Sunday, November 1, 2015

রাশিয়া, চীন আর সন্ত্রাসবাদে বিশ্বব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে -বক্তৃতায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

অ্যাশটন কার্টার
রাশিয়া, চীন আর সন্ত্রাসবাদের কাছ থেকে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার। তবে তাঁরা কেউ এই বিশ্বব্যবস্থা ‘পুরোপুরি বদলে দিতে’ পারবেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। খবর পিটিআইয়ের।
অ্যাশটন কার্টার গত শুক্রবার আট দিনের এশিয়া সফর শুরু করার আগে ওয়াশিংটনে উড্রো উইলসন সেন্টারে দেওয়া এক বক্তৃতায় বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এখনকার নীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রাশিয়া, সন্ত্রাসবাদ আর একেবারেই ভিন্নভাবে চীনের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এরা কেউই অবশ্য চলমান বিশ্বব্যবস্থা বদলে দিতে পারবে না। তাদের অভিপ্রায় এ ব্যবস্থার কিছু মূল্যবোধ ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করা। আমরা সেটা করতে দেব না।
অ্যাশটন কার্টার বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের সঠিক কৌশল নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেখতে হবে চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়। ইতিহাস থেকে নেওয়া শিক্ষা আমরা কীভাবে ব্যবহার করতে পারি, তা দেখতে হবে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য—সব জায়গায় আমাদের স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
নিজের এশিয়ার সফরের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনগণ ও দেশগুলোর পরস্পরের প্রতি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে একটি আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাবেন।
কার্টার বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্র নিরাপত্তায় সাউথইস্ট এশিয়া মেরিটাইম সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ চূড়ান্ত করার কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে সমুদ্র নিরাপত্তায় বৃহত্তর সামর্থ্য গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে চায়। ওয়াশিংটনও ওই দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চায়।

‘প্রমিজ করছি, আমি আসব’ by শেখ সাবিহা আলম

ফয়সল আরেফীনের মরদেহ ঘিরে স্বজনদের
আহাজারি। ছবি: সাজিদ হোসেন
বেলা সাড়ে ১১ টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষক কোয়ার্টারের গাড়ি বারান্দা (পার্কিং)। কাফনের কাপড় পরে শুয়ে থাকা ফয়সল আরেফীনকে দেখতে বহু মানুষের ভিড় সেখানে। এত এত মানুষের ভিড় ঠেলে একটা সময় স্বামীর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলেন স্ত্রী রাজিয়া রহমান। বললেন, ‘প্রমিজ করছি, আমি আসব, তুমি তো আমাকে ছাড়া থাকতে পার না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক রাজিয়া রহমান। গতকাল শনিবার সুফিয়া কামাল হলের কোয়ার্টার থেকে স্বামীকে বিদায় দিয়েছিলেন। আজ রোববার ফয়সল ফিরেছেন, তবে লাশ হয়ে। গাড়ি বারান্দার কাছে শেষ যাত্রার জন্য তখন প্রস্তুত খাটিয়া। মর্গে আজ সকালে ফয়সাল আরেফিনের যখন ময়নাতদন্ত চলছিল; চিকিৎসকেরা খতিয়ে দেখছিলেন মৃত্যুর কারণ, কটি আঘাত, কোথায় কোথায়, আঘাতের কতক্ষণ পর মৃত্যু হলো এই সব, তখন রাজিয়া-ফয়সাল দম্পতির বড় ছেলে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিচ্ছিল পরীক্ষার হলে।
মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর মিনিট কুড়ি পরে স্বামীকে দেখতে আসেন স্ত্রী রাজিয়া। স্বামী কথার উত্তর আর কোনো দিন দিতে পারবেন না, তবু অনর্গল বলে চলেন রাজিয়া, ‘তুমি তো খালি রাগ করো। দুই দিন পর পর রাগ করো। এই যে সেদিন রাগ করে চলে গেলা। আবার তো আসছ। আমি তো জানি, তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পার না। আমি আসব। বলসিলা না এবার বই মেলার পর বাবা-মা সবাই মিলে আমরা কক্সবাজার বেড়াতে যাব। তুমি আমাকে ছেড়ে কীভাবে থাকবা? আমরা সবাই আসব। প্রমিজ।’
রাজিয়া যখন কথা বলে চলেছেন, তখন ফয়সালের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছেলের মৃতদেহের সামনে বসে আছেন চেয়ার নিয়ে। গতকাল শনিবার ছেলের কার্যালয়ের দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন তিনি। পুলিশ, সাংবাদিকের হাজারো প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। রাত একটা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ নিয়ে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। সকালে মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর ছেলেকে সঙ্গে করে বাড়ি ফিরেছেন। একটা সময় ফয়সালের বৃদ্ধা মাও নেমে আসেন। তিনিও এসে বসেন প্রিয় সন্তানের মরদেহের পাশে।
কত অভিমান সবার মধ্যে! সব অভিমান যেন ফয়সাল আরেফীনের কাছে। স্বজনদের মধ্য থেকে কেউ একজনকে ধরে ধরে নিয়ে আসা হলো। তিনি কিছুতেই দেখবেন না ফয়সালকে। চিৎকার করে শুধু বললেন, ‘না আমি দীপন ভাই কে দেখব না। আমি কিছুতেই দেখব না ওকে।’

আমিও বিচার চাই না: অভিজিতের স্ত্রী

বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার বিচার চান না তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। ১ নভেম্বর তাঁর ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা লেখেন। ওই লেখার শিরোনাম ‘আমিও বিচার চাই না’।
গতকাল শনিবার নৃশংস হামলা চালিয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়। একই দিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ব্লগার তারেক রহিম ও রনদীপম বসু হামলায় গুরুতর জখম হন। নিহত ফয়সালের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছেলে হত্যার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’ এরপরই অভিজিৎ রায়ের স্ত্রীও একই কথা বললেন।
রাফিদা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসি সামনে হামলায় নিহত হন অভিজিৎ। এ সময় তাঁর স্ত্রী রাফিদাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। হামলায় তিনিও আহত হন।
রাফিদা আহমেদ তাঁর পেজে লেখেন, ‘দীপনের বাবার মত আমিও বিচার চাই না। আমি নিশ্চিত জানি টুটুলের স্ত্রী, দীপনের স্ত্রী, অনন্তের বোন, রাজিব, বাবু, নীলয়ের বন্ধুরাও আর বিচার চান না।’
ওই লেখায় রাফিদা লেখেন, ‘সরকারের কাছ থেকে কিছু চাওয়ার নেই, আমাদের। একটাই অনুরোধ ওনাদের কাছে, দয়া করে দিনরাত আর ‘আমরা সেক্যুলার পার্টি’ বলে গলা ফাটিয়ে নিজেদের এনার্জি নষ্ট করবেন না। আপনারা আপনাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চুপ করেই থাকুন; অভিজিৎ, অনন্ত, রাজিব, নিলয়, বাবু, দীপনরা আপনাদের জন্য একেকটা স্কোর কার্ড। আপনারা বুক ফুলিয়ে বলে যান যে সবই ‘রাজনৈতিক খেলা’ সবই ‘পারসেপশান’। মৌলবাদীদের চাপাতিতে নিশ্চুপভাবে তেল দিয়ে যান, না হলে ভোট কমে যেতে পারে। খুব ভালো করে জানেন যে আপনাদের মৌনতাই ওদের অস্ত্রে শান দিতে সহায়তা করে যাচ্ছে।’
স্ত্রী রাফিদা লেখেন, আমি আশির দশকের শেষে ঢাকা মেডিকেলে পড়েছিলাম দুই বছর। সেই সময় আমরা বলতাম, জামায়াত-শিবির কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে ঢোকার সাহস পাবে না। তখন তো আনাসারুল্লাহর মত জঙ্গীদের কথা চিন্তাও করতে পারতাম না। আজ শুধু তারা সেখানে ঢোকেইনি, চোখের সামনে একের পর এক হত্যার উন্মত্ত হোলি খেলাও চালিয়ে যাচ্ছে। দীপনের বাবা, অভিজিতের বাবারা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন সেখানেই, চোখের সামনেই, জঙ্গীরা চাপাতি চালায় তাদের ছেলেমেয়েদের উপর, বড্ড সাহস আজ তাদের। আজকাল আর রাতের আঁধারে চুপিসারেও আঘাত হানতে হয় না ওদের। আলোকিত রাস্তায় হাজারো মানুষ, পুলিশের সামনেই তারা বুক ফুলিয়ে চাপাতি চালায়।
‘আমিও বিচার চাই না’ লেখার শেষাংশে রাফিদা আহমেদ লেখেন, মৌলবাদ বলুন, সাম্রাজ্যবাদ বলুন, এদের কারোরই শক্তি কম নয়, আর ওদের সম্মিলিত শক্তির তো কোন তুলনাই নেই আজকের পৃথিবীতে। আজকে আমাদের দেশে যা ঘটছে তা পূর্বপরিকল্পিত, বহুদিনের চাষের ফসল। আমরা ওদের জায়গা করে দিয়েছি, উর্বর জমিগুলো সব খালি করে দিয়েছি। সার, পানি দিয়ে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছি। শুধু কথায় আর কিছু হবে না, এদের রুখতে হলে ভিতর থেকে সব কিছু ভেঙ্গেচুরে বদলাতে হবে। সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়ার আগেই সেটা করতে হবে।

গরিবেরা ‘ঋণ খেলাপি হয় না’ -আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পেলে ঋণ খেলাপি হয় না। তারা ঋণ পরিশোধে সব সময় আন্তরিক থাকে।
আজ রোববার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে (বিবিটিএ) ‘সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা দূরীকরণে গৃহায়ণ তহবিল’ বিষয়ক এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্য দেন তিনি।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। এতে অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, গৃহায়ণ তহবিলের ঋণের আদায় হার প্রায় ৯৩ শতাংশ। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সার্বিক ঋণ ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় এমনকি ক্ষুদ্র ঋণের আদায়ের তুলনায় জামানত বিহীন ঋণের আদায় পরিস্থিতি অবশ্যই সন্তোষজনক। তাই, আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পেলে ঋণ খেলাপি হয় না।
তিনি বলেন, গৃহায়ণ তহবিল প্রতিষ্ঠার পর সতেরোটি বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে সরকারের কাছ থেকে গৃহায়ণ তহবিল ১৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা পেয়েছে, যা সফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৩৪৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ তহবিলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ৩ লাখ ১৬ হাজার মানুষের আশ্রায়নের ব্যবস্থা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি টাকা অনুদান হিসাবে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রদান করা হয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে গৃহায়ণ তহবিলের ঋণ কার্যক্রম শুধু দরিদ্র মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণেই সীমিত নেই। বিভিন্ন শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের আবাসনের জন্য হোস্টেল বা ডরমিটরি নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব বিনির্মাণে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসডিজি) অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে তা অর্জনেও আমরা সক্ষম হব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে গৃহায়ণ তহবিলও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে আমার প্রত্যাশা রয়েছে।’
কর্মশালার শুরুতে গৃহনির্মাণ ঋণ বিতরণে এনজিওগুলোর সুবিধা, অসুবিধা ও পরামর্শ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার একশটি এনজিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ৪০ জন উপকারভোগী এ কর্মশালায় অংশ নেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রকাশকদের ওপর হামলার দায় স্বীকার আল কায়েদার

শনিবার আল কায়েদার আঞ্চলিক শাখার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে দুই প্রকাশকের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। এ তথ্য দিয়েছে উগ্রপন্থীদের অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষনকারী সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। খবরে বলা হয়েছে, নিহত ওই দুই প্রকাশক ইসলামী উগ্রপন্থীদের সমালোচনা করে লেখা বই প্রকাশ করেছিলেন। তাদের দুইজনকেই ছাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। এর আট মাস আগেই বাংলাদেশী-আমেরিকান অভিজিৎ রায়, যিনি ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য পরিচিত ছিলেন, তাকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ আঘাতের শিকার হওয়া ওই ২ ব্যক্তির প্রকাশনী সংস্থাও অভিজিৎ রায়ের বই ছাপিয়েছিল। এদের একজন ফয়সাল আরেফিন দীপন সঙ্গে সঙ্গে মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরজন অর্থাৎ আহমেদ রহিম টুটুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার টুইটারে আল কায়েদার স্থানীয় শাখা (আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট) হামলার দায় স্বীকার করে কয়েকটি বিবৃতি দেয়। একটিতে বলা হয়েছে, ওই ২ প্রকাশক বইগুলোর লেখকদের চেয়েও খারাপ। কেননা, তারা ওই বই দু’টি প্রচারে সাহায্য করেছে। ধর্মাবননাকারী লেখকদের ওই লেখার জন্য মোটা অঙ্কের টাকাও দিয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি বিবৃতির শিরোনাম ছিল, ‘এর পরে কে?’ সেখানে পরবর্তি ‘টার্গেটদের’ ধরণ কী হবে তা বর্ণনা করা হয়। তালিকায় রয়েছে লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী, পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের স¤পাদক, সাংবাদিক ও অভিনেতা পেশার নাম।
এ বিবৃতিগুলোর ফলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাংগঠনিক উপস্থিতি আছে কিনা, সে বিতর্ক বৃদ্ধি পাবে। এর আগে আরও তিনটি একই ধরণের বিবৃতিতে দুই বিদেশী ও শিয়া মুসলিমদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম থেকেই অনড় যে, উদ্দেশ্যমূলক এ সহিংসতার উত্থাণ বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের দ্বারাই ঘটছে। পুলিশও দুই প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে স¤পর্কিত সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ বা গ্রেপ্তার করেছে। কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায় স্বীকার করে দেয়া বিবৃতি ভূয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শনিবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল হামলার শিকার হওয়া দুই প্রকাশকের একজন আহমেদ টুটুল অভিজিতের বই প্রকাশের জেরে ফোনে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। এ তথ্য জানান অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার স¤পাদক মিজানুর রহমান।
এ বছর বাংলাদেশ উগ্রপন্থী সহিংসতার উত্থাণের মধ্যেই সর্বশেষ হামলা দু’টি ঘটলো। ফেব্রুয়ারিতে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকা-ের আগেও উগ্রপন্থী ইসলামের সমালোচনাকারী তিন ব্লগার ও বুদ্ধিজীবীকে প্রায় একই কায়দায় হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। মে মাসে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের নেতা এক ভিডিও’তে অভিজিৎ রায় ও আরেক লেখককে হত্যার দায় স্বীকার করে। ওই নেতা নিহত দুই লেখককে ধর্মাবননাকারী হিসেবে আখ্যা দেয়। অভিজিৎ রায়ের পিতা অজয় রায় জানান, তিনি বিশ্বাস করেন যে তার ছেলের বই প্রকাশের কারণেই টার্গেট করা হয় টুটুলকে। ইন্টারনেটে প্রায়ই ভেসে উঠছে ধর্ম-নিরপেক্ষ ব্লগারদের হিটলিস্ট। ফলে উগ্রবাদীদের নজরে পড়ে যেতে পারে আশঙ্কায় অনেক লেখক ও সাংবাদিক লেখা প্রকাশে সংশয়ে ভুগছেন। জীবন নিয়ে ঝুঁকি বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন করা অ্যাক্টিভিস্টদের সংখ্যা বাড়ছে।
ঢাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে একদল লোক শুদ্ধস্বর প্রকাশনা সংস্থার দোকানে প্রবেশ করে। তারা জানায়, তারা বই কিনতে চায়। দোকানে প্রবেশ করেই দুই ব্যাক্তিকে অস্ত্রের মুখে ভেতরে নিয়ে যায়। অন্য হামলাকারীরা প্রকাশক টুটুল ও তার কার্যালয়ে থাকা দুই ব্যক্তিকে আঘাত করে। বাইরে থেকে এরপর দরজায় তালা মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ জানায়, তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর তিন জনকেই মারাত্মক আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আহতদের একজনের নাম সুদিপ কুমার বর্মন, যিনি রণদীপম বসু নামে ব্লগিং করেন। মৃত্যুর আগে অভিজিত রায়ের প্রতিষ্ঠা করা ওয়েবসাইটে তার বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একই সময়ে তিন লোক জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে প্রবেশ করে। সেখানেই পাওয়া যায় দীপনকে (৪৩)। তার ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত করে চলে যায় হামলাকারীরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে দীপনকে মৃত ঘোষণা করে ডাক্তাররা। দীপনের প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনী ‘দ্য ভাইরাস অব ফেইথ’ নামে অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছিল। ওই বইয়ের কারণেই অভিজিৎ জঙ্গিগোষ্ঠীর ক্রোধের মুখে পড়েন। দীপনের বাবা আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রথম প্রকাশকের ওপর হামলা খবর শুনে নিজের ছেলেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেকে তিনি ফোন দিলেও তাকে পাচ্ছিলেন না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দীপনের প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে যান। এরপর কর্তৃপক্ষ যখন তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে, তখন দীপন তার চেয়ারে বসা ছিলেন না। ফজলুল হক বলেন, আমি দেখেছি তার ঘাড় কেটে দেয়া হয়েছে। পুরো মেঝে জুড়ে পুরু রক্তে ভরা। সেখানে এক মুহুর্তও দাঁড়াতে পারিনি আমি। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যাই।
বেশ কয়েক দশক ধরে ঘরোয়া জঙ্গিগোষ্ঠীর একটি নেটওয়ার্ককে ধরাশয়ী করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ গোষ্ঠীগুলোর কয়েকটি আবার রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে স¤পর্কিত। এ বছর তারা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি হত্যাকা- সংঘটিত করেছে। যেগুলোর বেশিরভাগই দিনে-দুপুরে জনসমাগমের মাঝে হয়েছে। গত মাসে হামলা ও হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাস আগে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বেশ কিছু তথ্য পায়। যেখানে ইঙ্গিত দেয়া হয় যে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বাংলাদেশে নিজেদের কর্মকা- বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে। এর পরপরই দুই বিদেশীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সোমবার ঘরোয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একটি চিঠি পাঠিয়ে গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানোর হুমকি দেয়, যদি গণমাধ্যমে পর্দা ছাড়া নারীরা কাজ করা অব্যাহত থাকে। ২৪ই অক্টোবর ঢাকায় শিয়া মুসলিমদের একটি বিশাল অবস্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। নিহত হয় এক কিশোর। দেশটির ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা।

ভর্তি পরীক্ষার তোতাকাহিনি by শিশির ভট্টাচার্য্য

বিশ্ববিদ্যালয় কেন ভর্তি পরীক্ষা নেয়? ঠোঁট দিয়ে সৌভাগ্য-নির্দেশক খাম খুঁজে বের করতে পারে বা শেখানো বুলি গড়গড় করে বলতে পারে, এমন এক ঝাঁক তোতাপাখি খুঁজে বের করতে, নাকি নিজের বিচার-বুদ্ধি ব্যবহার করে পেশাগত ও ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধান করতে পারে, এমন আশরাফুল মাখলুকাতদের উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ দিতে? ভর্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য কি ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের যেনতেন প্রকারে ছাঁটাই করা, নাকি স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করার উপযুক্ত ভাষাজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান আছে এমন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা?
‘ভাষাজ্ঞান’ বলতে আমরা নিশ্চয়ই বুঝব এমন জ্ঞান, যা দিয়ে শিক্ষার্থী সঠিকভাবে বাংলা এবং ইংরেজি শব্দ গঠন করতে পারবে, শব্দের প্রয়োগ সম্বন্ধে তার ধারণা থাকবে এবং সে গ্রহণযোগ্য বাক্য রচনা করতে পারবে। বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার বাংলা অংশে যে ২৫টি প্রশ্ন আছে, তার অধিকাংশই পরীক্ষার্থীর ভাষাজ্ঞান বিচার করার জন্য উপযুক্ত নয়। সন্ধি ও সমাসের নাম জানা বাংলা শব্দ ও বাক্য গঠনে অপরিহার্য নয়। ‘গবাদি’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি, সংস্কৃত শব্দ ‘কাদম্বিনী’ বা আঞ্চলিক শব্দ (চৌচালা টিনের ঘরের) ‘টুয়া’-র অর্থ কী, বা ‘প্রতিকৃতি’ শব্দে উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর জানলেই যে পরীক্ষার্থী বাংলা ভাষা ‘শুদ্ধ করিয়া লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারিবে’ সেই নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তথ্যের যৌক্তিক বিশ্লেষণে সক্ষম শ্রেষ্ঠ চৌকস শিক্ষার্থীটিকে খুঁজে বের করা বাংলা অংশে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন আছে, যেগুলোর সঠিক উত্তর শতভাগ স্মৃতিনির্ভর। Reflections on the Revolution in France গ্রন্থটি কে লিখেছিলেন তা জানার সঙ্গে বাংলা ভাষাজ্ঞানের কী সম্পর্ক? ‘সনেট পঞ্চাশৎ’ কার রচনা তা জানাটা কি বাংলা লিখতে জানার জন্য অপরিহার্য? কোনো একটি বিশেষ গল্পে কোনো একটি বিশেষ উক্তি কোন বিশেষ চরিত্র করেছিল, কোনো একটি গল্পে কোনো একটি বাক্যের শূন্যস্থানে কী আছে, কোনো একটি গল্পে বিশেষ একটি মন্তব্য কার সম্পর্কে করা হয়েছে—এসব জানা বা না-জানার ওপর শুদ্ধ বাংলা বাক্য লেখার ÿক্ষমতা আদৌ কি নির্ভর করে?
সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রশ্নগুলো কী কারণে ‘সাধারণ’ হবে তা বোঝা মুশকিল। আমরা বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই যেখানে এই প্রশ্নগুলোর বেশির ভাগের উত্তর জানি না, সেখানে পরীক্ষকেরা কীভাবে ধরে নেন যে বাংলাদেশে বসবাসরত অষ্টাদশবর্ষীয় শিক্ষার্থীরা তাদের ‘সাধারণ জ্ঞানের’ ওপর ভিত্তি করে বলতে পারবে: মান্ধাতা কোন যুগের শাসক, ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরটি কেন বিখ্যাত, কোন অর্থনীতিবিদ ‘অদৃশ্য হাত’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেন, জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় বা ব্যাডমিন্টন কোন দেশের জাতীয় খেলা। প্রশ্নকর্তা কি ধরেই নিচ্ছেন যে পরীক্ষার্থীরা এক বা একাধিক গাইড বই পড়ে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখস্থ করবে? নাকি বাজারে চালু আছে এমন কোনো গাইড বই থেকেই প্রশ্ন নির্বাচন করা হয়? অবস্থা দাঁড়াচ্ছে এই যে গাইড বই পড়ে যারা শত শত প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ রাখতে পারে, শুধু তারাই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় (এবং অনতিবিলম্বে সেই তথ্যগুলো ভুলে যায়!)। সুতরাং এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষায় মানবসন্তানের বিশ্লেষণী শক্তি নয়, মুখস্থ করতে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীদের স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি যাচাই করা হচ্ছে।
প্রশ্ন কীভাবে করতে হবে তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কার্যকর এমসিকিউ প্রশ্ন করার জন্য প্রশিক্ষণ ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ সময় বরাদ্দ হয়েছে, সেই পরিমাণ সময় যথেষ্ট কি না, তাও যাচাই করে দেখতে হবে। এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্ন করার কিছু অপরিহার্য নিয়মের মধ্যে একটি হচ্ছে, প্রশ্ন হতে হবে প্রধানত বিশ্লেষণমূলক, একান্তভাবে স্মৃতিনির্ভর নয়। জ্ঞানের যদি দুটি অংশ থাকে: স্মৃতি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা, তবে তার মধ্যে স্মৃতিশক্তির অনেকটাই সম্ভবত জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। বিশ্লেষণের ক্ষমতাটা মানুষ শিক্ষা ও অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জন করতে পারে। শিক্ষার্থী সেটা আদৌ অর্জন করতে পেরেছে কি না বা কতটুকু পেরেছে, সেটাই বিচার করতে হবে যেকোনো পরীক্ষায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের খ ইউনিটের General English এবং Elective English প্রশ্নের ধরন লক্ষ করলেই বোঝা যাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কেমন হওয়া উচিত। প্রশ্নপত্রের এই দুই অংশে স্মৃতিনির্ভর প্রশ্ন নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ প্রশ্ন ইংরেজি ভাষাজ্ঞান যাচাই করার লক্ষ্যে রচিত হয়েছে। টোয়েফল, আইএলটিএস ইত্যাদি পরীক্ষার আলোকে বাংলা ভাষাজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের প্রশ্নের ধরনে কার্যকর পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।
সর্বোত্তম তোতাপাখিটি বাছাই করা নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তথ্যের যৌক্তিক বিশ্লেষণে সক্ষম শ্রেষ্ঠ চৌকস শিক্ষার্থীটিকে খুঁজে বের করা। ভাবতে শেখেনি, শুধু মুখস্থ করে উগরে দিতে শিখেছে—চোখকান বন্ধ করে এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হলে শিক্ষা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও দেশরক্ষা—রাষ্ট্রের এই চতুরঙ্গের কোথাও গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না আরও বহু প্রজন্মে। হয়তো এই ভুলটাই আমরা করে আসছি। সুদক্ষ ও মননশীল আশরাফুল মাখলুকাতের বদলে অকার্যকর পরীক্ষার জাল পেতে ধরে আনছি ঝাঁকে ঝাঁকে ময়না-তোতা। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের যাবতীয় দুরারোগ্য ব্যাধির মূলেও হয়তো আছে এই করুণ তোতাকাহিনি।
শিশির ভট্টাচার্য্য, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্যার, আপনাকে স্যালুট

পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। সে লাশ কাঁধে নিয়ে স্যার আপনি যা বললেন তা অবিশ্বাস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে দৃর্বৃত্তরা হত্যা করে শনিবার। সন্তানের লাশ দেখার পর প্রবীণ এই অধ্যাপক বলেন, আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যাঁরা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন উভয় পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।
নিজ সন্তানের লাশ দেখার পরও আবুল কাসেম ফজলুল হক চিন্তা করেছেন এ দেশের লাখ লাখ সন্তানের কথা। জেল-ফাঁসি দিয়ে যে সংকটের সমাধান হবে না ইংগিত করেছেন সে দিকে। আমি বিচার চাই না- এই বক্তব্যে চলমান রাষ্ট্র, সমাজ আর বিচার ব্যবস্থার ওপর এক ধরনের অনাস্থাই ফুটে উঠে। আমাদের দেশের সরকার এবং বিরোধীপক্ষ কিভাবে নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভয়ঙ্কর খেলায় মত্ত আবুল কাসেম ফজলুল হক সেদিকে আবারও আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মের নামে এ দেশে কিভাবে অনাচার চলছে তা এখন দিনে দিনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ রাষ্ট্রের ভবিষ্যত নয়, ক্ষমতাবান এবং যারা ক্ষমতায় যেতে চান তাদের একমাত্র চিন্তায় রয়েছে ক্ষমতা। বাংলাদেশ যে এক ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন তা হয়তো বুঝেও না বুঝার ভান করছেন তারা। স্যার- আপনি উভয়পক্ষের শুভবুদ্ধি কামনা করেছেন। আমরা সবাই চাই তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। তবে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে সে আশা এখন আর মানুষ করে না। হতাশাই এখন আমাদের একমাত্র আশা।

গীতার পর এবার রমজান

পুরনো ছবিতে আঙুল দিয়ে ভারতে নিজের ছেলে রমজানকে দেখিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানের রাজিয়া বেগম। ২০০৪ সালে ডিভোর্সের চার বছর পর রাজিয়ার অজান্তে ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশ যান তার স্বামী। সৎমায়ের অত্যাচারে ভারতে পালিয়ে যায় রমজান। ২০০৮ সাল থেকে ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি রাজিয়া।
গত মাসে জানতে পারেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভূপালে চাইল্ড লাইন নামের একটি দাতব্য সংস্থায় রয়েছে রমজান। ছেলের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। পাকিস্তানে আটকে পড়া গীতার ভারতে ফেরার মতো ছেলে রমজানকেও এখন ফিরে পেতে চান তিনি। ভারত সরকার বলেছে, এজন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে পাকিস্তানি দাতব্য সংস্থা আনসার বার্নি। এএফপি।

শান্তি ঐক্য উন্নয়নের প্রথম শর্ত : মোদি

জাতীয় অখণ্ডতার জন্য সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের কাজ অনস্বীকার্য উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতকে সামনের দিকে এগোতে হলে এবং উন্নয়নের নতুন মাত্রা অর্জনের প্রথম শর্ত হল ‘ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতি’। প্যাটেলের ১৪০তম জন্মবার্ষিকীতে শনিবার তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একতা আমাদের বিরাট শক্তি ... ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির মন্ত্রে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ দাদরিতে পিটিয়ে হত্যা, গরুর মাংস বিতর্ক ও অন্যান্য ঘটনার পর ‘ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার’ অভিযোগে শিল্পী, লেখক ও বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেন। মোদি তার বক্তৃতায় রাজনীতির পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধেও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্যাটেল তার পরিবারের কোনো সদস্যকে রাজনীতিতে আনেননি। ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় অখণ্ডতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মোদি ‘রান ফর ইউনিটি’ নামে একটি পতাকা উড়ান।
তিনি প্যাটেলের বার্তা অনুসরণ করতে সবাইকে নির্দেশ দেন যাতে জাতি ঐক্যের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ভারতকে সামনের দিকে এগোতে হলে এবং উন্নয়নের নতুন মাত্রা অর্জন করতে প্রথম যে কাজটা করতে হবে তা হল, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত আমাদের ভাষা ও মতাদর্শের যে ভিন্নতা রয়েছে তা ভুলে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য যদি হয়, ভারতমাতাকে বিশ্বে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া তা হলে প্রথম শর্ত হল ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতি।’ মোদি বলেন, ‘ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির মন্ত্রে ১২৫ কোটি ভারতীয় যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যায় তাহলে দেশ ১২৫ কোটি পা এগিয়ে যাবে।’ জাতীয় ঐক্যের প্রতি প্যাটেল তার জীবন নিবেদিত রেখেছিলেন উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘আমাদের শক্তি হল আমাদের দেশ ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ এবং আমরা ঐক্যের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করতে পারি। আর এটাই ছিল সরদার প্যাটেলের বার্তা।’ তিনি ঘোষণা করেন, শিগগিরই ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ স্কিম চালু হবে। ভাষণের শুরুতে মোদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এ দিনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী তার জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং তার অবদানও ভোলার নয়।’

শ্রীলংকা-ও. ইন্ডিজের চোখ বিশ্বকাপে

চার বছর পর বিশ্বকাপ ক্রিকেট। কিন্তু তাতে কি। এখনই তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল ১২তম বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। তাই বিশ্বকাপের টিকিট পেতে পরবর্তী দু’বছর ভালো পারফর্ম করতে মুখিয়ে রয়েছেন দু’দেশের ক্রিকেটাররা। এ লক্ষ্য নিয়েই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করছে শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। র‌্যাংকিংয়ের কারণেই কিছুদিন আগে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলাটা নিশ্চিত করেছে শীর্ষ আট দল। ঠিক একই নিয়মে নিশ্চিত হবে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে কোন আটটি দল। তাই র‌্যাংকিংয়ের দিকে চোখ রেখে আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা শুরু করে দিয়েছে দলগুলো। ১০৩ রেটিং নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। আর ৮৮ রেটিং নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাংকিংয়ে নিচের দিকে থাকায় ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার ছাড়পত্র পায়নি ক্যারিবীয়রা। তাই আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা এখনই শুরু করে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে তাদের। এ বিষয়টি বেশ ভালোই জানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই শ্রীলংকা সিরিজ দিয়ে লক্ষ্যপূরণের যাত্রা শুরু করতে চায় দল- এমনটাই বললেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। তার কথায়, ‘সামন্য কিছু রেটিংয়ের কারণে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়া থেকে বাদ পড়েছি আমরা। তবে এখন থেকেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
যাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে না হয়। এজন্য শ্রীলংকা সিরিজ দিয়েই ওয়ানডেতে আগামী ২৩ মাস ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই আমরা। সিরিজ জয়ই প্রধান লক্ষ্য আমাদের। সিরিজ জিততে পারলে রেটিংও বেড়ে যাবে আমাদের, যা ভবিষ্যতে ভালো কাজে দেবে।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছে শ্রীলংকাও। তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে রেটিং বাড়িয়ে নিতে চাইছে স্বাগতিকরা। লংকান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বলেন, ‘র‌্যাংকিং টেবিলে আমাদের অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে আগামী ২৩ মাস পরও ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। এজন্য এখন থেকেই রেটিংয়ের দিকে চোখ রেখে কাজ করতে হবে। শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হলে বেশক’টি ম্যাচ জিততে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই রেটিং বাড়ানোর যাত্রাটা শুরু করতে চাই। এজন্য ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে খেলতে নামব আমরা।’ ওয়েবসাইট।

দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা ও গণশুনানি by নাসিরউদ্দীন আহমেদ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) যৌথ উদ্যোগে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গণশুনানির সঙ্গে থাকছে তথ্যমেলা। সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে সেবা-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সমস্যা উপস্থাপন এবং তা সমাধানকল্পে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো গণশুনানি। অন্যদিকে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং তথ্যপ্রত্যাশী ও তথ্য প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করাই তথ্যমেলার মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮–২৯ ডিসেম্বর টিআইবির সহযোগিতায় দুদক প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ও গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভার উপজেলায় তথ্যমেলা ও গণশুনানির আয়োজন করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের (ইউএনসিএসি) ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজের (সুশীল সমাজ, এনজিও, গণমাধ্যম ইত্যাদি) অংশগ্রহণ এবং তথ্যপ্রাপ্তি ও রিপোর্টিংয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, সরকার অনুমোদিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ২০১২-এ নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। চতুর্থত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) দুর্নীতি ও ঘুষ ব্যাপক হারে হ্রাস করা এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও নাগরিকের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে (লক্ষ্য ১৬)। পঞ্চমত, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালে সরকারি সেবা প্রদানে গণশুনানি একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
গণশুনানির উদ্দেশ্য: সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকের অভিযোগ সরাসরি শুনে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নাগরিক সনদের ভিত্তিতে নাগরিকদের প্রদেয় সেবার মান উন্নত করা।
গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো: বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০০৪-এ বর্ণিত সামাজিক দায়বদ্ধতাকাঠামো গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে নাগরিকেরা মূলত নির্বাচনপদ্ধতির মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করেন (নাগরিকের কণ্ঠস্বর) এবং নীতিনির্ধারকেরা নীতি/বিধি প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীকে নাগরিকের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ করা যায়।
গণশুনানির আইনগত কাঠামো: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ (২) এ বলা হয়: ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো হলো: দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা (ধারা ১৭ চ); এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যেকোনো কার্য সম্পাদন করা (ধারা ১৭ ট)।
গণশুনানি কার্যক্রম: দুর্নীতি দমন কমিশন মনে করে, দেশের সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গণশুনানি অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। এই বহুপক্ষীয় সভায় দুর্নীতির উৎস চিহ্নিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা করা হয় এবং সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় বের করার প্রয়াস নেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০১৪ সালের জুন মাসে জারি করা অফিস স্মারক অনুযায়ী কমিশন গণশুনানি পরিচালনা করছে। ২০১৪ সালের ১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা অফিস স্মারক অনুযায়ী গণশুনানি গ্রহণের কতিপয় ব্যবস্থা হলো:
১. সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে অফিস চলাকালে গণশুনানি গ্রহণ। ২. লিখিত বা মৌখিক উভয় প্রকার অভিযোগ শুনানির জন্য গ্রহণ। ৩. অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত প্রদান, সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং ফলাফল সেবাপ্রত্যাশীকে অবহিতকরণ। ৪. সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ-সংক্রান্ত রেজিস্টার সংরক্ষণ; এবং ৫. গণশুনানি-সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারিত ছকে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে উপজেলা কার্যালয় থেকে জেলা কার্যালয় এবং জেলা কার্যালয় কর্তৃক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে প্রেরণ।
নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রের এ দায়িত্ব পালনে গণশুনানি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতাপদ্ধতি। এ পদ্ধতিকে কার্যকর করতে হলে এর নিরবচ্ছিন্ন ফলোআপ কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন গণশুনানি কার্যক্রম অনুষ্ঠানের আগে পাঁচটি জেলার (ময়মনসিংহ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর) ১০টি উপজেলায় জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের উদ্যোগে বেইসলাইন সার্ভে পরিচালিত হয়। এ জরিপে দুর্নীতির চিত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতার অভাবের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায় পরীক্ষামূলক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্যায়ে গণশুনানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিপ্রবণ সরকারি দপ্তর যথা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস স্থান পেয়েছে। ধারণার ওপর নয় বরং দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার আলোকে নাগরিকেরা গণশুনানিতে অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঞ্চালনায় পরিচালিত গণশুনানি আয়োজনে ও অংশগ্রহণকারী নির্বাচনে দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটিসহ (সনাক) গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গণশুনানি থেকে প্রত্যাশা: ১. সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ২. সেবা-সংক্রান্ত নাগরিকদের সমস্যা সমাধানকল্পে তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা। ৩. সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকের অভিযোগ সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা। ৪. সেবা প্রদানের পদ্ধতির উন্নয়ন করা; এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে কার্যকর নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রের এ দায়িত্ব পালনে গণশুনানি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিকে কার্যকর করতে হলে এর নিরবচ্ছিন্ন ফলোআপ কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত গণশুনানি পরিচালনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন গণশুনানিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করা। তাহলে গণশুনানি কর্মসূচি ফলপ্রসূ হবে।
ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ: কমিশনার (অনুসন্ধান), দুর্নীতি দমন কমিশন।
১৫ অক্টোবর ২০১৫, বৃহস্পতিবার, জাগো নিউজ, কক্সবাজার:
সরকারি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের সেবার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মজীবীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। বুধবার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুদকের আয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, প্রজাতন্ত্রের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মজীবীরা জনগণকেই হয়রানি করছেন। দেশে এ ধরনের অলিখিত নিয়ম চালু রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। দুদক চায় এ নিয়ম ভেঙে সাংবিধানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক। এটি করতে হলে সবার আগে জনগণকে সচেতন হতে হবে।
দুদক কমিশনার আরো বলেন, অনেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে আমলাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এখন থেকে তা করতে হবে না। আপনি বিনা খরচে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার কাজ করতে পারবেন। কাউকে ঘুষ দিতে হবে না। কেউ সেবার বিপরীতে ঘুষ চাইলে গোপনে রেকর্ডিং করবেন। প্রমাণ থাকলে দুদকে অভিযোগ করবেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে দুদক।
চকরিয়া উপজেলার বিমানবন্দরস্থ বিজয় মঞ্চ মাঠে উপজেলা ভুমি অফিস, উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবা নিতে গ্রাহকদের হয়রানি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনেন দুদক কমিশনার। ওই সময় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুদক কমিশনারের কাছে লিখিত ও ভিডিওচিত্রসহ অভিযোগ করেন সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম। এছাড়াও শুনানিতে উপজেলা ভুমি অফিস এবং সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) ড. মো. সামছুল আরেফিন, দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, দুদক চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো.আলী হোসেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ফেরদৌস আলী, টিআইবি ঢাকা বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফজিলা খানম, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার একেএম রেজাউল কবির আকাশ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চকরিয়া সনাকের সহ-সভাপতি নাছিমা আক্তার ও সদস্য হুরে জন্নাত। অনুষ্ঠানের আগে উপজেলা সদরের সড়ক ডাক বাংলো থেকে দুর্নীতি বিরোধী এক বর্ণাঢ্য র্যালি এবং অনুষ্ঠান শেষে টিআইবি ইয়েস গ্রুপের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকারদের কর্মসময় এবং মানবসম্পদ by ফারুক মঈনউদ্দীন

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও
ব্যাংকারদের অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি
ব্যাংকারদের সম্পর্কে একটা কৌতুক প্রায় সবারই জানা, সেটা হচ্ছে একজন ব্যাংকারকে তাঁর সন্তানেরা কত বড় হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি দুই হাত পাশাপাশি ফাঁক করে বোঝাতে চেষ্টা করেন সন্তানের দৈর্ঘ্য। কারণ ছেলে কিংবা মেয়েকে তিনি প্রায় কখনোই দাঁড়ানো অবস্থায় দেখার সুযোগ পান না, তাঁর অফিসে যাওয়ার সময় এবং ফেরার পরও দেখতে পান ঘুমন্ত অবস্থায়। আসলেই বিষয়টা কি আদৌ কৌতুকপ্রদ? তথ্যপ্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের দিনে সত্যসম প্রসঙ্গটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
বর্তমান প্রজন্মের ব্যাংকাররা বিশাল লেজার বই, টোকেন বা স্ক্রল, ব্যালান্সিং, ক্যালকুলেটরবিহীন হিসাব—এসব কোনো কিছুর সঙ্গে পরিচিত নন। আমাদের দেশে ব্যাংকিংয়ের হিসাবরক্ষণে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। এই নতুন প্রযুক্তি চালু হওয়ার আগে ব্যাংকারদের জীবন ওপরের কৌতুকের মতো না হলেও তার কাছাকাছি ছিল। লেজারে ভুল পোস্টিংয়ের জন্য ব্যালান্সিং না হলে (অর্থাৎ লেজার বইগুলোর মোট স্থিতি অক্সিলিয়ারি লেজারের সঙ্গে না মিললে) ব্যাংকারদের বহু সন্ধ্যা রাত অবধি গড়িয়ে গেছে ভুল খুঁজে বের করার জন্য। প্রতিবছর জুন এবং ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ ছিল ব্যাংকারদের জন্য কেয়ামতের দিন, অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক হিসাব মেলানোর এই দুই তারিখে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো তাঁদের, তখন এমনকি ক্যালকুলেটরের ব্যবহারও ছিল সীমিত। বর্তমান সময়ে হিসাব মেলানোর জন্য কম্পিউটারের বদৌলতে জুন বা ডিসেম্বরের শেষ দিনের সঙ্গে অন্যান্য মাসের শেষ তারিখের কোনো পার্থক্য টেরই পান না ব্যাংকাররা। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরও ব্যাংকারদের জীবনযাত্রায় তেমন পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতীয়মান হয় না।
প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বাত্মক হওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যাংকারদের দায়িত্ব। একসময় ব্যাংকের মূল দায়িত্ব ছিল আমানত গ্রহণ এবং ঋণ দেওয়া। তারপর বাণিজ্যিক কারণে দিনে দিনে বেড়েছে সেবার পরিধি, তার সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি। ব্যাংকিং নিয়মাচারকে কঠোর শৃঙ্খলায় বেঁধে মূলধন ভিত্তি শক্ত করার জন্য বাসেল ১ এবং ২-এর ধারাবাহিকতায় বাসেল ৩ প্রণীত হলে ব্যাংকারদের দায়িত্ব এবং সতর্কতা আরও বেড়ে যাবে। এর মধ্যে ২০০৩ সালে চালু হওয়া মানি লন্ডারিং আইন এবং কেওয়াইসি (নো ইয়োর কাস্টমার) বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের ফলে ব্যাংকারদের এই দায়িত্ব কেবল ব্যাংকের ওপর থাকে না, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার ওপরও বর্তায়। তাই কোরবানির গরুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয়
মূলধন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, ঈদের ছুটির মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা থেকে কর ও শুল্ক ফাঁকি, কালোটাকা ও জঙ্গি অর্থায়নের উৎস খোঁজা কিংবা আমেরিকান নাগরিকদের কেউ দ্বৈত কর থেকে রেহাই পাচ্ছেন কি না—সবই ব্যাংকারদের দেখতে হয়।
যদিও শেষোক্ত এসব কর্মকাণ্ড রোধের জন্য রয়েছে একাধিক এবং অধিক ক্ষমতাধর সংস্থা। এর সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়া তো রয়েছেই। ফলে ব্যাংকের হিসাবরক্ষণের জন্য কম্পিউটার প্রবর্তন করে কর্মসময়ের সাশ্রয় ঘটালেও তার কোনো সুবিধা ব্যাংকাররা পাননি। একসময় প্রযুক্তিবিহীন ব্যবস্থায় ব্যাংকাররা যেমন কখনোই বিকেলের আলোর মুখ দেখতে পারতেন না, এখন প্রায় সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায়ও এমন অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি। একসময় সনাতনী ব্যাংকিং সংস্কৃতিতে দৈনন্দিন কর্মদিবসের সময়ের অতিরিক্ত কাজ করাকে দক্ষতা এবং পরিশ্রমের মাপকাঠি বলে ধরা হতো। এমনকি এমনও শেখানো হতো যে একজন ভালো ব্যাংকার সব সময়ই খারাপ স্বামী বা পিতা। অর্থাৎ একজন ভালো ব্যাংকারকে সব সময়ই রাত করে ঘরে ফিরতে হবে। অথচ নির্ধারিত কর্মসময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ঘরে ফেরা যে সত্যিকার দক্ষতার পরিচায়ক, এই সরল সত্যটা সে সময় এবং বর্তমান সময়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন ধারণাতেও প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।
ব্যাংকারদের বহুমুখী কর্মপরিধি, ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা এবং কঠোর নিয়মাচার পরিপালনের চাপ কেবল তাঁদের সাময়িক ক্ষতিই করে না, দীর্ঘ মেয়াদে জন্ম দেয় বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত, মানসিক এবং সামাজিক জটিলতার। যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার এক রিপোর্টে জানা যায়, ব্যাংকারদের মানসিক চাপসৃষ্ট জটিলতা নিয়ে ব্যাংকগুলো এখন উদ্বিগ্ন। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য ব্যাংক অব আমেরিকা, কেপিএমজি, মর্গান স্ট্যানলি, প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার, লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ এবং গোল্ডম্যান স্যাকসসহ ডজন খানেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিটি মেন্টাল হেলথ অ্যালায়েন্স’ নামের একটা সংগঠন এক জরিপে দেখিয়েছে, ব্রিটিশ চাকরিজীবীদের প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশনের শিকার। কর্মস্থলে ব্যয় করা সময়ের স্থায়িত্ব এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানসিক সুস্থতা এবং কর্মদক্ষতা—এই উপসর্গটির বিষয়ে ব্যাংকের নির্বাহীরা ওয়াকিবহাল যে এর ফলে দক্ষ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন এবং কামাই করার প্রবণতা ব্যবসায়ের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ‘ব্যাংক ওয়ার্কার্স চ্যারিটি’ নামের আরেকটা প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণা জরিপে তুলে এনেছে যে যুক্তরাজ্যে আর্থিক সমস্যা বা উদ্বেগ, গুরুদায়িত্বের চাপ এবং ভবিষ্যতের ভাবনা পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গবেষণায় কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য তিনটি সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে: অনুপভোগ্য চাকরি, কর্মক্ষেত্র ও পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাবের দুশ্চিন্তা এবং চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। প্রতিষ্ঠানটির সংগৃহীত উপাত্ত থেকে জানা যায়, ৬০ শতাংশ ব্যাংকার অনিয়মিত নিদ্রারোগে ভোগেন, ৪৭ শতাংশ থাকেন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় আর ৪০ শতাংশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
কয়েক বছর আগে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে আমেরিকার নবীন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারদের কারও কারও মধ্যে অনিদ্রা, মাদকাসক্তি, খাবারে অরুচি, বদমেজাজ ইত্যাদির প্রকোপ দেখা গেছে। এ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম বছর দুয়েক এসব ব্যাংকার সপ্তাহে ৮০ থেকে ১২০ ঘণ্টাও কাজ করেন। চতুর্থ বছরে গিয়ে এঁরা ভুগতে শুরু করেন নিদ্রাহীনতায়। কারও মধ্যে দেখা গেছে নানান রকম অ্যালার্জি, মাদকাসক্তি, চর্মরোগ, (সোরিয়াসিস) আর্থ্রাইটিস এবং থাইরয়েডের সমস্যা। আমাদের দেশে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের তেমন বড় কোনো প্রভাব না থাকলেও এই উপসর্গের কিছুটা বাণিজ্যিক ব্যাংকারদের মধ্যেও মিলতে পারে, যদি তেমন কোনো গবেষণা চালানো যায়। জেপি মর্গান চেজ অ্যান্ড কোম্পানির এক সাবেক প্রধান নির্বাহীর বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের অনেকেরই চাকরির কয়েক বছরের মাথায় ৩০ থেকে ৪০ পাউন্ড ওজন বেড়ে যেতে দেখেছেন তিনি। এই সমস্ত তথ্য এবং গবেষণালব্ধ আবিষ্কার থেকে পাশ্চাত্য বিশ্বের নানান পেশা, বিশেষত ব্যাংকিংয়ে নিয়োজিত মানুষের সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
এ রকম উপলব্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ করে মহিলাদের নির্ধারিত ব্যাংকিং সময়সূচির পর কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করতে বাধ্য করা যাবে না মর্মে আদেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা যে কেবল অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতিকে নিরুৎসাহিত করছে তা নয়, বরং এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের ফলে নিশ্চিত হতে পারে দেশের ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত মানবসম্পদের পরিচর্যা এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের যথাযথ নিরাপত্তা। অদূরদর্শিতার কারণে আমরা খুব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারি না, তাই উপলব্ধি করতে পারি না কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানবসম্পদ উন্নয়নে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসময়ের বাইরের এই সময়টুকু কেবল চাকরিজীবীদের সন্তানদের দেখাশোনা করা, কিংবা পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজনেই নয়, তাঁরা নিজেরাও যাতে বাড়তি জ্ঞানার্জনের কিছুটা সময় দিতে পারেন, কিংবা যুক্ত হতে পারেন সামাজিক বা বিনোদনমূলক কাজে। ব্যাংকারদের বছরে একবার বাধ্যতামূলক দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার বিধানটাও এ জন্যই জারি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা কিছুদিন সব মানসিক চাপমুক্ত থেকে অবসর যাপন করতে পারেন।
বর্তমান সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত জ্ঞানার্জনের সুযোগ কম বলে কর্মসময়ের বাইরের সময়টুকু পড়াশোনায় ব্যয় করা জরুরি এবং আগ্রহীরা সে সুযোগটার সদ্ব্যবহার করতে চান। বিশ্বব্যাংকের ২০১২ সালের জ্ঞান অর্থনীতি সূচকে (নলেজ ইকোনমি ইনডেক্স) ১৪৬টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭তম, অর্থাৎ তালিকার সর্বশেষ দশটি দেশের একটি। অন্য নয়টি দেশ হচ্ছে সুদান, জিবুতি, ইথিওপিয়া, গিনি, ইরিত্রিয়া, অ্যাঙ্গোলা, সিয়েরা লিওন, মিয়ানমার ও হাইতি। এই সূচক থেকে আমাদের মানবসম্পদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের দৈন্যদশার পরিমাপ করা যায়।
এ ছাড়া দেশের গণপরিবহনের অব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ব্যাংকে কাটিয়ে নিত্য ঘরে ফেরার কঠোর সংগ্রামের পর সাধারণ কর্মজীবী কিংবা ব্যাংকারদের পক্ষে পরিবারের অন্য সদস্যদের সময় দেওয়া কিংবা জ্ঞানচর্চা কোনোটাই সম্ভব হয় না।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার৷
fmainuddin@hotmail.com

বিনা, বাউকুল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় by সোহরাব হাসান

বাউ ড্রাগন ফলেরও উদ্ভাবক অধ্যাপক এম এ রহিম
গত বৃহস্পতিবার আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম সেখানকার গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। উপলক্ষ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এবারের কর্মশালায় ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
ব্রহ্মপুত্রের পারে ১ হাজার ২০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা। ক্যাম্পাসে ঢুকতেই রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি মনে পড়ল। ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশির বিন্দু।’ ঠিক ক্যাম্পাস বলতে যা বোঝায়, এটি তার চেয়েও বেশি নান্দনিক। বলা যায়, সবুজ শস্যখেত, বাগান, পুকুর ও খামারই এখানকার শ্রেণিকক্ষ।
রবীন্দ্রনাথ যে ধানের শিষের ওপরে শিশির বিন্দু দেখেছিলেন, সেই ধানের এবং আরও অনেক জাতের ফসল নিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন ও অনুশীলন। সাধারণভাবে অভিযোগ আছে, বিজ্ঞান গবেষণায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর চত্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাজ দেখলে সেই অভিযোগ অসার মনে হবে।
১৮ অক্টোবর প্রথম আলোয় ইফতেখার মাহমুদের লেখা প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল: জমি কমলেও চাল উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ (১৯৭১-২০১৫)। একইভাবে বেড়েছে ভুট্টা, গম, বিভিন্ন জাতের ফল, সবজি, মাছ, গবাদিপশু ইত্যাদির উৎপাদনও। এর আগে মৎস্য চাষ, সবজি চাষে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়েও বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে বাংলাদেশের কৃষকদের অবদানই যে সবচেয়ে বেশি, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা যদি নতুন নতুন জাতের শস্য, ফল, সবজি, সার, বীজ ইত্যাদি উদ্ভাবন না করতেন, তাহলে কোনোভাবেই কৃষিতে এই সাফল্য পাওয়া যেত না। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে সহস্রাধিক গবেষণা প্রকল্পের কাজ
শেষ করেছেন। বর্তমানে দুই শতাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। গবেষণা করেছে অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটও। কিন্তু মানতে হবে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই এর পথিকৃৎ। আমরা গবেষণা বলতে বইপত্র তথ্য–উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণকে বুঝি। কিন্তু এখানকার গবেষক ও শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের পাশাপাশি মাঠের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগান।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বাউকুলের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। কয়েকজন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. শাহিদুজ্জামান যখন আমাদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন, তখনই বাউকুলের প্রসঙ্গটি এল। জিজ্ঞেস করলাম, বাউকুল উদ্ভাবক কে? তাঁরা সমস্বরে বললেন, অধ্যাপক এম এ রহিম। জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক। আমরা সেই সেন্টারে বিভিন্ন বাহারি ফল দেখছিলাম। এরই মধ্যে তিনি এলেন। পরিচয় হলো। সেখানে দেশ-বিদেশের নানা জাতের ফলের চাষ ও গবেষণা হচ্ছে। তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, দেশে তো আপনার বাউকুল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিদেশে বাজার পেয়েছে কি? তিনি বললেন, ৫৭টি দেশ বাউকুল নিয়েছে চাষবাসের জন্য। এর বিনিময়ে তারা বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেয় মেধাস্বত্বের মাশুল হিসেবে।
কেবল বাউকুল নয়, আরও বেশ কিছু ফলের জাত উদ্ভাবন করেছেন তিনি। এ জন্য ২০১২ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদক দেওয়া হয়। কেবল পেয়ারাগাছ বাঁকা করে অধ্যাপক এম এ রহিম এমন এক চাষপদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যাতে পেয়ারার উৎপাদন ১০ গুণ বেড়েছে। তিনি দেখিয়েছেন পেয়ারা চাষের জন্য শুধু বর্ষকালই উপযুক্ত নয়, সব ঋতুতেই পেয়ারার চাষ হতে পারে। শীতকালের পেয়ারা বেশি মিষ্টি হয়।
২০০৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে এম এ রহিম ড্রাগন ফলের চারা নিয়ে এসে এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী করে চাষ করেন। এখন বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবেও ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে। গাছটি দেখতে অনেকটা ক্যাকটাসের মতো।
জিজ্ঞেস করলাম এশিয়ার মধ্যে কোন দেশটি কৃষিতে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে? তিনি বললেন, ভিয়েতনাম। কারণ, যুদ্ধের পর দেশটির নেতা হো চি মিন দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন সবাই মিলে দেশটা গড়ে তোলো।’
ভিয়েতনামিরা দেশটা গড়ে তুলেছে। আমরা কি পেরেছি?
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আরও যেসব সাফল্য দেখিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অধিক মাংস উৎপাদনকারী গরুর জাত উদ্ভাবন। এটি করেছেন পশু প্রজনন বিজ্ঞানী অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম। বাড়ির ছাদে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারবিহীন একই সঙ্গে মাছ ও সবজি উলম্ব একোয়া পনিক্স পদ্ধতিতে চাষ করার কৌশল আবিষ্কার করেছেন মৎস্যবিজ্ঞানী ড. এম এ সালাম।
উন্নত দেশগুলো মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই–অক্সাইড ও মিথেনের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ করে যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ নিঃসরিত এসব কার্বন গ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উদ্ঘাটন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল বাতেন।
জার্মপ্লাজম সেন্টারে ফল ও ফসলের ৯০টিরও বেশি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। কলা ও আনারস উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তি, রাইজোবিয়াম জৈব সার উৎপাদন প্রযুক্তি, সয়েল টেস্টিং কিট, হাওর এলাকায় হাঁস পালনের কলাকৌশল, গবাদিপশুর ভ্রূণ প্রতিস্থাপন, মাছের রোগ প্রতিরোধকল্পে ঔষধি গাছের ব্যবহার, মাছের বংশপরিক্রমা নির্ণয়, তারাবাইম, গুচিবাইম, বড় বাইম, কুচিয়া ও বাটা মাছের কৃত্রিম প্রজনন, কচি গমের পাউডার উৎপাদন, নিরাপদ শুঁটকি তৈরির টানেল উদ্ভাবন, বিদ্যুৎবিহীন হিমাগার স্থাপন, গাভির ওলান প্রদাহ রোগ নির্ণয়পদ্ধতি আবিষ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য সাফল্য। এ ছাড়া সার ছিটানো যন্ত্র, উন্নত জাতের মুরগির জাত, অধিক মাংস উৎপাদনকারী সংকর গরুর জাত, পশুপাখির টিকা, ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণ যন্ত্রও উদ্ভাবন করা হয়েছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবটাই গৌরবের নয়। এখানেও হানাহানি আছে, আছে হল দখলের ঘটনা। গত বছর ছাত্রলীগের কর্মী সাদকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীরা। এরপর ওই সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এখনো তাঁরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর আগে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে রাব্বি নামে একটি শিশু মারা যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা লাঞ্ছিত হয়েছেন সরকার–সমর্থক ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের হাতে। উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে।
ওই অনুষ্ঠানে আলাপ হয় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শমসের অালীর সঙ্গে। তিনি আমাদের তাঁর প্রতিষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, তাঁরা কীভাবে কাজ করছেন, কী কাজ করছেন, সেিট দেশবাসীর জানা দরকার। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার জন্য বেশ কয়েকটি জাতের লবণাক্ত–সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব পরমাণু গবেষণাগার নেই। ফলে তারা জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কাজ করে। এই ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বর্তমানে বিনা ২৯ নামে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে; যা প্রচলিত ধানের উৎপাদন সময়ের চেয়ে ১৫ দিন কম সময় লাগবে। এ ছাড়া বিনার কৃষিবিজ্ঞানীরা উচ্চ ফলনশীল ৮টি জাতের ধান, ৮টি জাতের সরিষা, ৬টি জাতের চিনাবাদাম, ২টি জাতের সয়াবিন, ৮টি জাতের মুগ, ৬টি জাতের ছোলা, ৬টি জাতের মসুর, ৩টি জাতের পাট, ৭টি জাতের টমেটো ও ২টি জাতের বিনা তিল উদ্ভাবন করেছে।
শমসের আলী জানালেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানটি নিরন্তর গবেষণা করছে, যাতে দেশ খাদ্যে স্বাবলম্বী হয়। তবে তাঁরা এখন বেশি জোর দিয়েছেন তেলবীজের ওপর। প্রিতবছর বিদেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে চাষ করা হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল সয়াবিন ও সূর্যমুখী।
কৃষি উন্নয়নে আরও যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তার মধ্যে রয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের অগ্রগতিকে অনেক বিদেশি পণ্ডিত ধাঁধা বলে উল্লেখ করেেছন। আসলে সেই ধাঁধার রহস্যটা কৃষিতেই নিিহত।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

অমানুষিক অবর্ণনীয় by সৈয়দ আতিক

দুই পা হারিয়ে তীব্র যন্ত্রণায় কাতর সালমা বেগম ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন-যুগান্তর
শুধু হৃৎপিণ্ডটাই খুলে নেয়া বাকি রেখেছে। এছাড়া শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গই নৃশংসভাবে কেটে ফেলা হয়েছে মাদারীপুরের গৃহবধূ সালমা বেগমের। অজানা-অচেনা কেউ নয়। নিজের ঘরের লোকদের হাতেই এমন অমানুষিক বর্বরতার শিকার হয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে তাকে। সামান্য সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে ছোট দেবর রেজাউল হক বেপারি রামদা দিয়ে কুপিয়ে গোড়ালির ওপর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সালমার। লোভের কোপ থেকে রক্ষা পায়নি হাত দুটিও। এখানেই থামেনি দুর্বৃত্ত দেবর। মাতৃতুল্য ভাবির স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোও ভয়ংকরভাবে কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এ নৃশংসতা বর্ণনাতীত। সালমা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। যে কোনো মুহূর্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন তিন সন্তানের এই মা। আর যদি বেঁচে যান তাহলেও ক্ষতবিক্ষত দেহের ভার কী করে বইবেন, সে প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নেই।
মাদারীপুরের রাজৈরের পূর্ব শরমঙ্গল টেকেরহাট গ্রামের গৃহবধূ সালমা তার তিন সন্তান, স্বামী ও শ্বশুরকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন। সামান্য কিছু জমিও আছে। স্বামী সামসুল ইসলাম একটি ধানের মিলে (চাতালে) ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরিও করেন। সালমা-সামসুল দম্পতির দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু কাল হল শ্বশুরের ভালোবাসার দান এক টুকরো জমি। ওই জমি কেড়ে নিতেই উন্মত্ত দেবর হামলা চালায় সালমার ওপর।
সালমার শ্বশুর আজিজুল হক বেপারি বয়বৃদ্ধ। সামসুলরা চার ভাই। সবারই আলাদা সংসার। মা-বাবার দায়িত্ব নেন সামসুল। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্নে কখনও কোনো ত্রুটি করেননি সালমা। যেখানে অন্য ছেলের বউরা দেখতেও আসেন না। শাশুড়ির মৃত্যুর পর বৃদ্ধ শ্বশুর প্রায়ই বলতেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যেন সালমার সেবা পেয়ে যান।
সালমার সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে আজিজুল হক বেপারি একসময় ১২ শতাংশ জমি সামসুল ও তার আরেক ভাই নুরুল হকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। আর বাড়ির পাশে দেড় বিঘা জমিও দেন চাষাবাদ করতে। আজিজুল বেপারি যে বাড়িতে থাকতেন সে ভিটের অংশটুকু সামসুলের নামে লিখে দেন তিনি।
সালমার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সাইদুল ইসলাম জম্মগত প্রতিবন্ধী। মেয়ে সুরাইয়া আক্তার টেকেরহাট প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। ছোট ছেলে সালাহউদ্দিন বেপারি একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গ্রামে থাকলেও সালমার ইচ্ছে ছিল দুই সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবেন। কিন্তু স্বপ্নের এই সংসারই ছারখার হয়ে গেল হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে। গত রোববার আপন দেবরের বর্বরতার শিকার হয়ে এখন তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আর সারাক্ষণ ভাবছেন, সামনের দিনগুলোর কথা। কী হবে তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ?
সেদিন কী ঘটেছিল, তা জানতে চাইলে সালমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তার বোন মাহমুদা বেগম ঘটনার বর্ণনা দেন। তাতে উঠে আসে দেবর রেজাউলের পৈশাচিক নির্যাতনের কথা।
মাহমুদা বলেন, রোববার সকাল ৯টার দিকের কথা। সালমা নিজের ঘরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় হাতে একটি রামদা নিয়ে ঘরে ঢোকে রেজাউল। রামদা দেখেই চিৎকার করে ওঠেন সালমা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রেজাউল সালমার বুকের উপর উঠে বসে প্রথমে দুই পায়ে, পরে দুই হাতে কোপাতে থাকে। দুই পায়ের একটি রগের সঙ্গে ঝুলে থাকলেও পরে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নির্বিচারে কোপানোর সময় দুই-তিনবার চিৎকার দিয়ে পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সালমা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন বোন সালমার পাশে বসে মাহমুদা শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, বৃদ্ধ শ্বশুর চলতে পারেন না। অন্য কেউই তাকে দেখে না। সালমা তার শ্বশুরের সেবা করত। এ কারণে খুশি হয়ে তিনি পৈত্রিক ভিটের অংশ তার স্বামী সামসুল এবং আরেকভাই নুরুল হক বেপারির নামে লিখে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বড় ভাই আবদুল হক বেপারি ও সবার ছোট রেজাউল হক বেপারি।
বোনের বরাত দিয়ে মাহমুদা বলেন, আবদুল হক ও রেজাউল মিলে সালমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
মাহমুদার কথা বলার সময়টায় চোখ বন্ধ করেছিলেন সালমা। তার দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জলের ধারা। অস্ফুট স্বরে একবার বললেন, মেয়ে সুরাইয়ার কী হবে। বললেন প্রতিবন্ধী ছেলে সাইদুলের কথা। ক্ষণেক্ষণে বলছেন ছেলে সালাউদ্দিনের কথাও। জানতে চাইলেন তার সন্তানদের কে দেখবে এখন।
সালমার স্বামী সামসুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি সালমাকে প্রথমে ফরিদপুরে স্থানীয় হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রীর ওপর এমন হামলা যে করতে পেরেছে সে তো ভাই হতে পারে না। তিনি এর সুষ্ঠ বিচার চান। বলেন, সংসারটাকে সব সময় খুব আগলে রেখেছিলেন সালমা। তার কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব ছিল না। স্বল্প আয়েই সুখের সংসার সাজিয়ে তোলেন সালমা।
সালমার শ্বশুর আজিজুল হক বেপারি মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, রেজাউলকে এখন তো আমার ছেলে পরিচয় দিতেই ঘৃণা হচ্ছে। সে কুপুত্র। এমন ছেলে জেলে পচলেও আমার চোখে এক ফোঁটা পানি আসবে না।
ঢাকা মেডিকেলে বেশ খানিকটা সময় মাহমুদার সঙ্গে কথা হয়। এর একপর্যায়ে সালমা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কিছু কথা বলেন। পাষণ্ড দেবরের কী বিচার চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিচার তো চাইবই। জানি বিচারও হবে। আবার এটাও জানি, উন্নত চিকিৎসা করেও আমাকে বাঁচানো যাবে না। তারপরও তিনি চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য প্রার্থনা করেন। বলেন, যে ক’দিন বেঁচে থাকব সে ক’দিনের মধ্যেই রেজাউলের বিচার দেখে যেতে চাই।
এদিকে ঘটনার পর রোববারই রাজৈর থানায় মামলা করা হয়। রাজৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফসার আলী জানান, রেজাউলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে।
নুরুল হক বেপারি বলেন, ঘটনার দিন বাড়িতে একা পেয়ে আমার ছোট ভাই রেজাউল এ নৃশংস ঘটনা ঘটায়। তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তার ভাই সামসুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মোল্লাদি গ্রামের মাইনুদ্দিন শেখের মেয়ে সালমা বেগমের।
রাজৈর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হক বেপারির চার ছেলের সবারই পৃথক সংসার। আজিজুল দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করতেন। এর কাছে এক মাস, ওর কাছে এক মাস। এভাবে মাস ভাগ করে খেতেন। এর মধ্যে সামসুলের সংসারেই বেশি খেতেন বৃদ্ধ আজিজুল। জমিজমা কিছু নিজের কাছে রেখে বাকি সব ভাগ করে দিয়েছেন ছেলেদের। কিছুদিন আগে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৯০ শতাংশ জমি তিনি ভাগ করে দেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলে এবং এক মেয়েকে। এতে বড় ছেলে আবদুল হক ও সবার ছোট ছেলে রেজাউল ক্ষুব্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সালমাকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করার পর রেজাউল ঘর থেকে বের হয়ে টিউবওয়েলে গিয়ে রামদা ধুয়ে ফেলে। এ সময় আবদুল হকের ছেলে রিয়াজ এসে জিজ্ঞেস করে, ‘কাক্কু রামদা দিয়ে কী জবাই করেছ যে রক্ত ধুয়ে ফেলছ?’ উত্তরে রেজাউল বলে, ‘কী জবাই করেছি তা তুই বুঝবি না। পরে জানতে পারবি।’
সালামার বোন শাহজাদি বলেন, ঢাকায় আসার সময় সালমার পা দুটো ও ডান হাত ঝুলে ছিল। ওগুলো আমরা সঙ্গে নিয়ে এসেছি যদি কাজে লাগে। কিন্তু ডাক্তার বলেছেন, দুটি পা আর জোড়া লাগবে না। এখন দুই হাতেরও ভরসা নেই। সালমার দেহের আরও যেসব স্পর্শকাতর স্থান কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তার চিকিৎসা কী হবে, তা জানেন না তার স্বজনরা।

যৌথ প্রযোজনার আড়ালে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা by এফ আই দীপু

ঢাকার চলচ্চিত্রে যৌথ প্রযোজনার নামে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা; যা এরই মধ্যে ‘যৌথ প্রতারণা’ নামে পরিচিতিও পেয়েছে। কলকাতাভিত্তিক কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের অসাধু কয়েকজন নির্মাতা-প্রযোজক এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমাঝোতার ভিত্তিতে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি অনেক পুরনো। আগেও অনেক চলচ্চিত্র যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেসময় নিয়মনীতি মেনে সেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের শিল্পী ও কলা-কুশলীদের প্রাধান্য থাকত বেশি। ইদানীং ভারতের (কলকাতা) সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার নামে যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে তার আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণা বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গেল বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশের অনন্য মামুন পরিচালিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ ছবির মধ্য দিয়ে এ প্রতারণা বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। যার সর্বশেষ তালিকায় উঠে এসেছে ‘ব্ল্যাক’ নামের কথিত একটি যৌথ প্রযোজনার ছবি। বেশকিছু দিন ধরেই দেশীয় গণমাধ্যমে ব্ল­্যাক নামের এ ছবিটি একটি যৌথ প্রযোজনার ছবি বলে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ ছবিতে কলকাতার নায়ক সোহমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের বিদ্যা সিনহা মিম। কলকাতার রাজা চন্দের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের কামাল কিবরিয়া লিপুর নামও পরিচালনায় রয়েছে বলে প্রযোজনা সূত্র বরাবরই জানিয়ে এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের কিবরিয়া ফিল্মস ও কলকাতার দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে ছবির মহরত অনুষ্ঠানে। অথচ সম্প্রতি কলকাতার দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘ব্ল্যাক’-এর অফিসিয়াল টিজারে দেখা গেছে যৌথ প্রযোজনা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের পরিচালক কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নামের ছিটেফোঁটাও নেই। টিজারে পরিচালক হিসেবে শুধু নাম দেয়া আছে রাজা চন্দের। এছাড়াও প্রযোজক হিসেবে কলকাতার রানা সরকারের নাম রয়েছে। প্রতারণার বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা দুই দেশেই শুটিং করার শর্তও পূরণ করা হয়নি। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে শুধু ভারত ও ব্যাংককেই ছবির শুটিং শেষ করা হয়েছে। প্রকাশিত টিজারে ছবিটি আসছে কালীপূজায় কলকাতায় মুক্তি দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি এটাই প্রথম নয়। গেল বছর অনন্য মামুন পরিচালিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ নামের একটি ছবি কলকাতার এসকে মুভিজের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। যেখানে মামুনের নামের সঙ্গে কলকাতার অশোকপাতির নামও ঘোষণায় ছিল। কিন্তু ছবিটির বাংলাদেশী ভার্সনে অনন্য মামুনের নামের পাশে অশোকপাতি ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও কলকাতায় প্রদর্শিত ছবিতে বাংলাদেশী পরিচালক কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। এককভাবে ভারতের ছবি বলেই ওখানে তা প্রদর্শিত হয়েছে। সেই পথ ধরে এরপর বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া নামের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের ভয়াবহ প্রতারণায় অংশ নেয়। তারাও গেল বছর ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’ এবং চলতি বছর ‘আশিকী’ নামে দুটি যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ করে। সেসব ছবিতে ভারতীয় ভার্সনে পরিচালক কিংবা প্রযোজক হিসেবে কারও নাম ছিল না। অথচ প্রতারণার বিষয়টি ঢাকতে বাংলাদেশে প্রদর্শিত পোস্টার কিংবা হল প্রিন্টে পরিচালক হিসেবে কলকাতার অশোকপাতির নামের পাশে জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজের নামও দেখা গেছে। সর্বশেষ এ ধরনের ভয়াবহ প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হলেন কামাল কিবরিয়া লিপু ও তার প্রতিষ্ঠান। আগের ছবিগুলোর মতোই তার কথিত প্রযোজনায় নির্মিত ছবি ‘ব্ল্যাক’-এও ভারতীয় ভার্সনে বাংলাদেশী পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতীয় ছবি বাংলাদেশে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন চলচ্চিত্র তারকাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ছবির আমদানি স্থগিত করা হয়। কিছু অসাধু চক্র ভারতীয় ছবিকে সরাসরি বাংলাদেশে প্রদর্শনের জন্য আমদানি করতে না পেরে ‘যৌথ প্রযোজনা’র বিষয়টিকে বেছে নিয়েছেন। যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণার মাধ্যমে মূলত ভারতীয় ছবিই বাংলাদেশে প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র চিত্রপরিচালক বলেন, ‘এজন্য মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী। যাচাই-বাছাই না করে যৌথ প্রযোজনার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। যারা আগে এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় ছবির বাজার বাংলাদেশে অবাধ করে দিয়েছে কিংবা এখনও দিচ্ছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। নইলে অচিরেই যৌথ প্রযোজনার নামে ভারতীয় ছবিতে বাংলাদেশী সিনেমা বাজার সয়লাব হয়ে যাবে।’
অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় জানা গেছে, মূলত অর্থ পাচারের জন্যই ছবিগুলোর বাংলাদেশী ভার্সনে যৌথ প্রযোজনার নাম দেয়া হয়। এই যৌথ প্রযোজনার আড়ালে ভয়াবহ রকম অর্থ পাচার করা হচ্ছে বলেই কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। দেশপ্রেম তথা দেশের চলচ্চিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা কিংবা ভালোবাসা জলাঞ্জলি দিয়ে এসব প্রযোজক-নির্মাতারা দেশের সংস্কৃতিবিরোধী, সর্বোপরি দেশবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। শিগগিরই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তথ্য, অর্থ, বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

মিয়ানমারে মুসলিমদের ভোটার করতে আহ্বান জাতিসংঘের

মিয়ানমারে মুসলিমদের ভোটার করতে আহ্বান জাতিসংঘের
মিয়ানমারে সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু মুসলিম ও অভিবাসীদের ভোটার করতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের তদন্তকারী দল। মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী ইয়াংহি লি তথ্য উপাত্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওয়াশিংটনে পোস্টের বরাতে শুক্রবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ডন।
দেশটিতে নভেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী ইয়াংহি লি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা নির্বাচনে অযোগ্য নির্বাচিত হয়েছে তাদের স্বাধীনভাবে রিভিউ করার সুযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে দু’জন মুসলিম রয়েছেন যারা বর্তমানে দেশটির সংসদ সদস্য বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, নভেম্বরের আট তারিখে যে নির্বাচন হবে তা মিয়ানমারের গণতন্ত্রের জন্য একটি মাইলফলক। কিন্তু নির্বাচনে সবাই অংশ না নিলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ হবে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন তার উপর।
এছাড়া সবাই যদি নির্বাচনে অবাধভাবে অংশ নিতে পারে তবেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা অংশ নিতে না পারলে তারা এর স্বাদ অনুভব করতে পারবে না। তিনি জানান, রাখাইনে বসবাস করা ৭ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা যারা চীন এবং ইন্ডিয়া থেকে এসেছে তাদের অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিল। তারা ২০১০ এবং ২০১২ সালের নির্বাচনে ভোটও দিয়েছিল। কিন্তু মার্চে তাদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর নতুন করে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারা ভোট দিতে পারবেন না। রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গারা বাস করে তাদের বাংলাদেশী বলে মনে করে দেশটি সরকার এবং তাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমালোচনামূলক বলে মনে করেন লি। তাদের অধিকার চর্চা তাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গ্রেফতার, কয়েদ করে রাখা, মত প্রকাশের, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সমিতির জন্য পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান লি। তবে মিয়ানমারের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও টিন লি’র প্রতিবেদনকে বেঠিক এবং বিকৃত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ।
সুচির দলের প্রার্থীর ওপর হামলা
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় অং সান সুচির দলীয় এক প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার নাম নাইং গ্যান লিন। তাকে তোলোয়ারের আঘাতে আহত করে এক হামলাকারী। তবে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নিশ্চিত করেছে যে, আহত এমপি এখন আশংকামুক্ত রয়েছেন। শুক্রবার দলটির পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসি, এএফপি।
বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াঙ্গুনের থারকেতা শহরে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এ হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী অপর এনএলডি প্রার্থী থেত তার উই ইউন বলেন, ‘এক ব্যক্তি এনএলডি’র এক সদস্যকে ঘুষি মারতে থাকেন। এরপর জনতা তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি একটি বড় ছোরা নিয়ে ফিরে আসেন।’ তিনি জানান, নাইং গ্যান লিন তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ছাত্র নেতা গ্রেফতার : মিয়ানমারে এক ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গত মার্চ মাসে বিক্ষোভের ডাক দেয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। সেখানে শিক্ষা সংক্রান্ত বিক্ষোভ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে এটি হচ্ছে সর্বশেষ আটকের ঘটনা। এর আগে এ ধরনের ঘটনায় অনেককে গ্রেফতার করতে দেখা যায় এবং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় লাতপাদান শহরে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সাত মাস আগে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভের ঘটনায় অল বার্মা ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট ইউনিয়নসের সভাপতি কিওয়ান কো কোকে গ্রেফতার করা হয়।

‘দুই দিক থেকে দুটো মিছিল গোরস্থানের দিকে যাচ্ছে’

এক প্রকাশককে হত্যা এবং অন্য তিন লেখক-প্রকাশকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিশিষ্টজনেরাও জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। বিশিষ্ট লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, দীপন আমাকে এক হিসাবে জোর করেই ‘ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ’ বইটি তৈরি করিয়ে নিয়েছিল। বলেছিল, আপনার কিছু বই আমাকে দিতেই হবে। ও ছিল আহমদ ছফা ও আমার প্রিয় বন্ধুদের একজন আবুল কাশেম ফজলুল হকের ছেলে। দীপনের চেহারা আমাদের মতো বাম রাজনীতি করে আসা পুরানা আর রুক্ষ বাবা-কাকাদের মতো ছিল না। স্নেহ জাগানিয়া মুখ, লজ্জিত ভাবে হাসত। দুই একবার যতোটুকু কথা বলেছি মনে হয় নি মগজ কোন খোপে বন্ধক দিয়ে দীপন মুক্তবুদ্ধিওয়ালা হয়ে গিয়েছে। চিন্তা করতে চাইত সব দিক থেকেই। ওকে প্রথম দিন থেকেই আমার ভাল লেগেছিল। বইটি ২০১১ সালের শেষের দিকে তৈরি করে দিয়েছিলাম। ও পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে বের করেছিল।
জাক দেরিদার ওপর আমার লেখাগুলো জোগাড় করে বললো এটা গুছিয়ে দিন, আমি প্রচ্ছদ বানিয়ে প্রচার করে দিয়েছি। আমার মাথায় তখন ‘ভাবান্দোলন’ চেপে বসা। দেরিদার সঙ্গে হুসালের তর্ক পাশ্চাত্য চিন্তার জায়গা থেকে যতোটা বুদ্ধিদীপ্ত তার চেয়েও বাংলার ভাবচর্চার জায়গা থেকে আরও দুর্দান্ত। ভাবলাম, নতুন করে পুরাটা বাংলাভাষার ভাবচর্চার ক্ষেত্র থেকে লিখব। এমন ভাবে লিখব যাতে ফকির লালন শাহের ভাষা ও শরীরের সম্পর্ক বিচার কিম্বা নদিয়ার সাধকদের ‘গুরু’ ধারণা ভাষার বহু অর্থ বোধকতাকে কিভাবে মোকাবিলা করে তা নিয়ে লিখি। এতে দেরিদা প্রাসঙ্গিক হবে। বিদেশী দার্শনিকদের নিয়ে আঁতেলি ভাল লাগে না। কিন্তু লেখা সহজে এগুলো না। কারণ যা লিখতে চাই তা সহজ বিষয় নয়। লিখছিলাম আস্তে আস্তে দীপনকে আর দেওয়া হোল না। ও বইয়ের জন্য তাড়া দিতে আবার যখন গত বছর এলো, আমি বুঝিয়ে বলায় খুব খুশি। এ বছর তাকে যেভাবেই হোক শেষ করব বলে কথা দিয়েছিলাম। গুছিয়ে এনেছি।
কিন্তু ফয়সাল আরেফিন দীপন আর নাই।
গতকাল সন্ধ্যায় জাগৃতি প্রকাশনার দীপন সহ শুদ্ধস্বরের আহমেদুর রশীদ টুটুল ও অন্য দুই লেখক সুদীপ কুমার বর্মন ও তারেক রহিমের খবর পেয়ে পাথর হয়ে আছি। দীপনের বাবা আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যাঁরা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন উভয় পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন। উভয় পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা। জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে।’
অবিশ্বাস্য শোক মাথায় নিয়ে আবুল কাশেম ফজলুল হক এই কথাটা স্পষ্ট ভাবে বলতে পেরেছেন।
আমরা দেশকে বিভক্ত করে দিয়েছি। আমরা দুই পক্ষেই আমাদের সন্তানদের হারাতে থাকব। আমরা কাঁদতে ভুলে যাব। নিজ নিজ সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে গোরস্থানের দিকে যাব, আর সন্তানের রক্তে আমাদের শরীর ভিজে যাবে।
কে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সেকুলার মুক্তবুদ্ধিওয়ালা আর কে ধর্মান্ধ বা ইসলামি জঙ্গী গোরস্থান তার বিচার করে না। শুধু কবরের ওপর ঘাস গজায়, আর একদা ঐতিহাসিকরা গবেষণা করতে বসে কিভাবে একটি জাতি তাদের বেয়াকুবির জন্য ধ্বংস হয়ে গেলো।
যেহেতু আমরা মৃত্যু নিয়ে ভাবতে অভ্যস্ত নই, তাই জীবনের কোন মূল্য আমরা দিতে জানি না। আমি দেখছি, বিভক্ত ও দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশে দুই দিক থেকে দুটো মিছিল গোরস্থানের দিকে যাচ্ছে। দীপন, আমি প্রাণপণ এই বিভক্তি ঠেকাতে চেষ্টা করেছি। এই ভয়াবহ বিভাজনের পরিণতি সম্পর্কে আমি জানপরান সবাইকে হুঁশিয়ার করার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করে যাব।। কিন্তু তাতে কি যারা চলে গিয়েছে ফিরে আসবে?
কেউই প্রত্যাবর্তন করে না।
এই লাশের ভার অনেক ভারি, বাংলাদেশ বহন করতে পারবে কি? সেই দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার চর্চা আমরা করি না যা আমাদের গোরস্থানের দিকে নয়, সপ্রতিভ জীবনের দিকে নিয়ে যায়।
কে জাগে?
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ লিখেছেন, আজ থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মিদের হামলায় আহত ও রক্তাক্ত হয়ে ছুটে পথ পেরিয়ে যে গৃহকে নিরাপদ আশ্রয় জেনে উঠেছিলাম সেটি আমার শিক্ষক আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের বাসা। স্নেহে ও মমতায় জড়িয়ে ধরে স্যার এবং ভাবী আমার মাথা থেকে বেরুনো রক্তের ধারাকে তোয়াল দিয়ে বেধে দিয়েছিলেন, নিশ্চিত করেছিলেন যেন আমি মেডিক্যাল হাসপাতালে পৌছুতে পারি। আজ সেই নিরাপদ গৃহের সন্তান, ফয়সাল আরেফিন দীপন যখন কর্মস্থলে রক্তের স্রোতে ভেসে গিয়েছিলো তাকে কেউ জড়িয়ে ধরেনি, কেউ তার রক্তের ধারা তোয়ালে দিয়ে বেধে দেয় নি। হাজার মাইল দূরে বসে আমি কেবল সংবাদ শুনেছি, আমার এই অসহায়ত্বের ভার আমার একার। কিন্ত আমরা যে সেই দেশ তৈরি করতে পারলাম না যেখানে দীপনরা, অভিজিৎরা, সাধারন মানুষেরা নিরাপদ জীবন যাপন করে, যেন মানুষ নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারে, ভিন্নমত প্রকাশ যেন নিজের মৃত্যুপরোয়ানার স্বাক্ষরচিহ্ন না হয়, যেন মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পায় তা আমরা কবে বুঝতে পারবো? শোকাহত পিতা আজ তার সন্তান হত্যার বিচার চান নি; শুভবুদ্ধির উদয়ের প্রত্যাশা করেছেন মাত্র। ‘পিতা সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে ভয় পায়’ বলে কবি নবারুন ভট্টাচার্য যে সময়ের কথা বলেছিলেন তা থেকে এই বক্তব্য কতদূর? একজন নির্ভিক মানুষ, একজন শিক্ষক আজ তার সন্তানের মৃত্যুতে কী বলছেন আমার কি তা শুনতে পাচ্ছি?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা হিসেবে যে বক্তব্য সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচারিত তা হলো যদি এই সরকার ক্ষমতায় না থাকে দেশ ‘জঙ্গী সন্ত্রাসীরা’ দখল করে নেবে, সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বিরোধী তৎপরতা বাড়বে। এই যুক্তিতে সরকার গণতান্ত্রিক অধিকারের অনেক কিছু নিশ্চিন্তে সংকুচিত করেছে, অনেক লেখক শিল্পী বুদ্ধিজীবী বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও মুখ বন্ধ রেখেছেন পাছে এই সরকারের ক্ষতি হয়। একের পর এক যখন সন্ত্রাসী হুমকি হামলা, লেখক প্রকাশক খুন, সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, ধর্মান্ধতা, জাতিগত ধর্মীয় বিদ্বেষ, দখল লুন্ঠন ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা বেড়েই যাচ্ছে তখন কি এই প্রশ্ন করতে পারি দেশে এখন কোন্ সরকার ক্ষমতায় আছে?

যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের হুমকি চীনের

দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে যে কোনো সময় যুদ্ধ বাঁধতে পারে। শুক্রবার চীনের নৌ-কমান্ডার অ্যাডমিরাল উ শেঙ্গলি এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে এ হুশিয়ারি দেন। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্থান টাইমসের। ওই ভিডিও কনফারেন্সে চীনা নৌবাহিনী প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রধান জন রিচার্ডসনকে বলেন, ‘যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তবে এটি উভয় রাষ্ট্রের নৌ কিংবা বিমানবাহিনীকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। এমনকি তুচ্ছ এ গোড়ামিতে যুদ্ধ পর্যন্ত বেঁধে যেতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার চীনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস লাসেন নামক এ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে রুটিন নজরদারি বলে দাবি করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-দফতরের বরাত দিযে রয়টার্স জানায়, ফ্রিডম অব নেভিগেশন ক্ষমতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌ-সীমানার যে কোনো জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ অধিকার রয়েছে। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি মানতে নারাজ। দক্ষিণ চীন সাগরে একটি দ্বীপপুঞ্জের অধিকার নিয়ে চীন আর ফিলিপিন্সের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসা চেয়েছে ফিলিপাইন। কিন্তু, চীনের দাবি বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের অধিকার তাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা মানবে না। আন্তর্জাতিক আদালত অবশ্য চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি নস্যাৎ করেছে। তারপরই ফিলিপিন্সের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। যে অংশকে চীন নিজেদের জলসীমা বলে দাবি করে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হানা দিয়েছে সেখানেই। উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় আমেরিকা ও চীনের নৌবাহিনীর প্রধানরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন। সেখানেই চীনের তরফ থেকে আমেরিকাকে জানানো হয়েছে, এসব ছোটখাটো ঘটনা থেকেই যে কোনো সময় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। চীনের জলসীমা ছেড়ে অবিলম্বে চলে যাওয়া উচিত ইউএসএস লাসেনের। তবে রণতরী ফিরিয়ে নেয়ার পথে এখনই হাঁটতে নারাজ আমেরিকা। ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত দীপপুঞ্জের জলসীমা অধিকার নিয়ে চীন ও ফিলিপিন্সের দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত মীমাংসা করতে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদালত এক শুনানির আয়োজন করে। ওই শুনানিতে বেইজিংয়ের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং পরবর্তী শুনানিতে ফিলিপিন্সের যুক্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানায় হেগ ভিত্তিক এ আদালত। খবর রয়টার্সের। এর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবিকে বিরোধিতা করে ২০১৩ সালেই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ফিলিপিন্স। এ মামলার নথিতে জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্য ল’ অব দ্য সি অনুযায়ী ২০০ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রসীমা দাবি করেছিল ফিলিপিন্স। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে ফিলিপিন্সের পক্ষ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন টালমাটাল সম্পর্ক : দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজ অনুপ্রবেশ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টালমাটাল ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ ২০১৩ সালে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌযানের অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজ তার দিক পরিবর্তন করেছিল। তার ঠিক পরের বছর, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সীমার ৯ মিটারের ভেতর দিয়ে চীনা যুদ্ধ জেট উড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের এক বিবৃতিতে চীনের এমন প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রয়টার্স।
নৌ প্রধানের হুশিয়ারি
যদি যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তবে এটি উভয় রাষ্ট্রের নৌ কিংবা বিমানবাহিনীকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। এমনকি তুচ্ছ এ গোঁড়ামিতে যুদ্ধ পর্যন্ত বেঁধে যেতে পারে
রুশ জঙ্গিবিমানকে তাড়িয়ে দিল মার্কিন রণতরী
জাপান সাগরের আকাশে দুটি রুশ জঙ্গিবিমানের গতিরোধ করেছে মার্কিন বিমান। মার্কিন নৌবাহিনী শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এদিন বলেন, মঙ্গলবার জাপান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগানের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে দুটি রুশ জঙ্গিবিমান ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় রুশ বিমানগুলোকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য ওই রণতরী থেকে চারটি এফ-১৮ জঙ্গিবিমান পাঠানো হয়। কোরীয় উপদ্বীপের আগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মার্কিন রণতরীটি দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইউএসএস রোনাল্ড রিগানকে এসকোর্টকারী একটি জাহাজ থেকে প্রথমে রুশ জঙ্গিবিমানগুলোর সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় এগুলোর গতিরোধ করতে এফ-১৮ পাঠানো হয়। রাশিয়া ও আমেরিকার নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ এনকাউন্টারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়।