Friday, September 30, 2016

ছোট পোশাকের কারনেই কি ধর্ষন?

বিদেশি পর্যটকদের পোশাক নিয়ে পর্যটন মন্ত্রীর মাথাব্যথা
নারী পর্যটকদের স্কার্ট বা আঁটোসাঁটো পোশাক পরা নিয়ে পর্যটন মন্ত্রীর নির্দেশিকাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক৷ এতে বলা হয়, বিদেশিনিদের পোশাক-পরিচ্ছদ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই হয়, বিশেষ করে মন্দির বা ধর্মস্থানে৷
মিনি স্কার্ট
‘বিদেশি মহিলা পর্যটকদের ভারত ভ্রমণকালে ছোট স্কার্ট বা আঁটোসাঁটো পোশাক না পরাই উচিত৷ কারণ সেটা ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থি৷’ হ্যাঁ, মোদী সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্বাগতিক ‘গিফট প্যাক’-এ এমনই এক নির্দেশিকা তুলে দেয়া হচ্ছে ভারতে আগত টুরিস্ট বা পর্যটকদের৷ বলা বাহুল্য, বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক৷
কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী মহেশ শর্মা আগ্রাতে গিয়েও বলেছেন যে, মহিলাদের আঁটোসাঁটো ড্রেস বা স্কার্ট পরে রাতবিরেতে একা একা নির্জন জায়গায় যাওয়াটা নিরাপদ নয়৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য নিয়ে সোরগোল উঠলে সরকারের তরফে সাফাই দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, নেহাতই পরামর্শ৷”
শুধু তাই নয়, তিনি এ কথাও বলেন যে, ইচ্ছামত ‘ড্রেস’ পরাটা অপরাধ৷ হিন্দু সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে এবং মহিলা বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নাকি এটা বলা৷ আর সেটাই লেখা হয়েছে ঐ নির্দেশিকায়৷ মন্ত্রীর কথায়, মথুরা, বৃন্দাবন বা বিখ্যাত হিন্দু তীর্থস্থানের মন্দিরগুলিতে কিছু অনুশাসন বিধি মেনে চলাই বাঞ্ছনীয়৷ এখনও গ্রামেগঞ্জে সনাতন ‘ড্রেস কোড’ মানা হয়৷ যেমন কোনো কোনো মন্দির বা ধর্মস্থানে ঢুকতে গেলে মাথা ঢাকতে হয়৷ কোথাও বা খালি পায়ে ঢুকতে হয়৷ এটা আদেশ নয় বা নৈতিক পুলিশিয়ানা নয়৷ তাই এর পেছনে অসহিষ্ণুতার অর্থ খোঁজাও অনুচিত৷ বিদেশি নারীদের সতর্ক করে দেওয়া মাত্র৷
নতুন দিল্লিতে বিদেশি নারী পর্যটক
বিপক্ষবাদীদের পাল্টা যুক্তি, ভারতীয় সংস্কৃতিতে দেশি-বিদেশি মহিলা পর্যটক কোথায় কী পোশাক পরবেন, সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি নেই৷ সেদিক থেকে মহিলাদের স্কার্ট পরাটা অ-ভারতীয় এমনটা বলা যায় না৷ তাঁদের কথায়, ভারতীয় সংস্কৃতির জিগির তুলে নিজেদের মত ব্যক্ত করাটা যেন হিন্দুত্ববাদীদের একটা ফ্যাশান হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান মন্তব্য করেছিলেন ‘টাইট’ বা খোলামেলা পোশাক ধর্ষকদের প্রলুব্ধ করে৷ সমাজের বড় একটা অংশ মনে করে, এই ধরনের নির্দেশিকায় বিশ্বের কাছে ভারত সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে৷ ভারত ভ্রমণের আগে বিদেশি মহিলা পর্যটকদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে না যে, ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা বিপন্ন? তাতে আখেরে ক্ষতি হবে দেশের৷ ভারতের পর্যটন ব্যবসা মার খাবে৷ বিশ্ব ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিলের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে নানা সমস্যা সত্ত্বেও পর্যটন শিল্প ব্যবসা করেছে আট লাখ কোটি টাকা৷ নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এসে জোর গলায় বলেছিলেন, পর্যটন শিল্পের প্রসার সরকারের লক্ষ্য৷ কারণ এতে বেশি উপকৃত হয় গরিবরা৷
মোদী সরকারের পর্যটন নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলও সরগরম৷ কংগ্রেস মনে করে মোদী সরকার কি চান নারী পর্যটকরা বোরকা পরে ঘুরুক? সিপিআই-এম নেত্রী বৃন্দা কারাতের সোজাসাপ্টা মন্তব্য, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী মহেশ শর্মা একজন ‘সিরিয়াল দোষী’৷ দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বলেন, আঁটোসাঁটো পোশাক পরলেই যদি ধর্ষিতা হোতে হয়, তাহলে পুলিশ প্রশাসনের থাকার দরকারটা কি? দিল্লির আম আদমি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিয়ালের কটাক্ষ, মোদী জমানার চেয়ে বৈদিক যুগে নারীদের পছন্দমত পোশাক পরার স্বাধীনতা ছিল অনেক বেশি৷ খাজরাহোর মন্দির গাত্রের মিথুন ভাস্কর্য তো প্রাচীন ভারতেরই৷ সেটা কি ভারতীয় সংস্কৃতির বাইরে?
যুগের সাথে পোশাক
যুগে যুগে পোশাকের ধরনে পরিবর্তন এসেছে৷ আদিমকালে ছিল পশুর চামড়া, গাছের ছাল আর এখন রয়েছে নানা ধরনের পোশাক৷ বর্তমানে দেশ, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা, কাজের ধরন, অনুষ্ঠান, পছন্দ ও ফ্যাশানের ভিত্তিতে বহু ধরনের পোশাক পরে থাকেন ।
শরীর প্রদর্শন মানেই কি ধর্ষককে আমন্ত্রণ?
ভারতে বেশিরভাগ ধর্ষণ মামলায় দেখা গেছে, ধর্ষিতা সালোয়ার কামিজ বা শাড়ি পরেছিলেন৷ অর্থাৎ যাকে বলা হয় ভারতীয় নারীর আদর্শ পোশাক, সে ধরনের পোশাকই তাঁরা পরেছিলেন৷ অর্থাৎ এ জরিপ থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, শরীর প্রদর্শন না করে বা তথাকথিত ‘আধুনিক’ পোশাক না পরেও শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন।
২০১৩ সালে এক জরিপে দেখা গেছে যে, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ জীবনে অন্তত একবার কোনো নারীকে ধর্ষণ করেছে৷ এর মধ্যে বেশিরভাগ পুরুষকেই কোনো আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়নি৷
ধর্ষণ যখন বিনোদনের মাধ্যম
ভারতের উত্তর প্রদেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ এর কারণ হিসেবে পুলিশ নারীদের উপর পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব, মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার ও ছোট পোশাক পরিধানকে উল্লেখ করেছে৷ নারীদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ পুলিশ বলেছে, সেখানকার পুরুষরা তাদের বিনোদনের অভাব পূরণ করছে ধর্ষণের মাধ্যমে৷
নারীদের দাবিয়ে রাখার হাতিয়ার
রাস্তা, অফিস বা যে কোনো পাবলিক প্লেসে পুরুষের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা৷ বিশেষ করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ায় নারীদের দাবিয়ে রাখতে পুরুষরা ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে৷
পরিচিতদের দ্বারাই বেশি ধর্ষণ
২০১৩ সালে ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, সে বছর ১০০ জন ধর্ষণের শিকার নারীর মধ্যে ৯৮ জন এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন, যারা তাঁদের পরিচিত৷ আদালতে যেসব মামলা ওঠে, বা গণমাধ্যমে যেসব ঘটনা প্রকাশ পায় সেগুলো বেশিরভাগই বাইরের লোকের হাতে৷ ফলে পরিচিত ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষণের ব্যাপারটি ধামাচাপা পড়ে।
যৌন নিগ্রহ সর্বত্র
ভারতে জন্মের আগে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ বেআইনি হলেও, খুব সাধারণ ঘটনা৷ ফলে পৃথিবীর আলো দেখতে পাওয়া মেয়েদের সংখ্যা এত কম যে, সমাজে নারী-পুরুষের অনুপাতে হেরফের হয়৷ এছাড়া বাল্যবিবাহ, কম বয়সে মা হওয়া, সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও মৃত্যুবরণ করছেন নারীরা৷ পরিবারের ভেতরেও চলে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ৷ এরপরও কি আপনারা ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করবেন?
মহিলা ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত এক এনজিও কর্মী মহম্মদ তাজমুল হক ডয়চে ভেলেকে বললেন, কে কী পরবে তা সরকার বেঁধে দিতে পারেন না৷ তবে হ্যাঁ, মন্দির, মসজিদ বা গুরদোয়ারার মতো ধর্মীয় স্থানের নিজস্ব কিছু নিয়মবিধি থাকলে তা অমান্য করা অনুচিত৷ যেমন মন্দির, মসজিদ, গুরদোয়ারায় জুতো পায়ে ঢোকা নিষেধ, মাথায় ঢাকা দেওয়া বা স্কাল ক্যাপ পরার প্রথা ইত্যাদি৷ খোলামেলা পোশাক ধর্ষকদের প্রলুব্ধ করে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মহিলারা স্কার্ট বা আঁটোসাঁটো পোশাক পরলে যদি ধর্ষণের শিকার হোতে হয়, তাহলে নাবালিকারা ধর্ষণের শিকার হয় কি করে? এই তো, কয়েকদিন আগে কলকাতায় অ্যাপ-নির্ভর এক ট্যাক্সিচালক এবং তাঁর বন্ধু একজন নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ট্যাক্সির ভেতরেই ধর্ষণ এবং হত্যা করার পর খালের জলে ফেলে দেয়৷ ঐ নাবালিকা তো উগ্র পোশাক পরেছিল না, তাহলে? আসলে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থা মূলত একটা মানসিক স্খলন, বলেন সমাজ কর্মী তাজমুল হক৷
চোখে পড়ার জন্যই যার জন্ম
মিনিস্কার্ট এমনই এক বস্তু, যা ৫০ বছর আগেও মানুষের নজর কেড়েছে এবং আজও কাড়ে৷ নন্দনতত্ত্বে নারীদেহের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা আর যৌন আবেদনের মধ্যে যতোটুকু ফারাক, মিনির ক্ষেত্রেও ঠিক ততটা৷ দেহ একই থাকছে, বাড়ছে কমছে শুধু হেমলাইন৷
‘উদ্ধৃতি চিহ্ন’
মিনির মজাই হলো, তা যা অবারিত রাখে, অর্থাৎ সুন্দর, সুডৌল পদযুগল৷ আবার তা অবলীলাক্রমে এমন একটা নান্দনিক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, সমালোচনা করার মতো আর কিছু থাকে না – নাকি থাকে?
টুইগি
খড়কুটোর মতো পাতলা হাত-পা-ওয়ালা এই মডেলটিকে আজও লন্ডনের সুইঙ্গিং সিক্সটিজ-এর প্রতীক বলে মনে করা হয়৷ আসল নাম লেসলি হর্নবি৷ পরবর্তী জীবনে অভিনয়ও করেছেন৷ আজও তাঁর ছবি দেখলে মনে হয়, টুইগি রক্তমাংসের মানুষ নন, তিনি একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টের থেকেও বড় – তিনি জীবন সম্পর্কে একটি মন্তব্য৷
মেরি কোয়ান্ট
লন্ডনের চেলসিতে ‘বাজার’ নামধারী একটি ফ্যাশন বিপণী চালাতেন মেরি কোয়ান্ট৷ পঞ্চাশের দশকের শেষেই আরো ছোট স্কার্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন, যা পর্যবসিত হয় ১৯৬৪ সালে তাঁর যুগান্তকারী সৃষ্টিতে: মিনিস্কার্ট৷ এই কাহিনির প্রামাণ্যতা নিয়ে হালে দ্বিধা দেখা দিয়েছে৷ কিংবদন্তী বলে, মেরি নাকি তাঁর প্রিয় মোটরগাড়ি, অস্টিন মিনির নামে খাটো স্কার্টটির নামকরণ করেন৷ এখানে মডেলদের সঙ্গে মেরি কোয়ান্ট (ডানদিকে)৷
হাই আর্ট
মিনিস্কার্ট ছিল স্ট্রিট ফ্যাশন, ষাটের দশকে লন্ডনের মেয়েরা খাটো স্কার্ট পরতে শুরু করে: মেরি কোয়ান্ট নিজেই এ কথা বলেছেন৷ কয়েক বছরের মধ্যেই সেই রাস্তার ফ্যাশন ‘ওৎ কুতুর’, অর্থাৎ হাই ফ্যাশনে পৌঁছে যায়৷ শুধু তাই নয়, স্বয়ং ফ্যাশন গুরু ইভ স্যাঁ লরাঁ তাঁর সুবিখ্যাত মন্ড্রিয়ান ড্রেসটিকে মিনি ড্রেস-ই করেছেন৷ পিয়েট মন্ড্রিয়ান ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের এক ওলন্দাজ।
গ্লোরিয়া স্টাইনেম
নারীবাদের প্রথম পর্বে যাঁরা নারীদের হয়ে কলম ধরেছিলেন এবং সোচ্চার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে পড়েন জার্মেইন গ্রিয়ার এবং গ্লোরিয়া স্টাইনেম৷ এঁরা কিন্তু ষাটের দশকে মিনিস্কার্টকে নারীমুক্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য করতেন এবং উভয়ে মিনিস্কার্টও পরেছেন৷
মিনিস্কার্টের ৫০ বছর
শাকিরা
কলম্বিয়ার এই গায়িকা বিশ্বজয় করেছেন গান গেয়ে৷ মঞ্চে তিনি যখন তাঁর শো দেন, তখন পঞ্চাশ বছরের পুরনো ফ্যাশান স্টেটমেন্ট মিনিস্কার্টকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না৷

Thursday, September 29, 2016

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হলে জাপানিরা বসে ‘সনি টিভি’ দেখবে : ট্রাম্প

এবার জাপানের ওপর ক্ষেপেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের জাপাননীতির সমালোচনা করে বলেছেন, তারা শুধু সুবিধা নেয়, বিনিময়ে কিছু দেয় না। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি কখনও হামলা হয়, জাপানিরা তখন ঘরে বসে সনি টিভি দেখবে। শুক্রবার আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসি ও এএফপির। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় ন্যাটোভুক্ত সেসব দেশের সমালোচনা করেন, যারা তাদের অতিরিক্ত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে অনুপাতে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) আর্থিক অনুদান দেয় না। এছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো যারা যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছে কিন্তু বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে না, তাদেরও সমালোচনা করেন তিনি। জাপান এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা-জাপানের মিত্রতা খুবই উপহাসের বিষয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, জাপানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে- যদি তারা আক্রান্ত হয়,
তাহলে তাদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা যদি আক্রান্ত হই, জাপানকে কিছুই করতে হবে না। তারা বাসায় বসে থাকতে পারবে এবং বসে বসে সনি টেলিভিশন দেখবে।’ তিনি বলেন, ‘জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। কিন্তু এর বিনিময়ে তারা কিছুই দেয় না। তাদের এর বিনিময় দিতে হবে। কারণ এখন আর ৪০ বছর আগের সময় নেই।’ প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। এর আওতায় জাপানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে রক্ষার কাজে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের পুরো খরচ জোরপূর্বক জাপানের কাছ থেকে নেয়া উচিত। তারা বর্তমানে ৫০ শতাংশ ব্যয় বহন করছে। ‘ট্রাম্প জানান, আমাদের উচিত তাদের নিরাপত্তা দেয়া বন্ধ করা। আর সেটা করা না হলেও কমপক্ষে তাদের এটা বন্ধ করে দেয়ার ভয় দেখানো উচিত। অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের ঘোষণা : রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের ঘোষণা দিয়েছেন। এ পরিষদের অনেকেই ইতিমধ্যে তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশও নিচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, এই পরিষদে মার্কিন ধনকুবের জন পলসন, নির্বাচনী পরিচালক স্টিফেন মিলার, নিউইয়র্কের বিনিয়োগকারী স্টিভেন নুচেন, সিনেট বাজেট কমিটির সাবেক সদস্য ড্যান কাউলাস্কিসহ মার্কিন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাবশালীরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে লক্ষ্যণীয়, ট্রাম্পের এই পরিষদে কোনো নারী অন্তর্ভুক্ত হননি। সোমবার ডেট্রয়েটে রিপাবলিকান দলের এই প্রার্থী মার্কিন অর্থনীতি বিষয়ে তার বক্তব্য রাখবেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক প্রস্তাবনার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। মিডিয়া অসৎ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী সমাবেশ থেকে একটি শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তার করা কৌতুক বিকৃত করায় তিনি মিডিয়াকে অসৎ বলে বর্ণনা করেন। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার লাউডন কাউন্টিতে নির্বাচনী সমাবেশে একটি শিশু কাঁদছিল। ট্রাম্প বলেন, প্রথমবার আমি শিশুর মাকে বললাম দুশ্চিন্তার কিছু নেই। শিশুটি এখানেই থাক। কিন্তু দু’মিনিট পরেই আমি আবার বললাম, হাহ্ বাচ্চাটি খুব সুন্দর।

ময়মনসিংহেও সেই একই শেখ রাসেল

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ফুটবলের দ্বিতীয় দিন ঘুচল গোলখরা। প্রথমদিন শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলশূন্য ম্যাচ গ্যালারিভর্তি দর্শকদের নিরাশ করেছিল। শনিবার রফিক উদ্দিন ভূঞা স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল না নামলেও গোলের দেখা পাওয়া গেছে। এদিন চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ফেনী সকার ক্লাব ২-০ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহেও দুর্ভাগ্য বয়ে নিয়ে এসেছে শেখ রাসেল। হারের বৃত্ত থেকে বেরই হতে পারছে না তারা।
গতবারের রানার্সআপরা এ নিয়ে চার ম্যাচে হারল। কোচ মারুফুল হক এজন্য দায়ী করেছেন খেলোয়াড়দের। ‘আমরা হেরেছি ওদের জন্যই। খেলতেই পারছে না ওরা’, নিজের খেলোয়াড়দের ম্যাচ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মারুফুল। শনিবারের ম্যাচে ফেনীর দুই গোলদাতা থুরাম ফ্রাংক ও চৌমিন রাখাইন। যথাক্রমে ৩৫ ও ৮০ মিনিটে এ দু’জনের দুটি গোল ফেনীকে পুরো তিন পয়েন্ট এনে দেয়। শেখ রাসেলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ব্যাংককের উদ্দেশে বিজলী কন্যা

অবশেষে ব্যাংককের উদ্দেশে উড়াল দিলেন ঢাকাই ছবির অ্যাকশন লেডি ববি। তার এ ব্যাংকক যাত্রা স্রেফ ভ্রমণের জন্য নয়। নতুন ছবি ‘বিজলী’র শুটিংয়ের জন্যই পুরো টিম নিয়ে ব্যাংককের উদ্দেশে আজ সকালে উড়াল দিলেন তিনি। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন তারা। বিজলী ছবিটির শুটিংও প্রায় শেষের পথে। বাকি আছে শুধু দুটি গান ও কয়েকটি সিকোয়েন্স। সেগুলো ব্যাংককের মনোরম লোকেশনে ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ববি। ব্যাংককে যাওয়ার আগে যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিজলী ছবির শুটিং শেষের পথে। আর যেটুকু কাজ বাকি রয়েছে সেটুকু সম্পূর্ণ করতেই ব্যাংককে উড়াল দিচ্ছি। আশা করি কাজ শেষ করে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এ ছবিটি প্রযোজনার মাধ্যমে নায়িকা পরিচয়ের পাশাপাশি প্রথমবার প্রযোজকের খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন এ নায়িকা। প্রসঙ্গত, ভারতের একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা রয়েছে এ নায়িকার। এছাড়াও ইফতেখার চৌধুরীর ‘ওয়ান ওয়ে’ নামের আরও একটি ছবি চলতি মাসেই মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই পরিচালকের ‘মালটা’ নামের একটি ছবির শুটিংও শেষ। ছবিটিও মুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি বাংলাদেশসহ ইউরোপেও মুক্তি দেয়া হবে বলে প্রযোজনা সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও সম্প্রতি একটি শাড়ির বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন ববি। এ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রায় দু’বছর পর মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ তাকে একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে দেখা গেছে।

Tuesday, September 27, 2016

হিলারি-ট্রাম্পের বাকযুদ্ধ

মুখোমুখি বিতর্কের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকানের ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি কম হয়নি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে দুই নেতা প্রথম টিভি বিতর্কে অংশ নেন। এসময়ও দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিন পর্বের ধারাবাহিক বিতর্কের প্রথম পর্বে বিপুল ব্যবধানে জয় পান হিলারি। এদিকে প্রার্থী নির্বাচনের সময় থেকে প্রথম পর্বের বিতর্ক পর্যন্ত হিলারিকে ঘায়েল করতে ট্রাম্প বেছে নিয়েছেন বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ও ই-মেইল কেলেংকারিকে। অন্যদিকে, হিলারি বেছে নিয়েছেন ট্রাম্পের জুয়ার (ক্যাসিনো) ব্যবসার প্রসঙ্গ। হিলারির জিজ্ঞাসা, ‘জুয়ার ব্যবসায় কিভাবে লোকসান হয়?’ জুয়ার ব্যবসায় যদি দেউলিয়া হন, তবে ট্রাম্প দেশের অর্থনীতি বাঁচাবেন কীভাবে। দেশকেও তিনি দেউলিয়া বানিয়ে ছাড়বেন। এছাড়া হিলারিকে ঘায়েলে ট্রাম্প তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন ক্যাথলিন উইলি এবং হুয়ানিতা ব্রড্রিক নামের দুই নারীকে। এরা সেই দুই নারী, যারা ক্লিনটনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। ক্লিনটন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে কোনো মামলাও হয়নি।
এমনকি হিলারিকে নানা দিক থেকে বিদ্ধ করতে তাকে আইএসের প্রতিষ্ঠাতা, মিথ্যাবাদী, শয়তান ও কুটিল নারী বলতেও দ্বিধা করেননি ট্রাম্প। এর জাবাবে ট্রাম্পকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে হিলারি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিজের কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পান। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলবেন। এছাড়া ট্রাম্প নানা ইস্যুতে মার্কিনিদের ভুল পথে নিয়ে যেতে চান বলে অভিযোগ তোলেন হিলারি। তিনি সব আমেরিকানকে আমেরিকান হিসেবে দেখেন না। হিলারি বলেছেন, ট্রাম্প এমনই একজন পুরুষ, যিনি নারীদের শুকরি, কুকুরি, ন্যক্কারজনক প্রাণী বলে অভিহিত করেন। পরিকল্পিত পিতৃত্ব-মাতৃত্বকে যিনি বন্ধ করে দিতে চান, নিরাপদ ও বৈধ গর্ভপাতকে যিনি শাস্তিযোগ্য মনে করেন, তিনি অন্তত নারীদের কিসে ভালো তা অনুবাধন করতে পারেন না। জাবাবে ট্রাম্প বলেন, কুটিল হিলারি মার্কিন অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবেন। তিনি সিরীয় শরণার্থীদের দিয়ে দেশ ভরে ফেলবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে হিলারি অযোগ্য মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে মৌলবাদী বিচারক নিয়োগ দেবেন, যারা বেঞ্চ থেকেই আইন জারি করবেন। কংগ্রেসের দরকার মনে করবে না। ট্রাম্পকে চরম বর্ণবিদ্বেষী বলে অভিযোগ করে হিলারি বলেন, 'ট্রাম্পের ভাবনা বর্ণবিদ্বেষ ছড়ায়। জাতিভেদ তৈরি করতে তিনি ঘৃণা ছড়ান। হিলারি আরও বলেন, ‘তিনি নিজের ক্যাসিনোতে কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরি দিতেন না।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিতর্কে কী দেখা গেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বিতর্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একেবারে ধরাশয়ী করে ফেলেছেন। বিতর্কের সময় ট্রাম্প ছিলেন খামখেয়ালী, সামঞ্জস্যহীন এবং অসংলগ্ন। তিনি পুরো বিতর্ককালে আইনশৃংখলা ছাড়া আর কোনও ইস্যুতেই তার বক্তব্যকে মনে রাখার যোগ্য করার মতো কিছুই করতে পারেননি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হিলারি ও ট্রাম্প ৯০ মিনিট ধরে বিতর্ক করেন। এই বিতর্কের পর নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক লেখায় এভাবেই দুই প্রার্থীর পারফর্মেন্স মূল্যায়ন করেন থমাস বি এডসাল। থমাস লেখেন, বিতর্ককালে ট্রাম্প তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ না করার বিষয়টি যৌক্তিক করতে গিয়ে দাবি করেছেন, 'আমার সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ হলো আমার মেজাজ'। তিনি তার দেউলিয়াত্ব, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা, ধনীদের ট্যাক্স কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বিশৃংখল অবস্থায় থাকা সম্পর্কে যা বলেছেন তার সব কিছুতেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিতর্ককালে হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন সুসঙ্গত এবং তথ্যভিত্তিক। তার বক্তব্যের সুন্দর দিকটি হলো দর্শকরা সহজেই তার কথা বুঝতে পেরেছেন। হিলারিকে খালি কলসি বেশি বাজে, কাজের বেলায় ঠনঠনাঠন বলে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। কিন্তু এই মন্তব্য ট্রাম্পের বেলাতেই বেশি প্রযোজ্য। বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা গেছে,
হিলারি আইসিসি থেকে শুরু করে পারমাণবিক অস্ত্র, সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পকে এ ধরণের ইস্যুর জন্য অপ্রস্তুত মনে হয়েছে। থমাস লেখেন, এই বিতর্কের ব্যাপারে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন কয়েকজনের ভাবনা জানতে চাই আমি। তাদের মধ্যে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের স্কলার নরম্যান অর্নস্টেইন ইমেইল জানান, বিতর্কের সময় ট্রাম্পকে রাগী, উদ্ভ্রান্ত, অস্থির এবং বেশির ভাগ সময় অসংলগ্ন মনে হয়েছে। তার জন্য বড় বাধা হলো তারমধ্যে প্রেসিডেন্টসুলভ বিনয়, মেজাজের ভারসাম্য এবং মৌলিক জ্ঞানের স্বল্পতা। এসব কিছুর ব্যাপারেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মিশিগান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিখেছিলেন, ট্রাম্প কেন তার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন না এ ব্যাপারে হিলারি যে অনুমানের কথা বলেছেন এটি ছিল বিতর্কমঞ্চের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল। আটলান্টার ইমোরি ইউনিভার্সিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালান আব্রামোভিৎজ লেখেন, যারা ট্রাম্পের বিরোধী তাদের কেউই বিতর্ককালে তার পারফর্মেন্সে প্রভাবিত হননি। বিতর্কে ট্রাম্পের থিম ছিল নিজেকে তুলে ধরার বাগাড়ম্বর। আর ক্লিন্টনের ৯০ মিনিটে ক্রমাগত গলা চড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধরাশয়ী করে ফেলার জোরালো চেষ্টা করেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ক্লিনটন বলেন, তিনি হচ্ছেন সেই মানুষ যিনি নারীদের শূকর,  বোকা এবং কুকুর সম্বোধন করেছেন। ক্লিন্টন যখন বলেন, ট্রাম্প লাতিন মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদোকে 'মিস শূকরী' এবং 'মিস গৃহিনী' সম্বোধন করেছিলেন, তখন ট্রাম্প হতাশ দৃষ্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

মা-মেয়ের পর ছেলেসহ সাবেক আমলার আত্মহত্যা

বিকে বানসাল
ছেলেসহ আত্মহত্যা করেছেন সালবিকে বান। ভারতের সাবেক এই আমলার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা ছিল বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে একটি 'সুইসাইড' নোটসহ বানসালের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে বানসালের স্ত্রী সত্যবালা বানসাল (৫৮) এবং মেয়ে নেহা (২৭) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। সে সময়ে তারা সিবিআই'র অভিযানের সময়ে নিজেদের অপদস্তের বর্ণনা দিয়ে সুইসাইড নোট লিখে যান।
এ ঘটনায় বানসালেল ছেলেকেও সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। মা-মেয়ের মৃত্যুর দু'দিন আগে ১৭ জুলাই দুর্নীতির মামলায় বিকে বানসালকে সিবিআই গ্রেফতার করে। পরে আগস্টে তিনি জামিন মুক্তি পান। বিকে বানসাল দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি ছিলেন। তদন্তে সিবিআই তার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের একটি ফার্মেসি কোম্পানির কাছ থেকে ২০ লাখ রুপি দাবি করে ৯ লাখ ঘুষ নেয়ার প্রমাণ পেয়ে মামলা করে। এছাড়া সিবিআই তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সে সময় নগদ ৬০ লাখ রুপি, ২০টি সম্পত্তির কাগজপত্র এবং ৬০টি ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য জব্দ করে।

হিযবুত তাহরীর নেতা ঢাবি শিক্ষক মহিউদ্দিনের বিচার শুরু

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র অধ্যাপক মহিউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জ গঠন করা হয়।  চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে উত্তরা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। আদালতের এপিপি তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাইদুর রহমান ওরফে রাজীব, কাজী মোরশেদুল হক ওরফে প্লাবন, এম এ ইউসুফ, তানভীর আহমেদ ও তৌহিদুল আলম চঞ্চল।
এদের মধ্যে তৌহিদুল আলম এ মামলায় পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক মহিউদ্দিনসহ পাঁচ আসামি আজ আদালতে হাজির হন। তাদের উপস্থিতিতেই আদালত চার্জ গঠন করেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল উত্তরা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া পলাতক তৌহিদুল আলম ছাড়া বাকি আসামিরাও বর্তমানে জামিনে আছেন।

হান্নান শাহ'র মরদেহ আসবে বুধবার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের মরদেহ বুধবার দেশে আনা হবে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনে জানাজা শেষে শুক্রবার গাজীপুর কাপাসিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে বর্ষীয়ান এই নেতাকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হান্নান শাহের ব্যক্তিগত সহকারী মো. শাজাহান শিরাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে কখন কোন ফ্লাইটে হান্নানর শাহের মরদেহ দেশে আনা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। এদিকে মঙ্গলবার বাদ এশা সিঙ্গাপুরের থেরাঙ্গর রোডের এঙ্গোলিয়া জামে মসজিদে বর্ষীয়ান এ নেতার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার। মঙ্গলবার ভোরে সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হার্ট সেন্টার নামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেকমন্ত্রী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন হান্নান শাহ। অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয় র্যাফেলস হার্ট সেন্টারে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই সেন্টারে চিকিৎসক ডা. অ্যালভিন এনজি'র নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সাবেক এই মন্ত্রীর হৃদযন্ত্রে সফল অস্ত্রোপচার করেন। তখন শাহ রেজানুর জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হান্নান শাহের হৃদযন্ত্রে চারটি রিং বসানো হয়। বিকালে করানো হয় এনজিওগ্রাম। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় খুলে দেয়া হয় লাইফ সাপোর্টও। কিন্তু ১৩ দিনের মাথায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে  সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। হান্নান শাহ গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় তিনি পাটমন্ত্রী ছিলেন।

'আ'লীগের সার্চ কমিটির ইসি সরকারের মেয়াদই বাড়াবে'

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের সার্চ কমিটি দিয়ে যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন হবে, তারা শুধু বর্তমান সরকারের মেয়াদই বৃদ্ধি করবে।' সোমবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সদ্য ঘোষিত ঢাকা জেলা বিএনপির (আংশিক কমিটি) পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। গয়েশ্বর দাবি করেন, 'নির্বাচন কমিশন গঠনে যারা সার্চ কমিটি গঠন করবে তারা আওয়ামী লীগ। যাদের কমিশনে নিয়োগ দেয়া হবে তারাও হবে আওয়ামী লীগের।' তিনি অভিযোগ করেন, 'নির্বাচন কমিশন গঠনের নামে লোক দেখানো সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরা ৫ জানুয়ারির চেয়ে একটি জঘন্য নির্বাচন করে বর্তমান সরকারের শুধু মেয়াদ বৃদ্ধি করবে।'
প্রায় ২৪ বছর পর ঢাকা জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এ কমিটি দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই সহযোগিতা করলে এ কমিটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।' তিনি বলেন, এটা নতুন কমিটির প্রথম সভা। এ সভায় আগের ও বর্তমান কমিটির অনেকে উপস্থিত হতে পারেননি। আরও সভা হবে। সবাই এ কমিটিকে শর্তহীন ও স্বার্থহীনভাবে সহযোগিতা করলে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হতে পারবে। হারানো গণতন্ত্রও পুনরুদ্ধার হবে। পরিচিতি সভায় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুর সভাপতিত্ব এতে অন্যদের বক্তব্য রাখেন- জেলার সিনিয়র সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম পল, কেন্দ্রীয় নেতা নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৬,৬৫৬ কোটি টাকা

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলো মূলধন সংকটে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মালিকানাধীন ৮ ব্যাংকের মধ্যে ৭ ব্যাংকই মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। যেখানে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে মাত্র ৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যাবে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তদারকির অভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। আর খেলাপি ঋণ বাড়লে মূলধন ঘাটতি বাড়বেই। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতি বেড়েছে।
ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে মূলধন ঘাটতি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নানা উদ্যোগের পরও মূলধন ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না সরকারি ব্যাংকগুলো। গত জুনে সরকারি খাতের ৭ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। গত মার্চে মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলোর ঘাটতি ছিল ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকের সংখ্যা ও পরিমাণ উভয় বেড়েছে। নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। জুন শেষে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ১৪ হাজার ১৭০ কোটি মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হওয়ায় ৬ হাজার ৭১ কোটি টাকা ঘাটতি পড়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ও মূলধন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি সোনালী ব্যাংকের। জুন শেষে ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৭৫০ কোটি। ঝুঁকিভিত্তিক এই সম্পদের বিপরীতে ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা মূলধন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটি রাখতে সক্ষম হয়নি ব্যাংকটি। মাত্র ১ হজার ৭৬৯ কোটি টাকা রাখায় মূলধন ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার মাত্র ৪ শতাংশ। যেখানে ন্যূনতম ১০ শতাংশ থাকতে হয়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৬ কোটি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকের। ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হারও ঋণাত্মক প্রায় ১০ শতাংশ। ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক ১১ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ হাজার ১৫৩ কোটি রাখার প্রয়োজন ছিল। রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা সম্পদের বিপরীতে মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে। মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ হারে ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা সংরক্ষণের বিপরীতে মাত্র ৫৭৫ কোটি টাকা রাখতে পেরেছে ব্যাংকটি। জনতা ব্যাংকের ঘাটতি ৬৬৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ৩ হাজার ৮৭০ কোটি টাকার বিপরীতে ৩ হাজার ২০৬ কোটি সংরক্ষণ করতে পেরেছে। অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২০০ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন ৮ ব্যাংকের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৮ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। মূলধনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় ব্যাংকটি। জুন শেষে ১৩ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ৬৯৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৪ হাজার ২২২ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয়েছে। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ২৯৮ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৭৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৭৬ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে ৬৪০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি হয়েছে। দেশের মোট ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৯টি বাদে ৪৭টি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় পরিমাণে তুলনায় বেশি পরিমাণে মূলধন রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে ওই ৯ ব্যাংকের ১৬ হাজার ৬৫৬ কোটি ঘাটতি হলেও অন্য ব্যাংকের অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করায় সামগ্রিকভাবে ঘাটতি কমে এসেছে। এছাড়া জুন শেষে ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের প্রান্তিক মার্চে এই পরিমাণ আরও বেশি ছিল ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমেছে।

Thursday, September 22, 2016

হিলারিকে ভালোভাবে ঘুমানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ৫০ দিনও বাকি নেই। তিনদিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে প্রধান দুই প্রার্থীর প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক। সেই টেলিভিশন বিতর্কের আগেই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে খোঁচা দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিতর্কের আগে হিলারিকে ভালোভাবে ঘুমিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে হিলারিকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বিতর্কে ট্রাম্পকে বেশি কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য। কেননা ট্রাম্প যতই কথা বলবেন ততই হিলারির লাভ হবে। খবর পলিটিকো অনলাইনের। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হিলারিকে কোনো প্রচারণায় যোগ দিতে দেখা যায়নি। এতে ৬৮ বছর বয়সী হিলারিকে ব্যঙ্গ করেন ৭০ বছরের ট্রাম্প। ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘আজ তার (হিলারির) ছুটির দিন।’ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে হিলারিকে স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁচা দেয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছেন না ট্রাম্প। অসুস্থতার দিকে ইঙ্গিত করেই এবার ঘুমানোর পরামর্শ দিলেন তিনি। হিলারি তার প্রচারণার নির্দিষ্ট সময়সূচি থেকে গতকাল ছুটি নিয়েছেন জানতে পেরে ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন আবারও ছুটি নিয়েছেন,
তার বিশ্রামের প্রয়োজন। ভালো করে ঘুমাও হিলারি- বিতর্কে দেখা হবে।’ মার্কিন নির্বাচনের আগে তিনটি প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রথম সিরিজ ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হবে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ তিনটি বিতর্কে একজন প্রার্থীর উপস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্পকে বেশি কথা বলার সুযোগ দিতে হিলারিকে পরামর্শ দিয়েছেন ডেমোক্রেট নেতারা। তাদের মতে, ‘এর মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই নিজের স্ক্রু ঢিলা করবেন।’ ট্রাম্প যত কথা বলবেন, ততই হিলারির লাভ। কেননা তার অধিকাংশই কথাই বিতর্কিত ও বেফাঁস। ডেমোক্রেটিক সিনেটরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটির চেয়ারম্যান জন টেসার বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) শুধু আজেবাজেই কথাই বলতে যাচ্ছেন, তাকে সুযোগ দিন।’ টেসারের মতে, তিক্ত মেজাজের ট্রাম্প বিতর্কের সময় তার টেলিপ্রোম্পটারের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারবেন না। কিছুদিন আগে ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের টেলিপ্রোম্পটার সরিয়ে রেখে বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে আন্দাজে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত রাষ্ট্রপ্রধানরা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, কোনো বিতর্ক বা সম্মেলনে স্ক্রিপ্ট বক্তব্যের পাশাপাশি টেলিপ্রোম্পটারের সাহায্য নিয়ে থাকেন, যেখানে কোনো আলোচনা উঠলে কম্পিউটারের মাধ্যমে তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা। স্ক্রিনে সেটি দেখে নিতে হয়।

জাপানে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর সিএনএন'র। দেশটির কোস্টগার্ড বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, কাদেনার এয়ারবেইজ থেকে উড্ডয়নের পর মার্কিন ফাইটার জেট বিমানটি ওকিনাওয়ার পূর্বতীরে আছড়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে জাপানিজ কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ওকিনাওয়ার দক্ষিণাংশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বৃহৎ অংশের অবস্থান রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আটক

তথাকথিত ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক বাংলাদেশীসহ চারজনকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। গত ২ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের 'রেড নোটিশ' জারি ছিল। তাকে ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আটক বাকি তিনজনের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক। আর বাকি দু'জন নেপালি ও মরক্কোর নাগরিক। তাদেরও নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়া পুলিশের আইজি খালিদ আবু বকর জানিয়েছেন, আটক বিদেশীদের সবাইকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত দু'জনের আইএস সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আটক বাংলাদেশীর বয়স ৩৭ বছর।
তিনি একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপের সন্দেহভাজন অস্ত্র পাচারকারী। গত ১৯ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। খালিদ আবু বকর বলেন, আটক বাংলাদেশী নাগরিক একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। গত ২ সেপ্টেম্বর তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অপর দুই বিদেশী নাগরিকের একজন নেপালি ও অপরজন মরক্কোর নাগরিক। নেপালি নাগরিক মালয়েশিয়ায় বিনোদন সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। আর ২৬ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিককে জঙ্গি সংগঠন আইএসের সদস্য সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তিনি এরআগে সিরিয়ায় প্রবেশের অপচেষ্টার দায়ে তুরস্কে আটক হয়েছিলেন। সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গত মে মাসে মালয়েশিয়ায় আসেন। ২ আগস্ট আটকের পর ২১ সেপ্টেম্বর তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আটক ৩৪ বছরের মালয়েশীয় নাগরিক একজন ব্যবসায়ীর গাড়িচালক ছিলেন। তিনি নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে আইএসের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন।

খালেদা জিয়ারও বিচার হবে: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আগুন সন্ত্রাসীদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী এবং তাদের হুকুমের আসামিদেরও বিচারের সম্মুখীন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাতে স্থানীয় গ্রান্ড হায়াৎ হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। খবর বাসস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের হত্যার বিচার চলছে, কাজেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা করবো। আগুন সন্ত্রাসীদেরও বিচার বাংলার মাটিতে হবে।’ হুকুমের আসামি হিসেবে খালেদা জিয়াকেও একদিন বাংলার মাটিতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনীতিবিদ ভুল করলে তার ভুলের খেসারত কে দেবে। ট্রেন যদি চলে যায় তাহলে পরের ট্রেনের জন্য তো অপেক্ষা করতেই হবে। তিনি বলেন, এখন তারা (বিএনপি) আবার রাজনীতিতে স্পেস চায়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে টানা ৯২ দিনের আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতির জন্য যদি দেশীয় আইনে কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়, তো হতেই পারে। তাকে রাজনৈতিক মামলা বলা যায় কি-প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে স্পেস নয়, কৃত অপরাধের জন্য তাদের জেলে যাওয়া উচিত। তখন অ্যারেষ্ট করা হয়নি সেটাই তার ভাগ্য (খালেদা জিয়ার)। তবে, একদিন এই অপরাধে খালেদা জিয়ার বিচারও বাংলার মাটিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসীদেরকে দেশের বিরুদ্ধে বিরোধী মহলের অপপ্রচার সম্পর্কে সোচ্চার হবার আহবান জানিয়ে বলেন, যে যেই স্থানেই থাকেন সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরবেন। এটা করার জন্য আমি আপনাদের সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। তাহলে আর কেউ আমাদের দেশ সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে আর দেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিত-ই-এলাহী চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, September 21, 2016

ইলেকট্রনিক বর্জ্য কত বড় সমস্যা?

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছে ১৯৭৭ সালে। একই বছর গঠিত হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ১৯৯২ সালে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় পরিবেশ নীতি। ১৯৯৫ সালে কার্যকর হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন। ১৯৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা। শিল্পকারখানার পরিবেশদূষণকারী বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য—প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নানা রকমের আদেশ-বিধান ও দিকনির্দেশনা রয়েছে পরিবেশ–সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি দলিলে। কিন্তু সেসব দলিলের কোথাও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সম্পর্কে কোনো কথা উচ্চারিত হয়নি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির ডিজিটাল স্তরে প্রবেশ করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, এবং আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি এমন এক পরিস্থিতির দিকে, যা সম্পর্কে এখনই সচেতন না হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন বিরাট ঝুঁকির মুখোমুখি হবে।
১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১৩ কোটি মুঠোফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার, টেলিভিশন সেট, ভিসিডি-ডিভিডি প্লেয়ার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রেফ্রিজারেটর, নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক খেলনা, ডিজিটাল ক্যামেরা, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি—আধুনিক মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য সব ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবহার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক বেড়েছে এবং দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। যে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ একসময় পেট পুরে তিন বেলা খাবার পেত না, সেই দেশে আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার এত বেড়েছে—এটা যে অনেক বড় আনন্দের বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এর উল্টো পিঠও আছে: সব ধরনের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো যে বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয় এবং সেসব বর্জ্যেরও যে সুব্যবস্থাপনা দরকার—এই সচেতনতা এ দেশে গড়ে ওঠেনি। এমনকি ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) কথাটাই এ দেশের অধিকাংশ মানুষের এখনো অজানা রয়ে গেছে। এটা যে কত বড় বিপদের কথা, তা অনুধাবন করা দরকার।
পৃথিবী একটা ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ হয়ে উঠেছে দুই দশকেরও বেশি আগে। পুঁজি ও প্রযুক্তির চলাচল হয়েছে অবাধ। সুতরাং বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটি মুঠোফোন—এই তথ্য এখন আর কাউকে বিস্মিত করে না। বিস্মিত হতে হয়, যখন দেখি যে প্রতিবছর ২৫-৩০ শতাংশ মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো কোথায় যাচ্ছে তা অধিকাংশ মানুষই জানে না, জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। শুধু মুঠোফোন নয়, কম্পিউটারসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিতে অনেক ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। যন্ত্রগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা না হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য যে ক্ষতিকর অবস্থা তৈরি হতে পারে, তা সম্পর্কে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো অনেক আগেই সচেতন হয়েছে এবং এ ব্যাপারে অনেক ধরনের আইনকানুন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে। শুধু তা–ই নয়, অনেক ধনী ও চালাক দেশ তাদের ইলেকট্রনিক বর্জ্য নানা কারসাজির মাধ্যমে রপ্তানি করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বরাত দিয়ে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা গত বছর মে মাসে এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, ২০১৪ সালে পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলেট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন। এর সিংহভাগ উৎপন্ন হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে, কিন্তু ৯০ শতাংশই রপ্তানি বা ‘ডাম্প’ করা হয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠন গ্রিনপিস লিখেছে, উন্নত দেশগুলো তাদের উৎপাদিত ইলেকট্রনিক বর্জ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি করে আসছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে থেকে। ব্যবহৃত বা সেকেন্ডহ্যান্ড কম্পিউটার, মুঠোফোন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অপেক্ষাকৃত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি বা পাচার করার মাধ্যমে সেগুলো নিষ্কাশনের উপায় খোঁজে। বাংলাদেশে সস্তা ও স্বল্পস্থায়ী মুঠোফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি ইলেকট্রনিক পণ্য আসে মূলত চীন, দক্ষিণ, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে। ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার শীর্ষে থাকা দেশ নরওয়ে, সুইডেনসহ উন্নত দেশগুলো বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে রাখা, রিসাইক্লিং কারখানা স্থাপন করা প্রভৃতি পদক্ষেপের পাশাপাশি এসব পণ্য উৎপাদনের পর্যায়েও কিছু বিধিবিধান করেছে। যেমন, তারা উৎপাদকদের টেকসই বা দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রপাতি উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ‘লাইফস্প্যান’ বাড়ানোকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সহায়ক একটা ভালো পন্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৩ কোটি মুঠোফোনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ১৩ কোটি ব্যাটারি কোথায় যাবে—এ কথা ভাবলেই আন্দাজ করা যাবে বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনঘনত্বের এই দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ভবিষ্যতে কত বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। মাটি, পানি, বাতাসসহ পুরো প্রাকৃতিক পরিবেশই মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ, পুনঃপ্রক্রিয়া ও নিষ্কাশন করা না হলে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত সিসা, সিসার অক্সাইড, পারদ, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়ামসহ নানা ধরনের ভারী ধাতু ও রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যেগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, যকৃৎ, বৃক্ক, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির সুফল পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে যেমন সীমাবদ্ধ নেই, তেমনই তার ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোও সব অঞ্চলেই ঘটতে বাধ্য। কিন্তু উন্নত দেশগুলো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দূরদর্শী, ভবিষ্যতের সমস্যা তারা আগে থেকেই অনুমান করতে পারে। সেসব সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনাও তারা আগে থেকেই করে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতিকে তারা নিজেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ করে তুলতে সচেষ্ট। আমরা যদি সামনের বিপদ দেখতে না পাই, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পাহাড় একটা সময় আমাদের জন্য এক বিরাট অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

সাংসদ আমানুরের বিচার

৪৬ মামলার আসামি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান ওরফে রানা। এর মধ্যে ৪৪টি থেকে অব্যাহতি এবং একটি স্থগিত রাখার ব্যবস্থা করেও সম্পূর্ণ উতরাতে পারলেন না তিনি। একটি খুনের মামলার জন্য তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। এ মামলাটি গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলেই একজন নিরপরাধ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি দায়মুক্তি পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা করা সম্ভব না হওয়ায় ২২ মাস পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত রোববার তিনি টাঙ্গাইলের জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালত তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠান। তবে যিনি হত্যাসহ ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের মামলার বিচার এড়াতে পেরেছেন, তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার বিষয়টি আমরা অনুমান করতে পারি। ফলে এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তাই সংশয় ও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
আমানুর রহমান টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্তাব্যক্তি। তাঁর ভাই ও সন্তানেরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। এই পরিবারের বিরুদ্ধে গত ২৫ বছরে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আমানুর একাই ৪৬টি মামলায় অভিযুক্ত। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে তাঁর ও তাঁর ভাইদের নাম আসে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলোর একটা অংশ সাক্ষী ও বাদীদের অনুপস্থিতির কারণে বাতিল হওয়া থেকে বোঝা যায়, ভয়ভীতি ছিল তাঁর অস্ত্র। প্রথমআলোর রোববারের সংবাদেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার পর একাধিক পরিবারের এলাকাছাড়া হওয়ার তথ্য এসেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারও বেশ কটি মামলা থেকে তাঁর অব্যাহতির ব্যবস্থা করে।
পলাতক অবস্থায়ও অন্তত দুবার জাতীয় সংসদে হাজিরা দিতে আসেন। ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা। টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ তো বটেই, স্থানীয় আওয়ামী লীগও আমানুরের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এলাকায় তাঁর পরিবার যে জমিদারসুলভ দাপট প্রতিষ্ঠা করে অন্যায়-অত্যাচার চালিয়ে আসছে, তারও অবসান হওয়া উচিত। অতীতে গাইবান্ধার এক সাংসদের বিরুদ্ধে এক শিশুকে গুলি করার মামলায় জামিন প্রশ্নে বিচারকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা দেখেছি। সাংসদ আমানুরের বেলায় সে রকম কিছু হওয়া একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। জনপ্রতিনিধির আসনে বসে নির্বিচার অপরাধ করে যাওয়ার ইতি ঘটানো জরুরি। মানুষ দেখতে চায় আইন সবার জন্যই সমান।

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক হামলা–বিস্ফোরণে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে শনিবার রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায়
জড়িত এক সন্দেহভাজনের বাসা ঘিরে রেখেছেন
এফবিআইয়ের সদস্যরা। নিউজার্সির এলিজাবেথ
এলাকা থেকে গতকাল তোলা ছবি। এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ তিন জায়গায় গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় তিনটি হামলা-বিস্ফোরণের ঘটনার পর রোববার রাতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটেছে। নিউজার্সির এলিজাবেথ রেলস্টেশনের কাছে সন্দেহজনক বিস্ফোরক দ্রব্য দেখার পর নিষ্ক্রিয় করতে গেলে তা বিস্ফোরিত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর হামলা-বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। নিউইয়র্কে গতকাল সোমবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুউমো গতকাল জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসাজশ আছে বলেই মনে হচ্ছে। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আহমাদ খান রাহামিকে (২৮) গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নিউজার্সির লিনডেন শহরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হন তিনি। পুলিশের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। রাহামি আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। লিনডেনের পুলিশ কর্মকর্তা জেমস সারনিকি বলেন, একটি বাড়ির প্রবেশপথে এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন বলে খবর পায় পুলিশ। এরপর পুলিশ সেখানে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন রাহামি হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশের এক সদস্য তাঁকে ডেকে তোলার চেষ্টা করেন।
তখনই রাহামি তাঁকে গুলি করেন এবং তাঁর পেটে আঘাত করেন। এ সময় পুলিশের টহল গাড়ির মধ্যে বসে ছিলেন পুলিশের আরেক সদস্য। রাহামি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। তবে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। পরে বন্দুকযুদ্ধে রাহামি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে আটক করা হয়। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চেলসি এলাকার ২৩ নম্বর স্ট্রিটে বোমা হামলায় আহত হন কমপক্ষে ২৯ জন। একই রাতে মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউড শহরের ক্রসরোড সেন্টার নামের এক বিপণিবিতানে ছুরি মেরে আট ব্যক্তিকে আহত করেন এক ব্যক্তি। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এদিনই দুপুরে নিউইয়র্কের পাশের অঙ্গরাজ্য নিউজার্সিতে পাইপবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে একটি চ্যারিটি র‍্যালি শুরুর কিছুক্ষণ আগে এ বিস্ফোরণে অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি। এসব হামলা নিয়ে তদন্ত শুরুর পর নিউইয়র্কে পাঁচজনকে আটক করার কথা জানা গেছে। ম্যানহাটনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর খবরে গতকাল বলা হয়, নিউজার্সির একটি রেলস্টেশনের কাছে একটি ব্যাগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন আহমাদ খান
ম্যানহাটনে বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে, ঠিক তার মধ্যেই সন্দেহজনক দ্রব্যগুলোর সন্ধান মিলল। নিউজার্সির এলিজাবেথ শহরের মেয়র ক্রিস্টিয়ান বলওয়েজ বলেন, এলিজাবেথ রেলস্টেশনের কাছে সন্দেহজনক এসব বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজে ব্যবহৃত স্কোয়াডের একটি রোবট এগুলোর একটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টাকালে তা বিস্ফোরিতও হয়। স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এটি তদন্ত করে দেখছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বাকি সন্দেহজনক দ্রব্যগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছেন। বলওয়েজ বলেন, দুই ব্যক্তি সন্দেহজনক দ্রব্যগুলো দেখে পুলিশকে খবর দেন। বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিত্যক্ত ওই ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু তার এবং একটি পাইপ বেরিয়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এদিকে সন্দেহজনক দ্রব্য পাওয়ার ওই খবরে রোববার নিউজার্সির নিউআর্ক লিবার্টি বিমানবন্দর ও এলিজাবেথ শহরের মধ্যে রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এএফপির খবরে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনটি হামলার ঘটনা যে সমন্বিতভাবে ঘটেছে, সেটার কোনো প্রমাণ নেই। তবে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গভীরভাবে বিভক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে দেশের নিরাপত্তা এক বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

২৩ হাজার বছরের পুরোনো বড়শি

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি গুহায় একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এক জোড়া বড়শি খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো প্রায় ২৩ হাজার বছর আগের। সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলের তৈরি এসব বড়শি আরও কিছু প্রাচীন জিনিসের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পড়ে ছিল। ওকিনাওয়া দ্বীপে অন্তত ৩০ হাজার বছর আগে মানুষ বসতি গড়েছিল বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে তথ্য–প্রমাণ বিরল। আধুনিক মানুষ সমুদ্রতীর থেকে দূরের দ্বীপগুলোয় প্রথম যাতায়াত শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে।
আদি মানুষ এই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সময় নিজেদের প্রয়োজনেই মাছ শিকার করতে শেখে। তবে এই কৌশল কীভাবে তারা রপ্ত করে এবং সেটাকে আরও উন্নত রূপ দিয়েছে, সেসব অস্পষ্ট। ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির কয়েকটি জায়গায় এ বিষয়ে গুটি কয়েক প্রমাণ মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, নৌ চালনার প্রযুক্তি ভৌগোলিকভাবে ব্যাপক ছড়িয়েছিল উত্তর থেকে মধ্য-অক্ষাংশ হয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল অঞ্চলে। নতুন তথ্য–প্রমাণ এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিমুরে ১৬ হাজার বছরের এবং পাপুয়া নিউগিনিতে ১৮ হাজার বছরের পুরোনো বড়শি পাওয়া গিয়েছিল। সেই হিসাবে জাপানের বড়শি জোড়াই সবচেয়ে পুরোনো। ওকিনাওয়ার ওই গুহায় আরও মিলেছে আংশিক বাঁকানো বড়শি, অন্যান্য উপকরণ, পুঁতির মালা এবং খাবারের ধ্বংসাবশেষ। জাপানি প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘অতি সুস্বাদু’ এক প্রজাতির কাঁকড়া শিকার করতে ওকিনাওয়ার ওই গুহায় লোকজন মাঝেমধ্যে যাওয়া–আসা করত।

Tuesday, September 20, 2016

বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি

পাঠক, সহজেই বুঝবেন শিরোনামটি রবিঠাকুরের একটি জনপ্রিয় গানের প্রথম কলি। শুষ্ক হৃদয় নিয়ে যখন নর-নারী দাঁড়িয়ে আছেন, তখন বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারিকে স্বাগত জানানোরই কথা। খবরের কাগজ খুললে বিভিন্ন খারাপ খবর মনটা বিষিয়ে দেয়। বিশেষ করে, কোনো কোনো কর্মকর্তাকে নিয়ে গণমাধ্যম যেসব তথ্য পরিবেশন করে তা লজ্জাজনক। কেউ পাথরকোয়ারিতে বোমামেশিন ব্যবহার করতে গিয়ে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে টাকা নেন। কেউ অফিসে বসে ঘুষ নেন গুনে গুনে। সেবাদানকারী সংস্থাগুলোতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। দূরের কথা বাদ থাক, রাজধানী ঢাকার খাল-বিল, নদী-নালা, সরকারি উন্মুক্ত প্রান্তর দখল হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হয় বটে, তবে থাকে না তার ধারাবাহিকতা। ফলে প্রভাব হয় ক্ষণস্থায়ী। পরিবহনব্যবস্থায় নৈরাজ্য জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে রাজপথে। সীমিত সম্মানজনক ব্যতিক্রম বাদ দিলে গড়ে স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার মান নিম্নমুখী। বলতে গেলে কোচিং সেন্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা যতটা হয়, তার চেয়ে বেশি হয় ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি।
সরকারি হাসপাতালগুলোর পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও রোগী সেবা পায় না। মফস্বলে থাকেন না বেশির ভাগ সরকারি ডাক্তার। অথচ বেতন নেন রাজকোষ থেকে। সাগর-রুনি, মিতু আর তনু হত্যার তদন্ত–প্রক্রিয়া একরূপ অচল হয়ে পড়ে আছে। সরকারি এমনকি বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে জালিয়াতিতে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের তো কোনো হিসাবই নেই। ঋণখেলাপিরা বরং বুক ফুলিয়ে চলেন সমাজে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনৈক্য পীড়াদায়ক। আবার অন্য দিকে উগ্র জঙ্গিবাদ আমাদের সব অর্জনকে ম্লান করতে তৎপর। ভালো খবরও আছে অনেক। বৈরী পরিবেশে এ দেশের কৃষক খাদ্য উৎপাদনে চমক সৃষ্টিকারী অবদান রাখছেন। তেমনটা ঘটছে পোলট্রি ও মৎস্য উৎপাদনে। আর ঘটতে যাচ্ছে পশুপালনেও। এগুলোতে সরকারের নীতিসহায়তা ছাড়াও রয়েছে বৈষয়িক প্রণোদনা। তৈরি পোশাকশিল্প খাত ক্রমবিকাশমান। প্রচুরতর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এখানে উদ্যোক্তা ও শ্রমিক শ্রেণির যৌথ প্রয়াস আর সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটেছে। তবে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে দেশটির। আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছি। কিন্তু দেশে বেঁচে থাকা যাবে কি না—এ নিয়ে সংশয়বাদীদের দোষ দেওয়া যাবে না। সংরক্ষিত বনভূমি বিরান করে ফেলা হয়েছে অনেকাংশে। সামাজিক বনায়নের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর সুফলও মিলছে ক্ষেত্রবিশেষে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু লাভজনক বৃক্ষরোপণের প্রবণতায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। সমতল করে ফেলা হয়েছে পাহাড় কেটে।
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ভুগছে দেশের প্রধান প্রধান সব শহর। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু মানুষ তাঁর ক্ষুদ্র বলয় থেকে বিচ্ছিন্ন প্রয়াস চালাচ্ছেন পরিস্থিতির অবনতি রোধে কিংবা উন্নতি ঘটাতে। সেগুলোও গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়েই জনগণের নজরে আনে। থাকে কিছু আশাজাগানো ঘটনাও। সেই সংখ্যাও একেবারে কম নয়। কোনো কোনোটি তো আলোড়নও তুলেছে জনজীবনে। আর এর একটি স্থান নেওয়ার কথা গিনেস বুকে, বিশ্ব রেকর্ডের দাবি নিয়ে। ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় না-ও হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এর সুফল ভেবে যে কেউ চমৎকৃত হবেন। দেশের নিম্নতম প্রশাসনিক ইউনিট উপজেলা। এর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। দেশের প্রত্যন্ত জেলা রংপুরের একটি উপজেলা তারাগঞ্জ। এর ইউএনওর নেতৃত্বে একটি দুঃসাধ্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে অতি সম্প্রতি। সেই উপজেলায় সাধারণ মানুষকে তিনি সংগঠিত করেছেন। সহায়তা নিয়েছেন স্থানীয় নেতাদের। উপজেলা পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তাদের নিয়েছেন আস্থায়। আর নিরঙ্কুশ প্রেরণা ও সমর্থন পেয়েছেন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের। প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে ইউএনও একটি পরিকল্পনা নেন ‘সবুজ তারাগঞ্জ গড়ি’ নামে। পরিকল্পনা করেন,
এক ঘণ্টায় আড়াই লাখ গাছ লাগাবেন তারাগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তার পাশে। এ সংখ্যার কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে এক ঘণ্টায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গাছ লাগিয়ে গিনেস রেকর্ড করেছে ফিলিপাইন। ইউএনও সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে অগ্রসর হন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়া একটি সম্মানজনক বিষয়। গিনেস বুক অব রেকর্ডস নামে মানুষের শ্রেষ্ঠ কার্যক্রম ও অসাধারণ প্রাকৃতিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৫৫ সাল থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের জিম প্যাটিসন গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত হয়ে আসছে। ১৯৯৮ সালে এসে এর বিষয়বস্তু ও প্রকাশনা পদ্ধতি অপরিবর্তিত রেখে নাম দেওয়া হয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। এই বইটিই একটানা ৬২ বছর ধরে অবিতর্কিতভাবে সব সময়ের সেরা প্রকাশনার মর্যাদা লাভ করেছে। একজন ইউএনওর এতে স্থান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের পুলকিত করে। এতে স্থান হোক আর না হোক, এ ধরনের সাংগঠনিক প্রতিভাও কিন্তু চমক সৃষ্টিকারী। প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেন ইউএনওরা মূলত বৈরী পরিবেশে কাজ করেন। তাঁদের ওপর প্রায় ক্ষেত্রেই কারণে-অকারণে ছড়ি ঘোরান স্থানীয় সাংসদ। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা তো আছেনই। আর বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার দ্বন্দ্বের দায়ও অনেক ক্ষেত্রে ইউএনওর ওপর বর্তায়। উপজেলায় দ্বৈত কর্তৃত্বের সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করেন।
তাই দায়িত্ব নিয়ে নতুন কোনো সৃজনশীল কাজে হাত দিতে থাকেন দ্বিধান্বিত। এ অবস্থাকেও নিজের অনুকূলে এনে সব মহলের সমর্থনে অনেক বড় কাজ করা যায়, তারই একটি নজির সৃষ্টি করলেন তারাগঞ্জের ইউএনও জিলুফা সুলতানা। এটা তাঁর অন্য সহকর্মীদের জন্যও প্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি সবুজ তারাগঞ্জ গড়ার একটি প্রচেষ্টা নিয়েছেন। কাজটি করেছেন কিন্তু সেই উপজেলার মানুষ। এখন ইউএনও তাঁদের বিবেচনা করছেন সত্যিকারের তারকা হিসেবে। ১৫৩টি রাস্তায় ৪০ প্রজাতির আড়াই লাখ গাছ রোপণে অংশ নিয়েছেন সমাজের সব স্তরের মানুষ। নারী ও পুরুষ, যুবা-কিশোর ও বৃদ্ধ, শিক্ষক-কর্মচারী, খেতমজুর থেকে শুরু করে সবাই। তাঁরা এ উপজেলাকে স্বপ্নের উদ্যান হিসেবে গড়তে চান। ভোরে ফজরের নামাজের পর সব মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তত্ত্বাবধায়কেরা বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে ড্রামে শব্দ তুলতেই গর্ত খুঁড়ে গাছের চারা লাগানো শুরু করেন তাঁরা। এর আগেই সব সাংগঠনিক প্রস্তুতি ছিল। প্রস্তুত ছিল গাছের চারাও। সেই গাছ পরিবেশবান্ধবও বটে। আম, কাঁঠাল, আতা, বেল, জলপাই, জামরুল, লটকন, আমলকী, নিম, অর্জুনসহ সবই দেশীয় প্রজাতির। এগুলো বড় হলে বৃক্ষনির্ভর প্রাণিকুল সহায়ক হবে। মানুষের জন্য হবে বড় সম্পদ। তবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে পরিবেশ। সন্দেহ নেই, তারাগঞ্জের খবরটির ন্যায় বিভিন্ন পরিসরে আরও অনেক প্রচেষ্টা চলছে।
সেই সব প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখারও সুযোগ নেই। এসব সাফল্যের মধ্যে তারাগঞ্জবাসী বিভিন্ন কারণে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। আর এটা সংগঠিত করেছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। এতসংখ্যক গাছের চারা জোগাড় থেকে শুরু করে সমাজের সব মানুষকে সংশ্লিষ্ট করা সহজসাধ্য নয়। আর গোটা সমাজ যেখানে সংশ্লিষ্ট, তখন এর সাফল্য তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক মনে হয়। ইউএনও একটি বদলিযোগ্য চাকরি। তিনি ইতিমধ্যে এক বছর পার করেছেন তারাগঞ্জে। হয়তো থাকবেন আরও কিছুদিন। এই সময়কালেই গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তিনি নিতে পারবেন এমনটা আশা করেন। গিনেস বুকে স্থান পেলেন কি না, এটা আমাদের প্রধান বিবেচ্য নয়। আমরা দেখলাম সদিচ্ছা থাকলে আর কুশলী হলে অনেক বড় কাজেও গোটা সমাজকে সম্পৃক্ত করা যায়। আর তা করতে পারেন ইউএনও পর্যায়ের একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাও। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বপ্নের উদ্যান হবে বলে তাঁর এ আশাবাদের সঙ্গে তো গোটা সমাজই অংশীদার। তারাগঞ্জবাসীর এ সম্মিলিত উদ্যোগ আমাদের অসংখ্য হতাশার মধ্যে অবশ্যই বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

মমতার সিঙ্গুর জয় এবং টাটাকে আমন্ত্রণ

দীর্ঘ ১০ বছর আন্দোলনের পর অবশেষে মমতা জয় করে নিয়েছেন সিঙ্গুর। তুলেও নিয়েছেন এই আন্দোলনের ফসল। প্রথমে রাজ্যপাটে অধিষ্ঠিত হওয়ার পথ। আর দ্বিতীয়ত, সিঙ্গুর আন্দোলনকারীদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের জমি। দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তাই মমতা পশ্চিমবঙ্গের একচ্ছত্র নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের লক্ষ্যে বামফ্রন্ট সরকার টাটাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এই রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগের জন্য। টাটাও সম্মত হয়েছিল এই রাজ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তার ন্যানো গাড়ি নির্মাণের জন্য একটি কারখানা গড়তে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেদিন সিঙ্গুরের ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটার হাতে তুলে দিয়েছিল। টাটাও শুরু করেছিল গাড়ির কারখানা নির্মাণের কাজ। কিন্তু আপত্তি তোলেন এই ৯৯৭ একর জমির অন্তত ৪০০ একর জমির মালিকেরা। তাঁরা দাবি তোলেন, না কিছুতেই তাঁরা তাঁদের জমি তুলে দেবেন না টাটার হাতে। শুরু হয় আন্দোলন। হাল ধরেন মমতা। সঙ্গে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। রাজ্যব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। মমতা নাছোড়বান্দা, ‘না কিছুতেই এই জমি দেওয়া যাবে না টাটাকে। মানি না রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণকে। ফিরিয়ে দিতে হবে এই জমি কৃষকদের।’ তাই এ জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতা একটানা ২৬ দিন অনশন করেন সিঙ্গুরে।
কলকাতার ধর্মতলার সমাবেশে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা টাটার পণ্য বর্জনের ডাক দেন। কর্মীরা সভামঞ্চে টাটার পণ্য পুড়িয়ে নষ্ট করে টাটাকে এ বার্তা দেন, এই রাজ্যে টাটার ঠাঁই নেই। অন্যদিকে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলতে থাকে। নির্মাণ করা হয় বহু কাঠামো। কিন্তু মমতার তীব্র আন্দোলনের মুখে টাটার তৎকালীন কর্ণধার রতন টাটা ঘোষণা দেন, তারা সিঙ্গুরে আর ন্যানো গাড়ির কারখানা করবেন না। এই কারখানা সরিয়ে নিয়ে যান গুজরাটের সানন্দে। এদিকে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রথম মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। রায় যায় টাটার পক্ষে। মামলা ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার রায় হয় গত ৩১ আগস্ট। সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়ে দেন, বামফ্রন্ট আমলে ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ ছিল অবৈধ। তাই সব জমি ফিরিয়ে দিতে হবে কৃষকদের। শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের বিজয় উৎসব। মমতা সিঙ্গুর বিজয় করে তাঁর প্রতিপক্ষ টাটা গোষ্ঠীকে ফের পশ্চিমবঙ্গে শিল্পে বিনিয়োগের ডাক দেন। বলেন, ‘আসুন আপনারা। আরও জমি আছে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে আপনারা শিল্প গড়ুন। গাড়ির কারখানা গড়ুন।’ এর আগে মমতা মাদার তেরেসার সন্ত হওয়ার দিন ছুটে গিয়েছিলেন ভ্যাটিকান সিটিতে। সেখান থেকে জার্মানির মিউনিখে। মিউনিখে তিনি একটি বৈঠক করেন দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে।
সেই বৈঠকে টাটার প্রতিনিধিও ছিলেন। এখানেই মমতা টাটার প্রতি শিল্প গড়ার ডাক দিয়ে বলেন, ‘একটা জায়গার কথা ভুলে যান। অনেক জায়গা আছে। সেখানে আপনারা বিনিয়োগ করুন।’ এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গুরের বিজয় উৎসব মঞ্চ থেকে মমতা ফিরিয়ে দেন সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের হাতে। যাঁরা ক্ষতিপূরণের টাকা নেননি, তাঁদের হাতে তুলে দেন অর্থের চেক। পাশাপাশি টাটাকে এই রাজ্যে শিল্প গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এক মাস সময় দিলাম, আপনারা ভাবুন। এখানে শিল্প গড়ুন। আমাদের গোয়ালতোড়ে এক হাজার একর জমি আছে। জমি আছে পানাগড় ও হাওড়ায়। আপনারা পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শুরু করুন শিল্প স্থাপনের কাজ।’ মমতা এ কথাও জানান, আর জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। প্রয়োজনে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে জমি কিনে নেব। যদিও মমতার এই ডাকে টাটা সাড়া দেয়নি এখনো। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সিঙ্গুরের মতো পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি এলাকায় বাম আমলে অধিগ্রহণ করা জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন শুরু করেছেন জমিদাতারা। তাঁরা দাবি করেছেন, সিঙ্গুরের মতো তাঁদের অধিগৃহীত জমিও ফিরিয়ে দিতে হবে। এ ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আর পশ্চিমবঙ্গে অধিগ্রহণ করা জমিতে শিল্প স্থাপন করা যাবে না?
বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে উল্লাস উপনগরী-সংলগ্ন আলিশা মৌজায় তৎকালীন রাজ্যসরকার একটি ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল মিষ্টি তৈরির কারখানাগুলোর জন্য মিষ্টিহাব বানানোর উদ্দেশ্যে। সিঙ্গুর মামলার রায় ঘোষণার পর এই জমি ফেরত দেওয়ার জন্য জমিদাতারা আন্দোলন শুরু করলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি মেনে নিয়ে মিস্টিহাব অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইভাবে শিলিগুড়ির কাওয়াখালীতে উপনগরী গড়ার জন্য বামফ্রন্ট আমলে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এই জমিও ফেরত দেওয়ার দাবিতে শিলিগুড়িতেও শুরু হয়েছে আন্দোলন। পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরেও অধিগৃহীত প্রায় ৩ হাজার একর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন জমিদাতারা। ২০০৭ সালে এখানে রিলায়েন্স গোষ্ঠী, ইমামি গোষ্ঠী, জয়বালাজি গোষ্ঠী, ডিভিসি ও ভারতীয় রেলকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই জমি দেওয়া হয়েছিল। শেষ কথা, মমতা সিঙ্গুর বিজয় করেছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে তা হলো, এভাবে যদি অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন চলে, তবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ভাগ্য কী হবে? শিল্পপতিরা কোন বিশ্বাসে এই রাজ্যে পা দেবেন? যদিও মমতা তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাজ্য সরকারের ভূমিব্যাংকে রয়েছে প্রচুর জমি। সেখান থেকেই দেওয়া হবে শিল্প স্থাপনের জমি। কিন্তু সেই জমি শিল্পপতিদের পছন্দ হবে কি না, সেই প্রশ্নটিও এখন অবশ্য ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
অমর সাহা: প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি।

নিউইয়র্কে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ আহত ২৯

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ কমপক্ষে ২৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চেলসি এলাকার ২৩ নম্বর স্ট্রিটে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ অবস্থার মধ্যে আজ সোমবার থেকে এই শহরে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। এক সপ্তাহ আগে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কাবস্থায় ছিল। সে পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এ ঘটনা ঘটল। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুইমো ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ছিল বোমা বিস্ফোরণ এবং সন্ত্রাসীদেরই কাজ। তবে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’ এর আগে নিউইয়র্কের মেয়র বিল দ্য ব্লাসিও বলেন, বিস্ফোরণের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, হামলার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত।’
একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় একটি ডাস্টবিন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই ডাস্টবিনের ছবি দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউইয়র্কের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান জেমস ও’নেইল বলেন, এটি ছিল বড় ধরনের বিস্ফোরণ। যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে এলাকায় অনেকগুলো বার, রেস্তোরাঁ এবং বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। লোকজন সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সেখানে ভিড় জমায়। বিস্ফোরণের পরে উদ্ধারকাজ চালায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী। আহত ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার ড্যানিয়েল নিগ্রো বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বেশির ভাগই কাচ ও ধাতব পদার্থের আঘাতে আহত হয়েছেন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, আহত সবাই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দে তাঁদের কানে তালা লেগে যায়। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের জানালার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্থানীয় একটি নাইটক্লাবের কর্মী রুডি অ্যালসিড বলেন, প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের সবকিছু কাঁপছিল।
বিস্ফোরণের পরপর সেখানে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করা হয়নি। ঘটনাস্থলের কয়েক ব্লক দূরে তল্লাশির সময় একটি প্রেশার কুকার উদ্ধার করা হয়। সেটিতে তার জড়ানো ছিল। এদিকে শনিবার দুপুরে নিউজার্সির বিচ টাউনে পাইপবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে একটি চ্যারিটি র্যা লির প্রস্তুতি চলছিল। র্যা লি শুরুর কিছুক্ষণ আগে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে অবশ্য কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে নিউইয়র্কের ঘটনার কোনো সংযোগ নেই বলে জানিয়েছেন, মেয়র বিল দ্য ব্লাসিও। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিস্ফোরণের বিষয়টি অবগত রয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘বলেছিলাম না, আমাদের আরও কঠোর হতে হবে!’ তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন বিপরীত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় কোনো ঘটনায় দ্রুত উপসংহার না টেনে পুরো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ।’

দেশকে ভয়ংকর পথে ঠেলে দেবেন হিলারি

টেক্সাসের নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প l এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের অভিবাসন নীতি খুব নরম। শনিবার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে হিলারির অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে এ কথা বলেন ট্রাম্প। আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেখা যাচ্ছে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই কমছে। সাত সপ্তাহ আগেই দুজনের মধ্যে জোর লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। প্রচারণার ভাষাও ক্রমেই বেশি করে তিক্ত হয়ে উঠছে। টেক্সাসের সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ একেবারে বন্ধ করে দেবেন। আর এর ফলে পুরো দেশ এক ভয়ানক পরিস্থিতির মুখে পড়বে। অভিবাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী লড়াইয়ের একটি বড় হাতিয়ার। অভিবাসীদের বিষয়ে তিনি প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন আকছার। কয়েক মাস আগে ট্রাম্প বলে বসেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিবেশী মেক্সিকো থেকে আসা অনেক অভিবাসীই মাদক চোরাচালানি ও ধর্ষক। শনিবারের সভায় ট্রাম্প দৃশ্যত এটা নিশ্চিত করলেন, অভিবাসীদের মুখের কথায় আক্রমণ তিনি চালাতেই থাকবেন। তাতে স্প্যানিশভাষী ভোটারদের বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সে পথ ছাড়ছেন না।
সভায় ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা প্রতিদিন নিহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের সীমান্ত উন্মুক্ত হচ্ছে। নির্দোষ মার্কিন নাগরিকেরা হামলার শিকার হচ্ছে, মারা যাচ্ছে বিনা কারণে।’ ট্রাম্প সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছি। স্নেহময় বাবা তাঁর সন্তান হারানোর ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন।’ রিপাবলিকান প্রার্থী আরও বলেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে নির্বাহী আদেশের ক্ষমতাবলে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেবেন। ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার বন্দোবস্ত করবেন। লঙ্ঘন করবেন সংবিধান। পুরো দেশকেই ভয়ংকর পথে ঠেলে দেবেন তিনি। সভায় থাকা ট্রাম্প সমর্থকদেরও কেউ কেউ বলেন, তাঁদের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরা অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন অভিবাসন নীতি শিথিল করার পক্ষে। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, কেবল ভয়ানক সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তিনি ফেরত পাঠাবেন। হিলারির এ নীতি ট্রাম্পের নীতির ঠিক বিপরীত। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল দেবেন। আবার অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাওভাবে ধরে ধরে ফেরত পাঠাবেন। এদিকে হিলারির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অধিকতর উদার বলে পরিচিত বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেন। দুজন গত শনিবার ওহাইওতে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন।

Monday, September 19, 2016

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি

একুশ শতকে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নির্ভর করে মূলত সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের ওপর। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে শিক্ষিত যুবকদের নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য করার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, তাইওয়ান ও কোরিয়ায় অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবসমাজ মুখ্য ভূমিকা রাখছে। আমাদের গ্যাস ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, মানবসম্পদই আমাদের বড় সম্পদ। এই মানবসম্পদই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। ১৯৭১ সালে দেশটি যখন স্বাধীন হয়, তখন মাত্র ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন আছে ৩৮টি। সরকার উচ্চশিক্ষাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের পরিমাণ ক্রমাগতভাবে কমতে থাকায় ভবিষ্যতে বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে না। অন্যদিকে ১৯৯৩ সালে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫। ২৩ বছরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে: বর্তমানে সংখ্যাটি তিন লাখের বেশি। ভবিষ্যতে আরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নত নয়, আন্তর্জাতিক মানের নয়।
এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নইলে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে যাবে; বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম না-ও হতে পারে। কাজেই উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত সনাতন পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছি। আমি পাঠদান শুরু করি অসচেতনভাবে শিক্ষাগুরুদের পাঠদান রীতি অনুকরণ করে, বেশির ভাগ নবীন শিক্ষক যেভাবে শুরু করেন। এটা বলা যায় যে সনাতন পাঠদান পদ্ধতি একুশ শতকের জন্য উপযুক্ত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারছে না, গ্র্যাজুয়েটরা কর্মজীবনে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করছেন না। শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তক থেকে পড়ানো নয়, কিংবা শ্রেণিকক্ষে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকের কথা শোনা নয়। প্রশ্ন-উত্তর পর্ব না থাকায় এবং পাঠদান পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষকনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি অর্জনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। বর্তমানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকেন।
শিক্ষক তাঁর ক্লাসের শিক্ষার্থীরা কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্বল ও কোন কোন ক্ষেত্রে শক্ত তা ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করে থাকেন। ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্টের জনপ্রিয় টেস্টগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি যেমন (১) কনসেপ্ট টেস্ট, (২) পোর্টফলিও এবং (৩) মাডি টেস্ট। একটি কথা বলা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে না। শিক্ষকেরা ছাত্র পড়ানোর জন্য বেতন পান, কিন্তু আমাদের অনেকেই আর্থিক প্রাপ্তি ছাড়াই গবেষণার কাজে বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে থাকেন। অধ্যাপকেরা তাঁদের গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নতুন ধ্যানধারণা নিয়ে দারুণ উৎসাহ দেখিয়ে থাকেন, পক্ষান্তরে তাঁদের পাঠদান-সম্পর্কিত নতুন পদ্ধতি নিয়ে মোটেই আগ্রহ দেখাতে দেখি না। এ অবস্থার পরিবর্তন হতে হবে। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ই পঠিত বিষয়বস্তু নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন। গ্রুপ ওয়ার্ককে উৎসাহিত করা হয়। তবে বড় আকারের ক্লাসে শিক্ষকের পক্ষে ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে—বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিক্ষককেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতিতে এক শিক্ষার্থী বিষয়বস্তু বোঝার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভর করেন না। কিছু শিক্ষার্থী এই পদ্ধতি পছন্দ করতে পারেন। আমরা দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে পারি। আমরা ক্লাস টেস্ট এবং এক বা দুটি পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে কোর্সে শিক্ষার্থীদের গ্রেড নির্ধারণ করে থাকি।
পরীক্ষার খারাপ দিক নিয়ে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়। ফলে তাঁদের মুখস্থনির্ভর হতে হয়। অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, উত্তরের জন্য সময় নির্ধারণ বিষয়টি শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত করা যায় না, এটা প্রশাসনিক বিষয় হতে পারে। মূলত প্রশাসনিক সুবিধা ও নকল করাকে কঠিন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়ে থাকতে পারে। পরীক্ষার প্রশ্নগুলো কোর্স শিক্ষক প্রণয়ন করে থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে প্রস্তুত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ওপেন বুক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করতে হয় না, তবে সময়ের সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়। কোন প্রশ্নের উত্তর কোন বইয়ের কোন অংশে পাওয়া যাবে, তা জানা না থাকলে বিভিন্ন বই ঘাঁটাঘাঁটিতে সময় নষ্ট হয়। অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পান এবং উত্তরের জন্য তাঁদের মুখস্থনির্ভর হতে হয় না। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় পান, বিভিন্ন সোর্স থেকে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লেষণ ও বিশ্লেষণ করার সময় পান। ফলে বিশ্লেষণ ও উদ্ভাবন করার ক্ষমতা অর্জন করতে থাকেন। উল্লেখযোগ্য ত্রুটি হচ্ছে,
অনেক শিক্ষার্থী সমাধানের চেষ্টা না করে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সমাধান নকল করেন। এসব কারণে প্রজেক্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের পদ্ধতি দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতির চারটি স্তম্ভ হচ্ছে আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, ই-সার্ভিস ও ডিজিটালাইজেশন। শিক্ষার সব স্তরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ইংরেজি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাতির স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য বাংলা ভাষা ও অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিফলিত হতে হবে। বেশিসংখ্যক মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের কোর্স প্রতিটি প্রোগ্রামে পড়াতে হবে, এসব কোর্স শিক্ষার্থীদের সমাজসচেতন করে এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। শিক্ষা পদ্ধতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নশীল ও অধিকাংশ উন্নত দেশ সনাতন শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করে Outcome Based Education (OBE) গ্রহণ করেছে। মনে রাখতে হবে,
শিক্ষা একটি বিমূর্ত বিষয়, এর ধারণা গতিশীল। শিক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মাত্র ৭১৯ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটারের দেশ সিঙ্গাপুর ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হওয়ার পর ৫০ বছরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অকল্পনীয় উন্নতি সাধন করেছে। দেশটি তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রারম্ভিক পর্যায়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছে; এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে। সিঙ্গাপুর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। ধীরগতির শিক্ষার্থীদের জন্য চার বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। কম মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাধারা প্রবর্তন করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদহীন এই দেশটি এখন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি গড়তে সচেষ্ট। আমাদেরও অর্থনৈতিক উন্নতির স্বার্থে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যুগোপযোগী করার সময় এসেছে।
এম এম শহিদুল হাসান: উপাচার্য, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ।
vc@ewubd.edu

বাণিজ্যিক ভবনে সবজি চাষ

বিষয়টি অবাক করার মতোই বৈকি! ভবনের ভেতরে গাছ নিয়ে অনেক গবেষণা কিংবা লেখালেখি হয়েছে। এমনকি বাস্তবিক অর্থে এমন অনেক নির্মাণের উদাহরণও দেখা যায় আমাদের দেশের স্থাপত্য ভাবনায়, যার শুধু বাইরের আবরণীতেই সবুজ গাছ শোভা পায়। তবে একবার ভেবে দেখুন তো—আপনি যে অফিসে বসে দিন-রাত কাজ করছেন, তার সভাকক্ষের ওপরে ঝুলে আছে লাল টমেটো, অভ্যর্থনাকক্ষে শোভা পাচ্ছে বাঁধাকপি কিংবা ফুলকপি কিংবা অফিসে ঢোকার সময় দেখতে পেলেন ধানগাছের বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্য, সতেজ চিচিঙা আর করলা ঝুলে আছে আপনার টেবিলের পাশের দেয়ালেই। অবাক হওয়ার মতোই বিষয় নয় কি? আর অবাক করা কাজটিই বাস্তবে করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোনো ডিজাইনারস’, যাদের নকশা এবং তত্ত্বাবধানে জাপানের রাজধানী টোকিওতে নির্মিত হয়েছে নয়তলাবিশিষ্ট ‘পাসোনা আরবান ফার্ম’ প্রতিষ্ঠানটি। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনের কাজের ফাঁকে কর্মীদের প্রকৃতির স্পর্শ দেওয়া, বিভিন্ন ঋতুতে বৈচিত্র্যের সমাবেশ ঘটানো। সেই সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানকার কর্মীরা ভবনে উৎপন্ন সতেজ শাকসবজি দিয়েই তাঁদের প্রতিদিনকার সকাল কিংবা দুপুরের বেশির ভাগ খাবার সারেন, এমনকি অতিথিদেরও আপ্যায়ন করা হয় এসব দিয়ে।
৫০ বছরের পুরোনো প্রায় ১৯ হাজার ৯৭৪ বর্গমিটারের (৪৩ হাজার বর্গফুট) ভবনটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দুই শতাধিক প্রজাতির শাকসবজি আর ফুল-ফলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন এই অফিসের কর্মীরা নির্ভেজাল খাদ্যের জোগান পাচ্ছেন। অফিসের সব কর্মীকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্থাপনাটি নির্মাণে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিরলস কাজ করেছেন একদল অভিজ্ঞ কৃষিবিদ। অফিসের ভেতরে এই ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও আলো-বাতাস নিয়ন্ত্রণ করে। শক্তির অপচয় কমানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে আলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সাধারণের থেকে প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ কম শক্তিসম্পন্ন। আর এর জন্য অফিসের সবাইকে বিশেষভাবে স্থাপত্য-কৃষি জ্ঞানের ওপর সমন্বয়িক অভিজ্ঞতা রাখতে হয়, পরিবেশ ঠিক রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়, এমনকি সবাইকেই কৃষিকাজে অংশগ্রহণ করতে হয়। এখন তাঁরা কাজ করছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ভবনটিতে কর্মরত সবারই দিনের বেশির ভাগ খাদ্যের জোগান হচ্ছে, তেমনি এর কারণে কর্মীদের যাতায়াতের খরচ কমিয়ে যানবাহন ব্যবহার ও শক্তির অপচয় কমানো হয়েছে। ভবনটিতে যৌথভাবে মাটিবিহীন (হাইড্রোফোনিক) ও মাটিতে ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি–বিষয়ক পিএইচডি গবেষক সবুর তালুকদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ উপায়গুলো খুব সহজেই আমাদের দেশে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব কম খরচেই তা করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন মনমানসিকতার পরিবর্তন আর নিজস্ব কিছু প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, আর এ ক্ষেত্রে হাইড্রোফোনিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে আমাদের মাটির উর্বরতার কারণেও খুব কম সময়ে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারি। এবার চোখ ফেরানো যাক আমাদের দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ বড় বড় শহরের অফিস ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর দিকে। কম করে হলেও এসব জায়গায় বাণিজ্যিক ভবনের উচ্চতা ছয়তলার কম নয়। এগুলোর রয়েছে সুবিশাল ছাদ, পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও বিস্তর কাচ দিয়ে ঘেরা বহিঃআচ্ছাদন, যেখানে বেশির ভাগ স্থাপনার প্রায় ৬০ শতাংশের বেশিই আচ্ছাদিত, প্রায় ১০-১৫ শতাংশ মাটি বা সবুজ অংশ। অনেক ভবনে সবুজের পরিমাণ এর থেকেও কম, যে কারণে ভবনের ভেতরে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবাহের বড়ই অভাব। এমতাবস্থায় শহরের সবুজের পরিমাণও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। আমরা যদি স্বেচ্ছায় স্থপতি, প্রকৌশলী ও কৃষিবিদের সাহায্য নিয়ে অন্তত নিজেদের প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ আরবান ফার্মিংয়ের কাজ শুরু করে দিতে পারি, তাহলে অচিরেই আমাদের বসবাসের অনুপযোগী শহরকেও পৃথিবীর বুকে সব থেকে স্বাস্থ্যসম্মত বসবাসের উপযোগী সবুজ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।
আমাদের স্থপতিরা যেকোনো নকশা প্রণয়নে প্রয়োজনবোধে কৃষিবিদের নিয়ে (যাঁরা বিশেষ প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ খাদ্য কিংবা সবুজ উৎপাদনে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ) টিম গঠন করতে পারেন। সেই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে বর্তমানের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায়ও বিশেষ একটি অনুচ্ছেদ সংযোগ করা যেতে পারে—এসব ক্ষেত্রে স্থাপনার কাঠামো, সময় ও ধরন হিসাব করে যেখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লোর এরিয়া রেশিওতে কতটুকু কৃষি উৎপাদন কিংবা সবুজের সমারোহ সম্ভব, সেটি উল্লেখপূর্বক তার উপযোগিতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা না হয় এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাতে সঠিক মনিটরিং থাকতে হবে। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বাসা কিংবা অফিসে সময় কাটাতে একপ্রকার বাধ্য হন। শরীর ও মনের ওপর এর প্রভাব তাঁদের কর্মক্ষমতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। তা ছাড়া, বাণিজ্যিক ভবন ও অফিসগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতির ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। তাই আমরা যদি বাণিজ্যিক অফিস ভবনগুলোতে সাধারণ নিয়মে অথবা হাইড্রোফোনিক উপায়ে সবজি চাষ করতে পারি, সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায়। আর এমন মনোভাব ও ইচ্ছাশক্তিই হয়তো বদলে দেবে আমাদের শহরগুলোকে দূষিত এবং অস্বাস্থ্যকর নগরীর দায়ভার থেকে।
সজল চৌধুরী: সহকারী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
sajal_c@yahoo.com

নির্বাচন রিয়েলিটি শো নয়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গত শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানে
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়
হাততালি দেন তাঁর সমর্থকেরা। ছবি: এএফপি
আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ধরনের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। তিনি ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হওয়াটা টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো নয়। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আগে রিয়েল এস্টেট ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ধনকুবের ট্রাম্প টিভির জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো তারকা ছিলেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্সে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমর্থনে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এই প্রথম কোনো একক সভায় অংশ নিলেন তিনি। সভায় মিশেল ওবামা প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন। হিলারির পক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি তাঁর স্বামীর আট বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার বিষয়েও মুখ খোলেন মিশেল। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আছেন, যাঁরা গত আট বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করছেন এবং করেই যাচ্ছেন। আবার আমার স্বামী এ দেশে জন্ম নিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
...আমি বলব, বারাক ক্ষমতায় থাকার সময়ে এসব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিয়েছেন। তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।’  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন কি না ট্রাম্প তা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার একেবারে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিলেন। এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে মাত্র গেল বৃহস্পতিবার দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মেছেন বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়। পরে এক সভায় ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে নেন। এর পরপরই গত শুক্রবারের সভায় মিশেল ওবামা কথাগুলো বলেন। সভায় মিশেল বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়াটা টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো নয়। প্রেসিডেন্ট হওয়া মানে টুইটারে অপমানসূচক কথা বলা বা অপমান করে ভাষণ দেওয়া নয়। একজন মানুষ একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার অসামান্য দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি পারবে না—এখানে বিচার্য বিষয় এটাই।
ফেয়ারফ্যাক্সে মিশেল ওবামা
মিশেল বলেন, ‘একজন প্রার্থী যদি কথাবার্তায় অসাবধানী হন বা হুমকি দেন, তিনি যদি ভীতি সৃষ্টি করেন বা মিথ্যা কথা বলেন, তাঁর যদি লক্ষ্য পূরণে কোনো স্বচ্ছ পরিকল্পনা না থাকে, যাঁরা দেশের জন্য অসামান্য অবদান রাখেন এমন ব্যক্তিদের অসম্মান করেন; আমি বলে দিচ্ছি—তাঁরা এ ধরনের প্রেসিডেন্টই হবেন। বিশ্বাস করুন, এঁরা এমন ধরনেরই প্রেসিডেন্ট হবেন।’ হিলারির ভূয়সী প্রশংসা করে মিশেল ওবামা সভায় বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী বাছাইপর্বে জিততে না পারলেও তিনি সবকিছু ছেড়ে যাননি। দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মিশেল বলেন, ‘আমি বলছি, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য যে গুণাবলির দরকার তা হিলারির আছে। ...আমি সত্যি সত্যি সত্যিই চাই হিলারি প্রেসিডেন্ট হোন।’ এ বছর মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণা বেশ তিক্ততা ও উত্তেজনায় পূর্ণ। এই প্রচারণা থেকে এত দিন বেশ দূরেই ছিলেন মিশেল ওবামা। শুক্রবারের সভার মধ্যে দিয়ে এই তপ্ত নির্বাচনী প্রচারণায় পদার্পণ ঘটল মিশেলের। এর আগে স্বামীর দুবারের নির্বাচনী প্রচারণায় কাছে কাছেই ছিলেন তিনি। তবে সেই লড়াইগুলোতে এবারের মতো এত তিক্ততার সৃষ্টি হয়নি।