Thursday, April 11, 2019
আবু সিনা ছাত্রাবাস: মিলল শতবর্ষী হওয়ার প্রমাণ

শতবর্ষী ভবনটি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলনত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গতকাল বুধবার ছাত্রাবাসে যান। তাঁরা স্থপতিদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, স্মৃতিফলকটি প্রাচীন স্লেট পাথরের তৈরি। স্থপতিরা বলছেন, ১৮৮০ সালে স্মৃতিফলকটি স্থাপন করা হয়েছিল। তাই ভবনটি যে তারও আগে নির্মিত, এ ব্যাপারে আর কোনো দ্বিধা থাকল না। তাঁদের ধারণা, সিপাহি বিদ্রোহের আগে–পরে ভবনটি নির্মিত হতে পারে। এমনটি হলে ভবনটি দুই শ বছরের কাছাকাছি বয়সী একটি স্থাপনা। সে হিসেবে এটি ভারতবর্ষের জন্যও একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।
এই স্মৃতিফলকের মধ্য দিয়ে ভবনটি যে শতবর্ষী, তার একটি স্পষ্ট নিদর্শন মিলল বলে মনে করছেন ‘সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ’-এর একজন সংগঠক আবদুল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মৃগেন কুমার চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্মৃতিফলকের ছবি দিয়ে একটি লেখা পোস্ট করেন। ‘কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল’ শিরোনামের ওই লেখায় স্মৃতিফলকটি ছাত্রাবাসের দেয়ালে সাঁটানো আছে বলে জানানো হয়। এরপর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গতকাল সেখানে যান। তাঁরা স্মৃতিফলকটির ছবি নিয়ে স্থপতিদের দেখান। স্থপতিরা এটি দেড় শতাধিক বছরের নিদর্শন হিসেবে নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এত দিন কাগুজে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলেছিলাম, ভবনটি শতবর্ষী। কোনো স্থাপনা শতবর্ষ অতিক্রম করলে পুরাকীর্তি হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ তালিকায় আসে। গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে এ বিষয়ে কেন গণশুনানি করল না, এটিই দেখার বিষয়।’
গতকাল বিকেলে আবু সিনা ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা গেছে, একটি কক্ষের পাশের দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে স্মৃতিফলকটি। তাতে ‘ইন মেমোরি অব বাবু সারদা নাথ গুহ’ নামে ওই সময়ের এক চিকিৎসকের মৃত্যুতে স্মৃতিকথা শোভা পাচ্ছে। খোদাই করে লেখাগুলো এখনো পাঠোদ্ধারের অবস্থায় রয়েছে। ইংরেজি ও বাংলায় কথাগুলো স্লেট পাথরে খোদাই করে লেখা।
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক রাজন দাশ স্মৃতিফলকটি দেখে প্রথম আলোকে বলেন, ওই সময় স্লেট পাথরে এপিটাফ লেখার প্রচলন ছিল। এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতির একটি অংশ। স্লেট পাথরে খোদাই করে সন-তারিখ লেখা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বলা যাচ্ছে, ভবনটি কমবেশি দুই শ বছরের পুরোনো। কেননা, ওই চিকিৎসক ১৭ বছর সেখানে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এত পুরোনো ভবন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকার বাইরে থাকা এবং গণপূর্ত ভবনটি ভাঙতে প্রস্তুত থাকার বিষয়টি আসলে বিস্ময়কর।
এ ব্যাপারে কথা বলতে গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী কুতুব আল হোসাইনের মুঠোফোন নম্বরে গতকাল একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। দপ্তরে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ভবনটি পুরাকীর্তির কোনো তালিকাতে নেই। সংরক্ষণ করা যাবে, এমন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও নেই। জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক ছিল। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শঙ্কাও ছিল।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত শতবর্ষী ভবনটির অবস্থান সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থল চৌহাট্টা এলাকায়। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে ভবনটি ভেঙে আটতলার নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে গণপূর্ত সম্প্রতি এ কাজ শুরু করেছে।
শতবর্ষী ভবনটি স্থাপনের সময়কাল চিহ্নিত না থাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ বিষয়ে অবহিত ছিল না। ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র শ্রীহট্ট প্রকাশ-এর ছাপাখানা থাকার বিষয়টি বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হলে ভবনটি রক্ষার দাবি ওঠে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিলেটের আদি কাঠামোর ঐতিহ্য হিসেবে ভবনটি রক্ষার দাবি জানান।
এ নিয়ে ধারাবাহিক কিছু কর্মসূচির পর পুরাকীর্তি আইন ১৯৬৮ অনুযায়ী শতবর্ষী ভবন ভাঙা বেআইনি কাজ হিসেবে হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সিলেট-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অবহিত করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গত ২৪ মার্চ তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে শতবর্ষী ভবনটি রক্ষার আশ্বাস দেন। তবে ৩০ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলে টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ আশঙ্কা প্রকাশের পর পক্ষে ও বিপক্ষে তৎপরতা শুরু হয়। শতবর্ষী ভবন সুরক্ষা, ভবন ভেঙে হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে আরও একটি পক্ষ এবং সর্বশেষ ঐতিহ্য রক্ষা করে ওই এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে তৃতীয় একটি পক্ষও সক্রিয় হয়। এ অবস্থায় শতবর্ষী ভবন রক্ষার দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গত রোববার স্থপতিদের আহ্বান–সংবলিত একটি মতবিনিময় সভা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ’ সংবাদ সম্মেলন করে শতবর্ষী ভবন রক্ষার দাবিটি কেন্দ্রীয়ভাবে উপস্থাপন করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বালাকোটে সাংবাদিকদের পাকিস্তান যা দেখাল

বালাকোট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জাব্বা এলাকায়। এটি রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। ভারত জানায়, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) বালাকোটে জইশ-ই-মুহাম্মদসহ তিনটি জঙ্গি স্থাপনা তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নিহত হয়েছে বহু। পাকিস্তানের পাল্টা দাবি, ওই এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি। ওই এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান। বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ঘটনার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন সাংবাদিকেরা।
ঘটনার দেড় মাস পর গতকাল বিকেলে বালাকোটের ইসলামিক স্কুল পরিদর্শনে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সাংবাদিকেরা দেখেন, বালাকোটের বিশাল মাদ্রাসা ভবনটি পুরোপুরি অক্ষত। এই মাদ্রাসা জঙ্গি ক্যাম্প—ভারতের এমন দাবি অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।
বালাকোটে মাঝারি আকারের একটি গর্ত দেখতে পান সাংবাদিকেরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমার আঘাতে ওই গর্তের সৃষ্টি।
বিবিসির প্রতিবেদক ওসমান জাহিদ এক প্রতিবেদনে বলেন, বোমার আঘাতে একটি বাড়ির আংশিক ভেঙে যায় এবং একজন আহত হন। দুই পরিদর্শক কিছু গাছ পড়ে থাকতে দেখেন। সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রের সংকুলান আছে ওই মাদ্রাসায়। তবে ওই সময় দর্শনার্থীরা শ দুয়েক ছাত্র দেখতে পান। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জোর দিয়ে বলেন, বিমান হামলায় এই মাদ্রাসার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, এই মাদ্রাসাটিই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদক ওই মাদ্রাসার একজন ছাত্র ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁরা নিজেদের স্থানীয় বলে পরিচয় দেন। তাঁরা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা যখন সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন, তাঁদের কথোপকথন সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়। এটি পরিষ্কার যে পুরো ভ্রমণটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ছিল।
দুই দেশের সর্বশেষ সংকটের শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। ওই ঘটনার পর আল–জাজিরার সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁরা চারটি বোমা বিস্ফোরণের প্রমাণ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি বোমা পড়েছে বনের মধ্যে এবং একটি বোমা পড়েছে কৃষিজমিতে। এতে বেশ কিছু পাইনগাছ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া কিছু গাছে বোমার স্প্লিন্টার গেঁথে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ ছাড়া সৃষ্টি হওয়া চারটি গর্তের আশপাশে বোমার ধ্বংসাবশেষও দেখেছেন তাঁরা। এতে কেউ নিহত হননি বলে স্থানীয় লোকজন আল–জাজিরার সাংবাদিকদের জানান। তবে সে সময় মাদ্রাসা ভবনটিতে যেতে পারেননি আল–জাজিরার সাংবাদিকেরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাসেলকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে এক মাস সময় পেলো গ্রিন লাইন

গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকার চেক আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ রাসেলের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে আদালত রাসেল সরকারকে ৫ লাখ এই চেক ক্যাশ হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন। আদালত গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে বলেন, রাসেলের চিকিৎসায় তো অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমরা ৫০ লাখ টাকা দিতে বলেছি।
এত কম দিয়েছেন কেন? জবাবে গ্রিন লাইন মালিকের পক্ষের আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, আমরা এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছি।
এর মধ্যে ভাগে ভাগে টাকা দেব। তখন আদালত বলেন, ভাগে ভাগে না, একসঙ্গে দিতে হবে। এরপর এক মাসের মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দেয়ার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে রাসেল সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত ডান পায়ের চিকিৎসা সাভারের সিআরপিতে করানোর ও বাঁ পায়ে কৃত্রিম পা লাগানোর আদেশ দেন আদালত।
আদালতের আদেশের পর রাসেল সরকার বলেন, আমার চিকিৎসায় অনেক খরচ হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা দেয়ার কথা, ৫ লাখ পেয়েছি। আশা করি গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ আদালতের দেয়া সময়সীমার মধ্যে বাকি টাকা দিয়ে দিবেন। আজও আমি আদালতে প্রতিবেশী সাইফুলের আর্থিক সহায়তায় এসেছি। হোটেলে খেতে যেহেতু অনেক টাকার প্রয়োজন সেজন্য বাসা থেকে রুটি বানিয়ে এনেছি। সেই সঙ্গে তিনি গ্রিন লাইনের ওই বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করেন। মামলার চার্জশিটের জন্য ১৫ দিন আগে যাত্রাবাড়ী থানার এসআইকে চিঠি দিয়েছি। তিন দিন আগে তিনি জানিয়েছেন চার্জশিট প্রস্তুত করেছেন। তবে এখনও আদালতে জমা দেননি।
রিটকারী আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, কম হলেও গ্রিন লাইন রাসেল সরকারকে আজ ৫ লাখ, বাকী টাকা এক মাসের মধ্যে দিতে বাধ্য থাকবেন। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ দেয়ার একটা রেওয়াজতো চালুু হলো। সেজন্য আমরা আদালতের এই রায়ে খুশি।
এর আগে গতকাল সকালে শুনানি শুরু হলে বিকাল ৩টার মধ্যে ক্ষতিপূরণের কিছু টাকা গ্রিন লাইন পরিবহন মালিককে পরিশোধ করতে বলেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ৩টার মধ্যে রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকার কিছু অংশ না দিলে আমাদের মতো আমরা ব্যবস্থা নেব। বিচারপতিরা গ্রিন লাইনের মালিক মো. আলাউদ্দিন ও তার আইনজীবীর উদ্দেশ্যে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিকাল ৩টার মধ্যে তাকে ৫ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দেয় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার শামসুল হক রেজা এবং গ্রিন লাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মো. ওয়াজি উল্লাহ। সকালে শুনানির শুরুতে রিটকারী আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, আমাদের সঙ্গে এখনও গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেনি। এ সময় গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের জন্য আবারও সময় চান। তখন আদালত গ্রিন লাইনের মালিক ও আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকার পা হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন, আপনারা কোনো খোঁজ নিলেন না। একটা টাকাও দিলেন না। রাসেলের একটা পা কেটে ফেলা হয়েছে। আরেকটি পা-ও যাওয়ার পথে। আপনাদের ব্যবসা তো ঠিকই চলছে। মানবতারও তো একটা ব্যাপার আছে।
এ সময় গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো.ওয়াজি উল্লাহ আদালতকে বলেন, রাসেল সরকারের চাকরির ব্যবস্থা করবেন গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। আদালত বলেন, আপনারা আগে বিকাল ৩টার মধ্যে আদালত যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন সেটার কিছু অংশ পরিশোধ করে আসেন। তাহলে আমরা বুঝবো আপনারা আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। অন্যথায় আমাদের মতো করে আমরা ব্যবস্থা নেব। এরপর আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য বিকাল ৩টায় সময় নির্ধারণ করেন। গত ৪ঠা এপ্রিল পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিন লাইন পরিবহনকে গতকাল ১০ই এপ্রিলের মধ্যে সময়সীমা বেধে দেয় একই বেঞ্চ। এর মধ্যে তা পরিশোধ না করলে ১১ই এপ্রিল থেকে টিকিট বিক্রি করতেও নিষেধ করা হয়।
গত বছরের ২৮শে এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল সরকারের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পানি সেচে ভরাট সড়কের গর্ত

অনেক দিন ধরে সড়কের মধ্যে গর্ত হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। যানবাহন গর্তে পড়ে প্রায়ই ঘটছিল দুর্ঘটনা। এই অবস্থায় স্থানীয় লোকজন জেনারেটর লাগিয়ে সেচ দিয়ে গর্তের পানি নিষ্কাশন করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই এগিয়ে আসেন জনপ্রতিনিধিসহ অন্যরা। এরপর গর্তে ইট ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার-বর্ণি সড়কের দাসেরবাজার এলাকায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার-বর্ণি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। চলে অসংখ্য যানবাহন। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজের মুখ দেখেনি। ফলে এই সড়কের দাসের বাজারের পশ্চিম এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে এসব গর্তে পানি জমে যায়। সড়কের ওপর সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। দুর্ভোগে পড়ছিলেন স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ রকম পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক, মঙ্গলবার সকালে তাঁরা েচযন্ত্র লাগিয়ে সড়কের গর্ত থেকে পানি নিষ্কাশন করেন।
এদিকে সেচযন্ত্র দিয়ে সড়কের পানিনিষ্কাশনের এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় বড়লেখা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের। জনদুর্ভোগ লাঘবে তিনি এগিয়ে আসেন। তাঁর উপস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে সড়কের দুটি বড় গর্তে ইট ফেলা হয়। এতে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী হয়েছে সড়কটি।
বড়লেখা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটি এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অধীনে আছে। সংস্কার না হওয়ায় এখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। জনদুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়কটির গর্তে ইট ফেলে ভরাটের জন্য যে খরচ হয়েছে, তা দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও প্রবাসী মো. সাইফুর রহমান এবং এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা। আর গর্ত ভরাটের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, ব্যবসায়ী ছরওয়ার আহমদ প্রমুখ।
বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা নষ্ট হয়েছে অনেক দিন ধরে। পানি জমতে জমতে গর্ত বড় হয়ে গেছে। এই স্থানটিতে সড়কের পানি যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে পানি জমে যায়। চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাজার কমিটির লোকজন খোয়া ফেলে অস্থায়ীভাবে রাস্তাটি চলার উপযোগী করেছেন। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প পাঠিয়েছি। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর্যায়ে আছে। এ মাসের মধ্যেই কাজের টেন্ডার হওয়ার কথা। গর্তের স্থানটি আরসিসি করা হবে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ by তরুণ চক্রবর্তী

পাহাড় পরিবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতের ২৫টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ভোট হচ্ছে ১৪টি আসনে।
লোকসভার পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমে রয়েছে বিধানসভার ভোটও। এই দুই রাজ্যের ভোটাররা ২টি করে ভোট দিচ্ছেন।
লোকসভার ১৪টি কেন্দ্রে প্রার্থী রয়েছেন ১০৪ জন। মূল লড়াই কংগ্রেস, বিজেপি ও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে। আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিও এখানে বেশ উল্লেখযোগ্য।
আজ সকালে ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক অখিলকুমার শুক্লা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বিঘ্নেই শুরু হয়েছে ভোটপর্ব। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।
তবে পশ্চিম ত্রিপুরা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সুবল ভৌমিক শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছেন। সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসনের সামনেই বিজেপি ক্যাডাররা ব্যাপক সন্ত্রাস চালাচ্ছে। শুধু কংগ্রেস নয়, অন্য বিরোধী দলগুলোও আক্রান্ত।’
বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য প্রথম আলোর কাছে পাল্টা দাবি করেন, ‘হার নিশ্চিত বুঝেই বিরোধীরা এখন এসব বলছেন। মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন। বিজেপির জয় নিশ্চিত।’
আসামের কংগ্রেস নেতা ভগীরথ করণের অভিযোগ, ভোটের আগের দিন রাতে চা-বাগান এলাকায় ব্যাপক গোলমাল করেছে বিজেপি। তবে ভোট গ্রহণ এখনো শান্তিপূর্ণ বলেই তিনি জানিয়েছেন।
বিজেপির আসাম রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দাশেরও দাবি, ভোট গ্রহণ পর্ব চলছে শান্তিপূর্ণভাবে। জনগণ উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন। তবে কোথাও কোথাও বৃষ্টি সমস্যায় ফেলেছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথম দফার এই ১৪টির মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছিল ৬টি। বাকিগুলোর মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৫টি। সিপিএমের ছিল ১টি আসন। বাকি দুটি আসনই ছিল আঞ্চলিক দলের দখলে।
আজ একই সঙ্গে চলছে অরুণাচল প্রদেশের ৬০ সদস্যের এবং সিকিমে ৩২ সদস্যের রাজ্য বিধানসভার ভোট। বিজেপিশাসিত অরুণাচলে প্রার্থী রয়েছেন ১৮৪ জন। আর সিকিমে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫০।
সারা দেশে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট গণনা আগামী ২৩ মে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আজও উদ্ঘাটিত হয়নি সে রহস্য

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ২০ লাখ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাসকে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। গত বছরের শুরুতে তারা ঠিক করে, প্রতি শুক্রবার ইসরায়েল ও গাজা সীমান্তে সবাই মিলে বিক্ষোভ করবে। ‘গ্রেট মার্চ আব রিটার্ন’ নামের ওই বিক্ষোভের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত বছর ৩০ মার্চ।
এর ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল শুক্রবারটি ছিল দ্বিতীয় বিক্ষোভের দিন। শার্টের ওপর ‘প্রেস’ লেখা বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট চাপিয়ে ঘটনা তুলে ধরতে রওনা দেন মুর্তাজা।
পরিষ্কার আকাশ। রোদে উজ্জ্বল চারদিক। হাজারো বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলেছে। তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। দুপুরের কিছু পরে, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় সৃষ্ট মেঘের মধ্যে ছবি তুলছিলেন মুর্তাজা। এমন সময় সীমান্তের ওপার থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্নাইপারের (আড়াল চোরাগোপ্তা গুলি ছোড়া ব্যক্তি) ছোড়া গুলি এসে বিদ্ধ হয় তাঁর তলপেটে।
রুশদি সারাজ মুর্তাজার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী। সেদিনটা স্মরণ করে টাইম পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই ছিলাম। প্রত্যেকে নিজেদের ক্যামেরায় বিক্ষোভের বিশেষ দৃশ্য বা ঘটনা তুলে রাখছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর হঠাৎ লোকজন চিৎকার শুরু করে—একজন সাংবাদিকের গুলি লেগেছে।’
মুর্তাজাকে যখন রুশদি খুঁজে পান, তিনি বলেন, ‘রিপোর্টিং জ্যাকেট পরা অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে ছিলেন, তাঁর মুখ বেদনায় বিবর্ণ।’
এরও ১২ ঘণ্টা পর মুর্তাজা মারা যান। ওই বিক্ষোভে ইসরায়েল বাহিনীর হাতে প্রায় ২০০ গাজাবাসী নিহত হন।
মুর্তাজার মৃত্যুর এক বছর হতে চলল। কিন্তু ঘটনাটির এখনো কোনো সমাধান হয়নি, বরং আটকে পড়েছে এক কানাগলিতে।
মুর্তাজার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে হইচই পড়ে যায়। নানা দিক থেকে আসা সমালোচনার ঢেউ বয়ে যায়। এটা সামাল দিতে সে সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ঘোষণা দেয়, তারা মুর্তাজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করবে। ঘোষণা দিয়েই তারা পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়।
মুর্তাজার মৃত্যুর ১১ মাস পরে ঘটনাটির তদন্ত কত দূর ইসরায়েল সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিল সংবাদমাধ্যম লস এঞ্জেলেস টাইম। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র তাদের জানান, ‘মুর্তাজার ব্যাপারটি ‘জেনারেল স্টাফ ফ্যাক্টস অ্যাসেসমেন্ট মেকানিজম’–এর আওতায় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেল অফিসে পাঠানো হবে।’
এপ্রিলের ৮ তারিখ। মুর্তাজার মৃত্যুর পরদিন ইসরায়েলের সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি দেয়। তারা দাবি করে, সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ওই সাংবাদিককে গুলি করেনি। গুলি ছোড়ার যে অভিযোগ আইডিএফের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, ওই সময় ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতি ছিল, তাও তাদের কাছে অজানা এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এরপর কোনো অনুসন্ধান বা প্রমাণ ছাড়াই ইসরায়েলের কর্মকর্তারা মুর্তাজাকে ‘হামাস জঙ্গি’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ দাবি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মুর্তাজা ও সারাজ কখনোই সাংবাদিক হতে চাননি। মুর্তাজা পড়েছিলেন হিসাববিজ্ঞানে আর সারাজ প্রকৌশলে। তাঁদের দুজনের একটি মিল ছিল। তাঁরা আলোকচিত্র ভালোবাসতেন। এটাই তাঁদের দুজনকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।
তাঁরা ২০ বছরে পা রাখলেন, ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন ‘আইন আল গাজা’ (দৃষ্টিতে গাজা) নামে। এই পেজে দুজনে প্রকাশ করতেন অবরুদ্ধ গাজাবাসীর দুর্দশাময় জীবনযাপনের নানা চিত্র।
বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী রাজ বলেন, ‘এই শখই আমাদের আপন করে তোলে। আমাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকে। সারাক্ষণ আমরা ফুটেজ ধারণ করতাম, যখন কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাব আসত, আমরাই থাকতাম সর্বশেষ তথ্যসমৃদ্ধ।’
২০১২ সালে দুজনে সিদ্ধান্ত নেন শখকে তাঁরা পেশায় পরিণত করবেন। ‘আইন মিডিয়া’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন তাঁরা।
শুরুতে তাঁরা একটি ক্যামেরা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতেন। কিন্তু দ্রুতই আইন মিডিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার নজরে চলে আসে। সংস্থাগুলো আইন মিডিয়াকে বিভিন্ন কাজ দেয়। ফলে তাঁরা সর্বশেষ প্রযুক্তি কেনার মতো টাকা জমিয়ে ফেলেন। সে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন ১৫ জন কর্মচারী।
গত বছর মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ আইন মিডিয়াকে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে তারা জানায়, আইন মিডিয়াকে যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সহায়তার জন্য ১১ হাজার ৭০০ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তাঁরা এই অর্থ পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির মাধ্যমে।
সারাজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া ওই অর্থ আইন মিডিয়ার গ্রাফিক বিভাগ খুলতে সাহায্য করত। ইউএসএআইডিয়ের মাধ্যমে ওই টাকা দেওয়া হতো ফিলিস্তিনের ব্যক্তিগত খাতগুলোর উন্নয়নে। ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনের জন্য বরাদ্দ সব সাহায্য বাতিল করে। এর অংশ হিসেবে ওই অর্থও বাতিল হয়ে যায়।
মুর্তাজা গত বছর মার্চের ২৪ তারিখে তাঁর ফেসবুকে ড্রোনে ধারণ করা কিছু ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘এমন দিন কি আসবে, যেদিন আমি বিমান থেকে এই ছবিগুলো ধারণ করতে পারব, মাটি থেকে নয়। আমার নাম ইয়াসির মুর্তাজা। বয়স ৩০ বছর। আমি গাজা শহরে বাস করি। আমি কখনো ভ্রমণ করিনি!’
মুর্তাজা নিহত হওয়ার পরের দিন, এপ্রিল ৮ তারিখ, ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিদো লিবামান বলেন, ‘প্রায় ডজনখানেক ঘটনায় আমরা দেখেছি, হামাস কর্মীরা সাংবাদিক ও চিকিৎসকের ছদ্মবেশে তৎপরতা চালাচ্ছে। আমরা আরও দেখলাম, একজন সাংবাদিক সীমান্তের কাছে ড্রোন উড়াচ্ছে। আমরা কিন্তু এসব ঘটনার সুযোগ নিইনি।’
লিডামান বলেন, সন্ত্রাসীদের ওই মিছিলে কোনো ভালো মানুষ থাকতে পারে না। তারা সবাই হামাস।’
মুর্তাজা ও সারাজ তাঁদের কাজে প্রায়ই ড্রোন ব্যবহার করতেন। এর আগে বিবিসির একটা ডকুমেন্টারিতে এবং চীনের শিল্পী আই ওয়েইওয়েইয়ের একটি কাজে তাঁদের ড্রোনে ধারণ করা ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সরাজ জানান, মুর্তাজা যেদিন গুলিবিদ্ধ হয় সেদিন সে ড্রোটটি অফিসে রেখে গিয়েছিল।’
এপ্রিলের ১০ তারিখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডেভিড কেয়েস এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘এটা প্রমাণিত, গাজায় নিহত “আলোকচিত্রী” হামাস নামের সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা ইসরায়েলের ধ্বংস চায়, তাদের একজন কর্মকর্তা। সে ২০১১ সাল থেকে হামাসের বেতনভুক্ত কর্মচারী। ইসরায়েলের অবস্থান জানার জন্য সে ড্রোন ব্যবহার করত। অসংখ্য প্রতিবেদক তাঁকে সাংবাদিক বলছেন। তাঁরা কি এই রেকর্ড সংশোধন করে দেবেন?’
এপ্রিলের ১২ তারিখে ইসরায়েল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন কনরিকাস বলেন, মুর্তাজা ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের নিরাপত্তা ফোর্সে ক্যাপ্টেন সমমানের কর্মকর্তা ছিলেন।’
মুর্তাজার পারিবার ও সহকর্মীরা হামাসের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ রাখার কথা অস্বীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সব শর্ত পূরণের পরই কেবল আইন মিডিয়াকে ইউএসএআইডির অর্থ সাহায্য দিয়েছিল।
মুর্তাজার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পরে টাইম পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র কেয়েস। সেদিন তিনি বলেন, ‘হামাসের সঙ্গে মুর্তাজার যোগাযোগের বিষয়ে আমাকে উদ্ধৃত করতে পারেন; মুর্তাজা এক শ শতাংশ হামাসের কর্মকর্তা ছিলেন। আমি নিজে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখেছি। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই।’
মুর্তাজার মৃত্যুর ঘটনা এক বছর পার হলেও কী পরিস্থিতিতে তাঁকে মারা হলো, এখনো তা প্রকাশ করতে পারেনি ইসরায়েল। তারা প্রমাণ করেনি, মুর্তাজা ওই দিন ড্রোন ব্যবহার করছিলেন। মুর্তাজা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কোনো সাক্ষীও তারা হাজির করতে পারেনি।
সারাজ মনে করেন, ওই দিন ইসরায়েলি স্নাইপার জেনেশুনেই মুর্তাজাকে নিশানা করে। তারপর একটি বিস্ফোরক বুলেট ছোড়ে। ঠিক এ কারণেই ইসরায়েলি সেনারা কোনোরকম তদন্ত করছেন না। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত সব জায়গায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না: টি-শার্টের পেছনের গল্প -বিবিসি বাংলা

ঢাকার একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক নারীদের পোশাক ও অলঙ্কার তৈরির প্রতিষ্ঠান এই ডিজাইনের টি-শার্টটি তৈরি এবং বাজারজাত করেছে।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের একজন এবং টি-শার্টের ডিজাইনার জিনাত জাহান নিশা বিবিসিকে বলেন, গণপরিবহনে নিজের সাথে হওয়া হয়রানিমূলক ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেই এ ধরণের পণ্য তৈরি করার চিন্তা আসে তার মাথায়।
"কয়েকবছর আগে পাবলিক বাসে একবার যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম।"
মিজ. নিশা জানান, একজন বয়স্ক ব্যক্তির দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর বাসেই প্রতিবাদ করেন তিনি, কিন্তু সেসময় সেখানে উপস্থিত মানুষজন তাকে সহায়তা না করে উল্টো প্রতিবাদ থামানোর জন্য তাকে চাপ দেন।
"নিজে হয়রানির শিকার হওয়ার পরও প্রতিবাদ করতে না পারা এবং উপস্থিত মানুষজনকে অন্যায়কারীর পক্ষ নিতে দেখে সেদিন খুবই অপমানিত হয়েছিলাম।"
ঐ ঘটনার আগেও যৌন হয়রানির শিকার হলেও সেবারের ঘটনা তার ওপর অন্যরকম প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান মিজ নিশা।
এর পরপরই প্রতিবাদ হিসেবে 'গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না' লেখা একটি খোঁপার কাঁটা তৈরি করেন এবং তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজারে ছাড়েন মিজ. নিশা।
"ছবি আঁকা, ডিজাইন করার মত কাজগুলোর মাধ্যমেই আমি আমার অনুভূতি শেয়ার করি এবং হালকা বোধ করি।"
খোঁপার কাঁটাটি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বাজারে ছাড়া হলেও এই পণ্যের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানান মিজ নিশা।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার অধিকাংশ নারীই তাদের সাথে ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন না। ঐ নারীদের জন্য প্রতিবাদের একটি মাধ্যম হিসেবে গত বছর নববর্ষের আগে খোঁপার কাঁটাটি বাজারে ছেড়েছিলেন বলে জানান তিনি।
খোঁপার কাঁটাটি বাণিজ্যিক সফলতা না পেলেও ঐ পণ্য সম্পর্কে দারুণ ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় এবছরেও একই বার্তা সম্বলিত পণ্য বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেন বলে জানান মিজ নিশা।
"বাংলাদেশে ভিড়ের বাসে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ।"
তিনি বলেন, "বাসে ভিড়ের মধ্যে গায়ের সাখে ধাক্কা লাগাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই ভিড়ের সুযোগটা নেন, যার প্রতিবাদ করা প্রয়োজন।"
মিজ নিশা বলেন, বাসে অনেক পুরুষের সাথেই ছোঁয়া বা ধাক্কা লাগলেও সেসব পুরুষের মধ্যে কারা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেন তা একজন নারী সহজেই বুঝতে পারেন।
"বাসে পুরুষদের সাথে ধাক্কা লাগলে বা তারা আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশে ভিড়ের বাসে সেরকম হতেই পারে। কিন্তু অনেকেই সেই অবস্থার সুযোগ নিতে চান, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
ফেসবুকে যেরকম প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে
'গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না' লেখা টি-শার্টের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এনিয়ে বিভিন্ন রকম আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকে, আবার অনেকেই এর সমালোচনা করছেন।
মোস্তাফিজুর নূর ইমরান নামের একজন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন , "লোকে তো অনেক কিছু্ই বলবে, লোকের কাজই বলা। এগিয়ে যাও।"
অনেকে প্রশংসা বা অনুপ্রেরণা দিয়ে মন্তব্য করলেও নেতিবাচক মন্তব্য করা মানুষের সংখ্যাই বেশি বলে মনে করেন মিজ. নিশা।
নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের অধিকাংশই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নারীদের টি-শার্ট পরার বিষয়টির সমালোচনা করেছেন।
অনেকেই বলেছেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নারীদের এমন পোশাক পরা উচিত নয়। করিম নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, "মানুষের কমেন্টগুলো দেখুন।
আপনাদের বোঝা উচিত এটা বাংলাদেশ।"
অনেকেই ছবিগুলোকে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন।
কিন্তু জিনাত জাহান নিশা জানান, বিক্রি বাড়ানোর পদ্ধতি বা আলোচনায় আসার কৌশল হিসেবে এই পণ্য তৈরি করেননি তারা। বাংলাদেশের গণপরিবহন, রাস্তাঘাটে নারীরা যেমন হয়রানির শিকার হন তার প্রতিবাদ হিসেবে বাজারে ছেড়েছেন এই পণ্য।
"সামাজিক মাধ্যমে এই ছবিগুলো ভাইরাল করার উদ্যোগ কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। যারা এগুলো নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, ছবি বিকৃতভাবে এডিট করে ট্রল করছেন, তারাই এটিকে ভাইরাল করেছেন," বলেন মিজ নিশা।
তবে এভাবে সমালোচনা ছড়িয়ে পরার ফলে টি-শার্ট তৈরির উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলে মনে করেন মিজ. নিশা।
"যাদের উদ্দেশ্যে এই লেখা সম্বলিত টি-শার্ট তৈরি করা, তাদের গায়ে ঠিকই লেগেছে এবং তারাই কিন্তু এর সমালোচনা করছেন।"
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগাম বন্যার শঙ্কা: ৭৫ ভাগ পাকলেই ধান কাটার পরামর্শ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসের শেষের দিকে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনও মাঝে মধ্যেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো প্লাবিত হতে পারে বন্যায়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরাঞ্চল। হাওরাঞ্চলে এখনো ধান পাকেনি। তাই হাওরাঞ্চল নিয়েই সরকারের দুশ্চিন্তা বেশি। তিনি বলেন, এ মাসের শেষ দিকে অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কৃষকরা মাঠে ধান কাটতে পারবেন না। এমনকি ধান কাটার মজুরও ঠিকভাবে পাবেন না। এ অবস্থায় আকস্মিক বন্যা বা নদীর পানিতে ফসলি জমি প্লাবিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়বে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে।
খাদ্য বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগাম বন্যা বা যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সারা দেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
গত রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার পর এনিয়ে কাজ করছেন তারা। বোরো ধান পেকেছে কিনা ওই সর্ম্পকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে একটি প্রতিবেদন নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, আগাম বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল (রোববার) আমাদেরকে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠি’র ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত হল বোরো ধান ৭৫ ভাগ পেকে গেলেই কেটে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের এসএমএস করবো। এদিকে আগাম বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সহসাই এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র বৈঠকে বসবে তারা। এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার আগেই আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সতর্কবার্তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে। এছাড়া আগাম বন্যা বা যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সারাদেশে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কয়েক দিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান এক নির্দেশনায় পাউবোর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যাপ্রবণ এ দেশে প্রতি বছরই প্লাবিত হয় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রয়োজনীয় প্রস্ততির পরও বন্যার মতো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। বিশেষ করে নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন বাঁধ মজবুত হলেও ঢলের তোড়েই বেশিরভাগ সময় বাঁধ ভেঙে যায়। এবারও একই আশঙ্কা কৃষকদের।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিট বুটএজ্যাজ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: হঠাৎ তারকা এক সমকামী মেয়র

আর কয়েক মাসের মধ্যেই তার পরিচিত হয়ে উঠবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়েসী ও প্রকাশ্যে প্রথম সমকামী প্রার্থী হিসেবে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে তাকে দেখতে আসা একদল জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, "গত কয়েক সপ্তাহ সত্যিই দারুণ কেটেছে।"
"আমাদের বার্তা যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে আমি সত্যিই উজ্জীবিত"।
একটি অবিশ্বাস্য উত্থান
এক মাস আগেই রাজনৈতিক অঙ্গন এমনকি ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরে খুব একটা আলোচনায় ছিলেননা ইনডিয়ানার সাউথ বেন্ড শহরের ৩৭ বছর বয়সী মেয়র পিট বুটএজ্যাজ।
কিন্তু একটি টেলিভিশন ভাষণের পর সাধারণ মানুষ এমনকি বিশ্লেষকদের, বিশেষত যারা তরুণ মুখ খুঁজছিলেন, দৃষ্টিও পড়েছে তার ওপরই।
নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের অ্যান্ড্রু সালিভানের মতে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যথার্থ প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন মেয়র পিট।
তিনি বলেন, "ট্রাম্পের বয়স, টেম্পারমেন্টের, সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে স্টাইল, জেনারেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড-সব মিলিয়ে বুটএজ্যাজ একেবারেই যথার্থ।"
পিটের টেলিভিশন ভাষণের প্রশংসা এসেছে ওবামা প্রচারণা দলের কিংবদন্তী ডেভিড এক্সেলরডের কাছ থেকেও।
মেয়র পিট ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্রমাগত এগুচ্ছেন এমনকি আইওয়াতে এক জরিপে তিনি উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে।
তার ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা উঠে এসেছে নিউইয়র্ক টাইমসের নন ফিকশন বেস্ট সেলার তালিকায়। মেয়র পিট সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে:
•নামের উচ্চারণ -বুট এজ এজ (BOOT-edge-EDGE)
•ফরাসী, স্প্যানিশ, আরবি, মাল্টিজ, ইটালিয়ানসহ সাতটি ভাষা জানেন।
•বাবা-মা দু'জনই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, এবং বাবা এসেছিলেন মাল্টা থেকে।
•২০১২ সাল থেকে সাউথ বেন্ড শহরের মেয়র।
•নৌ বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
•৩৩ বছর বয়সে সমকামী হিসেবে প্রকাশ করেন ও ২০১৮ সালে বিয়ে করেন।
একজন অপ্রচলিত ধরণের প্রার্থী
২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে তিনি প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার তহবিল তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
তহবিল তোলার দিক থেকে তার অবস্থান বার্নি স্যান্ডারস, কামালা হ্যারিস ও বেটো ও'রোকের পরই।
মেয়র পিটের সভাগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। যে কারণে ম্যানচেস্টারেই শেষ পর্যন্ত সভাস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে।
পিট বলছেন, "প্রতিবারই আমরা সাক্ষাত ও শুভেচ্ছার জন্য জমায়েত হই কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হয়ে যায় একটি সমাবেশ।"
সম্ভবত আগামী রোববার তিনি স্বতঃস্ফূর্ত এক সমাবেশে তার প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
একজন সিটি মেয়রের অফিস থেকে সাধারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়না।
ইতিহাসে মাত্র দু'জন এমন মেয়রের হোয়াইট হাউজে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আবার কোনো দায়িত্ব পালনরত মেয়রের এমন উদাহরণও নেই।
এতদিন মনে করা হতো একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সফল হতে হলে ব্যাপক অর্থ, প্রচার আর সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ইতিহাস থাকতে হবে।
যদিও তার কিছুটা পরিবর্তনও হয়েছে।
মেয়র পিট নটরডেম ইউনিভার্সিটির শহর সাউথ বেন্ডের মেয়র হন ২০১১ সালে ও পরে পুননির্বাচিত হন ২০১৫ সালে।
তিনি বড় হয়েছেন এই শহরেই। বাবা-মা দুজনেই নটরডেমের প্রফেসর। সত্তরের দশকে মালটা থেকে আসা বাবা প্রয়াত হয়েছেন আগেই। ঐতিহাসিক প্রার্থিতা
২০১৫ সালের পুননির্বাচনের আগেই পত্রিকায় কলাম লিখে মেয়র পিট জানিয়েছিলেন যে তিনি একজন সমকামী।
যদিও এমন ঘোষণা দেয়া খুব একটা সহজ কাজ ছিলোনা, বলছিলেন মেয়র পিট।
এখন তার আইডিয়া ও প্রস্তাবনাগুলোকে অনেকেই বিবেচনা করছেন নতুন প্রজন্মের হিসেবে, যা উজ্জীবিত করছে অনেককেই।
সূত্রঃ বিবিসি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির মসনদ দখলের লড়াই by পরিতোষ পাল

আজ যেসব রাজ্যে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, উত্তরাখণ্ড, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, লাক্ষাদ্বীপ, তেলেঙ্গানা ও আন্দামান নিকোবরের সবক’টি আসনে ভোট নেয়া হচ্ছে। আর আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, জম্মু ও কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, ওড়িশা, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু আসনে প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্ধ্র প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম বিধানসভার সবক’টি আসনে এবং ওড়িশা বিধানসভার কিছু আসনে আজ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশন সবরকম ব্যবস্থা করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়োগ করা হয়েছে সশস্র বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয আধাসামরিক বাহিনীও। তবে নির্বাচনের ঠিক আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্তব্যে বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। ইমরান বলেছেন, ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরে এলে কাশ্মীর জট খুলবে। এবং শান্তি আলোচনা সহজতর হবে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সেটা সম্ভব হবে না। এর পরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ঠিক মুখে মোদিকে আক্রমণের সুযোগ পেয়েছেন। কংগ্রেস বলেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে অফিসিয়ালি জোট বেঁধেছেন মোদি।
ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের যে দুটি আসনে ভোট হচ্ছে সে দিকেই সকলের নজর রয়েছে। এই দুটি আসন হল কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার। এই দুটি আসনে নির্বাচন নির্বিঘ্নে করার জন্য নির্বাচন কমিশন অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এই দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। মাত্র দুটি কেন্দ্রের জন্য এত ব্যাপক সংখ্যক আধা সামরিক বাহিনী আগে কখনো নিয়োগ করা হয়নি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সব বুথে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা প্রহরায় থাকবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত করা হয় নি। তবে নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল পুলিশ কর্তা রও নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোচবিহার আসনে রয়েছে মোট ২২০৩টি বুথ। আলিপুরদুয়ারে ভোটগ্রহণ হবে মোট ১৬৪১টি বুথে। সব মিলিয়ে মোট ৩৮৪৪টি বুথে আজ দুই কেন্দ্রের মানুষ ভোট দেবেন। ভোটের ঠিক মুখে বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে অপসারণ করার ফলে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গের এই দুটি আসনে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বন্যা বইয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কেন্দ্রে বিজেপিকে হটিয়ে সরকার গঠনে তারাই যে ভূমিকা নিচ্ছেন সে কথা আগেভাগেই বলে দিয়েছেন। আর মোদি বলেছেন, দিদির ঘুম ছুটে গিয়েছে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার আসন দুটি জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগে এই আসন দুটি ছিল বাম দল ফরোয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপির হাতে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সাবেক বামপন্থি নেতাদের অনেকে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতা আসন কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে বিজেপি জয়ের ব্যাপারে এবার প্রচণ্ড আশাবাদী। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলোতেই তার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তাই এই দুই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আশা করছেন সকলে। তবে ভোটের ঠিক মুখে বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিয়ে কামতাপুর পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন দেবার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেপিপি সভাপতি বিমল বর্মণ বলেছেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বিজেপিকে চরম শিক্ষা দেয়ার জন্য লোকসভা নির্বাচনে এবার তৃণমূলকেই ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেপিপি নেতারা। এই দুই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে মমতার অভিযোগ, কোচবিহারে একজন স্মাগলার এবং আলিপুরদুয়ারে একজন দাঙ্গাবাজকে প্রার্থী করা হয়েছে। অবশ্য কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী কিছুদিন আগেও জেলায় তৃণমূল যুবদের দাপুটে নেতা বলে পরিচিত ছিলেন। দুটি কেন্দ্রেই লড়াই হচ্ছে চতুর্মুখী। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই ছাড়াও ময়দানে হাজির কংগ্রেস ও বাম প্রার্থীরা। কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট থেকে আসা সাবেক মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে সাবেক তৃণমূল যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিককে। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে স্থানীয় শিক্ষিকা পিয়া রায় চৌধুরীকে এবং বাম শরিক ফরোয়ার্ড ব্লকের অভিজ্ঞ নেতা গোবিন্দ রায়কে। তবে কোচবিহারে আসল লড়াইটা হচ্ছে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বনাম নিশীথ প্রামাণিকের। এই দুজনের মধ্যে বৈরিতা দলের থাকার সময় থেকেই। তবে সাবেক ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ আধিকারীর বিরুদ্ধে বাম মনস্ক মানুষের ক্ষোভের পাশাপাশি এই আমলে মেয়েকে বেআইনিভাবে সবাইকে টপকে শিক্ষকতার চাকরি পাইয়ে দেবার অভিযোগই বড় হয়ে উঠেছে। অবশ্য দলের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জয়ের আশা করছেন। সঙ্গে রয়েছে মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষের ক্ষমতায়নের রাজনীতি। এই জেলাতেই রয়েছে সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহল এবং বাংলাদেশ থেকে আসা সাবেক ছিটবাসীদের ক্যাম্প। এদের ভোট পাওয়ার জন্য তৃণমূল উন্নয়নের কথা বললেও সাবেক ছিটবাসীদের মধ্যে রয়েছে নানা ক্ষোভ। সেই ক্ষোভকেই কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। গত কয়েক বছরে কোচবিহারে বিজেপির উত্থান লক্ষ্য করার মতো। সেই সঙ্গে নিশীথ প্রামাণিকের মতো তরুণের প্রভাব ও ক্ষমতাও বিজেপিকে এবার অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে অসংখ্য চা-বাগান সমৃদ্ধ আলিপুরদুয়ার আসনে এবার লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দশরথ তিরকে। এই দশরথ তিরকে ছিলেন বাম দল আরএসপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি আরএসপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে লোকসভায় জয়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছে এলাকার চা-বাগান শ্রমিকদের নেতা জন বারলাকে। আদিবাসী পরিষদের নেতা হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বারলা ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এ বছরই বিজেপির প্রার্থীও হয়েছেন। এই দুই প্রতিপক্ষ ছাড়াও আসরে রয়েছেন বামফ্রন্টের শরিক আরএসপির সাবেক সংসদ সদস্য মনোহর তিরকের কন্যা মিলি ওরাওঁ এবং কংগ্রেসের মোহনলাল বসুমাতা। গতবারের নির্বাচনে আরএসপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এবারের ভোটে মূল লড়াইটা হচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের উপর ভর করে আসনটি ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী। আর বিজেপির ভরসা মোদির দেশপ্রেমের আবেগ। তবে এই কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত ৬৪টি চা বাগানে শ্রমিকরাই এই কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিতা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর সে ক্ষেত্রে চা-বাগান এলাকার গোর্খারাই হতে পারে নির্ণায়ক শক্তি। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মতে, দেশের সুরক্ষায় মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জেরে দেশে এখন প্রবলভাবে বইছে বিজেপি হাওয়া। গতবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। তাই আসন ধরে রাখার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে তাদের সেক্ষেত্রে বেগ দেবে আরএসপি প্রার্থীও। আর তাই মমতা বলেছেন, এই নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে লাভ নেই। সবটাই দিন তৃণমূলকে। তবে এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যেভাবে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে তাতে ভোট লুট হওয়া এবার সম্ভবত রোখা যাবে। তাই নির্বাচনের রণাঙ্গনের ভোট কাটাকুটিতে কে জিতবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ার 'ডিম বালক' এর সাথে সাংসদের সংঘর্ষ: সিনেটর নির্দোষ, কিশোরকে পুলিশের সতর্কতা

গতমাসে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিতর্ক ছড়িয়ে পরেছিল - এই ঘটনার জন্য দু'জনের কোনো একজনকে আইনের আওতায় আনা উচিত কিনা, এবং ইনের আওতায় আনা হলে কাকে আনা হবে।
মি. অ্যানিংয়েরে মাথায় ডিম ভেঙে 'ডিম বালক' উপাধি পেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করা ১৭ বছর বয়সী ঐ কিশোরকে পুলিশ সতর্ক করেছে, তবে জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে না।
নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলার ঘটনায় সেখানকার মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করে এক বিবৃতি দেয়ার পর মি. অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়।
গত সপ্তাহে ঐ মন্তব্যের জন্য মি. অ্যানিংকে তিরস্কার করে অস্ট্রেলিয়ার সিনেট।
এরপর টেলিভিশনে প্রচারিত হতে থাকা এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেটরের পেছন থেকে তার মাথায় ডিম ভাঙেন কিশোর উইল কনোলি। ঐ ঘটনার তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় মি. অ্যানিংয়ের সমর্থকরা আক্রমণকারী বালককে প্রতিহত করার আগে সিনেটর নিজেও ঐ বালককে আঘাত করেন।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ঐ বালককে আঘাত করার অপরাধে সিনেটরকে 'অভিযুক্ত না করার' সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
"পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বোঝা যায় যে, ৬৯ বছর বয়সী সিনেটরের প্রতিক্রিয়া আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।"
ডিম নিয়ে আক্রমণ করা কিশোরটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া না হলেও তাকে 'আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক' করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
'ডিম বালক'-এর জন্য সমর্থন
সেসময় ডিম দিয়ে আক্রমণ করার জন্য অনেকে ঐ কিশোরের সমালোচনা করলেও অনলাইনে তার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।
দ্রুতই তাকে 'ডিম বালক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ঐসময় তার আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজন হতে পারে বলে একটি অনলাইন প্রচারণায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৪৩ হাজার পাউন্ড) বেশি অর্থ তোলা হয়। সেসময় বিনামূল্যে কনসার্টের টিকিট পাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সেলেব্রিটিদের দ্বারা প্রশংসিত হয় ঐ কিশোর।
বিভিন্ন দেশের রাস্তায় আঁকা কিছু দেয়ালচিত্র বা ম্যুরালেও গুরুত্বের সাথে জায়গা পায় কিশোরটি।
গতমাসে স্থানীয় গণমাধ্যম টেন নেটওয়ার্ককে কিশোরটি বলেন, "আমি বুঝতে পারি যে, আমি যা করেছি তা সঠিক কাজটি নয়।"
"তবে এই ডিমটি মানুষকে একত্রিত করেছে।"
সিনেটর মি. অ্যানিং অবশ্য তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি; যদিও তার ঐ মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয় এবং তার পদত্যাগ চেয়ে তৈরি করা এক গণ আবেদনপত্রে ১৪ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে।
তবে সিনেটের পক্ষ থেকে মি. অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হয়।
'ভয়াবহ অপরাধের দায় ভুক্তভোগীদের ওপর চাপানো এবং ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে দোষারোপ' করার দায়ে তার বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করে সিনেট।
সূত্রঃ বিবিসি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা কারো থেকে পিছিয়ে থাকবো না

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যারা এখানে বিজ্ঞানী ও গবেষক আছেন তারা আরো ভাল করে গবেষণা করুন। আর কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি উৎকর্ষতা লাভ করতে পারে। কোথায় কোথায় আমাদের আরো বেশি বিনিয়োগ করা দরকার সেইভাবেই আমাদের দেশের জলবায়ু, মাটি, পানি সবকিছু নিয়েই আপনাদের কাজ। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাই কাজ করবেন সেটাই আমি চাই। কারণ বিশ্বের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলবো। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ। অর্থনৈতিকভাবেও আমরা যথেষ্ট স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছি। দেশে আরো বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং গবেষক তৈরি হোক সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সায়েন্স এন্ড আইসিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আ ফ ম রুহুল হক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষকদের মাঝে গবেষণা অনুদানের চেক বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে ও সব কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। কাজেই তারা পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং থাকবেও না। সেই সুযোগটা আমাদের করে দিতে হবে। তিনি বলেন, এদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৩ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমান সরকারও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭১৩ জন ছাত্রছাত্রী ও গবেষকের মধ্যে ৮৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করেছি। বর্তমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞানী গবেষক যারা আছেন তাঁদের বিরাট অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে । আপনারা আরো মনযোগের সঙ্গে নিজ নিজ কাজটি করবেন সেটাই আমার আশা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাসপোর্ট পেতে প্রবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, চরম দুর্ভোগ by দীন ইসলাম

পাসপোর্ট পেতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যা অনাকাঙ্খিত।
এদিকে মাহমুদ হাসানের মতো এমন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট মিলছে না। আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে খোঁজ নিতে গেলে মুখস্ত বলে দেয়া হয় আপনার রিপোর্টটি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। তখন এসবি’র কাছ থেকে নেয়া তদন্ত রিপোর্টের প্রিন্ট কপি দেখালে চুপসে যান পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তড়িঘড়ি করে তদন্ত রিপোর্ট পাসপোর্ট আবেদনের সঙ্গে রাখা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, ইতালির রোম ও মিলান, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন মিশনে জমা পড়া আবেদন মাসের পর মাস পড়ে থাকছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আত্মীয়-স্বজনরা ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে তদবির না করলে জট যেন খুলছে না। পাসপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে এরই মধ্যে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব চিঠিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট পেতে নানা ঝক্কি ঝামেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাসপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার কারণে বিদেশি শ্রম বাজারে কি ধরনের সমস্যার মুখে বাংলাদেশিরা পড়ছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সময় মতো পাসপোর্ট না পেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা দূতাবাস কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। এজন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে গত ১লা এপ্রিল রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দিয়েছে। দূতাবাসের প্রথম সচিব কাজী নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে রিয়াদ মিশনে স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট সরবরাহের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এতে জানানো হয়, এ বছরের মার্চ থেকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে রিয়াদ মিশনে অনিয়মিতভাবে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ হাজার ৫১২টি পাসপোর্টের আবেদনের বিপরীতে গেল মার্চ মাসে মাত্র পাঁচ হাজার ১৪০ টি পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে। এটি চাহিদার ৫০ শতাংশেরও কম। এমআরপি অনলাইন সিস্টেম পরীক্ষান্তে দেখা যায়, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের অনেক আবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তরে প্রিন্টের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
আবেদনের অনেক দিন পরেও পাসপোর্ট না পেয়ে অনেক প্রবাসী দূতাবাসে এসে অসৌজন্যমূলক আচরন করছেন। দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট ইকামা নবায়নে গৃহিত না হওয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে চাকুরিরত হাজার হাজার প্রবাসি পাসপোর্টের অভাবে চাকুরি হারানোর ঝুঁকিতে আছে। এছাড়া ঠিক সময়ে ইকামা নবায়ন করতে না পারায় প্রবাসীদের জরিমানা দিতে হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে স্বল্প সময়ে রিয়াদ দূতাবাসে পাসপোর্ট সরবরাহের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে ইতালির রোম ও মিলানে গেল বছরের জুনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেন শিশু বায়েজিদ মিয়া ও তানহা রহমান এর অভিভাবক। এরপর থেকে নিজেদের পাসপোর্টের জন্য নয় মাস ঘুরেছেন।
গেল মাসের শেষ দিকে আকাঙ্খিত পাসপোর্ট পেয়েছেন তারা। তারা জানান, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর কী কারণে এতো দিন লাগলো তা কেউ বলতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগের এক পর্যায়ে পাসপোর্ট ইতালিতে পাঠানো হয়। এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট দেরিতে পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে চিঠি পাচ্ছে সুরক্ষা সেবা বিভাগ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই অধ্যক্ষের যত কেলেঙ্কারি by জিয়া চৌধুরী ও নাজমুল হক শামীম

সোনাগাজীর মাদরাসা ছাড়াও আরো দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির তথ্যও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্যক্তিদের সঙ্গে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে গতকাল বিকালে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। রাফির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পাশাপাশি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার আগের নানা সময়ের এসব অভিযোগেরও ন্যায়বিচার দাবি করেন তারা। উম্মুল কোরা ডেভেলপার নামে একটি আবাসন ও ভূমি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটির ১০৯ জন সদস্যের নামে থাকা প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেনী মডেল থানায় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন আব্দুল কাইয়ুম নিশান। ২০১৭ সালে ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনিরউদ্দিন মিনু জানান, অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। মামলাটি এখন চার্জ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুল কাইয়ুম নিশান মানবজমিনকে জানান, ২০১৭ সালের আগস্টে ১০৯জন সদস্যকে নিয়ে শুরু হয় উম্মুল কোরা ডেভেলপারের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা উম্মুল কোরা মাদরাসা ভবনটি সে বছর রাজু, সোহাগ, নয়ন ও মতুর্জা নামে কয়েক সন্ত্রাসীর সহায়তায় সিরাজ উদ দৌলা দখল করে নেন। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে নিয়োজিত থাকা একটি মাইক্রোবাস বিক্রির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, ফেনীর মহীপাল এলাকায় কোম্পানির নামে থাকা সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিও নিজের নামে করে নেন সিরাজ।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড় এলাকায় উসমান ফার্নিচার নামে জমির দখল নিয়ে নেন অধ্যক্ষ সিরাজ। এই কাজে তাকে ভ্যান নয়ন নামে একজন সহায়তা করে বলে অভিযোগ বাদীর। উম্মুল কোরা ডেভেলপারের অধীনে থাকা এসব সম্পত্তি বেহাত করে সব টাকা নিজের নামে ব্যাংকে জমা করেন সিরাজ-উদ দৌলা। আর কোম্পানির সাধারণ সদস্যদের টাকা আত্মসাৎ করে ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড়ে গড়ে তোলেন আলিশান ছয় তলা বাড়ি ‘ ফেরদৌসী মঞ্জিল’। কিন্তু কিভাবে ১০৯ জনের নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ একা হাতিয়ে নিলেন সেসব বিষয়ে কথা হয় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে।
তিনি মানবজমিনকে বলেন, কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রির সুবিধায় সে সময় চেয়ারম্যান সিরাজ উদ দৌলাকে একক ক্ষমতার অধিকার দেয়া হয়। লেনদেন ও ব্যাংকের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানের ইসি কমিটির সদস্যরা। তবে, এমন সিদ্ধান্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় ১০৯ জন সদস্যের জন্য। সিরাজ উদ দৌলা সাধারণ সদস্যদের সম্পদ একে একে নিজের নামে করে নেন। জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। পরে ২০১৭ সালে আমরা মামলা করতে বাধ্য হই। ২০১৭ সালের ৭ ও ১৩ই আগস্ট তার বিরুদ্ধে ফেনী সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করা হয়। পরে কয়েক দফার বৈঠকে টাকা বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এক টাকাও হস্তান্তর করেননি। বরং আমাদের সন্ত্রাসী ও গুন্ডা দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।
মামলার বাদী আব্দুল কাইয়ুম নিশান জানান, ২০১৮ সালে এই মামলায় প্রায় ২১ দিন জেলও খাটেন সিরাজ উদ দৌলা। পরে স্ট্রোকের ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নেন। জামিনে বেরিয়ে বেশ কয়েকবার আমাকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি। উম্মুল কোরা ডেভেলপারের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ নিজের নামে হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও ২০০৭ থেকে নানা সময়ে সিরাজ উদ দৌলা বিভিন্ন মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী, কর্মীদের যৌন হয়রানি, ছেলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও নিজের চাচাতো ভাই এবং গাড়ি চালককে হত্যাচেষ্টা করেন বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। এছাড়া নাশকতা ও সরকারি গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ২০১৫ সালে ফেনী মডেল থানার এফজিআর ৫১০/১৫ নম্বর মামলায়ও জেল খাটেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। ২০০৭ সালে ফেনীর দলিয়া এলাকার সালামতিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এছাড়া, আল জামিয়াতুল ফালাইয়া মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগেও তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রংমালা মাদরাসায়ও নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরি হারান সিরাজ। পরে জাল সনদ দিয়ে ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানকার প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে তোলেন নিজের বলয়। আর শুরু করেন ত্রাসের রাজত্ব। সোনাগাজীর ওই মাদরাসায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ছাড়াও তহবিলের টাকা লুটপাট করেন। এছাড়া, ২০১৮ সালের ১০ই জুন নিজের গাড়িচালক মেফতাহুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা করেন সিরাজ। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার দুই নম্বর আসমি শামীম। পরে শামীমের ভয়ে অভিযোগ তুলে নেন মেফতাহুল ইসলাম।
২০১৭ সালের ১২ই জুলাই ফেনীর ৮ নম্বর দরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে সিরাজের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন ইশরাফিল নামে একজন। অভিযোগের পর তাকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১১ই নভেম্বর নিজের প্রবাসী চাচাতো ভাই নূরনবীকে হত্যার হুমকি দেন সিরাজ। পরে ফেনীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই বিষয়ে সমঝোতা হয়। একই বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষককে পরীক্ষা কক্ষে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। পরের বছর ২০১৮ সালে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চেক জালিয়াতির অপরাধে তার বিরুদ্ধে ৩২৫/১৮ নম্বর মামলা করা হয়। ২০১১ সালে একবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাদরাসায় অনিয়মের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে সেই কমিটির রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া ২০১৭ সালের ১২ই নভেম্বর ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি কে এনামুল করিম। কিন্তু সেবারও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেঁচে যান সিরাজ উদ দৌলা। তবে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আবারো মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় জনগণ। নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
৭ দিনের রিমান্ডে অধ্যক্ষ, মামলা পিবিআইতে: নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় এজহারভূক্ত প্রধান আসামি সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (সদ্য বহিষ্কৃত) সিরাজ-উদ দৌলার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময় ওই মাদরাসার প্রভাষক নুরুল আবসার ও ছাত্র আরিফুল ইসলামের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন তিন আসামিকে আদালতে তুলে প্রত্যেকের ৭দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এদিকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার এ মামলার এজহারভূক্ত আসামি জোবায়ের আহমেদ ও হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক অধ্যক্ষের ভাগ্নি উন্মে সুলতানা পপিকে সকালে একই আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, সিরাজ-উদ দৌলা কারাগারে বসে ষড়যন্ত্র করে তার সাঙ্গপাঙ্গরা নুসরাতের উপর এ জঘন্য হামলা করেছে। আমরা বিচারককে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। বিচারক আমাদের বক্তব্য শুনে ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করি রিমান্ডে জিঙ্গাসাবাদে প্রধান আসামি হত্যার ষড়যন্তের বিষয়ে স্বীকার করবে।
নুসরাতের আবেগঘন চিঠি উদ্ধার: এদিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদৌলার হাতে যৌন হেনস্থার শিকার নুসরাত জাহান রাফির একটি আবেগঘন চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই সহপাঠিকে লেখা এ চিঠি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। রাফির খাতায় এটি নোট আকারে লেখা ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন জানান, নুসরাতের ঘরের পড়ার টেবিলের বই/খাতা দেখতে গিয়ে একটি খাতার পৃষ্ঠা উল্টালে এমন একটি লিখা পাই। এর কয়েক পাতা পর আরো একটি লিখা পাই। তাতক্ষণিক পুলিশ পাতাসহ খাতাটি জব্দ করে।
নিচে নুসরাতের চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
সাথি, তামান্না..
‘তামান্না, সাথি তোরা আমার বোনের মত, এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিলো, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো, আরো কি কি বললো। আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস, আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ ???
তোরা সিরাজুদ্দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কিভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস, তোরা জানিস না ঐদিন ক্লাসে কি হইসে, উনি আমার কোন জায়গায় হাত দিয়েছে এবং আর কোন জায়গায় হাত দেয়ার চেষ্টা করছে। উনি আমাকে বলতেছে নুসরাত ডং করিও না। তুই প্রেম করিস না, ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভাল লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে, আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেব। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এ জবাবে আমি উত্তর দিলাম, আমি একটা ছেলের না হাজারটা ছেলের...’’ (এই পত্রের বাকি অংশ পাওয়া যায়নি)
অন্য পাতায় নুসরাত লেখেন,
‘আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্নহত্যা করতে গিয়ে সে ভুলটা দ্বিতীয় বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া, আমি মরবো না। আমি বাঁচবো, আমি তাকে শাস্তি দেব। সে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যে তাকে দেখে অন্যরাও শিক্ষা নেবে। আমি তারে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেব। ইনশাআল্লাহ।
ওসি প্রত্যাহার: এদিকে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ শাখার এআইজি সোহেল রানা এতথ্য জানিয়েছেন। ওসিকে এপিবিএনে বদলির খবর নিশ্চিত করেছেন ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজেপি জিতলে পাকিস্তানের জন্য শান্তি আলোচনার ভাল সুযোগ থাকবে- ইমরান

ইমরান খান বিদেশী সাংবাদিকদের একটি ছোট্ট দলের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি তাদেরকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ডানপন্থি দল বিজেপি যদি নির্বাচনে বিজয়ী হয় তাহলে কাশ্মির ইস্যুতে একটি সমাধানে পৌঁছা যেতে পারে। কাশ্মিরের মুসলিম এবং ভারতের মুসলিমরা মোদির ভারতে অচ্ছুত আচরণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও এটা হতে পারে। ইমরান খান বলেন, ভারতে এখন যা ঘটছে আমি কখনো ভাবি নি এমনটা ঘটেব। মুসলিম হওয়ার জন্য আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতোই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারা ভীতি ও জাতীয়তাবাদের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে ইলেকশনিয়ারিং করছেন।
এ সপ্তাহে বিজেপি বলেছে তারা জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণকে দেয়া কয়েক দশকের পুরনো বিশেষ অধিকার কেড়ে নেবে। এর ফলে বাইরের কেউ ওই রাজ্যে কোনো সম্পদ কিনতে পারবে না। এতে বড় রকমের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যদিও এক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয় নিÑ বলেন ইমরান খান।
ভারতকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার আগেই ইমরান খান বলেছেন, দেশের ভিতরে পাকিস্তানভিত্তিক সব জঙ্গি গোষ্ঠীকে নিমূর্ল করার জন্য বদ্ধপরিকর ইসলামাবাদ। এজন্য সরকারের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের শক্তিধর সেনাবাহিনীর। যাদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ওইসব গ্রুপ রয়েছে, যারা কাশ্মিরে বিভিন্ন অঘটনে জড়িত।
পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই পুরো কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে। কিন্তু তারা এর অংশবিশেষ নিজেদের শাসনের অধীনে নিতে পেরেছে। এ বিষয়ে ইমরান খান বলেন, কাশ্মির হলো একটি রাজনৈতিক লড়াই। এর কোনো সামরিক সমাধান নেই। যদি পাকিস্তান থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করে, তাহলে দুর্ভোগে পড়েন কাশ্মিরিরা। এর ফলে ভারতের সেনাবাহিনী সেখানে দমনপীড়ন চালায়।
বৃটেনের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই দুটি দেশ তিনটি যুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দুটি যুদ্ধ হয়েছে কাশ্মিরকে নিয়ে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর কমপক্ষে ৪০ জন সদস্য নিহত হন। এর পর তাদের মধ্যে নতুন করে তুঙ্গে ওঠে উত্তেজনা। এর জন্য দায়ী করা হয় পাকিস্তানকে। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর ফলে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে আকাশপথে পাকিস্তানে জঙ্গিদের আস্তানায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান। পোলস্টার বলছে, আত্মঘাতী ওই বোমা হামলা ও ভারত সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপে জন্য দেশপ্রেমের একটি ঢেউ তৈরি হয়েছে দেশে। আর তা গেছে মোদি ও বিজেপির পক্ষে।
ইমরান খান বলেছেন, আগামী দু’এক সপ্তাহে যদি দেখা যায় নির্বাচন মোদির বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তাহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরো এক দফা সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্বরতা- স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে...

গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিচারিক হাকিমের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। পরে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার স্কুল ছুটি হওয়ার পর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরী বাড়ি যাচ্ছিল। পথে উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে আবদুর রশিদের ছেলে ফারুক মিয়া (২৮) একই গ্রামের শাহরিয়া এবং মিঠু পাঠানের সহযোগিতায় জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে তাকে ধর্মপুরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। রাতে ফারুকের বাড়িতে এনে পুরুনো একটি ঘরে আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরায় বিকেল থেকে রাতভর বাড়ির লোকজন মেয়েটির সন্ধানে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজলেন।
পরদিন সোমবার সকালে ফারুক এবং তার সহযোগীরা মেয়েটিকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তার বাড়ির পাশে ফেলে চলে যায়। কিশোরীর আত্মচিৎকারে লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে থানায় মামলা করতে বলেন।
বাবা প্রবাসে থাকায় শিশুটির মা মঙ্গলবার রাতে ফারুকসহ তিনজনকে আসামি করে কসবা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। এ ঘটনার পর আসামিরা পলাতক রয়েছে।
কসবা থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) মো. বেলাল হোসেন বলেন, শিশুটি ব্রা?হ্মণবাড়িয়া বিচারিক হাকিমের আদালতের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে শিশুটিকে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণের কথা আদালতের কাছে বলেছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে তার মা থানায় মামলা করেছেন। এতে ফারুকসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আখলাকের খুনি বিজেপির মঞ্চে

অভিযুক্ত অন্য ১৬ আসামীকে দেখা গেছে চারদিক ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিচ্ছেন ‘ভারত মাতা কি জয়’। এ খবর দিয়েছে কলকাতার অনলাইন টেলিগ্রাফ।
২০১৫ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর রাত। ওই রাতে গরুর মাংস খেয়েছেন এবং সংরক্ষণ করেছেন এই অভিযোগে দিল্লি থেকে ৫০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের দাদ্রি এলাকার বিসারা গ্রামের বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আখলাককে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় একদল লোক। তারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তার ছেলে মোহাম্মদ দানিশকে এতটাই আহত করে যে, তার বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দেয়। পর পর তিনবার তার ব্রেনে অপারেশন করানো হয়েছে। বাম কানের নিচের দিক থেকে মাথার চুলের ভিতর দিয়ে এখনো তার বাম চোখের ভ্রুর ওপর পর্যন্ত সেই অপারেশনের দাগ স্পষ্ট। তা নিয়েই কোনোমতে বেঁচে আছেন দানিশ। কিন্তু তার পিতাকে হত্যা ও তার ওপর নির্যাতনের বিচার কি তিনি পেয়েছেন ?
আসলে অসহিষ্ণুতাই বড় হয়ে উঠেছে এখানে। অভিযুক্ত প্রধান আসামী বিশাল রানা হলেন স্থানীয় বিজেপির সদস্য সঞ্জয় রানার ছেলে। তাকে এবারের নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। আর তাদেরকে বাঁচাতে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। তিনি ভাষণে বলেছেন, সবাই জানেন বিসারায় কি ঘটেছিল। এরপরই তিনি ওই ঘটনার জন্য রাজ্যে তখন ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বাধীন অখিলেশ যাদবের সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, কিভাবে সমাজবাদী সরকার ওই গ্রামের মানুষের আবেগ ও সেন্টিমেন্টকে চেপে ধরে রেখেছিল। আমাদের সরকার গঠন হওয়া পর পরই সব অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছি কড়াকড়িভাবে। এ সময় তিনি ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী মহেশ শর্মাকে পুনরায় বিজয়ী করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। আদিত্যনাথ বলেন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপমন্ত্রী থাকার সময়ে সারাদেশের মন্দিরগুলোর উন্নয়ন করেছেন মহেশ শর্মা। তিনি হিন্দু সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন।
ওই অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসা ছিলেন সেই বিশাল রানা। পুলিশের চার্জশিটে বলা হয়েছে, তিনিই ২০১৫ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামের মন্দিরের মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আখলাক তার বাড়িতে গরুর মাংস সংরক্ষণ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের গতিতে একদল মানুষ ছুটে যায় আখলাকের বাড়িতে। তার ফ্রিজে কিছু মাংস পায়। তারা দাবি করে, এই মাংস গরুর। অমনি আখলাক ও তার ছেলে দানিশকে একতলা বাড়ির ভিতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নেয়। তাদেরকে প্রহার করে লাঠি, ইট ও হকিস্টিক দিয়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আখলাক। দানিশের শরীরে অসংখ্য ক্ষত সৃষ্টি হয়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিশাল রানা বলেছেন, তিনি ও অন্যরা গ্রামের মানুষদের দ্বারা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। বলা হয়েছিল, আখলাক গরু জবাই করেছেন এবং সে খবরে তারা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
আখলাকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সেই মাংসের প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয় দাদ্রির একটি পশু বিষয়ক ল্যাবরেটরিতে। পরীক্ষা শেষে বলা হয় ওই মাংস গরুর নয়, খাসির। কিন্তু ২০১৬ সালের জুনে ওই মাংসই পরীক্ষা করে উত্তর প্রদেশ ইউনিভার্সিটি অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজব্যন্ড্রি। তারা ঘোষণা দেয়, আখলাককে যেখানে হত্যা করা হয়েছে সেখান থেকে সংগৃহীত মাংস পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা গরুর মাংস।
দানিশের এখন ন্যায়বিচার প্রার্থনা। তিনি বলেছেন, আমরা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমার পিতার খুনিরা মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিচারবিভাগের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আশা করি বিলম্বিত হলেও, ন্যায়বিচার বঞ্চিত হবো না। তিনি আরো বলেন, আমার শরীরে সার্জারির যে দাগ তা প্রতিদিন আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই ভয়াবহতাকে। কোনো কারণ ছাড়াই আমার পিতাকে হত্যা করেছে তারা। তাই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে এই ক্ষতের কথা মনে থাকবে না।
দানিশ তার মা ইকরামান, বোন শেইস্তাকে নিয়ে বড়ভাই সারতাজের বাসায় চলে গিয়েছেন। তার ভাই দক্ষিণ দিল্লির সুব্রোতো পার্কের কাছে বিমান বাহিনীর একটি কোয়ার্টারে বসবাস করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দাঙ্গায় মানুষ হত্যার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন মোদি -আসাদুদ্দিন ওয়েইসি

যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে বিশ্বাসী তিনি শুধু তাদেরই চৌকিদার। এ খবর দিযেছে ভারতের অনলাইন দ্য স্টেটসম্যান।
আসামে শওকত আলী নামে একজন মুসলিমকে গরুর মাংস বিক্রি করার অভিযোগে সম্প্রতি প্রহার করেছে দাঙ্গাবাজরা। এক পর্যায়ে তাকে কাঁচা মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করে তারা। নানা রকম অপমানজনক কথা বলতে থাকে। এ বিষয়ে দৈনিক মানবজমিনে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও ক্লিপও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোতে। এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে আসাদুদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, একজন মুসলিমকে প্রহার করা হয়েছে। দাঙ্গাবাজরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে তাকে শূকরের মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করেছে। ওয়েইসি আরো বলেন, এই ঘটনা থামাতে না পারার যন্ত্রণা মোদিকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মোদির লিগেসি হবে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দাঙ্গাবাজদের হাতে প্রহৃত হয়ে মানুষ মৃত্যুর ঘটনা সর্বাধিক ছিল এবং তিনি তা থামাতে পারেন নি। দাঙ্গাবাজদের হাতে মানুষ হত্যার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মোদি গরিব মানুষ, পিছিয়ে পড়া, দলিত শ্রেণির মানুষদের চৌকিদার নন। তিনি হলেন ধনীদের চৌকিদার।
আসাদুদ্দিন ওয়েইসি বলেন, দেশ অনেক বড়। মোদি অনেক ছোট। আমাদের সংবিধান অনেক বড়। মোদি তার তুলনায় অনেক ছোট। সবার সংস্কৃতি অনেক বড়। কিন্তু মোদি তা বিশ্বাস করেন না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
April
(369)
-
▼
Apr 11
(18)
- আবু সিনা ছাত্রাবাস: মিলল শতবর্ষী হওয়ার প্রমাণ
- বালাকোটে সাংবাদিকদের পাকিস্তান যা দেখাল
- রাসেলকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে এক মাস সময় পেলো গ্রিন লাইন
- পানি সেচে ভরাট সড়কের গর্ত
- ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ by তর...
- আজও উদ্ঘাটিত হয়নি সে রহস্য
- গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না: টি-শার্টের পেছনের গল্প -বিব...
- আগাম বন্যার শঙ্কা: ৭৫ ভাগ পাকলেই ধান কাটার পরামর্শ
- পিট বুটএজ্যাজ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: হঠাৎ ...
- দিল্লির মসনদ দখলের লড়াই by পরিতোষ পাল
- অস্ট্রেলিয়ার 'ডিম বালক' এর সাথে সাংসদের সংঘর্ষ: স...
- আমরা কারো থেকে পিছিয়ে থাকবো না
- পাসপোর্ট পেতে প্রবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, চরম দুর্ভো...
- সেই অধ্যক্ষের যত কেলেঙ্কারি by জিয়া চৌধুরী ও নাজমু...
- বিজেপি জিতলে পাকিস্তানের জন্য শান্তি আলোচনার ভাল স...
- বর্বরতা- স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে...
- আখলাকের খুনি বিজেপির মঞ্চে
- দাঙ্গায় মানুষ হত্যার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন মোদি ...
-
▼
Apr 11
(18)
-
▼
April
(369)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...