Thursday, November 22, 2018

৮ ভক্তকে ধর্ষণ, সিউলে যাজকের ১৫ বছরের জেল

অনুসারীদের ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ বছরের জেল হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ধর্মযাজক লি জায়ে-রকের (৭৫)। দেশটিতে বৃহৎ মামিন সেন্ট্রাল চার্চের যাজক তিনি। তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে আটজন নারী অনুসারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তার রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার অনুসারী। অভিযোগ আছে, এসব অনুসারী তাকে ঈশ্বর বলে মনে করেন। তাই তিনি ঐশ্বরিক ক্ষমতা রাখেন। তিনি চাইলে অনুসারীদের মনোবাসনা পূরণ করতে পারেন। আর তা ব্যবহার করে তিনি নারীদের করেছেন শয্যাসঙ্গী।
মাত্র ১২ জন অনুসারীকে নিয়ে ১৯৮২ সালে মামিন সেন্ট্রাল চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন লি। বর্তমানে তা একটি মেগা-চার্চে রূপ নিয়েছে। রয়েছে বিশাল সদর দপ্তর, একটি অডিটরিয়াম এবং অলৌকিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আছে একটি ওয়েবসাইট।
এ বছরের শুরুর দিকে তিনজন অনুসারী ওই যাজকের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তারা বলেন, তাদেরকে লি তার এপার্টমেন্টে ডেকে নিয়েছিলেন এবং তাদেরকে বাধ্য করেন তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে। তাদের একজন দক্ষিণ কোরিয়ার মিডিয়াকে বলেছেন, এ সময় তার কাছ থেকে আমি ছুটে আসতে বা নিজেকে নিরাপদ করতে সক্ষম ছিলাম না। তিনি ছিলেন একজন রাজার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি ছিলেন ঈশ্বর। অভিযোগকারী এই নারী বলেছেন, তিনি বাল্যকাল থেকেই ওই চার্চের একজন সদস্য ছিলেন। অভিযোগকারী এই নারী মিলে মোট আটজন নারী ওই যাজকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। ফলে মে মাসে আটক করা হয় লি’কে। এরপর আদালতে চলতে থাকে বিচার। তাতে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ে এসব নারীকে শত শত বার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন লি। তার বিরুদ্ধে জেলের রায় দিয়েছেন সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক চুং মুন-সাং।

বয়সের পার্থক্য ৪৫ বছর, দাম্পত্যের গোপন রহস্য

স্টেফানি অ্যান্ডারসন (২৩)। প্রথম দেখায় তিনি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন ৬৮ বছর বয়সী বিল্ডার ডন ওয়ালপারের। তারপর থেকে চুটিয়ে প্রেম, ডেটিং। এরপর চার বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে রয়েছে ৯ মাস বয়সী একটি ছেলে। স্টেফানি ও ওয়ালপারের বয়সের ফারাক ৪৫ বছরের হলেও দাম্পত্য সুখ অনাবিল। এর কারণ কি? স্টেফানি বলেন, তাদের এই সম্পর্কের কেমিস্ট্রি হলো প্রতিদিন যৌন সম্পর্ক স্থাপন। তা তাদেরকে বয়সের ব্যবধান ঘুচিয়ে আরো কাছে নিয়ে এসেছে।
বৃটিশ কলাম্বিয়ার ভারননে তাদের বসতি। চ্যানেল ৫ এর ‘এইজ গ্যাপ লাভ’ সিরিজের এক অনুষ্ঠানে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এতে আপত্তি ছিল না স্টেফানির মা জ্যানেটের। উল্লেখ্য, ওয়ালপারের শাশুড়ি অর্থাৎ জ্যানেট কিন্তু তার চেয়ে ১০ বছরের ছোট।
দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে স্টেফানি বলেছেন, তার বয়স যখন মাত্র ১৯ বছর তখন তিনি প্রথম দেখায় ভালবেসে ফেলেন ওয়ালপারকে। এখন তিনি তার স্বামী। তার মতে, আমি এ যাবত যত মানুষকে দেখেছি তার মধ্যে ওয়ালপার হলো সেরা প্রেমিক। প্রথম যেদিন তারা ডেটিং দেয়া শুরু করেন সেদিন থেকেই দিনে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকেন।
স্টেফানি একটি বার-এ কাজ করতেন। একদিন হঠাৎ তার চোখ পড়ে যায় ওয়ালপারের চোখের ওপর। অমনি তার মনের ভিতর ঝড় বইতে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রেমে পড়ে যান। স্টেফানি বলেন, শুরু থেকেই আমরা এলোমেলো হয়ে যেতে শুরু করি। সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়। আমি বয়স্ক মানুষদের সব সময় পছন্দ করতাম। তেমনই একজনকে পেয়ে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে ওয়ালপারের বয়সের ক্যাটেগরিতে কারো দিকে আমি এর আগে এভাবে তাকাই নি।
তারপর বিয়ে। কেটে গেঠে চার বছর। এখনও তাদের সম্পর্ক অটুট আছে। ৪৫ বছরের বয়সের ফারাক থাকলেও তাদেরকে বিনি সুতোয় গেঁথে রেখেছে শারীরিক সম্পর্ক। সে কথাই স্বীকার করেছেন স্টেফানি। তিনি বলেছেন, এর সূচনা হয়েছিল প্রথম ডেটিং থেকেই। তারপর বহুবার।

আমাদের নির্বাচনের দিনটি চুরি-ডাকাতির দিন হয়ে গেছে -সাক্ষাৎকারে ড. শাহদীন মালিক by মরিয়ম চম্পা

এখন থেকে এক-দেড় মাস আগেও যদি আমার কাছে জানতে চাওয়া হতো নির্বাচন কেমন হবে? তখন সবার মতো আমিও উত্তর দিতাম খুব সম্ভবত একতরফা নির্বাচন হবে। এখন ওই জায়গা থেকে আমরা একটু এগিয়েছি। শেষ মুহূর্তে যদি কোনো অঘটন না ঘটে তাহলে একতরফা নির্বাচন হবে- এটা বলা যাবে না। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে এক-দেড় মাস আগে যা মনে হতো তার তুলনায় নির্বাচন অনেক ভালো হবে।
মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের শিক্ষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। ধানমন্ডির চেম্বারে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের রাজনীতি, সামাজিক সংকটসহ নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচনের দিনটি হচ্ছে ঈদের মতো। ঈদের দিনে আমরা চুরি করতে বের হই না। আনন্দ করতে বের হই। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে, ভালো খাওয়া খেতে বের হই।
কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয় বহু বছর ধরে আমাদের নির্বাচনের দিনটি একটি চুরি-ডাকাতির দিন হয়ে গেছে। নির্বাচনের দিন আমাদের লোকজন এটাকে ঈদের দিন না ভেবে কারচুপি বা কারসাজি করে জেতার মতো একটি খেলা মনে করে। এটা যতোদিন দেশের লোকজন ভাবতে থাকবে ততোদিন দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত আমাদের ভাবতে হবে নির্বাচনটা কারচুপি বা কারসাজির ব্যাপার না। এবং আমাদের নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্ত হতে হবে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন কতটুকু শক্ত হতে পারবে সে সম্পর্কে আমার এই মুহূর্তে প্রচুর সন্দেহ আছে। এ পর্যন্ত তাদের যে কাজকর্ম তা থেকে তাদের প্রতি খুব বেশি আস্থার জায়গা তৈরি হয় নি। অতএব এখন আমাদের উচিত সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া ‘নির্বাচনের দিনটি আমাদের ঈদের মতো পবিত্র ও আনন্দের দিন, এটা কারচুপি বা কারসাজি করার দিন না’। তারপরেও যেকোনো দেশে যেকোনো নির্বাচনে শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ লোক বেআইনি কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ওই জায়গায় পক্ষপাতিত্ব না করে শক্ত হতে হবে। তরুণ ভোটারদের বলবো, কি হবে না হবে কিংবা ভালো-মন্দ না ভেবে আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন।
পল্টনের ঘটনায় ইসির ভূমিকা বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো গণতন্ত্রের নির্বাচন বলতে যা বোঝায় সেটা থেকে আমরা অনেক পেছনে রয়েছি। আমাদের নির্বাচনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। এখন জাতিগতভাবে আমরা যদি মনে করি নির্বাচনে জিততে হলে বা ভালো করতে হলে আমাদের ২ শ’ মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। অথবা যারা কর্মী আছে তারাও বলে থাকেন আমাদের নেতার কত প্রভাব, কত ভালো ও কত বড় কাজ করবে- সেটা দেখাতে হলে ২ থেকে ৩ শ’ মোটরসাইকেল নিয়ে নামতে হবে। নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কিছু অদ্ভুত ধারণা আছে।
এই অদ্ভুত ধারণাগুলো যতোদিন থাকবে ততোদিন আমি বলবো যে বেচারা নির্বাচন কমিশন কিন্তু ব্যাক সিটেই থাকবে। এখন খুব পাক্কা জগতে নির্বাচন কমিশনও নেই। ইউরোপ- আমেরিকার মতো দেশগুলোতে এরকম শক্তির মহড়া, ভোট জালিয়াতি, ব্যালট চুরি এগুলো ওদের নির্বাচনের অংশ হিসেবে বহু দশক ধরেই চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নির্বাচন কমিশনের জন্য কাজটা সবসময়ই কঠিন। কঠিন এই কাজটি আরো ভালো করা যেতো যদি তারা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ব্যাপারে বৈষম্য না দেখাতো বা না দেখালেই ভালো হতো। সবাই সুযোগ পেলেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। যেকোনো ভাবে। এটা মাইক ব্যবহারে হোক, রঙিন পোস্টার, ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্নভাবে। সারা দেশের সবাই যদি এটাতে মেতে যায় তাহলে নির্বাচন কমিশন কী করবে? তবে হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশনকে সব জায়গায় খুঁটিনাটি না দেখে কিছু দৃশ্যমান দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া দরকার। সেটা হলেই হয়তো অনেক জিনিসের সমাধান চলে আসবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ডাণ্ডাপেটা করে নির্বাচন করতে পারবে না। এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। তার কথা লোকে শুনবে, তার প্রতি আস্থাশীল থাকবে, তার কথা মেনে নেবে- এরজন্য নৈতিক উচ্চাবস্থানে তাদের থাকার কথা ছিল। গত ১৮ থেকে ২০ মাসে অনেকগুলো নির্বাচন হয়েছে। এইসব নির্বাচনের ফলে তাদের (ইসি) প্রতি খুব বেশি আস্থা তৈরি হয় নি। আস্থার অনেক ঘাটতি আছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বাড়ে। কিন্তু শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের কথা লোকে বিশ্বাস না করলে ডাণ্ডা পেটা করে বিশ্বাস করাবো- এমন ভাবলে সে নির্বাচন করা যাবে না। তাদের প্রতি যে আস্থার ঘাটতি হয়েছে এই মুহূর্তে আমি মনে করি তাদের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা একটি বড় অন্তরায়।
তফসিল ঘোষণার পর কি পরিবর্তন হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রখ্যাত এই আইনজীবী বলেন, পরিবর্তন তো হয়েছে। সব দলই বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্টসহ সবাই বলছে এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বেশ কয়েকটি জোটের ছোট ছোট শরিক দলগুলো বলেছে জোটগতভাবে তারা ধানের শীষ বা প্রধান দলের মার্কা দিয়ে নির্বাচন করবে। এগুলো নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক দিক।
পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিঃসন্দেহে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এখানে আমার মনে হয় দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত বিএনপির একটু দোদুল্যমানতা ছিল। কিছুটা সাংগঠনিক দুর্বলতাও ছিল। এবং তারা এককভাবে তাদের ২০দলীয় জোট নিয়ে ভালো নির্বাচন করতে পারবে কি-না এটা নিয়ে আমার মনে হয় বিএনপির মধ্যে কিছু আশঙ্কা ছিল। এখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট হওয়াতে এখানে আ.স.ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের নিয়ে একটি জোট গঠন হয়েছে। তারা একসঙ্গে আসাতে একটি বিরোধী বড় মোর্চা হিসেবে শক্তি তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের কাঙ্ক্ষিত ভালো নির্বাচন পাওয়ার প্রত্যাশাটা বেড়েছে। ড. কামাল হোসেন গত ৫০ বছর ধরেই সামনে আছেন। এবং রাজনীতিতে আছেন। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টে আসার পরে তার বিরুদ্ধে বেশকিছু অহেতুক কুৎসা রটনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমি মনে করি আমাদের রাজনীতিতে একজন নীতিবান লোক হিসেবে তার অবস্থান সবার উপরে। যেকোনো মানুষের দুর্বলতা থাকে, গাফিলতি থাকে। কারণ আমরা মানুষ, আমাদের কেউ ফেরেশতা না।
এই হিসেবে ড. কামালের নিশ্চয়ই কিছু দুর্বলতা আছে। নিশ্চয়ই তাকে সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু সবকিছু আমলে নিয়ে এটা বলা যাবে যে, নীতি- নৈতিকতার বিচারে তার স্থান এখন অনেক উপরে। এখানে লক্ষণীয় দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে সবাই মিলে জোট গঠন, অন্যটি ড. কামাল হোসেনের ওপর সাধারণ মানুষের যে শ্রদ্ধা- এই দুটি মিলিয়ে আমার মনে হয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটা আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। আগে যেটা একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছিল। এখন ঐক্যফ্রন্ট আসাতে ড. কামালসহ অন্যরা আসাতে একতরফা নির্বাচনের আশঙ্কাটা অনেক কমে গেছে।
সংসদ ভাঙতে সংবিধান বাধা তত্ত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবিধানে কোনো বাধা নেই। এখন সংবিধান যদি কেউ না পড়ে বা না বোঝার চেষ্টা করে সেটা অন্য কথা। সংসদীয় গণতন্ত্রে ধরেই নেয়া হয় যে, সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়া হবে। সংবিধানে আমাদের দুটি পন্থাই বলে দেয়া হয়েছে। সংসদ ভেঙে না দিয়ে আমাদের দেশে বা সারা দুনিয়ার প্রথা বা চর্চার দৃষ্টিতে সেটা একটি ব্যতিক্রম। কখনো এটা দরকার হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে যদি দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, বিরাট বন্যা, সাইক্লোন দেখা দেয়। এরকম পরিস্থিতিতে তখন হয়তো সংসদ রেখে নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে কেউ নিশ্চয় দ্বিমত করবে না যে, সংসদ রেখে নির্বাচন করলে যে দলের সংসদ সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আছেন তারা তো নিঃসন্দেহে সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অনেক আচরণবিধির কথা বলা হয়। কিন্তু আপনাকে ২ হাত বেঁধে আর আমার ২ হাত খোলা রেখে যদি পুকুরে নামিয়ে দেয়া হয় সাঁতার প্রতিযোগিতায়। তখন তো আপনি ডুবে যাবেন। তখন যদি বলা হয় আপনারা তো একই পুকুরে সাঁতরাচ্ছেন। আপনি হাত বাঁধা অবস্থায় সাঁতরাতে পারছেন না কেন? এটা তো অবাস্তব কথা। সংসদ বহাল রেখে তাদের আচরণবিধি স্তিমিত করা মনে হয় অবাস্তব।
গত ৫ বছরে বাংলাদেশের প্রায় সব নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, দুনিয়ার বহু দেশ আমাদের মতো এই অসুস্থ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গেছে। কোনো দেশে নির্বাচন একদিনেই সুষ্ঠু হয়নি। এক্ষেত্রে আমাদের সময়টা খুব বেশি লেগে যাচ্ছে। এখন মনে হয় আমাদের রাজনীতির সঙ্গে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত তারা যদি মনে করেন যে নির্বাচনটা হলো টাকার খেলা, শক্তি প্রদর্শন বা মহড়া প্রদর্শন, প্রভাব খাটানোর খেলা ততোদিন কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে আমরা যেতে পারবো না। তবে ১টি বিষয় করা যেতে পারে। আনুপাতিক হারে নির্বাচন। যেটা শ্রীলঙ্কা ও নেপালে আছে। সারা দেশের সব লোক ভোট দেবেন। তারপরে প্রাপ্য ভোটের হার অনুযায়ী তখন আসন বণ্টন হবে। যে যতো সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে সে ততো বেশি আসন পাবে। যে সংখ্যাগরিষ্ঠ কম হবে সে ততো কম আসন পাবে। তখন এই আসনভিত্তিক নির্বাচনটা চলে যাবে। নির্বাচনে অনিয়মগুলোও কমবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তখন একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু ২০০৮ বা তার আগের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছে। আমি আশা করবো আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা যে দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন এই চিন্তাটা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে এখনো আসেনি। তাদের চিন্তা হলো দেশ গড়া বা দেশের উন্নয়ন করা। মানে ভালো রাস্তা গড়া, ভালো ব্রিজ করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎ এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় অনেক  পেছনে। খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানো এগুলোই হলো তাদের অগ্রাধিকার। একটি দেশ তখনই উন্নত হয় যখন তারা বুঝতে পারে যে এগুলোর (ফিজিক্যাল উন্নয়ন) সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলা এটা কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ না বরং বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নেতারা যখন বুঝতে শুরু করবে যে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের থেকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং শক্তিশালী করা অন্তত সমান গুরুত্বপূর্ণ। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে।
সিভিল সোসাইটির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি সিভিল সোসাইটির ভূমিকা গৌণ হচ্ছে না। সিভিল সোসাইটির কাজ দেশ চালানো বা রাজনীতি করা না। দেশে যে কাজগুলো হচ্ছে তার দুর্বলতাগুলো ধরিয়ে দেয়া বা তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তাদের ভূমিকা কিন্তু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ একটি বুদ্ধিভিত্তিক অবস্থান। তাদের ভূমিকা আপ’স অ্যান্ড ডাউন হতে পারে কিন্তু খুব বেশি কমে গেছে বলে আমি মনে করি না। আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল।

পল্টনে সংঘর্ষ মামলা এবং একজন এমরান by জিয়া চৌধুরী

বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। তিনি নিজে কোনো রাজনৈতিক দল করেন না। বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র ঠিক করতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দিনে পুলিশ তাকে নয়াপল্টন জামে মসজিদের সামনে থেকে  আটক করে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। যদিও মামলার এজাহারে তার কোনো পরিচয় লেখা হয়নি। অন্য আসামিদের সবার পরিচয় তারা বিএনপির নেতা বা কর্মী।
গ্রেপ্তার এমরান হোসেন যে আওয়ামী পরিবারের সদস্য তার একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ে হাউজিং’-এর আঞ্চলিক বিপণন নির্বাহী হিসেবে কাজ করেন এমরান হোসেন। তার কর্ম এলাকা চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় তিনিসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৫ জন কর্মী জিতেছেন ভারতের দার্জিলিং সফরের  টিকিট।
২৩শে নভেম্বর দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তাদের। তবে, গত ১৪ই নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওয়ে হাউজিংয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান সোহাগ মানবজমিনকে জানান, ১৪ই  নভেম্বর ভোরে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এমরান হোসেন। দুপুরে নিজের ও সহকর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের ঠিক উল্টোপাশে ভিআইপি টাওয়ারের তুহিন ট্যুরিজম নেটওয়ার্কে যাবার কথা ছিল।
দাপ্তরিকভাবে ওয়ে হাউজিং ও গ্রুপের বিদেশ সফরের ভিসা প্রসেসিং ও টিকিটিংয়ের কাজ করে তুহিন ট্যুরিজম। তুহিন ট্যুরিজমের স্বত্বাধিকারী শিবলী সাদেক মানবজমিনকে বলেন, দার্জিলিং ভ্রমণের সুযোগ মেলায়  আগে থেকে ভিসা আবেদন করে রেখেছিলেন এমরান হোসেন। ১৪ই নভেম্বর ভিসা আবেদনে স্বাক্ষর ও বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল তার। আর পরদিন ভারতীয় হাইকমিশনে ভিসার জন্য দাঁড়ানোর কথা ছিল। সে কারণে আগে থেকে ১৪ই নভেম্বর বুধবার অফিসে আসার কথা ছিল। তবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ওইদিন পুলিশ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার মাঝে পড়ে যান। এ কারণে আর আমাদের অফিসে আসতে পারেন নি। পরে, শুনতে পেরেছি উনাকে পুলিশ আটক করে কারাগারে নিয়ে গেছে। অথচ উনার বাকি সহকর্মীরা সেই ভ্রমণে যাবার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত তারিখেই যাচ্ছেন।’ এমরান হোসেনের কাঙ্ক্ষিত দার্জিলিং ভ্রমণের জন্য ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদনপত্র ও তুহিন ট্যুরিজমের সব ধরনের কাগজপত্র এ প্রতিবেদকের কাছে আছে।
১৩ই নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে রামগঞ্জের বদরপুর ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামে নিজের শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন এমরান হোসেন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা হন। দুপুর প্রায় দুইটা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছান। আবাসন প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি একটি ফার্মেসিও চালাতেন তিনি। দুপুর তিনটা নাগাদ কিছু ওষুধ কিনতে এমরান মুগদার এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলে জানান তার শ্বশুর ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফারুক হোসেন। সেখানে জোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবার সারেন এমরান। সেখান থেকে পল্টনের উদ্দেশে রওনা হন। আসরের নামাজ আদায় করেন পল্টন জামে মসজিদে। নামাজ পড়ে বাইরে বের হওয়ার পর আর তার কোনো হদিস মেলেনি। নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক দেখানো হয় পল্টন থানার মামলায়। এ সময় এমরান হোসেনের সঙ্গে ছিল ইছ০০৫৭৫৩৭ নম্বরের তার নিজের পাসপোর্ট। যা পরে আদালতের মালখানায় জমা দেয় পুলিশ।  এদিকে, পল্টন মডেল থানার ২২ নম্বর মামলায় উপ-পরিদর্শক কাজী আশরাফুল হক মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে এজাহারের এক থেকে ছয় নম্বর আসামিদের পৃষ্ঠপোষকতা ও কথাবার্তায় এবং সিনিয়র নেতাদের মদতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। এমরান হোসেন নিজে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও পারিবারিকভাবে তার বাবা জামাল উদ্দিন মেম্বার ও চাচারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এমরান হোসেনের বাবা চর কাদিরা ইউনিয়নের চর বসু ওয়ার্ড থেকে সাবেক নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তিনি বর্তমানে চর কাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। লক্ষ্মীপুরের চর কাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র থেকে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
এমনকি চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ স্বাক্ষরিত আরেক প্রত্যয়নপত্রে তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন বলে উল্লেখ করেছেন। আটক এমরান হোসেনের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, কমলনগরের চর কাদিরা ইউনিয়নের প্রত্যেকে জানেন কয়েক যুগ ধরে আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। একবার ইউপি মেম্বারেরও দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার ছেলেকে এ ধরনের মামলায় আাসমি করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের দ্রুত মুক্তি চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন মডেল থানার এসআই কাজী আশরাফুল হক বলেন, আমরা মামলাটি দায়ের করেছি মাত্র। তবে, তেমনভাবে তদন্ত করার সুযোগ পাইনি। ডিবি পুলিশ মামলার তদন্ত করছে।’ পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তেমন কিছু বলতে পারেন নি। নয়াপল্টন থানায় দায়ের করা মামলায়, তাকে আটক দেখিয়ে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চায় পুলিশ। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আটক এমরান হোসেন এখন কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
মামলার এজাহারে ১৪০ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই কাজী আশরাফুল হক। এজাহারে বাকি সব আসামির প্রায় সবাইকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, আসামি এমরান হোসেনের নামের পাশে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা পদবি দেয়া নেই। ১৪ই নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস এখন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। মামলা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দেখভাল করছে, সেখানে খোঁজ নিলে বিস্তারিত জানা যাবে।

নারী দেখলেই আপত্তিকর আচরণ বন্দিদের

বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে যৌন নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন মি-টু। তবে এর অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রে জেলখানায় যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আলোর মুখ দেখতে পায়। ২০১০ সালে ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপর্চুনিটি কমিশন (ইইওসি) একটি রিপোর্টকে অবজ্ঞা করে বলে যে, ব্যুরো অব প্রিজনস পর্যায়ক্রমিকভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগগুলো ভুলভাবে ‘হ্যান্ডেল’ করছে। ব্যুরো অব প্রিজন্সে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি নারী কর্মী আছেন। তবে তারা বলছেন, যেসব নারী যৌন নির্যাতিত হয়ে মুখ খোলার সাহস দেখান তাদের বিষয়ে কোন পরিবর্তন হয় নি বললেই চলে। মিয়ামিতে একজন সংশোধনাগারের কর্মকর্তা কুইনটিনা পন্ডার। তিনি বলেন, একবার যদি কোন নারী এ নিয়ে মুখ খোলেন তাহলে তাকে ব্লাকমেইল করবে সরকারই। কুইনটিনা পন্ডার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন।
সেই ঘটনাটি স্থগিত করা হয় ২০১৫ সালে।
২০১৭ সালের মে। হাউস অপারসাইট কমিটি ওই এজেন্সির বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করে। তাবেম বলা হয়, যৌন অসদাচরণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের বা শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলতে রাজি হন নি জেলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা।
এসব নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩৫ জনেরও বেশি নারী। তাদের একজন বলেছেন, জেলখানার বন্দিরা নারী প্রহরীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করে। তারা মাস্টারবেট করে। এমন ঘটনা ঘটে চলার পথে, গোসল করার সময়। এমন কি একটিভিটি রুমে। ওই নারী বলেছেন, এক শিফটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সম্ভবত এ কাজ করতে দেখেছি আমি ২৫ থেকে ৩০ জন বন্দিকে। আরেকটি সাক্ষ্যে বলা হয়েছে ৭০ জন বন্দিকে দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছিল দু’জন নারী প্রহরী বা কর্মকর্তাকে। কিন্তু ওইসব বন্দি এই নারী অফিসারদের সামনে তাদের স্পর্শকাতর অঙ্গ বের করে দেখাতে থাকে। এ সময় ওই নারী অফিসার সহায়তা চান কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কোনো সহায়তা আসে নি। একজন অফিসার বলেছেন, আমার জীবনে এত ভয়াবহ অবমাননাকর ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি নি কখনো। আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভিক্টরভিলে কেন্দ্রীয় একটি কারাগারে সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সান্দ্রা কার্পেন্টার। সেখানে তার প্রথম বছরে সেখানে তিনিও একই দৃশ্য দেখেছেন।

২৭ লাখ বিও অ্যাকাউন্টের অর্ধেকই নিষ্ক্রিয় by এম এম মাসুদ

দেশের পুঁজিবাজারে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টের অর্ধেকই নিষ্ক্রিয়। এসব বিও অ্যাকাউন্টের সাড়ে ১০ লাখ শেয়ারশূন্য। আর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ অ্যাকাউন্ট অব্যবহৃত। বাকি ১৩ লাখ অ্যাকাউন্ট সক্রিয়। বিও অ্যাকাউন্ট বা হিসাব সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিও অ্যাকাউন্টের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজারে যত বিও অ্যাকাউন্ট আছে, তার অর্ধেকের বেশি বিও অ্যাকাউন্টে কোনো সময় শেয়ার থাকে, আবার কোনো সময় কোনো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয় না। ফলে যত বিও অ্যাকাউন্ট আছে, তার অর্ধেকেরও কম বাজারে সক্রিয় থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাজারের প্রায় অর্ধেক বা ১৪ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট গত চারবছর ধরে নিষ্ক্রিয় থাকছে।
গত জুন শেষে শেয়ারবাজারের সক্রিয় বিনিয়োগকারী ছিল ১৩ লাখের মতো। যাদের বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বাজারে কিছু বিও অ্যাকাউন্ট থাকে, যেগুলোয় নিয়মিত শেয়ার লেনদেনে ব্যবহার হয় না। শুধু প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনের জন্য এসব বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয়। এ কারণে এসব বিও অ্যাকাউন্টকে নিষ্ক্রিয় ধরা হয়। তবে নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি বাজারের জন্য ভালো লক্ষ্মণ নয়।
সিডিবিএল’র প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের পর থেকেই বিও অ্যাকাউন্টের পরিমাণ কমতে শুরু করে। সিডিবিএল’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনে বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ৩২ লাখ ৭৬৬টি। বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখে। তবে গত এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। এদিকে ২০১৩ সালের পর থেকে বাজারে নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েই চেলেছে। চলতি বছরের জুন শেষে শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩টি। এর মধ্যে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৯টি বিও হিসাব ছিল শেয়ারশূন্য। আর ৪ লাখ ২৪ হাজার ২২৪টি বিও অ্যাকাউন্ট ছিল অব্যবহৃত। সব মিলিয়ে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৩টি। আর সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৩ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টি।
সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা ও আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে আইপিও’র অফার থাকলে এমনিতেই বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ে। বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই আইপিও আবেদনের জন্যই শুধু বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। তাই আইপিও তথা ভালো কোম্পানি বাজারে না আসলে এসব নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়বেই। তবে বাজার এগিয়ে নিতে হলে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।
সিডিবিএল’র বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১৪ সালে শেয়ারধারণ করা বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৬টি। ২০১৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ায় এসব অ্যাকাউন্ট শেয়ারশূন্য হয়ে অকার্যকর বিও অ্যাকাউন্টে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে এসে শেয়ার আছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৯২টিতে। ২০১৭ সালে তা আগের বছরের চেয়ে প্রায় সোয়া ২ লাখ কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৭টিতে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুন শেষে তা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টিতে।
সর্বশেষ ১৮ই নভেম্বর পর্যন্ত সিডিবিএল তথ্যমতে, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৭টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও রয়েছে ২০ লাখ ১১ হাজার ৯৯৬টি। নারীদের বিও রয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮টি। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছে ১২ হাজার ৪২৩টি।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে যেসব বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা রয়েছে এবং যেগুলো শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবহৃত হয়, সেসব অ্যাকাউন্টই সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট হিসাবে ধরা হয়। যেসব অ্যাকাউন্ট কখনো ব্যবহার হয়নি ও শেয়ারশূন্য সেসব বিও অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হিসাবে ধরা হয়। নিয়মানুযায়ী, জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করলে বিও অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব অ্যাকাউন্টে শেয়ার কিংবা টাকা থাকে, সেসব হিসাব বন্ধ হয় না। প্রতিটি বিও অ্যাকাউন্টের জন্য প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে বছরে ৪৫০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল দিতে হয়। শেয়ারবাজারে শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিও অ্যাকাউন্টে ছাড়া কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারেন না। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বিনিয়োগকারী একটি ব্রোকারেজ হাউসে নিজ নামে ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ দু’টি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একটি বিও অ্যাকাউন্ট মানে একজন বিনিয়োগকারী ধরা হয়।

‘মরে গেলে মনে করো আমি রাতের আকাশের তারা’ by রুদ্র মিজান

‘প্রিয় মা-বাবা, আমি বোধ হয় আর বাঁচবো না। আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়। রক্ত বমি হয়। মরে গেলে তোমরা আমার জন্য কান্না করো না। মনে করো আমি রাতের আকাশের যেকোনো একটি তারা। খুব মনে পড়লে তারার দিকে তাকিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলো। আমার জন্য দোয়া করো।’ মৃত্যুর আগে এভাবেই মা-বাবাকে নিজের অসহ্য যন্ত্রণার কথা লিখে গেছেন আইরিন আক্তার। তার লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ডায়রিতে এই লেখাগুলো পেয়েছে পুলিশ।
আইরিন আক্তার থাকতেন ঢাকার লালমাটিয়ার মোহনা ভিআইপি গার্লস হোস্টেলে। হোস্টেলের এডমিনে চাকরি করতেন এই তরুণী। সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতেন। হোস্টেলের বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আইরিনের। সুন্দর-সুখের একটি সংসারের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পাত্র ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রিমন। রিমনকে নিয়ে সাজাতে চেয়েছিলেন তার পৃথিবী। মাত্র দেড়-দু’মাস আগের কথা। আইরিনের জীবনে একটা ঝড় আসে। সব এলোমেলো হয়ে যায়। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রিমন। সেভাবে চিকিৎসার সুযোগ হয়নি। পারি দেন না ফেরার দেশে। রিমন পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, উড়ে যায় আইরিনের স্বপ্ন। স্বজনরা অনুপ্রেরণা দেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে। নতুন করে পথ চলতে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। রিমনকে হারিয়ে একা হয়ে যান আইরিন।
রিমনের মৃত্যু শোকের মধ্যেই অনুভূত হয় আইরিন নিজেও সুস্থ নেই। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়। বমি হয়। শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। জানতে পারেন তিনি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। চিকিৎসা প্রয়োজন। ব্রেইন টিউমার ধীরে ধীরে ক্যানসারে রূপ নিচ্ছিল। এক করুণ-কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি আইরিন আক্তার। হতাশাগ্রস্ত জীবন-যাপন করছিলেন। একদিকে অসুখের যন্ত্রণা অন্যদিকে দরিদ্রতা। চোখে অন্ধকার দেখছিলেন দরিদ্র পিতার কন্যা আইরিন। 
মোহনা ভিআইপি হোস্টেলের বাসিন্দা ইডেন কলেজের ছাত্রী নবনীতা জানান, চাপা স্বভাবের ছিলেন আইরিন। একাকী থাকতেন। যে কারণে তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সেভাবে জানা হয়নি। নবনীতা বলেন, আইরিন কষ্টে ছিলেন। নিজের অসুখ নিয়ে কষ্ট পেতেন। আর্থিক সমস্যাও ছিল। প্রায়ই বলতেন আমিতো সুস্থ হব না। মারা যাব। আমার মা-বাবা ধনী না। এত টাকা ব্যয় করলে তারাতো অসহায় হয়ে যাবে। আমার পেছনে টাকা ব্যয় করলে তারা বাঁচবে কি করে। আমার ভাইটির কি হবে?
হোস্টেলের বাসিন্দারা জানান, ব্যথায় চিৎকার করে কান্না করতেন আইরিন। খবর পেয়ে তার কৃষক বাবা অতি কষ্টে মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। স্কয়ার হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা হচ্ছিল তার। এর মধ্যেই ঘটে ঘটনাটি।
১৮ই নভেম্বর দুপুরে হোস্টেলে অন্যদের সঙ্গে খাবার খান। তারপর ২টার দিকে নিজের রুমে চলে যান। বিকাল ৪টায় হোস্টেলের অফিস কক্ষে ডিউটি করার কথা ছিল তার। কিন্তু আইরিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোনে কল দিলেও তা রিসিভ হচ্ছিল না। তার রুমের দরজা বন্ধ। বাইরে থেকে ডেকেও সাড়া পাচ্ছিলেন না হোস্টেলের বাসিন্দারা। হোস্টেলের দায়িত্বশীলসহ অন্য মেয়েরা রুমের দরজা ভেঙ্গে দেখতে পান করুণদৃশ্যপট। ততক্ষণে আইরিন আর জীবিত নেই। ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ঝুলে রয়েছেন।
খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় তার লেখা ডায়রি। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক তারেক জাহান বলেন, অসুখে অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
আইরিন আক্তারের পিতা আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়না তদন্তে তার লাশটি হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সোমবারই তার লাশ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের কংসরা নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। আইরিনের পিতা আনিসুজ্জামান জানান, দেওগাঁও ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী ছিল আইরিন। কিন্তু লেখাপাড়া শেষ করতে পারেনি। চাকরি করছিল ঢাকার ওই হোস্টেলে। তিনি বলেন, আমি কৃষি কাজ করি। অর্থ-সম্পত্তি নেই। অনেক কষ্ট করে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছিলাম। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। মেয়েটি অসুখের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান তিনি। আনিসুজ্জামানের দুই সন্তানের মধ্যে আইরিন বড়। তার ছোট ছেলে দিনাজপুরে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত।

উভয় সংকটে অর্থমন্ত্রী by ওয়েছ খছরু

উভয় সংকটে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন- আর নির্বাচন করবেন না। কিন্তু দলের সিনিয়র নেতারা তাকে এখনই ছুটি দিতে চান না। আরো কিছু দিন তাদের সঙ্গে চান। সরকার, রাজনীতি সব কিছুতেই যেনো সরব থাকেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে পরিবারের কাছে বন্দি তিনি। ছোট ভাই ড. একে আবদুল মোমেনকে তার নিজের আসন ছাড় দিয়েছেন অনেক আগেই। ড. মোমেনও সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুত।
নিজে সঙ্গে গিয়ে ড. মোমেনের মনোনয়ন জমাও দিয়ে এসেছেন। এই অবস্থায় উভয়কূল রক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। যেকোনো একটিকেই বেছে নিতে হবে। এ কারণে এখনো সিলেট-১ আসন নিয়ে ধোঁয়াশা চলছে। শেষ মুহূর্তে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এ আসনে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী।
স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই সিলেটের রাজনীতিতে আসেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি সিলেটের রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছেন। গেল এক দশক ধরে তিনি সিলেট আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবুল মাল আবদুল মুহিত বিএনপি দলীয় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে পরাজিত করে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বিগত দশ বছর তিনি দক্ষতার সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেট থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ফের তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এক নাগাড়ে টানা ১০ বছর তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বয়স প্রায় ৮৫ বছর। কিন্তু এখনো সমানতালে সরকার ও রাজনীতি দুটিই চালিয়ে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এরপরও দায়িত্ব পালনে নিজেই হাঁপিয়ে উঠেছেন। গত তিন বছর ধরে তিনি বার বার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন, রাজনীতি সবকিছুকে বিদায় জানিয়েছেন অনেক আগেই। আর এই বিদায়ের সঙ্গে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছেন ছোট ভাই ড. একে আবদুল মোমেনকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৩ বছর আগে ড. মোমেনকে জাতিসংঘ থেকে বিশেষ প্রয়োজনে নিয়ে আসেন দেশে। গত তিন বছর অর্থমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে সিলেটে কাজ করেছেন ড. মোমেন। ফলে তার পরিচিতি বেড়েছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর প্রার্থী হচ্ছেন না- ঘোষণা দিয়ে আপন ছোট ভাই ড. মোমেনকে সমর্থন দেন অর্থমন্ত্রী। এমনকি তার দেয়া ৩০ হাজার টাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কেনেন ড. মোমেন। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনেও অর্থমন্ত্রী ভাই মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে দলের কার্যালয়ে যান।
তবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তার পুত্র সাহেদ মুহিতও
একটি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। সেটি জমা দেয়া হয়েছে বলে তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। মনোনয়ন জমা দেয়ার পরেও অর্থমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে ‘ডামি’ প্রার্থী বলেও আখ্যায়িত করেন। আর নির্বাচন করছেন না বলে জানিয়েও দেন। এদিকে একাধিক জরিপে সিলেটে এখনো জনপ্রিয় ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত। জনপ্রিয় থাকার পরও অর্থমন্ত্রী নিজ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন না- এটা অবাক করার মতো বিষয়। অর্থমন্ত্রীর পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন- ড. মোমেনের জন্য সব ছাড় দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ড. মোমেনও হাই প্রোফাইল ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রী তাকে জাতিসংঘ থেকে নিয়ে এসেছেন। এ কারণে ভাইয়ের জন্য সব ছাড় দিতেই অর্থমন্ত্রী অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আর ড. মোমেনও ইতিমধ্যে নিজ থেকে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে রেখেছেন।
চলতি মাসের শুরুতেই সিলেট সফর করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি সিলেটে এসে সবার সামনেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘অর্থমন্ত্রী সিলেটে নির্বাচন করবেন। তাকে আমরা ছাড়ছি না।’ এ সময় তার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও অর্থমন্ত্রী কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নি। অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন ও সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘অর্থমন্ত্রী এখনো নির্বাচন না করার পক্ষে। কিন্তু আমরা তাকে বুঝাচ্ছি। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে চাওয়া হচ্ছে। জনপ্রিয়তার জরিপেও এগিয়ে তিনি।’ তিনি বলেন, ‘এখনো অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেটের উন্নয়নের একনিষ্ঠ নেতা হিসেবে তার চাহিদা ভোটার মহলে বেশি। তিনি প্রার্থী হলে সহজে জয় ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন আশফাক আহমদ।’
অর্থমন্ত্রী প্রার্থী হলে অনেক হাই প্রোপাইল নেতা কিংবা প্রার্থী তালিকার দৌড়ে থাকছেন না। এ কারণে সিলেট-১ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে তেমন জল্পনা নেই। অর্থমন্ত্রী কিংবা তার ভাই- এই দুইজনের মধ্য থেকে যে কেউ এখানে প্রার্থী হয়ে আসছেন বলে ধারণা করছেন নেতারা। দুজনের যেকোনো একজনকে নিয়েই তারা প্রার্থী নির্বাচনে জয় ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান। সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও অর্থমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন আলম খান মুক্তি জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী কিংবা ড. মোমেন যেকোনো একজন প্রার্থী হলে আমরা লড়াইয়ে নেমে জয়ী হতে পারবো। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নৌকায় যাকেই প্রার্থী করা হবে তার পক্ষে আমরা কাজ করবো। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পক্ষ থেকে দলীয় ফোরামে মনোনয়ন জমা দেয়া হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে।
নৌকার সমর্থনে বৈঠক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার সমর্থনে নুরানী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার নগরীর পাঠানতুলাস্থ সংস্থার কার্যালয়ে এ উঠান বৈঠক হয়। নুরানী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সমাজকর্মী ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে ও সদস্য কামরুন নাহার পিয়ারীর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেনের সহধর্মিণী মিসেস সেলিনা মোমেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাভেদ সিরাজ, লায়ন্স হেলেনা আহমেদ, সাজনা সুলতান হক চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম, প্রবাসী আলহাজ মো. আবু বকর। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের, সাফায়েত খান, নুরানী সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমদ, সদস্য ফারজানা বিলকিছ, দিলরুবা মজুমদার, রেজুওয়ান আহমদ, মো. আল আমিন, রেওয়ান আহমদ হিরা, রায়হান আহমদ প্রমুখ।

জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসব, না আসলেও আফসোস নেই -সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন জনগণ ভোট দিলে আবার ক্ষমতায় আসবো। না দিলেও আফসোস নেই। তিনি বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চলার পথ কখনই মসৃণ ছিল না, কন্টকাকীর্ণ ছিল, তবুও আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আমি এটুকুই বলবো, আমি এগিয়ে যেতে চাই যতই অন্ধকার আসুক, ঘন দুর্যোগ আসুক, যতই গভীর হোক জঙ্গল কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার পথ সে পথ করে নিতেই হবে। সশস্ত্র বাহিনী আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী  বলেন আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করবো না। যুদ্ধ করতে আমরা চাই না।
কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের যে সশস্ত্র বাহিনী হবে সেটাকে স্বাধীন দেশের উপযুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করবো না কিন্তু কেউ আক্রমণ করলে আমরা ছেড়ে দেব না, অন্তত যতক্ষণ আমাদের শ্বাস আছে আমরা প্রতিরোধ করবো। সেজন্য আমরা প্রত্যেকটি বাহিনীর জন্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের যোগান দেয়া, তাঁদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সব পদক্ষেপই আমরা নিয়েছি এই অল্প সময়ের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৪০ ভাগের ওপর থেকে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এই দারিদ্র্যের হারকে আরো অন্তত পাঁচভাগ নামিয়ে বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ সে বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। দেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় আমরা এক হাজার ৭১৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। গ্রামের প্রতিটি মানুষের আয়-উপার্জনের পথ আমরা করে দিয়েছি। যেন দেশের মানুষ ভালভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পেতে পারে, সেটা বাস্তবায়নই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেই জন্যই আজকে সকলের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, একের পর এক টেলিভিশন চ্যানেল হয়েছে। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য তাঁর সরকারের সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান যাতে হয়, রপ্তানী বৃদ্ধি পায়, বিদেশে দেশের যাতে বাজার সৃষ্টি হয়- সে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলাম। এতটুকু দাবি করতে পারি আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলাম- দিন বদলের সনদ, আজকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। দিন বদলের যাত্রা শুরু হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তিন বাহিনী প্রধানগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংস্থার প্রধান, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের সহধর্মিনী, বিদেশী কূটনীতিক এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করেন। বক্তৃতা শেষে প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবেন -পর্যবেক্ষকদের ইসি সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণে থাকা পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্রের ছবি তুলতে পারবেন না। কেন্দ্রের পরিবেশ ভিডিও করতে পারবেন না। পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে এমন নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে দেয়া মৌখিক নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণের সময় গণমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দেয়া যাবে না। এমনকি পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে পারবেন না। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে তারা শুধু ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে- এমন কর্মকাণ্ড ঘটালে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার ব্রিফিংয়ে এসব নির্দেশনা দেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ইসি প্রণীত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালায় এমন কোনো নির্দেশনা নেই যে, পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে ছবি তুলতে পারবেন না।
তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদানের বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন চলাকালীন পর্যবেক্ষকরা মিডিয়ার সামনে এমন কোনো মন্তব্য করবেন না যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত বা প্রভাবিত করতে পারে। ইসি সচিব যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা মৌখিক নির্দেশনা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সচিব বলেন, যখন আপনারা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবেন তখন কয়েকটি সাবধান বাণী উচ্চারণ করবেন। কেন্দ্রে কোনো মোবাইল ফোন নেয়া যাবে না, কোনো ছবি তুলতে পারবেন না, কোনো কমেন্টস করতে পারবেন না, শুধু মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই কেন্দ্রে যত প্রবলেমই হোক তা পর্যবেক্ষণ করে আপনার কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করবেন। তারপর আপনি সবার কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়ে কম্পাইল করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন দেবেন। সচিব আরো বলেন, পর্যবেক্ষণের সময় গোপন কক্ষে যাওয়া যাবে না, কাউকে নির্দেশনা দিতে পারবেন না, প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসারকে কোনো পরামর্শ দিতে পারবেন না। এগুলো ক্লিয়ার করে বলে দেবেন। যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হয়, এটা তারা কমিশনকে অবহিত করতে পারেন বা আপনাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে পারেন।
গণমাধ্যমের কাছে পর্যবেক্ষকরা কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, অনেক সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন, উনি কিন্তু কথা বলতে পারবেন না। কোনো সংবাদ মাধ্যমে লাইভে কথা বলতে পারবেন না, কমেন্টস করতে পারবেন না। বৃটেনের পুলিশের মতো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবে। আপনাদের কাছে লিখিত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগে কোনো মন্তব্য করবে না। আপনারাও যখন কম্পাইল করে জমা দেবেন, তার আগে আপনারাও কোনো কমেন্টস করবেন না। রিপোর্ট কম্পাইল হলে প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। এবং আমাদের কাছে জমা দিতে পারেন। আপনাদের আচরণ হবে নিউট্রাল। এমন কোনো ব্যক্তিকে আপনারা নিয়োগ করবেন না যে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। এগুলো আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করে সচিব বলেন, একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন নিবন্ধন যাতে বাতিল না হয়। আপনারা অনেকে কিন্তু এনজিও হিসেবে কাজ করেন। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আপনারা নির্বাচনেও কাজ করেন। কিন্তু এখান থেকে যদি আমরা রিপোর্ট দেই যে, আপনি এই ধরনের একটি আচরণ করেছেন। যার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। তাহলে কিন্তু আপনার নিবন্ধনটা বাতিল করার জন্য যারা নিবন্ধন দেয় তাদেরকেও আমরা চিঠি দিয়ে দেবো। সুতরাং বি কেয়ারফুল। আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না, এমন কোনো কাজ করবেন না- যার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ভণ্ডুল হতে পারে বা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এসময় সচিব আরো বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের ১১৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থা ছিল। তার মধ্যে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এনজিও ব্যুরো থেকে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে অভিযোগ আসায় নির্বাচন পর্যাবেক্ষক নীতিমালা অনুসরণ করে তার নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এজন্য খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ফলো করে দায়িত্ব পালন করবেন। ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান ও এসএম আসাদুজ্জামান।

দশ মাসে ৪৩৭ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

চলতি বছর সারা দেশে ৪৩৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গতকাল রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে নাগরিক সংলাপে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন অন্তত ২৬ জন।
সেই সঙ্গে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ২৭৬ জন নিহত হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্তত ৩০০টি ঘটনার তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের উত্তর পায়নি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজ পর্যালোচনা করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ: বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় সংলাপে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকাণ্ড ও প্রতিবন্ধকতার নানা বিষয় উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
মতবিনিময় শেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচনী ইশতেহারে মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অঙ্গীকার করা।
নির্বাচনকালীন সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে কাজী রিয়াজুল হক জানান, ঝুকিঁপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করবে কমিশন। ওইসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন, মানবাধিকার কর্মী ও জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নির্বাচনের আগে সতর্ক থাকে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দেবে কমিশন। এছাড়া একের পর এক বিচারবর্হিভূত হত্যা ও গুমের ঘটনায় উদ্বেগ জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রতিরোধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন আরো বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সেই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯-এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সেগুলো দ্রুত সংশোধনের তাগিদ দেন কাজী রিয়াজুল হক।
সংলাপে আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হচ্ছে আমাদের আশ্রয়স্থল। কমিশন যত বেশি কাজ করবে আমরা তত শক্তিশালী হবো। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন আসকের ঊর্ধ্বতন উপপরিচালক নীনা গোস্বামী, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ প্রমুখ।

‘পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’ -ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শ’ শ’ কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়া সত্ত্বেও আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের জন্য পাকিস্তান ছিল নিরাপদ আশ্রয়। এর জবাব দিয়েছেন ইমরান খান। তিনি টুইটে বলেছেন, ২০১১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় কোনো পাকিস্তানি জড়িত না থাকলেও ৭৫ হাজার পাকিস্তানি হতাহত হয়েছেন। দেশ ১২৩০০ কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা বাবদ দিয়েছে মাত্র ২০০ কোটি ডলার, যা অতি নগণ্য। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা না বানানোর আহ্বান জানান ইমরান খান। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর দিয়েছে।
২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা ওসামা বিন লাদেনের ডেরায় অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিল। যে বাড়িটিতে থাকতেন লাদেন তা ছিল সামরিক একাডেমির কাছেই। এ বিষয়ে অভিযোগ আছে যে, লাদেনের ওই অবস্থান সম্পর্কে জানতো পাকিস্তান। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তান। অ্যাবোটাবাদে লাদেনের ওই অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাকে সন্ধান দিয়েছিলেন পাকিস্তানি চিকিৎসক শাকিল আফ্রিদি। তিনি টিকা দানের ভুয়া এক প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হন। পরে পাকিস্তান সরকারের অজ্ঞাতেই লাদেনের ঘাঁটিতে আক্রমণ করে নেভি সিল। এরপর ডাক্তার শাকিল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান।
এ নিয়ে ফক্স নিউজ সানডে’তে একটি সাক্ষাৎকার দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওসামা বিন লাদেন কোথায় ছিলেন তা জানতেন প্রতিজন পাকিস্তানি। যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে বছরে সহায়তা হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার সহায়তা দিলেও তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলে নি। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানিরা আমাদের জন্য কিছু করে নি। তারা আমাদের জন্য খারাপ কাজ করেছে। তাই আমরা সহায়তা কর্তন করেছি। এ ছাড়া সোমবার তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে শত শত কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছি। কিন্তু তারা কখনোই আমাদেরকে বলে নি বিন লাদেন পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন। যত সব বোকা!’
শুধু তাই নয়, ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের বিষয়ে পাকিস্তান চোখ বন্ধ করে রেখেছে বলে দীর্ঘদিন অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান। অভিযোগ করা হচ্ছে, আফগানিস্তানের তালেবানদেরকেও আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান। এমন সব অভিযোগকে অস্বীকার করেছে দেশটি।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও এসব কথার জবাবে ইমরান খান বলেছেন, সীমান্তবর্তী উপজাতি এলাকাগুলো বছরের পর বছর যুদ্ধে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ তাদের ভিটেবাড়ি থেকে উৎখাত হয়েছেন। এক্ষেত্রে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কীভাবে পাকিস্তান লজিস্টিক সমর্থন দিয়ে গেছে তা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানে ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা বানাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

এরশাদ প্রকাশ্যে, রহস্য রেখে গেলেন

রহস্য কাটিয়ে প্রকাশ্যে এলেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার হাসপাতাল থেকে নিজের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় না ফিরে অন্য কোথাও চলে যাওয়ায় দলের ভেতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন ছিল। ওই স্থান থেকেই গতকাল তিনি উপস্থিত হন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে। গুলশানের একটি সেন্টারে ওই অনুষ্ঠানে এরশাদ বক্তব্য দেন দলীয় নেতাদের উদ্দেশে। সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা থাকলেও নেতাদের বক্তব্যের পরই শেষ হয়ে যায় ওই অনুষ্ঠান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় এরশাদ আরো রহস্য ছড়িয়ে দেন। নির্বাচনে কোন জোটের সঙ্গী হয়ে লড়বেন বিষয়টি আজকের বৈঠকেও খোলাসা করেননি তিনি। বরং জানিয়েছেন ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করা হবে।
পরে জোটের সিদ্ধান্ত হলে তা তিনিই নেবেন।
অনুষ্ঠানস্থলে জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় ৭৮০ জন প্রার্থী পার্টির চেয়ারম্যানের কাছে কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎকার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তৃণমূল থেকে আসা এসব নেতাকর্মী জানতেন না রওশন এরশাদের বক্তব্যের মাধ্যমেই এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হবে। এ নিয়ে তাদের অনেকে হতাশাও ব্যক্ত করেন। তাদের প্রশ্ন, স্যার যখন আমাদের সাক্ষাৎকার নেবেন না, তাহলে পার্টি থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে কেন? আমাদের ডেকে এমন একটা অনুষ্ঠানের কী আছে। আবার কয়েকজন বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান আর আগায়নি। তবে পার্টির নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জাপা চেয়ারম্যান ৩০০ আসনের প্রার্থীর তালিকা করে প্রার্থীদেরকে ফোনে জানিয়ে দেবেন। আজকে লোকজন ছিল বেশি, একসঙ্গে এত প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব ছিল না। নেয়া হলে ঝামেলার সম্ভাবনা ছিল। তাই অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়েছে। যদিও এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, পার্টির সিদ্ধান্ত এককভাবে আমিই  নেবো। সবাইকে মনোনয়ন দেয়া যাবে না, তাই যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আপনাদের তাকেই মেনে নিতে হবে। জোটের হয়ে নির্বাচন করলে পার্টির স্বার্থে মনোনীত প্রার্থীকে মেনে নিতে হবে। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের ৩০০ আসনে প্রার্থী চাই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক মেরূকরণের জন্য জোটে যেতে হলে আমি একক সিদ্ধান্ত নেবো। জোটে গেলে কোনো কোনো প্রার্থীকে ছাড় দিতে হবে। তবে প্রাথমিকভাবে জাপা ৩০০ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। এর পরে জোটে গেলে তার সিদ্ধান্ত আমি নেবো। চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। সবাইকে প্রার্থী দিতে পারবো না। আমি যাকে যোগ্য ভাববো, তিনি মনোনয়ন পাবেন। আর এটা আমার ওপর ছেড়ে দিন। পার্টির জন্য সব থেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার আমিই করেছি।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমি ক্ষমতা ছাড়ার পরে এবার জাপার সব থেকে বেশি মনোনয়ন বিতরণ হয়েছে। পার্টি সাংগঠনিক রূপ নিয়েছে, যা ধরে রাখতে হবে। জাপা বিলীন হয়নি, তার প্রমাণ আপনারা। এদিকে জাপার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী জোট ও বিএনএ। এই দুটি দল জাপার প্রার্থী হিসেবে যুক্ত হবে বলে জানান এরশাদ।
সমাপনী বক্তব্যে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। রওশন এরশাদের বক্তব্যের সময়ও পার্টির নেতারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তখন রওশন এরশাদ তাদের চুপ থাকতে বলেন এবং হাসেন। তিনিও একটি আসনে যে একজন প্রার্থী হবেন, বাকি সবাইকে জাপার প্রার্থীকে সমর্থন দিতে হবে বলে জানান। এর আগে স্বাগত বক্তব্যে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রার্থী নির্ধারণে জাপা চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা পার্টির সবাই মেনে নেবেন। কোনো সিদ্ধান্তে কেউ তাকে ছেড়ে যাবে না। পার্টির সবাই তাকে বিশ্বাস করে। জাপা মহাসচিব বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে মহাজোট কিংবা অন্য কোনো জোটে জাপা যাবে কি-না তা পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। বহু বছর ধরে সংগ্রাম করে জাপা আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তিনি জানান, জাপা থেকে ২ হাজার ৮৬৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তার মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ৭৮০ জনকে এ অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছে। তাদের এ বক্তব্যের পরে পার্টির কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাদের একজন বলেন, আজকে সাক্ষাৎকার নেয়নি। ৩০০ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নাম ঘোষণা করেছে। এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বসবে, তার পরে কোন কোনটা তারা জাপাকে দেবে সেটাই চূড়ান্ত হবে। আমাদের পার্টির মধ্যেও একটা বিষয় আলোচনা চলছে। আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে স্যারের সামনে সাক্ষাৎকার হবে না- এটা আমরা আগেই আঁচ করেছিলাম। স্যার অসুস্থ, তাই এ অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হয়নি। তবে অফিসের দায়িত্বে থাকা এক নেতা বলেন, এখানে সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু হলে কী হবে সেটা তো বুঝতে পারছেন।
৩০০ আসনের তালিকা স্যার করবেন। সেটা আমাদের হাতে আসলে প্রার্থীদের জানিয়ে দেয়া হবে। তবে কোন জোটে যাবেন- সেটা স্যার সিদ্ধান্ত নেবেন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ এবং মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ছাড়াও ছিলেন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সুনীল শুভ রায়, আতিকুর রহমান আতিক ও মুজিবুর রহমান সেন্টু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ফকরুল ইমাম এমপি, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান চুন্নু এবং মশিউর রহমান রাঙা। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শেখ মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আজম খান, আবদুর রশীদ সরকার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রমুখ।

রাজপরিবারে বিপাকে ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড সৌদি আরবের রাজ পরিবারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমালোচনার মুখে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাজপরিবারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রভাবশালী সদস্য। এদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী যুবরাজও রয়েছেন, যারা বিন সালমানকে সৌদি সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। খাসোগি হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্সের ভূমিকা প্রকাশ হয়ে পড়ার পর এখন তারা এই বিন সালমানের বাদশাহ হওয়া ঠেকাতে তৎপর হয়েছেন। সৌদি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, রাজকীয় আল সউদ পরিবারের কয়েক ডজন প্রভাবশালী যুবরাজ ও তাদের ঘনিষ্ঠরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর পরিবর্তন চান। তবে ক্রাউন প্রিন্সের পিতা ও বর্তমান বাদশাহ সালমান বেঁচে থাকা অবস্থায় তারা প্রকাশ্যে কোনো তৎপরতা চালাবেন না। একটি সূত্র বলেছে, ৮২ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান তার পুত্র বিন সালমানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না।
তাই সালমানের জীবনাবসানের পরই তারা ক্রাউন প্রিন্সকে ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালাবেন বিরোধীরা। এক্ষেত্রে বিন সালমানের বিকল্প হিসেবে এগিয়ে যুবরাজ আহমেদ বিন আবদুল আজিজ। রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ক্রাউন প্রিন্সের বিরোধী পক্ষের প্রচেষ্টা সফল হলে এই আহমেদ বিন আবদুল আজিজই সৌদি সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী হবেন। তিনি রাজপরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের সমর্থন পাবেন। এ ছাড়া তার প্রতি পশ্চিমা বিশ্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনও রয়েছে। তিনি লন্ডন থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে তাকে সৌদি আরবের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন দিতে দেখা গেছে। দুইটি সূত্র বলছে, সৌদি আরবে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে অ্যালিজেন্স কাউন্সিল নামে একটি পরিষদ রয়েছে। বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স করার সময় এই পরিষদের তিনজন সদস্য বিরোধিতা করেছিলেন। আহমেদ বিন আবদুল আজিজ এই তিনজনের একজন। এ বিষয়ে যুবরাজ আহমেদ বা তার প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারাও এতে সাড়া দেননি।
এদিকে, রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যুবরাজ আহমেদকে সমর্থন দিতে পারে। সৌদি সূত্রগুলো বলছে, তারা নিশ্চিত যে, বিন সালমানের নেয়া কোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার পদক্ষেপ যুবরাজ আহমেদ বন্ধ করবেন না বা পরিবর্তন করবেন না। তিনি বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সম্মান করেন। উত্তরাধিকারী হলে যুবরাজ আহমেদ রাজ পরিবারকে আবারো একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হবেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে হোয়াইট হাউসের কোনো তাড়া নেই। তবে সম্প্রতি কংগ্রেস ও সিআইএ’র রিপোর্ট কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। খাসোগি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ক্রাউন প্রিন্সকে দোষারোপ না করলেও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার প্রতি অনেকটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেননা সম্প্রতি ক্রাউন প্রিন্স যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বছরের ১৫ই মে বিন সালমান এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদক এ চিঠি দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া বা রিয়াদ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।   
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজ পরিবারে শত শত যুবরাজ রয়েছেন। ইউরোপিয়ান রাজতন্ত্রের মতো সৌদি আরবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় ছেলে উত্তরাধিকারী নির্বাচনের প্রথা নেই। এর পরিবর্তে বাদশাহ ও পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা একত্রিত হয়ে উপযুক্ত কোনো যুবরাজ বা বাদশাহর ভাইদের মধ্য থেকে কাউকে উত্তরাধিকারী নির্বাচিত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘুরে গেলেন মিলার by মিজানুর রহমান

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেগুনবাগিচা ঘুরে গেলেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক আর্ল রবার্ট মিলার। সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জুয়েল রিফম্যানও। নয়া দূত পরিচিত হলেন রাষ্ট্রাচার প্রধানসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কথা বললেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া পরিচয়পত্র প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছে পেশ করার আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে। ধারণা দিলেন তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে কী ভাবছেন সেই বিষয়েও।
দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল সকাল ১০টায় পূর্ব নির্ধারিত অ্যাপয়েনমেন্ট অনুযায়ী সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সেগুনবাগিচায় যান আর্ল রবার্ট মিলার। এরপর বৈঠকে বসেন চিফ অব প্রটোকল মো. শহীদুল করিমের সঙ্গে। পরিচিতিমূলক এ বৈঠকে নানা বিষয়ে কথা বলেন তারা। নবাগত মার্কিন দূত বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষত রাষ্ট্রাচার বিষয়ে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করেন।
দূতাবাসের তরফে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়। সেগুনবাগিচার পক্ষ থেকে অতি দ্রুত বঙ্গভবনের বিবেচনায় বিষয়টি উপস্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ আগামী ২রা ডিসেম্বর ৪ দিনের সফরে পোল্যান্ড যাচ্ছেন।
ওই সফরের আগে তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল। সেটি বাতিল হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, গতকালই মার্কিন দূতের পরিচয়পত্র পেশের সময় চেয়ে বঙ্গভবন বরাবর নোট পাঠানো হয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবীসহ সামনে কয়েক দিন ছুটি থাকায় হয়তো আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, গত রোববার বিকাল ৪টা ৪১ মিনিটে এমিরেটস-এর নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান নয়া মার্কিন দূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগের মহাপরিচালক ফেরদৌসি শাহরিয়ার এবং মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জয়েল রিফম্যানসহ সরকার ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাকে বিমান বন্দরে স্বাগত জানান। পরে ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন।
প্রথম সাক্ষাতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ঢাকার জন্য মনোনীত মার্কিন দূত আর্ল রবার্ট মিলার। বলেন, আমি আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। তারা এখানকার অনেক ঘটনার সাক্ষী। বাংলাদেশের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে উল্লেখ করে মিলার বলেন, পূর্বসূরিদের কাছ থেকে লব্ধ জ্ঞান আমার চলার পথে সহায়ক হবে। আমি তাদের দেখানো পথেই হাঁটতে চাই। আমাদের উন্নয়ন অংশীদার বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধকরণে কাজ করতে আমি প্রস্তুত। বাংলাদেশের জন্য মনোনীত হওয়ার আগে আর্ল রবার্ট মিলার বতসোয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেন।
২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে  কন্সাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নয়াদিল্লি, বাগদাদ ও জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কপস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মিলার মার্কিন মেরিন কোরে অফিসার এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মেরিন কোর রিজার্ভে অফিসার পদে ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পারেন সামাদ আজাদপুত্র ডন

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করবেনই আজিজুস সামাদ ডন। শেষ পর্যন্ত যোগ দিতে পারেন ঐক্যফ্রন্টেও। এমন গুঞ্জনে সরব সুনামগঞ্জ ও সিলেটের ভোটের মাঠ। কোন বলয় থেকে নির্বাচন করবেন এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কিছু জানাননি ডন। জানান- ‘সময়ই বলে দেবে। তবে- সামনে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।’ এদিকে- আগামী দুদিনের মধ্যে সিদ্বান্ত নেবেন ডন। আর এক ভাই নজরুল ইসলাম ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছে। নজরুলের কাছ থেকেও আমন্ত্রণ আছে ডনের।
ফলে ডন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হলে সিলেটের রাজনীতিতে অবাক করার কিছুই নেই।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসন থেকে এবার নৌকার মার্কার মনোনয়ন চেয়েছিলেন আজিজুস সামাদ চৌধুরী ডন। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছেন তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন না। আজিজুস সামাদ ডন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের বড় ছেলে। ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেন আবদুস সামাদ আজাদ। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন আবদুস সামাদ আজাদ। ২০০৫ সালে মারা যান বর্ষীয়াণ জননেতা সামাদ আজাদ। বাবার মৃত্যুর পর আজিজুস সামাদ আজাদ ডন উপনির্বাচন করতে চাইলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন করেননি তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় সাবেক যুগ্ম সচিব আবদুল মান্নানকে। আজিজুস সামাদ আজাদ ডনকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। ২০১৪ সালেও এমএ মান্নানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী করা হয় এমএ মান্নানকে।
এদিকে, মাঠ গোছাতে থাকেন আজিজুস সামাদ ডন। দলীয় হাইকমান্ড থেকে আশ্বস্ত করা হয় এবার মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু এবারো মনোনয়ন বঞ্চিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা। অনেকেই বলেন, সকল জাতীয় নেতার সন্তানদের পদ পদবী দিলেও সামাদ আজাদের পরিবারকে বারবার অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ১৪ বছর ধরে এলাকায় মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছেন আাজিজুস সামাদ ডন। জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ সাবির মিয়া বলেন, ‘সব জরিপে আজিজুস সামাদ ডন এগিয়ে থাকলেও মনোনয়ন না দেয়া কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে ডন সামাদ সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন জনবিচ্ছিন্ন কেউ এসে ফল ভোগ করুক আমরা চাই না।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী আব্দুল্লা বলেন, ‘আজিজুস সামাদ আজাদ ডনকে নিয়ে আমরা মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে গিয়েছি। নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। দল মনোনয়ন না দিলেও নির্বাচন আমাদের করতে হবে। আজিজুস সামাদ ডন মনোনয়ন না পাওয়ায় অনেকেই আজ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ সরিয়ে নেবে।’ জগন্নাথপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আবাব মিয়া বলেন, ‘স্বতন্ত্র হোক আর ঐক্যফ্রন্ট হোক নির্বাচন ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই।’ দক্ষিণ সুনামঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মার্কা ‘ডন’ । আজিজুস সামাদ ডনকে ভোট দেয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। নির্বাচন ভিন্ন অন্য কোনো পথ খোলা নেই।’ এ ব্যাপারে আজিজুস সামাদ ডন বলেন, ‘মনোনয়ন না পাওয়ার ইঙ্গিত পেয়ে মানুষের চাপ বাড়ছে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে সবাই। আমার নির্বাচনী এলাকারই শুধু নয় সিলেটের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিষয়টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। হয়তো সবার চাপে ইলেকশন করতে হতে পারে।’