Saturday, January 27, 2018

এ কেমন নিষ্ঠুরতা

প্রকাশ্যে ছিনতাইকারীরা গাড়ির চাকায়
পিষে মারলো হেলেনাকে ক্ষতবিক্ষত শরীরে
হাসপাতালে গিয়েও প্রাণে বাঁচলেন না ইব্রাহিম
রাজধানীতে হেলেনা নামের এক গৃহবধূকে গাড়ির চাকায় পিষে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। অন্যদিকে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতাল পর্যন্ত গেলেও প্রাণে বাঁচতে পারেননি আরেক ব্যবসায়ী। নির্মম, নিষ্ঠুর, পৈশাচিক ঘটনা দু’টি ঘটেছে গতকাল ভোরে নগরীর ধানমন্ডি ও সায়েদাবাদ এলাকায়। ছিনতাইকারীদের নির্মমতার শিকার হেলেনা বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরে গ্রীন রোডের বাসায় যাচ্ছিলেন। ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ব্যবসার কাজ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে করে সায়েদাবাদে নেমেছিলেন। নিহত হেলেনা রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে মিডওয়াইফ পদে চাকরি করতেন।
তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মন্টু অন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তারা গ্রিন রোডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। চার সন্তানের জননী হেলেনার করুণ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মাঝে। চোখের সামনে স্ত্রীর এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না মনিরুল ইসলাম। নিহত ইব্রাহিম ব্যবসার কাজে খুলনা থেকে নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন। খুলনার শেখ পাড়ায় তার একটি নৌযান মেরামতের ওয়ার্কশপ রয়েছে।
এর আগে গত ১৮ই ডিসেম্বর রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইকারীদের টানে মায়ের কোল থেকে পড়ে সাত মাসের শিশু আরাফাতের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ৮ই অক্টোবর টিকাটুলিতে ছিনতাইকারীদের কবল থেকে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খন্দকার আবু তালহা। এই দুই ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয় সারা দেশে। শিশু আরাফাতকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। খন্দকার আবু তালহার খুনি ছিনতাইকারীদেরও ঘটনাস্থলের পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকালের ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের এলাকার বাসাবাড়ির ভিডিও ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেলেনার স্বামী মনিরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সর্বশেষ সংস্করণ ‘স্মার্টকার্ড’ আনতে কিছুদিন আগে আমরা বরিশালের গ্রামের বাড়ি যাই। সেখান থেকে গতকাল রাতে লঞ্চে করে সদরঘাট আসি। ভোর ৪টার দিকে আমরা সদরঘাটে পৌঁছাই। পরে একটু হেঁটে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে গ্রিন রোডের বাসায় যাওয়ার জন্য গাবতলীগামী ৭ নম্বর বাসে উঠি। বাসটি ধানমন্ডি ৭ ও ৬ নম্বর সড়কের মাঝামাঝি এসে আমাদেরকে অনেকটা জোর করে নামিয়ে দেয়। তখন রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। বাসার যাবার জন্য আমরা একটি রিকশা খুঁজছিলাম। তখন আমাদের বেশ পেছনে একটি সাদা রঙের কার দাঁড়ানো অবস্থায় দেখি। আমরা কিছু দূর যাবার পর ওই করলা ব্র্যান্ডের কারটি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। গাড়ির সামনে চালক ছাড়া আরো একজন লোক বসা ছিল। এছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন ওই চালকই আমার স্ত্রী হেলেনার কাছে থাকা ভেনেটি ব্যাগে টান দেয়। তখন হেলেনা ব্যাগটি রক্ষায় জোর করে ধরে রেখেছিল। ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ছাড়ছিল না। তারা ব্যাগটি নিয়ে নিতে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। এতে হেলেনা পড়ে যান। ব্যাগসহ তার হাতটি তখনও গাড়ির কাচে আটকা। টেনে হিঁচড়ে বেশ কিছু দূর নেয়ার পর গাড়িটি মোড় নিতে চাইলে হেলেনার মাথা গাড়ির চাকার নিচে পড়ে যায়। এতে তার মাথা থেঁতলে যায়। স্ত্রীর মর্র্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা দিতে দিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মনিরুল। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলেই ও শেষ হয়ে যায়। আমার চোখের সামনে ওকে ওরা একেবারে পিষে মেরে ফেলে’। মনিরুল বলেন, পরে আমি হেলেনার নিথর দেহ গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখান থেকে পুলিশ এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নিয়ে যায়। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে বরিশালের উদ্দেশে স্ত্রীর লাশ নিয়ে রওনা দেন মনিরুল।
তিনি জানান, হেলেনার আয়েই পরিবারের পুরো খরচ চলতো। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েও গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চাকরি করেন। তিন ছেলেকে পড়াশোনা করাতেই আমরা ঢাকায় কষ্ট করছিলাম। হেলেনা চলে যাওয়ায় আমি একা হয়ে গেলাম। স্ত্রী হেলেনার হত্যাকারী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এদিকে ঘটনাস্থল রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের বিপরীতে ধানমন্ডির সাত নম্বর সড়কে গেলে ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে গতকাল পর্যন্ত তারাও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পায়নি। ভোরবেলা হওয়ায় ওই এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে পাশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা সচল ছিল। পুলিশ গতকাল ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এদিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ মানবজিমনকে বলেন, গাড়ির চাকা মাথা ও মুখমণ্ডলের উপর দিয়ে চলে যাওয়াতে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে যায়। মুখ ও মাথার সমস্ত হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ মানবজমিনকে বলেন, ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় কাউকে আটক ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল থাকায় টেকনিশিয়ান না পাওয়াতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে রাতেই ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রাণ নিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন ইব্রাহিম: রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হন ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার শেখপাড়ার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে। ব্যবসার কাজে মঙ্গলবার খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সায়েদাবাদ পৌঁছে কোথাও যাওয়ার সময় রাত সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার শরীরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তার কাছে থাকা জিনিসপত্র নেয়ার জন্য টানাটানি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ইব্রাহিম নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়াতে থাকেন। দৌড়ে তিনি সালাহউদ্দিন হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানকার জরুরি বিভাগে তার কিছু চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সঙ্গে কেউ না থাকায় এবং যানবাহন না পাওয়ায় তিনি অনেক সময় ওই হাসপাতালেই অপেক্ষা করছিলেন। পরে পুলিশের টহল দল এসে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
ইব্রাহিমের দুলাভাই আবদুল হক মানবজমিনকে বলেন, জাহাজের ওয়ার্কশপের কাজেই ইব্রাহিম ঢাকায় আসেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এসে একটি আবাসিক হোটেলে থেকে বুধবার ব্যবসায়িক কাজ কর্ম সেরেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার কোনো কাজে হয়তো তিনি নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যায়। রাতে গাড়ি থেকে সায়েদাবাদ এলাকায় নেমে কোথাও যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তাকে কয়েকজন ছিনতাইকারী আক্রমণ করে। তার কাছে জিনিসপত্র নেয়ার জন্য টানাটানি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পর পর তাকে সাতটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ফলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কিন্তু মনোবল না হারিয়ে ইব্রাহিম একাই পার্শ্ববর্তী সালাউদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। অবস্থার বেগতিক দেখে হাসপাতাল থেকেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তখন কোনো সিএনজি বা গাড়ি হাসপাতালে যেতে রাজি হয়নি। পরে খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে এসে টহল পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষন চিকিৎসা নেয়ার পর সে মারা যায়। তার কাছে থাকা মোবাইল থেকে আমাদের নম্বর নিয়ে ফোন করে পুলিশ। তারপর এসে আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। নিহত ইব্রাহিমের আত্মীয় মো. বাদল মানবজমিনকে বলেন, বাস থেকে সায়েদাবাদ নেমে রেল লাইনের পাশের গলি দিয়ে তিনি হাঁটছিলেন। এ সময় তিনি ছিনতাকারীর কবলে পড়েন। পরে তারা ছুরিকাঘাত করলে তিনি দৌড়ে গিয়ে সালাউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে সেখান থেকে আবার ঢামেকে নিলে খবর পেয়ে আমরা সেখানে পৌঁছাই। কিন্তু আমরা যাওয়ার পর পরই তিনি মারা যান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার ফরিদ উদ্দিন আহমদ মানবজমিনকে বলেন, এ ঘটনায় গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা বা এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ১৮ই ডিসেম্বর রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশু আরাফাতের মৃত্যু হয়। বড় ছেলের চিকিৎসার জন্য ছোট সন্তান আরাফাতকে সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন শাহ আলম গাজী ও আকলিমা দম্পতি। সেদিন ভোরে তারা সদরঘাটে নামেন। পরে শাহ আলম গাজী তার স্ত্রী আকলিমা ও দুই সন্তানসহ রিকশায় করে শনির আখড়ায় যাচ্ছিলেন। রিকশাটি দয়াগঞ্জ মোড় এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা চলন্ত অবস্থায় আকলিমার কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার কোলে থাকা শিশু আরাফাত নিচে পড়ে যায়। শিশু আরাফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত ৮ই অক্টোবর আরেক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে টিকাটুলি এলাকায়। ওই দিন ভোরে বারিধারার একটি স্কুলের শিক্ষিকা সিফাত সাদিয়া ও তার ভাই একটি রিকশা করে যাচ্ছিলেন। পথে তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ সময় খন্দকার আবু তালহা একটি ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় পিছন থেকে দুই ছিনতাইকারী এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী ক্লাসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে লাশ হয়ে ফিরেন।

‘১২ হাজার টাকা বেতনে সংসার চলে না’ by মুসা বিন মোহাম্মদ

কুমিল্লার মৌটুপী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মজিবুল ইসলাম। মাস শেষে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন পান ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। সাত সদস্যের পরিবারের বড় ছেলে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা। আরেক ছেলে রাজধানীর পল্টনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ মাসের ১৭ তারিখে মজিবুল ইসলাম তার মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনশনে অংশ নিয়েছেন। অনশনস্থলে গতকাল এই সহকারী শিক্ষক মানবজমিনকে বলেন, আমি যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না।
সরকারি অনেক মাদরাসার শিক্ষক আছেন যারা আমাদের থেকে বেশি বেতন পান। এই বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে আন্দোলন করছি।
মজিবুলের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঝিনাইদহের শিক্ষক এবিএম নেছারউদ্দিনের। ১৬ হাজার টাকা স্কেলে মাস শেষে ১৬৫৪০ টাকা বেতন পান ঝিনাইদহের আলমপুর মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষক। দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ তার ৬ সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি বেতন ও জমিজমা চাষ করেও সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান নেছারউদ্দিন। তার কষ্ট হলো- একই পদে থেকে জাতীয়করণের শিক্ষকরা মাস শেষে বেতন-ভাতা মিলে পাচ্ছেন আমাদের দ্বিগুণ। জাতীয়করণ হলে তাদের সমান তার বেতন হতো বলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ফুটপাথে শুয়ে অনশনরত অবস্থায় দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষক নেছারউদ্দিন। গত ১০ই জানুয়ারি থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানের পর ১৫ তারিখ থেকে অনশনে আছেন এই শিক্ষক। অনশনের ১১তম দিনে অনশনস্থলে মানবজমিনকে তিনি বলেন, আগে বেতন একটু কম ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর এক দফা বেতন বাড়িয়েছে। আমার বেতন আরো বাড়ার কথা ছিল কোনো কারণে তা হয়নি। এবার সবার বেতন এক অনুপাতে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। ঝিনাইদহের এই শিক্ষকের চেয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে বেশি হিমশিম খেতে হচ্ছে ময়মনসিংহের আনোয়ার হোসেনকে। যদি তার বেতন স্কেল তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গোন্দাজ বিদ্যালয় থেকে তিন দিনের ধর্মঘটের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার লাগাতার অনশনে অংশ নিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। এই শিক্ষক মানবজমিনকে বলেন, আমার ৫ সদস্যের পরিবার। ২২ হাজার টাকা স্কেলে মাস শেষে বেতন পাই ২২৫০০ টাকা। তবুও আমার সংসার চলে না। ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ দিতে হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলে বোনাস, ভাতা পেলে সবাইকে নিয়ে আরেকটু ভালোভাবে চলা যাবে বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
রাজধানীর প্রেস ক্লাবের মূল ফটকের পূর্ব পাশে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনকারী এই শিক্ষকরা। পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের পশ্চিম পাশের ফুটপাথে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংগঠনের ব্যানারে ২১শে জানুয়ারি অবস্থানের দুইদিন পর থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন আরেক দল শিক্ষক। এই শিক্ষকরা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো চাকরি করলেও সরকারের কাছ থেকে বেতন পান না এক টাকাও। তাদের মধ্যে একজন হলেন ভোলার চরফ্যাশনের আলীগঞ্জ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও সরকারের কাছ থেকে কোনো বেতন- ভাতা কিছুই পান না। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করা অবস্থায় অনশন করছেন মাহবুব আলম। এই প্রধান শিক্ষক বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তো সরকারের কাছ থেকে কিছু হলেও পায়। আমরা দিনের পর দিন বিনা বেতনে চাকরি করছি। এর আগে একই জায়গায় নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা সরকারের পক্ষ থেকে বেতনের দাবিতে লাগাতার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। লাগাতার আন্দোলনরত এসব শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষকদের কঠোর আন্দোলনের মুখে দাবি পূরণের ঘোষণা দেয় সরকার। এর পরপরই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো সাড়া না আসায় অনশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে অনশনের পর ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এ পর্যন্ত অনশনে ১২৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন লিয়াজোঁ ফোরামের শিক্ষক নেতারা। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি-সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে ইঙ্গিত পেলেও তাদের দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। শিক্ষাখাতের বৈষম্য দূরীকরণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ দাবি শিগগিরই সরকার পূরণ করবে বলে আশা করছেন আন্দোলনকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

চট্টগ্রামে আলোচনায় ‘কিশোর আড্ডা’ by ইব্রাহিম খলিল

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসফার খুনের পর কিশোর আড্ডা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। টনক নড়েছে পুলিশ প্রশাসনেরও। নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে থানা পুলিশকে সজাগ থাকতে বলেছেন। নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন কিশোর আড্ডা নিয়ে সজাগ থাকার নির্দেশনার কথা স্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কোতোয়ালি থানা এলাকায় ৩২টি কিশোর আড্ডাস্থল চিহ্নিত করেছি। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বেআইনি কিছু দেখলেই পুলিশ ত্বরিত গতিতে অ্যাকশনে যাবে।
একই কথা জানান দক্ষিণ জোনের বাকলিয়া, চকবাজার ও সদর ঘাট থানা পুলিশ।
সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মর্জিনা আক্তার বলেন, সদরঘাট থানা এলাকায় ২২টি কিশোর আড্ডাস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আড্ডাস্থলের দিকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধে জড়িত এমন কোনো কিশোরের তথ্য পেলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) এসএম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, নগরীর চারটি থানায় প্রাথমিকভাবে কিশোরদের ৭৩টি আড্ডাস্থল চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বাকি ১২ থানা এলাকায়ও কিশোরদের আড্ডাস্থল চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কোতোয়ালি থানা এলাকায় কিশোরদের যে ৩২টি আড্ডার স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো- সিআরবি শিরিষতলা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, আউটার স্টেডিয়াম, রেলওয়ে হাসপাতাল ও তাসফিয়া হোটেল, গোয়ালপাড়া শহীদ মিনারের সামনে, রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে, পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন হোটেল হাবিবের সামনে, নিউমার্কেট মোড়, ইসপাহানী মোড়, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের সামনে, ডিসি হিল, মুসলিম ইনস্টিটিউটের সামনে, এনায়েতবাজার মোড় বৈশাখী হোটেলের সামনে, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল মেইন গেটের ভেতরে ও পাহাড়ের ওপরে হাসপাতালের সামনে খোলা জায়গায়, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে, লালদিঘি, আন্দরকিল্লা ল-কলেজ মাঠ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, হাজারীগলি, পরীর পাহাড়, স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে, সিনেমা প্যালেস বিপুল বাস কাউন্টারের সামনে, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনে সিঁড়িতে, রহমতগঞ্জ জেএমসেন হল, চেরাগীর মোড়, জামালখান লিচুবাগান, কুয়ার পাড়, জামালখান মোড়, কলাবাগিছা শুটকী পট্টি, ব্রিকফিল্ড রোড, আশারাফ আলি রোডে খালের পাশে নতুন মোড়, নজু মিয়া লেন মসজিদের সামনে, মা বিল্ডিং, বশিরউজ্জামান বিল্ডিং ও মেরিনার্স রোড। বাকলিয়া থানা এলাকায় কিশোর আড্ডাস্থলগুলো হচ্ছে, সিটি করপোরেশন স্টেডিয়ামের সামনে বাস্তুহারা, নুতন ফিশারীঘাটের মুখে, রাহাত্তারপুল ফুলকলি বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনে, বাকলিয়া সরকারি স্কুলের সামনে ও সূর্যের হাসি ক্লিনিকের পেছনে ও স্টার হোটেলের খালি জায়গায়।
সদরঘাট থানা এলাকায় কিশোরদের আড্ডাস্থলগুলো হচ্ছে-ইসলামীয়া কলেজ মোড় আজিম কমিউনিটি সেন্টারের নিচে, ইসলামীয়া কলেজ মোড়ে হোটেল সাতকানিয়ার সামনে, হোটেল শাহজাহানের সামনে, কালিবাড়ি মোড় মেমন হাসপাতালের নিচে, আইস ফ্যাক্টরি রোড মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পশ্চিম পাশে ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে, মরিচ্যাপাড়া মোড়, নিয়াজ হোটেলের পাশে সেবক কলোনির গলির মুখে, শুভপুর বালুর মাঠে, রাহাত সেন্টারের সামনে, কদমতলি মোড়, কমার্স কলেজের সামনে, কমার্স কলেজ রোড ইয়াছিন গলির মোড়, বাংলাবাজার জুটরেলী ঘাট, গ্যাস রেলী ঘাট, মাঝিরঘাট ট্রাকস্ট্যান্ড মাঝিরঘাট স্কুলের সামনে, সদরঘাট রোড বরিশাল ঘাট, সাহেবপাড়া কলাবাগান মাঠ, নেভাল-২ অভয়মিত্র ঘাট, দারোগারহাট বাই লেন ও দারোগার হাট ইস্টার্ন গার্মেন্টসের সামনে। চকবাজার থানা এলাকায় কিশোর আড্ডাস্থলগুলো হচ্ছে- চক মালঞ্চ হোটেলের সামনে, কেয়ারির দক্ষিণ পাশে প্যারেড মাঠের ফুটপাত, দেবপাহাড় মুখ, গণি বেকারির মোড়, জামালখান মোড়, শিল্পকলার সামনে এমএমআলি রোড, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান হোস্টেলের সামনে, কাপাসগোলা স্কুল এবং আশেপাশের এলাকা, সিরাজউদৌল্লাহ রোড এমপিসি কলেজের সামনে, মেজ্জান হাইলে আইয়্যু রেস্তোরাঁ, শান্তিনগর বগারবিল ও প্যারেড কর্নার।
আড্ডাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে নগরীর চকবাজার থানা এলাকায়। সেখানে ১৪টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানগুলোর কোনোটিতে নুরুল মোস্তফা টিনু গ্রুপ আবার কোনোটিতে চন্দনপুরার আবদুর রউফের অনুসারীরা আড্ডা দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, চিহ্নিত ৭৩ আড্ডার স্থানের কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলোতে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, কিশোর ও উঠতি বয়সী যুবকদের নিয়ে বড় ভাইদের আড্ডা, স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদের ইভটিজিং, রাজনৈতিক গ্রুপিং ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি আর খুনের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুলছাত্র আদনান খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত সদ্য কৈশোর পার হওয়া মঈন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতেও জানিয়েছে, গণি বেকারির মোড় ও পাশের একটি রেস্তোরাঁয় তারা নিয়মিত আড্ডা দিতো। আর আড্ডা থেকে উঠে গিয়ে আদনানকে খুন করা হয়েছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ জানান, অসময়ে স্কুল কলেজের ছাত্ররা আড্ডা দিচ্ছে। যারা আড্ডা দিচ্ছে তাদের পরিচয় কী কিংবা কোন ধরনের আড্ডা হচ্ছে তার খোঁজখবর নেয়া হবে। প্রয়োজনে সন্দেহজনক আড্ডাস্থলে অভিযান চালানো হবে। নগর দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, যেখানে উঠতি বয়সী ছেলেদের আড্ডা সেখানে নজরদারিতে রাখা হবে। প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু আড্ডাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু আড্ডার জায়গাগুলো পর্যবক্ষণে রাখা হবে তা নয়। উঠতি বয়সী যুবকেরা বিকট শব্দে রাস্তায় মোটরসাইকেল চালায়। এসব বিষয়গুলোও নজরদারিতে আনা হবে। স্কুল ড্রেস পরা কাউকে আড্ডায় পাওয়া গেলে থানায় নিয়ে আসা হবে।

‘আপনি বাঘ আর বিড়ালের তফাৎ বোঝেন না’ -আইভীকে শামীম

সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান বলেছেন, হুদামিছি মামলা দিয়া কাদের ভয় দেখাইতে চান! এরা কী ভয় খাওনের ছেলে নাকী? আপনি বাঘ আর বিড়ালের তফাৎ বোঝেন না? বাঘ আর বিড়ালের তফাৎ বুঝতে শিখেন। এরা তো বাঘ, বিড়াল না। আর মনে রাইখেন বাঘের ঘরে বাঘই জন্ম নেয় কোনো বিলাই জন্ম নেয় না। সুতরাং এমন কিছু কইরেন না, বাঘের মুখের সামনে হাত লেলাইয়েন না বেশী। তারা কেউ কিন্তু রাস্তা থেকে উঠে এসে এখানে নেতা হয় নাই। তাদেরকে কর্মীরা ভালোবাসে বলেই তারা নেতা হইছে এখানে।
শামীম ওসমান লাগে না, তারা নিজেরাও যদি ডাকে ৪০/৫০ হাজার এক লাখ লোক আসবে।
আজ শনিবার বিকালে ইসদাইর খান সাহেব ওসমান আলী পৌর স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় নাসিক মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, হুদামিছি একটা মামলা দিয়ে ফালাইলেন! কোন নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিলেন যারা বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৫০টা মামলা খাইছে। যারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৫০টা মামলা খাইয়া মামলার গুষ্টিও মারে নাই, তাদের নামে আপনি হুদামিছি একটা মামলা দিয়া দিলেন! কর্মীর গায়ে হাত পরবে আর নেতা চুপ করে বসে থাকবে? ওই নেতাগিরি শামীম ওসমান করে না।
মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান আরো বলেন, যাদের নামে আপনি অভিযোগ দিছেন তাদের নামে অভিযোগ দেবার আগে আপনার বুকটা একবার কাঁপা উচিৎ ছিলো। এরা সবাই আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাকর্মী। আপনার নির্বাচনে এমন কোনো কষ্ট নাই যে এরা করে নাই, এমন কোনো পরিশ্রম নাই যে এরা করে নাই। নিজেদের পকেটের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে নেত্রীর দিকে তাকিয়ে এরা আপনার নির্বাচনে কাজ করেছে।
শামীম ওসমান বলেন, মামলা দিয়ে কী মনে করছেন? নিয়াজুলকে ধরবেন! নিজামকে ধরবেন! ধরা তো দূরের কথা মাথার চুলের আগায় হাত দিলে নারায়ণগঞ্জে আগুন জ্বালাইয়া দিবো। তিনি বলেন, বিএনপি জামাত শিবির উচ্ছেদ করতে মাঠে নামবেন না আর আমার ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে ফালাইবেন। এবার দেখবো হকারদের যেমন করে উচ্ছেদ করছেন অমনি যদি বিএনপি জামাত শিবির উচ্ছেদে মাঠে থাকেন তবে আপনি আমার ভাই আপনি আমার বোন, আপনি আমার নেতা। মাঠে থাকবেন না, আর আমার নিজাম, হেলাল, সাজনু, জুয়েল, সুজন এদের নামে মামলা দিয়ে ফালাইবেন! সব আওয়ামী লীগ কর্মীদের নামে মামলা দিলেন কেন? কারণ কী?

খাঁটি পুলিশ ভুয়া পুলিশ যখন একাকার by মশিউল আলম

সকাল সাড়ে ১০ টা। রাজধানীর মগবাজার মোড়ের কাছাকাছি জনাকীর্ণ সড়ক। এক ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন  একটি ব্যাংক থেকে। তাঁর হাতে একটা ব্যাগ, ব্যাগে সাত লাখ টাকা। হঠাৎ চারজন লোক তাঁকে ঘিরে ধরেন, তাঁদের কারও হাতে ওয়াকিটকি, কারও হাতে হ্যান্ডকাফ। তাঁরা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্য বলে প রিচয় দেন এবং লোকটিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পাশে দাঁড়ানো একটি মাইক্রোবাসে জোর করে ওঠান। সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাস ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে শুরু করে।  রাস্তার লোকজন ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ আর্তচিৎকার শুনতে পায়। তারা দেখতে পায়, ছুটন্ত মাইক্রোবাসটির কাচের জানালায় জোরে জোরে ধাক্কা পড়ছে, সেই সঙ্গে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে ভেসে আসছে মরিয়া চিৎকার: ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ রাস্তার জনতার পক্ষে নীরব দর্শকের ভূমিকায় নির্বিকার থাকা সম্ভব হয় না; তাদের মন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়ে ওঠে; ত ারা চিৎকার করতে করতে ছুটন্ত মাইক্রোবাসটির পিছু নেয়। মাইক্রোবাস কিছুদূর যাও য়ার পরই যানজটে আটকে যায়; উত্তেজিত জনতা সেটির কাচের জানালা ভেঙে ফেলে। কোন ফাঁকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী লোকগুলো তাঁদের ওয়াকিটকি-হ্যান্ডকাফ ফেলে লাপাত্তা হয়ে যান, জনতা শুধু অপহৃত হতে যাওয়া লোকটিকে দেখতে পায়। তারপর পুলিশ আসে।
জনতা জানতে পারে, যাঁরা লোকটাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা ভুয়া ডিবি।  কিন্তু তাঁরা যদি সত্যিই ডিবি পুলিশের সদস্য হতেন বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতেন, তাহলে কী ঘটতে পারত? তাহলে সম্ভবত তাঁরা পালিয়ে যেতেন না। তাঁরা পালিয়ে গেছেন বলেই পুলিশ ও জনতার ধারণা হয়েছে যে ডিবি পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাঁরা খাঁটি ক্রিমিনাল। তবে এ ব্যাপারে ১০০ ভাগ নিশ্চিত  হওয়াও কঠিন। কারণ, পেশাগত পরিচয় দিয়ে, সাদাপোশাকে কিন্তু সশস্ত্র অবস্থায় ছিনতাই, অপহরণ ইত্যাদি অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন, এমন ঘটনার দৃষ্টান্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের মধ্যে একাধিক আছে। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে না বটে, কিন্তু ঘটা যে অসম্ভব নয়, তা এ দেশে এখন সবাই জানে।  মগবাজারের এ ঘটনার খবর ডেইলি স্টার-এ যেদিন ছাপা হয়েছে, সেই একই দিনে প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটা খবর, যেখানে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভুয়া নন, পুরোপুরি খাঁটি। তাঁরা হলেন  সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হুদা, কনস্টেবল আবুল কাসেম ও আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেন। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে তাঁরা গিয়েছিলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তেলিবাজার গ্রামে। গিয়েছিলেন একটা মাইক্রোবাস নিয়ে, সশস্ত্র অবস্থায়, কিন্তু তাঁদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল না। সাদাপোশাকে তাঁরা গিয়েছিলেন ‘আসামি ধরতে’। প্রসঙ্গক্রমে বলা দরকার, সীতাকুণ্ডে ৫০ টির বেশি জাহাজভাঙা কারখানা আছে, সেগুলোতে অনেক শ্রমিক কাজ করেন, তাঁদের অনেকে উল্লিখিত তেলিবাজার গ্রামের বাসিন্দা। শ্রমিক নিয়োগের ঠিকাদার ফারুক হোসেনও ওই গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাতে তিনি ও তাঁর ভাই মোহাম্মদ পারভেজ শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন সেখানে সাদাপোশাকে হাজির হন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ওই তিন সদস্য। তাঁরা দাবি করেন, ফারুকের কাছে ইয়াবা আছে। ফারুকের ভাই পারভেজ তাঁদের কথার প্রতিবাদ করলে তাঁরা পারভেজকে পেটাতে পেটাতে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করেন। তখন দুই ভাই চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং সাদাপোশাকধারী সশস্ত্র তিন ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। এতে সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক নাজমুল হুদা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলেন।  কিন্তু এলাকাবাসী চলে যাওয়ার পরিবর্তে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন; এর একপর্যায়ে ভয়ংকর ঘটনা ঘটে: এসআই নাজমুল হুদা গুলি চালিয়ে দেন। একটি নয়, পরপর মোট নয়টি গুলি ছোড়েন তিনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক তরুণ মারা যান, আরও দুজন আহত হন। গ ুলি করতে করতেই তাঁরা মাইক্রোবাসে উঠে ওই জায়গা থেকে চলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য, যাঁর দায়িত্ব অন্যায়-অপরাধের শিকার দুর্বল অসহায় মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অপরাধীদের দমন করা, তিনি নিরপরাধ মানুষকে অপরাধবৃত্তিতে ফাঁসাতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কী অবলীলায় গুলি চালিয়ে নিরীহ মানুষকে মেরে ফেলতে পারলেন! অবাক ব্যাপার হলো, এসআই নাজমুল তাঁর দুই সহকর্মীকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে তেলিবাজার নামের যে গ্রামে গিয়েছিলেন, সেটা তাঁদের দায়িত্বের এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। তাঁরা গিয়েছিলেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না জানিয়েই। কিন্তু তাঁরা সরকারের দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তা ব্যবহার করে অবলীলায় মানুষ হত্যা করে ফিরে গেছেন। তাঁদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মানুষ হত্যার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করার পরও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে লোকজনকে ‘ফাঁসানো’র অভিযোগ ইদানীং অনেক বেড়েছে। গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের মুখে ‘পুলিশের জুলুম’ কথাটা আগের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। লোকজনকে হয়রানি করে টাকা আদায় করার ঘটনা এতটাই বেড়ে গেছে যে নিরীহ লোকজন ভয়ে ভয়ে থাকে, কখন পুলিশের বদনজরে পড়ে যায়। ঢাকা মহানগরেও যাঁরা পথের পাশে দোকান করেন, বস্তিতে বাস করেন, পুলিশ তাঁদের সহায় নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের একটা অংশের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা সব সময়ই ছিল। তবে সেই অংশটা আগে অনেক ছোট ছিল। এখন যে বড় হচ্ছে, তা সরকার বা পুলিশ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু স্বীকার করা বা না করার ওপর বাস্তবতা নির্ভর করে না। বাস্তব সত্য হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। গত দুই-তিন মাসেই এমন কিছু ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যেমন গত অক্টোবরে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক ও তাঁর এক সহকর্মী একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাই করার চেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। নভ েম্বর মাসে দক্ষিণখান থানার এক উপপরিদর্শক ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করার সময় ৪০ হাজার টাকা কেড়ে নেন। আলাউদ্দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা জোনে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। নভেম্বর মাসেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে পুলিশের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরাধ দমন যাদের দায়িত্ব, তাদের একটা অংশই যদি অপরাধে লিপ্ত হয় এবং সেই অংশটা যদি ক্রমশ বড় হতে থাকে, তাহলে পেশাদার অপরাধীদের দমন করার কেউ কি থাকে? পুলিশের সদস্যরা যখন নিজেদের পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হন, তখন কি তাঁদের পেশাদার অপরাধীদের থেকে আলাদা করে চেনা যায়? তখন কি পেশাদার অপরাধীরাও পুলিশ সেজে অপরাধে লিপ্ত হতে প্রলুব্ধ হতে পারে না? মগবাজারের চার অপহরণকারী নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়েছিল এই ভরসায় যে এতে তাদের অপরাধ সংঘটন নির্বিঘ্ন হবে। ঘটনাক্রমে তা হয়নি, কিন্তু তাদের পক্ষে অপরাধ করে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়া অসম্ভব ছিল না; ডিবি পুলিশের মিথ্যা পরিচয় তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতেও পারত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে লোকজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা যখন অহরহই ঘটতে থাকে, তখন পেশাদার অপরাধীদের পক্ষে ভীষণ সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশজুড়ে এখন সেই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এটা এমন এক সময়, যখন খাঁটি পুলিশ আর ভুয়া পুলিশ আলাদা করে চেনা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।  প্রশ্ন জাগে, পুলিশ নামের প্রতিষ্ঠানটির মান-মর্যাদা নিয়ে ভাবিত হওয়ার কেউ কি নেই? পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমে যাওয়া কি কাউকে চিন্তিত করে না? প্ রশ্ন জাগে, অপরাধীদের দমন করার এবং নিরীহ সাধারণ মানুষকে অন্যায়-অপরাধ থেকে রক্ষা করার আন্তরিক তাগিদ আমাদের এই রাষ্ট্রের কোথাও কি একটুও অবশিষ্ট নেই?
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul. alam@gmail. com

অর্থ পাচার রোধের উদ্যোগ

অর্থ পাচার রোধে এবং চুরির টাকা দ্রুত ফেরত আনতে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন’ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে। সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। উল্লেখ্য, এ আইনের মাধ্যমে দেশে অর্থ ফেরত আনা এবং আইনি সহায়তা পেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু আইনটির কিছু জটিলতার কারণে এ ক্ষেত্রে বিদেশের সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, একই কারণে বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত আনতেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা আশা করব, আইনটি এমনভাবে সংশোধন করা হবে যাতে পাচারের টাকা দ্রুত দেশে আনার ক্ষেত্রে বাধা দূর হয় এবং পাচারকারীদের শনাক্ত করে ফেরত আনা সম্ভব হয়। বিষয়টি জরুরিও বটে। দেশ থেকে অর্থ পাচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ অঙ্ক আমাদের মোট জাতীয় বাজেটের দ্বিগুণ। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর টাকা পাচারের হার বাড়ছে। বিদেশে অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এ জন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কী এর কারণ তা চিহ্নিত করে ফাঁকগুলো বন্ধ করতে হবে। ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন’ সংশোধন করে সে চেষ্টা চালানো যেতে পারে। দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে নানা পন্থায়। সম্প্রতি টাকা পাচারের নতুন একটি কৌশলের কথা জানা গেছে।
এ ক্ষেত্রে পণ্য জাহাজীকরণের কাগজপত্র জাল করে এলসিকৃত পণ্যের পুরো টাকা তুলে নিয়ে তা বিদেশে রেখে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ মুহূর্তে অর্থ পাচার বৃদ্ধি পাওয়ার একটি বড় কারণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে ক্রমাগত ডলারের দাম বৃদ্ধিতে। এটি নির্বাচনের বছর হওয়ায় অর্থ পাচার বেড়ে গেছে। আর যখন অর্থ পাচার বাড়ে তখন ডলারের দামও বেড়ে যায়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো লক্ষণ নয়। কারণ ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়ে যাচ্ছে আমদানি ব্যয়। এতে কাঁচামালসহ মেশিনারিজের জন্য আমদানিনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অর্থ পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া গেলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে মূলত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হলে। বাস্তবতা হল, দেশে সঞ্চয় বাড়লেও বিনিয়োগ বাড়ছে না। অর্থ পাচারের আরেকটি বড় কারণ হল দুর্নীতি। দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বাড়ছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেও টাকা পাচার বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

রাজধানীর গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য আবারও বেড়েছে। প্রতিনিয়ত যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরা থেকে মিরপুর রুটে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই রুটে সিটিং সার্ভিসে ভাড়া নেয়া হয় ৩০-৪০ টাকা; কিন্তু লোকাল সার্ভিসের মতোই বাস চালানো হয়, অর্থাৎ যত্রতত্র বাস থামিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হয়। রাস্তায় যেখানেই যাত্রী দেখে, গাড়ি থামিয়ে দেয়। এতে যাত্রী উঠুক বা না উঠুক থামিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি যাবেন কিনা। শুধু তাই নয়, এই রুটে কেউ যদি শেওড়াবাজার থেকে কালশী মোড়ে নামে তাকেও ৩০ টাকা এবং আবদুল্লাহপুর থেকে গাবতলী গেলেও ৩০ টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ একটিমাত্র ফ্লাইওভার পাড়ি দিতে লাগছে ৩০ টাকা। এমন কোনো দিন নেই যেদিন এ নিয়ে বাসে বাকবিতণ্ডা হয় না। এরা কোনো ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার হার মানছে না।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস কর্মচারীদের কাছে সাধারণ যাত্রীরা অসহায়। মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও নিয়ম মানা হয় না। শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ছাড়ের ব্যবস্থাও নেই। প্রশ্ন হল, এ নৈরাজ্য কি চলতেই থাকবে? বাস্তবতা হল, বিআরটিএ’র আইনে ‘সিটিং সার্ভিস’ বলে কিছু নেই। মালিকরা অতি মুনাফার লোভে নিজেরাই এ সার্ভিস চালু করেছে। এ নৈরাজ্য চলতে পারে না। রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস চালু করতে হলে নতুন আইন করেই তা করতে হবে। সেক্ষেত্রে লোকাল ও সিটিংয়ের পৃথক পৃথক ভাড়ার হার সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং তা কার্যকর করতে হবে। সিটিং সার্ভিস বাস যেন কোনোভাবেই বাড়তি যাত্রী তুলে লোকালের মতো চালাতে না পারে, তা কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় স্টপেজ অনুযায়ী সিটিং সার্ভিস বাস চালাতে হবে। টিকিট দিয়ে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে হবে। মালিকদের মর্জিমতো ভাড়া আদায় ও স্টপেজ নির্ধারণ করা যাবে না। যাত্রী মাঝপথের কোনো স্টপেজে নামলে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। একজন ভুক্তভুগী যাত্রী হিসেবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মোহাম্মদ অংকন
শিক্ষার্থী, ঢাকা

বেসরকারি শিক্ষকদের আন্দোলন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে সারা দেশের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী লাগাতার ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলছে আমরণ অনশন কর্মসূচি এবং আন্দোলনকারীরা বলেছেন, দাবি-দাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমরা একটি বিষয় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, চলমান নির্বাচনের বছরে বেশ কিছু সেক্টরে দাবি-দাওয়াকেন্দ্রিক আন্দোলন, কখনও বা অনশন ধর্মঘটের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করে সেগুলো পালন করা হচ্ছে। এটা যদি নির্বাচনের বছরে সরকারকে চাপে ফেলার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। প্রতিটি পেশারই মানুষের নানারকম পেশাগত সমস্যা থাকতেই পারে; সেগুলো আদায় করার জন্য আন্দোলনও হতে পারে; কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনোকিছুকেই জিম্মি করে আন্দোলন করা সমীচীন নয়। এসএসসি পরীক্ষার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এ অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বেসরকারি যেসব শিক্ষক-কর্মচারী এখনও জাতীয়করণের আওতায় আসেননি, তাদের আর্থিক দুর্দশার বিষয়টি না বোঝার কথা নয়। কিন্তু জাতীয়করণের দাবি পূরণের জন্য আন্দোলনের যে সময়টি তারা বেছে নিয়েছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করব, যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে তারা এই সময়কে আন্দোলনের বাইরে রাখবেন। বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে এবং তিনি জাতীয়করণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন, আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে এমন নির্দেশনা দেবেন, যা আন্দোলনের শিক্ষক-কর্মচারীদের উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে। প্রেস ক্লাবের সামনে ১১ দিন ধরে যে আমরণ অনশন চলছে, সেখানে ইতিমধ্যে ১২০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ধর্মঘট চলতে থাকলে আরও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়বেন, সন্দেহ নেই। তাই অবিলম্বে সংকটটির সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, আন্দোলনকারীদের সমস্যাটি মানবিক কারণে সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করুন। পাঁচ লাখ আন্দোলনকারীর জীবন স্বচ্ছন্দময় হয়ে উঠতে পারে। তারা তো ছাত্রছাত্রী পড়াচ্ছেনই। তাদের শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

স্বপ্ন জীবিত রাখুন by নূরে আলম সিদ্দিকী নূর

এই সুন্দর পৃথিবীতে একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল স্বপ্ন দেখা। একবার চিন্তা করে দেখুন, যে মানুষটি আজ বেঁচে আছে সে কোনো না কোনোভাবে একটি বা একাধিক স্বপ্নকে সামনে রেখেই বেঁচে আছে। স্বপ্ন দেখতে হয়। স্বপ্ন দেখাতে হয়। যে স্বপ্ন দেখে না সে মৃত মানুষ! স্বপ্ন পূরণ হয়, যদি কেউ তা হৃদয়ে লালন করে। আর স্বপ্ন তো বড় করেই দেখতে হয়। বড় স্বপ্ন দেখলে ছোট স্বপ্নগুলো এমনিতেই বাস্তবায়ন হয়। মনে করুন, আপনি দিনাজপুর থেকে ঢাকায় যাবেন। যাত্রা শুরু হল, পথে আপনি অনেক কিছুই দেখতে পাবেন। যাত্রাপথে আপনি অনেক উপজেলা, জেলা অতিক্রম করবেন। সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখবেন, অনেক বিচিত্র মানুষ দেখবেন। এভাবে আপনি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও সাভার অতিক্রম করে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছবেন। কিন্তু যদি আপনি বগুড়া পর্যন্ত যেতেন, তাহলে আপনার ঢাকা শহরে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। ঢাকায় আসার কারণে আপনি পথে যা দেখেছেন তা বোনাস পেয়েছেন। বড় স্বপ্ন দেখার মজা এটিই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্বপ্নের কথাগুলো মানুষকে বলতে হয়। এতে লাভ কী? স্বপ্নের কথা মানুষকে বললে তার বাস্তবায়ন সহজ হয়। কিভাবে? আপনি যখন আপনার স্বপ্নের কথা কাউকে বলবেন তখন আপনার জীবনে দুটি ঘটনা ঘটবে। দেখবেন কেউ আপনাকে ও আপনার স্বপ্ন নিয়ে ঠাট্টাতামাশা করছে। তারা আপনাকে বলতে পারে, এটি তোমার দ্বারা সম্ভব নয়!
আবার কেউ আপনার স্বপ্ন পূরণে আপনাকে উৎসাহ দেবে। অন্যের দেয়া উৎসাহ আপনাকে সামনে চলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তখন আপনার স্বপ্ন আপনাকে থামতে দেবে না, বিশ্রাম দেবে না, এমনকি আপনাকে ঘুমাতেও দেবে না। আবার অন্যদিকে, যারা জীবনে কখনও বড় বা সুন্দর স্বপ্ন দেখে না বা কখনও সমাজে কোনো ভালো কাজ করে দেখাতে পারেনি, সমাজে কারও উপকারে আসতে পারেনি, তারা আপনাকে ভয় দেখাবে, নিরুৎসাহিত করবে। অনেক ক্ষেত্রে সমালোচকরা আপনাকে পাগল বলতেও কুণ্ঠাবোধ করবে না। মজার বিষয় হচ্ছে, বড় স্বপ্ন দেখে তা কাউকে বললে স্বপ্ন দেখা মানুষটি সবচেয়ে বেশি নিরুৎসাহিত বা সমালোচনার শিকার হতে পারে তার রক্তের সম্পর্কের প্রিয় মানুষের দ্বারাই! তাহলে উপায়? আপনি যদি সাহসী হন, বিবেকবান হন আর আপনার মনে যদি বড় ও সফল হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় থাকে, আর তা যদি আপনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে এমন কোনো অপশক্তি নেই যা আপনাকে থামাতে পারে। পরীক্ষায় এ-প্লাস পাওয়ার জন্য যেমন এ-প্লাস পাওয়া ছাত্রকে অনুসরণ করতে হয়, তেমনি সফল বা বড় হওয়ার জন্য সফল মানুষকেই অনুসরণ করতে হয়। সফল হওয়ার জন্য আপনার দেখা স্বপ্নটি কখনও চুরি হতে দেবেন না। স্বপ্ন চুরি হলে আপনি নিরুৎসাহিত হবেন। আর স্বপ্ন কিন্তু কাছের মানুষরাই বেশি চুরি করে! তাই সাবধান! স্বপ্নকে হৃদয়ে লালন করুন। আপনার স্বপ্নের গাছটিকে জীবিত রাখুন। আর স্বপ্নের গাছটিকে জীবিত রাখতে তাতে প্রতিদিন নিয়ম মেনে পানি ঢালুন। দেখবেন একসময় আপনার স্বপ্নের গাছে সুন্দর পাতাসহ রঙিন ফুল ফুটবে, তাতে রঙিন প্রজাপতি আসবে। স্বপ্নের গাছে ফল ধরবে আর ফলটি সুমিষ্ট হবে, ঠিক আপনি যেমনটি চেয়েছিলেন।
নূরে আলম সিদ্দিকী নূর : লেখক ও সংগঠক

ইসরাইলে কী ঘটছে by ইয়োসি মেকেলবার্গ

সরকারি দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গত দু’মাস ধরে প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক প্রার্থনার পর হাজার হাজার ইহুদি রাস্তায় নেমে আসছেন। আরও ধনী হওয়ার জন্য নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিকরা সুবিধা নিচ্ছেন। পুলিশের এমন বহু তদন্তের বিষয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এটি একটি বহুবিস্তৃত বিষয় যা রাজনীতিকদের বড় একটি অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে; যার মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কিছু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, নেসেট বা পার্লামেন্ট সদস্য এবং সিটি মেয়ররা পর্যন্ত। এমন কোনো দিন যাচ্ছে না, যেদিন আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো লাভের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের নতুন খবর প্রকাশিত হচ্ছে না। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ব্যাপকতায় যে কোনো ব্যক্তির মনে প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, পুলিশ কি অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করার আদৌ সময় পাচ্ছে? এবং আরও খারাপভাবে দেখলে এমন প্রশ্ন করতে হচ্ছে, এসব খবর ইসরাইলি সমাজ ও এর ভবিষ্যতের বিষয়ে কী প্রকাশ করছে?
দুর্নীতি ও অপশাসন ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকা এবং টিকে থাকাকেই হুমকির মুখে ফেলছে। দেশটির স্বল্প সময়ের ইতিহাসজুড়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি কখনও অপরিচিত কিছু ছিল না। এ ধ্বংসাত্মক অপকর্মটি সাম্প্রতিক সময়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। গত এক দশকে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং অনেক মেয়রকে ঘুষ নেয়ার দায়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সর্বোপরি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে পর্যন্ত ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের আচরণে সাধারণ মানুষ যেভাবে বিরক্তি প্রকাশ করছে, তা যে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, জনগণের প্রতিবাদ মিছিলগুলোই সেটির ব্যাখ্যা করছে। ২০১১ সালের পর এমন জমায়েত আর দেখা যায়নি। ওই বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং যৌক্তিক ভাড়ায় বাসস্থান না পাওয়া, এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। দুর্নীতিসংক্রান্ত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ‘দ্য নেতানিয়াহু পরিবার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ধারাবাহিক টিভি নাটক। খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জড়িয়ে আছেন এমন অন্তত বড় দুটি বিষয় এবং তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলে ঘটা আরও বড় দুটি ঘটনাকে দুর্নীতি-আচরণ হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ। যদিও শক্তিশালী ইঙ্গিত আছে যে, তারা দামি অনেক উপহার ও লাখ লাখ শেকেল (ইসরাইলি মুদ্রা) ব্যয়বহুল সিগারেট, মদ ও অলঙ্কার আকারে দেশে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে এমন বন্ধুদের কাছ থেকে নিচ্ছেন। একজন পত্রিকা প্রকাশককে রাজনৈতিক আনুকূল্যের বিপরীতে অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রস্তাবও অনৈতিক ও অনুপযুক্ত। এটি এমন একজন নেতার দৃষ্টান্ত, যিনি দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় আছেন এবং নিজের ও পরিবারের ভোগবাদী লাইফস্টাইলের সমর্থনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অধিকারের একটি শক্তিশালী বোধের অনুপস্থিতির পাশাপাশি বিচারের যে কোনো ধারণার অনুপস্থিতির ইঙ্গিতই কেবল নয়, আরও বেশি কিছুর লক্ষণ আছে দেশটিতে। যদি জনসমক্ষে এমন আচরণ প্রকাশিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানোর মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেয়া হয়, তিনি কি নিজের সিগারেট ও মদ নিজে কিনতে পারতেন না? কিন্তু এটি কেবল নেতানিয়াহুর বেলায় নয়। তার স্ত্রী সারাও নেতানিয়াহুর জন্য কাজ করে এমন কর্মীদের প্রতি বাজে ব্যবহারের জন্য খবরের শিরোনাম হচ্ছেন প্রতিনিয়ত এবং তাদের বড় ছেলে ইয়াইরের ক্রমবর্ধমান বাজে আচরণও উদ্বেগের কারণ।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা গেছে, নেতানিয়াহুর ছেলে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বিল দেয়ার জন্য তার বন্ধুকে (বড় গ্যাস ব্যবসায়ীর ছেলে) বলছে- এটি তো সামান্য বিনিময়, অথচ গ্যাসের একটি চুক্তি পাইয়ে দিয়ে তার বাবা ওই বন্ধুর বাবাকে বিলিয়ন ডলারের লাভ এনে দিয়েছে। ওই রেকর্ডিংয়ে নারীদের বিষয়ে নেতানিয়াহুর ছেলের মন্তব্য এবং করদাতাদের অর্থব্যয়ে রাতভর তার উল্লাস-ছোটাছুটি ও বডিগার্ড লালন করার বিষয় শুনে রাস্তার বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। মাতাল অবস্থায় সে কী বলেছে- তার বিষয়বস্তু বর্তমানে পুলিশের গভীর তদন্তের বিষয়। জনগণের অর্থের অপব্যবহার ও ঘুষ নেয়া-দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তদন্তকারীদের নিয়মিত তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখাটা জাতীয় বিব্রতকর অবস্থা ও লজ্জাকর বিষয় হয়ে পড়েছে। প্রতিবাদকারীদের কাছে এটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে যে, সরকার পরিচালনায় তার শারীরিক সামর্থ্য আছে কিনা। কেবল প্রধানমন্ত্রীই নয়, তার আশপাশে যারা আছেন তারাও অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এমনকি তার আইনজীবীরা- তাদের বিরুদ্ধেও জার্মানি থেকে ডুবোজাহাজ কেনার একটি চুক্তি থেকে প্রচুর ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৌশলগতভাবে অপ্রয়োজনীয় হওয়ার পরও অনেক অর্থ ব্যয় করে ওই চুক্তির আওতায় আরও ডুবোজাহাজ জার্মানি থেকে কেনে ইসরাইল। এর বাইরে নেসেটে নেতানিয়াহুর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী ও তার ঘনিষ্ঠ ডেভিড বিটানকেও তেলআবিবের রিশন লেটজিওন শহরের ডেপুটি মেয়র থাকাবস্থায় সন্দেহজনক ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিষয়টিকে আরও জটিল করার জন্য জোট সরকারের হুইপের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার আগে বিটান এমন একটি আইন তৈরির জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন, যাতে করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শেষ করার পর কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে সুপারিশ করা থেকে পুলিশকে বিরত রাখা যায়। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা জনগণকে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেনি; বরং কতগুলো ঘটনা যা কিনা মানুষকে অনুধাবন করিয়েছে যে, তাদের রাজনৈতিক পদ্ধতি মূল থেকে পচে গেছে- এটিই তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। যখন কঠোর পরিশ্রমী সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা ও ভাড়া পরিশোধের মতো বিষয় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন সামান্য রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী এলিটরা ব্যতিক্রমীভাবে উচ্চমানের জীবনযাপন করছেন এবং সুবিধাজনকভাবে একে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নেতানিয়াহু তার সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাচ্ছেন কেবল নিজের জানা একটি পদ্ধতির- বিদ্যমান সমস্যাকে অস্বীকার এবং মিডিয়াকে দোষারোপের মাধ্যমে। অধিকন্তু, তিনি বেশি বেশি সময় ব্যয় করছেন বিদেশ সফরের মধ্য দিয়ে। এভাবে রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে পুলিশকে এড়িয়ে চলছেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মরক্ষার জন্য তার শেষ কথা হল- তার সব ত্রুটি সত্ত্বেও ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য তার চেয়ে ভালো কোনো নেতা দেশটিতে নেই। তাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য একটি রাজনৈতিক বিকল্প পাওয়ার এটিই সঠিক সময়।
আরব নিউজ থেকে ভাষান্তর : সাইফুল ইসলাম
ইয়োসি মেকেলবার্গ : লন্ডনের রিজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান প্রোগ্রামের প্রধান

সৌদি আরবে বিনোদন যুগের সূচনা by বিল ল'

গত বছরের অক্টোবরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত প্রথম ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ নামক সম্মেলনে দ্যুতি ছড়ানো আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন হলিউডের সবচেয়ে বড় ট্যালেন্ট এজেন্সিগুলোর একটির সিইও অ্যারি এমানুয়েল। কোনো সন্দেহ নেই, পাঁচ তারকা রিজ কার্লটন হোটেলের বিলাসবহুল বলরুমে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মূল বক্তব্য তিনি উৎসুকভাবে শুনেছেন। কারণ, যুবরাজ সেখানে বিদেশি কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দেয়া সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ, শিকাগোর মেয়র র‌্যাহম এমানুয়েলের ভাই অ্যারির একটি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল ওই সম্মেলনে। সেখানে তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০-এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এবং সৌদি আরবে একটি অর্থনৈতিক বিপ্লবকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিনোদন ও সংস্কৃতি শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল ‘আমি মনে করি আপনারা লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট ও মিউজিক দেখবেন, খাবার উৎসব, ফ্যাশন, আর্ট শো’ ইত্যাদিতে যাবেন এবং তাহলে দেখবেন ভিশন-২০৩০-এর সঙ্গে এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি একটি সম্পর্ক আছে, বিশেষত তারা যা হতে চায় তার সঙ্গে।’ নিজের কোম্পানি উইলিয়াম মরিস এন্ডেভারের জন্য এমানুয়েল অ্যারি যা চেয়েছিলেন, তা হল সৌদি আরবের সম্ভাবনাময় এন্টারটেইনমেন্ট শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে কোম্পানিটি। সর্বোপরি, ইসলামের কট্টর ওয়াহ্হাবি ব্যাখ্যার আওতায় কয়েক দশক ধরে দেশটি এন্টারটেইনমেন্ট-বিনোদনত্যাগী হয়ে পড়েছে। সেখানে কোনো সিনেমা ছিল না, থিয়েটার ছিল না; ছিল না কোনো জনপ্রিয় লাইভ মিউজিক কনসার্ট। কিন্তু এখন মোহাম্মদ বিন সালমান হাল ধরার পর সৌদি আরবে তার মতে ‘মডারেট ইসলাম’ ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেছেন। ফলে ভিত্তি গড়তে যাওয়া বিনোদন শিল্প এখন ভালো ও মনোরম একটি অবস্থানে পৌঁছার হাতছানি দিচ্ছে। দেশটিতে এ শিল্পের বিশাল বাজার সম্ভাবনা রয়েছে- কারণ, সৌদি আরবের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বয়সই ৩০-এর নিচে। যেহেতু ভিশন-২০৩০ গ্রহণ করা হয়েছে- ‘আমরা যথেষ্ট সচেতন যে, বর্তমানে থাকা সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক সুবিধা আমাদের নাগরিক ও বসবাসকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না, এমনকি সেগুলো আমাদের উন্নতির দিকে যাওয়া অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণও নয়’।
অন্যদিকে মোহাম্মদ বিন সালমানও এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন যে, তিনি যদি নিজেকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শীর্ষে রাখতে পারেন, তবে এখান থেকে প্রচুর আয় বের করা যেতে পারে। ভিশন-২০৩০ বলছে, বিনোদন খাত ২২ হাজার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে। আরও প্রলুব্ধ হওয়ার মতো বিষয় হল, এন্টারটেইনমেন্ট ও হলিডে রিসোর্টগুলোয় যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তাতে পর্যটন খাতকে উন্নত করা হচ্ছে, যাতে করে এটি সৌদি আরবে বার্ষিক ৫ কোটি পর্যটক টানতে পারে; এ সংখ্যা বর্তমানে হজে আসে- এমন পর্যটকের সংখ্যা বাদ দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুবরাজ কত বেশি বেপরোয়া, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে অসাধারণ বিবেচিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্মেলন রিটজ কার্লটন হোটেলে শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই। ৪ নভেম্বর হোটেলটির অতিথিদের চলে যেতে বলার পর বিলাসবহুল হোটেলটি ২০০-এর বেশি ব্যবসায়ী ও রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের জন্য কারাগারে পরিণত করা হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের তকমা দিয়ে তেমনটি করা হয়েছিল। দমন-পাকড়াও অভিযানটি পরিচালনা করা হয় দুর্নীতিবিরোধী কমিটির আদেশে, যার প্রধান মোহাম্মদ বিন সালমান। গ্রেফতার শুরু হওয়ার পর রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যাদের আটক করা হয়েছিল তার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ধনী যুবরাজ আল-ওয়ালিদ বিন তালাল, সালেহ আবদুল্লাহ কামাল এবং ওয়ালিদ আল-ইবরাহিমও ছিলেন। বড় ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগের পাশাপাশি এ তিনজনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় কমন- তা হল তারা সবাই বড় ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান বা প্রধান উদ্যোক্তা। বিন তালালের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি হল রোতানা মিডিয়া সার্ভিসেস- যা রেডিও এবং টিভি স্টেশন, ম্যাগাজিন, মিথস্ক্রিয় মিডিয়া এবং মুভি ও মিউজিক ভিডিও সরবরাহের বহুবিদ কাজ করে থাকে। কামালের মিডিয়া হল- এআরটি, আরব রেডিও এবং টিভি স্টেশন, যার আওতায় আছে ওএসএনসহ অনেক চ্যানেল। এ ছাড়া তার কোম্পানি মুভি, মিউজিক ও স্পোর্টসের মতো পারিবারিক এন্টারটেইনমেন্ট সরবরাহ করে থাকে। আল-ইবরাহিম নিয়ন্ত্রণ করেন এমবিসি- মিডলইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার। এ কোম্পানিটি চিলড্রেনস নেটওয়ার্ক, ২৪ ঘণ্টা নিউজ এবং বিশেষায়িত চ্যানেল ‘দ্য নিউ আরব উইমেন’সহ অনেক চ্যানেল পরিচালনা করে থাকে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’র মুখোমুখি করা হবে। প্রকৃতপক্ষে এ সংক্রান্ত যা কিছু সৌদি আরবে ঘটেছে, তা ছিল একটি কম্পন। পরে আটককৃতদের কেবল বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয় এবং অনেকে এ পদ্ধতিতে মুক্তি নেয়। অন্যথায় তাদের ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তৎকালীন সৌদি আরব ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান যুবরাজ মিতেব ও সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর এক ছেলেকে ১০০ কোটি ডলার পরিশোধের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয় বলে খবর বেরিয়েছে। আল-ওয়ালিদ বিল তালাল তার ব্যবসা ছাড়তে রাজি হননি, ফলে তিনি আটক রয়ে গেছেন। ধারণা করা হয়, কামাল ও আল-ইবরাহিমকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রপদ্ধতির অস্পষ্টতার কারণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যক্তিগত স্বার্থ কোথায় শেষ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ শুরু, তা চিহ্নিত করা অসম্ভব। তবে যে বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট, তা হল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) প্রধান, অল-ইনকম্পাসিং কাউন্সিল ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ক্রাউন প্রিন্স, প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও দুর্নীতিবিরোধী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সব অর্থনৈতিক বিষয় বিন সালমানের হাত দিয়েই পাস হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিআইএফ এন্টারটেইনমেন্ট সেক্টরে ২৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়। বর্তমানে এমানুয়েলের কোম্পানি পিআইএফের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে, যেখানে কোম্পানির অংশীদারিত্বের জন্য ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এমানুয়েল অ্যারি চাচ্ছেন দৈবাৎ পাওয়া এ অর্থ দিয়ে কোম্পানিকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে, যাতে এরই মধ্যে কেনা আইএমজি বা আল্টিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের স্পোর্টস গাড়ি, বিপুল স্পোর্টস সরঞ্জাম, ফ্যাশন ও লাইভ ইভেন্ট তৈরি করা যায়। এ ছাড়া তিনি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ অনুন্মোচিত অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিতে চান। বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ অন্য মানুষের সঙ্গে বাইরে যেতে পছন্দ করে’। ‘তারা পছন্দ করে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়, তাই মুভি ও কনসার্ট হতে পারে বড় ভূমিকা পালনকারী আর স্পোর্টস হচ্ছে ভালো অনুঘটক।’ এসব কিন্তু ঢেকে রাখা হয়েছে। মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণাধীন পিআইএফ ফান্ডের সঙ্গে সংযুক্তি অবশ্যই স্বর্গে বিয়ের মতো দেখা যায়; কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এমানুয়েল অ্যারি হয়তো হোটেল রিটজ কার্লটনে গত বছর যা ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিতে পারেন। সন্দেহ নেই, আটককৃতরা দুর্নীতি চর্চায় জড়িত ছিলেন; কিন্তু এটিই হচ্ছে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী সমাজ ও শাসক পরিবারের নিত্যদিনের ঘটনা। একটি সূত্র সম্প্রতি বাঁকা হাসি হেসে আমাকে বলেছে, ‘দেশের সবাই জানে গ্রেফতার করা হয়েছে বাছাইকৃতদের’। যা কিছুই ঘটেছে, আটককৃতদের মানবাধিকার, মুক্ত ও স্বচ্ছ শুনানি পাওয়ার অধিকার পদদলিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। তারা দেশ ছেড়ে যেতে অক্ষম। এমানুয়েল পুরোদস্তুর নিষ্ঠুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত; কিন্তু তিনি সম্ভবত নিজের ভালো মিল বা আরও বেশি খুঁজে পেতে পারেন মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে।
আল-জাজিরা থেকে অনুবাদ: সাইফুল ইসলম
বিল ল’: মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও বিবিসির সাবেক সাংবাদিক

পদ্মা-মেঘনা বহুমুখী সেতু হলে কমবে উন্নয়ন বৈষম্য by এম এ শাহেন শাহ

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। এ সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এরপরও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা। পরবর্তী সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এ সেতু নির্মাণের আগেই এর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করা অপরিহার্য। গুলিস্তান থেকে মাওয়া অর্থাৎ পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার, অন্যদিকে গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়ার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। একই সময়ে গুলিস্তান থেকে দুটি গাড়ি, প্রথমটি মাওয়ার পথে এবং দ্বিতীয়টি পাটুরিয়ার পথে যাত্রা শুরু করলে দ্বিতীয়টি পাটুরিয়া পৌঁছার আগেই প্রথমটি মাওয়া-জাজিরা পদ্মা সেতু দিয়ে ফরিদপুর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনোক্রমেই তা অগ্রাধিকার পেতে পারে না। পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা-মাওয়ার পথে চলাচলকারী যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত হবে ঢাকা-পাটুরিয়ার পথে চলাচলরত যানবাহন। এর সঙ্গে যখন বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে আগত ২১ জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করবে তখন সেতুর ওপর পড়বে অস্বাভাবিক চাপ। সেতুর উভয় প্রান্তেই সৃষ্টি হবে যানবাহনের অকল্পনীয় জট।
এ অবস্থায় পদ্মা সেতুর স্থায়িত্বের ওপর পড়বে নেতিবাচক প্রভাব। কারণ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মিত মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দুটির প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে উদ্বোধনের মাত্র ২৫ বছরের মধ্যেই সেতু দুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেতু দুটির পাশে আরও দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে একই স্থানে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সেতু নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এতে দেশের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দে ঘাটতি দেখা দেবে। বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের জনবহুল রাষ্ট্র। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ-পাতাল অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য বিদ্যমান। শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে এখনও বিরাজ করছে ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেজ। এ অসম ও বৈষম্যমূলক উন্নয়নকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করা যায়। চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এ ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের পশ্চিম পাকিস্তান, অন্যদিকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৬ বছরে এ বৈষম্য হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির মূল চেতনারও পরিপন্থী। সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগই ব্যয় হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থায়ী বঞ্চনা দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইলা, সিডর, নদীভাঙন, ফসলের জমিতে লবণাক্ততা ইত্যাদি। বিগত চার দশকে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন হলেও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই আছে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে হয় ঢাকা হয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের দূরত্ব, গমনকাল ও পরিবহন ব্যয় চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর হয়ে যাতায়াতের দূরত্ব, গমনকাল ও পরিবহন ব্যয়ের দ্বিগুণ। তাছাড়া ঢাকা হয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি যানবাহনকে তিনটি সেতু ও একটি ফেরিতে টোল দিতে হয়। অন্যদিকে চাঁদপুর হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শুধু একটি ফেরিতে টোল দিতে হয়। এ যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে ২০০১ সালে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর হয়ে চালু করা হয় চট্টগ্রাম-খুলনা মহাসড়ক। এ মহাসড়কটি দেশের ৩৬টি জেলার মধ্যে যাতায়াতের হ্রস্বতম দূরত্বের পথ। দেশের অন্য কোনো সড়ক-মহাসড়ক এত অধিকসংখ্যক জেলাকে যুক্ত করেনি। চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে সেতু না থাকায় এ মহাসড়কের কার্যকারিতা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছেনি। এ কারণে দেশের শীর্ষ পাঁচটি মহাসড়কের অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এ সড়কপথে অদ্যাবধি কোনো মানসম্পন্ন বাস সার্ভিস চালু হয়নি। আঞ্চলিক বৈষম্য লালনকারী অশুভ চক্র জ্বালানিসাশ্রয়ী জনপ্রিয় এ রুটকে অকার্যকর রাখতে এখনও প্রবলভাবে সক্রিয়। বর্তমানে হরিণা ফেরিঘাটের পাশ দিয়ে বহমান পদ্মা-মেঘনার মূল স্রোতধারা প্রায় ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত। এর পশ্চিম দিকে ২ কিলোমিটার বিস্তৃত বিশাল চর, চরের শেষ প্রান্তে ২০০ মিটার প্রস্থের একটি ক্ষীণধারা প্রবাহিত। এর পরই শুরু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূভাগ। অর্থাৎ প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে অনধিক ৬ কিলোমিটার।
এর মধ্যে মূল নদীর ওপর থাকবে ৩ কিলোমিটার। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের দিনে এ সেতু নির্মাণের বাস্তবতা প্রশ্নাতীত। কারণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ২০-৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে অনেক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকটি সেতু আছে নির্মাণাধীন। সেতুগুলোর কোনোটি আবার সাগর-উপসাগরের উপর অবস্থিত। সম্প্রতি আসামে উদ্বোধন করা হয়েছে ৯.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ভূপেন হাজারিকা সেতু, যা উপমহাদেশের দীর্ঘতম। পদ্মা-মেঘনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করা হলে নদীর উভয় তীরে গড়ে উঠবে সিমেন্ট, সার, ইস্পাত কারখানা, গার্মেন্ট ভিলেজ, ইপিজেড, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র। খুলে যাবে নদীভাঙন কবলিত হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের দ্বার। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য হ্রাস পাবে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। যোগাযোগব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণে পদ্মা সেতুর পরিপূরক হবে পদ্মা-মেঘনা বহুমুখী সেতু। রাষ্ট্রের যোগাযোগব্যবস্থাও পূর্ণতা পাবে। সেতুটি নির্মাণের পক্ষে অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উদীয়মান রাষ্ট্র। প্রতি বছরই বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ অব্যহৃত থাকে। তাছাড়া দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে লাখ লাখ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। এর কিয়দংশ ব্যয়েই পদ্মা-মেঘনা সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হতে পারে। কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে হতাশ ও অনুতপ্ত। পদ্মা-মেঘনা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক অথবা নবগঠিত ব্রিকস ব্যাংক যুক্ত হতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রপাতির অনেকটাই ব্যবহার করা যাবে পদ্মা-মেঘনা বহুমুখী সেতু নির্মাণে। এম এ শাহেনশাহ : সহযোগী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মহাসচিব, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম

জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার

এ বছরটা আমার জন্য খুব ভালো একটা সংবাদ দিয়ে শুরু হয়েছে। বছরের শুরুতেই জানতে পেরেছি, এ বছর থেকে ছেলেমেয়েদের আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না। সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে যেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে কী ভাষায় কৃতজ্ঞতা জানাব বুঝতে পারছি না, তিনি যদি এ ব্যাপারটি নিয়ে আগ্রহ না দেখাতেন, এ দেশে সেটি কখনও ঘটত বলে মনে হয় না। আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে একেবারে গোড়া থেকে জড়িত ছিলাম। কয়েক বছর যাওয়ার পর যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে লাগল তখন থেকেই আমি টের পেতে শুরু করলাম যে এই ভর্তি পরীক্ষার চেয়ে অমানবিক বিষয় আর কিছু হতে পারে না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ছেলেমেয়েরা সারারাত বাসে বসে অন্য আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসে, তাদের একটা বাথরুমে পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকে না। না ঘুমিয়ে, না খেয়ে, বিশ্রাম না নিয়ে তারা কী ভর্তি পরীক্ষা দেয় আমি জানি না। এক বছর ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে বাস থেকে নামার সময় অন্য একটি বাসচাপায় একটা ছেলে মারা গেল, আমার মনে হচ্ছিল এই ছেলেটির মৃত্যুর জন্য কোনো না কোনোভাবে নিশ্চয়ই আমরাই দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সিটের জন্য দেশের ছেলেমেয়েরা পাগলের মতো চেষ্টা করে। যে ছেলে বা মেয়ে যত বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে, কোনো একটি পাবলিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তার তত বেশি বেড়ে যায়। ভর্তি পরীক্ষা দিতে অনেক টাকার দরকার। শুধু যে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য টাকা দিতে হয় তা নয়, পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অভিভাবকদের সঙ্গে যেতে হয়, গাড়ি ভাড়া-ট্রেন ভাড়া দিতে হয়। হোটেল ভাড়া করে সেখানে থাকতে হয়, খেতে হয়। এতগুলো টাকা খরচ করার ক্ষমতা সবার থাকে না। তাই ঘুরেফিরে বড়লোকের ছেলেমেয়েরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে। গরিবের ছেলেমেয়েরা শুধু বাড়ির কাছের একটি-দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারলেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করে। তাই ভর্তি পরীক্ষা শেষে দেখা যেত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়লোকের ছেলেমেয়েরা ভর্তি হয়েছে, এই কলুষিত সিস্টেমে গরিবের ছেলেমেয়েরা ছিটকে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেয়েদের।
বাবা-মা অনেক সময় ছেলেদের দেশের নানা জায়গায় একা একা পরীক্ষা দিতে দিয়েছেন, মেয়েদের সেভাবে যেতে দিতে সাহস পাননি। তাই মেয়েরা তুলনামূলকভাবে কম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগও পেয়েছে কম। শুধু যে পরীক্ষা দেয়ার খরচ তা নয়, দেশে এখন ভর্তি কোচিং নামে বিশাল একটা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। যদি কেউ স্কুল-কলেজে লেখাপড়া না করে শুধু ভর্তি কোচিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যেতে পারে তাহলে বুঝতে হবে আমাদের সিস্টেমে একটা বিশাল গলদ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হচ্ছে ভালো ছেলেমেয়েদের বেছে নেয়া, যদি কোচিং সেন্টারগুলো তাদের ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গছিয়ে দিতে পারে তাহলে আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ আছে। এই ভর্তি কোচিংয়ে যে সত্যি সত্যি কোনো লাভ হয় তার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমার কাছে বরং উল্টো প্রমাণ আছে- যেখানে একজন শুধু আমার মুখের কথাকে বিশ্বাস করে নিজে নিজে পড়াশোনা করে ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ ভালো করেছে। কিন্তু এ কথা ক’জন বিশ্বাস করবে? পথেঘাটে পর্যন্ত পোস্টার লাগানো থাকে, যেখানে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করা ছেলেমেয়েদের ছবি দিয়ে কোচিং সেন্টার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।আজ থেকে ছয়-সাত বছর আগে আরও একবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তখন ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্ত ভাইস চ্যান্সেলরদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ছিলেন। মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের সামনে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায় তার ওপর একটি বক্তব্য দিতে। আমি নেহায়েত বোকাসোকা মানুষ বলে সেখানে বক্তব্য দিতে রাজি হয়েছিলাম। বক্তব্য দেয়ার সময় দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভাইস চ্যান্সেলররা অল্প সময়ের জন্য এসে চেহারা দেখিয়ে চলে গেলেন এবং যাওয়ার আগে বলে গেলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যথেষ্ট ভালোভাবে চলছে, সেটা পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন কিংবা সুযোগ নেই! কিছু ভাইস চ্যান্সেলর বললেন, তাদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পরীক্ষা নেয়া হলে তাদের মান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমি ভেবেছিলাম সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষকদের যে একটা বাড়তি উপার্জন কমে যাবে সেই কথাটি হয়তো অন্তত ভদ্রতা করে কেউ মুখ ফুটে বলবে না। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সেটা বলেই ফেললেন! তিনি জানালেন, ভাইস চ্যান্সেলর হয়ে তিনি যদি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে রাজি হয়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান, তাহলে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবেন না! অর্থলোভের এরকম সহজ-সরল স্বীকারোক্তি আমি এর আগে আর কারও মুখে শুনিনি।
আমি তখনই বুঝেছিলাম, এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কখনোই নিজের উৎসাহে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসবেন না। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু করার একটিমাত্র উপায়, সেটি হচ্ছে তাদের জোর করে রাজি করানো! বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত, তাই তাদের জোর করে রাজি করানোর কাজটি সহজ নয়! সেটি করতে হবে অনেক উপরের মহল থেকে চাপ দিয়ে। আমার ধারণাটি ভুল ছিল না, শুধু মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিষয়টি উত্থাপন করার পরই প্রথমবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রথমবার মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাটুকুর প্রতি সম্মান পর্যন্ত দেখায়নি। এ বছর প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে, আমি এখনও নিঃশ্বাস বন্ধ করে আছি, যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যি সত্যি বিষয়টি না ঘটবে, আমি নিশ্চিত হতে পারব না।আমার আশঙ্কাটুকু মোটেও অমূলক নয়। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আলোচনাটি শুরু হওয়ার পর নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কিছু কথা আমার কানে আসছে। বক্তব্যগুলো এরকম : ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা কি মুখের কথা? বললেই হল?’ কিংবা ‘এটা কোনোদিন কাজ করবে না! নেভার।’ কিংবা, ‘মেডিকেল নিচ্ছে বলেই আমাদের নিতে হবে কে বলেছে? মেডিকেল আর আমরা কি এক জিনিস?’ ইত্যাদি ইত্যাদি! আমি আশা ছাড়তে রাজি নই। আমি জানি প্রক্রিয়াটাকে নানাভাবে বাধা দেয়া হবে- অর্থলোভ খুবই ভয়ংকর। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন খুব কম ছিল- মনে আছে একজন লেকচারারের বেতন কত কম সেটা একবার একটা কলামে লিখে ফেলেছিলাম। পরদিন আমার সহকর্মী লেকচারার মাথায় থাবা দিতে দিতে আমার সঙ্গে দেখা করে বলেছিল, ‘স্যার আপনি করেছেন কী? আমার বিয়ের কথা হচ্ছিল, বিয়েটা ভেঙে গেছে!’ যা হোক, সেগুলো অতীতের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন এখন অনেক বেড়েছে, শুধু টাকার লোভের জন্য এখন এ দেশের ছেলেমেয়েদের প্রতি নিষ্ঠুরতা করে যাবে আমি সেটি বিশ্বাস করি না! আমি আশা করে আছি, এরপরের ভর্তি পরীক্ষাটি হবে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা! বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের আর কখনও অতীতের নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হবে না।
২.সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যখনই আলোচনা হয় তখন আমি ‘গুচ্ছপদ্ধতি’ নিয়ে একটা কথা শুনি এবং যখনই এই কথাটি শুনতে পাই তখনই আমি একটা ধাক্কা খাই। আমার মনে হয়, যে ‘গুচ্ছপদ্ধতি’ শব্দটি ব্যবহার করে সে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি ধরতে পারিনি। ‘গুচ্ছ’ শব্দটির অর্থ একধরনের অনেক বিষয়ের সমাহার। ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সময় সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি গুচ্ছ, সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি গুচ্ছ, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে আরেকটি গুচ্ছ- এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেশ কয়েকটি গুচ্ছে ভাগ করা যেতে পারে। তারপর একেকটা গুচ্ছের জন্য একেকটা ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে এবং সেটা হচ্ছে গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা। কিন্তু যে বিষয়টা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না সেটা হচ্ছে, যে ছেলেমেয়েগুলো ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা কেউ কৃষিবিদ হয়ে যায়নি কিংবা প্রকৌশলী হয়ে যায়নি, কাজেই এখনও তারা নির্দিষ্ট কোনো গুচ্ছের অংশ হয়ে যায়নি! আমরা যদি তাদের একটা পরীক্ষা নিতে চাই তাহলে মোটেও তাদের কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের পরীক্ষা নিই না। কিংবা কৃষিবিষয়ক পরীক্ষা নিই না! তারা সেই বিষয়গুলো এখনও জানে না, এখনও সেগুলো পড়েনি, আমরা তার পরীক্ষা নেব কেমন করে? তারা এইচএসসিতে যে বিষয়গুলো নিয়ে লেখাপড়া করেছে, আমরা শুধু সেই বিষয়গুলোরই পরীক্ষা নিতে পারি! সত্যি কথা বলতে কী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আসলে একটা মিনি এইচএসসি পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়! সত্যিকারের এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে এর সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, এই পরীক্ষার প্রশ্নগুলো করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলেমেয়েদের যে বুদ্ধিমত্তাকে যাচাই করা সম্ভব হয় না, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় চেষ্টা করা হয় সেই বুদ্ধিমত্তাকে যাচাই করার! কাজেই আমি মনে করি, যখন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে তখন যেন ছেলেমেয়েদের আগেই গুচ্ছ গুচ্ছ হিসেবে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করা না হয়। ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে তার এইচএসসির বিষয়গুলোর ওপর। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গুচ্ছ বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করতে চায়, তারা সেই নম্বরগুলো বিবেচনা করতে পারবে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে এ দেশের একটা অনেক বড় অভিশাপকে চিরদিনের মতো দূর করে দেয়া সম্ভব হবে। সেই অভিশাপটি হচ্ছে ভর্তি কোচিং। আমি আশা করে আছি, যারা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব নেবেন, তারা যেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষাটি নেন এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তখন ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষাটি সবচেয়ে ভালোভাবে দিতে পারবে। সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কারণে বিষয়বস্তুটা তাদের খুব ভালোভাবে মনে থাকবে, ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তাদের কোনো কোচিং সেন্টারে টাকা ঢালতে হবে না। যখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতে রাজি হবে না তখন যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, দুটি বিশ্ববিদ্যালয় মিলেই একটা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হোক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রাজি হয়েছিল এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সিলেটে এই অতি চমৎকার উদ্যোগটির বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করে দিল এবং শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি আর সফল হতে পারল না। তবে আমরা যেহেতু সেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি বিবেচনা করে কাজ শুরু করেছিলাম, তাই অনেক বিষয় আমরা তখনই সমাধান করেছিলাম, যেগুলো জানা থাকলে ভালো।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এরকম :
ক. ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির জন্য আবেদন করার সময়েই জানিয়ে দিত তারা যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নাকি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নাকি দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই বিবেচিত হতে চায়। কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করছে তার ওপর নির্ভর করে ফি নির্ধারণ করা হতো (আমি আগেই এটা বলছি, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন খানিকটা আশ্বস্ত হয় যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলেও তাদের অর্থ উপার্জনের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না!)।
খ. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির নিজস্ব নিয়মকানুন থাকে। পাবলিক পরীক্ষার নম্বর কত শতাংশ নেয়া হবে, কোন বিভাগে ভর্তি করার জন্য কোন কোন বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সোজা কথায় বলা যায়, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলেও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির নিয়মে তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবে। তারা শুধু সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার নম্বরটি নেবেন, বাকি সব আগের মতোই থাকবে।
গ. রেজিস্ট্রেশন করার সময় পরীক্ষার্থী ছেলেমেয়েরা জানিয়ে দিত তারা কোন সেন্টারে পরীক্ষা দিতে চায়। আমাদের বেলায় উত্তরবঙ্গের ছেলেমেয়েরা যশোর সেন্টারে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী ছিল, অন্যেরা সিলেটে। যদি বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করে, তাহলে সারা দেশে ত্রিশটির থেকেও বেশি সেন্টার থাকবে এবং কোনো সেন্টারেই বাড়াবাড়ি পরীক্ষার্থী থাকবে না, পরীক্ষা নেয়ার কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। ছাত্রছাত্রীরাও নিজের বাড়ির কাছে একটি সেন্টারে পরীক্ষা দিতে পারবে। কষ্ট করে দূরে কোথাও যেতে হবে না।প্রথম যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তখন বিষয়টা সবাই ভালো করে বুঝতে পার েনি। অনেকেই ধরে নিয়েছিল এটি শুধু একটি মুখের কথা। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক কাজ হয়েছে। একসময় যেটি কল্পনাও করা যেত না এখন সেটি শুধু যে কল্পনা করা যাচ্ছে তা নয়, সেটি বাস্তবায়ন পর্যন্ত করা যাচ্ছে। কাজেই যারা ভবিষ্যতের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নিচ্ছেন, তারা যদি সময়মতো পরিকল্পনা করে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেন, তাহলে শুধু যে চমৎকারভাবে একটা পরীক্ষা নিতে পারবেন তা নয়, পরীক্ষার পর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করানো থেকে শুরু করে ভর্তি-পরবর্তী কাজগুলোও করে দিতে পারবেন। আমি এখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে আছি দেখার জন্য- সত্যি সত্যি আমরা আমাদের ছেলেমেয়ের হাতে তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহারটি তুলে দিতে পারি কিনা!
মুহম্মদ জাফর ইকবাল : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; লেখক

বিএসএফ সদস্যকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের এক সদস্যকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তারই বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি। উত্তরবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিএসএফ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অরবিন্দ কুমারের (২৫) বাড়ি উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায়। কিছুদিন থেকে দিনহাটার সাহেবগঞ্জ এলাকার দুর্গানগর সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে সীমান্তের গরু পাচারকারীরা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কিছু বলা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, ওই এলাকার বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। কিছু এলাকা নদী দিয়ে দুভাগ করেছে দুদেশকে। এসব এলাকা দিয়ে অবাধে চলে গরু পাচার। বছরের পর বছর ধরে এ কাজ চলছে। যারা করছে তারা বেশ প্রভাবশালী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুমাসে অন্তত ৬০০ গরু ধরা পড়েছে। তারা সতর্ক। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এত কিছুর পরেও একজন সদস্যকে কীভাবে হত্যা করা হলো। নাকি ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? কুচবিহার পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে।

চাপের মুখে অর্থনীতি

আগাম ও মৌসুমি বন্যা, ঘাটতি মেটাতে ৫৭ লাখ টন চাল আমদানি এবং প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ- এ তিন কারণে চাপের মুখে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। গত ছয় মাসে ঘটেছে এসব ঘটনা। এতে চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে সরকারি ব্যয়। আর এ ব্যয়ের হিসাবকে আসন্ন সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে বেশকিছু জরুরি বরাদ্দ। সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগাম ও মৌসুমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বোরো। সেই সঙ্গে প্রত্যাশিত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমন উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে গত ছয় মাসে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি করা হয়েছে ৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকার চাল। অন্যদিকে বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার অবকাঠামো। এদিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে ২ হাজার ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
এর মধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের অর্থ চলতি বাজেট থেকেই ছাড় হচ্ছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এ খাতে আরও ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা মূল্যের বনের কাঠ পুড়ে নষ্ট করেছে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। ভারপ্রাপ্ত অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বন্যায় বেশকিছু মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বাজেটের বরাদ্দ থেকে ব্যয় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এগুলো পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় করা হবে। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক ব্যয় হয়নি। তবে দীর্ঘ মেয়াদের প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়লে বড় ধরনের ব্যয়ের পরিকল্পনা করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যয় নিয়ে একটি হিসাব তৈরি করেছেন। সেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে। এতে সর্বনিন্ম ৩৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হবে। তবে ব্যয় কমবেশি নির্ভর করবে পাঠানোর প্রক্রিয়ার ওপর। এই ব্যয়ভার দাতা সংস্থা বহন না করলে ভবিষ্যতে সরকারের ওপরেই বর্তাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিপিডি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বন্যায় ক্ষতি এবং মোকাবেলায় চাল আমদানিতে সরকারের বেশি ব্যয় হচ্ছে। চাল আমদানি ব্যয় প্রসঙ্গে সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। ফলে সার্বিকভাবে সরকার আমদানি নির্ভরতা হয়ে উঠেছে।
খাদ্য আমদানির জন্য চলতি বাজেটে নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ ৭০০ থেকে ১১০০ কোটি টাকা হতে পারে। আরও জানা গেছে, আগাম ও মৌসুমি বন্যার কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ক্ষতি হয়। সিপিডির গবেষণায় এর আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মৌসুমি বন্যার কারণে আমনের ক্ষতি হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। এতে খাদ্য ঘাটতির সৃষ্টি হয়। তা মোকাবেলায় চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫৭ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট সূত্রমতে, সরকারিভাবে খাদ্য আমদানি হয় প্রায় ৮ লাখ টন। যার প্রায় ৫ লাখ টন চাল এবং পৌনে তিন লাখ টন গম। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ৪৯ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ সাড়ে ১৭ লাখ টন এবং গম ৩২ লাখ টন। এই চাল আমদানি করতে গত ছয় মাসে ৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা এলসি খাতে ব্যয় হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৬ কোটি টাকা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধানের ক্ষতি ছাড়াও বন্যায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলে ৫৭ লাখের বেশি মানুষসহ রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও নির্মাণের জন্য এই টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হয়েছে। এই আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৮৬৯টি স্থানে প্রায় ৭৯৩ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পরিমাণ ৪৮৭ কিলোমিটার ও নদীর পাড়ের পরিমাণ ৩০৫ কিলোমিটার। যার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ১২০৫ কোটি টাকা। বন্যায় গৃহহীন হয়েছে ১৮ হাজার ৭৫৩ পরিবার।
এদের পুনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা। বন্যাকালীন এসব স্থানে দ্রুত এবং জরুরি সংস্কার ও মেরামতের জন্য ব্যয়ের হিসাব করা হয় ১৭৩ কোটি টাকা। সেচ, হাওর ও অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যয় ধরা হয় ১৪৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ক্যারিডওভার কাজের চাহিদা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা। যদিও একই কাজ বাবদ গত জুন পর্যন্ত সম্পাদিত কাজের বিপরীতে বকেয়া আছে ২০২ কোটি টাকা। এ ছাড়া অর্থনীতির ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করেছে রোহিঙ্গা সংকট। গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ জন রোহিঙ্গা দেশে প্রবেশ করেছে। অপ্রত্যাশিতভাবে রোহিঙ্গা প্রবেশ করার কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে প্রতিদিন ৮শ’ টন কাঠ জ্বালানো হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয়। রান্নাবান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪শ’ কোটি টাকার বনের কাঠ পোড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৪০ একর বনভূমি নষ্ট হয়েছে। তবে বেসরকারি সংস্থা সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে এ পর্যন্ত ৭৪১ কোটি টাকার বনের কাঠ পোড়ানো হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক হিসাবে বলা হয়েছে, এভাবে কাঠ পোড়ানো অব্যাহত থাকলে এক বছরে ৩ লাখ টন বনের কাঠ উজাড় হয়ে যাবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়ভাবে (কক্সবাজার) শ্রম মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজারের কুতুপালং, উখিয়াসহ স্থানীয় অঞ্চলে শ্রমজীবীদের দিনব্যাপী কাজের বিনিময়ে মজুরি ছিল দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা। কিন্তু এ মুহূর্তে সেটি নেমে এসেছে ১৫০-২০০ টাকায়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে সিপিডি একটি গবেষণা করেছে। সেখানে দেখানো হয়, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ জন রোহিঙ্গা ফেরত দেয়া হলে এ কার্যক্রম শেষ হতে কমপক্ষে ৭ বছর লাগবে। এতে ব্যয় হবে ৩৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এই সাত বছরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি হবে। এতে আর্থিক ব্যয় আরও বাড়বে। জনসংখ্যা ও মূল্যস্ফীতির হিসাব ধরে এ ব্যয় দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। সিপিডির গবেষণায় আরও বলা হয়, যদি দিনে ২০০ জন রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যয় দাঁড়াবে ৮৫ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা এবং সময়ের প্রয়োজন হবে ১২ বছর। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী গত ২৩ নভেম্বর থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু অদ্যাবধি শুরু হয়নি এ কার্যক্রম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, বন্যায় দেশব্যাপী অবকাঠামো ভালোই ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব এখনও কাটেনি। কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। বড় ক্ষতির কারণে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এত চাল আমদানির পরও এখনও মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য সূচকে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে। এতে চলতি হিসাবের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও চাপ বাড়বে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। তিনি আরও বলেন, সাত লাখ রোহিঙ্গা অর্থনীতির ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যে সংখ্যক রোহিঙ্গা নেবে, কত বছরের শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না। ফলে বন্যার আঘাত, বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি এবং রোহিঙ্গা সংকট- সবকিছুই অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বেশি। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে সরকারকে।

মলদ্বারে ব্যথা ও এনাল ফিশারের চিকিৎসা

মলদ্বারের ব্যথায় অনেকেই ভুগে থাকেন। ফিশার মানে মলদ্বারে ঘা অথবা ফেটে যাওয়া। এটি দুই ধরনের হয়। তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে অসম্ভব ব্যথা হয়। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারে ব্যথার তারতম্য হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে।
কারণ এবং কীভাবে ঘটে : এটি হওয়ার জন্য দায়ী সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা মলত্যাগের সময় কোত দেয়া। এ ছাড়া শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বার ফেটে যায় বলে মনে করা হয়। যারা আঁশযুক্ত খাবার খান তাদের এ সমস্যাটি কম হয় বলে মনে করা হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল, আলু, ছোলা, ইসবগুলের ভূসি ইত্যাদি। চা-কফি বা মদ খাওয়ার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হলে ফিশার হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা মলদ্বারের ভেতরের চাপ মেপে দেখেছেন। ফিশারে চাপ তেমন একটা বাড়ে না যদিও আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে মলদ্বার অতিরিক্ত সংকুচিত বলে মনে হয়।
উপসর্গ : মলদ্বারে ফিশারের প্রধান লক্ষণ ব্যথা ও রক্তক্ষরণ। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত মলত্যাগের অব্যবহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে বহু ঘণ্টা ধরে ব্যথা চলতে পারে। ‘প্রকটালজিয়া ফুগাক্স’ নামক এক ধরনের রোগেও মলদ্বারে ব্যথা হয়, কিন্তু সে ব্যথা মলত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না। রক্তজমাট বাধা পাইলসেও ব্যথা হয়, কিন্তু তখন রোগী মলদ্বারে চাকা আছে বলে অভিযোগ করে। এই রোগে রক্তক্ষরণের পরিমাণ সাধারণত কম। কারও কারও অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) এনাল ফিশারের রোগী একটু ভিন্ন ধরনের উপসর্গের কথা বলে। তারা কখনও কখনও তাদের মলদ্বারে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড, পুঁজ পড়া, চুলকানি অথবা এসব একত্রে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। ব্যথা সাধারণত তীব্র হয় না অথবা অনেক সময় ব্যথা থাকেই না। ফিশারের রোগীরা অনেক সময় প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন এবং মহিলারা কখনও কখনও শারীরিক মিলনে বেদনা অনুভব করেন; যদিও রোগীরা বুঝতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেই এমন হয়েছে তবুও যখন ব্যথা শুরু হয় তখন রোগী ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না এবং মলত্যাগের বেগ হলে তাতে ব্যথার ভয়ে সাড়া দিতে চান না।
তীব্র ব্যথা সম্পন্ন ঘা (একিউট ফিশার) : এ সময় মলদ্বার পরীক্ষা করলে দেখা যায় সেটা খুবই সঙ্কুচিত অবস্থায় আছে। তীব্র ব্যথার কারণে মলদ্বারের ভেতরের ঘা-টি দেখা দুঃসাধ্য। কোনো যন্ত্রও প্রবেশ করানো যায় না। অবশ্য সরু যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা যায়।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সম্পন্ন ঘা (ক্রনিক ফিশার) : এ ক্ষেত্রে একটি মাংসপিণ্ড বা ‘গেজ’ দেখা যায়। মলদ্বারের ভেতরেও একটি মাংসপিণ্ড (ঐুঢ়বৎঃৎড়ঢ়যরবফ ধহধষ ঢ়ধঢ়রষষধ) দেখা যেতে পারে যাকে অনেকে টিউমার বলে ভুল করে। এ ক্ষেত্রে পায়ুপথের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত যাতে টিউমার বা প্রদাহজনিত কারণ চিহ্নিত করা যায়। এ ফিশার সংক্রমিত হয়ে কখনও কখনও ফোঁড়া দেখা দিতে পারে এবং তা থেকে ফিস্টুলা (ভগন্দর) হয়ে পুঁজ পড়তে পারে।
প্রতিরোধ : কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেশি শক্তি প্রয়োগ করে মলত্যাগ করা উচিত নয়। বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ডায়রিয়ায় দ্রুত চিকিৎসা করা উচিত।
চিকিৎসা : একিউট ফিশার শুরুর অল্পদিনের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু হলে বিনা অপারেশনে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সিজ বাথ নিলে উপকার হয়। এটির নিয়ম হচ্ছে আধ গামলা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানির মধ্যে নিতন্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হয়। স্থানিক অবশকারী মলম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এতে যদি পুরোপুরি না সারে এবং রোগটি যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে অপারেশন ছাড়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে।
সার্জিক্যাল চিকিৎসা : মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা (এনাল ডাইলেটেশন)-এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশির ভাগ সার্জন এটির বিপক্ষে। এ পদ্ধতির জন্য কোনো কোনো রোগীর মল আটকে রাখার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
মলদ্বারের স্ফিংটারে অপারেশন : এই অপারেশনে মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ স্ফিংটার মাংশপেশিতে একটি সূক্ষ্ম অপারেশন করতে হয়। অজ্ঞান করার প্রয়োজন নেই। দুই দিনের মধ্যেই রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। অপারেশনের তিনদিন পর স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন।
লেখক : বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ

ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন নয়!

আমরা প্রতিটি মানুষই জীবনে কোনো না কোনো ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকি। সাময়িকভাবে ব্যথানাশক ওষুধ তেমন ক্ষতিকর না হলেও দীর্ঘদিন এটি সেবনে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে চলেছে। তা ছাড়া যারা বিভিন্ন আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগে অথবা ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয়রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এনকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পনডাইলোসিস, ইত্যাদি রোগে ভুগছেন, তাদের নিয়মিতই কোনো না কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়, না খেলে ব্যথার তীব্রতা সহ্য করতে পারেন না| কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেলে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গ যেমন- কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ইত্যাদির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে; এমনকি বিকলও হয়ে যেতে পারে। ফলে রোগীর বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন– তীব্র পেটব্যথা,
পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তবমি হওয়া, রোগীর পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের নিচে পানি জমা, প্রসাব কম হওয়া বা প্রসাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসআইডিজনিত আলসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, যা এখনই প্রতিরোধ না করলে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। তাই যারা বিভিন্ন রকম ব্যথা-বেদনা বা আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগে ভুগছেন, যেমন- হাঁটু, ঘাড়, কোমর ও কাঁধে ব্যথায় আক্রান্ত, তারা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবেন। একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয় করেন। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন। এর মধ্যে হাইড্রোথেরাপি, মেনুয়াল থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি ও থেরাপিউটিক ব্যায়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর ব্যথা কমে আসে, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির নড়াচড়া সহজ হয়, মাংশপেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে ও রোগী স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে। অতএব ব্যথার ওষুধ পরিহার করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, তা হলে ব্যথার ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল,ধানমণ্ডি, ঢাকা।

বইমেলায় খণ্ডকালীন চাকরি



অমর একুশে বই মেলা আসন্ন। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় ঢাকা বাঙালির প্রাণের এ মেলা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো। বরাবরের মতো এবারও মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি। মেলা উপলক্ষে দেশি-বিদেশি প্রচুর পাঠক ছুটে আসেন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। তারা পছন্দের বই কিনেন।
পাঠকদের চাহিদামাফিক বই সরবরাহ করতে প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হয়। নিয়মিত ও স্থায়ী কর্মীদে র দিয়ে এ সময় বেচাবিক্রি সামাল দেয়া সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় একঝাঁক চৌকস খণ্ডকালীন কর্মীর। তাই প্রতি বছর বিভিন্ন স্টলে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মেলা উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে শুরু করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ-প্রক্রিয়া। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো সিভি সংগ্রহ করা শুরু করেছে। বেশিরভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে লোক নিয়ে থাকে। আবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বই মেলায় যারা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করতে চান, তাদের জন্য আবেদন করার এখনই সময়।
সুযোগ অপেক্ষা করছে আপনার জন্যও : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর মেলায় সাড়ে তিনশ’ থেকে ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে থাকে। গেল বছরের বইমেলায় চার শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল ছিল। এ বছর স্টলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে। আশার বিষয় হচ্ছে, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টলের সংখ্যা বাড়লে বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজের অনেক সুযোগও তৈরি হবে তরুণদের।‘নতুন নতুন বই সম্পর্কে জানা, লেখক-পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, আর মাস শেষে কিছু সম্মানী তো আছেই। সব মিলিয়ে বইমেলায় কাজ করাটা সত্যিই অনেক আনন্দের।’ বইমেলায় খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাওজিয়া মাহরিন। তিনি তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। আপনিও চাইলে এই সুযোগ নিতে পারেন।
যেসব পদে সুযোগ : মেলায় অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী বা বিক্রয় সহযোগী নিয়োগ করে থাকে প্রকাশনা সংস্থাগুলো। মেলায় বিক্রয়কর্মীর পাশাপাশি কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ক্যাশিয়ার, জনসংযোগ কর্মকর্তা ইত্যাদি পদেও জনবল নিয়ে থাকে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা হয়। আর এসব কর্মীর প্রায় বেশিরভাগই নেয়া হয় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বর্ষ থেকে মাস্টার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। অন্য প্রকাশ প্রকাশনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শরীফ রায়হান বলেন, বইমেলায় আমাদের বই পাঠকদের কাছে প্রদর্শন ও বিক্রি করতে আমরা এক মাসের জন্য কিছু সেলস অ্যাসিসটেন্ট নিয়োগ করে থাকি। গেল বছর আমাদের স্টলে ২০ জনের মতো খণ্ডকালীন বিক্রয় সহযোগী নিয়োগ করেছিলাম। এ বছরও সিভি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিভি যাচাই-বাছাই শেষে ভাইভা নিয়ে যোগ্যদের নিয়োগ দেয়া হবে।
যোগ্যতা : বইমেলায় বিক্রয়কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাই অগ্রাধিকার পান। স্নাতক পড়ুয়াদেরই নিয়োগ দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্রেশ গ্রাজুয়েটরাও সুযোগ পেয়ে থাকেন। শুদ্ধোশ্বর প্রকাশনার নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া সজীব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, সিভি সংগ্রহের পর আমরা একটা শর্টলিস্ট করি। পরে ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর কাজ করার আগ্রহ, চাপ নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা, আর্ট অব প্রেজেন্টেশন তথা উপস্থাপন কৌশল, বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টনেস, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। সেই সঙ্গে কিছু মানবিক গুণাবলী যেমন- সততা, দায়িত্বশীলতা এসব বিষয়ও নিয়োগের সময় দেখা হয়। এ বিষয়ে অবসর প্রকাশনা সংস্থার বিপণন ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, যাদের ইতিপূর্বে বইমেলায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকে এমন তরুণদেরই অগ্রাধিকার দেন। পাশাপাশি নতুনদেরও নিয়োগ দেয়া হয়। বইমেলায় খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এমনিতে পত্রপত্রিকায় তেমন একটা বিজ্ঞাপন দেয়া হয় না, তবে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর মাধ্যমে বইমেলায় কাজের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি চাওয়া হয়।
সুযোগ-সুবিধা : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলায় খণ্ডকালীন কর্মীদের প্রতিষ্ঠানভেদে এই এক মাসে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেয়া হয়। এছাড়া দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাশতাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। রয়েছে কমিশনে বই কেনার সুবিধাও।
কাজের ধরন : বইমেলার কাজের ধরন একটু আলাদা। রোজ বইমেলা শুরু হয় বেলা তিনটা থেকে। চলে রাত আটটা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ৯টা অব্দি। মেলা চলাকালে সেলস অ্যাসিসটেন্টদের খাওয়ার বিরতি বাদে প্রায় পুরোটা সময়ই স্টলে থাকতে হয়। দোকানের বইগুলো ক্রেতার কাছে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করতে হয়। সেই সঙ্গে পাঠক-ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা সংস্থার বই, লেখক ও পাঠকদের সম্পর্কে বাড়তি জ্ঞান রাখতে হয়।
স্থায়ী চাকরির হাতছানি : বইমেলা চলাকালীন ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই বইমেলা ছাড়াও সারা বছর বিভিন্ন বইমেলায় তাদের কাজের সুযোগ দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে স্থায়ীভাবেও নিয়োগ দেয়া হয়। এমনটিই জানালেন সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, বইমেলায় খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এমনিতে পত্র-পত্রিকায় তেমন একটা বিজ্ঞাপন দেয়া হয় না, তবে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর মাধ্যমে বইমেলায় কাজের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি চাওয়া হয়। সেখান থেকে খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। বইমেলার পারফরমেন্সে যে নিজেকে মেলে ধরতে পারে তাকে স্থায়ীভাবেও নিয়োগ দেয়া হয়।

হজমে সমস্যা হলে যা করবেন



নিমন্ত্রণে নানা রকমের উপাদেয় খাবার খেতে তো ভালোই লাগে! কিন্তু হজম ঠিকমতো না হলেই মন-মেজাজ খারাপ হয়। বেশি ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে শুরু হতে পারে পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, ঢেকুর ওঠা, পায়ুপথে বাতাস নির্গমন বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। এগুলোর বেশিরভাগই হজমে গণ্ডগোলের কারণে হয়ে থাকে। বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস, ঢেকুর ও বাতাস নির্গমনের মতো বিরক্তিকর সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে পারেন-
* খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না। সময় নিয়ে, ধীরে-সুস্থে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া শেষ করবেন। তাড়াহুড়া করে খেতে গিয়ে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। তা ছাড়া পেটে খানিকটা বাতাসও ঢুকে যায়।
* খাওয়ার সময় ও মাঝখানে বেশি পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভালো করে খাবার ভাঙতে পারে না। তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। খাওয়ার সময় বেশি পানি নয়। খাওয়া শেষে আবার একটু সময় পর পানি পান করবেন।
* একেকজনের একেক ধরনের খাবার হজম করতে সমস্যা হয়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (Lactose Inltolerance) আছে, তারা দুধ ও দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেন না। অনেকের মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যে (যেমন : ফলের রস বা জুস, চকলেট ইত্যাদি) সমস্যা হয়। কারও সমস্যা হয় রুটি, যব বা ডালজাতীয় খাবারে। কার কোনটাতে সমস্যা, সেটা তিনিই ভালো ধরতে পারবেন। তাই বদহজমের রোগীর দুধ নিষেধ বা মিষ্টি নিষেধ-এ জাতীয় কথা ঢালাওভাবে বলা যায় না।
* ধূমপান, চুইংগাম চিবোনো ও স্ট্র দিয়ে জুসজাতীয় কিছু খেলে পেটে গ্যাস হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এ ধরনের অভ্যাস বর্জন করুন।
* পেটে গ্যাস সমস্যা তৈরি করতে পারে কৃত্রিম চিনি, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারও। তাই এগুলো খেতে হবে হিসাব করে।
* কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেট ফাঁপে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আঁশযুক্ত খাবার খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
লেখক : হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক, মডার্ন হারবাল গ্রুপ

শূকর ছানা আঁকা ছবি বিক্রি হলো সাড়ে ৩ লাখ টাকায়

শূকর ছানা ছবি এঁকেছে। আর সেই ছবি ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় বিক্রিও হয়েছে। এমনকি এই শূকরের আঁকা ছবি নিয়ে হয়েছে প্রদর্শনীও। কি শুনতে অবাক লাগলেও এরকম ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের একটি কসাইখানা থেকে চার সপ্তাহের ছোট্ট শূকর ছানাটিকে মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করে আনেন জোয়ান লেফসন।
একদিন হঠাৎ করেই জোয়ান আবিষ্কার করেন শূকর ছানার লুকনো প্রতিভার কথা। সাদা ক্যানভাস পেলেই নানা রঙে তা ভরিয়ে দিতে শুরু করে ছোট্ট শূকরছানাটি। আর এই আঁকার প্রতিভার জন্যই তার নাম দেয়া হয়েছে ‘পিগকাসো’। এমনকি এই চিত্রকরের আছে ফেসবুক পেজও। ১১ হাজার লাইকও আছে পেজে। এদিকে ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট’ এঁকেই সকলের মন জয় করেছে পিগকাসো। তার আঁকা ছবি বিক্রি হয় ৩০০০ পাউন্ডে। সম্প্রতি তার ছবিগুলি নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়ে গেল কেপ টাউনে। এমনকি এর পরে এরকম প্রদর্শনী আয়োজিত হবে লন্ডন, প্যারিস, বার্লিন ও আমস্টারডামে। পিগকাসোই বিশ্বের প্রথম পশু যার আঁকা ছবির প্রদর্শনী হল।

প্রথম ক্লোন বানর জন্ম দিল চীন

এবার চীনা বিজ্ঞানীরা জন্ম দিলেন বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর। বিজ্ঞানীরা কয়েক সপ্তাহ আগে গবেষণাগারে ঝং ঝং এবং হুয়া হুয়া নামের দুটি ক্লোন বানরের জন্ম দিয়েছেন। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে স্কটল্যান্ডের প্রাণিবিজ্ঞানীরা ডলি নামের ক্লোন ভেড়ার জন্ম দেন। চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের বিজ্ঞানী কিয়াং সানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়- ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জিনগত ত্রুটির গবেষণা ও নিরাময়ের কাজে লম্বা লেজওয়ালা এ বিশেষ ধরনের ক্লোন বানরকে কাজে লাগানো হবে। বিজ্ঞানীদের কাছে এগুলো হবে এসব রোগ গবেষণায় মডেল। এখন যেমন গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয় গিনিপিগ। স্কটল্যান্ডে মাদি ভেড়া ডলিকে ক্লোন করতে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, ঠিক একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে ঝং ঝং ও হুয়া হুয়ার ক্ষেত্রে।
ক্লোন করা বানরশাবক দুটির মধ্যে ঝং ঝংয়ের জন্ম ৮ সপ্তাহ আগে। আর হুয়া হুয়ার জন্ম ৬ সপ্তাহ আগে। ক্লোন করা বানরশাবক দুটিকে বোতলে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। অন্যসব সাধারণ বানরশাবকের মতোই এরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। সামনের কয়েক মাসে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে এরকম আরও বানরশাবক জন্ম দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীনা গবেষকরা। প্রণিবিজ্ঞানীদের অনেকেই ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে বানরশাবক জন্ম দেয়ার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে মানুষের ক্লোনিং করার ঝুঁকির কাছাকাছি চলে এসেছে পৃথিবী। কেননা বানর হচ্ছে জেনেটিক গঠনের দিক থেকে মানুষের খুব কাছাকাছি প্রাণী। যারা এ ব্যাপারে নৈতিকতার প্রশ্নটি সামনে এনেছেন তাদের মধ্যে আছেন কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যারেন গ্রিফিন।

নয় হাজার বছরের পুরনো মুখের চেহারা ফেরালেন বিজ্ঞানীরা

নয় হাজার বছর আগে মারা যাওয়া এক কিশোরীর মুখের চেহারা ফিরিয়ে আনলেন বিজ্ঞানীরা। মেসেলিথিক যুগের এই কিশোরীকে আবার তার পুরনো রূপে দেখা যাবে। নয় হাজার বছর আড়ে পুরুষ ও নারী দেখতে ঠিক কেমন ছিল তা দেখাতেই বিজ্ঞানীদের এ চেষ্টা। তবে প্রকৃত মানুষের রূপে নয়। একটা প্রতীকী রুটে। বুধবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।
বিজ্ঞানীদের মতে, সেই যুগে নারী ও পুরুষ অনেকটা এখনকার পুরুষের মতো ছিল। সে সময় মানুষ শুধু ফলমূল বা কাঁচা মাংস খেত। তাই চোয়ালটা একটু বড়, মুখটা একটু রাগী দেখাচ্ছে। কিশোরীর নাম ডন। তাকে এখন এথেন্সের অ্যাক্রেপোলিস জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ১৯৯৩ সালে গ্রিসের থিওপেট্টা গুহা থেকে পাওয়া যায় তার কিছু হাড়গোড়। সেগুলোকে সাজিয়েই পাওয়া যায় কিশোরী ডনের অবয়ব। বিজ্ঞানীদের ধারণা তার বয়স ১৫ থেকে ১৮ হবে। এরপর সিটিস্ক্যান এবং থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিলিকন মডেলটি বানানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ডন রক্তস্বল্পতায় ভুগত। তার স্কার্ভি রোগ ছিল। গবেষকরা আরও বলছেন, তার নিতম্ব এবং হাঁটুর সমস্যা ছিল। এতে ঘুরে বেড়াতে অসুবিধা হতো তার। এই সমস্যাই তার মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।