Saturday, May 10, 2014

লড়াইটা জমিয়েছেন কেজরিওয়াল by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় @প্রথম আলো

শুক্রবার সকাল থেকে বারানসির জগদ্বিখ্যাত অলিগলি ও রাজপথে একটাই আলোচনা, আগের রাতে নরেন্দ্র মোদির চার কিলোমিটার যাত্রাপথে কত মানুষের ঢল নেমেছিল? কারও মতে, এক লাখ। কারও ধারণা, কয়েক লাখ। বেনারস (এই প্রাচীন নগরের আরেক নাম) হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলীয় কার্যালয়ের চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মোদির গাড়িবহরের সময় লাগে চার ঘণ্টা। এ পুরো সময় মোদি সারা দেশের টেলিভিশনের প্রাইম টাইমে আর কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়লেন না, আনুষ্ঠানিক 'রোড শো' না হলেও সেটা শেষ পর্যন্ত তা-ই হয়ে গেল। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বারানসির জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় হলো বিজেপির। এত কিছুর পরও বারানসির মোদি বাহিনী তক্কে তক্কে আছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জন্য। আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা আর যাই হোক, এ তীর্থ নগরের মোদিবিরোধীদের সমীহ কিন্তু আদায় করে ছেড়েছেন। গোটা নগর এককথায় স্বীকার করছে, (এমনকি নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে যাঁদের পাগলামির শেষ নেই তাঁরাও) আর কিছু না হোক, লড়াইটাকে উপভোগ্য করে তুলেছেন এই অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সকাল থেকেই মাথায় সাদা টুপি, হাতে দুর্নীতি তাড়ানোর ঝাঁটা (নির্বাচনী প্রতীক) নিয়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আম আদমি পার্টির সদস্যরা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রামে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছেন। লোকজনকে তাঁরা ভোট দেওয়ার যন্ত্র ইভিএমের ছাপমারা কাগজ দিচ্ছেন, যাতে ভোটের বোতাম কোথায় টিপতে হবে বুঝতে অসুবিধা না হয়। এই যে কয়েক শ মানুষ কেজরিওয়ালের জন্য জীবনপণ করে বারানসির নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন, এঁদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের অদ্ভুত মিল। সংঘের মানুষজনের মতোই আদর্শে ভর করে লক্ষ্যে অবিচল থেকে আম আদমি পার্টির লোকজন অনেক কষ্টে মোদির অর্থবল, লোকবল, বাহুবল ও কৌশলের মোকাবিলা করছেন। এঁদের অধিকাংশই বাইরের লোক। প্রচারণা শেষে এঁদের বারানসি ছেড়ে চলে যেতে হবে। প্রশাসনের হুকুম, প্রচারণা শেষ, এলাকার বাইরের লোকজনেরও বারানসিতে থাকার মেয়াদ শেষ।
কেজরিওয়ালের জন্য বিজেপির তক্কে তক্কে থাকার কারণ তাঁর রোড শো। দুই দফায় 'ঝাড়ু পার্টি' (এখানে এএপিকে এই নামেই ডাকা হচ্ছে) সেই শো গতকাল করল ঠিকই, কিন্তু মেজাজে বা জৌলুশে তা মোদির ধারেকাছেও আসতে পারল না। কী করেই বা আসবে? একদিকে দেশের করপোরেটকুলের দেদার দাক্ষিণ্য, অন্যদিকে দুয়োরানির দারিদ্র্যমাখা মালিন্য! মোদি-সমর্থকেরা আরও উৎফুল্ল যখন দেখলেন শেষবেলায় প্রচারে এসে মায়াবতীও তেমন একটা দাগ কাটতে পারলেন না। খুব শোনা যাচ্ছিল, মায়াবতীকে সামনে রেখে 'হাতি পার্টি' ধীর লয়ে শহরে দাপিয়ে বেড়াবে। কিন্তু 'বহিনজি' বাইরে বাইরে থেকে পাশ কাটিয়ে গেলেন 'সাম্প্রদায়িক' মোদিকে গালমন্দ করে। মোদি এলে দেশের মানুষের কী ধরনের বিপদের মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়ে দেহাতের মানুষকে শিক্ষিত করে তিনি ভিভিআইপি আসন বারানসির আশা ত্যাগ করে পূর্বাঞ্চলের অন্যত্র মনোনিবেশ শ্রেয় মনে করছেন। মায়াবতীর কৌশলী রাজনীতিতে এটাই ঠিক। অর্থাৎ, বারানসি এসেও এলেন না। মুলায়ম নিজে আসবেন না ঠিক করেছেন। তবে তাঁর ছেলে অখিলেশ মনে করছেন, তিনিও না এলে বারানসির মুসলমানরা 'ভুল বার্তা' পেতে পারেন। সেটা বিধানসভার পরের ভোটে খারাপ প্রভাব ফেলবে। তাই আজ শনিবার সাইকেল পার্টির মনোবল বাড়াতে অখিলেশ রোড শো করবেন। কিন্তু অখিলেশ নন, বিজেপির আগ্রহ যাঁকে ঘিরে তিনি রাহুল গান্ধী। তাঁকে বেইজ্জত করতে মোদি যদি আমেথি যেতে পারেন, রাহুল তবে কেন বারানসি আসবেন না? এই যে পাল্লা, সাদা বাংলায় যাকে ইটের বদলে পাটকেল বলা হয় আজ প্রচারের শেষ দিনে সেই পাটকেল ছুড়তেই রাহুলের বারানসি আসা। তবে একটু তফাত রয়েছে। মোদি আমেথিতে গিয়ে জনসভা করেছিলেন, রাহুল করবেন রোড শো। তার প্রভাব কতটা পড়বে বারানসির ভোটারদের মনে, আপাতত সেই জল্পনাতেই শহর মশগুল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ এখানে এসেছেন। রাহুলের রোড শো নিয়ে ঠাট্টা করলেন, 'কেজরিওয়াল বা রাহুলেরা রোড শো করুন বা এয়ার শো, বারানসিতে মোদির স্টাম্প লেগে গেছে।'
পাঁচ বছর আগে বিজেপির মুরলী মনোহর জোশি বারানসি থেকে কোনোরকমে ১৭ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। মোদি এবার সেই আসনকে প্রায় হেলায় ঝোলায় পুরলে কে তার জন্য দায়ী হবেন? রাহুল গান্ধীর শুনতে খারাপ লাগতে পারে, তবে ঘটনা হলো এ আসনের সাড়ে তিন লাখের বেশি মুসলমান ভোটারের অধিকাংশ মনে করেন, কংগ্রেসই তার জন্য দায়ী। কেন? কারণ, কংগ্রেস গড়িমসি করতে করতে একেবারে শেষবেলায় অজয় রাইকে টিকিট দিল। অথচ অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার এক মাস আগে থেকে এখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে। নিট ফল? মুসলমানদের বেশির ভাগ ভোট এবার চিরায়ত হাতের পাঞ্জা ছেড়ে ঝাড়ুতেই আশ্রয় নিচ্ছে। ইটের বদলে পাটকেল মারতে রাহুল বারানসি না এলেই ভালো করতেন। তাতে আর যাই হোক, তিনি যে প্রতিহিংসাপরায়ণ নন, তা বোঝানো যেত।

২০১৪ হবে রাশিয়ার বছর- ক্রিমিয়া সফরে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল শুক্রবার ক্রিমিয়া সফর করেছেন৷ ইউক্রেনের ওই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি গত মার্চে রাশিয়া নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পর সেখানে এটিই পুতিনের প্রথম সফর৷ ১৯৪৫ সালে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উপলক্ষে ক্রিমিয়ার সিভাস্তোপোলে নাবিকদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পুতিন৷ তাঁর এই সফরকে 'ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন' বলে মন্তব্য করেছে কিয়েভ৷ বন্দরনগর সিভাস্তোপোলে নৌঘাঁটিতে একটি সামরিক নৌযানের ওপর দাঁড়িয়ে পুতিন যখন নৌসেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন, তখন আকাশে কসরত প্রদর্শন করে রুশ জঙ্গি বিমানের বহর৷ পুতিন বলেন, 'আমি নিশ্চিত, ২০১৪ সাল হবে আমাদেরই একটি বছর৷ ঐতিহাসিক সত্য ও আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এখানকার মানুষ এ বছর রাশিয়ার সঙ্গে থাকার মতো একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷'
এর আগে নাৎসি বাহিনীকে পরাজিত করার ৬৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ করে রাশিয়া৷ বিজয় দিবসে মস্কোতে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, এটা এমন একটি দিন, যখন 'দেশপ্রেমের জয়' হয়৷ ক্রিমিয়ায় যে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি আকারে তেমন বড় ছিল না৷ তবে লোকজনের আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো৷ তারা পতাকা নেড়ে পুতিনকে স্বাগত জানায়, পুতিন হাত নেড়ে তার জবাব দেন৷ রুশ উসকানির আশঙ্কা ইউক্রেনের: ইউক্রেন সংকট প্রশ্নে সম্প্রতি সুর নরম করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন৷ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে কথা বলেছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলের বিিচ্ছন্নতাবাদীদের গণভোট বন্ধ করতে বলেছেন এবং ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন৷ তবে এটাকে রাশিয়ার উসকানির পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আরসেনিয়ে ইয়াটসেনিউক৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, 'আমি ভ্লাদিমির পুতিনের ওই বিবৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ এটা একটা খারাপ অনুভূিত সৃষ্টি করছে৷ কারণ, তারা বলে এক, করে আরেক৷ ওই বিবৃতির পর, আমি ৯ মে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলাম৷' বিবিসি ও এএফিপ৷

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন- ‘ইজ্জতের রশি’ দিয়ে লাশ বাঁধা

নদী এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র নিয়ে চলাচলের সময় সঙ্গে রশি রাখতে হয়। সেই রশির এক মাথায় অস্ত্র বাঁধা থাকে, যাতে পানিতে পড়ে গেলে রশি দিয়ে হদিস মেলে। পুলিশ সদস্যরা রসিকতা করে বলেন, 'ইজ্জতের রশি।' পুলিশ প্রবিধানের ৯৬১ ধারা অনুসারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সরকারি-ভাবে এ রশি সরবরাহ করা হয়। নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত খুনের মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তিদের শরীরের সঙ্গে ইটভরা বস্তাগুলো এ ধরনের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। সাত খুনের মামলা তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডল। তদন্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে সাদাপোশাকে অস্ত্রসহ আটক হওয়া র‌্যাব সদস্য মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম অভিযোগ করেন, র‌্যাব সদস্যরা আগে থেকেই নজরুলকে নজরে রাখছিলেন। নজরুলের আদালতে হাজিরার দিন ২৭ এপ্রিল আদালতের ভেতরে র‌্যাবের একজন সদস্য সাদাপোশাকে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করার সময় নজরুলের লোকজন সন্দেহবশত আটক করেছিলেন। পরে র‌্যাবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লোকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সদস্যের নাম ও পরিচয় পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা কামাল সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাত তিনটার দিকে একটি মাইক্রোবাসসহ তিনটি গাড়িকে তল্লাশির জন্য রাস্তায় থামায়। তিনটি গাড়ির সামনের গাড়িতে ছিলেন র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ। পেছনের গাড়িতে ছিলেন মেজর আরিফ হোসেন। র‌্যাবের অধিনায়ক গাড়ি থেকে নেমে টহল পুলিশকে জানান, তাঁরা বিশেষ অভিযানে যাচ্ছেন। এরপর পুলিশ গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়। পুলিশ সদস্যরা জানান, গাড়িগুলো নারায়ণগঞ্জের নদীর পাড় দিয়ে চলে যায়। ৪৫ মিনিট পরে আবার সেগুলো র‌্যাব কার্যালয়ের দিকে চলে যায়। ওই তিনটি গাড়ি নিয়ে নানা সন্দেহ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এর আগে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাকরি হারানো র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে অকালীন ও বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। তাঁরা এখনো সেনানিবাসে আছেন বলে গেছে। সেনা সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুসারে এসব কর্মকর্তা সব ধরনের সুবিধা পাবেন। এ কারণে তাঁরা অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটি ভোগ করবেন এক বছর। ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাঁদের ছয়জনের এবং পরদিন একজনের লাশ ভেসে ওঠে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন- ‘ইজ্জতের রশি’ দিয়ে লাশ বাঁধা

নদী এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র নিয়ে চলাচলের সময় সঙ্গে রশি রাখতে হয়। সেই রশির এক মাথায় অস্ত্র বাঁধা থাকে, যাতে পানিতে পড়ে গেলে রশি দিয়ে হদিস মেলে। পুলিশ সদস্যরা রসিকতা করে বলেন, ‘ইজ্জতের রশি।’ পুলিশ প্রবিধানের ৯৬১ ধারা অনুসারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সরকারি-ভাবে এ রশি সরবরাহ করা হয়। নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত খুনের মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তিদের শরীরের সঙ্গে ইটভরা বস্তাগুলো এ ধরনের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। সাত খুনের মামলা তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডল। তদন্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে সাদাপোশাকে অস্ত্রসহ আটক হওয়া র‌্যাব সদস্য মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

মোদির নাম দাঙ্গাবাবু : মমতা

এর আগে বিজেপি নেতা মোদিকে গাধা বলে সম্বোধন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবার তাকে দাঙ্গাবাবু বলে কটাক্ষ করলেন। বৃহস্পতিবার টিটাগড়ের ছাই ময়দানের জনসভায় গুজরাট দাঙ্গায় মোদির বিতর্কিত ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাকে এভাবেই সম্বোধন করেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ওই দাঙ্গায় নারী শিশু কেউ রেহাই পায়নি। তারা ফের ক্ষমতায় এলে দেশকে বিক্রি করে দেবে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হবে। মোদির নাম উল্লেখ না করে তৃণমূল নেত্রী তার ভাষণে বলেন, পশ্চিমবাংলায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করছে এটি দাঙ্গাবাবুর সহ্য হচ্ছে না। এতে তিনি হিংসায় জ্বলেপুড়ে মরছেন এবং এসব কথা বলছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশীদের বাক্স পেটরাসহ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে মোদি যে মন্তব্য করেছেন তার জবাবে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। মোদি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে বিভেদ ধরানোর চেষ্টা করছে বলেও মমতা অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, মুসলমান এবং নারীরা মোদিকে ভয় পায়।
তার ভাষায়, ত্যাগের নাম হল হিন্দু, মুসলমান মানে ঈমান, প্রেমের নাম হল খ্রিস্টান। আর এসব মিলেই আমাদের ভারতবর্ষ। তিনি বলেন, যারা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রতি নস্যাৎ করতে চায় ভোটের মাধ্যমে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। মমতা এর আগে মোদিকে গাধা এবং লেজযুক্ত হনুমানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বুধবার এক র‌্যালিতে মোদিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার একটা লম্বা লেজ আছে, আর সেই লেজে আগুন লাগায় তিনি উড়ে উড়ে লঙ্কার সর্বত্র আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই লাটসাহেবি শুরু করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, কে এই লাটসাহেব, আপনারা কি এই লাটসাহেবকে চেনেন? প্রধানমন্ত্রিত্ব ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জি বলেন, সন্তানের জন্মই হল না। আর তার আগেই বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেল। মোদিকে সামনে রেখে পিএম ফান্ডের নামে জালিয়াতি করে বিজেপি টাকা তুলছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা।
মোদি মমতাকে ভোট নয়
মোদি সাম্প্রদায়িক আর তার সঙ্গে ভোটের পরে আঁতাত হতে পারে মমতা ব্যানার্জির। তাই ভোট মোদিকে না, মমতা ব্যানার্জিকেও না। ভোট ধর্মনিরপেক্ষ কোনো শক্তিকে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সভায় এমন ঘোষণা দিলেন কলকাতার মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ। শওকত আলি ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে ঘোষণা আসে, দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এলে নষ্ট হবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ। খর্ব হতে পারে সংখ্যালঘুদের অধিকার। তৈরি হতে পারে দাঙ্গার পরিবেশ। তাই কোনোভাবেই নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দেয়া যাবে না। অপরদিকে সভায় বক্তারা হতাশা ব্যক্ত করেন মমতা ব্যানার্জির সরকারের ওপর। তারা জানান ভোট পরবর্তী সময়ে বিজেপির সঙ্গে জোট করার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তাই ভোট তৃণমূল কংগ্রেসকেও দেয়া যাবে না।
তবে কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ওই সভা থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দেয়ার কথা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। কলকাতায় রাহুল গান্ধীর সভা করে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেয়ার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই টাকা তুলছেন, হলে তো দেশ বেচে দেবেন এ সময় একটি কাগজ বের করেন। কাগজটিতে লেখা রয়েছে মোদি ফর পি এম ফান্ড। এই কাগজটি সব ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলছে, যা আইনবিরুদ্ধ, অসাংবিধানিক এবং ৪২০ ধারার (প্রতারণা) শামিল। এভাবে কোনো ফান্ড তৈরি করা বা টাকা তোলা যায় না। রিলিফ ফান্ড বা সিএম রিলিফ ফান্ড হয়। কিন্তু কারও নামে এভাবে ভোটের সময় টাকা কীভাবে তোলা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তিনি তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এই ধরনের ফান্ড তৈরি করা বা টাকা তোলার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত। এভাবে বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকা ডোনেশন বা অনুদান তুলে কোথায় রাখছে এবং কোথায় খরচ করছে বিজেপি, তারও জবাব চেয়েছেন মমতা।

লড়াইটা জমিয়েছেন কেজরিওয়াল by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

শুক্রবার সকাল থেকে বারানসির জগদ্বিখ্যাত অলিগলি ও রাজপথে একটাই আলোচনা, আগের রাতে নরেন্দ্র মোদির চার কিলোমিটার যাত্রাপথে কত মানুষের ঢল নেমেছিল? কারও মতে, এক লাখ। কারও ধারণা, কয়েক লাখ। বেনারস (এই প্রাচীন নগরের আরেক নাম) হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলীয় কার্যালয়ের চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মোদির গাড়িবহরের সময় লাগে চার ঘণ্টা। এ পুরো সময় মোদি সারা দেশের টেলিভিশনের প্রাইম টাইমে আর কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়লেন না, আনুষ্ঠানিক ‘রোড শো’ না হলেও সেটা শেষ পর্যন্ত তা-ই হয়ে গেল। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বারানসির জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় হলো বিজেপির।

খুন-অপহরণের শেষ কোথায়?

খুন-অপহরণের শেষ কোথায়?
নারায়ণগঞ্জে সাতজনের গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার পর সারা দেশে এই নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই সাতজনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, তা পড়ে যেকোনো মানুষই শিউরে উঠবেন। যেকোনো অপমৃত্যুই বেদনাদায়ক, যেকোনো হত্যাই আসলে ওই পরিবার এবং অন্যদের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি আতঙ্কেরও। যখন আমরা এ ধরনের রোমহর্ষক বর্ণনা পড়ি, তখন মনে হয় যে অমানবিকতার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে না পেঁৗছালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে কাউকে এভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়। কেবল হত্যাকাণ্ড বলে এসব ঘটনাকে বর্ণনা করলে সামান্যই বলা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র৵াবের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জে র৵াবে কর্মরত তিনজন সেনা অফিসারকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগের নেতার বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, পলাতক এই ব্যক্তিকে সন্ধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শোনা গেছে বিভিন্নভাবে, অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিভিন্ন ব্যক্তির দিকে। গোড়াতে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরা এ জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেও সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সাত হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের প্রমাণ সাপেক্ষে যোগ্য শাস্তি দেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।’ লক্ষণীয় যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেছেন র৵াবের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে; আশা করি তা অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
প্রতিমন্ত্রীর এই কথা আশাব্যঞ্জক, যদিও নিকট এবং দূর অতীতের ঘটনাপ্রবাহ এবং অভিজ্ঞতা খুব বেশি আশাবাদী করতে সাহায্য করে না। সব সরকারের আমলেই আমরা এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক বিবেচনার প্রাধান্য এবং দায়িত্বহীন মন্তব্য শুনতে অভ্যস্ত৷ কিন্তু গত কয়েক দিনের এই আলোচনায় একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, যা আমার কাছে খানিকটা অস্বস্তিকর এবং নেতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকের কথাবার্তায় এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে এটি শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল; কারও কারও ভাষ্য থেকে মনে হয় যেন এটি নারায়ণগঞ্জে দুই নেতার দ্বন্দ্ব, দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব। আওয়ামী লীগের একাংশ যেমন এক ব্যক্তির ওপর দোষ চাপানোর জন্য সচেষ্ট, তেমনি ওপর পক্ষ এটি প্রমাণ করতে বেপরোয়া যে ওই ব্যক্তি তো দোষী নয়ই, বরং অভিযোগকারীদেরই কাঠগড়ায় দঁাড় করিয়ে দেওয়া দরকার। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থেকে এই ধারণাই তৈরি হচ্ছে যে এটি একটি স্থানীয় ব্যাপার এবং এ রকম গুম ও গুপ্তহত্যা যেন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। গত কয়েক বছরের প্রাপ্ত তথ্যাদি এই মতকে সমর্থন করে না। সারা দেশে গত কয়েক বছরে এ ধরনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, এমনকি যখন দেশে এই নিয়ে তোলপাড় চলছে তখনো যে আরও মানুষ ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা নিশ্চয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব বলে বলা যাবে না। ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুন’ বলে ভবিষ্যতে যে ঘটনা পরিচিত হবে বলে মনে হয়, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যদি আগামীকাল আটক করে যথাযথভাবে বিচার করে শাস্তি দেওয়া হয়, তাতে একটা উদাহরণ সৃষ্টি হবে সেটা ঠিক, কিন্তু এ ধরনের সব ঘটনার পেছনের কারণ কি জানা যাবে? বিচার হলে নারায়ণগঞ্জে যে সাতজন মানুষ: নজরুল ইসলাম, তাজুল, লিটন, স্বপন, জাহাঙ্গীর, আইনজীবী চন্দন সরকার ও তঁার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত ও নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন, তঁাদের পরিবার হত্যাকারীদের দেখতে পাবে এবং অন্তত এতটুকু সান্ত্বনা পাবে যে তাদের স্বজনদের হত্যাকারীরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু সেটাই

এটা কি একটা জঙ্গল?

মা বলল, টিপরা, এই পাতাটা ছেড়ে কোথাও যাবে না! কেমন?
টিপরা বলল, ঠিক আছে মা, যাব না।
ইপরা বলল, মা, কেন যাব না। আমরা আর ছোট পিঁপড়াটা নেই। বড় হয়ে গেছি। মা বলল, তোমাদের জন্য মধু আমি নিয়ে আসছি। তোমরা এই পাতাটা ছেড়ে কোথাও যাবে না। এটাই আমার ফাইনাল কথা। মা পিঁপড়া বেরিয়ে পড়ল। গাছের ডাল বেয়ে ছয় পায়ে গিয়ে পেঁৗছাল ফুলের বৃন্তে। জায়গাটা বিপজ্জনক। একটা মাকড়সা এখানে জাল পেতে রেখেছে। খুব মিহি জাল। এটা এড়িয়ে যেতে হবে। জালে পা পেঁচিয়ে গেলেই সর্বনাশ। জাল এড়িয়ে মা পেঁৗছে গেল ফুলের গোড়ায়। পাপড়ি বেয়ে ঢুকে গেল ফুলের ভেতরে। আরেকটু এগোতেই, উফ্... মধু। প্রথমে নিজে খানিকটা খেয়ে নিল মা পিঁপড়া। তারপর মুখের চঞ্চুতে ভরে ফিরতে লাগল নিজের বাসায়। যেখানে তার দুই মেয়ে টিপরা আর ইপরা অপেক্ষা করছে। এদিকে টিপরার মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি খেলা করছে। সে বলল, ইপরা চলো, আমরা পাতার ওই পাশে গিয়ে লুকিয়ে থাকি।
মা যখন এসে দেখবে আমরা নেই, তখন ভয়ে কান্না জুড়ে দেবে। তখন আমরা মায়ের সামনে এসে হাজির হব। মা আমাদের দেখে খুব খুশি হবে। ইপরা বলল, তোর শুধু দুষ্টুমি বুদ্ধি। মা কষ্ট করে আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাব। পেট ভরে মধু খেয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাব। না বাবা, আমরা কোথাও যাব না। একটা ছোট্ট পাখি এই সময় এসে বসল তাদের খুব কাছে। তারা তাড়াতাড়ি করে পাতার আড়ালে মুখ লুকাল। মা আসছে। ওদের দুই বোনের মনে খুব আনন্দ। মা আসতেই টিপরা বলল, মা মা, ইপরা বলে, মধু নাকি ভালো খাবার নয়। ও খেতেই চায় না। আমাকে প্রথমে চেখে দেখতে হবে, ভালো কি না, তারপর নাকি ও খাবে। মা বলল, ইপরা, এটা কী ধরনের কথা। তোমাদের মা কষ্ট করে মধু এনে দিচ্ছে, সেটা আবার খারাপ হয় কী করে। আমি তোমার কাছে এই ধরনের কথা আশা করিিন। ইপরা বলল, মা, আমি কিছুই বলিিন। সব টিপরা বানিয়ে বলছে। মা বলল, মুখে মধু নিয়ে এত কথা বলতে পারব না। নে টিপরা, খেয়ে নে। টিপরা মধু খেল।
ইপরা, তুই কি খাবি?
খাব মা। মধু আমার খুব প্রিয়। ইপরা মধু খেয়ে বলল, খুব ভালো মধু। মা, তুমি এত কষ্ট করে।

মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা

মা’ হিসেবে নারীকে ইসলাম বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান দিয়েছে। মানবসম্পদের উন্নয়ন, শিশুর যথাযথ লালন-পালন ও রক্ষণাবেক্ষণে মায়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। পৃথিবীর আদিকাল থেকে একজন মা তঁার ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা বিলিয়ে দিয়ে সন্তানের জন্য যে অসামান্য, অমূল্য ও অপরিশোধ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন, তা সর্বজনস্বীকৃত। তাই পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মমতাবশে তঁাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো: হে আমার প্রতিপালক! তঁাদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তঁারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সূরা বিন ইসরাইল, আয়াত: ২৪) নয় মাস গর্ভে ধারণ করে মা তঁার নবজাতককে প্রসব বেদনার অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ করান। নবজাতকের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি আল্লাহ তাআলা মায়ের স্তনে রেখেছেন বিধায় মাকে সর্বোচ্চ মেয়াদকাল দুই বছর বিশেষ প্রয়োজনে আরও ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করিয়ে তিল তিল করে বড় করতে হয়। একজন মায়ের গর্ভকালীন কষ্টের কথা আল্লাহ তাআলা ব্যক্ত করেছেন, ‘আমি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি, জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে, সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সূরা: লুকমান, আয়াত: ১৪) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সঙ্গে এবং প্রসব করে কষ্টের সঙ্গে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস।’ (সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ১৫)
সন্তানের ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কোমল ব্যবহার পিতামাতার অবশ্যই প্রাপ্য। বিশেষ করে সন্তানের আন্তরিক ভালোবাসা, ভক্তি-শ্রদ্ধা মা পাওয়ার বেশি অধিকারী। মাকে তিন গুণ অগ্রাধিকার দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, অতঃপর মাতার সঙ্গে, অতঃপর মাতার সঙ্গে, অতঃপর পিতার সঙ্গে, অতঃপর নিকট-আত্মীয়ের সঙ্গে।’ একদা এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে অনেকবার জিজ্ঞাসা করল, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর? তিনি চতুর্থবার বললেন, তোমার পিতা।’ (বুখারি) মাকে মহিমান্বিত করে প্রকৃতপক্ষে নারী জাতির মর্যাদাকেই ইসলাম সমুন্নত করেছে এবং মাতৃত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীকে দিয়েছে সম্মানজনক মর্যাদা। মা হিসেবে একজন নারীর ন্যায্য প্রাপ্য মর্যাদা সর্বোচ্চ যতটুকু হতে পারে, তার পুরোপুরিই ইসলাম নারীকে দিয়েছে। সন্তানের সার্বক্ষণিক কল্যাণ কামনায় মায়েরা অনেক ত্যাগ করেন, যথাসম্ভব দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে সুস্থ ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়েদের সাধনাকে অম্লান করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণীতে মা হিসেবে নারী জাতির সুউচ্চ মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ (আহমাদ, নাসাঈ) বয়োবৃদ্ধকালে মা-বাবা যখন শিশুর মতো হয়ে যান, তখন তঁাদের সেবাযত্ন করা অবশ্যকরণীয়। পিতামাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে সন্তানের মুখাপেক্ষী হন এবং

মোদি–মমতা পাল্টাপাল্টি তুঙ্গে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতাদের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি৷ লোকসভা নির্বাচন যতই শেষের দিকে যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ ততই তীব্র হচ্ছে৷ মোদি-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অন্যকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করছেন৷ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মোদি বা মমতা কেউ কাউকে আক্রমণ করে আগে তেমন বক্তৃতা-বিবৃতি দেননি৷ বরং বিজেপি সব সময় বলে আসছে, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনে মমতার তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে পথ খোলা রাখছে বিজেপি৷ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে বিজেপির প্রার্থীর পক্ষে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে মোদি মমতার অাঁকা একটি ছবি চড়া মূল্যে বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ মমতার সরকারের দুর্নীতি নিয়েও বক্তৃতা করেন হিন্দুত্ববাদী এই নেতা৷ এরপরই তৃণমূল ও মমতা মোদিকে আক্রমণ করা শুরু করেন৷ তখন তাঁকে ‘গুজরাটের কসাই’ বলেও আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতারা৷ মমতা গত বুধবার মোদিকে তুলনা করেন এমন একটি হনুমানের সঙ্গে, যার লেজ রয়েছে আগুনের ওপরে৷ আরেক ভাষণে তিনি জানতে চান, মোদি একটা ‘গাধা’ কি না৷ মোদির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে তাঁকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি তোলেন মমতা৷ জবাবে মমতাকে উপহাস করে একই দিন মোদি বলেন, ‘দিদি, এত রাগ করবেন না৷’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার চিকিৎসকদের আমি বলব, মমতা অসুস্থ হয় কি না, আপনারা খেয়াল রাখবেন৷’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বুধবার একটি নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, তাঁর (মোদির) একটি লেজ আছে৷ তিনি সবখানে জ্বলন্ত লঙ্কার চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছেন৷ মমতার অঁাকা একটি ছবি এক কোটি ৮০ লাখ রুপিতে পশ্চিমবঙ্গের বিতর্কিত িচটফান্ড সারদার কর্ণধারের কেনার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তোলেন মোদি৷ এর পর থেকে প্রতিটি জনসভাতেই মমতা বিজেপি নেতা মোদিকে তুলাধোনা করছেন৷ এর আগে মোদিকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যায়িত করেন মমতা৷ আর মোদি সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া সবাইকে অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যায়িত করেন এবং তাঁদের বিতাড়িত করা হবে বলে ঘোষণা দেন৷ বিষয়টি উল্লেখ করে গতকাল আরেক সমাবেশে মমতা প্রশ্ন করেন, ‘তিনি িক একটি গাধা?’ এর আগে মমতা অভিযোগ করেন, মোদি আসামে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিয়েছেন৷ মোদি পশ্চিমবঙ্গেও জাতিগত সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ মোদি এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে এসেই৷ কলকাতায় বুধবার এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের বিষয়টি তোলার কারণেই মমতা রাগ করেছেন৷ তিনি বাংলাদেিশ ‘অনুপ্রবেশকারী’দের পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত জানান৷
নরেন্দ্র মোদি
আর ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ এলে তিনি কষ্ট পান৷ ‘বাংলাদেিশ অনুপ্রবেশ’-এর বিষয়টি ২০০৫ সালে তিনিই লোকসভায় তুলেছিলেন৷ সভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘আমার প্রতি আপনাদের ভােলাবাসা যতই বাড়ছে, দিদি (মমতা) ততই রেগে যাচ্ছেন৷ তিনি আমাকে দিনের মধ্যে ২০০ বার স্মরণ করছেন৷ আমি জানি না, তিনি আমাকে নিয়ে কী বলছেন৷ তবে দিদি, আপনার প্রতিটি কথাই আমার জন্য আশীর্বাদ৷’ মমতার কারাগারে পাঠানোর দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘আপনিই পার্লামেন্টে ২০০৫ সালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন৷ ২০০৫ সালে আপনি যা তুলেছিলেন, এখন আপনার ভাইয়েরা তা তুলছে৷ অথচ আপনি আমাকে কারাগারে পাঠানোর কথা বলছেন৷ এটা ন্যায়বিচার নয়৷’ মমতাকে উপহাস করে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন, ‘আপনি আমাকে দড়িতে বেঁধে কারাগারে পাঠানোর কথা বলেছেন৷ কিন্তু আপনার দড়ি কেনার কাজে দরপত্র দিয়ে টাকা অপচয় করার দরকার নেই৷ শুধু বলে দিন, কোন কারাগারে আমাকে যেতে হবে৷ আমি নিজেই সেখানে যাব৷ কারাগারে গিয়ে আমার প্রথম কাজ হবে বাংলা ভাষা শেখা৷’ পিটিআই ও এনডিটিভি৷

আলো ছড়াবেন কোন তারকা?

কলকাতা উত্তর আসনে সম্প্রতি প্রচারণায় অংশ
নেন কংগ্রেসপ্রার্থী সোমেন মিত্র। ছবি: প্রথম আলো
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় দুটি আসন৷ কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ৷ আগামী ১২ মে শেষ দফায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এই দুটি আসনে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা৷ তবে এই দুই আসনের মধ্যে কলকাতা উত্তর আসনে লড়াই হবে জমজমাট৷ কলকাতা উত্তর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন চার দলের চার তারকা প্রার্থী। এই আসনে তৃণমূল থেকে বর্তমান সাংসদ ও লোকসভায় দলের িচফ হুইপ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট থেকে কলকাতা পৌর করপোরেশনের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও কাউন্সিলর রূপা বাগচি, বিজেপি থেকে দলের রাজ্য কমিটির সভাপতি রাহুল সিনহা ও কংগ্রেস থেকে সাবেক তৃণমূল সাংসদ ও কংগ্রেসের সাবেক রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র লড়াই করছেন৷ গত নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ এক লাখ নয় হাজার ২৭৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। তবে এবার সুদীপ জিতবেন, তেমনটা জোর দিয়ে বলছেন না কেউই৷ সবারই এক কথা, এবার লড়াই হবে তীব্র৷ কারণ, এবার প্রার্থী সোমেন মিত্র। তিনি কলকাতার মানুষ, শিয়ালদহের বাসিন্দা।
১৯৭২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি টানা কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন৷ ছিলেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি। ২০০৯ সালে যোগ দেন তৃণমূলে। তারপর ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে তিনি ডায়মন্ডহারবার আসন থেকে সাংসদ হন। গত জানুয়ারিতে তিনি ফিরে আসেন কংগ্রেসে। এই অঞ্চলে সোমেনের বিরাট প্রভাব আছে৷ তিনি যে এবার তৃণমূল প্রার্থীকে বেগ দেবেন, তা নিশ্চিত। সোমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জয়ের আশা নিয়েই সবাই লড়াই করে। মানুষ মমতার তিন বছরের শাসন দেখেছে। মমতার সরকার জড়িয়ে গেছে নানা দুর্নীতিতে। মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এখন ভোটাররা ঠিক করবেন, তাঁরা কাকে নির্বাচিত করবেন। তবে আমি আশাবাদী।’ মানিকতলার অলক দাস বললেন, সোমেন প্রার্থী হওয়ায় সুদীপের আর নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা রইল না। কলকাতার ব্যবসায়ী মো. নওশাদ বললেন, ‘এবার আর সুদীপকে ভোট দিচ্ছি না। তাঁর ব্যবহারে আমরা সন্তুষ্ট নই। এবার সোমেনকে ভোট দেব।’
তিনি বলেন, সুদীপ-সোমেনের ভোট কাটাকাটিতে জয়ী হতে পারেন সিপিএম প্রার্থী রূপা বাগচি। আরেক ভোটার তরুণ পাল বলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা শক্তিশালী প্রার্থী৷ তিনি এবার ভালো ভোট পাবেন। কারণ, এই এলাকায় রয়েছে বহু অবাঙালি হিন্দুর বাস। আরেক ভোটার মহাদেব রায় বলেন, এবার কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট নেই। সোমেন ভালো ভোট টানবেন। বিজেপি ভোট পাবে। ফলে এই লড়াইয়ে বামফ্রন্টের প্রার্থী রূপা বাগচি জিতলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে তৃণমূলের সমর্থকেরা জোর গলায় বলছেন, কোনো শক্তিই হারাতে পারবে না সুদীপকে। সোমেনের সমর্থকদের কণ্ঠেও একই কথা৷ অন্যদিকে বিজেপির সমর্থকেরা মোদি হাওয়ায় অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন৷ আর বামফ্রন্ট প্রার্থী রূপা বাগচি মনে করছেন, তিন দলের ভোট ভাগাভাগিতে লোকসভার দরজা খুলে যাবে তাঁর জন্য৷

ক্ষমতায় এসে মমতা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন

কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী গতকাল কলকাতায় শহীদ
মিনার প্রাঙ্গণে সমর্থকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন।
কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, কংগ্রেসের হাত ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গেÿক্ষমতায় এসেছিলেন।ÿকিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন৷ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের ঘাটাল আসনের ডেবরায় এবং কলকাতার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে রাহুল এসব বলেন৷ ডেবরায় কংগ্রেসপ্রার্থী সাবেক রাজ্য সভাপতি মানস ভুঁইয়া এবং কলকাতায় সোমেন মিত্রের সমর্থনে এসব সমাবেশের আেয়াজন করা হয়৷ রাহুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে লাল ঝান্ডার বিদায় হলেও রাজ্যের পরিস্থিতি বদলায়নি। রাজ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই তিমিরেই রয়েছে রাজ্য, বরং বেড়েছে নারী নির্যাতন, দুর্নীতির মতো ঘটনা। কংগ্রেস নেতা বলেন, মমতাজি বড় বড় কথা বললেও কাজের কাজ করেননি এই রাজ্যে। বরং সারদাকাণ্ডেÿক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রাজ্যের ২০ লাখ মানুষ ও তাঁদের পরিবার।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন: পিটিআই ও এনডিটিভি জানায়, কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)৷ দলটি টুইটারে রাহুলের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছে, একজন প্রার্থী হিসেবে ভোট চলাকালে রাহুল ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কাছে যেতে পারেন কি না৷ ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলছে, ‘ইিভএমের কাছে যাওয়ার বিষয়টি কোনো প্রার্থীর জন্যই অনুমোদিত নয়৷’ এএপি টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, রাহুল গত বুধবার তাঁর নির্বাচনী আসনে ভোট চলার সময় একটি কেন্দ্রে ইভিএমের কাছে গিয়ে কিছু একটা দেখছিলেন৷ আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, একটি ভোটকেন্দ্রের ভেতর কিছু লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন রাহুল৷ বারানসিতে যাবেন রাহুল: রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী আসনে নরেন্দ্র মোদি সমাবেশ করার পর এবার মোদির আসনে রোড শো করার ঘোষণা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী৷ কাল শনিবার বারানসিতে রোড শো করবেন কংগ্রেসের সহসভাপতি৷ এর আগে ৫ মে আমেথিতে সমাবেশ করেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী৷ মোদি বারানসি আসন থেকে প্রতিদ্বিন্দ্বতা করছেন৷ সেখানে রোড শো করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সবুজসংকেত পেয়েছেন রাহুল৷

উদ্ধার হয়নি নাইজেরিয়ার ছাত্রীরা, পুরস্কার ঘোষণা

মালালা ইউসুফজাই
নাইজেিরয়ায় সশস্ত্র গ্রুপ বোকো হারামের হাতে অপহৃত দুই শতাধিক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে তিন লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীনসহ বিভিন্ন বিশ্বশক্তি তাদের উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে৷ গত ১৪ এপ্রিল নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শিবক এলাকার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীদের অপহরণ করা হয়৷ পুড়িয়ে দেওয়া হয় স্কুল ভবন৷ গত রোববার রাতে অপহরণ করা হয় আরও ১১ স্কুলছাত্রীকে৷ তিন সপ্তাহ পরও তারা উদ্ধার না হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়৷ এরই মধ্যে বোকো হারামের যোদ্ধারা পার্শ্ববর্তী গাম্বরু নাগলা এলাকায় কয়েক শ লোককে হত্যা করেছে৷ স্থানীয় সিনেটর আহমেদ জান্না জানান, ওই স্কুলছাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিতে স্থানীয় ঘাঁটির সেনাদের লেক শাদ এলাকার দিকে মোতায়েন করা হয়৷ এই সুযোগ কাজে লাগায় জঙ্গিরা৷ তালেবান জঙ্গিদের গুলিতে ২০১২ সালে আহত হওয়া নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই গত বুধবার বিবিসিকে বলেন, ‘নাইজেরিয়ায় ২০০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী অপহরণের পর বিশ্বকে মুখ বন্ধ করে থাকা ঠিক হবে না৷
আমরা নীরব থাকলে এ ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটতেই থাকবে৷’ জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান জঘন্য এই ঘটনার বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় নাইজেরিয়া ও আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর সমালোচনা করেন৷ নাইজেরিয়ার পুলিশ গত বুধবার ঘোষণা দেয়, ওই স্কুলছাত্রীদের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে কেউ সহায়তা করলে তিন লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে৷ নাইজেরিয়া সরকার উদ্ধার তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ওই স্কুলছাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তা করতে নাইজেরিয়ায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিভিশন চ্যানেল এবিসিকে বলেন, সামরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি মার্কিন দল ওই স্কুলছাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করবে৷ চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা কৃত্রিম উপগ্রহ ও গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য নাইজেরিয়াকে দিয়ে সহায়তা করবে৷ বোকো হারামের নেতা আবু বকর শেকাও সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় ওই স্কুলছাত্রীদের অপহরণের কথা স্বীকার করে তাদের দাসী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন৷ এএফপি, আল-জাজিরা ও বিবিসি৷