Sunday, December 21, 2025

জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতা ছাড়া এত বিভেদ-সংকটে দেশ চলতে পারে না: মতিউর রহমান

জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এত বিরোধ, এত বিভেদ, এত সংকট নিয়ে কোনো দেশ টিকতে পারে না। কোনো সরকারও কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মতিউর রহমান। আজ রোববার দুপুরে র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও-টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করে ‘তারেক রহমান-স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি’। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভায় মতিউর রহমান বলেন, দেশে একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বিপজ্জনক। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আরও আগে দেশে ফেরা সম্ভব হলে বিএনপি ও দেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রথম আলো সম্পাদক।

মতিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এখনো দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং নির্বাচনে তারা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব, আচরণ ও বিনয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’ তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও মানুষের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। কিছু জায়গায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় বলে মনে করেন মতিউর রহমান। বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, বিএনপির শাসনামলে সংবাদপত্র খুব স্বস্তিতে ছিল—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে তুলনামূলকভাবে সে সময়টি ছিল কিছুটা বেশি সহনশীল। অন্যদিকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫-১৬ বছরে সংবাদপত্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ভীতি ও চাপের মধ্য দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, ‘এই সময়টাতে শুধু প্রথম আলো নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছিল ভয়ংকর।’ এ সময় ডিজিএফআইসহ (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ, মালিকানা বদল, সম্পাদক পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তরের চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই হবে না; সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে একটি জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। এত বিভক্ত সমাজ নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না।

সরকার যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক পথে এগোতে চায়, তাহলে সংবাদপত্রের সমালোচনা শুনতে হবে উল্লেখ করে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘শুনবেন, জানবেন—মানবেন কি না, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু না শুনলে ভুলের পুনরাবৃত্তি হবেই।’

সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে। ছবি: প্রথম আলো

চীনের হুমকি মোকাবিলা: তাইওয়ানকে রেকর্ড ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে এক চুক্তির অধীন তাইওয়ানে ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানের ইতিহাসে এটিই মার্কিন অস্ত্র বিক্রির সবচেয়ে বড় চুক্তি। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তাইওয়ানের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অস্ত্র বিক্রির দ্বিতীয় বড় ঘটনা এটি। এমন এক সময়ে এ ঘোষণা এল, যখন বেইজিং সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করার কথা কখনো অস্বীকার করেনি দেশটি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। এ নিয়ে আশপাশের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় আট ধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’, হাউইটজার কামান, জ্যাভলিন ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত আত্মরক্ষা ও শক্তিশালীভাবে দ্রুত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাইওয়ানকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, এ অস্ত্র বিক্রির মূল উদ্দেশ্য, তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন ও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে তাইওয়ান তার সশস্ত্র বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের সক্ষমতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর অর্থ ছোট, সস্তা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ড্রোন বা মোবাইল রকেট ব্যবহার করে চীনের বিশাল বাহিনীকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এ সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমেই আমরা শান্তি রক্ষা করতে চাই এবং নিজেদের রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

গত মাসে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ঘোষণা করেন, ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলার জন্য ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদিত হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় নেই।

তাইওয়ানের বার্ষিক সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’
তাইওয়ানের বার্ষিক সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আর কাউকে সুযোগ দেয়া হবে না : ইসি সানাউল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এখন থেকে যৌথবাহিনীর কঠোর অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, মেসেজ ক্লিয়ার, কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

সানাউল্লাহ বলেন, অভিযান চলমান আছে। আমরা বলেছি, এটা নিয়মিতভাবে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। প্রতিদিনই প্রায় দুই হাজার জন করে গ্রেপ্তার হচ্ছে।

তিনি  বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন।
এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনায় বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়।

সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনী প্রধান বা তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার অংশ নেন।
বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এরও আগে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

mzamin

‘আমরা বাংলাদেশি নই, ভারতীয়- কেন আমাদের সঙ্গে এমন হচ্ছে?’

বিবিসি’কে ভুক্তভোগীঃ ভারত থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো ২৫ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী সুনালি খাতুন। গত জুনে তাকে বাংলদেশে পাঠানো হয়। বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি ভয়ে ছিলাম, বাংলাদেশে সন্তান জন্মালে ওর নাগরিকত্ব বদলে যাবে। নিজ দেশে চাপের মুখে এই নারীকে এ মাসের শুরুতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত।

বিবিসির খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ও দিল্লিতে গৃহপরিচারিকার কাজ করা সুনালি খাতুনকে তার স্বামী দানিশ শেখ ও আট বছরের ছেলেকে নিয়ে জুনে দিল্লি পুলিশ আটক করে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষও তাদের জেলেও পাঠায়।
সুনালির এই নির্বাসনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কড়া ভাষায় এর নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ কোনো কারণ ছাড়াই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সুনালি ও পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তার সঙ্গে গত কয়েক মাসে অবৈধ অভিবাসনের সন্দেহে কয়েকশত মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

দিল্লি এ বিষয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও, বাংলাদেশের শীর্ষ সরকারি সূত্র আগে বিবিসিকে জানিয়েছে, শুধু মে মাসেই প্রায় ১২০০ জনকে অবৈধভাবে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করানো হয়েছে। একই সময়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও জানায়, দিল্লি থেকে প্রায় ৭০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ৪০৯৬ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। বহু বছর ধরেই এই অঞ্চলে কাজের সন্ধানে বা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে মানুষের যাতায়াত হয়ে আসছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করা হচ্ছে এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না।
দিল্লির ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস দাবি করে যে তাদের কাছে ভারতে বৈধভাবে বসবাসের প্রয়োজনীয় নথি নেই। কিন্তু সুনালি খাতুন জানিয়েছে এই অভিযোগ মিথ্যা। তারা বৈধ ভারতীয়। তার সাত বছরের মেয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকায় আটক হওয়ার সময় পরিবারের সঙ্গে ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীর দাবি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে যাচাই করার কথা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সমীরুল ইসলাম জানান, সুনালির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তার ছেলেকে ভারতে ফেরার অনুমতি দেয়। যদিও তাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তদন্ত এখনও চলছে। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গে তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন। জামিনে মুক্তি পেলেও তার স্বামী এখনও বাংলাদেশে আটক আছেন।

সুনালি জানান, ভারতে ফিরতে পেরে তিনি স্বস্তি পেলেও স্বামীকে নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তিন মাসের বেশি সময় ধরে তিনি স্বামীর মুখ দেখেননি। ভিডিও কলে স্বামী প্রায়ই ভেঙে পড়েন এবং দেশে ফিরতে চান বলে জানান। তিনি অভিযোগ করেন, আটক হওয়ার এক সপ্তাহ পর বিএসএফ সদস্যরা তাদের সীমান্তবর্তী একটি জঙ্গলে নামিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠান। পরে ভারতে ফেরার চেষ্টা করলে তার স্বামীসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা ঢাকায় পৌঁছালেও পরে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। সুনালির দাবি, গর্ভবতী অবস্থায় জেলের খাবার ছিল অপর্যাপ্ত এবং সেলে কোনো শৌচালয়ও ছিল না। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একটি একচালা ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন সুনালি। দুই সন্তান ও অনাগত শিশুকে নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে জানান তিনি। এখানে না খেয়ে থাকলেও দিল্লিতে আর কখনও ফিরব না, বলেন সুনালি খাতুন।

mzamin

হাদির মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ

বিদেশি মিডিয়ার খবরঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বিবিসি, আল জাজিরা, বার্তা সংস্থা রয়টার্স, টিআরটি ওয়ার্ল্ড থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোতে ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গণমাধ্যমের শিরোনাম প্রায় একই।

বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসির শিরোনাম- তরুণ নেতার মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়,সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া এক তরুণ নেতার মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে নামাজ শেষে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে বৃহস্পতিবার সেখানে মারা যান তিনি। জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরের দিনই তাকে গুলি করা হয়। বিবিসির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই সহিংস হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কিছু মানুষ দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি জাতীয় দৈনিক- প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন দেয় ও ভাঙচুর চালায়।

রয়টার্সের শিরোনাম-
ছাত্রনেতার মৃত্যু ঘিরে অস্থিরতা, উত্তাল বাংলাদেশ। খবরে বলা হয়, তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাংলাদেশ জুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভবনে চালানো নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে যে, বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যানারে একদল মানুষ দেশের সর্বাধিক প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। সেখানে তারা হাদির নামে আবেগ ঘন স্লোগান দেন। এই সহিংসতা দমনে পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার কথাও লিখেছে বার্তা সংস্থাটি।

আল জাজিরার শিরোনাম ছিল সাদামাটা। তারা লিখেছে- সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-নেতার ‍মৃত্যু। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের চব্বিশর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হাদি আঘাতের কাছে পরাজিত হয়েছেন। ওই খবরে আরও বলা হয়,৩২ বছর বয়সী হাদি ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের মিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতের একজন কট্টর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের শিরোনাম- তরুণ নেতাকে হত্যা, বাংলাদেশে বিক্ষোভ। খবরে বলা হয়, তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাজধানী ঢাকায় হাজারো বিক্ষোভকারীর ঢল নামে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি। তিনি চব্বিশের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। গত সপ্তাহে রাজধানীতে তাকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। হাদির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়া জনতা তার নামে আবেগঘন স্লোগান দেয়। পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দায়ীদের দ্রুত বিচার ও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের শিরোনাম- হাদির মৃত্যুতে উত্তপ্ত বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগের কার্যলয়ে আগুন। খবরে বলা হয়েছে,শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মৃত্যুতে শাহবাগে জড়ো হন হাজারো জনতা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ একটি দল দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ের ভেতরে তখন কয়েকজন আটকা পড়ে যান। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ভবন দুটিতে ভাঙচুর চালিয়ে পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, দুইটি ভবনের বাইরে সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হলেও তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ডেইলি স্টার ভবনের বাইরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়।

এনডিটিভির শিরোনাম- গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ছাত্রনেতা হাদির মৃত্যু। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হত্যাচেষ্টায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হাদি আঘাতের কাছে পরাজিত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাদির মৃতদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে  ঢাকাকে সহায়তা করছে সিঙ্গাপুর। গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জিওনিউজের শিরোনাম-
সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মারা গেছেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা হাদি। খবরে বলা হয়, হত্যাচেষ্টার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার পর মারা গেছেন চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুকে হাদির মৃত্যুর খবর জানিয়ে লিখেছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আল্লাহ মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।

mzamin

মিসরের সঙ্গে সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারের গ্যাস চুক্তির ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিসরের সঙ্গে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের গ্যাস চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় একটি মার্কিন কোম্পানির মাধ্যমে মিসরে গ্যাস সরবরাহ করবে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু এমন একসময়ে এ ঘোষণা দিলেন, যখন দেশ দুটির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই গ্যাস চুক্তির কথা জানান। এটাকে তিনি ‘ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, চুক্তির অর্থমূল্য ১১ হাজার ২০০ কোটি শেকেল (প্রায় ৩ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার)।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি শেভরন ইসরায়েল থেকে মিসরে গ্যাস সরবরাহের কাজ করবে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের মর্যাদা অনেকে বেড়ে যাবে। এটা আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে। এ চুক্তির ফলে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক জলসীমায় অন্যান্য কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে।’

এ চুক্তির বিষয়ে জানেন ইসরায়েলের এমন একটি সূত্র জানায়, চুক্তিটি অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন স্থগিত করে রেখেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে তারা চুক্তিটির অনুমোদন দিতে বাধ্য হলো।

নেতানিয়াহু ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বিস্তৃত করা।

ইসরায়েলের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি নিয়ে মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। চুক্তির বিষয়ে জানতে, সিএনএনের তরফে মিসরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে কোনো তথ্য পায়নি।

ইসরায়েল ও মিসর ১৯৭৯ সালে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়ে প্রথম আরব দেশ হিসেবে মিসরই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। কিন্তু দেশ দুটির শীর্ষনেতারা প্রায় এক দশকে প্রকাশ্যে দেখা করেননি।

ইসরায়েলের আরেকটি সূত্র জানায়, গ্যাস চুক্তির ঘোষণা মূলত নেতানিয়াহু ও সিসির মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরির অংশ।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফাইল
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স

অন্য এক পৃথিবীর ক্যালেন্ডার by ওথমান হুসেইন

এই শব্দগুলো লেখা হচ্ছে যখন, তখন ২৪তম দিনটি নিজেই নিজের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। অপরাধগুলো ইতিহাসের মুখে ছুড়ে দিয়ে বিদায় নিচ্ছে এ দিনটি। দুপুর থেকে যে নিস্তব্ধতা শুরু হয়েছিল দিনের শেষ দুই ঘণ্টায় আমি সেই একই ধরনের নিস্তব্ধতা অনুভব করলাম। এই নিস্তব্ধতা টিকে থাকবে ২৫তম দিনের সন্ধ্যা পর্যন্তও। আগামীকাল একটি নতুন দিনের সূচনা হবে। একটি নতুন সংখ্যা সামনে আসবে। আমরা জানি না এদিনের কি স্মৃতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

ড্রোনের গুঞ্জন চারদিকে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দটি অবিরাম শোনা যাচ্ছে। তাতে অন্যরকম এক পটভূমি হয়ে উঠেছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি কোণে প্রবেশ করেছে তা। আমাদের দিনগুলোর অন্তঃস্থলে জায়গা করে নিয়েছে এই ড্রোনের গুঞ্জন। বাহিয়া আজ রাতে কোনো বিস্ফোরণের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করেনি আমাকে; হয়তো এটা জিজ্ঞাসা করলে এবং এর ব্যাখ্যা শুনলে তার মেজাজ নষ্ট হয়ে যেত। সে এখন একটি পছন্দের গান গুনগুন করে গাইছে। তার পাশে ফোন রাখা। তার উপস্থিতি পুরো ঘরটিকে দখল করে রেখেছে।
অবিরাম খবর আসছে অবিরাম। খবরের পর খবর। থামার কোনো নামই নেই। সকাল থেকে বিমানের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি সেই শব্দ। মানবিক সহায়তার করিডর নিয়ে অনেক কথা চলছে- এই প্রতারণাময় নীরবতাই কি সেই করিডরের প্রস্তুতি?

যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আমরা গণনা শুরু করেছি। আশঙ্কা উপরের দিকে বাড়তে থাকা এক গণনা। দিনগুলো কেবল সংখ্যায় পরিচিত হয়ে উঠলো। উদাহরণস্বরূপ, আমার বাড়িতে আর্টিলারি গোলার আঘাত করা হয় তৃতীয় দিনে। অন্য সব দিনও বাঁধা রইল বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে- এইদিন বা সেই দিনের ভেতরে সংঘটিত বিভীষিকার স্মৃতিতে।
বিশতম দিনে, বিশ্ব দেখেছিল কীভাবে গোটা পরিবার নাগরিক নিবন্ধন থেকে মুছে দেয়া হয়েছে এক নিদারুণ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে। এখানে প্রতিটি দিন নাগরিকরা রেজিস্ট্রি ধ্বংসের সাক্ষী হয়ে উঠছিল। পুরো পাড়া-মহল্লা মুছে গেছে মানচিত্র ও ইতিহাস থেকে এবং বিশ্ব সেই ধ্বংসযজ্ঞও প্রত্যক্ষ করেছে।
৩০ অক্টোবর, ২০২৩
(লেখক ওথমান হুসেইন গাজার রাফাহভিত্তিক একজন ফিলিস্তিনি কবি। তিনি ‘আশিতার’ সাহিত্য পত্রিকার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘আশিতার এসোসিয়েশন ফর কালচারাল অ্যান্ড আর্টস’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্যালেস্টাইনি রাইটার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বিসান মিডিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিসান মিডিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ‘রাফাহ অ্যালফাবেট অব ডিসট্যান্স অ্যান্ড মেমরি (১৯৯২)’। ‘দ্য সিজ অ্যাপোলোজাইজ ফর ড্রোউনিং (১৯৯৩)’। ‘হু উইল কাট দ্য হেড অব দ্য সি (১৯৯৬)’। ‘ফর ইউ (২০০০)’। ‘দ্য থিংস লেফট টু দ্য ব্লু (২০০৪)’। ‘অ্যাজ ইফ আই অ্যাম রোলিং গ্যালাক্সিজ (২০১২)’। ‘দ্য ভিকটিমস গার্ডিয়ান (২০২৩)’। দক্ষিণ গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় তার পারিবারিক ঘরটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও তিনি যুদ্ধ চলাকালীন গাজাতেই থেকে গেছেনÑ শব্দের ভেতর বেঁচে আছেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কবিতার কণ্ঠস্বর হয়ে। লেটারস ফ্রম গাজা বই থেকে)।

লেখক: ওথমান হুসেইন অনুবাদ: মোহাম্মদ আবুল হোসেন

https://mzamin.com/uploads/news/main/183103_2.webp