Friday, August 1, 2025

কলেরায় মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে আফ্রিকার ৮০ হাজার শিশু

বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার প্রায় ৮০ হাজার শিশু কলেরার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংগের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বুধবার এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ওই সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে, কলেরা ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও নাইজেরিয়া। দেশগুলোর সীমানা ছাড়িয়ে রোগটি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই মাসে কঙ্গোর বেশির ভাগ এলাকায় কলেরার প্রকোপ ছিল মারত্মক। এ মাসে ৩৮ হাজার কলেরা আক্রান্ত রোগির মধ্যে ৯৫১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ পাঁচ বছর বয়সী শিশু রয়েছে। প্রতিবেশী চাদ, ঘানা, আইভোরি কোস্ট এবং টগোর মতো আফ্রিকান দেশগুলোতেও কলেরার প্রকোপ আশঙ্কাজনক। আঞ্চলিকভাবে রোগটির প্রবাহ ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় নিযুক্ত ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক গিলিস ফাগনিনো বলেছেন, ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা এবং বাস্তুচ্যুতির ফলে কলেরা দ্রুত আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। তিনি আরও বলেন, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই ভয়াবহ অবস্থানে পৌঁছেছে। এই অবস্থান থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। যেহেতু এটা বেঁচে থাকার বিষয়।

বিশুদ্ধ পানি, তীব্র পানি শূন্যতার জন্য উচ্চ সংবেদনশীলতা, স্যানিটাইজেশনের অভাব এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাজে পরিস্থিতির ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কলেরা মোকাবিলায় আগামী তিন মাসের জন্য আঞ্চলিকভাবে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ইউনিসেফ। এই সংকট মোকবিলায় ওই অঞ্চলের জন্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

mzamin

গাজায় ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র আসলে ইসরায়েলের মারণকল by অ্যালেক্স ডি ওয়াল

যখন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়, তখন তা শুধু ক্ষুধার নয়, বরং সমাজের ভাঙনেরও প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। এ অবস্থায় মানুষ আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার খুঁজে আনে। কেউ গোপনে রান্না করে; কেউ আত্মীয়দের থেকে খাবার লুকিয়ে রাখে, কোনো পরিবার হয়তো খাবারের জন্য তাদের দাদিমার গয়না বিক্রি করে দেয়।

দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের মুখে কোনো অনুভূতি থাকে না। তাদের চোখে থাকে ফাঁপা দৃষ্টি। মানুষ পশুর মতো খাবারের জন্য লড়াই করে। এটিই হলো সামাজিক অবক্ষয় ও অপমানের চরম রূপ। এটিই হলো মানবিক মর্যাদার বিলোপ। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আজকের গাজাবাসী যাচ্ছে।

গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন বা জিএইচএফ নামে একটি নতুন সংস্থা (যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে মে মাসে যাত্রা শুরু করে) নিজেদের কার্যক্রমকে একুশ শতকের আধুনিক ও সহানুভূতিশীল সংস্থা বলে দাবি করছে। তারা বলছে, তাদের চারটি ‘নিরাপদ বিতরণ কেন্দ্র’ থেকে তারা প্রতিদিন ২০ লাখের বেশি প্যাকেট খাবার বিতরণ করছে। সেখানকার ছবিতে দেখা যায়, বাচ্চাদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন সংস্থার কর্মীরা।

ইসরায়েলি মুখপাত্ররা বলছেন, জাতিসংঘের ট্রাকগুলো গাজার সীমানার ভেতরে আছে কিন্তু জাতিসংঘ নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার বিতরণ করছে না। কিন্তু এ বক্তব্য খুব সহজ বিশ্লেষণেই ভেঙে পড়ে।

প্রথমত, সংখ্যা ঠিক মিলছে না। গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা হিসাব করে জানায়, ১৮ মাসের অবরোধ ও যুদ্ধের পর এবং দুই মাসের পূর্ণ ইসরায়েলি অবরোধের ফলে মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে গাজায় জীবন বাঁচানোর জন্য যে পরিমাণ খাবার দরকার, তার অর্ধেকের নিচে নেমে যাবে। অর্থাৎ গাজার সব মানুষের খাদ্যের পুরো চাহিদা পূরণ করতে হবে এই ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিদিনের ২০ লাখ প্যাকেট খাবার গাজার প্রয়োজনের অর্ধেকও নয়।

দ্বিতীয়ত, শুধু সংখ্যায় খাবার পৌঁছালেই দুর্ভিক্ষ বন্ধ হয় না; দুর্ভিক্ষ আঘাত করে সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলোর ওপর। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, যখন ২০ শতাংশ পরিবার মারাত্মক খাদ্যসংকটে পড়ে, তখন সেটিকে ‘দুর্ভিক্ষ’ বলা যায়। এ অবস্থায় নারীরা, বিশেষ করে যাঁদের স্বামী নেই এবং যাঁদের অনেক শিশু বা বয়স্ক অভিভাবক আছেন, তাঁরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন। সেসব পরিবারকে চিনে ত্রাণ পৌঁছানোই আসল কাজ।

জিএইচএফ গাজায় চারটি বিতরণ কেন্দ্র চালায়—তিনটি রাফার ধ্বংসস্তূপে, আরেকটি গাজার মাঝখানে। সব কটিই সামরিক এলাকায়। এরা খুব অল্প সময়ের জন্য এবং খাবার বিতরণের খুব অল্প আগে সবাইকে জানিয়ে খোলে। মানুষ ধ্বংসস্তূপে শিবির করে বসে থাকে, কখন দরজা খুলবে সেই আশায়। তারা জানে, ইসরায়েলি সেনারা ভিড় সামলাতে গুলি চালাতে দ্বিধা করে না। যেসব দুর্বল মা, বয়স্ক মানুষ বা প্রতিবন্ধী এই দৌড়ে অংশ নিতে পারেন না, তাঁরা কীভাবে খাবার পাবেন?

তৃতীয়ত, মানুষের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ দেওয়া দরকার। যেমন অপুষ্ট শিশুদের জন্য দরকার বিশেষ ধরনের খাবার (যেমন ‘প্লাম্পিনাট’, যা সাধারণ খাবার খেতে না পারা শিশুর জন্য তৈরি) দেওয়া দরকার। কিন্তু জিএইচএফের বক্সে থাকে ময়দা, পাস্তা, তেল, চাল, ডাল, তাহিনি (তিলবীজ থেকে তৈরি একধরনের মাখনবিশেষ)। জিএইচএফের ত্রাণের মধ্যে কোনো শিশুখাদ্য বা প্লাম্পিনাট নেই। কোনো প্রশিক্ষিত নার্স বা পুষ্টিবিদও নেই, যাঁরা অপুষ্ট শিশুদের সেবা দিতে পারেন।

আমরা গাজায় যা দেখছি, সেটি কেবল ক্ষুধা নয়, বরং একটি সমাজকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। ইসরায়েলি সরকার আদৌ চিন্তিত নয় যে ফিলিস্তিনিরা বাঁচবে, নাকি মরবে। তারা শুধু গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষের অভিযোগ এড়াতে চায়। আর সেই ছদ্মাবরণ হিসেবে জিএইচএফ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র চোখে ধুলো দেওয়ার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, আমরা যেন তা বুঝতে পারি।

অ্যালেক্স ডি ওয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক
- দ্য গার্ডিয়ান, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

গাজায় অপুষ্টিতে ৮০ শিশুসহ ১০১ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, অনাহারে বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছেন জাতিসংঘের কর্মীরা
গাজায় যা দেখছি, সেটি কেবল ক্ষুধা নয়, বরং একটি সমাজকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। রয়টার্স

গাজার নাসের হাসপাতালে পাঁচ দিনে কী কী দেখলেন রয়টার্সের সাংবাদিকেরা

গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে তীব্র অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য যে ওয়ার্ড, সেখানে গোলাপি রঙের দেয়ালে কার্টুন আঁকা। সেই ছবিতে শিশুরা দৌড়াচ্ছে, হাসছে এবং ফুল ও বেলুন নিয়ে খেলছে।

ছবিগুলোর নিচে গাজার কয়েকজন ফিলিস্তিনি মা তাঁদের সন্তানদের দিকে উদ্বেগের চোখে তাকিয়ে আছেন। শিশুগুলো হাসপাতালের বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছে। ভীষণ ক্ষুধা আর ক্লান্তিতে বেশির ভাগ শিশু কাঁদতে পর্যন্ত পারছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চিকিৎসকেরা বলেন, সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের যেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সাধারণত এমন নীরবতাই দেখতে পাওয়া যায়। এটা শরীর ক্রমশ নিস্তেজ ও অসাড় হয়ে পড়ার লক্ষণ।

ওই স্থানে থাকা এক শিশুর মা জেইনা রাদওয়ান বলেন, ‘সে সব সময় এমন অবসন্ন হয়ে থাকে, এভাবেই শুয়ে থাকে…আপনি তার কোনো সাড়া পাবেন না।’ জেইনা তাঁর ১০ মাস বয়সী মেয়ে মারিয়া সুহাইব রাদওয়ানকে নিয়ে এ কথা বলছিলেন।

এই মা বলেন, তিনি তাঁর মেয়ের জন্য দুধ বা পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে পারেননি। সে বুকের দুধও পাচ্ছে না। কারণ, জেইনা নিজেও দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, ‘পুষ্টি না পেলে আমার মেয়ে আর আমি—কেউই বাঁচব না।’

গত সপ্তাহে রয়টার্সের সাংবাদিকেরা নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঁচ দিন কাটিয়েছেন। গাজায় ভীষণ রকমের অনাহারে থাকা শিশুদের যে চারটি মাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর একটি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স। রয়টার্সের সাংবাদিকেরা সেখানে থাকার সময় তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৫৩ শিশুকে ভর্তি করা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর গাজার খাদ্যমজুত দ্রুত ফুরিয়ে যায়। এ বছর মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।

গত মে মাসে অবরোধ খানিকটা শিথিল করা হলেও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে ত্রাণ পৌঁছানো বন্ধের অজুহাতে ইসরায়েল নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করার বিষয়ে জানতে রয়টার্স থেকে ইসরায়েলি সামরিক সহায়তা সমন্বয় সংস্থার (সিওজিএটি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সিওজিএটি দাবি করেছে, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে কোনো বাধা দেয় না। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজার ভেতরে ত্রাণ সংগ্রহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ত্রাণসংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা সরবরাহে সহায়তা করছে এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে গাজার হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনাহারে মৃত্যু দ্রুত বাড়ছে

গাজায় গত জুন থেকে খাদ্যসংকট ও অনাহার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরই মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা কঙ্কালসার শিশুদের ছবি বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে গভীর আলোড়ন তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অপুষ্টিজনিত কারণে এখন পর্যন্ত ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৯টি শিশু। বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে।

আন্তর্জাতিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা গত মঙ্গলবার বলেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ ক্রমেই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, গাজাকে অনাহারে রাখার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। এ সপ্তাহে তারা আরও বেশি ত্রাণ প্রবেশের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণে সহায়তার জন্য কোথাও কোথাও যুদ্ধ স্থগিত করা, আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা এবং ত্রাণ প্রবেশের পথ আরও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ বলেছে, দুর্ভিক্ষ রোধ ও স্বাস্থ্যসংকট এড়াতে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণসহায়তা প্রয়োজন।

নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু ও মাতৃত্ব বিভাগের প্রধান চিকিৎসক আহমেদ আল-ফররা বলেন, ‘শিশুদের জন্য দুধ প্রয়োজন। আমাদের চিকিৎসাসামগ্রী প্রয়োজন। আমাদের কিছু খাবারও প্রয়োজন, বিশেষ করে পুষ্টি বিভাগের জন্য উপযোগী খাবার। হাসপাতালের জন্য আমাদের সবকিছু প্রয়োজন।’

কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজায় অপুষ্টির কারণে যেসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই আগে থেকে নানা রোগে ভুগছিলেন।

দুর্ভিক্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ক্ষুধা ও অনাহারসংক্রান্ত সংকটের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত এমন ঘটনা ঘটে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক মার্কো কেরাক বলেন, ‘(ক্ষুধাজনিত সংকটময় পরিস্থিতিতে) আগে থেকে নানা জটিল রোগে ভোগা শিশুরা আরও বেশি সংকটে পড়ে যায়। শুরুতে তারাই প্রভাবিত হয়।’

তবে এখন প্রচণ্ড অপুষ্টি নিয়ে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে যেসব শিশু ভর্তি হচ্ছে, তাদের কেউ আগে থেকে অসুস্থ ছিল না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ফাররা। উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি তিন মাস বয়সী শিশু ওয়াতিন আবু আমুনাহর কথা বলেন। স্বাভাবিক ওজন নিয়ে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। কিন্তু এখন তিন মাস বয়সে এসে তার ওজন জন্মের সময়ের চেয়ে ১০০ গ্রাম কম।

চিকিৎসক ফাররা বলেন, ‘গত তিন মাসে শিশুটির ওজন এক গ্রামও বাড়েনি; বরং সে ওজন হারিয়েছে। তার শরীরে কোনো মাংসপেশি নেই। শুধু হাড়ের ওপর চামড়া; যা ইঙ্গিত করে, শিশুটি তীব্র অপুষ্টির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শিশুটির মুখ দেখলেই বোঝা যায়, তার গালে কোনো চর্বি নেই।’

শিশুটির মা ইয়াসমিন আবু সুলতান তাঁর সন্তানের হাত-পা দেখিয়ে বলেন, ওর বাহু বৃদ্ধাঙ্গুলির মতো দেখতে। তিনি রয়টার্সের সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন? এই ওর পা...ওর হাতের দিকে তাকান।’

গাজায় চলতি জুলাই মাসের প্রথম দুসপ্তাহে ৫ বছরের কম বয়সী পাঁচ হাজারের বেশি শিশু অপুষ্টির কারণে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। এসব শিশুর ১৮ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, জুনে অপুষ্টির শিকার হয়ে গাজায় চিকিৎসা গ্রহণ করা শিশুদের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৬ হাজার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল এক মাসে অপুষ্টিতে ভোগা সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশুর চিকিৎসা গ্রহণের ঘটনা। সংস্থাটি বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

নাসের হাসপাতালে থাকা বেশ কয়েকজন শিশুর মতো ওয়াতিনও বারবার জ্বর ও ডায়রিয়ায় ভুগছে। অপুষ্টির শিকার শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হলে তাদের জীবন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কারণ, এসব অসুস্থতা তাদের অপুষ্টি অবস্থা আরও গুরুতর করে তোলে।

ওয়াতিনের মা বলেন, ‘যদি ওর অবস্থা এমনই থাকে, তবে আমি ওকে হারাতে চলেছি।’

ওয়াতিন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখানে তার মা তাকে বোতলে থাকা দুধ একটু একটু করে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

রয়টার্সের প্রতিনিধিরা এ হাসপাতালে আরও কয়েকটি অপুষ্টির শিকার শিশুকে দেখেছেন। এই শিশুদের ওজন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার পর কিছুটা বেড়েছে। হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কিছু ফর্মুলা দুধ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পাঁচ মাসের শিশু জয়নাব আবু হালিবের মতো শিশুরা হাসপাতালে এসেও বাঁচতে পারেনি। তীব্র অপুষ্টিতে মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়া তার ছোট্ট দেহ সংক্রমণের ধাক্কা সামলাতে পারেনি। রক্তে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে গত শনিবার তার মৃত্যু হয়। তার বাবা-মা ছোট্ট দেহটি সাদা কাফনে মুড়িয়ে হাসপাতাল থেকে কবর দিতে নিয়ে গেছেন।

গাজার নাসের হাসপাতালে অনাহারে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা এক শিশুর চিকিৎসা চলছে। ২৫ জুলাই
গাজার নাসের হাসপাতালে অনাহারে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা এক শিশুর চিকিৎসা চলছে। ২৫ জুলাই। ছবি: রয়টার্স

ভারতের কাছে তেল বিক্রি করতে পারে পাকিস্তান, খোঁচা দিলেন ট্রাম্প

ভারতের ওপর বেজায় খেপেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতকে শায়েস্তা করতে এক দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিলেন তিনি। ফলে হোয়াইট হাউসে বেশ ব্যস্ত দিন পার করেছেন তিনি।

গতকাল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। ভারতকে খোঁচা দিতে পাকিস্তানকেও টেনে আনলেন তিনি। আরেকটি পোস্টে জানালেন, পাকিস্তানের মজুত তেলের ভান্ডার নিয়ে কাজ করতে দেশটির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ফলে এমনও হতে পারে, পাকিস্তান একসময় ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে। স্পষ্টতই রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেছেন ট্রাম্প। খবর ইকোনমিক টাইমস।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প যা লিখেছেন, তার মর্ম এ রকম: আমরা এই মাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বিশাল তেল মজুত উত্তোলনে কাজ করবে। কোন কোম্পানি এই অংশীদারত্বের নেতৃত্ব দিতে পারে, আমরা এখন সেই কোম্পানি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আছি। কে জানে, হয়তো একদিন তারা ভারতের কাছেও তেল বিক্রি করবে।

ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনো দর-কষাকষি চলছে; ট্রাম্প শুল্ক ও জরিমানা আরোপ করছেন, ঠিক সেই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে ট্রুথ সোশ্যালে পাতায় ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেখানে ভারতকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতীয় বাজারে চড়া হারে শুল্ক নেওয়া হয়। সে কারণেই আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়েছে। তারা অনেক বেশি শুল্ক নেয়, এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হারে শুল্ক নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে তারা একটি। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে দেখা যায়, অনেক ধরনের বিরক্তিকর বাধা আছে। যার সঙ্গে আর্থিক কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া ভারত সব সময় সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে কেনে। রাশিয়ার জ্বালানিরও অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ভারত। ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মতো চীনও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, যখন সবাই চাইছে, রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যালীলা বন্ধ করুক, তখন এসব কাজ ভালো নয়। তাই ভারত ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে এবং উল্লিখিত বিষয়গুলোর জন্য জরিমানাও নেওয়া হবে ১ আগস্ট থেকে।

ঘটনাচক্রে সপ্তাহ দু-এক আগেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে—এমন দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর জন্য মস্কোকে ৫০ দিন সময় দিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে রাশিয়া হামলা বন্ধ না করলে মস্কোর বাণিজ্যিক বন্ধুদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দুদিন আগে ট্রাম্প আবার জানান, যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিচ্ছেন।

বুধবার ট্রাম্প আরও একটি খোঁচা দিয়েছেন ভারতকে। ট্রুথ সোশ্যালের আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করছে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। ওরা চাইলে নিজেদের মৃতপ্রায় অর্থনীতি একসঙ্গে ডুবিয়ে দিতে পারে। এতে তাঁর কিছু যায় আসে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য অনেক কম, কেননা, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম। অন্যদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নেই বললেই চলে।

মঙ্গলবার স্কটল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার সময়েই ট্রাম্প আভাস দিয়েছিলেন ভারতের ওপর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে তখনো তা সম্ভাবনার পর্যায়েই ছিল। ওই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা হতে না হতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি এবং শাহবাজ শরীফ
ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি এবং শাহবাজ শরীফ। কোলাজ: প্রথম আলো

গাজায় অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ১ লাখ শিশু: ‘৯ মাসে একটিও ডিম খাইনি’

ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাবার-সংকট অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। উপত্যকাটিতে দুই বছরের কম বয়সী ১ লাখের বেশি শিশু অপুষ্টির কারণে মৃত্যুর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

টানা ১১ সপ্তাহ অবরোধের পর মে মাসের শেষের দিক থেকে গাজায় খুব সামান্য পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে ইসরায়েল। এ ছাড়া ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হত্যার শিকার হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে রয়েছেন।

গাজায় খাবার-সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। উপত্যকাটির জনসংযোগ কার্যালয় থেকে গতকাল শনিবার জানানো হয়েছে, ফর্মুলা দুধ সরবরাহ না করা হলে আসন্ন মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে দুই বছরের কম বয়সী ১০ লাখের বেশি শিশু। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার শিশুর বয়স এক বছরের কম। ফর্মুলা দুধের অভাবে শিশুদের পানি খাওয়াচ্ছেন মায়েরা।

চরম দুর্দশায় রয়েছেন গাজার মায়েরাও। অপুষ্টির কারণে শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না তাঁরা। এমনই একজন জয়নব। তিনি বলেন, ‘এই অনাহারের মধ্যেই আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। যখন সন্তানের জন্ম দিই, তখনো অনাহারে ছিলাম। গত ৯ মাসে একটি ডিমও খেয়েছি কি না, মনে পড়ে না। এর বেশি আর কী বলব?’

খাবারের এই হাহাকারের মধ্যে আজ রোববার অনাহারে আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত মার্চে গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ শুরু পর থেকে এ নিয়ে অনাহার ও অপুষ্টিতে অন্তত ১২৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জনের বেশি শিশু। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি।

১০ ঘণ্টা হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা

ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জাতিসংঘ। উপত্যকাটিতে ‘ব্যাপক হারে দুর্ভিক্ষ’ ছড়িয়ে পড়ছে বলে গত বুধবার সতর্ক করেছিল শতাধিক মানবাধিকার সংস্থা। এ ছাড়া গাজায় দেখা দেওয়া ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ থামানোর জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গত শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

এএফপি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আজ গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে ‘কৌশলগত সামরিক কর্মকাণ্ড’ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা বলেছে, উপত্যকার আল মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা নগরীতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হামলা চালানো হবে না। এ সময়ে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো সড়কপথে নিরাপদে ত্রাণ পাঠাতে পারবে।

এ ছাড়া গাজায় আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা হচ্ছে বলে আজ জানিয়েছে ইসরায়েল। উত্তর গাজায় এমনই একটি ত্রাণের বাক্স একটি তাঁবুর ওপর পড়ে অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। মিসর থেকেও রাফা ক্রসিং হয়ে ত্রাণের ট্রাক গাজায় প্রবেশ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ।

এদিকে গাজাবাসীর জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) জাহাজ ‘হান্দালাকে’ বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আজ এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, জাহাজটির আরোহীদের ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। ওই সময় জাহাজটি গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল।

গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা একটি শিশু
গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা একটি শিশু। ফাইল ছবি: এএফপি