Showing posts with label চতুরঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label চতুরঙ্গ. Show all posts

Thursday, March 1, 2018

কোটার মাত্রাটা কি একটু বেশি? by সফিকুল সাজু

চাকরির ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা একটি যৌক্তিক বিষয়। এটা থাকতেই পারে। বিভিন্ন কারণে থাকাও উচিত। যেমন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে নারী, প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন পিছিয়ে থাকা জেলার নাগরিক ও সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠী হিসেবে পাহাড়িরা কোটাসুবিধা পাওয়ার দাবি রাখেন। এছাড়া ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় প্রেষণা হিসেবে কোটার প্রচলন থাকা প্রয়োজন। যেমন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, এমন কি নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির নেশায়। কোন কিছু দিয়ে তাদের সে ঋণ শোধ হবে না। বোধ করি ঋণ শোধ করে দেব বললেও তাদের প্রতি অসম্মান হবে। তবু দেশের নাগরিকদের উৎসাহ দেয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রেষণা হিসেবে আামাদের বীর যোদ্ধা ও তাদের উত্তরসূরীদের একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় কোটা সুবিধা দেওয়া উচিত। এটুকু মেনে নেওয়ার মত বোধশক্তি ও মূল্যবোধ আমাদের শিক্ষিত তরুণদের থাকা উচিত।
আাবার শিক্ষিত মেধাবীদের যোগ্যতার নিরিখে চাকরি প্রদান করা একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। 'যোগ্যতা', 'পরীক্ষা', 'মূল্যায়ন'- শব্দগুলো যখন আসে, তখন মেধা কথাটাও চলে আসে। মেধা বাদ দিলে ওই শব্দত্রয় অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা সে মেধাকে কতটুকু মূল্যায়ন করছি?
অগ্রাধিকারের বিষয়টি ভাবতে গিয়ে কোটাপ্রথাকে আমরা এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি যে, কোটা সুবিধাপ্রাপ্তদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেও তরুণ প্রজন্ম দুদণ্ড ভাবে না। কোটাকে এমন চরম পর্যায়ে না পৌঁছালে আামাদের মুক্তিযোদ্ধা, নারী এবং অন্যান্য সুবিধাভোগীরা কি অসন্তুষ্ট হতেন?  মোটেও না, বরং তারাও এর একটা যৌক্তিক মাত্রা প্রত্যাশা করেন। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে মোট চাকরির ৫৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে। মেধাবীদের জন্য থাকে ৪৫ শতাংশ মাত্র! যেখানে কোটা সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠী মাত্র অর্ধকোটি, আর কোটা বহির্ভুত ১৫.৫ কোটি। অর্থাৎ একগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক চাকরি আর একত্রিশগুণ (১৫.৫X২) মানুষের জন্য বাকি অর্ধেক। বাংলাদেশে উপজাতি ১৬ লাখ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ২ লাখ, আনুমানিক সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী ২০ লাখ (সর্বোচ্চ), প্রতিবন্ধী ১৫ লাখ, এই মোট ৫১ লাখের জন্য চাকরির ৪৫ শতাংশ (নারী কোটা ব্যতীত) চলে যাচ্ছে । বাকি ১৫.৫ কোটির জন্য থাকে ৫৫ শতাংশ। এটা কতটা যৌক্তিক? নারী কোটাও এখন আর ১০ শতাংশ রাখার দরকার নেই (অতীত পরিস্থিতির তুলনায়)। কারণ, এখন আামাদের নারীরা অনেক এগিয়েছে, ক্ষেত্রেবিশেষে ছেলেদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা।
সর্বোপরি এই কোটার মাত্রাটা কি একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? এটা সব মিলিয়ে তো কোনভাবেই এক-পঞ্চামাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়, সেখানে বিদ্যমান অর্ধাংশেরও বেশি হচ্ছে কোটা। এভাবে হয়ত অনেকে শুনতে শুনতে সয়ে গেছেন। একটু ভিন্নভাবে বলি, মনে করুন, কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর ৫৫ শতাংশ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সন্তান হয়, আর ৪৫ শতাংশ দেশের সমস্ত জনগণের মধ্য থেকে, তবে তা কি মেনে নিতে পারবেন? যারা চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পাচ্ছেন, তারাও কি পারবেন? একটু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করুন তো। আামি বিশ্বাস করি, যিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রাখার মত মানসিক স্বচ্ছতা ও বিশালতা ধারণ করেন, তিনি কখনও কোটার মত সংকীর্ণ স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। কাজেই কোটাকে সংস্কার করে যৌক্তিক পর্যায়ে আনা হলে, মনে হয় না কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য সুবিধাভোগীরা প্রতিবাদ করবেন। অন্তত যৌক্তিক দেশপ্রেমিকরা করবেন না। দেশটা আমাদের সবার। তাই আামাদের সব পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে এবং ছাড় দেয়ার মানসিকতা লালন করতে হবে জাতীয় সমৃদ্ধির খাতিরে ।
সমৃদ্ধ দেশের জন্য আমাদের মানবসত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতিমাত্রায় কোটাপ্রথার মত এমন অনিয়ম কখনও দেশের সুষ্ঠু সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে না। আমরা আমাদের জাতীয় দর্শনকেই নিচু করে গড়ে তুলছি। আমাদের তরুণরাও এমন সংস্কৃতিতে দ্বিধান্বিত। তারা চরম অবিশ্বাস ও আাত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। এটা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বপ্নের সত্যিকার প্রতিফলন কখনও ঘটাবে না।
বর্তমান সরকারে থাকা দলটির হাতেই এই দেশ এসেছে। এদেশের বড় বড় সব অর্জন হয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়িত হয়েছে। গণমানুষের আাস্থার জায়গা হিসেবে অসহায়রা বারবারই এই সরকারের কাছে এসেছে। আামার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার লাখো তরুণের এই আার্তনাদ শুনবে, এর একটা বিহিত করবে। এই তরুণদের অধিকাংশই মাঠে-ঘাটে-দোকানে কিংবা খালে-বিলে-কারখানায় কাজ করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত গড়ে তোলা সাধারণ পরিবারের সন্তান। তাদের সংখ্যাটা বিশাল, অবদান বেশি, স্বপ্নও বিশাল, অথচ তাদের সুযোগ কম। তাই তাদের স্বপ্নকে মর্যাদা দিতে হবে। তবেই আামাদের জাতির জনকের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন আালোর দেখা পাবে, তার দর্শন এগিয়ে যাবে।
লেখক : শিক্ষক, কবির হাট সরকারি কলেজ, নোয়াখালী

Tuesday, February 20, 2018

এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছার চেয়ে জীবনের চূড়ায় পৌঁছানো কঠিন! by জুয়েল রানা

কবে যাব পাহাড়ে আহারে, আহারে! গানটি যেন পাহাড়ে যেতে না পারার আমার আকুতিই প্রকাশ করে। শৈশব থেকে আমৃত্যু জীবন-যুদ্ধে কত পাহাড়ই আমরা ডিঙাই। নিত্যদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কারণে খুব কম মানুষেরই প্রকৃতির পাহাড় বা পর্বত দেখা কিংবা ডিঙানো সম্ভব হয়। যেমন গ্রামের স্কুল-কলেজ থেকে পড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার মতো মজুর, কুলি, কৃষক ও মেহনতি মানুষের সন্তানদের যুগ যুগ ধরেই টিকে থাকার সংগ্রাম করে যেতে হয়।
মানুষের বাসায় প্রাইভেট পড়িয়ে, কোচিংয়ে ক্লাস নিয়ে, বিক্রয়কর্মীর কাজ করে যুদ্ধ করতে হয় হলের গণরুমে একটি আসন, দুবেলা হলের তৈলাক্ত খাবার, ডাল ও পানির অভিনব মিশ্রণ, আজিজ সুপার বা নিউমার্কেটের ১৫০ টাকার একটি গেঞ্জি বা শার্ট, ১২০ টাকার স্যান্ডেল এবং পড়ালেখার খরচ জুগিয়ে পরিবারের জন্য কিছু পাঠানোর। সেই সাথে অসম সমাজ, ক্লাসের পড়াশুনা, পিতা-মাতার স্বপ্ন, ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, শ্রেণিকক্ষে  বা সহপাঠীদের সাথে পোশাক-পরিচ্ছদ ও  জীবন-ধারনে খাপ খাওয়ানোর  প্রতিবন্ধকতা সর্বোপরি সামাজিক বঞ্চনা তাদের কুরে কুরে খায়।
সবাই নিত্যদিনের এই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পেরে উঠে না, যেমন পেরে ওঠেনি আমাদের হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোসেন কিছুদিন আগেই আত্মহত্যা করেছে, যার মূল কারণ হলো আমাদের অসম সমাজের যাতাকল, নির্যাতন, অত্যাচার ও অবজ্ঞা। এভাবেই সংগ্রামী মানুষগুলো এক সময় নিজের ওপর বিশ্বাসটাও হারিয়ে ফেলে। কোনো কোনো সময় জীবন দিয়ে ধিক্কার জানাতে চায় আমাদের মতো তথাকথিত শিক্ষিত, সুশীল, শহুরে, স্মার্ট, উচ্চ বংশীয় ও পয়সাওয়ালা অমানুষদের। যদিও আত্মহত্যা কখনোই সমাধান নয়। আমাদের বেঁচে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এই অন্ধ সমাজকে প্রতিনিয়ত চপেটাঘাত করতে হবে এবং উপড়ে ফেলতে হবে কলুষিত এই সমাজের শিকড়।
তাইতো বেঁচে থাকার এ জীবন সংগ্রামে তিন বেলা ভোগ করাটাই হয়ে ওঠে মুখ্য; সেখানে জীবন উপভোগ যেন এক আকাশ- কুসুম কল্পনা।  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাসফরে অংশগ্রহণ, সহপাঠীদের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, প্রিয়ার ভালোবাসা  কিংবা নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু চিন্তা যেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পূর্ণিমার চাঁদের মত একখানা ঝলসানো রুটি। এভাবেই একদিন মরে যায় পিপাসু সেই মন, ভালোবাসাপূর্ণ সেই কোমল হৃদয় এবং আমরা ধীরে ধীরে হয়ে উঠি এক একটা দানব; যে দানব গিলে ফেলে মনুষ্যত্ব, বিবেকবোধ, মানবতা এমন কি পুরো জগৎটাকে।
বিভাগীয় শিক্ষক জামাল স্যারের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম সেমিস্টারে ৫০০টাকা চাঁদা দিয়ে কুমিল্লা বার্ডে  একবার শিক্ষাসফরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এরপর আর কখনোই সহপাঠীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি নয়নাভিরাম সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, মাধবকুণ্ডের ঝর্ণা কিংবা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে। মনে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে বিভাগ থেকে তিন দিনের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে সময় বন্ধুদের সাথে সমুদ্র বিলাস আমার জন্য বিলাসিতাই ছিল। আজ যুক্তরাজ্যে বিশ্বের প্রথম সারির ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে এরাসমাস স্কলার হিসেবে পড়ালেখা করছি। এখানে ছুটির দিনে সবাই প্রকৃতি ভ্রমণে বের হয়। প্রতি সপ্তাহে না পারলেও মাসে অন্তত দু-একদিন আমিও অংশগ্রহণ করার দুঃসাহস করি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সহপাঠীদের অনুরোধ ও উৎসাহে ওয়েলস-এর সর্বোচ্চ মাউন্টেন স্নোডেন চূড়ায় ওঠার মনস্থির করি।  ৩৫৬০ ফুট উচূ এই মাউন্টেনের চূড়ায় পৌঁছাতে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগে। উল্লেখ্য,  প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী স্যার এডমুন্ড হিলারি  'স্নোডেন' মাউন্টেনেই অনুশীলন করেছিলেন। যাহোক আমাদের ৫ জনের  দল সকাল ১০টায় 'স্নোডেন' মাউন্টেনে ওঠা শুরু করে। সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে আমরা মাত্র তিনজন ২৯৫০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পেরেছিলাম। প্রচুর তুষারপাত, মেঘ ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ১৭ ফেব্রুয়ারি ৮২০ ফুট উচ্চতা থেকে বরফে পিছলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাই চূড়ায় যেতে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। চূড়ায় যেতে না পারলেও প্রথমবারের মতো পর্বতারোহণের অসাধারণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়েছে। মেঘের সাথে মিতালি, পাথর, তুষারপাত, বাতাস ও বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ। এ যেন সত্যি সত্যি বেঁচে থাকার লড়াই, একটু বিচ্যুত হলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে। নামতে নামতে আমি ভাবছিলাম, কত সহজে এত উঁচুতে উঠে গেলাম! অথচ আজকের এই মাউন্টেন দেখতে আসার পেছনে কত সময় ও পরিশ্রম লেগেছে! এ পর্যন্ত কতগুলো পাহাড়-পর্বত পাড়ি দিয়ে বর্তমানে পৌঁছেছি। জীবনের সংগ্রামটা পর্বতে বেঁচে থাকার সংগ্রামের চেয়ে ঢের। তেমনিভাবে উপলব্ধি করলাম, পর্বতের চূড়ার চেয়ে জীবনের চূড়ায় পৌঁছানো অনেক কঠিন। এই উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ জানাই আমার বন্ধু হারিন, নন্দিতা, টেইলর ও প্যাট্রিসিয়াকে।
লেখক: এরাসমাস মুন্ডুস স্কলার, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য

Saturday, February 10, 2018

নির্বাচন-উৎসব এবং সুস্থ-অসুস্থ রাজনীতি by সাইফুল ইসলাম

বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে আরো একটি জমজমাট উৎসব সম্ভবত নির্বাচন। ভগবানগোলা, চণ্ডিমণ্ডপ, পঞ্চায়েতের আমলেও এ দেশের মানুষ আড্ডায় মশগুল হয়ে গ্রামের বিচার-শালিস বা শাসন করতো। সম্ভবত তারই ধারাবাহিকতায় এখনো নির্বাচন এলেই তাদের মধ্যে জেগে ওঠে দেশ শাসনের আকাঙ্খা। তাই মেতে ওঠে নির্বাচনী উৎসবে।
তবে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-উৎসব জমেনি। কারণ দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছিল দুই মেরুতে। একপক্ষ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করবে বলে ঘোষনা দিল। অন্য পক্ষ সেই নির্বাচন ঠেকাবে বলে মাঠে নামল। ফলে ভণ্ডুল হয়ে গেল জনগণের নির্বাচন-উৎসব। তারপরেও নির্বাচনের নাম শুনলেই ‘ঢাক গুড় গুড়’ তালে পা নাচায় এদেশের মানুষ। যেমন তালে তালে পা নাচিয়ে চলেছে বর্তমানে।
জনসমর্থন বিএনপির খারাপ নয়, কিন্তু মাঠে নেই দলটির নেতারা। জনগণ তাদেরই ভোট দেবে- এমন আশা করে যেন 'গাছে কাঠাল গোফে তেল' দিয়ে ঘুমুচ্ছে তারা। ভাব দেখে মনে হয়না যে, যথা সময়ে তারা উঠে দাঁড়াতে পারবে।
এদিকে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ তার নেতা নির্বাচনের কৌশল হিসেবে ‘অভূতপূর্ব’ এক নির্বাচনের আয়োজন করে চলেছে সারাদেশে। এ কৌশলে তারা ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন/পৌর কমিটি, এমনকী থানা কমিটি, জেলা কমিটির নেতা নির্বাচন করে চলেছে। এই নির্বাচনের ডামাডোলে নির্বাচনী একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে সারা দেশে।
আওয়ামী লীগের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমর্থকদের নিয়েই করা হচ্ছে ওই ভোটের ভোটার তালিকা। তবে, এর মধ্যে ঢুকে পড়ছেন অন্যরাও। যেমন, সিরাজগঞ্জের জাসদ নেতা সোহরাব হোসেন খোকার নাম উঠে গিয়েছিল কামারখন্দ থানা আওয়ামী লীগের ভোটার তালিকায়। কারণ, ১৪ দলের নেতা হিসেবে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন নৌকা মার্কায়। পরে অবশ্য বিভিন্ন জনের আপত্তিতে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু যারা আপত্তি করছেন না বা চেষ্টা করছেন নিজেদের নাম আওয়ামী ভোটার তালিকায় তোলার; তারা সহজেই ওই তালিকায় উঠে পড়ছেন। বিএনপি, জামায়াতের লোকজন এভাবেই 'আওয়ামী লীগ' হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে কখনো কখনো বিক্ষোভ, টুকটাক মারপিটের ঘটনাও ঘটছে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এ নির্বাচন হচ্ছে। পরে নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক কমিটির অন্য সম্পাদক ও সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। ফলে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরাও জড়িয়ে পড়ছেন নির্বাচনী তৎপরতায়। পোষ্টার, লিফলেট, ডিজিটাল সাইনে ছেয়ে যাচ্ছে এলাকা। দল বেধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে ভোটের প্রচারণা। গুজব ছড়িয়ে পড়ছে ভোট কেনাবেচার। নির্দিষ্ট দিনে হচ্ছে ভোট। গণনা শেষে বিজয়ী প্রার্থীকে পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে জয়ের মালা। আতশবাজী ফুটিয়ে উৎসব করা হচ্ছে। এ ভাবেই আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেরাই নির্বাচনী উৎসব করছে।
এদিকে অনেক প্রার্থী নেতা নির্বাচিত হতে খরচও করছেন দু’হাত খুলে। সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন জানালেন, পৌর কমিটির একটি ওয়ার্ডের এক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খরচ করেছেন ৩৫ লাখ টাকা। তিনি হিসাব কষে দেখালেন কী ভাবে কোথায় কোথায় এ খরচ হয়েছে। এসব নির্বাচনী খরচ আসছে কোথা থেকে? এমন প্রশ্নের উত্তরে লিটন জানালেন, বড় বড় নেতারা কেউ কেউ এ খরচ দিচ্ছেন তাদের গ্রুপ শক্তিশালী করার জন্য। আবার অনেকে নিজেরাও খরচ করছেন নেতা হওয়ার জন্য। খরচ করে কী লাভ? লাভ আছে- জানালেন লিটন। তিনি বললেন, তাদের ধারণা, নেতা হতে পারলেই কাজের ভাগ, ভিজিএফ, বিভিন্ন রিলিফের স্লিপ তাদের মাধ্যমে বিতরণ হবে। এ থেকে ‘টু-পাইস’ কামাই হতে পারে। না হলেও খরচের টাকা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করে নেবেন তারা।
না প্রকাশ করতে না চাওয়া বিএনপি ও ১৪ দলের (আওয়ামী লীগ নয়) দুই নেতা জানালেন, তারাও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এসব নির্বাচনে। গোপনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচনের জন্য, যাতে আওয়ামী লীগের ওই নেতা তাদের কথা শোনে, অন্তত সামাজিকভাবে অসন্মান না করে।
এক আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করলেন, এভাবেই আওয়ামী লীগ অন্য রাজনৈতিক দলকে নিজের মধ্যে হজম করে ফেলছে, সারাদেশে একক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু আরেক নেতা এতে দ্বিমত পোষণ করে বললেন, এতে রাজনৈতিক দলটি আর রাজনৈতিক দল থাকছে না, হয়ে পড়ছে সামাজিক সংগঠন। চর্চা হচ্ছে যেন-তেন সুস্থ-অসুস্থ রাজনীতির।
আসলে দল বড় হলেই শক্তিশালী হয়- এটা ঠিক নয়। বড় দল যদি রাজনীতি চর্চা না করে, তবে সে দল মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।
লেখক: সাংবাদিক

Thursday, June 27, 2013

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুই সরকারের দুই ভিন্ন অবস্থান by মমতাজ পাটোয়ারী

আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দলীয় অবস্থান মোটেও এক রকম নয়, দুই দলের সরকারের ভূমিকা কখনও এক রকম ছিল না বা নেই। নিকট অতীতের আয়নায় তাকিয়ে এই পার্থক্যের ছবিটা ভাল করে দেখে নিতে পারি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুই সরকারের দুই ভিন্ন অবস্থান by মমতাজ পাটোয়ারী

আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দলীয় অবস্থান মোটেও এক রকম নয়, দুই দলের সরকারের ভূমিকা কখনও এক রকম ছিল না বা নেই। নিকট অতীতের আয়নায় তাকিয়ে এই পার্থক্যের ছবিটা ভাল করে দেখে নিতে পারি।

Saturday, June 22, 2013

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(গতকালের পর)
৪২. ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক দূষণ একটি নীরব ঘাতক এবং বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয়মূলক ইস্যু। কিন্তু সে তুলনায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহের কর্মসূচি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

জাতীয় সংসদের বাজেট বৃক্ততা ॥ অশালীন বক্তব্য প্রসঙ্গে by ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন

গত ১৩ জুন ২০১৩ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফী কয়েকটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন, যার অনেক কিছুই জাতি পূর্ব থেকে অবহিত নয়।

একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ by মুহম্মদ শফিকুর রহমান

ক’দিন আগে এলাকায় গিয়ে শুনলাম বিএনপিদলীয় স্থানীয় এমপি হারুনুর রশীদ সংসদে বলেছেন, তিনি এলাকায় যেতে পারেন না। তাঁর অভিযোগের তীরটি আওয়ামী লীগের দিকে।

একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ by মুহম্মদ শফিকুর রহমান

ক’দিন আগে এলাকায় গিয়ে শুনলাম বিএনপিদলীয় স্থানীয় এমপি হারুনুর রশীদ সংসদে বলেছেন, তিনি এলাকায় যেতে পারেন না। তাঁর অভিযোগের তীরটি আওয়ামী লীগের দিকে।

একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ by মুহম্মদ শফিকুর রহমান

ক’দিন আগে এলাকায় গিয়ে শুনলাম বিএনপিদলীয় স্থানীয় এমপি হারুনুর রশীদ সংসদে বলেছেন, তিনি এলাকায় যেতে পারেন না। তাঁর অভিযোগের তীরটি আওয়ামী লীগের দিকে।

Monday, February 11, 2013

যুদ্ধশিশুদের পাশ্চাত্যের অনেক পরিবার দত্তক নিয়েছিল by মুনতাসীর মামুন

একা সেই সময় তিনি যে কাজ করেছেন তা তুলনাহীন। বাংলাদেশের মানুষ এখনো তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের বিজয়ের পরই গণহারে ধর্ষণের বিষয়টি একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দেয়।

প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও ভাষা আন্দোলন by সরদার সিরাজুল ইসলাম

(খ) বাংলা ভাষাকে হত্যা করার একটি চক্রান্ত হিসেবে বাংলার আরবি অক্ষর প্রচলনের জন্য সরকারের নিন্দা। (গ) বাংলাকে সংখ্যাগুরু জনসাধারণের ভাষা হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ চাইলে উর্দুকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।

একজন কসাই কাদের ও বাংলার বিদ্রোহ by আবদুল মান্নান

১৯৬৮ সালে যখন পাকিস্তানের লৌহমানব জেনারেল আইয়ুব খান তার দেশ শাসনের দশ বছর পূর্তির যোগার যন্তর শুরু করে তখন রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যদের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নের উত্তাল দিনগুলো by মোহাম্মদ আফজাল হোসেন খোকা

৭ মার্চ বহুল প্রচারিত "দৈনিক জনকণ্ঠ" পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠার কলাম -৫ এ প্রকাশিত "৭ মার্চের ভাষণ পাকিস্তানী এক মেজরের দৃষ্টিতে" সংবাদ প্রতিবেদনটি পাঠ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছি।

স্বাধীনতার ঘোষক তত্ত্ব by মেজবাহউদ্দিন জওহের

নিয়াজির প্রেস সেক্রেটারি সিদ্দিক সালিক তার উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থে লিখেছেন_ ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় যখন পাকিস্তানী বাহিনীর 'প্রথম গুলিটি বর্ষিত হলো,

স্মরণ শহীদ প্রকৌশলী by নজরুল ইসলাম, আবদুল কাদের ফকির

তখন ১৯৪৭ সাল। আমি ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থী। জানুয়ারি মাসের দিকে শেখ মুজিবুর রহমান আসেন মাদারীপুর। মুসলমান ছাত্রদের ভবিষ্যত রাজনীতি কর্মপন্থা নিয়া আলোচনা করলেন।