Wednesday, April 1, 2026

ইতিহাস আর বরফ পাহাড়ে মোড়ানো অনিন্দ্যসুন্দর ‘আসিয়াগো’ by ইসমাইল হোসেন স্বপন

প্রকাশ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ ইতালির উত্তরাঞ্চলে ভেনেতো অঞ্চলের ভিছেন্সা প্রদেশে অবস্থিত এক শান্ত পাহাড়ি জনপদ—আসিয়াগো। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ আর বরফে মোড়ানো এক নিস্তব্ধ স্বর্গভূমি। চারপাশে পাহাড়, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, কাঠের ঘর আর মেঘ ছোঁয়া আকাশ—যেন প্রকৃতি এখানে নিজ হাতে ছবি এঁকেছে।

শীতকালে এই অঞ্চল ঢেকে যায় ঘন সাদা তুষারে। তখন আসিয়াগো প্ল্যাটো রূপ নেয় ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন গন্তব্যে। স্কি ট্র্যাক, স্নোবোর্ডিং, কেবল কার আর পাহাড়ি রিসোর্টে ভিড় জমান পর্যটকেরা। ইতালি ছাড়াও অস্ট্রিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের নানা দেশ থেকে মানুষ ছুটে আসেন বরফ পাহাড়ের আহ্বানে।

তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ইউরোপীয় ইতিহাসের এক গভীর ও রক্তাক্ত অধ্যায়—যে ইতিহাস আজও পাহাড়ের নীরবতায় কথা বলে। আজ যে পাহাড়ে শিশুরা স্লেজ চালায়, যে উপত্যকায় পর্যটকেরা ছবি তোলে—ঠিক সেই জায়গাগুলোই এক শতাব্দী আগে ছিল মৃত্যুভয় আর গোলার শব্দে কাঁপতে থাকা ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্র।

আসিয়াগো প্ল্যাটো ছিল ইতালিয়ান ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ফ্রন্ট। দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চল দখল নিয়ে দীর্ঘদিন চলে ভয়ংকর লড়াই। প্রবল তুষারপাত, তীব্র শীত আর পাহাড়ি দুর্গমতায় অসংখ্য সৈন্য যুদ্ধ না করেই প্রাণ হারান।

আজও পাহাড়ি পথে হাঁটলে চোখে পড়ে সেই সময়কার ট্রেঞ্চ, বাংকার, গোলাবারুদের গর্ত আর পরিত্যক্ত সামরিক কাঠামো। প্রকৃতি অনেক ক্ষত ঢেকে দিলেও ইতিহাস পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি তার চিহ্ন।

আসিয়াগোর সামরিক স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত আছে প্রায় ৫৪ হাজার শহীদের নাম ও স্মৃতি। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিসৌধ যেন নীরবে জানিয়ে দেয়—এই সৌন্দর্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অগণিত তরুণের অপূর্ণ জীবন।

আসিয়াগোর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এখানে প্রকৃতি কথা বলে নীরব ভাষায়। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালে কোনো কোলাহল নেই, নেই শহরের ব্যস্ততা। শুধু বাতাসের শব্দ, দূরের গাছের ফিসফিস আর বরফের ওপর হাঁটার মৃদু আওয়াজ। এই নীরবতার মাঝেই ইতিহাস আরও গভীর হয়ে ওঠে। অনেক পর্যটক শুধু স্কি করতে আসেন, আবার কেউ কেউ আসেন ইতিহাস ছুঁয়ে দেখতে। বিশেষ করে ইউরোপের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা আসিয়াগোকে বেছে নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পাহাড়ি যুদ্ধকৌশল ও মানবিক বিপর্যয় বোঝার জন্য।

যুদ্ধের ইতিহাসের বাইরেও আসিয়াগোর রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। একসময় এই অঞ্চলে বসবাস করত Cimbrian জনগোষ্ঠী—যাদের ভাষা ও জীবনধারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। জার্মানিক উৎস থেকে আসা এই জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে পাহাড়ে বসবাস করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাষা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবু লোকগান, উৎসব, কাঠের ঘর নির্মাণশৈলী ও গ্রামীণ রীতিনীতিতে আজও সেই প্রাচীন সংস্কৃতির ছাপ রয়ে গেছে। স্থানীয় মানুষজন এখনো গর্বের সঙ্গে বলেন—আসিয়াগো শুধু একটি জায়গার নাম নয়, এটি একটি জীবনধারা।

আসিয়াগোর কথা বলতে গেলে একটি নাম আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়—আসিয়াগো চিজ। বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই চিজ শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, বরং পাহাড়ি মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক। স্থানীয় গরুর দুধ থেকে তৈরি এই চিজের স্বাদে যেমন রয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া, তেমনি আছে পাহাড়ি জীবনের ইতিহাস। আজও অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চিজ তৈরি করে আসছে। পর্যটকেরা আসিয়াগো ভ্রমণে এসে স্থানীয় খামার ঘুরে দেখেন, চিজ তৈরির প্রক্রিয়া শেখেন এবং সেই স্বাদ সঙ্গে করে নিয়ে যান স্মৃতি হিসেবে।

সময় বদলেছে, যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু আসিয়াগো অতীতকে ভুলে যায়নি। বরং ইতিহাসকে ধারণ করেই আধুনিক পর্যটনের পথে এগিয়েছে এই পাহাড়ি জনপদ। এখানে রয়েছে মিউজিয়াম, স্মৃতিপথ, যুদ্ধভিত্তিক হাইকিং ট্রেইল—যেখানে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকেরা ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন।

একদিকে আধুনিক স্কি রিসোর্ট, আরেক দিকে শতবর্ষ পুরোনো ট্রেঞ্চ—এই বৈপরীত্যই আসিয়াগোকে করে তুলেছে অনন্য। এখানে প্রকৃতি যেমন মানুষের মন ছুঁয়ে যায়, তেমনি ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির মূল্য।

বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, স্মৃতিসৌধ আর পাহাড়ি মানুষের সহজ জীবন—সব মিলিয়ে আসিয়াগো যেন সময়ের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক গল্প।

পুরুষের প্রতারণার ভয়ঙ্কর জাল

সম্পর্কে প্রতারণা অনেক সময় বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, ভেতরে তা ততটাই জটিল। শুধু আবেগঘটিত বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এতে জড়িয়ে থাকে মানসিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ ও হিসাবি মিথ্যাচার। সম্প্রতি প্রাইভেট ডিটেকটিভ তানিয়া পুরী এক ‘বিয়ের আগে অনুসন্ধানমূলক’ কেসের ঘটনা তুলে ধরেছেন। তা প্রকাশ করেছে এক পুরুষের প্রতারণার ভয়ংকর জাল। তানিয়া পুরী ‘মোমেন্ট অব সাইলেন্স’ পডকাস্টে বলেন, সম্প্রতি আমরা একটি প্রি-ম্যারিটাল কেস পেয়েছিলাম। ছেলেটি ছিল নিখুঁত- ভালো পড়াশোনা, ভালো আয়। কিন্তু মেয়েটি বলেছিল, কিছু একটা গড়বড় মনে হচ্ছে। প্রতিদিন, বিশেষ করে নবরাত্রির সময়, সে সন্ধ্যা ৭-৮টার মধ্যে কোথায় যেন উধাও হয়ে যেত। সে বলত, ‘না না, একটা অনুষ্ঠান আছে।’ আমরা তদন্ত করে দেখি, সে তার সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করছিল।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই ব্যক্তি একই সময়ে তিন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিল। তার একজন ছিলেন সাবেক প্রেমিকা। অন্যজনের সঙ্গে সে লিভ টুগেদার করতো এবং  তৃতীয়জনের সঙ্গে সে বিয়ে নিয়ে কথা বলছিল। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ছেলেটি টাকার জন্যও মানসিকভাবে প্রতারণা করত। তানিয়া জানান, সে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে টাকা নিতো এই বলে যে. তার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তারপর সেই টাকা দিয়ে লিভ টুগেদারে থাকা মেয়েটিকে উপহার দিত।

মনোবিজ্ঞানী রাশী গুরনানি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, যখন কেউ জানতে পারে তার সঙ্গী একই সঙ্গে একাধিক সম্পর্কে যুক্ত, তখন তা তীব্র মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে। লজ্জা, রাগ, বিভ্রান্তি ও গভীর শোক অনুভূত হয়। এতে দেখা দেয় ‘কগনিটিভ ডিসোন্যান্স’। অর্থাৎ যা বিশ্বাস করতাম তার সঙ্গে বাস্তবতার সংঘর্ষ। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতায় আত্মবিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের ওপর আঘাত লাগে। ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোতেও ভীতি ও অবিশ্বাস জন্ম নিতে পারে। সুস্থ হওয়ার পথ শুরু হয় নিজেকে দোষ না দেয়া ও সত্য স্বীকার করা দিয়ে। ধীরে ধীরে নিরাপদ ও স্বচ্ছ সম্পর্কের মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠন, থেরাপির সাহায্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মসম্মান পুনরুদ্ধারের চর্চা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ অনেক সময় নার্সিসিস্টিক (আত্মমুগ্ধ) বা অ্যান্টিসোশ্যাল প্রবৃত্তি থেকে আসে। যেখানে সহমর্মিতা অনুপস্থিত, আর সম্পর্ককে দেখা হয় লেনদেনের মতো এক ব্যবসা হিসেবে। রাশী গুরনানি বলেন, সব ক্ষেত্রে এটা নার্সিসিজম নয়। কখনো কখনো অপূর্ণ মানসিক নিরাপত্তা, শৈশবের অনিরাপত্তা বা আত্মঅপূর্ণতার জটিলতা থেকেও মানুষ একাধিক সম্পর্কের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা স্বীকৃতি খোঁজে। এটি মানসিক অপরিপক্বতা ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভাবের লক্ষণ। মনোবিজ্ঞানী গুরনানির মতে, প্রাথমিক সতর্কসংকেতগুলো হলো- কথায় অসঙ্গতি। প্রশ্ন করলে প্রতিরক্ষামূলক আচরণ। বারবার ‘অপ্রাপ্য’ থাকা। অতিরিক্ত আকর্ষণীয় আচরণ বা ‘লাভ বম্বিং’। সূক্ষ্ম মানসিক প্রভাব। যেখানে আপনার অনুভূতিকেই আপনাকে সন্দেহ করানো হয়। তিনি পরামর্শ দেন, নিজের অন্তদৃৃষ্টির অস্বস্তিকে বিশ্বাস করুন। আবেগগত স্বাধীনতা বজায় রাখুন। বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিবর্তে আচরণের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করুন। বিশ্বস্ত বন্ধু বা থেরাপিস্টের সঙ্গে আলোচনা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- শুরুতেই স্পষ্ট সীমারেখা টানুন, যাতে প্রতারণা গভীর হওয়ার আগেই নিজেকে রক্ষা করা যায়।

https://mzamin.com/uploads/news/main/187224_Abul-12.webp

মহাকাশ গবেষণা: চাঁদে অভিযানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইলন মাস্ক ও বেজোস

যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের পাল্লা দিয়ে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি চন্দ্রঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। আর আরেক ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন সংস্থা ব্লু অরিজিন তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছে। ২০৩০ সালে চীনের পরিকল্পিত চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর নিজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে সংস্থা দুটি।

ইলন মাস্ক সাম্প্রতিক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ও কোম্পানির বৈঠকে বলেছেন, তিনি চাঁদে ‘মুনবেজ আলফা’ নামে একটি ঘাঁটি গড়তে চান। পাশাপাশি চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযন্ত্র বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এই ঘাঁটি তাঁর পরিকল্পিত এআইভিত্তিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ওই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট যুক্ত থাকতে পারে।

চাঁদমুখী এই জোরালো পরিকল্পনা স্পেসএক্সের মঙ্গল গ্রহমুখী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০২ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্ক নিয়মিতভাবে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। এমনকি গত গ্রীষ্মেও তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলে মনুষ্যবিহীন একটি স্টারশিপ মহাকাশযান পাঠাতে চান। অথচ ইলন মাস্ক এখন বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে চাইছেন যে স্পেসএক্স মহাকাশ খাতে আধিপত্য বজায় রাখবে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিনও তাদের চন্দ্রাভিযান–সংক্রান্ত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চলতি বছর চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

চলতি বছর ব্লু অরিজিন চাঁদে মনুষ্যবিহীন নভোযান পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছে, সেটিকে ভবিষ্যতে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাসার ওই কর্মসূচি পরিচালনায় স্পেসএক্স–এর স্টারশিপ মহাকাশযানের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হচ্ছে। সিয়াটলভিত্তিক এই কোম্পানির চন্দ্রযানটিকে গত সপ্তাহে জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উৎক্ষেপণের আগে চন্দ্রযানটি ঠিকঠাক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স—দুটি কোম্পানিই নাসার কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে চন্দ্রাভিযানের জন্য অবতরণ যান তৈরি করছে। নাসা এসব যান ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে নভোচারী চাঁদে পাঠাতে চায়, যার শুরু হবে স্পেসএক্সের স্টারশিপ দিয়ে।

প্রথম ১৯৬৯ সালে সফলভাবে চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল নাসা। এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ১২ জন মার্কিন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছিলেন।

নাসা মনে করে, আবার চাঁদে অভিযান চালানোটা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে ইলন মাস্ক সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে চাঁদে একটি অবস্থান কেন্দ্র গড়তে চান এবং সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চান।

মহাকাশবিষয়ক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রোকিউরএএম–এর প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু চানিন মনে করেন, চাঁদ যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথের সূচনাকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং স্পেসএক্স আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে সেই অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহৃত হবে না হবে, তা ঠিক করতে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

স্পেসএক্স–এর উৎক্ষেপণ যান স্টারশিপ রকেট এখনো কক্ষপথে কোনো কিছু স্থাপন করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে এটিকে ১১ বার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। রকেটটির ওপরের ধাপটি চাঁদে অবতরণ যান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালে চাঁদে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহাকাশ শিল্পে জড়িত অনেকের ধারণা, এই সময়সীমা পূরণ করা কঠিন হবে।

স্টারশিপকে চাঁদে অবতরণের যান হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে স্পেসএক্সকে আরও অনেকগুলো ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কক্ষপথে আরেকটি ‘ট্যাংকার’ স্টারশিপের মাধ্যমে জ্বালানি ভরার পদ্ধতি অনুশীলন এবং মানুষের যাত্রার আগে চাঁদের অসমতল পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা প্রমাণ করা।

মাস্ক ও বেজোসের মধ্যকার প্রতিযোগিতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রাভিযানে জড়িত নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। লুনার আউটপোস্ট নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন সাইরাস বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ২০ জন বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’

সাইরাসের কোম্পানি ভবিষ্যতে চাঁদে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একটি রোভারকে চন্দ্রপৃষ্ঠে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে চাঁদকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর ইলনের (মাস্ক) ঘোষণায় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস
ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস