Sunday, April 10, 2011

আরেকটি পারমাণবিক কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি ছড়িয়ে পড়েছে

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিপর্যস্ত জাপানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবার আঘাত হানা ভূমিকম্পে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের পর মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার জানান, ভূমিকম্পের পর নতুন আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির তেজস্ক্রিয় পানি বেরিয়ে পড়েছে। নতুন করে আঘাত হানা ভূমিকম্পের ফলে ফুকুশিমা কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু আগে আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে। সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয় আগের ভূমিকম্প ও সুনামিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সেন্দাই উপকূলে। সেখানে অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া টোকিওর বিভিন্ন ভবন কেঁপে ওঠে। উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি-সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ৯০ মিনিট পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
রাতের ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। উপকূলীয় শহর কিতাকামির বাসিন্দা কাজুইয়ুকি শিরোওয়া গতকাল বলেন, ‘আমি তো ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এক মাস আগের ভয়াবহতার কথা বারবার মনে পড়েছে। একের পর এক ভূমিকম্পে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, আর যেন ভূমিকম্প না হয়।’
কর্মকর্তারা গতকাল জানান, বৃহস্পতিবার রাতের ভূমিকম্পের পর নতুন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি থেকে কিছু তেজস্ক্রিয় পানি বেরিয়ে পড়েছে। জাপানের পরমাণু ও শিল্প নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, ওনাগাওয়া কেন্দ্রের তিনটি চুল্লির সব কটি থেকে চুল্লির জ্বালানির আধার থেকে তেজস্ক্রিয় তরল ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২ নম্বর চুল্লি থেকে প্রায় চার লিটার তরল কক্ষের মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে।
তবে এটা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির কোনো কারণ হবে না বলে জানায় ওই কেন্দ্রের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি। তারা জানায়, পরিস্থিতি ফুকুশিমা কেন্দ্রের মতো নয়।
ওনাগাওয়া কেন্দ্রটি ফুকুশিমা কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে।
বৃহস্পতিবার রাতের ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎসংযোগ বাইরে থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে পরে আবার তা সচল করা হয়। ভূমিকম্পের পর ফুকুশিমা কেন্দ্র থেকে কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর আবার তাঁরা কাজে যোগ দেন।
ওই কেন্দ্রের ১ নম্বর চুল্লিতে এখন অতিমাত্রায় হাইড্রোজেন তৈরি হচ্ছে। এই হাইড্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকৌশলীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্মীরা সেখানে বাইরে থেকে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে যাচ্ছেন।

লকারবি প্রসঙ্গে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ

লিবিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লকারবি বোমা হামলার তদন্তকারী স্কটিশ পুলিশ। সরকারি কৌঁসুলিদের ধারণা, ১৯৮৮ সালের ওই সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে মুসা কুসার কাছে তথ্য রয়েছে। ওই হামলায় ২৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিল।
লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ উড়িয়ে দেওয়ার সময় মুসা কুসা লিবিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লিবিয়ার একজন নেতার ছেলে দাবি করেন, লকারবি বোমা হামলার ব্যাপারে মুসার কাছে কোনো তথ্য নেই।
লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, লকারবি বোমা হামলার ব্যাপারে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন কোনো কিছু উদ্ঘাটন করতে পারবেন না। ব্রিটিশ ও মার্কিনিরা লকারবির ব্যাপারে জানে। এ বিষয়ে আর গোপন কিছু নেই।
গত সপ্তাহে ব্রিটেনে যান লিবিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুসা। ওই দেশে পৌঁছে তিনি বলেন, কর্নেল গাদ্দাফির সঙ্গে তাঁর আর কাজ করার ইচ্ছে নেই।
গত সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্কটল্যান্ডের পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলিরা মুসা কুসার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মুসা কুসাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। এটা বোঝা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে তাঁর সম্মতি ছিল।

‘লোকে তোমাকে এত ঘৃণা করে কেন বাবা?’

‘লোকে তোমাকে এত ঘৃণা করে কেন বাবা?’—নয় বছর বয়সী ছেলের এমন প্রশ্নে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ছেলের কথায় মনে হয়েছে, তিনি কি এতই খারাপ! যে রাজনীতি করতে এসে নিজের ছেলের মুখে এমন কথা শুনতে হলো, সে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়াই তো ভালো! এমন কথা ভাবতে ভাবতে প্রায়ই রাতে কাঁদতে হয় যাঁকে, তিনি ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নিক ক্লেগ। সম্প্রতি ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত নিউ স্টেটসম্যান সাময়িকীতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি নিজের মুখে এসব কথা স্বীকার করেছেন।
টিউশন ফি বাড়ানোসহ নানা কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলা নিক ক্লেগের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও ব্রিটেনের বিশিষ্ট সমাজকর্মী জেমিমা খান।
এতে ক্লেগ বলেন, তাঁর প্রতি বিরোধী দলের নেতারা একের পর এক যেসব আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তাঁর পারিবারিক ও ব্যক্তিজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি বলেন, তিনিও রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, কোনো পাঞ্চব্যাগ (বক্সিং অনুশীলনের জন্য ব্যবহার্য বিশেষভাবে তৈরি ব্যাগ) নন। তাঁরও ঘর-সংসার আছে।
কিন ক্লেগ বলেন, প্রতিপক্ষের রাজনীতিকেরা তাঁর ওপর যে আক্রমণ করছেন, তার প্রভাব তাঁর পরিবারের ওপর এসে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে আমি যা করছি তা তাদের (পরিবারের সদস্যদের) মনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এমনকি আমার নয় বছর বয়সী ছেলে (অ্যান্টোনিও) আমি যা করছি তা বোঝার চেষ্টা করছে এবং তার নেতিবাচক ধারণা দূর করতে সবকিছু তাকে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হচ্ছে। যেমন সে আমাকে এমন প্রশ্নও করেছে, “ছাত্রছাত্রীরা তোমাকে এত ঘেন্না করে কেন বাবা?”’
নিক বলেন, এসব শুনে তিনি প্রায়ই হাউমাউ করে কাঁদেন। ডেইলি মেইল অনলাইন।

ভারতে আন্না হাজারের ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচির ডাক

ভারতে সরকার দুর্নীতিরোধে লোকপাল (ন্যায়পাল) বিলের খসড়া কমিটি গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রতিবাদে অনশনরত প্রখ্যাত গান্ধীবাদী সমাজকর্মী আন্না হাজারে দেশব্যাপী ‘জেলে ভরো’ (স্বেচ্ছা কারাবরণ) আন্দোলন কমসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। ১৩ এপ্রিল এ কর্মসূচি পালন করা হবে। গত মঙ্গলবার একই দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তরে-মন্তরে হাজারেসহ অন্যান্য নেতারা আমরণ অনশন শুরু করেন।
হাজারের সঙ্গে অনশনরত অন্য নেতারা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল গতকাল তাঁদের লোকপাল বিলের খসড়া কমিটি গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কমিটি হলে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ওই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্না ১৩ এপ্রিল সারা দেশে ‘জেলে ভরো’ আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। গতকাল ছিল তাঁদের অনশনের চতুর্থ দিন।
অনশনরত হাজারে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ জেলে ভরো কর্মসূচিতে যোগদানের মাধ্যমে সরকারকে উচিত শিক্ষা দেবে। এ ছাড়া লোকপাল বিলের প্রস্তাবিত খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান তিনি হবেন না বলেও জানিয়ে দেন।
অনশনরত অন্য নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে আন্না একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি প্রস্তাবিত খসড়া কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সন্তোষ হেজে ও বিচারপতি জি এস ভার্মার নাম প্রস্তাব করেছেন। তবে সরকার ইতিমধ্যে এ নামগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
হাজারে আরও বলেন, দুর্নীতি দমনে যতগুলো সংস্থা কাজ করে, তার সবগুলোই বর্তমানে সরকারের অধীনে। এসব সংস্থার কাছ থেকে কখনোই ইতিবাচক জিনিস আশা করা যায় না। পিটিআই।
হাজারের পাশে কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা: কলকাতা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশনরত আন্না হাজারের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কলকাতার প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, কবি শঙ্খ ঘোষ, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ও নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত।

বিএটিবিসি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইজিএম এবং এজিএম চলতি সপ্তাহে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে।
বিএটিবিসি: বিএটিবিসির এজিএম ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। গত ৭ মার্চ বিএটিবিসি ২০১০ সালের জন্য ৪৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ছিল ১৬ মার্চ। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সম্পদের মূল্য (এনএভি) ১০৪.০১ টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪৭.৯৮ টাকা।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক: মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এজিএম ও ইজিএম ১১ এপ্রিল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ২২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এজিএম ও ইজিএমের রেকর্ড ডেট ছিল ৮ মার্চ। গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪১.০৪ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদের দাম (এনএভি) ছিল ২০৬.৯৩ টাকা।

আইপিএলের জন্য আফ্রিদির আকুতি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দেখতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এলেন মোহালিতে। দুই সরকারপ্রধান পাশাপাশি বসে উপভোগ করলেন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। শোনা যাচ্ছে আগামী জুনে পাকিস্তান সফরে যেতে পারে ভারতের প্রাদেশিক দল পাঞ্জাব। স্পষ্টতই ক্রিকেট-কূটনীতি দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে শুরু করেছে। তাহলে আইপিলে কেন খেলতে পারবেন না পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা? পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তাই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সভাপতিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করলেন।
‘পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলতে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। এই নিয়ে তিন মৌসুম আমরা আইপিএলে খেলতে পারিনি। আমাদের ভারতে খেলতে কোনো সমস্যাই নেই। কারণ মাত্রই তো আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলে এসেছি ভারতে। খুব লাগে এই ভেবে তারা যেন আমাদের অচ্ছুত মনে করে’—কাল বললেন এভাবেই। আইপিএলের প্রথম আসরে আফ্রিদি ছাড়াও খেলেছিলেন শোয়েব আখতার, উমর গুল, মোহাম্মদ হাফিজ, সালমান বাট, ইউনুস খান, সোহেল তানভির, কামরান আকমল, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ আসিফ ও মিসবাহ-উল-হক। মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা খেলতে পারেননি আইপিএলে।

যেন দায় সারছে বাফুফে

বাংলাদেশ লিগের ১২টি দল নিয়ে আগামীকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু দ্বিতীয় স্বাধীনতা কাপ ফুটবল। ছয় বছর পর টুর্নামেন্টটি মাঠে ফেরার ৪৮ ঘণ্টা আগে কাল ফুটবল ভবনে হলো ড্র অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাফুফের সভাপতি তো বটেই, পাঁচ সহসভাপতিও গরহাজির। তাঁদের মধ্যে দুজনের উপস্থিতি ছিল খুবই প্রত্যাশিত—সালাম মুর্শেদি ও কাজী নাবিল আহমেদ।
স্বাধীনতা কাপ হচ্ছে বাংলাদেশ লিগ কমিটির তত্ত্বাবধানে। এর চেয়ারম্যান বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদি বিদেশে। সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৬ পাইওনিয়ার লিগে খেলে তাঁর ছেলের পা ভেঙেছে। চিকিৎসা করাতে তাই বিদেশে গেছেন। কাজী নাবিল কমিটির কো-চেয়ারম্যান, কিন্তু তিনিও অনুপস্থিত।
কিশোর ফুটবলারদের মাঠের ব্যাপারে বাফুফে বরাবরই উদাসীন। কদিন আগে পাইওনিয়ার লিগ হয়েছে কিশোরদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে ওঠা এবড়োখেবড়ো মাঠে। বাফুফে বালুতে মুখ গুজে আছে আর বাজে মাঠে খেলে আজকের কিশোরদের স্বপ্ন শেষ হচ্ছে নীরবে। কর্তারা মাঠে গিয়ে একটু খোঁজ নেওয়ারও দরকার মনে করেন না। এমনকি এখন তো অনুষ্ঠানেও আসার আগ্রহ নেই কর্মকর্তাদের অনেকের।
সাংগঠনিকভাবেও বাফুফেকে এখন গ্রামের ‘একতা সংঘের’ মতো দেখাচ্ছে। স্বাধীনতা কাপের ৪৮ ঘণ্টা আগেও পৃষ্ঠপোষক চূড়ান্ত হয়নি। এত দিন বাফুফে বলেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আগ্রহেই স্বাধীনতা কাপ হচ্ছে এবং সব খরচ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু কাল উল্টো সুর। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিদেশে। রোববার মন্ত্রী এলে চূড়ান্ত হতে পারে, না হলে নাকি বাফুফেই টাকার ব্যবস্থা করবে। দেনাজর্জরিত বাফুফে সম্ভবত আরও দেনায় ডুবতে চলেছে।
স্বাধীনতা কাপ উদ্বোধন করার জন্য একজন অতিথি পর্যন্ত ঠিক করা হয়নি গতকাল পর্যন্ত। ড্র অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লিগ কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদ জানালেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে আয়োজিত টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করার জন্য স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভির মাজহার তান্নাকে চিন্তা করা হচ্ছে। তান্না দেশে নেই, কবে আসবেন বাফুফে জানে না। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, দায় সারতে পারলেই বাঁচে বাফুফে!
তবে শেষ মুহূর্তে একটা ব্যাপার ঠিক হয়েছে—১২ দলকে চার ভাগে ভাগ করে খেলানো হবে ১৪ দিনের টুর্নামেন্টে। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে ৮টি দল! তিন দলের গ্রুপ থেকে দুটি দল শেষ আটে যাওয়া মানে গ্রুপ পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তেমন থাকবে না, যা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বিকেল সাড়ে চারটায় শেখ জামাল-ফরাশগঞ্জ ম্যাচ দিয়ে। কালই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আবাহনী-চট্টগ্রাম মোহামেডান। দলগুলোর জন্য অংশগ্রহণ দুই লাখ টাকা করে। চ্যাম্পিয়নদের ৫ লাখ।
ড্র অনুষ্ঠানে ঘোষণা এল, স্বাধীনতা কাপ এখন থেকে প্রতিবছর হবে। বাফুফের এমন হাজারো প্রতিশ্রুতি উদাসীনতার চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ায় এই ঘোষণাটা অনেকের কাছেই রসিকতা ঠেকল। কোটি টাকার সুপার কাপ একবার হয়েই মুখ থুবড়ে পড়া সর্বশেষ উদাহরণ। এটা নিয়ে এখন নানা অজুহাত আর টালবাহানা চলছে।

আইপিএল: বেঙ্গালুরু হারিয়েছে কোচিকে; রাজস্থান হারিয়েছে ডেকানকে

আইপিএল: বেঙ্গালুরু হারিয়েছে কোচিকে; রাজস্থান হারিয়েছে ডেকানকে

এবারও সিটিসেলে উদ্ধার

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এখন এমনই ‘দুর্দিন’ চলছে যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের স্পনসর খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হতে হয়! টেন্ডার আহ্বান করার পর নির্দিষ্ট সময়ে প্রথমে কোনো দরপত্রই পড়েনি। এরপর একটিকে পাওয়া গেলেও ব্যাটে-বলে হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বিসিবিকে উদ্ধারে আবারও এগিয়ে এসেছে মোবাইল ফোন কোম্পানি সিটিসেল। গত নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের মতো এই সিরিজেরও টাইটেল স্পনসর করছে তারা।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের আনুষ্ঠানিক নাম হতে যাচ্ছে জুম আলট্রা ওয়ানডে সিরিজ। এ জন্য বিসিবিকে কোম্পানিটি দিচ্ছে এক লাখ ডলার। এর মধ্যে আছে তিন ম্যাচের ম্যাচসেরা ও সিরিজ-সেরার পুরস্কারও। প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর স্পন্সরশিপের জন্যও আলোচনা চলছিল সিটিসেলের সঙ্গে।

বাবার ’৮৩, ছেলের ২০১১

১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জয় সেদিনের ১০ বছর বয়সী এক বালককে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই বালকটিই ২৮ বছর পর ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এই নামটিই তাঁর সতীর্থ খেলোয়াড়দের জন্য ছিল জয়ের অনুপ্রেরণা—শচীন টেন্ডুলকার। এই অনুপ্রেরণার উৎসমুখ খুলে দিল নতুন এক প্রজন্মের সামনে। এই প্রজন্মের ঝান্ডা উঠতে পারে শচীনপুত্র অর্জুনের হাতে।
বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা গায়ে মেখেই ভারত মেতে উঠল আইপিএল নিয়ে। এই আইপিএলে খেলতেই টেন্ডুলকার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তাঁর মুম্বাই ইন্ডিয়ানস সতীর্থদের সঙ্গে মিলিত হলেন। সেখানেই বললেন, ভারতের এবারের বিশ্বকাপ জয় তাঁর ছেলে অর্জুনের ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে ছেলে অর্জুনকে ক্রিকেটারই হতে হবে, বাবা টেন্ডুলকারের এমন প্রত্যাশা নেই। ছেলের ওপর প্রত্যাশার ভার তিনি চাপিয়ে দিতে চান না, ‘ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। ২০১১ সালের এই জয় আমার ছেলে অর্জুনের ওপরও বিশাল প্রভাব ফেলবে...তবে আমি ওকে ক্রিকেটার হওয়ার জন্য চাপ দেব না। ওই বেছে নিতে পারবে, ও কী হতে চায়।’
টেন্ডুলকার চাপ না দিলেও ছেলে ইতিমধ্যেই হাঁটতে শুরু করেছে বাবার পথে। এক বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সেই এক অনূর্ধ্ব-১৩ টুর্নামেন্টের হয়ে অভিষেক হয়ে গেছে অর্জুনের। তা ছাড়া সিনিয়র টেন্ডুলকারের সঙ্গে জুনিয়র টেন্ডুলকার প্রায়ই দেখা যায় অনুশীলনের মাঠে।
ছেলের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে টেন্ডুলকারকে বলতে হয়েছে মায়ের প্রসঙ্গেও। বিশ্বকাপ জিতে বীরের বেশে ঘরে ফেরা ছেলেকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন টেন্ডুলকারের মা। টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘যখন আমি বাড়ি ফিরে যাই, মা খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর চোখে ছিল সুখের অশ্রু।’ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেও ভারতীয় ঐতিহ্যমতো বিশ্বকাপজয়ী ছেলেকে মা বরণ করে নেন প্রদীপ জ্বেলে।
আর হোটেলে ফিরলে? শুনুন টেন্ডুলকারের কণ্ঠেই, ‘আমরা যখন হোটেলে ফিরলাম, অজস্র সমর্থক আমাদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে...আমি এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’
‘ভারতীয়রা সংকীর্ণমনা’ পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির মন্তব্য নিয়ে ভারতে তোলপাড়। কিন্তু ওই বিষয়ে প্রশ্ন তাঁর দিকে ছুটে যেতেই টেন্ডুলকার বরাবরের মতোই শান্ত-সৌম্য, ‘এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়...কে একজন কী বলেছে, তার ওপর আমার তো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
টেন্ডুলকারই শুধু কথা বলে যাবেন, তাঁকে নিয়ে কেউ কিছু বলবে না তা কি হয়? বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন টেন্ডুলকার। এবার প্রশংসাবাণী নিয়ে উপস্থিত অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আগামী বিশ্বকাপেও টেন্ডুলকারের খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না, ‘শচীন চিরযুবা। সে অবশ্যই তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষুধাটা দেখিয়েছে। এটা বিরাট ব্যাপার। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আইকন সে। তার পক্ষে যেকোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব।’ সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার, আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ মাইকেল বেভানের কথা, টেন্ডুলকার তাঁর ব্যাটিংটাকে উপভোগ করছেন, ‘দারুণ ব্যাট করছে সে, আর যখন আপনি একটা সফল দলের অংশ হবেন, তখন মুহূর্তটা আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।’

ক্লার্কের উল্কি

বছর কয়েক আগে একবার শোরগোলই ফেলে দিয়েছিলেন। সবার মনেই প্রশ্ন, কী লেখা আছে তাতে? প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। মাইকেল ক্লার্ক তাঁর হাতে যে নতুন উল্কি (ট্যাটু) আঁকালেন, সেটি আরবি ভাষায়। কী লেখা ছিল? রসিক কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, তাতে লেখা একটি নাম—ওসামা বিন লাদেন!
না, পরে জানা গেল, আরবি বাক্যটির মোটামুটি অর্থ হলো: ‘হতাশার যন্ত্রণার কাছে শৃঙ্খলার যন্ত্রণা কিছুই নয়।’ ভাবসম্প্রসারণ: শৃঙ্খলা মানার কষ্ট অনেক। কিন্তু সাফল্য পেতে হলে এই কষ্ট করতেই হবে। কারণ ব্যর্থতার কষ্ট যে তার চেয়েও বেশি। আরেকটি প্রেরণাদায়ী উল্কি আছে তাঁর হাতে আঁকা। এটি লাতিন। অর্থ, ‘দিনটাকে তোমার করে নাও।’ শুধু ‘ইসপীয়’ উল্কিই আঁকিয়েছেন তা নয়। তাতে রোমান্টিকতা, বিরহ-যাতনা ধর্মবিশ্বাস আছে। সাবেক প্রেমিকা লারা বিঙ্গলের নাম আঁকিয়েছিলেন ক্লার্বছর কয়েক আগে একবার শোরগোলই ফেলে দিয়েছিলেন। সবার মনেই প্রশ্ন, কী লেখা আছে তাতে? প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। মাইকেল ক্লার্ক তাঁর হাতে যে নতুন উল্কি (ট্যাটু) আঁকালেন, সেটি আরবি ভাষায়। কী লেখা ছিল? রসিক কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, তাতে লেখা একটি নাম—ওসামা বিন লাদেন!
না, পরে জানা গেল, আরবি বাক্যটির মোটামুটি অর্থ হলো: ‘হতাশার যন্ত্রণার কাছে শৃঙ্খলার যন্ত্রণা কিছুই নয়।’ ভাবসম্প্রসারণ: শৃঙ্খলা মানার কষ্ট অনেক। কিন্তু সাফল্য পেতে হলে এই কষ্ট করতেই হবে। কারণ ব্যর্থতার কষ্ট যে তার চেয়েও বেশি। আরেকটি প্রেরণাদায়ী উল্কি আছে তাঁর হাতে আঁকা। এটি লাতিন। অর্থ, ‘দিনটাকে তোমার করে নাও।’ শুধু ‘ইসপীয়’ উল্কিই আঁকিয়েছেন তা নয়। তাতে রোমান্টিকতা, বিরহ-যাতনা ধর্মবিশ্বাস আছে। সাবেক প্রেমিকা লারা বিঙ্গলের নাম আঁকিয়েছিলেন ক্লার্ক। আছে ডেভিড বেকহামের মতো ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ও।
কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটা উঠলে ক্লার্কের ভেতরের কিশোরটা যেন উঁকি দিল নিমিষেই, ‘হ্যাঁ, আমার বেশ কয়েকটি ট্যাটু আছে। প্রতিটিই আমার কাছে আমার জীবনের একেকটি অংশ। জীবনের ভালো-খারাপ সময়ের স্মৃতি। এর কয়েকটি আমার হূদয়ের খুবই কাছাকাছি। প্রতিটি ট্যাটুই আমার কাছে স্পেশাল।’ক। আছে ডেভিড বেকহামের মতো ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ও।
কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটা উঠলে ক্লার্কের ভেতরের কিশোরটা যেন উঁকি দিল নিমিষেই, ‘হ্যাঁ, আমার বেশ কয়েকটি ট্যাটু আছে। প্রতিটিই আমার কাছে আমার জীবনের একেকটি অংশ। জীবনের ভালো-খারাপ সময়ের স্মৃতি। এর কয়েকটি আমার হূদয়ের খুবই কাছাকাছি। প্রতিটি ট্যাটুই আমার কাছে স্পেশাল।’

পাড় ভাঙার পর পন্টিং

কে দেখে যে কারও মনে হতেই পারে, পন্টিং যেন বাহাদুর শাহ জাফর। সাম্রাজ্য হারিয়ে যিনি কি না শুধুই একজন কবি।
শেষ মুঘল সম্রাটের কাব্যের পরতে পরতে মিশে ছিল বেদনাও। ব্যর্থ সিপাহি বিদ্রোহ শেষে যাঁর নির্বাসিত জীবন কেটেছে রেঙ্গুনে। কিন্তু কাল তপ্ত দুপুরে বিসিবি একাডেমির মাঠে বিষণ্ন পন্টিংকে দেখে ঠিকই আঁচ পাওয়া গেল, এই পন্টিং বেদনার কাব্য লিখতে নয়, তৈরি হচ্ছেন প্রতিশোধ নিতে!
কার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ? নিন্দুক-সমালোচক? না! পন্টিং প্রতিশোধ নিতে চান নিয়তির বিরুদ্ধে। যে নিয়তি আজ তাঁকে প্রায় অচেনা এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে। নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম সাতসকালে ড্রেসিংরুমে গিয়ে পন্টিং উপলব্ধি করবেন, টস করার জন্য আর ডাক পড়ছে না তাঁর! পন্টিং পাল্টা জবাব দিতে চান দুঃসময়কে। যে দুঃসময় তাঁর সাম্রাজ্যের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলেছে একের পর এক রাজ্য।
পন্টিং তাই ধনুকভাঙা পণই যেন করেছেন। দলের সবচেয়ে বয়সী ক্রিকেটার, তার পরও অনুশীলনে তিনিই সবচেয়ে তৎপর। টানা আধঘণ্টার মতো নেটে ব্যাটিং করলেন। একটু বিরতি দিয়ে আবারও। কিশোর নেট বোলারটি ঠিকমতো বল ফেলতে পারছিল না বলে একটু যেন রেগেও গেলেন। নিজেকে শাণিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিতে সামান্য ফাঁকটুকুও বরদাস্ত করতে নারাজ।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব ছাড়া মানে ক্যারিয়ারেরও শেষ—এটা অলিখিত রেওয়াজ। পুরোপুরি নেতৃত্ব ছাড়ার পরও জাতীয় দলে অন্যের অধিনায়কত্বে খেলা সর্বশেষ অস্ট্রেলীয় ছিলেন কিম হিউজ। সেটিও ১৯৮৫ সালের ঘটনা। ৩৬ বছর বয়সী পন্টিংয়ের ক্যারিয়ারেরও অস্ত তাই অনেকেই দেখছেন। তাঁদের একজন কলাম লেখক পিটার রোবাক। রোবাকরা জেনে দুঃখই পাবেন, কাল পন্টিংকে দেখে মনে হলো, যেন তাঁর পুনর্জন্ম হয়েছে।
পুনর্জন্মের কথাটি পন্টিং নিজেই বলেছিলেন অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়। শচীন টেন্ডুলকার যেমন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে, গত দুই বছরে সবচেয়ে সুবর্ণ সময়টা কাটাচ্ছেন; পন্টিংয়েরও আশা, তাঁর পতনোন্মুখ ক্যারিয়ারের ঊর্ধ্বযাত্রা শুরু হবে এখান থেকেই। যে যাত্রা পথের প্রথম মাইলফলক হিসেবে পন্টিং মনে করছেন ভারতের বিপক্ষে তাঁর বিশ্বকাপ সেঞ্চুরিটিকে, আন্তর্জাতিক যে সেঞ্চুরিটি এসেছে ৩৭ ইনিংস পর। পরশু প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৯ রানের ইনিংস খেলা পন্টিং বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঝড় আসছে!
ক্লার্ক-যুগের আনুষ্ঠানিক শুরুর ক্ষণটা আজ তাঁর জন্য তাই মিশ্র অনুভূতির হবে। একদিকে নির্ভার হয়ে খেলার স্বস্তি; অন্যদিকে অধিনায়কের কর্তৃত্বময় ক্রিকেটে হঠাৎ করে পার্শ্বচরিত্র হয়ে যাওয়ার অস্বস্তি। পন্টিং চাইলেও কি আর আগের মতো কর্তৃত্ব নিয়ে বকে দিতে পারবেন কাউকে?
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সর্বকালের সফল ব্যাটসম্যানটি অবশ্য বলেছেন, ছায়া-অধিনায়ক হিসেবে থাকবেন। কাল ক্লার্কও বললেন, ‘রিকির উপদেশ সব সময়ই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। সেটা আমি ওর ডেপুটি থাকার সময়ও যেমন, এখন ওর অধিনায়ক হওয়ার পরও তা-ই। আমি রিকিকে খোলাখুলিই বলেছি, আমার মতো একজন অনভিজ্ঞ অধিনায়কের জন্য ওর বিশাল অভিজ্ঞতা অনেক সাহায্য করবে। মাঠে, মাঠের বাইরে আমাদের সম্পর্ক সব সময়ই দৃঢ় ছিল। আশা করি, সেটা পাল্টাবে না।’
কিন্তু কিছু জিনিস ক্লার্ক না চাইলেও পাল্টাবে। পাল্টাবে সময়ের হাত ধরে। পাল্টাবে পরিস্থিতির দাবিতে। এবং সেই পরিবর্তনের স্রোতে পাড় ভাঙতে ভাঙতে পন্টিং একদিন আবিষ্কার করবেন, জীবনের নদীটা অনেকটাই বাঁক নিয়ে চলে গেছে অন্যদিকে!

ক্লার্কের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া ২৭০

অধিনায়কত্বের পূর্ণ কর্তৃত্ব হাতে পাওয়ার পর প্রথম ম্যাচ। আর তাতেই দারুণ এক শতরান করে অধিনায়কত্বকে উদযাপন করলেন মাইকেল ক্লার্ক। দলের বিপর্যয়ের মুখে ব্যাট হাতে নেমে একেবারে শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলেন এই অসি ব্যাটসম্যান। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়ার আগে স্কোরবোর্ডে তাঁর নামের পাশে লেখা হয়ে গেছে ১০১। অধিনায়কের ব্যাট ভর দিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজেদের ইনিংস শেষে অস্ট্রেলিয়া দাঁড় করিয়েছে ২৭০ রানের ভালো একটি স্কোর।
সকালে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন। দলীয় ১৬ রানে ব্র্যাড হাডিনকে বোল্ড করে পুরো গ্যালারিকে আনন্দে ভাসিয়েছিলেন ইনজুরি থেকে ফেরা মাশরাফি। এরপর পন্টিং ও ওয়াটসন মিলে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দেওয়ার ব্যাটিং শুরু করলেও শফিউল, মুশফিক ও সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে দারুণ এক রান আউটের শিকার হন পন্টিং। এরপর রাজ্জাক ওয়াটসনকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে স্বস্তি ফেরান বাংলাদেশ শিবিরে। দারুণ ফর্মের সাক্ষর রেখে ৩২ বলে ৩৪ রান করেন সদ্যই সাবেক হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ওয়াটসন ছিলেন আরো ভয়ংকর। তিনি ৩২ বলে ৩৭ রান করে ‘ভয়ংকর’ কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।
ওয়াটসন ও পন্টিংয়ের হুমকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশের বোলাররা ইনিংসের মাঝখানে কিছুক্ষণের জন্য হলেও চড়াও হয়েছিলেন অসি ব্যাটসম্যানদের ওপর। ক্যামেরন হোয়াইটকে সোহরাওয়ার্দী ফিরিয়ে ও ছিলেন ইমরুল কায়েসের দুর্দান্ত এক ক্যাচের সহায়তায়। কিন্তু মাইকেল ক্লার্ক অবিচল আস্থার সঙ্গে খেলে বাংলাদেশি বোলারদের সুন্দরভাবেই মোকাবিলা করেন। প্রথমে হোয়াইট ও পরে হাসিকে সঙ্গী করে অস্ট্রেলিয়ার চাপ অনেকটাই হালকা করে দেন। হাসি তাঁর অধিনায়ককে চমত্কার সহায়তা দেন ৩৩ রানের ছোট্ট অথচ কার্যকরী ইনিংস খেলে। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব ধন্যবাদ দিতেই পারে সোহরাওয়ার্দীকে। তিনিই হাসিকে সময়মতো ফিরিয়ে দিয়ে আরো একটি বড় ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটান। হাসি আউট না হলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস হয়তো আরো ওপরে থাকতে পারতো।
বাংলাদেশের বোলাররা আজ একেবারে খারাপ করেন নি। দলের চ্যাম্পিয়ন বোলার ছিলেন সাকিব। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিলেও ছিলেন উইকেট শূন্য। মাশরাফি ২টি, রাজ্জাক ১টি উইকেট পেলেও। উইকেট প্রাপ্তির দিক দিয়ে সবার ওপরে রয়েছেন সোহরাওয়ার্দী। তিনি ৮ ওভার বল করে ৪৪ রান দিয়ে ফিরিয়েছেন ৩ জন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানকে।

সাকিব-তামিমের চ্যালেঞ্জ

ক্রিকেটে কিছু শব্দের ব্যবহার ইদানীং এত বেশি যে শব্দগুলো এর মমার্থই হারিয়ে ফেলছে। যেমন—‘গ্রেট’। এতটাই উচ্চারিত শব্দ যে ‘গ্রেট’ শব্দটি থেকে ‘গ্রেটনেস’ উধাও হওয়ার জোগাড়। আরেকটা যেমন ‘চ্যালেঞ্জ’। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি মুহূর্তই যেন চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মুহূর্ত তাহলে কোনটা? গবেষণার বিষয়। তবে দুজনের জন্য অস্ট্রেলিয়া সিরিজটাকে যদি বলা হয় চ্যালেঞ্জ, একটুও বাড়িয়ে বলা হয় না। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল!
একজন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, আরেকজন তাঁর ডেপুটি। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভূমিকার কারণেও দুজন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি এই দুজনকে নিয়েও। দলকে নিয়ে যেমন, বিশ্বকাপজুড়ে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির টানাপোড়েন চলেছে তাঁদের নিয়েও। সব শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, কারণ সাকিব-তামিম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি!
বিশ্বকাপে প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি দলের প্রায় সবাই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে এই দুজনেরটাই। এই দুজনের কাছেই প্রত্যাশাটা যে সবচেয়ে বেশি ছিল! এ জন্য অবশ্য ‘দায়ী’ তাঁরা দুজনই। প্রত্যাশা তো আর এমনি এমনি আসেনি। তাঁদের দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই ছিল এই প্রত্যাশার উৎস। যে সিরিজটার জন্য বাংলাদেশকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখার শুরু, সেই নিউজিল্যান্ড সিরিজের কথা ভাবুন। সিরিজ শুরুর আগে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি বলেছিলেন, তাঁদের মূল ভাবনা (আসলে দুর্ভাবনা) সাকিবকে নিয়ে। সাকিব কথাটাকে সত্যি প্রমাণে উঠে-পড়ে লেগেছিলেন। চার ম্যাচের দুটিতে ম্যাচসেরা, সিরিজের সর্বোচ্চ রান ও উইকেট, দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসি, ম্যান অব দ্য সিরিজ—নিউজিল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ হলো তো এক সাকিবের হাতেই!
নিউজিল্যান্ড সিরিজে তামিম ছিলেন না। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ও ইংল্যান্ডে তাঁর পারফরম্যান্স, এর আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পারফরম্যান্স, বছর দুয়েক ধরেই তো নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। সব মিলিয়ে সাকিব-তামিমের ভালো খেলা আর বাংলাদেশের ভালো করা যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার কারণ খুঁজতে তাই খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। ৫৮ আর ৭৮-ই সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দেওয়ার কথা। তবে তামিমের জন্য ০, ০ ও ৫; আর সাকিবের জন্য ১৬, ৮, ১...সংখ্যাগুলোও কম বেদনার নয়। এগুলো ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পাঁচালি। ৬ ম্যাচে ৮ উইকেটও খুব একটা খারাপ নয়, কিন্তু তাঁকে নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন যে সাকিব নিজেই!
বিশ্বকাপের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, মানছেন দুজনই। তবে যৌক্তিকভাবেই এ নিয়ে মাথা কুটে মরতেও নারাজ দুই বন্ধু, দুই সহযোদ্ধা। নেতিবাচক ব্যাপারগুলো মাথায় ঢোকাতে চান না কেউই। বরাবরের মতোই লক্ষ্য-টক্ষ্য নিয়ে খুব উচ্চবাচ্য করেন না সাকিব। এবারও তাই, ‘আমি ভালো করলে তো অবশ্যই ভালো। দলের জন্য ভালো, দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো। ব্যক্তিগত লক্ষ্য আমি কখনোই ঠিক করি না, এবারও করিনি। যতটা পারি দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করব। তারপর দেখা যাবে কী হয়। এই তো...।’
তামিম আবার বরাবরই নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে ভালোবাসেন। ব্যাটিংয়ের মতো আক্রমণাত্মক তিনি কাথাবার্তায়ও। লক্ষ্য সাড়ম্বরে জানিয়ে দিতে দ্বিধা নেই। জানিয়ে দিলেন প্রতি সিরিজে যেমন থাকে, তেমনি এই সিরিজেও লক্ষ্য সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়া। দলকে জেতানো।
‘দলের জন্য অবদান রাখা’ বা ‘সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী হওয়া’—লক্ষ্য অর্জন এবার খুব জরুরি। বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে গত বছর দুয়েকে দুজনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। নিজেদের জাতটা সবাইকে আবার একটু মনে করিয়ে দেওয়ার সময় যে হয়ে গেছে!