Sunday, June 4, 2017

১ বছরেও অধরা মূল আসামিরা by মহিউদ্দীন জুয়েল

দেশজুড়ে আলোচিত চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতুকে কার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল, তা গত এক বছরেও বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। খুঁজে বের করতে পারেনি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সেই মূসাকেও। গত বছরের ৫ই জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে খুন করা হয় মিতুকে। আগামীকাল সোমবার এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিতুর পরিবার।
অন্যদিকে পুলিশ সুপার বাবুল আকতার চাকরি থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর বর্তমানে ঢাকার মগবাজারের একটি বেসকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন। তার দুই সন্তান এখন তার সঙ্গে বসবাস করছে।
তবে আসামি মূসার খোঁজে এখনও মাঠে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মূসা এক সময় নানা হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটিয়া হিসেবে কাজ করত। পরে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।
মদ, ইয়াবা কিংবা সোনার বড় চালান ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সময় বাবুল আকতারের কাছ থেকেও নানা সোর্স মানি নিয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে যেসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা সবাই বলেছেন মূসাই বাবুল আকতারের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে।
মূসাকে ধরতে ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সে খুনের ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ সুপার বলেন, তদন্ত চলছে। কাজ থেমে নেই। সমস্যা হচ্ছে মূসাকে পাওয়া গেলে খুনের নির্দেশদাতার নাম জানা যেতো। তবে আমরা তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর নিয়ে গেছি। যদিও মূসার স্ত্রী দাবি করেছেন তার স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বহু আগেই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মিতু হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার বাবুল আকতার, তার চাচাতো ভাই, মিতুর বাবা-মা, নিহত এক পুলিশ কর্মকর্তার বোনসহ একাধিক ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন এই খুনের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।
জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তার মেয়ে হত্যার বিচার চেয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, তার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় যদি বাবুলের সম্পৃক্ততা থাকে তা-ও যেন খুঁজে বের করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশারফ হোসেন বলেন, একটা বছর হয়ে গেল অথচ আমার মেয়েটাকে কারা খুন করলো, কার নির্দেশে করলো, কিছুই বের করা গেল না। মেয়ের শোকে তার মা এখনো সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, মিতুর স্বামী বাবুলের ভূমিকা কী তা-ও আমরা জানতে চাই। সে চুপ কেন। তাকে বলতে হবে, কে আমার নিরাপরাধ মেয়েটাকে হত্যা করেছে।
মিতু খুনের ঘটনায় হঠাৎ করেই কয়েক মাস আগে বর্ণি নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। যদিও ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তার স্বামীর বোন ও পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তির লোভে এই অভিযোগে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাবুল আকতারের সঙ্গে তার কোনো সর্ম্পক নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলতে চাই না। তবে এটুকু বলবো, মূসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছি আমরা। বাবুল আকতারকে ডেকে নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাকে আরও ডাকবো। প্রয়োজনে আরও কথা বলতে হবে।
অন্যদিকে বাবুল আকতার এই ঘটনার বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। কিছুদিন পরপরই তিনি ফেসবুকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব লেখায় বারবারই তার নিজের কষ্টের কথা শেয়ার করতে দেখা যায়।

চীনে শিশুদের মুসলিম নাম বদলে বাধ্য করা হচ্ছে

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম শিশুদের ‘ধর্মীয়’ বা ইসলামি নাম পরিবর্তনে বাধ্য করছে স্থানীয় প্রশাসন। ধর্মীয় নামের অজুহাতে মূলত আরবি নামের ওপরই নামছে খড়গ। এ ছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় মুসলিমদের জোর করে নাস্তিক্যবাদী কমিউনিস্ট পার্টির মিছিলে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। রেডিও ফ্রি এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, চলতি রমজান মাসে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের মুসলিম নাম পাল্টানোর আদেশ দিয়েছে চীনের কিছু এলাকার প্রশাসন। স্থানীয় পুলিশের বাছাইয়ে ‘অতি ধর্মীয়’ হিসেবে সাব্যস্ত এসব নাম পাল্টানোর আদেশ দেয়া হচ্ছে শিশুদের অভিভাবকদের। এর আগে গত এপ্রিলে চীনে জিহাদ, ইমাম, সাদ্দাম, ইসলাম, মদিনা, আরাফাত, কুরআন, মক্কা, হজসহ ১৫টি নাম রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিউনিস্ট পার্টির প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এসব আরবি নাম ‘ধর্মীয়’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর নতুন এই আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ ১৬ বছরের নিচে যাদের নাম ধর্মীয় হিসেবে চিহ্নিত করবে তাদের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগে তা পরিবর্তন করতে হবে।
১৬ বছর বয়স হলে চীনে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। একই আদেশের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নিদর্শন হিসেবে জিনজিয়াং প্রদেশে ৫০ হাজার পৃথক সমাবেশ করেছে সরকার। গত ২৯ মে জিনজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি লোক এসব সমাবেশে একত্র হয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। আর অফিসিয়ালি নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী এই পার্টির প্রতি অনুগত হতেই চাপ প্রয়োগ করে মুসলিমদের উপস্থিত করা হয় এসব সমাবেশে। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। এখানকার মুসলিমরা বেশিরভাগই তুর্কীয় বংশোদ্ভূত উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর। প্রায়ই অঞ্চলটিতে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয় মুসলিমরা। চীনের অভিযোগ, জিনজিয়াংয়ের মুসলিমদের মাঝে সক্রিয় রয়েছে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছে, জিনজিয়াংয়ে স্থানীয় আক্রোশের কারণেই মুসলিমদের ওপর একের পর এক জাতিগত হামলা হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে সমাবেশের পাশে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে। জিনজিয়াং বিষয়ক গবেষক ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর মাইকেল কার্ক বলেন, ‘এই সমাবেশগুলো ছিল ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। এতে উপস্থিত ছিল জিনজিয়াংয়ের হান মুসলিমরা। এটি মূলত রাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রদর্শনী। কিন্তু এ ধরনের সমাবেশে উইঘুর মুসলিমরা উপস্থিত থাকবে তা ভাবা যায় না। তারা এর বিরোধিতা করবে এটিই ছিল নিয়ম’। সূত্র : গার্ডিয়ান

উ. কোরিয়ার পরমাণু হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দেশটির পরমাণু হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নেই। আমেরিকায় ‘বৃষ্টির মতো’ পরমাণু অস্ত্রের হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন সেনাবাহিনী গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ওই পরীক্ষার ‘সাফল্যে’ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক। তবে উত্তর কোরিয়ার একজন সেনা মুখপাত্র শনিবার আমেরিকার ওই পরীক্ষাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে পিয়ংইয়ং’র পক্ষ থেকে বৃষ্টির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে পাঠানো ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমা ঠেকানো যাবে না।
ওই মুখপাত্র আরো বলেন, আমেরিকার এ পরীক্ষা ছিল একটি ‘গুরুতর সামরিক উস্কানি’ যা পরমাণু যুদ্ধ শুরু করার লক্ষ্যে ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের পাশবিক মনোবৃত্তি’ প্রকাশ করে দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ওই সেনা মুখপাত্রের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথিত ‘সাফল্যে’র ধাপ্পাবাজি করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া ওই পরীক্ষাকে ‘নির্বোধের কাজ’ বলে মনে করছে এবং এসব ব্যবস্থা একদিন মার্কিনীদের হতাশ করবে। পরমাণু যুদ্ধ শুরু করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে চেষ্টা করছে তা একদিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খণ্ডকে ভষ্মে পরিণত করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সূত্র : ওয়েবসাইট

লন্ডন ব্রিজে 'পথচারীদের ওপর গাড়ির আঘাত'

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের কেন্দ্রে ব্যস্ত লন্ডন ব্রিজে একটি গাড়ি বেশ কয়েকজন পথচারীকে আঘাত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সাদা একটি গাড়ি রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে এবং পথচারীদের চাপা দেয়। ঘটনার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, তারা সেতু্র ঐ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। ঘটনার সময় বিবিসির সাংবাদিক হলি জোন্স লন্ডন ব্রিজে ছিলেন। তিনি বলেন, একজন পুরুষ "ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে" গাড়িটি চালাচ্ছিল। আহত অন্তত পাঁচজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সূত্র : বিবিসি

ইভটিজিংয়ে বাধা দেয়ায় সাংবাদিকসহ আহত ২

গোয়ালন্দে স্কুল ছাত্রীদের উৎত্যক্ত করার অনৈতিক কাজে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটেরা সাংবাদিক আরিফুর রহমান মিশুক ও জুয়েল রানা নামে দুই ব্যক্তিকে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে। মিশুক পৌর ২নং ওয়ার্ড দেওয়ান পাড়ার আঃ রহমান মোল্লার ছেলে এবং জুয়েল রানা একই এলাকার ইছাক শেখের ছেলে। জানা গেছে,গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের ছাত্রীরা স্কুলে আসা-যাওযার পথে পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড বালিয়া ডাঙ্গার গোলাপ সরদারের বখাটে ছেলে মোঃ রানা সরদার কয়েক বন্ধুকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিলো। সাংবাদিক মিশুক ও জুয়েল কয়েকদিন আগে তাদের এ কাজে বাধা দেয় এবং এক পর্যায় তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের হিসেবে রানা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক মিশুক ও জুয়েলকে মারপিট করে। আহত অবস্থায় মিশুক ও জুয়েলকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জুয়েলের অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার করা হয়। এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাংবাদিক মিশুক জানান, রানা দির্ঘদিন স্কুলের মেয়েদের উৎত্যক্ত করে আসছিলো। আমি তাকে এ কাজে বাধাদিয়ে সরে যেতে বাধ্য করেছিলাম। যার ফলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের মারপিট করেছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন তিনি তার আরেক সাথী জুয়েল খানখানাপুর থেকে ইফতারী করে একই হোন্ডায় বাড়ী ফিরছিলেন। এমন সময় রানা, শাহীন ও ৭/৮জন অজ্ঞাত যুবক সহ অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে পথে ওঁৎ পেতে বসে থেকে আমাদের মারপিট করে। মিশুকের চাচা পৌর কান্সিলর কুদ্দস আলম বলেন, ইভটিজিং এ বাধা দেয়ায় আমার ভাতিজাকে মারপিট করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। এ ব্যাপারে সাংবাদিক মিশুকের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রানা,শাহিন সহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনের নামে মামলা করেছেন।

নবীগঞ্জে সাংবাদিক কিবরিয়ার হাত কাটার হুমকি

নবীগঞ্জের সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কেশবচর গ্রামে আপন চাচীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টাকারী লম্পট জুয়েল ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপের পাশাপাশি লম্পট জুয়েল কিছু অসাধু মানুষের সহযোগিতায় নবীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে একটি অনলাইন পত্রিকায় নানান কটুক্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছাপার ঘটনায় নবীগঞ্জে সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অপরদিকে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও পাঠক প্রিয় অনলাইন পত্রিকা “আমাদের নবীগঞ্জ” সম্পাদক, দৈনিক নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি ও দৈনিক এক্সপ্রেস পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কিবরিয়া চৌধুরীকে লম্পট জুয়েলের লন্ডন প্রবাসী বড় ভাই ফরহাদ উদ্দিন মাহেদ ফেইসবুকের মাধ্যমে হাত কাঠার হুমকি দেয়ায় নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং আগামী সোমবার নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের এক জরুরী সভার আহবান করা হয়েছে। নবীগঞ্জের সাহসী সিনিয়র সাংবাদিক কিবরিয়া চৌধুরীকে ফেইসবুকে মাধ্যমে এভাবে হাত কাটার হুমকি দেওয়ায় নবীগঞ্জের সর্বত্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এনিয়ে ফেইসবুক জৎগতে তোলপাড় হচ্ছে। ফেইসবুকে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো প্রতিবাদী কন্ঠে, এই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আহব্বান জানাচ্ছেন প্রশাসনকে। উল্লেখ্য যে, গত ২২মে বিভাগীয় শহর সিলেটের নুরজাহান হাসপাতালে লম্পট জুয়েল তার চাচীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কেশবচর গ্রামের (বর্তমানে নবীগঞ্জের আউশকান্দি বাজারে বসবাস করেন) ছালিক মিয়া অসুস্থ হলে তার স্ত্রী (৩২) স্বামীকে সিলেট নুরজাহান হাসপাতলে নিয়ে ভর্তি করেন।
ছালিক মিয়ার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারই বড় ভাই নামদার মিয়ার ছেলে আউশকান্দি বাজারের জালালাবাদ হোমিও ফার্মেসীর পরিচালক ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য জুয়েল আহমেদ চাচাকে দেখতে নুরজাহান হাসপাতালে যায়। এসময় অসুস্থ বৃদ্ধ চাচা ছালিক মিয়ার স্ত্রীর প্রতি জুয়েলের কু-দৃষ্টি পড়ে। সে অসুস্থ চাচার পাশে থাকার বাহানা করে রাতে হাসপাতালে তাদের কক্ষে থেকে যায়। রাত একটু গভীর হতেই লম্পট জুয়েল তার চাচীর বিছানায় গিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। দীর্ঘক্ষন বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর পূর্বক চাচীকে ধর্ষনে ব্যর্থ হয় লম্পট জুয়েল। পরে তার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে তার চাচীর শরীরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ভিডিও ছবি ধারন করে হুমকি দেয় বিষয়টি কাউকে জানালে ওই সব ভিডিও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয় লম্পট জুয়েল। পরে বিষয়টি ওই মহিলা তার স্বামীসহ আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে দিলে লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে নির্যাতিত মহিলা ও তার ভাই আউশকান্দি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। এ ব্যাপারে আউশকান্দি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুর্শেদ আহমদ জানান, ‘চাচীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এব্যাপারে অভিযুক্ত জুয়েল আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে দেখা যায় দরজায় তালা ঝুলছে। এব্যাপারে আউশকান্দি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুর্শেদ আহমদ আরো জানান, ঘটনার পর থেকে সে দোখান না খোলার কারণে তাকে না পাওয়ায় বিচার করা যাচ্ছে না।

লন্ডন হামলা: কোথায় কি ঘটেছে

আবারো রক্তাক্ত হলো লন্ডন। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে শনিবার রাতে লন্ডনবাসী যখন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটি ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তখনই তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এতে মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন সাধারণ মানুষ। পুলিশ হামলাকারী তিন জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায় নি। শনিবার রাতে একাধিক স্থানে এ হামলা হয়। এখানে প্রতিটি স্পট সম্পর্কে আলাদা আলাদা তথ্য তুলে ধরা হলো:
লন্ডন ব্রিজ: স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ৮ মিনিটে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে নামে। তাদেরকে জানানো হয় একটি ভ্যান লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের চাপা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযানে নামে পুলিশ। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বলেছে, ঘটনার ৬ মিনিটের মধ্যে প্যারামেডিক ও বিশেষজ্ঞ টিম হামলার ধরণ ও হতাহতের তথ্য নিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। লন্ডনের ৫টি হাসপাতালে দ্রুততার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আহত কমপক্ষে ৩০ জনকে। লন্ডন ব্রিজ স্টেশনের পাশেই গাইস হাসপাতালে নেয়া আহত ব্যক্তি, তার আত্মীয়-স্বজন ও স্টাফদের নিরাপত্তার জন্য এর গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হামলার সময় লন্ডন ব্রিজের ওপর ছিলেন নিক আরচার। তিনি স্কাই নিউজকে বলেছেন, আমরা একটি বার থেকে সবেমাত্র রাস্তায় বেরিয়েছি। আমার বামে তাকিয়ে দেখি একজন মানুষ পড়ে আছেন। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম তিনি কিছু পান করছেন। কিন্তু না, তিনি রাস্তার ওপর পড়ে আছেন। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখতে পাই তিনটি পুলিশ ভ্যান দ্রুত গতিতে আমাদের অতিক্রম করলো। ক্রিস নামে একজন ট্যাক্সি চালক বলেছেন, ফুটপাতের ওপর দিয়ে ভ্যান উঠিয়ে দেয়ার পর তিনি কয়েকজন মানুষকে দেখতে পান। তাদের হাতে এক ফুটের মতো লম্বা ছুরি। আমি দেখলাম লন্ডন ব্রিজের ওপর দিয়ে একটি ভ্যান আসছে। ট্রাফিক লাইট সিস্টেম অতিক্রম করে তা ফুটপাতের ওপর উঠে যায়। এতে চাপা পড়েন অনেক মানুষ। তারপর প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা ছুরি হাতে নেমে আসে তিনজন মানুষ। তারা বরো হাই স্ট্রিট ধরে এগুতে থাকে। এ সময় যাকেই সামনে পেয়েছে তাকেই তারা কুপিয়েছে। একজন যুবতীর বুকে তারা কুপিয়েছে।
বরো মার্কেট: ছুরিকাঘাতের খবরে দ্রুততায় বরো মার্কেট এলাকায় উপস্থিত হয় সশস্ত্র পুলিশ। সেখানে আহত হয়েছেন বৃটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি লন্ডন ব্রিজ হামলায় বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। বরো মার্কেট এলাকায় তিন হামলাকারীর সঙ্গে পুলিশের লড়াই হয়। এ সময় ৮ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হামলাকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে। তাদের বুকে এ সময় বাঁধা ছিল বিস্ফোরকের মতো বস্তু। কিন্তু পরে দেখা যায় তা ভুয়া। স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ২৫ মিনিটের সময় বরো মার্কেট ও লন্ডন ব্রিজ হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। বরো মার্কেটের কাছে বেভারিয়ান স্টাইলের বিয়ার বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান কাতজেনজাম্যারস থেকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, কিভাবে সশস্ত্র পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তারা লোকজনকে মেঝেতে শুয়ে পড়তে অনুরোধ করে। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি পুলিশকে গুলি ছুড়তে দেখেছেন। তিনি সাউথওয়ার্ক স্ট্রিট ও বরো হাই স্ট্রিটের কোণায় একটি রেস্তোরাঁর বাইরে দেখেছেন ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া একটি ভ্যান। একজন ট্যাক্সি চালক ব্লাক অ্যান্ড ব্লু রেস্তোরাঁ থেকে আত্মরক্ষার্থে পলায়নরত দু’জনকে তুলে নিয়ে নিরাপদে ছেড়ে দিয়েছেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ লোকজনকে লন্ডন ব্রিজ ও বরো স্টেশন এলাকা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছে। 
ভক্সহল: তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে ভক্সহলে। সেখানে একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তবে উপরের দুটি ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে বলে মনে করছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। ওই ঘটনার পর থেকে ভক্সহল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। তবে তা এখন খুলে দেয়া হয়েছে।
টেমস নদী: টেমস নদীতে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে পুলিশের দুটি বোট। তারা আরএনএলআই লাইফবোটস-এর সঙ্গে কাজ করছে। হামলার সময় কোন মানুষ যদি পানিতে পড়ে যান তাদেরকে উদ্ধার করতেই এই তৎপরতা।

রাজধানীতে চলছে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য

অনেক কিছু ভাড়ার পাশাপাশি রাজধানীতে চলছে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য। বিশেষ করে তিন ধরনের কাজের জন্য এসব স্বামী পরিচয়ে পুরুষ ভাড়া করা হয় বলে জানা গেছে। এমনকি স্বামী হিসেবে ভাড়ায় খেটে নিজের সংসার চালাচ্ছেন এমনও পাওয়া গেছে। দিনে ১শ’ টাকা থেকে মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায় ভাড়ায় স্বামী পাওয়া যায়। আবার একই পুরুষ ভাড়ায় খাটেন একাধিক নারীর স্বামী পরিচয়ে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
রাজধানীর জুরাইন এলাকার সড়ক পাশের খুদে দোকানি আলো বেগমের স্বামী নেই। আরেক বিয়ে করে স্বামী চলে গেছে, কোথায় গিয়েছে সেটাও জানা নেই আলো বেগমের। তিনটি সন্তান নিয়ে সড়ক পাশের কখনও পিঠা, কখনও মওসুমি ফল, সঙ্গে চা-পানের দোকান করে জীবন চালান তিনি। এখন ছেলেকে চা পানের দোকান আলাদা করে দিতে পাঁচ হাজার টাকার ঋণ দরকার তার। একটি এনজিও থেকে ঋণ পেতে স্বামী দরকার। এনজিও’র লোকেরা বলেছে ঋণ পেতে হলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের ছবি লাগবে, এক সঙ্গে না হলে ঋণ পাওয়া যাবে না। মাস কয়েক আগে এনজিও’র ঋণ পেতে একজন স্বামী ভাড়া করেছিলেন তিনি। ঋণের টাকা থেকে ৫শ’ টাকা দিয়েছেন তাকে। মাত্র ৫শ’ টাকাতেই আলো বেগমের সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে এনজিও অফিসে গিয়ে ছবি তুলে ঋণ পেতে সহায়তা করেছে বিশু নামের এক লোক।
ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে যৌনকর্মীদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওই সব যৌনকর্মী এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা শুরু করেছে। বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামী ছাড়া বাড়ির মালিক বাসা ভাড়া দিতে চায় না। বাড়ি ভাড়া নেয়ার ওই প্রতিবন্ধকতার কথা চিন্তা করে যৌন কর্মীরা তাদের পূর্ব পরিচিত কোন পুরুষকে স্বামী হিসেবে ভাড়া করে। বাড়ি ভাড়া করার সময় সঙ্গে থাকে ভাড়াটে স্বামী। দেখা গেছে, বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় বাড়ির মালিককে বলা হয় স্বামী নিয়মিত ঢাকায় থাকে না, বাইরের কোন জেলায় চাকরি বা ব্যবসা করে। একই সঙ্গে বলা হয় বাসায় নিয়মিত থাকবে তার স্ত্রী ও দুই বা তিন বোন। ওই বোনদের থাকার কথা বলে জায়েজ করে নেয়া হয় আরও দু’-তিনজন যৌন কর্মীকে। এভাবেই রাজধানী শহর জুড়ে ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে চলছে যৌন বাণিজ্য।
শনির আখড়ার সোহান (ছদ্মনাম)। গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে অভাবের তাড়নায় আসে ঢাকা। এসএসসি পাসও করেনি তাই কোন চাকরী দিতে চাচ্ছে না কেউ। এরই মধ্যে দেখা মিলে কাজলের সাথে। নিরূপায় হয়ে তার সাথে সংসদ ভবন এলাকায় যোগ দেয় ছিনতাইয়ে। পরিবর্তন করে ফেলে নিজের বংশ পরিচয়ও। এরই মধ্যে পরিচয় হয় স্বামী পরিত্যাক্তা রূপার (ছদ্মনাম) সাথে। তখন সে একটি প্রাইভেট চাকরীর পাশাপাশি যৌন ব্যাবসায় লিপ্ত। সিদ্ধান্ত হয় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দু’জন রাজধানীর শনির আখড়ায় বসবাস করবে। এরপরই বিউটি পার্লার ব্যবসার আড়ালে রূপা শুরু করে জোড়ালো যৌন ব্যবসা। বিধি বাম, এলাকার দুষ্ট ছেলেরা জেনে যায় সোহান-রুপা আসলে স্বামী-স্ত্রী নয়। তারপর দুজনকেই বাধ্য করে সত্যি সত্যি বিয়ে করতে। যদিও এছাড়া সোহান রাজধানীর শান্তিনগর, বাড্ডা, ফার্মগেট এলাকা সহ ৮/৯টি স্থানে যৌন কর্মীদের স্বামী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে যৌন ব্যবসা।  
জানা গেছে, রাজধানীতে তিন ধরনের কাজের জন্য মহিলাদের স্বামী পরিচয়ে পুরুষ ভাড়া করার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা গেছে। বিশেষ করে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নারীরা বাসা ভাড়া নেয়ার সময় স্বামী হিসেবে লোক ভাড়া করে বাড়ির মালিককে দেখিয়ে থাকে। এনজিও সহ বেশকিছু মাল্টি পারপাস কোম্পানি থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার শর্ত হিসেবে স্বামীর পরিচয় ও তার ছবি ব্যবহার করতে স্বামী ভাড়া করে। এছাড়া, সাম্প্রতিক কালে পাসপোর্ট অফিসে কোন মহিলা স্বামী ছাড়া একা গেলে তাকে স্বামীর উপস্থিতি দেখানোর প্রয়োজনে স্বামী ভাড়া করে দেখিয়ে আবার স্বামী নিয়ে আসার ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে হয়।
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে একই ব্যক্তির তিন-চারটে ফ্ল্যাট বাড়িতে স্বামীর পরিচয়ে ভাড়া খাটার বিষয়টি। সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে সালাউদ্দিন নামের এক লোককে। ৬ নারীর স্বামী হিসেবে ভাড়া খাটে। ভাড়া খাটার শর্ত হচ্ছে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন স্বামী পরিচয়ে বাসায় অবস্থান করতে হবে, আর বাসার বাজারও করে দিতে হবে। বাসায় অবস্থান করা ও বাজার করার শর্ত দেয়ার মানে হচ্ছে যাতে আশপাশের লোকেরা কোন প্রকার সন্দেহ না করে। ওই সব যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে স্বামীর ভাড়া সবচেয়ে বেশি।
জামালপুরের মধ্যবয়সী পুরুষ সালাউদ্দিন। এক যুগ আগে ঢাকায় এসে মিরপুর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা শুরু করে। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যায় এক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে। ধরা পড়ে জেলও খাটে দেড় বছর। জেল থেকে বেরুনোর পর পরিচয় হয় এক মহিলার সঙ্গে। সেই থেকে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য শুরু সালাউদ্দিনের। এখন রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও গাবতলী এলাকায় ৬টি বাসায় ৬ নারীর ভাড়াটে স্বামী সে। ভাড়া পায় ৩০ হাজার টাকা। কোন মাসে বেশিও পায়। আবার কোন মাসে কিছুটা কমও পায় বলে জানায় সালাউদ্দিন। নিজের স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে ভাড়া থাকে মিরপুরের কালসী এলাকায়। ভাড়ায় স্বামী খাটাই এখন তার একমাত্র পেশা বলে জানায় সে।
জানা গেছে, রাজধানীতে বিভিন্ন ক্ষুদে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ বস্তিবাসী বা ভাসমান নারীরা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সন্তানদের নিয়ে জীবন ধারণ করছে। তাদের বেশির ভাগই স্বামী পরিত্যক্তা। ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের কারণে কখনও কখনও এদের ক্ষুদ্র ঋণের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এনজিওগুলো বা নগরীতে সুদের ব্যবসা করে এমন সংস্থাগুলো ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের ছবি ও নাম ব্যবহার করে, দু’জনকেই ঋণের দায়বদ্ধ করে। এনজিও গুলোর ওই নিয়মের কারণে স্বামী পরিত্যক্তদের ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে পরিচিত এবং ভাল সম্পর্ক আছে এমন কাউকে স্বামী হিসেবে ভাড়া করে সংস্থাগুলো থেকে ব্যবসার ঋণ পায় মহিলারা। বিনিময়ে ভাড়াটে স্বামীকে ধরিয়ে দিতে হয় নগদ কিছু। আবার জানা গেছে, অনেকে কেবলমাত্র ভাল সম্পর্কের কারণে বিনা টাকায় মহিলাদের ঋণ পেতে সহায়তা করে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য ছবি তুলতে অফিসে যেতে হয়। অজ্ঞতাপ্রসূত কোন নারী একা পাসপোর্টের ছবি তুলতে গেলে তাকে স্বামী সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়, সে ক্ষেত্রে মহিলা পাসপোর্ট প্রত্যাশীকে সময় ব্যয় করে আরেক দিন আসতে হয়, অনেকে ফিরে যান। মহিলারা ফিরে যাওয়ার সময় এখানকার কিছু দালাল সুকৌশলে মহিলাদের প্রস্তাব দেন, টাকা-পয়সা খরচ করে আবার আসবেন তার চেয়ে মাত্র ১শ’ টাকা খরচ করুন- আমি একজন লোক দিচ্ছি উনি আপনার সঙ্গে যাবেন, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য উনাকে স্বামী পরিচয় দেবেন, ছবিটা তোলা হলে চলে যাবেন। নানা বয়সী নারীদের জন্য কয়েক মিনিট ভাড়ায় খাটতে নানা বয়সী পুরুষ পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে জড়ো করা আছে এখানকার কুদ্দুস নামের এক দালালের।