Wednesday, August 7, 2024
বাবাকে এখনো আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি: ইলিয়াসপুত্র আবরার by কাজী সুমন
যেভাবে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী
২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল। রাত তখন ১২টা। বনানী থানা থেকে একটি ফোন আসে জ্যেষ্ঠপুত্র আবরার ইলিয়াসের মোবাইলে। দৌড়ে মা তাহসিনা রুশদীর লুনার রুমে যান আবরার। কাঁচা ঘুমে আচ্ছন্ন মাকে ডেকে তোলেন। বলেন, পুলিশ জানিয়েছে আমাদের গাড়ি নাকি বনানী থানায়। তখনও স্বামী এম ইলিয়াস আলীর বিপদ আঁচ করতে পারেননি লুনা। অনেকটা স্বাভাবিক চিন্তা নিয়ে পুত্রকে বলেন, আমাদের ড্রাইভার আনসারকে ফোন দাও। পুত্র জানান, আনসারকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন লুনা বলেন, তাহলে তোমার বাবাকে ফোন দাও। উদ্বিগ্ন পুত্র জানান, বাবার ফোনও বন্ধ। পুত্রের জবাব পেয়ে দিশাহারা হয়ে যান লুনা। দু’জনের ফোন একসঙ্গে বন্ধ কেন? তখন থেকে নানা দুশ্চিন্তা তার মাথায় আসতে থাকে। লুনা বলেন, সঙ্গে সঙ্গেই বনানী থানার ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করি। জিজ্ঞাসা করি, গাড়ি থানায় গেল কীভাবে? তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, টহল পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, বনানীর ২ নম্বর সড়কের সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে একটি গাড়ি পড়ে আছে। পরে আমরা গাড়ি থানায় নিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় একজন ছাত্রদল নেতা আসেন বাসায়। তিনি জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে গাড়িচালক আনসার আলী তাকে ফোন করে বলেন, তার মোবাইলে ব্যালেন্স নেই। দ্রুত কিছু টাকা পাঠানোর আকুতি জানান। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনটি কেটে যায়।
এদিকে ঘটনার চারদিন পর র্যাব সদর দপ্তরের মোশতাক নামে এক কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন স্ত্রী লুনার সঙ্গে। ফোন করে শোনান আশার বাণী। ওই র্যাব কর্মকর্তা জানান, আমাদের কাছে ইনফরমেশন আছে, উনাকে (ইলিয়াস আলী) পাওয়া যেতে পারে, আপনারা প্রিপারেশন রাখেন। এরপর ওই র্যাব কর্মকর্তা আরও একদিন ফোন করে একই কথা শোনান। এর কিছুদিন পর ইলিয়াস আলীকে পাওয়ার আশার বেলুন ফুটো করে দেন ওই র্যাব কর্মকর্তা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাদের কাছে যে ইনফেরমেশনটা ছিল সেটা এখন আর নেই। এই বিষয়ে আমরা আর কিছু বলতে পারছি না। কয়েকদিন পর আমাকে জনৈক এক ব্যক্তি ফোন করে বলেন, ইলিয়াস আলী জীবিত আছেন। আপনি ইচ্ছে করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। কীভাবে সাক্ষাৎ করা যায় সেটাও তিনি বলে দিলেন।
স্বামীর সন্ধান পেতে পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেন তিনি। দুই পুত্র ও শিশুকন্যাকে নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় ইলিয়াসপত্নীকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপেক্ষা করো, ধৈর্য ধরো, বিষয়টি দেখছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কিছুদিন পর গাজীপুরের পূবাইল থেকে লুনার মোবাইলে একটি ফোন আসে। এক নারী ফোন করে জানান, ইলিয়াস আলীকে পাওয়া যেতে পারে, দ্রুত পূবাইলে আসেন। বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা ও র্যাব কর্মকর্তা মোশতাকসহ দ্রুত যান পূবাইলে। সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয়রা জানান, একজন লোককে মাইক্রোবাসে করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে ইলিয়াস আলীর সন্ধান আর পাননি।
ঘটনার সময় পাশের পার্কের বেঞ্চে ঘুমিয়ে ছিলেন ডাব বিক্রেতা সোহেল। চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। এরপর তিনি দেখেন, একটি লোককে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে চার ব্যক্তি। গাড়িতে উঠতে না চাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে কিলঘুষি মারা হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধস্তাধস্তির পর জোর করে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তি ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিল। পরদিন সকালে জানতে পারি, বনানীর পার্কের পাশের সড়ক থেকে যে ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তিনিই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। গাড়িতে উঠিয়ে বনানী এক নম্বরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই সময় ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের একজন নির্মাণ শ্রমিক পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, ইলিয়াস আলীর গাড়ির পেছন দিকে কালো রঙের মাইক্রোটি ধাক্কা মারায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে নেমে যান এবং মাইক্রো চালকের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মাইক্রো থেকে আরও ৪-৫ জন নেমে গিয়ে ইলিয়াস আলীর গাড়ির চালককে জোর করে ধরে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরক্ষণেই ৩-৪ জন নেমে গিয়ে প্রাইভেটকারে বসে থাকা ইলিয়াস আলীকেও ধরে গাড়িতে তোলার সময় ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ইলিয়াস আলীর আর খোঁজ মেলেনি।
Saturday, March 5, 2016
যেভাবে সময় কাটছে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের by কাজী সুমন
৮৭ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে বাসায় চিকিৎসা করান। প্রয়োজনে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ডাক্তার এসে চেকআপ করে ওষুধপত্র দিয়ে যান। আহারও গ্রহণ করেন খুবই অল্প। বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন ফলের জুস ও তরল জাতীয় খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। ছেলের বউ ও কয়েকজন কাজের লোক তার সেবা-শুশ্রূষা করেন। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আধাঘণ্টা মর্নিংওয়াক করতেন। ৬৯ নম্বর রোড থেকে হাঁটা শুরু করে দক্ষিণ পাশের ৫৮ নম্বর হয়ে ৬২ নম্বর সড়ক ঘুরে বাসায় ফিরতেন। এসময় তার সঙ্গে একজন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য থাকতেন। খুবই ধীরপায়ে এই কয়েকশ’ গজ রাস্তা হাঁটতেন। ওইসময় কোনো পথচারী তাকে সালাম দিলে মাথা নেড়ে উত্তর দিতেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে তিনি মর্নিংওয়াকে বের না হওয়ায় এসবি’র ওই সদস্য মাঝেমধ্যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের খোঁজখবর নিতে যান। অবসরের পর সবাই ভেবেছিলেন- লেখালেখি করবেন কিংবা নিজের আত্মজীবনী বের করবেন। কিন্তু সেপথে হাঁটেননি তিনি। ১০ নম্বর ওই বাড়িটির নিরাপত্তা রক্ষী সোহাগ জানান, স্যার অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থতলায় তার ছেলের সঙ্গে থাকেন। অসুস্থ হওয়ার আগে সকাল বেলা নিয়মিত হাঁটতেন। তিনি কারও সঙ্গে দেখাও করেন না এবং কথাও বলেন না। তবে গত তিন মাস ধরে স্যারের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। তাই তিনি এখন আর সকালে হাঁটতে বের হন না। সময় কাটছে বাসাতেই।
দুইবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনকারী সাহাবুদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯৩০ সালের ১লা জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে। পিতা তালুকদার রিসাত আহমদ ছিলেন একজন সমাজসেবী। নেত্রকোনায় প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষে সাহাবুদ্দীন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। প্রথমেই ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর গোপালগঞ্জ ও নাটোরের মহকুমা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সহকারী জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৬০ সালে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগে বদলি হন তিনি। ঢাকা ও বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ১৯৭২ সালের ২০শে জানুয়ারি তাকে হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। ১৯৭৩-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তাকে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৯৮০ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে হন প্রধান বিচারপতি। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে অনেকটা নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় আসেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ১৯৯০ সালের ৫ই ডিসেম্বর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলে তাকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। পরদিন প্রেসিডেন্ট এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আস্থাহীনতা দেখা দেয়। পরে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারী সাহাবুদ্দীন আহমদকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৭শে জানুয়ারি তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ২৩শে জুলাই তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সততা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের সকল স্তরের মানুষের মন জয় করেন। ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর নেন অতি সাধারণ জীবনযাপন করা এই মানুষটি।
Tuesday, March 1, 2016
বিএনপি জামায়াত দূরত্ব by কাজী সুমন
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরেই ভাটার টান চলছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে। তবে বিএনপি বা জামায়াত কোনো দলই আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ভাঙার দায় নিতে রাজি নয়। যে কারণে ঘোষণা দিয়ে হয়তো জামায়াত জোট ত্যাগ করবে না। বিএনপিও এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেবে না। তবে অস্তিত্বের সংকটে থাকা জামায়াত এরই মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বিকল্প চিন্তা করছে। দলের অনূর্ধ্ব ৬০ বছর বয়সী নেতাদের নিয়ে নতুন দল গঠনের আলোচনাও রয়েছে।
গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ইউপি নির্বাচন নিয়ে ২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠক শেষে মির্জা আলমগীর ইউপি নির্বাচনে ২০ দল ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু ওই বৈঠকে অংশ নেননি জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত ও এলডিপির কোনো প্রতিনিধি। ওই দিনের সংবাদ সম্মেলনে জোটের দুই শরিক দলের যোগ না দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান মির্জা আলমগীর। এতে জামায়াতসহ কয়েকটি শরিক দলের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বিএনপির সঙ্গে শরিক দলগুলোর এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান শরিকদের জন্য ২০টি ইউপিতে ছাড় দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতা জানান, জামায়াত, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ নিজেদের মতো করে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দল নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে ইউপি নির্বাচনে সমঝোতার বিষয়ে জোটের শরিক দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে জোটের সমন্বয় সভায় আমাদের নামেমাত্র ডাকা হয়েছিল। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের একটি বৈঠকের নামে ফটোসেশন করা হয়। বিএনপির সিদ্ধান্তগুলো শুধু আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনে শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী আছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। এর আগে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন সমন্বয় সভায়ও জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। এছাড়া উপজেলা ও পৌরসভায় ২০ দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন এলডিপি ও জাতীয় পার্টিকে (জাফর) দুটি পৌরসভায় ছাড় দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে প্রথমদিকে সমঝোতা না হওয়ায় একপর্যায়ে মির্জা আলমগীর বলেছিলেন, স্থানীয়ভাবে জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি জামায়াতের সঙ্গে। দুটি উপজেলায় তাদের প্রার্থী জয়ও পায়। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, ২০ দলীয় জোট একরকম মৃত অবস্থায় আছে। তেমন কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। বিএনপির দরকার ‘২০’ সংখ্যাটিকে টিকিয়ে রাখা। তাই জোট থেকে ছোট কোনো দল বেরিয়ে গেলেও তাদের কিছু যায়-আসে না। বিএনপির কোনো কর্মীকে ওই দলের চেয়ারম্যান করে ২০ সংখ্যাটি তারা ঠিক রাখবে। কারণ, ২০ দলের মধ্যে কয়েকটি দল রয়েছে যাদের গুটি কয়েকজন নেতা ছাড়া আর কোনো কর্মী নেই।
দুটি বৈঠকে জামায়াতের অংশ না নেয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। জামায়াত নেতারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। এজন্যই হয়তো দলটির কোনো নেতা বৈঠকে যোগ দিতে পারেনি। তার মানে এই নয় জামায়াত ২০ দলীয় জোটে নেই। পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়ে অনেকটা একই যুক্তি তুলে ধরেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই নেতা।
এদিকে, জামায়াত নেতাদের নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আলোচনাও শোনা যাচ্ছে। দলটির নাম হতে পারে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। যুদ্ধাপরাধের অপবাদ ঘুচাতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের দলটির নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। তবে জামায়াত এক্ষেত্রে বিলুপ্ত করা হবে না। একটি অংশ জামায়াতেই থেকে যাবেন।
Tuesday, January 12, 2016
‘আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ’ by কাজী সুমন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, অর্থনৈতিক, কৃষি ও শিক্ষায় সরকারের সাফল্য রয়েছে। আইনের শাসন, সুশাসন, রাজনৈতিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি নেই। নিঃসন্দেহে অবনতি হয়েছে। প্রখ্যাত এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশে নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু জনপ্রিয়তা যাচাই হচ্ছে না। জনপ্রিয়তা আছে কি নেই- তা নিরূপণ করার একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন। সেটাতে যদি ঘাটতি থাকে তাহলে অন্যান্য অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যায়। অর্জনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সরকারের কাছে প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সরকার দলের বাইরে যে জনসাধারণ রয়েছে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, গত দুই বছরে দেশে গণতন্ত্র নির্বাসনে চলে গেছে। আইনের শাসন বাক্সবন্দি হয়ে পড়েছে। নাগরিক অধিকার ও বোধকে অপমান করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে সরকার। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা নির্যাতনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এভাবে সরকার বেশিদিন চালাতে পারবে না মন্তব্য করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, আগামীতে সরকার দলের নেতাদের নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়বে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হবে। অতীতের অর্জনগুলো আরও নিম্নমুখী হবে। সাধারণ মানুষ সরকার বিমুখ হবে। সঠিক নির্বাচন দিতে বাইরের চাপ বাড়বে মন্তব্য করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন বলেন, ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গ্রহণ করেনি। সঠিক নির্বাচন দিতে সরকারের ওপর বাইরের দেশগুলোর এখনও চাপ রয়েছে। আগামীতে এই চাপ আরও বাড়বে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সরকার একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল- বিদেশিরা ত্রুটিযুক্ত এই নির্বাচনটি কিভাবে নেয়। কিন্তু পরে দেখা গেছে- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সব দাতা সংস্থা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০১৫ সালটি ছিল সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। ৫ই জানুয়ারিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও এবং পেট্রলবোমায় দেশে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে জনসম্পৃক্ততা না থাকায় সেই আন্দোলন সফল হয়নি। সরকারের সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের পর সরকার দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসে। কৃষি, শিক্ষা, অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতুসহ বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরপর জনগণের মধ্যেও আস্থা ফিরে এসেছে। চ্যালেঞ্জের বিষয় তুলে ধরে মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা দেয়ার পর প্রত্যাশিত বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। এখানে একটু ব্যর্থতা রয়েছে। আগামীতে এই সেক্টরটিতে সরকারকে একটু নজর দিতে হবে। এ ছাড়া উত্থান হওয়া জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমন না করতে পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের আইন ভারতের চেয়েও শক্তিশালী। কিন্তু শ’ শ’ লোক নিয়ে কেন্দ্র দখল করলে তো পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কিছু করার থাকে না। তাই আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, গত দুই বছরে সরকারের বেশ কিছু বড় সাফল্য রয়েছে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, আগামীতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জঙ্গিবাদ দমন, ধর্মান্ধতা দূরীকরণসহ সরকারকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এগুলো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই মন্তব্য করে আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধান বিরোধী জোট আগাম নির্বাচনে দাবি জানালেও সরকারের ভাষা দেখে মনে হচ্ছে- ২০১৯ সালের আগে তাদের দাবি মেনে নেবে না।
Friday, December 25, 2015
কারাগারে স্বামীরা প্রচারণায় স্ত্রীরা by কাজী সুমন
হবিগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠেয় ৫টি পৌরসভায় মধ্যে সদরের মেয়র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ কারাগারে থেকে নির্বাচন করছেন। বর্তমান এই মেয়রের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন স্ত্রী ফারহানা গউছ হ্যাপি, ছেলে মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রীতম ও পরিবারের সদস্যরা। প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন গউছপত্নী। ভোটারদের কাছে স্বামীর উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন তিনি। যশোরে অনুষ্ঠেয় ৬টি পৌরসভার মধ্যে চৌগাছায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা কামাল আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তার প্রচারণা চালাচ্ছেন কামাল আহমেদের স্ত্রী জাহানারা পারভীন জলি, পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা। কামাল আহমেদের নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম মোরশেদ মানবজমিনকে জানান, আমাদের দলের প্রার্থী দীর্ঘদিন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র ছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় প্রার্থিতা দাখিলের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ভোটারদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। সু্ষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো। কারারুদ্ধ প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বগুড়ায়। ওই জেলার ৯টি পৌরসভার নির্বাচন হবে। কোন মেয়র প্রার্থী কারাগারে না থাকলেও ৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী কারান্তরীণ রয়েছেন। তারা হলেন- বগুড়া সদর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমু, ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও জামায়াত নেতা এরশাদুল বারী এরশাদ, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার এবং ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শহর যুবদলের সভাপতি মাসুদ রানা। কারাগারে থেকেই তারা নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। গত ১৪ই ডিসেম্বরের পর থেকে তাদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে তাদের স্ত্রীরা। সরকারদলীয় প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দিন-রাত স্বামীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জামায়াত নেতা এরশাদুল বারী এরশাদের পক্ষে তার স্ত্রী শাহেদ আরা সুলতানা রোজী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এই পরিবেশ বজায় থাকলে এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে তার স্বামী অবশ্যই বিজয়ী হবেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিমুর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার স্ত্রী জিনাত পারভীন স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, তার স্বামী মিথ্যা মামলায় কারাগারে। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ কারণে কারাগারে থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন। যুবদল নেতা মাসুদ রানার পক্ষে স্ত্রী রেহেনা বেগম প্রচারণা চালাচ্ছেন। যুবদল নেতা বখতিয়ারের পক্ষে মাঠে নেমেছেন তার স্ত্রী আয়েশা জামান বখতিয়ার। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে থাকায় ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও জাসাস জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরুর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার। একইভাবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হারুন উর রশিদ ও গোলাম মোস্তফার পক্ষে তাদের স্ত্রীরা দিনরাত মাঠে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে মৌলভীবাজারে নির্বাচন অনুষ্ঠেয় ৪টি পৌরসভার মধ্যে কোন দলের মেয়র প্রার্থী কারাগারে নেই। তবে সদর পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থী ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার মজুমদার ইমন কারাগারে থেকে মনোনয়ন দাখিল করেন। এরপর তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্য প্রচারণা চালান। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠেয় ৪টি পৌরসভার মধ্যে কোন মেয়র প্রার্থী কারাগারে নেই। তবে সদর পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থী ছৈবুর রহমান কারাগারে থেকে নির্বাচন করছেন। তার প্রচারণা চালাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা। কোন মেয়র প্রার্থী কারাগারে নেই। তবে কলারোয়ায় কাউন্সিলর প্রার্থী যুবদল নেতা আবদুল মুজিব কারাগারে থেকে নির্বাচন করছেন। তার প্রচারণা চালাচ্ছেন স্ত্রী ও ছোটভাই আবদুল আজিজসহ পরিবারের সদস্যরা। ওদিকে জয়পুরহাটের ৩টি পৌরসভার মধ্যে কোন মেয়র প্রার্থী কারাগারে না থাকলেও আত্মগোপনে রয়েছেন দুজন। তারা হলেন- সদরে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হাসিবুল আলম ও কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা গুলজার আহমেদ। মামলা থাকায় এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকা প্রার্থীদের পক্ষে কৌশলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্টার লাগানো হচ্ছে রাতের আঁধারে। গণসংযোগ করা হচ্ছে মোবাইল ফোনে। এদিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভায় নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ৮টিতে নির্বাচন হচ্ছে। ওই জেলায় কোন মেয়র কিংবা কাউন্সিলর প্রার্থী কারাগারে নেই। সবাই নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রাজশাহীর ১৩টি পৌরসভায় কোন মেয়র প্রার্থী কারাগারে নেই। তবে কাটাখালী পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান আত্মগোপনে থেকেই মনোনয়ন দাখিল করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনও তিনি এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারেননি। তার প্রচারণা চালাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। গাইবান্ধার ৩টি পৌরসভার মধ্যে কোন প্রার্থী কারাগারে না থাকলেও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ফারুক আহমেদ আত্মগোপনে রয়েছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় থানা বিএনপির এই সভাপতি নির্বাচনী প্রচারণায় এখনও অংশ নেননি। তার পক্ষে পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এদিকে কুমিল্লায় ৬টি, চাঁদপুর ৫টি, মুন্সীগঞ্জ দুটি, সিরাজগঞ্জে ৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ২টি, বরিশালে ৬টি, চট্টগ্রামে ১০টি, পটুয়াখালীতে ২টিসহ ২৩৩টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কোন মেয়র কিংবা কাউন্সিলর প্রার্থী কারাগারে নেই।
Saturday, December 5, 2015
এক সাংবাদিকের মায়ের কান্না by কাজী সুমন
Monday, October 12, 2015
হাতকড়া নিয়েই চলছে গুলিবিদ্ধ নয়নের চিকিৎসা by কাজী সুমন
জানা গেছে, ৮ই অক্টোবর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওইদিনই নয়নের ঊরু থেকে চারটি গুলি বের করা হয়। এরপর তাকে ১০২ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তখন তার হাতে হাতকড়া ছিল না। কিন্তু গত শনিবার সকালে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ওই ওয়ার্ড থেকে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় হত্যা মামলার আসামি তাজুদ খাঁ। এরপর রোববার সকাল থেকে গুলিবিদ্ধ নয়নের হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মানবজমিনকে বলেন, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের ৫ উপ-অনুচ্ছেদে বলা আছে, পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ কাউকে নির্যাতন করা যাবে না, কারও সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। একজন রোগীকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা অমানবিক আচরণ। এছাড়া, এটা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। ২০১৩ সালে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নির্যাতন আইন-২০১৩) সংসদে পাস করা হয়েছে। ওই আইনেও বলা আছে, কাউকে নির্যাতন করা যাবে না এবং কারও সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। এটা করলে অপরাধ বলে গণ্য হবে। ওই অপরাধে শাস্তিরও বিধান রয়েছে।
Sunday, September 6, 2015
খাটে শুয়ে মানিক মিয়া বলতেন আর আমি লিখতাম by কাজী সুমন
Saturday, August 8, 2015
‘জীবনের ২০ বছরই কেটেছে কারাগারে’ by কাজী সুমন
দশম শ্রেণীতে পড়াকালে ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হন শাহ মোয়াজ্জেম। ১৯৫৪ সালে মেট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ওই বছরই ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৫৬ সালে আইএ পাস করে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। ১৯৫৮ সালে জগন্নাথ কলেজ হতে ডিগ্রি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং এলএলবি পাস করেন। কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মুবিন তালুকদার তাকে নিয়ে যান নওয়াবপুর রোডে তখনকার আওয়ামী লীগের অফিসে। সেখানেই পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। এরপর তাকে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে পাঠানো হয়। ওই সম্মেলনে রাখা তার বক্তব্য প্রশংসিত হয়। বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে এনে পুরস্কৃত করেন। এরপরই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় পার্লামেন্টে তার আড়াই ঘণ্টার তুমুল বক্তৃতায় কেঁপে ওঠে আইয়ুব খানের মসনদ। এরপরই জ্বালিয়ে দেয়া হয় তার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানার দোগাছির পৈতৃক বাড়ি।
তবে কারাগারের পাশাপাশি মসনদের সঙ্গেও সখ্য ছিল শাহ মোয়াজ্জেমের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের আমলে চিফ হুইপ, মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চিফ হুইপ নিযুক্ত হন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফের এমপি হয়ে চিফ হুইপ হন। ১৯৭৫ সালে খোন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ১৯৭৬ সালে নতুন রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন এবং জেল থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় ১৯৭৭ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জনদলের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে জনদল জাতীয় পার্টিতে রূপান্তরিত হলে তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডিয়ামের সদস্য নির্বাচিত হন। একই বৎসর তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সে বছরই তিনি সরকারের উপ-প্রধান মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের রংপুর পীরগঞ্জ থেকে উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে যোগ দেন বিএনপিতে। বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়সের ভারে অনেকটা ন্যুব্জ এই নেতাও মামলার শিকার হয়েছেন দেড় ডজন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় বিএনপিতেই থাকতে চান তিনি। দলটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছেই। আমি বিএনপিতে কোন ক্রাইসিস দেখি না। সরকারের এত অত্যাচার-নির্যাতনের পরও বিএনপি টিকে আছে। সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এত উন্নয়ন করলে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই ক্ষমতায় যাবে। জেলহত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৬২ জন নেতা সাক্ষ্য দিয়েছেন। কেউ আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। আর্মিদের বন্দুকের নলের মুখে আমি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলাম। দেশের অনেক জনহিতকর কাজও করেছেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ঢাকা-মাওয়া বিশ্বরোডের তিনিই উদ্যোক্তা এবং রূপকার। তার এলাকার ৬টি কলেজ ও বেশ কয়েকটি স্কুল, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, স্টেডিয়াম, হেলিপ্যাড, অসংখ্য রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন। লেখালেখির জগতেও তার বিচরণ রয়েছে। জেল জীবনের প্রথম স্মৃতিকথা নিয়ে লেখেন ‘নিত্য কারাগার’। এছাড়া ‘বলেছি বলছি বলবো’, ‘ছাব্বিশ সেল’ ও ‘জেল হত্যা মামলা’, উপন্যাস ‘বিচলনে’ পাঠক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
Tuesday, July 28, 2015
সারা হোসেনের অন্য ভুবন by কাজী সুমন
Wednesday, July 8, 2015
বি. চৌধুরীকে ঠেকাতে মরিয়া জামায়াত by কাজী সুমন
Wednesday, July 1, 2015
ভোগবাদে বামেরা by সাজেদুল হক ও কাজী সুমন
যানজটে স্থবির: ঢাকার রাস্তায় হাজারো মানুষের ইফতার by কাজী সুমন
এরই মধ্যে সাধারণ মানুষ ঈদের কেনাকাটা শুরু করে দেয়ায় বিপণীবিতানের আশপাশে ক্রেতাদের অবৈধ গাড়ি পার্কিং আরও বড় যানজটের কারণ হয়ে উঠেছে। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, গুলিস্তান এলাকায় তীব্র যানজট থাকে। গুলশান-বাড্ডা-মগবাজার-গুলিস্তান ও মহাখালী-প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পর্যন্তও দেখা দেয় অসহনীয় যানজট। মৌচাক, মালিবাগ, বাসাবো-খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া হয়ে রামপুরা টেলিভিশন সেন্টার, বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত একই চিত্র থাকে।
Thursday, June 11, 2015
ফোনালাপ ফাঁস আতঙ্ক by কাজী সুমন
সর্বশেষ ফোনালাপ ফাঁসের কারণে বিপাকে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দু’সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা রইস উদ্দিনের সঙ্গে মাহবুবুর রহমানের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এর আগে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ফোনালাপ ফাঁস হয়।
এমন করে গত দুই বছরে ধারাবাহিকভাবে বিএনপির অন্তত একডজন শীর্ষ নেতার ফোনালাপ ফাঁস করা হয়। এতে দলের মধ্যে তৈরি হচ্ছে সন্দেহ-অবিশ্বাস। বিভ্রান্ত হচ্ছেন কর্মীরা। বেকায়দায় পড়ছেন সিনিয়র নেতারা। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কের কারণে বিএনপি নেতারা এখন ফোনালাপে খুবই সতর্ক। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গেও অত্যন্ত সতর্ক হয়ে কথা বলছেন তারা। দলের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন নেতিবাচক মন্তব্য মোবাইল ফোনে বলতে সাহস করছেন না। মন খুলে কথা বলছেন না দলের কর্মীদের সঙ্গেও। সবাইকে সামনাসামনি এসে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, দলের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে অনেক নেতাই আত্মসমালোচনা করেন। সরকার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংস্থাগুলোকে দিয়ে এই ফোনালাপ ফাঁস করাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদের শেষদিকে ফোনালাপ ফাঁসের প্রথম ঘটনাটি ঘটে। ২০১৩ সালে ২৬শে অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের প্রায় ৩৭ মিনিট কথোপকথন হয়। এর একদিন পরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ওই কথোপকথন সম্প্রচারিত হয়। এ ঘটনার পর দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ২০১১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে খালেদা জিয়া মোবাইল ফোনে নানা দিকনির্দেশনা দেন। পুরনো ওই ফোনালাপের পাঁচটি অডিও দীর্ঘদিন পর ফাঁস হয় বাংলালিক নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে। ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতা ফোন দিয়েছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে। প্রায় ১০ মিনিটের কথোপকথনে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন তারেক রহমান। এর কিছুদিন পরই বাংলালিক নামে ইউটিউব চ্যানেলে তাদের ফোনালাপটি ফাঁস হয়ে যায়। এই ফোনালাপটি ফাঁস হওয়ার পর দলের মধ্যে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন মির্জা আলমগীর। ফোনালাপ ফাঁসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে প্রায় ২৩ মিনিট ফোনে কথা বলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। একই সময় আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন তিনি। ফোনালাপে তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা। কয়েকদিন পরই তাদের ফোনালাপ ফাঁস করে দেয়া হয়। ওই ফোনালাপে সেনাবাহিনীকে উসকানি দেয়ার অভিযোগ এনে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় মান্নাকে। ওই ঘটনায় এখনও কারাভোগ করছেন মান্না।
গত ২৮শে এপ্রিল সিটি নির্বাচন বর্জন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ফোনালাপ ফাঁস করে দেয়া হয়। ওই কথোপকথনে নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার মতামত আছে কিনা শিমুল বিশ্বাসের কাছে জানতে চেয়েছিলেন মওদুদ আহমদ। শিমুল বিশ্বাসও হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়েছিলেন। একদিন পরই ওই ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়। এরপর ফের ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন মওদুদ আহমদ। গত ৮ই মে দুপুরে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। এরপর তাদের দুই মিনিট ৮ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস করে দেয়া হয়। ওই ফোনালাপে আবেদকে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এই বিএনপিকে দিয়ে হবে না। দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এখন জিয়ার বিএনপি লাগবে। জামায়াতের ব্যাপারেও বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন তিনি।’ এই কথোপকথন ফাঁসের পর জোটের শরিক দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সর্বশেষ ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। গত ৩রা জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রইসউদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ২২ মিনিট দলের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। ৫ই জুন তাদের ওই কথোপকথন ফাঁস করে দেয় বাংলালিক ইউটিউব চ্যানেল। ওই ফোনালাপে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন মাহবুবুর রহমান। ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাসিনা-খালেদা টেলিফোন আলাপ, চীন, জামায়াত, সেনাবাহিনী, ২০১৯ সালের নির্বাচনেও বিএনপির ক্ষমতায় আসতে না পারা, সিনিয়র নেতাদের জামিনসহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন তিনি। ফোনালাপটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তোপের মুখে পড়েন কর্মীদের। এরপর থেকে জেনারেল মাহবুব অনেকটা আড়ালে চলে গেছেন। সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিগুলোতেও তাকে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে ফোনালাপটির ব্যাপারে জানতে চাইলে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি কিছু জানি না। অনেকের সঙ্গেই প্রতিদিন কথা হয়, খোলা মন নিয়েই কথা বলি। কিন্তু কে কখন ফোন রেকর্ড করে প্রকাশ করছে, এসব নিম্নশ্রেণীর আচরণ। ইদানীং তো চরিত্রহননে এসব করা হচ্ছে। এদিকে বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। সরাসরি বাসায় বা অফিসে গিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান তারা। এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আধুনিক যুগে প্রযুক্তির সাহায্যে টেলিফোনের কথাগুলো ট্র্যাপ করে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী বানিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রকাশ করছে। বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা নেই- এমন কোন নেতা আছে বলে আমার মনে হয় না। যদি কোন ব্যতিক্রম থাকে তাহলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সরকারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিএনপিতে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না।
Monday, April 27, 2015
চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর by কাজী সুমন ও মহিউদ্দীন জুয়েল
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বলেছেন, শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় এই মুহূর্তে কিছুটা বিশ্রামে রয়েছেন বাবা (মহিউদ্দিন চৌধুরী)। এর মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগও করেছেন। বাসায় থাকলেও নিয়মিতভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
নগর আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, টানা ১৭ বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন শেখ হাসিনার পছন্দের ব্যক্তি মহিউদ্দিন চৌধুরী। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি দুর্বল হতে শুরু করেন ২০১০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর। ওই নির্বাচনে চমক দেখিয়ে তাকে পরাজিত করেছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া বর্তমান মেয়র মনজুর আলম। সেই সময় আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন চৌধুরীর চেয়ে ৯৫ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পান তিনি। এরপর দলীয়ভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার পর তার বিরোধী পক্ষ হিসেবে দলের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে যায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ বেশ কয়েকজন।
পরবর্তীতে এই নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠলে আ জ ম নাছিরকে কাছে টেনে নিয়ে নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক করেন মহিউদ্দিন। আগামী ২৮শে এপ্রিল অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে এই বিরোধ অনেকাংশে রয়েছে বলে জানা গেছে। গণভবনে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেয়ার আগে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে নাছিরকে মনোনয়ন দেয়ার পর কারও কোন আপত্তি না থাকায় এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন নেত্রী। এই ঘটনার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বতন্ত্র নির্বাচন করার কথা শোনা গেলেও শেষদিকে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন বলে ঘোষণা দেন। এতে টানা বেশ কয়েকদিন তার বাসার সামনে সক্রিয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি নাছিরের পক্ষে কাজ করবেন বলে জানালে অনেকের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী সবাইকে দ্বন্দ্ব ভুলে নাছিরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন।
গত ১৫ দিনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ঘেঁটে দেখা যায়, দলের শীর্ষ নেতারা আজম নাছিরের পাশে থেকে প্রচারণা চালালেও মহিউদ্দিন চৌধুরী রয়েছেন ব্যতিক্রম। ঢাকায় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সর্বশেষ ইশতেহার ঘোষণা পর্যন্ত নাছিরের পাশে তাকে খুব কমই দেখা গেছে। নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাছিরের পাশে মহিউদ্দিনকে দেখা গিয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে তাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে নাছিরের প্রচারণায় কম দেখা যাচ্ছে কেন?’ জবাবে মহিউদ্দিন বলেন, বলতে পারেন এটা আমাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল। এর আগে নাছিরের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ইশতেহারটা দেখানো হয়নি। হলে ভালো হতো। নাছির ভালো ছেলে। সে কাজ করার জন্য উদগ্রীব। তাকে পেলে ভালো হবে নগরবাসীর। তার এই কথায় কিছুটা অভিমানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সর্বমহলে। এই গুঞ্জন আরো দানা বাঁধতে শুরু করে যখন মহিউদ্দিনের বাসায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর যান কিংবা সিটি করপোরেশনের একটি প্রতিষ্ঠানে যখন একান্তে দুইজন ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেন ভোটের আগে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বিএনপির মনজুর আলম গুরু-শিষ্য বলে পরিচিত। একসময় মনজুর মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে রাজনীতি করতেন। পরে সেনাসমর্থিত সরকারের আমলে মহিউদ্দিন জেলে গেলে মেয়র হন মনজুর। আর এর পরপরই মনজুর সঙ্গে মহিউদ্দিনের বিরোধ তুঙ্গে উঠে। একপর্যায়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সেই সময় মেয়র নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সংকটে ভুগতে থাকলে মনজুর দলে যোগ দিয়ে জয়লাভ করেন। তার এই বুদ্ধিমত্তায় খুশি হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে উপদেষ্টা করেন নিজের। এরপর মনজুর সঙ্গে মহিউদ্দিনের সম্পর্ক পুনরায় জোরালো হলে এই নিয়ে দলের বিরোধী পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক বলে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীও কাজ করছেন মনজুর পক্ষে। মহিউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা নাছিরের পক্ষে প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন। তারা যদি ভোটের মাঠে না থাকেন তাহলে শেষ মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব। ফলে জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।
Sunday, April 26, 2015
চট্টগ্রামে খালেদার চিঠি দিনভর আলোচনা by কাজী সুমন ও মহিউদ্দীন জুয়েল
শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা একটি চিঠি চট্টগ্রাম বিএনপির শীর্ষনেতা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে খালেদা জিয়া বলেছেন, বীর চট্টলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এই চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজেই তিনি শাহাদত বরণ করেছিলেন।
শহীদ জিয়ার পবিত্র রক্তে রঞ্জিত চট্টগ্রাম মহানগরীর সঙ্গে তাই আমার রয়েছে আত্মার সম্পর্ক। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সেই বিশেষ সম্পর্কের কারণেই চট্টগ্রামকে আমি দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী করেছি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে চট্টগ্রামে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু, আমব্রেলা প্রজেক্টের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনকে ৯৩ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, খাজা রোড, কে.বি. আমান আলী রোড, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, বন্দরে গেন্ট্রিক্রেন সরবরাহ ও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, চাক্তাই খাল খনন করে তলা পাকাকরণ করা, চিটাগাং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দ, স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, বন্দর হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত টোল রোড নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছিলাম। এগুলো ছাড়াও ছোট-বড় আরও অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছি। মহান আল্লাহতায়ালা ভবিষ্যতে সুযোগ দিলে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরীর আরও উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিবো ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম মনজুকে আমি, আমাদের দল বিএনপি এবং ২০দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন দিয়েছি। মনজুর আলম বিগত দিনে মেয়র থাকাকালে আমি তাকে নগর ভবনকে দলমতের ঊর্ধ্বে রেখে নগরবাসীর সেবা ও উন্নয়ন করার জন্য উপদেশ দিয়েছিলাম এবং মনজুর আলম তা রক্ষা করেছেন। মনজুর আলম একজন সৎ, নির্লোভ, অমায়িক ও যোগ্য ব্যক্তি। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে অতীতের ধারাবাহিকতায় দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে মহানগরীর উন্নয়ন ও নগরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। সময় স্বল্পতার কারণে আমি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য চট্টগ্রাম আসতে পারিনি। আশাকরি, আপনারা আমার এই অনিচ্ছাকৃত অক্ষমতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল মুরব্বি, মা, ভাই ও বোনদেরকে আমার সালাম জানাচ্ছি এবং ২৮শে এপ্রিলের নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম মনজুকে কমলালেবু মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদেরকে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত মাতৃভূমিকে একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ার এবং চট্টগ্রাম মহানগরীকে একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও উন্নত মহানগরে পরিণত করার তৌফিক দিন।
চিঠি পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসনের জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু সময়ের কারণে তিনি যেতে পারেননি। তাই চট্টগ্রামের নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যাডামের চিঠিটি পাঠানো হয়েছে শুক্রবার রাত একটায়। এই সময় তার সঙ্গে অনেক কথাও হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামে মনজুর অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নোমান আরো বলেন, খালেদা জিয়ার চিঠি নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা চলছে। নেতাকর্মীরাও যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। তবে আমরা শঙ্কিত সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে যেভাবে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কাজ করছে তাতে সুষ্ঠু ভোট আদৌ হবে কিনা। চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহাজান জুয়েল বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সিটি নির্বাচনে কাজ করছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আহ্বানে দলের নেতাকর্মীরা আরও আনুপ্রাণিত হবেন। তৃণমূল কর্মীরা আরও উৎসাহিত হবেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি চট্টগ্রামবাসীর একটা দুর্বলতা আছে। এখানে তিনি না এলে তার প্রতি দলের নেতাকর্মীরা সহানুভূতিশীল। খালেদা জিয়ার আহ্বানে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হবেন।
‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জিতবো’ -মনজুর আলম by কাজী সুমন
সাবেক মেয়র হিসেবে নিজেকে সফল মনে করেন কিনা- এমন প্রশ্নে মনজুর বলেন, আমি পুরোপুরি সফল না হলেও ব্যর্থ হইনি। ৫ বছরে অনেক কাজ করতে পারি নি। আবার যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো নানা প্রতিকূলতার কারণে শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে নগরবাসীর জন্য পুরোপুরি কাজ করার আফসোসটা রয়েই গেছে। নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো করে নিজের পরিচয় দিতে চাই। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে এ শহর কেমন ছিল তা সবাই জানে। আমার ৫ বছরে সেই চিত্র অনেকখানি পাল্টে গেছে। আমার আগে যেসব মেয়র ছিলেন তারা সরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। অথচ আমাকে অনেকেই সহযোগিতা করতে চাননি। যতটুকু বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে অনেক কাজ করেছি। এর ভাল-মন্দের বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
চট্টগ্রাম সিটির প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সে সমস্যার কতটা সমাধান হয়েছে জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থিত এ মেয়র প্রার্থী বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর দেখেছি, এ শহরের জলাবদ্ধতার যে সমস্যা তা অল্প সময়ে সমাধান করা যাবে না। কেননা দীর্ঘমেয়াদি কোন পরিকল্পনাই নেয়া হয়নি আমার আগের আমলে। শহরের অল্প পানি জমে থাকলে তা দূর করা যায় না। কারণ খালগুলো সরকারদলীয় নেতাদের দখলে। সেখানে পানি যাওয়ার মুখ বন্ধ করে দিয়ে ভবন তৈরি করা হয়েছে। আমি সব খাল দখলমুক্ত করেছি। সংস্কার করে পানি চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছি। এবার নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকখানি কেটে যাবে।
এ বিষয়ে এবার ভোটারদের কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য জাইকার কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া ২৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প চালু রয়েছে। এ বরাদ্দগুলো দিয়ে স্থায়ীভাবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ খনন ও ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্ণফুলী খাল ৪ সেন্টিমিটার খনন করলে নগরীতে বৃষ্টির পানি আর জমবে না। নর্দমা ও খালগুলো খননের পাশাপাশি আবর্জনা পরিষ্কার করবো। তিনি আরও বলেন, চাক্তাই খালের পাড়ে মেরিনার্স বাইপাস সড়ক নির্মিত হলে শহরকে পরিপূর্ণ চেহারায় দেখতে পাবেন ভোটাররা। যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে। কিছু কিছু জায়গায় স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হবে। লালদীঘিতে ১০ তলা ডিজাস্টার সেন্টার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। কোন কোন খাতে এত টাকা ব্যয় করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর বলেন, এ ৯০০ কোটি টাকার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা এসেছে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে। বাকি ৪০০ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে এসেছে। এ টাকাগুলো নগরীর রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, অবকাঠামোর উন্নয়ন, খাল খনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আবর্জনা পরিষ্কার, স্টাফদের বেতনে খরচ হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদরাসায় উন্নয়নকাজে ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ১০০ কনটেইনার কিনেছি। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের জন্য ৬৩টি ডাম্প ট্রাক ও ১২টি কনটেইনার মুভার কিনেছি।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বিপরীত স্রোতে থেকে কাজ করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে তেমন অসহযোগিতা পাইনি। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। বরাদ্দগুলো নগরীর উন্নয়নে ব্যয় করেছি।
নির্বাচনে ২০ দলের শরিক ও বিএনপির সবাইকে পাশে পাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপিসহ ২০ দলের সব নেতাকর্মীই আমার পক্ষে কাজ করছেন। কারও সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। এ ছাড়া জামায়াতের জন্য ১০টি কাউন্সিলর পদ ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে মনজুর বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশন আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সরকার দলের প্রার্থীরা প্রায়ই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।
এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আস্থা রাখছেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় আমার নির্বাচনী প্রচারণায় দলের কর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে। আমার পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবুও আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। আশা করবো- সব প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানাবো। তার পরও আমার সুসংগঠিত নেতাকর্মীরা কাজ করে যাবে। নিরপেক্ষ ভোট হলে বেশির ভাগ রায় পড়বে আমার বাক্সে।
এক প্রশ্নের জবাবে মনজুর বলেন, ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ঘটনার পর সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আশা করি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের সৃষ্টির জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
Saturday, April 25, 2015
চট্টগ্রামে হামলা হুমকি, ভাঙচুর by কাজী সুমন ও জাহিদ হাসান
BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1496)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















