Saturday, April 30, 2011

বাজেট প্রণয়নে জনগণের সম্পৃক্ততা অনেক সীমিত

দেশের জাতীয় বাজেট মূলত প্রণয়ন করে থাকে নির্বাহী বিভাগ। এখানে সাংসদসহ জনগণের সম্পৃক্ততা অনেক সীমিত। অথচ সংবিধান অনুসারে জনপ্রতিনিধিদের অধিকতর সম্পৃক্ত থাকার কথা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস আয়োজিত বাজেট প্রণয়নবিষয়ক এক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক প্রতিমা পাল মজুমদার, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের (বিইউপি) চেয়ারম্যান এম এ লতিফ, পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোরশেদ হোসেন প্রমুখ।
আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে সাংসদেরা শুধু বাজেট অনুমোদন করেন। বাজেট তদারক ও নিরীক্ষাও করতে পারেন তাঁরা। বিভিন্ন প্রকল্প তথা বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও সাংসদদের প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সাংসদেরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কম। কর কাঠামোও দরিদ্রবান্ধব নয়। মূল্য সংযোজন করের (মূসক) মতো পরোক্ষ কর থেকে বেশির ভাগ কর আদায় হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অধিকতর হারে বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে মনে করেন গভর্নর।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বাজেট প্রণয়নের সাংবিধানিক দায়িত্ব সংসদের হলেও তা করে নির্বাহী বিভাগ। নির্বাহী বিভাগের তৈরি করা বাজেট সংসদে অনুমোদিত হয়। হওয়া উচিত ছিল, আগে সংসদে অনুমোদিত হবে, তারপর নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে।
অর্থমন্ত্রীর জেলা ও একীভূত বাজেটের প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে এ রকম বাজেট প্রণয়নের প্রত্যয় থেকে দূরে সরে আসতে হবে।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর আরও বলেন, ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও আয়ের ওপর করা যায় না। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জোর করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করেছে তা বেআইনি। তারা ডাকাতের কাজ করেছে, সরকারের কাজ নয়। বাজেট ঘোষণার পর এসআরও জারি করে করহার পরিবর্তনকেও অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক এলাকার উন্নয়নে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৩০ কোটি টাকা চাঁদা কোন আইনে ওঠানো হয়েছে—প্রশ্ন রাখেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
খাদ্য বাজেটে অস্পষ্টতা এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের নিরীক্ষা-সীমাবদ্ধতা দূর করার পরামর্শ দিয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাধারণ বীমা করপোরেশন, রাজউক, বিটিসিএল, বিসিআইসি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিপুল পরিমাণ অর্থের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া মূল বাজেটের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রতিবছর বরাদ্দ কম রাখা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সাংসদ।
বিইউপির চেয়ারম্যান এম এ লতিফ বলেন, পাকিস্তানে ২২ পরিবার থাকলেও বর্তমানে কত পরিবার রয়েছে, মানুষ জানতে চায়। তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, একটি জেলা ছাড়া অন্য কোনো জেলা থেকে কেন অর্থমন্ত্রী করা হয় না এবং কোনো অর্থমন্ত্রীই কেন দেশের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনে যান না।
প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান হয় না, দরকার লাভজনক কর্মসংস্থানের। যা বাজেট প্রণয়নের সময় বিবেচনায় রাখা উচিত।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসের (এসঅ্যান্ডপি) বিবেচনায়ও বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান (সভরেন ক্রেডিট রেটিং) গতবারের মতো স্থিতিশীল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনায় বাংলাদেশের এই মানকে বিবি(-)/বি নির্ধারণ করেছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস তাদের বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনায় বাংলাদেশের এই মানকে ‘বিএ৩’ নির্ধারণ করে।
এসঅ্যান্ডপি ২০১০ সালেও বাংলাদেশের ঋণমানকে একই রকম নির্ধারণ করেছিল। দেশে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাবনাময় ধারাবাহিকতা এবং এই প্রবৃদ্ধির জন্য দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়নে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে সংস্থাটি তাদের বার্ষিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে।
সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রসারসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলতে থাকলে ও ক্রমশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হলে ঋণমান আরও উন্নততর হবে বলে এসঅ্যান্ডপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসের সার্বভৌম ঋণমান প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক একটি তাৎক্ষণিক সংবাদ ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ এ সময় বলেন, ‘বিবি(-) বজায় থাকার অর্থ হলো বাংলাদেশে দৃঢ় ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।’
সংস্থাটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা সক্রিয় অবস্থায় আছে। ফলে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতার চলমান উন্নতি লক্ষণীয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই উল্লেখযোগ্য মজুদও উন্নয়ন-সহযোগীদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে স্থিতিশীল রাজস্ব ও মুদ্রানীতি প্রণয়নের কারণে পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ রয়েছে।্রপ্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ক্রমবর্ধমান আমদানি, রপ্তানি ও বিনিয়োগ (বিশেষ করে জাহাজনির্মাণ শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে) বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করে এসঅ্যান্ডপি।
সংস্থাটি মনে করে, স্বল্প খরচে ও দীর্ঘ মেয়াদের এককালীন বৈদেশিক ঋণ অর্থনীতির পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি হ্রাস করেছে। সহনীয় মাত্রা ও সাশ্রয়ী শর্তে বৈদেশিক ঋণ করার সুযোগ, আর বৈদেশিক মুদ্রার সন্তোষজনক মজুদ লেনদেন ভারসাম্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
প্রসঙ্গত, ঋণমান বলতে মোটা দাগে এটাই বোঝায় যে বিশ্ববাজার থেকে কোনো দেশ বন্ড ছেড়ে ঋণ নিলে সেই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা কোন পর্যায়ে রয়েছে।
ঋণমান সাধারণভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একধরনের নির্দেশক। এর ভিত্তিতে তাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে তাঁদের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ফান্ড বাজারকে আবার অতিমূল্যায়িত করে তুলতে পারে

পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াই নতুনভাবে অর্থ সঞ্চালন করা হলে তা বাজারকে আবারও অতিমূল্যায়িত করতে পারে।
শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ‘ওপেন এন্ড’ বা মেয়াদহীন মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের পদক্ষেপকে সমালোচনা করে এ মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড় তহবিল বাজারে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে দেবে।
প্রথম আলো আয়োজিত ‘শেয়ারবাজার: প্রতিবেদনের পর কী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচকেরা এসব মতামত দেন।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রসঙ্গটি তুলে আনেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড নৈতিক ঝুঁকি বা মোরাল হ্যাজার্ড তৈরি করবে। বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর পুঁজিবাজারের ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়াই নতুনভাবে অর্থ সঞ্চালন বাজারকে আবার অতিমূল্যায়িত করতে পারে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সমর্থন দিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ওপেন এন্ড ফান্ড হওয়ায় এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। কিন্তু ফান্ডটি বাজার থেকে শেয়ার কিনবে। সাম্প্রতিক বাজার বিপর্যয় বা ধসের যে কারণ বলা হয়, তা হলো শেয়ারের অতিমূল্যায়ন, যা হয়েছে সরবরাহ না বাড়িয়ে চাহিদা বাড়ার কারণে। এখন এই তহবিলের কারণে নতুনভাবে চাহিদা বাড়বে। এতে বাজার অতিমূল্যায়িত হবে।
দেশের প্রথম বেসরকারি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এইমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এটি একটি কারসাজিমূলক (ম্যানিপ্যুলেটিভ) পদক্ষেপ হবে, যা বাজারে কৃত্রিম অর্থপ্রবাহ দিয়ে (পাম্পআপ) বাড়িয়ে দেবে।
ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এই ফান্ডের উদ্যোক্তা, ট্রাস্টি, ইস্যু ম্যানেজার একটিই প্রতিষ্ঠান। আর শেয়ারবাজারের তদন্ত কমিটির কাছে এই প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মকর্তা এসে সাক্ষী দিয়ে গেছেন যে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধাভোগী লেনদেন (ইনসাইডার ট্রেডিং) করেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে এসইসি কীভাবে এই ফান্ড পরিচালনার অনুমোদন দিল সেটাই প্রশ্ন।
আলোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, মূলত রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলোর টাকা দিয়ে এই ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। আর ব্যাংকের এই অর্থ আসছে আমানতকারীর সঞ্চয় থেকে। তিনি বলেন, এই আমানত তথা জনগণের অর্থ যাতে ব্যক্তির মুনাফা অর্জনে ব্যবহূত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দেবপ্রিয় বলেন, একদিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের আইনি বিনিয়োগসীমা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আবার একই সময়ে এই ফান্ড গঠনই করা হচ্ছে ব্যাংকের টাকায়।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, স্বল্প মেয়াদের জন্যও এ ধরনের ফান্ড ভালো নয়।
প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর সরকার পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ‘ওপেন এন্ড’ বা মেয়াদহীন মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে এককভাবে সবচেয়ে বড় মিউচুয়াল ফান্ড।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) যৌথ উদ্যোগে এই তহবিল গঠিত।
গতকাল এই তহবিলের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সকালে আইসিবির সম্মেলনকক্ষে ফান্ডটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের উপস্থিতিতে এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান জানান, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে কমিশন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
এর আগে আইসিবির পর্ষদ সভার মাধ্যমে তহবিলটির ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ফি কমানো এবং এসইসির কয়েকটি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিবির মিউচুয়াল ফান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। সুতরাং বাংলাদেশ ফান্ড বিনিয়োগকারীদের আশাব্যঞ্জক মুনাফা দিতে পারবে।’
এসইসির বিধি অনুযায়ী মোট তহবিলের ১০ শতাংশ জমা থাকতে হয়। এ জন্য গতকালই ৫০০ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা কর্তৃক তহবিলে জমা পড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি রোড শো করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই তহবিলটির ইউনিট ওটিসিতে কেনাবেচা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বাফুফেকে চিন্তামুক্ত করল বেক্সিমকো

লিওনেল মেসিদের ঢাকায় আনতে ৩০-৩৫ কোটি টাকা যা-ই খরচ হোক, টাকার জন্য চিন্তা করতে হবে না বাফুফেকে। এই টাকার দায়িত্ব নিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করে। তখন বিপণন এজেন্টের সঙ্গেও চুক্তি হবে। কাল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এই সফর আয়োজনে বাফুফের তহবিল থেকে একটি কানাকড়িও খরচ হবে না। লোকসান হলে তা বহন করবে বেক্সিমকো। লাভ হলে তারা নেবে না। সেই টাকা বাফুফের যুব উন্নয়ন তহবিলে দেবে। কাজেই সফর আয়োজন করে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে আমাদের সামনে।’
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। টাকার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাফুফে এখন অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাফুফে ভবন এ নিয়ে বেশ সরগরম।

করাচিতে বোমা হামলায় নৌবাহিনীর ৪ সদস্যসহ নিহত ৫

পাকিস্তানের করাচিতে গতকাল একটি বাসে বোমা বিস্ফোরণে নৌবাহিনীর চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো নৌবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার সালমান আলী জানান, রাস্তার পাশে পেতে রাখা ওই বোমা বিস্ফোরণে নৌবাহিনীর চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হন। বাসের কাছে মোটরসাইকেলের এক আরোহী বিস্ফোরণে নিহত হন। দুই দিন আগে নৌসদস্য বহনকারী বাসে দুটি বোমা হামলায় চারজন নিহত হয়

একাডেমিকে জেতালেন সৌম্য-আসিফ

মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর শঙ্কা, বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ৫৮ আর ৭৮-এর বিভীষিকাই ফিরিয়ে আনছে না তো জিপি-বিসিবি একাডেমি দল! জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি শঙ্কাটা। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের ২১৪ রান তাড়া করে জিপি-বিসিবি একাডেমি ম্যাচ জিতে নিয়েছে ৪ উইকেটে।
বিপর্যয় থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনার কৃতিত্ব দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার (৮১) ও আসিফ আহমেদের (৭৬*)। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে জয় নিশ্চিত করা আসিফ হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সৌম্য-আসিফ যোগ করেন ১৩৯ রান। আসিফের ১২৪ বলে খেলা ইনিংসটি সাজানো ছয়টি বাউন্ডারিতে। ফিফটিও করেছেন বাউন্ডারি দিয়েই। ফিফটির পর একবার জীবন ফিরে পেলেও সৌম্যের ৯১ বলের ইনিংসে ছিল তিন ছক্কা ও সাত চার। অফ স্পিনার পিয়েটের বলে যখন ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন জয় থেকে মাত্র ৫০ রান দূরে জিপি-বিসিবি একাডেমি। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়া আলাউদ্দিন বাবুকে নিয়ে ৩ ওভার ২ বল বাকি থাকতে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন আসিফ।
তবে ইনিংসের শুরুতেই হারডাস ভিলিওনের সামনে মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। ৯ ওভারের মধ্যে ২৫ রানে পড়ে যায় ৫ উইকেট! প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কের রান করেছেন কেবল মাইশুকুর (১৪)। বাকিটা ওই সৌম্য-আসিফেরই কীর্তি।
এর আগে টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান করে। ওপেনার ডমিনিক করেন সর্বোচ্চ ৮৫। আলাউদ্দিন ৩৩ রান চার ও সানজামুল ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি: ৫০ ওভারে ২১৩/৮ (ডমিনিক ৮৫, লিফা মসিনা ৩৩, ভিলিওন ৩১; আলাউদ্দিন ৪/৩৩, সানজামুল ৩/৪২, শাকের আহমেদ ১/৩৩)। জিপি-বিসিবি একাডেমি: ৪৬.৪ ওভারে ২১৬/৬ (সৌম্য ৮১, আসিফ ৭৬*, আলাউদ্দিন ২১*; ভিলিওন ৩/৩০, পিটারসন ২/৩৪, পেডিট ১/৪২)।

ফিলিস্তিনে ঐকমত্যের সরকার গঠনে রাজি হামাস ও ফাতাহ

ফিলিস্তিনের বিবদমান দুই গোষ্ঠী ফাতাহ ও হামাস অবশেষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, মিসরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে এবং এ সরকারই এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে গত বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। কায়রোর বৈঠকে ফাতাহ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আজম আল-আহমদ আর হামাসের নেতৃত্ব দেন মাহমুদ জহর।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে গোষ্ঠী দুটির মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। হামাস ২০০৭ সাল থেকে দেশটির একাংশ গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। অপর অংশ পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ।
হামাস ও ফাতাহর মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির খবরে ইসরায়েল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশটি বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে হামাস ও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হয় হামাস অথবা ইসরায়েলকে বেছে নিতে হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমি আশা করি। এবং সেটা হবে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে বোমা ও রকেট হামলা চালিয়ে আসছে হামাস। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতেও নারাজ সশস্ত্র এই সংগঠনটি।
হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে, ফিলিস্তিনে যে ঐকমত্যের সরকারই প্রতিষ্ঠা হোক না কেন, তাকে সহিংসতার পথ ছেড়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র টমি ভায়েটর বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা হিসেবে যেকোনো ফিলিস্তিনি সরকারকেই সহিংসতার পথ পরিত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকারকেও স্বীকৃতি দিতে হবে।’
কায়রো বৈঠকের পর ফাতাহ প্রতিনিধিদলের প্রধান আজম আল-আহমদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘বিবদমান দুটি পক্ষই একটি স্বাধীন সরকার গঠনে রাজি হয়েছে। এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টারি নির্বাচন সম্পন্ন করাই হবে এই সরকারের প্রধান কাজ।’
হামাসের প্রতিনিধিদলের প্রধান মাহমুদ জহর আল-জাজিরা টেলিভিশনকে বলেছেন, উভয় পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষের নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়েই এই সরকার গঠন করা হবে।
আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে হামাস ও ফাতাহ প্রতিনিধিদলকে আবারও কায়রো যেতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উভয় পক্ষ পরস্পরের রাজনৈতিক বন্দীদেরও মুক্তি দেবে।
মাহমুদ জহর বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিরোধ নিরসনে ১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে হামাস পশ্চিম তীরেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে। তবে মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদিনা ইসরায়েলি নেতার এই মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, সমঝোতা চুক্তি ফিলিস্তিনের একান্ত নিজস্ব বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুকে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিতে হলে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। আর বসতি স্থাপনের বিষয়ে অনড় থাকতে হলে শান্তি বিসর্জন দিতে হবে।

কেটের বিয়ের আংটি

কেট মিডলটনের বিয়ের আংটি তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের স্বর্ণকারেরা। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর আদরের নাতি প্রিন্স উইলিয়ামকে উপহার হিসেবে এক টুকরো সোনা দিয়েছিলেন। তা থেকে আংটিটি তৈরি করা হয়। এটি আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে কেটের আঙুলে পরাবেন উইলিয়াম। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ থেকে এ কথা জানানো হয়।
রাজপ্রাসাদ সূত্রে জানা যায়, ওয়েলসের উত্তরে ক্লগাউ সেন্ট ডেভিডস খনি থেকে আহরিত সোনা দিয়ে কেটের বিয়ের আংটি তৈরি করা হয়েছে। গত শতকের বিশের দশক থেকে ওই খনির সোনা ব্রিটেনের রাজপরিবারে বিয়ের আংটিতে ব্যবহূত হয়ে আসছে।
গত নভেম্বরে উইলিয়াম ও কেট যখন তাঁদের বিয়ের কথা ঘোষণা করেন, ওই সময় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ওই সোনা উইলিয়ামকে দেন। আজ বিয়ের প্রধান সহচর প্রিন্স হ্যারি ওই আংটি ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নিয়ে বড় ভাই উইলিয়ামের হাতে দেবেন। উইলিয়াম ওই আংটি কনে কেটের আঙুলে পরাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ১৯০ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। শুধু আলাবামা অঙ্গরাজ্যেই ১২৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়দুর্গত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আলাবামা, আরকানস, কেন্টাকি, মিসিসিপি, মিসৌরি, টেনেসি ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর জন্য দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে দেশটিতে প্রায় ৩০০টি ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। এর মধ্যে গত বুধবার এক দিনে ১৩০টিরও বেশি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
আলাবামার জরুরি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সংস্থার (ইএমএ) কর্মকর্তা ইয়াসামি অগাস্ট জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আলাবামায় বহু লোক হতাহত হয়েছে। তুসকালোসা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ইএমএ ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বার্মিংহাম শহরেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। কর্মকর্তারা সেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছেন।
তুসকালোসার মেয়র ওয়ালটার ম্যাডক্স জানান, ঝড়ে শহরের অনেক স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রবার্ট ব্রান্টলি জানান, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপির বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ বজ্রপাত আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকি’র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গ্রেট লেকের নিম্নাঞ্চল থেকে গালফ কোস্ট ও আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় ২১টি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কাছে ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাড়ি, ট্রাক্টর ও গাড়ির ওপর গাছ পড়ায় অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। বন্যায় প্লাবিত এবং গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের ওপর পড়ে থাকার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘর, স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু কিছু জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
কেন্টাকির গভর্নর স্টিভ বেসেয়ার জানান, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্গত জনগণকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত আছি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে নিমন্ত্রণ, পরে প্রত্যাহার

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়েতে লন্ডনে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত সামি খিয়ামিকে নিমন্ত্রণ করার পর তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর সিরিয়ার সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা রাজকীয় বিয়েতে খিয়ামির উপস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ রাষ্ট্রদূত খিয়ামিকে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কাম্য নয় বলে রাজপরিবারও স্বীকার করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে সিরিয়ায় সেনাবাহিনী প্রায় ৪৫০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও এ ঘটনার নিন্দা জানায়। তবে অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকেও বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে ব্রিটিশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা খিয়ামিকে দেওয়া নিমন্ত্রণ প্রত্যাহার করার দাবি তোলে।

ডায়ানার বিয়ের ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সংগীত বাজবে

মা প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যে সংগীত বাজানো হয়েছিল, সেই একই সংগীত বাজবে ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ের অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি বাবা প্রিন্স চার্লসের দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের সংগীতও এ সময় বাজানো হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজপরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত উইলিয়াম-কেটের বিয়ের অনুষ্ঠানসূচিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্স উইলিয়ামের সেন্ট জেমস প্যালেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ১৯৮১ সালে প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ে এবং ১৯৯৭ সালে ডায়ানার শেষকৃত্যে যেসব সংগীত বাজানো হয়, সেগুলো থেকে বাছাই করা কয়েকটি গান ও যন্ত্রসংগীত আজ বাজানো হবে। এ ছাড়া ২০০৫ সালে চার্লসের সঙ্গে ক্যামিলার বিয়েতে যে সংগীত বাজানো হয়েছে, সেগুলোরও অংশবিশেষ এ অনুষ্ঠানসূচিতে স্থান পেয়েছে।

উইলিয়ামের ‘আজ্ঞানুবর্তী’ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করবেন না কেট

বিয়ের শপথ অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়ামের আজ্ঞানুবর্তী হওয়ার প্রতিজ্ঞা করবেন না কেট মিডলটন। উইলিয়ামের মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানাও ৩০ বছর আগে তাঁর বিয়েতে এ ধরনের কোনো প্রতিজ্ঞা করেননি। উইলিয়াম-কেটের বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে প্রকাশিত এক সুভ্যেনিয়রে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রায় আট বছর উইলিয়ামের সঙ্গে প্রেম করেছেন কেট। প্রণয় থেকে এবার পরিণয়। আজ শুক্রবার মহা ধুমধাম করে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন এই প্রেমিক জুটি। রাজপরিবারের পুরোনো প্রথা অনুযায়ী স্বামীর আজ্ঞানুবর্তী হওয়ার পরিবর্তে ‘প্রেম, স্বস্তি, সম্মান ও তা বজায় রাখার’ প্রতিজ্ঞা করবেন কেট। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ১৯৮১ সালে বিয়ের সময়ও প্রিন্সেস ডায়ানা প্রায় একই ধরনের শপথবাক্য পাঠ করেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও তা-ই।
বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনটিকে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিনের একটি বলে মনে করেন উইলিয়াম ও কেট। সুভ্যেনিয়রে এক বার্তায় মনের এ গোপন খবর প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে গণমানুষের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তাঁদের পুলকিত করছে।
কেট ও উইলিয়াম ওই বার্তায় বলেন, ‘এমন একটা দিন উদ্যাপন করতে গিয়ে আমরা এত বেশি উল্লসিত যে মনে হচ্ছে এই দিন আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিনের একটি হবে।

রাজকীয় বিয়ে নিয়ে মার্কিন মুলুকেও উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা

মাঝে হাজারো মাইলের দূরত্ব। কৃষ্টি, সংস্কৃতিতেও যোজন যোজন ব্যবধান। তবু আজ যেন ইউরোপ-আমেরিকা অভিন্ন, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য মিলে একাকার। সবার চোখ লন্ডনে, চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের দিকে।
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে নিয়ে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লিভারপুলে যেমন উন্মাদনা, তেমনি উন্মাদনা নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়ায়ও। লন্ডনের আনন্দ যেন সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে মার্কিনদের দেশে। ব্রিটেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও এই বিয়ে নিয়ে সমান উচ্ছ্বাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিয়েতে দাওয়াত না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিয়ে নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহ। কেট-উইলিয়ামের যখন বিয়ে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে তখন ভোর। তাই ঘুমের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে না পাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিনরা একটি বুদ্ধি বাতলেছে। সবাই ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছে। অ্যালার্ম শুনে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তারা যেন ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারে।
উইলিয়াম-কেটের বিয়ে নিয়ে মার্কিন পত্রপত্রিকাগুলো নিয়মিত খবর পরিবেশন করছে। রাজকীয় এ বিয়ে উপলক্ষে নতুন নতুন রেসিপির খবরও দিচ্ছে তারা। উইলিয়াম ও কেটের ছবিসংবলিত নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ভিড় লেগে গেছে দোকানপাটগুলোয়। হকাররাও বসে নেই। তাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে বিক্রি করছেন হবু দম্পতির ছবিসংবলিত চায়ের কাপ ও অন্যান্য সামগ্রী। বিক্রি হচ্ছে কেটের বাগদান অনুষ্ঠানের নীল রঙের আংটির রেপ্লিকাও।
নীরব নেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও। নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে তারা। একটি জনপ্রিয় কেব্ল স্টেশন উইলিয়াম ও কেট নামের একটি রোমান্টিক অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের লাখো নাগরিক উপভোগ করেছে।

লন্ডনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বহুল আলোচিত বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে লন্ডনে। ৩০ বছর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের আরেকটি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বিদেশ থেকে অনেক মানুষ লন্ডনে পা রাখেন। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের বাইরে বিশাল স্থানজুড়ে শুধু তাঁবু আর তাঁবু। উইলিয়াম ও কেটের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে কয়েক দিন ধরে তাঁবু ফেলে সেখানে অবস্থান করছেন।
এদিকে গতকালই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে বিয়ের অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য অংশ নেন। উইলিয়াম ও কেট অনুষ্ঠানের মহড়ায় অংশ নিলেও নিরাপত্তার কারণে মাত্র একঝলক দেখা গেছে তাঁদের। আজ তাঁদের এই বিয়ের অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষদর্শী অগণিত মানুষ ছাড়াও টেলিভিশনে সরাসরি দেখতে পাবে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি দর্শক।
প্রিন্স উইলিয়ামের সেন্ট জেমস প্যালেস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শেষ বিকেলের মহড়ায় প্রধান সহচর প্রিন্স হ্যারিকে বড় ভাই উইলিয়ামের পাশে দেখা গেছে। কেটের পরনে ছিল সাধারণ জ্যাকেট ও স্কার্ট। কেটের মা-বাবা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী যাজকও ছিলেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে। মহড়া শেষে উইলিয়াম ও কেট গাড়িতে করে ক্লেয়ারেন্স হাউসে চলে যান। এটি হচ্ছে উইলিয়ামের দাদার বাসভবন। বিয়ের আগের রাতে উইলিয়ামের এই বাড়িতে থাকার কথা।
মহড়ায় চোখে পড়ার মতো শূন্যতা যা ছিল তা হচ্ছে, আমন্ত্রিত এক হাজার ৯০০ অতিথির অনুপস্থিতি। আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেশ-বিদেশের এসব খ্যাতিমান ব্যক্তির আগমন ঘটবে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে। এতে বিভিন্ন অঙ্গনের উজ্জ্বল ব্যক্তি ও তারকারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান আলোকিত করবেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান থর্প, ইংল্যান্ড ফুটবলের কিংবদন্তি ট্রেভর ব্রুকিং ও গ্যারেথ টমাসের মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্ব যেমন থাকবেন, তেমনি থাকবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। থাকবেন এলটন জন ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের মতো সংগীত তারকারাও।
দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি সামি খিয়ামির বিষয়ে গতকাল প্রশ্ন উঠেছে সংবাদ মাধ্যমে। গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীদের হত্যার পেছনে ভূমিকা থাকার অভিযোগে তাঁকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিয়ের দিন পূর্ব ইউরোপ থেকে ধেয়ে আসা ঝোড়ো হাওয়া লন্ডনে ঝাপটা মেরে যেতে পারে। এতে বৃষ্টিতে সয়লাব হতে পারে রাস্তাঘাট। রাজপরিবারসহ তাদের ভক্তকুলকে উদ্বেগে ফেলেছে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস।