Tuesday, June 22, 2010

বাবাকে নিয়ে কিছু কথাবার্তা by শারমিন নাহার

কাল ছিল বাবা দিবস। যান্ত্রিক এই জীবনে বাবার কথা কি মনে পড়ে? বাবা কি সত্যিই কোনো মানে তৈরি করে মনে? সত্যিই কি এই দিনটিতে বাবার প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয় মুখ?
কাল দিনটি ছিল যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই একটি দিন। কিন্তু যখনই কোনো শিশুর হাত ধরে কোনো বাবাকে যেতে দেখেছি, তখনই মনে হয়েছে দিনটি ভরে গেল অন্য রকম আলোয়।
মা দিবস পালন করা শুরু হয় ১৯০৯ সালে। মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ দেখে অভিভূত হন অনেকেই। সোনোরা স্মার্ট ডড নামের একটি মেয়ে তখন বাবা দিবসের কথাও ভাবেন। ১৯১০ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের স্পোকারে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস। কিন্তু সব শ্রেণীর মানুষ তখন দিনটিকে স্বীকার করে নিতে চায়নি। ১৯২৬ সালে নিউইয়র্কে ‘বাবা দিবস উদ্যাপন কমিটি’ গঠিত হয়। ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবস পালন শুরু হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। ১৯৭২ সালে এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন।
এখন প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালন করা হয় বাবা দিবস।
এ তো গেল ইতিহাস। ইতিহাস থেকে আমরা বরং একটু বাস্তবের দিকে তাকাই। কথা বলি এমন একটি মেয়ের সঙ্গে, যাঁর বাবা থাকেন ঢাকার বাইরে, গ্রামের বাড়িতে। ওঁর নাম সেঁজুতি। পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। তিনি বললেন, ‘আয় খুকু আয়’ গানটির মতো আর এমন করে বাবার ডাক শুনতে পাই না। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে বাড়িতে যাই যখন, তখনই কেবল বাবার সঙ্গে থাকা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম বইটি তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া। বাবার সঙ্গে আসলে পিতা-কন্যার সম্পর্ক নয় আমার। আমরা যেন দুই বন্ধু।’
এ রকম অনেক বাবা আছেন, যাঁরা স্কুল-কোচিং-গৃহশিক্ষক নিয়ে গলদঘর্ম হওয়া সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। ভাবেন, আহা! কেন ওদের জীবন এমন হলো? কেন ওরা শৈশবে উপভোগ করতে পারছে না শৈশব? শহরাঞ্চলে শিশুরা দ্রুত হারিয়ে ফেলছে শৈশব। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার প্রতিযোগিতায় যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন। বাবা-মা কষ্ট পান। কিন্তু সময় ও সাম্প্রতিক প্রবণতার কাছে অনেকেই হন পরাজিত।
আমরা নীপার কথা বলি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী নীপা বাবাকে হারিয়েছেন। বাবার স্মৃতিকে আগলে রেখেছেন তিনি। বাবার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে বাবাকে হারানো এক শিশুর কথা বলা যায়। ও কোনো দিন বাবাকে দেখেনি। জন্মের পর থেকে একটি ছবি দেখিয়ে ওকে বলা হয়েছে, ‘ওটাই ওর বাবা।’ ও জানতেও পারেনি, বাবারা রক্তমাংসের মানুষ। ও জানত, বাবা মানে ছবি। একদিন পাড়ার এক পরিচিত পরিবারের সঙ্গে ও গেছে বিমানবন্দরে। শুনেছে, ওর বন্ধুর বাবা আসবে আজ। বিমানবন্দরে যাওয়ার পর ও দেখল, একজন রক্তমাংসের মানুষ এগিয়ে আসছেন। এসে জড়িয়ে ধরলেন পড়শির মেয়েটাকে। স্তব্ধ হয়ে গেল শিশুটি। তারপর বাড়ি এসে ছলছল চোখে ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ের কোলে। বলল, ‘মা, সবার বাবা মানুষের মতো, আমার বাবা কেন ছবির মতো?’
বাবাকে নিয়ে এ রকম অসংখ্য কাহিনি খুঁজে পাওয়া যাবে। সব কাহিনি বেদনা জাগাবে মনে, এমন নয়। আছে অনেক গর্বের কাহিনিও।
আমরা বরং এই ফাঁকে বাবাকে নিয়ে কিঞ্চিৎ সাহিত্যের জগৎ ঘুরে আসি। ‘একজন জ্ঞানী-বাবা তার সন্তানকে অবশ্যই জানে,’ বলেছেন শেকসিপয়ার। ইউরিপিডিস তো আরও এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, ‘বিজ্ঞ পিতার সন্তান বিজ্ঞই হয়।’ আর কনফুসিয়াস বলছেন, ‘যে বাবা তাঁর সন্তানকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সময়মতো অবহিত করেন না, সেই বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে যদি তাঁর ছেলে অবহেলা করে, তবে তার দায়িত্ব নিতে হবে সেই বাবাকেই।’
বাবাকে নিয়ে একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় ছেলেদের। শৈশবে বাবাকে মনে হয় সর্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। একটু বয়স হলেই মনে হয় বাবা কিছু বিষয়ে জানেন, কিছু বিষয়ে জানেন না। তারপর বয়স যখন আর একটু বাড়ে, তখন মনে হয়, বাবার ভাবনা-চিন্তা সবই সেকেলে। বয়স যখন ত্রিশের কোঠায়, তখন মনে হয়, বাবার সঙ্গে একটু আলাপ করে নিলে হতো, কিছু কিছু বিষয়ে তো বাবার মতামতের গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। বয়স বাড়তে থাকলেই মনে হয়, বাবা যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলোর সত্যিই মূল্য আছে।
এ কথা দিয়ে কি বাবাকে পুরোটা পাওয়া যায়? কিংবা রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’ গল্পের বাবা ও মা-হারা মেয়ের সম্পর্ক কি তাতে উঠে আসে? বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার কি কোনো সীমানা মানে? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মেয়েরা বাবাকে পছন্দ করে বেশি। বাবার সুখ-দুঃখের দিকে থাকে তার নজর।
কোনো এক লেখায় একটি উদ্ধৃতি দেখেছিলাম। বলা হচ্ছে, বাবাকে আমি ভালোবাসি, কারণ বাবা মাকে ভালোবাসে।
ভালোবাসার বিষয়টিও বুঝে নিতে চাই। জর্জ হার্বার্ট বলেছেন, একজন বাবা শত শিক্ষকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। রবার্ট ফ্রস্ট বলেছেন, ছেলের কাছে বাবা সব সময় রক্ষণশীল, আর মা? সব সময় গণতান্ত্রিক! কথাটা যে কত সত্যি, তা তো হরহামেশাই আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু বিপরীত ছবিটিও দুর্লক্ষ্য নয়।
বাবার জন্য গোটা একটি দিনই যখন ঠিক করে রাখা হয়েছে, তখন বলতে ইচ্ছে করে, বাবা, একটিমাত্র দিন দিয়ে তোমাকে বেঁধে রাখা যায় না। তুমি আছ বছরজুড়ে, অস্তিত্বজুড়ে। যাঁরা মুখে কখনো বলেননি, ‘বাবা, তোমাকে ভালোবাসি’, তাঁরা অন্তত বাবার সামনে গিয়ে মনে মনেও বলুন শব্দগুলো। দেখবেন, ভালো লাগছে। মন ভালো হয়ে উঠছে।

শেরাটনীয় বাজেট বিতর্কের আড়ালে by মিজানুর রহমান খান

আপনারা আমাদের অর্থমন্ত্রীদের হাতে কালো একটা ব্রিফকেস দেখেন। ১০ জুনেও দেখেছেন। এই কালো ব্রিফকেসের একটি গল্প আছে। গল্প নয় ইতিহাস।
ব্রিফকেস বহনের ইতিহাস দেড় শ বছরের পুরোনো। এর রং লাল। ১৮৬৮ সালে ব্রিটেনের এক অর্থমন্ত্রী একবার বাজেট ভাষণ দিতে হাউস অব কমন্সে এলেন। হঠাৎ হুঁশ হলো, তিনি তাঁর লাল ব্রিফকেসটি ভুলে বাসায় ফেলে রেখে এসেছেন। এরপর রেওয়াজ হলো, অর্থমন্ত্রীরা যেদিন বাজেট ভাষণ দেবেন, সেদিন তাঁর হাতে দর্শনীয়ভাবে ব্রিফকেস থাকবে। তিনি জনগণকে সেটা দেখাতে দেখাতে আসবেন। তো এই ব্রিফকেস বয়ে আনাটা এখন একটি সংসদীয় সংস্কৃতি।
সংসদীয় গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি কী? অর্ধেক সংস্কৃতি বা প্রথা, বাকি অর্ধেক আইন ও সংবিধান। এর মধ্যে আবার সংস্কৃতির জোরটা বেশি। সংস্কৃতি থাকলে গণতন্ত্র চলে। কিন্তু সংস্কৃতি থাকবে না, শুধু সংবিধান থাকবে, তাহলে গণতন্ত্র চলবে না। এর অন্যতম দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। ব্রিটেনের সংবিধান নেই, প্রথা বা সংস্কৃতি আছে। তাই গণতন্ত্র চলছে। আমাদের সংবিধান আছে, সংস্কৃতি নেই। তাই গণতন্ত্র চলে না।
গরিবমারা বাজেট বা গণমুখী বাজেট—এতেই আমরা ঘুরপাক খাই। সেদিক থেকে বেগম খালেদা জিয়া একটা আড়ম্বরপূর্ণ অভিনন্দন পেতে পারেন। তিনি বাজেট দেননি। বাজেট প্রস্তাব দিয়েছেন।
সংসদে প্রাজ্ঞ সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যকে আমরা দুইভাবে দেখতে পারি। শপথ ভঙ্গ, সংসদ ও সংবিধানের অবমাননার অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর কাছে যদি তথ্য থাকে, বিরোধীদলীয় নেতা শুধু সংসদকে খাটো করতেই একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাহলে তাঁর অভিযোগের একটা গ্রাহ্য দিক যাচাইযোগ্য। তবে এর ভিন্ন দিকটিতে এবার দৃষ্টি দিতে চাই। ১৯৯০ সালের পর সব বিরোধী দল সম্পর্কেই এ অভিযোগ আনা যায়। মাত্রাগত তফাত থাকতে পারে। প্রত্যেকটি বিরোধী দল শপথ ভঙ্গ করেছে। সংসদ ও সংবিধানকে অবমাননা করেছে। এই ধারা অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এটা আটকানো যায়, তেমন কোনো চেষ্টা আমরা দেখি না। আওয়ামী লীগের অনেক সাংসদ চাইছেন খালেদা জিয়ার শেরাটনীয় বাজেটের বিষয়ে স্পিকারের একটি রুলিং। এই প্রস্তাবের প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে। কিন্তু আমার সন্দেহ, এটা স্পিকার দেবেন কি না। কারণ, কান টানলে মাথা আসবে। বিরোধী দলের ভূমিকাটা এসে যাবে। সেই ভূমিকাটা কী, কোথাও লেখা আছে কি না। লেখা থাকে না। এটাও ওই সংস্কৃতি।
হাউস অব কমন্সে বাজেট ভাষণ শেষ করেন অর্থমন্ত্রী। ছায়া অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া দেখানোই সংগত। কিন্তু এদিন তিনি চুপ থাকেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিরোধী দলের নেতা। বাজেট পেশের পরদিন মুখ খোলেন ছায়া অর্থমন্ত্রী। এটাই রেওয়াজ। এর মানে হলো, ছায়া প্রধানমন্ত্রী সাধারণভাবে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে একটি মতামত তুলে ধরবেন। আর ছায়া অর্থমন্ত্রী বলবেন ভেবেচিন্তে। তিনি পুরো এক দিন সময় নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। আর তার পরই তাঁর সুচিন্তিত অভিমত ব্যাখ্যা করবেন। আমাদের বিরোধী দল কবে কোন বিষয়ে সুচিন্তিত মত দিয়েছে? বাজেট, প্রতিরক্ষা, বিচার বিভাগ কিংবা পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে বিরোধী দলে থেকে এতগুলো পৃষ্ঠা লিখে ভরে ফেলেছে, তার তেমন নজির আগে কোনো বিরোধী দল দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না। তাই এ অর্জনকে আমরা খাটো করে দেখতে চাই না। সরকারের উদ্দেশে মুদ্রিত বিরোধী দলের এই পুস্তিকাটি ৩২ পৃষ্ঠার। এটি হতে পারে আমাদের রাজনীতির ইতিহাসের প্রথম প্রামাণ্য সহযোগিতার দলিল। সুতরাং, সংসদে যে যা-ই বলুক, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সুখকর।
বেগম খালেদা জিয়ার বাজেট প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের বিরোধী দল বা রাজনৈতিক দলগুলো মেঠো বক্তৃতায় পারদর্শী। লিখে, গুছিয়ে, রেকর্ড রেখে মনের ভাব প্রকাশে তাদের অতিশয় অনীহা। সেদিক থেকে শেরাটনীয় বাজেট একটা বিরাট বিষয়।
তবে প্রশ্ন হলো, শেরাটন থেকে শেরেবাংলা নগর কত দূর? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, স্টান্টবাজি না হলে ভালো। হলেও ক্ষতি আছে বলে মনে হয় না। বাজেট শব্দ পরিহার করাও যেত। যদি ‘উন্নয়ন’ প্রস্তাবনা বলা হতো, তাহলে হয়তো বিতর্কের কোনো সুযোগ হতো না। শপথ, সংসদ, সংবিধান বেঁচে যেত! আহা একটি শব্দ আমাদের রাজনীতিতে কী করতে পারে?
সংসদীয় গণতন্ত্র অনুশীলনরত ব্রিটেন বা অন্যান্য দেশ অবশ্য ছায়া বাজেট দেয় না। ব্রিটেনের অনুসরণে বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে নিছক একটি অসংসদীয় উপস্থাপনা হিসেবেও দেখা চলে। প্রতিবছর বাজেট পেশের আগে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ বাড়ে। সমাজের বিভিন্ন স্তর ও সংগঠন বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে সাংসদেরাও থাকেন। এর সংখ্যা কম নয়। পাঁচ থেকে ১০ হাজার তো হবেই। বিএনপি শেরাটনীয় বাজেটের আয়োজক। বিরোধী দলের নেতা পরিচয়ে খালেদা জিয়া সেটা দেননি। দেখলাম, ওই পুস্তিকায় আছে, শুধু দেশনেত্রীর তকমা।
বাজেট নিয়ে বিএনপি যা করেছে, তা সরকারও তাদের কাছে চাইতে পারত। অবশ্য চাইলে তারা দিত কি না, সন্দেহ। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। বাজেট একবার সংসদে তুলে দিলে তাতে কিন্তু বড় পরিবর্তন আনা সহজ নয়। ‘লেজিসলেটিভ ওভারসাইট অ্যান্ড বাজেটিং: এ ওয়ার্ল্ড পারসপেকটিভ’ নামে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত একটি বই আছে। অনেক গবেষণা ও সমীক্ষা রয়েছে। এতে সারা বিশ্বের সংসদের একটা অভিন্ন প্রবণতা দেখলাম। সরকার যা বাজেটে প্রস্তাব করে, তাই পাস করে। ৪১টি দেশের মধ্যে জরিপ চালানো হয়। এর ৩৪ শতাংশ দেশের সংসদে অর্থমন্ত্রী যেভাবে বাজেট পেশ করেন, তাই পাস হয়। মার্কিন কংগ্রেস অনেক ক্ষমতা রাখে। নতুন করে বাজেট তৈরি করে নিতে পারে। কিন্তু কখনো তারা তা করেনি বা দরকার পড়েনি। ওই ৪১টি দেশের মধ্যে ৬৩ শতাংশ দেশের সংসদ একটু পরিবর্তন নিশ্চিত করে। কিন্তু সে পরিবর্তন অকিঞ্চিৎকর। প্রস্তাবিত ব্যয়ের তিন শতাংশের বেশি হেরফের ঘটে না। সে কারণে গোটা বিশ্বের সংসদ একটি নতুন প্রবণতার দিকে ছুটে যাচ্ছে। সেটা হলো, বাজেটের বেশ আগেই সংসদে একটা ছায়ার মতো প্রতিবেদন দেওয়া। এতে প্রকাশ করা হয়, আসন্ন নতুন বাজেটটি সরকার কীভাবে বানাবে।
এ ধারণাটি আমাদের দেশে ঢোকেনি। তবে বর্তমান সরকার একটি ভালো কাজ করেছে। তারা বাজেট বাস্তবায়ন প্রতিবেদন-ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। এ পর্যন্ত আমরা দুটি পেলাম। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে ছয় মাসের প্রথম রিপোর্ট দেন অর্থমন্ত্রী। জুনের গোড়ায় পাওয়া গেল দ্বিতীয়টি। এর বিষয়বস্তু শুধু ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেটের অর্জনের মধ্যে সীমিত থেকেছে। এখন আমরা এর সম্প্রসারণ ঘটাতে পারি।
ব্রিটেনের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রি-বাজেট স্টেটমেন্ট বা পিবিআর চালু করেন। প্রতি হেমন্তে সরকার এই প্রাক-বাজেট রিপোর্ট দিয়ে আসছে। এই যে হেমন্তকে বেছে নেওয়া হলো, এটাই হয়তো ভবিষ্যতে চলতে থাকবে। এটাই সংস্কৃতি, আইন নয়। কিন্তু আইনের চেয়ে বেশি।
এতে বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের অর্জন ও বাস্তবায়নের বিবরণ থাকে। আর থাকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের নীতি কী হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা। হাতে রাখা হয় চার মাস। নতুন বছরের বাজেটে কী থাকবে সে সম্পর্কে সরকারের নীতি ঘোষিত হয়। এর ওপর চিন্তাভাবনা ও সুপারিশের জন্য সময় দরকার। বিরোধী দল ও অন্যান্য আগ্রহী মহল সে জন্য সময় ভালোই পায়। সেখানে সবশেষ প্রাক-বাজেট প্রতিবেদন পেশ করা হলো ৯ ডিসেম্বর ২০০৯। আর বাজেট পেশ করা হয় ১৪ মার্চ ২০১০।
বিশ্বব্যাংক প্রাক-বাজেট প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ ৩৬টি দেশের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮টি দেশের সরকার নতুন বাজেট দেওয়ার চার মাস আগে সংসদে প্রাক-বাজেট প্রতিবেদন দেয়। তবে এখানে দেখার বিষয় হলো, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সংসদই এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। তবুও নিম্ন আয়ের ২১ ভাগ দেশের সংসদ চার মাস আগে প্রাক-বাজেট প্রতিবেদন দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের ঠাঁই এই একুশে হলো না। এটা যাতে চালু হয় সে রকম তাড়না কারও মধ্যে দেখি না। বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসংক্রান্ত এ রকম আরও বহু দরকারি ক্ষেত্রে আমরা তাদের মধ্যে সমঝোতা দেখি।
ছায়া সরকারের কোনো ধারণা নিয়ে আমাদের বিরোধী দল চলে না। তারা মনে করে, সংসদ হলো সরকারের। সংসদ যে রাষ্ট্রের সেটা তারা বিশ্বাস করে না। আমাদের দুঃখ এই, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিচক্ষণ হয়েও শুধু বাজেট প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতার শপথ ভঙ্গ, সংসদ ও সংবিধানের অবমাননা দেখলেন। খালেদা জিয়া যে এই যে কদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে গিয়ে বললেন, সরকারকে আর সময় দেওয়া যায় না, সেটা তো শেরাটনীয় বাজেটের চেয়ে মারাত্মক। কেন তিনি সরকার পতনের আন্দোলন করবেন? কেন তিনি সেটা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বলবেন? তাঁর ওই সভা ছিল উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। আওয়ামী লীগ কতটা সংসদ ও সংবিধান-পাগল দল, সেটা বোঝা যাবে। পারলে এ জন্য সংসদে একটি নিন্দা প্রস্তাব আনা হোক।
শেরাটনীয় বাজেট বিতণ্ডাকে আমাদের সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। সংসদ নিয়ে অসত্য উক্তি করা হয় হরহামেশা। যেমন বলা হয়, সংসদ সার্বভৌম। অথচ সাংবিধানিকভাবে সাংসদেরা অধীনস্থ। তাঁরা ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁরা নিজেরা ভোটে স্বাধীন নন। ৭০ অনুচ্ছেদের নিম্নচাপে তাঁদের বাক্স্বাধীনতা অচল হয়ে পড়েছে।
আমাদের বুঝতে হবে, বিরোধী দল কেন সংসদ রেখে শেরাটনে যায়। আর সরকারি দল কেন বলে, এর ফলেই সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। আসলে তারা একটি কৃত্রিম, শূন্যগর্ভ তর্কের দিকে জনগণের দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে চায়। বিশ্বব্যাংকের ওই বইটিতে লেখা আছে, বাজেট কেমন ও কতটা স্বচ্ছ হবে, তা প্রধানত নির্ভর করে সংসদের বিশ্লেষণ করার সামর্থ্যের ওপর। আমাদের স্বল্পসংখ্যক সাংসদের সামর্থ্যের সুনাম সুবিদিত।
কখনো মনে হয়, আরেকটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরকরণ প্রয়াসের সুযোগ আবারও মাঠে মারা যাবে না তো? কারণ, ভয় পাচ্ছি। জিনিসপত্রের দাম, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা গণতান্ত্রিক শাসনের চাওয়া। এটাই সব নয়। কিন্তু হরতাল সফল করতে এর ব্যবহার কার্যকর। সরকারি দল প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে আন্তরিক, এমন কোনো সাড়াশব্দ পাই না। বিরোধী দলের ছায়া বাজেটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। নিঃশর্তে একে অভিনন্দন জানানোর দরজা তারাই রুদ্ধ করে রেখেছে। রাজনীতির পরিবেশকে অনবরত তারা দূষিত করছে। দায় উভয়ের আছে। সংসদের পরিবেশ ও বিরোধী দলের প্রতি আচরণ প্রসঙ্গে উদ্বিগ্ন বেগম জিয়া। তবে কবে কখন কোন বিরোধী দলের কাছে সংসদের পরিবেশ ভালো লেগেছিল, তা আমাদের জানা নেই। সংসদ থেকে দলের পৃথক্করণ লাগবে। লাগবে সংসদের স্বাধীনতা। এটা এলে সংসদীয় বাজেট প্রাণ পাবে। শেরাটনীয় বাজেট কিংবা ‘আরেকটা ধাক্কা মেরে সরকার ফেলার’ রাজনীতি থেকে বাঁচার এটাই উল্লেখযোগ্য উপায়।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

অতঃপর বুয়েট বন্ধ -কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন উদাহরণ নেই

বিশ্বকাপ ফুটবল-জ্বরে আক্রান্ত সারা বিশ্ব। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু এরই মধ্যে ছন্দ পতন ঘটল, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েট। ঘটনা সামান্য। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য ক্লাস বন্ধ রাখার দাবি করছিলেন বুয়েটের একটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ২৬ জুন থেকে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছিল। কিন্তু তার পরও ক্লাস বন্ধ রাখার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে দুই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে কর্তৃপক্ষ বুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। তার মানে, প্রায় তিন সপ্তাহ বুয়েটে পড়াশোনা বন্ধ।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অনেক সাধনায় তাঁরা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেরাদের সেরা হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন। কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীর মারামারির জন্য অন্য সবার লেখাপড়া বন্ধ করা জরুরি কি না তা কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত ছিল। বিশ্বকাপের জন্য আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ তো বন্ধ হয়নি। তাহলে সেরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন বন্ধ করতে হবে?
এটা ঠিক যে বুয়েটের পড়াশোনা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা। এখানে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরীক্ষা থাকে বা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তাই রাত জেগে খেলা দেখে পরের দিন পরীক্ষা দেওয়া কঠিন। কিন্তু এ সমস্যা তো কারও অজানা নয়। বিগত বিশ্বকাপের সময়ও খেলা দেখা নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে এবং পরিণামে বুয়েট বন্ধ রাখতে হয়েছে। সুতরাং কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল, এ বছরের একাডেমিক ক্যালেন্ডার (শিক্ষা সময়সূচি) এমনভাবে তৈরি করা, যেন বিশ্বকাপের সময় পরীক্ষার চাপ কম থাকে। অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালের সময় থেকে কয়েক দিন ক্লাস বন্ধ রাখার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা সম্ভব ছিল। কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।
বুয়েট বন্ধ, অথচ যেখানে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে, সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ রকম আকস্মিকভাবে বন্ধ করতে হয়নি। তারা বরং আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে খেলা ও ছুটির সমন্বয় করেছে। গ্রাহামসটাউনের রোডস ইউনিভার্সিটি তাদের কাজের সময় এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করেছে, যেন বিশ্বকাপের ৬৪টি খেলা দেখা থেকে কাউকে বঞ্চিত হতে না হয়। কাওয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় এমনভাবে তাদের ২০১০ সালের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করেছে, যেন খেলার সময় তাদের অর্ধবার্ষিক ছুটি থাকে।
খেলা দেখা ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সমন্বিত ব্যবস্থা করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। সেখানে ব্যর্থতা সত্যিই দুঃখজনক

মা-সন্তানদের করুণ মৃত্যু -ঘটনার পেছনের ছক ও দায় উদ্ঘাটিত হোক

ফারজানা ও তাঁর দুই সন্তানের করুণ মৃত্যু দেশবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই ঘটনার নেপথ্যের সব কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তরফে যথেষ্ট প্রগতিশীল ভূমিকা আশা করে। তদন্ত সময়সাপেক্ষ হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য বের হওয়াও স্বাভাবিক। এটা দুঃখের বিষয়, পুলিশ আশপাশে ঝোপ পেটালেও ‘আত্মহত্যা’য় সরাসরি প্ররোচনা দেওয়া কিংবা মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
গৃহবধূ ফারজানা এবং তাঁর দুই শিশুর মৃত্যু আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড যা-ই হোক, সেটা সুষ্ঠু তদন্তের ওপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু তদন্ত শেষ হলেই আমরা কেবল সুষ্ঠু বিচার আশা করতে পারি। পুলিশ চাইলেই যে ভালো কাজ পারে, তার দৃষ্টান্ত আমাদের জানা। স্বামী প্রতারণা করে আরেকটি বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তানদের অস্বীকার করে আসছিলেন। শ্বশুরসহ ননদ ও অন্যরা অসহায় মা ও সন্তানদের বাড়িছাড়া করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমনকি বাড়ি ছাড়ার কথা স্ট্যাম্পের ওপর লিখিয়েও নিয়েছিলেন। তাঁদের লাঞ্ছনার এ ঘটনার সাক্ষী স্বয়ং পুলিশও। উপরন্তু ঘুমের বড়ি, স্ট্যাম্প, দুই শিশুর লেখার রং পেনসিল ইত্যাদি জুগিয়ে দেওয়া গাড়িচালকের স্বীকারোক্তি থেকেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল। নিজ হাতে বড়ি এনে দিয়ে চোখের সামনে তিনটি জলজ্যান্ত মানুষকে আত্মহত্যা করতে দেখার পর গাড়ি নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার যে বিবরণ তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছেন, তার সত্যতা যাচাই করাই এখন তদন্তকারীদের কাজ। কিন্তু পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তা এখনো ঘটনার ডালপালাতেই বিচরণ করছেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের এখনো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে না। পুলিশের উচিত, মানুষের অনুভূতিতে দাগ কাটা এই মর্মান্তিক ঘটনার যথাযথ তদন্ত দ্রুতই শেষ করে অপরাধের আসল চেহারাটি উন্মোচন এবং প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা।
ফারজানা ও তাঁর দুই সন্তানের এই করুণ মৃত্যু আমাদের সমাজে নারীর নাজুক অবস্থানকেই প্রমাণ করে। প্রমাণ করে যে অনেক ক্ষেত্রে ‘আপনজনেরাই’ নারীর জীবনকে দুর্বিষহ করতে করতে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীর হত্যা ও আত্মহত্যার মধ্যে ব্যবধান তাই খুবই কম। হত্যাকাণ্ড মানে অন্যের ইচ্ছায় অন্যের হাতে মৃত্যু। কিন্তু অন্যের চাহিদার কাছে সমর্পিত হয়ে অন্যের চাপে নিজের হাতে নিজের মৃত্যু ঘটানোর সঙ্গে ‘আত্মহত্যা’র পার্থক্যটি কেবল হাতের ভূমিকার, দায়ের নয়। উভয় ক্ষেত্রেই দায় মৃতের নয়, যারা তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের।
স্পষ্টতই, এ ঘটনার আইনি ও নৈতিক দিক রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের, কিন্তু যে রকম পরিস্থিতিতে নারী-শিশুরা এভাবে মরে যায়, সেই পরিস্থিতি বদলের দায়িত্ব সমাজের সবার। নারীর প্রতি, পরিবারের প্রতি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি যাতে মানবিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ হয়, আর কোনো নারীকে-স্ত্রীকে-কন্যাকে যাতে এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে না হয়, তার দায়িত্ব আমাদের সবার।

পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক মাওবাদী গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে গত মাসে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক মাওবাদী বিদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাপি মাহাতো নামের ওই বিদ্রোহীকে গতকাল রোববার থেকে পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্যের সিংভুম জেলার একটি অতিথিশালা থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডের পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাহাতোকে গ্রেপ্তার করেছে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) মাহাতোকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিয়ে সাহায্যের জন্য এক লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

সামরিক বাহিনীর প্রধান নিয়োগে হস্তক্ষেপ করছেন ক্যামেরন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের এ ঘটনা হবে নজিরবিহীন। যুক্তরাজ্যে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স গত সপ্তাহে সানডে টাইমস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ছয় মাস আগে আগামী শরতে পদত্যাগ করবেন সামরিক বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার জক স্টিরাপ। তিনি বলেন, এ পদে সবচেয়ে ভালো ও যোগ্য কর্মীকে তিনি দেখতে চান। আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের যথাযথ সহায়তা না দেওয়ায় স্টিরাপ কড়া সমালোচিত হন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে এ পদে যিনিই আসুন না কেন তাঁকে আফগান যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কেননা আফগান যুদ্ধে গত শুক্রবার পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাদের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৯-তে। এ দিন হেলমান্দ প্রদেশের নাহার ই সারাজে তালেবানের বোমা হামলায় অ্যাশলে স্মিথ নামের একজন ২১ বছর বয়সী সেনা মারা যান।
চার্লস হেইম্যান নামের একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ হস্তক্ষেপের ফলে এই পদে যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এমনকি সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও তা ভালো হবে না।
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের এ হস্তক্ষেপকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের পদে জেনারেল স্যার নিক হফটনের নিয়োগের জন্য সহায়ক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার রিচার্ড ড্যানাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নিক হফটন।

গুয়ানতানামো বে-ফেরত ২০ শতাংশ ফের জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে

সৌদি আরবের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের ২০ শতাংশ আবারও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গত শনিবার দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানান।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদর্শিক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক আবদুল রহমান আল হাদলক জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গুয়ানতানামো বে কারাগারের ১২০ জন বন্দীকে সৌদিতে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে ২৫ জন আবারও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। তিনি জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৩০০ বন্দীকে রাখা হয়েছিল। এখানে সৌদি কর্তৃপক্ষের আটক করা সন্দেহভাজন জঙ্গিরাও ছিল। তাদের মধ্যে ২৯ জন আবারও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে ফিরে গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মনসুর আল তুর্কি জানান, গুয়ানতানামো বে থেকে মুক্তি পাওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১০ থেকে ১১ জন ইয়েমেনে আল-কায়েদার সঙ্গে যোগ দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে চারজন নিহত হয়েছে। অন্যদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে এখনো গুয়ানতানামো বে কারাগার-ফেরত তিনজন বন্দী রয়েছে।
কিউবায় মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে এখনো ১৩ জন সৌদি নাগরিক আটক রয়েছে। রিয়াদ তাদের দেশে ফেরত নিতে চাইলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো রাজি হয়নি।
আবদুল রহমান জানান, সৌদি সরকার আরও পাঁচটি শহরে এমন পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করার কথা ভাবছে। আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুই হাজার সৌদি নাগরিক বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের কথা বিবেচনা করে সরকার এ পরিকল্পনা নেয়।
উল্লেখ্য, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ নামে কিউবায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়ানতানামো বে কারাগারে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে।

চীনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চীনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে নিখোঁজ হয়েছে ৮৬ জন। ভয়াবহ এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আট লাখ লোককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সরিয়ে নেওয়া হয় ১৪ লাখ লোক। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্যায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অনেক। ১২ লাখ একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। নদীর দুই তীর ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী লোকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংজি প্রদেশের তলিয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ফুজিয়ান প্রদেশে দেখা গেছে সেনাদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সমন্বয় করতে। এ প্রদেশের বিভিন্ন রাস্তায় বন্যার পানির তোড়ে উপড়ে পড়া গাছপালা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এখানে ভূমিধসে গতকাল আরও ১২ জন মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে ১২ জন। বন্যায় বিভিন্ন প্রদেশের রেল যোগাযোগ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাংহাই প্রদেশে গতকাল ১৮টি রেল সার্ভিস বাতিল করা হয়। এতে বিপদে পড়েন ২০ হাজার যাত্রী। বন্যার কারণে রাজধানী বেইজিংয়ের সঙ্গে ফুজিয়ান প্রদেশের একটি এলাকারও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, জিজিয়াং, ফুজিয়ান, জিয়াংজি, হেনান, গুয়ানজিসহ আরও কিছু প্রদেশে গতকাল ১০০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব এলাকায় আরও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

রেকর্ড-সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ড-সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। মার্কিন কংগ্রেস, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা। নতুন প্রজন্মের এই রাজনীতিকেরা আশাবাদী যে নির্বাচনে ধর্ম, বংশপরিচয় বা গায়ের রং নয় বরং মেধার ভিত্তিতেই তাঁদের মূল্যায়ন করবেন ভোটাররা।
রেশমা, সুরিয়া, মনন, রাজ, অমি, রবি, নিম্রতা ও কমলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিকদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রিপাবলিকান দলের নিম্রতা নিক্কি রান্ডওয়া, যিনি নিক্কি হ্যালি নামেই পরিচিত। সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে তাঁকেই সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে, উচ্চাভিলাস চরিতার্থ করতে জাত-ধর্ম খুইয়ে তিনি খ্রিষ্টান হয়েছেন। এ ব্যাপারে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি হ্যালি।
মনন ত্রিবেদি একজন চিকিৎসক এবং ইরাক রণাঙ্গন-ফেরত যোদ্ধা। সম্প্রতি তিনি মার্কিন কংগ্রেসের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলের একটি আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। মনন বলেন, বংশপরিচয়কে তিনি কোনো ধরনের পিছুটান মনে করেন না। তিনি মনে করেন, মার্কিন ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন।
ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেসে সদস্য পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ গয়াল। রাজ বলেন, ‘পার্থক্যগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করে সময় কাটাই না। আমার ভাবনা ক্যানসাসকে কীভাবে আরও একতাবদ্ধ করা যায় তা নিয়ে।’ রাজের পুরো নাম রাজীব। শৈশব থেকে তিনি রাজ নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন হিসেবে ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হন।
রাজ বলেন, ‘অনেক বেশি ভারতীয় বা অনেক বেশি মার্কিন হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলার কোনো আগ্রহ আমার নেই। আমি যা আছি, সেটাই আমি। আমার অতীত এবং আমার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে আমি গর্বিত। আশা করি, ক্যানসাসের ভোটাররা মেধার ভিত্তিতেই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।’
ওহিও অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেসের আসনে প্রার্থী হয়েছেন সুরিয়া ইয়ালামানচিলি। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অমি বেরা, লুইজিয়ানা থেকে রবি সিং শেট্টি ও নিউইয়র্ক থেকে রেশমা সাউজানি কংগ্রেসের আসনে নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভারতীয় মা ও আফ্রিকান বাবার সন্তান কমলা হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। কমলা বলেন, ‘আমি এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছি, যেখানে আমাকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও আমার পরিচয় সম্পর্কে গভীর অনুভূতি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমি কখনোই এ নিয়ে দ্বিধায় ভুগি না।’ তিনি বলেন, ‘ধীরে এবং সম্ভবত আমাদের মতো পরিচয়ের মানুষ আরও বেশি সংখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জায়গা করে নিলে জনগণ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বুঝতে শুরু করবে।’
প্রায় ৫০ বছর আগে থেকে নিয়মিতভাবে বেশিসংখ্যক ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে শুরু করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র দুজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসে স্থান পেয়েছেন—১৯৫৪ সালে দিলীপ সিং সুন্দ ও ২০০৪ সালে ববি জিন্দাল। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছিল, সেবারের নির্বাচনে জিন্দালই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রার্থী। কিন্তু এবার গয়াল, ত্রিবেদি, অমি, রবি, রেশমা ও সুরিয়াকে নিয়ে এই সংখ্যা ছয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক শ বছরেই মানব জাতি বিলুপ্ত হবে!

পৃথিবী থেকে গুটিবসন্তের জীবাণুর অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কয়েকজন বিশ্বখ্যাত জীববিজ্ঞানীর ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের অন্যতম একজন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী এক শ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে দায়িত্বরত অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক ফেনার নামের ওই বিজ্ঞানীর দাবি, হোমোসেপিয়েন্স গোত্রের (মানুষ, বানর, শিম্পাঞ্জি ইত্যাদি) প্রাণী শিগগিরই সমূলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। হয়তো এক শ বছরের মধ্যেই সে রকম একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। ব্রিটেনের পত্রিকা ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
ফ্রাঙ্ক ফেনার বলেছেন, ‘অ্যানথ্রোপোসিন পিরিয়ড’ বলে পরিচিত বিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণরহিত একটি যুগে মানবজাতি ইতিমধ্যেই পদার্পণ করেছে। মানুষ শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করামাত্র (কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে) প্রকৃতির ওপর প্রভাব পড়া শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, বরফযুগে যেভাবে বিভিন্ন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে গেছে, সে রকম পরিস্থিতি আবির্ভাবের প্রাথমিক লক্ষণ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায় চলছে। কিন্তু তাতেই আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আধুনিক এই মানবসমাজকে পূর্ব গোলার্ধের প্রাচীন মানবজাতির মতো ভাগ্যবরণ করতে হবে। সেখানকার আদিবাসীরা কার্বন-ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ না ঘটিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার বছর পর্যন্ত টিকে ছিল। কিন্তু শিল্পায়নভিত্তিক এই আধুনিক বিশ্ব কার্বন নিঃসরণ ছাড়া চলতে পারবে না। তাই অবধারিতভাবেই মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া বহু প্রজাতির মতো মানুষও সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেটা হবে আগামী এক শ বছরের মধ্যে।
তবে ফ্রাঙ্ক ফেনারের সহকর্মী স্টিফেন বয়ডেন বলেছেন, ফেনারের মতো নৈরাশ্যবাদীদের পাশাপাশি কিছু আশাবাদী বিজ্ঞানীও রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফ্রাঙ্ক হয়তো ঠিক কথাই বলেছেন, কিন্তু অনেকেরই প্রত্যাশা ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি আসার আগেই বিজ্ঞানীরা এমন কোনো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে মানুষ।

কলকাতায় উঠল পদ্মার ইলিশ

অবশেষে কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ এসেছে। তবে পরিমাণে তা খুবই কম—মাত্র এক টন।
গত শনিবার সকালে বাংলাদেশের বেনাপোল ও ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত পথে এই ইলিশ আনা হয়। এসব ইলিশ হচ্ছে, ৬০০ গ্রাম থেকে এক কিলোগ্রাম ওজনের। মহম্মদ ইসলাম নামের এক আমদানিকারক ব্যক্তিগত উদ্যোগে শনিবার এসব ইলিশ নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, দাম বেশি হওয়ায় এবারে অধিকাংশ আমদানিকারক বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করছেন না।
তবে এবারের জামাইষষ্ঠীতে পদ্মার ইলিশ না মিললেও কলকাতায় গুজরাট ও মুম্বাই থেকে আনা হয় আরব সাগরের ইলিশ। একই সঙ্গে পাওয়া যায় মিয়ানমারের ইলিশও। কিন্তু আকারে বড় হলেও এসব ইলিশের তেমন স্বাদ নেই। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ডহারবার, দীঘা, নামখানা ও কাকদ্বীপের ইলিশও পাওয়া যাচ্ছে কলকাতায়। ৫০০ গ্রাম থেকে এক কিলোগ্রাম ওজনের এসব স্থানীয় ইলিশ ১৫০ থেকে ২৫০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
কলকাতার হিলসা ফিশ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল দাস প্রথম আলোকে জানান, ২০০৮ সালে বেশি দামে কিনে লোকসান হওয়ায় এবার তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির ঝুঁকি নেননি।
অতুল দাস আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার ৬০০ গ্রাম থেকে এক কিলোগ্রাম ওজনের ইলিশের রপ্তানিমূল্য ছয় ডলার ধার্য করেছে। এ ছাড়া এক থেকে দেড় কিলোগ্রামের ইলিশ আট ডলার এবং দেড় কিলোগ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোড়কের গায়ে লেখনের শর্ত প্রত্যাহার চায় বিসিসিএএমইএ

দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও প্লাস্টিক শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে ‘বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত বিক্রয়যোগ্য নয়’ এ কথাটি লেখার বিধান চালু করা হয়েছে।
কিন্তু বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের মোড়কে এ ধরনের কথা লিখে দিতে রাজি নয়। ফলে কাঁচামাল আমদানিকারকেরা বড় ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন।
তার পরও প্রস্তাবিত ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ শর্তটি প্রত্যাহার না করায় হতাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ করোগেটেড কার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিসিএএমইএ)। সমিতি অবিলম্বে দেশীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পের স্বার্থেই প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং কাঁচামাল আমদানিতে ‘বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত বিক্রয়যোগ্য নয়’ লেখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব দাবি জানান। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিসিসিএএমইএর সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি শফিউল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য দেন।
সমিতি বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে বাণিজ্যবান্ধব করতে হলে কৃষি ও শিল্পের পাশাপাশি রপ্তানি খাতকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
সমিতি দেশের রপ্তানির স্বার্থে প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের শর্ত প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্পকারখানার বাড়িভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া উৎসে আয়করের হার আগেরটা বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিসিসিএএমইএ জানিয়েছে, দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে দুটি উপাদান কাজ করে থাকে। এর একটি হচ্ছে বস্ত্র এবং অপরটি হচ্ছে প্যাকেজিং ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ। এক্সেসরিজ উপখাত তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পশ্চাদমুখী সংযোগ শিল্প হিসেবে কাজ করে। তাই বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করে তৈরি পোশাক খাতের ন্যায় এই উপখাতকে প্রণোদনা প্রদান করা উচিত।
সমিতি শতভাগ রপ্তানিমুখী কার্টন ও এক্সেসরিজ খাতের জন্য আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক শূন্য হারে নির্ধারণেরও সুপারিশ করেছে।

শিল্পপার্কের সুবিধা চান প্রকৌশল শিল্প মালিকেরা

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বিইআইওএ) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় দেশের বিকাশমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) অবকাঠামো উন্নয়নে খাতওয়ারি শিল্পপার্ক স্থাপনের সুযোগ দাবি করেছে।
বিইআইওএর সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও মহাসচিব আবদুল হাকিম মিয়া সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিইআইওএর শীর্ষ দুই নেতা প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, শিল্পপার্ক স্থাপিত হলে আধুনিক প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটে এবং দেশে নতুন নতুন শিল্প গড়ে ওঠে। তাঁরা অপরিকল্পিত শিল্পায়নের উল্লেখ করে বলেন, শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ দেশকে পরিকল্পিত শিল্পায়নের দিকে নিয়ে যাবে।
বিইআইওএ দেশে সম্ভাবনাময় হালকা প্রকৌশলশিল্পের বিকাশে ‘পণের বিনিময়ে করযোগ্য পণ্য সার্ভিসিং বা মেরামতের’ ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাঁরা মেরামতসেবা তথা শ্রমিকের মজুরির ওপর মূসক আরোপকে ‘মানবিক বিবেচনায় অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
চশমা শিল্প সমিতি: এদিকে বাংলাদেশ চশমাশিল্প ও বণিক সমিতি বাজেটে চশমার ফ্রেমের ওপর প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে পাঁচ শতাংশে এবং ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ট্যারিফ ভ্যালু সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে চশমাশিল্প ও বণিক সমিতি (বিওআইটিএ) এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায়। এতে বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি মো. ফজলুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে এ পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং মেটাল ফ্রেমে ১০০ টাকা ও প্লাস্টিক ফ্রেমে ৭০ টাকা ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রভাব চশমা ব্যবহারকারী গরিব ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।

বিশ্বকাপের উত্তেজনায় উইম্বলডন-যাত্রা

উইম্বলডনের ইতিহাসের সেরা ফাইনালের স্বীকৃতি পাওয়া দুই বছর আগের সেই মহাকাব্যিক ম্যাচটার কথা মনে আছে? পাঁচ সেটের এক ক্লাসিক জিতে রজার ফেদেরারের উইম্বলডন রাজত্ব দখল করেন রাফায়েল নাদাল।
বিশ্বকাপের গনগনে উত্তেজনার মাঝে দুই বছর আগের এক টেনিস ম্যাচ টেনে আনার কারণ, আজ থেকে শুরু হচ্ছে উইম্বলডন। এবং যথারীতি প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ফেদেরার-নাদাল। পুরুষ এককের মূল আলোটা তাদের ঘিরেই। ঘরের ছেলে বলে অতি-উৎসাহী ব্রিটিশ মিডিয়া তো বটেই, অন্যদের দৃষ্টিও থাকবে অ্যান্ডি মারের দিকে। মহিলা এককে উইলিয়ামস বোনেরাই টপ ফেবারিট। আলোচনায় আছেন বেলজিয়ামের দুই কামব্যাক কুইন ক্লাইস্টার্স ও হেনিন। চার বছর পর অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সবুজ চত্বরে পা রাখবেন ক্লাইস্টার্স। স্বভাবতই আলাদা একটা উন্মাদনা ছড়াবেন এই ‘টেনিস মম’। শারাপোভা, কুজনেতসোভা, দেমেন্তিয়েভারা থাকার পরও শুরুর আগেই রাশানদের মনে একটা দুঃখ, ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না দিনারা সাফিনা।

এশিয়া কাপে আজ শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। পরশু শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে ভারতও। শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় টুর্নামেন্টের বাকি দুই দল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আজকের ম্যাচটা তাই কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে লজ্জাজনক ব্যাটিংয়ের পর আজ শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাবে কি না কে জানে, এশিয়া কাপে দলের পারফরম্যান্সে ভীষণ হতাশই হচ্ছেন কোচ জেমি সিডন্স। হতাশাটা মূলত ব্যাটিং নিয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৬ রানের পরাজয়ের পর কোচ বলেছেন, ‘মিডল-অর্ডারের রানটাই মাস ছয়েক ধরে আমাদের বাঁচিয়ে আসছিল। জানি না কেন, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে।’ তবে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া ওপেনার তামিম ইকবালের কথা আলাদা করেই বলেছেন সিডন্স, ‘তামিম বিশ্বকে ক্রমাগতই দেখিয়ে চলেছে, আসলে কতটা ভালো সে। এটা দারুণ একটা ইতিবাচক দিক।’
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২৪ জুন। এর আগে আগামীকাল ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে হবে ফাইনালে পোশাকি মহড়া।

বিশ্বকাপ কুইজে বিজয়ী যারা

বিশ্বকাপজুড়ে প্রথম আলো পাঠকদের জন্য নানা মাত্রিক কুইজের আয়োজন করছে। যে দিন খেলা, সে দিনই পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে ২৮ জেলার প্রথম আলোর কার্যালয়ে। সাত বিভাগীয় শহরেও আছে প্রতিদিনকার আলাদা আয়োজন। সারা দেশের পাঠকেরা অংশ নিতে পারেন এসএমএস কুইজে। থাকছে সাপ্তাহিক, পর্বভিত্তিক ও অনলাইন কুইজ। মাসজুড়ে ১২টি কুইজে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ শেষে থাকছে মেগা পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ। প্রথম আলোর এই কুইজ আয়োজনের অষ্টম দিনের কুইজের ফলাফল ছাপা হলো আজ।

এসার-প্রথম আলো বিশ্বকাপ এসএমএস কুইজ
এসার-প্রথম আলো বিশ্বকাপ কুইজে প্রতিদিনের ল্যাপটপ পুরস্কারের অষ্টম দিনের বিজয়ী খুলনার মৃণাল কান্তি দাস। তিনি খুলনার খালিশপুরে বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক। ১৯ জুন প্রথম আলো কার্যালয়ে ১৮ জুনের কুপনের ড্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কৃতী ফুটবলার ও কোচ ইমতিয়াজ সুলতান জনি। তিনি নিজে ফোন করে বিজয়ীকে লটারি জেতার সুখবরটি জানান।

নাভানা ইন্টারলিঙ্কস-প্রথম আলো ফুটবল কুইজ
নাভানা ইন্টারলিঙ্কস-প্রথম আলো ফুটবল কুইজে এসএসএস করে লটারির মাধ্যমে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফুটবল ‘জাবুলানি ফুটবল’ জিতে নিয়েছেন ঢাকার পুরানা পল্টনের তানভীর সিকদার।

ট্রান্সটেক-প্রথম আলো বিশ্বকাপ কুইজ
১৮ জুনের কুপনগুলোর ড্র হয় ১৯ জুন। সেদিনের বিজয়ীদের তালিকা ও সাত বিভাগীয় শহরে প্রথম আলো কার্যালয়ে ড্র অনুষ্ঠানের খবর নিচে দেওয়া হলো। পুরস্কার সংগ্রহের জন্য বিজয়ীদের প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
ঢাকা: মো. রেজাউল করিম, প্রফেসরস প্রকাশন, ৩৮/৩ বাংলাবাজার।
চট্টগ্রাম: খালেদ আহমেদ সিরাজী, আপন নিবাস, নাসিরাবাদ।
খুলনা: সাহানা আক্তার, বাগমারা মেইন রোড।
বরিশাল: মো. আরিফুর রহমান, করিম কুটির।
রাজশাহী: মোহাম্মদ আলী, কলাবাগান।
সিলেট: সুব্রত দেব, আম্বরখানা।
রংপুর: মোরশেদ উদ্দিন মৃদুল, ধাপ, লালকুঠি।

এসকেএফ-প্রথম আলো প্রতিদিনের কুইজ
১৮ জুনের কুপনগুলোর ড্র হয় ১৯ জুন। সেদিনের বিজয়ীদের তালিকা ও ২৮ জেলা শহরে প্রথম আলো কার্যালয়ে ড্র অনুষ্ঠানের খবর নিচে দেওয়া হলো। এই তালিকার সব বিজয়ীকে পুরস্কার সংগ্রহের জন্য প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
ঢাকা: প্রথম: শহীদুল হাসান শহীদ, লালবাগ; দ্বিতীয়: লাকী কবির, ৬/৭ যোগীনগর, ওয়ারী; তৃতীয়: কাজী আহমেদ সাঈদ-উজ-্জামান, ২৬৪/৫ পশ্চিম ধানমন্ডি, রোড- ৮/এ; চতুর্থ: শেখ মো. মাসুম, ১-জি, এভিনিউ ৩-১, মিরপুর।
চট্টগ্রাম: প্রথম: মো. বাবুল, ২৭৫ পুরাতন গির্জা; দ্বিতীয়: সুজনচন্দ্র নাথ, আসকারদিঘির পাড়; তৃতীয়: মিলন নাথ, ৬২ মোমিন রোড; চতুর্থ: সুমন নাথ, নন্দনকানন।
খুলনা: প্রথম: পিংকি, খালিশপুর; দ্বিতীয়: রাইয়্যান, খুলনা পেপার হাউস; তৃতীয়: সোহেবুর রহমান স্বাধীন, বাগমারা মেইন রোড; চতুর্থ: সুরজিত মণ্ডল, মৌলভীপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনার সাবেক ফুটবলার এসএম মোশাররফ হোসেন।
বরিশাল: প্রথম: জুয়েল, রূপাতলী; দ্বিতীয়: শামীম হোসেন, অনামী লেন; তৃতীয়: ইনজামুদী সাফিন, পুরোনো পাসপোর্ট অফিস; চতুর্থ: মোসাম্মৎ নাজমিন আক্তার, পানবাড়ীয়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার ডেপুটি ডাইরেক্টর (অব.) সুধাংশু কুমার রায়।
রাজশাহী: প্রথম: সারোয়ার, ষষ্ঠিতলা; দ্বিতীয়: মনিরুল হাসান, ঘোড়ামারা; তৃতীয়: সাব্বির হাসান, মহিষবাথান; চতুর্থ: মামুনুর রশিদ, মহিষবাথান। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচ মাহমুদ আলম।
সিলেট: প্রথম: নন্দিতা দেব, রায়নগর; দ্বিতীয়: মৃণালকান্তি দেব, কাজলশাহ; তৃতীয়: সাথী, শেখঘাট; চতুর্থ: আলম, মেডিকেল রোড। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক সংগঠন নাগরিক মৈত্রীর আহ্বায়ক সমর বিজয় সী শেখর।
রংপুর: প্রথম: শাহান, রবার্টসনগঞ্জ; দ্বিতীয়: অথৈ, কেরামতিয়া মসজিদ মোড়; তৃতীয়: তালহা ইবনে রায়হান, নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া; চতুর্থ: মামুন আহমেদ, কেরানীপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ আলী।
দিনাজপুর: প্রথম: জাহিদ হাসান, বরাবন্দর; দ্বিতীয়: মাঈনুদ্দিন, বালুয়াডাঙ্গা; তৃতীয়: উত্তম কুমার, মিতলা; চতুর্থ: সাজু। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কলার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল জিয়াউল হক সিজার।
ময়মনসিংহ: প্রথম: মো. খাইরুল ইসলাম, আকুয়া চোকাইতলা; দ্বিতীয়: অপু, সানকিপাড়া; তৃতীয়: এস এম হালিম, নওমহল; চতুর্থ: সোহান মিয়া, ঢোলাদিয়া, তালতলা।
যশোর: প্রথম: শিমুল আহমেদ পলাশ, সরকারি এমএম কলেজ; দ্বিতীয়: রিপন, ঘোপ; তৃতীয়: ফাহিম ফুয়াদ, ঘোপ; চতুর্থ: দোলোয়ার হোসেন দিলশান, ষষ্টিতলাপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মোফাজ্জেল হোসেন।
ফরিদপুর: প্রথম: শিতল বণিক ওরফে বাপ্পি, শান্তিবাগ; দ্বিতীয়: ঋতুপর্ণা রায়, নিলটুলী; তৃতীয়: কবির মিয়া, গোয়ালচামট; চতুর্থ: অভিজিৎ রায়, ঝিলটুলী। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিশু সংগঠক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী।
কুমিল্লা: প্রথম: রফিক আহমেদ, ফুলতলী হাউস, সুজানগর; দ্বিতীয়: জুয়েল, কান্দিরপাড়; তৃতীয়: দিদার মাহবুব, শাসনগাছা; চতুর্থ: অনির্বাণ রায়, পুরাতন চৌধুরীপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুর রহমান।
পাবনা: প্রথম: সায়ন আশরাফী, জেলাপাড়া; দ্বিতীয়: প্রকৃতিরঞ্জন বড়ুয়া, কালাচাঁদপাড়া; তৃতীয়: বদরুন নাহার, মোকছেদপুর; চতুর্থ: সঞ্জয়কুমার ঘোষ, শালগাড়ীয়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শামিম রায়হান, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক গোপালপুর ক্লাব।
বগুড়া: প্রথম: মোফাজ্জল হোসেন, নিশিন্দারা মধ্যপাড়া; দ্বিতীয়: বৃষ্টি খন্দকার, বেগম রোকেয়া হল, কামারগাড়ি; তৃতীয়: এম এ করিম, হেলাল ছাত্রবাস; চতুর্থ: আল ফারুক হোসেন, উপশহর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার সাবেক কৃতী খেলোয়াড় মিজানুর রহমান।
কক্সবাজার: প্রথম: সুফিয়া আকতার, টেকপাড়া; দ্বিতীয়: প্রসেনজিত চক্রবর্তী, হাসপাতাল সড়ক; তৃতীয়: টিটু দাশ, সুবর্ণা লন্ড্রি, প্রধান সড়ক; চতুর্থ: কোহিনূর আকতার, মা ও শিশুকল্যাণকেন্দ্র। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. সিরাজুল হক।
রাঙামাটি: প্রথম: অমৃতা চাকমা, খাদ্যগুদামপাড়া; দ্বিতীয়: ছন্দসেন চাকমা, চক্রপাড়া; তৃতীয়: সুজল দেওয়ান, ১ নম্বর পাথরঘাটা; চতুর্থ: মনান চাকমা, কাটা পাহাড়। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাপড়ী চাকমা, সংগীতশিক্ষক, মোনঘর প্রি-ক্যাডেট স্কুল, রাঙ্গাপানি, রাঙামাটি।
নোয়াখালী: প্রথম: ইয়াছিন, মাইজদী; দ্বিতীয়: রুমন, সেন ভবন, নাপিতেরপুল; তৃতীয়: তাছলিম আহম্মেদ, দত্তেরহাট; চতুর্থ: তানভীর আহমেদ, চৌধুরী মঞ্জিল, হাসপাতাল রোড। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাসব সরকার।
ফেনী: প্রথম: নাবিহা, চাড়িপুর; দ্বিতীয়: মমতাজ, ফেনী ক্লিনিক; তৃতীয়: মো. ফয়সল নান্টু, তাকিয়া রোড; চতুর্থ: তানজিয়া, এসএস রোড। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোস্তানছুর রহমান চীেধুরী।
কুষ্টিয়া: প্রথম: মুর্তজা কামাল রাজু, সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংক; দ্বিতীয়: সাইফুন নাহার স্বপ্না, কলাবাগান মাঠ, আমলাপাড়া; তৃতীয়: তৌফিক-ই-এলাহী সামি, কালীবাড়ি লেন; চতুর্থ: গৌরচন্দ্র পাল, হেমচন্দ্র লাহিড়ী লেন । ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট কোচ কাজী ইমদাদুল বাসার রিপন।
কিশোরগঞ্জ: প্রথম: জুলহাস উদ্দিন; দ্বিতীয়: কাউসার আহমেদ; তৃতীয়: মো. রাফিউল্লাহ; চতুর্থ: নিলয় সেন শান্ত। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ক্রীড়ামোদী মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল গণি।
কুড়িগ্রাম: প্রথম: মো. মাইদুল ইসলাম, তালতলা কলেজপাড়া; দ্বিতীয়: মো. সফিকুল ইসলাম, শুভ ছাত্রাবাস, তালতলা; তৃতীয়: মমিনুল ইসলাম, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া; চতুর্থ: মো. মনিরুজ্জামান, ডাকবাংলো পাড়া।
সিরাজগঞ্জ: প্রথম: রাসেল, চক কোবদাসপাড়া; দ্বিতীয়: সাজিতা দিল তাসমীম, বাহিরগোলা; তৃতীয়: মোহাম্মদ আলী, সিরাজী সড়ক; চতুর্থ: সাকিব সোবাহান বাহিরগোলা রোড। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।
বরগুনা: প্রথম: গোলাম রসুল, ডিকেপি সড়ক; দ্বিতীয়: খাইরুল ইসলাম, মসজিদ মার্কেট; তৃতীয়: এ এইচ ইখলাস, চরকলোনী; চতুর্থ: রিয়াজ, আমতলাপাড়। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহেল বাকি।
ভৈরব: প্রথম: মোয়াজ্জেম, কাচারি রোড; দ্বিতীয়: শাহরিয়ার, কালিপুর; তৃতীয়: আরমান জেকি, কালিপুর; চতুর্থ: মনির, কামলপুর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি খেলাঘর ভৈরব শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, নাট্যকর্মী সাগর রহমান, অধ্যাপক সেলিনা আক্তার।
পটুয়াখালী: প্রথম: মো. মহিবুল্লাহ, সবুজবাগ ; দ্বিতীয়: নিবিড়, মিঠাপুকুর পাড়; তৃতীয়: আলমগীর, নতুন বাজার; চতুর্থ: মনোজ দাস, পুরান বাজার। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি স্বপন ব্যানার্জি, ফুটবল প্রশিক্ষক বাদল হালদার।
টাঙ্গাইল: প্রথম: এহসানুল হক খান শাহীন, আকুরটাকুরপাড়া; দ্বিতীয়: রিপন সাহা জয়, প্যাড়াডাইস পাড়া; তৃতীয়: অনিক, আশেকপুর; চতুর্থ: মীর আসিফ ফরহাদ, থানাপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ফুটবল পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছানোয়ার হোসেন।
সাতক্ষীরা: প্রথম: ইয়াসমিন আরা লিপি, রুমি ছাত্রী নিবাস; দ্বিতীয়: অরূপকুমার দেবনাথ, মুনজিতপুর; তৃতীয়: ঝর্ণা, রুমি ছাত্রী নিবাস; চতুর্থ: উত্তম মুখার্জি, মুনজিতপুর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া লেখক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম খান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রথম: রেজাউল হক, রাজারামপুর-মাস্টারপাড়া; দ্বিতীয়: আব্দুর রাজ্জাক, ফুলকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়; তৃতীয়: ফারজানা সূচনা, হরিপুর-মিয়াপাড়া; চতুর্থ: গোলাম আরিফ, হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রাবাস। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবল প্রশিক্ষক হুমায়ন কবীর, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক শহীদুল হক।

রোনালদোর আবেদন নাকচ

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কোনো কিছুই যেন ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে না এবার। এই যেমন আইভরিকোস্টের বিপক্ষে পাওয়া হলুদ কার্ডের বিরুদ্ধে যে আবেদন করেছিলেন, সেটা ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির দেয়ালে লেগে ফিরে এসেছে। হলুদ কার্ডটা বহালই থাকছে বিশ্বের সবেচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের। ওয়েবসাইট।
পর্তুগাল দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এই ব্যাপারে রেফারিই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তাই ফিফা আমাদের আপিল নাকচ করে দিয়েছে।’ ফিফার সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি নন রোনালদো, বেজায় নাখোশ সতীর্থরাও। পর্তুগালের মিডফিল্ডার রাউল মিরেলেজ জানিয়েছেন তাঁর অসন্তোষের কথা, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। পরিস্থিতি যেমন ছিল তাতে ও তেমন কিছুই করেনি অথচ একটা হলুদ কার্ড দেখতে হলো!’

গতকালের ফল

ব্রাজিল ৩: ১ আইভরিকোস্ট
প্যারাগুয়ে ২: ০ স্লোভাকিয়া
ইতালি ১: ১ নিউজিল্যান্ড