Saturday, October 3, 2009

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সোনিয়ার নাম সুপারিশ

কংগ্রেসের সভানেত্রী ও ভারতের শাসক জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীকে শান্তিতে নোবেল পদক দেওয়ার জন্য নোবেল শান্তি কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে ভারতের বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন। একই সঙ্গে এ সুপারিশ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকেও করা হয়েছে।
ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শান্তির বাতাবরণ তৈরি করার লড়াইয়ে এখনো সোনিয়া গান্ধী নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে ওই সব সংগঠন।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের বৈঠক

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরানকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা গোপনে পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে না। তবে ইরানের প্রতি নতুন কোনো অবরোধ আরোপের হুমকি দেওয়া হবে না বলেও জানান তাঁরা। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনার জন্য ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান মার্কিন প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির শীর্ষ পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী সাইদ জালালি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জানতে চান।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, টেলিফোনের মাধ্যমেও ওই বৈঠক হতে পারে। ওবামা প্রশাসন নতুন অবরোধ আরোপের হুমকি দেবে না। চাপ দেওয়ার জন্য নয়, বরং সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্যই এই আলোচনা।
জেনেভার কাছে একটি ভিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথম কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান হাভিয়ার সোলানা। এর পরই বক্তব্য দেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা উইলিয়াম বার্নস। সোলানার মুখপাত্র ক্রিস্টিনা গ্যালাশ বলেন, আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী। কিন্তু এ জন্য আগে পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেহরানকে পরিষ্কার করে সবকিছু জানাতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান সহযোগিতা না করলে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছেন তাঁরা। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বার্নস জালালির সঙ্গে তাঁরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তেমন আগ্রহী নন। তবে তাঁরা এ ধরনের বৈঠকের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
এদিকে বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন হুঁশিয়ারি দেন, ইরান পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে সহযোগিতা না করলে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়ে যাবে এবং তারা আরও একঘরে হয়ে পড়বে। তবে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্দ কুচনার আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান সহযোগিতা করবে এবং এর মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক অবরোধ এড়াতে পারবে। চীন ও রাশিয়া ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করে আসছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান মোহাম্মদ এলবারাদি বলেছেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র চালু করার খবর জানিয়ে আইন ভেঙেছে তেহরান। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান আলী আকবর সালেহি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ শিগগিরই ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শনের জন্য আইএইএর পর্যবেক্ষকদের দিনক্ষণ জানিয়ে দেবে।

সমাজতন্ত্রই পারে চীনকে রক্ষা করতে

চীন গতকাল বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে কমিউনিস্ট শাসনের ৬০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে। জমকালো প্রদর্শনী ও বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তারা দিবসটি উদ্যাপন করেছে। প্রথা অনুযায়ী এবারও তারা নতুন কিছু আধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও কয়েক দশকে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চীনের পুনর্জন্মের উচ্চপ্রশংসা করে বলেছেন, ‘একমাত্র সমাজতন্ত্রই পারে চীনকে রক্ষা করতে।’
জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ করা হয় রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে। এখানেই ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দেশটির কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং গণচীনের ঘোষণা দেন।
হাজার হাজার সেনাসদস্য বর্ণাঢ্য কুজকাওয়াজে অংশ নেন। যুদ্ধবিমানগুলো বেইজিংয়ের আকাশে প্রদর্শনী মহড়া দেয়। এরপর সেনাবাহিনী আন্তমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আরও অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করে।
প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও অনুষ্ঠান মঞ্চে মাও সে তুংয়ের বিখ্যাত কলার উঁচু কালো রঙের কোট পরে হাজির হন। তিনি তাঁর ভাষণে কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসা করে বলেন, ‘৬০ বছরে চীনের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এটাই প্রমাণ করে যে একমাত্র সমাজতন্ত্রই পারে চীনকে রক্ষা করতে। এই ছয় দশকের সফলতা আরও প্রমাণ করে যে সংস্কার ও উদারতাই পারে চীনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক চীন আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’
প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে বেইজিংসহ দেশটির বিভিন্ন শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। নজীরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে। কড়া নিরাপত্তার কারণে গত বুধবার থেকেই বেইজিং কার্যত অবরুদ্ধ নগরে পরিণত হয়। রাজধানীতে প্রবেশের সব সড়কে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি। নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি কয়েক লাখ স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করা হয়।
বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি প্রায় দুই লাখ লোক অংশ নেন। রৌদ্রজ্জ্বল আকাশের নিচে তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজে চীনের দূরপাল্লার শক্তিধর ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। চীনের নিজেদের তৈরি বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে চীন বিশ্বকে এটাই জানান দিয়েছে যে তারা অস্ত্রের জন্য এখন আর বিদেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের পরই সামরিক শক্তির প্রদর্শন করা হয়।
সেনাসদস্যদের পাশাপাশি কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ কুচকাওয়াজে অংশ নেন। গোলাপি রঙের পোশাকে কয়েক হাজার নারী বাদ্যযন্ত্রের ছন্দে ছন্দে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। পরে আরও কয়েক হাজার নারী বর্ণিল হাতপাখা, রং-বেরঙের ফিতা আর ফুলের তোড়া নিয়ে নানা কসরত করে দর্শকদের আনন্দ দেন।
চীনের তারকা খেলোয়াড় অ্যাথলেট লিউ জিয়াং, সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট চ্যাম্পিয়ন লি নিং সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় দর্শকেরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানায়। মাও সে তুং থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও পর্যন্ত সব চীনা নেতার বিশালাকার প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ৮০ হাজার শিশু উপস্থিত ছিল। তাদের সবার হাতে বিভিন্ন লেখাসংবলিত প্লাকার্ড ছিল।
বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠান দেখতে ৩০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনাদের টেলিভিশনের পর্দায় অনুষ্ঠান দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে। এমনকি বেইজিংয়ের এক কোটি ৭০ লাখ নাগরিকও এ অনুষ্ঠান সরাসরি দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
গতকাল দুপুরের দিকে কুচকাওয়াজ শেষ হয়। কিন্তু তখনো বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। কারণ বিকেলেই তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় আকর্ষণীয় এক আতশবাজির প্রদর্শনী হয়।

আফগানিস্তান বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের বৈঠক

আফগানিস্তান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এ বৈঠকে আফগানিস্তানে আরও সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা কয়েক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত প্রধান মার্কিন সেনা কমান্ডার জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন যে আরও সেনা না পাঠালে আফগানিস্তান অভিযান ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও ৪০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেনারেল স্ট্যানলি আফগানিস্তান থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ওবামা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

দুর্নীতির মামলায় পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরির কারাদণ্ড

দুর্নীতির দায়ে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরিকে (৭১) ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সে দেশের একটি আদালত। গত বুধবার রাজধানী লিমার একটি আদালত এ রায় দেন। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চতুর্থ ও সর্বশেষ মামলার রায় এটি। নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাভোগ করছেন তিনি।
এর আগে হত্যা ও অপহরণ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়ার অপরাধে গত এপ্রিলে ফুজিমোরিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন পেরুর আদালত। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ অপব্যবহারের আরেকটি মামলায় জুলাই মাসে তাঁকে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় বর্তমানে ছয় বছরের সাজা খাটছেন তিনি। ওই অপরাধে ২০০৭ সালে দোষী প্রমাণিত হন ফুজিমোরি।

নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকি আগামী জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন একটি ব্যাপকভিত্তিক রাজনৈতিক জোট গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য বাগদাদে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী ও উপজাতি নেতার সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
নতুন এ জোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের ৪০টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রয়েছে। এর আগে গত আগস্টে ক্ষমতাসীন শিয়া জোট থেকে বের হয়ে আসেন শিয়া নেতা মালিকি। নতুন এ জোটেরও নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
মালিকি বলেন, নতুন এ জোট আধুনিক ইরাক পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ার জন্য হবে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এ জোটে সব ইরাকির প্রতিনিধি রয়েছেন। এ জোট কোনো নির্দিষ্ট একটি দল বা সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব করবে না। নতুন জোট গড়ার ক্ষেত্রে মালিকিকে সমর্থন জানিয়েছেন শিয়া নেতা তেলমন্ত্রী হোসেন আল শাহরিস্তানিসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, কুর্দি, খ্রিষ্টান ও তুর্কি প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ইরাকে সর্বশেষ ২০০৫ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ২৭৫ আসনের মধ্যে শিয়া-সমর্থিত দলগুলো ১২৮ আসনে জয়ী হয়।

ইয়েমেন ও সোমালিয়া এখন আল-কায়েদার নতুন ঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পিছু হটে আল-কায়েদা বর্তমানে ইয়েমেনকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইয়েমেনে আল-কায়েদার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এখন হুমকির সম্মুখীন। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা গত বুধবার এ কথা বলেন।
সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কেন্দ্রের মহাপরিচালক মাইকেল লিটার বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে অব্যাহত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আল-কায়েদা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ অভিযান ত্বরান্বিত হওয়ায় আল-কায়েদার এত দিনের ঘাঁটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ তাদের জন্য নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। সে কারণে তারা ইয়েমেনের মাটিতে তাদের কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইয়েমেনে আল-কায়েদার অব্যাহত উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মাইকেল লিটার আরও বলেন, ইয়েমেনে আল-কায়েদার শক্তি বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। গত আগস্টে সৌদি আরবের সন্ত্রাসবিরোধী কমান্ডার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ওপর বোমা হামলার পরিকল্পনা ইয়েমেনে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই হামলায় নায়েফ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
আল-কায়েদা বর্তমানে ইয়েমেন ছাড়াও সোমালিয়ার ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী ‘শেবাব’-এর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলে নানা রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা করছে বলে মাইকেল লিটার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শেবাব সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণদের তাদের দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য নানা প্রলোভন দেখিয়ে যাচ্ছে। যেসব সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ সোমালিয়াতে বিভিন্ন কাজে যাচ্ছে, তাদের সোমালিয়ার জাতীয় স্বার্থের কথা বলে বিভ্রান্ত করে শেবাব দলভুক্ত করার চেষ্টা করছে।
আল-কায়েদা ইয়েমেন, সোমালিয়া ছাড়াও আফ্রিকার মালি, মৌরিতানিয়া প্রভৃতি দেশে নতুন নতুন ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনের আহ্বান গিনির জান্তাপ্রধানের

গিনির জান্তা সরকারের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন মুসা দাদিস কামারা একটি অন্তর্বর্তী জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক দিন পর গত বুধবার তিনি এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া গত সোমবারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
ক্যাপ্টেন দাদিস কামারা আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারবিরোধীরা রাজধানী কনাক্রিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে সামরিক বাহিনীর গুলিতে দেড় শর বেশি মানুষ নিহত হয়। ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর নিন্দা জানায়। দাদিস কামারা বুধবার থেকে দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জান্তা সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য একজন বিচক্ষণ আফ্রিকান প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কামারা। তিনি আগামী জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত একটি জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল ও এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে কামারা বলেন, ‘সেনাসদস্যরা আমাকে জিম্মি করে ফেলে। তারা আমাকে হুমকি দেয়, আমি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালে তারা ক্ষমতা নেবে। রাজনৈতিক নেতাদের দাবি অনুযায়ী আমি আজই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা দুই দিনও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।’
এদিকে আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবেন না—এমন ঘোষণা দেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন কামারাকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। এ ছাড়া সোমবারের হত্যাযজ্ঞে জড়িত জান্তা সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গিনির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্স দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে এবং উন্নয়ন-সহায়তাও বন্ধ করার কথা ভাবছে।

সুনামিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামির আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সুনামির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত সামোয়া দ্বীপে বড় ধরনের ত্রাণ তত্পরতা শুরু করা হয়েছে। এদিকে সুনামি-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে লুটপাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
উদ্ধার কর্মকর্তারা বলেছেন, ওষুধ, খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সহায়তা নিয়ে সামোয়া ও আমেরিকান সামোয়ার উদ্দেশে বিমান রওনা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ফলে সৃৃষ্ট এই সুনামিতে ভেসে যাওয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা সামোয়ায় জরুরি দল পাঠাচ্ছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সামোয়ায় নিহত হয়েছে অন্তত ১১০ জন, আমেরিকান সামোয়ায় প্রাণ হারিয়েছে ৩১ জন এবং টোঙ্গাতে সাতজন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটকও রয়েছে; এদের মধ্যে চারজন অস্ট্রেলীয়, দুজন কোরীয়, নিউজিল্যান্ডের একজন এবং এক ব্রিটিশ শিশু।
সামোয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, গ্রামের পর গ্রাম বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, মাটির সঙ্গে মিশে গেছে বাড়িঘর; এমনকি গাছের ঢালে গাড়ি ঝুলতেও দেখা গেছে।
সুনামি-দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে এক লাখ ৫০ হাজার ইউরো সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গৃহহারা মানুষের জন্য তাঁবু স্থাপন করেছে রেডক্রস। সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি মর্মাহত। অন্যদিকে আমেরিকান সামোয়ার গভর্নর বলেছেন, সুনামির প্রভাব সবাইকে স্পর্শ করবে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে এই বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে কেউ রক্ষা পেতে যাচ্ছে।’
এদিকে সুনামি-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে লুটপাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকান সামোয়ার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, পাগো পাগোতে লুটপাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, লুটপাটকারীরা দোকান থেকে সিগারেট ও মদ নিয়ে যাচ্ছে। তবে বেশি লুটপাট হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। সামোয়া থেকেও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের জন্য সহায়তা তিন গুণ করল যুক্তরাষ্ট্র

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাতে এবং ইসলামি জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানের জন্য সহায়তা তিন গুণ করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রবল উত্সাহে ৭৫০ কোটি ডলারের ওই প্যাকেজে সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
স্কুল নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই প্যাকেজকে দীর্ঘমেয়াদি একটি বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
ভোটাভুটির পর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পরাজিত করার জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, সমর্থন ও সামর্থ্য অর্জনে পাকিস্তানকে সহায়তা করবে এই বিল।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান যথেষ্ট ব্যবস্থা নেবে না কিংবা এই প্যাকেজের ভার বহন করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র—কয়েকজন আইনপ্রণেতার এই উদ্বেগ সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়।
আইনটির প্রণেতা হাওয়ার্ড বারম্যান বলেন, আল-কায়েদা অথবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল কিংবা অন্য কোনো অঞ্চলে অবাধে কার্যক্রম চালাতে দিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকিস্বরূপ। পাকিস্তান রাষ্ট্র অথবা দেশটির পরমাণু অস্ত্র তালেবানের হাতে পড়ুক, সেটাও হতে দিতে পারেন না তাঁরা।
বিলটি কংগ্রেসে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এর আগে গত সপ্তাহে সিনেটে সর্বসম্মতভাবে বিলটি পাস হয়।
বিলে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, নিজ মাটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পাকিস্তান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেবে না।
কংগ্রেসে ভারতের বলিষ্ঠ সমর্থক গ্যারি অ্যাকারম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তান সরকার এখনো নয়াদিল্লিকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করে এবং আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য অ্যাকারম্যান বলেন, এই সহায়তা প্রস্তাব যৌথ অংশীদারির কোনো পরিকল্পনা নয়।
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডানা রোহরাবাচের অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তান এখনো ইসলামি জঙ্গিবাদকে সমর্থন দিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সাহায্য ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়বে।

ইমামগঞ্জে আইডিএলসির এসএমই বুথ উদ্বোধন

পুরান ঢাকার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রস্থল ইমামগঞ্জে সম্প্রতি আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের দ্বিতীয় এসএমই বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আইডিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ইয়ংবক যো এসএমই বুথটির উদ্বোধন করেন। এ সময় আইডিএলসির ডিএমডি আরিফ খান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এইচ এম জিয়াউল হক খান, এসএমই বিভাগের প্রধান জাহিদ ইবনে হাই, পুরান ঢাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিশ্বের কিছু ব্যাংকের নতুন জোট গঠন

বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিশ্বের কয়েকটি ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি নতুন জোট গঠিত হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের বার্ষিক বৈঠকে এসব ব্যাংক নৈতিকতার ভিত্তিতে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুস’ নামের এই জোট গঠন করেছে।
নতুন এই জোটের অন্যতম সদস্য-ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক প্রথম কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও পরিবেশসংক্রান্ত শোরব্যাংক, বিশ্বের বৃহত্তম ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক গ্রুপের ব্র্যাক ব্যাংক এবং চলতি বছরে ইউরোপের সেরা স্থিতিশীল ব্যাংক ট্রায়োডস।
এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে নেদারল্যান্ডে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও স্থিতিশীল ১১টি ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন নেটওয়ার্ক আত্মপ্রকাশ করে। এই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলো ২০টি দেশের ৭০ লাখেরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়ে চলেছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ব্যালান্স শিটে অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। ঢাকায় ব্র্যাক ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ডাচ্ এথিক্যাল ব্যাংক ট্রায়োডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার বম এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকগুলোর এই সমঝোতা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরির নিশ্চিত সম্ভাবনা জাগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ২৫ কোটি ডলারের একটি বাড়তি পুঁজি তৈরি করব আমরা। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলার।’
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘বিশ্ব বিপর্যয়ের সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মকৌশল অবলম্বন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার মতো সামর্থ্য এই ব্যাংকগুলোর আছে। সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সেবা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেও এই সমঝোতা দারুণ কাজে আসবে।’

কুমিল্লায় স্কয়ারের বিক্রয় সম্মেলন

কুমিল্লায় স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ত্রৈমাসিক বিক্রয় সম্মেলন-২০০৯ গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) ড. আখতার হামিদ খান মিলনায়তনে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘কোম্পানির শীতকালীন উপহার কর্মসূচি সফল করতে হবে। এ জন্য কর্মীদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কোম্পানির বিপণন বিভাগের প্রধান মালিক মোহাম্মদ সাঈদ।
সম্মেলনে কোম্পানির চট্টগ্রাম অঞ্চলের তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, মাইজদী, ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, বিশ্বনাথ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪০ জন বিক্রয়কর্মী যোগ দেন।

তিন মাসের মধ্যে সব জেলায় শেয়ারবাজারের কার্যক্রম

আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে ন্যূনতম একটি ব্রোকার হাউসের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ ছাড়া অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ উপজেলাগুলোতেও ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম চালু করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রকিবুর রহমান এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় সব কটি বিভাগীয় শহরে ও বেশ কিছু জেলায় ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম রয়েছে। এর পরও অনেক জেলার মানুষ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে না। তাই ডিএসইর কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি আবদুল হক ও আবদুল্লাহ বোখারী।
রকিবুর রহমান বলেন, গ্রামীণফোনের প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) চাঁদা গ্রহণ শুরু হলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে এক ধরনের গুজব ছিল। কিন্তু বাস্তবে সে ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি, বরং উল্টো সূচক বেড়েছে। এতে প্রমাণিত হয়, বাজারের গভীরতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

গভীর মন্দার পর বিশ্ব অর্থনীতি এখন আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে এই পুনরুদ্ধারের গতিটা অনেক ধীর।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি ১ দশমিক ১০ শতাংশ হারে সংকুচিত হলেও আগামী বছর অর্থাত্ ২০১০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।
মূলত এশিয়ার, বিশেষত চীন ও ভারতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির হারই বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করছে আইএমএফ।
এই আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করেছে যথাক্রমে সাড়ে ৮ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা আগামী বছর হবে যথাক্রমে ৯ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপকভিত্তিক ও সমন্বিত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে এই হস্তক্ষেপ একদিকে চাহিদা বাড়াতে কাজ করেছে, অন্যদিকে আর্থিক বাজারের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করেছে।
তবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করতে হবে—এ মন্তব্য করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক খাত এখনো নাজুক রয়ে গেছে। আর তাই বিশ্ব অর্থনীতি আগের জায়গায় ফিরতে সময় লাগবে।
আইএমএফ বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তিনটি অস্থায়ী উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে, যেগুলো একপর্যায়ে আর থাকবে না। এগুলো হলো—সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমর্থন এবং সম্পদ কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের পুনর্ভরণ।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভার ব্লানচার্ড বলেন, ‘পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে। আর্থিক বাজারগুলোর ক্ষতও সেরে উঠছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এখন যেসব সূচক দেখা যাচ্ছে, তাতে যদি সরকারগুলো মনে করে যে সংকট শেষ হয়ে গেছে, তাহলে তা হবে বোকামি।
আইএমএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোকে এখন অধিক পরিমাণ অর্থ মজুদ হিসেবে ধরে রাখতে হচ্ছে, যা ২০০৯ সালের বাকি সময়টায় এবং ২০১০ সালেও ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দেবে।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ার পরিণতিতে বিনিয়োগ কমে যাবে, যা আবার চাহিদাও কমিয়ে দেবে।
বিশ্ব অর্থনীতির গতিময়তা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্য ও বিশ্ববাণিজ্য বাড়তে শুরু করেছে বলে আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমএফ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১০ সালে বিশ্বের দ্রুততম অর্থনীতি হবে সিঙ্গাপুর। দেশটির প্রবৃদ্ধির হার হবে চার দশমিক ১০ শতাংশ। এরপর পর্যায়ক্রমে থাকবে তাইওয়ান, স্লোভেকিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকং।
পাশাপাশি আইএমএফ এও বলেছে যে উন্নত বিশ্বে ব্যক্তিখাতের চাহিদা এখনো অনেক দুর্বল।
বাংলাদেশ: আইএমএফের হিসাব অনুসারে চলতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর প্রবৃদ্ধির এই হার আগামী বছরও অপরিবর্তিত থাকবে বলে মনে করছে আইএমএফ।
অন্যদিকে এ বছর মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ হলেও ২০১০ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ হতে পারে বলে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে।

ইউসিবিসহ লেনদেন স্থগিত থাকা ৪৮ কোম্পানি ওটিসি বাজারে যাচ্ছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ (ইউসিবি) লেনদেন স্থগিত থাকা ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল মৌলভিত্তির ৪৮টি কোম্পানিকে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ বা ওটিসি বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া জেড শ্রেণীভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের ঋণসুবিধা না দেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুধু তাই নয়, নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে তালিকাভুক্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না। এমনকি কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলেও ঋণসুবিধা বন্ধ থাকবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভাশেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সমস্যাকবলিত কোম্পানিগুলোকে মূল বাজার থেকে সরিয়ে ফেলতেই ওটিসি বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ এসব কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন মূল বাজারকে প্রায়ই অস্থিতিশীল করে তোলে।’
আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া আরও জানান, দু-এক দিনের মধ্যেই কোম্পানিগুলোকে ওটিসি বাজারে নিয়ে যেতে আদেশ জারি করা হবে।
এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত ৬ সেপ্টেম্বর অনেক ঘটা করে ওটিসি বাজার চালু করা হয়। এ সময় বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত কোম্পানির কাগজের শেয়ার ওটিসি বাজারে লেনদেন হবে। কিন্তু তালিকাচ্যুত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগেরই আর কোনো অস্তিত্ব না থাকায় ওটিসি বাজারের ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রথম দিন থেকেই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে লেনদেন স্থগিত হওয়া কোম্পানিগুলোকেও ওটিসি বাজারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিচালকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে আদালতে মামলা থাকায় এসইসির পরামর্শে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রায় বছর দুয়েক ইউসিবির লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিয়োগ আটকে গেছে। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে পরিচালকদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এ অবস্থায় পরিচালকদের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতেই কাগজে শেয়ার না হওয়া সত্ত্বেও ইউসিবিকে ওটিসিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এসইসির সূত্র জানিয়েছে। ওটিসি বাজারে এ কোম্পানিটির শেয়ার বিশেষ ব্যবস্থায় লেনদেন হবে।
জেড কোম্পানির শেয়ারে ঋণসুবিধা বন্ধ করা প্রসঙ্গে আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত করতেই এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি এসইসির একটি বড় দায়িত্ব।
আনোয়ারুল কবীর বলেন, যেসব কোম্পানির শ্রেণী পরিবর্তন হবে (অর্থাত্ ‘এ’ শ্রেণী থেকে ‘জেড’ শ্রেণী বা ‘জেড’ শ্রেণী থেকে ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণীতে পরিবর্তন), সেসব কোম্পানির বিপরীতেও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই তাঁরা একটি পৃথক মার্জিন রুল প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন।
এইসির বৈঠকে প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) অকৃতকার্য আবেদনের টাকা সরাসরি আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিজ দায়িত্বে এ কাজ করবে। গ্রামীণফোনের আইপিও থেকেই বিনিয়োগকারীরা এ সুবিধা পাবেন। আবেদনের টাকা ফেরত পেতে বিনিয়োগকারীদের নানামুখী হয়রানি কমাতেই এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে।
ম্যারিকো লেনদেন: এদিকে সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এসইসির পরিচালক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক ইকবাল হোসেন ও রাকিবুর রহমান।

লেনদেন স্থগিত থাকা কোম্পানি
আল আমিন কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ, আশরাফ টেক্সটাইলস, বাংলাদেশ কেমিক্যালস, বিডি ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, বাংলাদেশ জিপার, এক্সেলসিউর সু, গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস, জিএমজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন, ম্যাক এন্টারপ্রাইজেস, ম্যাক পেপার, মেটালেক্স করপোরেশন, মিতা টেক্সটাইল, মডার্ন সিমেন্ট, পদ্মা প্রিন্টার্স, কাশেম টেক্সটাইল, রহমান কেমিক্যালস, রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস, রোজ হেভেন বল পেন, সজীব নিটওয়্যার, সোনালি পেপার, শ্রীপুর টেক্সটাইল, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস, ওয়াটা কেমিক্যালস, আরবি টেক্সটাইল, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার, বেঙ্গল ফাইন সিরামিকস, ঈগল স্টার, লেক্সকো, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ফিনিক্স লেদার, টিউলিপ ডেইরি, বায়োনিক সি ফুড, মোনা ফুড, আনাম সি ফুড, কাশেম সিল্ক, এম হোসেন গার্মেন্টস, সালেহ কার্পেট, ডায়নামিক টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি, পারফিউম কেমিক্যালস, বাংলাদেশ লাগেজ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রভৃতি।

যুব বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপ ফুটবলে নেই গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছে শিরোপার দিকে। ‘ই’ গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে তারা শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে। গত তিন দিনে ব্রাজিল, চেক প্রজাতন্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১০টি দল উঠে গেছে শেষ ষোলোতে।
‘ই’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিল কোস্টারিকাকে হারায় ৫-০ গোলে, আর চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৭ সালের ফাইনালিস্ট সেই চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে পরশু গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোতে উত্তরণ। এক জয় ও এক ড্রয়ে এই দুদলেরই পয়েন্ট চার।
‘এফ’ গ্রুপে হন্ডুরাস প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হারায় হাঙ্গেরিকে। তবে পরের ম্যাচেই ওই হাঙ্গেরিই ৪-০ গোলে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। আর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা সংযুক্ত আরব আমিরাত পরের ম্যাচে হন্ডুরাসকে ১-০ গোলে হারিয়ে পৌঁছেছে শেষ ষোলোতে। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আরব আমিরাত। ওয়েবসাইট।

কাল থেকে শুরু জাতীয় টেনিস

রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে আগামীকাল শুরু হচ্ছে অ্যানলিন জাতীয় টেনিস প্রতিযোগিতা। পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা একক, মহিলা দ্বৈত, বালক একক অনূর্ধ্ব-১৪ বছর এবং পুরুষ দ্বৈত ঊর্ধ্ব ৪৫ বছর—এই ছয় ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ২৩টি ক্লাবের মোট ২১৪ জন খেলোয়াড়। আগামী ৯ অক্টোবর ফাইনাল।
খেলোয়াড়দের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি শাহরিয়ার আলম ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ মল্লিক প্রমুখ।

সব সাঁতারুকে পেয়ে খুশি কোচ পার্ক

আগের দিনই সাঁতারের কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন বলেছিলেন, অনুশীলনে তিনি তাঁর সব ছেলেকে অবিলম্বে পেতে চান একসঙ্গে। আসন্ন এসএ গেমস উপলক্ষে মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে কাল ১৯ জন সাঁতারুকেই অনুশীলন করিয়েছেন তিনি। অনেক নাটকের পর সেনাবাহিনীর ৫ জন সাঁতারু ফিরে আসায় কোচকে বেশ উত্ফুল্লই মনে হয়েছে কাল।
এসএ গেমসের জন্য জাতীয় সাঁতার ক্যাম্পে পরশু যোগ দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সাঁতারু শাজাহান আলী রনি, দেবব্রত মণ্ডল, কামাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও হাসান আলী। সেনাবাহিনীর ৮ সাঁতারুর ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছেন লাভলী খাতুন। উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ক্যাম্পের দুই সাঁতারু রয়েছেন চীনে। কাল তাই নতুন পাঁচজনসহ মোট ১৯ জন সাঁতারু অনুশীলন করেছেন মিরপুর সুইমিং পুলে। বেশ জোরেশোরেই দুবেলা করে অনুশীলন করাচ্ছেন কোচ পার্ক। কোরিয়া থেকে আনা স্নোরকোন, কিকবোর্ড, বয়া, পুলিং রাবারসহ আরও অনেক উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে অনুশীলন করানো হচ্ছে তাঁদের।

ধোনির কণ্ঠে হতাশা

৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ২১ মিনিট পর্যন্তও বেঁচে ছিল ভারতের আশা। সেঞ্চুরিয়নে ৩১.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৪০ থেকে ৪৫.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া হয়ে গেল ৮ উইকেটে ১৮৭। জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২৯ রানে অলআউট করে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের চোখ তখন টিভির পর্দায়। দুই ওপেনার দিনেশ কার্তিক ও গৌতম গম্ভীর যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে ভারত, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৮ বলে ৬ রান। শেষ বলে ১ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন নাথান হরিজ। আর বাকি সময়টুকু ভগ্নহূদয় নিয়েই ব্যাটিং করে যেতে হয় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়টি হয়ে থাকল শুধুই সান্ত্বনার জয়।
পরে ব্যাটিং করলে ফাইনালে উঠার লক্ষ্যটা যথাযথভাবে জানা যাবে, টস জিতে তাই বোলিং নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। টুর্নামেন্টে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ভারতীয় বোলাররা এদিন ফিরে পেয়েছিলেন নিজেদের। ৩টি করে উইকেট নেন নতুন বলের দুই বোলার আশীষ নেহরা ও প্রাভিন কুমার, অফ স্পিনার হরভজন সিং ২টি। উইকেট তালিকায় এদিন অপ্রত্যাশিত এক নামও ছিল। কার্তিকের হাতে কিপিং গ্লাভস তুলে দিয়ে ইনিংসের ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন ধোনি নিজেই। প্রথম দুই বলে চার, তৃতীয় বলে রান নেই, পরের বলেই দারুণ এক অফ কাটারে প্লেড অন ট্রাভিস ডাওলিন। এর আগে টেস্টে দুই ওভার বল করেছিলেন, তবে ওয়ানডেতে এদিনই প্রথম বল হাতে নিলেন ভারত অধিনায়ক।
১২ রানের মধ্যে গম্ভীর (৬) ও রাহুল দ্রাবিড়কে (৪) আউট করে আগের ম্যাচগুলোর মতোই লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তৃতীয় উইকেটে দিনেশ কার্তিক (৩৪) ও বিরাট কোহলির (৭৯*) ৯২ রানের জুটি নিশ্চিত করে ভারতের সহজ জয়। তবে প্রথম পর্ব থেকেই দেশে ফিরে যেতে হওয়ায় হতাশ ধোনির মুখে হাসি ফেরাতে পারেনি এমন জয়ও। ভারত অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে না পারার আক্ষেপ, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। ওই হারটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৃষ্টিতে ভেসে গেল। তবে পুরো টুর্নামেন্টেই আমরা প্রচুর ভুল করেছি। আমাদের বোলাররা ব্যাটসম্যানদের প্রচুর জায়গা দিয়েছে, আর ফিল্ডিংটা আরও ভালো হতে পারত।’ একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাবও বোধ করেছেন ভারত অধিনায়ক, ‘অস্ট্রেলিয়া এত শক্তিশালী কারণ মিচেল জনসন ও ব্রেট লির মতো বোলাররাও ভালো ব্যাটিং করে। আমাদের একজন পেসার দরকার, যে ব্যাটিংটাও করতে পারে।’
হতাশার মধ্যেও একটা ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন ধোনি, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাচ্ছে তারা! ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

অলক-নাফীসদের ফেরার লিগ

কোনো নাটকীয়তা নেই। নেই কোনো উত্তেজনা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সম্মেলনকক্ষে দলবদলের শেষ দিনে বিকেএসপির খেলোয়াড়েরা নাম নিবন্ধন করতে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন নিজেদের। তাঁদের দলবদল শেষ হতে না-হতেই ঢুকলেন অলক কাপালি, নাজিমউদ্দিন, শাহরিয়ার নাফীস ও ফরহাদ রেজারা। আইসিএল-ফেরত এসব ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেন গাজী ট্যাংকে নাম লিখিয়ে।
আশরাফুল মোহামেডানে চলে যাওয়ায় অলক কাপালিকে দেওয়া হয়েছে গাজী ট্যাংকের অধিনায়কের দায়িত্ব, ডেপুটি নাজিমুদ্দিন। অলক-নাফীসদের বাইরে মিথুন আলী, সোহ্রাওয়ার্দী, নাঈম ইসলাম, জিয়াউর রহমান, নাজমুল হোসেন ও আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে শক্তিশালী দলই গড়েছে গাজী ট্যাংক।
জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে আইসিএল-ফেরত শাহরিয়ার বলেছেন, ‘আমি জানি, এখন জাতীয় দলে ফেরাটা কঠিন। তার পরও পারফর্ম করে আবার দলে ফিরতে চাই।’ আইসিএলের অভিজ্ঞতা এখানেও কাজে লাগাতে চান এই বাঁহাতি ওপেনার। আইসিএলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান অলক কাপালিরও একই লক্ষ্য, ‘আমি আইসিএলে যেমন পারফরম্যান্স করেছি আশা করি এবার ঘরোয়া ক্রিকেটেও সে রকম খেলতে পারব। এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলে ফেরা আমার জন্য সহজ হবে।’ জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ফরহাদও, ‘আবার যখন সুযোগ পেয়েছি সেটা অবশ্যই কাজে লাগাব। রাজশাহীতে আমার অনুশীলনে অনেক সাহায্য করেছেন শামীম স্যার, খালেদ মাসুদ ভাই। এখন একটাই কাজ—নিজেকে প্রমাণ করা।’
আরেক আইসিএল ক্রিকেটার নাজিমুদ্দিনের কথায় মিশে থাকল এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে না পারার হতাশা, ‘আমরা দেশের ক্রিকেটকে মিস করেছি। তবে এখন আবার মূল ধারায় ফিরে এসে ভালো লাগছে। এত দিন কোনো ম্যাচ না খেললেও অনুশীলনের মধ্যে থেকে ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করি, প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলে আবারও দলে ফিরতে পারব।’
দলবদলের শেষ দিনে ওল্ড ডিওএইচএসে নাম লিখিয়েছেন জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন। মাত্র ৪ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়ায় হতাশ হলেও জানালেন দেশের পেসারদের একটা ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা, ‘আগামী বছর যাতে আরও বেশি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হতে পারি সেজন্য সব পেসার মিলে সোচ্চার হব।’ গতকাল দলবদল করা ২৮ ক্রিকেটারসহ তিন দিনে প্রিমিয়ার লিগের মোট ১১৯ ক্রিকেটার দলবদল করলেন। দলবদলের ভিড়ে কাল দেখা গেছে পপসম্রাট আজম খানকেও। তাঁর দল গোপীবাগ ফ্রেন্ডসের ২৫ জন ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করেছে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে।

আরেক অভিষেকের অপেক্ষায় সালাউদ্দিন

দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) সভাপতি গণেশ থাপা আসবেন সবার শেষে। তিনি পৌঁছাবেন আগামীকাল বিকেল ৫টায়। ওইদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে শুরু সাফ কংগ্রেস। গতকাল থেকেই কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আসতে শুরু করেছেন ঢাকায়। আজ আসবেন সদস্য অন্য ছয় দেশের প্রতিনিধি।
সরে যেতেই হচ্ছে গণেশ থাপাকে কিন্তু কার হাতে দায়িত্ব সঁপে দেবেন নেপালের ওই ফুটবল কর্মকর্তা? সম্ভবত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের হাতে। সবকিছুই ঠিকঠাক। শুধু সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়াটাই বাকি। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় দেশের মঞ্চ ছাড়িয়ে প্রশাসক হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন আরও বিস্তৃত জায়গায়। দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বোচ্চ চেয়ারে। কালই কেউ কেউ আগাম অভিনন্দন জানাতে চাইলেন সালাউদ্দিনকে। কিন্তু তাঁর প্রত্যাশা আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন, ‘না, না ওটা কংগ্রেস হয়ে যাওয়ার পরই হোক।’
সাফের জন্ম এক যুগেরও বেশি আগে। কিন্তু এটি এখনো গতিশীল উপ-আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। সভাপতি হতে পারলে সালাউদ্দিন একে অন্যরকম একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে প্রত্যয় জানালেন, ‘এটা হবে অন্যরকম কমিটি। এটা হবে ফুটবলের কমিটি। রাজনৈতিক কমিটি নয়। এটা এই অঞ্চলের ফুটবলের জন্য কাজ করবে, ফুটবল নিয়ে কাজ করবে।’
বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা বসছেন সাফের শীর্ষাসনে। কিন্তু সাফ থেকে আরেকজনের প্রস্থানও দেখা যাবে একই সঙ্গে—বাফুফের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ ৯ বছর সাফের সম্পাদক হিসেবে গণেশ থাপার সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। দারুণ জুটি, কিন্তু এই অঞ্চলের ফুটবলে রেখাপাত করার মতো কোনো কীর্তি তাঁরা রেখে যেতে পারেননি।

দুদিন পেছাল সাফ ফুটবল

দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) আর কোনো সদস্য দেশের যে কৃতিত্ব নেই, সেটি হাতে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয়বারের মতো সাফ ফুটবলের আয়োজক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০০৩—এর আয়োজক। বাংলাদেশের মাঠেই হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ সাফ ফুটবল, ২০০৯। আবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী আয়োজন স্বত্ব পাওয়ার কথা ছিল নেপালের। কিন্তু সাফের বিপণন সংস্থা নেপালের ব্যাপারে অনাগ্রহী থাকায় ‘আকর্ষণীয় বাজার’ ভারত নির্বাচিত হয়েছিল বিকল্প ভেন্যু। কিন্তু দুই চিরবৈরী প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিল এই টুর্নামেন্ট। এটি আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল মূলত ২-১২ ডিসেম্বর। কিন্তু ঈদুল আজহা পড়ে যাওয়ায় পেছাতে হয়েছে সময়সূচি। কাল সেই সূচি বদলের ঘোষণাই দিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বাংলাদেশে ষষ্ঠ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ হবে ৪-১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।’
টুর্নামেন্টের সময়সূচি ঠিক হয়েছে। আগামীকাল জানা যাবে আয়োজক বাংলাদেশ ৮ দলের প্রতিযোগিতায় কোন গ্রুপে পড়বে। রাজধানীর একটি হোটেলে আগামীকাল দুপুরে ড্র অনুষ্ঠান। এই ড্রয়ে দলগুলোকে কীভাবে বাছাই করা হয়েছে সেটি খুলে বলতে চাননি সুদীর্ঘ ৯ বছর সাফ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সিরাজুল ইসলাম। তবে আভাস এ রকম, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ এবং আয়োজক বাংলাদেশকে দুই গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই সম্ভবত দেখা যাবে। বাংলাদেশ সহজ গ্রুপে পড়বে, না কঠিন গ্রুপে? ব্যাপারটা বাংলাদেশের জন্য ‘যাহা বায়ান্ন তাহাই তেপ্পান্ন’। ফিফা ও এএফসি র্যাঙ্কিংয়ে ভারত, মালদ্বীপ আর শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য সাফল্যের সোনালি চূড়াটা অনেক উঁচুতে।
মূল ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। তবে ঢাকার বাইরে একটি-দুটি ম্যাচ আয়োজন করা যায় কি না সেই সিদ্ধান্তটি হবে সাফের কংগ্রেসে। আগামীকাল ঢাকাতেই হবে সাফের কংগ্রেস।
তবে এটা ঠিক, আয়োজনের তীব্র ঝলকানি দিয়ে বাংলাদেশ সাফল্যের ওই চূড়াটাই ছুঁতে চায়। সালাউদ্দিন বললেন, ‘বাংলাদেশে সাফ ফুটবল আনতে চেষ্টা করে সফল হয়েছি। এখন এটির সফল আয়োজনের মাধ্যমে এএফসির কাছে ভবিষ্যতে আরও টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জোরাল করতে চাই।’ চারদিক ভরে উঠবে ফুটবলের আলোয়, স্টেডিয়ামে স্রোত বইবে জনতার—এই সাফল্যকেই তাহলে পাখির চোখ করবে বাফুফে? ২০০৩ সালে ঘরের মাঠের আয়োজন দক্ষিণ এশীয় ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়েছিল বাংলাদেশকে, এবারও কি তারা সেই আকাঙ্ক্ষায় নামবে না বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এলাকার ফুটবল-যুদ্ধে?
প্রশ্নটা বাফুফে সভাপতির সপ্রতিভ মুখখানিকে একটু অপ্রস্তুত করল। কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়, ‘নিপুণ ডজ’ খেলে গেল তাঁর কণ্ঠে, ‘গতবার ৮ দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিলাম। এবার অবশ্যই ভালো করতে চাইব। নিজেদের মাটিতে এর আগেও সর্বোচ্চ সাফল্য আমরা পেয়েছি। এবারও পেতেই পারি।’
কিন্তু বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি কি আশাজাগানিয়া? সালাউদ্দিন আশাবাদী, ‘অফ সিজনে আমরা দলকে অনুশীলনের মধ্যে রেখেছি। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়েরা যে যথেষ্ট ফিট এবং ভালো অবস্থায় আছে তার প্রমাণ চলমান ফেডারেশন কাপে পাচ্ছি। এই টুর্নামেন্টটা তাদের জন্য আরও সহায়ক হবে। তারা তো খেলার মধ্যেই থাকবে।’
বিদেশি কোচ না থাকলে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল-শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় ওঠে না। ১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফ গেমস ও ২০০৩ সাফ ফুটবলে এই ঘটনা পরম্পরার জন্ম দিয়েছিলেন সামির শাকির এবং জর্জ কোটান। সাফ গেমসটা বাদ দিন। যেটি আসল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হয়ে উঠল, সেখানে সাফল্যের যোগসূত্র গড়ে উঠেছে নিজেদের মাঠ আর বিদেশি কোচ কোটানের যুগলবন্দিতে। এবারও এটা তো একটা ঘটনাচক্র যে, ব্রাজিলীয় কোচ ডিডো তাঁর সেনাদের নিয়ে নামবেন দেশের মাঠেই। সুতরাং আপাত একটা নির্লিপ্তির মধ্যেই দেশের ফুটবল-সাফল্যের স্বপ্ন আঁকছে আগামী সাফ ফুটবলে। সপারিষদ সংবাদ সম্মেলনে সেই স্বপ্নের কথাই বলে গেলেন সালাউদ্দিন।

আইসিসির উদীয়মান সিডল

অস্ট্রেলীয় পেসার পিটার সিডল জিতে নিলেন আইসিসির এ বছরের বর্ষসেরা উদীয়মান পুরস্কার। আর শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান তিলকরত্নে দিলশান হয়েছেন বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়। কাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় অন্যান্য শ্রেণীতে পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। গত বছরের ১৩ অক্টোবর থেকে এ বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই ঠিক করা হয়েছে আইসিসির ষষ্ঠ বর্ষসেরা পুরস্কারের আটটি শ্রেণীতে মনোনীত খেলোয়াড়দের নাম।

মান্না দে পেলেন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে পেলেন সম্মানজনক ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার-২০০৭। ভারতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোনো শিল্পীকে সে দেশের সরকার এই গৌরবময় পুরস্কার দিয়ে থাকে।
খাঁটি ধ্রুপদী থেকে রোমান্টিক গানে অসাধারণ দখল মান্না দের। বিরহের গানে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তাঁর দরদি গলা আর আবেগময় কথার গান উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি সাড়ে তিন হাজারের বেশি গান গেয়েছেন ।
বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে বহু গান তিনি গেয়েছেন। এসবের অধিকাংশই হয়েছে সুপারহিট। এসব গান এখনো ফিরছে ভক্তদের মুখে মুখে। ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় হিন্দি ও বাংলা সিনেমার জগত্ শাসন করেছেন মান্না দে, মুকেশ, মোহাম্মদ রফি ও কিশোর কুমার। তাঁরা কখনো এককভাবে, কখনো কোরাস গান করেছেন। সংগীতজগতের দিকপাল শিল্পী মান্না দে এর আগে ভারতের অত্যন্ত সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার লাভ করেন।

মোল্লা ওমর পাকিস্তানে নেই: তালেবান কমান্ডার

তালেবানের একজন কমান্ডার বলেছেন, তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর পাকিস্তানে নেই। পাকিস্তানে পাইলটবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতা বাড়ানোর অজুহাত সৃষ্টির জন্যই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, মোল্লা ওমর পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন।
তালেবান কমান্ডার হায়াতুল্লাহ খান টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তালেবানের গোটা নেতৃত্ব আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আফগানিস্তানের চেয়ে পাকিস্তানে আমাদের বেশি সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুতরাং মোল্লা ওমরসহ সব নেতাই আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন।’
হায়াতুল্লাহ খান দাবি করেন, তিনি আফগানিস্তান থেকে কথা বলছেন, যদিও সুনির্দিষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
চলতি সপ্তাহে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা বলেছে, পাকিস্তানের শহর কোয়েটার আশপাশের নিরাপদ অবস্থান থেকে মোল্লা ওমর ও তাঁর সহযোগীদের আফগানিস্তানে হামলা চালানোর ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
হায়াতুল্লাহ খান বলেন, বেলুচিস্তানে পাইলটবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতা বাড়ানোর অজুহাত সৃষ্টি করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি করছে। রয়টার্স অনলাইন।

অধিকাংশ দক্ষিণ কোরীয়র বিশ্বাস, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করবে না

অধিকাংশ দক্ষিণ কোরীয় মনে করেন, উত্তর কোরিয়া কখনো পরমাণু অস্ত্র পরিহার করবে না। বিশ্বনেতারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে যতই তোড়জোড় করুন, তারা ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। গতকাল বুধবার প্রকাশিত দক্ষিণ কোরিয়ার এক জরিপের ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের ৪০ শতাংশ মনে করেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ও আণবিক বোমা কর্মসূচি উভয়ই অব্যাহত। আর ৪৮ শতাংশ মনে করেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে, তবে ইতিমধ্যে যেসব অস্ত্র তৈরি করেছে সেগুলো তারা ধ্বংস করবে না। আট দশমিক পাঁচ শতাংশ মনে করেন, উত্তর কোরিয়া চূড়ান্তভাবে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করবে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের জাতীয় একত্রীকরণ উপদেষ্টা কাউন্সিলের অধীনের একটি বেসরকারি সংস্থা এ জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে এক হাজার নয়জন লোকের মতামত নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জন নাগরিকের নয়জন মনে করেন, উত্তর কোরিয়া কখনোই পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে না।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩ শতাংশ লোক উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য হুমকি মনে করছেন। আর ৬০ শতাংশ দক্ষিণ কোরীয়র বিশ্বাস, পিয়ংইয়ং ভবিষ্যতে যুদ্ধের জন্য সিউলকে উসকানি দিতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়াকে ছয় জাতি আলোচনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ২০০৩ সালে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। উত্তর কোরিয়া গত এপ্রিলে দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মে মাসে আণবিক অস্ত্র পরীক্ষার পর জাতিসংঘ এর তীব্র সমালেচনা করে। জাতিসংঘের ওই পদক্ষেপের পরই উত্তর কোরিয়া ছয় জাতি আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে। পিয়ংইয়ং জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার তত্পরতা থেকে মনে হচ্ছে, তারা মিত্রদের আপত্তি সত্ত্বেও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে চায়।

আনুষ্ঠানিকভাবে বামফ্রন্ট সরকারের ইস্তফা দাবি করলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ এনে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট সরকারের আনুষ্ঠানিক ইস্তফা দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার দলের নিজস্ব রাজ্য কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। হুমকির মুখে মানুষের নিরাপত্তা। প্রতিদিন মরছে মানুষ। সিপিএমের সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। নির্বাচনে বারবার পরাজিত হওয়ায় নৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে সিপিএম। লোকসভা নির্বাচনের পর তাদের সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৭০ জন দলীয় নেতা-কর্মী। তাই এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। এই সরকারের দ্রুত ইস্তফা দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, এই সরকারের পতনের লক্ষ্যে শিগগিরই শুরু হচ্ছে রাজ্যব্যাপী আন্দোলন। এই লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে চলবে থানা ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘট ও সভা-সমাবেশ।
মমতা আরও বলেন, তিনি দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রাজ্য সরকারকে ভেঙে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাবেন।
১৯৭৭ সাল থেকে একটানা শাসন-ক্ষমতায় থাকলেও প্রথম ধাক্কা খায় বামফ্রন্ট ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। সেই আঘাত সইতে না সইতেই দ্বিতীয় ধাক্কা আসে এ বছরের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে। তৃতীয় ধাক্কা আসে এ বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি পৌরসভা নির্বাচনে। আর সর্বশেষ ধাক্কা খায় গত মাসের শিলিগুড়ি পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে।

‘জেনেভা বৈঠকের ফলাফলে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংকট নিরসনের উদ্দেশে জেনেভায় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের আলোচনায় যা-ই ঘটুক না কেন, তাতে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আলোচকেরা চাইলে নিশ্চিতভাবেই যেকোনো নীতি গ্রহণ করতে পারেন। তবে আমরা তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হব না।’ কট্টরপন্থী এই প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ফার্স এ কথা জানায়।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যেকোনো অবস্থার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছে ইরান এবং ইরানি জাতি গত ৩০ বছরে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে।
ইরানের নতুন ইউরেনিয়াম শোধনাগারে প্রবেশাধিকার দাবি করায় বিশ্বনেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।
তিনি বলেন, ওই দেশগুলোর নেতারা নতুন শোধনাগার সম্পর্কে মন্তব্য করে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন। প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা বলা হয়।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও ইরানকে কী করতে হবে, সেটা বলার তাঁরা কে?’
উল্লেখ্য, তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের প্রধান আলোচক সায়িদ জলিলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

কলমের দাম সাড়ে ১৭ লাখ রুপি!

একটি কলমের দাম সাড়ে ১৭ লাখ রুপি! চমকে ওঠার মতোই খবর। হ্যাঁ, ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মরণে স্মারক হিসেবে সোনায় মোড়ানো এই কলম তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক কলম উত্পাদনকারী সংস্থা মঁ ব্লাঁ। কলম তৈরির এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘থিম মহাত্মা’।
১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে ডান্ডি অভিযান করেছিলেন গান্ধী। ২৪১ মাইল পায়ে হেঁটেছিলেন তিনি। এই ঘটনা স্মরণে তৈরি করা হয়েছে তিন ধরনের কলম। প্রথম মডেলটির নাম, ‘মহাত্মা গান্ধী লিমিটেড এডিশন’। মূল্য এখনো ধার্য করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দিল্লিতে সংস্থার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা। দ্বিতীয় মডেলটির নাম ‘২৪১ মাইল’। মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৪ লাখ রুপি। তৃতীয় মডেলটির নাম ‘মহাত্মা গান্ধী লিমিটেড এডিশন-৩০০০’। এই মডেলে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের কলম। ফাউন্টেন পেন ও রোলার বলপেন। ফাউন্টেন পেনটির দাম ধার্য হয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ রুপি আর রোলার বলপেনের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১৫ লাখ রুপি। এসব কলম কিনতে হলে অর্ডার দিতে হবে সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটে।

ধর্ম রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার

বিশ্বের প্রাচীন ধর্মগুলোর একটি জরাথুস্ট্র। কালক্রমে জরাথুস্ট্র প্রবর্তিত ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। আগামী ৪০ বছরের মধ্যে এই ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বর্তমান সংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাচীন এই ধর্মকে রক্ষা করতে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে ভারতীয় পার্সিরা।
ওয়েবসাইট, ব্লগ, অনলাইন ডিরেক্টরি ও ম্যাচমেকিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরস্পরের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তিন হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো এই ধর্মের অনুসারীরা।
মুম্বাইয়ে একটি কম্পিউটার কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মালিক ইয়াজদি তন্ত্র। তিনি বলেন, ‘পার্সিরা এমন একটি সম্প্রদায়, যার কোনো সীমানা নেই। বিশ্বজুড়েই আছি আমরা।’ বিশ্বের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পার্সি মুম্বাইয়ে বাস করে।
তন্ত্র বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি আছে, তাই আমরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছি। আমাদের সংখ্যা খুবই ছোট। যদি কোনো প্রযুক্তি না থাকত, তাহলে আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারতাম না। প্রযুক্তি আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত রেখেছে।’
বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন তন্ত্র। ওয়েবসাইটগুলোর একটি হচ্ছে জোরাস্ট্রিয়ানস ডট নেট। এই ওয়েবসাইটে নবজাতক পার্সি শিশুর জন্য নাম ও ঐতিহ্যবাহী পার্সি খাবারের তালিকা থেকে শুরু করে কী নেই? পার্সি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে সাইটটি।
ইয়াজদি তন্ত্র বলেন, নিছক মজা করার উদ্দেশে ও পার্সিদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের জন্য তিন বছর আগে সাইটটি চালু করা হয়। কিন্তু ভারত ও বিশ্বজুড়ে একটি অনলাইন কমিউনিটি গড়ে তোলে সাইটটি। তন্ত্র বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইট প্রচুর মানুষকে সংযুক্ত করছে।’
পার্সিয়ানা ম্যাগাজিনের সম্পাদক জেহাঙ্গির প্যাটেল বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন মাত্র ৯০ হাজার পার্সি রয়েছে। নিম্ন জন্মহার, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বিয়ে এবং দেশান্তরের কারণে পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
২০০১ সালে ভারতের সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে পার্সি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৭০ হাজারের নিচে।
জনসংখ্যাতাত্ত্বিকদের মতে, ২০৫১ সালের মধ্যে পার্সিদের সংখ্যা নেমে আসবে ৩২ হাজারের নিচে। জন্মহার গবেষণার ভিত্তিতে তাঁরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রদায় রক্ষায় এগিয়ে এসেছে প্রভাবশালী বোম্বে পার্সি পঞ্চায়েত গভর্নিং কাউন্সিল। তরুণদের জন্য একটি শাখা চালু করেছে সংগঠনটি। তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য চালু করা হয়েছে ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটিকে ‘ফেইসবুক ফর পার্সিস’ হিসেবে অভিহিত করছে তারা।
কাউন্সিলের ট্রাস্টি খোজেস্তি মিস্ত্রি বলেন, এতে তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ উত্সাহিত হবে এবং সামাজিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা সঙ্গী খুঁজে নেবে। ফলস্বরূপ তারা নিজ সম্প্রদায়ের ভেতরেই বিয়ে করবে।
প্যাটেল বলেন, ‘সংখ্যালঘু হিসেবে আমরা পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে চাই। প্রায় শতকরা ৩৩ ভাগ পার্সি নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে বিয়ে করেছে। এখন মানুষ কত দিন তাদের পার্সি হিসেবে বিবেচনা করবে এবং সম্প্রদায় হিসেবে কত দিন আমাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে, সেটা দেখার বিষয়।’
কোনো পার্সি নারী অন্য কোনো সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করলে তাঁকে পার্সি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক চলছে। পুরোনো ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসীরা বলছে, তারা সম্প্রদায়ের বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে সংস্কারবাদীদের মতে, সম্প্রদায় বাঁচাতে হলে তাদের পার্সি হিসেবে বিবেচনা করতেই হবে।
পার্সিদের একত্র রাখার জন্য যে ওয়েবসাইটগুলো চালু রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য পার্সিডিরেক্টরি ডট কম এবং পার্সিখবর ডট নেট। পার্সিখবর ডট নেট ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করেন মুম্বাইয়ের স্থপতি আরজান স্যাম। তিনি জানান, তাঁর ওয়েবসাইটের অর্ধেক গ্রাহকই ভারতের বাইরের।

ফিলিস্তিনের ২০ নারীকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল!

ইসরায়েল ২০ জন ফিলিস্তিনি নারীকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে। তবে এ জন্য হামাসের হাতে বন্দী ইসরায়েলি এক সেনার ভিডিও ফুটেজ চেয়েছে তারা। এ ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ইসরায়েল সরকার নিশ্চিত হতে চায়, ওই সেনা জীবিত আছেন কি না। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরই ফিলিস্তিনি নারীদের মুক্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার এ খবর বলা হয়েছে। খবর এএফপির।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আটক ও বন্দী ২০ জন ফিলিস্তিনি নারীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বিনিময়ে হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতের শারীরিক অবস্থার ওপর সর্বশেষ ভিডিও ফুটেজ তাদের দেওয়া হবে। এই ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ওই সেনার বেঁচে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই ফিলিস্তিনি নারীদের মুক্তি দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মিসর ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাস নেতাদের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছে। হামাস এই চুক্তির কথা স্বীকার করে বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই ফিলিস্তিনি নারীদের মুক্তি দেওয়া হবে।
এ ২০ জন নারীর মধ্যে চারজন হামাসের, তিনজন ইসলামিক জিহাদ ও তিনজন ফাতাহর সদস্য রয়েছেন।

সরকারের আশ্বাস পেয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটরা

ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের পাঁচ দিনের ধর্মঘটের অবসান হয়েছে। লোকসানের মুখে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মচারীদের বোনাস কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে পাইলটরা ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ধর্মঘটে নামেন। সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী প্রফুল প্যাটেলের আশ্বাসের পর গতকাল বুধবার তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
পাঁচ দিনের ধর্মঘটের কারণে কয়েক শ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ কারণে শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। এ অবস্থায় সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ায় পাইলট ইউনিয়নের নেতা ক্যাপ্টেন ভি কে ভাল্লা প্রধানমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ধর্মঘটের কারণে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের জন্যও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন ভাল্লা বলেন, ‘সরকার আমাদের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। ফলে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়েছে। সকল পাইলটকে কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।’
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ সংস্থার খরচ কমানোর জন্য তাদের কর্মচারীদের বোনাস ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পাইলটরা। একপর্যায়ে তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দেন।

মহাকাশ ভ্রমণে ধনকুবের গাই ল্যালিবার্ট

কানাডার ধনকুবের গাই ল্যালিবার্টের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হচ্ছে। দুই সপ্তাহের সফরে গতকাল বুধবার তিনি মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছেন। কাজাখস্তানের বারকোনুর উেক্ষপণ কেন্দ্র থেকে রাশিয়ার খেয়াযান সয়ুজে করে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের উদ্দেশে পৃথিবী ছেড়ে যান। স্বভাবসুলভ রসিক এবং ওবাদি সার্কাস দলের স্বত্বাধিকারী এ ধনকুবের তাঁর এ অভিযানকে ‘কাব্যিক সামাজিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
‘সয়ুজ টিএম-১৬’ খেয়াযানে গাই ল্যালিবার্টের সঙ্গে থাকবেন রুশ নভোচারী ম্যাকসিম সুরায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেফরি উইলিয়ামস। কাল শুক্রবার তাঁদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছার কথা রয়েছে।
১৯৮৪ সালের কথা। গাই ল্যালিবার্ট কানাডার রাস্তায় রাস্তায় নেচে-খেলে মানুষকে আনন্দ দিতেন। একপর্যায়ে তিনি বিখ্যাত সার্কাস প্রতিষ্ঠান ‘সার্কু ডু সোলেইন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হওয়ার পর থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের একের পর এক সফলতায় তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মহাকাশ ভ্রমণ করতে গিয়ে তিনি সাড়ে তিন কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছেন।
ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারীদের মধ্যে ল্যালিবার্টের আগে মাত্র ছয়জন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গেছেন। আগের পর্যটকেরা এ ভ্রমণের জন্য বিজ্ঞানীদের উত্সাহিত করেছেন। কিন্তু ল্যালিবার্ট তাঁদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন শিল্পী, একজন উদ্যোক্তা। আমি বিজ্ঞানী নই, এমনকি প্রকৌশলীও নই। জীবনের চলার পথে আমার মাঝে কিছু গুণের সন্নিবেশ ঘটেছে, কিছু সম্পদও হয়েছে। কিছু সৃজনশীল লোক নিয়ে আমি বিশ্বব্যাপী একটি দল গঠন করেছি। এ দলের মাধ্যমে আমি সৃজনশীল কিছু উপহার দিতে চাই। আমার বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমি নিরাপদ পানির সংকটময় অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারব।’
আগামী ৯ অক্টোবর ল্যালিবার্ট মহাকাশ স্টেশনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি ওই সব অনুষ্ঠান বিশ্বের ১৪টি শহরে সম্প্রচার করা হবে। রসিক এ নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের নয়জন ক্রুর জন্য নয়টি লাল রঙের ‘কৃত্রিম নাক’ও নিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়েও তিনি হাস্যরসে মেতে উঠবেন।
বিখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের সর্বশেষ তালিকায় ল্যালিবার্টের অবস্থান ২৬১তম। তিনি আড়াই শ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক।

অক্টোবরে ইরাক ছাড়বে চার হাজার মার্কিন সেনা

যুক্তরাষ্ট্র অক্টোবরের শেষে ইরাক থেকে প্রায় চার হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে। ইরাকে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত এক দলিলে গতকাল বুধবার এ কথা বলেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে ওই দলিল জমা দেওয়ার কথা রয়েছে কমান্ডার জেনারেল রে ওডিয়েরনোর। এতে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের পথেই রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত দলিলের কপিতে ওডিয়েরনো বলেন, ‘ইরাকে বর্তমানে ১১টি যোদ্ধা দলসহ প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার সেনা রয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজারে নেমে আসবে বলে আমি মনে করি।’
ওডিয়েরনো বলেন, ইরাকে মার্কিন ঠিকাদারদের সংখ্যা গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ ৪৯ হাজার থেকে এক লাখ ১৫ হাজারের কিছু বেশিতে নেমে এসেছে।
ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, ইরাক মিশন ২০১০ সালের ৩১ আগস্টে শেষ হওয়ার কথা। তবে এর পরও ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার সেনার একটি বাহিনী সেখানে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিবিদ কিউবার সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ মাসের গোড়ার দিকে হাভানা সফরকালে শীর্ষ পর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটনের কর্তৃপক্ষ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিসা উইলিয়াম সএ মাসের গোড়ার দিকে হাভানা সফরের সময় কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ডাকসেবা চালু করার বিষয় আলোচনা করতে তখন হাভানা যান। তিনি পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে হাভানা সফর করেন। গত কয়েক দশকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এটাই ছিল প্রথম বৈঠক। মার্কিন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বিসা উইলিয়ামস কিউবার সরকারের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন।
১৯৬৩ সালে কিউবার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে গত জানুয়ারি মাসে বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পায়।

গিনিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির বিরোধী দল ঘোষণা দিয়েছে, স্বৈরাচার সামরিক সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এদিকে সামরিক জান্তা সরকার সোমবারের সহিংসতায় দুঃখ প্রকাশ করে নিহতদের স্মরণে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার দুদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। সোমবার সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভে গুলি চালায় সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে ১৫৭ জন নিহত হয়।
গিনির একটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, সোমবারের সহিংসতার পর সেনাবাহিনী গত মঙ্গলবার গুলি চালিয়ে আরও তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। রাজধানী কনাক্রির বাইরে ওয়ানিদারা ও কোসা অঞ্চলে ওই তিন ব্যক্তি ঘর থেকে বাইরে গেলে সেনাবাহিনী গুলি চালায়। এ ছাড়া সেনাসদস্যরা হাসপাতাল থেকে কয়েকজন আহত বিক্ষোভকারীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে গিনি অর্গানাইজেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব হিউমান রাইটস নামের ওই সংস্থাটি।
সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান ক্যাপ্টেন মুসা দাদিস কামারা আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবেন—এমন খবরে সরকারবিরোধীরা রাজধানী কনাক্রিতে গত সোমবার সমাবেশের আয়োজন করে। কনাক্রির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামের সামনে প্রায় ৫০ হাজার লোক ওই সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় সেখানে প্রচুর সেনা মোতায়েন করা ছিল। এর আগে জান্তা সরকার সব ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমাবেশে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাসদস্যরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে কাজ না হলে সেনাসদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। গত বছরের ডিসেম্বরে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন দাদিস কামারা।
বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী প্রধান বিরোধী দল পিপল অব গিনি পার্টির প্রধান আলফা কোন্ডি নিউইয়র্কে বলেছেন, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে গিনির লোকজনকে সংঘবদ্ধ করতে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। আন্দোলন থেকে পেছানো যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের আশায় আন্দোলনে নেমেছি। সেই আন্দোলনের মাঝ পথে থেমে যেতে পারি না। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কিন্তু গতকাল (সোমবার) যা ঘটেছে, তাতে আমরা এই সরকারের পতন না চেয়ে পারি না। আমাদের দাবি, সামরিক সরকারকে হটিয়ে একটি জাতীয় সরকার এসে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আয়োজন করুক।’ আলফা কোন্ডি আরও বলেন, বিক্ষোভে বাধা দিয়ে সরকার তাদের ওপর আস্থাহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং প্রেসিডেন্টের একান্ত উপদেষ্টার নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে, তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, বিক্ষোভকারীদের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছে সেনারা। তারা নারী বিক্ষোভকারীদের বস্ত্র হরণ করেছে এবং সবার সামনে তাদের ধর্ষণ করেছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আফ্রিকান এনকাউন্টার ফর দ্য ডিফেন্স অব হিউমান রাইটসের (আরএডিডিএইচও) গিনি শাখার প্রধান মামাদি কাবা বলেন, সেনাবাহিনী এখন গিনির জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা সাধারণ লোকজনের ঘরে হামলা চালিয়ে জিনিসপত্র লুট করছে এবং নারীদের ধর্ষণ করছে। সেনেগালের ডাকারের কার্যালয়ে মামাদি কাবা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কয়েকটি ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে এ খবর পাওয় গেছে।

সুনামিতে সামোয়ায় ১২০, ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫ জন নিহত

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে গত মঙ্গলবার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে কমপক্ষে ১২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সামোয়াতে মারা গেছে অন্তত ১০০ জন, আর আমেরিকান সামোয়াতে প্রাণ হারিয়েছে ২০ জনেরও বেশি। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৮৫ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছে। সুনামির তাণ্ডবে কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামোয়ায় এ সুনামির পর গতকাল বুধবার ‘আফটার শক’ ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ৭৫ জন নিহত হয়েছে। দেশটির সুমাত্রা দ্বীপে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এ ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান রুস্তম পাক্ষ জানান, ভবন ও বাড়িঘরের নিচে বহু লোক আটকা পড়ে রয়েছে। মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সামোয়ায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা ৪৮ মিনিটে ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় ১৫ ফুট উঁচু ঢেউয়ের।
দুটি স্বতন্ত্র এলাকার সমন্বয়ে সামোয়া দ্বীপ গঠিত। একটি সামোয়া, অপরটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত আমেরিকান সামোয়া। জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সামোয়ার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বলেন, সুনামির তাণ্ডবে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৬৫ জন। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৪৫ জন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সুনামির আঘাতে আমেরিকান সামোয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও এক দক্ষিণ কোরীয়। নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকান সামোয়ায় এই সুনামিকে ভয়াবহ দুর্যোগ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় ত্রাণ সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান সামোয়ার প্রতিনিধি ইনি ফেলিওমাভায়েগা বলেন, ‘কয়েকটি এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে অবস্থিত। সুতরাং ধ্বংসলীলা সম্পর্কে আপনি সহজেই অনুমান করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, সুনামির কারণে সম্পদের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যেখানে-সেখানে ভাসছে গাড়ি। ফেলিওমাভায়েগা বলেন, সামোয়া দ্বীপের সব নিম্নাঞ্চল আক্ষরিক অর্থে ভেসে গেছে। সুনামির কারণে হতাহত হয়েছে কয়েক শ মানুষ। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কয়েক মিনিটের মধ্যে সুনামি আঘাত হানে। যার ফলে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি।
সামোয়ার রাজধানী আপিয়ার একটি হাসপাতালের চিকিত্সক লেমালু ফিউ বলেন, উপকূলীয় এলাকা থেকে এখনো লোকজন আসছে। তাই নিহত হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সামোয়ার রেডক্রসের মহাসচিব তালুতালা মাউয়ালা জানান, তিনি সামোয়ার দক্ষিণ উপকূল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে আহত হয়েছে অনেক লোক। তিনি বলেন, বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির একজন সংবাদদাতা সামোয়ার একটি হাসপাতালে যত্রতত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
দ্য প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার (পিটিডব্লিউসি) জানায়, আপিয়ার প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে ৩৩ মাইল গভীরে ভূমিকম্প আঘাত হানে। আপিয়া ও আমেরিকান সামোয়ার রাজধানী পাগো পাগোতে ৫ দশমিক ১ ফুট উঁচু ঢেউ আঘাত হানে।
সামোয়ার অধিবাসীদের উদ্ধৃত করে রেডিও নিউজিল্যান্ড জানায়, সুনামির কারণে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর ও গাড়ি ভেসে গেছে। গ্রায়েম আনসেল নামে নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক বলেন, সমুদ্রতীরের একটি গ্রাম একেবারে ভেসে গেছে। সেখানকার একটি ভবনও আর দাঁড়িয়ে নেই।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সর্বোচ্চ ৩০ ফুট উঁচু ঢেউ ধেয়ে আসে। স্থানীয় একজন সাংবাদিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সামোয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সবগুলো গ্রাম ভেসে গেছে। যেখানে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস।
নিউজিল্যান্ড বলেছে, প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে তারা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। সেখানকার উত্তর উপকূলে ১৩ ফুট উঁচু ঢেউ আঘাত হেনেছে। টোঙ্গার কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা আশঙ্কা করছেন ১০ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামির প্রভাব পড়েছে কয়েক হাজার মাইল দূরের দেশ জাপানেও। ছোট মাত্রার সুনামি ঢেউ আঘাত হেনেছে জাপান উপকূলেও। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, টোকিওর দক্ষিণ উপকূল এবং প্রধান দ্বীপ হোনসুর উত্তর উপকূলে চার ইঞ্চি উঁচু সুনামি ঢেউ আঘাত হেনেছে।

চিনির দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করেছে এফবিসিসিআই

বাজারে চিনির দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধান, মূল্য নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার সুপারিশ প্রণয়নকল্পে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে।
এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি আবু আলম চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক, দেশবন্ধু সুগার মিলের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন ও সদস্য নিয়াজ আহমেদ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, খাতুনগঞ্জ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সদস্যসচিব এফবিসিসিআইয়ের অতিরিক্ত সচিব আফসারুল আরিফিন।

বরিশালে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের নতুন শোরুম উদ্বোধন

সম্প্রতি বরিশাল শহরের গির্জা মহল্লার সিটি প্লাজায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের একটি বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এটির উদ্বোধন করেন দেশে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের একমাত্র পরিবেশক ইলেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের মহাব্যবস্থাপক এস এ জুনায়েদ।
বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্রটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোম্পানির বরিশাল শাখার স্বত্বাধিকারী মো. হালিম ভূঁইয়া, ফরিদপুর শাখার স্বত্বাধিকারী মো. তাজুল ইসলাম, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের বিভাগীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হক এবং বরিশাল শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক মান রক্ষা ছাড়া সরকার কোনো সহায়তা করতে পারবে না

বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিংড়ি রপ্তানির পরামর্শ দিয়েছেন। তা না হলে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার কোনো ধরনের সহায়তা করতে পারবে না বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি: সম্ভাবনা ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মত্স্য পণ্য ব্যবসা উন্নয়ন কাউন্সিল, বাংলাদেশ শ্রিম ও ফিশ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিমায়িত রপ্তানিকারক সমিতি ও বাজার উন্নয়ন ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে বাণিজ্যসচিব ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় ইউরোপীয় কমিশনের ডেলিগেশনপ্রধান স্টিফেন ফ্রোয়েন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মত্স্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ আলম এবং গ্লোবাল অ্যাকুয়াকালচার এলায়েন্সের চেয়ারম্যান জর্জ ক্যাম্বব্রিয়ান উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক খান বলেন, চিংড়িশিল্পে দেশের প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা বিশ্বমন্দার সময় দেশে বড় ধরনের সহায়তা করেছে। হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করতে রপ্তানিকারকদের সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বমন্দার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চিংড়িতে ক্ষতিকারক নাইট্রোফোরান পরীক্ষার জন্য নতুন মেশিন ক্রয়বাবদ ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেমস এফ মরিয়ার্টি ইউরোপীয় ইউনিয়নে চিংড়ি রপ্তানিতে বাংলাদেশকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া পণ্যের গুণগতমান উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল দেশের চিংড়ি খাতের সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের চিংড়ি খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অচিরেই বাংলাদেশের চিংড়ি খাতে সুদিন ফিরে আসবে। একই সঙ্গে এ খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করবে।
জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, বাংলাদেশের চিংড়িশিল্পের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘পোভার্টি রিডাকশন বাই ইনক্রিজিং দি কম্পিটিটিভনেস অব এন্টারপ্রাইজ’ (প্রাইস) কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের চিংড়ি খাতের উন্নয়নে সহায়তা করছে। এতে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে আরও অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার আয় করতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশই গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে।
এ ছাড়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্য দেশগুলো থেকে একই ধরনের মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে।

ভারত স্পর্শকাতর পণ্য তালিকা ছোট করবে

ভারত নেতিবাচক পণ্যের তালিকা আরও ছোট করার চিন্তা করছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য সহজতর হবে এবং বিদেশি পণ্য ভারতের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী গতকাল বুধবার ঢাকায় ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যার কম্পোনেন্টস অ্যান্ড এক্সেসরিজের (আইএফসিওএমএ) দিনব্যাপী প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পিনাক জানান, বর্তমানে ভারতের আমদানিযোগ্য নেতিবাচক বা স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকায় ৪০০টির মতো পণ্য রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে এর সংখ্যা ছিল ৭০০।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বেশি করে বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সেমিনার আয়োজন করার পরামর্শ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লেদার ও ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এতে তিনি বলেন, দেশে পাদুকা প্রস্তুতকরণের বিভিন্ন সামগ্রী উত্পাদনের জন্য যৌথ উদ্যোগে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ থেকে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান পাদুকা রপ্তানি করত। আর এখন ৭০টির মতো প্রতিষ্ঠান বিদেশে পাদুকা রপ্তানি করছে, যার বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টস ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যার কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই প্রদর্শনী ও ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মিলনীর আয়োজন করে।

ব্যাংকগুলো লোকসানের অর্ধেক তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি

বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলো আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকটের ফলে যে পরিমাণ লোকসান গুনেছে, এর অর্ধেক এখনো তারা প্রকাশ করেনি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সে কারণেই বিশ্বমন্দা আরেক দফা গভীর হওয়া যথেষ্ট আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে বলে সতর্কতা উচ্চারণ করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রকাশিত আইএমএফের অর্ধবাষিক গ্লোবাল ফিনানশিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সব ঝুঁকির কারণে নতুন ঋণ প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটি এও মনে করে যে ব্যাংক-ব্যবস্থার ঋণদানের ক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তি মূলধনের জোগান দিতে হবে।
প্রতিবেদনে ২০০৭ থেকে ২০১০ আর্থিক সংকটের ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। অবশ্য এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এটি চার লাখ কোটি ডলার প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
মোট ক্ষতির মধ্যে আইএমএফের হিসাব অনুসারে ব্যাংক খাতের লোকসানের পরিমাণ দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। তবে সংস্থাটি বলছে, ব্যাংকগুলো এ পর্যন্ত মাত্র এক লাখ ১৩ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ লোকসানের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো ৬০ শতাংশ আর ইউরোপের ব্যাংকগুলো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানের কথা স্বীকার করেছে।
আবার আমেরিকা ও ইউরোপের ব্যাংকগুলোই বিশ্বজুড়ে ব্যাংক লোকসানের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
অবশ্য এ বছর ব্যাংকগুলো মুনাফার মুখ দেখেছে আর তা হয়েছে ঋণের ব্যয় কম হওয়ার কারণে। এ তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি আইএমএফ এও বলেছে যে এই সুখকর পরিস্থিতি বেশি দিন স্থায়ী হবে না।
আইএমএফের মতে, মধ্য মেয়াদে এসে ব্যাংকগুলোকে আমানতের জন্য উচ্চ সুদ প্রদান ও সুদের ব্যয় বাড়ার কারণে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আর তাই মূলধন বাড়ানোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করে আইএমএফ।
৬-৭ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রতিবাদে গতকাল ইস্তাম্বুলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়।

পদ্মা সেতুর জন্য পুঁজিবাজার থেকে ৪২০০ কোটি টাকা সংগ্রহের চিন্তা

পদ্মা সেতু নির্মাণ-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা দেশের পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এ সংক্রান্ত তিনটি বিকল্প প্রস্তাব সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আইসিবির তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের যেকোনো একটিকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। এসব প্রস্তাবে বিভিন্ন ধরনের বন্ড ও সমমূলধন বা ইক্যুইটি শেয়ার ছেড়ে টাকা সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক টাকা ওঠানো সম্ভব হয়।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৫ মিটার প্রস্থের পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দুই হাজার ৭০ কোটি টাকা, বিশ্বব্যাংক দুই হাজার ৭০ কোটি টাকা, জাইকা এক হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক ৮৯৭ কোটি টাকা এবং আবুধাবি ফান্ড ২১৬ কোটি টাকা দেবে।
আর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিন হাজার ২৮১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা। তারপরও ঘাটতি থাকে দুই হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বেশি। সরকারের ব্যয় ও ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প উপায় খোঁজার জন্য আইসিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আইসিবির প্রথম প্রস্তাবে তিন হাজার কোটি টাকা বন্ড ও এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ইক্যুইটি শেয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করার কথা বলেছে। ইক্যুইটি শেয়ারের সরকার ও জনসাধারণের অনুপাত ধরা হয়েছে ৫১: ৪৯।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রকল্পের চার বছর মেয়াদে ব্যয়ের শতকরা হারের ওপর ভিত্তি করে আট শতাংশ সুদে সিকিউরিটাইজড বন্ড ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে (২০০৯-১০) এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা, দ্বিতীয় বছরে (২০১০-১১) এক হাজার কোটি টাকা, তৃতীয় বছরে (২০১১-১২) এক হাজার কোটি টাকা ও চতুর্থ বছরে (২০১২-১২) ৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে আইসিবি।
তৃতীয় প্রস্তাবে রূপান্তরযোগ্য বন্ড, শূন্য কুপন বন্ড ও অ্যামোর্টাইজড বন্ড ছেড়ে প্রকল্পের ঘাটতি-ব্যয় মেটানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা রূপান্তরযোগ্য শূন্য কুপন বন্ড (৫০ শতাংশ শেয়ারে রূপান্তর হবে) ছেড়ে সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অ্যামোর্টাইজড বন্ড ছেড়ে দুই হাজার কোটি টাকা ও শতভাগ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৭০০ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়কে সিকিউরিটাইজড ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে আইসিবি।
সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা কমিটিতে এসব প্রস্তাবের যেকোনো একটি অনুমোদন হতে পারে।

সেনাবাহিনীর সাঁতারুদের নিয়ে নাটক

এসএ গেমস কড়া নাড়ছে দুয়ারে। জোরেশোরেই চলছে সব খেলার প্রস্তুতি। কিন্তু এর মধ্যেও সাঁতারের কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুনকে কাল দেখা গেল খুব বিষণ্ন। মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সের আবাসিক ক্যাম্পে ১৭ সাঁতারু যোগ দিলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ জনই গরহাজির! সংবাদমাধ্যম এটা জেনে যাওয়ায় সন্ধ্যায়ই অবশ্য শাজাহান আলী রনিসহ সেনাবাহিনীর পাঁচজন সাঁতারু যোগ দিয়েছেন সাঁতার ক্যাম্পে।
ঈদের ছুটির পরই সেনাবাহিনীর শাজাহান আলী রনি, কামাল হোসেন, রেজাউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, নিয়ামুল হক, সুজন আলী, বিপ্লব সরকার ও হাসান আলীর ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা কাল পর্যন্তও অনুশীলন চালিয়ে গেছেন সেনাবাহিনী সাঁতারপুলে।
কেন সেনাবাহিনীর সাঁতারুদের জাতীয় সাঁতার ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে না, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর সাঁতার দলের তত্ত্বাবধানে থাকা সেনা কর্মকর্তা মেজর আতিক জানান, সেনাবাহিনীর সাঁতারপুলের সুযোগ-সুবিধা মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সের চেয়ে অনেক বেশি। মিরপুর সাঁতারপুলের আবাসিক ক্যাম্পের সাঁতারুরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেদিক দিয়ে সেনাবাহিনীর সাঁতারুরা সেনা সাঁতারপুলেই ভালো থাকেন। অভিযোগ তালিকায় খাবারের ব্যাপারটাও যোগ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মিরপুর আবাসিক ক্যাম্পের খাবারের মান অনুন্নত। এমনকি সেখানে শীতকালে গরম পানির ব্যবস্থা নেই। ওই কর্মকর্তা মিরপুর সাঁতারপুল ঘুরে গিয়ে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে সাঁতারুদের আর মিরপুরে না পাঠাতে সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ সাঁতার ফেডারেশনের। এসব কারণেই সেনাবাহিনীর সাঁতারুদের মিরপুর ক্যাম্পে আসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তাদের ধারণা।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে করা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন এসএ গেমসের দায়িত্বে থাকা ক্যাম্প কমান্ড্যান্ট এবং সাঁতার কোচ আমিরুল ইসলাম, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এখানে খাবারের মান খুবই ভালো। সাঁতারুরাও কেউ অসুস্থ নেই। তবে বিদ্যুতের একটু সমস্যা আছে। এটা তো জাতীয় সমস্যা। আর শীতকালে সব সময় গরম পানিতেই সাঁতারুরা অনুশীলন করে।’
ঈদের পর সপ্তাহখানেক পার হলেও এসব সাঁতারু ক্যাম্পে যোগ না দেওয়াতে বেশ উদ্বিগ্ন কোচ পার্ক। বিশেষ করে গত এসএ গেমসের সোনাজয়ী শাজাহান আলী রনিকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তাঁর। পার্কের আক্ষেপ, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ কোনো মতবিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলুন। কিন্তু আমার ছেলেদের এসবের ভেতরে না টেনে তাদের তাড়াতাড়ি ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনুন। দেশের কথা আগে ভাবুন।’ একই কথা কোচ আমিরুলেরও, ‘যেখানে একটা সোনা জিততে মাইক্রো সেকেন্ডের হিসাব করা হয়, সেখানে এক দিনের অনুশীলন ব্যাহত হলে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র চার মাস। বাকি দিনগুলো তাই দেশের স্বার্থে, জাতীয় পতাকার স্বার্থে সবার একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’
এ ব্যাপারে সেনাবাহিনী সাঁতার কর্তৃপক্ষের অবস্থানের সমর্থনে মেজর আতিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাল তাঁকে বারবার কল করলেও তিনি মুঠোফোন ধরেননি।
আবাসিক ক্যাম্প এবং পুল নিয়ে এই টানাপোড়েনের সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশা করছেন বিওএ মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ, ‘সাঁতারুদের ব্যাপারে কোচ যা বলবে সেটাই গ্রহণ করতে হবে। তার পরও বিষয়টা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করব আমরা। আশা করছি তাড়াতাড়ি সমস্যার সুরাহা হয়ে যাবে।’

নিলামে টেন্ডুলকার

শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে ব্যাটিং টিপস পেতে চান, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে কিংবা মধ্যাহ্নভোজ করতে? আগ্রহীদের একটা সুযোগ করে দিয়েছে অনলাইনে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইবে’। টেন্ডুলকারকে দিয়ে একটা কোচিং ক্যাম্প নিলাম করবে তারা। সর্বোচ্চ দরদাতা টেন্ডুলকারের ব্যাটিং টিপস পাওয়া থেকে শুরু করে তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলতে পারবেন। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ যাবে আপনালয় নামের এক এনজিওতে।

বার্সার প্রথম জয় হেরেছে লিভারপুল

ম্যাচের প্রথম দিকে ছড়ি ঘোরাল ডায়নামো কিয়েভই। ভরা ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়াম ইউক্রেনিয়ানদের দাপট দেখে চুপচাপ। কিন্তু প্রথম কয়েক পশলা আক্রমণ সামলে বার্সেলোনা ফিরল বার্সেলোনায়। যেখানে তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, যেখানে মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভিদের মতো জাদুকর ফুটবলারদের খেলা মন্ত্রমুগ্ধ করে দেয় ফুটবল বিশ্বকে। ওই মেসির গোলেই ২৫ মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। আর ৭৬ মিনিটে ইনিয়েস্তার বদলি পেদ্রোর গোল (২-০) শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বার্সাকে দেয় প্রথম জয়ের নিশ্চয়তা। ওদিকে রুবিন কাজানের সঙ্গে ইন্টার মিলানের ড্র (১-১) দিন শেষে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষেই তুলে দেয় স্প্যানিশ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের।
নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা জিতবে—ম্যাচের আগেই ফলটা বলে দেওয়া যেত। কিন্তু কে বলতে পারত চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সফল দল লিভারপুল হেরে বসবে ফিওরেন্টিনার কাছে? পরশু ফ্লোরেন্সে গিয়ে লিভারপুলের হেরে আসাটাই বড় খবর। ফিওরেন্টিনার জয়টা একবারে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা গোছের কিছুও না। ইতালিয়ানদের জিতিয়েছে মন্টেনেগ্রোর তরুণ তারকা স্টেভান জোভেটিচের জোড়া গোল (২-০)। মিশন ২০০৯-এ লিভারপুলের প্রথম পরাজয় তাদের ঠেলে দিয়েছে ‘ই’ গ্রুপের তিন নম্বরে। গ্রুপের শীর্ষে এখন টানা দু ম্যাচ জয়ী ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁ। এ দিন হাঙ্গেরির দেবরেসেনিকে তাদের মাঠে ৪-০ গোলে হারিয়ে এসেছে তারা।
ন্যু ক্যাম্পে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে শেভচেঙ্কোর হ্যাটট্রিকে কিয়েভ ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল বার্সেলোনাকে। ইতালি ও ইংল্যান্ডে কয়েকটা মৌসুম কাটিয়ে ‘শেভা’ এ মৌসুমেই ফিরে এসেছেন শিকড়ে। সাবেক এসি মিলান ও চেলসি তারকা তাঁর তেত্রিশতম জন্মদিনে নিজেকেই উপহার দেওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর একটা শট বার কাঁপিয়ে বাইরে যাওয়ার পর নিজেদের অর্ধেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮-এর শেভাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি! গত মৌসুমে ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বার্সেলোনার গোলের খাতাই এবার খুললেন মেসি। সেই ডানপ্রান্ত দিয়ে ঢোকা ট্রেডমার্ক দৌড় দিয়ে আর্জেন্টাইন তারকার করা গোলের পর বার্সার দাপটে হারিয়ে যায় ডায়নামো কিয়েভ। ইব্রাহিমোভিচকে গোল-বঞ্চিত করেছেন কিয়েভ গোলরক্ষক শোভকোভিস্কি। দারুণ নৈপুণ্যে জাভি, মেসি, ইব্রাহিমোভিচ, দানি আলভেজের আরও কয়েকটি গোল-প্রচেষ্টাও নস্যাত্ করেছেন তিনি। পরে ইনিয়েস্তার বদলি হিসেবে নেমে পেদ্রো গোল করে দেখিয়ে দিয়েছেন এবার গোল করার লোকের অভাব নেই বার্সেলোনার।
বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা তৃপ্ত, ‘শীর্ষে ওঠাটা দারুণ ব্যাপার। কারণ আমাদের গ্রুপটা কঠিন। দুর্ভাগ্য যে এমন একটা গ্রুপে পড়ে গেছি আমরা।’
ওদিকে মস্কোয় নিজেদের মাঠে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেলতে নামা রুবিন কাজানের ছিল উজ্জীবিত পারফরম্যান্স। ২৫ হাজার দর্শকের ‘চেঁচামেচি’তে অনুপ্রাণিত রুবিনের সঙ্গে ড্র করতে পারাটাই হয়তো ইতালি চ্যাম্পিয়নদের কাছে যথেষ্ট। ইন্টার কোচ হোসে মরিনহো তো মনে করেন, রুবিন জিতেও যেতে পারত, ‘তারা নিজেদের দর্শকের সামনে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। তারা জিতেও যেতে পারত। তবে তিন পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ আমাদেরও ছিল।’ আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার আলেজান্দ্রো ডমিঙ্গুয়েজ ১১ মিনিটে অসাধারণ এক গোলে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মেইকনের নিখুঁত সেন্টারে হেড করে ইন্টারকে ২৫ মিনিটেই সমতায় ফেরান সার্বিয়ান মিডফিল্ডার দেজান স্টানকোভিচ।
ফ্লোরেন্সের ম্যাচের শুরুতেই কেমন যেন জড়তাগ্রস্ত ছিল লিভারপুল। এটাই তেড়েফুঁড়ে খেলতে উত্সাহিত করে ফিওরেন্টিনাকে। ক্রিস্টিয়ানো জানেত্তির অফ-সাইড চেরা পাসে ২৮ মিনিটে গোল করেন মন্টেনেগ্রিয়ান টিনএজ তারকা জোভেটিচ। ৯ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল করে ফিওরেন্টিনার স্মরণীয় জয়ের নায়ক হন তিনিই। শেষার্ধে অবশ্য গোল শোধের সুযোগ তৈরি করেছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ইয়সি বেনায়ুন, ডির্ক কিউট ও লুকাস দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। ৭১ মিনিটে ফার্নান্দো তোরেসকে গোল-বঞ্চিত করেছেন আলেসান্দ্রো গাম্ব্রিয়েনি। লিভারপুল কোচ রাফায়েল বেনিতেজ দলের পারফরম্যান্সে হতাশ, ‘শুরুতে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। অনেক সমস্যা ছিল আমাদের, ভুল করেছি অনেক।’
লিভারপুল হারলেও আরেক ইংলিশ ‘দানব’ আর্সেনাল জিতেছে পরশু রাতে। ৭৭ মিনিট পর্যন্ত গানারদের আটকে রেখেও হেরে গেছে অলিম্পিয়াকোস। ৭৮ মিনিটে গোল করেছেন ডাচ স্ট্রাইকার রবিন ফন পার্সি, ৮৬ মিনিটে রুশ তারকা আন্দ্রেই আরশাভিন। গ্রিসকে ২০০৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন করে নতুন গ্রিক রূপকথার জন্ম দিয়েছিলেন গ্রিসের ফুটবলাররা। সেই রূপকথারই অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক আন্তোনিস নিকোপোলাইডিস এবার লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে জন্ম দিতে চলেছিলেন আরেকটি ‘ওডিসি’র। আরশাভিন, ফন পার্সিদের একের পর আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় ডোবাচ্ছিলেন তিনি আর্সেনালকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি, ব্রাজিলিয়ান কোচ জিকোর দলকে হারই মানতে হয়েছে। টানা দ্বিতীয় জয় ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষেই তুলে দিয়েছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দলকে। এদিন ‘জি’ গ্রুপে গ্লাসগো রেঞ্জার্সকে তাদের মাঠে কঙ্কো, আদ্রিয়ানো, লুইস ফ্যাবিয়ানো ও কানুটের গোলে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্পেনের সেভিয়া।

সান্ত্বনার জয়ের অপেক্ষায় ভারত

ওয়ান্ডারার্সে ভারত যখন বল করতে নামল, তার আগেই হয়তো সেঞ্চুরিয়ন থেকে পাকিস্তানের খবরটা তারা নিয়ে রেখেছিল। মাঠেও হয়তো নিয়মিত ‘আপডেট’ পাচ্ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। শুরুর দিকে পাকিস্তানের বেঁধে দেওয়া মামুলি লক্ষ্য অনায়াসে তাড়া করছিল অস্ট্রেলিয়া। আর ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছিল ভারতের সেমিফাইনাল-ভাগ্য। কিন্তু হঠাত্ই ঘুরে গেল ম্যাচের পরিস্থিতি। জেগে উঠল ভারতের আশা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ বলে জিতল অস্ট্রেলিয়া। আর সান্ত্বনার জয়ের জন্য মঞ্চ পড়ে রইল ভারতের।
অস্ট্রেলিয়া হারলে ভারতের একটা ভালো সুযোগ ছিল। এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৬ ওভারে মাত্র ১২৯ রানেই অলআউট করে দিয়েছিল তারা। অস্ট্রেলিয়া হারলে শুধু একটা বড় জয় পেলেই চলত ভারতের।
দুই উদ্বোধনী বোলার প্রাভিন কুমার আর আশীষ নেহরা ২টি করে উইকেট নিয়ে শুরু করেছিলেন ধ্বংসযজ্ঞ। এই দুজনের দাপটে ৩১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে বল হাতে তুলে নেন খোদ ধোনিও। এবং প্রথম ওভারেই বোল্ড করে দিয়েছেন ট্রাভিস ডাউলিনকে! ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় উইকেটকিপার হিসেবে উইকেট পেলেন ধোনি। হয়তো জয়ও পাবেন। কিন্তু জিতে গেলেও সেটি হবে শুধুই সান্ত্বনার!

ঈশ্বরকে ডাকছেন ম্যারাডোনা

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ কী করতে পারে? সর্বশক্তি দিয়ে শেষবারের মতো চেষ্টা করে ঘুরে দাঁড়াতে, আর কামনা করে সর্বশক্তিমানের সাহায্য। ডিয়েগো ম্যারাডোনার অবস্থাও ঠিক এমনটাই। বিশ্বকাপে যেতে হলে বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনাকে শুধু জিতলেই চলবে না, নির্ভর করতে হবে অন্যদের ফলাফলের ওপরও। কাদেনা ৩ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আর্জেন্টিনা কোচ তাই আরও একবার প্রার্থনা করছেন ঈশ্বরের অনুকম্পা, ‘ঈশ্বর আমাকে অনেকবারই বাঁচিয়েছেন, আশা করি তিনি আরও একবার তা-ই করবেন।’
ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রীতি তো নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে গোল করার পর দাবি করেছিলেন ওটা ছিল ‘ঈশ্বরের হাত’। সেই ম্যাচেই মাঝমাঠে বল পেয়ে ছয়জনকে কাটিয়ে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন, যেটিকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা গোল। তবে দুর্দান্ত সেই গোল নিয়ে আলোচনা যতটা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি হয় ‘হ্যান্ড অব গডে’র সেই গোলটা নিয়ে।
ম্যারাডোনা অবশ্য মনে করেন, ঈশ্বর তাঁর হাত দিয়ে শুধু একটি গোলই পাইয়ে দেননি, আরও অনেকবার অনেকভাবে সাহায্য করেছেন। যেমন ড্রাগ আর অ্যালকোহলে যখন তাঁর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন ঈশ্বরই বাঁচিয়েছেন তাঁকে। তবে আর্জেন্টিনা কোচ শুধু ঈশ্বরের মুখ চেয়েই তাকিয়ে নেই। তিনি ভালো করেই জানেন নিজেদের কাজটাও ঠিকঠাকমতো করতে হবে, ‘আমাদের মাথায় এই বোধটা ঢোকাতে হবে যে এই ম্যাচ দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিল ম্যাচের মতো আমরা সবকিছু ছেড়ে দিতে পারি না।’
বহুল আলোচিত-সমালোচিত ‘চিকিত্সা থেরাপি’ নিতে ইতালি গিয়েও আর্জেন্টিনা ভক্তদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন ম্যারাডোনা। ‘চিন্তার কিছু নেই, আর্জেন্টিনা অবশ্যই বিশ্বকাপে যাবে’—এই বলে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে সর্বশেষ দুই ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩-১ আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা এখন পঞ্চম স্থানে। ১০ অক্টোবর পয়েন্ট তালিকার একদম তলানিতে থাকা পেরু এবং ১৪ অক্টোবর ষষ্ঠ স্থানে থাকা উরুগুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

ভারতের বিদায়

ওয়ান্ডারার্সে ভারত যখন বল করতে নামল, তার আগেই হয়তো সেঞ্চুরিয়ন থেকে পাকিস্তানের খবরটা নিয়ে রেখেছিল। মাঠেও হয়তো নিয়মিত ‘আপডেট’ পাচ্ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। শুরুর দিকে পাকিস্তানের বেঁধে দেওয়া মামুলি লক্ষ্য অনায়াসে তাড়া করছিল অস্ট্রেলিয়া। এ অবস্থায় ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছিল ভারতের সেমিফাইনাল-ভাগ্য। কিন্তু হঠাত্ই ঘুরে গেল ম্যাচের পরিস্থিতি। জেগে উঠল ভারতের আশা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, টান টান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ বলে জিতল অস্ট্রেলিয়া। তার অর্থ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে ভারতের বিদায়।
অস্ট্রেলিয়া হারলে ভারতের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে নিজেদের কাজটা ভালোভাবেই শুরু করেছিল তারা। টস জিতে ব্যাট করতে পাঠানো হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, ৩৬ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর অস্ট্রেলিয়া হারলে বড় জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যেতে পারত ভারত।
তা যখন হলো না, মনোবল বলে আর কিছু থাকে! ভারতীয়দের ব্যাটিং সেটাই যেন জানাচ্ছিল। পেটের পীড়ায় শেষ মুহূর্তে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া টেন্ডুলকারবিহীন ভারতের রানের চাকাটা বেশ আস্তেই ঘুরছিল। তিন উইকেট হারিয়ে জয় এল ৩২.১ ওভারে।
দুই উদ্বোধনী বোলার প্রাভিন কুমার আর আশীষ নেহরা ৩১ রান ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোণঠাসা করে দলকে এনে দিয়েছিলেন দারুণ সূচনা। পরে বল হাতে তুলে নেন খোদ ধোনিও এবং প্রথম ওভারেই বোল্ড করে দিয়েছেন ট্রাভিস ডাউলিনকে! ওয়ানডের ইতিহাসে তৃতীয় উইকেটকিপার হিসেবে উইকেট পেলেন ধোনি। এটা নিছকই তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন। ওদিকে ৭ উইকেটে পাওয়া দলের এই জয়টাও শুধুই সান্ত্বনার। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়ের পর ধোনিরাও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছেন, টুর্নামেন্টের আকর্ষণে ভাটাই পড়ে গেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৬ ওভারে ১২৯ (ফ্লেচার ০, পাওয়েল ৫, স্মিথ ২১, ডাওলিন ১৪, রেইফার ১, বার্নার্ড ২২, স্যামি ২৩, ক্র্যানডন ৫, মিলার ১৭*, রোচ ৪, টং ৫, অতিরিক্ত ১২। প্রাভিন কুমার ২২/৩, নেহরা ৩১/৩, হরভজন ১৪/২, মিশ্র ২৭/১, ধোনি ১৪/১)।
ভারত: ৩২.১ ওভারে ১৩০/৩ (দিনেশ কার্তিক ৩৪, গম্ভীর ৬, দ্রাবিড় ৪, কোহলি ৭৯*, নায়ার ০*। রোচ ২৭/১, টং ৩৬/১)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কোহলি (ভারত)।