Monday, April 7, 2025

রাফায় অবশিষ্ট ভবনও গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল, নিহত ২৭

ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে। এতে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের অনেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। সে সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম রাফায় আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। রোববার (৬ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গাজা উপত্যকায় একাধিক ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শহরের পশ্চিম অংশ রাফায় আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে তেল আল-সুলতান পাড়ায় সব নিঃশেষ করে ফেলছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। তারা গত ২৩ মার্চ থেকে এলাকাটিতে ভয়াবহ সামরিক আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং বাফার নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে এলাকাটি অবরুদ্ধ করে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

নিহতদের বিষয়ে গাজার চিকিৎসা সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, সর্বশেষ বিমান হামলায় গাজা শহরের পূর্বে আল-শুজাইয়া পাড়ায় তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, একই পাড়ায় আল-সালাম মসজিদের কাছে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে কামানের গোলাবর্ষণে আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে বানি সুহেলা শহরে বেসামরিক লোকদের একটি দলকে লক্ষ্য করে হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় একদল লোককে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অপর একটি মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে বেইত হানুনের আল-নাইমা স্ট্রিটে ফিলিস্তিনিদের একটি দলকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাকিরা গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলার শিকার হয়ে নিহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫০ জন জিম্মি হয়েছিল। জিম্মিদের উদ্ধার এবং হামাস নির্মূলে হামলা আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। 

ইসরায়েলি হামলায় ধোঁয়া উড়ছে। ছবি : সংগৃহীত

ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে সমর্থন জানালেন কমালা হ্যারিস

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বিলিয়নেয়ার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই সঙ্গেই এক্সিকিউটিভ অর্ডার বা নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক দেশ। এবার নিজের দেশেই বিক্ষোভের মুখে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মানুষ পথে নেমেছেন।

ট্রাম্পের এই নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে  ‘হ্যান্ডস অফ’ বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন তারা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া হ্যারিস ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমেরিকানদের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে তাদের কণ্ঠস্বর 'অনির্বাচিত বিলিয়নেয়ারদের' চেয়েও জোরালো হবে। এক্সে একটি পোস্টে হ্যারিস লিখেছেন, 'আজ আমাদের দেশের প্রতিটি রাজ্যে, আমেরিকানরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে কারণ তারা পূর্ণ গতিতে প্রজেক্ট ২০২৫ বাস্তবায়ন করছে। তাদের এই বিক্ষোভ ‘সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার , শিক্ষা বিভাগ এবং হেড স্টার্টের মতো কর্মসূচির পক্ষে; বিশুদ্ধ বাতাস এবং পানির পক্ষে; সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে  আপনার কণ্ঠস্বর এবং শক্তি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তাতে ক্ষুব্ধ হাজার হাজার আমেরিকান শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। রিপাবলিকানদের ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। নাগরিক অধিকার সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ, অ্যাডভোকেট,  নির্বাচনী কর্মীসহ ১৫০ টিরও বেশি গোষ্ঠী ৫০টি রাজ্যের ১,২০০ টিরও বেশি স্থানে ‘হ্যান্ডস অফ’ বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের কোনও খবর পাওয়া যায়নি

যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, পর্তুগাল, মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকোর মতো বেশ কয়েকটি দেশে স্যাটেলাইট বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছিল। আমেরিকায়, নিউ ইয়র্কের মিডটাউন ম্যানহাটন থেকে শুরু করে অ্যাঙ্কোরেজ, আলাস্কা এবং ওয়াশিংটন পর্যন্ত শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প এবং বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের সরকারী কর্তৃত্ব হ্রাস, অর্থনীতি, অভিবাসন এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। টেসলা, স্পেসএক্স এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স পরিচালনাকারী ট্রাম্পের উপদেষ্টা মাস্ক, নবনির্মিত ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির প্রধান হিসেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে একরোখা মনোভাব দেখিয়ে চলেছেন। তিনি বলেছেন যে, কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে করদাতাদের কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় করছেন। বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি সর্বদা যোগ্যদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার প্রদান করবেন। ডেমোক্র্যাটরা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার সুবিধা প্রদান করেছে। এই প্রোগ্রামগুলো আমেরিকাকে দেউলিয়া করে দেবে এবং দেশের  প্রবীণদের বঞ্চিত করবে।’

সূত্র  এনডিটিভি

mzamin


‘বিশ্বায়নের সমাপ্তি’ ঘোষণা করতে পারেন স্টারমার

বিশ্বায়নের সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে বিশ্ববাজারে এখন যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে তাতে বিশ্বায়নের ধারণা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দ্য টাইমসের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হয়ত তিনি স্বীকার করবেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পর বিশ্বায়নের যে যুগ শুরু হয়েছিল তা এখন ব্যর্থ হতে চলেছে। এও স্বীকার করবেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জাতিয়তাবাদ কেন তার সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেননা তারা বিশ্বাস করেন মুক্ত বাণিজ্য এবং গণ-অভিবাসন তাদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি।

বৃটেন সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টাইমসকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নূন্যতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পদক্ষেপের সঙ্গে একমত নন বৃটেনের সরকার। কেননা স্টারমারের সরকার জানে নতুন করে যে যুগের সূচনা হয়েছে তাতে ট্রাম্পের নীতির পক্ষে বিশাল সমর্থন রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এমন কিছু করেছেন যার সঙ্গে লেবার সরকার একমত নয়। কেননা এর পেছনে একটি কারণ রয়েছে। সেটি হচ্ছে- পৃথিবী এখন বদলে গেছে, বিশ্বায়নের যুগ শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন নতুন যুগে আছি। নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন ওই নেতা।

তিনি বলেছেন, সংস্কারবাদী লেবার সরকার হয়ত দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য এর ব্যাখ্যা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের পর সোমবার প্রথমবারের মতো জনপরিসরে কথা বলবেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হয়তবা তিনি স্বীকার করবেন বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ-পক্ষের সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বৃটেনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইতিমধ্যেই দেশের প্রবৃদ্ধি-বান্ধব পরিকল্পনা ঘোষণা কথা জানিয়েছেন বৃটেন সরকার। এ সপ্তাহের শেষের দিকে এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সরকারের নতুন শিল্প কৌশল জোরদার করা।

mzamin

ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর আওয়ামী শিবিরে প্রচণ্ড হতাশা

ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর প্রচণ্ড হতাশা আওয়ামী শিবিরে। শুরুতে বলা হয়েছিল, বৈঠকের আদৌ কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ মুহূর্তে অনেকটা নাটকীয়ভাবে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তাও বিশ মিনিটের স্থলে চল্লিশ মিনিটে গিয়ে পৌঁছায়। যদিও বৈঠকে আহামরি কোনো ফলাফল আসেনি। তবে, দুজনের সাক্ষাৎ ছিল আলোচিত, রহস্যেভরা। বৈঠকের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এক নাগাড়ে বলে আসছিল মোদির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি নরেন্দ্র মোদি নিজে যে টুইট করেছিলেন তাতেও বৈঠক সম্পর্কে কোনো আভাস-ইঙ্গিত ছিল না। প্রফেসর ইউনূসের চীন সফর এবং সেভেন সিস্টার্স নিয়ে তার খোলামেলা বক্তব্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়। ভারত প্রকাশ্যেই হতাশা ব্যক্ত করে। এসব কারণে বৈঠকটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।  কিন্তু কীভাবে হলো এই বৈঠক। শুধু কি ভারতীয় হাইকমিশন বলল আর বৈঠকটি হয়ে গেল? তা কিন্তু নয়। যতটুকু শোনা যাচ্ছে, একটি তৃতীয় পক্ষের আগ্রহেই ‘সোফা বৈঠকে’ রাজি হয় ভারত। এই পক্ষটা কে বা কারা- তা জানা সম্ভব হয়নি। ঢাকার কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা কথাই চাউর হয়ে আছে।

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন যথার্থই বার্তা পাঠিয়েছিল। যেভাবে বাংলাদেশের মানুষজন ভারতবিরোধী হয়ে যাচ্ছে তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে পাকিস্তানের মতো পরিবেশ হয়ে যেতে পারে। ভারত তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছে। এখন তারা বলছে, কোনো একটি দল নয়, তারা জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। যাইহোক, বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়েও কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, ভারত বিশ্বাসই করতে পারেনি প্রফেসর ইউনূস এভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পন চেয়ে বসবেন মুখোমুখি অবস্থানে থেকে। তারা ভেবেছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশের তরফে যে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে তাই যথেষ্ট। নরেন্দ্র মোদির সামনে বসে প্রফেসর ইউনূস সরাসরি তার প্রত্যর্পণ চাইবেন না। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে।

হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এখন ভারতে। অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ‘ম্যানেজ’ করে থাকার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে নতুন এক খেলা শুরু হয়েছে। বাড়িঘরে দেয়া হচ্ছে আগুন। যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়। স্থিতির জন্যও অনুকূল নয়। কারা এই খেলায় মেতেছে তদন্ত হওয়া দরকার। এ নিয়ে নানা গল্প চালু আছে। ভারতে যারা পালিয়ে আছেন তারমধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।  অনেকে আবার অপেক্ষায় আছেন।  পরিস্থিতি যদি পাল্টায় অথবা যদি দ্রুত নির্বাচন হয় তাহলে হয়তো ফিরে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের তিক্ততার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গটি এসেছিল। বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে এগুলো অনেকটাই প্রোপাগান্ডা। বাস্তব পরিস্থিতি তা নয়। নরেন্দ্র মোদিকে এমনটাই বলে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ সম্পর্কে  যেসব খবরাখবর আসে তাও বৈঠকে অন্যতম প্রসঙ্গ হয়ে ওঠে। ভারত তার অবস্থান থেকে নড়েনি। এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি যে, মুহূর্তেই এই প্রোপাগান্ডাগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে। কূটনৈতিক বৈঠকগুলোতে কতকিছুই তো আলোচনা হয়। দু একটি বিষয় সবার নজর কাড়ে।  শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েই এখন সবচাইতে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তাহলে কি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পন ইস্যুটি দ্রুতই ফয়সালা হবে? ওয়াকিবহাল কূটনীতিকেরা বলছেন, এমন সম্ভাবনা নেই। তবে ভারত যে আন্তর্জাতিক চাপে পড়বে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভারত দ্রুত নির্বাচনের কথা বলেছে। যেটা বাংলাদেশের জনগণেরও প্রত্যাশা।

একটি নির্বাচনের জন্য বছরের পর বছর মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে। ভালো নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাংলাদেশের চলমান সংকটের সমাধান দিতে পারে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। অনেকে অবশ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পুরনো কৌশল নিয়েই খেলছেন পর্দার আড়ালে।  ওদিকে বাংলাদেশ যে বদলে যাচ্ছে তার কিছু আলামত আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে স্থান পাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন এক কথায় খারিজ করে দেয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ভাববার যে কারণ রয়েছে এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। 

ইসরায়েলের পাশে কারা? সৌদিসহ আরব দেশগুলোর ভূমিকা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ?

ইসরায়েলের চারপাশ ঘিরে থাকা মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্বার্থ, রাজনৈতিক চুক্তি ও অর্থনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্কের রূপ পাল্টেছে।

একদিকে ফিলিস্তিনে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে যখন মানবিক বিপর্যয় চলছে, তখন কিছু আরব দেশ ইসরায়েলকে সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই সহযোগিতা কীভাবে ইসরায়েলকে আরও আগ্রাসী করে তুলছে?

শুরুতে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। চুক্তির পর, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘থার্ডআই সিস্টেমসে’ ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে, যা ইসরায়েলের অস্ত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

মিসর ও জর্ডান, যারা পূর্বেই ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে, তারাও অর্থনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ থেকেছে। মিসর ২০২৪ সালে ইসরায়েলে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি ১২% বাড়িয়েছে। আর জর্ডান কৃষি ও পানি সম্পদের বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলেও, ইরানের হুমকির মুখে ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন গোয়েন্দা সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন জানায়। ২০২৪ সালে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করতে সৌদি ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক বিমান। এটি ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সুবিধা দিয়েছে।

এছাড়া, বাহরাইন ও মরক্কো আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। এভাবে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে আরও বৈধতা দিতে পেরেছে।

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আরব দেশগুলোতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সরবরাহের অন্যতম উৎস হতে পারে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস ও কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহন ও সরঞ্জাম জোগানের অভিযোগ উঠেছে।

তুরস্ক, যদিও ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে, তথাপি গাজায় হামলার সময়েও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তুরস্কের বন্দর থেকে ইসরায়েলে পণ্য এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ হয়েছে।

ইরানবিরোধী অবস্থানই ইসরায়েল-আরব ঘনিষ্ঠতার মূল চালিকা শক্তি। সৌদি আরব, আমিরাত এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী।

জর্ডান ও মিসরের মতো দেশগুলো সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশের এসব সহযোগিতা সরাসরি জনসমর্থন পাচ্ছে না। বরং আরব জনগণের বড় একটি অংশ ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। সরকারগুলো তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এসব সম্পর্ক গোপন রাখে বা প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিমুখী নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ—এই দ্বন্দ্ব আরব বিশ্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ইসরায়েলের চারপাশে মুসলিম দেশগুলো থাকার পরও, আঞ্চলিক রাজনীতি ও কৌশলগত সমীকরণে সেই দেশগুলোর ভূমিকাই এখন তেল আবিবকে আরও সাহসী করে তুলেছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে যে সহযোগিতা ইসরায়েল পাচ্ছে, তা শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ধাক্কা তৈরি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন থেকে যায়—ইসরায়েলকে শক্তিশালী করে কে বা কারা দাঁড়াচ্ছে মানবতার বিপরীতে?

একদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ—এই দ্বন্দ্ব আরব বিশ্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ছবি : সংগৃহীত
একদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ—এই দ্বন্দ্ব আরব বিশ্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ছবি : সংগৃহীত



‘এবার বাঁচার আশা নেই’ : ধ্বংসস্তূপে বসে গাজাবাসীর শেষ বাক্য

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণ এবং হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের শেষ বার্তা ও বিদায় চিঠি লিখে রেখেছে। তাদের আশঙ্কা, এবার তারা বাঁচবেন না।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই গাজাবাসী একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং ইসরায়েলের আক্রমণ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কথা বিশ্ববাসীকে জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায়, এক আতঙ্কের মধ্যে লেখা বার্তাগুলোর সংখ্যা বেড়েছে, যেখানে গাজার নাগরিকরা মৃত্যুভয় এবং হতাশা প্রকাশ করছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১১২ ফিলিস্তিনি নিহত হন। গত ১৮ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। একে অপরকে এই মুহূর্তে বাঁচার আশা নেই বলে মন্তব্য করে গাজাবাসীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পোস্ট করছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এসব হৃদয়বিদারক বার্তার কথা তুলে ধরেছে। গাজার এক নারী নূরের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একটি এলাকায় পাশের ভবনে ইসরায়েলি হামলা হচ্ছে, আর ভিডিওটির পটভূমিতে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘এবার মনে হচ্ছে আমরা বাঁচব না’...।

দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে সাংবাদিক আবদুল্লাহ আলাত্তার শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে একটি পোস্টে লিখেছেন, এবার আমরা টিকতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। দেইর আল বালাহর ফুটবল সাংবাদিক আবুবকর আমেদ লিখেছেন, গাজাবাসী জানে, বিশ্ব তাদের নিরাশ করেছে। তাই তাদের হত্যা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

গাজার একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিশ্ববাসী এবং নেতাদের গাজাবাসীর পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করছেন। ফিলিস্তিনিরা শুধু বোমাবর্ষণেই নয়, খাদ্য সংকটের শিকারও হচ্ছেন। এক ফিলিস্তিনি লিখেছেন, মাথার ওপর বোমা, নিচে ক্ষুধা—গাজা আজ ধুঁকছে। আর কতদিন আমরা এভাবে টিকে থাকব? বিশ্বকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে!

অপরদিকে ইসরায়েলের যুদ্ধ এখনো তার মিত্রদের সমর্থন ও অর্থায়নে চলছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। গত মার্চে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করে।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত ৮.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব দেন। তবে মাত্র ১৫ সিনেটর (যাদের মধ্যে টিম কেইন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেনও রয়েছেন) সমর্থন করায় প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়।

এই সময়ে, অনেক ফিলিস্তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর আগে বিদায় বার্তা ও প্রার্থনা পোস্ট করছেন। গাজার লেখক ও ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে এক্স (টুইটার)-এ লিখেছেন, আমার লেখা কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। প্রথমে উৎসাহী ছিলাম, যা লিখতাম সব শেয়ার করতাম। কিন্তু কী দেখলে বা পড়লে তোমরা জাগ্রত হবে—তা আমি জানি না। আমাদের জন্য নয়, তোমাদের বিবেকের জন্য, যাতে ঘুমোতে গিয়ে তোমাদের বিবেক কাঁদে না।

৩ এপ্রিল আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, গোটা গণহত্যার মধ্যে এত কাছে থেকে কখনো মৃত্যুকে অনুভব করিনি, যতটা করছি এখন।

ইউরোপীয় হাসপাতাল ও আল আকসা হাসপাতালের চিকিৎসক হামজা আল শারিফ লিখেছেন, গাজার সর্বত্র বোমাবর্ষণ তীব্র হচ্ছে, রক্তের ছোঁয়া সবখানে। ১৮ মার্চ থেকে তার প্রোফাইলে পিন করা পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি যদি মারা যাই, আমি শুধু একটি সংখ্যা নই—আমি একা এক গ্রহ, আমার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমাকে তোমাদের দোয়া থেকে ভুলো না, আমার কথা বলতে থাকো।

গত মাসে ইসরায়েলের মিসাইলে আল জাজিরার ২৩ বছর বয়সী সাংবাদিক হোসাম শাবাত নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্যালেস্টাইন টুডের সাংবাদিক মোহাম্মদ মানসুরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে, তার স্ত্রী এবং ছেলেকে হত্যা করা হয়। হোসামের মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা তার আগে থেকে লেখা একটি বার্তা শেয়ার করেন : আপনি যদি এটি পড়েন, তাহলে আমি ইসরায়েলি সেনারা টার্গেটে পরিণত হয়ে নিহত হয়েছি।

এই আত্মশ্রদ্ধাঞ্জলি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি কবি ও শিক্ষাবিদ রিফাত আল আরির কথা, যিনি গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তার ‘যদি আমাকে মরতেই হয়’ কবিতাটি ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে প্রতিবাদ ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

গাজাবাসীদের এই শেষ শব্দগুলো যেন পৃথিবীকে এক ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়—যেখানে শুধু মৃত্যুই নয়, বরং একটি জাতির অস্তিত্বের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চলছে।

ধ্বংসস্তূপে মাথা গুঁজে বসে আছে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত
ধ্বংসস্তূপে মাথা গুঁজে বসে আছে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত



বেইমানি করেছে সবাই, আল্লাহর সাহায্য চাইছে গাজাবাসী by মুজাহিদুল ইসলাম

বহু বছর ধরে একটু একটু করে ফিলিস্তিনের জমি দখল করেছে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা যখনই প্রতিবাদ করেছে তখনই তাদের ওপর চালানো হয়েছে হত্যা, গুম, গ্রেপ্তার ও অবরুদ্ধ করে রাখার মতো নিপীড়ন। গেল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল তার পূর্বের সব অপরাধকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রকাশ্যে গাজায় গণহত্যা শুরু করেছে নেতানিয়াহুর সন্ত্রাসী বাহিনী। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, এই নৃশংস গণহত্যা দেখেও নির্বিকার আরব মুসলিম দেশগুলো।

অবরুদ্ধ গাজায় প্রতিদিন শত শত বোমা বর্ষণ করছে ইসরায়েল। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চালানো অব্যাহত এই হামলায় ৫০ হাজারের বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এখনো প্রতিদিন নির্বিচারে অগণিত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হচ্ছে। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নির্মমতায় তারা পাশে পাচ্ছে না কাউকে।

হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, সব মুসলমান একটি দেহের মতো, যদি তার চোখ অসুস্থ হয় তাহলে পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়; যদি তার মাথা অসুস্থ হয় তাহলে পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর-৬৭৫৪)। অথচ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নির্মমতা যেন স্পর্শ করছে না কাউকে। গাজার মুসলমানদের ওপর এই গণহত্যা নির্বিকারভাবে দেখছে মুসলিম দেশগুলো। যে আরব দেশগুলোর তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল, তাদের রক্ষা করা উচিত ছিল- সেই আরবরা যেন দেখেও দেখছে না কিছু।

গাজাবাসীর আকুতি ভরা বার্তায় ভরে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ইসরায়েলি নির্মমতার যে চিত্র, ভিডিও ও ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে তা কাঁদাচ্ছে বিশ্ববাসীকে। কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এমন কিছু মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ঘরের কোণে এমনভাবে মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে দেখেও আরব দেশগুলো নিশ্চুপ। সবার এমন বেইমানি দেখে এখন আল্লাহর সাহায্য চাইছে গাজাবাসী।

গাজা নিয়ে অনেক আগে থেকেই নীল নকশা ছিল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। সেই নীল নকশার বাস্তবায়ন এখন দেখা যাচ্ছে। আর এতে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ট্রাম্প গাজা পুরোপুরিভাবে দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনাও পেশ করেছেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে এটাকে নিজেদের পছন্দমত একটি সৈকতের শহর বানাতে চান। আর তাই গাজায় গণহত্যা চালাতে নেতানিয়াহুকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এই মার্কিন ক্ষমতাসীন।

গত জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রথম দফায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিম্মিদের মুক্তি দিতে থাকে ইসরায়েল। বিনিময়ে অনেক ফিলিস্তিনি বন্দিও ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিধ্বস্ত গাজায় যুদ্ধবিরতিতে আশা দেখছিলেন অনেকে। তবে দুমাস না যেতেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে গাজায় হামলা শুরু করেছে নেতানিয়াহুর সন্ত্রাসী বাহিনী।

ইসরায়েলি হামলায় গাজার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেছেন ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে যখন তারা আশায় বুক বেঁধে তাদের বিধ্বস্ত আঙিনায় ফিরেছেন তখন আবারও নিরস্ত্র এই মানুষদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। এখন আর তাদের বাঁচার কোনো অবলম্বন নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। যেন শুধু মৃত্যুর জন্যই তারা এখন অপেক্ষা করছেন।

অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি শিশু। নিখোঁজ হয়েছেন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। সম্প্রতি মেডিকেল এবং ত্রাণ কর্মীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিভিন্ন পরিকল্পিত হামলার খবরও প্রকাশ্যে আসছে। নিখোঁজ হওয়ার পর রেডক্রিসেন্টের বেশ কয়েক প্যারামেডিকের মরদেহ পাওয়ার পর ইসরায়েলের আসল চেহারা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বে ২০০ কোটি মুসলিম থাকলেও গাজার মুসলিম ভাই-বোনদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বারবার সাহায্যের আহ্বান জানাচ্ছে গাজাবাসী। কিন্তু সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো ডুবে আছে তাদের বিলাসিতার সমুদ্রে। পশ্চিমাদের ধ্যান-ধারণা আর আমোদে ডুবিয়ে রাখা এই আরব শেখরা আমেরিকার আনুকূল্য চান। নতুন নতুন মারণাস্ত্র কিনে প্রতিবেশীদের ঘাড়ে ফেলতে চান। কিন্তু গাজার জন্য সামান্যতম সহানুভূতি নেই তাদের।

কান্নাই যেন গাজাবাসীর একমাত্র সম্বল। ছবি : সংগৃহীত
কান্নাই যেন গাজাবাসীর একমাত্র সম্বল। ছবি : সংগৃহীত