দিনের পার্টির পরে জুমকলে এপস্টেইন আমাকে বলেন যে, আমার প্রতি তার ভীষণ আগ্রহ। আমরা একে অন্যের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করতে লাগলাম। মাঝে মাঝে আমরা হাঁটতে বের হতাম। এ সময় ঘন ঘন ডনাল্ডের বিষয়ে কথা বলতেন এপস্টেইন। ওই সময় পর্যন্ত এপস্টেইন যে একজন যৌন নিপীড়ক সে সম্পর্কে কেউ জানতোই না। তিনি এমন যদি জানতাম তাহলে তার সঙ্গে এক টেবিলে বসতামই না।
স্টাসি উইলিয়ামস ও এপস্টেইন যখন ট্রাম্প টাওয়ার ছেড়ে আসেন, উইলিয়ামস বলেন, তখন তিনি ছিলেন নীরব। একদিন হাঁটার সময় এপস্টেইন আমাকে স্পর্শ করার সুযোগ ট্রাম্পকে দেয়ার জন্য বাজে কথা শোনান। এরপর আমি ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য লজ্জাবোধ করতে থাকি। সেখানে আমাকে এক দলা মাংসপিণ্ডের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। বহুদিন আমি এটাকে বয়ে বেড়াচ্ছি।

mzamin

ইসরায়েলের ৭০ সেনা হত্যার দাবি লেবাননের যোদ্ধাদের

লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে প্রায় হোচট খাচ্ছে ইসরায়েলে সেনারা। এবার দেশটির ৭০ সেনা হত্যার দাবি করেছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার হিজবুল্লাহর অপারেশন রুম জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর ৭০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে। গত সপ্তাহে একটি বিবৃতি ৫৫ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা।

বিবৃতিতে সেনা হত্যার কথা বলা হলেও কোনো জায়গার কথা জানায়নি। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, স্থল অভিযান শুরুর পর লেবাননের অভ্যন্তরে তারা প্রায় ২০ জন সেনা হারিয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ হামলায় প্রায় ৩০ সেনা নিহত হয়েছেন।

বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য। গত এক বছরে বিশ্বে অনেক বিপদের মুহূর্ত এসেছে। তবে এবারেরটি সবচেয়ে ভয়াবহ। সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। এরপর লেবাননে স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। অন্যদিকে তেহরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে তেলআবিব।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর পক্ষ থেকে সব পক্ষকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার কারণে মূলত এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যায় লেবাননের বৈরুতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইসরায়েল বোমা হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। মাটিতে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। আকাশ ধুলাবালি ও ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। পুরো লেবানন থেকে ওই দৃশ্য দেখা যায়। এ হামলা হয় মাটির নিচে থাকা হিজবুল্লাহর বাংকার লক্ষ্য করে। এ হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। ইসরায়েলের এক সপ্তাহ ধরে চালানো হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর আসে।

তারও এক সপ্তাহ আগে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে পর পর অসংখ্য ওয়াকি-টকি এবং পেজার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং তিন হাজার জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। 

ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক। পুরোনো ছবি
ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক। পুরোনো ছবি

উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র চাইলে শুধু নির্বাচন দিলে হবে না -আলোচনা সভায় বক্তারা

উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র চাইলে শুধু নির্বাচন দিলে হবে না, প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করা চ্যালেঞ্জ। এই বক্তব্য এসেছে ঢাকায় এক আলোচনাসভায়। আলোচকেরা এ–ও বলেছেন, এখানে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলে সেটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কোনো রাজনৈতিক দল এসব সংস্কার করেনি; কিন্তু দলগুলোর মধ্যে এমনটা অনুধাবন করতে দেখা যাচ্ছে না যে তাদেরও বদলাতে হবে।

বৃহস্পতিবার ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা: আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আদর্শ ও বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) যৌথভাবে বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে ওই আলোচনার আয়োজন করে। আলোচকেরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুজন সমন্বয়ক। তাঁরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল অবস্থায় আছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে আলোচকদের প্রায় সবাই নতুন করে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন।

গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে চ্যালেঞ্জ কোথায়, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণতন্ত্র কেন প্রয়োজন, এটা নির্ধারণ করা না গেলে চ্যালেঞ্জ কোথায়—তা বের করা যাবে না। মানুষ কতকগুলো ন্যূনতম অধিকার জন্মসূত্রে পায়। সেসব অধিকার রক্ষার পথ হলো গণতন্ত্র। আর তা নিশ্চিত করতে পারে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান।

আওয়ামী লীগের আমলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, এ মন্তব্য করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করা চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রের পরিবর্তন ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। এখানে ব্যান্ডএইড (পট্টি) দিয়ে করলে সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন এক দিনে, এক বছরে, পাঁচ বছরে হবে না। এখানে দেখতে হবে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান তৈরির নির্ধারিত পথে আছে কি না। তিনি বলেন, পুলিশ কাজ করছে না, বাজারে দাম বেশি—প্রতিষ্ঠান না থাকায় এসব হয়েছে। এটা এক দিনে ঠিক হয়ে যাবে না।

আলী রীয়াজ বলেন, গণতন্ত্রে উত্তরণের দ্বিতীয় পথ হলো ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা। সবাই একমত হবেন তা নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত থাকতেই হবে। দ্বিমত পোষণ করার অধিকারই গণতন্ত্র। কিন্তু ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকতে হবে। তিনি বলেন, যাঁরা জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন, এটা বলে কী বুঝাচ্ছেন সেটা পরিষ্কার করা দরকার।

রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না বলে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এত বড় একটি অভ্যুত্থান হয়েছে, আওয়ামী লীগ কার্যত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দলটির একজন নেতাও কি অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন?

আন্দোলন সফল হওয়ার পর অন্য কোনো দলেও নিজ থেকে পরিবর্তনের চেষ্টা নেই বলে মন্তব্য করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দলগুলো যদি সংস্কৃতি বদলের প্রথম পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরিবর্তন আশা করা কঠিন। সংস্কার প্রয়োজন; কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অনুধাবন করছে না যে তাদেরও বদলাতে হবে।

শুধু নির্বাচনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এত মানুষ জীবন দেননি, এমন মন্তব্য করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, গণতন্ত্র দুই ধরনের। একটি হচ্ছে ন্যূনতম গণতন্ত্র, যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতার হাতবদল হবে। আরেকটি হচ্ছে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীন ও কার্যকর থাকবে।  প্রধানমন্ত্রীর হাতে সবকিছু কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকবে না। উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র চাইলে শুধু নির্বাচন দিলে হবে না, কিছু সংস্কার করতে হবে। এত বছর দেশের কোনো রাজনৈতিক দল এসব সংস্কার করেনি। আইন উপদেষ্টা বলেন, কোন ধরনের গণতন্ত্র চাই, সেটা ঠিক করতে হবে।

কেন সংবিধানের পথে

সরকার কেন সংবিধানের পথে হাঁটল, সে ব্যাপারেও ব্যাখ্যা দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট তাঁকে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়। তিনি গিয়ে দেখেন, সেখানে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন। সংবিধানের পথে যাত্রার সিদ্ধান্ত ছিল সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ৭ আগস্ট ছাত্র আন্দোলেনর নেতারা বসে উপদেষ্টা কারা হবেন, ঠিক করেছেন। কেউ তখন বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেননি। সাংবিধানিক পথে যাওয়াটা ভুল হয়ে থাকলে, এটি সবার ভুল।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন যে কেন শহীদ মিনারে শপথ নিলাম না, কেন বিপ্লবী সরকার হলো না, কেন সাংবিধানিক পথে গেলাম।... এখন আপনি দেখবেন, কোনো কোনো মানুষ, তাঁরা পৃথিবীর সবকিছু জানেন। তাঁদের একজন সম্পর্কে মনির হায়দার বললেন, ‘আসিফ ভাই, মনে হয় তাঁকে “জাতির পিতা” না বানিয়ে দেওয়া পর্যন্ত থামবে না। অথবা তাঁকে জাতির পিতা বানিয়ে দিলেও সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সহিষ্ণু হওয়ার আহ্বানও জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ঐক্য না থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। ভিন্নমত থাকবে; কিন্তু অনৈক্য থাকলে হবে না। ঐক্য থাকলে বিজয়ী হওয়া যাবে।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জাহেদ উর রহমান চৌধুরী বলেন, সংস্কার দরকার আছে; কিন্তু অল্প সময়ে সংস্কার করে দেশকে অসাধারণ করে ফেলা হবে, এটা হবে না। এ ধরনের কথা মাঠে এনে সংঘাত তৈরি করা হচ্ছে।

সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ছাত্ররা তাঁদের নিয়োগকর্তা। সরকারেও ছাত্রদের প্রতিনিধি আছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা কার কাছে অভিযোগ করছেন? সাংবাদিক সাহেদ আলম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে একটি সেতু তৈরি করার আহ্বান জানান।

‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করলে তা প্রতারণা হবে’

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ এবং বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবী, আমলা, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের একটা অংশ ভূমিকা রেখেছিল। সরকার পতনের পরও সেই শ্রেণি ক্ষমতায় রয়ে গেছে। তাদের ক্ষমতায় থাকতে দেওয়াটা একটি ভুল।

সব জায়গা থেকে আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করতে হবে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচার করতে হবে। এর আগে কোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করলে তা প্রতারণা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে দায়িত্ব নিয়েছি, এই দায়িত্ব সম্পন্ন না করা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক চাপ, কোনো প্রশাসনিক চাপ, নতুন করে যদি কোনো ফ্যাসিবাদ শক্তি জেগে ওঠে—সেটার চাপ এবং আন্তর্জাতিক কোনো চাপ, এগুলোতে আমরা মাথা নত করব না।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, হাতবদল হয়ে পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। প্রতিটি জায়গায় সিন্ডিকেট রয়েছে। সিন্ডিকেট এক হাত থেকে আরেক হাতে গেছে। আগের সিন্ডিকেটও এখনো কিছু ভাগ পায়। আবার মামলা বাণিজ্যও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিভাজন শুরু হয়েছে। যে দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা হয়েছে, তার জন্য অপেক্ষা না করে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।

দেশ খারাপ দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন দেওয়ার কথা বলছে। সব বাদ নিয়ে শুধু নির্বাচন দিলে হবে না। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল অবস্থায় আছে। আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের প্রতিও অন্তর্বর্তী সরকার সঠিক দায়বদ্ধতা দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, আবার জাতীয় ঐক্য দরকার। নাহলে এর খেসারত দিতে হবে।

অন্যদের মধ্যে আইনজীবী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ, আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমান, ব্রেইনের নির্বাহী সদস্য সাদিক মাহবুব বক্তব্য দেন।

‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা: আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকেরা। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা একাডেমিতে
‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা: আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকেরা। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা একাডেমিতে ছবি: দীপু মালাকার


নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঢাকার বাসভবনে লাখ লাখ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীর হামলার পর ৫ই আগস্ট তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনের একটি সেফ হাউসে বসবাস করছেন। ভারত সরকার তার জন্য কড়া নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা করেছে। দ্য প্রিন্ট এই খবর নিশ্চিত করেছে। লুটিয়েন্স বাংলো দেশের মন্ত্রী, সিনিয়র এমপি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

শেখ হাসিনার মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে লুটিয়েন্স বাংলোয় রাখা হয়েছে। তার  গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দ্য প্রিন্ট সঠিক ঠিকানা বা রাস্তার বিবরণ প্রকাশ করতে অপারগ। একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে নিশ্চিত করেছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে শেখ হাসিনা মাঝেমধ্যে লোদি গার্ডেনে হাঁটাহাঁটি করেন। তার জন্য একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ  পোশাকে সেসব কর্মকর্তারা তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেন। একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই সুরক্ষা পাচ্ছেন। তিনি দুই মাসেরও বেশি সময় সেখানে বসবাস করছেন। এখানে তার থাকার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার কাছের কয়েকজন গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পদত্যাগ করে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন। এরপর দু’দিনের মধ্যে সেই জায়গা থেকে অন্যত্র চলে যান। হিন্দন ঘাঁটিতে তিনি পৌঁছালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

আরেকটি সূত্র জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনা  বেশি সময় ওই বিমানঘাঁটিতে থাকতে পারতেন না। সেখানে ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। সুতরাং, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় এবং তারপর লুটিয়েন্স দিল্লির নিরাপদ ও সুরক্ষিত এলাকায় একটি সেফ হাউসের ব্যবস্থা করা হয়। এটি একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকা। এখানে অনেক সাবেক এবং কর্মরত সংসদ সদস্যের বাসা রয়েছে। যখন হাসিনার বাসার বাইরে যাবার প্রয়োজন হয় তখন তিনি কোর নিরাপত্তা গ্রুপকে জানান এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার অবস্থান বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রকাশ করেনি। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগস্টে সংসদে বলেন যে, হাসিনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই মুহূর্তে ভারতে আসার অনুমোদন  চেয়েছিলেন। হাসিনার সঙ্গে তার বোন  শেখ রেহানাও ছিলেন। তিনি একজন বৃটিশ নাগরিক। রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির নেত্রী। তবে রেহানা তার বোনের সঙ্গে তার বাসায় থাকছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিল্লি সদর দপ্তরের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক, তিনিও দিল্লিতে থাকেন। সায়মাই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

২০১০ সালে হাসিনার প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে তার এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের সভাপতিত্বে ট্রাইব্যুনাল হাসিনা এবং অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের  গ্রেপ্তারের জন্য প্রসিকিউশনের দায়ের করা দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আইসিটি তদন্তে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ৬০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

mzamin

তুরস্কে আকাশ ও প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রিজের সদর দপ্তরে ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় নিন্দা বিশ্ব নেতাদের

তুরস্কের আকাশ ও প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) সদর দপ্তরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। বুধবার রাজধানী আঙ্কারায় সন্ত্রাসীদের হামলায় পাঁচজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড। এতে বলা হয়, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন- আমি তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের স্থাপনায় এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাই। তার পাশাপাশি রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি দেশ এবং আঞ্চলিক জোটের নেতারাও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে আঙ্কারার এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে পুতিন বলেছেন, প্রিয় প্রেসিডেন্ট এবং সহকর্মীরা কাজানে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু আমরা কাজ শুরু করার আগে আঙ্কারায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করতে চাই। কেননা মিডিয়াতে সেখানে সন্ত্রাসী হামলার খবর জানানো হয়েছে।
এই সন্ত্রাসী হামলায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুপ্রতীম দেশ তুরস্কের পাশে রয়েছে এবং সেখানে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। হামলায় হতাহত এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। নিজের এক্সের এক পোস্টে এসব বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জন কিরিবিও ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আজ সকালে আমাদের প্রার্থনা ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের জন্য। আমরা এই কঠিন সময়ে তুর্কি জনগণের সঙ্গেই আছি।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আমরা সকল সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানাই। ন্যাটো তার মিত্র দেশ তুর্কির সঙ্গেই রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান। সামরিক এই জোট আঙ্কারার ওই ঘটনা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এক্সের এক পোস্টে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, আঙ্কারায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ইইউ তুর্কি জনগণের পাশে আছে বলেও জানিয়েছে জোসেফ।
তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন বলেছেন, আঙ্কারায় সন্ত্রাসী হামলা একটি গুরুতর বিষয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিশেষ করে যারা তাদের পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে আঙ্কারায় অবস্থিত ফরাসি নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাক্রোন।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ এক্সের বার্তায় বলেছেন, আঙ্কারায় নিহত ও আহতদের খবরে আমি হতবাক। আমরা যেকোনো সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই এবং আমাদের অংশীদার তুর্কির পাশে দাঁড়াচ্ছি।

ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক শুফও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি তার সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেদারল্যান্ডস সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে। আমরা তুর্কির প্রতি সহানুভূতিশীল এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামারও এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আমাদের সমাজে সন্ত্রাস ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

তুরস্কে অবস্থিত কানাডার দূতাবাসও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে আমরা তুরস্কের সঙ্গে আছি। এই কঠিন মুহূর্তে আমরা একে অপরের বন্ধু এবং মিত্র।

mzamin

ভোল পাল্টালেন তুলসি গাব্বার্ড

ভোল পাল্টে ফেললেন তুলসি গাব্বার্ড। কমপক্ষে ২০ বছর ডেমোক্রেট রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। কিন্তু আকস্মিক মঙ্গলবার ঘোষণা দিলেন রিপাবলিকান দলে যোগ দিচ্ছেন। একসময় প্রেসিডেন্ট পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন এই ডেমোক্রেট। কিন্তু নর্থ ক্যারোলাইনাতে ঘোষণা দিয়েছেন মঙ্গলবার। বলেছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাগাজিন টাইম। তুলসি গাব্বার্ড বলেন, আমি জনগণের পার্টিতে যোগ দিচ্ছি। আমি যোগ দিচ্ছি সমতার দলে। এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে এবং তার ইতি ঘটানোর লড়াই থেকে। এই দলটি হলো কমন সেন্সের দল। এই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন একজন প্রেসিডেন্ট, যার আছে শান্তির জন্য উৎসাহ ও শক্তি। তুলসি গাব্বার্ড আরও বলেন, আপনারা জানেন, কমপক্ষে ২০ বছর আমি ডেমোক্রেট ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে ডেমোক্রেট পার্টি একেবারে অচেনা। তিনি বলেন, উদাহরণ হিসেবে আপনি যখন কমালা হ্যারিসের দিকে তাকাবেন, দেখবেন তিনি স্বাধীনতা বিরোধী। তিনি সেন্সরশিপপন্থি। তিনি সীমান্ত খুলে দেয়ার পক্ষে। শান্তির তোয়াক্কা না করে তিনি যুদ্ধের পক্ষে। টাইম লিখেছে, তুলসি গাব্বার্ডের বয়স এখন ৪৩ বছর। তিনি এখন রিপাবলিকান। তবে তিনি রিপাবলিকান হওয়াতে কেউই হতাশ হননি। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ক্যারিয়ারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে হাওয়াই রাজ্য থেকে নির্বাচিত সাবেক এই রাজনীতিক প্রকাশ্যে ডেমোক্রেটদের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমর্থক হয়ে ওঠেন। এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এশিয়ার মতো দলবদলের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি রিপাবলিকানদের প্রথম সারির কিছু নেতা দল বদল করে ডেমোক্রেটদের সমর্থন করেছেন। তার মধ্যে আছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও তার মেয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক কনফারেন্স চেয়ার লিজ চেনি। তারা এবারের নির্বাচনে এরই মধ্যে সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসকে। এরপরই তুলসি গাব্বার্ডের দল পরিবর্তনের খবর এলো। কমালা হ্যারিসকে ডিক চেনি ও তার মেয়ে লিজ চেনি সমর্থন করা নিয়ে তুলসি গাব্বার্ড বলেছেন, ডেমোক্রেট যে যুদ্ধবাজ একটি দল এর মধ্য দিয়ে সেটাই প্রমাণ হলো।

তুলসি গাব্বার্ড স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যের মালিকের মেয়ে। তার পিতামাতা স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ফলে তুলসি গাব্বার্ড তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০২ সালে। ওই সময় তিনি হাওয়াই রাজ্যে এ যাবতকালের সবচেয়ে কণিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ওয়েস্ট ওয়াহুর ডিস্ট্রিক্ট ৪২ থেকে ডেমোক্রেট হিসেবে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন সেখানে। তিনি আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য রাজনীতি ছেড়ে দেন ২০০৪ সালে। তাকে ইরাক ও কুয়েতে মোতায়েন করা হয়। সেখান থেকে ফিরে তিনি ২০১০ সালে হনুলুলু সিটি কাউন্সিলে নির্বাচন করে জয়ী হন। ২০১১১ সালে তিনি পুরো রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময় তিনি কংগ্রেসের জন্য হাওয়াইয়ের সেকেন্ড ডিস্ট্রিক্ট আসনের জন্য ডেমোক্রেট প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ সময় পর্যন্ত তিনি খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। সেখানে তিনি অন্য ৫জন  প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। ফলে ডেমোক্রেট পার্টির একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে দ্রুতই আবির্ভাব ঘটে তার। তাকে ডেকে পাঠান প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ওই সময়কার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অনুমোদন করেন। ২০১২ ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকে। ২০১২ সালে প্রথম হিন্দু, প্রথম আমেরিকান সামোয়ান হিসেবে দ্রুততার সঙ্গে উপরের দিকে উঠে যান তুলসি গাব্বার্ড। ২০১৩ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হন। তিনি সব সময় দলীয় সীমারেখা মেনে চলেননি। মাঝেমাঝেই তখনকার প্রেসিডেন্ট ওবামার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার জন্য ডেমোক্রেট নেতৃত্বের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রাইমারি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। অভিযোগ তোলেন, এ প্রক্রিয়ায় সুবিধা দেয়া হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে।  ওই বছর ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কংগ্রেসের ভাইস চেয়ার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারণায় সমর্থন দেন।  এ কারণে তিনি একজন প্রথম সারি সমর্থক হয়ে ওঠেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তুলসি গাব্বার্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত (ট্রাম্প)-এর সঙ্গে তার খোলামেলা এবং ইতিবাচক মিটিং হয়েছে। তখন গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ট্রাম্পের মন্ত্রিপরিষদে সুযোগ পাচ্ছেন তুলসি গাব্বার্ড।  ২০১৯ সালে তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন। ঘোষণা দেন যে, কংগ্রেসের জন্য নতুন নির্বাচন করবেন না। ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম অভিশংসন প্রাস্তাবে ভোটের পর তিনি ডেমোক্রেট শিবিরে সবচেয়ে অপছন্দের প্রার্থী হয়ে ওঠেন।

mzamin

রণক্ষেত্রে রুশ ফৌজের শক্তি বাড়াতে এবার ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার পাশাপাশি এবার সেনা মোতায়েন করে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ৩,০০০ উত্তর কোরিয়ার সৈন্য রাশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি স্থানে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে এই বাহিনী ইউক্রেনে যুদ্ধে গেলে তা ''ন্যায্য " হবে না। এই সেনা মোতায়েনের ফলে উত্তর কোরিয়ানদের ইউক্রেনে রাশিয়ান বাহিনীতে যোগদানের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং দুই দেশের মধ্যে বর্ধিত সামরিক সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে। কারণ মস্কো দুই বছরেরও বেশি সময় পর স্থবির হয়ে যাওয়া যুদ্ধে জমি পেতে অস্ত্র ও সৈন্য খুঁজছে। প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন যে পিয়ংইয়ং সরাসরি রাশিয়াকে সহায়তা করার পরিণতি ভোগ করতে পারে। তার মন্তব্য ছিল প্রথম প্রকাশ্যে মার্কিন নিশ্চিতকরণ যে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় সৈন্য প্রেরণ করেছে।

কিন্তু পিয়ংইয়ং এবং মস্কো এই দাবি অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন যে-' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস কমপক্ষে ৩,০০০ উত্তর কোরিয়ার সৈন্য রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর ভ্লাদিভোস্টক থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে জাহাজে করে ভ্রমণ করেছিল। এই সৈন্যরা তারপরে পূর্ব রাশিয়ার একাধিক রাশিয়ান সামরিক প্রশিক্ষণ সাইটের দিকে যাত্রা করেছিল, যেখানে তারা বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আমরা এখনও জানি না যে এই সৈন্যরা রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে প্রবেশ করবে কিনা, তবে এটি অবশ্যই একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সম্ভাবনা। "কিরবি বলেছিলেন যে তারা পশ্চিম রাশিয়ায় যেতে পারে এবং তারপরে ইউক্রেনের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সম্পৃক্ত  হতে পারে। তবে তিনি এবং অস্টিন উভয়ই বলেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে চলেছে। রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া গত দুই বছরে তাদের সহযোগিতাকে তীব্রভাবে বাড়িয়েছে এবং জুন মাসে তারা একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যাতে উভয় দেশকে আক্রমণ করা হলে তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য সমস্ত উপলব্ধ উপায় ব্যবহার করা যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারে যা দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া মঙ্গলবার বলেছে যে তারা কথিত সেনা প্রেরণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে বিবেচনা করবে।

সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

mzamin

আওয়ামী লীগের ডিএনএতে ফ্যাসিজম আছে: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আওয়ামী লীগের ডিএনএতেই ফ্যাসিজম আছে। শুধু জুলাই কিংবা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড না, স্বাধীনতা পরবর্তী ‘৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করার চেষ্টা চালিয়েছিল। সেসময় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল তারা। শুধু ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতা করার কারণে সে সময় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে গুম করা হয়।

বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে  আদর্শ প্রকাশনী আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা : আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, সাংবাদিক মনির হায়দার, সাহেদ আলম, সাইয়েদ আবদুল্লাহ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও উমামা ফাতেমা অংশ নেন।
আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ঠিক কত লোক মারা গিয়েছে তা আমরা জানি না। যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে যে নৃশংসতা ও হত্যার খবর আমরা প্রতিনিয়ত জানতে পারছি তা ভাষায় বর্ণনা কঠিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের নতুন পথ দেখিয়েছে, সাহস জুগিয়েছে। তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও আগস্ট মাসে মৃত্যুভয় ভুলে গিয়েছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি সিস্টেমকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সমস্ত ভেঙে পড়া কাঠামোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সহজ না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো সংস্কারের সময় দিতে হবে। আমরা ১৫ বছর ধৈর্য ধারণ করেছিলাম, এখন যেন অল্পতেই অধৈর্য হয়ে না পড়ি।

নিজের এবং সরকারের সমালোচনাকে সাধুবাদ জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন,সমালোচনা অবশ্যই করবেন, তবে একটু ভালোবাসা দিয়ে করবেন আমরা তো আর আওয়ামী লীগ না। তিনি এ সময় আক্ষেপ করে বলেন, পত্রপত্রিকা, সমাবেশ ও ফেসবুকে এখন সবাই কেবল সরকার ও সমন্বয়কদের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের অপকর্ম সম্পর্কে বলছে না। আমরা কি তাদের সব অপরাধ ভুলে গিয়েছি,তাদের এত দ্রুত ক্ষমা করে দিয়েছি?

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ এখন নিজেকে প্রজা না ভেবে দেশের নাগরিক ভাবতে শুরু করেছে। এটাই অনেক বড় পরিবর্তন। তিনি বলেন,অন্তর্বর্তী সরকারের এখন এক নাম্বার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অপকর্মকারীদের বিচার করা। আমি মনে করি যে প্রক্রিয়ায় তা করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। সুতরাং সবার আগে বিচার বিভাগের সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশ বিভাগের আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় গত ৩টি নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে গণতন্ত্র হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে ৩টি নির্বাচন এই সংবিধানের ধারাবাহিকতার দোহায় দিয়েই করা হয়েছে। এখন ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীদের সে সংবিধান বহন করা কি দায়িত্ব?

হাসনাত বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি ভুল করেছি। আমরা বিপ্লবটিকে সংবিধানের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছি। এর কারণে আমাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে। ৫ই আগস্ট ছাত্রজনতা এই মুজিববাদী সংবিধানের বিপক্ষে রায় দিয়েছিল,ফলে ৭২-এর সংবিধান এখন একেবারে অপ্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, দ্রুত ফ্যাসিবাদকে কায়েম রাখার অন্যতম মূল নিয়ামক এই শক্তিকে দ্রুত বাতিল ঘোষণা করতে হবে। কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়ক বলেন, শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতা দরকার নেই, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা দরকার। মত আগেও প্রকাশ করা যেতো, তবে সেটা ছিলো সহমত। তাই আমরা শুধু মত নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।

আলোচনা সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে  ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এবং এর একক ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর সমালোচনা করেন। এত দ্রুত আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে গিয়ে ও রাষ্ট্র সংস্কারের কথা পাশ কাটিয়ে শুধু দ্রুত নির্বাচন চাইলে সেটি জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সাথে বেঈমানি করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

mzamin

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত চান সেনাপ্রধান

রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে কানাডায় আছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে তিনি কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগের উপ-সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন আর কেলসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে তারা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া কানাড-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের ভাইস চেয়ার এবং সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালমা জাহিদ এমপির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে বুধবার অটোয়ায় পৌঁছেছেন ওয়াকার-উজ-জামান। কানাডার প্রিভি কাউন্সিল অফিসের পরিচালক অজিত সিং এবং কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান তাকে স্বাগত জানান। এ খবর দিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে রাষ্ট্রীয় সফরে কানাডায় পৌঁছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগের উপপ্রধান জনারেল স্টিফেন আর কেলসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতকালে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং অটোয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

বুধবার সকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে  পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করেন সালমা জাহিদ। ওই বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সহজীকরণ এবং ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জেনারেল ওয়াকার। সেইসঙ্গে কানাডায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের ভিসার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

জেনারেল ওয়াকার যুব উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে কানাডায় আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের বিষয়ে অটোয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের হাইকমিশনার। তবে কানাডায় বিদ্যমান আবাসন ঘাটতির কথা জানিয়ে অধিক ভিসা প্রদানে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সালমা জাহিদ। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য কানাডার মনোনীত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো মোকাবেলায় সমাধান খোঁজার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওই বৈঠকে শিক্ষা খাতে বিনিময় কর্মসূচিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কানাডিয়ান ও বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া তারা কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। জেনারেল ওয়াকার কানাডার আবাসন সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতার প্রস্তাব করেছিলেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য খাতে কানাডাকে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেলসির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে, জেনারেল ওয়াকার চাকরিরত এবং অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দেন। তিনি ভিসার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর প্রস্তাব করেন এবং এর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। পৃথক ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তা দ্বিপাক্ষিক পরামর্শের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার প্রস্তাব করেন জেনারেল ওয়াকার। এছাড়া উভয় দেশের সামরিক কর্মীদের পেশাগত উন্নয়ন জোরদার করতে ডিফেন্স কলেজ এবং স্টাফ কলেজগুলোতে অফিসার বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন সেনাপ্রধান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম আসাদুল হক এবং মেজর মো. শোয়েব রিফাত অউমির সাথে উভয় বৈঠকে অংশ নেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান।

mzamin

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ডানা, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ওড়িশার ধামরায়

ঘূর্ণিঝড় ডানা আজ বৃহস্পতিবার রাতেই আছড়ে পড়তে পারে। তার আগেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ওড়িশার ধামরায়। এই ধামরাতেই আঘাত হানার কথা ঘূর্ণিঝড় ডানার। গতকাল বুধবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে ধামরায়।

এদিকে আজ সকাল থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপটও বেড়েছে। বর্তমানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে ধামরা বন্দর এলাকায়। কালো মেঘে চারিদিক অন্ধকার হয়ে এসেছে।

তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাতাসের দাপট। ঝড়-বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমছে, দূরে কিছু দেখা যাচ্ছে না। দমকা হাওয়ায় সোজাভাবে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ফুলে-ফেঁপে উঠছে সমুদ্রের পানি। দ্রুত পানির স্তর বাড়ছে। এভাবেই পানি বাড়তে থাকলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ধামরা বন্দর লাগোয়া মৎস্যজীবীদের গ্রাম। পারাদ্বীপেও বড় বিপদের আশঙ্কা। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গড়, কুজন, রামনগর ও মুসাডিহার মতো মহানদী সংলগ্ন গ্রামগুলো।

মৌসম ভবনের ভুবনেশ্বর আঞ্চলিক অফিসের তথ্য বলছে, এই ঝড়ের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে বালেশ্বর, ভদ্রক ও কেন্দ্রাপাড়ায়। এই তিন জেলাতে তাই বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডানা আঘাত হানার সময় এই তিন জেলায় ঝড়ের সম্ভাব্য গতিবেগ হতে পারে ১১০-১২০ কিমি।

মৌসম ভবন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া এবং ময়ূরভঞ্জ, বালেশ্বর, ভদ্রক, জাজপুর, কেন্দ্রাপাড়া, কটক, জগৎসিংহপুর, খুরদা, পুরী এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে পুরী, খুরদা, নয়াগড়, কেওনঝড় এবং ঢেঙ্কানলের বেশ কিছু জায়গায়।

আগামী ২৭ অক্টোবর ওড়িশার সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষাও পিছিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সাত দিন পর পরীক্ষার পরবর্তী দিন ঘোষণা করা হবে। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। সিমলিপাল ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান বন্ধ রাখার ঘোষণা আগেই করেছে প্রশাসন। বুধ ও বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকছে সেগুলো।

এদিকে রাস্তার কুকুর, বিড়াল ও গরুদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাজ্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী গোকুলানন্দ মল্লিক।

সূত্র: সিএনবিসি ১৮

mzamin

কমালা-ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

আর বাকি মাত্র ১১ দিন। এরপরই ৫ই নভেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনের প্রচারণার সময় এখন দ্রুততার সঙ্গে শেষের পথে। এতে প্রধান দুই প্রার্থী ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রায় সমানে সমান। কোনো পূর্বাভাসই ইঙ্গিত দিতে পারছে না- এবার কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এমন অবস্থায় দুই প্রার্থীই একে অন্যকে অবমাননার সুরে অভিযুক্ত করছেন। বুধবার এক টিভি অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করেছেন কমালা হ্যারিস। একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প চান অনিয়ন্ত্রিত (আনচেকড) ক্ষমতা। এর আগের দিন মঙ্গলবার ট্রাম্পের সাবেক চিফ অব স্টাফ জন কেলি অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিস্টের সংজ্ঞা যদি বলতে বলা হয় তাহলে তা ট্রাম্পের মতো। জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের ভক্ত ট্রাম্প। তিনি তার প্রশংসা করেছেন এবং হিটলারের প্রতি তার জেনারেলরা যেমন অনুগত ছিলেন, ট্রাম্পও চান তার প্রতি তার জেনারেলরা অনুগত থাকুন। জন কেলির এ মন্তব্যের পর ট্রাম্প সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেছেন কমালা হ্যারিস। পক্ষান্তরে কমালা হ্যারিসকে বিকৃত মনের মানুষ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কমালা হ্যারিস গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি। বিবিসি’র উত্তর আমেরিকা বিষয়ক প্রতিনিধি অ্যান্থনি জারচারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কমালা হ্যারিস ট্রাম্প সম্পর্কে মন্তব্য করেন। ওদিকে ট্রাম্পের সমর্থনে প্রাণপণ লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন ফোরবস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে বিশ্বের এক নম্বর ধনী ইলন মাস্ক। তিনি ট্রাম্পের প্রচারণায় প্রতিদিন ভোটারদের ১০ লাখ ডলার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এরই মধ্যে কয়েক দফায় তা দিয়েছেনও। নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রচারণা বিষয়ক গ্রুপ আমেরিকা পিএসির মাধ্যমে তিনি এই অর্থ বিলি করছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক, আইনি বিশেষজ্ঞরা ভালোভাবে নেননি। কারণ, এর মধ্যদিয়ে অর্থের প্রভাবে নির্বাচনী ফল বিকৃত হতে পারে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় ইলন মাস্কের প্রচারণা গ্রুপ আমেরিকা পিএসি’কে একটি চিঠি লিখেছে। তাতে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রতিদিন ভোটারদেরকে ১০ লাখ ডলার দেয়ার বিষয়টি বেআইনি। উল্লেখ্য, প্রতিদিন এই গ্রুপের সঙ্গে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে লটারি করে একজনকে দেয়া হচ্ছে ১০ লাখ ডলার।

রোনাল্ড রিগ্যানের পর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রথমবার এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করছেন কমালা হ্যারিস। কিন্তু ওই রাজ্যের সবচেয়ে বড় খবরের কাগজ লস অ্যানজেলেস টাইমস তাকে এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেয়নি। এ জন্য এই পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বিভাগের সম্পাদক মারিয়েল গারজা পদত্যাগ করেছেন। কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ’কে তিনি বলেছেন, তার বিভাগের বোর্ড কমালা হ্যারিসকে সমর্থন দেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোনো পক্ষ নেবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পত্রিকাটির বিলিয়নিয়ার মালিক প্যাট্রিক সুন-শিওং এক পোস্টে এক্সে জানিয়েছেন- প্রতিজন প্রার্থীর ইতিবাচক ও নেতিবাচক নীতির বিশ্লেষণের খসড়া করার সুযোগ দেয়া হয়েছে এর সম্পাদকীয় পরিষদে। পক্ষান্তরে তাদের বোর্ড নীরবতা অবলম্বন করে এবং তাদের সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিয়েছি। লস অ্যানজেলেস টাইমসের এমন প্রতিক্রিয়ার জবাবে কমালা হ্যারিসকে আক্রমণ করে প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প বলেছেন, এমনকি নিজের ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষও তাকে প্রেসিডেন্ট পদে চায় না। তবে এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমস, বস্টন গ্লোবের মতো বড় মাপের পত্রিকাগুলো থেকে অনুমোদন পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন করছে ওয়াশিংটন টাইমস, লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নালের মতো কিছু পত্রিকা।

নির্বাচনের দিন-ক্ষণ ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় যেসব ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন- কমালা এবং ট্রাম্পের বর্তমানের মূল লড়াই চলছে তাদেরকে নিয়ে। এসব ভোটারকে আকৃষ্ট করতে তারা বিভিন্ন রকম ইস্যু সামনে আনছেন। তার মধ্যে আছে মুদ্রাস্ফীতি, গর্ভপাত, অভিবাসন এবং অস্ত্র। কমালা হ্যারিস বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথমদিনে অগ্রাধিকার হবে কর্মজীবী মানুষের জন্য খাদ্য ও গৃহায়ন খরচ কমিয়ে আনা। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি মুদ্রাস্ফীতিকে বিনাশ ঘটিয়ে দেবেন। আরও বলেছেন ডকুমেন্টবিহীন অভিবাসীদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে গৃহায়নের ওপর চাপ কমে যাবে। গর্ভপাত ইস্যুতে কমালা হ্যারিস বলছেন, তিনি এমন আইন করার পক্ষে যা সারা দেশে প্রজনন অধিকারকে সুরক্ষিত রাখবে। ওদিকে প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকারকে বাতিল করার পথ তৈরি করে ফেলেছিলেন। এই অধিকার ১৯৭৩ সালের একটি রায়, যা পরিচিত ‘রো বনাম ওয়েড’ নামে। এখন তিনি গর্ভপাত ইস্যুতে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা পেতে সংগ্রাম করছেন। অভিবাসন ইস্যুতে কমালা হ্যারিস তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এ সময় তিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে একজন প্রসিকিউটর হিসেবে মানব পাচার ইস্যুতে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা শেয়ার করেন। পক্ষান্তরে সীমান্তে পুরোপুরি দেয়াল নির্মাণ করে তা সিল করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনের প্রয়োগ বৃদ্ধি করবেন। কমালা হ্যারিস অস্ত্র সংক্রান্ত সহিংসতা রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কঠোর আইন করার কথা বলেছেন। সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী রক্ষার পক্ষে নিজের কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সংশোধনীর অধীনে অস্ত্র রাখার অধিকার দেয়া হয়েছে।

প্রচারণায় দুই প্রার্থীই কঠোরভাবে লেগে আছেন। এরই মধ্যে কমালা হ্যারিসের প্রচারণায় নেমে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। গতকাল জর্জিয়ার ক্লার্কস্টোনে এক নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথমবারের মতো কমালা হ্যারিসের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যাওয়ার কথা বারাক ওবামাকে। তাদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা শুধু স্প্রিংসটিনের। গতকাল সন্ধ্যায় অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মুলেট অ্যারিনাতে র‌্যালি করার কথা ডনাল্ড ট্রাম্পের। পরে তার লাস ভেগাসে যাওয়ার কথা। সেখানে রক্ষণশীল একটি গ্রুপ ‘টার্র্নি পয়েন্ট’-এর আয়োজনে এক র‌্যালিতে বক্তব্য রাখার কথা।

গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বলা হয়েছে, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সাতটি সুইং স্টেটে। তার মধ্যে মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভ্যানিয়া এবং উইসকনসিনে কমালা এবং ট্রাম্পের মধ্যে জনমত জরিপের ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্টে। অ্যারিজোনা এবং জর্জিয়াতে দুই পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় দুই কোটি ৬৫ লাখ মানুষ। এ তথ্য ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা ইলেকশন ল্যাবের। 

mzamin

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২, ৩ বারের বেশি বিসিএস নয়: মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর ও বিসিএস পরীক্ষায় তিনবারের বেশি অংশ নেয়া যাবে না-সরকারের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে চাকরিপ্রার্থী ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। অনেকে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আবার চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বয়স ৩৫ করার দাবিতে অনড়।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দু’টি সিদ্ধান্তই ভালো হয়েছে। ৩ বার বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি সঠিক হয়েছে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু বিসিএসের পেছনে ঘুরলে হবে না। চাকরিপ্রত্যাশীদের অন্য চাকরিও খুঁজতে হবে। তারা অন্য চাকরিতে যাক। সেটা তাদের জন্য ভালো হবে। সমাজের ও দেশের উপকার হবে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর করা প্রসঙ্গে এ  জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ বলেন, এটিও ঠিক আছে। তবে সর্বক্ষেত্রে ৩২ করার দরকার ছিল না। ৪র্থ শ্রেণির চাকরি প্রার্থীদের ৩০ বা ২৭ বছর করলে ভালো হতো। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এসব চাকরির জন্য এসএসসি ও অষ্টম শ্রেণি পাস যোগ্যতা চাওয়া হয়। এখানে চাকরির সংখ্যাও বেশি। ফলে বয়সের শেষে এসে কেউ যদি তার এমএ পাস ডিগ্রির তথ্য গোপন করে এই শ্রেণির চাকরিতে পরীক্ষা দেন এবং তিনি উত্তীর্ণ হন। চাকরির পরীক্ষাও ভালো করেন এসব প্রার্থীরা। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় চাকরিতে প্রবেশের পর। দেখা যায় তখন অফিসে হতাশ হয়ে বসে থাকেন ওই কর্মচারী। নিজের ক্ষতি হয়। কাজে মনোযোগ দেন না। এতে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ মানবজমিনকে বলেন, এই সিদ্ধান্তে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সদস্যরা হতাশ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আগে এখনো পর্যালোচনা করার সুযোগ আছে। এখানে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। সংসদ থাকলে আমরা হয়তো জানতে পারতাম বিষয়টি নিয়ে কি বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু আমরা তো এখন জানতে পারলাম না। তিনি বলেন, সব সময় চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সঙ্গে অবসরের বয়সটাও ঠিক করা হয়। এবার তা ভিন্ন হলো।  তিনি বলেন, ছাত্ররা বিশ্বের ১৬২টি দেশের কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চিত্র ও পার্শ্ববর্তী দেশের বিষয়টি যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়। গড় আয়ুর বিষয়টিও দেখা হয়। কিন্তু এবার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সেই  যৌক্তিকতা আমলে নেয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন।  ছাত্রদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো যৌক্তিক ছিল। তাদের সংগঠন থেকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের সময়সীমা যথাক্রমে ৩৫ ও ৬৫ বছর করার দাবি জানানো হয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষা ৩বার সীমা দিয়ে আটকানোর বিষয়টিতে অধিকারের প্রতি হস্তক্ষেপের শামিল বলে সংগঠনের সভাপতি এবং সচিব হিসেবে মনে করেন তিনি।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্ল্যাটফরম ‘বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদ’। একইসঙ্গে স্থায়ীভাবে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. শরিফুল হাসান শুভ এ ঘোষণা দেন। এসময় শরিফুল হাসান বলেন, আমরা সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ করার জন্য দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত যে সুপারিশ কমিটি গঠন করেছিল সেখানে আমাদের প্রতিফলন ঘটেছিল এবং সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম, কমিটির সুপারিশটি যেনো সরকার বহাল রাখে। কিন্তু আজকে সরকার জানিয়েছে, এটি ৩২ বছর করা হয়েছে। এতে আমাদের দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি। এসময় তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা যদি ৩২ বছর রাখতেন, তাহলে  কেন সুপারিশ কমিটি করেছিলেন। কেনই বা এতদিন টালবাহানা করলেন। শরিফুল হাসান বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের বোধোদয় হবে এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করবে। এসময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আন্দোলন করলেও কোনো সরকারই এভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে চাকরির বয়স বাড়ায়নি। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সরকারকে বলবো, বিষয়টি পুনরায় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী করে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করে দেয়ার জন্য। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্দোলনের ঘোষণা দিবো। সেক্ষেত্রে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তীতে কর্মসূচির বিষয়ে জানিয়ে দেবো।

mzamin

আসল রাজনৈতিক সংকটটি কোথায়? by আমীর খসরু

বর্তমানে বাংলাদেশে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে তা শুধু রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টির কারণ আরও গভীরে। আর এই দফার আসল সংকটের পর্যায়টি শুরু হয়েছে, ছাত্র- জনতার বিপ্লবী আন্দোলনের পরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ বা পালিয়ে যাওয়ার দিন অর্থাৎ ৫ই আগস্ট। সংকটের প্রথম প্রশ্নটি হচ্ছে ছাত্র- জনতার আন্দোলন, শত শত মানুষের জীবন দান ও অসংখ্য আহত হওয়ার বিষয়টি কী বিপ্লব না গণঅভ্যুত্থান সেখানেই। স্বরূপ অনুসন্ধানেই আসলে বোঝা যাবে সংকটটি কেন?

বিপ্লব একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। আর বিপ্লব হচ্ছে, সমাজের বিদ্যমান কাঠামো উল্টে দিয়ে সাধারণ জনতার অর্থাৎ সর্বজনের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়-সমাজে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়নীতির সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থাপন। বিপ্লব কোনো সাংবিধানিক বিষয় নয়-বিষয়টি রাজনৈতিক। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মৌল চেতনাটি ছিল সেটি। বিপ্লবের সম্ভাবনাকে ৫ই আগস্ট মাঝপথে ঠেকিয়ে দেয়ার উদ্যোগটি আসে বিদ্যমান কাঠামোর পক্ষের শক্তির দিক থেকেই। আগেই বলা হয়েছে বিপ্লব সংবিধান মেনে হয় না কিন্তু ৫ই আগস্ট বর্তমানের একজন উপদেষ্টা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সেনাপ্রধান সংবিধান মেনে সবকিছু করা হবে বলে ঘোষণা দেন। আর এর মধ্যদিয়েই চলমান বিপ্লবের সম্ভাবনাকে বানিয়ে ফেলা হয় গণঅভ্যুত্থানে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুুদ্ধের চেতনাকে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে মুক্তিযুদ্ধ আসলে একটি বিপ্লবের বিষয়। যদি সংবিধান মেনে, বিদ্যমান কাঠামো মেনে তখন চলা হতো তাহলে বাংলাদেশের জন্মই হতো না। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ ও আগের পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংবিধানের পথে না গিয়ে একই সঙ্গে জনগণ বিপ্লবের অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের পথ বেছে নেয়। যদি সংবিধান মানা হতো তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

১৯৭১-এর পরের সরকারদলীয় একটি সরকার গঠন করে যে গোঁজামিলের সূচনা করেছিল তারই একটি ধারায় ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবী চেতনার আন্দোলন। কিন্তু বিদ্যমান কাঠামোগত সংকট মীমাংসা না করে সংবিধান মানার কথা বলা হলো। মনে রাখতে হবে, গোঁজামিলমুক্ত একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অসীম সম্ভাবনাকে গলা টিপে ধরা হলো। সংবিধান প্রশ্নে সংকটটি হচ্ছে-মূল সংবিধান অর্থাৎ ১৯৭২-এর সংবিধানটি কাটাছেঁড়া করে পরবর্তীকালে এক ‘অদ্ভুত’ সংবিধানে পরিণত করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসছে, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি তাহলে কী এই সংবিধানের পক্ষেই কথা বলছে?

আরেকটি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক, বিদ্যমান দ্বিদলীয় বিভাজনের রাজনীতির মধ্যে আসলে কোনো গুণগত পার্থক্য আছে কি? পার্থক্যটা কি ক্ষমতার পালা বদলের? দ্বিদলীয় সরকার ব্যবস্থা আমাদের মতো দেশে আসলে কি ফ্যাসিস্ট? পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে আমরা না হয় তোমরা। এই একই পথে হাঁটাহাঁটি চলছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং এরও আগের সময়ের যে মৌল চেতনা ও দাবিগুলো পাশ কাটিয়ে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠিত হলো তা আসলে বারংবার আসল সংকটকে পাশ কাটানোর শামিল। বিখ্যাত সমাজ বিশ্লেষক এবং গণবুদ্ধিজীবী প্রফেসর হামজা আলাভী এই পরিস্থিতিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ওভার ডেভলাপ্ট’ স্টেইট বলে।

ওভার ডেভলাপ্ট স্টেইট হচ্ছে বিদ্যমান সংকটকে জিইয়ে রেখে উপরিতলার নেতৃত্ব বদল। এতে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ১৯৪৭ সালের তৎকালীন পাকিস্তান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ ওই বৃত্তের বাইরে বের হতে পারেনি। এতে বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব, আধিপত্য ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির খপ্পরে পড়ে গেল দেশগুলো। পাকিস্তানে এ কারণেই ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি হয়।

মুক্তিযুদ্ধ ছিল ১৯৪৭ এবং পরবর্তীকালের গোঁজামিল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। কিন্তু রাজা যায়, রাজা আসে-অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে। ২০২৪ এর মূল চেতনা হচ্ছে-অমীমাংসিত বিষয়ের স্থায়ী সমাধান। কিন্তু ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ বা পলায়ন এবং পরবর্তীকালের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যায়, ওই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর যে স্থায়ী সমাধানের অসীম সম্ভাবনা ছিল তা বিপথে পরিচালিত হলো। কয়েকটি প্রশ্ন এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন-৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি কীভাবে এবং কারা আয়োজন করলো? সেনাপ্রধান বলেছেন, তিনি দেশত্যাগের বিষয়টি আগেভাগে অবহিত ছিলেন না। এই বয়ানটি কতোটা বিশ্বাসযোগ্য?

তাহলে প্রশ্ন আসবেই শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের দুই দিনের মাথায় এসে বিএনপি চাপ দিতে থাকে নির্বাচনের। ছাত্ররা একটি গ্রহণযোগ্য একটি কাঠামো বদল সম্ভব এমন একটি নেতৃত্ব চাইছিলেন তাদের সামনে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে খুঁজে বের করা হলো। কিন্তু মনে রাখতে হবে ড. ইউনূস বিদ্যমান কাঠামোর পক্ষেরই একজন মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কেউই ছাত্র-জনতার মূল চেতনাকে ধারণ করার শক্তি নয়, দ্বন্দ্বটি সেখানেই।
১৯৭১-এর পরবর্তী একটি জাতীয় সরকার গঠিত হলে এবং অমীমাংসিত বিষয় সমাধান হলে আজকের এই সংকট সৃষ্টি হতো না। কিন্তু সবাই এখনো এই একই বৃত্তে অর্থাৎ শুধু ভোটের গণতন্ত্র নিয়েই ব্যস্ত। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি তারা চাইছেন না। দিনে দিনে গোঁজামিলের পথ আরও সংকটের সৃষ্টি করছে। এখন আসল প্রশ্নটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন কিনা, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধসহ ছাত্রদের নতুন ৫ দফার মধ্যে কাঠামোগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ৫ দফা আসলে এক দফা-অর্থাৎ কাঠামোগত পরিবর্তন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।

যে মূল বিষয়টি নিয়ে কেউই মুখ খুলছেন না তাহলো ভারতের নীতি কৌশল। ভারতের বাংলাদেশ নীতি না শেখ হাসিনা নীতি সে প্রশ্নটি সবার মাথার মধ্যে আসলে ঘুরপাক খাচ্ছে। ভারতের হাসিনা নীতি বাংলাদেশের মানুষ কতোটা পছন্দ করছে- সেটি এখন বিশাল প্রশ্ন। ভূরাজনৈতিক বিষয়টি অর্থাৎ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে আমলে নিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ করার দাবি আসলে মূল সংকটের একটি উপসর্গ।

আসল সংকট হচ্ছে বাংলাদেশ কী আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাবমুক্ত? স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, বহিঃশক্তির প্রভাবহীন রাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এক কথায় স্বাধীন নীতি কৌশল গ্রহণের বিষয়কেন্দ্রিক। এসব প্রশ্নের মীমাংসা না করে শুধু নির্বাচনের দিনক্ষণ গুনলে সংকট আরও বাড়বে। এবং এটাই বড় সংকটের মূল কারণ। বার বার মানুষ রাস্তায় নামবে- এটা ভাবা ঠিক নয়। মানুষ রাজনীতিবিমুখ হলে দেশটি বিপন্ন হবে। কাজেই অমীমাংসিত বিষয়াবলীর স্থায়ী নিষ্পত্তি ও সুরাহা সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ। যতক্ষণ না এই গোঁজামিলের পথ ছেড়ে সমস্যার স্থায়ী নিষ্পত্তি হয় ততদিন এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

mzamin

প্রেসিডেন্ট ইস্যু: দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কী বলেছেন- সেটাও আলোচনা হয়েছে। তার পদত্যাগ দাবিতে যে আন্দোলন হচ্ছে সেটাও বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগে সাংবিধানিক সংকট হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে। যদিও সে দলের দুই- একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন সাংবিধানিক সংকট হবে না। একদিকে দাবি জোরালো হচ্ছে পদত্যাগের। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। যদিও তারা তাদের অবস্থান পুরো স্পষ্ট করেনি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা করি। যেহেতু দাবি উঠছে ও ক্রমান্বয়ে জোরালো হচ্ছে। এটা এক ধরনের গণদাবি। সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, এটা রাজনৈতিক বিষয়। যেহেতু দাবিটা জনগণ থেকে এসেছে। আমাদের সরকারটিও গণঅভ্যুত্থানের ফসল। তাই সংবিধানের সব বিষয় আক্ষরিক অর্থে মানা সম্ভব কি না সেটাও বিষয়। আর রাজনৈতিক ঐকমত্য হলে সেখানে বাধাগুলো সহজ হয়ে যায়। এটা রাজনৈতিক আলোচনা। তাই এটাকে সাংবিধানিক ইস্যু হিসেবে সরকার দেখছে না। আমরা এখন স্বাভাবিক পরিবেশে নয়, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। সবকিছু সংবিধান অনুযায়ী করতে হবে- সেটা সম্ভব হবে কি না আমাদের ভাবতে হচ্ছে। বড় কথা- এটি রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছি। আমাদের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক ঐকমত্যের। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান স্পষ্ট করে যারা দাবি করছেন তাদের জানাতে হবে।

সিদ্ধান্ত নিতে কতদিন সময় লাগবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে। তারা কোন অবস্থানে যাবে। তাদের সঙ্গে আমাদের কী কথা হয়। তাদের আশঙ্কা কোথায়। তাদের আশঙ্কাগুলো আদৌ বাস্তবসম্মত কি না। এটা যে তাড়াহুড়ো করছি তা নয়, আবার বিলম্বিত করাও যাচ্ছে না। এটা এমন একটা পদ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে কেউই চাইবে না। যেহেতু গণদাবি তাই বিষয়টি বিলম্বিত করার সুযোগ নেই। কিন্তু কতদিন সেটা বলা কঠিন।

সরকার চাপে আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় পুরোটা অনেক চাপ। বাজেট প্রণয়ন, অর্থনীতি পরিচালনা- বহুমুখী আন্দোলন। সরকার পরিচালনা অনেক বেশি চাপ। তবে এটা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে নাগরিক জীবনের ভোগান্তি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করি যেন কোনো রকম হিংসাত্মক পর্যায়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে। যারা আন্দোলন করেন তারা জনভোগান্তির কথা চিন্তা করছেন না। আমরা আন্দোলন করতে নিষেধ করি না। মানুষের আন্দোলন করার অধিকার আছে। এটাকে আমরা সম্মান করি। পুলিশেরও রাইট আছে কোথায় আন্দোলন করার সেটা নির্ধারণ করার। তাই আমরা বলছি জনভোগান্তি না করে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে করতে। একটা চেঞ্জ অব কালচার-এ আসতে হলে সময় দিতে হয়।

ছাত্রলীগ নিষেদ্ধের কারণ হিসেবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, গেজেটে খুব স্পষ্ট। গণমাধ্যমে ছাত্রলীগকে হেলমেট বাহিনী, হকিস্টিক দিয়ে হামলা, পুলিশের কাপড় পরে হামলার মতো ঘটনা প্রকাশ হয়েছে। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে ছাত্রলীগকে একটা সন্ত্রাসী ভূমিকায়। তখন যারা ক্ষমতায় ছিল তখন বলা হয়েছে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ যথেষ্ট। ফলে ছাত্রলীগকে যে সন্ত্রাসী কায়দায় ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও স্পষ্ট। সেটা কারও না বুঝার কোনো কারণ নাই। তাদের নিষিদ্ধ করার আরেকটা কারণ জুলাই গণহত্যার পরেও যে তারা থেমে গেছে তা না। আবার আদালত কর্তৃকও তারা বেশ কয়েকবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা আবরার ফাহাদ ও বিশ্বজিতের কথা ভুলে যেতে পারি না। এগুলো সবার চোখের সামনে হয়েছে। এ সিদ্ধান্তটা বর্তমানের প্রাধিকার বিবেচনায় নিতে হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টেও বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে- এমনকি ৫ই আগস্টের পরও কিন্তু ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলা হয়েছে। এটা ডকুমেন্টেড। যেহেতু সরকারকে ক্ষমতা দেয়া আছে একটা সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার। সেখানে সংস্থার রিপোর্ট পাওয়ার পর দেখে বসে থাকার সুযোগ নেই। অন্য কোনো রাজনৈতিক সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এদের বিরুদ্ধে সুনির্ধারিত অভিযোগ ছিল এবং সেটি আগেও ছিল। তাই এ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের ক্ষেত্রে যেভাবে ডিল করা হয় সেভাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের লাগাম টানা। আগের অবস্থায় চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। আগের অবস্থায় তারাই আছে। ৫ই আগস্টের পরও তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ইতি টানেনি। সংস্থাগুলোর রিপোর্ট এমনই।

পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না। এটিসহ সেগুলো আলোচনা হয়েছে। যেখানে প্রতিবাদ হচ্ছে সেখানে হামলা প্রতি হামলা হতে পারে। কিন্তু শান্ত পরিবেশ আছে সেখানে দায়িত্বে অবহেলা আছে। এখনো হয়তো আশ্বস্ত হচ্ছে না অথবা সাহস পাচ্ছে না সেগুলো মোকাবিলা করার। পুলিশ ছাড়া চলতে পারবো না। অনেকে কাজে নেমেছে। পুলিশ বাহিনীর অনেকের মধ্যে এখনো নির্লিপ্ততা আছে। আমরা বার বার বলছি দোষী ছাড়া কাউকে বিচারের আওতায় আনা হবে না।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি হাইকোর্টের রিট পিটিশনে খারিজ হয়ে গেছে। আন্দোলনের ভাষা আর আমাদের ভাষা এক হতে পারে না। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, এটা রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আসতে হবে। এটা ডায়ালগের বিষয় বলে মনে করে সরকার। অপরাধীদের ক্ষেত্রে আমরা বিচারের পক্ষে। যারা সন্ত্রাসী তাদেরও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গ্রেপ্তার থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায়। কোনো মব জাস্টিসকে আমরা সমর্থন করি না। নির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা হবে। অপরাধীদের আরও দ্রুতগতিতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, কেউ পলাতক ও নিখোঁজ থাকলে বিচার হবে না- এমন না। সবার বিচার হবে। এক বিদেশি মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আলাদাভাবে বলেছি যে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে দৃঢ় ও ভালো সম্পর্ক চায়। এটা যেকোনো বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একে অপরকে শোনা ও বোঝা। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের ভিসা সীমিতকরণ নীতির কারণে অখুশি। এটা ভারত সরকার অখুশি বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতকে এখানকার পরিবর্তনের (সরকার) বিষয় জানিয়েছে। এ সরকারের সময় ভারত ব্যতীত কোনো দেশ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সীমিত করেনি। আবার বাংলাদেশে যারা নানা অপরাধ করেছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ভারত শেল্টার দিয়েছে। তাই ভারতকে এটা পুনঃবিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়াও এখন থেকে সরকারি খরচে আর হজের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া হজ নিয়ে সৌদি বলেছে নৌ পথে পাঠালে তাদের আপত্তি নেই। এটা এখন হাজিরা চাইলে সম্ভব। এবার থেকে শুরু হবে।

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে ৩ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেবে বিশ্বব্যাংক by এমএম মাসুদ

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাম্প্রতিক বন্যাসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে আপৎকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় এককালীন ২৫ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) অনুদান দেবে বিশ্বব্যাংক। বুধবার স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে চলমান বার্ষিক সভার সাইড লাইনে সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান উপদেষ্টা।

একইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও পরে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্লমা শিতরামের সঙ্গেও বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা। বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাইড লাইনে বিভিন্ন দেশ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ বন্যা হয় ফেনী-নোয়াখালী অঞ্চলে। এতে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে জনজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ। বিশেষ প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ফসল নষ্ট হওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল নিত্যপণ্যের দাম। এ প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনমান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

সভা শেষে সাংবাদিকদের অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এবারের সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা একটু বেশি। তারা আমাদের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশকে আপৎকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় এককালীন ২৫০ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি ডলার অনুদান দেবে বিশ্বব্যাংক।

সংকট উত্তরণের পথে বৃহৎ ক্ষেত্রগুলোতে উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষ সহায়তা নবজাগরণে আরও নতুন পরিকল্পনা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। একদিকে ঋণ প্রদান, অন্যদিকে আর্থিক সহায়তা কিংবা অনুদান সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সোপান রচনা করবে দাতাগোষ্ঠীগুলোর এসব সহায়তা, এমনটাই মনে করেছেন সরকারের প্রতিনিধিরা।

এদিকে বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। রিজার্ভ থেকে এক পয়সাও না নিয়ে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার ঋণের কিস্তি শোধ করার ফলে ডলার নিয়ে অস্থিরতাও কমে আসছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে। ডলার সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে দেশের অর্থনীতি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের দায় পরিশোধ করছে। এজন্য কিছুটা চাপও পেতে হচ্ছে।