Saturday, September 19, 2009

ইরাকে বন্দিশিবির ক্যাম্প বুকা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকের সবচেয়ে বড় বন্দিশিবির ‘ক্যাম্প বুকা’ গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের পর থেকে এই শিবিরে হাজার হাজার মানুষকে বন্দী করা হয়। সেসব বন্দীকে হয় মুক্তি, নয়তো ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
গত বছর ইরাক সরকারের সঙ্গে ক্যাম্প বুকা বন্ধ করা নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্দিশিবিরটিতে ১৪ হাজার বন্দী ছিল। এদের বেশির ভাগই কোনো মামলা ছাড়াই মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর শিবিরে আটক ছিল।

ইয়েমেনে সেনা অভিযান ৮০ জন বেসামরিক লোক নিহত

ইয়েমেনে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় ৮০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। দেশটির শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাতে গিয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেনা হামলায় বেসামরিক লোকজনের হতাহতের এ ঘটনা তদন্তের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইয়েমেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের আমরান প্রদেশের আদি গ্রামের বারাতা নামের একটি রাস্তার পাশে গত বুধবার উদ্বাস্তু লোকজনের ওপর যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ৮০ জন বেসামরিক লোক মারা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উদ্বাস্তু লোকজন রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেনাবাহিনীর বিমান হামলা তাদের ৮০ জনের প্রাণ কেড়ে নিল। নিহত লোকজনের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই হামলায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, শিয়া জাতিগোষ্ঠীর ‘হুথি’ বিদ্রোহীরা উদ্বাস্তু লোকজনের মধ্যে আশ্রয় নেওয়ায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ডায়ানা ও চার্লসের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন রানিমাতা

ডায়ানা: হার ট্রু স্টোরি বইটি লেখার জন্য এন্ড্রু মর্টনকে সহায়তা করেছেন প্রিন্সেস ডায়ানা—খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর মনে ‘গভীর আঘাত’ পেয়েছিলেন রানি এলিজাবেথ (বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মা)। ১৭ বছর আগে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক জীবনীতে রানি এলিজাবেথের এই অনুভূতির পাশাপাশি রাজপরিবারের নানা অপ্রকাশিত কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
কুইন এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদার: দ্য অফিশিয়াল বায়োগ্রাফি শীর্ষক জীবনীতে রাজকীয় বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কে রানি এলিজাবেথের ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। টেলিগ্রাফ।
টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের জন্য উপস্থাপক জোনাথন ডিম্বলেবির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রিন্স চার্লস খোলামেলা কথা বলায় রানি এলিজাবেথ খুশি হতে পারেননি। সাক্ষাত্কারে চার্লস স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না।
এটন কলেজের সাবেক প্রভোস্ট স্যার এরিক এন্ডারসনকে দেওয়া ধারাবাহিক সাক্ষাত্কারে নাতির বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কে এলিজাবেথ তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন। এতে তিনি এন্ডারসনকে বলেছেন, ‘বিয়ে সম্পর্কে কথা বলতে যাওয়া মানেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা।’
১৯৯২ সালে এন্ড্রু মর্টনের বইতে ফাঁস করে দেওয়া হয় যে, আশির দশকে কমপক্ষে পাঁচবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন চার্লস। বইটি প্রকাশের পর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, এটি লেখায় মর্টনকে সহায়তা করেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা।

ইন্দোনেশীয় পুলিশ এবার নিশ্চিত শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নুরদিন মোহামেদ মারা গেছেন

ইন্দোনেশীয় পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তালিকার শীর্ষস্থানীয় পলাতক জঙ্গি নুরদিন মোহামেদ নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা এবার নিশ্চিত। গতকাল পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মধ্য জাভার সোলো শহরের কাছে এক অভিযানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে নুরদিনও রয়েছেন। গত মাসেও ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে নুরদিনের মৃত্যু হয়েছে। পরে অবশ্য এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। এএফপি।
নুরদিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশপ্রধান বামবাং হেন্দারসো জানান, জুলাই মাসে জাকার্তায় ম্যারিয়ট হোটেলে বোমা হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিটি নিহত হয়েছেন। জাকার্তার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসির সাংবাদিক জানান, নুরদিনের মৃত্যুর ব্যাপারে পুলিশ এবার নিশ্চিত। কারণ, তাঁর আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখেছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, নুরদিন জঙ্গিগোষ্ঠী জেমাহ ইসলামিয়ার সদস্য ছিলেন। ২০০২ ও ২০০৫ সালে বালিতে বোমা হামলার জন্য ওই জঙ্গিগোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়।
সোলোর কাছে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ নুরদিনের ওই গোপন আস্তানার খবর পায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তারা গতকাল ভোরের দিকে ওই বাড়ির কাছ থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন গর্ভবতীও রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য চারটি মৃতদেহ জাকার্তা পাঠানো হয়েছে।
নুরদিনের জন্ম মালয়েশিয়ায়। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর তিনি পালিয়ে ইন্দোনেশিয়া চলে আসেন। ধারণা করা হয়, জেমাহ ইসলামিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন অংশের নেতৃত্ব দিতেন নুরদিন।

জুমাতুল বিদা ও আল-কুদ্স দিবসের তাত্পর্য by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের বিদায়কালীন শুক্রবার তথা শেষ জুমার দিন মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এ জুমার দিনটি রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে ‘আল-কুদ্স দিবস’ পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাত্পর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। সাপ্তাহিক জুমার নামাজ মুসলমানদের বৃহত্তর জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। দিন হিসেবে জুমাবার বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। আর এ জুমাবার রমজান মাসে হওয়ায় তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। তাই জুমাতুল বিদাসহ মাহে রমজানের প্রত্যেক জুমাবারে ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ থাকে। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একটি মাস ত্যাগ-তিতিক্ষার সঙ্গে সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার পর এ দিনটিতে জুমার নামাজ আদায় করে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানান। মসজিদে মসজিদে ধর্মীয় নেতা বা ইমাম-খতিবগণ ‘আল-বিদা, ইয়া শাহরু রামাদান’ অর্থাত্ ‘শুভ বিদায়’ বলে বিশেষ খুতবা দেন।
মাহে রমজানে জুমাতুল বিদার জামাতে সংযমের একটি পরীক্ষা হয়। কেননা এদিন মসজিদে প্রচুর ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম হয়। এ সময় নিজেকে সংযত, সংকুচিত করে অপর মুসলমান ভাইকে নামাজের স্থান ছেড়ে দেওয়া হলো সংযমের পরিচয়। তাই মাহে রমজানের শেষ জুমার নামাজটি সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর নির্দেশমোতাবেক জুমার দিন তথা শুক্রবার প্রত্যেক বালেগ মুসলমান বান্দার ওপর জুমার নামাজে শরিক হওয়া ওয়াজিব—যদি সে এমন শহর বা জনপদে বসবাস করে, যেখানে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। যদিও সব ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে সমানভাবে আদায় করা অত্যাবশ্যক, তথাপি পবিত্র কোরআনে শুক্রবারের নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে সব মুসলমানকে এদিন একত্রিত হয়ে জুমার নামাজ আদায়ের তাগিদ প্রদান করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের চেয়ে জুমার নামাজের সামাজিক গুরুত্ব অনেক বেশি, বিশেষত জুমাতুল বিদার তাত্পর্য ও মাহাত্ম্য সর্বাধিক। জুমার নামাজ অপরিহার্যভাবে জামাতের সঙ্গে আদায় করা আবশ্যক বিধায় একাকী আদায় করার বিধান নেই। তাই জুমাতুল বিদা হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় নামাজ। আল্লাহ তাআলা দিবা-রাত্রির মধ্যে কয়েকটি পুণ্যময় দিন ও রাতকে মানুষের জন্য বিশেষভাবে মর্যাদাবান করেছেন। রমজান মাসের সর্বোত্তম রজনী হলো লাইলাতুল কদর, আর সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা, যা মাহে রমজানে পরিসমাপ্তিসূচক শেষ শুক্রবারে পালিত হয়। এদিন মুমিন মুসলমানদের ঈমানি সম্মিলন হয়। এদিনে এমন একটি সময় আছে যে সময় মুমিন বান্দার মোনাজাত ও ইবাদত আল্লাহ পাক বিশেষভাবে কবুল করেন। এ সময়টি হলো দ্বিতীয় খুতবার আজানের সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।
এ দিনটির প্রতি অমনোযোগী বা গাফেল না হয়ে এর বরকত হাসিল করা বাঞ্ছনীয়। রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান রমজান মাস পেল, কিন্তু সারা বছরের গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নিতে পারল না, তার মতো হতভাগা আর নেই।’
জুমাতুল বিদা রমজানুল মোবারকে হওয়ায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে এটি বিশেষভাবে আত্মিক উন্নতির জন্য খুবই উপযোগী। মাহে রমজানে নামাজের মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ ও রহমত অন্বেষণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যে তিনটি বিষয় জুমাতুল বিদাকে আল্লাহর করুণা, দয়া, ক্ষমা তথা মাগফিরাত ও নাজাত লাভের দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তা হচ্ছে মাহে রমজান, জুমাতুল বিদা এবং রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘আল-কুদ্স দিবস’। জুমাতুল বিদা নামাজের জন্য ধর্মপ্রাণ রোজাদারদের কাছে এ দিনের মর্যাদা বিশেষভাবে মহিমান্বিত। জুমাতুল বিদা বা রমজান মাসের শেষ শুক্রবারের বিশেষ তাত্পর্য ও ফজিলত বিদ্যমান। এ দিনে মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। জুমাতুল বিদার আগেই রোজাদারদের যাকাত-ফিতরা দিয়ে দেওয়া উচিত, যা দ্বারা নিজেরা যেমন বেশি সওয়াব পাবেন, তেমনি অন্যদের হকও আদায় হয়ে যাবে।
জুমাতুল বিদার বিশেষ তাত্পর্য এই যে, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র মহামতি হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহ তাআলার মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুনর্নির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’। বায়তুল্লাহ ও মদিনার মসজিদে নববীর পর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হচ্ছে ‘বায়তুল মোকাদ্দাস’ বা ‘মসজিদ আল-আকসা’। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদিদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কবল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য নতুন শপথ গ্রহণ করেন। তাই মাহে রমজানের জুমাতুল বিদা তথা শেষ শুক্রবারকে ‘আল-কুদস দিবস’ বলা হয়।
মাহে রমজানের সমাপনীসূচক জুমাতুল বিদার নামাজে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে রোজাদার মুসল্লিরা দেশ-জাতির উন্নয়ন, আল-কুদসের মুক্তি এবং মুসলিম উন্মাহর ঐক্য, সংহতি, শান্তি ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে পরম ভক্তি ও আন্তরিকতাসহকারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মসজিদে ইতিকাফ ছাড়াও এ দিনটি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দোয়া-ইস্তেগফার, তাসবীহ-তাহলীল, জিকির-আজকার ও দরুদ শরিফ পাঠ করার মধ্যে অতিবাহিত করা উচিত। মাহে রমজানের রোজা কতটুকু সফল হলো, রোজার মাসে আমরা কতটুকু উন্নত হলাম তা মূল্যায়নের দিবস হলো জুমাতুল বিদা। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে জায়েজ কাজগুলো যথাযথ পালন করে নাজায়েজ কাজ থেকে নিজেদের হেফাজত করে মাহে রমজানের পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করেন এবং রমজান মাসের সমাপ্তিকালীন জুমাতুল বিদায় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও অশেষ পুণ্যলাভের সৌভাগ্য প্রদান করেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। সাংগঠনিক সম্পাদক, আল-কুদ্স কমিটি বাংলাদেশ।
dr.munimkhan@yahoo.com

কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাস

সম্প্রতি কুষ্টিয়া গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে নেতিবাচক খবরের জন্য, যা একজন কুষ্টিয়াবাসী হয়ে আমার জন্য খুবই লজ্জাকর। প্রথম আলো ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে এ জেলার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরমপন্থী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যের কথা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় এখন প্রায় প্রতিদিনই রক্তের গন্ধ পাওয়া যয়। খুনোখুনির উত্সবে মেতে উঠেছে চরমপন্থী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ায় (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯)।
এরই মধ্যে গত ২০ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালক কুষ্টিয়ায় এসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কুষ্টিয়ায় হঠাত্ এই খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে সড়ক ও জনপথের ১৮ কোটি টাকার দরপত্রের নিয়ন্ত্রণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (জিকে প্রকল্প), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯) আর এর পেছনে মদদ দিচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, রাজনৈতিক মদদ না থাকলে এ ধরনের বিস্তার ঘটতে পারে না (প্রথম আলো, ২০ আগস্ট, ২০০৯)। তিনি যথার্থই বলেছেন।
এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীরা কিছু এলাকায় ফিরে এসে তাদের কার্যক্রম আবার পুরোদমে শুরু করেছে। কুষ্টিয়া জেলায় এখন সরকারি দল ও বিরোধী দলে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পদ খল করে রয়েছে। এতে তাদের সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজি কার্যকলাপ আরও সহজ হয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী আপনারাই তো বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তবে কেন এসব সন্ত্রাসীকে আপনাদের দলে জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছেন। আমরা তো আপনাদের কাছে বেশি কিছু চাই না। আমরা চাই একটু শান্তি।
মুজিবর রহমান, কুষ্টিয়া।

ক্রসফায়ার সাঈদ আহমেদ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: কালে কালে একই বয়ান

দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এখন ‘ক্রসফায়ার’ই একমাত্র উপায় বলে মনে করছে সরকার—১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোয় খবরটি পড়ে সেই বহুল প্রচলিত প্রবাদ ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’ মনে পড়ে গেল। প্রথম আলোর ওই খবর থেকে জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের আট মাসে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে র্যাব ও পুলিশের হাতে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই খবরের পাশেই আরও দুজনের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আর ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকজনের মৃত্যুর খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাত্ সাকল্যে এ সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩।
অথচ প্রায় সবাই জানেন এবং প্রথম আলো ওই খবরে উদ্ধৃতও করেছে যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের দিনবদলের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল, ‘দল ক্ষমতায় গেলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে’। আর ক্ষমতায় গিয়ে প্রথম আট মাসেই ক্রসফায়ারের নামে এতগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো! বিডিআর বিদ্রোহের পর হেফাজতে থাকাকালীন ৪০ জনেরও বেশি বিডিআর সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে হিসাবে ধরলে পরিসংখ্যান বলবে, এ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অবশ্য মুখে দিনবদলের কথা বললেও সেই আগের দিনের চাতুর্য আর কুটিলতা বজায় রেখে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বলে যাচ্ছেন, এগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সেই শব্দ, দাড়ি, কমা অপরিবর্তিত রেখে ‘ক্রসফায়ারের’ স্থলে ‘এনকাউন্টার’ উল্লেখ করে বলে যাওয়া অবিশ্বাস্য গল্পকে।
এ ধরনের মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাপরবর্তী সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তরফ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা, ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ, আমাদের নিজস্ব তথ্যানুসন্ধান—এসবের মাধ্যমে আমাদের হাতে বিশ্বাস করার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে যে ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘এনকাউন্টার’ যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন এগুলো পরিকল্পিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) একটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণের আদেশ দেওয়া হবে না মর্মে গত ২৯ জুন ২০০৯ সরকারের প্রতি একটি রুল জারি করে হাইকোর্ট। শুনানিকালে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আর কোনো ক্রসফায়ার হবে না। ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও সরকার অঙ্গীকার করে ক্রসফায়ারে হত্যার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো হবে। এখন ক্রসফায়ারকেই শেষ ভরসা মানলে বাংলাদেশের তো উচিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদ ত্যাগ করা।
অনেকেরই হয়তো মনে আছে বিগত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, ‘র্যাব কোনো নিরীহ মানুষ হত্যা করেনি, র্যাব প্রয়োজনে আরও কঠোর হবে। বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস থাকবে না’ (সূত্র: ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বিভিন্ন পত্রিকা)। একই ধরণের কথার পুনরাবৃত্তি হতে দেখা যাচ্ছে বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হকের মুখে।
‘র্যাবের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে মৃত্যু হলে সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না। কারণ আতত্মরক্ষার জন্য র্যাব গুলি ছোড়ে’—বলেছিলেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (সূত্র: ১ ডিসেম্বর ২০০৪ বিভিন্ন পত্রিকা)। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এখন যে ধরণের কথা বলছেন তার সাথে কি ওই কথার খুব গরমিল রয়েছে?
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী সুমন আহমেদ মজুমদার র্যাব হেফাজতে মারা যাওয়ার পর বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া র্যাবকে মানুষ খুন করার লাইসেন্স দিয়েছেন’ (সূত্র ২৩ জুলাই, ২০০৪, দৈনিক সংবাদ)। আমাদের একটুও আশ্চর্য হব না যদি দেখি বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রীকে উদ্ধৃত করে শুধু প্রধানমন্ত্রীর নাম পরিবর্তন করে অবিকল একই কথা বর্তমানে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।
সেই ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিন হার্ট দিয়ে শুরু। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেটাকে তখন মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তারপর চলল ‘হার্ট অ্যাটাক’, এল র্যাট, র্যাট থেকে হলো র্যাব। শুরু হলো ‘ক্রসফায়ার’, তারপর ‘এনকাউন্টার’, সর্বশেষ ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’। সাত বছর ধরে চলছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আর উন্নতি হলো না। এখনো সেই একই বয়ান, একই তরিকা। এ ছাড়া নাকি আর কোনো উপায় নেই!
সাঈদ আহমেদ: মানবাধিকারকর্মী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

খোলা চোখে হাসান ফেরদৌস আমেরিকায় নব্য ফ্যাসিজম মাথাচাড়া দিচ্ছে

ওপরের ছবি দুটি দেখুন। গত রোববার ওয়াশিংটন ডিসিতে ওবামাবিরোধী একটি সমাবেশে প্রায় লাখখানেক লোক জড়ো হয়েছিল। সেখানেই তোলা। প্রথম ছবির স্লোগান: ‘আমেরিকা জেগে ওঠো, দেশকে সমাজতন্ত্রের হাত থেকে বাঁচাও।’ দ্বিতীয় ছবির: ‘ওবামা একজন চোর।’
ছবিগুলো থেকে স্পষ্ট: বারাক ওবামার বিরুদ্ধে শ্বেত-আমেরিকা এখন ফুঁসছে। হিটলার ও স্তালিনের সঙ্গে তাঁকে তুলনা করে পোস্টার বেরিয়েছে। ওবামাকে খুন করা উচিত—এ কথা তো হরহামেশাই বলা হচ্ছে। একজন পাদরি পর্যন্ত বলেছেন, যেহেতু ওবামা গর্ভপাত সমর্থন করেন, তাঁকে হত্যা করা পূণ্যের কাজ হবে। গত রোববারের সমাবেশেই দেখেছি, একদল লোক পোস্টার উঁচিয়ে ধরেছেন, তাতে লেখা: ‘ইউটাহ ও মোন্টানা থেকে আমরা এসেছি, এবার নিরস্ত্র হয়ে!’ অর্থাত্ এর পরের বার আসব বন্দুক নিয়ে। ওবামা বিদেশি ও মুসলমান, এমন দাবি তো রেডিও টক-শো ও টিভিপর্দায় একের পর এক ভাষ্যকাররা অনেক আগে থেকেই করে যাচ্ছেন। একজন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান আইন পরিষদে প্রস্তাব তুলেছেন, এরপর থেকে যাঁরা রাষ্ট্রপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাঁদের আগেভাগে নিজের জন্মসনদ দাখিল করতে হবে। প্রস্তাবটা যে ওবামার কথা মাথায় রেখে তোলা হয়েছে তা বোঝার জন্য রকেট-বিজ্ঞানী হতে হয় না। ওবামা অবশ্য তাঁর জন্মসনদ নিজের ওয়েবসাইটে ছেপে দিয়েছেন, তার পরও তিনি বিদেশি—সে কথা বলে আদালতে মামলা পর্যন্ত ঠোকা হয়েছে। এ বছর আগস্ট মাসের প্রায় পুরোটাই দেশজুড়ে ওবামাবিরোধী ‘টাউন হল’ মিটিং করেছে রিপাবলিকান দল। সে রকম একটি সভায় এক শ্বেতকায় মহিলা চিত্কার করে আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে দাবি করেন, ‘আমার দেশ আমেরিকা বেদখল হয়ে গেছে। আমি তা ফেরত চাই।’ গত সপ্তাহে ওবামা দেশের স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি ভাষণ রেকর্ড করেন। সে ভাষণ নিয়েও এ দেশের সাদা মানুষের সে কী চিত্কার-শোরগোল! আলাস্কা থেকে টেক্সাস—যেখানেই রিপাবলিকানরা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে এখনো ক্ষমতা ধরে রেখেছে, সেখানেই তারা বেঁকে বসল: ওবামা তাদের ছেলেমেয়েদের মাথায় সমাজতন্ত্রের পোকা ঢোকানোর চেষ্টা করবেন। অতএব এ ভাষণ ক্লাসে প্রচার করা যাবে না। অথচ এর আগে সব প্রেসিডেন্টই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, তখন এ নিয়ে কেউ টুঁ-শব্দটি করেনি।
ওবামাবিরোধী বিক্ষোভ মাঠ থেকে এখন কংগ্রেসের ভেতরও গড়িয়েছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের যৌথ সভায় ভাষণ দিতে এসেছিলেন বারাক ওবামা। বিষয়: স্বাস্থ্যবীমা প্রশ্নে নতুন আইন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে ওবামা বললেন, ‘নতুন যে আইন হবে, তাতে কোনো অবৈধ বহিরাগত ব্যক্তির জন্য বীমাব্যবস্থা থাকবে না।’ তিনি কথা শেষ করতে না করতেই সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য জো উইলসন চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, ‘মিথ্যা কথা।’ কংগ্রেসের ইতিহাসে এই প্রথম আইন পরিষদের ভেতর দাঁড়িয়ে কোনো সাংসদ প্রেসিডেন্টকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে দোষারোপ করলেন।
ওবামাবিরোধী এই তত্পরতার আরও ভয়াবহ কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করেছে আলাবামার সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার। মানবাধিকারবিষয়ক কাজের জন্য সুপরিচিত এই সংস্থাটি তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত এক বছরে শ্বেতসভ্যতায় বিশ্বাস করে, এমন অতি দক্ষিণপন্থী মিলিশিয়া দলের সংখ্যা আমেরিকায় ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত হয়েছে এমন মিলিশিয়া দলের সংখ্যা কম করে হলেও ৫০, তাদের অনেকে আবার মূলত সাবেক পুলিশ ও সেনা সদস্যদের দিয়ে গঠিত। এসব মিলিশিয়ার সদস্যরা প্রায় সবাই শ্বেতকায় ও পুরুষ, তাদের বেশির ভাগই বিশ্বাস করে, আমেরিকা সাদা মানুষের খ্রিষ্টান দেশ, একমাত্র তারাই এই দেশটি শাসন করার অধিকার রাখে, অন্য কেউ নয়। কালো বা পীতবর্ণের মানুষদের বিরুদ্ধে, বিশেষত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে, এসব মিলিশিয়া দল নানা রকম গোপন বা প্রকাশ্য আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রামাণিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত এই প্রতিবেদনে ভীত হওয়ার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। যারা এসব মিলিশিয়ার সদস্য, তারা সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করে, বারাক ওবামা একজন বিদেশি মুসলমান ও কমিউনিস্ট। তাঁর আসল লক্ষ্য দেশটিকে একটি আন্তর্জাতিক চক্রের হাতে তুলে দেওয়া। তাঁর হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করতে হলে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক সেনা সদস্যদের নেতৃত্বে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গেছে। কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ রয়েছে প্রতিবেদনটিতে। যেমন, ফ্লোরিডার পেনসাকোলার এক মিলিশিয়া সমাবেশে সাবেক এফবিআই এজেন্ট টেড গান্ডারসন প্রকাশ্যে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে এক হাজারেরও বেশি বন্দীশালা স্থাপন করেছে। খুব শিগগিরই এ দেশে মার্শাল ল জারি হবে, যারা এর প্রতিবাদ করবে, তাদের এসব জেলখানায় ঢোকানো হবে। আটলান্টায় আরেক মিলিশিয়া দলের নেতৃত্বে ‘নাগরিক আদালত’ স্থাপন করে বারাক ওবামার বিচার হয়েছে। তাঁর অপরাধ: তিনি বিদেশি, অবৈধভাবে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের লেক্সিংটনে সদ্যগঠিত মিলিশিয়া দল ‘ওথ কিপারস’-এর এক সমাবেশে সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছে, জান দিয়ে হলেও তারা দেশের শাসনতন্ত্র রক্ষা করবে। এ সম্পর্কে পুরো রিপোর্ট পড়তে হলে ইন্টারনেটে এই ঠিকানায় দেখুন: http://www.splcenter.org.images/dynamic/main/The_Second_Wave.pdf
এসব দলের নেতা বা সদস্যদের চূড়ান্তবাদী ও প্রান্তবর্তী দলের লোক ভেবে তাদের আমরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারি। রোববার ওয়াশিংটন ডিসিতে যারা মিছিল করল, তারাও আমেরিকার মূলধারার কেউ নয়। কিন্তু এসব প্রান্তবর্তী ও অতি দক্ষিণপন্থী দলগুলো, তা তারা সংখ্যায় যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, ক্রমেই উচ্চকণ্ঠ হচ্ছে। (৭০-৭৫ হাজার মানুষকে খুব কমই বা কী করে বলি?) দক্ষিণপন্থী রেডিও-টিভিতেও তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। সবচেয়ে ভয়ের কথা, দেশের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি এদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। দলটি যেসব ব্যাপারে ওবামা সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার নীতি গ্রহণ করেছে, তা আর কিছু নয়, এই প্রান্তবর্তী গ্রুপগুলোর কথা মাথায় রেখে। এরাই এখন দলের ‘বেইস,’ বা মূল ভিত্তি। তাদের খুশি করার জন্য রিপাবলিকান নেতারাও এখন ফেডারেল সরকারকে দেশের এক নম্বর শত্রু বলে চিহ্নিত করছে এবং তার বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলনে সমর্থন জোগাচ্ছে। টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন, দরকার হলে তাঁরা আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করবেন। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান গভর্নর মার্ক স্যান্ডফোর্ডও একই কথা বলেছেন। আরও প্রায় ডজনখানেক রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদে বিচ্ছিন্নতার সমর্থনে প্রস্তাব উঠেছে। কোনো কোনো রিপাবলিকান সিনেটর পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতার পক্ষে কথা বলা শুরু করেছেন। যেমন, ওকলাহোমা থেকে নির্বাচিত সিনেটর জিম ইনহফ বলেছেন, ‘ওবামার হাতে দেশের যে দশা হয়েছে তাতে মনে হয় না, এই দেশ কংগ্রেসের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অর্থাত্ ২০১১ সাল নাগাদ টিকে থাকবে।’ ওবামা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছেন, এ কথা সরাসরি বলে ইনহফ মন্তব্য করেছেন, ‘তাঁর মাথায় ঢুকছে না, প্রেসিডেন্ট ওবামা কেন এই দেশটি সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে চান।’
সন্দেহ নেই, রিপাবলিকানদের এসব কথাবার্তা ও কাজকর্মের পেছনে একটি গভীর বর্ণবাদী মনোভাব কাজ করছে। দেশের দক্ষিণের কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলো বরাবরই খোলামেলাভাবে বর্ণাবাদী। সরকারের ব্যাপারে এরা সন্দেহবাদী, সব সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে এরা প্রবল রক্ষণশীল এবং আমেরিকার রাজনৈতিক ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে এরা সম্পূর্ণ আস্থাবান। বর্তমানের রিপাবলিকান দলের বেশির ভাগ সদস্যই কার্যত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই রক্ষণশীল ও শ্বেতকায় পুরুষনির্ভর রাজনৈতিক সমর্থনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ দলে এই মুহূর্তে কোনো স্বীকৃত নেতা নেই, তার ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে এগিয়ে এসেছে অতি কট্টর টক রেডিও-টিভি হোস্টগুলো। ইভানজেলিক্যান খ্রিষ্টান যাজকেরাও সমর্থনের ছাতা মেলে ধরেছেন। এঁদের সার্বক্ষণিক চেষ্টায় যে অসহিষ্ণু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তার ফলে যদি রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যায়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
মোটে আট মাস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বারাক ওবামা। ‘পরিবর্তন’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে পরিবর্তন তিনি প্রস্তাব করেন, তাতে একটি প্রগতিশীল, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্ভাবনায় আমরা অনেকেই আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এ পর্যন্ত এমন কিছুই করেননি, যার ফলে আমেরিকার করপোরেট সংস্কৃতি বদলে যায় বা তার ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা মোচড় খায়। বস্তুতপক্ষে, ওবামার নেওয়া পদক্ষেপের ফলে আমেরিকার করপোরেট সংস্কৃতিতে এতটুকু আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি। উল্টো, বড় বড় ব্যাংক ও অর্থপ্রতিষ্ঠান যারা আমেরিকার চলতি মন্দাবস্থার জন্য দায়ী, তাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে রক্ষা করেছেন ওবামা। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিদেশে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, কমছে না। পরিবেশবিষয়ক একটি আইনে তিনি স্বাক্ষর করেছেন বটে, কিন্তু তেল ও গ্যাস লবির চাপের ফলে সেটি একটি দুর্বল আইনে দাঁড়িয়েছে। একজন সুপরিচিত উদারনৈতিক সুপ্রিম কোর্ট বিচারকের স্থানে একজন লাতিন মহিলাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, কিন্তু সে মহিলাকেও কোনোক্রমেই আমেরিকার মূলধারার বাইরের অর্থাত্ বামপন্থী বলা যায় না। সবচেয়ে বেশি তর্ক বেধেছে ওবামা স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজানোর যে প্রস্তাব করেছেন তা নিয়ে। কিন্তু সেখানেও তিনি একের পর এক ছাড় দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মূল প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের পাশাপাশি একটি ‘সরকারি সেবাখাত’-ও থাকবে। এ দুই খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে একদিকে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি অহেতুক ব্যয়-সংকোচনও সম্ভব হবে। কিন্তু সে কথা বলতে না বলতেই চারদিক থেকে এমন হইচই পড়ে গেল যে ওবামার উপদেষ্টারা বলতে বাধ্য হলেন, দরকার হলে সরকারি খাত ছাড়াই স্বাস্থ্যবীমা আইন পাস হবে।
এত ছাড় দেওয়ার পরও এই ওবামাবিরোধী দক্ষযক্ষ কেন? একমাত্র কারণ কি এ নয় যে ওবামার গায়ের রং কালো?
নিউইর্য়ক, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

ইতালিতে ভূমিকম্পে দুর্গতদের নতুন ঘর দিলেন বারলুসকোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি তাঁর দেশের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে আশ্রয়হীন মানুষের জন্য নতুন ঘর দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি এসব ঘরের চাবি দুর্গত মানুষের মাঝে হস্তান্তর করেন। আবরুজ্জু অঞ্চলের লাএকুইলা শহর ও এর আশপাশ এলাকায় গত ৬ এপ্রিলের ভূমিকম্পে প্রায় তিন শ মানুষ নিহত হয়। ওই ভূমিকম্পের পর থেকে ১১ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে বাস করছে। এএফপি।
ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ মাস পর বিধ্বস্ত গ্রাম ওন্নার আশ্রয়হীন মানুষের জন্য এসব ঘর বণ্টন করা হলো। এই প্রথম বারলুসকোনি ওই গ্রামে গেলেন। ওই দিন তিনি ৯৪টি ছোট ঘর দুর্গত মানুষের মধ্যে বণ্টন করেন। ভূমিকম্পে ওই গ্রামেই নিহত হয়েছিল ৪১ জন বাসিন্দা। এলাকার অবকাঠামো বিশেষ করে রাস্তাঘাট এখনো বিধ্বস্ত রয়েছে।
এসব ঘরের প্রতিটিতে দেওয়া হয়েছে ফ্লাট টেলিভিশন, চিঠির বাক্স, এমনকি টুথপেস্ট পর্যন্ত। বারলুসকোনি ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক বাসিন্দার হাতে ঘরের চাবি তুলে দিয়ে বলেন, এই চাবি নিয়ে আপনারা ঘরে যান এবং আমি আশা করছি, ওই ঘরটি আপনাদের জন্য নতুন জীবনের ভালোবাসার একটি গৃহে পরিণত হবে।

ইরানকে দেশের পরমাণু প্রসঙ্গ আসন্ন বৈঠকে তুলতে হবে -ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন বলেছেন, ইরান আগামী ১ অক্টোবর বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। ওই বৈঠকে ইরানকে অবশ্যই তার দেশের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারটি আলোচনায় তুলতে হবে। কারণ এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। ইরান বিষয়টি আলোচনায় তুলবে বলেই যুক্তরাষ্ট্র ওই বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হয়েছে।
ইরানের সংকট নিয়ে ডাকা ওই বৈঠকে অংশ নেবে কথিত পি-৫ এবং গ্রুপ-১। এর মধ্যে পি-৫ হলো নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া থাকবে জার্মানির একটি প্রতিনিধিদল। তবে বৈঠকের স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
গত সপ্তাহে ইরান তার দেশের সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা কৌশলে পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পশ্চিমা বিশ্বের সন্দেহ, ইরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে, পরমাণু বোমা নয়; তারা বেসামরিক খাতে বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিলারি বলেন, ‘ইরান বলছে, তারা বৈঠকে নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করবে। কিন্তু তাদের পরমাণু প্রসঙ্গ নিয়ে নানা প্রশ্ন আর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিষয়টি আলোচনায় থাকতে হবে। আমরা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি এ ব্যাপারে ইরান কী করে। কীভাবে তারা এ ব্যাপারে সাড়া দেয়।’ দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বৈঠকে মুখোমুখি হওয়া প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতিশ্রুতিরও অংশ বলে মন্তব্য করেন হিলারি।

জাপানের নয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের (ডিপিজে) প্রধান ইউকিয়ো হাতোইয়ামা। তাঁর সামনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এর আগে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন হাতোইয়ামা। ৪৮০ আসনের পার্লামেন্টের ৩২৭ জন আইনপ্রণেতা হাতোইয়ামার পক্ষে ভোট দেন। তাঁর প্রতিপক্ষ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী সাবেক কৃষিমন্ত্রী মাসাতোশি ওয়াকাবায়াশি পেয়েছেন ১১৯ ভোট।
গতকাল বুধবার ভোটাভুটির পর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার তাকাহিরো ইয়োকোমিচি বলেন, ‘ইউকিয়ো হাতোইয়ামাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছে পার্লামেন্ট।’
গাঢ় রঙের স্যুট ও সোনালি স্ট্রাইপের টাই পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হন হাতোইয়ামা। ফলাফল ঘোষণার পর দাঁড়িয়ে মাথা নুইয়ে আইনপ্রণেতাদের অভিবাদন জানান তিনি। করতালি দিয়ে অভিবাদনের জবাব দেন আইনপ্রণেতারা। এরপর হাস্যোজ্জ্বল হাতোইয়ামা ডিপিজের সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
গতকাল সকালে পার্লামেন্টের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে হাতোইয়ামা বলেন, ‘ইতিহাস সৃষ্টির আনন্দে আমি রোমাঞ্চিত। একই সঙ্গে ইতিহাস সৃষ্টির গুরুদায়িত্ব অনুভব করছি আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন লড়াই শুরু হলো।’
নিম্নকক্ষ হাতোইয়ামাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে উচ্চকক্ষ।
গত মাসের নির্বাচনে হাতোইয়ামার দল ডিপিজে ক্ষমতাসীন এলডিপিকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে। এতে অবসান হয় এলডিপির ৫০ বছরের প্রায় নিরবচ্ছিন্ন শাসনের।

গাজায় ইসরায়েলি সেনা ও হামাস যুদ্ধাপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

গাজায় গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধাপরাধ করেছে। উভয় পক্ষই অনেক ক্ষেত্রে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। জাতিসংঘের তদন্তে তার প্রমাণ মিলেছে। জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা ৫৭৫ পৃষ্ঠার এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উভয় পক্ষকে এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডস্টোন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে আমাদের তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।’ সম্ভবত তারা তখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধও করেছে। তিনি এও বলেন, তাঁদের তদন্তের সময় ইসরায়েল সহযোগিতা দেয়নি।
রিচার্ড গোল্ডস্টোন আরও বলেন, ফিলিস্তিনের ইসলামি জঙ্গিরাও ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রকেট ও গোলা নিক্ষেপে তাদের জানমালের ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকার লোকজন আহত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবন গুঁড়িয়ে গেছে।
জেনেভায় ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশন এক বিবৃতিতে রিচার্ডের তদন্ত মিশনের সমালোচনা করেছে। তদন্তে ইসরায়েল কেন সহযোগিতা দেয়নি তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের ওই তদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্টতই পক্ষপাতিত্বমূলক। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ফিলিস্তিনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ জন্য ইসরায়েল শেষমেশ গাজায় সামরিক অভিযানে নামতে বাধ্য হয়েছে। অথচ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এ গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
হামাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা রকেট ছুড়ে কোনো যুদ্ধাপরাধ করেননি। কারণ তাঁরা কেবল আত্মরক্ষার্থেই রকেট ছোড়েন। তিনি এও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে কারও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
ইসরায়েলের একটি মানবাধিকার গ্রুপ বি’টিসেলেম গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজা সামরিক অভিযানে এক হাজার ৩৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৭৩ জনই বেসামরিক মানুষ। ইসরায়েলি নিহত হয়েছে ১৩ জন। তাদের মধ্যে রয়েছে তিনজন বেসামরিক নাগরিক ও ১০ সেনাসদস্য।

আল-কায়েদা আফগানিস্তানে বিদেশিদের অপহরণের নির্দেশ দিয়েছে

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে একটি নতুন কৌশলের পরিকল্পনা করেছে আল-কায়েদা। সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রতি বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে মার্কিনদের হাতে বন্দী তালেবান ও আল-কায়েদার সদস্যদের মুক্তির জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে।
আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মুস্তাফা হামিদ গত জুলাই মাসে এ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আবু ওয়ালিদ আল মাসরি নামেও পরিচিত। একসময় আমেরিকার গুয়ানতানামো বে কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে গতকাল বুধবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী গবেষক লিহ ফারাল এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় তিনি ইন্টারনেটে আল-কায়েদার একটি দলিল থেকে এ তথ্য জানতে পারেন। গত জুলাইয়ের শেষদিকে মুস্তাফা হামিদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে তালেবানদের প্রতি এ আহ্বান জানান।
ইন্টারনেটে মুস্তাফা হামিদ বলেছেন, এ বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানে একজন মার্কিন সেনা অপহরণ করা হয়। বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে তালেবান ও আল-কায়েদার সদস্যদের মুক্তি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনা অপহরণের এ ঘটনা নজির হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুস্তাফা হামিদ বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিদেশি নাগরিক ও সেনাসদস্যদের টার্গেট করার জন্য এখনই হচ্ছে মোক্ষম সময়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তাই তালেবান নেতাদেরও তাঁদের অভিযানে পরিবর্তন আনা দরকার। বিদেশি নাগরিকদের রাস্তা থেকে তুলে আনা এখন তালেবান নেতাদের ফরজ হয়ে গেছে। একমাত্র এ কৌশলের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দীদের মুক্ত করে আনা সম্ভব হবে।
লিহ ফারাল বলেন, মুস্তাফা হামিদ তাঁর লেখায় যুক্তি দেখিয়েছেন, মার্কিনরা যেভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং তাদের আটক করে, তাতে করে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করা অন্যায় কিছু নয়। শত্রুরা যা করছে, তালেবানদেরও তা-ই করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী দূত বিল প্যাটারসন বলেছেন, আল-কায়েদা, উত্তর আফ্রিকায় তত্পর জঙ্গি এবং ফিলিপাইনে আবু সায়াফ বিদ্রোহী গোষ্ঠী অপহরণের কৌশল অবলম্বন করে এলেও তালেবানরা এ কৌশলের আশ্রয় নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত জুলাইয়ে মুস্তাফা হামিদের বিদেশিদের অপহরণের নিদের্েশর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক স্টিফেন ফ্যারেল ও তাঁর আফগান সহকর্মী অপহূত হন। পরে ব্রিটিশ সাংবাদিক ফারেল মুক্তি পেলেও তাঁর সহকর্মীকে হত্যা করে তালেবানরা।

মার্কিনরা যত সেনা পাঠাবে, আমাদের হামলাও তত বাড়বে

কান্দাহার, মাজার ই শরিফ, কুন্দুজ, তোরাবোরা, হেরাত, কাবুল—একেকটি বিধ্বস্ত জনপদের নাম। গোলার আঘাতে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে একসময়ের কর্মচঞ্চল এসব এলাকা। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণে এসব নগর এখন নিশ্চিহ্নপ্রায়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো বাহিনীর হামলায় এখানকার বাসিন্দারা স্বজন হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে, হারিয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। এখনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে কেঁপে উঠছে আফগানিস্তানের মাটি। কান্না থামছে না মা-বাবা হারানো অবোধ শিশুর।
কিন্তু কিসের জন্য এত সব? একটু পেছনে তাকানো যাক। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব দেখল, সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী টুইন টাওয়ার কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেল! প্রাণ দিল তাতে নিরপরাধ তিন হাজার ১৭ জন মানুষ। ওই ঘটনায় আহত হয়ে কাতরাচ্ছে ছয় হাজার ২৯১ জনেরও বেশি।
সন্তান হারিয়ে শোকে, ক্ষোভে বেপরোয়া হয়ে উঠল যুক্তরাষ্ট্র। হামলাকারীদের শায়েস্তা করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল তারা। আধুনিক যুগের সবচেয়ে পরিকল্পিত এ হামলার জন্য সন্দেহ করা হলো ইসলাাম জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও এর প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে। তিলমাত্র অপেক্ষা না করে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত হলো মার্কিন সেনারা। তারা হামলা চালাল ওসামা বিন লাদেনের ‘আশ্রয়দাতা’ আফগানিস্তানের ওপর। তাঁর অনুসারীরাও যথাসম্ভব জবাব দিল মার্কিন হামলার। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ২০০১ সালের মধ্য অক্টোবরে ন্যাটো বাহিনীর হাতে পতন হলো কাবুলসহ একের পর এক শহরের। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ন্যাটো আর হামিদ কারজাইয়ের বাহিনী আফগানিস্তানে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।
কিন্তু মার্কিনরা যতই কর্তৃত্ব বজায় রাখুক, তালেবানরা তাদের হাল ছাড়েনি। তালেবানরা এখনো আফগানিস্তানের পর্বত, গুহায় অবস্থান নিয়ে মার্কিনদের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। এ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তালবানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা জালালউদ্দিন হাক্কানি। উপজাতীয় এ ধর্মীয় নেতার নেতৃত্বে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকতিকায় তারা লড়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান-সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের পার্বত্য এলাকায় রয়েছে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা উপজাতি হওয়ায় আফগানিস্তানের উপজাতীয়-অধ্যুষিত এলাকায় তাদের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব ও সমর্থন।
একজন তরুণ পশতু ভাষার কবি ও সাংবাদিক বলেন, ‘উপজাতীয় এলাকায় আমরা প্রায় সবাই একই জাতিগোষ্ঠীর। এ অঞ্চলের ৯৫ ভাগ লোক তালেবানদের সমর্থন করে। তারা তালেবানদের আশ্রয় দেয়। ব্যবসায়ীরা তাদের অর্থের জোগান দেয়। উপজাতীয় এলাকায় তালেবানরা খুবই শক্তিশালী। তাদের কাউকে ধরিয়ে দিলে সেটা হবে আমাদের জন্যই একটা লজ্জার ব্যাপার।’
ওই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘এখানকার পরিস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। আমরা সবাই মুসলমান এবং উপজাতি। তালেবানরাও মুসলমান এবং উপজাতি। কিন্তু আফগানিস্তানে যুদ্ধরত বিদেশি সেনারা অমুসলিম এবং তাদের এখানে আসারও কোনো অধিকার নেই। আল্লাহ দখলকারীদের বিরুদ্ধে লড়তে বলেছেন। তাই এখানকার লোকজনও দখলকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে। আমাদের আদর্শ ও তালেবানদের আদর্শের মধ্যে মিল রয়েছে। তাই তালেবানদের কখনো এ অঞ্চলে লুকিয়ে থাকতে হয় না।’
জালালউদ্দিন হাক্কানির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার মালাবি জালালি বলেন, ‘আমরা হাক্কানির নেতৃত্বে মাতৃভূমি রক্ষায় জেহাদ করছি। মার্কিনরা তালেবান সরকারকে উত্খাত করেছে। আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য জিহাদ করছি।’ তিনি বলেন, ‘তালেবানরা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আমরা কেবল আফগানিস্তানেই জিহাদ করেছি। মার্কিনদের ধন্যবাদ, এ কারণে যে তাদের কল্যাণে তালেবানদের জেহাদ আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’
যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত—মার্কিনদের এমন উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে মালাবি জালালি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ওয়াজি-জারদানের মতো শহরগুলোতে হামলা চালাই। এসব শহরে মার্কিন ও আফগানবাহিনীর শক্ত অবস্থান।’
মালাবি বলেন, ‘মার্কিনরা যত বেশি সেনা পাঠাবে, আমাদের হামলার মাত্রাও তত বেড়ে যাবে। এটা মজার ব্যাপারই হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের ডাক দিলেন ন্যাটোর প্রধান

ইউরোপে নিরাপত্তা উত্তেজনা হ্রাস এবং অভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় রাশিয়ার সঙ্গে ‘খোলা মনে এক নজিরবিহীন সংলাপ’-এর আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটোর প্রধান।
ন্যাটোর মহাসচিব এন্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, মস্কোর সঙ্গে খোলামেলা ও অকপট সংলাপ শুরু করতে চান তিনি, যা নতুন আবহের সৃষ্টি করবে।
গত মাসে ন্যাটোর মহাসচিবের দায়িত্ব নেন তিনি। ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাসমুসেন বলেন, ‘রাশিয়ার উপলব্ধি করা উচিত যে ন্যাটো আছে এবং ন্যাটো হচ্ছে আমাদের ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের একটি ভিত্তিস্বরূপ কিছু।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের এটাও বিবেচনায় নিতে হবে যে রাশিয়ার নিজেরও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ রয়েছে।’ গতকাল বুধবার সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।
দুই পক্ষের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও রাসমুসেন বলেন, একটি সত্যিকারের কৌশলগত অংশীদারির ব্যাপারে তাঁর একটি ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’ রয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি প্রস্তাব নিয়ে তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

আল-কায়েদা আফগানিস্তানে বিদেশিদের অপহরণের নির্দেশ দিয়েছে

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে একটি নতুন কৌশলের পরিকল্পনা করেছে আল-কায়েদা। সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রতি বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে মার্কিনদের হাতে বন্দী তালেবান ও আল-কায়েদার সদস্যদের মুক্তির জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে।
আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মুস্তাফা হামিদ গত জুলাই মাসে এ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আবু ওয়ালিদ আল মাসরি নামেও পরিচিত। একসময় আমেরিকার গুয়ানতানামো বে কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে গতকাল বুধবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী গবেষক লিহ ফারাল এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় তিনি ইন্টারনেটে আল-কায়েদার একটি দলিল থেকে এ তথ্য জানতে পারেন। গত জুলাইয়ের শেষদিকে মুস্তাফা হামিদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে তালেবানদের প্রতি এ আহ্বান জানান।
ইন্টারনেটে মুস্তাফা হামিদ বলেছেন, এ বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানে একজন মার্কিন সেনা অপহরণ করা হয়। বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে তালেবান ও আল-কায়েদার সদস্যদের মুক্তি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনা অপহরণের এ ঘটনা নজির হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুস্তাফা হামিদ বিদেশি নাগরিকদের অপহরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিদেশি নাগরিক ও সেনাসদস্যদের টার্গেট করার জন্য এখনই হচ্ছে মোক্ষম সময়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। তাই তালেবান নেতাদেরও তাঁদের অভিযানে পরিবর্তন আনা দরকার। বিদেশি নাগরিকদের রাস্তা থেকে তুলে আনা এখন তালেবান নেতাদের ফরজ হয়ে গেছে। একমাত্র এ কৌশলের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দীদের মুক্ত করে আনা সম্ভব হবে।
লিহ ফারাল বলেন, মুস্তাফা হামিদ তাঁর লেখায় যুক্তি দেখিয়েছেন, মার্কিনরা যেভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং তাদের আটক করে, তাতে করে বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করা অন্যায় কিছু নয়। শত্রুরা যা করছে, তালেবানদেরও তা-ই করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী দূত বিল প্যাটারসন বলেছেন, আল-কায়েদা, উত্তর আফ্রিকায় তত্পর জঙ্গি এবং ফিলিপাইনে আবু সায়াফ বিদ্রোহী গোষ্ঠী অপহরণের কৌশল অবলম্বন করে এলেও তালেবানরা এ কৌশলের আশ্রয় নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত জুলাইয়ে মুস্তাফা হামিদের বিদেশিদের অপহরণের নিদের্েশর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক স্টিফেন ফ্যারেল ও তাঁর আফগান সহকর্মী অপহূত হন। পরে ব্রিটিশ সাংবাদিক ফারেল মুক্তি পেলেও তাঁর সহকর্মীকে হত্যা করে তালেবানরা।

চিকিত্সার জন্য গ্রিসে গেলেন জাইদি

মুক্তির পরপরই ইরাকি সাংবাদিক মুনতাজার আল-জাইদি দেশ ছেড়েছেন। চিকিত্সার জন্য তিনি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে গেছেন। জাইদি বলেছেন, কারাবাসে থাকার সময় তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি ক্লান্ত। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উন্নত চিকিত্সার জন্যই তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। একটি বিশেষ বিমানে করে এথেন্সের উদ্দেশে বাগদাদ ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে জাইদির পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। এ জন্য মুক্তির পরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তিনি একটি বিমানে করে এথেন্সের উদ্দেশে রওনা দেন।
জাইদির ভাই উদে আল জাইদি বলেন, ‘মুক্তির পর জাইদি বিমানে করে সিরিয়া হয়ে এথেন্সে যান। সেখানে তিনি চিকিত্সা নেবেন।’
গত মঙ্গলবার জাইদি মুক্তি পাওয়ার পর বলেন, কারাবাসের সময় তাঁকে নির্যাতন করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাগদাদে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে লক্ষ্য করে জুতো ছুড়ে মেরেছিলেন জাইদি। বুশ নুয়ে পড়ায় জুতো তাঁর গায়ে লাগেনি। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে অপমান করার অভিযোগে তাঁকে তিন বছরের কারাদন্ড দেন আদালত। পরে আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয়।
মুক্তির পরই কর্মস্থল আল-বাগদাদিয়া টেলিভিশন কার্যালয়ে যান জাইদি। সেখানে তিনি বলেন, ‘কারাবাসের সময় আমাকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। লোহার দণ্ড দিয়ে পেটানো হয়েছে।’ তিনি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘মালিকির নিরাপত্তারক্ষীরাও নির্যাতন করেছে।’
জাইদি আরও বলেন, ‘আমি বীর নই। আমি এখন মুক্ত। কিন্তু আমার দেশ এখনো পরাধীন। দেশকে এই দুর্দশায় দেখে আমি অপমানিত বোধ করি। আমার জন্য এটি ছিল এক ধরনের জবাব। ইরাক দখল এবং বুশের মিথ্যাচারের জবাবে আমি এ কাজ করেছি।’
জাইদির ভাই উদে বলেন, ‘এসব কথা বলার পরই জাইদি আত্মগোপনে চলে যান। কারণ, আমরা তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে।’
উদে এসব কথা বাগদাদে কর্মরত এএফপি সাংবাদিককে বলার আগেই জাইদি সিরিয়া গমন করেন। উদে বলেন, ‘১০ মিনিট হলো আমার ভাই একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে দামেস্কের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন।’
জাইদির কর্মস্থল আল-বাগদাদিয়া টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ বিমানটির ব্যবস্থা করেছে।
গত মঙ্গলবার টেলিফোনে জাইদির মুক্তির খবর পেলে তাঁর পরিবার ও বন্ধুমহল আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। আনন্দঘন এ মুহূর্তটি উদ্যাপন করতে তারা একটি ভেড়া পর্যন্ত জবাই করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তাদের এ উত্সব থেমে যায়। কারণ, মুক্তির পরই জাইদি চিকিত্সা নিতে চলে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।
জাইদির চাচাতো ভাই হায়দার বলেন, ‘জাইদিকে চিকিত্সার জন্য গ্রিসে পাঠানো হয়েছে, কারণ তাঁর শরীরে অজ্ঞাত রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি প্রতিনিয়ত মাথাব্যথায় ভুগছেন।

ফুটবলে পাঁচ রেফারি আজ থেকে

উয়েফা কাপ নাম বদলে ‘ইউরোপা কাপ’ হওয়ার পর আজই প্রথম মাঠে গড়াচ্ছে ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্ট। তবে এর চেয়েও বড় খবর, এই টুর্নামেন্ট দিয়েই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফুটবলে পাঁচ রেফারির নিয়ম। মূল রেফারির দুই সহকারীর সঙ্গে বাড়তি আরও দুজন সহকারী থাকবেন দুই গোলপোস্টের পেছনে। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে জার্সি ধরে টানাটানি, ইচ্ছাকৃত ডাইভিং, বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না—এসব দেখাই হবে এ দুই রেফারির কাজ। ১৯৯২ সালের ‘ব্যাক-পাস’ আইনের পর এটিকেই ফুটবলের সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলে দেখা হচ্ছে।
বাড়তি এ দুই রেফারির ধারণাটা এসেছে উয়েফা-প্রধান মিশেল প্লাতিনির মাথা থেকে। এই সাবেক তারকার ধারণা, পাঁচ রেফারি ফুটবলে বিতর্ক কমিয়ে আনবে, ‘বহু বছর ধরে ফুটবলাররা প্রতারণা করে আসছে, কারণ রেফারিংয়ের মান ভালো ছিল না। বাড়তি রেফারি যোগ হওয়ায় ফুটবলারদের এখন অভিনয় বাদ দিতে হবে।’ পরীক্ষাটা সফল হলে এই নিয়ম দেখা যাবে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ২০১২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও।

এ দলের আট ক্রিকেটারের দলবদল

প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটের দলবদল মূলত ২৯ থেকে ৩১ সেপ্টেম্বর। তবে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ‘এ’ দল মহারাষ্ট্র সফরে চলে যাবে বলে ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের দলবদল হয়েছে গতকাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে দলবদল করেছেন ‘এ’ দলে থাকা ৮ ক্রিকেটার।
বিমানে যোগ দিয়েছেন আবাহনীর তালহা জুবায়ের ও ইমরান আহমেদ এবং মোহামেডানের তারেক আজিজ। গাজী ট্যাংকে যোগ দিয়েছেন আবাহনীর জিয়াউর রহমান ও মোহামেডানের মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। এ ছাড়া গাজী ট্যাংকের নাফিস ইকবাল মোহামেডানে, ইমরুল কায়েস আবাহনীতে এবং বিমানের শাহাদাত হোসেন কলাবাগানে সই করেছেন।
অনেক ক্রিকেটারই পুরোনো দলে থেকে যাওয়ায় এই আট জন ছাড়া ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দলবদল করার কথা ডলার মাহমুদ ও আবদুর রাজ্জাকের। দুজনের কেউই কাল দলবদল করেননি। গতবার মোহামেডানে খেলা ডলার এবার ওল্ড ডিওএইচএসে ও পারটেক্সে খেলা আবদুর রাজ্জাক খেলবেন গাজী ট্যাংকে। মোহামেডান থেকে ওল্ড ডিওএইচএসে যাওয়াটা সমঝোতার ভিত্তিতে হচ্ছে বলেই কাল দলবদল করেননি বলে জানিয়েছেন ডলার। মায়ের চিকিত্সার জন্য রাজ্জাক আছেন ভারতে। তাঁর পুরোনো দল পারটেক্স কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে দলবদল না করলেও সমঝোতার ভিত্তিতে রাজ্জাকের গাজী ট্যাংকে যেতে কোনো সমস্যা হবে না।

সালাউদ্দিনের পাশে হাম্মাম

অর্থাভাবে ফিলিপাইনে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে দল পাঠানো হবে না—সিদ্ধান্তটা চূড়ান্তই ছিল বাফুফের। কিন্তু নিবন্ধনের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর হঠাত্ই বদলে গেল সিদ্ধান্ত। দল পাঠাচ্ছে বাফুফে। এএফসি সভাপতি মোহাম্মদ বিন হাম্মাম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াতেই আসলে যাওয়া হচ্ছে। থাকা-খাওয়া বাবদ আয়োজকদের যে ২২০০০ ডলার দিতে হবে, এই টাকাটা হাম্মাম দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে। ‘এখন শুধু যাওয়া-আসার খরচটাই লাগবে। এই টাকার সমস্যা হবে না’—কাল বললেন বাফুফে সভাপতি। নিবন্ধনের সময় পেরিয়ে গেলেও এএফসি বাংলাদেশকে পরে নিবন্ধন করার অনুমতিও দিয়েছে। স্বাগতিক ফিলিপাইনের সঙ্গে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও চীনা তাইপেকে নিয়ে এই গ্রুপের খেলা হবে ৩-১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। হতোদ্যম হয়ে পড়া বাংলাদেশের যুব ফুটবলাররা এই খবরে উল্লসিত। যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে তাঁদের। ছুটি বাতিল করে বাড়ি ফিরে যাওয়া খেলোয়াড়দের আবাসিক প্রশিক্ষণের জন্য আজই এনে তোলা হচ্ছে বাফুফে ভবনে। ৩০ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন রওনা হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তাঁরা।
মিজানরা পুরস্কৃত: সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় কোরিয়া কাপ তায়কোয়ান্দোতে সোনা জিতে আসা দুই খেলোয়াড় মিজানুর রহমান ও রাসিউল কবিরকে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দিলেন পরশু বিওএ সভাপতি সেনাবাহিনীর প্রধান আব্দুল মুবীন। দিনকয়েক আগে বিওএর সভায় এই দুই খেলোয়াড়কে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বালুর মাঠ নিয়ে আন্দোলন: মতিঝিল বালুর মাঠে ফিফার অর্থ সাহায্যে অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ‘মাঠ রক্ষা কমিটি’। কাল এই কমিটির ব্যানারে সেখানে অবস্থান ধর্মঘট করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

দেল পোত্রোর নতুন জীবন

ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালের উত্তেজনায় আগের রাতে ঘুমাতে পারেননি। নির্ঘুম কেটেছে ফাইনালের রাতটাও। বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না ইউএস ওপেন ফাইনালে তিনি সত্যিই হারিয়ে দিয়েছেন রজার ফেদেরারকে। পরদিন সকালে বারবার দেখেছেন ফাইনালের ভিডিও, ঢুঁ মেরেছেন ইন্টারনেটে, পত্রপত্রিকায়। এর পরই নিজের কীর্তিকে বিশ্বাস করেছেন হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো।
নির্ভার দেল পেত্রো এর পর বেরিয়ে গেছেন ম্যানহাটন শহরে। ফ্লাশিং মিডোর ইস্পাত-কঠিন ২০ বছর বয়সী তরুণের সঙ্গে এই দেল পোত্রোর বিশাল তফাত্। কেতাদুরস্ত জিনস, সাদা ফুল শার্ট, আর সোয়েটার—৬ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা আর্জেন্টাইন যেন পুরোদস্তুর কোনো মডেল। যেখানেই যাচ্ছেন, মুহূর্তেই ছেঁকে ধরছেন শত শত ভক্ত। অবধারিতভাবেই চলে আসছিল ফাইনালের প্রসঙ্গ, সুখস্মৃতিটা রোমন্থন করলেন দেল পোত্রো নিজেও, ‘বলটিকে যখন বাইরে চলে যেতে দেখলাম, আমার উত্তেজনা—সেটা অদ্ভুত অনুভূতি। ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’
শুধু ফেদেরারকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন বলেই নয়, টেনিস বিশ্বে তোলপাড় দেল পোত্রোর জেতার ধরনেও। নার্ভাস একটা শুরুর পর আস্তে আস্তে খুঁজে পেয়েছেন নিজের সহজাত খেলা। ২-১ সেটে পিছিয়ে থাকার পর দুর্দান্তভাবে ফিরেছেন ম্যাচে। দেল পোত্রো জানালেন সেই সময়ে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করার মন্ত্রও, ‘‘পঞ্চম সেটে শুরুর সময় নিজেকে বলেছি, ‘এই সুযোগ, হয় মারো, নয় মরো’।’’
আলো ঝলমল নিউইয়র্কেও আর এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছে করছে না তাঁর। মন চলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার ছোট্ট মফস্বল শহর টান্ডিলে, যেখানে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় তাঁর বাবা ড্যানিয়েল, মা প্যাট্রিসিয়া, বোন আর প্রিয় শহরের হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার রাতেই আর্জেন্টিনা ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। স্বদেশে ফিরে কী করবেন? ‘পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সবার সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠব।’ কতটা এই আনন্দ?‘ আমি জানি না, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই পাগলের মতো আনন্দ হবে।’
আর টেনিস? ভবিষ্যত্ লক্ষ্য? ‘আপাতত কিছুদিন খেলতে চাই না, আমার বিশ্রাম দরকার’—বিশ্ব টেনিসের নতুন তারকা জানালেন সদ্য পাওয়া সাফল্যে ডুবে থাকতে চান আরও কিছুদিন।

মুক্ত থাকতে চান ফ্লিনটফ

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আসার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) যে ৩০ হাজার পাউন্ডের বিশেষ চুক্তির প্রস্তাব দিল, পরশু সেটাও ফিরিয়ে দিলেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। তাঁর সিদ্ধান্ত আগেরটাই—তিনি হবেন ফ্রিল্যান্স খেলোয়াড়।
ফ্লিনটফ মনে করেন, ফ্রিল্যান্স খেলোয়াড় হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁকে বিশ্বসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়ে পরিণত করবে। নিজের ওয়েবসাইটে ইংলিশ অলরাউন্ডার লিখেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সময়ই বলেছি আমার লক্ষ্য বিশ্বসেরা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হওয়া। বিভিন্ন দেশে খেলাটা আমাকে তার জন্য সাহায্য করবে।’ ফ্লিনটফের ম্যানেজার অ্যান্ড্রু চাডলার আগেই জানিয়েছেন, আইপিএল ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনটি দল ফ্লিনটফকে টি-টোয়েন্টি খেলার প্রস্তাব দিয়েছে।
ফ্লিনটফের সিদ্ধান্ত জানার পর তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসিবি। বোর্ডের এক মুখপাত্র শুধু বলেছেন, ‘আমরা মাত্রই তাঁর বিবৃতিটা পেলাম। বিষয়টা বুঝে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে একটু সময় দরকার।’ তবে পরশু অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা পঞ্চম ওয়ানডে হারার পর ফ্লিনটফের এই ঘোষণা যেন আরও হতাশ করছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে, ‘বুঝতে পারছি না কেন সে এটা ফিরিয়ে দিল। ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে এখনো অনেক বড় সম্পদ সে।’
তবে ফ্রিল্যান্সার ক্রিকেটার হওয়ার সিদ্ধান্তে ফ্লিনটফ সমর্থন পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের, ‘ফ্লিনটফের মতো খেলোয়াড়কে এই সিদ্ধান্তের জন্য দোষ দেওয়া যায় না। তার শরীর তাকে এর মধ্যেই টেস্ট থেকে অবসর নিতে বাধ্য করেছে। কাজেই এটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। সারা বিশ্বে এখন এত টুর্নামেন্ট, সব তো আপনি খেলতে পারবেন না।’
১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত ১২ বার বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন ফ্লিনটফ। এর মধ্যে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার হয়েছে চারবার, হাঁটুতে দুবার। ইসিবির প্রস্তাবটাকে বেশ লোভনীয় মানলেও সবকিছু মিলিয়ে তাই তাদের ‘না’ বলারই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। দুবাইয়ে বর্তমানে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ায় থাকা ফ্লিনটফ বলেছেন, ‘আমার বয়স ৩১ এবং আমি ১১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। আমি জানি আমার শরীর কতটুকু নিতে পারে। ইসিবির ইনক্রিমেন্টাল চুক্তির প্রস্তাবটা বেশ লোভনীয় এবং এমনটা আমি আশাও করিনি। কিন্তু আমি মনে করি না, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আমাকে বলে দেওয়ার দরকার আছে কখন আমি খেলব, কখন বিশ্রাম নেব।’
বিশেষ চুক্তির প্রস্তাবের বিনিময়ে তাই কেবল ফ্লিনটফের ধন্যবাদই পেল ইসিবি, ‘পুনর্বাসনের জন্য যে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আমাকে দেওয়া হয়েছে তার জন্য আমি ইসিবির কাছে কৃতজ্ঞ। ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডেভ রবার্টসের পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্তটাও অমূল্য।

অনেক প্রশ্নের জবাব দিলেন পন্টিং

ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয় অ্যাশেজ হার, বিশ্রাম নিতে দেশে ফিরে যাওয়া। তাঁর অনুপস্থিতিতে মাইকেল ক্লার্ক তাঁর উজ্জীবিত নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে এগিয়ে দিলেন ৩-০ তে। ওয়ানডেতে তিন অঙ্কের দেখা নেই সাড়ে আঠারো মাস—রিকি পন্টিংয়ের ওপর চাপটা ছিল বহুমুখী। তবে পরশু দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে এক ঝটকায় সব চাপ ঝেড়ে ফেললেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। পঞ্চম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
অ্যাশেজ শেষ করেই তাঁর বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে ইদানীং বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। এদিন ম্যাচ জিতিয়েই পন্টিং তাই উগরে দিলেন তাঁর মনের যত ক্ষোভ, ‘আমার মনে হয়, আমার কখন খেলা উচিত আর কখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত, এটা আমাকে অন্য কাউকে বলে দিতে হবে না। অ্যাশেজের পর মন ও শরীরকে সতেজ করার জন্যই বিরতিটা আমার দরকার ছিল।’ যেকোনো অবস্থাতেই ৩০০ রানের লক্ষ্যটা কঠিন। কিন্তু ওটা অস্ট্রেলিয়া সহজেই পৌঁছে যায় পন্টিংয়ের ১২৬ রানের ইনিংসে। পন্টিং তাঁর ২৭তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে বল খেলেন ৯২টি, যাতে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা। আর মাত্র ১৭ বল পর আউট হওয়ার আগে চার মেরেছেন আরও ৪টি। ৭৬ রানের মধ্যে দুই ওপেনার টিম পেইন (১৬) ও শেন ওয়াটসনকে (৩৫) হারানো অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের রাস্তায় তুলে দেয় অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের ১০৩ বলে ১৩৩ রানের জুটি। এদিন শুরু থেকেই পন্টিং ছিলেন দারুণ সপ্রভিত, খেলেছেন অসাধারণ সব শট। পুরো ইনিংসজুড়ে ছিল টাইমিং আর প্লেসমেন্টের অপূর্ব প্রদর্শনী। ৭ চার ও এক ছক্কায় অর্ধশত পূর্ণ করেন ৫১ বলে।
পরের হাফ সেঞ্চুরি করতে বল খেলেছেন আরও ১০টি কম। লেগ স্পিনার আদিল রশিদকে ডাউন দ্য উইকেটে টানা দুটো ছক্কা মেরে ৮৫ থেকে পৌঁছে যান ৯৭-এ। রশিদের পরের ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। একই ওভারে আউট হন টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া ক্লার্ক। তবে অস্ট্রেলিয়ার জিততে সমস্যা হয়নি। পন্টিং যখন আউট হয়ে যান, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩৬ বলে ৩৯ রান। ক্যামেরন হোয়াইট (১৫ বলে ২৪) ও মিচেল জনসন (১২ বলে ১৮) ১০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন দলকে।
সব কিছু ছাপিয়ে ট্রেন্টব্রিজের এই রাতটি ছিল পন্টিংময়। তবে অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের ভাবনাজুড়ে শুধুই দল, ‘ম্যাচের আগে আমি সবাইকে বুঝিয়েছিলাম চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এই তিনটি ম্যাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি। ওয়ানডেতে আমরা যে সঠিক পথেই আছি এটি তার প্রমাণ।’
আগের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা, পরশু বোলাররা। সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, ‘সাত ম্যাচ সিরিজে ৫-০ তে পিছিয়ে থাকাটা হতাশাজনক। সত্যি বলতে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। পন্টিং-ক্লার্ক ভালো খেলেছে, কিন্তু আমাদের বোলিংটা আরও ভালো হতে পারত। আর ফিল্ডিং ছিল দুঃখজনক।