Saturday, August 30, 2014
স্ত্রীকে এড়াতে!
![]() |
| গ্রেপ্তার চন্দ্র মোহন শর্মা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে সেনা ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
![]() |
| রাহেল শরিফ,ইমরান খান |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউক্রেনে হাজার রুশ সেনা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩০০ সৈন্য হত্যা করেছে আইএস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপহরণের চার বছর পর ভিসি মুক্ত
পাকিস্তানি তালেবান ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পেশোয়ারের ইসলামিয়া কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আজমল খানকে অপহরণ করে। পেশোয়ারের এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে খানকে উদ্ধার করা হয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী গত মধ্য জুনের পর থেকে তালেবান জঙ্গিদের শক্তিশালী ঘাঁটি উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার কুর্দি তরুণের গলা কেটে ভিডিও প্রকাশ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোনাল্ডোর মাথায় মুকুট
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুঞ্জন শুনি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপরাধ ও অপরাধী নিয়ন্ত্রক by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
কিন্তু অপরাধ কেন হয়, অপরাধের মাত্রা কেন বাড়ে, অপরাধী কেন বেপরোয়া হয়, সেই প্রশ্নে তেমন কোনো সময় দেওয়া হয় না। একটা সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে কাকে কী করতে হবে, কোন দায়িত্ব পালন করতে হবে, কোন দিকে নজর দিতে হবে, এসব রকেট-বিজ্ঞানের মতো জটিল কোনো বিষয় নয়, একজন স্কুলছাত্রও উত্তরগুলো বলে দিতে পারে। একবার এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল, যার বিষয়বস্তু ছিল অপরাধ নির্মূল। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছিল অনুষ্ঠানটি। বিতর্কের দুই পক্ষই এমন চমৎকার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করল প্রসঙ্গটির যে শ্রোতাদের বুঝতে বাকি থাকল না, কেন অপরাধ হয় এবং কেন এর মাত্রা ও বিস্তার বাড়ে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীরা যেসব কারণ উল্লেখ করেছিল অপরাধ সংঘটনের, যার কিছু আমি এই লেখায় উল্লেখ করব, সেগুলো নিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ে সরকার, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আমাদের সমাজ। সে জন্য কারণগুলো সামনে এলে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা না করে ঝাড়ু দিয়ে গালিচার নিচে ঢুকিয়ে দিতেই উদ্গ্রীব হয়ে পড়ে সবাই। এক বিতার্কিক সেদিনের এক খবরের কাগজ দেখিয়ে বলল, এক সচ্ছল পরিবারের ছেলে এক গুরুতর অপরাধের দায়ে প্রমাণসহ অভিযুক্ত হলেও সব দোষ চাপানো হলো তার নির্যাতনের শিকার কিশোরীর ওপর। অপরাধটা ছিল ধর্ষণের, যা ওই শিক্ষার্থী তার সৌজন্যের কারণে উল্লেখ করেনি। তার প্রশ্ন ছিল, এই ছেলেটি যে একটি দানব, তা তো পরিবার মেনে নিল, এবং তাকে যে লাইসেন্স দিয়ে দিল, এতে এরপর আরও বড় অপরাধ ঘটাতে সে কি উৎসাহ পেল না?
এ কয়দিন দেশে খুনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো লোমহর্ষক, ঠান্ডা মাথায় করা। এক মসজিদের ইমাম, ইসলাম ধর্ম নিয়ে যিনি কথা বলতেন টিভি চ্যানেলে, তাঁকে গলা কেটে খুন করা হলো। এক বাড়িতে ঢুকে তিনজনকে গুলি করে মারা হলো। সারা দেশে এ কয়দিনে ঘটেছে আরও অনেক খুন, জখম ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা। মিডিয়াতে লেখালেখি ও কথা বলা হচ্ছে। সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিরোধী দল (অর্থাৎ বিএনপি) সরব হয়েছে, বলছে, সরকার খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ সরকার ব্যর্থ। তবে সরকার আগেও বলেছে, ঘরের ভেতর মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এই কথার ভেতর যুক্তি আছে। যেমন যুক্তি আছে নৌমন্ত্রীর কথায় যে পিনাক-৬ উদ্ধার না করতে পারাটা সরকারের ব্যর্থতা নয়। মন্ত্রী একে সাফল্যও বলছেন না, তবে আন্দাজ করি, কিছুদিন হাঁকডাক করে একটা উদ্ধার তৎপরতা যে দেখানো হলো, তা-ই বোধ হয় প্রকৃত সাফল্য। খুনের ব্যাপারেও হাঁকডাক হয়েছে। বলা হয়েছে দ্রুততম সময়ে অপরাধীরা ধরা পড়বে। তবে একটা অপরাধের সুরাহা হলেও ১০টার হয় না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নবজাতক চুরি হওয়ার সাত দিনের মধ্যে র্যাব তাকে উদ্ধার করেছে, কিন্তু গত পাঁচ মাসে যে আরও ছয় নবজাতক চুরি হলো, তাদের খবর কী? মিডিয়া সাগর-রুনি হত্যার প্রসঙ্গ তোলে। ইলিয়াস আলীর অপহরণের প্রসঙ্গ তোলে। আরও অনেক অপরাধের গল্প বলে। কেন সেগুলোর সমাধান হয় না? কেন অপরাধীরা ধরা পড়ে না?
সরকারের দায়টা এখানে আসে। অপরাধ অপ্রতিরোধ্যভাবে কেন হয়, সে প্রশ্নের উত্তরে ওই বিতার্কিকেরা যা বলেছিল, তার সঙ্গে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ যোগ করে বলতে পারি, এর কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, দায়মুক্তির চর্চা, অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, লোভের সংস্কৃতির ব্যাপকতা (যার একটি প্রকাশ দুর্নীতি), উগ্রবাদ, মাদক এসবের প্রভাব ইত্যাদি। অপরাধ হয়, কিন্তু অপরাধীরা ধরা পড়ে না, ধরা পড়লেও তাদের শাস্তি হয় না। এই বিষয়টাই তো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলের প্রধান অন্তরায়। কেন শাস্তি হয় না? কারণ, অপরাধীদের রাজনৈতিক অবস্থান অথবা সংশ্লিষ্টতা। যারা আইনের রক্ষক, তারাই যদি ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়—যেমন ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে এবং অন্য অসংখ্য জায়গায়—তখন অপরাধ আর অপরাধী এক হয়ে যায়।
সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের ভেতরে চলছে মারামারি, সরকারি দল যেসব থামানোর বদলে সহ্য করছে। টেন্ডার-বাণিজ্য চলছে। চলছে নানা অপকর্ম। সরকারদলীয় এক সাংসদের বিরুদ্ধে কাগজে অভিযোগ উঠছে ইয়াবা-বাণিজ্যের। নদী দখল করছেন সরকারদলীয় সাংসদেরা, নদীর মাঝখান দিয়ে কংক্রিটের রাস্তা বানাচ্ছেন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। সরকার নিশ্চুপ। এই নিশ্চুপতা শতবর্ষের। বিএনপি আজ অভিযোগ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, কিন্তু বিএনপি আমলেও চিত্রটা ছিল একই রকমের, কারণ, নিজের দলের অপকর্মের দিকে চোখ বন্ধ রাখাটা পুরোনো চর্চা, যার ধারাবাহিকতাই আমরা এখন দেখছি।
একটা আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করুন—যার ছবিটা ওই স্কুল-বিতার্কিকেরা নিখুঁতভাবে এঁকেছিল—যেখানে সরকার অপরাধের প্রতি শূন্য-সহ্যবোধ বা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজে নামল, যেখানে অপরাধীর একটাই পরিচয় সে অপরাধী এবং রাষ্ট্র পুরো সক্রিয়তা নিয়ে নেমে পড়ল অপরাধ নির্মূলে। সেই রাষ্ট্রে অপরাধের ডগায় নয়, দৃষ্টি যাবে গোড়ায়, যেখানে শিশুরা শিখবে অপরাধকে ঘৃণা করতে, দেখবে তার দৃষ্টান্ত, যেখানে সংস্কৃতির শিক্ষা, আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার শিক্ষা তাদের নিজেদের শক্তি খুঁজে নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা আপন শক্তিতে বিশ্বকে জয় করতে দাঁড়িয়ে যাবে। ওই সংস্কৃতির শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা, অগ্রসর চিন্তা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা সমাজটাকেই বদলে দেবে। সেই সমাজে কোনো ধর্ষক ছেলেকে বাবাই তুলে দেবেন পুলিশের হাতে।
সেই আদর্শ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র হবে তৃণমূলের, সেখানে তরুণেরা কোনো দলের লেজ হয়ে দানবশক্তি নিয়ে সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, বরং সৃজনের শক্তি নিয়ে দেশটা এগিয়ে নিতে পথে নামবে। সেই রাষ্ট্রে উগ্রবাদ কলকে পাবে না, মাদক হেরে যাবে সৃজনশীল আত্মবিকাশের কাছে। অপরাধ একটা এক মাথার দৈত্য না যে ওই মাথাটা কেটে ফেললে অপরাধ নির্মূল হবে। গ্রিক পুরাণের হাইড্রার মতো এর শত মাথা। এই দৈত্যকে শুরুতেই পরাস্ত করতে হবে। বিতর্কের সেই আসরে বসে আমি বুঝেছিলাম, তরুণেরা তা করতে প্রস্তুত, সেই শক্তি অর্জন করতেও তারা প্রস্তুত। প্রস্তুত নয়, ইচ্ছুক নয় শুধু আমাদের রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, আইনের রক্ষকদের ও সমাজের একটি অংশ। এর একটি কারণ, অপরাধ এখন বাণিজ্যও বটে। এই বাণিজ্যে এখন অনেকেরই রমরমা অবস্থা।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রাইত জাগি পাহারা দেই...’ by তুহিন ওয়াদুদ
জিজ্ঞাসা করলাম তারা কেন এখনো অন্যত্র সরে যায়নি। আনোয়ারা নামের এক মধ্যবয়সী নারী জবাব দিলেন, ‘এই ছয় শতক জমি ছাড়া হামার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। রাস্তায় গিয়ে উঠমো সে রকম রাস্তাও নাই। সারা রাইত জাগি পাহারা দেই, কখন নদী ভাঙে। ঘুমাইলে যদি ছাওয়াল ডুবি যায়, সেই ভয়ে ঘুমাই না।’
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা জাহাঙ্গীর আঙুল তুলে দেখাচ্ছিলেন, ‘ওই-ই যে কী যেন একটা ভাসি যায়, ওইখানে হামার বাড়ি আছলো।’ ভাসমান বস্তু দেখে আর একজন বলে, ‘ও রকম করি হামার বাড়িও ভাসি গেইছে।’ একজন অশীতিপর বৃদ্ধ করুণ চোখে তাকাচ্ছিলেন, এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করছিলেন। তাঁর কাছে জানতে পারলাম তাঁদের সব জমিই নদীতে। ছেলেরাও অভাবী, তাঁদের ঠিকমতো খাবার জোটে না, বৃদ্ধের তো নয়ই। একজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁর হাতে এক হাজার টাকা দিয়ে বললেন, কিছু যেন কিনে খান। বৃদ্ধের চোখে বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতার চিহ্ন লক্ষ করলাম। গ্রামের পর গ্রাম ভেঙে যাচ্ছে, মাইলের পর মাইল জমি বন্যায় ডুবে যাচ্ছে। বন্যা প্রতিরোধে না আছে ব্যবস্থা গ্রহণ, না আছে বন্যার্তদের পাশে পর্যাপ্ত সাহায্যের হাত।
বাংলাদেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে প্রতিবছর বন্যা হয়। তার মধ্যে তিস্তা ও যমুনার তীরবর্তী এলাকায় বেশি হয়। যে বন্যা প্রতিবছর হয়, সেই বন্যা প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা সরকারি পর্যায় থেকে গ্রহণ করা হয় না। অথচ এতে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যায়, ভেঙে যায় নদীগর্ভে। কৃষিনির্ভর মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত-বিত্তহীনেরা চরম অসহায় অবস্থায় পতিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে যারা দিনমজুরি খাটতে সংকোচ বোধ করে, তারা চলে যায় ঢাকা-সিলেট-কুমিল্লা-নারায়ণগঞ্জ। সেখানে রিকশা চালায়, দিনমজুরি খাটে। নদীভাঙনে প্রতিবছর কত লাখ মানুষ গৃহহীন হচ্ছে, তার হিসাব আমরা রাখি না। ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির করা মানচিত্রে দেখানো হয়েছে রংপুর বিভাগ সবচেয়ে বেশি দরিদ্র। এর অন্যতম কারণ, প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের গৃহহীন হয়ে পড়া। কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যের হার বেশি হওয়ার প্রধান কারণ তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-ধরলা-দুধকুমারসহ ১৬টি নদীর ভাঙন ও বন্যা। শুধু নদীগুলোর নাব্যতা বাড়ানো গেলে এই দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিরিক্ত বৃষ্টি, বাংলাদেশে ঘনবর্ষণ ইত্যাদি ছাড়াও বন্যার কারণ নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস। তিস্তা ব্যারাজের গেজ রিডার মাহবুবুল ইসলাম বসুনিয়া জানালেন, ‘১৯৯০ সালে যখন তিস্তা ব্যারাজ চালু হয়, তখন ব্যারাজসংলগ্ন এলাকার গভীরতা ছিল ২০-২২ ফুট। এখন সেই গভীরতা অনেক স্থানে মাত্র দুই ফুট থেকে পাঁচ ফুট।’ নদী ভরাট হওয়ার কারণেই সামান্য পানিতেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তিস্তা ব্যারাজের উপসহকারী প্রকৌশলী সুরতুজ্জামান বললেন, ‘এখন যে সামান্য পানির প্রবাহ তাতে নদীর গভীরতা ঠিক থাকলে বন্যা হতো না।’ নদীর প্রতি যত্ন না নেওয়ার কারণেই বন্যা হচ্ছে। খরস্রোতা নদী তিস্তায় প্রতিবছর লাখ লাখ টন বালু জমা হয়, সেই সঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম ভেঙে গিয়ে সেই মাটি ভরাট করে নদীর বুক। নদী যদি নিয়মিত খনন করা হতো তাহলে সামান্য বর্ষণে বন্যা হতো না।
এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়নি। শরতে এবার বন্যা হওয়ার কারণে নতুন করে আর ধান লাগানোর কোনো উপায়ও থাকবে না। বন্যার সময়ে প্রচুর পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। সে জন্য দুর্গত এলাকার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুর্গত মানুষগুলোর সহায়তার পাশাপাশি সরকারের উচিত বন্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আনোয়ারার যাওয়ার জায়গা নেই। যদি তাঁর ঘরটি নদী কেড়ে নেয় তাহলে ছোট ছোট শিশুকে নিয়ে কোথায় উঠেছেন জানি না। এ রকম অসংখ্য পরিবার নদীভাঙনে শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে ফেলছে। চোখের সামনে বাড়িঘর যাদের ভেঙে পড়ে, যাদের জীবন-জীবিকার আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়, তাদের বাঁচার কোনো অবলম্বনই থাকে না। গত কয়েক দিনে খবরের কাগজে কিংবা টিভিতে বন্যাদুর্গত মানুষের ছবি দেখলেও তাদের দুরবস্থা কিছুটা অনুমান করা যায়। প্রথম আলোয় ২৫ আগস্ট আলোকচিত্রী মঈনুল ইসলামের তোলা সে রকম একটি ছবি প্রকাশিত হয়। ছবিতে এক কৃষকের লাগানো ধানখেত ডুবে গেছে। সেই কৃষক পানির নিচে হাত দিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন ধানগাছগুলো বেঁচে আছে না মারা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা কি ওই কৃষকের ক্ষত উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন?
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্তর্জাতিক গুম দিবস ও দেশের শাসনব্যবস্থা by শাহদীন মালিক
বাংলাদেশ মুক্ত ও স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আমরা বেছে নিলাম ‘সংবিধান’ শব্দটা শাসনতন্ত্রের পরিবর্তে। কথা ছিল নির্বাচনে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল দেশ পরিচালনা করবে। তাও শুধু কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাপারে। স্থানীয়ভাবে প্রায় সবকিছু পরিচালনা করবে স্থানীয়ভাবে স্থানীয় জনগণ দ্বারা নির্বাচিত স্থানীয় সরকার। নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা আর কিছু সিটি করপোরেশন আছে। ঢাকায় অর্থাৎ দেশের এক-দশমাংশ নাগরিকের কোনো স্থানীয় সরকার নেই। জেলা পরিষদ নেই। পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো নেই। এসব নির্বাচন হয়নি। পাছে সরকারি দল আবার হেরে যায়।
যেসব নির্বাচিত স্থানীয় সরকার আছে অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ইত্যাদি—সেগুলো প্রায় ঠুঁটো জগন্নাথ। তারা তাদের এলাকা পরিচালনা করে না বা করতে পারে না বললেই চলে। শাসন করেন ইউএনও, ডিসি আর স্থানীয় সাংসদ।
তাই বলছিলাম, দেশ এখন শাসন করা হয়; পরিচালনা করা হয় না। শাসনটাও আরও পাকাপোক্ত করতে আসছে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী। পঞ্চদশ আর ষোড়শ সংশোধনী মিলিয়ে যে অবস্থা দাঁড়াবে, তাতে ভাবতে হবে যে আমরা এখন সংবিধান শব্দটা বাদ দিয়ে ‘শাসনতন্ত্র’তে ফিরে যাব কি না। এ প্রসঙ্গ আরেক দিনের জন্য।
আজকের বিষয় গুম। যাঁরা দেশ পরিচালনা করেন, তাঁদের গুম করতে হয় না। শাসন করতে হলে দেশে গুম হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়, হয় অপহরণ আর নির্যাতন। ৩০ আগস্ট হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম দিবস। ইংরেজিতে এই দিবসের পুরো নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ অর্থাৎ গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের আন্তর্জাতিক দিবস। সাধারণ পরিষদ ২০১১ সাল থেকে এই দিবসটি পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে সব দেশকে।
ঐতিহাসিকভাবে গুমের উৎপত্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে জার্মানির নাৎসি বাহিনী দ্বারা। প্রথমে খোদ জার্মানিতে গুম হওয়া থেকে বাঁচতে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতো লোকেরা জার্মানি ছেড়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যান। আর তারপর ক্রমান্বয়ে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়ার (তৎকালীন) মতো সব বিজিত দেশের লাখো মানুষকে গুম করে এবং পরে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয় ইউরোপের ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা এবং হিটলার নিঃসন্দেহে সর্বকালের সবচেয়ে নিকৃষ্ট গণহত্যাকারী।
পরবর্তী সময়ে সেন্ট্রাল আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে, বিশেষত সামরিক শাসকেরা হাজার হাজার গুম ও গুপ্তহত্যার হোতারূপে আবির্ভূত হন। গুয়াতেমালা, এল সালভাদরের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট দেশ থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের মতো দক্ষিণ আমেরিকার বড় বড় দেশে—গুম, অপহরণ, হত্যা চলেছিল নির্বিচারে ১৯৭০ আর ১৯৮০ এর দশকগুলোতে। কলম্বিয়া, চিলি, নিকারাগুয়া, বলিভিয়া—প্রায় কোনো দেশই বাদ যায়নি শাসকগোষ্ঠীর গুম অভিযান থেকে।
গুম, অর্থাৎ কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মদদে-সহায়তায় ছোট ছোট দলের নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া এবং গোপন স্থানে আটকে রাখা, কাউকে কোনো খবর না দেওয়া বা আটকের ঘটনা অস্বীকার করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অল্প দিন বা অনেক দিন পরে ধরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ পাওয়া। বা কখনোই কোনো খোঁজ না পাওয়া—এসবই হলো বর্বরদের রাষ্ট্র শাসন করার বহুল প্রয়োগ করা পদ্ধতি।
অনেক ক্ষেত্রে গুমের শুরু যুদ্ধাবস্থায় (যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি), গৃহযুদ্ধ বা স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় (১৯৭১ এর বাংলাদেশ, ষাটের দশকের আলজেরিয়া, সত্তরের দশকের অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক—ফিরিস্তি অনেক লম্বা) এবং সামরিক শাসনামলে এবং সর্বশেষ সংস্করণ ‘গণতান্ত্রিক শাসন আমলে’—ভারত (কাশ্মীর, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ইত্যাদি), পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ, অতীতে এবং বর্তমানেও।
গুমের টার্গেট গোষ্ঠী বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন। কিন্তু সার্বিক যুক্তি একটাই—এরা দেশ ও সমাজের জন্য হুমকি, ক্ষতিকারক, ধ্বংসাত্মক। অতএব এদের নির্মূল করা ‘জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য’। এ ধরনের ‘শত্রুরা’ বিচারেরও অযোগ্য। তাদের খতম করলে দেশ ও জাতি বাঁচবে।
খতম করা—গুম, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা—হয়েছে ডজন ডজন দেশে লাখ লাখ মানুষ। দেশোদ্ধার হয়নি। দেশ-সমাজ বর্বর থেকে বর্বরতর হয়েছে। গুম, অপহরণ, হত্যার দশকের পর তিন-চার দশক পেরিয়ে গেছে এল সালভাদর, গুয়াতেমালার। এসব দেশে এখনো সবচেয়ে বেশি খুন হয়। যেখানে খুন বেশি, গুম বেশি।
সহিংসতা বেশি যেখানে, সেখানে (ব্যতিক্রম দু-একটা আছে) শাসকের স্থায়িত্ব তত বেশি। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ মাস দুয়েক আগে তৃতীয়বারের মতো আরও সাত বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। সিরিয়ায় গত তিন বছরে প্রায় দুই লাখ লোক নিহত হয়েছে। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের শাসনামলের বয়স এখন প্রায় ৩০ বছর। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফরে আসা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন নির্বাচিত হচ্ছেন বিপুল ভোটে ক্রমাগতভাবে ১৯৮৫ থেকে।
৩.
সারা বিশ্বের গুমের প্রকোপে উদ্বিগ্ন হয়ে জাতিসংঘ ২০০২ থেকে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে। ইংরেজিতে নাম—ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স। এই আন্তর্জাতিক সনদটা কার্যকর হয়েছে ২১ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে আর ২০১১ থেকে ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশ সনদটি গ্রহণ করেছে, ৯৩টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। বলা বাহুল্য, যেসব রাষ্ট্র গুম করে তারা এই সনদ গ্রহণ করেনি। যেমন, বাংলাদেশ।
৪
যাকে হত্যা করা হয় তার জীবননাশ হয়, তার প্রিয়জনেরা বিধ্বস্ত হয়, দুর্দশাগ্রস্ত হয়, হয় সংকটাপন্ন। ব্যথিত হয়। তবে সত্য হলো, জীবন থেমে থাকে না। রাষ্ট্র সদয় হলে হত্যাকারীর বিচার হয়। শাস্তি হয়।
কিন্তু যে গুম হচ্ছে শুধু সেই যে শিকার হচ্ছে, তা নয়। তার পরিবার-পরিজনও একইভাবে অপরাধের শিকার হয়। দিনের পর দিন মাসের পর মাস তারা জানতে পারে না যে তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে, মানত করে, বছরের পর বছর আশায় বুক বেঁধে থাকে—ছেলে, বাবা, স্বামী, ভাই এবং ক্ষেত্রবিশেষে বোন-স্ত্রী ফিরে আসবে। অনন্ত প্রতীক্ষা।
আন্তর্জাতিক সনদটিতে তাই গুমের শিকার শুধু গুম হওয়া ব্যক্তিটিই নয়, তার প্রিয়জনেরা গুমের শিকার হিসেবে স্বীকৃত।
৩০ আগস্ট—এই আন্তর্জাতিক গুম দিবসে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে আমরা গুমের শিকার আত্মীয়-পরিবারবর্গের কথা শুনব সকাল ১০টা থেকে, ‘স্বজনদের ব্যথা—গুম, খুন, নির্যাতন আর না’ ব্যানারে।
৫
গুম আমাদের ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) বিভিন্ন ধারায় অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ১৯৯৫-এ অপরাধ, সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর অধীনেও অপরাধ, ঘাঁটাঘাঁটি না করে স্মৃতির ওপর ভর করে বলছি—আর্মি অ্যাক্টের ৫১ ধারা অনুযায়ী কোনো সেনাসদস্য যদি কোনো নাগরিককে আটক করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করেন, সেটাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শত শত লোককে যেখানে নির্বিচারে হত্যা, গুম করা হচ্ছে, সেখানে অবশ্য এই ৫১ ধারার কথা বলা হাস্যকর, স্বীকার করছি।
গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ২০০২ (রোম স্টাটুট)-এর অধীনেও অপরাধ। কোনো দেশে যদি এই রোম স্টাটুটের অধীন অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে রোমে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম উহুরু মুগাই কেনিয়াত্তা। তাঁর বাবার নাম জমো কেনিয়াত্তা। বাবা ছিলেন কেনিয়ার স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা, জাতির জনক, প্রথম প্রেসিডেন্ট। জমো কেনিয়াত্তা প্রেসিডেন্ট ছিলেন ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত। ২০১৩ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে তাঁর সুযোগ্য পুত্র উহুরু এখন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট।
তাঁর একটা ছোট্ট কিন্তু আছে। উহুরু এবং তাঁর নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয়ে গণহত্যা, নির্যাতন ইত্যাদি অভিযোগে ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারাধীন। বেচারা ভাইস প্রেসিডেন্ট বেশ কিছুদিন আন্তর্জাতিক আদালতের জেলে ছিলেন। এখন জামিনে থেকে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান বিচারক বাংলাদেশে এসেছিলেন কয়েক মাস আগে। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছিল। রোমের সে আদালত কেনিয়া থেকে অনেক দূর, বাংলাদেশ থেকেও।
গুম, খুন আর অপহরণ আর না। মানুষ মেরে সমস্যার সমাধান হবে—এই চিন্তা শুধু পশুরাই করতে পারে। আমরা মানুষ।
পশুদের নিবৃত্ত করতে এই সনদটা আমাদের দরকার। সনদটা অনুস্বাক্ষর করে সংসদে অনুমোদন করে চলুন আমরা ঘোষণা দিই যে নাৎসি জার্মানি বা তার অনুসারীদের মতো আমরা দেশ শাসন করব না। আমরা সভ্য-গণতান্ত্রিক দেশ পরিচালনা করব। স্বজনদের ব্যথা শুনব আর উপলব্ধি করব কেন গুম, খুন, নির্যাতন আর না।
ড. শাহদীন মালিক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট, অধ্যাপক ও পরিচালক স্কুল অব ল, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 30
(11)
- স্ত্রীকে এড়াতে!
- পাকিস্তানে সেনা ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
- ইউক্রেনে হাজার রুশ সেনা
- ৩০০ সৈন্য হত্যা করেছে আইএস
- অপহরণের চার বছর পর ভিসি মুক্ত
- এবার কুর্দি তরুণের গলা কেটে ভিডিও প্রকাশ
- রোনাল্ডোর মাথায় মুকুট
- গুঞ্জন শুনি
- অপরাধ ও অপরাধী নিয়ন্ত্রক by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- ‘রাইত জাগি পাহারা দেই...’ by তুহিন ওয়াদুদ
- আন্তর্জাতিক গুম দিবস ও দেশের শাসনব্যবস্থা by শাহদী...
-
▼
Aug 30
(11)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






