Wednesday, April 2, 2014

একদিকে পঙ্গুত্ব অন্যদিকে গ্রেপ্তার-বাণিজ্য by আলী ইমাম মজুমদার

শিরোনামটি দুটো বাংলা দৈনিকের ইদানীং পৃথক খবর থেকে নেওয়া। আলোচনার অপেক্ষা রাখে না, ২০১৩ সালটি আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ ছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকত প্রায় প্রতিনিয়ত। আর এসব কর্মসূচি সহিংস হয়ে যেত অনেক ক্ষেত্রেই। বলা বাহুল্য, কর্মসূচির মোকাবিলায় মূল দায়িত্বে ছিল পুলিশ। আবার কর্মসূচি ছাড়াই টহলরত পুলিশের ওপর হামলার নিন্দনীয় রেওয়াজও চালু হয়ে পড়েছিল।

’৯৯-এর নির্বাচনী ফল ধরে বাজি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের সেরা পার্বণ লোকসভা ভোটের তাপ-উত্তাপ চৈত্রের দাবদাহের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। নতুন ভোট মানে নতুন সরকার। নতুন সরকারের সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতির ওপরেও। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের অর্থনীতির মূল্যায়ন নতুনভাবে করেছে। হতাশার বদলে সেই চালচিত্রে এখন সোনালি ইঙ্গিত। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট উল্লেখযোগ্য কমে গেছে।

ইউক্রেন কি ভেঙে যেতে পারে? by মশিউল আলম

ইউক্রেন-সংকটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রাশিয়া ও পুতিনের যে প্রবল একগুঁয়ে ছবি ফুটে উঠছে, তাতে মনে হয় সত্যিই নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। রাশিয়া যেন পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের হারানো জায়গাটা পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দুনিয়ার প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর খেপে গিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বহুমুখী অবরোধ-নিষেধাজ্ঞার জোর উদ্যোগ নিচ্ছেন দেখে মনে হচ্ছিল, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে বুঝি শিগগিরই আর কোনো কথাবার্তা হবে না।

দুই দলকে কেন লন্ডনে যেতে হয়? by আব্দুল কাইয়ুম

ব্রিটিশদের আমরা সমীহ করে চলি। তারা দুই শ বছর শাসন করে ভারত এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও মানুষ করে দিয়ে গেছে। কিন্তু তার পরও বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সুশাসন, নির্বাচন নিয়ে তাদের মনের দুশ্চিন্তা কাটে না। তাই তাদের সংসদের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ কমনস ও উচ্চকক্ষ লর্ডস সভার এমপিদের যে যৌথ কমিটি রয়েছে, তারা সভা ডাকে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

রাজনীতিতে সহনশীলতার ঘাটতি by মিজানুর রহমান খান

জেনারেল জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে সহনশীলতার ঘাটতি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে যে অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয় এবং অসত্য বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কীভাবে গ্রহণ করে থাকে। সন্দেহ নেই ইংল্যান্ডের যে শহরটিতে বসে জিয়াপুত্র ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথম এই বিতর্কের সূচনা ঘটালেন, ওই শহরের ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টান্ত।

প্রতিদিনই সচেতন থাকতে হবে by শামসুদ্দোহা সেলিম

অটিস্টিক শিশুর মা-বাবার কাছে প্রতিটি দিনই যেন সচেতনতা দিন বা দিবস। তাদের জন্য হয়তো ২ এপ্রিল বিশেষ কোনো তাৎপর্য বহন করে না। তবে একদিন নিশ্চয়ই করবে, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রায় সব সচেতন ব্যক্তি দায়িত্বশীল হয়ে এগিয়ে আসবেন তাদের পাশে, উপলব্ধির ছায়া ছড়াবে বিভিন্নভাবে। আজ সেই বিশেষ দিনটি ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ সারা বিশ্বে একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এটি সপ্তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

তিস্তার পানি পাচার-বিপন্ন উত্তরাঞ্চল by তুহিন ওয়াদুদ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশে তিস্তার পানি পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য তার এ মন্তব্য তামাশা ছাড়া কিছু নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। ২০১১ সালে যখন আমরা আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছিলাম যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে, আমাদের সেই আশা দুরাশা হয়েই থাকল।

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া

দিমিত্রি মেদভেদেভ
ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে সেনা আংশিক সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জার্মানির সরকার গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মেরকেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় পুতিন সেনা সরানোর বিষয়টি জানিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। এদিকে রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল ক্রিমিয়া সফর করেছেন। ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়াকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির পর প্রথম সরকারের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ওই এলাকায় গেলেন। ২১ মার্চ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আইনে সই করেন। এরপর এই প্রথম মেদভেদেভের ক্রিমিয়া সফরে তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বিমানে করে গতকাল ক্রিমিয়ার প্রধান শহর সিম্ফারপোলে যান। পরে রুশ প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভ টুইটারে এক বার্তায় জানান, ‘আমি এখন সিম্ফপারপোলে। এখানে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উন্নয়নের বিষয়ে রুশ সরকার বৈঠকে বসছে।’ মেদভেদেভের এই সফর ইউক্রেন ও পশ্চিমা সরকারগুলোকে ক্ষুব্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিয়েভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, রাশিয়া বেআইনিভাবে ক্রিমিয়াকে নিজ দেশের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ফেডারেল ব্যবস্থা চালু করতে রাশিয়ার আহ্বানের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া কেন নিজ ফেডারালিজম প্রতিষ্ঠা করে না...কেন রুশ ফেডারেশনের জাতীয় অঞ্চলগুলোকে আরও ক্ষমতা দেয় না...কেন রুশ ছাড়া অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। অথচ ইউক্রেনসহ অন্যান্য ভাষায় কোটি মানুষ কথা বলে। বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় মোশাররফ অভিযুক্ত

পারভেজ মোশাররফ
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গতকাল সোমবার অভিযুক্ত করেছেনে বিশেষ আদালত। একই সঙ্গে আদালত পাঁচটি অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের সময় মোশাররফ কাঠগড়ায় ছিলেন। প্রতিটি অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রদ্রোহী নই, সরকারি অর্থ লুটপাটকারীরাই রাষ্ট্রদ্রোহী।’ তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বিশেষ আদালতে মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিচার চলছে। ২০০৭ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে অন্যায়ভাবে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করায় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড হবে। গতকাল তিন সদস্যের বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি তাহিরা সাফদার মোশাররফের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে কড়া নিরাপত্তায় মোশাররফকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালতে সব দোষ অস্বীকার করে মোশাররফ বলেন, ‘আমি আদালত ও বিচার-প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। আইনের প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। এ পর্যন্ত করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের আদালতে ১৬ বার হাজির হয়েছি আমি।’ আদালতে ৭০ বছর বয়সী মোশাররফকে বেশ চাঙা দেখা যায়। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রদ্রোহী নই। আমার কাছে রাষ্ট্রদ্রোহী তারাই, যারা সরকারি অর্থ লুটপাট করে; রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য করে।’ মোশাররফ আরও বলেন, ‘আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলা হয়, আমি নয় বছর সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেনাবাহিনীতে ৪৫ বছর কাজ করেছি। দেশের জন্য দুটি যুদ্ধ করেছি। এটাই কী রাষ্ট্রদ্রোহিতা?’ পাকিস্তানের সাবেক কোনো জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিরল এক ঘটনা। তাই দেশটির বর্তমান বেসামরিক সরকারের জন্য একে একধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এএফপি ও বিবিসি।

কোরিয়ায় সমুদ্রসীমায় গোলাগুলি

দুই কোরিয়ার বিতর্কিত পানিসীমায় সোমবার শত শত রাউন্ড কামানের গোলা বিনিময় করেছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। সিউল বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়ার গোলা দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্রসীমায় পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের (জেসিএস) মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, উত্তর কোরিয়া আমাদের সমুদ্রসীমায় গোলাবর্ষণ করলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গোলাবর্ষণ করে। কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট টার্গেট লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে সেখানে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। উত্তর কোরিয়া স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সামরিক মহড়া শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়া এর ৩০ মিনিটের মধ্যেই পাল্টা মহড়া শুরু করে। জেসিএস মুখপাত্র বলেন, এর ফলে উভয়পক্ষ বিরোধপূর্ণ ওই সমুদ্রসীমায় গোলা বর্ষণ করে। ঘটনার ভয়াবহতা থেকে রেহাই পেতে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী দ্বীপগুলোর অধিবাসীরা আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়। উত্তর কোরিয়া চতুর্থ পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর হুমকি দেয়ার একদিন পর গোলা বিনিময়ের এ ঘটনা ঘটলো।
উত্তর কোরিয়া ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় এক মহড়ায় তাজা গুলি ব্যবহার করার পর দুপক্ষের মধ্যে এ গোলা বিনিময় হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী ওই মহড়া থেকে কিছু গোলা দক্ষিণ কোরিয়ার পানিসীমায় গিয়ে পড়লে দেশটি তার জবাব দেয়। তবে কোনো পক্ষই প্রতিপক্ষের সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গোলা ছোড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মহড়ায় উত্তর কোরিয়া প্রায় ৫০০ গোলা নিক্ষেপ করেছে। উত্তরে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০০ গোলা নিক্ষেপ করেছে। ভয় নেই, যুদ্ধ বাঁধাবে না বিশ্লেষকরা বলছেন, আকষ্মিক এ হামলায় ভয় নেই, এ গোলা বিনিময় দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধাবে না। সিউলের নর্থ কোরিয়া স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ং মু-জিন বলেছেন, উত্তর কোরিয়া আসলে তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে বহুপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু করতে চায়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা এ ব্যাপারে আগ্রহ না দেখানোর কারণে এ ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে পিয়ংইয়ং।

কারওয়ান নদী ও আম্বর সেতু

সিএ ভবনে প্রথম আলো ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অফিস। ভবনটি যে রাস্তার ওপরে, তার নামকরণ হয়েছে জাতীয় কবির নামে। একটা নম্বরও বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ। সিএ ভবনের ঠিক প্রবেশপথেই কারওয়ান নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা। বেশ বড় ছান্দি নৌকা। দুজন মাঝি যাত্রীসহ নৌকাটি নিয়ে পুব দিকে গেল পাণ্ডু নদীর দিকে। পাণ্ডু বেশ বড় নদী। পাণ্ডু নদী মগবাজারকে করেছে দ্বিখণ্ডিত। কারওয়ান নদীটি একটি ছোট শাখানদী। বৈশাখ মাসে তাতে হাঁটুপানি থাকলেও জ্যৈষ্ঠে বৃষ্টি শুরু হতেই পানি বাড়তে থাকে। আষাঢ়ে দুই তীর টইটম্বুর। পূর্ণিমা সিনেমা হলের কাছে আন্ডারপাসের ওখানে শ্রাবণ-ভাদ্রে ফোটে প্রচুর শাপলা। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। আশ্বিনের ঝড়ে কোনো কোনো বছর সোনারগাঁও রোডের চৌরাস্তায় ফোয়ারার গোলচক্করে নৌকাডুবিতে মারাও যায় দু-চারজন। একটু দূরেই হাতির ঝিলে সারা বছর যে পানি থইথই করে, তাতে মনে হয় যেন কাস্পিয়ান হ্রদ। কারওয়ান নদীর পাশেই আম্বর সেতুটি নির্মাণ করেন আম্বর শাহ নামে একজন পুণ্যবান মানুষ। তিনি প্রভাবশালী ও বিত্তবান ছিলেন। কারওয়ান নদীর তীরে এলাকার মানুষের জন্য তিনি নির্মাণ করেন একটি ছোট সুরম্য মসজিদ।
ফ্রেঞ্চগঞ্জ (ফরাশগঞ্জ) থেকে নৌকায় চান খাঁ সাহেবের পুল হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন ও জিয়াউর রহমান হলের ওপর দিয়ে পরীবাগ হয়ে অনেকে কারওয়ান নদীর তীরে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে আসেন। কারওয়ান নদী থেকে যে খালটি চলে গেছে দোলাই নদীতে (বহু পরে যার নাম হয় ধোলাই খাল), তার পানি অতি স্বচ্ছ। মাছের সাঁতার কাটা দেখা যায় নৌকায় বসে ও পাড় থেকে। এতক্ষণ আমি যা লিখলাম তা পড়ে মাথামুণ্ডু কেউ যে কিছু বুঝতে পারবেন, তা মনে হয় না। আমার মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে বলে কেউ মনে করলেও তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। বহু বছর ধরে কেউ কলাম লিখলে তার মাথা-মগজে বিশেষ কিছু থাকে না। হয় গালগল্প লেখেন, নয়তো গালাগাল, অথবা আবোলতাবোল সব কথা। কারওয়ান বাজার এলাকায় যানজট ও গাড়ির ভিড়ে এখন অনেকেরই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। ওখানে নৌকা কোথায়? আন্ডারপাসের ওখানে শাপলা কোথায়? কারওয়ান নদীটি কোথায়? আম্বর শাহ সেতুটি কোথায়? পাণ্ডু নদীর অস্তিত্ব নেই। ভরাট কারওয়ান নদীর ওপর গড়ে উঠেছে বিরাট বাজার। তার নাম এখন কারওয়ান বাজার। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় কারওয়ান নদীর যে জায়গায় মাছ সাঁতার কাটত, জেলেরা ভেসাল ফেলে মাছ ধরতেন, এখন সেখানে মাছ ব্যবসায়ীর ডালায় মরা মাছের ওপর মাছি ভনভন করে।
আমি পলাশীর যুদ্ধের সময়ের মানুষ নই। সিপাহি বিদ্রোহটাও দেখিনি ১৮৫৭-তে। সুতরাং আঠারো ও উনিশ শতকের কারওয়ান বাজার, চান খাঁর পুল বা দোলাই নদীর অবস্থা জানলাম কীভাবে? ভাষা আন্দোলন ও একাত্তর নিয়ে স্মৃতিচারণা করে যা খুশি তাই লিখলেও নতুন প্রজন্মের মানুষ তা বিশ্বাস করতে বাধ্য। কিন্তু আঠারো ও উনিশ শতকের ঢাকা নিয়ে কাহিনি ফাঁদলে লোকে বলবে গাঁজাখোর। আমি যে জায়গার নদী ও জলাশয়ের কথা বললাম, তা আমার কথা নয়, সেকালের প্রত্যক্ষদর্শী লেখকদের রচিত বইপত্রের কথা। ১০০ বছর আগে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত রেভিনিউ হিস্ট্রি অব বেঙ্গল অ্যান্ড দ্য ফিফ্থ রিপোর্ট (১৯১৭) এবং ফাইনাল রিপোর্ট অব দ্য সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অব ঢাকা প্রভৃতি বইপত্রে ঢাকার ভেতরের ও আশপাশের নদ-নদী ও খাল-ঝিলের কথা লেখা আছে। দুজন ঢাকা-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ হয়েছিল আমার। তার একজন প্রখ্যাত পুরাতত্ত্ববিদ আহমদ হাসান দানী এবং আর একজন আজিমুশ্শান হায়দার। ড. দানীর মতো পণ্ডিত ও ভালো মানুষ আমি জীবনে জনা পাঁচেকের বেশি দেখিনি। তাঁর লেখার বাইরে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তায় ঢাকা সম্বন্ধে অনেক তথ্য জানতে পারি। তা ছাড়া আর একজন ঢাকা-বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদ হাকিম হাবিবুর রহমানের লেখা বই ও কাগজপত্র দেখারও সুযোগ হয়। তাঁর উর্দু লেখার পাঠোদ্ধার করতে আমাকে সাহায্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু-ফারসি বিভাগের অধ্যাপক প্রয়াত ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
ঢাকার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে হলে শুধু ইংরেজি ও বাংলা বইয়ের ওপর নির্ভর করা যাবে না। উর্দু ও ফারসি লেখার সাহায্য নিতে হবে। আমার দুর্ভাগ্য, ওই বিদ্যায় আমি নিরক্ষর। ভাদ্র বা আশ্বিনের জোছনা রাত। আকাশ পরিষ্কার। নবাব আবদুল গণি এবং তাঁর পুত্র নবাব বাহাদুর খাজা আহসানুল্লাহ তাঁদের বেগমদের নিয়ে (দুই নবাবের বেগম পাঁচ-ছয়জনের কম নয়) অবস্থান করছেন তাঁদের দিলকুশার বাগানবাড়ির প্রাসাদে। সন্ধ্যায় তাঁরা ছাদে পায়চারি করছেন। ডানে-বামে উদ্যানে বড় বড় বৃক্ষ। দক্ষিণ-পূর্ব দিক শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত আদিগন্ত খোলা। ছাদ থেকে দেখা যাচ্ছে রংবেরঙের পালের নৌকা নদীতে। নদীর শীতল হাওয়া নবাব পরিবারের সদস্যদের ছুঁয়ে যাচ্ছে। নৌকাগুলো যাচ্ছে মতিঝিল ওয়াপদা অফিসের পেছন দিক দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের কাছে কমলাপুর। নবাব আবদুল গণি ও নবাব আহসানুল্লাহ যে ভবনের ছাদ থেকে মতিঝিলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে নৌকার যাতায়াত দেখতেন, সেটি বর্তমান বঙ্গভবনের আদি ভবন। কী ভালোই না হতো এখন যদি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাদে গিয়ে নদীতে নৌকা দেখতে পেতেন। যেখানে ছিল খরস্রোতা নদী ও তাতে নৌকা, সেখানে এখন রেললাইন। নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ করে রেলগাড়ি চলে। মতিঝিল শাপলা চত্বরে সত্যি সত্যি ফুটে থাকত হাজারো শাপলা ফুল।
ফরাশগঞ্জ, নারিন্দা, মৈশুণ্ডি থেকে হিন্দুদের অনেকে বর্ষাকালে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে যেতেন নৌকায়। সিদ্ধেশ্বরী-মালিবাগ তখন ঢাকা শহর থেকে অনেক দূরের গ্রাম। খিলগাঁও-বাসাবোর অধিবাসীরা নৌকায় গিয়ে হজরত নিয়ামতুল্লাহ বুৎশিকন্দের মাজার জিয়ারত করতেন রাজউক ভবনের পাশে। ১০০ বছর আগে ঢাকার আশপাশে নদী ছিল ৮-১০টি এবং ঢাকার মধ্যে খাল ছিল ৪০ থেকে ৪৩টি। পাণ্ডু, দোলাই, কারওয়ান নদী শেষ। ওদিকে তুরাগ, বালু নদী কোনোরকমে আছে বেঁচে, টঙ্গী ও চিলাই নদীর অস্তিত্ব নেই। তেজগাঁও গ্রামটির পাশে ছিল একটি ছোট নদী। তার নাম বাখু। সুবেদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩) ঢাকাকে সুবা বাংলা বা বাংলা প্রদেশের রাজধানী করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। মধ্যযুগে ঢাকা ছিল বাংলার শ্রেষ্ঠ নগর। পলাশীর যুদ্ধের পরবর্তী দেড় শ বছরে ইংরেজরা অবহেলা করেন ঢাকাকে। তাঁরা গড়ে তোলেন কলকাতা। বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে আবার ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তার সম্প্রসার ঘটে। ’৪৭ সালে প্রাদেশিক রাজধানী হলে এর আকার বাড়তে থাকে দ্রুত। আমি শ দেড়েক বছর আগের ঢাকার দু-একটি দৃশ্য তুলে ধরেছি। এত অল্প সময়ে এত পরিবর্তন পৃথিবীর আর কোনো নগরের হয়নি। শিল্পোন্নত দেশেও নয়। ভূ-প্রকৃতির পরিবর্তন কিছু হবেই। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে পরিবর্তনটা আত্মঘাতী হয় না।
অতীতের কথা বলে লাভ নেই। দেড় শ বছর পরে কী অবস্থা হবে ঢাকার? যে হারে নদ-নদী, জলাশয় দখল ও ভরাট হচ্ছে, তাতে দেড় শ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। ২০৭১ সালের ষোলোই ডিসেম্বরের মধ্যেই ভরাট করে বুড়িগঙ্গায় নির্মিত হবে ৪২ তলা শপিংমল। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম বিপণিকেন্দ্র। শীতলক্ষ্যা ভরাট করে তাতে স্থাপন করা হবে শিল্প-কারখানা। আমদানি করা এক গ্যালন পানি মানুষ কিনবে পাঁচ গ্যালন অকটেনের দামে। পাঠানদের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা তো নয়ই যে ঢাকা ছিল ইসলাম খানের সময়ে বা কর্নওয়ালিশের কালে, সেই ঢাকা, সেই নদ-নদী, খাল-ঝিলও আর ফিরে পাব না। নবাব আবদুল গণির সময়ের ঢাকাও নয়। স্যার সলিমুল্লাহর ঢাকাও নয়। তবে পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় যে জলাধার ছিল, তার অর্ধেক পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব নয়। যদি তা সম্ভব না হয়, অন্তত একাত্তরের ষোলোই ডিসেম্বর ঢাকায় যে খাল, ঝিল, জলাধার ছিল, সেটাই আমরা ফেরত চাই। পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের লোকদের শাসকশ্রেণী মনে করেন তাঁদের দুশমন। নদ-নদীর অবৈধ দখলদারেরা তাঁদের দোস্ত। এই আত্মঘাতী মনোবৃত্তির পরিবর্তন না হলে এক শতাব্দীর মধ্যে শুধু ঢাকা নয়, দেশের ছোট-বড় সব শহরই মহেঞ্জোদারো-হরপ্পায় পরিণত হবে।



সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

সখিনা চরিত্রে তারিন

নাটকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে বরাবরই দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন। হোক না সেটা গ্রামীণ প্রেক্ষাপট কিংবা শহুরে গল্প নিয়ে নির্মিত গল্পের নাটক। যে কোনো ধরনের গল্পের নাটকে তিনি নিজেকে ঠিক মানিয়ে নিতে পারেন। এবারও তাই হল। সম্প্রতি পান্থ শাহরিয়ারের রচনায় ও তারিকুল ইসলামের পরিচালনায় ‘বেওয়ারিশ মানুষ’ শিরোনামের এ নাটকে সখিনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিন।
‘বিষয়টি হচ্ছে, ভালো গল্প আর ভালো চরিত্র না হলে আমি নাটক কিংবা টেলিফিল্মে কাজ করি না। পান্থ শাহরিয়ারের লেখা এ নাটকটির গল্প ভালো। শুধু আমার চরিত্রই নয়, বলা যায় নাটকের প্রতিটি চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি চেষ্টা করেছি সখিনা চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে। আশা করি ভালো লাগবে দর্শকের।’ ‘বেওয়ারিশ মানুষ’ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে ঠিক এমনই বললেন নাট্যাভিনেত্রী তারিন। নাটকে তারিনের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম। এ জুটির সর্বশেষ দর্শকপ্রিয় নাটক ছিল মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত ‘সবুজ ভেলভেট’।

ইউক্রেন কি ভেঙে যেতে পারে?

জন কেরি ও সের্গেই লাভরভ
ইউক্রেন-সংকটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রাশিয়া ও পুতিনের যে প্রবল একগুঁয়ে ছবি ফুটে উঠছে, তাতে মনে হয় সত্যিই নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। রাশিয়া যেন পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের হারানো জায়গাটা পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দুনিয়ার প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর খেপে গিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বহুমুখী অবরোধ-নিষেধাজ্ঞার জোর উদ্যোগ নিচ্ছেন দেখে মনে হচ্ছিল, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে বুঝি শিগগিরই আর কোনো কথাবার্তা হবে না। কিন্তু গত শুক্রবার ওবামা ও পুতিনের মধ্যে আবার টেলিফোনে কথা হলো। উভয় পক্ষ ইউক্রেন-সংকটের একটা কূটনৈতিক সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেন। তার ফল হলো বেশ ত্বরিত: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সৌদি আরব থেকে আমেরিকা ফেরার পথে আকাশেই সিদ্ধান্ত নিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে কথা বলবেন। লাভরভ তখন প্যারিসে। কেরি তাঁকে ফোন করলেন; দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে কথা হলো। তারপর কেরি বিমান ঘুরিয়ে সোজা গিয়ে নামলেন প্যারিসে। রোববার প্যারিসে রুশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে সের্গেই লাভরভের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হলো টানা চার ঘণ্টা ধরে। কিন্তু ইউক্রেন-সংকট সমাধানের পথে এক ধাপও অগ্রগতি হলো না। কারণ, কোনো পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটুও নড়েনি। বৈঠক শেষে লাভরভ সাংবাদিকদের বলেছেন, কেরির সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়ার এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, কিয়েভের পক্ষে আর পুরো ইউক্রেনকে একটি ঐক্যবদ্ধ একক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
তাই সেটিকে এখন একটি ঢিলেঢালা ফেডারেল সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেখানে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ অংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ রুশ জনগোষ্ঠী ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। আর জন কেরি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অবস্থানের ব্যাপারে তিনি লাভরভকে বলেছেন যে, এ বিষয়ে আলোচনায় ইউক্রেনের বৈধ সরকারকেও সঙ্গে নিতে হবে। ইউক্রেন নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে সে ফেডারেল সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করবে, নাকি যেমন কেন্দ্রশাসিত আছে তেমনই থাকবে। কেরি স্পষ্ট ভাষায় লাভরভকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি আমেরিকা সমর্থন জানাবে না। কেরি লাভরভকে আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়ে অন্যায় করেছে—আমেরিকা এখনো এই অবস্থানে অনড় আছে। তিনি রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সীমান্ত বরাবর রাশিয়া যে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে তা আর না বাড়িয়ে সব সেনাকে যেন ক্রিমিয়ায় রুশ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কেরি অবশ্য সাংবাদিকদের এ কথাও স্পষ্ট করে বলেছেন, আমেরিকা ও রাশিয়া এখনো ইউক্রেন-সংকটের ‘কূটনৈতিক সমাধানে’র ব্যাপারে একমত আছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, তাঁরা আগে থেকেই জানতেন যে প্যারিসে কেরি ও লাভরভের বৈঠক কার্যত ব্যর্থ হবে। এর কারণ মূলত রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান, আমেরিকা ও ইউরোপের সম্মিলিত চাপেও যা একটুও নমনীয় হয়নি। আমেরিকা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নড়াচড়াকে ভয় পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া ৪০ হাজারের বেশি সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, রাশিয়ার সেনাদের ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ভেতরেও পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিশেষত ইউক্রেনের পূর্বাংশের কয়েকটি শহরে, যেখানে রুশ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য।
ওই সব সেনার কোনো সামরিক ব্যাজ থাকছে না, ফলে তাদের চেনা যাচ্ছে না তারা আসলে কোনো সেনাবাহিনীর সদস্য কি না। এ রকম ঘটনা ক্রিমিয়াতেও ঘটেছিল। ক্রিমিয়ায় গণভোটের আগেই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে যখন খবর বেরোল যে রাশিয়ার সেনারা কার্যত ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তখন রাশিয়া থেকে দাবি করা হচ্ছিল, তাদের কোনো সেনা ক্রিমিয়ায় প্রবেশ করেনি। সামরিক পোশাক পরা কিছু সশস্ত্র লোক, যাদের কোনো ব্যাজ ছিল না, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে তাদের ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র লোকজন’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছিল। সের্গেই লাভরভ জন কেরিকে বলেছেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর ইচ্ছা রাশিয়ার একেবারেই নেই। ভ্লাদিমির পুতিনও টেলিফোনে বারাক ওবামাকে বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেন-সংকটের ‘কূটনৈতিক সমাধানে’ আগ্রহী। কিন্তু তাহলে ইউক্রেনের সীমান্ত বরাবর রাশিয়া এত বিপুলসংখ্যক সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছে কেন? আমেরিকা বা পশ্চিমের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে এ রকম প্রশ্ন সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছে বলে খবর পাইনি। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে আমেরিকা ও ইউরোপ রাশিয়ার আরও সামরিক অগ্রসরমাণতা নিয়ে শঙ্কিত। আবার এমন শঙ্কার কি বাস্তব ভিত্তি থাকতে পারে, তাও বোধগম্য নয়। রাশিয়া কী অজুহাতে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ভেতরে সেনা পাঠাতে পারে? বরং ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়ার দূরপ্রসারী ভাবনার প্রকাশ ঘটে দেশটির কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে সেটিকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রস্তাবের মধ্যে। রাশিয়া ইউক্রেনকে এমন একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, যার প্রতিটি অঞ্চল হবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা নিজ নিজ অর্থনীতি, করব্যবস্থা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও আমদানি-রপ্তানির বিষয়গুলোতে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। প্যারিসে লাভরভ এসব কথা কেরিকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন। তিনি এও বলেছেন যে ইউক্রেনে রুশ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যা, তাতে ইউক্রেনের ফেডারেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলে মস্কো মনে করে।
রাশিয়ার এই প্রস্তাবের কথা শুনে কিয়েভের শাসকেরা প্রচণ্ড খেপে গেছেন। তাঁরা যখন ইউক্রেনে কেন্দ্রীয় শাসন আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন, তখন সব অঞ্চলকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দিয়ে ঢিলেঢালা একটা ফেডারেল ব্যবস্থা প্রবর্তন করার প্রস্তাব যে তাঁরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। এখন আমেরিকার প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের শাসনব্যবস্থা কী হবে, সেটা নিয়ে যদি একটা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, এবং সেখানে রাশিয়া যদি ইউক্রেনকে রাখতে রাজি হয়, তাহলে সে আলোচনাও যে ফলপ্রসূ হবে না, তা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। আবার আমেরিকা কিয়েভের যে শাসকদের ইউক্রেনের ‘বৈধ সরকার’ মনে করছে, রাশিয়া তাঁদের অবৈধ, সন্ত্রাসী বলে মনে করে, যাঁরা সহিংস পন্থায় ইউক্রেনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছেন। সামনে মে মাসে ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা; কিন্তু রাশিয়া মনে করে ইয়ানুকোভিচ এখনো ইউক্রেনের বৈধ প্রেসিডেন্ট। সুতরাং মে মাসের নির্বাচনে ইউক্রেন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করলেও সেই প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া স্বীকৃতি দেবে না। কারণ, যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন, তিনি হবেন নিঃসন্দেহে একজন মস্কোবিরোধী। সব মিলিয়ে ইউক্রেন-সংকট জটিলতর হয়ে উঠছে। এই জটিলতা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি; কারণ, ইউক্রেনের সামাজিক সংহতি ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে, জাতিগত ঘৃণা-বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। বেসামরিক মানুষের হাতে প্রচুর অস্ত্র আছে, উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই আরও সহিংস হয়ে উঠছে। শান্তিশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে সংখ্যালঘু রুশ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার অজুহাতে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ঢুকে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এবং তা যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে ইউক্রেনের আরও অঙ্গহানির ঝুঁকি বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।

বিপন্ন উত্তরাঞ্চল

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশে তিস্তার পানি পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য তার এ মন্তব্য তামাশা ছাড়া কিছু নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। ২০১১ সালে যখন আমরা আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছিলাম যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে, আমাদের সেই আশা দুরাশা হয়েই থাকল। তিস্তার চুক্তি না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বিশাল জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে। পানির অভাবে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ৬৫ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধানি জমির সঙ্গে বাংলাদেশের হূদয়ও যেন ফেটে চৌচির। উৎপাদন না হলে অনাহারে থাকতে হবে, চাষিদের চোখমুখে সেই বিভীষিকাময় চিত্র। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে তিস্তা-তীরবর্তী রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধার বিপুল অংশের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এভাবে দিনের পর দিন পানির স্তর নিচে নামতে থাকলে উত্তর জনপদের বিশাল অঞ্চল মরুভূমি হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের দুটি পর্যায় ছিল। পানির অভাবে পথম পর্যায়ের কাজ শেষ করা হয়নি, এমনকি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করা যায়নি। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে এ বছর নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।
এ অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন তিস্তার পানি বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে, তখন সেই বাংলা প্রবাদটিই মনে পড়ে, চোরের মায়ের বড় গলা। যখন রংপুর অঞ্চলের কৃষক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার, তখন সরকার শুধু যৌথ নদী কমিশনের সভা করে অর্থহীন ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা শোনাচ্ছে। মমতার তিস্তা নিয়ে ধারাবাহিক মিথ্যাচারের মধ্যেই পানি পাচার করাবিষয়ক মন্তব্যে সেই সত্য কথাটি সহজেই ধরা পড়ে। তিনি পানিও দেবেন না, আবার অপবাদও দেবেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের অংশে যে তিস্তা রয়েছে, সেই তিস্তায় একেবারেই পানি নেই। তিস্তার পানি ব্যবহার করে তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীনে ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হতো। এ বছরে সেই চাষাবাদ হচ্ছে না। যে ১০-১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানেও পর্যাপ্ত পানি দেওয়া যাচ্ছে না। তিস্তা সেচ প্রকল্প চালু হওয়ার পর সুবিধাভোগীদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছিল। মঙ্গার করাল থাবার হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পেয়েছিলেন। এক বেলা করে খেয়ে, না-খেয়ে থাকার কষ্ট তাঁদের দূর হয়েছিল। যে বৃদ্ধের বয়স এখন প্রায় ১০০ বছর, তিনিও বলেন তিস্তার এই মৃত দৃশ্য তিনি কোনো দিন দেখেননি। তিস্তাপারের ফেটে যাওয়া জমির সংকট কৃত্রিম সংকট। জমির সঙ্গে কৃষকের প্রাণের যোগ। চাষাবাদহীন এক জমি পড়ে থাকা দেশে এক চাষিকে বলতে শুনেছি—‘বাবারে, জমি খালি পড়ে থাকলে বুকটাও কেমন যেন খালি পড়ে থাকে।’
যে চাষির সব মুহূর্তের সম্পর্ক জমির সঙ্গে, তাঁর চোখের সামনে কৃত্রিম সংকটে ফসলের মৃত্যু আর জমি ফেটে চৌচির হওয়ার দৃশ্য কোনো দিন সেই চাষির পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। তিস্তার পানির দাবিতে আন্দোলন দানা বাঁধছে। ৩০ মার্চ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল রিভারাইন পিপল। রিভারাইন পিপল তিস্তা নিয়ে সব আন্দোলনকে এক ছাতার নিচে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কিছু সংগঠন ক্ষুদ্র পরিসরে তিস্তা বাঁচাও-এর দাবিতে কাজ করছে। তিস্তা বাঁচানোর জন্য দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে। ভারত সরকার তিস্তার উজানে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, সেচ প্রকল্প স্থাপন করার কাজ অব্যাহত রেখেছে। দেশটি সেচ প্রকল্প আর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে তিস্তার পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে বলে গণমাধ্যম জানাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, তিস্তায় এবার সবচেয়ে কম পানি পাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি আরও জানিয়েছেন,
বাংলাদেশ ভালো না থাকলেও প্রতিবেশীরাও ভালো থাকতে পারবে না। পত্রিকায় দেখেছি, ভারতের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন তিস্তার অবস্থা দেখতে বাংলাদেশে আসছে। তাদের এই আসা যেন লোক দেখানো না হয়। যে নদীর সঙ্গে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য জড়িত, সেই নদীর পানি একতরফা ভারত নিয়ে নিতে পারে না। একই কথা প্রযোজ্য অন্যান্য অভিন্ন নদীর বেলায়ও। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েনের শিকার বাংলাদেশ হবে কেন? ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিকবার যুদ্ধ সত্ত্বেও ভারত সিন্ধু নদের পানি ভাগাভাগি নিয়ে স্থায়ী চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে সেই ধরনের চুক্তি হবে না কেন? উত্তরে পানি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই দোহাই দিয়ে যে, মমতা তিস্তার চুক্তি ঠেকিয়ে রাখছেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ যাবে কোথায়? বন্ধুত্ব তো একতরফা হয় না। তাই, তিস্তার ব্যাপারে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ও সিনেটর, রিভারাইন পিপল।
wadudtuhin@gmail.com

বিজেপির লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী পদ দখল: সোনিয়া

সোনিয়া গান্ধী
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির দিকে ইঙ্গিত করে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, এই দলটির একমাত্র লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করা। এটা করতে তারা জনগণকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার হরিয়ানা রাজ্যের মিয়াতে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন সোনিয়া। তিনি বলেন, নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় বিজেপির নেতারা নতুন বেশ ধরেছেন। তাঁরা মায়াকান্না শুরু করেছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) ১০ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা উল্লেখ করে সোনিয়া বলেন, এসব উন্নয়নকাজের অনেকগুলোই এখন নিজেদের করা বলে দাবি করছেন বিজেপির নেতারা। জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া বলেন, ‘কংগ্রেসের ইতিহাস হলো জনগণের জন্য কাজ করা।
আমরা জনগণের জন্য কী কাজ করেছি, তা আপনারা সামনেই দেখতে পান।’ সোনিয়া দাবি করেন, ইউপিএ সরকার গত ১০ বছরে ভারতের যে উন্নয়ন করেছে, কোনো অকংগ্রেসি সরকার তা কখনোই করতে পারেনি। বিজেপি এখন মায়াকান্না করে তাদের অতীতের কালো ইতিহাস লুকানোর চেষ্টা করছে। সোনিয়া বলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচন শুধু সামাজিক খাতের বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্কারের নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার নির্বাচন। তিনি বলেন, কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় এলে হরিয়ানার কৃষকদের সব সমস্যা দূর করবে। এই এলাকার ভূমিহীন কৃষক ও দরিদ্রদের বাড়ি তৈরি করে দিতে তাঁর দল অঙ্গীকারবদ্ধ। কংগ্রেস-প্রধান বলেন, ‘আমরা এমন ভারত চাই না, যেখানে শুধু নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে উন্নয়ন হবে বা শুধু নির্দিষ্ট কিছু অধিকার থাকবে। আমরা পুরো ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ করে গড়তে চাই, যে দেশ হবে সবার।’ কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সোনিয়া বলেন, তাঁর দল মানুষের মধ্যে ভেদাভেদে বিশ্বাস করে না। হিন্দুস্তান টাইমস।