Monday, June 22, 2015

বাংলাওয়াশের হাতছানি by উৎপল শুভ্র

দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংয়ের ভার নিয়েছেন তরুণ কাঁধে।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর সেই মুস্তাফিজুরকেই কাঁধে
তুলে নিলেন সতীর্থরা। কাল মিরপুরে l ছবি: শামসুল হক
শেষ পর্যন্ত কোন ছবিটা মনে আছে আপনার?
এই ম্যাচ তো টুকরো টুকরো অনেক হিরণ্ময় ছবির কোলাজ—ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই কাচের আড়ালে মাশরাফি বিন মুর্তজার মুষ্টিবদ্ধ উল্লাস।
ম্যাচ শেষে ধীর পায়ে মাঠে ঢুকে মুস্তাফিজুরের একটা স্টাম্প তুলে নেওয়া।
ধোনিদের সঙ্গে হাত মেলানোর পর মাঠে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ রেখে রচিত ওই বিজয়ী মানববৃত্ত।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতীকী বোধ হয় ওই দৃশ্যটাই—তাসকিন ও লিটনের কাঁধে মুস্তাফিজুর রহমান।
এ এক অবাক ক্রিকেট ম্যাচ, যেখানে স্কোরকার্ড বলছে দুই দলেরই রান সমান। অথচ এক দল ৬ উইকেটে জয়ী!
এ এক অবাক ক্রিকেট ম্যাচ, যেটিতে ‘বাচ্চা’ বাংলাদেশ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় ‘বড়’ ভারতকে!
এ এক অবাক ক্রিকেট ম্যাচ, যেটি সোচ্চারে ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের জয় এখন আর বিস্ময়ে আচ্ছন্ন হওয়ার মতো কিছু নয়।
এ এক অবাক ক্রিকেট ম্যাচ, যেটির মাহাত্ম্য শুধুই একটি জয়ের সীমানা ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পরিব্যাপ্ত।
ভারতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়। সেটিও এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। খেলা শেষ হতেই তাই আকাশে-বাতাসে উড়ে বেড়াতে শুরু করল শব্দটা। ক্রিকেট অভিধানে বাংলাদেশের কল্যাণেই যেটির অন্তর্ভুক্তি—‘বাংলাওয়াশ’!
আবারও সেটি হবে কি হবে না, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে মাত্র দুই দিনেরই অপেক্ষা। তবে একটা অপেক্ষার অবসান হয়ে গেল কালই। এ জয়েই নিশ্চিত হয়ে গেল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ থাকছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে শীর্ষ আট দলের টুর্নামেন্ট বানিয়ে ফেলার পেছনে আসল উদ্দেশ্য যেটিই থাকুক, এ দেশের মানুষের কাছে এর অর্থ ছিল একটা—ক্রিকেটের ‘অভিজাত’ দলগুলোর উৎসবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে যেন অকারণ ‘ঝামেলা’ হয়ে না থাকে!
মাঝখানে বিশ্বকাপ আর এর আগে-পরে জিম্বাবুয়ে আর পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দিল, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলাটা বাংলাদেশের অধিকার এবং সেখানে শুধুই সংখ্যা পূরণ করতে যাওয়া নয়!
ভারতের বিপক্ষে এর আগেও তিনটি জয় ছিল। তবে দুই জয়ে সবচেয়ে কম ব্যবধান ছিল প্রায় আড়াই বছরের। এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে জয় এবং সেই দুই জয়েই সবচেয়ে জ্বলজ্বলে একটা নাম। মুস্তাফিজুর রহমান!
প্রথম ম্যাচের মুস্তাফিজুর সব অর্থেই ছিলেন বিস্ময়। অমন হইহই রইরই অভিষেকের কারণে তো বটেই, অজানা-অচেনা এই তরুণ বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্যও। তা প্রথম ম্যাচের মুস্তাফিজুরকে যদি বিস্ময় বলা হয়, দ্বিতীয় ম্যাচের মুস্তাফিজুরকে তাহলে কী বলা হবে! মাঝের দুই দিন ভারতীয় দলের হোমওয়ার্ক তো মুস্তাফিজুরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তারপরও ভারতের নামীদামি ব্যাটসম্যানদের কাছে মুস্তাফিজুর সেই একই রকম দুর্বোধ্য এক ধাঁধাই হয়ে রইলেন।
আগের দিন রোহিত শর্মার আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার ঘোষণায় লুকিয়ে ছিল হুমকি। দ্বিতীয় বলেই সেটিকে বাগাড়ম্বরে পরিণত করার কাজটাও করলেন মুস্তাফিজুরই। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল রোহিত শর্মাকে আউট করে। আরেকটি মুস্তাফিজুর-কাব্যের প্রথম স্তবকটিতেও সেই রোহিতই।
চাপে জর্জর ভারতকে আরও কম্পমান করে তুলতে শুরুর ওই ধাক্কাটির অসীম ভূমিকা। ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেট ওই একটিই। ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিলেন দ্বিতীয় স্পেলে। মাশরাফি আবার যখন ফেরালেন তাঁকে, ম্যাচ দাঁড়িয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শুরু হচ্ছে, স্কোর ৪ উইকেটে ১৬২ এবং উইকেটে ধোনি ও রায়না। এর কিছুক্ষণ আগেই প্রেসবক্সে ছড়িয়ে পড়েছে, কলকাতা থেকে সৌরভ গাঙ্গুলী ফোনে ভারতীয় সাংবাদিককে বলেছেন, তাঁর কাছে উইকেট বেশি সুবিধার ঠেকছে না। বাংলাদেশ খুব ভালো ব্যাটিং করলে ভিন্ন কথা, নইলে ২২০-ই এখানে জেতার মতো স্কোর।
পাওয়ার প্লেটা কাজে লাগাতে পারলে ভারতের স্কোর এর চেয়ে বেশিও হতে পারত। মুস্তাফিজ-জাদুতে ওই পাওয়ার প্লে-ই ভারতের দুঃস্বপ্নে পরিণত। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা অবশ্য এখন দুঃস্বপ্ন বলতে মুস্তাফিজের অফ কাটারকেই বোঝেন। দ্বিতীয় স্পেলের তৃতীয় বলে আততায়ী সেই কাটারেই সুরেশ রায়নাকে তুলে নিলেন। মাঝখানে এক ওভার। তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট। এর মধ্যে প্রথমটিই সম্ভবত মুস্তাফিজুরের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি হয়ে থাকবে। প্রথম ম্যাচে ধোনির ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও গুনতে হয়েছে। সেই ধোনি ২৬৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতা দিয়েও মুস্তাফিজুরের কাটার বুঝতে ব্যর্থ!
পাওয়ার প্লের পাঁচ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ভারত তাই তুলতে পারল মাত্র ১৭ রান। ম্যাচটা সেখানেই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে এল। মুস্তাফিজুর তো অবিসংবাদিত নায়ক, তবে পার্শ্বনায়কের ভূমিকা ভুলে গেলে অন্যায় হবে। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে দামি উইকেট বিরাট কোহলিকে ফিরিয়েছেন, উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া শিখর ধাওয়ানকেও। ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয়বার পুরো ১০ ওভার বোলিং করলেন। প্রথমবার ৩৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সমান রান দিয়ে কাল নাসির হোসেনের মহামূল্যবান ২ উইকেট।
নায়কের গল্প এখনো শেষ হয়নি। ওয়ানডেতে প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ছিল একটিই। বাংলাদেশের তা খুব মনে আছে। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটরির ওই কীর্তি বাংলাদেশের বিপক্ষেই। ঘটনাচক্রে এই ভিটরিও বাঁহাতি পেসার। বৃষ্টি যখন খেলা থামিয়ে দিল, মুস্তাফিজুরের তখনো একটি বল বাকি। আবার খেলা শুরু হওয়ার পর ওই এক বলেই ছাড়িয়ে গেলেন ভিটরিকে। পাঁচের পর ছয়—প্রথম দুই ওয়ানডেতে ১১ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ওয়ানডে এর আগে কখনো দেখেনি।
৪৭ ওভারের ম্যাচ বানিয়ে দেওয়া বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইসের আবির্ভাব হলো। মুস্তাফিজুরের কাটারের মতোই দুর্বোধ্য যে সমীকরণ জানাল, ভারত যত রান করেছে, তা করতে পারলেই জিতবে বাংলাদেশ! স্ট্রোকের গরিমায় ‘গরিবের হেইডেন-গিলক্রিস্ট’ হয়ে ওঠা তামিম ও সৌম্যর ঝোড়ো সূচনায় সেটিকে কোনো রানই মনে হচ্ছিল না। কিন্তু ক্রিকেট ম্যাচ তো আর সরলরেখায় চলে না। ৯৮ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর একটু হলেও সংশয় তাই উড়ে বেড়াচ্ছিল বৃষ্টিভেজা বাতাসে। স্লিপে রায়না মুশফিকের ক্যাচটি নিতে পারলে সেটি আরও জোরালো হতো।
রানআউটের খাঁড়ায় মুশফিক যখন কাটা পড়লেন, তখন আর সেটি কপালে ভাঁজ ফেলার মতো কিছু নয়। নৈরাশ্যবাদী কারও মনে তারপরও যদি কোনো সংশয় থেকে থাকে, সেটিকে ঝেঁটিয়ে দূর করলেন সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান। দুর্দান্ত এক জুটিতে নয় ওভার আগেই খেলা শেষ!
‘কোন ছবিটা মনে রাখবেন’ দিয়ে শুরু হয়েছিল লেখাটা। আরেকটা ফ্রেমও বোধ হয় তাতে থাকা উচিত। ধবল কুলকার্নির বলে টালমাটাল সাব্বির উইকেটের ওপর পড়ে যেতে যেতে কোনোমতে হিট উইকেট হওয়া থেকে বাঁচলেন। পরের বলটা শর্ট আসবে অনুমান করে অদ্ভুত এক স্টান্সে দাঁড়িয়ে পুল করার ঘোষণাটা যেন জানিয়েই দিলেন বোলারকে। শর্ট বলই হলো, পুলও। বল পত্রপাঠ সীমানার বাইরে।
ম্যাচের প্রতীকী ছবি হিসেবে এটাকেও রাখতে পারেন। আগেই ঘোষণা দিয়ে সাব্বিরের ওই পুলটিতেই যে বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া—এ এক নতুন বাংলাদেশ!
দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়
ভারত ২০০/১০ ওভার ৪৫
বাংলাদেশ ২০০/৪ ওভার ৩৮

বন্ধু খুন, গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকায় ছারোয়ার হোসেন শুভ (২২) নামে এক বন্ধুকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দু’পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে তার মাদকাসক্ত তিন বন্ধু। 
সোমবার সকাল ১০ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত ছারোয়ার হোসেন শুভর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ নিহত যুবক ছারোয়ার হোসেন শুভর ঘাতক মাদকাসক্ত বন্ধু মামুন (২২), ইউনুছ (২০) ও  ইব্রাহিম মল্লিক (২১) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। নিহত যুবক ছারোয়ার হোসেন শুভ রাজবাড়ি জেলার কালুখালী থানার ঝাউগ্রাম এলাকার মো. শাহিনের ছেলে।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুর কাদের মানবকণ্ঠকে জানান, নিহত যুবক ছারোয়ার হোসেন শুভ রাজবাড়ি জেলা থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর বিসিক এলাকায় ওই ঘাতক তিন বন্ধুর কাছে আসেন। পরে ছারোয়ার হোসেন শুভ রাতে ঘাতক বন্ধু মামুন, ইউনুছ ও  ইব্রাহিম মল্লিকের সঙ্গে থেকে রাতে ড্যান্ডি নামক নেশা পান করার সময় কথা কাটাকাটি হয়। এতে তিন বন্ধু ছারোয়ার হোসেন শুভর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ধা দিয়ে তার দু’পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে ঘরে রাখে। সোমবার সকালে বাড়ি মালিক মমিন মিয়া ঘরের ভাড়া চাইতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। পরে দরজা খুললে ঘরে রক্ত ও রক্তমাখা দা দেখে মামুন, ইউনুছ ও ইব্রাহিম মল্লিককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিহত ছারোয়ার হোসেন শুভর লাশ কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করে।

পাকিস্তানে প্রচণ্ড দাবদাহে ২০০ জনের প্রাণহানি

ইসলামাবাদে প্রচণ্ড গরমে শরীরতে জুড়িয়ে নিতে গোসল
করছে এক শিশু। দেশটিতে প্রচণ্ড গরমে এরই মধ্যে
২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ছবিটি ইসলামাবাদ থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
মর্গের সামনে নিহত লোকজনের স্বজনদের কান্না
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে প্রচণ্ড দাবদাহে আজ ৬৩ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে দেশটিতে ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডন ডটকমের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
আব্বাসি শহীদ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ইমরান সামদানির ভাষ্যমতে, আজ সকালে সাতজন মারা গেছে। তারা গরম ও গ্যাস্ট্রো-সংশ্লিষ্ট সমস্যাজনিত কারণে মারা গেছে। এর আগে গত দুই দিনে মারা গিয়েছিল ৩০জন। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও দুটি শিশু ছিল। জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের প্রধান সিমিন জামালি ডনকে বলেন, গতকাল রাত থেকে ৫০ জন মারা গেছে। গত শনিবার রাত থেকে এই হাসপাতালে ৮৫ জন মারা গেছে। মারা যাওয়া লোকজনের বেশির ভাগই বয়স্ক।
করাচির সিভিল হাসপাতালের অধ্যাপক এন সাঈদ কুরেশি জানান, আজ সকালে মারা যাওয়া ছয়জনসহ এখানে ৩৫ জন মারা গেছে। গত শনিবার চলতি গ্রীষ্মে করাচির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সিন্ধু প্রদেশের জাকুবাবাদ, লারকানা ও সুক্কুর জেলায় ছিল ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা গতকাল ছিল ৪১ ডিগ্রি। এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ায় নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জারি করা বিবৃতিতে নওয়াজ শরিফ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে দুর্গত লোকজনের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলোকে গরমে কী করণীয়, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন।
পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আজ সোমবার পর্যন্ত এ বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে গরম কিছুটা কমে আসবে।
গত মাসে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রচণ্ড গরমে প্রায় ১৭০০ মানুষ মারা গেছে।

কালশী: জ্বলন্ত এপিটাফ এর এক বছর by ফারুক ওয়াসিফ

এক বালিকা তার মায়ের চোখের মণিতে পাহাড়-নদী-লতাপাতা দেখতে পায়। কালশীর বিহারি মানুষদের চোখের দিকে তাকালে দেখতে পাই আগুন-মৃত্যু, বঞ্চনা আর নির্যাতনের ছায়াছবি। মানুষের চোখে যার যার জীবনের সুখ-দুঃখের ছাপ পড়ে। একটানা কষ্টে থাকলে সেই ছাপ স্থায়ী হয়ে যায়। বিহারিদের যন্ত্রণার শুরু আছে, শেষ নেই। তারা পাকিস্তানেও শরণার্থী ছিল, বাংলাদেশেও শরণার্থী। আর সবাই তো জানেই, শরণার্থীদের কোনো দেশ নেই। তারা সংখ্যালঘুদের মধ্যে সংখ্যালঘু, নিপীড়িতের মধ্যে নিপীড়িত। কেউ যদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, চাকমা-মান্দি-গারো-ত্রিপুরা-মণিপুরি জনগোষ্ঠীর দুঃখ বোঝেন, তাহলে আটকে পড়া পাকিস্তানি নামে পরিচিত উর্দুভাষীর দুঃখটাও বুঝবেন। তিনি আরও জানবেন, অন্য সংখ্যালঘুদের যদিও বা যাওয়ার জায়গা আছে, তাদের কারও কারও ক্ষমতা-বিত্তের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সুযোগ যদিও থাকে, বিহারিদের সেসব কিছুই নেই। তাদের জীবন পতঙ্গের জীবন, ভাসমান, উড়ন্ত এবং খরচযোগ্য৷
গত বছরের এই দিনে ঢাকার মিরপুরের কালশীর বিহারি ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা করে এক পরিবারের সাতজনকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আরও তিনজন মারা গিয়েছিলেন পুলিশ ও মাস্তানদের গুলিতে। আহত হয়েছিলেন পঞ্চাশাধিক। ভাঙচুর হয়েছিল বেশ কটি ঘর ও দোকান।
এই এক বছরে এসবের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। উল্টো কালশী বস্তির অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৭১৪ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে চারটি পুলিশের, দুটি বেসরকারি ব্যক্তির করা। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিহারিদের সংগঠন এসপিজিআরপির কালশী শাখার সেক্রেটারি শওকত হোসেনের কথায়, ‘আমরা প্রমাণ দিলাম, ভিডিও ফুটেজ দিলাম; অথচ কেউ কিছু করল না। এখন উল্টা ভয়ে থাকি, কখন চার্জশিট হয়, আর আমাদের কারে কারে ধরে নিয়ে যায়। আমরা জীবন দিলাম, মাইর খাইলাম, মামলাও খাইলাম।’
ওই ঘটনায় এক পরিবারেই পুড়ে মারা গিয়েছিলেন সাতজন। খুনিরা বাইরে থেকে ঘরের তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছিল। ওদিকে পুলিশের গুলির মুখে কারোরই সাহায্যের হাত নিয়ে এগিয়ে আসার সাহস ছিল না। যাঁরা সাহস করেছিলেন, তাঁদের গুলিবিদ্ধ অথবা আটক হতে হয়েছে। সে সময় বিহারিপল্লিতে গিয়ে শুনেছিলাম, ‘প্রতিবাদ করায় ১০ জন মারা গেছে, যদি প্রতিবাদ না করতাম তাহলে পুরো বস্তি জ্বালায়া দিত, আরও মানুষ মরত।’
নিজেদের তারা এখনো মানুষ মনে করে। কিন্তু আইনের চোখে তারা ‘নাগরিক’ নয়, কেবলই ভোটার। বাঙালি সমাজের অনেকেই তাদের কলঙ্ক, ময়লা, অপরাধী মনে করে, মানুষ মনে করে না।
স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু সয়ে উঠতে হয়েছিল যাঁকে, তাঁর নাম ইয়াসিন। শওকত হোসেনকে জিজ্ঞাসা করি, আপনারা কেন মামলা করলেন না?
তিনি বললেন, ‘কার ওপর মামলা করব? করে থাকতে পারব? মামলা করতে চাইছিল ইয়াসিন। কিন্তু তারেও তো মাইরা ফালানো হইল। পুলিশ বলে, অ্যাকসিডেন্ট! কিন্তু সবাই জানে ইয়াসিন মামলা করবে—এই ভয়ে হেরেও মাইরা ফালাইল!’
তখনই খেয়াল হলো আচ্ছা, ইয়াসিনের আরও এক কন্যা তো পুড়তে পুড়তেও বেঁচে গিয়েছিল ওই জতুগৃহ থেকে। তার কী খবর! সেই মেয়েটির নাম ফারজানা, বয়স ১৪-১৫। তাদের পরিবারে যদি দুর্ভাগ্যের আগুন না জ্বলত, তাহলে এখন সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। গত বছরের ভয়াবহ ট্র্যািজডির পর তার আর পড়ালেখা করার মতো অবস্থা ছিল না। মা, ভাইবোন, বোনের বাচ্চাদের পুড়ে কয়লা হতে দেখাও যেন যথেষ্ট নয়, মাস খানেকের মধ্যে বাবাও মারা গেলেন এক বিতর্কিত সড়ক দুর্ঘটনায়। তার খালাতো বোন জানাল, ফারজানা এখন ভালো আছে। সে আবার পড়ালেখায় মন দিচ্ছে। আগামী বছর ক্লাস সিক্সে ভর্তি করা হবে, তাই ক্লাস ফাইভের বই পড়ছে পুনরায়।
‘ফারজানা ভালো আছে’ শুনে খটকা লাগল। এটা কেমন ভালো থাকা? বিহারিদের নেতা শওকত বলেছিলেন, ‘কে মামলা করবে, কার ওপর মামলা করব। বাঁইচা থাকলে ইয়াসিন মামলা করত! ইয়াসিনের পর তার মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে মামলা করবে বলে শুনেছিলাম!’ বিপদটা এখানেই, ফারজানা যদি তার পুরো পরিবারের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি করে বসে? সেই এতিম মাসুম বাচ্চার ফরিয়াদ যদি ক্ষমতাবানদের কারও মনে জ্বালা ধরায়, তাহলে তো ফারজানার পক্ষেও প্রাণ বাঁচানো কঠিন হবে! ফারজানা তাই এককথায় ‘ভালো আছে’। সহায়-স্বজন সব হারিয়ে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প নামক অকহতব্য বাস্তবতায় বাস করেও তাকে ‘ভালো’ থাকতে হয়!
সাতজনকে পুড়িয়ে মারা, তিনজনকে গুলি করে হত্যা করার সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। ইয়াসিনের বাসচাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলার মতো লোক আছে। তবু প্রশাসনের তরফ থেকে মামলা হলেও সুনির্দিষ্ট কাউকে অভিযোগ করা হয়নি। সেই মামলার অভিযোগপত্রও যেন হওয়ার নয়। নিহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের নামে কেউই ক্ষতিপূরণ পায়নি। যে ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার মালিক জুম্মন সেখানে বাড়ি বানিয়ে মাদ্রাসা করেছেন।
পরিস্থিতি এখন শান্ত, মনের তলায় ভয়ানক আতঙ্ক। যুবক বয়সী অনেকেই এলাকা ত্যাগ করেছেন। যদি আপনি কালশীতে যান, যদি সেদিনের কথা জিজ্ঞাসা করেন, উত্তর পাবেন না। কেবল ভালো করে তাদের চোখের গভীরে তাকালে দেখবেন শোকের হুতাশন, হত্যার ফরিয়াদ, অমানবিকতার জ্বালা সেখানে ধিকিধিকি জ্বলছেই।
শওকত যেহেতু নেতা, সেহেতু তাঁকে কিছু কথা সাহস করে বলতেই হয়। তিনি বলছিলেন, ‘ভোটার হয়ে কী লাভ হলো? পাঁচ বছর পরপর খালি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার লোক আসে, কোনো অধিকারই আসে না। আমাদের বাচ্চারা কাউন্সিলর-এমপির সুপারিশ ছাড়া স্কুলে ভর্তি হইতে পারে না। তাও সবাইকে ভর্তি নেওয়াও হয় না। আমরা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারি না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার যেমন হয়েছে, তেমনি দেরিতে হলেও একদিন আমরাও বিচার পাব’।
ধন্য আশা কুহকিনী। এই দেশে সংবিধান মোতাবেক সব নাগরিক সমান। এর মধ্যে নাগরিকদের একটি অংশ অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সমান। কিন্তু বিহারিরা তো নাগরিকই নয়। তারা রোহিঙ্গাদের মতোই রাষ্ট্রহীন প্রাণী। রোমান সাম্রাজ্যের আইনে এ রকম মানুষদের বলা হতো হোমো সাসের। এরা ছিল বধ্যোগ্য, এদের বাঁচতে হতো ক্ষমতাবানদের করুণার ওপর।
২০১৪ সালের ১৪ জুন রাজধানীতে প্রকাশ্যে, দিনের আলোয় যা হয়েছে, তা-ই কি শেষ? রামু থেকে সাঁথিয়া, বান্দরবান থেকে কালশী পর্যন্ত বিচারহীনতার যে দাপট, তাতে কালশী যেন বাংলাদেশে মানবতার জ্বলন্ত এপিটাফ। আসুন, আমরা এ রকম মৃত্যু ও অবিচারের সঙ্গে বসবাসের স্নায়বিক ব্যায়াম করে চলি!
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

আফগানিস্তানে পার্লামেন্ট ভবনে তালেবান হামলা

আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর
কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পার্লামেন্ট ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ৬ তালেবান জঙ্গি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে প্রত্যেক জঙ্গি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে হামলার সমাপ্তি হয়েছে। হামলার পর তালেবান জঙ্গীরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিস। পুলিশ জানায়, হামলার সময় বড় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুরো পার্লামেন্ট খালি করে দেয় পুলিশ। পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। টিভি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, সংসদ সদস্যরা দৌড়ে ভবন থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে নতুন প্রতিরক্ষীমন্ত্রীর পরিচয়ের দিন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। হামলাকারীরা পার্লামেন্টে প্রবেশ করার আগে ভবনের বাইরে একটি গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাসুম স্ট্যানেকজাইয়ের পরিচিতির সময় হামলা চালানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছে।

দোষ স্বীকার না করলেও মোবাইল কোর্টে শাস্তি

অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করলেও সাক্ষ্য নিয়ে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) শাস্তি দিতে পারবে এমন বিধান রেখে ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ সংশোধন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব বৈঠকে ‘মোবাইল কোর্ট (সংশোধন) আইন, ২০১৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ সালে প্রণয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ আইনের বিধান অনুযায়ী বিচারযোগ্য ব্যক্তি দোষ স্বীকার করলেই কেবল মোবাইল কোর্টে শাস্তি দেয়া যায়। অনেকেই দোষ করে তা স্বীকার করেন না; স্বীকার না করলে মোবাইল কোর্টের আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাস্তি দিতে পারেন না। এখানে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশোধিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে, দোষ স্বীকার করলে শাস্তি তো পাবেনই, দোষ স্বীকার না করলে সাক্ষ্য নিয়ে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ম্যাজিস্ট্রেট শাস্তি দিতে পারবেন বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সংশোধিত আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর ও বায়োমেট্রিক্স মোবাইল কোর্টের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সাধারণত জীববিদ্যার তথ্য নিয়ে যে বিজ্ঞান কাজ করে তাকে বায়োমেট্রিক্স বলে; তা মানুষের আচরণগত বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারবেন। মোবাইল কোর্ট আরও কার্যকর করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন, মন্ত্রিসভা বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি ওয়ার্কশপ থেকে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের সুপারিশ পাওয়া যায়। সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশোধিত আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন।

কয়েকজনের হটকারিতায় গোটা বাংলাদেশের অপমান

সুধীর গৌতম
ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিম বাসে ঢিল ছুড়েছিল একজনই। কিন্তু অপমানিত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। বিশ্ব মিডিয়া এই একজন হটকারীর নাম আসেনি। খবর এসেছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিম বাস বাংলাদেশের সমর্থকদের দ্বারা আক্রান্ত। গতকাল তিন-চারজন একইভাবে অপমান করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থক সুধীর গৌতম কাল স্টেডিয়াম থেকে বেরোনোর পথে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে খবর। সুধীরকে অনেকেরই চেনার কথা। ক্রিকেটপাগল মানুষটা শচীন টেন্ডুলকারের ভীষণ ভক্ত। সারা গায়ে ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙা রং মাখেন। পিঠে লেখা থাকে টেন্ডুলকারের নাম আর ‘১০’ সংখ্যাটি। প্রচণ্ড রোদ কিংবা প্রবল শীতেও এই বেশ বদলায় না। তাঁর এই পাগলামি ​দেখে খোদ টেন্ডুলকার ডেকে নিয়েছিলেন। অনেক দিন টেন্ডুলকার নিজে তাঁর নামে বরাদ্দের একটা করে টিকিট দিয়ে আসতেন সুধীরকে।
খেলাপাগল দরিদ্র এই মানুষটা সাইকেল চালিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে শোনা যায়। ঘুমিয়েছেন ফুটপাতে, গ্যারেজে। কখনো কোনো নিম্ন-মধ্যবিত্তের বাড়িতে আশ্রয় মিলেছে। কিন্তু বারবার বাংলাদেশে এসেছেন। এ দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তাঁকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন ‘টাইগার শোয়েব’ আর ‘টাইগার মিলন’রা।
সেই শোয়েব ফোনে প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘সুধীর আমার আপন ভাইয়ের মতো। আমরা একসঙ্গে গ্যালারিতে থাকি। খেলা তো খেলাই। মাঠে খেলা হবে, বাইরে আমরা উদযাপন করব। কিন্তু তা-ই বলে গায়ে হাত তুলতে হবে! আমিও তো ভারতে গেছি, শ্রীলঙ্কায় গেছি, জিম্বাবুয়েতে গেছি। এমনও হয়েছে গ্যালারির একটা অংশে শুধু আমি একা বাংলাদেশের সাপোর্ট করছি। কই, কেউ তো কখনো গায়ে হাত তোলেনি।’ শোয়েবের প্রশ্ন, এখন তিনি যদি ভারতে গিয়ে কখনো মার খান, কোন গলায় প্রতিবাদ করবেন?
ভারতের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এনডিটিভি থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সুধীর স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার​ পর পরই কয়েক জন লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। হাত থেকে ভা​রতের জাতীয় পতাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন পুলিশ কর্মী তাঁকে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে দেন। কিন্তু তাতেও নিরস্ত হয়নি সেই খ্যাপাটে সমর্থকেরা। সেই সময় সুধীরের সিএনজি লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়।
এই ঘটনার পর থেকে সুধীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন টাইগার শোয়েব। সুধীরকে তিনি বোঝাতে চান, এই তিন-চারজন সমর্থক বাংলাদেশের আসল সমর্থক নয়। এদের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে তিনি যেন পুরো বাংলাদেশের ওপর অভিমান না করেন। বাংলাদেশে আসা বন্ধ না করেন। কিন্তু সুধীরের নম্বরটি বন্ধ!
মাইক আথারটনের কথাটা এখনো নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। ২০১১ বিশ্বকাপে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এমনিতেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট ছাড়া হয়েছিল কম। বেশির ভাগই ছিল ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু ভীষণ দুঃসময়েও ক্রিকেটটাকে ভালোবেসে, আঁকড়ে ধরে ধরে ধরে সেই হামাগুড়ি দিতে থাকা সময়টা থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এত দূর নিয়ে এসেছে এ​ দেশের সাধারণ মানুষই। মাঠে ঢুকতে না পারলাম তো কী হলো! তাঁরা স্টেডিয়ামের বাইরেই নিজেদের মতো করে শুরু করেন উদযাপন। ​সেটাই যেন সত্যিকারের ‘উদ্বোধনী’ অনুষ্ঠান।
স্টেডিয়াম থেকে বাইরের এই দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক সময়ের কট্টর সমালোচক আথারটন লিখেছিলেন, ‘মাত্রই বিশ্বকাপ শুরু হলো। কে চ্যাম্পিয়ন হবে না জানি। তবে ক্রিকেটকে ভালোবাসার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকেরাই সারা বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন।’
এই সম্মানের গায়ে যারা কলঙ্কের দাগ ফেলে, সেই মুষ্টিমেয় সমর্থকেরা কি আদৌ বাংলাদেশের ক্রিকেটের সত্যিকারের সমর্থক?

কর্ণফুলীতে তেল ছড়ানো ঠেকাতে বসেছে ‘বুম’ by প্রণব বল

চট্টগ্রামের হারগেজি খালে ছড়িয়ে পড়া তেল নিজস্ব পদ্ধতিতে
সংগ্রহ করছেন স্থানীয় লোকজন। গত শুক্রবার রেলসেতু
ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রেনের তিনটি ওয়াগন খালে পড়ে
গেলে ওই তেল ছড়িয়ে পড়ে। তেল পৌঁছে গেছে কর্ণফুলী
নদীতেও। গতকাল দুপুর ১২টায় তোলা ছবি l প্রথম আলো
দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন থেকে ফার্নেস তেল খাল ও নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে তিনটি ওয়াগন থেকে প্রায় ৭০ হাজার লিটার তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এই তেল খালের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে মিশছে।
খাল থেকে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে খাল ও নদীর সংযোগস্থলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার বিকেল ‘বুম’ (তেল না ছড়ানোর পদ্ধতি) বসিয়েছে। এর কারণে খালে থাকা তেল জোয়ার-ভাটার সময় নদীর পানিতে মিশতে পারবে না।
খালের পানির নমুনা পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইসুল আলম মণ্ডল। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি রয়েছে। ক্ষতির মাত্রা দ্রুত যাতে কমানো যায়, সে জন্য খাল ও নদী থেকে তেল অপসারণের চেষ্টা চলছে।
তেল অপসারণে কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানি থেকে তেল অপসারণ দুরূহ কাজ। সেই প্রযুক্তি এখনো আমাদের এখানে সেভাবে নেই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তেল অপসারণ করতে।’
গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার সীমান্তে শাইরাপুল এলাকায় হারগেজি খালের (বোয়ালখালী খাল) সেতু পার হওয়ার সময় সেটি ভেঙে খালে পড়ে যায় তেলবাহী ট্রেন। দুর্ঘটনায় দুটি ওয়াগন খালে পড়ে যায়। আরেকটি ওয়াগন অর্ধেক ডুবে যায়। প্রতিটি ওয়াগনে ২৫ হাজার লিটার তেল ছিল। এ ছাড়া ট্রেনের ইঞ্জিন খালের পাশে কাত হয়ে পড়ে যায়। লাইনচ্যুত হয় আরও একটি ওয়াগন। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা তেল ডিপো থেকে ফার্নেস অয়েল নিয়ে ট্রেনটি চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী যাচ্ছিল। দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য আটটি ওয়াগনে করে তেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
রেল মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য ফোম আনা হয়। এ ছাড়া খালের দুই পাশের তেলযুক্ত ঘাস কেটে ফেলার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হয়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে খাল থেকে সংগ্রহ করা প্রতি লিটার তেল ৬০ টাকা দরে কিনবে। দুপুরে তিনি দুর্ঘটাস্থল এলাকায় যান এবং তেল অপসারণে স্থানীয় লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক দাবি করেন, বেশির ভাগ তেল ঘাস ও গাছপালায় লেগে আছে। অল্প তেল পানিতে মিশেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাফর আলমও গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হারগেজি খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব রয়েছে। যে কারণে বেশির ভাগ তেল নদীতে মিশে গেছে।
দূষিত পানি: দুর্ঘটনার পর শনিবার হারগেজি খাল ও কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত খালের মুখ থেকে তেলমিশ্রিত পানির নমুনা সংগ্রহ করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা। নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, খালের মুখসহ পাঁচটি স্থানের নমুনা পরীক্ষায় সর্বনিম্ন দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম (আদর্শ মান ৫ মিলিগ্রাম)। পাঁচটি নমুনার চারটিতেই অক্সিজেন স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকাজ: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এখন রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে। এরপর তিনটি ওয়াগন তোলা হবে। এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, লাইন সচল করতে আরও সাত দিন লাগতে পারে।

পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জাতির কাহিনী by নাজমুল আহসান

রোহিঙ্গাদের কোন আইনগত পরিচয় নেই
গল্পটা আরকামের একার নয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে যে তার চোখের সামনে বাবাকে খুন হতে দেখেছে। তার বাবার অপরাধ ছিল মসজিদে নামাজ আদায় করা। বৌদ্ধ প্রতিবেশীরা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল ইসলাম পালন না করতে। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঁকড়ে রাখার শাস্তি হিসেবেই তার পিতাকে মাথায় পাথর মেরে, ছুরিকাঘাত করে সেদিন হত্যা করা হয়। ১৮ বছর বয়সী আরকাম এখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পাশের একটি শিপিং কনটেইনারে কাজ করেন। তার সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমার থেকে যাওয়া আরও ৭ রোহিঙ্গা। স্বল্প বেতনে চাকরি করে, কোনমতে সন্ধ্যাবেলায় খাদ্য এবং কাপড় জোটে তাদের। প্রায় একই ধরনের গল্প শোনালো আরকামের সঙ্গে থাকা আরেক রোহিঙ্গা যুবক আসহান (২০)। তার বয়স যখন ৯ বছর, তার পিতা ও বড় ভাই পাশের একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। তারা আর কখনই ফিরে আসেনি। প্রায় দেড় বছর আগে একদল বৌদ্ধ রাখাইন তাদের ঘরসহ গোটা গ্রামে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সে সহ আরও ডজনখানেক মানুষ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। নদীর অপরপাশে অপেক্ষা করছিল পাচারকারীরা। জোর করে তাদের নৌকায় ওঠায় পাচারকারীরা। কিন্তু বহুদিন পরও মুক্তিপণ পরিশোধের জন্য কাউকে ঠিক করতে পারেনি আসহান। এতে পাচারকারীরা তার ওপর ক্ষেপে যায় ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত তার গ্রামের অধিবাসীরা তার মুক্তির জন্য ৭০ হাজার টাকা তুলে দেয় পাচারকারীদের কাছে।
প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারে নাগরিকত্ব পায়নি তারা। অথচ, সেখানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে ২৫০০০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে নৌকায় চেপেছে। অবশেষে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু বোঝাই মানবপাচারকারীদের নৌকার দৃশ্য বিশ্বের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়।
২০১২ সালের পর থেকে, স্থানীয় বৌদ্ধদের দ্বারা ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের পরিস্থিতি আক্ষরিক অর্থেই করুণ। এটা সত্য যে, নৌকায় করে সাগর পাড়ি দেয়ার সময় পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হয় তারা। কিন্তু রাখাইনদের মর্মন্তুদ পরিস্থিতির কারণেই রোহিঙ্গারা সাগর পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করছে যে, রাখাইনে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রোহিঙ্গারা গণহারে নৃশংসতা এমনকি গণহত্যার শিকার হওয়ার বিশাল ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়েছে। কক্সবাজারের শামলাপুর গ্রামের তোহেবা খাতুন (৫০) নামের এক রোহিঙ্গা নারী জানান, তিনি ১৮ বছর আগে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমান। তার স্বামীকে জোর করে নিজেদের কাজে খাটিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, আমরা সারাদিন কিছু না খেয়ে কাজ করতাম। কেউই কাজ শেষে মজুরি পেত না। একদিন ৬০ কেজি ওজনের অস্ত্রের বাক্স বইতে না পারায় তোহেবা খাতুনের স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে সেনাবাহিনী। এক পর্যায়ে সব বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে আসে তারা।
নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়ের জন্য খুব দুশ্চিন্তা হয় তোহেবার। তার মেয়ে মালয়েশিয়া যেতে নৌকায় উঠেছে। গত ২ মাস ধরে মেয়ের কোন খবর পাচ্ছেন না তিনি। মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের কোন আইনগত পরিচয় নেই। কাগজে কলমে কাজ করার অনুমতিও নেই। কিন্তু বাস্তবে বহু রোহিঙ্গাই স্বল্পমূল্যে কাজ করছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার সুযোগ নেই কারও। খুব অল্প কিছু এনজিও পরিচালিত ‘শিখন কেন্দ্রে’ অংশ নেয় কিছু রোহিঙ্গা শিশু। কিন্তু এরপরও বাস্তবতা হচ্ছে, মিয়ানমারের চেয়ে মালয়েশিয়ায় আরকাম ও আসহান বেশি অর্থ উপার্জন করছে। সবচেয়ে বড় কথা, আসহান এখন জানে যে, রাতে ঘুমানোর পর সে সকালে জেগে উঠতে পারবে।
স্বাধীন রাজ্য আরাকানে মুসলমানরা সর্বপ্রথম পাড়ি জমায় খুব সম্ভবত অষ্টম শতাব্দীর দিকে। তারা ছিল মূলত সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ী। এদের বংশধররা তো ছিলই। সতেরো শতাব্দীতে আরাকানিজদের হাতে আটক হাজার হাজার বাঙালি মুসলমানও পাড়ি জমায় আরাকানে। ওই মুসলমানদের অনেককে আরাকান রাজার সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিযুক্ত করা হয়। অনেককে বিভিন্ন স্থানে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়। অনেকেই আরাকানেই থেকে যেতে বাধ্য হয়।
‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির অর্থ ‘রোহাং-এর বাসিন্দা’। আগে আরাকানকে ‘রোহাং’ নামেই ডাকতো মুসলিমরা। ১৭৯৫ সালের দিকে আরাকান রাজ্য দখলে নেয় বার্মিজ সেনাবাহিনী। এ সময়টাতে মুসলিম ও আরাকানিজদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল না। কিন্তু ১৮২৫ সালে বৃটিশরা যখন আরাকান জয় করে, এরপরই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। আরাকান ও বার্মা- উভয়ই ছিল বৃটিশ ভারতের অংশ।
গণ-অভিবাসন ঔপনিবেশিক অর্থনীতিকে অনেকগুণ সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় আরাকানিজরা তীব্র ঘৃণার সঙ্গে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু তাদের কিছু করারও ছিল না। তাদের ধারণা ছিল, তাদের চাকরি ও জমি দখলে নিচ্ছে বাইরের মানুষরা। যাদের তারা এখনও ‘অবৈধ অভিবাসী’ অথবা ‘বাঙালি’ (মর্যাদাহানিকরভাবে) হিসেবে সম্বোধন করে। উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমপর্ক আরও তিক্ত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তখন স্থানীয় রাখাইনরা ছিল মূলত অক্ষশক্তি তথা জাপানের পক্ষে। অপরদিকে বৃটিশরা ছিল অক্ষশক্তির বিরোধীপক্ষ তথা মিত্রপক্ষের অন্যতম পুরোধা।
যুদ্ধ পরবর্তী বার্মার ১৩৫টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত জনগোষ্ঠী, যেমন কাচিন, কারেন ও চীনাদের মতো রাখাইনরাও দেশটির সামরিক সরকারের দ্বারা বৈষম্যের শিকার হয়। বার্মার স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো নিজেদের বৃটিশ ঔপনিবেশিক নির্যাতনের ভুক্তভোগী (ভিকটিম) মনে করে। অর্থাৎ রাখাইন বা বার্মিজ উভয় কর্তৃপক্ষই নিজেদের বৃটিশ শাসনের ভুক্তভোগী মনে করে। রাখাইনরা আবার বার্মিজদের থেকেও নির্যাতনের শিকার। সে রাখাইনরাই এবার মূলত রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। বার্মিজরা এখানে রাখাইনদের সমর্থন দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের দাবি এদের কারো কাছেই ধর্তব্য নয়। এরই ফলশ্রুতিতে মিয়ানমার সরকার কখনই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়নি। তাদের অন্যতম আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়নি।
বাংলাদেশও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে রাজি নয়। ৯০’র দশকের মাঝামাঝি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন করানো হয়েছিল। রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজেদের ‘সাধারণ’ বাঙালি ভাবতে রাজি নয়। বরং তাদের দাবি, তারা আরাকান রাজ্যের ঐশ্বর্যবান ও প্রাচীন ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এর ওপর ভিত্তি করেই প্রোথিত মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ও অন্যতম আদিবাসী নৃগোষ্ঠী হিসেবে তাদের স্বীকৃতির দাবি।
দু’পক্ষের মধ্যে মিটমাটের প্রচেষ্টা ২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশে জাতিগত নির্মূলাভিযানের কারণে শেষ হয়ে গেছে। তিন রোহিঙ্গা পুরুষ কর্তৃক এক রাখাইন নারীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শুরু হয় ওই ঘটনা। সে সময় রাখাইন প্রদেশের সিতয়ে সহ বিভিন্ন স্থানে রাখাইন জনগোষ্ঠীর তাণ্ডবে ২০০ জন নিহত হয়। পালাতে বাধ্য হয় রোহিঙ্গারা। নিজেদের বসতভিটা থেকে উৎখাত হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়। স্কুল ও হাসপাতালের সেবা নিষিদ্ধ হয় তাদের জন্য।
ইন্টারন্যাশনাল স্টেট ক্রাইম ইনিশিয়েটিভ (আইএসসিআই)- এর গবেষকরা বলছেন, ওই সহিংসতার অনেকগুলোই পরিকল্পিত। অনেক রাখাইন পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, তাদেরকে সহিংসতার সময় বাসে করে সিতয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুসলিমদের ওপর হামলা করতে। সঙ্গে করে ছুরি রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। সে সময় পুরো দিনের জন্য বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়েছিল আক্রমণে অংশ নেয়া রাখাইনদের। মিয়ানমারের তীব্র মুসলিম-বিরোধী পরিস্থিতিতে একে খুব ভালো রাজনীতি হিসেবে দেখা হয়। মিয়ানমারের মুসলিম-বিরোধী ওই তীব্রতা ছড়িয়েছিল বৌদ্ধ ভিক্ষু ও রাজনীতিবিদরা। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশটির তুলনামূলক সুষ্ঠু ও স্বাধীন সাধারণ নির্বাচন। বর্তমান সরকারের জন্য রোহিঙ্গা নির্মূলাভিযানে সমর্থন দেয়াটা মূলত সে নির্বাচনে পরাজয় ঠেকানোর শেষ প্রচেষ্টার অংশ।
২০১২ সালের জাতিগত নির্মূলাভিযানকে আইএসসিআই-এর অধ্যাপক পেনি গ্রিন আখ্যায়িত করছেন ‘গণহত্যার প্রক্রিয়া’ হিসেবে। ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, বিভিন্ন ধাপে ধাপে একটি জাতির ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেগুলো হলো- ওই জাতিটিকে কলঙ্কিত করে উপস্থাপন করা, এরপর তাকে হয়রানির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, পৃথক্‌করণ করা এবং পদ্ধতিগতভাবে নাগরিক অধিকার দুর্বল করা। রোহিঙ্গাদের বেলায় প্রথম চারটি ধাপ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। প্রথমত, তাদের নাগরিকত্ব ও আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর স্বীকৃতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে চাকরির বেলায় বৈষম্য করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী হামলা করেছে, ধর্মীয়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তৃতীয়ত, তাদের পৃথক করা হয়েছে মূল সমাজ থেকে। ২০১২ সালে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে। চতুর্থত, পরিচয়পত্র বাতিল করে তাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। অন্যত্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসবই পদ্ধতিগতভাবে নাগরিক অধিকার দুর্বল করার উদাহরণ। রাখাইন প্রদেশে তাদের ওপর পঞ্চম ধাপ অর্থাৎ গণহত্যা যে এড়ানো যাবে না, তা নয়। কিন্তু অধ্যাপক গ্রিনের মতে পঞ্চম ধাপ অর্থাৎ গণহত্যা হওয়া অসম্ভবও নয়।
মিয়ানমার সরকার অবশ্য তীব্রভাবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে। কিন্তু অধ্যাপক গ্রিনের যুক্তি, ২০১২ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকেই বিচারের মুখোমুখি করেনি সরকার, সাজা দূরে থাক। তাই গণহত্যার সম্ভাব্যতা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে এতসব সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে শান্ত। তবে অনেকে উগ্র ধারণা পোষণ করে মিয়ানমার ও পুরো বৌদ্ধ ধর্মের ওপর। সামপ্রতিককালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর প্রধান আবু বকর বাগদাদি প্রশ্ন রাখেন, বার্মার দুর্বল লাখো মুসলমানদের সমর্থনে সৌদি রাজপরিবার ও তাদের সহযোগীরা কী করেছে?
তবে এখন পর্যন্ত ইসলামী জঙ্গিদের কাছে এমন বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতায়ই সীমাবদ্ধ রয়েছে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি। রাখাইন আরেকটি চেচনিয়া বা কাশ্মীর হয়নি। এর কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত, বিদেশী জিহাদিরা এখন ইরাক-সিরিয়ায় আইএস-এ যোগ দিতে ব্যস্ত। গরিব কৃষক ও জেলে রোহিঙ্গাদের বাঁচানোর চেয়েও খিলাফত প্রতিষ্ঠাই তাদের কাছে এখন বড় বিষয়। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার নিজের সীমান্ত বেশ কঠোরভাবে সুরক্ষিত করে রেখেছে। ফলে বিদেশী জিহাদিরা দেশটিতে পৌঁছে যুদ্ধ বাধাতে পারছে না। আর তৃতীয় কারণটি নরওয়েজিয়ান এক বিশেষজ্ঞ খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, ইসলামী জঙ্গিরা সেখানে যায় না, যেখানে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হয়। তারা যায় সেখানে, যেখানে মুসলমানরা যুদ্ধ করে! তাই রাখাইন প্রদেশে যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়েও হত্যার ক্ষেত্র বেশি। আর রোহিঙ্গারা লড়াই করতে পারছে না। তাদের কাছে তাই লড়াইয়ের বিকল্প হলো পালিয়ে যাওয়া। আর তা করতে গিয়েই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। সে সংকটের চিত্রই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
(ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার by সামছুর রহমান

এভাবেই প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী​ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা
পার হচ্ছে। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে তোলা l সাজিদ হোসেন
কলেজপড়ুয়া মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সড়ক পার হতে চেষ্টা করছিলেন তানিয়া হক। কিন্তু একের পর এক দ্রুত গতির যানবাহনের কারণে এক পা এগিয়ে আবার পিছিয়ে যাচ্ছিলেন।
গতকাল রোববার বেলা একটার দিকে এমন চিত্র দেখা গেল রাজধানীর কুড়িল উড়ালসড়কের নিচে বিশ্বরোড পুলিশ বক্সের সামনের বিমানবন্দর সড়ক পারাপারে। তানিয়া হক বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা পার হতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। ফুটওভারব্রিজ (পদচারী সেতু) যেহেতু নাই, উচিত ছিল এখানে ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।’
৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুড়িল উড়ালসড়কটি ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু পদচারী সেতু নির্মাণসহ প্রকল্পের ছোটখাটো কিছু কাজ বাদ থেকে যায়। কুড়িল উড়ালসড়ক প্রকল্পে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য পদচারী সেতুর মতো যেসব সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গতকাল দেখা যায়, পথচারীরা বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিমানবন্দর সড়ক বিভাজকের ভাঙা অংশ দিয়ে পার হচ্ছেন। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে পথচারীরা হাত উঁচিয়ে, গাড়ি থামিয়ে নানা কসরত করে সড়ক পার হচ্ছেন। কোনো জেব্রা ক্রসিং বা গতিরোধক না থাকায় যানবাহনও চলাচল করছে দ্রুতগতিতে। কুড়িল বিশ্বরোডের এই জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্স আছে। পুলিশ বক্সের সামনে দিয়েই পথচারীরা বিপজ্জনকভাবে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন।
দেখা যায়, যাত্রীরা যেখান দিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন তার কয়েক ফুট দূরেই পদচারী সেতু। এর নির্মাণকাজও প্রায় শেষ। এই উড়ালসড়ক দিয়ে প্রগতি সরণি, পূর্বাচল ও বনানী এলাকার গন্তব্যে যাওয়ার প্রবেশমুখের পাশে বানানো পদচারী সেতুটিতে ওঠার মুখটি টিন দিয়ে বন্ধ করা। পদচারী সেতু থেকে নেমে উড়ালসড়কের পাশ দিয়ে পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ বানানো হয়েছে।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী আশিক রহমান বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেখছি ওভারব্রিজটি বানানো হচ্ছে। আগে শুধু পিলার ছিল, এখন পুরো কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই কাজটুকু শেষ করতে আর কত দিন লাগে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক কুড়িল উড়ালসড়কের পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুড়িল উড়ালসড়কের অনেক কাজই এখনো বাকি রয়ে গেছে। তিনটি ফুটওভার ব্রিজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কাজটি শেষ হয়নি।’
এত দিনেও কেন পদচারী সেতু চালু হয়নি জানতে চাইলে রাজউকের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘কুড়িল উড়ালসড়ক বিষয়ে অনেক ধরনের সমস্যা ছিল। সময় লাগলেও অবশেষে ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’
রাজধানীর বাড্ডা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কালাচাঁদপুর, সেনানিবাস, নিকুঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন বিমানবন্দর সড়কটি ব্যবহার করেন। এঁদের একটা বড় অংশই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। বিএএফ শাহীন কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজ, শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই এই পথে পারাপার হয়।
খিলক্ষেত থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আকন্দ বলেন, বেপরোয়া গতির গাড়ির সামনে দিয়ে পথচারীরা বিপজ্জনকভাবে পার হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এ জায়গাটিতে দুর্ঘটনা ঘটে। ওভারব্রিজটি চালু হলে পথচারীদের পারাপার নিরাপদ হতো।

বড়া ভাজে পোড়া মবিলে, জিলাপিতে বাসন্তী রং by সুমনকুমার দাশ



বাসন্তী রং খাবারে ব্যবহৃত হলে পেটের পীড়া থেকে
শুরু করে ক্যানসার, জন্ডিস ও কিডনি-সংক্রান্ত
ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে
সিলেটের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁয় অবাধে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং মিশিয়ে বাহারি পদের ইফতারসামগ্রী তৈরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রং মেশানোয় এসব ইফতারসামগ্রী দেখতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কদর বাড়ে ক্রেতাদের কাছে। তবে রাসায়নিক মিশিয়ে বানানো খাবার বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, সোবহানীঘাট, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, কাজীবাজার, কালীঘাট, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, সুবিদবাজার, পাঠানটোলা, কদমতলী, ভার্থখলাসহ দেড় শতাধিক এলাকায় খোলাবাজারে ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এসব এলাকায় কারিগরেরা প্রকাশ্যে রাসায়নিক মিশিয়ে জিলাপি, পেঁয়াজু, বেগুনি, বড়াসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান রমজানের প্রথম দিন নগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই দিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে রং মিশিয়ে ইফতারসামগ্রী তৈরি করছিলেন। তাঁদের আটকের পর নিজেদের দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এমনটি করবেন না বলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, ক্রেতা ও পথচারীদের সামনে কথা দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একই কাজের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তাই এসব ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ইফতারি তৈরির কাজে নিয়োজিত নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও কদমতলী এলাকার ছয়জন কারিগর জানান, জিলাপি ও পেঁয়াজু তৈরির উপকরণ ময়দা ও ডালের গুঁড়ায় বাসন্তী রং ব্যবহার করা হয়। এতে এগুলোর ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। বেগুনি তৈরির বেসন, চপ, বড়াসহ ময়দাজাত বিভিন্ন সামগ্রীতেও বাসন্তী রং ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া প্রস্তুত করা পণ্য মচমচে, তাজা ও কড়কড়ে রাখতে তেলের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হয়।
আম্বরখানা এলাকার ফুটপাতে স্থাপিত একটি ভ্রাম্যমাণ ইফতারি দোকানের কারিগর সাইদুর রহমান বলেন, ‘মাল (ইফতারসামগ্রী) তাজা রাখতে সব কারিগর তেলে পোড়া মবিল মিশায়। বাসন্তী রং না দিলে জিলাপি দেখতে সুন্দর লাগে না। তাই অনেকে এগুলো কিনতে চায় না। সবাই রং মিশায়, তাই আমিও মিশাই।’
সিলেটের সিভিল সার্জন মো. আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসন্তী রং খুবই নিম্নমানের রাসায়নিক। এটি খাবারে ব্যবহৃত হলে পেটের পীড়া থেকে শুরু করে ক্যানসার, জন্ডিস ও কিডনি-সংক্রান্ত ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এর বাইরে পোড়া মবিল দিয়ে তৈরি করা ইফতারসামগ্রী খেলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’
সিলেটের কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁর কারিগরেরা জানিয়েছেন, বাসন্তী রং ও মিষ্টিজাত সামগ্রীতে ব্যবহৃত রাসায়নিক নগরের মহাজনপট্টি, কালীঘাট ও বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে বাসন্তী রঙের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায় বলে মহাজনপট্টি এলাকার তিনজন বিক্রেতা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার দুই বিক্রেতা জানান, জিলাপি তৈরিতে বাসন্তী রং (শস্যফুলি) এবং বিভিন্ন ধরনের বড়া মচমচে রাখতে পোড়া মবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এমনটা হয়ে আসছে। গতকাল বেলা দুইটায় নগরের বারুতখানা এলাকায় ইফতারসামগ্রী কিনতে আসা খায়রুল কবীর বলেন, ‘বাজারের খোলা ও নিম্নমানের দোকান থেকে আমি ইফতারসামগ্রী কিনি না। যেসব সামগ্রীতে রং কিংবা পোড়া মবিল মেশানোর সুযোগ থাকে, সেসব খাবার আমি ইফতারে বর্জন করে থাকি।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রমজানের প্রথম দিন থেকেই জেলা প্রশাসন প্রায় সব কটি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। ইফতার ও মিষ্টিজাত সামগ্রীতে বাসন্তী রং কিংবা পোড়া মবিল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও শিগগির জোরেশোরে অভিযান চালানো হবে।’

বাংলাদেশ দলকে উপেক্ষা করলে বুড়িগঙ্গায় যেয়ে পড়তে হবে

ভারতকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দাপটের সাথে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতের সাথে এটাই প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের।
দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারত কোনও সুযোগই পায়নি বলতে গেলে। বাংলাদেশ হেসে খেলেই ভারতের বিরুদ্ধে ছয় উইকেটের জয় তুলে নেয়। এই সিরিজ নিয়ে প্রথম থেকেই ব্যাপক আলোচনা চলেছে দুদেশের সমর্থকদের মধ্যে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর ভারতীয় দলের সমালোচনায় মেতেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করেছে সেদেশের সমর্থকেরা। এই ম্যাচের শুরু থেকেই কথা হচ্ছিল বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বাংলাদেশের পরাজয় ও সেই ম্যাচে আম্পায়ারদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে, অনেকেই বলেছেন এটা প্রতিশোধের সিরিজ।
রযাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল বাংলাদেশের মতো একটি নিচের দিকের দলের কাছে টানা দুই ম্যাচ হারার পর এখন দেশটিতে কী প্রতিক্রিয়া?
পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলছিলেন, ভারত দল প্রথমে মনে করছিল তারা বাংলাদেশে আসবে খেলবে জিতে চলে যাবে।
মিঃ ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, সেদেশে সবাই এখন বলতে শুরু করেছে আত্মতুষ্টির মাশুল দিয়েছে ভারত এবং সেটা ভালো হয়েছে। তারা এতটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল প্রথমে সেরা দলটি পাঠাতে চায়নি, এতই আত্মতুষ্টি ছিল। বাংলাদেশের সেরা দলের কাছে ভারতের সেরা দল হেরেছে। খুবই নতজানু হয়ে হেরেছে। দুটো ম্যাচে বাংলাদেশ যে আধিপত্য নিয়ে খেলেছে, এটা সত্যিই খুব প্রশংসনীয়।- বলেন মিঃ ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ক্রিকেটে একটি ভালো টীম হয়ে উঠছে। এই টিমকে যারা যারা উপেক্ষা করবে যারা যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগবে তাদের আজকের ভারতের মতো বুড়িগঙ্গায় যেয়ে পড়তে হবে-বলছিলেন গৌতম ভট্টাচার্য। বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর ইংল্যান্ড দলে ব্যাপক রদবদল হয়েছে, এখন ভারতেও এরকম কিছু হবার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মিঃ ভট্টাচার্য বলেন হতে পারে এমন কিছুু।
মিঃ ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে আসার আগে ভারত দল এমন সব মনোভাব দেখাচ্ছিল এমনকি কোচ রবি শাস্ত্রী সহ সবার কথার মধ্যেই একধরনের অহংকার দেখাচ্ছিল, এমন সব কথা বলছিল যেটা আসলে ঠিক নয় । এমনকি মেলবোর্নে বাংলাদেশের পারফরম্যন্স, হারের পর তাদের বক্তব্য, সব মিলিয়ে ভারতের উচিত ছিল অহংকার না করে বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নেয়া এবং দেখানো যে সুন্দরভাবে আমরা জিতেছি। কিন্তু তা না করে তারা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে- বলেন পশ্চিমবঙ্গের এই ক্রীড়া সাংবাদিক। গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, ভারত দল যে কতটা চাপে আছে তার প্রমাণ মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রেস কনফারেন্সে তাকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলা এবং প্রথম ম্যাচে ধোনির আচরণ যেমনটা তাঁরা কখনও দেখেননি। প্রেস কনফারেন্সে ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলছেন, দলের যদি ভালো হয় তাহলে আমি অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাবো।
- bbc bangla

সুন্দরবন থেকে বিশ্বমঞ্চে by সাজেদুল হক ও ইয়ারব হোসেন

রায়নাকে ফেরানোর পর মুস্তাফিজ।
সাতক্ষীরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণের ছোট্ট গ্রাম তেঁতুলিয়া। সুন্দরবন থেকে খুব বেশি দূরে নয়। যে বনের রয়েলবেঙ্গল টাইগার সারা দুনিয়াতেই বিখ্যাত। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও বহু দিন ধরে ডাকা হয় এ নামে। যদিও তা নিয়ে কখনও কখনও কেউ ঠাট্টা-মশকারাও করেছেন। সেসবই এখন ইতিহাস।
সময় ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৫। আলহাজ আবুল কাশেম গাজী এবং মাহমুদা খাতুন দম্পতির ঘর উজ্জ্বল করে এলো এক শিশু। নাম রাখা হলো মুস্তাফিজুর রহমান। চার ভাই ও দুই বোনের সংসারে বেড়ে ওঠা মুস্তাফিজের। এর পরের ঘটনা সব একরকম নয়। সবার কতরকম স্বপ্ন থাকে। জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চায় ওরা। কিন্তু এই ছেলেটির স্বপ্ন একটু অন্যরকম। ক্রিকেটার হতে চায় সে। যদিও রাজধানী শহর তো দূরের কথা, সাতক্ষীরা শহরও চেনে না সে। নিজের বাড়ির উঠানে অবশ্য অনুশীলন চালিয়ে যায় ছেলেটি। তার এ স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসে কে?
অজিত টেন্ডুলকারের কথা মনে আছে! খুব সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ‘বিখ্যাত ভাই’। নিজের ক্যারিয়ার সবকিছু যে বিসর্জন দিয়েছিলেন ভাইয়ের জন্য। প্রতিদিন ভাইকে নিয়ে যেতেন প্র্যাকটিসে। মাসের পর মাস সেই রুটিনে কোন ব্যতিক্রম হয়নি। তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। শচীন রমেশ টেন্ডুলকার সারাজীবনই কৃতার্থ থেকেছেন ভাই অজিত টেন্ডুলকারের প্রতি। বহুবারই বলেছেন, ভাই না থাকলে তিনি কখনও শচীন টেন্ডুলকার হতে পারতেন না।
আমাদের মুস্তাফিজুরেরও এমন একজন ভাই রয়েছেন, যা হয়তো এরই মধ্যে অনেকে জেনেও গেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান নিজেই বলেছেন, সেজ ভাই মোখলেসুর রহমান কিভাবে প্রতিদিন তাকে ৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে মোটরসাইকেলে করে প্র্যাকটিসে নিয়ে আসতেন। জীবনে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেই ৫ উইকেট পেয়ে নায়ক বনে যাওয়ার পরদিন ভাইয়ের কথা স্মরণ করেছেন মুস্তাফিজুর। অজিত টেন্ডুলকারের ভাইয়ের মতো বিখ্যাত কোন ভাই কি পেতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেট। কিছুদিন আগে মোখলেসুর রহমান বর্ণনা করেছেন কিভাবে ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে যান তার ছোট্ট ভাইটি। তার কথায়, এই তো বছর-পাঁচেক আগের কথা। সাতক্ষীরায় অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটে বাছাই পর্বে নজর কাড়ে সবার। এরপর জেলা পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট খেলায় সাতক্ষীরার হয়ে প্রথম মাঠে নেমেছিল মুস্তাফিজুর রহমান। পড়াশোনায় অতটা মন তার কখনোই ছিল না। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সে ক্রিকেট খেলতে যেতো। বাসায় তো বলেই দিয়েছিল, আমার দ্বারা ওসব হবে না। তোমরা আর জোর করো না। এরপর থেকে ক্রিকেটই তার ধ্যানজ্ঞান। বরেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেট প্যাকটিস করতো মুস্তাফিজ।
সাতক্ষীরা গণমুখী সংঘের কোর্চ আলতাফই প্রথম ধরতে পেরেছিলেন মুস্তাফিজের ভেতরের ‘ধারটা’। হিরে চিনে নিয়ে ঘষামাজার কাজটি তিনি শুরু করে দেন। জেলাপর্যায়ে এসে মুস্তাফিজকে আরও পরিণত করে তুলতে পরিশ্রম করেন সাতক্ষীরার জেলা কোচ মুফাসিনুল ইসলাম তপু। জেলাপর্যায়ের পর খুব বেশিদিন তাকে অপেক্ষা করতে হয়নি। ডাক পেয়ে যান খুলনার বিভাগীয় দলে খেলার। বছর তিনেক আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাস্ট বোলিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে এসে কোচরা আর ছাড়েননি এ প্রতিভাকে। নিয়মিতই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। বল করতেন জাতীয় দলের নেটেও। তবে সম্ভাবনার দ্রুতি ছড়িয়েছেন গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। তার ঝুলিতে ভরেছিলেন ৯ উইকেট। হয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। গত বছরের মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও স্থান পেয়েছিলেন মুস্তাফিজ। রীতিমতো চমক ছিলেন তিনি। মুস্তাফিজ প্রথম শ্রেণীতে খেলা শুরু করেন গত বছর এপ্রিলে। এই তো ছয় মাস আগে অভিষেক হয়েছে ঘরোযা একদিনের ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম শিকারের নাম জানেন তো? শহীদ আফ্রিদী।
তবে ১৮ই জুন, ২০১৫, তেঁতুলিয়া গ্রামের লিকলিকে সেই তরুণটির জীবন আক্ষরিক অর্থেই বদলে গেছে। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে দলে তার অন্তর্ভুক্তিই ছিল অনেকটা আকস্মিক। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে ৪ পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলে অন্তর্ভুক্ত হন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাটিং লাইনের আপের বিরুদ্ধে শুরুতেই তার হাতে বল তুলে দিয়ে বিস্ময় তৈরি করেন অধিনায়ক মাশরাফি। অধিনায়ক পরে অবশ্য বরেছেন, তা ছিল তার কৌশল। সেই কৌশল কতটা সফল হয়েছে তা এরই মধ্যে জেনে গেছে দুনিয়া। তবে বিস্ময়কর প্যাকেজ মুস্তাফিজের বিস্ময়ের শেষ নেই। গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতের বিরুদ্ধে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং লাইনআপ কবে কোন ব্যাটসম্যানের কাছে এমন নাকানিচুবানি খেয়েছে তা মনে করা দুষ্কর। তবে একটি কথা বোধ হয় নিশ্চিত করেই বলা যায়, ক্রিকেট দুনিয়ায় ১৯ বছর বয়সী সবচেয়ে বিখ্যাত খেলোয়াড়টির নাম মুস্তাফিজুর রহমান।

ইঁদুরের পেটে ৭২৩ কোটি টাকার ফসল

চলতি অর্থবছরে সারা দেশে ৭২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার ফসল ইঁদুরের পেটে গেছে। এ সময়ে ইঁদুরে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ টন ধানের ক্ষতি করেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্যে ৪৩৯ কোটি ৮২ কোটি টাকা। গতকাল সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ তথ্য জানান। এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, একই সময় ৬২ হাজার ৭৬৪ টন চাল নষ্ট করেছে ইঁদুরে। যার বাজার মূল্য ২০০ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া গম নষ্ট করেছে ২৯ হাজার ৬৬০ টন। যার বাজার মূল্য ৮৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ধান প্রতি টন ১৮ হাজার ৫০০, গম ২৮ হাজার এবং চাল ৩২ হাজার টাকা টন মূল্য ধরে এ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ওপর ভর্তুকি দেয় না। তবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য কৃষি উপকরণ তথা সার, বিদ্যুৎ, ডিজেল ইত্যাদিতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সার ও সেচ কার্যক্রমে ৫ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫১ জেলায় কৃষক পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে আগ্রহী কৃষক/কৃষক গ্রুপকে সর্বোচ্চ শতকরা ৩০ ভাগ হারে উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) দেয়া হচ্ছে। এদিকে প্রশ্নোত্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের সবাকেই চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এ রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত কতিপয় কর্মকর্তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে স্ব-স্ব পদে বহাল তবিয়তে পুরনো কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
বিশাল সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় প্রকল্প: সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ‘নৌবাহিনীর গোল ২০২০’ প্রকল্প নামে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র সীমানা, বিদ্যমান সমুদ্র সম্পদ সুরক্ষাসহ সমুদ্রপথে নিরবচ্ছিন্ন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘ফোর্সেস ২০৩০’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পের আওতায় নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয়সংখ্যক জাহাজ, সাবমেরিন, ফ্রিগেট, লার্জ পাট্রোল ক্রাফটসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও নির্মাণ করা হবে। যুদ্ধসক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিসাইল, টর্পেডোসহ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সংযোজন, নতুন ঘাঁটি ও স্থাপনা নির্মাণ, জাতীয় স্বার্থে ন্যাশনাল মেরিটাইম পলিসি প্রণয়ন ও ন্যাশনাল মেরিটাইম কমিশন গঠন এবং মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বর্ণবাদী ক্ষয়রোগে ধুঁকছে আমেরিকা

আমেরিকা ‘বর্ণবাদী ক্ষয়রোগে’ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থায় এ ক্ষয়রোগের শেকড় গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। মানচিত্র বিধ্বংসী এ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মার্কিনদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার সাউথ ক্যারোলিনার কৃষ্ণাঙ্গদের একটি গির্জায় শ্বেতাঙ্গ যুবকের বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহতের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সানফ্রান্সিসকোর এক বক্তৃতায় ওবামা এসব কথা বলেন।
খবর বিবিসির। ওবামা বলেন, আমরা অনেক উন্নতি করেছি। কিন্তু আমাদের ‘বর্ণবাদী ক্ষয়রোগ’ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যখন এটা তরুণ সমাজের মনে বিষ ছড়িয়ে দেয়, তখন তা আমাদের আদর্শকে প্রবঞ্চনা করে। গণতন্ত্র তখন কান্না করে।’ অভিযুক্ত খুনি ডিলান স্ট্রমকে নিহতের স্বজনদের ক্ষমা করার ঘটনাকে তাদের ‘বিশ্বাসের কল্পনাতীত প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেন ওবামা। অস্ত্র আইন পরিবর্তন হবেই : গির্জায় বন্দুক হামলার পর বৃহস্পতিবারই অস্ত্র আইন পরিবর্তন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ওবামা। শুক্রবার সেই বিষয়টি আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরলেন। এ দিনের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী। শোকাহত জাতি অবশ্যই অস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণ করবে।’ সানফ্রান্সিসকো মেয়রদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, পরিবর্তন একদিন আসবেই। আইন বদলাতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্ষুব্ধ ওবামা বলেন, ‘কেবল ২০১৩ সালেই বন্দুক সহিংসতায় ১১ হাজার আমেরিকান নিহত হয়েছে। ২০১২ সালে নিউটাউনে ২৫ জনকে হত্যার পরও আইন করতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস।’
খুনিকে ‘ক্ষমা করলেন’ নিহতদের স্বজনরা : যুক্তরাষ্ট্রের চার্লসটনে গির্জার ভেতরে গুলিতে নিহত নয় ব্যক্তির কয়েকজনের আত্মীয়স্বজন আদালতে সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার রুফকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে চার্লসটনের আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। রুফের বিরুদ্ধে বাইবেল স্টাডি গোষ্ঠীর ওপর গুলিবর্ষণ ও নয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে শুনানিকালে আদালতের প্রশ্নের উত্তরে নিজের নাম, বয়স ও ঠিকানা নিশ্চিত করেন রুফ। নিজেকে বেকার বলেও স্বীকার করেন। এ সময় বিচারকের আমন্ত্রণে রুফের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য নিহতদের আত্মীয়স্বজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা সরাসরি খুনির সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কথা বলেন। এ সময় রুফের মধ্যে আবেগের কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি। চার্চে নয়, কলেজে হামলার পরিকল্পনা ছিল ডিলানের যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার গির্জায় হামলাকারী ডিলান রুফের চার্লসটন কলেজে হামলার পরিকল্পা ছিল বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু ক্রিস্টন ক্রিভেন। শ্বেতাঙ্গ ডিলানের এই কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ডিলান বলেছিলেন, ‘চার্লসটন কলেজের গণজমায়েতে আমি হামলা করব।’ মদ খেয়ে এসব বলেছিলেন বলে মাতালের প্রলাপ ভেবেছিলেন ক্রিস্টন।
এরা দু’জনই বারে নিয়মিত মদ খেতেন। ক্রিস্টন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি এসব কী বলছ? কেন মানুষ মারবে?’ ডিলান আপন মনে বলেছিলেন, ‘মাত্র ৭ দিন। আমার হাতে সময় ৭ দিন।’ এ ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন নিহত হন। এদিকে ডিলানের ছোটবেলার বন্ধু জোসেফ মিক জানায়, ডিলান আগাগোড়াই বর্ণবিদ্বেষী। গায়ের রং নিয়েও সে মন্তব্য করত। মনে করত শ্বেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গরা একসঙ্গে থাকতে পারে না। জোসেফের দাবি, ডিলান বলত ভয়ানক কিছু একটা করবে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২১ বছরের জন্মদিনে বাবার উপহার দেয়া অর্থে একটা বন্দুক কেনে ডিলান। সেই বন্দুক নিয়েই সে গির্জায় চড়াও হয়েছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ডিলানের বন্দুকটি চুপিসারে সরিয়ে রেখেছিল জোসেফ। জোসেফের কথায়, ‘এখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। আমি হয়তো এ ঘটনা থামাতে পারতাম।’ ডিলানের আর এক বন্ধু ডালটন টাইলারের দাবি, রাস্তায় কৃষ্ণাঙ্গদের কটূক্তি করত ডিলান। বলত, সে গণযুদ্ধ শুরু করবে!

পৈতৃক সূত্রে পত্নী মেলে!

‘সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ’ রবিঠাকুরের হৈমন্তী অপুর কাছে সম্পদ হলেও ক্যামরুন রাজার কাছে স্ত্রীরা সম্পত্তিই। ধনদৌলত, জমিজমার মতো এ সম্পত্তিও মেলে উত্তরাধিকার সূত্রে। আফ্রিকার ক্যামরুন রাষ্ট্রের উপজাতীয় এলাকা বাফুতের বর্তমান রাজা দ্বিতীয় আবুম্বি। পৈতৃক সূত্রে সিংহাসনে আসীন হয়ে বাফুতের ১১তম রাজা হিসেবে রাজ্য শাসন করছেন। উপজাতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজ্যের মতোই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন পিতার রেখে যাওয়া ৭২ স্ত্রী। আর নিজের গোটা ত্রিশেক বিয়ের মাধ্যমে রানীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন প্রায় ১০০-তে। আর ছেলেমেয়ের সংখ্যা ৫০০। সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যামেরনে বহুবিবাহ একটি বৈধ পদ্ধতি। প্রত্যন্ত এলাকার পুরুষদের ঐতিহ্যই এই যে, সবারই একাধিক স্ত্রী রয়েছে। কে কতটা বিয়ে করবে তার কোনো সীমারেখা নেই।
কিন্তু ক্যামেরুনের সবচেয়ে বড় রাজ্য বাফুতের প্রথা এই যে, রাজার মৃত্যুর পর ছেলে তার রেখে যাওয়া স্ত্রীদের বিয়ে করে নেবেন। পাশাপাশি নিজেও করবেন একাধিক বিয়ে। ১৯৬৮ সালে রাজার মৃত্যুর পর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন রাজা দ্বিতীয় আবুম্বি। আবুম্বির তৃতীয় স্ত্রী রানী কনসটান্স বলেন, ‘প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন সফল ও অনুগত নারী থাকে। আমাদের প্রথা এই যে, সিনিয়র রানীরা জুনিয়রদের প্রশিক্ষণ দেন। রাজাকে রাজ্য পরিচালনাও শেখান।’ রানীরা প্রায় সবাই শিক্ষিত, মার্জিত ও বহুভাষী। জানা গেছে, ক্যামরুনের এ অঞ্চলে আধুনিক সভ্যতা ও পশ্চিমা জীবনধারার প্রভাবে বহুবিবাহ চ্যালেঞ্জে পড়েছে। রাজা আবুম্বি জানান, তার দায়িত্ব হচ্ছে পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। উপজাতীয় সংস্কৃতি ও প্রথাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির পাঁচ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করছে উইকিলিকস!

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের প্রায় পাঁচ লাখ গোপন নথি ফাঁস করতে যাচ্ছে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস। এর মধ্যে ৬০ হাজার নথি প্রকাশ করা হয়েছে বলে উইকিলিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এসব নথির বেশির ভাগই আরবি হরফের। শুক্রবার বিস্ফোরিত উইকিলিকসের নতুন এ তথ্যবোমা বিশ্বগণমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে উইকিলিকস যেহেতু সরকারি নথি ফাঁস করে আলোচিত হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায় ফাঁস হওয়া নথিগুলোর সত্যতা আছে। এসব নথিগুলোর বেশির ভাগেই সবুজ কালিতে ‘কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া’ ও ‘মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ লেখা ছিল। কিছু নথির ওপরে ‘জরুরি’ ও ‘গোপন’ লেখা ছিল।
একটি নথি ছিল ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের। নথিগুলো যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের প্রতি এবং মিসরের সেনাসমর্থিত সরকারের প্রতি সৌদি সরকারের সমর্থনের নানা তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফাঁস হওয়া ২০১২ সালে আবুধাবিতে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো এক নথিতে দেখা গেছে, মিসরের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে সহায়তা না করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত মিসরের সরকারের ওপর ‘প্রচণ্ড চাপ’ দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি দাবি করেছে, তারা নথিতে থাকা অনেক টেলিফোন নম্বরে কল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেয়েছে। এ থেকে তারা ঁফাস হওয়া নথিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চিত। উইকিলিকসের মুখপাত্র ক্রিস্টিন রাফসন এপিকে বলেছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো যে সঠিক,
এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। উইকিলিকস কীভাবে এসব নথি পেয়েছে, এটা স্পষ্ট না। উইকিলিকসের মুখপাত্রও এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে চাননি। তিনি বলেন, তথ্যের উৎস না জানানোটা তাদের নীতি। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসও এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে উইকিলিসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেয়ার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার। ব্রিটিশ সরকার যেন যৌন অপরাধের মামলায় তাকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তর না করে সেজন্য দূতাবাসটিতে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস করা শুরু করে উইকিলিস। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্নন দেশের লাখ লাখ গোপন তথ্য ফাঁস করেছে ওয়েবসাইটটি।

ক্ষমতাধরদের মদতে প্রেস ক্লাব দখল করা হয়েছে -সংসদে স্বতন্ত্র এমপি তাহজীব

জাতীয় প্রেস ক্লাব দখলের অভিযোগ করা হয়েছে সংসদে। স্বতন্ত্র এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আগে হতো ভূমি দখল, ক্যাম্পাস দখল, ভোটের বুথ দখল, বাজার দখল। নতুন সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এখন জাতির বিবেক দখল করা হচ্ছে। সাংবাদিকরাই জাতির বিবেক। যেখানে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও মূল্যবোধের অবক্ষয়- সেখানেই সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে প্রতিবাদ করবেন। আর সেই সাংবাদিকের এক পক্ষ জাতীয় প্রেস ক্লাব দখল করে বসে আছেন। ক্ষমতাধরদের মদতে প্রেস ক্লাব দখল করা হয়েছে উল্লেখ করে তাহজীব বলেন, অতীতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রেস ক্লাব চালাতেন। কিন্তু এবার শুরু হলো দখলদারি সংস্কৃতি। সবকিছু দখল হতে হতে জাতির বিবেকও তাহলে দখল হয়ে গেল! তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলির খেলা চলছে। দলাদলির বিষবাস্পে সাংবাদিকদের মিলনমেলার প্রাণকেন্দ্র প্রেস ক্লাব ক্ষতবিক্ষত। একই ছাদের নিচে হলেও প্রেস ক্লাবে রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে সন্দেহের প্রাচীর। তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতি গঠনের ক্রান্তিলগ্নে ষাটের দশকেও আমরা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের মতো সাংবাদিকদের জাতির পথপ্রদর্শক কিংবা আলোর দিশারী হিসেবে পেয়েছি। কিন্তু মর্মাহত চিত্তে প্রেস ক্লাবে গিয়ে জানতে পারলাম, আজকের সাংবাদিক গোষ্ঠীর মধ্যে সেই মূল্যবোধ আর নেই। সাংবাদিকরা সব অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জাতিকে জাগ্রত করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
৯ মাইল দূরত্ব পাড়ি দিতে কেন ৭২ ঘণ্টা
এদিকে রেলসেতু ভেঙে নিমজ্জিত তেলবাহী ট্রেনের দুটি ওয়াগন উদ্ধারের জন্য যাওয়া একটি অত্যাধুনিক জাহাজের ৯ মাইল দূরত্ব পাড়ি দিতে কেন ৭২ ঘণ্টা সময় লাগলো তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। তিনি এ ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে স্পিকারের রুলিং দাবি করেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি বলেন, ১৯শে জুনের এই দুর্ঘটনায় পানিতে তেল মিশে যাওয়ার তিনদিন পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তেল সরানোর কাজে ব্যবহৃত একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে কর্ণফুলী হয়ে তেল হালদাতেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একটি অত্যাধুনিক জাহাজের ৯ মাইল দূরত্ব পাড়ি দিতে কেন ৭২ ঘণ্টা সময় লাগলো? আবার জাহাজটি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে কিছু করা যায় কিনা। গেলেন তিনদিন পর, তারপরও কাজ না করে দেখছেন কি করা যায়! এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়হীনতার বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি করে বাদল বলেন, রেল সেতুগুলো অনেক আগে থেকেই নাজুক ছিল। বারবার বলার পরও এসব সেতুর মেরামতে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সারা দেশের সেতুর জন্য টাকা হয়, বোয়ালখালী উপজেলার সেতুর জন্য একটা পয়সাও বের হয় না। আর রেলপথ মন্ত্রণালয় যেখানে জানতো যে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে কেন সেতুটি দিয়ে নিয়মিত রেল চলাচলের অনুমতি দিয়ে রাখা হয়েছে? দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করা হলেও কারও কাছ থেকে যথাযথ সাড়া মেলেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ভারত চায় বিশ্ব রেকর্ড, চীন ব্যবসা

আজ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটি এ বছর প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যোগসাধনার সবচেয়ে বড় আসর বসছে। গিনেস বুকে নাম লেখাতে ওই আয়োজনে সাড়ে ৩৭ হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বরেকর্ড গড়ার এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ফার্স্টপোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মোদি সরকারের দেয়া প্রস্তাব গ্রহণ করে ২১ জুনকে প্রথম ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। আজ রোববার ভারতজুড়ে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান হবে। রাজপথের অনুষ্ঠানে সাড়ে ৩৭ হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। কোনো একক স্থানে যোগের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে রাজপথের কালকের (২১ জুন) আয়োজনটি বিশ্বরেকর্ড হতে পারে। এ আয়োজনে ব্যবহৃত সাড়ে ৩৭ হাজার মাদুরের বড় অংশই আমদানি করা হচ্ছে চীন থেকে। ফার্স্টপোস্টে বলা হয়েছে,
‘রাজপথের যোগসাধনা : মেড ইন চায়না’। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্য আলাদা মাদুর ব্যবহার করতে হবে এমন শর্ত রয়েছে গিনেস বুকের পক্ষ থেকে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ভারতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে আজ যোগসাধনার অনুষ্ঠান হবে। এসব অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য অংশ নেবেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দিবসটি পালনে ৩০-৪০ কোটি রুপি খরচ হচ্ছে। এ দিন ডাকটিকিট প্রকাশ করবে সরকার। প্রধান অনুষ্ঠানটি হবে রাষ্ট্রপতি ভবন ও ইন্ডিয়া গেটের মধ্যবর্তী রাজপথে। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজপথের অনুষ্ঠানস্থলে আসার কথা মোদির। প্রাথমিক প্রস্তাবনার পর কয়েক মিনিট কথা বলবেন তিনি। সকাল ৭টায় ৩৫ মিনিটের জন্য যোগে বসবেন মোদি। যোগগুরু বাবা রামদেবসহ চারজন বিশেষজ্ঞ রাজপথের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাদের অনুশীলন ২৮টি বড় পর্দায় দেখানো হবে। রাজপথের অনুষ্ঠানে বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন।
প্রায় ৫০টি দেশের ৮০-১০০ জন বিদেশী এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের সরকারি কর্মকর্তা জানান, রাজপথে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা-পরিকল্পনা নিয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ দেন মোদি। তখন তিনি এমন একটি দিবসকে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। মোদি বলেন, তিনি নিজে প্রতিদিন যোগ সাধনা করেন। এটি তার কর্মশক্তি জোগায়। যোগসাধনা করলে রাতে কম ঘুমালেও চলে। যোগব্যায়াম ও ভেষজ ওষুধকে জনপ্রিয় করতে নভেম্বরে মোদি ভারতে প্রথমবার এ বিষয়ে একজন মন্ত্রী নিয়োগ দেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কর্মস্থলে যোগচর্চার একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন মোদি।

ছেলে জন্মের খবরটি পেলেন না রাজ্জাক

পরিবারে এসেছে নতুন মুখ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বদলে পরিবারের সবার মলিন মুখ। নবজাতকের খবরটি পাননি তার বাবা। তিনি কি অবস্থায় আছেন সেটি জানা নেই পরিবারের অন্য সদস্যদের। তাকে নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন পার হচ্ছে সবার। বাবা দিবসে বাবা হয়েছেন বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাক। যাকে ধরে নিয়ে আটকে রেখেছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
জেলার সিংড়া উপজেলার বলিয়াবাড়ি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন তারা মোল্লার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে ২১ বছর আগে তৎকালনী বিডিআর-এ যোগ দেন। মিয়ানমার সীমান্তে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত বুধবার মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাজ্জাক অপহৃত হওয়ার পর বিজিবি তাদের কিছু জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছেলের হাত-পা বাঁধা ছবি দেখে তারা এ ঘটনা জানতে পারেন। এ খবর পেয়ে যোগাযোগ করলে পরে বিজিবির সিও ফোন করে তাদের জানান, পতাকা বৈঠক করে একদিনের মধ্যেই রাজ্জাককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখনও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থাই তারা দেখতে পাচ্ছেন না।
এদিকে রোববার ১১টার দিকে রাজ্জাকের স্ত্রী আসমা বেগম একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করেন। রাজ্জাকের বাবা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত সোমবারে তার সঙ্গে ছেলে রাজ্জাকের শেষ কথা হয়। এরপর আর কোন খবর পাননি। ফেসবুকে বিদেশী গণমাধ্যমে ছবি দেখে তারা রাজ্জাক অপহরণের খবর জানতে পারেন।  সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে রাকিবুল ইসলাম ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ফারিয়া জাহান রিতু বাবার অনুপস্থিতি যেন মেনে নিতে পারছে না। তারা জানে না তাদের বাবার কি হয়েছে। তাদের এ অবস্থায় প্রতিবেশীরাও স্তব্ধ হয়ে গেছে। সরকারের কাছে আব্দুর রাজ্জাককে সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে অতি দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার দাবি পরিবারের সদস্য তথা এলাকাবাসীর।
সহসাই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে
এদিকে কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির জিম্মায় থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আবদুর রাজ্জাককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। গতকালও এ নিয়ে নেপি’ডর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। ঢাকাস্থ দেশটির রাষ্ট্রদূত মিও মিন্ট থান এবং ইয়াংগুনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানের মাধ্যমে এ যোগাযোগ হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুতেই কাঙিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ফেরতের আশ্বাস দূরে থাক, নায়েক রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা সাজানোর পথেই হাঁটছে মিয়ানমার। সহসাই মামলা দায়ের এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে নেপি’ড এবং ইয়াংগুনের সূত্রে ঢাকায় বার্তা এসেছে। দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে এমন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমারের সীমান্তে আগেও বাহিনী পর্যায়ে উত্তেজনা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এত ঘোলাটে হয়নি। গত বছরের মে মাসে বান্দরবানের পাইনছড়ি সীমান্তে বিনা উসকানিতে বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি বর্ষণ, নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানকে হত্যা এবং তার লাশ আটকে রাখার বিজিপির রুঢ় আচরণের সম্প্রতিক সময়ের উদাহরণ উল্লেখ করে ঢাকার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নেপি’ড থেকে যে খবর আসছে তাতে জটিলতার বার্তা স্পষ্ট। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর কূটনৈতিক সমাধানে আন্তরিকতা দেখালেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘কঠোর’ মনোভাব দেখাচ্ছে। তারা আটক বিজিবি সদস্যের বিচার করতে চায়। এ জন্য নতুন করে কিছু বিষয় ঢাকার বিবেচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা গতকালও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রয়েছে। সেই চাপ দিন দিন বাড়ছে। তা থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্যই সীমান্তের একটি সামান্য ঘটনাকে টেনে দীর্ঘসূত্রতায় নিয়ে যাওয়ার কৌশল নেয়া হয়েছে বলেই মনে হয়। তবে সরকার এখন পর্যন্ত কূটনৈতিকভাবেই বিষয়টির সমাধান চাইছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। বিভিন্ন সূত্রে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ করে মন্ত্রীর যে ‘কঠোর’ মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, যে কোন ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্রে নানা কথা প্রকাশ পায়। কিন্তু এতে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়ে না। বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে অক্ষত অবস্থায় দ্রুত ফেরত আনতে নেপি’ডর সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মিয়ানমার তার অবৈধ অনুপ্রবেশের যত অভিযোগই আনার কিংবা মামলা সাজানোর চেষ্টা করুক না কেন- ঘটনার প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিকভাবেই তাকে দ্রুত ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে ঢাকা আশাবাদী। উল্লেখ্য, নায়েক রাজ্জাকের নেতৃত্বে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নাফ নদীতে টহল দানকালে মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির একটি দল ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে টহল দলটি বিজিবির নৌযানের কাছে গিয়ে থামে। বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয়। এ সময় বিজিবির অন্য সদস্যরা বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে বিজিবির সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। এরপর বিজিপির ট্রলারটি রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়। বিপ্লবকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর বিজিবি-বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল একাধিকবার। কিন্তু মিয়ানমান ওই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ঢাকাস্থ দেশটির রাষ্ট্রদূতকে এরই মধ্যে তলব করে ঘটনার প্রতিবাদ এবং আটক বিজিবি সদস্যকে দ্রুত ফেরত দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও মিয়ানমারের নতুন পররাষ্ট্র সচিবের (পারমানেন্ট সেক্রেটারি) সঙ্গে দেখা করে আটক সদস্যকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।