Sunday, August 23, 2026

গাজা থেকে উড়ে আসা ঘুড়ির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে উড়ে আসা ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনায় সেনাবাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতসে গিয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং এতে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও ছিল না।

তবে দক্ষিণ ইসরায়েলে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘুড়ি ও বেলুনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড্ডয়ন বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় আমি সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, গাজা থেকে যেকোনো কিছু পাঠানোর ঘটনাকে তিনি সব দিক থেকেই যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কাটজ আরও বলেন, বেলুনকে ঘুড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে; এর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এ ধরনের কিছু আয়োজন, উৎক্ষেপণ বা এতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৮ সাল থেকে গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এসবের কারণে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি ও বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া
গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে আমাকে অভিশংসিত করা হবে: ট্রাম্প

চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে অভিশংসনের মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে শুক্রবার সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

মার্টল বিচে এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, আমি অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। তারা আমাকে অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগে দুবার অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তিনি বেঁচে যান। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন। তবে এসব উদ্যোগ তেমন অগ্রগতি পায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। দলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি জরিপে সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

তবে শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, রিপাবলিকান ভোটাররা নির্বাচনে ভোট না দিলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাতিল করে দেবে।

তিনি বলেন, আমরা হেরে গেলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, কর কমানোর সুবিধা হারাবেন, আমরা যা করেছি সব হারাবেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিকের ওপর কর না থাকার মতো পদক্ষেপও ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে বাতিল হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, আপনাদের কর বেড়ে যাবে। আপনাদের বেতন কমে যাবে। চাকরি হারাবেন। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের প্রচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল ডারলাইন গ্রাহামের পক্ষে সমর্থন আদায় করা। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম সিনেটর হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন।

তবে নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জয় পাননি। ফলে মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে হবে।

গ্রাহামের নির্বাচনী সাফল্য ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নিজ দলের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার সমর্থিত প্রার্থীদের জয় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মঙ্গলবার রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের তিন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে হবে যেন ব্যালটে তার নাম রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বলে, ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকে, তখন ভালো করে। কিন্তু যখন ব্যালটে থাকে না, তখন তার লোকজন ভোট দিতে আসে না। তাই আমি চাই আপনারা দয়া করে এমনটা ভাবুন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি

মেটার চশমা দিয়ে ছবি তোলা, ফোন করা, কম্পিউটার চালানোসহ আরও যা যা করা যাবে by কাজী আকাশ

টনি স্টার্কের চশমার কথা মনে আছে? ‘আয়রন ম্যান’ সিনেমার দৃশ্যে টনি স্টার্ক চশমার দিকে তাকালেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব তথ্য। ওসব এখন আর সিনেমার গল্প নয়। মার্ক জাকারবার্গের মেটা আর বিখ্যাত চশমা কোম্পানি রে-ব্যান যৌথভাবে সেই ভবিষ্যৎ আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। না, হাতের মুঠোয় বলার চেয়ে চোখের সামনে এনে দিয়েছে বললে বোধ হয় জুতসই! ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেটা তাদের নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছে। এই চশমার দাম ৭৯৯ ডলার, মানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। দাম শুনেই চমকে গেলে চলবে না। কারণ, এই দামের পেছনে যে প্রযুক্তি লুকিয়ে আছে, সেটা জানলে আরও বেশি অবাক হবেন।

তবে আসল মজা কিন্তু চশমায় নয়; বরং ধূসর রঙের রিস্টব্যান্ডে। মেটার এই চশমার সঙ্গে আছে একটা বিশেষ ব্যান্ড। ঘড়ি পরার মতোই এই ব্যান্ড পরাও সহজ। তবে এই ব্যান্ড পরলে একটু হালকা বিদ্যুৎ স্পর্শের অনুভূতি পাবেন। ভয়ের কিছু নেই, এই ঝাঁকুনির সাহায্যে ব্যান্ডটি জানান দেয়, ব্যান্ড চালু হয়ে গেছে।

এই ব্যান্ডের নাম নিউরাল ব্যান্ড। এটা আপনার হাতের মাংসপেশি থেকে বের হওয়া বৈদ্যুতিক সংকেত ধরতে পারে। মানে আপনি আঙুল নাড়ালে বা হাতের নির্দিষ্ট অংশ নড়াচড়া করলে, ব্যান্ড সেটা বুঝে ফেলে এবং চশমাকে নির্দেশ দেয়। এই পুরো প্রযুক্তির নাম ইএমজি টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। ফলে প্রায় সবার হাতেই এটা ঠিকমতো কাজ করে।

এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে
খুব সহজ। আপনি হাত মুঠো পাকিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর ওপর ঘষলে চশমার স্ক্রিনে মেনু স্ক্রল হবে। মুঠোফোনের টাচপ্যাডে আমরা যেভাবে আঙুল ঘুরাই, অনেকটা সে রকম। বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরলে নির্দিষ্ট অ্যাপ খুলে যাবে। অনেকটা কম্পিউটারে মাউস ক্লিক করার মতোই।

আবার দুই আঙুল ঘুরিয়ে আলতো করে নাড়ালে গানের ভলিউম বাড়ানো-কমানো যায়। পাশ থেকে আপনাকে কেউ দেখলে মনে হবে, অদৃশ্য কোনো স্টেরিও নব ঘোরাচ্ছেন।
নিউরাল ব্যান্ডের ব্যাটারি এক চার্জে ১৮ ঘণ্টা চলে। সারা দিন ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট। আর এটা পানিরোধী, তাই বৃষ্টিতে ভিজলে বা ওয়ার্কআউট করার সময় ঘাম হলেও কোনো সমস্যা নেই। এর চার্জিং কেসে প্রায় ২৪ ঘণ্টার চার্জ মজুত থাকে।

চশমার জাদু
এবার আসি চশমার কথায়। দেখতে একদম সাধারণ চশমার মতো। কিন্তু ডান চোখের কাছে একটা ছোট্ট ডিসপ্লে লাগানো। চশমা পরলেই ডান গালের ঠিক নিচে একটা পর্দা ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এটা অনেকটা মুঠোফোনের পর্দার মতো, তবে স্বচ্ছ। মানে আপনি চারপাশ দেখতে পাবেন, আবার একই সঙ্গে সেই পর্দাও দেখতে পাবেন।

যাঁরা এই চশমা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাঁরা বলছেন, প্রথম প্রথম একটু অদ্ভুত লাগে। কোথায় ফোকাস করতে হবে, তা চোখ বুঝতে পারে না। বাইরের রাস্তাঘাটও ভেসে থাকে পর্দায়। পর্দাটা খুব পরিষ্কার হলেও আশপাশের উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে মিশে গেলে লেখা পড়তে একটু সমস্যা হয়।

তবে এটা মনোরঞ্জনের জন্য নয়, দৈনন্দিন কাজের জন্য। যেমন মেসেজ পড়া, ছবি তোলার আগে প্রিভিউ দেখা, স্পটিফাইয়ে গানের তালিকা দেখাসহ এ রকম কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

আরও জাদু
এই চশমার সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্য এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মেটা এআই নামের এই সহকারী আপনার চারপাশ বুঝতে পারে এবং সাহায্য করতে পারে নানাভাবে। সেসবের কয়েকটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

লাইভ ক্যাপশন ও অনুবাদ
ফিচারটা সত্যিই কাজের। সামনের কেউ কথা বললে চশমার পর্দায় লেখা হয়ে ভেসে ওঠে। ঠিক যেমন সাবটাইটেল দেখা যায়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, অন্য ভাষায় কথা বললে সেটা অনুবাদ করে দেখাতে পারে এই চশমা। ধরুন, আপনি জাপানি কারও সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু কিছু তো বুঝবেন না। তখন আপনার চোখের সামনে তার কথাগুলো বাংলায় ভেসে উঠবে।

ক্যামেরা ভিউফাইন্ডার
এই প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি ছবি তোলার আগেই দেখতে পারবেন, ছবিটা কেমন আসবে। চশমা পরে সামনে তাকালেই পর্দায় দেখা যাবে ক্যামেরা কী দেখছে। অনেকটা টিভিতে পিকচার-ইন-পিকচার যেমন হয়, সে রকম। জুমও করা যায় সরাসরি।

মেসেজ চালাচালি
এই সুবিধা বেশ গোপনীয়। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের মেসেজ সরাসরি চশমার পর্দায় দেখা যায়। বারবার মুঠোফোন বের করার দরকার হবে না।

নেভিগেশন
এই ফিচারের সাহায্যে রাস্তা চেনা যাবে। হয়তো নতুন কোথাও যাচ্ছেন, কিন্তু পথ ঠিকভাবে জানা নেই। চশমা আপনাকে মানচিত্র দেখিয়ে পথ বলে দেবে।

ভিডিও কল
চশমা থেকেই এখন ভিডিও কল করা যাবে। মিটিংয়ে বসে স্ক্রিন শেয়ার করাও সম্ভব এই চশমার সাহায্যে।

আরও মজার ব্যাপার হলো, এআই আপনার অভ্যাস শিখে ফেলবে। আপনি সাধারণত কোন সময় কী করেন, তা বুঝে আগেভাগেই এআই সাজেশন দেবে। যেমন কোনো মিটিংয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের নাম বলে দেওয়া, রাস্তায় হাঁটলে কাছের রেস্তোরাঁ বা বাসস্ট্যান্ডের খবর জানানো ইত্যাদি। কোন বিল্ডিংয়ের নাম কী, সেখানে কী কাজ হয়, তা–ও চশমায় দেখা যাবে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যদি একটা ভাস্কর্য চোখে পড়ে, তাহলে সেই ভাস্কর্যের ব্যাপারেও তথ্য জানা যাবে এই চশমার সাহায্যে।

পাশাপাশি কোনো কিছুর ছবি তুলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এটা কী? এআই চিনতে পারবে এবং আপনাকে সে সম্পর্কে তথ্য দেবে ও বিষয়টা কী, তা বুঝিয়ে দেবে। যদিও এই ফিচার পরীক্ষার সময় ঠিকমতো কাজ করেনি বলে এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন।

গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তা
চশমায় ক্যামেরা থাকলে তো গোপনীয়তার প্রশ্ন আসবেই। মেটা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছে। ক্যামেরা চালু হলে একটা এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। মানে কেউ যদি আপনাকে দেখে, সে বুঝতে পারবে আপনি ছবি বা ভিডিও করছেন।

ভিডিও আর তথ্যগুলো যতটা সম্ভব চশমার ভেতরেই প্রসেস হয়। মেটার সার্ভারে পাঠানোর আগে সেসব এনক্রিপ্ট বা সাংকেতিক করা হয়। এআই ফিচার চালু করার আগে আপনার অনুমতি চাওয়া হবে। তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিসরে বা অফিসে এই চশমা পরলে মানুষ অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আসল অভিজ্ঞতা কেমন
যাঁরা এই চশমা পরে দেখেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা মিশ্র। কেউ কেউ একে সেরা স্মার্ট চশমার তকমা দিয়েছেন। কারণ, এর পর্দা পরিষ্কার, হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ এবং এআই ফিচার আছে। তবে সবাই এর সঙ্গে একমত হতে পারেননি। সেটাই স্বাভাবিক।

এই চশমার কিছু সমস্যাও আছে। চশমাটা আগের মডেলের চেয়ে একটু ভারী। প্রথমবার হাতের ইশারায় কাজ করাতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়। যেমন ক্যামেরা অ্যাপ খুলতে বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরতে হয়। কিন্তু সঠিক তাল আর সময় না মিললে কাজ হয় না। মাউস ক্লিক করা যত সহজ, আঙুল চেপে ধরা তত সহজ নয়।

আর সবচেয়ে বড় সমস্যা এর দাম। ৭৯৯ ডলার মানে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। একটা চশমা কেনার জন্য টাকা হয়তো সবার পকেটে নেই। তবে যাঁরা নতুন প্রযুক্তি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটা আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই চশমা কোথায় পাওয়া যাবে
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ সেপ্টেম্বর এই চশমা বিক্রি শুরু হয়েছে। বেস্ট বাই, লেন্সক্র্যাফটার্স, সানগ্লাস হাট ও রে-ব্যান স্টোরে এই চশমা পাওয়া যাচ্ছে। চশমাটির দুই ধরনের আকার—স্ট্যান্ডার্ড ও লার্জ। যাঁরা চশমা পরেন, তাঁরা চাইলে পাওয়ার লেন্সও লাগিয়ে নিতে পারবেন। চশমার ওজন ৬৯-৭০ গ্রাম। একে হালকাই বলা যায়। ট্রানজিশন লেন্স দেওয়া আছে, যেটা ঘরে ও বাইরে আলোর সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

২০২৬ সালের শুরুতে কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি আর যুক্তরাজ্যেও এই চশমা বিক্রি শুরু হবে। তবে বাংলাদেশে কবে আসবে, সেটা এখনো জানা যায়নি। প্রযুক্তি যে কত দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এই চশমা তার প্রমাণ। হাতের সামান্য নড়াচড়ায় কম্পিউটার চালানো, চোখের সামনে ভেসে ওঠা পর্দা, কথা বললে সেটা লেখা হয়ে যাওয়া—এসব কিছুদিন আগেও সিনেমার দৃশ্য ছিল, এখন বাস্তব।

সূত্র: সিএনবিসি, টেকপয়েন্ট ও মেটা

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-26%2Fzoojeh96%2Fhq720.jpg?rect=54%2C0%2C579%2C386&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেটা তাদের নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছে। ছবি: ইউটিউব চ্যানেল মিস্টারহুজদ্যবস থেকে

ক্ষমতায় থাকতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেবো না: নেতানিয়াহু

যতদিন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন, ততদিন গাজা বা অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের আরব মুসলিম পার্টি ‘ইউনাইটেড আরব লিস্টের’ নেতা মানসুর আব্বাসের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মনসুর আব্বাস এর আগে বলেছিলেন, ফিলিস্তিন ইতোমধ্যেই একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিদ্যমান এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ একে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার আরব শহর তাইবেতে নিজ দলের সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্বাস বলেন, তার দল ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বিদ্যমান এবং বিশ্ব তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটন ও তেলআবিবকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকব, ততদিন ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না—গাজায়ও নয়, জুডিয়া ও সামারিয়াতেও নয়।’ পশ্চিম তীরকে বোঝাতে তিনি বাইবেলীয় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনমত জরিপে পিছিয়ে আছে তার জোট।

বর্তমানে লিকুদ পার্টির দখলে ৩২টি আসন থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দলটির জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে লিকুদকে মাত্র ২০টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু

ক্ষমতায় থাকতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেবো না: নেতানিয়াহু

ইউরোপের ‘ফাঁপা নিন্দায়’ শক্তিশালী হচ্ছে ইসরাইল

আল-জাজিরাঃ ইউরোপের দেশগুলোর নিন্দা বা সমালোচনাকে ইসরাইল গুরুত্ব দেয় না। বরং এ ধরনের নিন্দা ইসরাইল সরকারের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করে। এমন মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিনকাস।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিনকাস বলেন, ইসরাইল সরকারের কাছে এসব নিন্দা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং এর প্রভাব উল্টো। ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন সমালোচনা ইসরাইল সরকারকে তাদের পুরোনো একটি যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।

পিনকাস বলেন, এসব নিন্দার পর ইসরাইল সরকার বলতে পারে, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের বিরুদ্ধে। সবাই ইহুদিবিদ্বেষী। ইসরাইলবিরোধী একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সবাই আমাদের ঘৃণা করে।’

ইসরাইলের এই সাবেক কূটনীতিকের মন্তব্যের আগে বৃহস্পতিবার ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও কানাডা একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে ইসরাইলের ‘ই ওয়ান’ বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য ‘আইনি ও সুনামগত পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

‘ই ওয়ান’ প্রকল্পটি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধ দীর্ঘদিনের।

পিনকাস ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে ইসরাইলের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সংসদ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুধু বক্তব্য ও নিন্দা জানানো হলে তাতে ইসরায়েল সরকারের ওপর কোনো বাস্তব চাপ তৈরি হয় না।

তিনি বলেন, যতক্ষণ এসব পদক্ষেপ শুধু বক্তব্য এবং ‘ফাঁপা নিন্দার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ ইসরাইল সরকার তা নিয়ে চিন্তিত নয়।

পিনকাসের বক্তব্যে মূলত ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক সমালোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তার মতে, শুধু নিন্দা বা সতর্কবার্তা না দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব সমালোচনা ইসরাইলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। বরং এসব নিন্দাকে ইসরাইল সরকার নিজেদের পক্ষে রাজনৈতিক বক্তব্য তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে।

ইউরোপের ‘ফাঁপা নিন্দায়’ শক্তিশালী হচ্ছে ইসরাইল
ছবি: আল-জাজিরা

ইরানের অবরোধ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশল

সংকেত নিভিয়ে তেলের গোপন চালানঃ ইরানের ড্রোন হামলা ও দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ মোকাবিলা করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো। মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী সুপারট্যাংকারগুলো স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সংকেত (এআইএস ট্রান্সপন্ডার) বন্ধ করে রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে। এই গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাকে একপ্রকার ব্যর্থ করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

মাঝসমুদ্রে তেল স্থানান্তর: পারস্য উপসাগরীয় তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণাণিতে পৌঁছানোর আগেই নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বা ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ করে দিয়ে রাডার নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করছে। ওমান উপসাগরে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর পর তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষমাণ বড় জাহাজে সরাসরি তেল স্থানান্তর করে (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার)। এরপর খালি ট্যাংকারগুলো পুনরায় সংকেত বন্ধ করে নিজেদের বন্দরে ফিরে আসে। সম্প্রতি গ্রিসের মালিকানাধীন সুপারট্যাংকার ‘কিকু’ এই কৌশলে সফলভাবে তেল পরিবহন সম্পন্ন করেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই কৌশলের ফলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

বিকল্প রুট ও বিশ্ববাজারে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ:
ইরানের সংঘাতময় জলসীমা এড়াতে সৌদি আরব দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের বদলে নিজস্ব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনিজুয়েলা দৈনিক অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করছে। অন্যদিকে সংকট সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জরুরি মজুদ (এসপিআর) থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে এবং চীন তাদের নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট
তবে এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। টানা ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯০ কোটি ব্যারেল তেলের জরুরি মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া সংঘাত ও হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও ইউরোপের প্রধান তেল শোধনাগারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির বড় চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে এইসকল ব্যবস্থা কতদিন সফলভাবে চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ইরানের অবরোধ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশল

উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের রেকর্ড ভাঙল রোবট

রয়টার্সঃ চীনের স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি একটি মানবাকৃতির রোবট ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে মাত্র ৯ দশমিক ৩২ সেকেন্ডে। আজ শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে রোবটটি জ্যামাইকান স্প্রিন্ট কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের গড়া বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

লাইটনিং নামের রোবটটি আজ বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের’ প্রস্তুতিমূলক একটি পরীক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৫ মিটার গতিতে দৌড়ায়।

এই পারফরম্যান্স ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্ব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল।

চীন মানবাকৃতির রোবটশিল্পকে একটি কৌশলগত উদীয়মান খাত হিসেবে জোর দিচ্ছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হার্ডওয়্যারের উৎপাদন অগ্রগতি, লজিস্টিকস এবং ভোক্তা ব্যবহারে এই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ঘটাবে।

গত এপ্রিলে ২১ কিলোমিটার বেইজিং হাফ ম্যারাথনেও জয় পেয়েছিল লাইটনিং। রোবটটি দৌড় শেষ করতে সময় নিয়েছিল ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড, যা পুরুষ অ্যাথলেটদের বিশ্ব রেকর্ডের গতির চেয়ে বেশি।

হাফ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সময় রোবটটির উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯৫ সেন্টিমিটার। চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৫ মিটার করেছেন।

চীনের বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বেইজিং ই-টাউন হাফ ম্যারাথন ও হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথনে ফিনিশিং লাইন পার হচ্ছে অনারের তৈরি লাইটনিং হিউম্যানয়েড রোবট। ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চীনের বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বেইজিং ই-টাউন হাফ ম্যারাথন ও হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথনে ফিনিশিং লাইন পার হচ্ছে অনারের তৈরি লাইটনিং হিউম্যানয়েড রোবট। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

তুরস্কের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরায়েলের

তুরস্ক সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে এমন এক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে গত সপ্তাহে হামলার সুপারিশ করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ দাবি করেছেন। খবর আল জাজিরার।

কাটজ বলেন, হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে সিরিয়া সরকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর হামলা চালানো হয়।

যদিও ইসরায়েলের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না।

সিরিয়াও জানিয়েছে, আবু আল দুহুরে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য তুরস্কের কর্মকর্তারা ওই স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন।

গত ১৮ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটিতে আট দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও অস্ত্র-সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তুরস্ক, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয়ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে তারা।

তবে ব্যারাকের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন কাটজ। তার দাবি, ব্যারাকের প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভুল তথ্য রয়েছে এবং গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও তার কিছু বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

সূত্র : আল জাজিরা

সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি
সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি

গাজায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন

গাজা উপত্যকায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্যালেস্টিনিয়ান মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ। শনিবার তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে আল জাজিরা।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, গাজায় বিপুলসংখ্যক রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।

আবু আফাশ সতর্ক করে বলেন, গাজা উপত্যকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসহায়তা প্রবেশ না করলে সেখানকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো না হলে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। খোদ দখলদার বাহিনীও তা স্বীকার করে নিচ্ছে। যেমন, গাজার নুসেইরাত এলাকায় বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এক হামলায় হামাসের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

বাহিনীটি দাবি করে, নিহত ব্যক্তির নাম সাবাহি সামি মাহমুদ শাহাতা। তিনি হামাসের সামরিক শাখার একজন প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, শাহাতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলিদের আটক করে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বন্দিদের মুক্তি ও তাদের রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের সময় আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানেও শাহাতা অংশ নিয়েছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি

ত্রিপোলি পতনের ১৫ বছর পরও লিবিয়া ছাড়ছে মেধাবীরা

২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পতনের মধ্য দিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসানের পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ১৫ বছর পরও দেশটির তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে শুধু দক্ষ জনশক্তিই হারাচ্ছে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের মানুষের আশাবাদও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

৩২ বছর বয়সী স্থপতি সারাহ মিজরান ত্রিপোলির পতনের সময় কিশোরী ছিলেন। আট বছর আগে তিনি শহরটি ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি তিনি টেকসই স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন। ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থাপনা নিয়েও গবেষণা করছেন তিনি।

মিজরান বলেন, তরুণ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়লে লিবিয়া শুধু দক্ষতাই হারায় না, সম্ভাবনার ভিত্তিও হারায়। একটি প্রজন্ম যদি মনে করে ভবিষ্যৎ গড়তে হলে দেশ ছাড়তেই হবে, তাহলে নিজের দেশ নিয়েও তাদের আশা কমে যায়।

২৪ বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান মিজরান। সেখানে তাকে ভিন্ন পেশাগত সংস্কৃতি ও কাজের ধরন সম্পর্কে নতুন করে শিখতে হয়েছে।

তবে মিজরান একা নন। লিবিয়ার আরও বহু তরুণ পেশাজীবী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন।

৩৬ বছর বয়সী নাদের এলগাদি ২০১৪ সালের শেষ দিকে ত্রিপোলিতে নিজের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় লিবিয়ার দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনিও স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে যান।

পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও অধিকারকর্মীদের ওপর হুমকি বাড়তে থাকায় তিনি যুক্তরাজ্যেই থেকে যান। এলগাদি বলেন, লিবিয়ায় নিজের ব্যবসা চালিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করা থেকে যুক্তরাজ্যে এসে তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথম দুই বছর তার জন্য খুব কঠিন ছিল।

২০১৮ সালে এলগাদি ‘লিবিয়া ইন দ্য ইউকে’ নামে একটি সাংস্কৃতিক দাতব্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। লিবীয় প্রবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লিবিয়া সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

ত্রিপোলির পতনের ১৫ বছর পর মিজরান ও এলগাদি দুজনই যুক্তরাজ্যকে নিজেদের ঘর হিসেবে দেখছেন। তবে লিবিয়ার প্রতি তাদের টান এখনো রয়েছে।

মিজরান বলেন, ঘর এমন কিছু নয়, যা একবার খুঁজে পেলেই চিরদিনের জন্য পাওয়া যায়। বরং এটি বারবার নতুন করে তৈরি করতে হয়।

এলগাদি নিজেকে এখন একজন ‘যাযাবর’ হিসেবে দেখেন। স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাও আর করেন না। তবে তার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।

দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ায় লিবিয়ার শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ রয়েছে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো তারেক মেগেরিসি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এখনো কয়েক হাজার দক্ষ ও কারিগরিভাবে যোগ্য মানুষ কাজ করছেন। তবে তাদের অনেকেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারণে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

তার মতে, ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লিবীয় দেশে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেক দক্ষ তরুণ পেশাজীবীও ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পদে থাকা অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তুলনায় বেশি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকে গাদ্দাফি সরকারের মতোই আচরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মেগেরিসির মতে, দুর্নীতিও দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০১১ সালের পর বেড়ে ওঠা উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দেশ ছাড়তে চাইছে।

তিনি বলেন, লিবিয়ায় যদি সত্যিকারের, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিদেশে থাকা এই দক্ষ জনশক্তি খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসবে।

তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিআরআই মেনাসের সহযোগী টবি চিতায়াত মনে করেন, লিবিয়ার মেধাপাচারের প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, পূর্ব ও পশ্চিমে দেশটির বিভক্তি, অস্থিতিশীল তেল রাজস্ব এবং ব্যাপক দুর্নীতির তুলনায় দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ার প্রভাব দেশটির শাসনব্যবস্থা বা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর তুলনামূলকভাবে কম।

তবে তিনিও মনে করেন, লিবিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের পুনঃসম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।

সূত্র : আল জাজিরা

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ছবি : গেটি ইমেজেস
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ছবি : গেটি ইমেজেস

২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য

২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ২০ হাজারের বেশি সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে আগের বছরের তুলনায় যৌন নিপীড়নের সরকারি অভিযোগ ও সম্ভাব্য মোট ঘটনার সংখ্যা দুটিই কমেছে। খবর এবিসি নিউজের।

শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে প্রতি দুই বছর পরপর পরিচালিত একটি বেনামি জরিপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সামরিক সদস্যদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের শিকার হওয়ার হার কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রেও এ হার কমেছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা পুরুষদের ১ দশমিক ৩ শতাংশ অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তা কমে ১ শতাংশে নেমেছে।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের প্রবণতা কমার তথ্য পাওয়া গেল। ২০২১ সালে নারী সদস্যদের মধ্যে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ৭ হাজার ৯৯৮টি সরকারি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগী কিংবা অভিযুক্ত ছিলেন।

২০২৪ সালে সরকারি অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৯৫টি এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮ হাজার ৫১৫টি।

তবে অভিযোগ জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ শতাংশ সরকারি অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে।

পেন্টাগন এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কারণ যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সেটিই তারা নিশ্চিত করতে চায়।

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮৪৩ জন সরকারি অভিযোগ করেছেন।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের আরও বেশি অভিযোগ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা পেতে পারেন এবং অপরাধীদের যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও প্রস্তুতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক অভিযানের সক্ষমতার জন্য হুমকি তৈরি করে।

কংগ্রেসের নির্দেশে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অতীতে সাধারণত বসন্তে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও এবার অনলাইনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

সূত্র : এবিসি নিউজ

প্রাথমিক প্রশিক্ষণের সময় নারী মেরিন সদস্যরা মার্শাল আর্টের ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। ছবি : নিউইয়র্ক টাইমস
প্রাথমিক প্রশিক্ষণের সময় নারী মেরিন সদস্যরা মার্শাল আর্টের ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। ছবি : নিউইয়র্ক টাইমস

কসোভোয় গণকবরের সন্ধান, মিলল ২৩ জনের দেহাবশেষ

কসোভোয় নতুন করে গণকবরের সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দশকের জাতিগত সংঘাতের সময় নিহতদের লাশ সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এমন তিনটি স্থান খুঁড়ে অন্তত ২৩ জনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির প্রসিকিউটর, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানান, ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের দলগুলো অন্তত ২৩ ব্যক্তির কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কসোভো যুদ্ধে স্বাধীনতাকামী জাতিগত আলবেনীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সার্বীয় বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিহত এবং ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের জুবিন পোটোক এলাকায় দুই সপ্তাহ আগে খননকাজ শুরু হয়। নিখোঁজ জাতিগত আলবেনীয়দের সন্ধানে চালানো এ অভিযানে পাওয়া দেহাবশেষগুলো ১৯৯৯ সালের বসন্তে মিত্রোভিৎসা শহর থেকে অপহরণ করে হত্যা করা ২৩ আলবেনীয়ের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি খননকাজ চলাকালে এ দাবি করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে সব দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এ ঘটনায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্থানীয় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের সন্দেহে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটররা।

সূত্র: আল জাজিরা

গণকবরের স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: এএফপি
গণকবরের স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: এএফপি

সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ৬ ভারতীয় নাবিক

সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে একটি কার্গো জাহাজ জিম্মি করেছে জলদস্যুরা। জাহাজটিতে থাকা ১০ নাবিকের মধ্যে অন্তত ৬ জন ভারতীয়। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘লুতুফ’ নামের জাহাজটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ছিনতাই করা হয়।

সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে তুরস্কের জন্য পাঠানো অস্ত্র ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভারত ও তুরস্কের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। সংবেদনশীল তথ্যের কারণে ওই কর্মকর্তা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

জাহাজটিতে ৬ জন ভারতীয় নাবিক ছাড়াও একজন তুর্কি ও একজন জর্জিয়ান নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, আটজন জলদস্যু জাহাজটি দখল করে। পরে তারা জাহাজটি পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার গারমালের কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

কর্মকর্তার ধারণা, জলদস্যুরা এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ছিনতাই করেছিল।

জাহাজে ছিল অস্ত্র ও যোগাযোগ সরঞ্জাম

সোমালিয়ার ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘লুতুফ’ জাহাজে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো অস্ত্র ছিল। এর পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জামও ছিল।

জাহাজটির মালিক ‘পোলার মুভমেন্ট শিপিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর নাবিকদের কী অবস্থায় রাখা হয়েছে বা তাঁদের বিষয়ে জলদস্যুরা কোনো দাবি জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভারত ও তুরস্কের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ৬ ভারতীয় নাবিক
ছবি: এএফপি

বিয়ের পোশাকে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিনেও এলেন না কোনো কনে

বিয়ের পোশাক পরে সকাল থেকে মন্দিরে বসেছিলেন প্রায় ৪০ জন বর। সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারও। অপেক্ষা ছিল কনেদের জন্য। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও কোনো পাত্রী না আসায় শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—গণবিয়ের নামে সবাইকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায়।

অভিষেকের বাবা-মা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ভারতের একটি কাছের গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, একটি ছবির অ্যালবাম থেকে এতিম নারী পছন্দ করলেই হবে এবং একটি গণবিয়েতে অংশ নিতে প্রায় ২০০ ডলার দিতে হবে।

গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে অভিষেক ভার্মাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন বর সকাল ৮টায় বিয়ের পোশাক কুর্তা ও শেরওয়ানি পরে হাজির হন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো কনের দেখা না পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, প্রতারকরা তাদের ‘টোপ গিলিয়েছিল’। ভুক্তভোগীরা ছিলেন গ্রামাঞ্চলের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ। লজ্জার কারণে আরো অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করতে আসেননি বলেও জানান তিনি।

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ঘটনার কথিত ঘটক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ভারতের বিয়ের বাজারে প্রতারণা নতুন নয়, তবে ভুয়া গণবিয়ের ঘটনা খুবই বিরল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত বলেন, ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এ ধরনের প্রতারণামূলক গণবিয়ের ঘটনা এই প্রথম দেখলেন তিনি।

অভিষেক ভার্মাসহ আরো একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত ঘটককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে পুলিশ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী এবং তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগীসহ চার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি করে নিয়ে বৈরাগী পরিবারটি প্রায় ৪ হাজার ডলার আয় করেছে। গ্রামীণ পরিবারের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য অর্থ হলেও বিয়ের খরচের তুলনায় কম বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রামীণ পুরুষদের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়েছিল প্রতারকরা।

ভারতে পণ প্রথা ১৯৬১ সালে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ কনের পরিবারের জন্য পণ হিসেবে কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হয়, যা কখনো কখনো তাদের কয়েক বছরের আয়ের সমান।

কনের সংকট মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার গণবিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এসব বিয়ে সাধারণত প্রচলিত কয়েক দিনের বিয়ের চেয়ে কম সময় ও কম খরচে সম্পন্ন হয়।

তবে মধ্যপ্রদেশের এই ভুয়া গণবিয়ের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত পরিবারটি গ্রামে নিজেদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে লোকজনকে প্রতারণা করেছে।

দিনভর কনের অপেক্ষায় থাকার পর সন্ধ্যার দিকে বর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেওয়াস শহরের একটি মন্দিরে তাদের জড়ো হতে বলা হয়েছিল।

অভিষেক জানান, পরে তিনি কথিত ঘটকদের দেওয়া কনেদের ছবিগুলো খতিয়ে দেখেন। তখন জানতে পারেন, ওই নারীরা এতিম নন; বরং তারা ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

বিয়ের পোশাকে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিনেও এলেন না কোনো কনে
২০১৯ সালে ভারতের সুরাটে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে কনেরা। ছবি: এপি।

পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ‘বন্দে মাতরমকে ভারতের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে এক কাতারে নিয়ে এসে দাবি করেছেন, তার সরকার এই বিষয়ে কোনো আপস করবে না।

শনিবার নিজের ভবানীপুর নির্বাচনি এলাকায় এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’

এ সময় অধিকারীর অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের বিরোধিতা করার জন্য ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তিকে অভিযুক্ত করেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করব।’

তার সরকারের লক্ষ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকতে হবে।

বাম দলগুলোরও সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তাদের নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
শুভেন্দু অধিকারী

আপনি কি কোনো ঘটনা বা ব্যক্তিকে ভুলে যেতে চান? জেনে নিন ৬টি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

আমাদের জীবনে না চাইতেও এমন মানুষ আসে, যাকে একটা সময় আমরা ভুলে যেতে চাই। জীবনে এমন ঘটনা ঘটে, যা আমাদের ভেতর থেকে ক্রমাগত পোড়ায়। আপনি কি এমন কোনো ব্যক্তি বা ঘটনা চেষ্টা করেও ভুলতে পারছেন না? কী করবেন? আসলে কোনো মানুষ বা ঘটনাকে মস্তিষ্ক থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা খুবই কঠিন। কেননা, আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতি ধরে রাখে। তবে স্মৃতির প্রভাব কমানো, মনোযোগ অন্যদিকে সরানো এবং আবেগের তীব্রতা হ্রাস করা সম্ভব। নিচে ছয়টি সহজ, কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত মনস্তাত্ত্বিক উপায় দেওয়া হলো।

১. কল্পনার দরজার সামনে দাঁড়ান

চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আপনি পৃথবীর একেবারে শেষ প্রান্তে একটা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই দরজার বাইরে ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে বা দরজার ওপাশে ঘটনাটি ঘটেছে। আপনি এবার কল্পনায় ওই দরজা বন্ধ করে দিন ও নিজের পৃথিবীতে মনোনিবেশ করুন।

এই কৌশল আমাদের মস্তিষ্কে এই বার্তা দেয় যে আপনার বর্তমান পৃথিবীতে ওই ব্যক্তি বা ঘটনাটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফলে মস্তিষ্ক ওই স্মৃতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয় না। আপনিও তাই ওই ব্যক্তি বা ঘটনা ধীরে ধীরে ভুলতে শুরু করেন।  

২. স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলুন

ওই ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত জিনিস; যেমন ছবি, ভিডিও, টেক্সট বা গান—সব ডিলিট করে দিন। সামাজিক মাধ্যমে ভুলেও তাকে স্টক করবেন না। ওই ব্যক্তির কোনো কিছুই যেন আপনার চোখের সামনে না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করুন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে যেখানে যেখানে ঘুরতে গেছেন, আপাতত সেসব জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই।

সাময়িক বিরতি নিন। পরে সেসব জায়গায় গিয়ে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন, যাতে ওই স্থানের পুরোনো স্মৃতি চাপা পড়ে যায়। তার দেওয়া উপহার কাউকে দিয়ে দিন। দেখবেন, এর ফলে তাকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কম মনে পড়ছে।    

৩. জার্নালিং থেরাপি

যে মানুষ বা ঘটনা থেকে আপনি মুক্তি পেতে চাইছেন, তা একটা ডায়েরিতে গুছিয়ে বিস্তারিত লিখে ফেলুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক থেকে ঘটনা বা স্মৃতিটি কাগজের পাতায় স্থানান্তরিত হলো। লেখা শেষে পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন, আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন বা টয়লেটে ফ্ল্যাশ করুন।

এতে আপনি অনেকটাই হালকা হবেন। মন হালকা করতে বন্ধু, আপনজন বা পেশাদার কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন।

৪. জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন না

আপনি কোনো ঘটনা যতই জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন, ততই বেশি করে আপনার মস্তিষ্কে ঘটনাটি উঠে আসবে। মস্তিষ্কও সেই স্মৃতি গুরুত্ব দিয়ে ধরে রাখবে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের জন্য বা ঘটনার জন্য নিজেকে মোটেও দায়ী করবেন না।

‘কেন এমন হলো বা কেন ভুলতে পারছি না?’—নিজেকে এই প্রশ্ন করবেন না। এভাবে নিজেই নিজেকে চাপে রাখলে ভুলে যেতে আরও সময় লাগবে। নিজেকে একটু সময় দিন। মেডিটেশন করুন, নতুন কোনো শখে ডুব দিন বা সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করুন। নতুন রুটিন তৈরি করে নতুন কিছু শিখুন। প্রকৃতির সংস্পর্শে সময় কাটান।

৫. কাউন্টিং থেরাপি

আপনার যখনই ওই ব্যক্তি বা ঘটনার কথা মনে পড়বে, তখনই মনে মনে সংখ্যা গুনুন। মনে করুন, সকালে আপনার মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘এক, দুই।’

আবার বিকেলে মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘তিন, চার।’

রাতে মনে পড়ল। মনে মনে বললেন, ‘পাঁচ, ছয়।’

এভাবে ওই ব্যক্তি বা ঘটনাটি নয়, বরং শেষবার কত গুনেছিলেন, সেটি মনে রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার মস্তিষ্ক ব্যক্তি বা ঘটনাটিকে ‘বোরিং’ হিসেবে ধরে নেবে আর সহজে মুছে ফেলার চেষ্টা করবে।

৬. মস্তিষ্ককে পুনঃ প্রশিক্ষণ দিন (রিফ্রেমিং)

ঘটনাটিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করুন। ‘এই ঘটনা আমাকে কী শিখিয়েছে’, ‘এই ঘটনা কীভাবে আমাকে আরও ভালো মানুষ বানাতে ভূমিকা রাখতে পারে’ এভাবে দেখলে কষ্ট কমে।
মনে রাখবেন

কেউ রাতারাতি কোনো কিছু ভুলে যায় না। বিশেষ করে যা কিছু আমাদের ভেতরে গভীর ক্ষত, দাগ তৈরি করে, সেসব ভোলা সত্যিই কঠিন। তবে প্রতিদিন একটু একটু করে প্রভাব কমে যায়। একটা নির্দিষ্ট সময় পার করে বুঝবেন, আর ব্যথা নেই।

ওই ব্যক্তি বা ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাবই আপনার ভেতরে নেই; বরং সেটিকে আপনি এখন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচকভাবেই দেখতে পারছেন।

সূত্র: বেটার হেল্প ও প্যারেড ডটকম

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-26%2Ffekzuewz%2FSumon-YusufAdhuna-56.JPG?rect=0%2C0%2C5760%2C3840&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আমাদের জীবনে না চাইতেও এমন মানুষ আসে, যাকে একটা সময় আমরা ভুলে যেতে চাই। মডেল: দোয়েল। ছবি: সুমন ইউসুফ