Saturday, January 1, 2011

ইরান এখন পরমাণু শক্তিধর দেশ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ এখন পরমাণু শক্তিধর। সে দেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণে তাঁরা এ পরমাণু শক্তি অর্জন করেছেন। প্রেস টিভির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আহমাদিনেজাদের বরাত দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে নানা রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তেহরানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই তেহরানকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। পশ্চিমা বিশ্বের সব তৎপরতা ব্যর্থ করে দিয়ে ইরান এখন পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে।
ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় কারাজ শহরে এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে আহমাদিনেজাদ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সংঘাত নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে সুরাহা হতে পারে।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমাদের অধিকার অক্ষণ্ন রেখে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে আমরা রাজি আছি। তবে তেহরানকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। এ ধরনের অপতৎপরতার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানের ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপের ঘটনা ‘অবৈধ’ ছিল। এ ধরনের অবরোধ ইরানের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেছে।
পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে বিতর্কিত এ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে ইরান। তবে তেহরান বলছে, দেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তারা ওই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এটা তাদের অধিকার। কোনো শর্তেই এ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াবে না তারা।

এক অসাধারণ মানুষের কথা by মাকসুদুল হক খান



অধ্যাপক ড. এ আর মল্লিক আমার কাছে একটি অতি শ্রদ্ধেয় নাম। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের দীর্ঘকাল শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শিক্ষকতাই ছিল তাঁর আজীবনের সাধনা। ১৯৪৮ সালের মার্চের সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের নেপথ্যে রাজশাহীতে যে কজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষক বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক মল্লিক অন্যতম। ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট মহসীন প্রামাণিক লিখেছেন, ‘ড. আবুল কাশেম চৌধুরীর কাছে জানতে পারি যে ড. মল্লিক ৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান হাসিলের আনন্দমিছিল শেষে সন্ধ্যার সময় ১০-১২ জন ছাত্রনেতা তাঁর বাড়িতে যান, তখনই তিনি ইতিহাসবিদ হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, “পাকিস্তান তো তোমরা হাসিল করলে, কত দিন পাকিস্তান টেকে, তাতে আমার সন্দেহ আছে।” যে পণ্ডিত ব্যক্তি পাকিস্তানের জন্মলগ্নেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন বা করার মতো সাহস রাখেন, তিনি প্রকৃত পণ্ডিত ও সাহসী। আমি এ ব্যাপারে ড. মল্লিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম এবং তিনি এ কথা স্বীকার করেন।’ (সূত্র: রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন: স্মারকপত্র, সম্পাদক অধ্যাপক তসিকুল ইসলাম)।
আমাদের জাতীয় জীবনের মহত্তম ঘটনা রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্মাণে বুদ্ধিজীবীসমাজের মধ্যে ড. মল্লিকের নাম অগ্রগণ্য। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনের (২-২৫ মার্চ ১৯৭১) সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি দ্বিধাহীনচিত্তে যোগ দেন। এ প্রসঙ্গে ড. মল্লিক তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন কথা ও বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নিজ পরিচয়ে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করব, নাকি পাকিস্তানিদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকব—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাকে মুহূর্তের জন্য দ্বিধান্বিত হতে হয়নি।’ ১৯৬৬ সালে ড. মল্লিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এ দায়িত্ব পালনকালেই শুরু হয় আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। নিজ কর্মক্ষেত্রে একজন সেনানায়কের মতো তাঁর নেতৃত্বে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় উপাচার্যের কার্যালয় হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মুক্তিসংগ্রামের সদর দপ্তর। এখানে অধিনায়কত্ব করেছেন উপাচার্য ড. মল্লিক। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম শহর পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে চলে গেলে তিনি ভারতে চলে যান। ড. মল্লিকের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সব পর্যায়ের বুদ্ধিজীবীদের সংগঠন ‘লিবারেশন কাউন্সিল অব ইন্টেলিজেনসিয়া’, যেখানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি গঠিত হলে ড. মল্লিক সভাপতি আর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ভারতের সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের উদ্যোগে এবং গান্ধী শান্তি সংস্থার সহায়তায় আয়োজিত (১৮-২০ সেপ্টেম্বর ’৭১) ওয়ার্ল্ড মিট অন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মুজিবনগর সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার পরিমাণ আরও বাড়ানো এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর ভারত থেকে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেন। সেই সময়কালে আমেরিকা ও ইউরোপের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতিসংঘে স্বাধীনতার অনুকূলে অকাট্য যুক্তি এবং পূর্ব বাংলায় সংঘটিত মানববিনাশী ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শুরু থেকে ড. মল্লিকের বিশ্বাস ছিল, মুক্তিযুদ্ধ সফল হবেই এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশ স্বাধীন হবে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেছেন, ‘১৫ এপ্রিল সকালে ড. মল্লিক, তাঁর বড় জামাই ড. জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, ড. রশিদুল হক ও ড. মাহমুদ শাহ কোরেশীকে বিদায় জানালাম। আমি স্বভাবত ভাবপ্রবণ নই। কিন্তু যে মুহূর্তে তাঁরা দেশের মাটি থেকে পা তুলতে গেলেন, সেই মুহূর্তে কেঁদে ফেললাম। মল্লিক সাহেব আমার পিঠে হাত রেখে বললেন, “ডোন্ট ইউ ওরি। এ পথেই আমরা একসঙ্গে ফিরে আসব—বিফোর দি ইয়ার ইজ আউট।” কেন এবং কিসের জোরে কথাটা তিনি বলেছিলেন, জানি না। তবে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টায় তিনি এই বিশ্বাস লালন করেছিলেন এবং অন্যদেরও বলেছিলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা স্বাধীন দেশে ফিরে যাব।”’ (সূত্র: আমার একাত্তর, আনিসুজ্জামান)। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বলার মতো। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল একজন কূটনীতিবিদ। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতিকে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। মুক্তিযুদ্ধের শত্রুপক্ষ পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে চলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙেচুরে দিয়ে যায়, যাতে সমস্যার চাপে এবং অর্থনীতির বিপর্যয়ের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এর অস্তিত্ব হয় বিপন্ন। বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ড. মল্লিক দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচিকে সফল করার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সফল হয়েছিলেন। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড না ঘটলে এবং দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্যের বহুমাত্রিক সমস্যা দূর করে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। জাতির জনক শেখ মুজিব সপরিবারে শহীদ হওয়ার দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ড. মল্লিকের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘যে দলটির ছত্রচ্ছায়ায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে, সেটি আবার ক্ষমতাসীন হয়েছে, আর দুঃখ নেই, এখন শান্তিতে মরতে পারব।’ (সূত্র: আত্মজৈবনিক গ্রন্থ আলো ছায়ায় সাত পুরুষ, অধ্যাপক সৈয়দ মকসুদ আলী)। অধ্যাপক সৈয়দ মকসুদ আলীর ভাষায়, ‘তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণের চেয়ে ভালোবেসেছেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেছেন বলেই স্বদেশকেও ভালোবাসতে পেরেছিলেন।’ বঙ্গবন্ধুও তাঁকে খুবই শ্রদ্ধাপূর্ণ চোখে দেখতেন। ১৯৮৩ সালে সম্পূর্ণ বাঙালি মূলধনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানায় ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হলে ড. মল্লিক প্রতিষ্ঠানটির প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। আশির দশকে গঠিত শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানদের হাতে গড়া সংগঠন ‘প্রজন্ম ৭১’-এর প্রতি তিনি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। এদের বিভিন্ন কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা এই বুদ্ধিজীবীর সমর্থন ও সহায়তা ছিল অপরিসীম।
১৯১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম আর ১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে ৭৯ বছরের বর্ণিল জীবনের ইতি টেনে দেহান্তরিত হয়েছেন। অসাধারণ মানুষ ড. মল্লিকের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি নিবেদন করছি বিনম্র শ্রদ্ধা, সম্মান ও গভীর ভালোবাসা। জয়তু ড. এ আর মল্লিক।

আজীবন বিপ্লবী মণি সিংহ by তুষার কণা খোন্দকার

আজ ৩১ ডিসেম্বর আজীবন বিপ্লবী মণি সিংহের মৃত্যু দিবস।
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত জীবনাচরণের বিচারে মানুষ মণি সিংহ একজন নিখাদ বিপ্লবী। তাঁর বিপ্লবী সত্তা তাঁকে যুগান্তরে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করেছে।
বিশ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশের উপনিবেশ ভারতে বেশির ভাগ মানুষকে ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হচ্ছিল। সে সময় এ দেশের মানুষ ভাবত, ইংরেজ চলে গেলে তাদের জীবনে ক্ষুধা-দারিদ্র্যের অবসান হবে। ১৯১৪ সালে কলকাতায় স্কুলপড়ুয়া কিশোর মণি সিংহ ইংরেজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে সশস্ত্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন অনুশীলন দলের সদস্য হয়েছিলেন।
ছয় বছর পরে ১৯২১ সালে ভারতজুড়ে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে তরুণ মণি সিংহ আন্দোলনের সহিংস পথ নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলেন। সেই সঙ্গে তাঁর চেতনায় আরও একটি প্রশ্ন যোগ হলো, ভারতের স্বাধীনতা ও মানুষের মুক্তি—এ দুটি বিষয় কি সমার্থক?
মণি সিংহের যৌবনকাল এবং সেই সময়ের ঔপনিবেশিক ভারতের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করলে বিপ্লবী মণি সিংহের রাজনৈতিক বিদ্রোহ এবং সারা জীবন বিপ্লবের বিশ্বাসে অবিচল থাকার নিষ্ঠাকে সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব। ১৯১৭ সালের দুনিয়া কাঁপানো রুশ বিপ্লব সারা দুনিয়ার শিক্ষিত ও শুভবুদ্ধির তরুণদের মনে প্রবল আবেগের জন্ম দিয়েছিল। আজকের দিনে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের সফলতা-বিফলতার মানদণ্ডে বিচার করে সেদিনের বিপ্লবীদের শোষণমুক্তির আন্দোলনের স্বরূপ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিপ্লবী মণি সিংহকে তাঁর সমকালের বাস্তবতায় বিচার করা খুব জরুরি। তিনি এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে মানুষ পরস্পরকে শোষণ করার সুযোগ পাবে না। ইংরেজ শাসককে তাড়িয়ে দিয়ে ভারতে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা হবে সব মানুষের জন্য সমসুযোগ সৃষ্টি করার উপযোগী একটি প্রতিষ্ঠান। ধারণা হিসেবে এমন আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সব মানুষের কাম্য। সমাজের সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সমাজতন্ত্রকে তিনি শ্রেষ্ঠ পথ বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য মণি সিংহ আজীবন তাঁর বিশুদ্ধ বিপ্লবী চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন।
কমরেড মণি সিংহের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থে জ্যোতি বসু তাঁকে স্মরণ করেছেন ‘কমরেড মণি সিংহকে স্মরণ করা জরুরি’ শিরোনামের লেখায়। আজকের বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্যোতি বসুর এই আহ্বানের উপযোগিতা আরও জোরালো মাত্রা পেয়েছে। রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনাচরণের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের দুস্তর ফারাক দেশবাসীর জন্য খুব বড় এক বিড়ম্বনা। রাজনীতিকদের জীবনের এই বৈপরীত্য আজকের দিনে শিক্ষিত মেধাবী তরুণ সমাজকে রাজনীতিবিমুখ করে তুলছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। এমন সময় আজকের তরুণ সমাজের সামনে এ দেশের সৎ রাজনীতিবিদদের বিশুদ্ধ জীবনাদর্শের ঐতিহ্য তুলে ধরা সত্যি খুব জরুরি। আদর্শ বিশুদ্ধ রাজনীতিক হিসেবে মণি সিংহ আজকের তরুণ সমাজের জন্যও আদর্শ। কারণ রাজনৈতিক বিশ্বাস ও জীবনাচরণে তাঁর কোনো তফাত ছিল না।
গরিব দেশগুলোতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সামনে দারিদ্র্যমুক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্যবিমোচনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতারা এবং অর্থনীতিবিদেরা নিঃসন্দেহে ভয়ানক হিমশিম খাচ্ছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের প্রশ্নে মণি সিংহের পদ্ধতি দারিদ্র্যমুক্তির কৌশল হিসেবে এখনো উপযোগ হারায়নি। কারণ মণি সিংহ সারা জীবন গরিবের রাজনীতি করায় এ কাজে তাঁর অবস্থান ছিল খুব সোজাসাপ্টা এবং স্পষ্ট। গরিবের সমস্যা নির্ধারণের প্রশ্নে তিনি গরিবের নিজস্ব কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। মণি সিংহ সুসং দুর্গাপুরে যে টংক আন্দোলন করেছিলেন, সেখানে সেই আন্দোলনের বাণী তিনি বাইরে থেকে বয়ে নিয়ে যাননি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, টংক-প্রথার অত্যাচারে জর্জরিত কৃষকেরা আন্দোলনের দাবি নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। সেই বাস্তবতায় তিনি কৃষকের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন; নেতা হয়ে তিনি আন্দোলনের ধারণা কিংবা বিষয়বস্তু গরিবের ওপর চাপিয়ে দেননি।
রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতনের পর রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা এখন হাজার প্রশ্নের মুখোমুখি। আদর্শ হিসেবে কমিউনিজমের উপযোগিতা নিয়ে বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রেখে মানুষ মণি সিংহের একবুক সাহস, অবিচল নিষ্ঠা ও মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত শক্তি শ্রদ্ধা পাওয়ার দাবিদার। মণি সিংহ জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও কৃষকের স্বার্থে কৃষকের দাবি নিয়ে নিকটাত্মীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিতে দ্বিধা করেননি। তিনি যখন টংক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর নিজেরও টংক জমি ছিল। ব্রিটিশ ভারতে কলকাতায় শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা দেশজুড়ে কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত করার কাজে কোনো দিন মণি সিংহের বিশ্বাস ও আচরণে কোনো বৈপরীত্য ঘটেনি। আক্ষরিক অর্থে শোষণমুক্তির আদর্শের প্রতি চিরকাল অবিচল ছিলেন কমরেড মণি সিংহ। বিপ্লবী মণি সিংহের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সাহসের সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য আজকের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। মণি সিংহের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ২৮ জুলাই ২০০০ সালে সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘তরুণ বিপ্লবীদের আদর্শ ও প্রেরণার উৎস’। ওই প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘দেশে কমরেড মনি সিংহের মতো সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদের আজ খুব প্রয়োজন।’
তুষার কণা খোন্দকার: কথাসাহিত্যিক।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ইমামদের সচেতনতা b y মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীব্যাপী যে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে এই গ্রহের বাসিন্দাদের। ভূপৃষ্ঠের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুুর্যোগ ও পরিবেশদূষণ, খাদ্যাভাব, কর্মসংস্থানের সংকটসহ নানা সমস্যার আবর্তে নিপতিত। জলবায়ুর এই পরিবর্তন বহুলাংশে মানুষের সৃষ্টি। শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোই এর জন্য প্রধানত দায়ী। সামাজিক, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নতি বজায় রাখতে গিয়ে উন্নত দেশগুলো বিশ্বপরিবেশের ওপর এমন বিরূপ প্রভাব ফেলেছে যে গোটা মানব জাতির এক বৃহদাংশের জীবন দারুণ বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ মানুষের বিভিন্ন অপকর্ম থেকে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘জলে-স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু কিছু কাজের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত-৪১)
বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে মেরু অঞ্চলের পাশাপাশি হিমালয়ের বরফও গলে যাচ্ছে বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে। পৃথিবীর শক্তির যে একটা ভারসাম্য আছে, এতে সামান্য একটু পরিবর্তন ঘটলেই ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় পরিবর্তন সূচিত হতে পারে। বরফ যত গলছে, সমুদ্রের উচ্চতা তত বাড়ছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে মসজিদের ইমামদের আরও সোচ্চার হতে হবে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে-পরে বক্তৃতা, বিবৃতি, মিলাদ-মাহফিল, আলোচনা ও সভা-সেমিনারের বাইরে ব্যাপকভাবে গণসচেতনতা বাড়াতে জনগণের কাছে যেতে হবে।
উন্নত দেশসহ সবার সম্মিলিতভাবে জলবায়ুদূষণের মাত্রা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ক্রমেই বিশ্বজনমত জোরালো হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে বিশ্বমানবতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে না পারলে মানবসভ্যতা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তনের যে অংশটি মানুষের লোভ বা মুনাফার চরম পরিণতি হিসেবে দেখা দিয়েছে, এর প্রতিকারের জন্য বিশ্বব্যাপী মানুষের গণসচেতনতা ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর একান্ত অপরিহার্য। মসজিদের ইমাম-খতিবরা জনগণকে এই শিক্ষা দেবেন যে চেষ্টা ও সাধনা মানব জাতির উন্নতির চাবিকাঠি। মানুষ চেষ্টার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটায় এবং আল্লাহ তাআলা তার জীবনের সফলতার পথ সুগম করে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।’ (সূরা আর-রাদ, আয়াত-১১)
মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিধানকে লঙ্ঘন করে প্রায়ই মানুষ নির্বিচারে জাতীয় মহামূল্যবান ভূ-সম্পদ গাছপালা, বৃক্ষলতা, বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদীনালা, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গ ধ্বংস করছে। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অপচয়, সম্পদ বিনষ্টকরণ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকরণ ইত্যাদির মাধ্যমে প্রাকৃতিক রূপ পরিবর্তিত হয়। অথচ বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত সবকিছুকেই আল্লাহ তাআলা বিশেষ প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছেন। অপ্রয়োজনে ও লাভের কারণে কখনোই এগুলো বিনষ্ট বা নির্বিচারে ধ্বংস করা উচিত নয়। এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে যেমনভাবে পাপী হতে হয়, তেমনিভাবে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির জন্যও দায়ী হতে হয়; যা মানবতার পরিপন্থী এবং যেকোনো ধর্মের বিচারেও চরম অন্যায়। সৃষ্টির সঠিক প্রয়োগ ও প্রয়োজনের সুন্দর বর্ণনা দিয়ে তা সংরক্ষণের জন্য আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং এতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি, আমি পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তু সুপরিমিতভাবে উদ্গত করেছি এবং এতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও, তাদের জন্যও। প্রতিটি বস্তুর ভান্ডার আমার কাছে আছে এবং আমি তা জ্ঞাত পরিমাণেই সরবরাহ করে থাকি।’ (সূরা আল-হিজর, আয়াত ১৯-২১)
যারা সৃষ্টিকর্তার বিধান অমান্য করে, মানুষের উপকারী উপাদান ও বৃহৎ সৃষ্টিজগৎ যা মানুষকে ঝড়-তুফান, ভূমিধস, দুর্ভিক্ষ, খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুর পরিবর্তনে পৃথিবীর উষ্ণায়নের অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করে; সেসব পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল ও নদীনালা ধ্বংস করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে, তারাই হলো প্রকৃতপক্ষে জালিম বা অত্যাচারী; দেশ-জাতি ও মানবতার দুশমন এবং বিশ্বের সব প্রাণীর শত্রু। যাদের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও বিশৃঙ্খলা, অসহায় লোকের মৃত্যুর কারণ এবং দেশ ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে, আল্লাহ এসব জালিমের জুলুম সহ্য করেন না। যে ব্যক্তি কোনো বড় ধরনের অন্যায় বা কবিরা গুনাহ করে, সে সারা বিশ্বের মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও পশুপাখির প্রতি অবিচার করে। কারণ, তার গুনাহের কারণে অনাবৃষ্টি ও অন্যান্য যেসব বিপদ-আপদ দুনিয়ায় নেমে আসে, এতে সব প্রাণীই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কিয়ামতের দিন এরা সবাই গুনাহগার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে। তাদের শাস্তি সম্পর্কে ঘোষিত হয়েছে, ‘কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহাচরণ করে বেড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সূরা আশ-শুরা, আয়াত-৪২)
প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখা এবং এর অনুকূলে পরিশ্রম করার শিক্ষাও মানবতার ধর্ম ইসলাম অত্যন্ত উত্তমরূপে প্রদান করেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তাহলে সে যেন সেই বিপদসংকুল মুহূর্তেও তা রোপণ করে দেয়।’ (আদাবুল মুফরাদ)
অতএব, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মহাবিপর্যয় রোধে দেশের জনগণকেও সচেতন থেকে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করতে হবে এবং পাহাড়-পর্বত, নদীনালা, বনজঙ্গল, সুন্দরবন সুরক্ষাসহ সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে ও সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর ঝুঁকি কমাতে পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য সামাজিক আন্দোলনসহ গণসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মসজিদের ইমামগণ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

দুর্নীতির মামলা -বিচার-প্রক্রিয়ায় গতিসঞ্চারের বিকল্প নেই

আমাদের এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি কি একদমই অসম্ভব? দুর্নীতি দমন কমিশন শত শত মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে এবং দিয়ে চলেছে, কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগেরই বিচার-প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি, হচ্ছে না। নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে, ঢিমেতেতালায় চলবে কত মাস; কত বছর ধরে কে জানে। তারপর কোনো একদিন নিম্ন আদালত রায় দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আপিল নিয়ে যাবেন উচ্চ আদালতে। সেখানে মামলাটি ঝুলে থাকবে বছরের পর বছর। মোদ্দা কথা কী দাঁড়াচ্ছে? যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, করছেন এবং করবেন—তাঁদের বিচার করে দণ্ড দেওয়া এবং তা কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনের শাসন-আকাঙ্ক্ষী বাংলাদেশে।
দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান স্বভাবতই তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের সুফল দেখতে চাইবেন। দুদকের কর্মোদ্যোগের ফল সমাজে দৃশ্যমান হয়ে না উঠলে, অর্থাৎ দুর্নীতিবাজদের শাস্তি না হলে জনগণ প্রশ্ন তুলবেই: দুদক কী করার জন্য আছে? গত দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি কী করেছে? জনমনে আরও কৌতূহল জাগবে, এই প্রতিষ্ঠানই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে বাঘা বাঘা অনেক রাঘববোয়ালকে আইনের আওতায় নিতে পেরেছিল কী করে?
দুদক গত ১১ মাসে ৪৪৪টি দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্রে অনুমোদন দিয়েছে; কিন্তু অধিকাংশ মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের বিচার-প্রক্রিয়া ধীরগতির। অতিপ্রাচীন অভিযোগ এটি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে সম্ভবত সবচেয়ে বড় বাধাই হলো বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। কিন্তু এই বাধা অপসারণ কি একদম অসম্ভব? নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচার-প্রক্রিয়ার এমন দীর্ঘসূত্রতার কারণগুলো চিহ্নিত করে সেসব দূর করার কার্যকর উদ্যোগ কেন নেওয়া হয় না? এই দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে কি বিভিন্ন পক্ষের কায়েমি স্বার্থ গভীরভাবে শেকড় গেড়েছে?
প্রকৃতপক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে চাইলে দুর্নীতির মামলার বিচার-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব। কিন্তু সে জন্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। সরকার যদি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই রাখে যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেবে না, কেবল মুখে মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাহলে দুর্নীতির মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে কী করে? টিআইবির করা দুর্নীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের নেতারা প্রতিষ্ঠানটির ওপর পাল্টা আঘাত হানতে যাওয়ার আগে প্রতিবেদনে বর্ণিত চিত্রগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দেখতে পারতেন। টিআইবির প্রতিবেদনে জনসাধারণ বিস্মিত হয়নি, কারণ দুর্নীতি কোথায় কোথায় কী মাত্রায় আছে, তা ভুক্তভোগী জনগণ ভালোভাবেই জানে।
দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে যে দুর্নীতি হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিল নির্বাচনী ইশতেহারে। দুদককে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার আন্তরিকভাবে চাইলেই তা করতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত থেকে শুরু করে বিচার-প্রক্রিয়া পর্যন্ত সব ধাপে গতিসঞ্চারের বিষয়টিও নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া।

৫৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন এ বছর

চলতি বছর দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বের ৫৭ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬। তবে সাংবাদিক অপহরণের ঘটনা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর ৫১ জন সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৩। গণমাধ্যম অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়।
এ ছাড়া চলতি বছর ৫৩৫ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এক হাজার ৩৭৪ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো বা হুমকি দেওয়া হয়। ১২৭ জন সাংবাদিক দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং ৫০৪টি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করেছে। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। ভেনেজুয়েলায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা ব্যবস্থা নিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, কারাকাসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ করা রাষ্ট্রদূতকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ প্রত্যাখ্যান করার পাল্টা জবাব হিসেবে এই ভিসা বাতিল করা হয়।
চলতি বছর ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে সে দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ল্যারি পামারের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন শাভেজ। এর জের ধরে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে পামারকে সে দেশে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

এথেন্সে আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি আদালত চত্বরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও আদালত ভবন ও বেশ কয়েকটি গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, বোমাটি সম্ভবত টাইম বোমা ছিল। আদালতের বাইরে চুরি করা একটি মোটরসাইকেলে বোমাটি পেতে রাখা ছিল।

যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচজনে একজন শতায়ু

যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচজনে একজন ১০০ বছরের বেশি বাঁচেন। নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির এক কোটিরও বেশি নাগরিক ১০০ বছর বাঁচবেন। এই নাগরিকদের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো হবে।
ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি) জানায়, মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ তাঁদের শততম জন্মদিন দেখতে পারবেন। তাঁদের কেউ কেউ ১১০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারেন। এর মধ্যে ৩০ লাখ নাগরিকের বর্তমান বয়স ১৬ বছরের নিচে।
এ ছাড়া ১৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৫৫ লাখ এবং ৫১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিক রয়েছেন ১৩ লাখ। এই নাগরিকদের মধ্যে আট লাখ ৭৫ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে তাঁদের ৬৫তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। তাঁরা আরও ৩৫ বছর বেঁচে থাকার আশা করতেই পারেন।
গত বছর ১১ হাজার ৬০০ নাগরিক ১০০ বা এর বেশি বয়সে পা দেন। এই সংখ্যা ৩০ বছর আগের রেকর্ডের চেয়ে চার গুণ বেশি। তা-ই নয়, শতায়ু ব্যক্তির সংখ্যা গত দুই বছরে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যে ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের গড় আয়ু ছিল ৭৬ বছর। আজকের শিশুদের গড় আয়ু ৮২ বছর। সে ক্ষেত্রে ২০২০ সালে জন্ম নিলে একজন ৮৫ বছর বাঁচার আশা করতে পারে। আর ২০৫৮ সালে জন্ম নিলে প্রত্যাশিত বয়স পৌঁছাতে পারে ৯০ বছরের কাছাকাছি।
এই হিসাবে ২০৬৬ সালে অন্তত সাত হাজার ৭০০ নাগরিক কমপক্ষে ১১০ বছরে পা দেবেন। বর্তমানে ১১ হাজার ৮০০ নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের বয়স ১০০ বা এর বেশি। ১১০ বছরের বেশি বয়সের নাগরিক রয়েছেন ১০০ জনের মতো।
উন্নত খাদ্যমান, জীবনযাত্রা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির কারণেই যুক্তরাজ্যে শতায়ু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের সঙ্গে সু চির বৈঠক

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি তাঁর দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন। গত ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নে মতবিরোধের জের ধরে ওই নেতারা সু চির নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ছেড়ে যান। পরে তাঁরা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এনডিএফ) নামের নতুন দল গঠন করেন।
এনডিএফের নেতা খিন মং সউই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সু চির সঙ্গে তাঁদের প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। তবে সেখানে ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা হয়েছে, রাজনৈতিক কথাবার্তা নয়।
সু চির সঙ্গে এনডিএফের তিনজন নেতা ওই বৈঠকে অংশ নেন। সু চির এনএলডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এটাই দুই পক্ষের প্রথম বৈঠক।
গত নির্বাচন বয়কট করায় সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন দল এনডিএফ ওই নির্বাচনে ১৬১ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৬টি আসনে জয় লাভ করে।
গত সপ্তাহে খিন মং বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে সু চির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় না। তিনি আরও বলেন, তিনি ও তাঁর দলের নেতারা সু চিকে জানাতে চান, তাঁরা দেশের জাতীয় ঐক্য সাধনের লক্ষ্যে নতুন দল গঠন করেন, গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে বাধা সৃষ্টি করতে নয়।
১৯৯০ সালে সু চির দল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। কিন্তু জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। গত ২০ বছরের বেশির ভাগ সময়ই সু চিকে কারাবন্দী কিংবা গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
সম্প্রতি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, তিনি জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত জান্তার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সাড়া মেলেনি।
দেশটিতে ১৯৬২ সাল থেকে জান্তা সরকার ক্ষমতায়।

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, রোগব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা

নদীর পানি বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য কুইন্সল্যান্ডে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটাই ওই অঞ্চলে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। কুইন্সল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলের শত শত মানুষ এর মধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। বন্যার কারণে খাদ্যঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীগুলোর কূল ছাপিয়ে পানি বেড়ে এই বন্যা দেখা দেয়। এতে ওই রাজ্যের অনেক এলাকার ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এখন বৃষ্টি কমে এলেও কয়েকটি স্থানে পাহাড় থেকে ঢল আসা অব্যাহত রয়েছে। এতে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
কুইন্সল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনা ব্লাই হুঁশিয়ার করেছেন, আগামী দিনগুলোতে কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এর মধ্যে কুইন্সল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এমারেল্ড শহর রয়েছে। শহরটির ৮০ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১১ হাজার লোকের বাস ওই শহরে। আগাম সতর্কতা হিসেবে এমারেল্ডের প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আনা ব্লাই এর মধ্যে শহরটি পরিদর্শন করেছেন।
রাজ্যের বান্ডাবার্গ ও রকহ্যাম্পটন শহরেও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল কন্দামাইন শহর থেকে প্রায় ১০০ জনকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। থিওর শহরের সব বাসিন্দাকে এর মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। অস্থায়ী ত্রাণ শিবির, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে সাময়িকভাবে আশ্রয় নিচ্ছে এসব মানুষ।
সাংবাদিকদের আনা ব্লাই বলেন, ‘কুইন্সল্যান্ড রাজ্য এখন কঠিনতম সময়ের মুখোমুখি। এই দুর্যোগের ঘটনা নজিরবিহীন। একসঙ্গে এত শহর ও এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এর আগে আমরা দেখিনি। এটি এক হূদয়বিদারক ঘটনা।’
কুইন্সল্যান্ডের রিকভারি কো-অর্ডিনেটর ব্রুস গ্র্যাডি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব আশ্রয়কেন্দ্রে বেশি খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী প্রয়োজন, সেসব কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। নৌ ও আকাশপথে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর কথা ভাবতে হবে।’
কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বন্যার পানিতে মৃত জীবজন্তুর গলিত শব মিশে যাওয়ায় মারাত্মক কিছু রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি বাড়ছে মশার মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর।

গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে আইভরি কোস্ট

জাতিসংঘে নিযুক্ত আইভরি কোস্টের নতুন দূত ইউসোউফোউ বামবা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটি ‘গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে। গত বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তিনি এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। সদ্য অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী আলাসেন ওয়েতাহা তাঁকে জাতিসংঘের দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ালে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট (ইসিওডব্লিউএএস)। এদিকে আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে আইভরি কোস্ট ছেড়ে পাশের দেশগুলোয় আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত আইভরি কোস্টের দূত বামবা নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আলাসেন ওয়েতাহা বিজয়ী হয়েছেন। আমি মনে করি, আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট প্রশ্নে বিতর্কের অবসান হয়েছে। এখন লঅন্ত বাগবো কখন ও কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন, সেটা নিয়ে আপনারা কথা বলবেন।’
বামবা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে আইভরি কোস্টে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তা নিয়ে ওয়েতাহা খুব উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, শুধু বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে বা জনগণের ইচ্ছার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে দেশের ১৭৩ জন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। বামবা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবখানে আলোচনার সময় আমি এটা বলতে চাই, আমরা গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি।’
আইভরি কোস্টের দূত বামবা বলেন, ‘এই পরিস্থিতি এড়াতে কিছু করা উচিত। আমরা আশা করি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবে। তারা আইভরি কোস্টের পরিস্থিতি নিয়ে ভাববে।’
ইসিওডব্লিউএএসের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী সোমবার আবারও আইভরি কোস্ট যাবেন বেনিনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইউয়েয়ি বোনি, সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই করোমা ও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ভেরোনা রদ্রিগেজ পিরেস। তাঁরা বাগবো ও ওয়েতাহার সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিন প্রেসিডেন্ট গত মঙ্গলবার আইভরি কোস্টে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তবে কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইসিওডব্লিউএএসের রাজনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক আবদেল ফাতাউ মুসাহ জানান, বাগবো পদত্যাগ না করলে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে গত মঙ্গল ও বুধবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পশ্চিম আফ্রিকার সামরিক বাহিনীর প্রধান ও জোটের সদস্যরা অংশ নেন।
আইভরি কোস্টে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশ ছেড়ে লাইবেরিয়া, ঘানা, গিনি ও মালিতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের সাহায্য কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের সেনেগালভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক আইটা সার জানান, আইভরি কোস্ট ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ লাইবেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত বুধবার এক বৈঠকে লঅন্ত বাগবোর ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজনের ইউরোপ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপে তাঁদের জব্দ করা সম্পদের সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ৬১-তে উন্নীত করেছে।
গত ২৮ নভেম্বর আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ করা হয়। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধীদলীয় প্রার্থী ওয়েতাহাকে জয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু ওই ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাগবো। ওয়েতাহাও পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওয়েতাহার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বাগবোকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রসঙ্গত, ওয়েতাহা দেশটির আবিদজান শহরে একটি হোটেলে কার্যালয় বানিয়ে অবস্থান করছেন। দেশটিতে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে অবস্থান করছেন বাগবো।

ডেনমার্কে মুম্বাইয়ের মতো হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ

স্ক্যান্ডিনেভীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, তারা ডেনমার্কের একটি পত্রিকায় ইসলামি চরমপন্থীদের মুম্বাইয়ের মতো হামলা চালানোর পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছে। গত বুধবার ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি এ কথা জানায়। ২০০৫ সালে ওই পত্রিকাটি মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল।
ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, জিল্যান্ড-পোস্টেন পত্রিকার কোপেনহেগেন কার্যালয়ে একটি অবশ্যম্ভাবী হামলা ঠেকাতে গত বুধবার পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেনমার্কে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। অন্যদিকে সুইডেনের গোয়েন্দা সংস্থা সায়েপো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সে দেশ থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিইটির প্রধান জ্যাকব শ্র্যাফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ধারণা করছি, জঙ্গিদের এই দলটি আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা হামলা করার পরিকল্পনা করছিল।’
ডেনিশ বার্তা সংস্থা রিটসয়কে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় সে দেশের বিচারমন্ত্রী লারস ব্রাফোর্ড বলেন, ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভয়াবহ একটি হামলা ঠেকানো গেছে। ডেনমার্কের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা হতে পারত এটি।
এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জ্যাকব শ্র্যাফ বলেন, জঙ্গিদের পরিকল্পনাটি ছিল জিল্যান্ড-পোস্টেন-এর কোপেনহেগেন কার্যালয়ে কোনোভাবে প্রবেশ করে সেখানে মুম্বাই হামলার মতো একটি হামলা চালানো। ২০০৮ সালে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ১০ জন বন্দুকধারী বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। তাদের হামলায় কমপক্ষে ১৬৬ জন নিহত হয়।
পিইটি জানায়, সুইডেনের সায়েপোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এক সুইডিশ এবং ডেনমার্ক থেকে ৪৪ বছর বয়সী এক তিউনিসীয়, ২৯ বছর বয়সী লেবাননি বংশোদ্ভূত এক সুইডিশ, ৩০ বছর বয়সী আরেক সুইডিশ ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ২৬ বছর বয়সী একজন ইরাকি। প্রথম তিনজন সুইডেনে বসবাস করেন। আগের দিন রাতে তাঁরা ডেনমার্কে যান।

আট হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে আশা

বেসরকারি সংস্থা আশা ২০১১ সালে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কক্সবাজারে গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আশার প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল হক চৌধুরী।
আশার প্রেসিডেন্ট বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য আশার ঋণ কার্যক্রমকে আরও সহনশীল করতে সংস্থার কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করে পুনর্বিন্যস্ত করা হবে। ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১১ সালে ৩০০টি নতুন শাখা স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৫০০টি সেচ প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দেন সফিকুল হক চৌধুরী।
সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন আশার ইভিপি সুশীল রায়, মো. এনামুল হক, সোহেল মাহমুদ সাগর, রণেশ আচার্য্য, পরিচালক ফয়জার রহমান, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, আতাউর রহমান, তাজুল ইসলাম, মোসতাক আহম্মেদ প্রমুখ। কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের ১৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ



দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতারা শিল্পায়নের স্বার্থে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ অবকাঠামোর উন্নয়নে জোর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠান স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন।
ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নেতারা এসব দাবি জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকেরা এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণ, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি কারণে ২০১০ সাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর।
এ কে আজাদ বলেন, ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতি তা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যবসায়ীরা ৬২ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিলে রাজস্ব দিয়েছেন। ২০১০-১১ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব প্রদান ২৭ শতাংশ বাড়বে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে মোট দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের মধ্যে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার ৯৪৯ কোটি ডলার।
এ কে আজাদ বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট আমদানি ছিল দুই হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।
এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে বিবিধ আলোচনায় এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্য বাদল রহমান, খোকা শিকদার, আবু নাসের, আমিনুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দিন শেখ, ফজলুর রহমান, ওয়ালিউল বারী চৌধুরী, শাহ আলম সরকার, আবু বক্কর সিদ্দিকী, লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, নাজমুল হক, ওহায়েদ সরকার, আলহাজ আবদুস সালাম, এ কে এম মফিজুর রহমান, শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদের, আবদুল হাই, এস এম তোহুয়ার হোসেন, রুহুল আমিন, হারুনুর রশিদ, এস এ কাদের কিরণ, জাহাঙ্গীর আলম, এস এম হারুন-অর রশীদ প্রমুখ অংশ নেন।
সভায় সারা দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা দেশের মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তালিকা তৈরির জন্য এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আকরাম হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ও আবুল কাশেম আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্ভর করছে জ্বালানিসংকট নিরসনের ওপর

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সম্ভাবনা এখন সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর। আর জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের অত্যাধুনিক উৎপাদনসক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০০৯-১০) এই অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের জোগানের অব্যাহত ঘাটতি বিদ্যমান উৎপাদনের ক্ষমতাকে যেমন বাধাগ্রস্ত করছে, তেমনি নতুন উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগকে শ্লথ করে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির মধ্যমেয়াদি সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাইরের খাত থেকে দুটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ দুটি হলো: প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা।
তবে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রভাবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনীতির দেশগুলো থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ স্থানান্তরিত হলে তা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
কিন্তু জনশক্তি রপ্তানির নিম্নমুখী প্রবণতা সহজে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক কম বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি জনশক্তির প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোতে, এমনকি যেগুলোয় প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়নি সেগুলোতেও স্থানীয় কর্মসংস্থানকে সুরক্ষা করতে বিদেশি শ্রমিক কমানো শুরু করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব দেশে খুব কম ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। ফলে কাজ হারানো বাকি শ্রমিকেরা দেশের শ্রমবাজারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
এই অবস্থায় এসব শ্রমিককে বিদেশি অন্য বাজারে প্রেরণের জন্য সরকারি উদ্যোগের সুপারিশ করার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এসএমই) স্থাপন করে স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে তেমন আশঙ্কাজনক কিছু দেখছে না। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যস্ফীতিকে দ্রুত উসকে দিতে পারে, এমন কোনো উপাদানের সক্রিয়তা এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অসন্তোষের বিষয়টি নিষ্পত্তি করায় এবং জ্বালানিমূল্য দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের কোনো ঘোষণা না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনটি মনে করছে।
তবে অতি মূল্যায়িত পুঁজিবাজার ও আবাসন খাত মধ্য মেয়াদে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে আবাসন খাতের যে স্ফীতি, তা প্রাথমিকভাবে ঋণতাড়িত নয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। তাই এই স্ফীতি প্রশমনে মুদ্রা ও ঋণনীতির প্রভাব তেমন একটা কার্যকর হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মাধ্যমে শেয়ারবাজারভিত্তিক স্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আরও আছে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণসীমা অনুসরণ, ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজার কার্যক্রমের মধ্যে সীমারেখা মেনে চলতে বাধ্য করা ইত্যাদি।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে ঋণের বিপরীতে পুনঃ অর্থায়নসুবিধা বাতিল এবং জমি ক্রয়ে ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব আর্থিক সংকটে সৃষ্ট বিশ্বমন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খানিকটা দেরিতে পড়েছে। ফলে রপ্তানি, আমদানি ও বিদেশি নতুন বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কম থাকায় বাংলাদেশে এই সংকটের প্রভাব সীমিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রপ্তানির গতি দুর্বল হয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে তা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং সার্বিক প্রবৃদ্ধিও জোরালো হতে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ হলো কৃষি খাতের গতিময়তা। কৃষি খাতে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে জোর তদারকি চালিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় নানা ধরনের সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সার্বিকভাবে জাতীয় বাজেটে ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারের যে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, তা অর্জনযোগ্য বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চাঙা ভাব নিয়ে বছর শেষ হলো শেয়ারবাজারে

বছর শেষ হতে এখনো পুরো একটা দিন বাকি। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবারই দেশের শেয়ারবাজারের বছরের সমাপ্তি ঘটেছে। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গতকাল ছিল শেয়ারবাজারে বছরের শেষ লেনদেন।
শেষ দিনটি বিনিয়োগকারীদের জন্য এককথায় ভালো কেটেছে। কারণ, এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। বেড়েছে মূল্যসূচক, বাজার মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণ। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের শেষ দিনে ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব চূড়ান্ত করা হয়। বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশের ধারণা, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান এবার অনেক ভালো মুনাফা করবে। আর এ প্রত্যাশা থেকেই তাঁদের অনেকেই এ দুটি খাতের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছেন।
অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে বিনিয়োগের জন্য ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি জটিলতা দূর করার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্তে এ খাতটির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।
এসইসির বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এ খাতটি এত দিন একরকম অবহেলিত ছিল। তবে গত বুধবার মিউচুয়াল ফান্ডের বিপরীতে ঋণসুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাজারে আসতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দরপ্রস্তাবের (বিডিং) মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের নামে পৃথকভাবে দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ার কিনতে পারবে। এতে স্বল্প সময়ে ফান্ডগুলো অধিক মুনাফা করার সুযোগ পাবে।
মূলত এসব বিবেচনায় গতকালের বাজারে ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মূল্য ও লেনদেন বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ারের তালিকায় আটটি ছিল মিউচুয়াল ফান্ড।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) উভয় জায়গায় গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই মূল্যসূচক বাড়তে থাকে। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১২০ পয়েন্টের মতো বেড়ে যায়। এর পরের তিন ঘণ্টা সূচক খুব সামান্য ওঠানামা হলেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল ছিল। ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ২৯০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। আর সিএসইর সাধারণ সূচক ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩ হাজার ৪৪৮ পয়েন্ট হয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ২৪৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টিরই দাম বেড়েছে। কমেছে মাত্র ৫৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুটির দাম। ডিএসইতে গতকাল মোট এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, আগের দিনের চেয়ে যা ৩০৪ কোটি টাকার মতো বেশি।
সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৯টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে ১৩৫টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মোট মূল্য ১৭৯ কোটি টাকা।
লেনদেন সামান্য বাড়লেও বাজারে এখনো তারল্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের নির্বাহীরা। এ কারণে তাঁরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ সরবরাহ করতে পারছেন না। আর ঋণ না পেয়ে গ্রাহকেরা প্রতিদিনই নির্বাহীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে এ সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করবে।

বছর শেষ হতে এখনো পুরো একটা দিন বাকি। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবারই দেশের শেয়ারবাজারের বছরের সমাপ্তি ঘটেছে। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গতকাল ছিল শেয়ারবাজারে বছরের শেষ লেনদেন।
শেষ দিনটি বিনিয়োগকারীদের জন্য এককথায় ভালো কেটেছে। কারণ, এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। বেড়েছে মূল্যসূচক, বাজার মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণ। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের শেষ দিনে ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব চূড়ান্ত করা হয়। বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশের ধারণা, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান এবার অনেক ভালো মুনাফা করবে। আর এ প্রত্যাশা থেকেই তাঁদের অনেকেই এ দুটি খাতের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছেন।
অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে বিনিয়োগের জন্য ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি জটিলতা দূর করার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্তে এ খাতটির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।
এসইসির বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এ খাতটি এত দিন একরকম অবহেলিত ছিল। তবে গত বুধবার মিউচুয়াল ফান্ডের বিপরীতে ঋণসুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাজারে আসতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দরপ্রস্তাবের (বিডিং) মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের নামে পৃথকভাবে দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ার কিনতে পারবে। এতে স্বল্প সময়ে ফান্ডগুলো অধিক মুনাফা করার সুযোগ পাবে।
মূলত এসব বিবেচনায় গতকালের বাজারে ব্যাংক ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মূল্য ও লেনদেন বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ারের তালিকায় আটটি ছিল মিউচুয়াল ফান্ড।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) উভয় জায়গায় গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই মূল্যসূচক বাড়তে থাকে। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ১২০ পয়েন্টের মতো বেড়ে যায়। এর পরের তিন ঘণ্টা সূচক খুব সামান্য ওঠানামা হলেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল ছিল। ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ২৯০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। আর সিএসইর সাধারণ সূচক ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩ হাজার ৪৪৮ পয়েন্ট হয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ২৪৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টিরই দাম বেড়েছে। কমেছে মাত্র ৫৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুটির দাম। ডিএসইতে গতকাল মোট এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, আগের দিনের চেয়ে যা ৩০৪ কোটি টাকার মতো বেশি।
সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৯টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে ১৩৫টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মোট মূল্য ১৭৯ কোটি টাকা।
লেনদেন সামান্য বাড়লেও বাজারে এখনো তারল্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের নির্বাহীরা। এ কারণে তাঁরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ সরবরাহ করতে পারছেন না। আর ঋণ না পেয়ে গ্রাহকেরা প্রতিদিনই নির্বাহীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে এ সংকট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করবে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ চেয়ারম্যানের নাইট উপাধি লাভ

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান মার্টিন ব্রটন সম্মানসূচক নাইট উপাধি পেয়েছেন। নতুন বছরকে সামনে রেখে এ সম্মাননা জানানো হয়েছে। বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
আরও তিনজন এই উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সেন্ট্রিকা এবং সাবেক ক্যাডবারি চেয়ারম্যান রজার কার, রিড রিক্রুটমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক রিড এবং সিবিআইয়ের পরিচালক রিচার্ড ল্যামবার্ড।

দেশেই ফিরে গেলেন কার্লেভিচ



শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ফুটবল কোচ জোরান কার্লেভিচের বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাটা মোটেও সুখকর হলো না। সেপ্টেম্বরে ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মাথায় বরখাস্ত হয়েছেন গত সোমবার। কাল রাতে স্বদেশি ট্রেনার দাবর বারবারকে নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন এই সার্বিয়ান।
কার্লেভিচের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল ক্লাবটির। কিন্তু এগুলোর কিছুই তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। যাওয়ার আগে বললেন, ‘এটা আমার ও আমার সহকারীর জন্য বাজে একটা অভিজ্ঞতা। মিস্টার প্রেসিডেন্ট (মনজুর কাদের) আমাকে কিছুই দেননি। অবশ্যই চুক্তি অনুযায়ী তিনি আমাকে তিন মাসের বেতন দেবেন। কিন্তু তিনি আমাকে এখনো সেটা বুঝিয়ে দেননি।’ বিষয়টি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য মোটেও সম্মানজনক হলো না বলে মনে হয়েছে তাঁর, ‘তারা যদি এমন করে তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ এখানে কাজ করতে আসবে না। আমি জানি আমি ভুল করিনি। কিন্তু আমি জানি না কেন তিনি এমন করলেন। এটা পেশাদার কোনো আচরণ হলো না।’ চুক্তি ভঙ্গের জন্য তিনি আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন, ‘তারা আমার সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। আমি অবশ্যই আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। তারা এই চুক্তিকে সম্মান দেখায়নি।’ ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদেরের একগুঁয়েমি মনোভাবকে তিনি ক্লাবের ক্ষতির কারণ বলে মনে করছেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট মনে করেন তিনিই কোচ। তাহলে তিনি কেন আমাকে এনেছেন। তিনি কোচের কাজকে সম্মান করেন না। এতে ক্লাবের ক্ষতিই হবে।’
তবে কার্লেভিচের এসব কথাবার্তার কোনো গুরুত্ব নেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদেরের কাছে, ‘একজন আনাড়ি লোকের সঙ্গে কাজ করতে গেলে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারতেন তিনি। কিন্তু আমরা তো ফুটবল বুঝি। আমাদের সঙ্গে এভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।’ তাঁর দাবি কার্লেভিচের সঙ্গে চুক্তিও ভঙ্গ করা হয়নি, ‘চুক্তি ভঙ্গের কী আছে এখানে? যখন আপনি পারফর্ম করতে পারবেন না তখন আর আপনাকে দরকার নেই আমার।’ কোচের অনেক সিদ্ধান্তই মনঃপূত হয়নি মনজুর কাদেরের। তিনি জানালেন, ‘আমার অধীন যিনি কাজ করেন, তিনি কোচ হোক আর লাট বাহাদুর হোন, তার সব সিদ্ধান্ত তো আর মেনে নিতে পারি না।’
শেখ জামাল শ্রীলংকান কোচ পাকির আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য সুখবর

এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। তার পরও ভারতীয় প্রোডাকশন হাউস ব্রডকাস্ট থ্রি প্রাথমিক যে আগ্রহটা দেখিয়েছে, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য সেটাকে সুখবরই বলতে পারেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সম্প্রচারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই ব্রডকাস্ট থ্রি।
ব্রডকাস্ট থ্রির আগ্রহটাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদ। বলেছেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়ে ভারতের এই প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হবে। বর্তমান চুক্তিতে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট সম্প্রচারের কথা থাকলেও বিসিবি এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে সেই সুবিধা নিতে পারেনি।

সিডনিতে ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘স্প্রিঙ্কলার’ নৃত্য মাঠেই দেখেছেন। ড্রেসিংরুমে ইংলিশদের যখন লম্বা উৎসব হয়েছে, ভাঙা আঙুল আর ভাঙা হূদয় নিয়ে রিকি পন্টিং তখন হাসপাতালে। বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় চিড় নিয়েই মেলবোর্নে খেলেছেন, আঙুলের অবস্থা জানতে ম্যাচ শেষেই ছুটে গিয়েছিলেন এক্স-রে করাতে। সেই এক্স-রে রিপোর্ট কাল পন্টিংয়ের জন্য এনেছে দুঃসংবাদ, মেলবোর্নে জোর করে খেলায় আরও বেড়ে গেছে আঙুলের চিড়। এখনই অস্ত্রোপচার করাতেই হবে। সিডনিতে তাই খেলা হচ্ছে না পন্টিংয়ের।
সিডনিতে পন্টিংয়ের ডেপুটি মাইকেল ক্লার্কই দেবেন নেতৃত্ব। অস্ট্রেলিয়ার ৪৩তম টেস্ট অধিনায়ক হচ্ছেন ক্লার্ক। বহু প্রতীক্ষিত অভিষেকটা হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যাটসম্যান উসমান খাজার।
চরম দুঃসময়ে চোটের খবরটা পন্টিংয়ের জন্য কত যে বড় আঘাত তা স্পষ্ট তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই, ‘সত্যি বলতে আমি ভেঙে পড়েছি, এই খবরটাকেই আমি ভয় পাচ্ছিলাম। আমার মনে হয় না মেলবোর্নে এমন কিছু করেছি বা হয়েছে যাতে চিড়টা আরও বেড়ে যায়, কিন্তু এক্স-রে রিপোর্ট ভিন্ন রকম কিছুই দেখাচ্ছে।’ পন্টিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন এমনিতেও ছিল। চোটের কারণে দলের বাইরে ছিটকে যাওয়ার পর গুঞ্জনের পালে আরও হাওয়া। মেলবোর্নেই খেলে ফেলেছেন শেষ টেস্ট, আর মাথায় তোলা হবে না ব্যাগি গ্রিন, এমন ভাবা লোকের সংখ্যাই এখন বেশি। অনেকের ধারণা, টানা দুটি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে আগামী বিশ্বকাপে দেখা না-ও যেতে পারে। সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সরিয়ে দেওয়ার আগে নিজে থেকে সরে যাওয়া ভালো।’
এসব গুঞ্জন-পরামর্শে কান দিচ্ছেন না পন্টিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এটা (অবসর) নিয়ে আমি ভাবছিই না। শুধু এ সপ্তাহেই নয়, গ্রীষ্মজুড়েই অসংখ্যবার বলেছি, আমি খেলে যেতে চাই। ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হিসেবে এখনো দলকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে আমার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিডনিতে খেলতে পারছি না, কারণ বিশ্বকাপের আগে আর ঝুঁকি নিতে চাই না। ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে সেরা অবস্থায় বিশ্বকাপে যেতে চাই এবং জিততে চাই টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ। আর বিশ্বকাপের পরেও খেলতে চাই টেস্ট ক্রিকেট।’
তবে নিজের আর দলের এমন ফর্মে সিদ্ধান্তটা শুধু নিজে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই পন্টিং। তবে তাঁর জন্য স্বস্তির যে, আপাতত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও আস্থা হারাচ্ছে না পন্টিংয়ের ওপর। প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ বলেছেন, ‘আমরা রিকির সুস্থ হওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি, আশা করি চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে ওই আমাদের নেতৃত্ব দেবে।’ সিডনির অধিনায়ক ক্লার্কের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াতেও শুরুতেই পন্টিং প্রসঙ্গ, ‘অবশ্যই আমি সম্মানিত বোধ করছি। তবে এটা শুধু এই ম্যাচের জন্য, আশা করি যত দ্রুত সম্ভব পান্টারকে আমরা ফিরে পাব। যত দ্রুত ওকে ফিরে পাই, ততই আমাদের জন্য ভালো।’
শঙ্কা ছিল ক্লার্কের অধিনায়কত্ব নিয়েও। ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ২০০৮ সালে ডেপুটি করা হলেও রান-খরায় দলে জায়গা টিকিয়ে রাখাই দায়। ব্র্যাড হাডিনকে আপৎকালীন অধিনায়ক করে ভবিষ্যতের জন্য স্টিভেন স্মিথ, শেন ওয়াটসনদের গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছিলেন সাবেকদের অনেকে। তবে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত আস্থা রেখেছেন ক্লার্কেই, প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানাচ্ছেন, নির্বাচকদের সুপারিশে সায় দিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পরিচালকদের সবাই। শুরুতেই ক্লার্ককে পড়তে হচ্ছে কঠিন পরীক্ষায়। অ্যাশেজ তো ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে দেশের মাটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ২৪ বছর ধরে সিরিজ না হারার গর্ব ধরে রাখার সুযোগ আছে এখনো। পারবেন ক্লার্ক?

স্কুল ফুটবলারদের মেলা

আমিনুল-এমিলিরা দর্শকসারিতে আর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম আলো করে বেড়াচ্ছে শিশুদের দল। আগামী ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারি এটাই হয়তো হবে। এই সাত দিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব। আলো থাকবে সেখানে শিশুদের ওপরই, আর দর্শকসারিতে থাকবেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা।
নগরের এক অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে কাল দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের সূচি। অনুষ্ঠিত হয় লোগো ও থিম সং উন্মোচনও। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন ও প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেনের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এবং জাতীয় দলের দুই তারকা ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি ও এনামুল।
একটি ফুটবল নিয়ে এগিয়ে চলছে দুটি ছেলেমেয়ে—এই লোগো উন্মোচনের পরপর ভিডিওচিত্রে পরিবেশিত হয় থিম সং। ‘চলো সবাই স্কুলে যাই, লেখাপড়া আর ফুটবল, একসঙ্গে চলবে...’—এই থিম সংয়ের সুর টেনেই আফছারুল আমীন বলেছেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে। এ জন্য ছেলেমেয়েদের স্কুলে টানার একটা উপায় খুঁজছিলাম। সেই থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজনের পরিকল্পনা।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ বলেছেন ফিফার একটি স্লোগান থেকে প্রেরণা খোঁজার কথা, ‘ফিফার গোল প্রজেক্টের সবার জন্য শিক্ষা স্লোগানটি আমাদের খুব নাড়া দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজন করতে আমাদের প্রেরণা ওই স্লোগানই।’
সালাউদ্দিনের আশা, এই টুর্নামেন্ট ফুটবলারও তৈরি করবে, ‘এই টুর্নামেন্ট থেকে ২, ৪ বা ৮ জন হলেও ফুটবলার বেরিয়ে আসবে।’ তবে আগামী দিনের ফুটবল তারকা পাওয়াটাকেই বড় দেখেন না সালাউদ্দিন, ‘ফুটবল বা যেকোনো খেলাধুলাতেই সবাইকে সুশৃঙ্খল হতে হয়। আর এটা মানুষের চরিত্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। যেটা খুব জরুরি। এই টুর্নামেন্ট থেকে খেলোয়াড় বেরিয়ে আসাটা মূল ব্যাপার নয়। এ দেশের ভবিষ্যৎ যারা, তারা সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে; এটাই আসল।’
এই টুর্নামেন্ট নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী, ‘যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, এই টুর্নামেন্টও থাকবে। বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের। যাত্রা তো সবে শুরু।’
সেই বহুদূর যাওয়ার পথে আগামী বছর মেয়েদের টুর্নামেন্ট যোগ করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী।

মাঠ সংস্কারকাজে নেই কিউরেটর!

চট্টগ্রামের বিশ্বকাপ ভেন্যু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গেছে আইসিসির পর্যবেক্ষক দল। মাঠের এই রোগ সারাতে এখন নতুন ‘চিকিৎসকের’ শরণাপন্ন হয়েছে বিসিবি। গলফ কোর্সের পরিচর্যাকারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আউটফিল্ড ঠিক করার। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ভাটিয়ারি গলফ ক্লাবের কর্নেল ইকবালের নেতৃত্বে সে কাজ শুরুও হয়ে গেছে।
গতকাল মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিসিবির মাঠকর্মীরা বালু ছেটাচ্ছেন। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল জানিয়েছেন, গলফ মাঠের পরিচর্যাকারীরা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন, কাজ চলছে সেভাবেই। মাঠে নতুন পরিচর্যাকারী দলের আগমনই বলে দেয় এ মাঠের দায়িত্বে থাকা বিসিবির কিউরেটর ও মাঠকর্মীরা কার্যত ব্যর্থ।
আউটফিল্ড সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে চট্টগ্রামে নেই মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিবির কিউরেটর জাহিদ রেজা। গত ২৩ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় চলে গেছেন। তিন-চার দিন পর ফেরার কথা থাকলেও এখনো চট্টগ্রামে আসেননি। আরও বিস্ময়কর হলো, জাহিদ রেজা জানেনই না মাঠের সংস্কারকাজ করছে গলফ কোর্সের পরিচর্যাকারীরা, ‘গলফের ওনারা কাজ করছেন কি না আমি জানি না। সেটা চেয়ারম্যান জানবেন। আর আমি গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় এসেছি। এখন চার দিনের ছুটিতে আছি।’
কাল সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও বিসিবির মাঠ কমিটির প্রধান শফিকুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। আর ভেন্যু চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বিষয়টি এড়িয়েই গেছেন, ‘আমরা আশাবাদী, মাঠের পানিনিষ্কাশন-ব্যবস্থা ও আউটফিল্ডের ঘাসের যথেষ্ট উন্নতি হবে।’

নিজেদের ফাঁদেই পড়েছে স্মিথের দল

আজহারউদ্দিন পারেননি। পারেনি শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলীও। এত দিন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসবান্ধব কন্ডিশনে ভারতের একমাত্র জয়টি ছিল অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে। ২০০৬, সেঞ্চুরিয়নে। পরশু আরেক পেস-স্বর্গ ডারবানে জিতলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
২০০৬ সালে জেতার পর দ্রাবিড় বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত। আমরা সেভাবেই জয় উদ্যাপন করছি।’ পরশু ধোনি বললেন, এই জয় তাঁর কাছে ততটাই আনন্দের, যতটা আনন্দ তিনি কানপুরে জিতে পান!
ধোনির সঙ্গে এখানেই বুঝি পার্থক্য বাকি সবার। যে পার্থক্যের ছোঁয়া আছে রেকর্ডেও। অধিনায়ক ধোনির এটি ১৪তম টেস্ট জয়। ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের তালিকায় ধোনি এখন আজহারউদ্দিনের সঙ্গে যৌথভাবে দুইয়ে। ১৪টি জয় আজহারউদ্দিন জিতেছিলেন ৪৮ টেস্টে। ধোনির লাগল মাত্র ২৩ টেস্ট। সামনে আছেন কেবল ২১ টেস্ট জেতা সৌরভ গাঙ্গুলী।
ধোনি একক কৃতিত্ব নিতে একেবারেই নারাজ, ‘আসল ব্যাপারটি হলো আমি খুব ভালো একটা দল পেয়েছি। একটা দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক খেলারই পুরস্কার এটি।’ তাহলে এই জয় কি তাঁর কাছে আলাদা কোনো গুরুত্বই বহন করে না? ধোনির উত্তর, ‘অবশ্য এটা আমাদের জন্য গৌরবের একটা মুহূর্ত।’
প্রথম টেস্টে ভারত ইনিংস হার দিয়ে শুরু করার পর ডারবানে সবুজ উইকেট বানাবে সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। ধোনি কিন্তু তখনই এই বলে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা তাহলে ধরা পড়বে নিজেদের ফাঁদেই। হলোও তা-ই। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে পড়া কেপটাউনের উইকেট কেমন হবে, এ নিয়ে ধোনি নিজেই কৌতূহলী, ‘যত সবুজ উইকেট হবে, আমাদের জন্য ততই ভালো।’
ভারতের এই জয় নিশ্চিত করে দিয়েছে, সিরিজের ফল এখন যা-ই হোক না কেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরেই তারা থাকছে। ডারবানের জয়ের পর নিজেদের ক্যারিয়ার-সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ (ব্যাটিংয়ে ৯-এ) আর জহির খানও (বোলিংয়ে চারে)।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডারবান একরাশ হতাশাই উপহার দিল। গ্রায়েম স্মিথ অবশ্য ভারতকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দেওয়ার আগে দুষলেন প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং, ‘১৩১ রানে অলআউট হওয়ার উইকেট এটা নয়। এক-দুজন ব্যাটসম্যান দুর্ভাগ্যজনক আউট হয়েছেন। ভারত দারুণ বলও করেছে। তার পরও বলব ১৩১ মোটেও ভালো স্কোর নয়।’

সারা দেশের ৮০ বুথে টিকিট

অবশেষে এক দিন পিছিয়েই শুরু হচ্ছে ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টিকিট বিক্রি। ১ জানুয়ারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে বলে পরদিন ২ জানুয়ারি থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে টিকিট বিক্রি করা হবে। সিটি ব্যাংকের ৫০টি এবং অগ্রণী ব্যাংকের ৩০টি শাখায় মোট ৮০টি বুথের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের প্রতিষ্ঠান মানিগ্রাম এই টিকিট বিক্রি করবে।
বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটি (এলওসি) এর আগে বলেছিল, টিকিট কেনার সময় দর্শকদের সঙ্গে রাখতে হবে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। অনেক মানুষের কাছেই এ দুটির কোনোটিই নেই বলে এই প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। টিকেটিং এজেন্সি কায়াজুঙ্গা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ঠিক হয়েছে শুধু পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র নয়, টিকিট বিক্রির সময় অন্য যেকোনো পরিচয়পত্রই গ্রহণ করা হবে। যাঁদের কোনো ধরনের পরিচয়পত্রই নেই, তাঁদের মোবাইল নম্বরসহ ব্যক্তিগত কিছু তথ্য জানাতে হবে। এলওসির স্থানীয় টুর্নামেন্ট পরিচালক আলী আহসান জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই টিকিট বিক্রির সময় টিকিটের ক্রেতা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে।
২ জানুয়ারি থেকে শুধু ম্যাচের টিকিটই বিক্রি হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ১২ হাজার টিকিট ছাড়া হবে পরে। বাংলাদেশে টিকিট বিক্রি হবে শুধু বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলোরই।

টিকিট কোথায় পাবেন
ঢাকা বিভাগ: ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ধানমন্ডি, বনানী, ইসলামপুর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মৌচাক, নিউমার্কেট, উত্তরা ও ইমামগঞ্জ শাখায় টিকিট বিক্রি করবে সিটি ব্যাংক। অগ্রণী ব্যাংক টিকিট বিক্রি করবে মতিঝিলের আমিন কোর্ট করপোরেট ও সাভারের ব্যাংক টাউন শাখায়। এ ছাড়া রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনায়ও টিকিট বিক্রি করবে অগ্রণী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা। সিটি ব্যাংক টিকিট বিক্রি করবে মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জের রেকাবি বাজার, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও গাজীপুরের টঙ্গি শাখায়। কিশোরগঞ্জ আর জামালপুরে টিকিট বিক্রি হবে সিটি ব্যাংকের এসএমই সার্ভিস সেন্টারে।
চট্টগ্রাম বিভাগ: সিটি ব্যাংক টিকিট দেবে চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা, জুবিলি রোড, নিজাম রোড, পাহাড়তলী ও চকবাজার শাখায়। কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কক্সবাজারেও সিটি ব্যাংক শাখায় টিকিট বিক্রি হবে। নোয়াখালীতে টিকিট মিলবে এই ব্যাংকেরই মাইজদী কোর্ট এসএমই সার্ভিস সেন্টারে। অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা ছাড়াও টিকিট ছাড়বে বান্দরবান বাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি শাখা থেকে।
রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরে (এসএমই/এগ্রি) টিকিট বিক্রি হবে সিটি ব্যাংক শাখায়। জয়পুরহাট ও নওগাঁয় অগ্রণী ব্যাংক।
খুলনা বিভাগ: খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় সিটি ব্যাংক শাখা। অগ্রণী ব্যাংকের বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা শাখায়।
বরিশাল বিভাগ: সিটি ব্যাংকের বরিশাল শাখা। অগ্রণী ব্যাংকের ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীর নতুন বাজার ও পিরোজপুরের মেইন রোড শাখা।
সিলেট বিভাগ: সিটি ব্যাংকের হবিগঞ্জ এসএমই সার্ভিস সেন্টার এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, মৌলভীবাজার ও সিলেটের জিন্দাবাজার শাখা।
রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও রংপুরে সিটি ব্যাংক শাখায়। অগ্রণী ব্যাংক টিকিট বিক্রি করবে কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা শাখায়।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপের ৮ ম্যাচ
তারিখ ম্যাচ ভেন্যু
১৯ ফেব্রু. বাংলাদেশ-ভারত (দি/রা) মিরপুর
২৫ ফেব্রু. বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড (দি/রা) মিরপুর
৪ মার্চ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দি/রা) মিরপুর
১১ মার্চ বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড (দি/রা) চট্টগ্রাম
১৪ মার্চ বাংলাদেশ-হল্যান্ড চট্টগ্রাম
১৯ মার্চ বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা মিরপুর
২৩ মার্চ ১ম কোয়ার্টার ফাইনাল (দি/রা) মিরপুর
২৫ মার্চ ৩য় কোয়ার্টার ফাইনাল (দি/রা) মিরপুর

টেন্ডুলকারের বছর

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩২ হাজারের বেশি রান। এই জীবনে ২২ গজে যতবার দৌড়েছেন, যদি উপায় থাকত, শচীন টেন্ডুলকার মনে হয় কেবল দৌড়েই পৌঁছে যেতেন চাঁদে! তবে ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার ছোট্ট মানুষটি অনেক আগেই পৌঁছে গেছেন ক্রিকেটীয় অর্জনের এভারেস্টে। ২০১০, টেন্ডুলকারকে নবরূপে চেনার বছর!
বছরটায় ফিরে তাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চোখে পড়বে অনেক টুকরো ছবি। দারুণভাবে বছর শুরু করেও শেষে অস্ট্রেলিয়ার পতন। স্পট ফিক্সিং নিয়ে তুলকালাম। নিত্যনতুন বিতর্ক আর অঘটনের জন্ম দিয়ে চলা পাকিস্তান ক্রিকেটের। বিতর্কে নাম লেখানো আইপিএলের, ক্ষমতাচ্যুত ললিত মোদি। ইংল্যান্ডের প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা। দিলীপ ট্রফির ফাইনালে ইউসুফ পাঠানের ডাবল সেঞ্চুরিতে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার বিশ্ব রেকর্ড। হাশিম আমলার অক্লান্ত ব্যাট...অনেক কিছুই।
কিন্তু সব ছাপিয়ে উজ্জ্বল তিনি। ভারতের ক্রিকেট-দেবতা টেন্ডুলকার!
জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি টেস্ট ইনিংস খেলার রেকর্ড ভেঙে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরের মাসে গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। এরপর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিশ্রামে যাওয়া টেন্ডুলকারের যাবতীয় অর্জন ছিল টেস্ট আঙিনায়। ক্যারিয়ারের অস্তলগ্নেই যেন মধ্যগগনের সূর্য তিনি। ২৩ ইনিংসে ৭৮.১০ গড়ে ১৫৬২ রান। ৭টি সেঞ্চুরি, ৫টি ফিফটি। বছরের শেষটা টেন্ডুলকার করেছেন টেস্টে তাঁর ৫০তম সেঞ্চুরি দিয়ে। অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, অভাবিত, অভূতপূর্ব!
ব্যক্তিগত অর্জনে টেন্ডুলকারের পরেই আমলা। টেস্টে ১৪২২ রান করেছেন বীরেন্দর শেবাগ, জোনাথন ট্রট (১৩২৫) আর অ্যালিস্টার কুকের রানও (১২৮৭) তাঁর চেয়ে বেশি। কিন্তু টেস্ট-ওয়ানডে মিলে আমলার চেয়ে ধারাবাহিক ছিলেন না আর কেউই। দুই ধরনের ক্রিকেটে তাঁর মোট রান ২৩০৭। ১০টি সেঞ্চুরি, ৮টি ফিফটি।
দলগত অর্জনে বছরটা ছিল ইংল্যান্ডের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। তাদের প্রথম কোনো বড় ট্রফি। ওয়ানডেতেও ইংল্যান্ড ছিল ধারাবাহিক। ১৭ ওয়ানডের ১২টিই জিতেছে। আর টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ ড্র করে আসার পর বাংলাদেশে জিতেছে। পরের সিরিজে বাংলাদেশকে আতিথ্য দিয়ে হোয়াইটওয়াশ করেছে ২-০-তে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে ৩-১-এ। এরপর চলতি অ্যাশেজের কথা তো সবার জানা।
ইংলিশদের ক্রিকেটাসন যখন শক্ত হচ্ছে, সেই সময়ই অস্ট্রেলিয়ার পতন অব্যাহত। বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করলেও ফিরতি সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছে। এরপর ভারতের কাছে ধবলধোলাই। র‌্যাঙ্কিংয়ে নেমে গেছে পাঁচে।
ক্রিকেটে বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল বছরের গোড়ায় অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান সিডনি টেস্ট থেকেই। যে ম্যাচে দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও হারে পাকিস্তান। ওই সফরের ১০ ম্যাচের প্রতিটিতেই হারা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ওপর শাস্তির খড়্গ নেমে আসে। ইউসুফ, ইউনুস, শোয়েব মালিক—তিন সাবেক অধিনায়ক হন বরখাস্ত। সাত ক্রিকেটারকে করা হয় জরিমানা। রাগে-হতাশায় আরেকবার অবসর নিয়ে ফেলেন ইউসুফ।
দলকে নেতৃত্ব দিতে চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরেন শহীদ আফ্রিদি। কিন্তু লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজয়ে আবারও অবসরে যান। অধিনায়ক হন সালমান বাট। হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়েই শুরু করেন বাট। কিন্তু প্রশংসার স্রোতে ভাসলেন সামান্য সময়। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফাঁস করে দেয়, অধিনায়ক বাটের পরামর্শে ইচ্ছাকৃত নো বল করেছেন মোহাম্মদ আসিফ আর মোহাম্মদ আমির। ওই সিরিজের পর থেকে এই তিন ক্রিকেটার সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ।
ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক মুত্তিয়া মুরালিধরন। তবে বিদায় নেওয়ার আগে ঠিকই স্পর্শ করে গেছেন ৮০০ উইকেটের চূড়া।

কষ্টে জিতল শেখ রাসেল

খেলা শেষে ক্লান্ত শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের ফুটবলাররা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ডাগ-আউটের পাশে বসে থাকা খেলোয়াড়দের কাছে গিয়ে এক ক্লাব কর্মকর্তা ধমকের সুরে কিছু বলতেই স্ট্রাইকার মোহাম্মদ ইউসুফ জবাব দিলেন, ‘খেলায় এটা হতেই পারে।’ সত্যি, ফুটবলে গোল মিস হতেই পারে। তাই বলে এমন গোল মিস করা বিসদৃশ! শেখ রাসেল ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে কাল শুরু করেছে তাদের গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লিগ অভিযান, কিন্তু জয়টা অবশ্যই বড় হতে পারত। জয়সূচক গোলটি করেছেন মরক্কান স্ট্রাইকার সামির ওমারি।
ঘাম ঝরানো এই জয় স্বস্তি দিয়েছে ক্লাবটির কোচ মাহমুদুল হককে (লিটন)। খেলায় ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন শেখ রাসেলের চার বিদেশি—ক্যামেরুনের চার্লস, ঘানার মরো মোহাম্মদ, মরক্কান সামির ওমারি ও আব্বাস ইনুসাহ।
গোলশূন্য প্রথমার্ধে খুব বেশি আক্রমণে যেতে পারেনি শেখ রাসেল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া ছিল দলটি। দুই উইং দিয়ে বারবার আক্রমণের ফলে ৬৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে চার্লসের ক্রসে দারুণ এক শটে গোল করেছেন সামির ওমারি। এর আগে ও পরে গোলের সুযোগ তারা পেয়েছিল কয়েকবার। ৪৪ মিনিটে গোলরক্ষক সুজনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ইউসুফ। ৮২ মিনিটে ওমারির বানিয়ে দেওয়া বলে শুধু পা লাগানোর কাজটা করতে পারেননি ওই ইউসুফ।
বাংলাদেশ লিগের গত আসরে তৃতীয় হওয়া শেখ রাসেল এবার প্রথম ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়াতেই খুশি কোচ মাহমুদুল হক, ‘ছেলেদের পারফরম্যান্সে খুশি। তবে গোল আরও বেশি হতে পারত। প্রথম ম্যাচ বলে একটু নার্ভাস ছিল ওরা।’ তিন মৌসুম ধরে বাংলাদেশে খেলছেন সামির ওমারি। গত লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৫) সামির ওমারি গত ফেডারেশন কাপে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আবাহনীর বিপক্ষে। সেই ভুলের মাশুল দেয় তারা শেষ চারে উঠতে ব্যর্থ হয়ে। এবার সে ভুল আর করতে চান না তিনি, লক্ষ্য সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার, ‘এবারও লক্ষ্য থাকবে সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়ার।’
হেরেও ফরাশগঞ্জ কোচ কামাল বাবু খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন না, ‘ছেলেরা যা খেলেছে তাতে সন্তুষ্ট। নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় কিংসেলের ছাড়পত্র দেয়নি লিগ কমিটি। অথচ অনেক আগেই আমরা আবেদন করেছিলাম। ও থাকলে ফলটা অন্যরকম হতে পারত।’

বছরের শেষ ম্যাচে চেলসির জয়

খোঁড়াতে থাকা একটা বছরের ‘সুযোগ্য’ সমাপ্তি টানল লিভারপুল। বছরের শেষ ম্যাচে নিজেদের মাঠে হেরে গেল ১-০ গোলে। সেই পরাজয়ও কিনা অবনমন অঞ্চলের দল উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে! কোচ রয় হজসনের মোবাইলে ‘হ্যাপি নিউইয়ার’ বার্তা বুঝি জমা পড়বে না একটিও!
লিভারপুলের ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা পরশুই স্লোগান দিয়েছে হজসনের বিরুদ্ধে। ইংলিশ লিগের সবচেয়ে দুটি সফল দলের একটি (১৮ বার শিরোপা জেতা) লিভারপুলের এই পরিণতি কার ভালো লাগে!
চেলসি সমর্থকেরাও হয়তো আটঘাট বেঁধেই গিয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির নামে দুয়ো দিতে। সেই ১০ নভেম্বরের পর লিগে একটি ম্যাচও জেতেনি। চেলসি আগের আট ম্যাচে কুড়িয়েছে মাত্র ৬ পয়েন্ট। বছরের শেষ ম্যাচে অবশ্য আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জয়ই পেয়েছে তারা। যদিও বোল্টনের বিপক্ষে ফ্লোরেন্ত মালুদার একমাত্র গোলটি এসেছে ম্যাচের ৬১ মিনিটে।
তবে চমক দিয়েছে উইগান অ্যাথলেটিক। অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট দূরত্বে থাকা দলটি পরশু লিগে আটকে দিয়েছে আগের ম্যাচেই চেলসির বিপক্ষে দারুণ জয় পাওয়া আর্সেনালকে। ২-২ গোলে ড্র করায় আর্সেনাল পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে আসার সুযোগ হারিয়েছে। অবশ্য উইগানের ড্রয়ে আছে ভাগ্যের পরশ। তাদের দুই গোলের প্রথমটি পেনাল্টি আর দ্বিতীয়টি আত্মঘাতী। শেষ পর্যন্ত তাই আরশাভিন (৩৯ মিনিট) আর বেন্টনারের (৪৪ মিনিট) গোল দুটো এনে দিয়েছে একটি পয়েন্ট।
আর্সেন ওয়েঙ্গার আর হজসনের ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ যেমনই যাক, আনচেলত্তি অন্তত নিশ্চিন্তে শ্যাম্পেনে চুমুক দিতে পারবেন। মালুদার গোল নিয়ে অবশ্য তীব্র আপত্তি আছে বোল্টনের। দিদিয়ের দ্রগবা আগেই অফসাইডে ছিলেন। যদিও রেফারি সেই দাবিতে কান দেননি। ম্যাচ শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনচেলত্তি তাই বলতে পারলেন, ‘এই লিগটাকে ভয়ংকর বলতেই হবে। কারণ এখানে যেকোনো দলই যে কারও ঘাম ছুটিয়ে দিতে পারে।’
আনচেলত্তির এই কথায় লুকিয়ে আছে আশাবাদও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটিও কি দুঃসময় আসবে না!

মোহামেডানের পাহাড় টপকাল গাজী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন শ রান তাড়া করে এখন হরহামেশাই জিতে যাচ্ছে দলগুলো। কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনো তিন শ মানে নিশ্চিত জয়। ৩৩৯ করার পর তাই নিশ্চিন্তই থাকার কথা ছিল মোহাডোনের। অথচ এই রানও কত অনায়াসে টপকে গেল গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স! টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শাহরিয়ার নাফীসের অপরাজিত ১১৪, শ্রীধরন শ্রীরামের ৭৩ ও অলক কাপালির ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝড়ে বগুড়ায় গাজী ট্যাংক জিতেছে ৭ উইকেটে। মোহামেডানের আবারও পয়েন্ট হারানোর দিনে টানা পঞ্চম জয় পেয়েছে আবাহনী। ওল্ড ডিওএইচএসকে আবারও জিতিয়েছেন মেহরাব জুনিয়র।
বগুড়ায় চতুর্থ ওভারে তামিম ইকবাল (১২) ও ১৬তম ওভারে মঈন আলীকে (২৮ বলে ৩২) আউট করার পর আরেকটি উইকেটের জন্য গাজীকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৪ ওভার! শামসুর রহমানকে নিয়ে নাজিমউদ্দিন গড়েন ১৬৬ রানের জুটি। ৫৬ বলে ফিফটি করা নাজিমউদ্দিনের পরের ফিফটি করতে লেগেছে ৪১ বল। অলক কপালির বলে স্টাম্পড হওয়ার আগে ১৩ চার ও ২ দুই ছয়ে করেছেন ১১৫। অলক পরের ওভারে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফকেও (৫)। তবে ফয়সাল হোসেনের ‘ক্যামিও’তে শেষ ৫ ওভারে মোহামেডান তোলে ৬০। শামসুর অপরাজিত থেকে যান ১১১ বলে ১০৮ করে।
মিঠুনের ২৪ বলে ২৪ ও সাব্বিরের ২৬ বলে ৩৮ রান গাজীকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ঝোড়ো সূচনা। পরে রান এসেছে শাহরিয়ার-শ্রীরাম জুটিতে। ১৫১ রানের জুটির পর যখন শ্রীরাম বিদায় নেন, তখনো গাজীর প্রয়োজন ৭০ বলে ১১৮। শেষ ৫ ওভারে ৫৬। অলকের ৬ চার ও ৪ ছয়ের ইনিংস গাজীকে জয় এনে দেয় ৮ বল আগেই। শাহরিয়ার অপরাজিত থেকে যান ১৩১ বলে ১১৪ করে।
প্রথম ম্যাচেই ভারতীয় ব্যাটসম্যান মিঠুন মানহাসের ৮০ বলে ৮৯, বহিষ্কারাদেশ কাটিয়ে ফেরা মাহমুদউল্লাহর ফিফটি (৬৬), যশপাল শর্মার ৩১ বলে ৪২ বিকেএসপিতে আবাহনীকে এনে দেয় ২৭৪ রান। শাহবাজ বাট ও অমিত মজুমদারের ১০১ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবাহনীকে চাপে রেখেছিল সিসিএস। এই জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে সিসিএস। নাজমুল হোসেনের ৪২ বলে ৫৩ শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
টানা চার ম্যাচ ফিফটি করা মুশফিকুর করেছেন ৩৭, রাজশাহীতে বিমানও তাই করতে পারে মাত্র ১৮২। ২৬ রানে ৩ উইকেট হারানো ডিওএইচএস আবারও পথ খুঁজে পায় মেহরাবের ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে রাশেদ হানিফের সঙ্গে ৭৬ রানের জুটি গড়া মেহরাব ফিরেছেন দলকে জিতিয়েই।
সং ক্ষি প্ত স্কো র
আবাহনী: ৫০ ওভারে ২৭৪/৭ (মানহাস ৮৯, মাহমুদউল্লাহ ৬৬, যশপাল ৪২, রনি ২৪, সগীর ২৩; বিশ্বনাথ ৩/৫১, ওয়াকাস ২/৫০, রিফাতুজ্জামান ১/২৯, সৈকত ১/৩৭)। সিসিএস: ৪৮.১ ওভারে ২৩৯ (শাহবাজ ৭২, নাজমুল ৫৩, অমিত ৪৮, শুভাগত ২০, সাকলাইন ৩/৩২, ফরহাদ ৩/৪৫, তাপস ২/৫০, মাহমুদউল্লাহ ১/২৯, আবুল হাসান ১/৫৩)। ফল: আবাহনী ৩৫ রানে জয়ী।

মোহামেডান: ৫০ ওভারে ৩৩৯/৫ (নাজিমউদ্দিন ১১৫, শামসুর ১০৮*, ফয়সাল ৩৪* মঈন ৩২; অলক ২/১০, নাসির ১/২২, ভুবনেশ্বর ১/৪৯, রাসেল ১/৮৭)। গাজী: ৪৮.৪ ওভারে ৩৪০/৩ (শাহরিয়ার ১১৪*, শ্রীরাম ৭৩, অলক ৬৩*; সাকিব ২/৬৩, এনামুল ১/৩৬)। ফল: গাজী ট্যাংক ৭ উইকেটে জয়ী।

বিমান: ৪৯.৩ ওভারে ১৮২ (জিসান ৩৮, মুশফিকুর ৩৭, পেরেরা ৩৭, মোশারফ ২১; ফরহাদ রেজা ৪/৩১, নাবিল ২/১৯, তাসকিন ১/৩৪, শফিউল ১/৩৪, রাশেদ ১/৪৩)। ডিওএইচএস: ৪৬.৪ ওভারে ১৮৫/৬ (মেহরাব ৭৩*, রাশেদ ৪৫; ইলিয়াস ৩/৪০, শফিউল ২/২৪, মনোয়ার ১/২১)। ফল: ডিওএইচএস ৪ উইকেটে জয়ী।

তামিম-সাকিবকে অস্ট্রেলিয়া দলে দেখেন সিডন্স!

অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে রিকি পন্টিংদের সঙ্গে আছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালও! শেন ওয়াটসনের সঙ্গে ওপেন করতে নামছেন তামিম, ছয় নম্বরে নামার অপেক্ষায় আছেন সাকিবও! শুধু তা-ই নয়, পন্টিং এসে সাকিবের কানে কানে বলে গেলেন, ‘আজ কিন্তু পাঁচটা উইকেট চাই!’
অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ান কোচ জেমি সিডন্সের চোখে এসব মোটেও অস্বাভাবিক নয়। অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে অস্ট্রেলীয় দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডন্স বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া দলে অনায়াসে জায়গা হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব ও তামিমের। ‘ডিনামাইটের মতো কয়েকজন খেলোয়াড় আছে আমাদের দলে। সাকিব অস্ট্রেলিয়া দলে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে পারে, হতে পারে তাদের এক নম্বর স্পিনারও। আর শেন ওয়াটসনের সঙ্গে তামিম ইকবাল অনায়াসেই ওপেন করতে পারে’—বলেছেন সিডন্স।
সিডন্সের চোখে ভারতের বীরেন্দর শেবাগ আর তামিম ইকবালে কোনো পার্থক্য নেই। সাকিব আল হাসানও সমকক্ষ নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টোরির, ‘আমি তো বলব সে (সাকিব) এবং ভেট্টোরি একই রকম খেলোয়াড়। বরং ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব তার চেয়ে অনেক ভালো। আর ইংল্যান্ডে সেঞ্চুরি করা তামিম-শেবাগেরই মতো, অসাধারণ খেলোয়াড় সে।’
বিশ্বকাপ শেষে আগামী এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসার কথা। সিডন্স তাকিয়ে সেই সিরিজের দিকে, ‘অস্ট্রেলিয়া স্পিনে কিছুটা দুর্বল, বিশেষ করে আমাদের বাঁহাতি স্পিনারদের সামনে। কাজেই এটা নিশ্চিত, দারুণ একটা সময়েই আমরা তাদের পাব।’ সিডন্সের বিশ্বাস, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই পড়তে হবে।
সফরে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে হওয়ার কথা থাকলেও অস্ট্রেলিয়া চাইছে টেস্ট দুটি পরে খেলে এপ্রিলে শুধু ওয়ানডে সিরিজটাই খেলতে। তবে টেস্টেও তাদের মুখোমুখি হতে সিডন্সের যেন তর সইছে না, ‘তাদের (অস্ট্রেলিয়া) বিপক্ষে অনেক দিন ধরে আমরা টেস্ট খেলি না। জানি না কেন, তবে তাদের বিপক্ষে খেললে দারুণ হতো।’

ভারতকে যেকোনো সময় হারাতে পারে ইংল্যান্ড: ড্যারেন গফ

আইসিসির টেস্ট র‌্যআকিংয়ে ভারতের শীর্ষস্থানটা নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক ইংলিশ ফাস্ট বোলার ড্যারেন গফ। ইংল্যান্ডকেই এই মুহূর্তের সেরা দল দাবি করে গফ বলেছেন, ভারতকে তাঁরা যেকোনো সময়ই হারাতে পারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেয়ে সিরিজে সমতা ফেরালেও প্রথম টেস্টে রীতিমতো নাকাল হতে হয়েছিল ভারতকে। টেস্টে তারা হেরেছিল ইনিংস ও ২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। অন্যদিকে ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ ধরে রাখার কীর্তি গড়েছে ইংল্যান্ড। দুটি টেস্টে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ইনিংস ব্যবধানে। ড্যারেন গফ তো এখন ইংল্যান্ডকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস দেখাতেই পারেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে ইংল্যান্ডই এই মুহূর্তের সেরা দল। আমি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজটা দেখেছি। আর টেস্ট র‌্যআংকিংয়ের এক নম্বর দলটাকে নিয়ে বলার মতো কিছু আমি দেখলাম না। ভারত নিজেদের মাটিতে একটা অসাধারণ দল, তাদের বেশ কিছু বিশ্বমানের ক্রিকেটার আছে। কিন্তু তাদের যেকোনো সময়ই হারানোর ক্ষমতা ইংল্যান্ডের আছে।’ এই দলটাকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই পেসার। আগামী বেশ কয়েক বছর বিশ্ব ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের আধিপত্য থাকবে বলেও তিনি আশাবাদী।

কেপটাউনে সুবিধা পাবেন ব্যাটসম্যানরা

ভারতের ২০৫ রানের জবাবে ১৩১। জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয় ২১৫ রানে—ডারবান টেস্টে ব্যাটসম্যানদের হতাশার চিত্র এটি। তবে কেপটাউনে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় ও সিরিজের শেষ টেস্টে ব্যাটসম্যানরা সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার কিউরেটর।
দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য স্টেডিয়ামগুলোর চেয়ে কেপটাউন একটু ভিন্ন। বোলারদের বদলে এখানে তুলনামূলক সুবিধা পান ব্যাটসম্যানরা। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে জানিয়ে কিউরেটর ইভান ফ্লিন্ট ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘আগের বছরগুলোর তুলনায় পিচ ভিন্ন হবে না। দুই দলের ব্যাটসম্যানদের জন্যই এটি সুবিধার হবে। গত দুটি টেস্টে তাঁদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট করতে হয়েছে। আশা করছি, কেপটাউনে এমনটা হবে না। পুরো পাঁচ দিন ধরেই চলবে টেস্ট।’
ফ্লিন্ট স্বীকার করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে বরাবরই পেস ও বাউন্সি উইকেট চায়। তার পরও ব্যাটিং সহায়ক উইকেট করা প্রশ্নে ফ্লিন্ট বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই, এ পিচেও ভালো করতে সক্ষম দক্ষিণ আফ্রিকা। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আশা করছি, দক্ষিণ আফ্রিকা তার শক্তি অনুযায়ী খেলতে পারবে।’

উইকিলিকস- পরাশক্তির বিরুদ্ধে এক ‘ভবঘুরের’ স্পর্ধা by ফারুক ওয়াসিফ

ত্তেজনা ও গোলমাল এই যুগের আবহ। সেই আবহে উইকি একসঙ্গে চমক ও চিন্তা দুটোই জোগাল। মঞ্চের আলোর মাঝখানে হঠাৎ মুখোশ খসে গেলে দেখা গেল, সিংহাসনে বসা লোকটি আসলে খলনায়ক। সাধু হয়ে গেল চোর আর চোর হলো সাধু।
কে চোর কে সাধু?
আমেরিকাসহ রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক শক্তিরা এত দিন একচেটিয়াভাবে অন্যের তথ্য চুরি করে বেড়িয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ- আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণ দেওয়া হলো না by হাসান ফেরদৌস

ত ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শুরু। তার এক দিন পরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভা বসে, কী করা যায় তা বিবেচনা করতে। বাংলাদেশের পক্ষে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী অনুরোধ করেছিলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তাঁকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হোক। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত সে প্রস্তাব সমর্থন করলেও চীনের প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল হয়ে যায়।