Monday, June 23, 2014
সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারক জঙ্গিদের হাতে নিহত!

তবে ইরাক সরকার জঙ্গিদের হাতে বিচারক রউফ আবদুল রহমানের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। আবার তাঁকে জঙ্গিদের জিম্মায় নেওয়ার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেনি। ১৬ জুন বিচারক রউফকে আইএসআইএসের জঙ্গিরা আটক করে এবং এর দুই দিন পর তাঁকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জর্ডানের পার্লামেন্ট সদস্য খলিল আতেহ তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, সাদ্দাম হোসেনের বিচারের সময় ইরাকের সর্বোচ্চ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে আটকের পর ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইরাকের বিদ্রোহীরা তাঁকে আটক করেছে এবং সাদ্দামকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার অপরাধে তাঁকেও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারক রউফ নৃত্যশিল্পীর পোশাক পরে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন।
সুন্নি জঙ্গিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সাদ্দাম হোসেনের সাবেক ডেপুটি ইজ্জাত ইব্রাহিম আল-দৌরির ফেসবুক পেজেও বলা হয়েছে, বিদ্রোহীরা বিচারক রউফ আবদুল রহমানকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
বিচারক রউফের জন্ম কুর্দি-অধ্যুষিত হালাবজা শহরে। সাদ্দাম হোসেনের বিচারকাজ চলার মাঝপথে ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত হন। তিন সন্তানের জনক বিচারক রউফ ১৯৬৩ সালে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি কুর্দিস্তান আপিল আদালতের প্রধান বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।
১৯৮২ সালে দুজেইল শহরে ১৪৮ জন হত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক রউফ। ১৯৮৮ সালে এই বিচারকের জন্ম শহরে বিষাক্ত গ্যাসের হামলায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে এই বিচারকের অনেক স্বজনও ছিলেন। আশির দশকে তিনি নিজেও সাদ্দাম হোসেনের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে আটক ও নির্যাতিত হন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগের চেয়েও বেশি আবেদনময়ী আলিয়া ভাট

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন- অজানা আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা

এদিকে হত্যা, গুম, সন্ত্রাসের প্রতিবাদের পাশাপাশি এ আসনের মানুষের কাছে উন্নয়নও একটি প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আর প্রতিশ্রুতির বাণী শুনতে চান না। এবার উন্নয়নের বাস্তবতা দেখতে চান। তারা আরও বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি চাই না, কিন্তু এলাকার উন্নয়ন তো চাই। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নাকের ওপর একটি মুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর সেটা হলো শীতলক্ষ্যা সেতু। এ সেতু বন্দরবাসীর প্রাণের দাবি। বন্দরের সঙ্গে শহরের সেতুবন্ধ না হলে কখনও এ এলাকার (বন্দর) কাঙিক্ষত উন্নয়ন হবে না। কিন্তু সরকার আসে সরকার যায়, সেতু আর হয় না।
শহরের একজন ব্যবসায়ী আলিম উদ্দিন। বন্দরে তার বাড়ি হলেও ব্যবসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে সেলিম ওসমান (লাঙ্গল) ও এস এম আকরাম (আনারস)-এর মধ্যে। আকরাম একজন ভদ্র-নম্র মানুষ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এমপি থাকা অবস্থায় এলাকায় আশানুরূপ উন্নয়ন করতে না পারলেও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেননি। সরকারি কর্মকর্তা থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। দীর্ঘদিন এ দলের সঙ্গে থেকে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করে দুই দু’বার তাকে বিজয়ী করেন। কিন্তু সিটি নির্বাচনের পর হঠাৎ তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন। এরপর তাকে আর এলাকায় তেমন একটা দেখা যায়নি। এখন তিনি নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন। ঠিক আছে। কিন্তু তিনি বিজয়ী হলে তো এলাকার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবেন না। এ সরকার তাকে সেই সুযোগ দেবে না। সন্ত্রাস, গুম আর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলছেন তা ঠিক। কিন্তু তিনি যখন এমপি ছিলেন তখন তো একই ধরনের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ছিল। তিনি কি পেরেছেন তা বন্ধ করতে? পারেননি। আর সেলিম ওসমানের কথা বলতে গেলে তিনি আগাগোড়াই একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসা ভাল বোঝেন। রাজনীতিতে তিনি দক্ষ না। তবে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন- এটা মানুষ বিশ্বাস করেন। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে তিনি সবাইকে এক টেবিলে বসানোর যে মেসেজ দিচ্ছেন তা মানুষ পজিটিভভাবেই নিয়েছে। সবাই এক টেবিলে বসলে নারায়ণগঞ্জের চিত্র পাল্টে যাবে। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি অনেকটাই কমে যাবে। আলিম উদ্দিন আরও বলেন, নাসিম ওসমান (প্রয়াত) ও শামীম ওসমানের মতো সেলিম ওসমানের বদনাম নাই। কিন্তু তাদের কর্মকা- সেলিম ওসমানের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। সেলিম ওসমান ওই প্রভাব কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন তা এখন দেখার বিষয়। তিনি বলেন, এবার ভোটাররা ভেবেচিন্তে ভোট দেবে। আলিম উদ্দিনের মতো একই কথা বললেন, চাকরিজীবী এরফান উদ্দিন, ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন।
বন্দর ধামগড় এলাকার ভোটার ঈমাম হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যিনিই বিজয়ী হোন ভোটের ব্যবধান অনেক থাকবে। কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবো কিনা সেটাই ভাবছি। তিনি বলেন, অনেক ভোটারের মধ্যে আতঙ্ক আছে। পরিবেশ শান্ত থাকলে মানুষ ভোট দিতে যাবে। না হলে যাবে না।
আকরামের শঙ্কা: আগামী ২৬শে জুন অনুষ্ঠেয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামের আশঙ্কা- নির্বাচনের দিন অনেক অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যে বন্দরে একটি নির্বাচনী সভায় সেলিম ওসমানের এক সহযোগীর কাছ থেকে বৈধ অস্ত্র খোয়া গেলেও পরে সেটা উদ্ধার করা হয়। এতেই বোঝা যায় সেলিম ওসমানরা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করবেন। সে জন্য আগামী নির্বাচনের আগে থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান করতে হবে।
গতকাল দুপুরে শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকরাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এখন নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করে আসছি। সেনাবাহিনী ছাড়া এ নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠু হবে না। সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণার নামে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনও এখন পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। সেলিম ওসমান রঙিন পোস্টার সাঁটালেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। আকরাম দুপুরে শহরের কাছারিগল্লিসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এস এম আকরামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের উপদেষ্টা ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য শফিউদ্দিন আহমেদ, পরিষদের আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণফোরাম জেলা শাখার সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, যুগ্ম সদস্য সচিব ও খেলাঘর আসরের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকম-লীর সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির, আওয়ামী লীগ নেতা মামুন, আরমান, জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস প্রমুখ।
বন্দর থেকে শুরু করে সোনারগাঁ পর্যন্ত শিল্পায়ন করা হবে -সেলিম ওসমান: বন্দর উপজেলার পুরানবন্দর চৌধুরীবাড়ী এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা সর্বদলীয় মতবিনিময় সভায় পরিণত হয়। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির পাশাপাশি নির্বাচন বর্জনকারী দল ১৯ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেয়া বিএনপি ও অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলাম সমর্থন জানিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়েছিল।
এ সময় সেলিম ওসমানের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার জামায়াত নেতা খোকা মোল্লাসহ বন্দর থানা ছাত্রদলের হুমায়ুন মোল্লা, বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোল্লা, বিএনপির সমর্থক শহীদ মোল্লা ও আরিফ মোল্লা। এ সময় তারা সেলিম ওসমানকে উন্নয়নের স্বার্থে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। পাশাপশি সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরামকে প্রতিবন্ধী বলে আখ্যা দেন।
শনিবার রাত ১১টায় বন্দর ইউনিয়নের পুরানবন্দর চৌধুরীবাড়ী এলাকায় নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ও উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা সর্বদলীয় সভায় পরিণত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রয়াত নাসিম ওসমানের সহধর্মিণী পারভিন ওসমান।
প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বন্দর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার জামায়াত নেতা খোকা মোল্লা, থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় পার্টির নেতা রশিদ কনট্রাক্টর, মাঈনউদ্দিন মানুু, খোকা মেম্বার, শাহাবুদ্দিন সাবা, ইবনে সাইদ, আলী হোসেন মোল্লা, নজরুল ইসলাম টিটু, সালাউদ্দিন মিলন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল জাহের চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহা প্রমুখ।
সভায় সেলিম ওসমান বলেছেন, শ্রমিকরাই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কোন মালিক বা রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নেই দেশ বাঁচিয়ে রাখার। আমি একজন শ্রমিক। আমার অনেক মালিক ভাইসহ অনেকে অনেক বড় বড় কথা বলেন। আমি তাদের বলতে চাই, যত টাকাই নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন না কেন শ্রমিক না থাকলে আপনার ব্যবসার কোন উন্নতি হবে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। তাই দেশের উন্নয়ন করতে হলে শিল্পায়ন প্রয়োজন। বন্দরে শীতলক্ষ্যা সেতু হলে বন্দর থেকে শুরু করে সোনারগাঁ পর্যন্ত শিল্পায়ন করা হবে। তখন বন্দরের শ্রমিকরা বাড়ির ভাত খেয়েই কাজ করতে পারবেন। বন্দরের মানুষ নারায়ণগঞ্জে যাবে না। বিশ্ব বাজার থেকে উদ্যোক্তারা এসে বন্দরে শিল্পায়ন হবে।
গামছার পক্ষে কাদের সিদ্দিকীর প্রচারণা: এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (গামছা) হত্যা, গুম, রাহাজানি বন্ধে মানুষের জান-মাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গামছা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, বর্তমান সরকার আফ্রিকান মাগুরে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকান মাগুর যেমন সব কিছু খাওয়া শেষ হলে নিজেরাই নিজেদের খায়, তেমনি বর্তমান সরকার দেশের সব কিছু খাওয়া শেষ করে এখন নিজেরাই নিজেদের খাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন সেটারই আলামত।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে শনিবার বিকালে বন্দর উপজেলায় আয়োজিত বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভায় শনিবার বিকালে তিনি এসব কথা বলেন।ড়বর্তমান জনসমর্থনহীন সরকারকে লাল কার্ড দেখাতে তিনি গামছা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, এ সংসদ বেশি দিন থাকবে না, ভারতে কংগ্রেসের পরাজয়ে বর্তমান সরকারের প্রাণভ্রমরা মরে গেছে। বন্দর উপজেলার উত্তর লক্ষণখোলা, ইস্পাহানি বাজার, বক্তারকান্দি নবীগঞ্জ ও বন্দরে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, প্রার্থী শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, হাবিবুননবী সোহেল, বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে মামুনের স্লোগান: এদিকে বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল মজিদ মামুন (চিংড়ি মাছ) ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। তরুণ প্রজন্মের কথা সংসদে বলতে চাই। আমি আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন করবো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমি চক্রান্তের শিকার: নূর হোসেন

>>নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীর কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবিটি ১৫ জুন তোলা। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
আজ সোমবার সকালে কলকাতার বাগুইহাটি থানার কাছে দেশবন্ধু নগর সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন নূর হোসেন।
আট দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে তোলা হবে। এ উপলক্ষে সকাল নয়টার দিকে তিনজনকে বাগুইহাটি ওই হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।
চক্রান্তের পেছনে কারা রয়েছে—সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আপনারা খুঁজে বের করুন।’
র্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি জানি না।’
নূর হোসেনের সঙ্গীদের একজন সুমন খান বলেন, ‘আমি পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে এসেছি। তবু আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন। বাগুইহাটি থানার সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। পরদিন গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৮ জুন ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট মাসিক ২০ হাজার টাকায় দুই মাসের জন্য ভাড়া নেন নূর হোসেন।
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার পর ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে এটিএস সদস্যরা নূর হোসেনকে উত্তর বিধাননগর থানায় নিয়ে জেরা করেন। তিনি কীভাবে, কার সাহায্যে, কোন সীমান্তপথে, কোন দালালের হাত ধরে কলকাতায় এসেছেন—তা জানার চেষ্টা করেছে এটিএস। এ ছাড়া ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠার ক্ষেত্রে নূর হোসেন কাদের সহযোগিতা নিয়েছেন, এ কাজে কলকাতার কোন কোন ব্যক্তি জড়িত—জেরায় তাও জেনে নিয়েছেন এটিএসের সদস্যরা।
গতকাল রোববার বিকেলে বাগুইহাটি থানার আইসি দেবব্রত ঝা প্রথম আলোকে বলেন, আট দিনের রিমান্ড শেষে নূর হোসেনকে কাল (আজ) বারাসাত আদালতে তোলা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন- ওসমান পরিবার বনাম পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি by তানভীর সোহেল ও আসিফ হোসেন

২৬ জুন অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে এবার ওসমান পরিবারের প্রার্থী সেলিম ওসমান। সাংসদ শামীম ওসমানের ছোট ভাই ব্যবসায়ী সেলিম এ আসনে মনোনয়ন পেতে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তঁার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বদলে শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেওয়ায় স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই রাজনীতিক।
স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ, তাঁরা সেলিম ওসমানকে সমর্থন দিচ্ছেন৷ অন্যদিকে ওসমান পরিবারবিরোধী আওয়ামী লীগের নেতা, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মেয়র আইভীর সমর্থকেরা আছেন এস এম আকরামের পক্ষে। বন্দর এলাকায় বাড়ি হওয়ায় এবং সেখানকার সাবেক সাংসদ হওয়ার কারণে এলাকায়ও জনপ্রিয় আকরাম৷
জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য হয়। বিএনপি ও জামায়াত এ নির্বাচন বর্জন করেছে৷ আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী না দিয়ে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহর আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন,নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখন আর সন্ত্রাস কিংবা কোনো পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে চান না। তাই তাঁরা সুযোগ পেলেই ওসমান পরিবারের বিপক্ষে রায় দেবেন। বিষয়টি বুঝতে পেরেই আওয়ামী লীগ এখানে কোনো প্রার্থী দেয়নি। আবার এস এম আকরাম এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত৷ তিনি নির্বাচিত হয়ে এলে আওয়ামী লীগ সেটিকে স্বাগত জানাবে৷
স্থানীয় ভোটররা জানান, নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই ওসমান পরিবারের অঘোষিত রাজত্ব চলে আসছে। সাংসদ শামীম ওসমানের কারণে এ পরিবারটি সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। নারায়ণগঞ্জে গুম, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে এই পরিবারের নাম জড়িয়ে আছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শামীম ওসমানকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু ওই পরিবারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্বাচন করেন। তখন এস এম আকরাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা প্রকাশ্যে আইভীর পক্ষে অবস্থান নেন৷ এ অবস্থায় এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে আইভীর কাছে হেরে যান শামীম ওসমান।
এবার ত্বকী হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ সাত খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসমান পরিবার আরও বেশি বিতর্কিত৷ দুটো ঘটনাতেই ঘুরে-ফিরে এই পরিবারের নাম এসেছে৷
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, মেয়র হওয়ার কারণে আইভী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে তঁার পুরো সমর্থন রয়েছে আকরামের প্রতি৷
সেলিম ওসমান প্রথম আলোকে বলেছেন, নির্বাচন করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। জনগণের চাপে তিনি প্রার্থী হয়েছেন৷
এস এম আকরাম বলেন,‘জনগণ সন্ত্রাসের পক্ষে নেই। এ জন্যই তাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে শান্তির পক্ষেই তাঁদের অবস্থান জানাবেন। আর এ এলাকার সাংসদ হিসেবে আমার ভূমিকা মানুষ জানে। কাজেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী।’
২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো এবারের উপনির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা চাইছেন, ওসমান পরিবারের কেউ এখানে নির্বাচিত না হোক। আর তাই ভোট বর্জন করলেও নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে না। অবশ্য স্থানীয়ভাবে একটি কথা প্রচলিত আছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার ওসমান পরিবারের কথায় চলেন৷ তিনি দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি৷ জেলা বিএনপির নেতারা বলেছেন, তাঁকে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে৷
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল প্রথম আলোকে বলেন, -তাঁরা কোনো সন্ত্রাসের পক্ষে থাকবেন না। সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে ভোট দেবেন না বিএনপির নেতা-কর্মীরা৷
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এস এম আকরাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেছেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়েছেন৷ সরকারের অতিরিক্ত সচিবও ছিলেন। তঁার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
অন্যদিকে সেলিম ওসমান উচ্চমাধ্যমিক পাস। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা ফৌজদাির মামলার কার্যক্রম বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত আছে৷ এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ থানায় দায়ের করা তিনটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে দুটি রাষ্ট্রীয় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, একটিতে বেকসুর খালাস পেয়েছেন তিনি। তঁার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় করা অস্ত্র মামলাটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম
সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা৷ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল প্রায় অচল৷ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে৷

>>টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগের শেষ নেই৷ অনেকে প্রধান সড়কের ওপর জমে থাকা বুকসমান পানির ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যান৷ ছবিটি নগরের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা l সৌরভ দাশ
রেল যোগাযোগ বন্ধ: সকাল থেকে প্রবল পাহাড়ি ঢলে শহর থেকে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দূরে ভাটিয়ারী ও কুমিরার মধ্যবর্তী স্থানে রেলওয়ের নির্মাণাধীন ৩৪ নম্বর সেতুর তলদেশের অস্থায়ী সুরক্ষা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রেললাইনের কর্মীরা বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এই খবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানান৷ এরপর ওই সেতুতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ প্রকৌশল ও ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মী সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে সেতুটি মেরামত করলে ওই লাইন দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল শুরু হয়৷ প্রবল স্রোতের কারণে আপ-লাইনের সেতুর মেরামতকাজ সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। দুই বছর আগেও সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়েছিল।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৪ নম্বর সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস ও চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস কুমিরা স্টেশনে আটকা পড়ে। ঢাকাগামী কর্ণফুলী ফৌজদারহাট স্টেশনে আটকা পড়ে। মহানগর গোধূলী এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রভাতী ও জালালাবাদও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
অাটকে পড়া ট্রেনগুলোর যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়৷ চট্টগ্রাম–গামী দুটি ট্রেনের যাত্রীরা কুমিরা স্টেশনে নেমে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরে যান৷
কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী মনির আহম্মদ বলেন, ‘১১টায় আমরা ফৌজদারহাটে আটকা পড়ি। দ্রুত সময়ে সেতু মেরামতের কথা বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়। অথচ দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, স্রোতের তীব্রতার কারণে ৩৪ নম্বর সেতুর অস্থায়ী সাপোর্ট নড়বড়ে হয়। ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠান ও রেলের প্রকৌশলী ও কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সেতুটি রেল চলাচলের উপযোগী করেন৷ বিকেলের দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত: বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস গতকাল বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। এই যানজট ও মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
সকালে মুষলধারে বৃষ্টির সময় ষোলশহরসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিল।
উড়োজাহাজে যাত্রী কম: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে গতকাল ঢাকাগামী উড়োজাহাজের ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। যাত্রী কম নিয়ে চারটি সংস্থার উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে৷
বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী কম পরিবহন হয়েছে বলে চারটি বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা: সকালের প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় গলাসমান পানি জমে নগরের ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, বাকলিয়ায়। এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে৷ আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। বাদুড়তলা, মোহাম্মদপুর, ডিসি রোড, কাপাসগোলায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। যানবাহন চলাচল কমে গেছে। মাঝেমধ্যে দু-একটি রিকশা চললেও ভাড়া তিন গুণ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায় স্থবিরতা: বেপজা সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে৷ এতে পণ্য ওঠা-নামা ব্যাহত হয়। নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সকালে পানি ওঠায় এ দুই এলাকায় স্থবিরতা নেমে আসে। চাক্তাইয়ের আড়তদার মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে তিন-চার দিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে গাড়িতে পণ্য ওঠানো-নামানো যাচ্ছে না।’
বৃষ্টিতে পোলট্রি খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নগর এবং বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু মুরগির খামারে পানি ঢুকে গেছে। এতে অনেক মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। ফতেয়াবাদের শফিউল আজম বলেন, ‘বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমার খামারে পানি ঢুকে কয়েক শ মুরগি মারা যায়। আমার মতো আরও অনেকের একই অবস্থা হয়েছে।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হবে। এ সময় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম
সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা৷ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল প্রায় অচল৷ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে৷

>>টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগের শেষ নেই৷ অনেকে প্রধান সড়কের ওপর জমে থাকা বুকসমান পানির ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যান৷ ছবিটি নগরের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা l সৌরভ দাশ
রেল যোগাযোগ বন্ধ: সকাল থেকে প্রবল পাহাড়ি ঢলে শহর থেকে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দূরে ভাটিয়ারী ও কুমিরার মধ্যবর্তী স্থানে রেলওয়ের নির্মাণাধীন ৩৪ নম্বর সেতুর তলদেশের অস্থায়ী সুরক্ষা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রেললাইনের কর্মীরা বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এই খবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানান৷ এরপর ওই সেতুতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ প্রকৌশল ও ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মী সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে সেতুটি মেরামত করলে ওই লাইন দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল শুরু হয়৷ প্রবল স্রোতের কারণে আপ-লাইনের সেতুর মেরামতকাজ সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। দুই বছর আগেও সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়েছিল।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৪ নম্বর সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস ও চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস কুমিরা স্টেশনে আটকা পড়ে। ঢাকাগামী কর্ণফুলী ফৌজদারহাট স্টেশনে আটকা পড়ে। মহানগর গোধূলী এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রভাতী ও জালালাবাদও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
অাটকে পড়া ট্রেনগুলোর যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়৷ চট্টগ্রাম–গামী দুটি ট্রেনের যাত্রীরা কুমিরা স্টেশনে নেমে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরে যান৷
কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী মনির আহম্মদ বলেন, ‘১১টায় আমরা ফৌজদারহাটে আটকা পড়ি। দ্রুত সময়ে সেতু মেরামতের কথা বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়। অথচ দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, স্রোতের তীব্রতার কারণে ৩৪ নম্বর সেতুর অস্থায়ী সাপোর্ট নড়বড়ে হয়। ঠিকাদাির প্রতিষ্ঠান ও রেলের প্রকৌশলী ও কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সেতুটি রেল চলাচলের উপযোগী করেন৷ বিকেলের দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত: বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট এলাকায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস গতকাল বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। এই যানজট ও মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
সকালে মুষলধারে বৃষ্টির সময় ষোলশহরসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিল।
উড়োজাহাজে যাত্রী কম: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে গতকাল ঢাকাগামী উড়োজাহাজের ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। যাত্রী কম নিয়ে চারটি সংস্থার উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে৷
বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৮ থেকে ১০ শতাংশ যাত্রী কম পরিবহন হয়েছে বলে চারটি বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা: সকালের প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় গলাসমান পানি জমে নগরের ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, বাকলিয়ায়। এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে৷ আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। বাদুড়তলা, মোহাম্মদপুর, ডিসি রোড, কাপাসগোলায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। যানবাহন চলাচল কমে গেছে। মাঝেমধ্যে দু-একটি রিকশা চললেও ভাড়া তিন গুণ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায় স্থবিরতা: বেপজা সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে৷ এতে পণ্য ওঠা-নামা ব্যাহত হয়। নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সকালে পানি ওঠায় এ দুই এলাকায় স্থবিরতা নেমে আসে। চাক্তাইয়ের আড়তদার মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে তিন-চার দিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে গাড়িতে পণ্য ওঠানো-নামানো যাচ্ছে না।’
বৃষ্টিতে পোলট্রি খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নগর এবং বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু মুরগির খামারে পানি ঢুকে গেছে। এতে অনেক মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। ফতেয়াবাদের শফিউল আজম বলেন, ‘বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমার খামারে পানি ঢুকে কয়েক শ মুরগি মারা যায়। আমার মতো আরও অনেকের একই অবস্থা হয়েছে।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হবে। এ সময় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জের নতুন যুদ্ধ by আসিফ নজরুল

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দেশে আরও কিছু উপনির্বাচন হয়েছে। মূল নির্বাচনের মতো সেই সব উপনির্বাচন নিয়েও মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ২৬ জুনের উপনির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শুধু নয়, সারা দেশের মানুষ আগ্রহী হয়েছে একে একটি প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে দেখে। এই যুদ্ধ শুধু সন্ত্রাসী রাজনীতির সঙ্গে সুস্থ ধারার যুদ্ধ নয়; এটি সন্ত্রাসী রাজনীতির প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে মানুষের শুভবুদ্ধির প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এটি নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের শৌর্য আর সাহসিকতারও পরীক্ষা। প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশনকে তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালনে বাধ্য করতে পারে তারাই। তা না করা গেলে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমাজে বিরাজমান প্রশ্নগুলো আরও দৃঢ়তর হয়ে উঠবে। নারায়ণগঞ্জ তাই নতুন বিতর্ক বা নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে ২৬ জুনের নির্বাচনের পর।
২.
নারায়ণগঞ্জ নানা কারণেই এ দেশে আলোচিত একটি স্থান। নারায়ণগঞ্জের সুনাম ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নগর হিসেবে। সেই সুনাম ছাপিয়ে নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির জায়গা হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে গত কয়েক বছরে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পাশবিক ও নিন্দনীয় ঘটনার জন্য ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন ওসমান পরিবারের সন্তানেরা।
শামীম ওসমানের কথাবার্তা শুনে কখনো মনে হয়নি যে এসব অভিযোগের আদৌ কোনো পরোয়া করেন তিনি। পরোয়া করার হয়তো কারণও নেই কোনো। নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে নানাভাবে। তাঁকে এ জন্য গ্রেপ্তার দূরের কথা, কোনো জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতেও হয়নি। আগেও সন্ত্রাসের বহু ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল, জোরালো মামলাও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবু তিনি ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছিলেন। এবার সাত খুনের ঘটনায় তিনি সারা দেশে ধিক্কৃত হওয়ার পরও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার পর সাত খুন বা অন্য কোনো অভিযোগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের টিকিটি স্পর্শ করার সাহস পাবে না পুলিশ বা প্রশাসন। শামীম ওসমানদের তাই এই সরকারের আমলে ভীত বা সংযত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ওসমান পরিবারের ছোট ছেলে সেলিম ওসমান নির্বাচন করছেন মূলত শামীম ওসমানের শক্তিতেই। শামীম ওসমান মানে স্থানীয় পুলিশ ও জনপ্রশাসনও। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এসেছে। সর্বশেষ ত্বকী মঞ্চের নেতাদের ওপর সেলিমের সমর্থকদের হামলার ঘটনায় পুলিশের প্রশ্রয় ছিল, পুলিশের কাছে এ নিয়ে তাই অভিযোগ করার ভারসা পাননি আক্রান্ত ব্যক্তিরা৷ এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনও কোনো ভূমিকা নেয়নি।
২৬ জুনের নির্বাচনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সব হুমকি থেকে ভোটারদের রক্ষা করে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং তাঁদের ভোট ঠিকমতো গণনা হচ্ছে, এটি নিশ্চিত করা। এসব কাজ করা গেলে এই নির্বাচনে এস এম আকরামের পরাজয়ের কোনো কারণ নেই। আইভীর নির্বাচনে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আগেই নৈতিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তখনকার সময়ের চেয়ে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাত খুনের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ মানুষের তাই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে শক্তি হিসেবে আকরামকে সর্বতোভাবে সমর্থন করার কথা।
খুন, গুম, চাঁদাবাজি আর দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের জনপদে আকরামের মতো পরিষ্কার ইমেজের মানুষের গ্রহণযোগ্যতা আগে থেকেই ছিল। তিনি আগেও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা সন্ত্রাসের অভিযোগ কখনো উচ্চারিত হয়নি। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাঁকে অনৈতিকভাবে হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এই নির্বাচনে পরাজিত হবে আসলে সরকার, আওয়ামী লীগ ও সুস্থধারার রাজনীতি।
৩.
উপনির্বাচনে এস এম আকরাম বিজয়ী হলে তা হবে মানুষের স্বাধীন ও সুশীল সত্তার জয়। আকরামের বিজয়ের পথে সন্ত্রাস বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রতিবন্ধক না হয়ে দাঁড়ালে তা হবে নারায়ণগঞ্জের গাঢ় অন্ধকারে নতুন আলোর রেখা। এক অর্থে সরকারের জন্যও তা হবে ইতিবাচক। কারণ, ওসমান পরিবারের পাশে থাকা মানে তাদের যেকোনো তাণ্ডবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া নয়, এই বার্তা মানুষকে দিতে হবে। সরকারের স্বার্থেই এই বার্তা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার বলার চেষ্টা করেছে যে বিরোধী দল আসেনি বলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সরকারের এই দাবি ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে পরের উপজেলা নির্বাচনগুলোয় ব্যাপক, বেপরোয়া ও বেসামাল কারচুপির মধ্য দিয়ে। এখন ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনে কারচুপি হলে বিএনপির ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত আরও বেশি করে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
এই নির্বাচনে আকরাম বিজয়ী হলে নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের নতুন তাগিদ সৃষ্টি হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জের সমাজজীবন ও রাজনীতিতেও সন্ত্রাসের আধিপত্য সৃষ্টি হয়েছে, এসব অঞ্চলে গডফাদার হিসেবে পরিচিত লোকদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া, সব অপরাধের দায় থেকে তাদের মুক্ত রাখা এবং প্রকাশ্যে তাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার মাধ্যমে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের এই বার্তা দেওয়া আবারও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যে মানুষ সন্ত্রাস এবং এর প্রতি রাষ্ট্রের সমর্থন কতটা অপছন্দ করে। আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির পছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্য নামের অরাজনৈতিক একটি নতুন সংগঠনের প্রার্থী আকরামকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব।
এই বার্তা নারায়ণগঞ্জের মানুষকে দিতে দেওয়া হবে কি? এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে পারবেন কি? ওসমান, হাজারী, বদি, ইলিয়াস মোল্লাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সর্বনাশা রাজনীতি থেকে এরপর নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করবেন কি?
সরকারকে এর আগে মানুষ বিভিন্নভাবে বার্তা দিয়েছে। যেমন মেয়র নির্বাচনে সরকারি দলের বিপক্ষে ভোট দিয়ে, সংসদ নির্বাচন বর্জন করে, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে। সরকার জনগণের বার্তা পড়তে পারেনি, পড়তে চায়নি। এসব যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে নারায়ণগঞ্জে নাগরিক সমাজ আর গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে ব্যাপক এবং গভীরতর। সাত খুনের ঘটনার পর এই নির্বাচনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজেরও নজর থাকবে।
আত্মহননের নেশায় বিবেকবুদ্ধিহীন না হয়ে পড়লে সরকারের উচিত নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে হতে দেওয়া। বহু বছর ধরে বঞ্চিত, শঙ্কিত ও শৃঙ্খলিত নারায়ণগঞ্জের মানুষ অন্তত এটুকু দাবি করতেই পারে।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোর্ট মার্শালের রায় প্রকাশ করুন by মিজানুর রহমান খান

ইন্ডিয়া টুডে ২০ জানুয়ারি ২০১২ প্রতিবেদন করেছিল: ‘ভারতের সহায়তায়’ ইসলামি উগ্রপন্থীদের মদদপুষ্ট একটি অভ্যুত্থান-চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। দিল্লি থেকে ‘টারব্যুলেন্ট হাউস’ শিরোনামে ২৮ জানুয়ারি দি ইকোনমিস্ট একটি প্রতিবেদন ছাপে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী দাবি করেছিলেন, বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যা-তালিকা ও ক্যুতে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী ‘জেনারেলদের তালিকা’রও খোঁজ মিলেছে৷ এ বিষয়ে রায়ে, শুনািনতে কী এসেছে, সেটা জানতে জনমনে কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক৷ বিদেশে অবস্থানরত একজন সন্দেহভাজন ইশরাক আহমেদ৷ তিিন ইকোনমিস্টকে বলেছিলেন, কোনো সৈন্য চলাচল হয়নি। বন্দুক ফোটেনি। কোনো কিছুই তাঁরা প্রমাণ করতে পারবে না৷ বিশ্বের নামকরা প্রায় সব মিডিয়ায় কথিত ক্যুর খবর এসেছিল এবং এটা চোখে পড়েনি যে কেউ এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তখন তেমন করে প্রশ্ন তুলেছিল৷ তাই এ ঘটনার রায়গুলো জনসমক্ষে আনার বিরাট প্রয়োজন রয়েছে৷ জেনারেল জিয়া ও এরশাদ আমলের কোর্ট মার্শালকে অনেক ক্ষেত্রেই সমীহ করা হয় না৷ সরকার ও তার মিত্ররা নিশ্চয়ই এখন বিতর্কিত অতীতকে টানবেন না৷
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেছিলেন, এর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত৷ ভারতীয় ওয়েবসাইট রেডিফডটকম ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ লিখেছে, বাংলাদেশের মানুষ এই প্রথম এ রকমের একটি বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারল। এটা সরকারের পরিপক্বতা এবং তার নিজের ওপর আস্থার প্রতিফলন৷ ভারতের মিডিয়ায় সামরিক বাহিনীতে ‘ইসলামি উগ্রপন্থার’ বিস্তারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল৷ ২০ জানুয়ারি ২০১২ এনডিটিভি খবর দিয়েছিল, অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার এক দিন পর র্যাব নিষিদ্ধঘোষিত হিযবুত তাহ্রীরের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কার্ল সিওভাকো ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউতে লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ইসলািম চরমপন্থা বাড়ছে, কারণ সামরিক বাহিনীতে ইসলামপন্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৬ সালের শেষ দিকে সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৩৫ শতাংশ মাদ্রাসাপড়ুয়া নিয়োগ পেয়েছেন৷’ ওই নিবন্ধের কথায় বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীতে ইসলামপন্থীদের ‘ব্যাপক বৃদ্ধি’ লক্ষ করা যাচ্ছে৷ সুতরাং বিএনপির নেত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগই কেবল নয়, সশস্ত্র বাহিনীতে ধর্মীয় চরমপন্থা বিস্তারের স্বরূপ অনুধাবন এবং সে ব্যাপারে অধিকতর সতর্কতার জন্য এই ক্যু মামলার বিস্তারিত জানাটা নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে৷ এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেও এটা জনগণকে জানতে দিতে হবে৷ কোনোভাবেই অসংগত গোপনীয়তার আশ্রয় কাম্য নয়৷
২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় সেনাসদরে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতািন্ত্রক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টার পরিকল্পনা প্রকাশের সময় বলা হয়েছিল, এ বিষয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত জানানো হবে৷ এই অঙ্গীকার রাজনৈতিক দল করেনি৷ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে করেছিল৷ বলা হয়েছিল, জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৪ থেকে ১৬ জনের বেশি নয়৷ এখন আমরা প্রত্যেক অভিযুক্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই৷
বহু ক্ষেত্রে প্রশাসন যেচে পড়ে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মিডিয়ার কাছে সরবরাহ করে৷ সাম্প্রতিক সাত খুনে এক মেজরের জবানবন্দি আমরা জানি না৷ এই ক্যু মামলায় ২০১২ সালে বেসামরিক আদালতে দেওয়া ওই দুই দণ্ডিতের এবং অন্যদের জবানবন্দি অপ্রকাশিত থেকে গেছে৷ ১১টি তদন্ত আদালত, ৭৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং ১৬ কর্মকর্তার (মেজর জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারসহ)
বিচার-প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র প্রকাশে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার৷ কিন্তু তার ঘাটতি থাকলে প্রচলিত আইনের দুয়ার খোলা আছে৷ এখন মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আদালতের দরজায় করাঘাত করতে হবে৷
জেল সুপারের কাছে সেনাসদরের পাঠানো চিঠি থেকে চার বছরের জন্য দণ্ডিত লে. কর্নেল এহসান ইউসুফ, যিনি গত বিএনপি আমলে চাকরিচ্যুত হয়ে গত আওয়ামী লীগ আমলে পুনরায় চাকরি ফিরে পেয়ে ঘটনার অব্যবহিত আগে আবার চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, তার অপরাধ লঘু বলে প্রতীয়মান হয়৷ কারণ, তিনি ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে তাঁর কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করতে উদ্যোগী’ হয়েছিলেন। প্ররোচিত করতে সক্ষম হননি, চেষ্টা চালিয়েছিলেন৷ দুই বছরের জন্য দণ্ডিত অপর মেজর এ কে এম জাকির হোসেন৷ তিনি এক-এগারোতে ঢাকায় দুদকের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান মনিটরিং সেলে কাজ করেছিলেন৷ এ ঘটনার আগে তিনিও বাধ্যতামূলক অবসরে ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধেও ওই একই অভিযোগ একই বাক্যে আনা হয়েছে৷ উভয়ে ‘সিভিল অফেন্স’ করেছেন৷
ভুক্তভোগীর পরিবারগুলো আপিলের কথা হয়তো সহজে ভাববে না৷ কারণ, আইনে আপিল বারণ৷ কর্নেল তাহেরের মামলা তাদের কাছে আলোকবর্তিকা হতে পারে৷ মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, যিিন ২০০৫ সালে আয়োজিত এক সেমিনারে ১৯৫২ সালের আপিল নিরোধক বিদ্যমান সেনা আইনের সংশোধন চেয়েছিলেন৷ তিনি বললেন, ‘আমরা আজও পাকিস্তানি মডেল অনুসরণ করছি৷ তদন্তের আদেশদাতা, তদন্ত আদালত গঠন এবং তার সুপরিশ গ্রহণ-বর্জন মাত্র এক ব্যক্তিরই ইচ্ছা-অনিচ্ছার অধীন৷ তার চেয়েও বড় কথা, সেই অাইনের প্রয়োগটুকুও দেখার মতো কেউ নেই৷ আইন এ ব্যাপারে নীরব৷’
ভারত ও পাকিস্তানের নজির টানব৷ ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ড. হরিস উপানো দণ্ডিত হন৷ ২০০৫ সালে তিনি মার্জনা চেয়ে দরখাস্ত করলে তা নাকচ করা হয়৷ নাকচের কারণ জানাটা তাঁর অধিকার—এই যুক্তিতে তথ্য অধিকার আইনে তিনি দ্বিতীয়বার দরখাস্ত করেন৷ সেটা নাকচ হয়৷ যুক্তি হলো, এটা আইনগত ও নৈতিকতা দ্বারা বারিত৷ তাই এটা বলা যাবে না। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন৷ ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই ভারতের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ওয়াজাহাত হাবিবুল্লা যা বললেন, সেটাই আমাদের আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য৷ মি. হাবিবুল্লাহ রায় দিলেন, কোর্ট মার্শালের রায় আধা বিচারিক৷ তাই ‘স্বচ্ছতার নীতি’ মানতে হবে৷
২০০০ সালে কাশ্মীরে এক ভুয়া বন্দুকযুদ্ধে আমাদের র৵াবের সাত খুনের মতো ভারতীয় পাঁচ সেনা কর্মকর্তা সিবিআইয়ের কথায় ঠান্ডা মাথায় পাঁচ খুন করেন৷ কোর্ট মার্শাল তাঁদের খালাস দেন৷ গত মার্চে শ্রীনগরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে আইজিপি ও ভুক্তভোগীর পরিবার কোর্ট মার্শালের রায় চেয়ে নির্দেশনা চেয়েছিল। আদালত নির্দেশনা দেননি৷ কিন্তু এটা বলেছেন, কোর্ট মার্শালের রায় পাবলিক ডকুমেন্ট৷ তাই দরখাস্ত করলে সেনাবাহিনী তা প্রকাশ করবে।
কোর্ট মার্শালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল প্রবর্তন করতে হবে৷ রাষ্ট্রকে উত্তরোত্তর সভ্য হতে হবে৷ ২০০৭ সালে ভারত সব ধরনের সামরিক রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে অাপিল শুনতে আর্মড ফোর্সেস ট্রাইব্যুনাল (এএফটি) চালু করে৷ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও লে. জেনারেল পদধারীদের নিয়ে গঠিত। গত সপ্তাহে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে দেখি, ভারত এএফটিতে থেমে নেই৷ আপিলের আরও একটি নতুন ফোরাম খুলেছে৷ এএফটির রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারও খোলা হয়েছে৷ হিন্দু লিখেছে, দেখা যাচ্ছে, হাইকোর্টে ৯০ শতাংশ রায় উল্টে যাচ্ছে৷ সুতরাং আমাদের দেশে অন্তত একটি আপিল ফোরাম লাগবে৷
পাকিস্তানেও পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ছে৷ তাই বলছি, ভারতকে অনুসরণে এই একটি ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে আমরা এগিয়ে থাকি৷ সামরিক বাহিনীর জন্য সরকার অনেক কিছু করছে৷ এটা করুন অগ্রাধিকারের সঙ্গে৷ ২০১১ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন আসে যে ‘অাইন সংশোধন করে জে. পারভেজ হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দেওয়া হোক। ভারতের মতো এএফটি চাই৷ কারণ, ৫২-এর সেনা আইনে আপিলের বিধান নেই।’ এ কথা বাংলাদেশের ’৫২-এর ওই একই আইনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বরে ডন-এর একটি শিরোনাম ‘সুপ্রিম কোর্ট সেনা আইনে সংশোধন চান’। প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ বলেন, ‘কোর্ট মার্শাল রায়ের সার্টিফাইড কপি ও অন্যান্য নথির সরবরাহ সহজ করতে হবে৷ এসব না পাওয়ার কারণে আপিলে অসুবিধা হয়।’ তাঁরা আরও বলেন, দোষী ব্যক্তির দোষটা কী, তা জানার অধিকার আছে। আইন না বদলিয়েও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত কী উচ্চারণ করছেন, তা আমাদের কান পেতে শুনতে হবে৷ বেলুচিস্তানের চাঞ্চল্যকর গুমের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আমির হানি মুসলিম বলেছেন, সামরিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল সুপ্রিম কোর্ট শুনবেন৷ (ডন, ২৭ মার্চ ২০১৪)
প্রথম আলো পত্রিকায় দণ্ডিত দুই কর্মকর্তার বিলম্বিত বিচারের খবর বেরিয়েছে। আমরা আর একটি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানতে ও শুনতে চাই৷ কারণ, জনগণের জানার আগ্রহ প্রচণ্ড৷ আরও আশা করি, সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রশাসন ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় লাভ থেকে নিবৃত্ত করবে না; বরং উৎসাহিত করবে। যত দূর সম্ভব পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। আইন বদলাতে উদ্যমী হবে৷ আমরা আশঙ্কা করি, যাঁরা ইতিমধ্যে দণ্ডিত হয়েছেন, তাঁদের রায় ও অন্যান্য দরকারি নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। প্রচলিত অাইনেই তাঁরা এটা পেতে পারেন৷ ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের উচিত হবে রায়ের কপি চাওয়া। শুনেছি, অন্তত একটি ক্ষেত্রে রায়ের কপি চাওয়া হলে লিখিতভাবে দরখাস্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আমরা স্বাগত জানাই।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত ও কংগ্রেস- সব শেষ হয়ে যায়নি by শশী থারুর

এই ‘নেহরু ঘরানার ঐকমত্যে’র কারণে ভারতের গণতান্ত্রিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়েছে। নানামুখী প্রবণতাকে এক সূত্রে গাঁথা সম্ভব হয়েছে। ফলে ভারত কোনো একক গোষ্ঠীর হাতে বন্দী হয়ে পড়েনি। নেহরু ঘরানার সমাজতন্ত্রকে গালি দেওয়া এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে৷ এর ফলে নাকি বহুদিনের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এই আক্রমণের শানে-নজুল হচ্ছে ভারতের মতো একটি চরম দরিদ্র ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষদের উন্নয়নের আওতার বাইরে রাখা৷ অন্য কথায়, এই শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত সরকারি নীতির সমালোচনা করা।
সরকারি মালিকানার কাঠামো তৈরি এবং সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠাই ছিল নেহরুর এই নীতি বাস্তবায়নের সবচেয়ে কার্যকর উপায়৷ একই সঙ্গে সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো। হ্যাঁ, নেহরুর নীতিতে ভুল ছিল। এই নীতির কারণে তথাকথিত ‘লাইসেন্স-পারমিট-কোটারাজ’ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়, এর ফলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ উদ্যোক্তাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভারতের প্রবৃদ্ধির হার কম।
১৯৮০-এর দশকে নেহরুর নাতি রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এরূপ অনেক বোঝাস্বরূপ আইন বাতিল করেন। তারপর কংগ্রেস নেতা নরসীমা রাও ও মনমোহন সিং যুগল যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন, তাতে ভারত এক নতুন উৎকর্ষের যুগে প্রবেশ করে। আর আর্থসামাজিক জীবনধারায়ও গতি আসে।
কিন্তু ভুলটা আসলে কোথায়? অনেকেই বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই বছর শ্লথ থাকায় তরুণদের মধ্যে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, মোদি সেটা কাজে লাগাতে পেরেছেন। সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস ঠিক এখানেই মারটা খেয়েছে—দলটির নজর ছিল ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের ওপর।
কংগ্রেস যদি বলে তারা নেহরুর সময়ে নির্মিত অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভর করে এগিয়েছে, আবার একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করেছে, তাহলে সেটা অযৌক্তিক হবে না। কিন্তু দলটি সব সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে হেঁটেছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ভারতের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নেরও সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারটি তরুণদের কাছে পাত্তা পায়নি, তারা সব সময় এখানে-সেখানে উন্নয়ন খুঁজে বেড়ায় কিনা।
স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, কংগ্রেস ভোটারদের কাছে তার এই মূল্যবোধের কথা আরও ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারত। কংগ্রেস টানা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল, ফলে দলটির বিরুদ্ধে জনরোষও সৃষ্টি হয়েছিল—বিজেপির এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে এটাও কাজ করেছে। আর মোদি নিজেকে পরিবর্তনের দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারায় বিজেপি একদম বাজিমাত করে ফেলে।
অনেকেই দাবি করেন, নেহরুর আমলের সেই জাতীয় ঐকমত্য ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তাঁরা এও বলেন, কংগ্রেস জনগণের ভাষা বুঝতে পারেনি৷ জনগণ নাকি অর্থনৈতিক উন্নয়নই চায়, সামাজিক বৈধতা নয়। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, বিগত দুই বছর বাদ দিলে কংগ্রেসের শাসনামলে ভারতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের সহযোগিতায় আমরা চেয়েছিলাম, এই উন্নয়নের সুফল আরও সুষমভাবে বণ্টন করতে। এতে কিছু সফলতাও এসেছিল। ভোটের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, বিগত ১০ বছরে ভারতীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হয়েছে।
কংগ্রেস সরকার সামাজিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বেশিসংখ্যক শিশুকে বিদ্যালয়ে আনতে পেরেছে, আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে কাজে নিয়োগ দিতে পেরেছে এবং একই সঙ্গে তাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। যে কারণে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়, তা আদতে সেই সর্বহারা মানুষদের নিজেদের পায়ের ওপর দাঁড়াতে এবং তাঁদের জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করেছে।
অনেকে বলছেন, কংগ্রেস নিজেকে বিজেপি থেকে আলাদা করার জন্য সমাজতান্ত্রিক পথে হাঁটবে; কিন্তু সেটা তার জন্য বুমেরাং হতে পারে। কারণ, ভোটাররা নাকি সমাজতান্ত্রিক নীতি পরিহার করেছেন। কিন্তু যে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বেশির ভাগ মানুষ দিনে দুই ডলারের চেয়ে কম আয় করেন, সেখানে গরিবমুখী নীতি পরিহার করা তেমন বিচক্ষণ কাজ নয়। কংগ্রেস নেতাদের উচিত হবে সব সময় এ বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া যে তাঁদের আমলে ভারতীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হয়েছে৷ আর জনগণের হাতে তথ্য আসার কারণেই তাঁরা সরকারের কাছে নতুন ও ভিন্ন দাবি জানাতে পারছেন।
হ্যাঁ, আমরাও উন্নয়ন চাই৷ তবে সেটা সবচেয়ে দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাক, সেটাও আমরা চাই। পরিণামে এই নেহরু ঘরানার উন্নয়ন মডেলই টিকে যাবে৷ কারণ, সেটা অধিকাংশকে বাদ দিয়ে গুটি কয়েক মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।
হ্যাঁ, ভারতকে চকচকে হতে হবে। আর তাকে চকচকে হতে হলে অধিকাংশ মানুষের জীবন রাঙিয়েই তা হতে হবে। মোদি যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে তাঁর এই জয় হবে ক্ষণস্থায়ী, আর নেহরুপন্থীরাই আবার ফিরে আসবেন।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
শশী থারুর: ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনস্বাস্থ্য- ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায় কী? by মশিউল আলম

উভয় পক্ষেই বাড়াবাড়ি আছে। ফলমূল ফরমালিনমুক্ত করার তথাকথিত অভিযানটি বেপরোয়া। অভিযানের পরিকল্পনাকারী ও পরিচালকেরা সম্ভবত ভাবছেন যে এর মধ্য দিয়ে যে ভীতি সঞ্চারিত হবে, তার ফলে ফলমূলে ফরমালিন মেশানোর প্রবণতা কমে যাবে। কারণ, তাতে ক্ষতির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি; ধরা পড়লে সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কা যে অত্যন্ত প্রবল, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে তা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অভিযানের কিছু সুফল ফলতে পারে বটে, কিন্তু তা নিতান্তই সাময়িক হয়ে থাকে। এভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
অন্যদিকে ফল বিক্রেতাদের ধর্মঘটে নামাটাও বাড়াবাড়ি। ধর্মঘটের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাঁদের উচিত ছিল এ ব্যাপারে বক্তব্য পরিষ্কার করা। তাঁরা আসলে কী বলতে চাইছেন? অভিযানের নামে তাঁদের অহেতু হয়রানি করা হচ্ছে? ফল বিক্রেতাদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ভুল যন্ত্রের সাহায্যে ফরমালিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এভাবে ফরমালিনের সঠিক উপস্থিতি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার মানে তো এটা নয় যে, ফলে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে না। ফরমালিনযুক্ত ফল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে মানুষ অসুস্থ হবে, এমন কোনো কথা নেই। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর, বিশেষ যকৃৎ, কিডনি ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ফরমালিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের বিষক্রিয়া ঘটে দীর্ঘ মেয়াদে। এ দেশে নানা ধরনের ক্যানসার, কিডনি ও যকৃতের রোগীর সংখ্যা বছরে বছরে বেড়ে চলেছে; নিউরোবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগীর ভিড় বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। এসবের পেছনে খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো এবং বিশেষত কৃষিকাজে কীটনাশক-বালাইনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের ভূমিকা রয়েছে—এমন কথা বিশেষজ্ঞদের কাছে শোনা যায়।
সুতরাং ফরমালিনবিরোধী অভিযানের নামে ফল বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ ও তার প্রতিবাদে তাঁদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে এই সত্য মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে না যে ফলমূলসহ বিভিন্ন পচনশীল খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হচ্ছে এবং তার ফলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান কী?
প্রথমত, এটা এমন এক গুরুতর জাতীয় সমস্যা, মাঝেমধ্যে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে যার স্থায়ী সমাধান ঘটানো সম্ভব নয়। ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্যের পচন রোধ করার উদ্দেশ্যে ফরমালিন মেশানো হয় কেন—এই গোড়ার প্রশ্নে যেতে হবে সবকিছুর আগে। কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও যান চলাচলব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে দেশের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত কৃষিপণ্য পরিবহনে অনেক সুবিধাও হয়েছে। ফলে কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাচ্ছেন, যা আগে পেতেন না। কিন্তু উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পচনশীল পণ্যদ্রব্যের সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে পরিবহনের সময় যেন পচে না যায়, এমন ব্যবস্থা তো এ দেশে গড়ে তোলা হয়নি।
এটা খুবই স্বাভাবিক যে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পচনশীল খাদ্যদ্রব্যের ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য পচতে দেবেন না, কারণ তাতে তাঁদের লোকসান। এই লোকসান থেকে তাঁরা বাঁচতে পারতেন যদি দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক হিমাগার নির্মাণ করা হতো এবং হিমাগারযুক্ত পণ্য পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা হতো। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কৃষিপণ্য মজুত ও পরিবহনের জন্য হিমাগারব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কিছু গড়ে ওঠেনি। এ দেশে তো আলু সংরক্ষণের জন্যই পর্যাপ্তসংখ্যক হিমাগার নেই। অথচ এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় তরফেই হিমাগারব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া উচিত; সরকারের দায়িত্ব পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা।
হিমাগারব্যবস্থা ছাড়াও পচনশীল পণ্যদ্রব্যের পচন এড়ানোর অনেক আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। যেমন, মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর নয় এমন সহনীয় মাত্রার তেজস্ক্রিয় গামারশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে ফল ও অন্যান্য পচনশীল দ্রব্যের পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রযুক্তি ইউরোপ-আমেরিকায় এখন বহুল প্রচলিত। এ ছাড়া অর্গানিক কিছু প্রযুক্তিও উদ্ভাবিত হয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত নিরাপদ। বাংলাদেশে সেসব প্রযুক্তি আমদানির চেষ্টা করেছেন এমন কিছু ব্যক্তি-উদ্যোক্তার কাছে জানা গেছে, সরকারের তরফে এ ব্যাপারে নানা রকমের বিধিনিষেধ রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরোনো। পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় এ ব্যাপারে সরকারি বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা উচিত।
দেশজুড়ে পর্যাপ্তসংখ্যক হিমাগার গড়ে তোলা এবং হিমাগারযুক্ত পণ্য পরিবহনব্যবস্থা চালু করা অনেক ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু চূড়ান্ত বিবেচনায় আমাদের সেদিকে যেতেই হবে। তবে তার আগে আশু কতগুলো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, ফরমালিন আমদানি ও কেনাবেচা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। বিজ্ঞান গবেষণাগার, খেলনা, আসবাবশিল্প, ট্যানারি ও মেডিকেল প্রভৃতি খাতে ব্যবহারের জন্য মোট ফরমালিনের চাহিদা ১০০ টন৷ অথচ এ দেশে মোট আমদানি করা হয় ৫০০ টন ফরমালিন৷ বাকি ৪০০ টন ফরমালিন কেন আমদানি করা হয়? সেগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়? এতেই বোঝা যায়, এ দেশে ফরমালিন কেন সুলভ ও সস্তা৷ হিমাগার কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত পচনরোধী প্রযুক্তি—কোনোটাই যখন নেই, তখন ফরমালিন যদি এত সুলভ ও সস্তা হয়, তাহলে ফলমূলসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্যের বিপণনকারী-ব্যবসায়ীদের ফরমালিন ব্যবহার থেকে নিরস্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁরা জেল-জরিমানা ও ব্যাপক লোকসানের ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের পণ্যে ফরমালিন মেশাবেন, কারণ এভাবেই শুধু তাঁরা তাঁদের পণ্যের পচনজনিত লোকসান থেকে বাঁচতে পারেন। তাই বিজ্ঞান-গবেষণা ও কিছু নির্দিষ্ট শিল্পে ব্যবহারের বাইরে আর কোনো প্রয়োজনে কেউ ফরমালিন আমদানি করতে পারবে না, এটা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ভেতরে যে কেউ চাইলেই ফরমালিন কিনতে পারবে—এই অবস্থারও অবসান ঘটানো জরুরি। ফরমালিন মেশানোর পর শত শত টন আম জব্দ করে ধ্বংস করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই; আমে কিংবা যেকোনো খাদ্যদ্রব্যে মেশানোর জন্য ফরমালিন যেন কেউ কোনোভাবেই সংগ্রহ করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি কাজ।
মশিউল আলম: সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে by শেখ হাসিনা

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের সকল জেলা, মহকুমা থেকে শুরু করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চারণের বেশে ঘুরে বেড়ান। নিজের চোখে দেখেন সাধারণ মানুষের দুঃখ, বেদনা, বঞ্চনা, তাদের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়-অবিচার। তাদের দুঃখ দুর্দশার অবসান ঘটাবার জন্য তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
তিনি উপলব্ধি করেন যে, একটি শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া সাধারণ মানুষের মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। তাই তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অধিক মনোযোগ দেন। এই সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শাসক শ্রেণির সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে বারবার তিনি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন ও কারাবরণ করতে হয়। এমনকি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে তাঁকে অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। তাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলার আসামিও করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তাঁর নীতিতে ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল-অবিচল। সকল হুমকির বিরুদ্ধে তিনি বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর প্রাণপ্রিয় আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মীও জেল-জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা অর্জন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে আমরা এক ঐতিহাসিক ঘটনার অদ্ভুত সম্মিলন দেখতে পাই। এই সংগঠন যেন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল এক ঐতিহাসিক দায় পরিশোধ করে বাঙালির আজীবন লালিত আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে। আমরা পিছনে ফিরলে বা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখব, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা যুদ্ধে পরাজিত হন আর এই পরাজয় হয়েছিল তারই প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বেইমানির কারণে। সেই পরাজয়ের মাধ্যমে বিদেশি শক্তির কাছে দেশের স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়।
তার প্রায় ২০০ বছর পরে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে একটি গণমুখী সংগঠন ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের সম্মেলনে নাম সংশোধন করে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে যাতে সকল ধর্ম ও মতের মানুষ এই সংগঠনকে নিজের করে নিতে পারে, আরও শক্তিশালী করতে পারে। আওয়ামী লীগ সংগঠনকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে তাদের মুক্তির দূত হিসেবে। ২৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজকের জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তান নামের দেশটির একটি প্রদেশ, যার ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল ১২ শ মাইল। ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি-নীতি, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস কোনো কিছুরই কোনো মিল ছিল না। কেবল মাত্র ধর্ম ছাড়া অভিন্ন আর কোনো উপাদানই ছিল না।
পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রে বাঙালিরা ছিল সংখ্যায় বেশি। কিন্তু শোষণ করত সংখ্যালঘুরা। সরকারি চাকরি, সামরিক বা অসামরিক কোনো জায়গায় কোনো ভালো অবস্থানে বাঙালির কোনো সুযোগ ছিল না। ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর বঞ্চনা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াই ছিল যেন বাঙালির নিয়তি। প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম অবহেলা আর অপমানের মধ্য দিয়ে জীবনধারণ করতে হতো। বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জন করতো পূর্ব বাংলা, অথচ তা ব্যবহারের অধিকার বাঙালিদের ছিল না।
এমনকি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারটুকু পর্যন্ত কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসক দল। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার লড়াই শুরু। ২ মার্চ ফজলুল হক হলের ছাত্রসভায় সেই দিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবে গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন থেকে সংগ্রামের শুরু করে বাঙালিরা। বঙ্গবন্ধুসহ ছাত্র-যুবনেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুরু হয় পাকিস্তানিদের অত্যাচার নির্যাতন, পুলিশি জুলুম, মামলা দায়ের। ভাষা সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু আবারও কারাগারে বন্দী হন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ভাষার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অনেকে শাহাদাত বরণ করেন। শুধু মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালির এই আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন গৌরবালেখ্য।
১৯৫৩ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যকরী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। সেই মোতাবেক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ১০ ফেব্রুয়ারি সমগ্র জেলায় চিঠি দিয়ে নির্দেশ প্রেরণ করেন।
কর্মসূচিগুলো হলো: ১। হরতাল ২। শোভাযাত্রা ৩। জনসভা ৪। কালো পতাকা উত্তোলন ৫। কালো ব্যাজ ধারণ।
আওয়ামী লীগ সংগঠন ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। তার পরও সফলতার সাথে দিবসটি পালিত হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সেদিনের সেই সাহসী সিদ্ধান্তের পথ ধরেই আজ সারা দেশের দলমত-নির্বিশেষে প্রতিটি বাঙালি ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আজ জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় যেখানে আওয়ামী লীগই ছিল সারা দেশে বিস্তৃত মূল সংগঠন। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়। এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যৌথ নেতৃত্বে বঞ্চিত মানুষ শোষণমুক্তির সুযোগ পায়। দুর্ভাগ্য হলো, কেন্দ্রের মুসলিম লীগ সরকার এ পরিবর্তন মেনে নিতে পারে নাই। শুরু হয় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। জরুরি অবস্থা জারি করে ৯২-ক ধারা দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন চালু করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ সব নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ আবারও অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে।
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে আবার সব নেতাকে গ্রেপ্তার করে। একাধারে সেনাপ্রধান, আবার রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে মিলিটারি ডিক্টেটরের শাসন শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেছিলেন। রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি পদক্ষেপ আর এই দুর্বলতার সুযোগেই সামরিক শাসন আসার সুযোগ পায়।
বঙ্গবন্ধু ১৯৫৮ সালের ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পান তবে তাঁর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র ছাত্রসমাজ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আইয়ুব খান আরবি/রোমান হরফে বাংলা লেখা প্রবর্তন করার পদক্ষেপ নেন।
১৯৫৮ সালে মার্শাল ল’ জারি করার পর সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব সরকারের চক্রান্তে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহকর্মীদের সহযোগিতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
আওয়ামী লীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বঙ্গবন্ধু সারা দেশে ব্যাপক সফর শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থাকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পূর্ব পাকিস্তান আদৌ পাকিস্তানের অংশ কি না, সেটাই সন্দেহ ছিল। কারণ বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই পাকিস্তানি সরকার গ্রহণ করে নাই। সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল এই অঞ্চলের অসহায় বঙ্গসন্তানেরা।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের মুক্তি সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। এই দাবি দেওয়ার ফলে ১৯৬৬ সালেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দী থাকা অবস্থায়ই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ওই বছরই জুলাই মাসে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায়’ ফাঁসি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয় নাই।
১৯৬৬ সালের ৭ জুন বন্দী মুক্তি ও ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশে হরতাল পালিত হয়। গুলিতে শ্রমিক-জনতা জীবন দেয়। সেই অবস্থায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই কোর্ট বসিয়ে ৩৫ জন আসামিসহ বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হলে এ দেশের ছাত্র জনতা গর্জে ওঠে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা ও ৬ দফা সামনে নিয়ে আন্দোলন এগিয়ে চলে। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বন্দীদের মুক্তির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা পরিণত হয় গণ-অভ্যুত্থানে। আইয়ুব সরকার বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুকে সব আসামিসহ মুক্তি দিতে। এর আগে সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান। আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আরেক মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতায় আসে, তার নাম ইয়াহিয়া খান। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাঙালি কোনো নেতা বা দল পাকিস্তানের শাসনভার হাতে নেবে, তা ওই শাসকগোষ্ঠী মেনে নিতে পারে নাই । তাই ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ শুরু করে।
বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। যে আন্দোলনে সমগ্র বাঙালি জাতি অভূতপূর্ব সাড়া দেয়। সরকারি, বেসরকারি বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিকসহ সব স্তরের জনগণ একই নির্দেশে চলতে শুরু করে।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটা হয়ে ওঠে সর্বস্তরের মানুষের গন্তব্যস্থান। সেখান থেকে সমগ্র বাংলাদেশে নির্দেশ দেওয়া হতো। ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশ যেত, মানুষ অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতেন। ১ মার্চ থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। কার্যত তাদের শাসন ভেঙে পড়ে। আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকা ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটাকে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সাথে তুলনা করে প্রতিবেদন ছাপায়। দৈনিক আজাদ পত্রিকা ১৯৭১-এর ১৪ মার্চ ‘৭ কোটি বাঙালি যেখান থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলে, ‘.....বাংলার শাসনক্ষমতা এখন আর সামরিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে নাই বরং ৭ কোটি মানুষের ভালোবাসার শক্তিতে ধানমন্ডির ৩২ নং সড়ক এখন বাংলার শাসনক্ষমতার একমাত্র উত্স হইয়া পড়িয়াছে।’
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালায়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং শেষ শত্রু বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই ঘোষণার সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি কারাগারে নিয়ে যায় এবং দেশদ্রোহী মামলা দিয়ে ফাঁসির আদেশ দেয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর আম্রকাননে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তমিত সূর্য উদিত হয় সেই জায়গায় যার খুব কাছেই দুই শত বছর আগে তা অস্তমিত হয়েছিল।
দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে মিত্র শক্তি ভারত ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশ, জনগণ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহায়তায়
বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। যে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই রেসকোর্স ময়দানেই আত্মসমর্পণ করে। ইয়াহিয়া খানের পতন হয়। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নেতৃত্বের প্রবল চাপে পাকিস্তানের নতুন সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা ফিরে আসেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এবং রেসকোর্স ময়দানেই তিনি ভাষণ দেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে কীভাবে গড়ে তুলবেন, তার দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা ঘোষণা দেন। লাখো শহীদ ও নির্যাতিতা মা-বোনের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বন্ধুপ্রতিম দেশ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
বঙ্গবন্ধু মাত্র নয় মাসের মধ্যে জাতিকে সংবিধান উপহার দেন। সেই সংবিধান মোতাবেক ১৯৭৩ সালে সাধারণ নির্বাচন দেন। সেই সাথে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুরু করেন।
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশ যখন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছে, তখনই নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা থামিয়ে দেয়। হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের গৌরবময় ইতিহাস মুছে ফেলে দেওয়া হয়। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তির দোসরেরা, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক অধ্যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন করা হয়। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে দেশে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উতরাই পার হয়ে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের মানুষ উপলব্ধি করে, সরকার জনগণের সেবক, সরকারের একমাত্র কাজ জনগণের কল্যাণ। আশাহত, বেদনাক্লিষ্ট, শোষিত মানুষরা নতুনভাবে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত হয়ে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতিচর্চা দেশকে আবার গৌরবময় অধ্যায়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকে।
কিন্তু, দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ে না বাঙালির। ২০০১ সালে ১ অক্টোবরের নির্বাচন আবার কালো মেঘে ঢেকে দেয় স্বপ্নের রূপালী আকাশ। হত্যা, নারী ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে থাকে। ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি-জামায়াত গং মরিয়া হয়ে ওঠে।
লাখো শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা স্বাধীনতা শত্রুদের গাড়িতে, যুদ্ধাপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যারা ১৯৭১ সালে মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছে, তারাই হয়ে যায় দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। হাওয়া ভবন, অর্থপাচার, অস্ত্র চোরাচালান, ড্রাগ-ট্রাফিকিং, এমন কোনো অপকর্ম নেই এরা করেনি। দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে যায় এদের হাতে।
এদের অপকর্মের ফসল সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরি অবস্থা জারি। পাঁচ বছর বিএনপি সরকারের জুলুম-নির্যাতন, দুই বছর ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনদের জরুরি অবস্থায় দেশের মানুষ দমবন্ধ অবস্থায় দিন যাপন করে।
অবশেষে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়। পাঁচ বছরে অতীতের সকল জঞ্জাল পরিস্কার করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বসভায় উজ্জল করে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি ও উন্নয়নের পথে দেশ অগ্রসর হতে থাকে। মানুষ ফিরে পায় রাজনৈতিক অধিকার। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। উন্নয়নের ছোঁয়া প্রত্যন্ত গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে থাকে।
পাঁচ বছরে দেশ এগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। জাতি কলঙ্কমুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।
৫ জানুয়ারি, ২০১৪ এর নির্বাচনে পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উন্নয়নের গতি চলমান রাখার সুযোগ পেয়েছে। দেশবাসীর কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক কষ্ট করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমি নিশ্চিন্তভাবেই বিশ্বাস করি, তাদের দুঃখের দিনের অবসান ঘটবেই। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি উন্নত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলবে। এটাই ছিল জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা, যা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ্।
অহিংস অসহযোগ আন্দোলন আর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অভূতপূর্ব সমন্বয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। এই দুই রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয়, মিশ্রণ ও বিজয় অর্জন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যা সম্ভব করেছে গণমানুষের দল– আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনের নিবেদিত বিশাল কর্মীবাহিনীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগই এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছে।
পঁয়ষট্টি বছরের এই সংগঠন সঠিক নেতৃত্ব ও ত্যাগী কর্মীবাহিনী এবং জনসমর্থন পেয়েছে বলেই গৌরবের সঙ্গে শত ষড়যন্ত্র, বাধা অতিক্রম করে বিজয় অর্জন করেছে, স্বাধীনতা এনেছে, পৃথিবীর বিপ্লবের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগামীতেও বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে, বাঙালিলী জাতি উন্নত জাতি হিসেবে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও ত্যাগ-তিতীক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যা কিছু অর্জন করেছে তা কেবল সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী কর্মীদের দ্বারাই, সুসংগঠিত এই সংগঠনের মাধ্যমে। তাদের প্রতি জানাই আমার সংগ্রামী সালাম। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সমুন্নত করে রাখার দায়িত্ব আমাদের। লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে আমরাই পেরেছি বিশ্বরেকর্ড গড়তে। আওয়ামী লীগই পারবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে।
আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে, ইনশাল্লাহ্।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং সভানেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে—শান্তি না সন্ত্রাস? by সোহরাব হাসান

এখন দেখা যাক, সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীদের লিফলেটে কী ছিল? লিফলেটে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে িক তাঁরা কোনো বক্তব্য রেখেছেন? না। লিফলেটে লেখা ছিল: ‘তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর সকল হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। ভোট আপনার পবিত্র আমানত। আপনার সন্তান ও শিশুদের কথা ভেবে অন্তত খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’
এই লিফলেটে কোনো প্রার্থীর নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ‘খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’ এখন যারা হামলা করেছে, তারা কি নিজেরাই সেই খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের দায় স্বীকার করে নিল না?
আমরা ধারণা করেছিলাম, সাত খুনের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জে আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটবে না। গডফাদার-মাস্তানদের উৎপাত চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনা প্রমাণ করল, কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। কুকুরের লেজ যতই সোজা করা হোক না কেন, সুযোগ পেলেই সে লেজ বাঁকা করবেই।
২.
২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচন। এই নির্বাচনের দুই প্রধান প্রার্থী এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। এস এম আকরাম ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দিয়ে তাঁকে জিতিয়ে এনেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘শামীম ওসমানদের সঙ্গে রাজনীতি করা যায় না’ বলে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন িতনি পাবেন। যেমনটি সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছিলেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে৷
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান। তিনি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে নবাগত।
দুই প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের হলফনামায় যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার প্রতি আমরা একবার আলোকপাত করতে পারি।
এস এম আকরাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেছেন। তা ছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিিগ্রও নিয়েছেন৷ নিজের এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১২ লাখ টাকা, বাড়ি-দোকান ভাড়া থেকে তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর নিজের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৩৭ হাজার ৫৪১ টাকা। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় আট লাখ ৫৮ হাজার ৮১৬ টাকা। পরামর্শক হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪ টাকা। চাকিরর পেনশন থেকে বার্ষিক আয় এক লাখ ৯৮ হাজার ২৮২ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আকরামের নিজের নামে নগদ আট লাখ ৩৫ হাজার ৫৫০ টাকা, স্ত্রীর নামে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৪২৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ নিজের নামে এক কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯১২ টাকা, স্ত্রীর নামে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৬ টাকা, বন্ড-ঋণপত্র-স্টক এক্সচেঞ্জের কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে ছয় লাখ ৩৪ হাজার ২০০, স্ত্রীর নামে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৮০০, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ নিজের নামে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে এক কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ২৪৪ টাকা, নিজের নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের এবং স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি নিজের নামে ৫০ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮১২ টাকার দালান, নিজের নামে চা-রাবার বাগান, মৎস্য খামারের মূল্য দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। তাঁর নামে কোনো ব্যাংকঋণ নেই।
এস এম আকরাম উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৬-২০০১ সময়ে তিনি এই আসনের সাংসদ থাকাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার-উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করেছিলেন।
সেলিম ওসমান উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ফৌজদাির মামলার কার্যক্রম বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত তিনটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে দুটি রাষ্ট্রের আবেদনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, একটিতে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলাটিও রাষ্ট্রের আবেদনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সেলিম ওসমান তাঁর ব্যবসা উল্লেখ করেছেন উইজডোম অ্যাটায়ার্স লি., উইজডোম ফেব্রিক্স (প্রা.) লি., উইজডোম নিটিং মিলস লি. (নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক), ফাইফ স্টার ফার্ম হাউস লি. ও ফাইফ স্টার ফার্ম হাউস (ডেইরি, কৃষি ও মৎস্য)।
কৃষি ও মৎস্য খাতে সেলিম ওসমানের নিজের বার্ষিক আয় ২৮ লাখ টাকা, স্ত্রীর ৬৮ লাখ টাকা, বািড়-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ভাড়া থেকে মেয়ের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি বার্ষিক সম্মানী পান ৪৮ লাখ টাকা, স্ত্রী পান ৪২ লাখ টাকা, মেয়ে পান ২৪ লাখ টাকা। শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪৮৬ টাকা, স্ত্রীর আয় ৪১ হাজার ৩১৭ টাকা, মেয়ের আয় ৯৪ হাজার ৯৭ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সেলিম ওসমানের নিজের নামে ২৮ মে পর্যন্ত নগদ চার কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭১ টাকা, স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৫ টাকা, মেয়ের নামে ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৯১০ টাকা রয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ২৮ মে পর্যন্ত নিজের নামে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, স্ত্রীর নামে ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৬ টাকা, মেয়ের নামে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৫২১ টাকা।
বন্ড, ঋণপত্র, কোম্পািনর শেয়ার নিজের নামে উইজডোম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে সাড়ে সাত লাখ টাকার শেয়ার, উইজডোম নিটিং মিলস লিমিটেডে দুই লাখ টাকার শেয়ার, উইজডোম ফেব্রিক্স লিমিটেডের ১৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে নিজের নামে বিনিয়োগ আইএফআইসি ব্যাংকে ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা, স্ত্রীর নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা, মেয়ের নামে এক কোটি টাকা। নিজের নামে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের িজপগািড়, স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কার রয়েছে।
অকৃষি জমি ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে নিজের নামে ২৬ শতাংশ খালি জমি (মূল্য ১০ লাখ ৬১ হাজার টাকা), স্ত্রীর নামে একই এলাকায় ২৯ শতাংশ খালি জমি (মূল্য ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা), স্ত্রীর নামে ফতুল্লার ইসদাইরে ২৭ শতাংশ খালি জমি (মূল্য সাত লাখ টাকা)। নগরের উত্তর চাষাঢ়ায় ৯ শতাংশ জমি ওপর সেলিম ওসমানের নামে তিনতলা বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য এক কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
ঢাকার ৫৪ নম্বর ইনার সার্কুলার রোডে শেল্টে্ক ১/এ অ্যাপার্টমেন্টটি সেলিম ওসমানের নামে, মূল্য ১৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ধানমন্ডির বাড়ি নম্বর ১/বি, রোড ১৩/১-এ চার হাজার ২৮৬ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁর স্ত্রীর নামে (মূল্য ৩৯ লাখ অাট হাজার টাকা)। ৯৩/বি ধানমন্ডিতে তাঁর মেয়ের নামে দুই হাজার ৬৩৩ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট আছে (মূল্য ৩০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা)।
৩.
দুই প্রার্থীর এই হলফনামায় স্পষ্ট যে, এস এম আকরাম সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক জীবনে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই৷ তিনি যা করেছেন নিজের মেধা ও পরিশ্রমে৷ আর সেলিম ওসমানের রাজনৈতিক পঁুজি হলো ওসমান পরিবার, যার ইতি-নেতি দুটি দিকই আছে৷ একদা ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারটির সুনাম ধ্বংস করেছেন পরিবারের সদস্যরাই৷ নারায়ণগঞ্জের মানুষ মনে করে, সব সন্ত্রাস, মাস্তানি ও চাঁদাবাজির পেছনে ওসমান পরিবারের সম্পৃক্ততা আছে৷ সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে রাজনীতিতে এনেছেন নাসিম ওসমান আর তাঁর হাত শক্তিশালী করেছেন শামীম ওসমান৷ এমনকি সাত খুনের পর যখন পলাতক নূর হোসেন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শামীম ওসমানের সাহায্য চাইলেন, তিনি তাঁকে পাসপোর্টে সিল আছে কি না, জানতে চাইলেন৷ হ্যাঁ, নূর হোসেনের পাসপোর্টে সিল ছিল এবং তিনি কলকাতায় পালিয়েও গেলেন৷ ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে চাঁদাবাজি করে কারা কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে যেকোনো ব্যবসা বা উন্নয়নকাজ করতে হলে কাদের মোটা অঙ্কের সালামি দিতে হয়, তা–ও কারও অজানা নয়৷
এখন যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে কি এসব খুন, গুম, চাঁদাবাজি, সালামির ঘটনা ঘটতেই থাকবে, না শান্তি আসবে? নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে তাঁরা শান্তির পক্ষেই রায় দেবেন৷ যেমনটি দিয়েছিলেন ২০১১ সালে সিটি নির্বাচনে৷
ইতিমধ্যে এস এম আকরাম সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিপক্ষ দ্বারা নির্বাচনী কেন্দ্র ও ভোটের বাক্স দখল হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন যাতে সুুষ্ঠুভাবে হয়, কেউ যাতে ভোটকেন্দ্র দখল বা বাক্স ছিনতাই করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরই৷ যদি তাঁরা এই চ্যালেঞ্জটি ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, তাহলে সেখানে শান্তিরই জয় হবে৷ আর যদি না পারেন, সন্ত্রাসই জিতে যাবে, যার প্রাথমিক মহড়া শুক্রবার সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের ওপর হয়ে গেল৷
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সলমা–জরির ফুল ও বিহারি দণ্ডকারণ্য কথা by ফারুক ওয়াসিফ

ক্যাম্পের অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে মনে হবে, জীবনের রূপ-রস-গন্ধ এখানে নেই৷ হাজার হলেও জীবের জীবন৷ সেই জীবনের সব কাজ-খাওয়া-ঘুম-রান্না-রতি-হাসিকান্না সব আট বাই দশ ফুট ঘরেই সারতে হয়৷ মেঝেতে বসে দুজন হয়তো কাপড়ে জরির কাজ করছে, তিন-চারজন মিলে চৌকিতে বসে কাগজের ঠোঙা বানাচ্ছে৷ ছেলেমেয়েরা তার মধ্যেই ঘুরঘুর করছে, গলিপথে খেলছে৷ যার চোখে মায়া আছে, সে দেখতে পাবে ‘মানুষ’ থাকার জন্য জীবগুলোকে প্রতিনিয়ত কী রকম ‘বিদ্রোহ’ করে যেতে হয়! স্ত্রী-সন্তান-স্বজন হারানো মানুষের মুখের গহ্বরে, গুলি খাওয়া মৃত্যুতে, নির্যাতনের চিহ্নে আর প্রতিবাদে যা প্রকাশ পায়, তা মানুষেরই ভাষা৷ রামু-সাঁথিয়ায় সেই ভাষা বাংলা, বিহারি ক্যাম্পে তার নাম উর্দু৷ কিন্তু যাদের জীবনে যাপন নেই, তাদের শোক কি জায়েজ?
সোনালি-রুপালি সুতা দিয়ে তারা কাপড়ে ফোটায় অপূর্ব সলমা-জরির নকশা, কারচুপির লতাপাতা-ফুল৷ এই জরির নকশা, সুতার ফুলতোলা জামা-শাড়ি তারা পরতে পাবে না৷ তাদের জীবনে এসব সুন্দরের প্রবেশাধিকার নেই৷ অথচ তারাই কি না আঙুলের যত্নে ফোটায় সূক্ষ্ম কারুকাজ৷ এটুকুই তাদের মনের সুকুমার সৌন্দর্যের পাবলিক সাক্ষ্য৷ এসব কারুকাজের মধ্যে গোপনে হয়তো তারা বাঁচিয়ে চলেছে হারানো দেশ-জীবনের কৌম স্মৃতি৷ তাণ্ডবের স্মৃতি ধরে রাখতে তারা জমা করেছে গুলি-টিয়ারের সাক্ষ্য–প্রমাণ৷ যুগের পর যুগ দেশহীন, অধিকারহীন রেখেও, পুড়িয়ে মেরেও তাদের এই সুকুমার মন আর এই প্রতিবাদী জেদ ধ্বংস করা যায়নি৷ তাদের হাতের ওপর হাত রাখলেই টের পাই, শিরার দপদপানিতে রোদন করছে এক অন্ধকার ইতিহাস৷ দেশভাগ শেষ হলেও, জাত–পরিচয়ের ভাগাভাগির জের বিহারিদের জীবনে আজও চলমান৷
‘কানুন নাই সাহারা নাই’
অস্ত্রের বাজারের ছবি দেখেছি, কিন্তু যুদ্ধরত দেশ ছাড়া আর কোথাও ‘ইউজড’ অস্ত্রের প্রদর্শনী দেখিনি৷ ‘যুদ্ধাহত’দের ছবি দেখেছি, কিন্তু গায়ে নির্যাতনের চিহ্ন বহন করাদের এত বড় সমাবেশ দেখিনি৷ গত বুধবারে কালশীর বিহারি ‘ক্যাম্পে’ যখন পেঁৗছি তখন দুপুর৷ রাস্তার মধ্যে কাপড়ের ওপর সাজানো ছোটখাটো এক যুদ্ধের অবশেষ: ডজন খানেক টিয়ার শেলের খোল, বেশ কিছু ছররা গুলি ও তার খোল, রাবার বুলেট ইত্যাদি৷ এক বৃদ্ধা এসবের দিকে আঙুল তুলে বললেন, ‘গুলি খায়া কা হাম৷ হামাদের জন্য কানুন নাই সাহারা নাই?’
আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়৷ দলটির প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৬-এর দাঙ্গার সময় হাজার হাজার বিহারিকে বিহার থেকে ট্রেনে করে এনে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন৷ স্বাধীনতার আগেও তিনি বিহারি-বাঙালি দাঙ্গা থামাতে ছুটতেন৷ ইতিহাসের পরিহাস, তঁার দলের লোকজনই আজ বিহারিদের বিনাশ করছে৷
‘বিহারির বাচ্চারা কত খারাপ’
বদনামই যাদের ‘নাম’, তাদের কথা শুনবে কে? বেনারসিশিল্পী বদরুদ্দীন (৪০) তবু শোনাতে চান: ৪৩ বছর ধরে পড়ালেখা নাই, কাজ নাই৷ শিক্ষা পাইনি৷ ৮ বাই ১০ ফুট ঘরে পরিবেশ কোথায়? তাই রাস্তায় খেলে বলে বিহারির বাচ্চারা খারাপ৷ খেলতে গিয়ে বাঙালিদের সঙ্গে গন্ডগোল হলেও দোষ হয় আমাদেরই৷ রাতে কারেন্ট চলে গেলে গরমে অতিষ্ঠ বউ-বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় গিয়ে বসে থাকি৷ রাস্তায় বসি বলেও আমরা খারাপ৷
নিউ কুর্মিটোলা ক্যাম্পের ভেতরের পানির কলের চত্বরে দাঁড়িয়ে গৃহিণী শরিফা বলছিলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগকে
ভোট দেইনি বলে জীবন গেছে৷ তাই এবার আমরা জয় বাংলা বলে ভোট দিতে গেছি৷ যাতে জীবন বঁাচে৷ পানিত থাক্যা কুমিরের সাথে গন্ডগোল করা যায় না৷’ তবু গন্ডগোল লাগে৷ সেই ‘গন্ডগোলের’ ছয় দিন পরেও ইমরান মিয়ার ভয়, ছয় দিন হইল কাজে যাই না৷ আড়াই হাজার জনের নামে মামলা দিসে৷ বাইরে গেলেই যদি ধরে, মারে?’ তাই ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে৷ সহিংসতার ভয় আর শোকের মধ্যে অবরুদ্ধ এক দ্বীপ যেন কালশীর কুর্মিটোলা ক্যাম্প৷
শরীর সাক্ষী, জীবন সাক্ষী
রামুতে শোনা গেছে, সঁাথিয়ায়ও শুনেছি, ‘স্বাধীনতার পর এমনটা দেখিনি৷’ কালশীর বদরুদ্দীন বলছিলেন, ‘৪০ বছরে বাঙালিদের সাথে সমস্যা হয়নি৷ তারাও তো আমাদের সাথে কাজ করে, আমাদের ভাষা বোঝে৷’ রামুর বৌদ্ধ, সাঁথিয়ার হিন্দুদের কথায়ও এই দাবি ছিল যে আগে এমন বিপদ আসেনি৷ যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ; এটা সবাই বলে৷ সমস্যা অতীতেও ছিল৷ তাহলেও রামুতে-সঁাথিয়ায় বা কালশীতে প্রকাশ্যে প্রশাসনের মদদে যা হয়েছে, তা পাহাড়ে ঘটলেও রাজধানীতে অভূতপূর্ব৷ গরিব হলে বিপদ, সংখ্যালঘু হলে বিপদ; অবাঙালি ও অমুসলিম হলেও বিপদ৷ তাহলেও সংখ্যার বিষয়টা প্রধান নয়, প্রধান হলো ক্ষমতাবঞ্চনা৷ মাত্র ১ শতাংশ লোক ৮৫ শতাংশ মুসলমান, ৯৫ শতাংশ বাঙালির ভাগ্যবিধাতা৷ যখন ‘কানুন নেই, সাহারা নেই’; তখন সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর জীবন হয়ে পড়ে একই রকম অরক্ষিত৷
বৃদ্ধা কলিমের মায়ের কপালে কাটা দাগ৷ বেছনী বেগমের মাথায়ও ইট পড়েছিল৷ তঁারা বসে ছিলেন ক্যাম্পের সবেধন, বিধ্বস্ত ডিপ টিউবওয়েল ঘিরে৷ একসঙ্গে তঁারা বলতে থাকলেন, ‘পুলিশ বাঙালি পোলাগুলারে কইতাছে, আগুন ধরা৷ যারাই আগাইতেছে তাগোই গুলি করতাছে৷ আজাদও তো আগুন নিভাইতে যাইয়া গুলি খাইয়া মরসে৷ পুলিশ গ্যাস না ছাড়লে হয়তো মানুষগুলারে বঁাচাতে পারতাম’৷ বিহারি ক্যাম্পের ইট-কাঠ-টিন এবং শিশু-বুড়ো-তরুণের শরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে৷ কানুন থাকলে, বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট৷
বাইরে বাংলাদেশি, ভেতরে শরণার্থী
ক্যাম্পের ভেতরের ইমামবাড়া৷ সেখানে লাল সালুতে আগরবাতির সঙ্গে কম্পিউটারের চিপসও রাখা৷ কম্পিউটার সারাই যার পেশা, সে কি কম্পিউটারের যন্ত্রাংশই মুর্শিদের নামে উৎসর্গ করল? বৃদ্ধ জরিফা বেগমের পা ভাঙা; শিশু নাতনিকে বঁাচাতে গিয়ে পুলিশের লাঠিতে এই দশা তঁার৷ তঁার পেছনের দরজায় বাংলাদেশের পতাকার স্টিকার লাগানো৷ কোনো কিশোরের কাজ৷ তারা পাকিস্তান দেখেনি, ভারত চেনেনি, চিনেছে কেবল বাংলাদেশ৷ তাদের দুটি ভাষা, দুটি পরিচয়, বুকে দুটি দেশের টান৷ মাঝখানে তারা ভাসমান৷ বাইরে তারা বাংলাদেশি, ভেতরে উর্দুভাষী ও শরণার্থী৷
দূরদর্শী শাসক এদের দক্ষতাকে কারুশিল্পের বিকাশে কাজে লাগাতেন৷ দেশদরিদ নেতা ভাবতেন, এক ভাষা এক ধর্ম এক জাতির রাষ্ট্র মানে তো বর্ণবাদী ইসরায়েল! বাংলাদেশে সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম, জীবনধারা ও নৈপুণ্যের যত বৈচিত্র্য আসবে, ততই দেশটা সমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে৷ তাই পাহাড়িদের উচ্ছেদে, হিন্দুদের দেশান্তরে, বৌদ্ধদের হতাশায়, রোহিঙ্গাদের প্রতি অবিচারে আর বিহারিদের নির্মূল করায় রাজনৈতিক দস্যুদের লাভ থাকা সম্ভব; কিন্তু এ আমার তোমার পাপ, এ বাংলাদেশের সর্বনাশ৷
শরণার্থীদের কোনো দেশ নেই
দেশভাগ পাকাপাকি হওয়ার পর পাকিস্তানি হিন্দুরা ভারতে আর ভারতীয় মুসলমানরা পাকিস্তানে হিজরত করে৷ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এ রকম লাখো উদ্বাস্তুকে ভারত সরকার মধ্যপ্রদেশের দণ্ডকারণ্যে জায়গা দেয়৷ রামায়ণে একে বলা হয় রাক্ষসপুরী৷ অনাদিকাল থেকে এ অরণ্যে দেশহারা দণ্ডিত ও পলাতকেরা আশ্রয় নিত; তাই এর নাম দণ্ডকারণ্য৷ এ যেন বিরাট আরেক বিহারি ক্যাম্প৷ এহেন রাক্ষসপুরীতে টিকতে না পেরে হাজার হাজার উদ্বাস্তু সুন্দরবনের কোলঘেঁষা মরিচঝঁাপি দ্বীপে চলে আসে৷ আশপাশের বাঙালিরা তাদের চায় না৷ সরকার তাদের চায় না৷ প্রথমে বিহারিদের মতোই তাদের রুটি-রুজি-ত্রাণের পথ বন্ধ করা হয়৷ অবরুদ্ধ করেও লাভ না হলে ১৯৭৯ সালের ২৪ জানুয়ারি চারদিক ঘিরে গণহত্যা চালানো হয়৷ অনেক লাশ গুম হয়, অনেকের লাশ সমুদ্রে ভেসে যায়৷ বাকিদের কিছু অংশকে আবার দণ্ডকারণ্যের নির্বাসনে পাঠানো হয়৷
দেশের আনাচকানাচে নতুন নতুন দণ্ডকারণ্য জাগছে৷ কালশী বস্তি আমাদের মরিচঝঁাপি৷ পৃথিবীতে শরণার্থীদের কোনো দেশ নেই৷ মরিচঝঁাপির মতো কি আমরা এদের হত্যা করব, আরেক দফা নির্বাসিত করব পাকিস্তানি দণ্ডকারণ্যে? মোদি যখন ‘বাংলাদেশি উদ্বাস্তু’দের অনুপ্রবেশকারী বলে তাড়াতে চান, তখন কি বাংলাদেশও বিহারি খেদাবে, হিন্দু তাড়াবে! একাত্তরে ভারত থেকে বিতাড়িত বিহারিদের সেই ভারতেই শরণার্থী হওয়া সম্ভব ছিল না৷ পাকিস্তানও তাদের নেবে না৷ এ দেশেও তাদের পাকিস্তানি থাকা অসম্ভব৷ কিন্তু মুখের দিকে তাকালে দেখি তারাও মানুষ৷ পিঠের দিকে দেখি উদ্বাস্তু জীবনের কালশিটে দাগ৷ বিবেকের ভণ্ডামি আর আইনের কারচুপি দিয়ে এসব দাগ লোপাট করা যাবে না৷ সময় শোধ নেবে৷
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোর্ট মার্শালের রায় প্রকাশ করুন
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
June
(460)
-
▼
Jun 23
(26)
- সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারক জঙ্গিদের হাতে নিহত!
- আগের চেয়েও বেশি আবেদনময়ী আলিয়া ভাট
- নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন- অজানা আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জের...
- আমি চক্রান্তের শিকার: নূর হোসেন
- নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন- ওসমান পরিবার বনাম পরিচ্ছ...
- বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম
- বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম
- নারায়ণগঞ্জের নতুন যুদ্ধ by আসিফ নজরুল
- কোর্ট মার্শালের রায় প্রকাশ করুন by মিজানুর রহমান খান
- ভারত ও কংগ্রেস- সব শেষ হয়ে যায়নি by শশী থারুর
- জনস্বাস্থ্য- ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায় কী? by মশিউল...
- আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে by শেখ হাসিনা
- নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে—শান্তি না সন্ত্রাস? by সোহরাব...
- সলমা–জরির ফুল ও বিহারি দণ্ডকারণ্য কথা by ফারুক ওয়...
- কোর্ট মার্শালের রায় প্রকাশ করুন
- এ দেশের মানুষের দাম নাই, আছে দলের
- Addio cellulite! Il rituale per combatterla
- হাসিনা কেন বোরকা পরে সীমান্তে গিয়েছিলেন-খালেদা জিয়...
- ‘ড. কামালের লজ্জা নেই’ -মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া
- সুস্বাদু সেক্সুয়াল ব্রাজিলীয় কনডম
- ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধী ইরান :খামেনি
- ভিডিও ফুটেজে বিহারি ক্যাম্পে হামলার দৃশ্য by রুদ্র...
- সাদ্দামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সেই বিচারকের ফাঁসি
- নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে—শান্তি না সন্ত্রাস?
- ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায় কী?
- আদিবাসীরা নেই জাতীয় বাজেটে
-
▼
Jun 23
(26)
-
▼
June
(460)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
