Thursday, November 28, 2013
আমরা কবে পৌঁছাব গণতন্ত্রের অভীষ্ট লক্ষ্যে? by কারার মাহমুদুল হাসান

৭ম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ জুন ১৯৯৬ সালে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট দেয় ভোটের ৩৭.৪৪ ভাগ ভোট পেয়ে ১৪৬টি সদস্যপদে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়। এ নির্বাচনে (যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়) বিএনপি মোট দেয় ভোটের ৩৩.৬০ ভাগ (১১৬ সংসদ সদস্যপদে জয়ী), জাতীয় পার্টি মোট দেয় ভোটের ১৬.৪০ ভাগ (প্রাপ্ত সংসদ সদস্যপদ ৩২), জামায়াতে ইসলামী মোট দেয় ভোটের ৮.৬১ ভাগ (প্রাপ্ত সংসদ সদস্যপদ ৩টি) ভোট লাভ করে।
১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩০০ আসনের মধ্যে ২ জন, বিএনপির ৩৬ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ৩৪ জনের মধ্যে ৩৩ জন, জাসদের (ইনু) ৩০ জনের মধ্যে ২৯ জন এবং বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের ৪ জনের সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় অতিশয় নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অধীনে। সে নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ১৪০টি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয় এবং বিএনপির মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ৫৪৯, যা মোট দেয় ভোটের ৩০.৮১ ভাগ। দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে মোট ২৬৪টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮৮টি আসনে বিজয়ী হয় এবং দলটির মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৬, যা মোট দেয় ভোটের ৩০.০৮ ভাগ। এছাড়া হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (তিনি তখন কারাগারে অন্তরীণ) জাতীয় পার্টি ২৭২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৭ ভোট পায় (শতকরা হারে প্রাপ্ত ভোট ১১.৯২ ভাগ) এবং ৩৫টি আসন লাভে সক্ষম হয়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ২২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এ দলের মোট প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬১। দলটি জাতীয় পার্টি থেকে বেশি ভোট পেয়েও (শতকরা হারে প্রাপ্ত ভোট ১২.১৩ ভাগ) মাত্র ১৮টি আসন লাভে সক্ষম হয়।
ওই নির্বাচনে বিগত মহাজোটের অংশীদার জাসদ (ইনু) ৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাকুল্যে ভোট পেয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ১১টি। তবে কোনো আসন লাভ করতে পারেনি। বিগত মহাজোটের আরেক অংশীদার ওয়ার্কার্স পার্টি (তখন দলটি ভাগ হয়নি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাকুল্যে ভোট পেয়েছিল ৬৩ হাজার ৪৩৪টি, যদিও ওই নির্বাচনে তারা একটি আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। একইভাবে জোটের অংশ বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল মোট ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাকুল্যে ১১ হাজার ২৭৫টি ভোট লাভ করেছিল। সে দলের এক কাণ্ডারি দিলীপ বড়–য়া ছিলেন সদ্য বিদায়ী মহাজোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী। ওই নির্বাচনে সিপিবিও অংশ নিয়েছিল জোটের দল হিসেবে। তাদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭ হাজার ৫১৫ এবং প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল পাঁচ।
এখানে উল্লেখ করার বিষয় হল, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শতকরা হারে বিএনপির প্রায় সমান ভোট লাভ করলেও বিএনপির তুলনায় অর্ধশতাধিক আসন কম পায়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও চিন্তাবিদরা কোনো গবেষণা করেছেন কি-না জানা নেই।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে যৎকিঞ্চিৎ আলোচনা করতে চাই। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়, ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ প্রদানের ঘোষণাসহ বড় বড় ওয়াদা। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোটের অংশ হিসেবে জাসদ (ইনু) হাসানুল হক ইনুসহ ৩টি আসনে এবং ওয়ার্কার্স পার্টি (মেনন) সাকুল্যে ২টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। দল দুটি এ নির্বাচনে সাকুল্যে ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫৩৭টি ভোট লাভ করেছিল। দিলীপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দল পেয়েছিল ২৯৭ ভোট।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত ওয়াদাগুলোর কতভাগ গত পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বড় বড় বিলবোর্ডে দৃষ্টিনন্দন অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে শেয়ার মার্কেট, হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ্ গ্র“প, রেলওয়ের কালো বিড়াল এবং পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট কথিত দুর্নীতি ইত্যাদি ঘটনা মহাজোট সরকারকে জনসমর্থনে এগিয়ে নিতে পারেনি, যার আলামত পাওয়া গেছে সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ২২ বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশের জনগণ অতি আশা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু করেছিলাম। এ দুই দশকে এবং তার আগের দশকেও দেশে অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, সন্দেহ নেই। তবে ‘গণতন্ত্রে’র ধারণা আমাদের রাজনীতিকদের কাছে একটি নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং কমবেশি পাঁচ বছর পরপর এ কাজটি সম্পন্ন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। দেশের জনগণ পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের সবকিছুর ‘মালিক’ মনে করে উৎফুল্ল ও আনন্দবোধ করেন। নির্বাচনের পর তাদের কথা ভাবার সময় পান না ক্ষমতাসীনরা। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সরকারি দলের নব্য ও পুরনো সমর্থকরা তখন নির্বাচন-পরবর্তী সব ভাবনা, সময় ও শক্তি নিয়োজিত করেন নতুন টেলিভিশনের লাইসেন্স, রাজউকের প্লট বরাদ্দ, নতুন ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ খোলার ও সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার ক্রয়ের পারমিট, সেই সঙ্গে ক্ষেত্র বিশেষে বিদেশে লোক পাঠানো ও দেশে চাকরি প্রদানের নামে মাথাপিছু ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট নেয়ার কাজগুলো সূচারুভাবে সম্পন্ন করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে। এ অবস্থায় তাদের আমজনতার কথা ভাবার ফুরসত কোথায়! উদ্বেগের সঙ্গে অনুমান করা যায়, নাদান দেশবাসী আরও কয়েক বছর এভাবেই ‘গণতন্ত্র’ বিষয়ে ধাক্কাধাক্কির সুমহান কাজগুলো সহিসালামতে সম্পন্ন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের অভীষ্ট লক্ষ্যে তথা মনজিল মক্সুদে একদিন না একদিন পৌঁছে যেতেও পারে।
কারার মাহমুুদুল হাসান : সাবেক সচিব; ’৬২-এর শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা কলেজ থেকে রাস্টিকেটকৃত ১১ জনের একজন
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দলনিরপেক্ষতা প্রমাণেই সংকটের সমাধান by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার

তবে এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। যদিও এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ।
শেষ মুহূর্তে কাকতালীয় কিছু না ঘটলে প্রধান বিরোধী দল ছাড়াই হয়তো বর্তমান সরকারকে নির্বাচনে যেতে হতে পারে। তবে পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকায় বর্তমান তফসিল ঘোষণা রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে হয়তো অন্তরায় হবে না। এখন নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে তাদের আন্তরিকতা, নিরপেক্ষতা ও সদিচ্ছার পরীক্ষা দিয়ে এ সংকটের সমাধান করতে হবে। সরকার এতদিন বলে এসেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকারে রূপ নেবে। তফসিল ঘোষিত হয়েছে। এখন তাই সরকারের প্রতিশ্র“তি রক্ষার সময় এসেছে। সরকারকে কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। আর এ প্রমাণ শুরু হবে বিটিভির নিরপেক্ষতা প্রমাণের মাধ্যমে। বিটিভিকে সংবাদ ও অনুষ্ঠানে সরকারের গুণগান প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিটিভির এমন নিরপেক্ষ ভূমিকাই বিরোধী দল ও জনগণের কাছে এই বার্তা দেবে যে, নির্বাচনকালীন সরকার সত্যিকার অর্থেই সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে চায়।
নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় নির্বাচন কমিশন নিজেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য যে আত্মঘাতী তৎপরতা চালিয়েছে তা ইতিহাসের নির্লজ্জ প্রহসন। বিএনএফের মতো একটি ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রদান নিয়ে যে নাটক মঞ্চস্থ হয়, তা অতীতের সব রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। ওই নাম-সর্বস্ব রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন না দিলে এদেশের গণতন্ত্রের কোনো আহামরি ক্ষতি হতো না। বরং ওই নিবন্ধন প্রদানের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের নগ্ন পক্ষপাতিত্ব এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে যাই হোক, অতীতকে পেছনে ফেলে বিরোধী দলকে আস্থায় আনতে নির্বাচন কমিশনকে এখন কিছু বাস্তবধর্মী নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানকে তফসিল প্রত্যাখ্যানকারী দলগুলো ও জনগণের কাছে প্রমাণ করার সময় এসেছে যে, তারা কোনোভাবেই ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ নয়; প্রয়োজনে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না। তাদের কাছে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে সরকারি দল, বিরোধী দল ভেদাভেদ নেই। সরকারি দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়া আচরণবিধির এমন কয়েকটি ধারাকে প্রয়োজনবোধে সংশোধন করা যেতে পারে।
নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বও কম নয়। তারা এতদিন ছিল দলীয় সরকার। তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর তারা অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকারে রূপ নিয়েছে। তবে শুধু কাগজে-কলমে নির্বাচনকালীন সরকার হলে চলবে না। এ সরকারকে তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে তার প্রমাণ দিতে হবে। পুলিশ ও আইন-শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কোনো বিশেষ দলের প্রতি অনুগত নয়। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি সমান আচরণ করবে। বিরোধী দলের মিছিলে লাঠিপেটা, গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং সরকারি দলের মিছিলে নিরাপত্তা প্রদানের যে রেওয়াজ তারা এতদিন চর্চা করেছে তা পরিত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য দলীয় লোক যতটা না অন্তরায় তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায় দলবাজ বা দলকানারা। ওইসব ব্যক্তি নিজেদের শতভাগ দলীয় লোক প্রমাণ করতে গিয়ে এমন কিছু কাজ করে যা সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই নির্বাচনকালীন সরকারকে এখনই ওইসব দলকানাকে প্রশাসন, পুলিশ বা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা বাঞ্ছনীয়।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের হর্তাকর্তাদের বহুবার আমরা বলতে শুনেছি, এখন মিডিয়া এত শক্তিশালী যে, কোনোভাবেই নির্বাচনে কারচুপি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে দেখেছি সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, অপকর্মের ফিরিস্তি সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনের জেরে বহু সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছে। বিগত সময়ে ওইসব সাংবাদিক নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকার দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আমরা আশা করি।
জেলে বন্দি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের রেখে বিরোধী দল কখনও নির্বাচনে আসবে না সে কথা হলফ করে বলা যায়। এমন আশা করাও অগণতান্ত্রিক। তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনাও সরকারের দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ওই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতারকৃত নেতাদের ছাড়া রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হওয়া সব বন্দিকে মুক্তি প্রদানের বিকল্প নেই। বিলবোর্ডে সরকারের সাফল্য প্রচার এ সরকারের শেষ সময়ে এসে জোরেশোরেই শুরু হয়েছিল। গত ঈদের আগে এক রাতেই ঢাকা শহরের সব বিলবোর্ড দখল হয়ে গিয়েছিল। ওই বিলবোর্ডগুলোতে শুধু সরকারের গুণকীর্তনই প্রচারিত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এখনও মহাজোট সরকারের সাফল্যের ফিরিস্তি সংবলিত ওইসব রঙিন বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। এতে নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এখনই ওই বিলবোর্ডগুলোর অপসারণ জরুরি।
গত সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের আমরা সংযম প্রদর্শন করতে দেখেছি। শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে আন্দন মিছিল করা থেকে বিরত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের এ আচার-আচরণে পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তারা প্রায় সারা দেশে আনন্দ মিছিল করেছে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু বেতন বাড়ালেই চলবে না by ধীরাজ কুমার নাথ

বর্তমান কমিশন হচ্ছে অষ্টম বেতন কমিশন। এর আগে বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল ১৯৭৩, ১৯৭৬, ১৯৮৪, ১৯৯০, ১৯৯৭, ২০০৪ ও ২০০৭ সালে। প্রতিটি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে এবারের কমিশনকে বলা হচ্ছে বেতন ও চাকরি কমিশন, যার অর্থ হচ্ছে- এ কমিশন বেতন-ভাতা ছাড়াও চাকরির বিষয়টি দেখবে, যা হবে অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ। সপ্তম বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদানে ১৪ মাস সময় নিয়েছিল। তাই বর্তমান কমিশন কিভাবে ৬ মাসের মধ্যে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করবে? অবশ্যই সময় বাড়াতে হবে।
এছাড়া এরূপ মৌলিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে জনপ্রিয় ও সদিচ্ছাসম্পন্ন সরকারের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার প্রয়োজন আছে। সরকার যে তার আমলাতন্ত্রকে নিরপেক্ষ, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত দেখতে চায়, এ ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে। সরকার ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গৃহীত সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টকে ২০১৩ সালের নভেম্বর অবধি অনুমোদন দেয়নি। তাহলে তারা কি আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী দেখতে চাইবে? এমন প্রশ্ন অনেকের। এ কথা মনে রেখেই সম্ভবত নবগঠিত কমিশনকে কাজ শুরু করতে হবে।
তবে আরও অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, যেমন- সপ্তম বেতন কমিশন পরিবারের সদস্য সংখ্যা ধরেছে ৪ জন, এবার ধরা হবে ৬ জন, কারণ পরিবারের দু’সন্তানের সঙ্গে মাতা ও পিতাকে যুক্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিু বেতনের অনুপাত কত হবে- এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সপ্তম বেতন কমিশন সচিবের বেতন ধরেছিল ৪৫ হাজার টাকা এবং একজন এমএলএসএসের বেতন ধরেছিল ৪০০০ টাকা। অনুপাতটি দাঁড়ায় ১১:১, যার বিরুদ্ধে নিুপদস্থ কর্মচারীরা প্রতিবাদ করেছিল। এবার এ সমস্যার একটি অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দিতে হবে। এছাড়াও বর্তমান বেতন স্কেল বা গ্রেড আছে ২০টি, যার সংশোধন হওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করেন। অনেকের ধারণা, এর সংখ্যা হতে পারে ঊর্ধ্বে ১১টি। এসব জটিল বিষয় নিয়ে শুধু কমিশনকে এককভাবে ভাবলে চলবে না; উপকারভোগী, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের অভিমত নিতে হবে। এছাড়াও দেশ-বিদেশে অনুসৃত ও সফল কর্মসূচি দেখে এবং সরকারের আর্থিক ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে সুপারিশ প্রণয়ন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বেতন-ভাতা বাড়িয়ে বাজারমূল্যকে প্রভাবিত করা কোনো টেকসই ও বিধিসম্মত সমাধান নয়। আবার অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সরকার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানে দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র প্রায় ৩ শতাংশ ব্যয় করে। কর্মচারীদের খুশি করার জন্য আরও বেশি ব্যয় করা হলে তা উন্নয়নের গতিধারাকে মন্থর করে দেবে, যা অবশ্যই অনভিপ্রেত।
এছাড়াও অনেক বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ মনে করে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে ব্যবসায়ী ও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব পড়ে, যার দায়ভার বহনের ক্ষমতা কোম্পানির মুনাফার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যেমন দেখা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পে এবার সর্বনিু ৫৩০০ টাকা বেতন নির্ধারণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিজিএমইএ। ওয়েজ বোর্ডের বিনির্ণয় বা রোয়েদাদ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের প্রতিপালনের জন্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা ছাড়াও এর মৌলিক দর্শন বা লক্ষ্য হতে হবে, সচ্ছল জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা প্রদান করে তাদের দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শুদ্ধাচারের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করা। এমনটি করতে পারাই হচ্ছে সরকারের দূরদর্শিতা এবং দেশবাসীর অভিপ্রায়।
জনগণের সেবক ও দেশের উন্নয়নকর্মী হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের অবদান রাখার সুযোগ দেবে সরকার। নীতিমালা অনুসারে আইন ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের অবস্থান হবে সুদৃঢ় এবং তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর নিদর্শন রাখবে তাদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনে- এটাই জনগণের প্রত্যাশা। যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধি কোনো কাজে না লাগে বা দৃশ্যমান না হয়, তাহলে এ খাতে অর্থব্যয় শুধু অপব্যয় হিসেবেই চিহ্নিত হতে পারে বলে অনেকের অভিমত।
আবার অপর একশ্রেণীর অর্থনীতিবিদ মনে করেন, নগদ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পরিবর্তে সরকার অধিগম্য বা বাস্তবমুখী সুযোগ প্রদান করে সরকারি কর্মচারীদের যাপিত জীবনে অবদান রাখতে পারে। চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ভাতা প্রদান, যানবাহনের সুবিধা, বিশ্রাম ও বিনোদন ভাতা বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, গৃহ ঋণের অর্থিক সুবিধা, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ওপর অধিক সুদ প্রদান, যৌথ বীমা ছাড়াও জীবন বীমার প্রিমিয়াম প্রদানে সহযোগিতা দান করে সরকারি কর্মচারীদের জীবনে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। কমিশনকে অবশ্যই এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে নিবিড়ভাবে।
তবে এ কমিশনকে চাকরির বিষয়গুলোও সম্ভবত দেখতে হবে। কমিশনের কর্মপরিধি যদিও এখনও পরিষ্কার নয়, তা সত্ত্বেও বলা যায়, বেতন-ভাতার সঙ্গে কর্মীর মর্যাদা ও অবস্থানকে অবশ্যই বিবেচ্য বিষয় হিসেবে আমলে নিতে হবে। বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি অর্থবহ ও দক্ষ আমলাতন্ত্র সৃষ্টি করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। এ কাজটি আরও বেশি জটিল এবং সরকারের বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দুর্বল ও দলবাজিতে বিশ্বাসী সরকারের পক্ষে এক্ষেত্রে যুগান্তকারী কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে অতীতে অনেক কমিশন হয়েছে এবং তারা অনেক ভালো ভালো সুপারিশ দিয়েছে, যার কিছু কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে আবার অনেক কিছু ইচ্ছাকৃতভাবে বিবেচনায় আনা হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, এ কমিশন কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়টি ছাড়াও বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র যাতে সততা ও দক্ষতার নিদর্শন রেখে জনগণের কাছে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে এমন সব সুপারিশ রাখবে, যা যে কোনো সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
ধীরাজ কুমার নাথ : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক সচিব, কলাম লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ইস্যু by মেজর সুধীর সাহা (অব.)

রাজনৈতিক দলে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব থাকুক আর নাই থাকুক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব দলেই সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে একটি রাজনীতি সব সময়ই চলেছে এবং এখনও আছে। জামায়াতের মতো দলেও সংখ্যালঘু ইস্যু নানাভাবে গবেষণার উপাদান হয়ে ওঠে। রাজনীতির মাঠে তাণ্ডব অথবা আলোড়ন সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করলে জামায়াত সবার আগে টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের জানমাল আর মন্দিরকে। মন্দির ভেঙে দিয়ে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে সংখ্যালঘুদের বিপদে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় জামায়াত। সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়লে জামায়াতের মতো মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর দু’দিক থেকে লাভ। প্রথমত, ভোটের হিসাবে যারা নিশ্চিত বিপক্ষে অবস্থান করবে, তারা দেশ ছাড়লে ভোটের হিসাবে লাভ হয়। দ্বিতীয়ত, হিন্দুরা দেশ ছাড়া মানেই বাড়িঘর-সম্পত্তি ছেড়ে যাওয়া। আর সেখানে বিনা অর্থে অথবা কম মূল্যে নতুন সম্পত্তি অর্জনের সুযোগ। সংখ্যালঘু ইস্যুতে উল্লিখিত দুটি সুবিধার সুযোগ যে শুধু জামায়াতের মতো কট্টর মৌলবাদী দলই গ্রহণ করছে তাই নয়, বরং এর সুবিধা নিয়েছে অন্যান্য দলও। এমনকি হিন্দুদের বাড়িঘর অবৈধভাবে দখল করার তালিকায় আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলেরও অনেকে আছে। কাজেই ঘুরেফিরে সংখ্যালঘুরা রাজনীতির সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব নিয়ে বসবাস করছে। সংখ্যালঘুদের এমন গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি যে শুধু বাংলাদেশেই রয়েছে তা নয়, সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ইস্যুটি নানা দেশেই দৃশ্যমান। সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বিশ্ব সমাজও সতর্ক ও সোচ্চার। তাই যখন ভারতের গুজরাটে সংখ্যালঘু মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছিল, তখন সারা বিশ্ব এর নিন্দায় সুর মিলিয়েছিল। গুজরাটের সংখ্যালঘু নিধনের হোতা মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ মোদি তাই আজও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মধ্যে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমার সফরে এসে সবার আগে সে দেশে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন। বাংলাদেশে যখন বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপকভাবে অত্যাচার করেছিল, তখনও বিশ্ব সমাজ তার নিন্দায় সোচ্চার ছিল।
হিন্দু হলেই যে কারও সঙ্গে ভারতের কাল্পনিক সম্পর্ক খুঁজে বেড়ানো একশ্রেণীর রাজনৈতিক দলের পুরনো অভ্যাস। এভাবে অপরাজনীতির চর্চা করে তারা দেশপ্রেমিক সংখ্যালঘুদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করেছে বারবার। মনের কষ্টে সহায়-সম্পত্তি ত্যাগ করে অনেক সংখ্যালঘুই দেশ ছেড়েছে ইতিমধ্যে। পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে, অধিকতর শিক্ষিত ও সম্পদশালী সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশ ছেড়ে শুধু ভারতেই নয় বরং বেশি মাত্রায় গিয়েছে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে।
সংখ্যালঘু সংখ্যায় কম হলেও একটি দেশের রাজনৈতিক বিচারে তাদের অস্তিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যালঘুদের অত্যাচার করা, তাদের ঘরবাড়ি দখল করা, দেশ ত্যাগে বাধ্য করা- এসব কাজ খুব সহজ মনে হলেও বিশ্ব দরবারে এর ক্ষতিকর দিকটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্র ও সরকার যে কোনো দেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলে আজকের বিশ্বে সেই সরকার ও রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সমাজের সমালোচনার সম্মুখীন হয়। বিশ্বায়নের যুগে আজ কোনো দেশই বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। তাই বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি লাভের আশায় সংখ্যালঘুদের আস্থার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মেজর সুধীর সাহা (অব.) : কলামিস্ট
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলোচনায় বসলে জট খুলে যাবে
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থানই বাধা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সীতাকুণ্ডে কী হচ্ছে!
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্দোলন কোথায়?
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান কী পাবে?
![]() |
| সমঝোতার পর দুই ‘শত্রু’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বৈরশাসকের কালো ছায়া
![]() |
| শহীদ শামসুল আলম খান মিলন |
সেলিনা আখতার: শহীদ মিলনের জননী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লোমহর্ষক সেই পাঁচ দিন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রী ইংলাক পতন বিক্ষোভে থাইল্যান্ডে সরকারের অচলাবস্থা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 28
(13)
- আমরা কবে পৌঁছাব গণতন্ত্রের অভীষ্ট লক্ষ্যে? by কারা...
- দলনিরপেক্ষতা প্রমাণেই সংকটের সমাধান by মোঃ আবু সাল...
- শুধু বেতন বাড়ালেই চলবে না by ধীরাজ কুমার নাথ
- রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ইস্যু by মেজর সুধীর সাহা (অব.)
- আলোচনায় বসলে জট খুলে যাবে
- প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থানই বাধা
- সীতাকুণ্ডে কী হচ্ছে!
- আন্দোলন কোথায়?
- ইরান কী পাবে?
- স্বৈরশাসকের কালো ছায়া
- নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা
- লোমহর্ষক সেই পাঁচ দিন
- প্রধানমন্ত্রী ইংলাক পতন বিক্ষোভে থাইল্যান্ডে সরকার...
-
▼
Nov 28
(13)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





