Tuesday, November 13, 2018

আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দিতে চায় কানাডা

ব্লাসফেমির অভিযোগ থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই কথা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে মুক্তির আদেশ দেয়ার আগে আট বছর কারাগারে কাটিয়েছেন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসিয়া বিবি।
তার অব্যাহতির আদেশ হওয়ার পর পাকিস্তানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে ইসলামপন্থীরা। মিস্টার ট্রুডো বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসিয়া বিবিকে কানাডায় নিয়ে আসা এবং আশ্রয় দিতে চায় তার সরকার।
প্যারিসে একটি কনফারেন্স চলার সময় মি. ট্রুডো বলেন, '' সেখানে (পাকিস্তানে) অনেক স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যে কারণে এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, কানাডা একটি আন্তরিক দেশ।''
আসিয়া বিবির স্বামী বলেছেন, তাদের পরিবার এখন বিপদে আছে এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
হত্যার হুমকি পাওয়ার পর আসিয়া বিবির আইনজীবী, সাইফুল মুলুককে অস্থায়ী শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
আসিয়া বিবিকে অব্যাহতির আদেশের পর শুরু হওয়া সহিংসতা ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানের সরকার সম্মত হয়েছিল যে, তার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে তারা পদক্ষেপ নেবে।
বেশ কয়েকটি দেশ তাকে আশ্রয় দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দেয়ার এই সিদ্ধান্তে কানাডার বিরোধী রক্ষণশীল পার্টিরও সমর্থন রয়েছে। তার পরিবারকে আশ্রয় দিতে সব রকম ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোকে অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় ইসলামের নবী মোহাম্মদকে অপমান করার অভিযোগে আসিয়া বিবিকে ২০১০ সালে সাজা দেয়া হয়, যার প্রকৃত নাম আসিয়া নরিন।
পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনে কোন অমুসলিম নারী হিসাবে প্রথম দণ্ডিত হয়েছেন পাঁচ সন্তানের মা আসিয়া বিবি। ইসলামকে অবমাননা করার অভিযোগে এই আইনে যে কারো মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
তখন থেকে এই মামলাটি আলোচনার তৈরি করে।
২০১১ সালে আসিয়া বিবির পক্ষ নেয়ার কারণে পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে হত্যা করা হয় বলে মনে করা হয়।
একই ধরণের মন্তব্যের কারণে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শাহবাগ ভাট্টিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সূত্রঃ বিবিসি।

আসিয়া বিবিকে নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কানাডার আলোচনা চলছে: ট্রুডো

পাকিস্তানে ব্লাসফেমির অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবিকে নিয়ে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কানাডা। প্যারিসে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ব্লাসফেমির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও কট্টর ইসলামী সংগঠনের রোষের মুখে কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না আসিয়া বিবি।
২০০৯ সালে মুসলিম শ্রমিকদের গ্লাসে আসিয়ার পানি পান করাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। ২০১০ সালে পাকিস্তানের ব্লাসফেসি আইনে দেশটির প্রথম নারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তখন থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো সমালোচনা শুরু হয়। উচ্চ আদালতের রায় বাতিল করে গত ৩১ অক্টোবর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে তাকে সাজা থেকে অব্যাহতি দেন। রায় ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ শুরু করে কট্টরপন্থী দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি)। গত ৩ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, আসিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও রিভিউ পিটিশনের বিরোধিতা না করার পাশাপাশি সহিংস কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট নয়,এমন বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর বিপরীতে টিএলপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ বন্ধের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডে কেউ মানসিক আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় জীবন শঙ্কায় থাকা আসিয়ার জন্য কারাগারের অভ্যন্তরেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘সেফ হাউস’।
সম্প্রতি আসিয়া বিবির স্বামী আশিক মসিহ জানিয়েছিলেন, তাদেরকে আশ্রয় দিতে ব্রিটেন, কানাডা, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আসিয়া প্রশ্নে এএফপিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেন, ‘পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’ তার এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ট্রুডোর এ মন্তব্যের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে আসিযাকে কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নেই দোই দেশের আলোচনা চলছে কিনা তা নিশ্চিত করেননি ওই মুখপাত্র।
এএফপিকে ট্রুডো বলেন, ‘এটি একটি দেশের স্পর্শকাতর বিষয়, যাকে আমরা সম্মান করি। সেজন্য আমি এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে কানাডা মানুষকে স্বাগত জানানোর দেশ।’ এর আগে গত সপ্তাহে আসিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল কানাডা। সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনও আসিয়া বিবিকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দিতে সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কারাগারের সেফ হাউসে থাকা আসিয়া বিবির নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আসিয়া বিবির কক্ষে অতিরিক্ত নজরদারি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ওই জায়গায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়ার সময় সবাইকে তল্লাশি করা হচ্ছে। যারা আসিয়ার জন্য খাবার প্রস্তুত করেন তাদেরও তল্লাশি করা হয়। সোমবার (৫ নভেম্বর) আসিয়ার আইনজীবী সাইফুল মালুক নেদারল্যান্ডসের হেগে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন,তাকে তার ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ দেশ ছাড়তে হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাকে দেশ ছাড়তে বলেছে। সংবাদ সম্মেলনে মালুক বলেন, ‘আমি জোরালোভাবে বলেছিলাম,আসিয়াকে কারাগার থেকে বের না করা পর্যন্ত আমি দেশ ছাড়বো না।’
আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অবস্থান সবসময়ই ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে। তারা মনে করে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট কোনও প্রশ্ন নয়,ধর্ম অবমাননাকেও তাই আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিচার করা যায় না। পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, তবে সেখানে অনেক মানুষ ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে শ্রীলঙ্কার রাজনীতি

শ্রীলঙ্কার রাজনীতির ভাগ্য দৃশ্যত এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে। প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে যে আগাম জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করেছেন তার বৈধতার বিষয়ে মঙ্গলবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করছে সুপ্রিম কোর্ট। তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে আবেদনের শুনানি করেছেন ১২ই নভেম্বর। ওই বেঞ্চের বিচারকরা হলেন প্রধান বিচারপতি নলিন পেরেরা, বিচারপতি প্রিয়ান্থা জয়বর্ধনে ও বিচারক প্রসন্ন জয়বর্ধনে। এর আগে ক্ষমতা নিয়ে লড়াইয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। একই সঙ্গে প্রথমে তিনি পার্লামেন্ট স্থগিত ও পরে ভেঙে দেন। আগামী ৫ই জানুয়ারি আগাম জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করেন তিনি। এর ফলে সেখানে সাংবিধানিক এক মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়।
প্রেসিডেন্টের পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া ও আগাম নির্বাচনকে অসাংবিধানিক দাবি করে ১৩টি মৌলিক অধিকার বিষয়ক পিটিশন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। এসব পিটিশনের ওপর সোমবার শুনানি শেষে আদালত মুলতবি হয়। পিটিশনগুলো করেছে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি), জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি), তামিল ন্যাশনাল এলায়েন্স (টিএনএ), অল সাইলন মাক্কাল কংগ্রেস (এসিএমসি), শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেস (এসএলএমসি)। এ ছাড়া পিটিশন করে নাগরিক সমাজের সংগঠন সেন্টার ফর পলিসি অলটারনেটিভস (সিপিএ), সাবেক এমপি মানো গণেষ ও এটর্নি অরুল লাকসিরি।
ওইসব পিটিশনে বলা হয়, সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীর অধীনে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা নেই প্রেসিডেন্টের। তাই প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা যে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছেন তাকে বাতিল ঘোষণা করতে আবেদন জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৫ই জানুয়ারি ঘোষিত আগাম নির্বাচনও স্থগিত ঘোষণা করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছে। টিএনএ’র পক্ষে সোমবার আবেদন করেছেন এ দলের নেতা আর সাম্পানথান। তিনি এতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ৯ই নভেম্বর যে নোটিফিকেশন জার করেছেন তা সংবিধানের লঙ্ঘন। শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীর অধিীনে যদি পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার পক্ষে প্রস্তাব পাস করেন তাহলেই প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারেন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হলো, প্রেসিডেন্ট এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন যদি পার্লামেন্টের মেয়াদ সাড়ে চার বছরের বেশি হয়। বেশির ভাগ আবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে। তবে ইউএনপির উপনেতা সাজিথ প্রেমাদাসা কলম্বো পেজ’কে বলেছেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি, ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার পাবো সুপ্রিম কোর্ট থেকে। কারণ, এটাই আমাদের সম্মানের সর্বোচ্চ স্থান। আমাদের একটি সংবিধান আছে। তার অধীনে আমরা সব কিছু করতে পারি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সংবিধান লঙ্ঘন করে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। যদি সংবিধান এভাবে অব্যাহতভাবে লঙ্ঘন করা হয় তাহলে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। ইউএনপির সাধারণ সম্পাদক আকিলা বিরাজ কারিইওয়াস্বাম বলেন, আমরা যে কথা বলেছি আশা করি আদালত সাংবিধানিক নিয়মের অধীনে তার সুরাহা দেবেন। এ জন্যই আমরা আদালতে এসেছি।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন উত্তেজনা, হামাস টিভি ধ্বংস

বিমান হামলা চালিয়ে আরো কমপক্ষে চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। তারা ধ্বংস করে দিয়েছে যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাসের ‘হামাস টিভি’। সেখানে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায় নি। ২০১৪ সালের পর ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য সহিংস অবস্থা বিরাজ করছে। রকেট হামলার অভিযোগে এর আগে ইসরাইলি সেনারা ছদ্মবেশ ধারণ করে গাজা উপত্যকার ভিতরে প্রবেশ করে সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাতে নিহত হন হামাসের একজন সিনিয়র কমান্ডার সহ কমপক্ষে সাত ফিলিস্তিনি। এর ২৪ ঘন্টারও কম সময় পরে নতুন করে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এ সময় গাজায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও গোলা নিক্ষেপ করে ইসরাইলিরা।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
সোমবার দিনের শুরুতে ইসরাইলের দিকে বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করা হয় গাজা উপত্যকা থেকে। ইসরাইল বলেছে, তাদের আয়রন ডোম সিস্টেম দিয়ে ৩০০ রকেটকে অকেজো করে দেয়া হয়েছে। তবে একটি রকেট একটি বাসে আঘাত করেছে। আরেকটি দক্ষিণ ইসরাইলে একটি ভবনে আঘাত করেছে। ওই ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাশকেলনের ওই ভবন থেকে একজন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরাইলি সেনারা বলেছে, একজন সেনা সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৭ ইসরাইলি।
এমন অবস্থায় সব পক্ষকে এমন লড়াকু অবস্থান থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, পরিস্থিতিকে শান্ত করতে মিশর ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক নিকোলাই ম্লাদেনভ।
ওদিকে ইলেক্ট্রনিক ইনতিফাদা’র আলি আবুনিমাহ বলেছেন, গাজায় সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে ইসরাইল। তারা সন্ত্রাসী কাজ চালাচ্ছে। বোমা হামলা করছে। মানুষদের হত্যা করছে।

পল্টনজুড়ে ভোট উৎসব, দ্বিতীয় দিনেও উপচে পড়া ভিড়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সারাদেশ থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে দলটি। এই উপলক্ষে সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড়ে মুখরিত নয়াপল্টন এলাকা। নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যাপ্ত নেতাকর্মীদের ভীড়ে তিল ধরনের ঠাই নেই। আশপাশের অলিগলিতেও একই অবস্থা।
নেতারা বিরাট বিরাট কর্মী সমর্থক বহর নিয়ে মনোনয়ন ফরম তুলতে আসছেন নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। অনেকে ব্যান্ড পার্টি ও নেতাকর্মীর বহর নিয়ে মনোনয়ন ফরম তুলতে আসছেন। মনোনয়ন ফরম তোলার পর পল্টন ও আশপাশের এলাকা দিয়ে মিছিল করছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
অনেকে জনসমর্থনের প্রমান দিতে বিশাল বিশাল বহর নিয়ে হাজির হচ্ছেন পল্টনে।
আজ দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারন সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি চুয়াডাঙ্গা ১ সদর আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চান। এর পর বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা ৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে জেল খানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সর্ব ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের অধিনে কিছু আছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এর পরেও আমরা নির্বাচনে গেছি একটি ভালো পরিবেশ আসবে বলে প্রত্যাশা করি।
আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো নির্বাচনে থাকা কিন্তু সরকার যদি সেই পরিবেশ তৈরি করতে না পারে বা কোনো কারণে যদি নির্বাচন পন্ড হয়ে যায় তাহলে তার দায় ভার সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাজী আবুল বাশার বলেন, আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে কিনা সেটা নির্ভর করবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ এবং আমাদের দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের উপর।
দলীয় যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে ফেনী-১ আসনের জন্য দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে ফরম গ্রহণ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার হাতে ফরম তুলে দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এরপর বগুড়া-৬ আসনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে ফরম গ্রহণ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এরপরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস খালেদা জিয়ার পক্ষে বগড়া-৭ আসনের ফরম গ্রহণ করেন।

সন্তানের কাছে হ‌ুমায়ূন আহমেদই ছিলেন মিসির আলি-হিমু by ওয়ালিউল বিশ্বাস

মিসির আলি ও হিমু; বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য চরিত্র। একজন চলেন যুক্তি দিয়ে, অন্যজনের কাছে আবেগটাই বড়। সম্পূর্ণ বিপরীত কিন্তু প্রায় সমান জনপ্রিয় এ চরিত্রগুলোর স্রষ্টা নন্দিত লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদ। তাঁর কারণেই শত শত যুবক খালি পায়ে রাস্তায় নামে। পাঞ্জাবি গায়ে হতে চায় হিমু! কিংবা যুক্তি বা বাস্তবতার আলোকে মিসির আলির মতো চারদিকে তাকায়।
কিন্তু এই দুই চরিত্র আসলে কারা? কাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ হ‌ুমায়ূন? তার সঙ্গে কাজ করা অসংখ্য শিল্পী কিংবা তার সন্তান নুহাশের মতে, এ চরিত্র দুটির বাস হ‌ুমায়ূনর ভেতরেই! তিনিই আসলে মনে ধারণ করেন হিমু, আবার ভাবেন মিসির আলির মতো করে!
সম্প্রতি হ‌ুমায়ূনর ‌‘দেবী’ উপন্যাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রে মিসির আলি চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরীর মতে, হ‌ুমায়ূন আহমেদই মিসির আলি।
ছবিটি দেখতে এসে ঠিক এমনটাই জানিয়েছিলেন হ‌ুমায়ূনপুত্র নুহাশ। তার ভাষ্য, ‘মিসির আলি চরিত্রটা আমি আসলে কারও সঙ্গে কম্পেয়ার করতে পারব না। কারণ, আমি যখন উপন্যাসটি পড়ি তখন চোখে শুধু বাবাকেই দেখি। বাবাই আমার কাছে মিসির আলি।’
ঠিক একইভাবে নুহাশ হিমু চরিত্রটির ছায়াও পেতেন বাবার মধ্যে।
তবে হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখনী মতে, তিনি মিসির আলি চরিত্রটির ধারণা প্রথম পেয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার ফার্গো শহরে, স্ত্রী গুলতেকিন খানের সাথে গাড়িতে ভ্রমণের সময়। এটি মাথায় চলে এলেও তিনি মিসির আলি চরিত্রের প্রথম উপন্যাস ‘দেবী’ লেখেন এই ঘটনার অনেকদিন পর।
মিসির আলি কোনও বাস্তব চরিত্রকে দেখে লেখা কিনা- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও তিনি একবার উত্তর করেছিলেন এভাবে, ‘না, মিসির আলিকে আমি দেখিনি। অনেকে মনে করেন লেখক নিজেই হয়তো মিসির আলি। তাদের বিনীতভাবে জানাচ্ছি, আমি মিসির আলি নই। আমি যুক্তির প্রাসাদ তৈরি করতে পারি না এবং আমি কখনও মিসির আলির মতো মনে করি না প্রকৃতিতে কোনও রহস্য নেই। আমার কাছে সব সময় প্রকৃতিকে অসীম রহস্যময় মনে হয়।’
কিন্তু এই অভয়বাণী সত্ত্বেও ‘নলিনী বাবু B.Sc’ উপন্যাসে লেখককেই মিসির আলির ভূমিকায় দেখা যায়! তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি (লেখক) এই ভেবে আনন্দ পেলাম যে, সালেহ চৌধুরী (লেখকের সফরসঙ্গী) মিসির আলিকে উপন্যাসের চরিত্র হিসেবে দেখছেন না।’
কিন্তু তাহলে হিমু?
এ চরিত্রটিতে অভিনয় করা মোশাররফ করিম একবার বলেছিলেন, এ চরিত্রটি আসলে হ‌ুমায়ূন নিজেই।
হিমু চরিত্রের আসল নাম হিমালয়। এ নামটি রেখেছিলেন তার বাবা। লেখক হিমুর বাবাকে বর্ণনা করেছেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ হিসেবে; যার বিশ্বাস ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় তবে একইভাবে মহাপুরুষও তৈরি করা সম্ভব। তিনি মহাপুরুষ তৈরির জন্য একটি বিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন, যার একমাত্র ছাত্র ছিল তার সন্তান হিমু। হিমুর পোশাক হলো পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি। হলুদ বৈরাগের রঙ বলেই পোশাকের রঙ হলুদ নির্বাচিত করা হয়েছিল। ঢাকা শহরের পথে পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো তার নিয়মিত কাজ। রুমের দরজার খোলা রেখে ঘুমানো, বৃষ্টিতে ভেজা বা শব্দ শুনতেও এ চরিত্রটি পছন্দ করত। কবির মতো ব্যাগ বা কবিতা আওড়াতেও দেখা যেত তাকে।
মজার বিষয় হলো, এই চরিত্রটির সঙ্গে হ‌ুমায়ূন আহমেদ নিজের অনেক কিছুই মিলে যেত। উদাসী এ লেখকের বাসায় কোনও লকার ছিল না। কোনও তালা-চাবি ছিল না। তিনি বাসা লক করে ঘুমাননি।
হ‌ুমায়ূন আহমেদ জোরে জোরে কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসতেন। আবৃত্তির ক্ষেত্রে তার প্রিয় কবিতা ছিল জীবনানন্দ দাশের ‘ক্যাম্পে’ এবং রবার্ট ফ্রস্টের ‘স্টপিং বাই উডস অন আ স্নোয়ি ইভনিং’।
হিমুর মতোই তিনি বৃষ্টি প্রচণ্ড পছন্দ করতেন। নিজের বাগানবাড়ি নুহাশপল্লীতে আছে ‘বৃষ্টি বিলাস’ নামের কটেজ।
লেখকের বাগানবাড়িতে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার মতে, বৃষ্টির আগ দিয়ে তারা হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্য প্রস্তুত হতেন। কারণ, বৃষ্টি মানেই হ‌ুমায়ূন আহমেদের গা ভেজানোর নিজস্ব নিয়ম। ঠিক হিমুর মতোই পূর্ণিমাতে তিনি অস্থির হয়ে উঠতেন।
বাংলা সাহিত্যের অসম্ভব প্রতিভাবান এ লেখকের লেখায় মুগ্ধ হয়ে তার মতোই ছেলেমেয়েরা আজও বৃষ্টি মেখে চলেছেন, ভিজছেন জোছনায়।
আজ সেই জোছনার গল্পকথকের জন্মদিন!

প্রত্যাবাসনে ভীত রোহিঙ্গারা

প্রত্যাবাসনে ভীত রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, এখনও রাখাইনে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় ফিরে গেলে ফের নির্যাতন-বঞ্চনার শিকার হওয়ার শঙ্কাও তাড়া করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য  স্টার অনলাইনে ভীত রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক রিপোর্টে এমন করুণ আর্তনাদই ফুটে উঠেছে। বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম ওঠা রোহিঙ্গারা এতটাই ভীতির মধ্যে রয়েছেন যে তাদের অনেকেই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ৫৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ওই তালিকায় নাম ওঠার খবরে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো রোহিঙ্গাদের নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দেয়া এবং মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেনি। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও এমন তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেনি।
তবে তারা খোঁজ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন। “রোহিঙ্গাস ফিয়ারস গ্রো এজ রিফিউজিস ফেস ফোরসিবলি রিটার্ন টু মিয়ানমার” শিরোনামে রিপোর্ট করেছে গার্ডিয়ান। যার উপ-শিরোনাম ছিল “এইড এজেন্সিস গিভ ওয়ার্নিং এজ মিয়ানমার অ্যান্ড বাংলাদেশ বিগিন রিটার্ন অব ‘টেরিফাইড’ রিফিউজিস টু রাখাইন স্টেট”। রিপোর্টের সূচনাতে বলা হয়েছেÑ জাতিসংঘের আপত্তি এবং রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার হাজারও রোহিঙ্গাকে এই সপ্তাহে রাখাইনে ফেরাতে পরিকল্পনা নিয়েছে। ওই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতির জন্ম দিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের মতামত ব্যতিরেকে গত সপ্তাহে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনাটি নেয়া হয়। এ খবর কক্সবাজারস্থ ক্যাম্পগুলোতে পৌঁছালে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রথম ব্যাচ বৃহস্পতিবারই যাচ্ছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু তখনও তালিকায় থাকা অনেক রোহিঙ্গারাই তাদের ‘নাম থাকার’ বিষয়টি জানে না। তাদের কাছে এটি খুবই অস্পষ্ট যে তালিকাটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে। গার্ডিয়ানের রিপোর্টে মুহাম্মদ আয়াজ নামে একজনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আয়াজ বলেছেন, ‘জোরপূর্বক’ প্রত্যাবাসন নিয়ে কয়েক দিনের দুশ্চিন্তা এবং নিন্দ্রাহীনতায় কাটানোর পর গত সপ্তাহে তার বাবা মুহাম্মদ শাকের (৫৮) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও বাবা আমাকে বলছিলেন তোমার ভাই-বোনদের লুকিয়ে ফেল। তাদের ফেরত পাঠানো থেকে বাঁচাও। তোমরা মিয়ানমারে ফিরো না। যদি যাও সেখানে তোমাদের আবারও সহিংসতার মুখে পড়তে হবে।’ গার্ডিয়ানের রিপোর্টে যে পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়Ñ গত বছরের আগস্টের পর মিয়ানমারের আর্মি এবং মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কিছু লোক মিলে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচারের প্রেক্ষিতেই প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্মীদের ওই বর্বরতাকে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। সেখানে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার তথ্য পেয়েছে তারা। ইনভেস্টিগেশন টিম বহু নারীকে গণ ধর্ষণ এবং নারীদের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রমাণও পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে গার্ডিয়ান তাদের রিপোর্টে জানিয়েছেÑ কক্সবাজারে থাকা বাস্তুচ্যুতরা তাদের ওপর বয়ে যাওয়া অত্যাচারের মতই এখন ফের আতঙ্কে ভুগছেন। উনচিপাড়াং ক্যাম্পের দু’জন বাস্তুচ্যুত এ খবরে অত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন জানিয়ে প্রতিবেশীদের বরাতে রিপোর্টে বলা হয়Ñ ষাট বছর বয়সী দিল মোহাম্মদ এবং এবং পঞ্চান্ন বছর বয়সী হামিদ হোসাইন তালিকায় নিজের নাম থাকার খবরে এবং তাদের রাখাইনে যেতে হবে এমনটা জানার পর এতটা শংকিত হয়ে পড়েন যে তারা নিজেদের জীবন নিজেরাই শেষ করে দিতে উদ্ধত হয়েছিলেন। জামতলী রিফিউজি ক্যাম্পে থাকা মুহাম্মদ ইসমাঈল, তার স্ত্রী ও ৬ সন্তানের নাম প্রত্যাবাসন তালিকায় রয়েছে। তিনি বলছিলেন তার কাছাকাছি থাকা আরো ১৩টি পরিবারের নাম রয়েছে প্রত্যাবাসন তালিকায়। কিন্তু তার মতো কেউই জানেন না কীভাবে তালিকায় স্থান পেলেন। তারা কেউই ফিরতে চান না জানিয়ে ইসমাঈল বলেন, আমি খুবই বিভ্রান্তি এবং ভয়ের মধ্যে আছি। আমরা এটাও জানি না আমাদের জীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে? প্রত্যাবাসনের লিজিস্টিক বা  প্রস্তুতির বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট উল্লেখ করে রিপোর্টে রাখাইন রাজ্যের মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাবশালী সদস্য অং শেরিংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়Ñ তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম গ্রুপে ২০০০ রোহিঙ্গা ফিরবেন। প্রতিদিন ১৫০ জনকে স্থল পথে বা নৌকায় ফেরানো হবে। সীমান্তের হ্লা ফোন কাউং ট্রানজিট ক্যাম্প হয়ে তারা ফিরবেন। প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওই ক্যাম্পে তাদের থাকতে হবে, নিজ গ্রামের পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত।  এসব কারণেও বাস্তচ্যুত পরিবারগুলো দ্বিধা ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়Ñ রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বাড়িঘর সহায় সম্পত্তি সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যাদের জমিজমা ছিল তা স্থানীয় বোদ্ধারা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় তারা কিভাবে নিজেদের গ্রামে ফিরবে এবং সেখানে কিভাবে বসবাস করবে তা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে রিপোর্টে বলা হয়- নতুন করে কিছু মডেল গ্রাম বানানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত। ফলে রোহিঙ্গারা কোথায় কি অবস্থায় ফিরবে তা এখনও অস্পষ্ট। তা ছাড়া সেখানে রাখাইনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের গভীর বৈরী আচরণের বিষয়টিও রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়Ñ যদিও বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায়। কিন্তু প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা অনেক রোহিঙ্গাকে জোর করার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদেরকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ-ও বলা হয়েছে, এই মাসের যেকোনো সময় আপনারা কল পাবেন এবং আপনাদের সীমান্তের ওপারে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ার অভিযোগও করছে রোহিঙ্গারা। এ অবস্থায় ইউএন্এইচসি আর বলছে তারা প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো যানবাহন বা কোনো ধরনের সুবিধা দেবে না। তারা মনে করে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন এখনও উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যেটা তাদের অধিকার সেটি এখনও নিশ্চিত হয়নি। ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র ক্যারোলিন গ্লাককে উদ্ধৃত করে বলা হয়Ñ তিনি বলেছেন, এটা অস্পষ্ট যে, যারা ফেরত যাবেন তাদের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে। তবে ইউএনএইচসিআর এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, তাদেরকে যদি ক্যাম্পে রাখা হয়, তাহলে তারা কোনো সহায়তা পাবে না। রিপোর্ট বলছে, চটজলদি ওই প্রত্যাবাসনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের রাজনৈতিক চাপ। বাংলাদেশে ডিসেম্বরে নির্বাচন। প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার কক্সবাজারে থাকাটা একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। চীন বলছে, তারা মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে যাবে প্রত্যাবাসনটি শুরু করার জন্য। তারা এরই মধ্যে প্রত্যাবাসীদের জন্য রাখাইনে প্রায় ১ হাজার বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। গার্ডিয়ানের রিপোর্টে অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ৪২টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেÑ তারা সবাই বলছে, এখনই প্রত্যাবাসন হবে অপরিপক্ব এবং বিপজ্জনক। তাদের সঙ্গে অভিন্ন সুরেই জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি সার্বিক বিবেচনায় প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। 
আতঙ্কে ঘুম ও নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে রোহিঙ্গারা
এদিকে রয়টার্সের বরাতে মালয়েশিয়ান সংবাদ মাধ্যম স্টার অনলাইন একটি রিপোর্ট করেছে। ‘কান্ট ইট, কান্ট সিøপ: রোহিঙ্গা অন মিয়ানমার রিপার্টরিয়েশন লিস্ট’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যা¤েপ বসবাসরত নুরুল আমিন প্রত্যাবাসনের কথা শোনার পর থেকেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন। একই অবস্থা তার চার সন্তান, স্ত্রী এবং বোনের। তিনি বলেন, যখন থেকে শুনেছি মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে, তখন থেকে রাতে ঘুমাতে পারি না। আর ফিরে যাবার তালিকায় আমার নাম রয়েছে, একথা শোনার পর থেকে আমি খেতেও পারছি না। মিয়ানমারে প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন তালিকায় দুই হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তাদের কেউই মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি নয় জানিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলছে, যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাস করেন না। অনেকে আবার নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিয়ে নিজ গ্রামে পাঠানো উচিত বলে মত দিয়েছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। কিন্তু তাদের মতামত ছাড়াই প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম তোলা হয়েছে জানিয়ে একজন বলেন, এটিই তাদের আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ওই তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং তালিকাটি পুনর্নিরীক্ষণ করেছে মিয়ানমার। আব্দুর রহিম নামের আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেছেন, আমাকে যাবার জন্য জোর করা হলে আমি বিষ খাবো। আমার চোখের সামনে আমার ভাইকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। দেশে ফিরে আবারো একই অবস্থা হবে না এর নিশ্চয়তা কী? নূর কাইদা নামের ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মন্তব্য ছিল এমন দেশে ফিরে ধর্ষণের শিকার হবার চেয়ে ক্যা¤েপ মারা যাওয়াও অনেক ভালো। প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্যা¤প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে তাদের তালিকা ও নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কেননা এতে পুরো ক্যা¤েপ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ যেসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য তালিকা তৈরি করেছে তাদের কাউকেই জোরপূর্বক পাঠানো হচ্ছে না। প্রত্যাবাসনের জন্য অনুপ্রাণিত করার চেষ্টায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

দেশে ৭১ লাখ লোক ডায়াবেটিস আক্রান্ত বছরে চিকিৎসায় খরচ ১৭ হাজার কোটি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে মাসিক প্রায় ২,০০০ টাকা খরচ করতে হয় বলে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ ট্যাবলেট খান এবং প্রায় ১৭ ভাগ ইনসুলিন নেন। বাকি ১১ শতাংশের দুটোই প্রয়োজন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চিকিৎসক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেছেন, ডায়াবেটিস রোগীকে সচেতন হতে হবে। হাঁটা-চলা, খাদ্যাভাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সকল ডায়াবেটিস রোগীকে ট্যাবলেট খেতেই হয়। কিছু রোগী ইনসুলিন ব্যবহার করেন। ইনসুলিনের দাম বেশি হওয়ায় ওষুধ ব্যবসায়ীরা এটি বিক্রি করার জন্য বেশি ঘুরেন।
এতে খরচ বেড়ে যায়। রোগীর খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক বিশ্লেষণে এটা এসেছে  ।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশন-আইডিএফ-এর মতে, বাংলাদেশে মোট ৭১ লাখ শনাক্তকৃত ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। একজন ডায়াবেটিস রোগীর গড় খরচ ২,০০০ টাকা। সে হিসেবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বাবদ প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে ১৪ শত ২০ কোটি টাকা এবং প্রতি বছরে খরচ হচ্ছে ১৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা। অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সচেতনতার মাধ্যমে যদি ডায়াবেটিসের বিস্তার কমানো সম্ভব না হয়, তাহলে এ রোগের জন্য আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হবে।
সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিত ব্যায়াম করেন চাকরিজীবী মো. কামরুল ইসলাম। গত দুই বছর আগে তার ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত  ব্যায়াম ও খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনেছেন। শুধু কামরুল ইসলাম নন, বাংলাদেশে দিন দিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস এখন মহামারি হয়ে উঠছে। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশন-আইডিএফ-এর মতে, বাংলাদেশে মোট ৭১ লাখ শনাক্তকৃত ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। এ ছাড়া আরো প্রায় ৭১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস নিয়ে বসবাস করেন। সংস্থাটি ২০১৫ সালে এই প্রতিবেদন দিয়েছিল। বর্তমানে দেশে ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকই জানেন না তারা এতে আক্রান্ত। ফলে তারা থাকছেন চিকিৎসার আওতার বাইরে। বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪১ কোটির উপরে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৪ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সব বয়সের মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে নতুন নতুন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা।
সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দশমে। নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও ডায়াবেটিস রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস এমন এক রোগ, স্বাস্থ্যশিক্ষাই যার প্রধান চিকিৎসা। যথাযথ স্বাস্থ্যশিক্ষা পেলে একজন ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না হয়ে এ রোগ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশে ডায়াবেটিস রোগীর বৃদ্ধির হার বেশি। ডায়াবেটিস সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করছে অসংখ্য মানুষ।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)  সূত্র জানায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাডাস কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সমপ্রতি বাডাস কর্পোরেটভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বল্পমূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা দেয়া হবে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে-ফাস্টফুড ও কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে যাতে প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিত। স্কুল-কলেজে খোলা মাঠ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এককভাবে না পারলেও কয়েকটি স্কুল বা কলেজ সম্মিলিতভাবে একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে সে ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। টিভি-রেডিও-সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বা স্লোগান প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার।
এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং ক্লাব, সুইমিং ক্লাব ইত্যাদি গড়ে তোলা উচিত। গৃহায়ন কর্মসূচির অনুমতি দেয়ার সময় হাঁটাচলার জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা ও খেলাধুলার জন্য কিছুটা জায়গা রাখার বিধান রাখা যেতে পারে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে (যেমন মসজিদে খুতবার সময়) ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বক্তৃতা করার ব্যাপারে ধর্মীয় নেতাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত বিশ্বেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামেও বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে শহরে ১০ ভাগ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ ভাগ। আরো ১০ শতাংশ লোক ডায়াবেটিস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউ’র এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের  অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আশির দশকে যেখানে মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে এখন গ্রামাঞ্চলেও ডায়াবেটিসের সামগ্রিক প্রবণতা ৮ শতাংশের মতো। এভাবে ক্রমশ ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য হবে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাছাড়া, ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে।
এত বড় বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা। সময়মতো ইন্টারভেনশন (খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন), নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি। বাডাস-এর তথ্যমতে, ১০ জনের মধ্যে একজন নারী ডায়াবেটিস আক্রান্ত। বাংলাদেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার ৬ থেকে ১৪ শতাংশ। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের পরবর্তী গর্ভধারণের সময়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা যায়। যে সব মহিলার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা যায় তাদের পরবর্তীকালে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। যে সব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ছিল তাদের শিশুদেরও পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এদিকে এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস মহামারি আকার ধারণ করছে। ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের এখনই এ রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা ডায়াবেটিসকে সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। ডিসিপ্লিন জীবনযাপন করতে হবে। হাঁটতে হবে। ঘন ঘন ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। একটি পর্যায়ে পৌঁছলে অনেক জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে ডায়াবেটিস। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের ১১ শতাংশ খরচ হয় ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার কারণে। ডায়াবেটিস রোগীদের  যারা  কম নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের খরচ বেশি। আর যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তদের খরচ কম।

নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় হেফাজত by নূর মোহাম্মদ

ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। নির্বাচনী মাঠে নামছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। অরাজনৈতিক এ সংগঠনে ছায়ায় থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান দুই জোটের হয়ে নির্বাচনে লড়তে চান। আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল নিয়ে ২০১০ সালের মার্চ মাসের গঠিত হয় হেফাজত ইসলাম।
এর মধ্যে ৭টি দল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। দলগুলো হচ্ছে- ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও খেলাফত ইসলামী। এসব দলের বেশিরভাগ শীর্ষ হেফাজতের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, কওমি মাদরাসাভিত্তিক এ সংগঠন হেফাজত শুরু থেকেই দাবি করছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাদের রাজনৈতিক অভিলাষও নেই।
কওমির সনদকে স্বীকৃতির শোকরানা মাহফিলে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে হেফাজত আমির আহমদ শফী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে হেফাজতের সংশ্লিষ্টতা নেই।
ঈমান, আকিদা, দ্বীন রক্ষাই হেফাজতের কাজ। তবে হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো ধর্মভিত্তিক দলের প্রধান। এরমধ্যে খেলাফতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি ইসলামী ঐক্যজোটের শরিক দল। ইসলামী ঐক্যজোট ১৭ বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের বিএনপির জোট ছাড়ে তারা। এরপর আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হলেও প্রকাশ্যে কেউ বলতে নারাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে ২৭৮ জন প্রার্থীর তালিকা করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। তবে শেষ পর্যন্ত ১০০টি আসনে প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। রোববার থেকে ইসলামি ঐক্যজোটের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী নরসিংদী-৩ ও ঢাকা-৫ আসনে, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ চট্টগ্রাম-৭ আসনে, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আলতাফ হোসাইন  কুমিল্লা-১ আসনে প্রার্থী হবেন।
দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, আমরা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচন করবো। কোনো জোটে  যাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনী পরিবেশ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলটির মূল দাবি ২-৩টি আসন। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আমিনীর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মহাসচিব মুফতি মুহম্মদ ফয়জুল্লাহর জন্য চট্টগ্রাম-৭ আসন, দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন কুমিল্লা-১। এসব আসনে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তারা। আজ বেলা ১২টায় লালবাগে দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। মুফতি ফয়জুল্লাহ হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রয়াত ফজলুল হক আমিনীর ছেলে হাসানাত হেফাজতের ঢাকা মহানগরের ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে ঘটনার মামলায় আসামি তারা। আগামী নির্বাচনে এসব নেতা আওয়ামী লীগের সমর্থন চান বলে চাউর রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে তারা কোনো সিগন্যাল পাননি।
২০০১ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি হওয়া মুফতি আমিনীর ছেলে আগামীতে এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। বিভিন্ন সভায় তিনি বলছেন, কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির ব্যাপারে বিএনপি ও জামায়াত কেউ কথা রাখেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বীকৃতি দিয়ে সেই কথা রেখেছেন। যারা আলেম উলামার পক্ষে তাদের সঙ্গে আমরা থাকতে চাই।
অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং খেলাফত মজলিস এখনো বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক। এরমধ্যে খেলাফত আজ থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করছে। অন্যদিকে সম্প্রতি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ভেঙে গেছে। এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন অংশটি ২০ দল ছেড়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের মনোনয়নে এমপি হওয়া মুফতি ওয়াক্কাস গত রোববারের শোকরানা মাহফিলের ১৫ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটিতে ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের জোট থেকে নির্বাচন করতে চান বলে গুঞ্জন রয়েছে। জমিয়তের যে অংশটি বিএনপির জোট থেকে নির্বাচন করতে চায়, সেই অংশের হেফাজত নেতারা শোকরানা মাহফিলের বক্তব্যের সমালোচনায় মুখর।
হেফাজতে নায়েবে আমির ও জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, শোকরানা মাহফিলে শাপলা চত্বরের হূদয়গ্রাহী ঘটনা নিয়ে সত্যের পরিপন্থি বক্তব্য এসেছে। যা দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। আলেম সমাজ, হেফাজত কর্মী ও তাওহিদী জনতাকে আঘাত করেছে এসব বক্তব্য। জমিয়তের একজন সহ-সভাপতি যিনি হেফাজতেরও নায়েবে আমির। তিনি বলেছেন, মামলা থেকে বাঁচতেই সংগঠনটির নেতারা সরকারের দিকে ভিড়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাদের অনেকই এখন এমপি হতে নৌকায় চড়তে চান। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মাঈনুদ্দিন রুহি বলেন, হেফাজতে রাজনৈতিক দল নয়। হেফাজতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তারা করবেন দলের ব্যানারে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। 
হেফাজত সম্পৃক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। দলটির মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। তিনি গত রোববারের শোকরানা মাহফিল পরিচালনা করেন। মাহফুজুল হকসহ খেলাফতের ১২ নেতা নির্বাচন করতে এরশাদের জোট থেকে নির্বাচন করতে চান। জাপা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি ভোটে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করবে তারা। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব এবং হেফাজতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন জানিয়েছেন, তাদের জোট জাপার সঙ্গে। জাপা যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে তাহলে এমনিতেই ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন হচ্ছে তাদের।

একটি বিয়ে ও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের গল্প

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকগুলোতে কমিশনারদের তরফে তফসিলসহ ভোটগ্রহণের দিন-তারিখ নিয়ে আলাদা আলাদা প্রস্তাব আসে। প্রস্তাবিত দিন-তারিখ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনাও হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণের প্রস্তাব দেন অন্তত দুইজন কমিশনার। এর মধ্যে একজনের প্রস্তাব ছিল ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ হোক ৩রা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার। এদিকে সরকারের সঙ্গে সংলাপ চলমান থাকায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তফসিল ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর ৮ই নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩শে ডিসেম্বর।
ফলে জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণের ব্যাপারে দুই কমিশনারের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন পিছিয়ে জানুয়ারি মাসে ভোটগ্রহণ সম্ভব কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিইসি। জবাবে তিনি বলেছিলেন, জানুয়ারি মাসটা অনেক ডিস্টার্বিং। এ সময় বিশ্ব ইজতেমাসহ অনেক বিষয় রয়েছে। যে কারণে জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণ সম্ভব না। জানা গেছে, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণের ব্যাপারে সরকারের তরফেও আপত্তি ছিল না। কিন্তু একটি বিয়ের কারণে এগিয়ে আনা হয় তফসিলসহ ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ৩রা জানুয়ারি নির্ধারিত রয়েছে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর মেয়ের বিয়ের দিনক্ষণ। এজন্য শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করে কমিশন। সে অনুযায়ী ২৩শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত হয়।
এদিকে নির্বাচন একমাস পেছানোর দাবি জানিয়ে কমিশনে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে প্রফেসর ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও। রোববার কমিশনে জমাকৃত এসব চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন পেছানো হবে কিনা এ ব্যাপারে আজ সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। নির্বাচন পেছানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যখন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তখন ব্যক্তিগত সফরে ভারতে অবস্থান করছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তার এই বিদেশ সফর নিয়ে প্রধান হিসাবরক্ষক বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে ইসি সচিবালয়। ৩০শে অক্টোবর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, আমি নির্দেশক্রমে জানাচ্ছি যে- নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আগামী ১১ই নভেম্বর থেকে ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিগত সফরে ভারতে থাকবেন। চিঠিতে বলা হয়, এ সফরে শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তার স্ত্রী সারওয়াত চৌধুরী, মেয়ে চৌধুরী সায়মা তাবাসসুম ও ছেলে সাফায়াত হোসেন চৌধুরী সফরসঙ্গী হবেন।
সফরের সকল খরচ নির্বাচন কমিশনার নিজেই বহন করবেন। এই সফর একটি ব্যক্তিগত সফর বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব, অতিরিক্ত আইজিপি, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এই চিঠির ২৫টি অনুলিপি পাঠানো হয়। এদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর একান্ত সচিব তকদির আহমেদ জানান, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সপরিবারে রোববার ভারত সফরে গেছেন। সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন তিনি। তকদির আহমেদ আরো জানান, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এখন ব্যস্ত রয়েছেন। কারণ আগামী ৩রা জানুয়ারি তার মেয়ে চৌধুরী সায়মা তাবাসসুমের বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত রয়েছে।

ঐক্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, তার (খালেদা জিয়ার) শরীরে ব্যথা আরো বেড়েছে। চারদিন ধরে তাকে কোনো থেরাপি দেয়া হচ্ছে না। গতকাল নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বিকাল পৌনে তিনটার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও মির্জা আব্বাস খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। বেরিয়ে এসে ফখরুল বলেন, অনেকদিন পর ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেয়েছি। তিনি অসুস্থ, ভীষণ অসুস্থ। তাই আমরা তার অসুস্থতার বিষয়েই কথা বলেছি।
পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে) হাসপাতালে তাকে যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ও তার চিকিৎসার ব্যাপারে যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ সেটা মানছেন না। কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই তাকে হুইল চেয়ারে করে আবার কারাগারে নিয়ে এসেছেন। আমরা তখনই বলেছিলাম এটা অমানবিক। তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যেহেতু রাজি হয়েছেন, তাই অবিলম্বে তাকে আবারো পিজি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইনের মধ্যে কোথাও নেই, একজন অসুস্থ মানুষকে যিনি চলতে পারেন না, হুইল চেয়ারে করে তাকে আদালতে আনতে হবে, আবার কারাগারে পাঠাতে হবে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, আমরা তার অসুস্থতা নিয়েই কথা বলেছি। তবে তিনি আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। তিনি আশা করছেন, জনগণকে নিয়ে আমরা যে ঐক্য করেছি সেটা যেন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
খালেদার প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। সোমবার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো প্রার্থী কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ৮ই নভেম্বর ইসি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে। যে কারণে খালেদা জিয়া আদৌ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ উচ্চ আদালত ইতিমধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিম্ন আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৭ বছরের সাজা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো আদালতে দুইবছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। তবে আদালতের এমন রায়ের বিরুদ্ধে কেউ উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন কি-না, সে বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, জমা হওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ কি অবৈধ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার। রিটার্নিং কর্মকর্তা কারও মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে বাতিল করলে তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ইসিতে আপিল করতে পারবেন। কমিশন সেই আবেদন বাতিল করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, কমিশন সে অনুযায়ী কাজ করবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিষ্পেষণমূলক

বাংলাদেশে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি আক্রমণ (অ্যাটাক) বলে আখ্যায়িত করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক  সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার নতুন এক ব্রিফিংয়ে এমনটা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এর আগের যে আইনটির পরিবর্তে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে তা আরো অনেক বেশি নিষ্পেষণমূলক।
‘মাজলিং ডিসেন্ট অনলাইন’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ আইনে রয়েছে অস্পষ্ট ও অত্যধিক বিস্তৃত সব ধারা। এটা ব্যবহার করা হতে পারে ভয় দেখাতে, সাংবাদিকদের জেলে নিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে, ভিন্নমতকে দমন করতে। এ ছাড়া ব্যবহার হতে পারে নজরদারির ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক আকারে।
গত ছয় বছরে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি) ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করেছে কমপক্ষে ১০০০ মানুষকে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক দিনুশিকা দিশানায়েকে বলেছেন, অতীতে আইসিটি আইন ব্যবহার করে কমপক্ষে ১২০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশে। সেই অতীত ভেঙে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে নতুন এই কঠোর আইন আরো বেশি দমনমূলক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্ত মত প্রকাশকে অনেক রকমভাবে অপরাধের আওতায় নেয় (ক্রিমিনালাইজ) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এতে আছে উচ্চ হারে জরিমানা। শাস্তি হিসেবে আছে জেল। আন্তর্জাতিক আইন ও তার মানদণ্ডের সঙ্গে এই আইন বেমানান। তাই অবিলম্বে এ আইনটি সংশোধন হওয়া উচিত। 
আইসিটি আইনের সমালোচিত অনেকগুলো ধারা পাল্টাতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ মেনে নেয়া সহ বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার সম্মত হওয়া সত্ত্বেও জিডিটাল নিরাপত্তা আইনে বেশ কিছু ধারা রয়েছে যা মানবাধিকারের জন্য একই রকম ভয়াবহ হুমকি প্রদর্শন করে। এতে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা নেই। এতে রয়েছে দমনমূলক জামিন অযোগ্য ১৪টি অপরাধের শাস্তি। এই আইন সরকারের হাতে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ডকে তদন্ত করার ক্ষমতা নিশ্চিত করবে। চাইলেই বিটিআরসি ইন্টারনেটে থাকা যেকোনো ধরনের তথ্য মুছে ফেলার অধিকার রাখে। পুলিশ চাইলেই কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে দেশটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন প্রেস টিভি ও এশিয়া নিউজ। মিডল ইস্ট আই’কে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, ওই সব রোহিঙ্গার কাছে রয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযানে তাদের আটক করে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা হয়েছে সৌদি আরবে। তারা অবৈধ উপায়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন বলে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে বেশ কয়েক বছর আগে প্রবেশ করেছে সৌদি আরবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযানে এসব রোহিঙ্গাকে আটক করে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের শুমাইসি বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। তাদের অনেকে মিডল ইস্ট আই’কে বলেছেন, তারা যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা তা প্রমাণ করার জন্য তাদের কাছে মিয়ানমারের পরিচয়পত্র আছে।
ওই দেশটি থেকে গত বছর বৌদ্ধ উগ্রপন্থিদের সহায়তায় সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংস নির্যাতন চালায়। তার ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারে যে আশ্রয়শিবিরে তারা অবস্থান করছে তা অতিমাত্রায় মানুষের গাদাগাদি।
সৌদি আরবে আটক শরণার্থীরা মিডল ইস্ট আই’কে আরো বলেছে, তারা স্বেচ্ছায় সুস্থ মনে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন বলে ঘোষণাপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। তা করতে গিয়ে সৌদি আরবের পুলিশ বুকের ওপর ঘুষি মারে। তাদের একজন ওই ওয়েবসাইটকে বলেছেন, ওই ফরম এরই মধ্যে পূরণ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশি দূতাবাস এবং সৌদি আরবের অভিবাসন বিষয়ক পুলিশ। এতে রয়েছে শরণার্থীদের আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি। তারপর এসব ডকুমেন্ট সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মধ্য অক্টোবর থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন শরণার্থীকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন করছে সৌদি আরবের অভিবাসন বিষয়ক পুলিশ। গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন। এর কয়েক দিন পরেই এই প্রত্যাবাসন শুরু করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদেরকে তাড়াহুড়ো করে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলোর চাপ আছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন শুরু করার বিষয়ে গত বছর প্রথম মিয়ানমার ও বাংলাদেশ একটি চুক্তিতে আসে। তবে সেই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। কয়েকদিন আগে উভয় দেশের কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্য নভেম্বরে ২০০০ শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এমন উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি। তিনি বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায় এখনো (মিয়ানমারে) নিষ্পেষণের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, সেখানে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তা গণহত্যা। তবে মিয়ানমার সহিংসতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার দাবি দীর্ঘ সময় ধরে অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

‘বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাবতো হরহামেশাই থাকে’

তনুশ্রী দত্ত যৌন হেনস্তা নিয়ে মুখ খোলার পর বলিউডের অনেক নায়িকাই এ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলেন কঙ্গনা রানাউত। এরইমধ্যে তিনি তার অভিনীত ছবি ‘কুইন’ এর পরিচালকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। তবে এবার ‘মি টু’ নিয়ে আবারও মুখ খুলেছেন তিনি। এবার বলিউডের পুরুষদের নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। কঙ্গনা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বলিউডে প্রতিদিনই কোন না কোন নারী যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আমি নিজের এর প্রমাণ। আমার সামনেই অনেক কিছু ঘটেছে।
নিজেকে সব সময় বাঁচিয়ে চলার যুদ্ধ করতে হয় এখানে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চান না। কাজ হারাবার ভয়ে। কারণ কারও সম্পর্কে মুখ খুললে সে আর তার কাজ পাবে না। এভাবেই আমরা নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করে আসছি। আমি নিজেই অসংখ্যবার বাজে প্রস্তাব ও হেনস্তার শিকার হয়েছি। বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাবতো হরহামেশাই থাকে। কিন্তু এবার সময় হয়েছে এসব নিয়ে প্রতিবাদ করার। যেন প্রতিটি নারীর কর্মস্থল সুরক্ষিত থাকে। নিরাপদে যেন তারা কাজ করতে পারে। এ জন্য ভবিষ্যতেও আমি আমার তরফ থেকে চেষ্টা করে যাবো।