Tuesday, September 10, 2013

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শান্তিতে নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মানীর অর্থের কর অব্যাহতির বিষয়ে অনুমোদন না নেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

বাচাল মেয়েদের থেকে পুরুষদের বাঁচার ৩ কৌশল

মেয়েরা একবার কথা শুরু করলে, আর থামতেই চায় না। কথা বলার সময় দাড়ি, কমা, সেমিকোলনের কোন বালাই নেই। একবার চলতে শুরু করলে কোথায় গিয়ে কথা শেষ হবে, তা কারও জানা নেই।

‘জামায়াত তার নীতি পরিবর্তন করে রাজনীতি করতে পারে’

গণফোরাম সভাপতি এবং সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমি মনে করি, জামায়াত রাজনীতি করতে পারবে কী পারবে না সে বিষয়টিও সংলাপের মাধ্যমে সুরাহা হওয়া দরকার।

আইন কমিশনের উদ্দেশে বলছি by পলাশ কুমার রায়

একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন কমিশনের গুরুত্ব অনেক। ১৯৯৬ সালের আইন অনুসারে আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা রোধে করণীয় নির্ধারণসহ অচল আইনগুলো বাতিল, প্রচলিত অন্যান্য আইন সংস্কার এবং ক্ষেত্রবিশেষে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করার জন্য।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ২৩ জুলাই তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন। ২০১০ সালের অক্টোবরে হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি আবদুর রশিদের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। বিচারপতি হক হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে অনেক মামলার রায় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত আলোচিত বহু মামলার রায় দেন। একজন বিচারক কখনোই মামলার দুপক্ষের বিচারপ্রার্থীদের খুশি করতে পারেন না। এটাই স্বাভাবিক। এসব রায়ে এক পক্ষের বিচারপ্রার্থীরা খুশি হয়েছেন, অসন্তুষ্ট হয়েছেন অনেকেই। বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি রাজনীতিক ও বড় বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্ট হয়েছেন বিচারপতি হকের রায়ে। রাজনীতিক ও তাদের সমর্থকদের অখুশি-অসন্তুস্ট হওয়ার কারণ হল আমাদের দেশে সব কিছুতেই রাজনীতি থাকে, হয়তো সে কারণেই।
বিচারপতি হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর তিন দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রথম আলোয় বিচারপতি হকের নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম মাসুম বিল্লাহ ওই লেখার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, বিচারপতি খায়রুল হকের মতো একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সরকার এই পদে নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। আইন কমিশনের মর্যাদা এক ধাপ ওপরে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক যে যার অবস্থান, চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিকোণ থেকে লিখেছেন বলেই আমার মনে হয়। দুজন শিক্ষকেরই হাত ধরে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী নবীন আইনজীবী হিসেবে সারাদেশে আইন পেশায় প্রবেশ করছেন। আবার অনেকেই হচ্ছেন নিু আদালতের বিচারক। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক পদ্ধতিগতভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার পাট চুকিয়ে প্রথমে আইন পেশা, অতঃপর যোগ্যতাবলে বিচারক হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বিচারপতি হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর পক্ষে-বিপক্ষে যারা লিখছেন তারাই বিচারক, আইনজীবী, আইন বিষয়ে গবেষক, মানবাধিকার কর্মীর গর্ভজাত পিতামাতা। এই শিক্ষকদ্বয় বিচারপতি হকের পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য না করে তারা কিভাবে যোগ্য, চৌকস, আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন আইনজীবী এবং বিচারক তৈরি করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগ দিলেই ভালো হয় বৈকি! দেশে এখন নীতিবান ও পেশাদার আইনজীবী এবং পক্ষপাতহীনভাবে ন্যায়বিচার করার মতো বিচারকের অভাব লক্ষণীয়। অধিকাংশ আইনজীবী যতটা সময় বিচারপ্রার্থী মক্কেলের আইনি অধিকার সুরক্ষার জন্য ব্যয় করেন, তার চেয়েও বেশি সময় ব্যয় করেন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর পক্ষে স্লোগান আর জয়ধ্বনি দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ, যোগ্য, দায়িত্বশীল, কর্মঠ বিচারক তৈরি করতে প্রাণান্তভাবে প্রচেষ্টা চালান, তাহলে সেই বিচারকরা যখন অদূর ভবিষ্যতে আইন কমিশন কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন, তখন তারা সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকরা কি সেই বিষয়টি অনুভব করেন? আর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই বা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের কিভাবে তৈরি করার চিন্তা করেন?
কমিশনের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইন কমিশন ২০০১ সালে মিথ্যা মামলা (প্রতিরোধ ও প্রতিকার) আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সরকারকে দেয়। তৎকালীন আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী এবং সদস্য বিচারপতি নাঈমদ্দিন আহমেদ প্রস্তাবিত এই আইনটি সময়োপযোগী করে অতিদ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা এখন এমন একটি সমাজে বাস করছি যেখানে মিথ্যা বা কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, ক্ষমতাহীন মানুষজনকে হয়রানি বা শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে সমাজের উঁচু শ্রেণীওয়ালার লোকরা মিথ্যা মামলা দায়ের করে থাকেন। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা আর্থিক, সামাজিক, মানসিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হন। থানা পুলিশ, কোর্ট-কাছারি আর উকিল সাহেবের চেম্বারে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, অবশেষে কাল্পনিক বা মিথ্যা ঘটনায় উদ্ভূত মিথ্যা মামলা প্রমাণের আর্থিক সামর্থ্য না থাকার দরুন ওই পরিবারের সদস্যরা জেলের ঘানি টানতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। এভাবে প্রতিদিন কতগুলো মিথ্যা মামলা দায়ের হয় এবং সারাদেশে মিথ্যা মামলা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা কত তা নির্ধারণের জন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নেই দেশে। এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায় সরকারের? তাই সমাজের উঁচু শ্রেণীওয়ালাদের মিথ্যা মামলা দায়ের করার পরও কোনো ধরনের শাস্তি পেতে হয় না বলেই দেশে ক্রমাগতভাবে মিথ্যা মামলার সংখ্যা বাড়ছে (যদিও মিথ্যা মামলাবাজের বিরুদ্ধে আদালত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন)। আমরা আন্তরিকভাবে আইন কমিশনকে অনুরোধ করব, মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাব সরকারকে দেয়া হোক। এ ধরনের একটি সুনির্দিষ্ট আইন থাকলে বর্তমানে যারা মিথ্যা মামলা করে অপর কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের হয়রানি করছে বা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তারা এ ধরনের একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের ফলে ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা না করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবে।
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান কে হল, তা নিয়ে বিতর্ক না করে বরং আইন কমিশনকে কিভাবে গতিশীল ও কার্যকর করা যায় তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আইন কমিশন কর্তৃক প্রণীত সুপারিশমালা যা সরকারকে সময়ে সময়ে দেয়া হয়, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা সম্মিলিতভাবে সরকারকে কিভাবে সহায়তা ও প্রায়োগিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি, তাই ভাবতে হবে আমাদের। তা না করে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কে হলেন, তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বিষয়াবলী নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা করার যৌক্তিকতা কতটুকু? এতে করে আমরা কি আমাদের প্রজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছি? আইন কমিশন ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১২৫ আইন সংক্রান্ত সুপারিশ সরকারকে দিয়েছে। সরকার সেসব প্রস্তাবনা থেকে অতি সামান্যই কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আইন কমিশন দেশের হাজার হাজার মিথ্যা মামলার শিকার লাখ লাখ বিচারপ্রার্থীর কথা চিন্তা করে মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের ব্যাপারে সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হবে। আমরা অসহায়, পঙ্গু ও খুঁড়িয়ে চলা আইন কমিশনকে আরও এক ধাপ অগ্রসর করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পাশে অকৃপণভাবে দাঁড়াতে চাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কে হলেন- তা নিয়ে সমালোচনা করার সময়টুকু দেশের গরিব অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেয়ার জন্য ব্যয় করতে চাই।
পলাশ কুমার রায় : আইনজীবী ও আহ্বায়ক, সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন (সুপ্রা)

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাই by ড. কাজী আবদুস সামাদ

নির্বাচনী মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি তো দূরের কথা, একেবারেই অপ্রস্তুত মাঠে রেফারি/আম্পায়ার, বলবিহীন অবস্থায় নির্বাচনী খেলায় মেতে উঠেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সবাই। গতকালও কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনী ট্রেন মিস করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তো ছয় মাসের পুরনো কোনো সংগঠন নয় যে, তারা এ ফুসলানিতে পা দেবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হল- ১. সব দল ও মতের কাছে গ্রহণযোগ্য শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, ২. নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু রাখা, ৩. সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত রাখা ইত্যাদি। এর একটিরও ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। তাহলে গণতন্ত্রের মূল মন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নাম করে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন। এসব ভাষণে তিনি জামায়াত-বিএনপি-হেফাজতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে কঠোর সমালোচনা করে পরিশেষে ভোট চাইছেন। কিছুদিন আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলেছে, যেহেতু এ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নির্বাচনী তফসিলের আগেই হচ্ছে, তাই তা সেই অর্থে আচরণবিধি লংঘনের পর্যায়ে পড়ে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনকে ঘিরে হাজারো প্রশ্নের সমাধান না করে তিনি নির্বাচনী মাঠে একা একা প্রতিদিন বিরোধী শিবিরে এত এত গোল দিচ্ছেন, তার মানে কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এ লেখার উদ্দেশ্য।
দেশবাসী অবগত আছেন যে, কিছুদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন একই দিনে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত দুই নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আলোচনা করেন। দেশবাসী যতটা বুঝতে পেরেছে, তারা দুজনই তাকে এ ব্যাপারে কার্যকর ইতিবাচক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এখানে বুঝতে হবে, বলটি কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগের কোর্টে। শেখ হাসিনা খোলা ও মুক্ত মনে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী ফর্মুলায় না আসা পর্যন্ত এই ইস্পাত কঠিন সমস্যার সমাধান হবে না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ সব দেশের প্রতিনিধিরা বারবার বাংলাদেশের আসন্ন সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং এ ব্যাপারে বিশেষ করে সরকারি দলকে বারবার সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। চীন সচরাচর এ ব্যাপারে চুপচাপ থাকলেও এবার মুখ খুলেছে এবং সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য সরকারি দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। এ আহ্বান অবশ্য বিরোধী দলের প্রতিও। তবে যেহেতু বলটি সরকারি দলে অবস্থান করছে, তাই মূল উদ্যোগ সরকারি দলকেই নিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি দলের অনমনীয় ও একতরফা মনোভাবের কোনো বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। যুদ্ধবিগ্রহ কিংবা যে কোনো সমস্যার শেষ ভরসার স্থল হচ্ছে জাতিসংঘ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে জাতিসংঘের মহাসচিবের বক্তব্যও আমাদের রাজনীতিবিদদের এতটুকু বিচলিত করতে পারেনি। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ যা বুঝতে পারছেন, মনে হয় সরকারি দল আওয়ামী লীগ তা থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। ক্ষমতাসীন সরকারি দলের ব্যক্তিদের কাছে মনে হতে পারে একতরফা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে পারলে অন্তত কিছুদিন তো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যাবে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, ক্ষমতাকে কিছুদিন দীর্ঘায়িত করে আবার ক্ষমতায় আসতে যদি আরও বেশি সময় লেগে যায় অবে তা কি সঠিক বিচারে ক্ষতিকারক নয়? স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দফায় সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসতে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসতে এত বছর কেন লাগল তার প্রকৃত কারণ আওয়ামী লীগকেই খুঁজে বের করতে হবে।
সরকারি দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত নির্বাচনের পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, উন্নত বিশ্বের কোনো উন্নয়ন মডেলই যেহেতু সরাসরি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, ঠিক তেমনি নির্বাচন মডেলও কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। কারণ উন্নত বিশ্বে নির্বাচনের অনুমিত পূর্বশর্তগুলো যথাযথভাবে সমাধান করা আছে বহু দিন থেকেই। শত শত বছর ধরে গণতন্ত্রায়নের জন্য ওই সব দেশের জনগণ রক্ত দিয়েছে এবং ফলস্বরূপ প্রতিবছর নির্বাচনের সময় নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে কোনো আলোচনা-সমালোচনার দরকার পড়ে ন সেখানে। বহু বছর জার্মানিতে অবস্থান করে সে দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা বোঝার সুযোগ হয়েছে আমার। জাতীয় নির্বাচন কিংবা প্রাদেশিক নির্বাচন যেটাই হোক না কেন, দিনব্যাপী নির্বাচন শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সব দলের সভাপতিদের সমন্বয়ে টিভিতে নির্বাচনী হার-জিতের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। এটাই গণতন্ত্র। যারা নির্বাচনে হেরে যায় তারা তৎক্ষণাৎ তা মেনে নেয় এবং যারা জয়লাভ করে তারা আগামী দিনগুলোতে কিভাবে জনগণের আরও ভাগ্যোন্নয়ন করবেন তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। বহু বছরেও এ রীতির কোনো পরিবর্তন দেখিনি। এটাই গণতান্ত্রিক দেশ, এটাই কল্যাণ রাষ্ট্র। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে কি এ ধরনের বিধিবিধান সৃষ্টি করা হয়েছে? আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা কি সৃষ্টি হয়েছে? যেহেতু উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশে সেই নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি, তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সরকার এ সত্যতা স্বীকার করে এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে, সব দলের সঙ্গে কার্যকর সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেবে ততই জনগণের জন্য মঙ্গল হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, পার্লামেন্টকে বহাল রেখেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্ন হল, যদি ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য থেকেই থাকেন, তবে আবার নির্বাচন হলে মোট ৬০০ সংসদ সদস্য হবে? এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নিজেও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন না সরকারি দল কি বোঝাতে চাইছে। সত্যিকার অর্থে কিভাবে নির্বাচনটি পরিচালিত হবে। প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনই যদি না বুঝে কী হতে যাচ্ছে নির্বাচনে, তাহলে কী ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী? সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি নিশ্চিত করতে হয়, তবে সরকারকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে দেখতে হবে। একতরফা নির্বাচন যে কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না তা খুবই সহজবোধ্য। ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি সে কথা বর্তমান সরকারি দলের তো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে এবারের একতরফা নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? আর যে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না সেই নির্বাচনের পেছনে ছোটার কি কোনো কারণ আছে? বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে তাদের দ্বারা সংগঠিত লগি-বৈঠার মাধ্যমে লোক হত্যার কথা মানুষ ভুলে গেছে। তাদের ১৭৩ দিন হরতাল পালনের মাধ্যমে দেশকে অচল করে দেয়া হয়েছিল এই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এখন এই তত্ত্বাবধায়ক আর প্রয়োজন নেই, কারণ এখন তত্ত্বাবধায়ক হলে তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাবে। তাদের নির্বাচনে জয়ের এতই যদি সম্ভাবনা থাকে, তাদের দ্বারা উন্নয়নের যে ফিরিস্তি দেয়া হচ্ছে তা যদি সব সত্যি হয়, তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন দেয়া হোক। জনগণ যদি সব ক্ষমতার উৎস হয়, তবে তারা যাকে ভোট দেয় তারাই সরকার গঠন করবে, এই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয় কেন আওয়ামী লীগ? তাহলে কি ধরে নেয়া যায় গণতন্ত্র বলতে আওয়ামী লীগ অন্য কিছু বোঝে?
১/১১-এর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের এত ক্ষতিসাধন করল, সেই তত্ত্বাবধায়কের সব কাজের বৈধতা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু কেন? আওয়ামী লীগের অনেকের মতে, ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক আওয়ামী লীগকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। সে কারণেই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল।
কী কারণে অন্তিম মুহূর্তে জনগণ ও সব বিদেশী বন্ধুর আশা-আকাক্সক্ষা অনুযায়ী সংসদীয় রীতিনীতির ভিত্তিতে সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনমুখী না হয়ে একতরফাভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছেন তা দেশে-বিদেশে কেউ বুঝতে পারছে না। কিছুদিন আগে পাকিস্তানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেখানে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বিরাজমান থাকলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। সরকার যদি মনে করে থাকে যে, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে এবং একতরফা নির্বাচন করেও কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না, তা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। ইতিহাস বলে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গেলে বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়। যে সরকার যত বেশি দিন ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারকে তত বেশি মন্দভাবে সরকার থেকে বিদায় হতে হয়। কারণ জনপ্রিয়তা এতই দ্রুত কমতে থাকে যে, শেষে আর কূলকিনারা পাওয়া যায় না। আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি, রূপকার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকেও ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল পরবর্তী নেতাদের সুযোগ দেয়ার জন্য। যারাই ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে চেয়েছেন, তারাই তত বেশি ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও বলেছেন, সব দল নির্বাচনে না এলে তার দলও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। প্রধানমন্ত্রীর কর্ণকুহরে কি এসব প্রবেশ করছে না?
যেখানে এখনও নির্বাচন কমিশন পূর্ণ আস্থা লাভে সমর্থ হয়নি, যেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি, যেখানে নির্বাচনকালীন কী সরকার ব্যবস্থা চালু থাকবে তা ঠিক হয়নি, যেখানে দুই দলের দূরত্ব কমিয়ে নিয়ে এসে পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরি হয়নি, সেখানে কী করে ক্ষমতাসীন দল আশা করছে, বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে? আর বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সমস্যা আরও ঘনীভূত করবে। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতিকে হতাশ না করে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবেন এই প্রত্যাশা করি।
ড. কাজী আবদুস সামাদ : অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বিএনপির আন্দোলন by নুরুল ইসলাম বিএসসি

বিএনপি প্রায় সময়ই আন্দোলনের ভয় দেখায়, আন্দোলন করে সরকার হটানোর কথা বলে, আসর জমানোর চেষ্টা করে। এদের আন্দোলন ওই মাইক পর্যন্ত। সরকারের এখন শেষ সময়। এমনিতেই কয়েক মাসের মধ্যে সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদ শেষে সরকার চলে যাওয়ার নামই কি তাহলে বিএনপির আন্দোলনের ফসল?
বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। যেখানে সভা করতে যায়, সেখানেই মারামারি। কেন্দ্রীয় নেতারা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় আন্দোলন করবে, নাকি নিজেদের মারামারি সামাল দেবে? আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকতে হয়। বিএনপি বিগত সাড়ে চার বছরে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়নি। সাধারণ মানুষ ধরে নিয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এবং ক্ষমতায় গিয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্যই বিএনপি মরিয়া। এমনিতে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করে ফেলেছে, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা হয়েছে। বুদ্ধিমান হঠাৎ একবার গর্তে পড়লে বারবার পড়ে না। দেশের মানুষ বুদ্ধিমান। এরা দেখেশুনে কেন গর্তে পড়তে যাবে?
বিএনপি কোন ইস্যুটি নিয়ে আন্দোলন করতে চায়? আওয়ামী লীগ বিগত সাড়ে চার বছরে যে উন্নয়ন করেছে, তা চোখে পড়ার মতো। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি যে কাজগুলো হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে।
একদিনে ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেয়া চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশের আয়তনের সমান জলরাশি, যেখানে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল, জয় করে আনা আওয়ামী লীগ সরকারেরই কাজ। ঢাকার ফ্লাইওভারগুলো, চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারগুলো মাথা উঁচু করে উন্নয়নের কথা বলছে। বৈদেশিক রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গ্রামের মানুষের উপার্জন বৃদ্ধি শুধু নয়, এখন তারা শান্তিতে ঘুমায়। বিএনপির সময় ডাকাতের ভয়ে বিদেশফেরত গ্রামবাসী রাতে গাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য হতো। এখন কিন্তু গ্রামের মানুষ শান্তিতে আছে। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এই সরকার শ্রমিকদের জন্য অনেক কাজ করেছে। সৌদি আরবে আকামা বদলের সুবিধাসহ অনেক অবৈধ অবস্থানকারীকে বৈধ করেছে। মালয়েশিয়ায় স্বল্প টাকায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।
নারীরা সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের পেছনে ফেলে রেখে প্রগতি সম্ভব নয় জেনে নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করেছে। পক্ষান্তরে হেফাজত নারীদের ঘরে বন্দি রেখে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিএনপি সমর্থন করে। আমার বিশ্বাস, হেফাজতকে সমর্থন দিয়ে বিএনপি শুধু আদর্শচ্যুত হয়নি, নারীদের ভোটও হারিয়েছে। বিএনপি কিসের আন্দোলন করতে চায়? যতই দিন যাচ্ছে, তাদের অবকাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। বিএনপিতে এমন নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, দল যেখানে পতিত হয়েছে ওখান থেকে উঠিয়ে আনতে সক্ষম। তারেক রহমানকে নিজ দলের মানুষও সমর্থন করেন না, দেশের মানুষের কথা কী আর বলব।
এই সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারেক রহমান দেশে আসতে পারবে বলে মনে হয় না। অপরদিকে আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসে, বিএনপির খোয়াব চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষ বিশ্বাস করে বিএনপিকে ভোট দিলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে, নতুন নতুন বাংলাভাইয়ের সৃষ্টি হবে। জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই বলে এদেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। সুতরাং বিএনপি যতই চেষ্টা করুক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে, তারা কখনও সফল হবে না।
হ্যাঁ, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মানুষের আস্থা আছে কি-না, তারা যা বলছেন সেখানে সত্যতা আছে কি-না, পরখ করে দেখতে পারেন। এতেই সবকিছুর সমাধান নিহিত।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

শিক্ষার্থীদের সিমকার্ড দেয়ার উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক? by মোঃ মুজিবুর রহমান

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক মুক্তিযোদ্ধা ও এসএসসি পরীক্ষায় সব জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে মোবাইল সংযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে ২৯ আগস্ট যুগান্তরে একটি খবর বেরিয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, টেলিটকের এ পরিকল্পনার আওতায় ৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ৭০ হাজার জিপিএ-৫ প্রাপ্তকে বিনামূল্যে টেলিটকের সিমকার্ড দেয়া হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে টকটাইমও ফ্রি দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এ ব্যাপারে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নাকি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে টেলিটক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেলিটকের পক্ষ থেকে খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের ৩০০ সদস্যকে থ্রিজি সিমকার্ডও দেয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে টেলিটক সিমকার্ড ও ফ্রি টকটাইম দেয়ার যে কর্মসূচি কোম্পানিটি হাতে নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয়। এ ধরনের কর্মসূচির জন্য আমরা টেলিটক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে পারা যেমন গৌরবের ব্যাপার, অন্যদিকে অসহায় ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা মোবাইল সিমকার্ড ও ফ্রি টকটাইম পেয়ে অনেকখানি উপকৃত হবেন বলে মনে করি। এ সুযোগে সুপারিশ রাখব, মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে সিমকার্ড ও প্রতি মাসে ফ্রি টকটাইম দেয়ার পাশাপাশি টেলিটক যেন তাদের প্রত্যেককে একটি করে হ্যান্ডসেট দেয়ার ব্যবস্থা করে। তাহলেই মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যের সিমকার্ড ও ফ্রি টকটাইমের প্রকৃত সুফল পাবেন। আর শুধু ৩০০ জনকে কেন, এটা কি বাড়ানো যায় না?
এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে ফ্রি সিমকার্ড তুলে দেয়ার প্রসঙ্গে আসা যাক। টেলিটক কী উদ্দেশ্যে এসএসসি পাস অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের সিমকার্ড দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। যারা সবেমাত্র এসএসসি পাস করেছে, তাদের কারও বয়স ১৬ বছরের বেশি হওয়ার কথা নয়। অন্তত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিয়ম অনুসারে তাদের বয়স এ রকমই হওয়ার কথা। কাজেই যাদের বয়স এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ বয়সের শিক্ষার্থীদের টিনএজ শিক্ষার্থী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এই টিনএজরা অনেক কিছুই করে থাকে আবেগপ্রবণ হয়ে। এটা তাদের দোষ নয়। এ বয়সীদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য অনেকটা এ রকমই হয়ে থাকে। এ অবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেয়াটা সুবিবেচনার কাজ হবে বলে মনে হয় না। এছাড়া মোবাইল ফোনের সিম ক্রয়ের ব্যাপারেও বয়সের একটা ব্যাপার রয়েছে। সিমকার্ড ক্রয়ের সময় গ্রাহককে যে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হয় তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, গ্রাহকের বয়স ১৮ বছরের কম হবে না। এক অপারেটরের গ্রাহক নিবন্ধন ফরমে দ্রষ্টব্য অংশে লেখা রয়েছে, বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। খোদ টেলিটকের রেজিস্ট্রেশন ফরমে সিমকার্ড ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ লেখার পাশাপাশি বয়সও লিখতে হয়। এখানে ন্যূনতম বয়সের নির্দেশনা হিসেবে Not below 18 years কথাটা উল্লেখ রয়েছে। আবার গ্রামীণফোন অপারেটরের ওয়েবসাইটে বয়সসীমা প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে, গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটটি এবং এর অন্তর্ভুক্ত যে কোনো পেইজ, তথ্য সার্ভিস ও সেবা ১৮ বছরের কম বয়সী কারও ব্যবহারের জন্য নয়। যে কোনো ধরনের কেনাকাটা বা পণ্য ও সেবা ব্যবহারের জন্য কোম্পানির সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে নিজেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের বলে সম্মতি জানাতে হবে। বয়স নিয়ে টেলিটক তাদের সাইটে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা রেখেছে কি-না, সেটা অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করি, নিজ নামে সিমকার্ড ক্রয়ের ব্যাপারে নিশ্চয়ই বয়সের একটা সীমারেখা রয়েছে। কোনো কোম্পানি নিশ্চয়ই অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোবাইল সিমকার্ড তুলে দিতে পারে না। আর যদি বয়সের ব্যাপারে বাংলাদেশে কোনো আইন-নিয়ম না থেকে থাকে তাহলে আমরা বলব, মোবাইল ফোন গ্রাহকের বয়স অবশ্যই সর্বনিু ১৮ হওয়া উচিত। টেলিটকের সিমকার্ডটি যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়, সেখানেও কথা থেকে যায়। আমরা শুধু বলব, টেলিটক এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়াকে উপলক্ষ করে বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর হাতে ফ্রি সিমকার্ড তুলে দেয়ার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তাতে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রচলিত আইন ও নিয়মের কোনো লংঘন হচ্ছে কি-না, সেটা কর্তৃপক্ষকে খুঁজে দেখতে হবে।
টেলিটক যে অনেক দূরদর্শী চিন্তা করে মাত্র ৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিনামূল্যে সিমকার্ড দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে ৭০ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর হাতে বিপুলসংখ্যক সিমকার্ড তুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা আর কারও কাছে অস্পষ্ট নয়। টেলিটক কর্তৃপক্ষ ভালো করেই জানে, মুক্তিযোদ্ধারা নেহাত প্রয়োজন না পড়লে ফোনে কথা বলবেন না। আমার ধারণা, একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই গভীর রাতে ফোন ব্যবহার করেন না। কিন্তু টিনএজ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিনামূল্যের সিমকার্ড পেয়ে এবং কমরেটের সুযোগে গভীর রাতে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কথা বলার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। আমরা বুঝি না, এমন কী কথা থাকতে পারে যে গভীর রাতে বলার প্রয়োজন? আর বিনামূল্যে সিমকার্ড দেয়ার মানে হল, অভিভাবকদের ওপর একটি করে হ্যান্ডসেট কিনে দেয়ার অতিরিক্তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়া এবং এই অতিরিক্ত খরচের সঙ্গে যুক্ত হবে প্রতিদিন কথা বলার জন্য বাড়তি টাকা গোনা। যেহেতু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিনামূল্যে সিমকার্ড দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সুতরাং কোম্পানির এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের কাছে কথা বলার খরচ হিসেবে বাড়তি টাকা দাবি করার নৈতিক অধিকার পেয়ে যাবে। আর তারা যখন-তখন বায়না ধরবে এই বলে যে, কথা বলার খরচ না দিলে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি কেন তাদের বিনামূল্যে সিম দিয়েছে। তখন অভিভাবকরা কী জবাব দেবেন, সেটা আমার জানা নেই। তবে অনুমান করি, টিনএজ সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের পোহাতে হবে সীমাহীন বিড়ম্বনা। এটা নিয়ে অনেক পরিবারে সৃষ্টি হবে নতুন আরেক অন্তহীন সমস্যার। টেলিটক কর্তৃপক্ষ যদি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সেবামূলক কিছু করতে চায় তাহলে সেটা অন্যভাবেও করতে পারে। কোম্পানিটি ইচ্ছা করলে জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে পড়ালেখায় উৎসাহ প্রদানমূলক সংবর্ধনা দিতে পারে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ালেখা করার জন্য বইপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এককালীন আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। এছাড়া আরও নানাভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব ও সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। এসব শুধু টেলিটক কোম্পানি নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ভেবে দেখতে পারে। তাহলেই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে উপকৃত হবে।
মোঃ মুজিবুর রহমান : সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ

মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বেড়েছে বৈষম্যও by ড. আর এম দেবনাথ

রাজনীতির বাজার ভালো নয়, নয় অর্থনীতির বাজারও। নির্বাচন সমাগত। নির্বাচনী প্রচারও শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে কি-না তার কোনো নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। এক গভীর অনিশ্চয়তা সর্বত্র। এদিকে অর্থনীতির খবরও ভালো নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু আগস্ট মাসে প্রায় দুবছরের মধ্যে সর্বনিু রেমিটেন্স এসেছে, যার ওপর নির্ভরশীল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ঈদের পরে রেমিটেন্স একটু কমই হয়। কিন্তু এবার রেমিটেন্স হ্রাসের খবর ভিন্ন। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান তেজী। ৮৪ টাকায় যে ডলার বিক্রি হতো তার মূল্য সরকারিভাবে ৮০ টাকার নিচে। কিন্তু কার্ব বা দুই নম্বরি মার্কেটে ডলারের দাম বেশি। হুন্ডিতেও তাই। এ কারণে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে হুন্ডিতে, সরকারি চ্যানেলে কম। হুন্ডিতে প্রেরকরা ২ থেকে ৪ টাকা প্রতি ডলারে বেশি পায়। অতএব রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে সরকারি চ্যানেল কিছুদিন তেজী থেকে এখন আবার মন্দায় ডুবছে। এদিকে আমদানির পরিমাণ সর্বনিু। ২০১১-১২ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে নিট আমদানি হ্রাস পেয়েছে। চালের আমদানি, গমের আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এটা যেমন সুখবর, আবার মূলধনী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়েছে এটা দুঃসংবাদ। এতে সরকারের রাজস্ব কমেছে, কম থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে। শেয়ারবাজার ওঠে-নামে, স্থিতিশীল হচ্ছে না। এতসব খারাপ খবরের মধ্যে অবশ্য একটা ভালো খবরও আছে। খবরটি আশাজাগানিয়া।
খবরটি হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় আয় তথা জিডিপি বেড়ে গেছে। জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধির হার সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিগত বাজেট বক্তৃতার সময়ে আমাদের একটা ধারণা দিয়েছিলেন। দেখা যাচ্ছে, সেই হিসাব এখন আর ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমাদের জিডিপির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। এ হিসাবে আমাদের মাথাপিছু আয়ও যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা হয়েছে তিনটি কারণে। প্রথমত, হিসাবের ভিত্তি বছর পরিবর্তন হয়েছে; দ্বিতীয়ত, এর ফলে মূল্যমানে পরিবর্তন হয়েছে এবং তৃতীয়ত, জিডিপির হিসাবে নতুন নতুন অনেক পণ্য ও সেবা যোগ হয়েছে, যার ফলে জিডিপি বা অর্থনীতির আকার (সাইজ) অনেক বড় হয়েছে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে যে হিসাব করা হতো, সেই হিসাবে জিডিপির পরিমাণ ছিল ৪,৩৩৭ বিলিয়ন ডলার (এক বিলিয়ন সমান এক হাজার মিলিয়ন)। এখন থেকে ভিত্তি বছর ১৯৯৫-৯৬ অকার্যকর, চালু হয়েছে ২০০৫-০৬। নতুন ভিত্তি বছর ধরে জিডিপির পরিমাণ হয়েছে ৭,২০৪ বিলিয়ন ডলার। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয়। প্রবৃদ্ধির হার ২০১২-১৩ অর্থবছরে নতুনভাবে হবে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা আগের হিসাবে ছিল ৬ দশমিক ০৩। উল্লম্ফনটা হয়েছে খুবই বড় মাথাপিছু আয়ে। এক লাফে এক হাজার ডলারের উপরে হয়েছে মাথাপিছু আয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আগের হিসাবে মাথাপিছু আয় ছিল ৯২৩ ডলার। নতুন হিসাবে হয়েছে ১০৪৪ ডলার। এক হাজার ডলারের উপরে হচ্ছে মাথাপিছু আয়- এই হচ্ছে আসল খবরটা।
আমাদের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এটা একটা মাইলস্টোন। এক হাজার ডলার মাথাপিছু আয় অতিক্রম করাই ছিল একটা কঠিন কাজ। এ কাজটা দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে জিডিপির বা অর্থনীতির কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হওয়ার ফলে। আমাদের অর্থনীতি এখন অনেকটা সাবালক। বিগত ৪০-৪২ বছরের ইতিহাস আর টানলাম না। গত দশ বছরেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বহু শিল্প পেছনে পড়ে গেছে। বহু শিল্প নতুনভাবে হয়েছে। অনেক শিল্প মরিমরি অবস্থায় আছে। কৃষি খাতে বিপুল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নতুন পণ্য যোগ হয়েছে। অনেক কৃষিপণ্যের গুরুত্ব নষ্ট হয়েছে। সেবা খাতে যোগ হয়েছে নতুন নতুন সেবা। আগে জিডিপি হিসাব করার সময় এসব বিবেচনায় আনা হয়নি। এর ফলে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার প্রভৃতির প্রকৃত প্রতিফলন হয়নি। ভারতে প্রতি পাঁচ বছর পর পর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ে এসব পরিবর্তন যোগ-বিয়োগ করে নতুনভাবে হিসাব করা হয়, যাতে হিসাব প্রকৃত তথ্যের প্রতিফলন ঘটায়। আমাদের এখানে তা ১০ বছর অন্তর অন্তর করা হয়। তাও করা হয় জাতিসংঘ কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করে। এখানে হিসাবটি নির্ভুল করাই মুখ্য লক্ষ্য, রাজনীতি নয়। দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে বিগত দশ বছরে ২৫-৩০টি কৃষিপণ্য নতুনভাবে এসেছে যেমন- সবুজ কলা, সবুজ পেঁপে, সবুজ নারকেল, সয়াবিন, শসা, গোলাপ ফুল ইত্যাদি। আবার শুকনা মাছ ইত্যাদিও আছে, যা যোগ হচ্ছে এখন। শিল্প ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্যাস রিফাইনিং কার্যক্রম এবং শিল্প জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা অনেক শিল্প-কারখানা নতুনভাবে জিডিপিতে যোগ হচ্ছে। আসবাবপত্র নতুনভাবে এসেছে। ইট, কাঠ ইত্যাদি আছে। মোটরযান মেরামত কারখানা, টিসিবির কাজ ইত্যাদি রয়েছে। বেসরকারি খাতের বিশাল ব্যবসা, ক্লিয়ারিং-ফরোয়ার্ডিং, ট্রাভেল এজেন্ট, ইন্টারনেট, কেব্ল অপারেটর, ব্র্যান্ডিং, ইনটেরিয়র ডেকোরেশন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট- এ ধরনের অনেক সেবা ইদানীংকার ঘটনা। পূর্ববর্তী জিডিপি ক্যালকুলেশনে এসবের স্থান ছিল না। কিন্তু এখন দিতে হচ্ছে। কারণ এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন। মাইক্রোক্রেডিট, সমবায় ঋণ, বীমার দালাল ইত্যাদি নতুন ঘটনা। এসবের সংযুক্তির কারণে জিডিপির আকার বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমার নিজের ধারণা, এ ছাড়াও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে মূল্যমান। আমাদের দেশে কেউ সঠিক মূল্যের ধারণা দেয় না। প্রকৃত আয়, প্রকৃত ব্যয়, প্রকৃত ভোগ, প্রকৃত উৎপাদন ইত্যাদির খবর, প্রকৃত আমদানি, প্রকৃত রফতানির খবর বের করা এক সুকঠিন বিষয়। আমার সব সময়ই ধারণা ছিল, আমাদের যেভাবে গরিব দেখানো হয়, আমরা প্রকৃত অর্থে ততটা গরিব নই। দারিদ্র্য সীমার নিচের লোকের হিসাবও আমার কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হয় না। প্রকৃতপক্ষে কত লোক খেতে-পরতে পারে না তার তথ্য আমরা দেই, সরকার দেয়, কিন্তু তার নির্ভুলতা এখনও প্রশ্ন সাপেক্ষ। গত দুই-তিন বছরের মধ্যে আমি সারাদেশ ঘুরেছি। সর্বত্র আমার একটা প্রশ্ন ছিল আর সেটা হচ্ছে- না খেয়ে কোনো লোক আছে কি-না? কেউ আমাকে বলেনি যে, এখন লোকে উপোস থাকে। এমনকি রংপুরের লোকেরাও আমাকে একই কথা বলেছেন। এ অবস্থায় আমার কাছে সব সময়ই প্রশ্ন ছিল, আমরা আসলে কতটুকু গরিব? এ প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সরকারি হিসাব মানতে হয়। কারণ সরকারের হিসাবের বিকল্প হিসাব আমাদের কাছে নেই। তাছাড়া আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরো আগের অবস্থায় নেই। এ প্রতিষ্ঠানটিও বহু চড়াই-উতরাইয়ের মাধ্যমে আজকে একটি জায়গায় এসেছে। তারা বেশকিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের তথ্যই আমরা সবাই ব্যবহার করি। তাদের হিসাবেই আমরা এখন একটা মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছি। এটা বেশ সম্মানের বলে আমি মনে করি। এটা এমন সময় ঘটছে যখন চালে আমরা প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। চালের সংকট আমাদের নেই। চাল আমদানির পরিমাণ নগণ্য। যেটুকু আমদানি হয় তা উচ্চমূল্যের চাল। এখন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে। অধিকসংখ্যক মানুষ চিকন চাল খায়। মানুষ এখন আটার রুটি খায়। স্বাধীনতার পর কেউ আটার রুটি খেলে তাকে গরিব বলে ধরা হতো। পুঁটি মাছ, শোল মাছ, টেংরা, বজরি ইত্যাদি মাছ খেলে মানুষ তাকে গরিব মনে করত। শিম বিচি, কাঁঠাল বিচি, পুঁইশাক ইত্যাদি ছিল গরিবের খাদ্য। এমনকি ইলিশও। এখন এ পরিস্থিতি নেই। এখন গ্রামের মানুষ চা ও কফি নিয়মিত খায়। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হচ্ছে গ্রামে। চারদিকে পরিবর্তন লক্ষণীয়।
আমরা এমন সময়ে মধ্য আয়ের দেশ হচ্ছি, যখন বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ সম্মানজনক পর্যায়ে। এখন আমরা ঋণ করি বেশি, সাহায্য পাই কম। আমদানি ও রফতানির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় এক কোটির মতো বাংলাদেশী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করে টাকা পাঠাচ্ছে। এরা অর্থনীতির লাইফলাইন। পোশাক কারখানায় কাজ করে ৩০-৪০ লাখ নারী শ্রমিক। ৫৪টির মতো ব্যাংক দেশে। ২০-২৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৬০টির উপরে রয়েছে বীমা কোম্পানি। রমরমা একটি বেসরকারি খাত হয়েছে। এনজিও রয়েছে কত তার হিসাব কেউ জানে না। মানুষের গড় আয়ু যথেষ্ট বেড়েছে। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। ফসল লাগানো, ফসল তোলা, আগাছা দূরীকরণ থেকে শুরু করে অনেক কৃষিকাজ এখন যন্ত্রে হচ্ছে। গ্রামে শ্রমিকের ভীষণ অভাব। বিশাল একটা আবাসন শিল্প হয়েছে। ৬০টির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ৩০-৪০টি মেডিকেল কলেজ আছে বেসরকারি খাতে। এসবই কিন্তু জিডিপির আকার বৃদ্ধির লক্ষণ। আমাদের গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি) শুধু আকারে নয়, প্রকারেও বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগতভাবে, কাঠামোগতভাবেও সম্প্রসারিত হয়েছে।
তবে একটি জায়গাতেই সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। এই যে অহংকার করার মতো তথ্য- আমাদের মাথাপিছু আয় ১০৪৪ ডলার- এটা হচ্ছে গড় হিসাব। এতে একজন শ্রমিকের আয় যেমন আছে, তেমনি আছে একজন মধ্যবিত্তের আয়। সর্বোপরি রয়েছে বিদেশে যেসব বাংলাদেশীর বাড়িঘর ও ব্যবসা আছে তাদেরও আয়। বড় বড় ব্যবসায়ী গ্র“পের মালিক, ব্যাংক মালিক, বীমার মালিক, বেসরকারি বিদ্যুৎ কারখানার মালিক ইত্যাদি শ্রেণীর লোকের আয়ও আছে। বড় বড় উকিল, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদ, কনসালট্যান্ট, মন্ত্রী-মিনিস্টার, সংসদ সদস্য- সবার আয়ই এর মধ্যে আছে। এর অর্থ, গড়ের আয়ে আমাদের বেশ ধনী ধনী ভাব হলেও প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। আয় বৈষম্য, ধনবৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। অর্থনীতি বড় হচ্ছে, জিডিপি গায়ে-গতরে বাড়ছে, প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে, তার পাশাপাশি বাড়ছে আয়বৈষম্য, ধনবৈষম্য। আমার ধারণা, এ দিকটিও আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমার মনে হয়, আমরা যতটুকু প্রবৃদ্ধির জন্য যতœশীল, ততটুকু বৈষম্য দূরীকরণে নই। এর কিন্তু মূল্য আজ না হোক কাল দিতে হবে। শত হোক, বৈষম্য বড় করে কোনো দেশ অব্যাহতভাবে উন্নয়ন করতে পারে না।
ড. আর এম দেবনাথ : সাবেক প্রফেসর, বিআইবিএম

যুদ্ধংদেহী যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ইতিহাস : ১৮৯০-বর্তমান

সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটিতে হামলা করে তাহলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বা সামরিক অভিযানের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা। এজন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো পক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হলে তার জবাব দিতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে হামলার আগে এ ধরনের অনুমোদন নেয় হয়েছিল। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাংবিধানিক ক্ষমতার বলে একক সিদ্ধান্তে অনেক অভিযান পরিচালনা করেছেন।
সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্ট কমান্ডার ইন চিফ। কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে অথবা না নিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ১৮৯০ থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। সোয়াশ’ বছর ধরে আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ যত যুদ্ধ ইতিহাসে দেখা যায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ও স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো। কখনও নিজের স্বার্থে আবার কখনও মিত্রদের স্বার্থে সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। পানামা, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কুয়েত, বসনিয়া, যুগোস্লাভিয়া, গ্রানাভা, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া এসব দেশে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে চীন, জাপান, কোরিয়া ও ফিলিপাইনে একাধিকবার সামরিক হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধবাজ জাতি হিসেবে আজও বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তির জায়গাটিও তাদের দখলে। তবে তাদের সব যুদ্ধের স্মৃতি সুুখকর নয়। জয়-পরাজয় সমান্তরালেই এগিয়েছে। সিরিয়ায় হামলা নিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিপক্ষে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া, চীনের মতো শক্তিশালীরা। সে যা হোক, এ সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দীর্ঘ পথচলা একদম সংক্ষেপ যুগান্তর পাঠক সমাজকে জানানোর তাগিদ থেকে আমাদের দুই কিস্তির বিশেষ আয়োজন ‘যুদ্ধংদেহী যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ইতহিাস’ : ১৮৯০-বর্তমান। আজ প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হল।
দেশ অথবা অভিযানের বাহিনীর উপলক্ষ্য
রাজ্য তারিখ ধরন
দক্ষিণ ১৮৯০ সৈন্য ৩০০ লাকোটা ইন্ডিয়ানকে
ডাকোটা ২৯ ডিসে. গণহত্যার মাধ্যমে শেষ হয়
আর্জেন্টিনা ১৮৯০ সৈন্য বুয়েনস আয়ার্সের স্বার্থ রক্ষা হয়
চিলি ১৮৯১ সৈন্য নৌবাহিনীর সঙ্গে জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ
হাইতি ১৮৯১ সৈন্য নাডাসা দ্বীপে কালোদের হাত
থেকে সাদাদের রক্ষা
ইডাহো ১৯৮২ সৈন্য রুপাখনির শ্রমিকদের ধর্মঘটে
দমন অভিযান
হাওয়াই ১৮৯৩ সৈন্য হাওয়াই সাম্রাজ্যের পতন
শিকাগো ১৮৯৪ সৈন্য রেল ধর্মঘটের অবসান, ৩৪ জন নিহত
নিকারাগুয়া ১৮৯৪ সৈন্য ব্ল–ফিল্ডসে সাদাদের স্বার্থ রক্ষা
চীন ১৮৯৪-৯৫ নৌবাহিনী প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ
কোরিয়া ১৮৯৪-৯৬ সৈন্য প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধে
সিউলে মার্কিনদের রক্ষা
পানামা ১৮৯৫ সৈন্য ও মার্কিন স্বার্থ রক্ষায়
নৌবাহিনী কলম্বিয়ায় সেনা মোতায়েন
নিকারাগুয়া ১৮৯৬ সৈন্য রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন স্বার্থ প্রতিষ্ঠা
চীন ১৮৯৮-১৯০০ সৈন্য বক্সার বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিদেশী
সেনাদের যুদ্ধ
ফিলিপাইন্স ১৮৯৮-১৯১০ নৌবাহিনী স্পেনের কাছ থেকে নৌঘাঁটি ও সৈন্য হরণ। ৬ লাখ ফিলিপাইন্স
নাগরিক নিহত হয়
কিউবা ১৮৯৮-১৯০২ নৌবাহিনী স্পেনের কাছ থেকে ছিনিয়ে
ও সৈন্য নেয়া এবং সে নৌঘাঁটিটি
এখন যুক্তরাষ্ট্রের দখলে
পুয়ের্তরিকো ১৮৯৮ নৌবাহিনী স্পেনের কাছ থেকে দখল ও সৈন্য এবং সেখানে আজও তা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র
গুয়াম ১৮৯৮ নৌবাহিনী স্পেনের কাছ থেকে ঘাঁটিটি
ও সৈন্য ছিনিয়ে নেয় এবং আজও রয়েছে।
মিনেসোটা ১৮৯৮ (?) সৈন্য লেস লেকে সামরিক সংঘাত
নিকারাগুয়া ১৮৯৮ সৈন্য স্যান জুয়ান ডেল সুর বন্দরে আস্তান তৈরি
সামোয়া ১৮৯৯ সৈন্য জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার যুদ্ধ
নিকারাগুয়া ১৮৯৯ সৈন্য ব্ল–ফিল্ডস বন্দরে নৌআস্তানা তৈরি
ওকলাহোমা ১৯০১ সৈন্য ক্রিক ইন্ডিয়ান বিদ্রোহ দমন
পানামা ১৯০১-১৪ নৌবাহিনী ১৯০৩ সালে কলম্বিয়া থেকে পানামা পৃথক
ও সৈন্য করে খাল অধিগ্রহণ এবং ১৯১৪ সালে
খুলে দেয়া হয়
হন্ডুরাস ১৯০৩ সৈন্য বিপ্লবের মুখে সামরিক হস্তক্ষেপ
ডমিনিকান ১৯০৩-০৪ সৈন্য বিপ্লবের মুখে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা
রিপাবলিক
কোরিয়া ১৯০৪-০৫ সৈন্য রুসো-জাপানিজ যুদ্ধের
সময় সিউল রক্ষা করা
কিউবা ১৯০৬-০৯ সৈন্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য
সৈন্য মোতায়েন
পানামা ১৯০৮ সৈন্য নির্বাচনে নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপ
চীন ১৯১১-৪১ নৌবাহিনী দীর্ঘ সংঘর্ষের মধ্যে মার্কিন
ও সৈন্য দখলদারিত্ব বজায় রাখা
কিউবা ১৯১২ সৈন্য গৃহযুদ্ধের সময় মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করা
পানামা ১৯১২ সৈন্য নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে নৌবাহিনী হস্তক্ষেপ করে
মেক্সিকো ১৯১৩ নৌবাহিনী বিপ্লবের সময় মার্কিনদের সরিয়ে নিতে
মেক্সিকো ১৯১৪-১৮ নৌবাহিনী জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে
ও সৈন্য ধারাবাহিক অভিযান
ডমিনিকান ১৯১৬-২৪ সৈন্য ৮ বছর নৌবাহিনী অধিগ্রহণ
রিপাবলিক করে রাখে
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৭-১৮ নৌবাহিনী জার্মানির বিরুদ্ধে নৌযুদ্ধ
ও সৈন্য এবং প্রায় দেড় বছর পর জয়
সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯১৮-২২ নৌবাহনী ও বলশেভিকবিরোধী যুদ্ধের জন্য সৈন্য
যুগোস্লাভিয়া ১৯১৯ সৈন্য ও ইতালীয় সার্ব যুদ্ধে ইতালিকে
নৌবাহিনী সহায়তার জন্য অভিযান
গুয়াতেমালা ১৯২০ সৈন্য ইউনিয়নপন্থীদের বিরুদ্ধে
দুই সপ্তাহের অভিযান
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ১৯২০-২১ সৈন্য ও খনিশ্রমিকদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান
তুরস্ক ১৯২২ সৈন্য ইজমিরে তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে
চীন ১৯২২-২৭ সৈন্য জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহের মুখে মার্কিন স্বার্থ
পানামা ১৯২৫ সৈন্য হামলা ও দাঙ্গা প্রতিরোধে
চীন ১৯২৭-৩৪ সৈন্য সাংহাইযুদ্ধ কেন্দ্র করে সারা দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন
এল সালভেদর ১৯৩২ নৌবাহিনী মার্টি বিদ্রোহ দমনে যুদ্ধজাহাজ প্রেরণ
ওয়াশিংটন ডিসি ১৯৩২ সৈন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অতিরিক্ত সেনাদের করা বিক্ষোভ দমন

সাইকেল চালিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিজয় উদযাপন

অস্ট্রেলিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট সাইকেলে চড়ে চূড়ান্ত বিজয় উদযাপন করেছেন। রোববার চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভের পর তিনি সাইকেলে চালিয়ে জনতার খুব কাছাকাছি চলে যান। অস্ট্রেলিয়ায় শনিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিরোধী নেতা টনি অ্যাবটের দল। শনিবার রাতে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রতিনিধি পরিষদের মোট ১৫০টি আসনের মধ্যে টনি অ্যাবটের রক্ষণশীল লিবারেল ন্যাশনাল জোট ৯০টির বেশি আসন পেতে যাচ্ছে। আর কেভিন রাডের লেবার দল ৫৫টি আসন পেতে পারে।
এর আগে পরাজয় মেনে নিয়ে কেভিন রাড ঘোষণা দেন, লেবার দলের নেতৃত্বের জন্য তিনি ভবিষ্যতে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। রোববার সিডনিতে সাংবাদিকদের অ্যাবট ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়াকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণে আমি কাজ করে যাব।’ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ১৫০ আসনবিশিষ্ট প্রতিনিধি পরিষদে অ্যাবটের রক্ষণশীল জোট ৮৮ ও লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৭টি আসন। এদিকে দেশটির বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড পরাজয় মেনে নিয়ে নতুন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এবিসি।