Saturday, February 22, 2025

৯০ বছরের নিয়মে ইতি, জুম্মার নামাজে আর বিরতি নয় আসাম বিধানসভায়!

৯০ বছরের রীতির অবসান। আসাম বিধানসভা অধিবেশনে জুম্মার নামাজের সময়ে প্রচলিত  দু'ঘণ্টার বিরতি তুলে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়ে গেল আসাম  বিধানসভায়। শুক্রবার আসামের  মুসলিম বিধায়করা জুম্মার নামাজের জন্য দু’ঘণ্টার বিরতি পেলেন না। বিধানসভায় গত আগস্টে পাশ হওয়া একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে খবর। আসামের  মুখ্যমন্ত্রী   সমাজমাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে আগেই একটি পোস্ট করেছিলেন। তাতে লিখছিলেন ‘‘আমরা কাজকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। তাই আসাম বিধানসভায় জুম্মার নামাজের দু’ঘণ্টার বিরতির প্রথা তুলে দেওয়া হচ্ছে। মুছে ফেলা হচ্ছে ঔপনিবেশিকতার আরও একটি চিহ্ন।

১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের সৈয়দ সাদউল্লা এই প্রথা চালু করেছিলেন। হিমন্তর ইচ্ছামতোই ৭ সদস্যের কমিটি গড়া হয়, এই নিয়মের কোনও প্রয়োজন রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখার জন্য। শুক্রবার বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে অবলুপ্ত করা হয় এই নিয়ম। জানানো হয়, লোকসভা ও রাজ্যসভা কোনও জায়গাতেই এমন নিয়ম নেই তাই আসামেও  এই নিয়ম গুরুত্বহীন। ওই ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপে’ সহায়তার জন্য আসাম  বিধানসভার স্পিকার বিশ্বজিৎ দইমারিসহ শাসক শিবিরের বিধায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট এআইইউডিএফ বিধায়ক রফিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠের অজুহাতে সংখ্যালঘুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল।

তিনি বলেছেন, "বিধানসভায় প্রায় ৩০ জন মুসলিম বিধায়ক আছেন। আমরা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করেছি। কিন্তু তাদের (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে এবং সেই ভিত্তিতেই এটা চাপিয়ে দিচ্ছে।" কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা দেবব্রত সাইকিয়া বলেন, শুক্রবার বিধানসভার কোনও কাছাকাছি স্থানে মুসলিম বিধায়কদের 'নামাজ' পড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাঁর কথায়, "আমার দলের বেশ কয়েকজন সহকর্মী এবং এআইইউডিএফ বিধায়ক নামাজ পড়তে যাওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে পারেননি। যেহেতু এটি শুধুমাত্র শুক্রবারের জন্য একটি বিশেষ প্রার্থনার বাধ্যবাধকতা, তাই আমার মনে হয় কাছাকাছি  এর জন্য একটি ব্যবস্থা করা যেতেই পারে।"

সূত্র : দ্য উইক

mzamin

বিচারকরা জামিনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন -অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘বিচারকরা জামিনের জন্য সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন। তাদেরকে মামলার নথির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সেই নথির কথায় শেষ নয়। এই ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন করে জুরিস ফুটেজ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে কোনোক্রমেই যেন জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতাকারী কোনো আসামি আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।’

শনিবার সকালে যশোর পিটিআই স্কুল অডিটোরিয়ামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বার ও বেঞ্চ এক হয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ৩৬ জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারীরা যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বিচারের হাত থেকে রেহাই না পায়, জামিন না পায়-সে ব্যাপারে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিগত সরকার দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছিল সেই জায়গা থেকে জাতিকে বের করে আনতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল স্পিরিটকে ধারণ করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (অ্যাটর্নি জেনারেল, আইসিটি) তাজুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তার বক্তৃতায় বলেন, ‘বন্দুকের ক্ষমতার জোরে গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, পুলিশি কাঠামো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। তারা দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছিলো। ৩৬ জুলাই আন্দোলনে কীভাবে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করেছিলো-সেই দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে। দেশ আজ একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যেই আছি। ফলে স্বাভাবিকভাবে কোনোকিছু নেয়ার অবস্থায় আমরা নেই। আজ নতুন করে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা বুকের রক্ত দিয়ে যে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে, সেই দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে পুলিশ যেভাবে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের মাধ্যমে গোটা জাতির কাছে গণশত্রুতে পরিণত হয়ে উঠেছিল, সেই জায়গা থেকে ধীরে ধীরে বের হতে হবে। জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেন, ‘রাষ্ট্রে ন্যয়-নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে রাষ্ট্রের ও জনগণের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পরকালের ভয়ে সবাইকে তটস্থ থাকতে হবে। সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই।’

কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অতিরিক্ত আইজিপিসহ (সিআইডি) খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সকল জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন ৩ শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

mzamin


শ্রীলঙ্কায় হাতিদের প্রথম ‘অনাথ আশ্রমের’ সুবর্ণজয়ন্তীতে ফলের বড় ভোজ

শ্রীলঙ্কায় হাতিদের প্রধান ‘অনাথ আশ্রমের’ ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত রোববার এদের জন্য ফলের এক বিশাল ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। আশ্রমটি বিশ্বে এ ধরনের প্রাণীদের প্রথম সেবাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

‘অনাথ আশ্রম’টির নাম পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ। পর্যটকদের কাছে এটি অন্যতম একটি আকর্ষণের জায়গা। গত রোববার এ আশ্রম প্রাঙ্গণ কলা, তরমুজ ও শসায় ভরে গিয়েছিল।

প্রতিদিন এ আশ্রমের হাতিগুলোকে নদীতে নিয়ে গোসল করানো হয়। রোববারও এদের গোসলের জন্য নদীতে নেওয়া হয়। আশ্রমে থাকা চার প্রজন্মের হাতি নিকটবর্তী মহা ওয়া নদীতে গোসল করে। সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে আমন্ত্রিত কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পর্যটককে দুধভাত ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পরিবেশন করা হয়।

আশ্রমটির প্রধান কিউরেটর সঞ্জয়া রত্নানায়েকে বলেন, ‘১৯৮৪ সালে এ অনাথ আশ্রমে প্রথম হস্তীশাবকের জন্ম হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৬টি হাতির জন্ম হয়েছে।’ তিনি এ উদ্যোগকে একটি সফল প্রজনন কর্মসূচি বলেও উল্লেখ করেন।

সঞ্জয়া রত্নানায়েকে আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এখানে চার প্রজন্মের হাতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স ১৮ মাস ও বড়টির বয়স ৭০ বছর।’

২০২১ সালের আগস্টে আশ্রমটিতে প্রথমবারের মতো যমজ হস্তীশাবক জন্ম নেয়। এশীয় হাতির ক্ষেত্রে যমজ শাবক জন্মানোর ঘটনা বিরল। দুটো হস্তীশাবকই ভালো আছে।

১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাতির ‘অনাথ আশ্রম’টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর দুই বছর আগে থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেনটোটার একটি ছোট সেবাকেন্দ্রে পাঁচটি অনাথ হাতিকে লালন–পালন করা হচ্ছিল।

রত্নানায়েকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালে পিন্নাওয়ালায় একটি নারকেলবাগানে আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রাণীরা বিচরণের জন্য আরও বেশি জায়গা ও ভালো পরিবেশে পায়। আশপাশের এলাকায় তখন প্রচুর খাবারও পাওয়া যেত।’

হাতিদের ক্ষুধা মেটাতে এ আশ্রমে ১৪ হাজার ৫০০ কেজি নারকেল, পাম ও অন্যান্য গাছের পাতার প্রয়োজন হয়।

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মাইল) পূর্বে আশ্রমটির অবস্থান। সেখানকার কর্তৃপক্ষ হস্তীশাবকদের জন্য টন টন ফল ও দুধও কিনে রাখে। বিদেশি ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের কাছে হস্তীশাবকগুলো খুব পছন্দের।

এ আশ্রম শ্রীলঙ্কার রাজস্ব আয়েরও অন্যতম বড় উৎস। সেখান থেকে প্রতিবছর প্রবেশ ফি হিসেবে লাখ লাখ ডলার আয় হয়। দর্শনার্থীরা দূর থেকে হাতিদের দেখতে পারেন, কাছেও আসতে পারেন। স্নানের সময় হাতিদের গা ঘষতে সাহায্য করতে পারেন তাঁরা।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আশ্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মাহুত কে জি সুমানাবন্দ। এএফপিকে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় এ আশ্রমে পানি ও বিদ্যুতের অভাব ছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

হাতি লালন–পালনকারী হিসেবে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন সুমানাবন্দ। ৬০ জনের বেশি মাহুতকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। এখনো বিভিন্ন মন্দির ও অন্যান্য জায়গার হাতি লালন–পালনকারীরা তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন।

২০ বছর আগে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ দেশের দক্ষিণে আরেকটি হাতির আশ্রম খোলেন। সেখানে অনাথ, পরিত্যক্ত বা আহত হাতিদের যত্ন নেওয়া হয় এবং পরে এদের বনে ফেরত পাঠানো হয়।

পিন্নাওয়ালা আশ্রমটিকে অনেকে সফল এক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। এরপরও শ্রীলঙ্কায় বন্য প্রাণীদের ঐতিহ্যবাহী অভয়ারণ্যগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

পরিবেশ উপমন্ত্রী আন্তন জয়াকোড়ি রোববার এএফপিকে বলেন, ২০২৩ সালে এমন সংঘাতে ৪৫০টি হাতি মারা যায়। এ ছাড়া ১৫০ জন নিহত হন। আগের বছর ৪৩৩টি হাতি ও ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কায় হাতি হত্যা বা হাতির ক্ষতি করা ফৌজদারি অপরাধ বলে বিবেচিত। দেশটিতে আনুমানিক সাত হাজার বন্য হাতি রয়েছে এবং সেখানে হাতিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে হাতির গুরুত্ব থাকা এর একটি কারণ বলে মনে করা হয়।

তবে হাতি হত্যা থামছেই না। হাতি ফসলের খেত নষ্ট করে দেওয়ায় কৃষকেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। উপমন্ত্রী আন্তন জয়াকোড়ির দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন সরকার গ্রামে হাতিদের প্রবেশ বন্ধ করে সমস্যাটি মোকাবিলা করতে পারবে।

আন্তন জয়াকোড়ি এএফপিকে বলেন, বন্য হাতিদের গ্রামে প্রবেশ করা কঠিন করে তুলতে তাঁরা বৈদ্যুতিক বেড়া, পরিখাসহ একাধিক বেষ্টনি তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ নামের আশ্রমটিতে হাতিকে ফল খাওয়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা
পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ নামের আশ্রমটিতে হাতিকে ফল খাওয়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: এএফপি

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে দ্রুত চুক্তি সই হবে, আশা ট্রাম্পের

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্রুতই দেশটির খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হবেন বলে আশা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল শুক্রবার ওভাল অফিসে খনিজ সম্পদ নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছি, আশা করি যত দ্রুত সম্ভব।’

এ নিয়ে আলাদা করে গতকালই এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে কাজ করছে...আমি একটি ন্যায্য ফলাফলের আশা করছি।’

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ওই আলোচনা শুরুর আগে ইউক্রেনকে একটি খনিজ চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প।

প্রস্তাবে ট্রাম্প যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন কিয়েভকে যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে, তার বিনিময়ে এখন ইউক্রেনের কাছ থেকে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের খনিজ সম্পদের মালিকানা চেয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন জেলেনস্কি। গত বুধবার তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে, তা ট্রাম্প যে পরিমাণ অর্থ ফেরত চাইছেন, তার থেকে অনেক কম। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট করে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

জেলেনস্কি প্রস্তাব বাতিল করার পর ট্রাম্প তাঁকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি নিশ্চিত করতে জেলেনস্কিকে দ্রুত সরে যেতে হবে অথবা তিনি তাঁর দেশ হারাতে পারেন।

প্রায় তিন বছর আগে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিও দেশটির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।

ইউরোপের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কিয়েভ হয়তো এমন একটি শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হবে, যে চুক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে যাবে।

গতকাল ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পুতিন ও জেলেনস্কিকে একত্রে বসতেই হবে। তিনি বলেন, ‘এর কারণ কি জানেন? আমরা লাখো মানুষের প্রাণহানি বন্ধ করতে চাই। এ কারণে আমি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি দেখতে চাই এবং আমি একটি চুক্তি করতে চাই। আমার মনে হয় চুক্তিটি করার সুযোগ আমাদের আছে। আমাকে নিশ্চিত করতে হয়েছে যে রাশিয়া এটা করতে চায়।’

একই দিন হোয়াইট হাউসে অন্য একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, ‘আমার পুতিনের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে ততটা হয়নি। তাদের হাতে কোনো কার্ড নেই, কিন্তু তারা কঠিন খেলছে।’

 ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি

আরও ছয় জিম্মিকে ফেরত দেবে গাজা, প্রস্তুত ইসরায়েল

ইসরায়েল আজ শনিবার গাজা থেকে আরও ছয়জন জিম্মিকে গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। এর আগে গতকাল দেশটি অভিযোগ করেছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হামাস যে চার জিম্মির মরদেহ ফেরত পাঠিয়েছে, তাদের একজনের সঙ্গে কোনো জিম্মির মিল পাওয়া যায়নি। আর এ ঘটনায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে জটিলতা বেড়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কর্মকর্তাদের মতে, গত মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তানুসারে প্রথম ধাপে ৩৩ জন জীবিত জিম্মিকে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এরই মধ্যে বেশির ভাগ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় জীবিত জিম্মিকে আজ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওই ছয় জিম্মির মধ্যে এলিয়া কোহেন (২৭), তাল শোহাম (৪০), ওমরশেম তোভ (২২) ও ওমর ওয়েনকার্টকে (২৩) ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় গাজায় ধরে নিয়ে যান হামাসের সদস্যরা। আর হিশাম আল-সায়েদ (৩৬) ও আভেরা মেঙ্গিস্তু (৩৯) প্রায় এক দশক আগে পৃথকভাবে গাজায় প্রবেশ করার পর হামাসের হাতে আটক হয়েছিলেন।

ওই ছয় জিম্মির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ৬০২ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের এই বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলেও এটি শেষ হতে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলে কেফির বিবাস ও এরিয়েলের সঙ্গে তাঁদের মা জিম্মি শিরি বিবাসের মরদেহ ফেরত পাঠানোর কথা ছিল হামাসের। কেফির ও এরিয়েলের মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও শিরির মরদেহের স্থলে অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহ শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অজ্ঞাতনামা মরদেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

তবে হামাস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত শিরি ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পর শিরির দেহ অন্য মরদেহের সঙ্গে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবার দলটি আরেকটি মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েলি ফরেনসিক কর্মকর্তারা পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তাঁদের স্বজন ও বন্ধুরা
ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তাঁদের স্বজন ও বন্ধুরা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

মুক্তিপণ দিয়ে ১০৪ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন মাদারীপুরের এই তরুণ by সজীব মিয়া ও অজয় কুন্ডু

ইউরোপে গিয়ে নিজের ভাগ্যটা বদলাতে চেয়েছিলেন মো. হাবিবুল্লাহ। কিন্তু এ দেশ–ও দেশ ঘুরিয়ে দালালেরা তাঁকে নিয়ে ফেলে লিবিয়ায়। সেখানেও এক দালালের হাত থেকে আরেক দালালের হাতে বদল হতে থাকেন। শেষে মুক্তিপণ দিয়ে ১০৪ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন মাদারীপুরের এই তরুণ। তাঁর কাছে বন্দিজীবনের করুণ গল্প শুনলেন সজীব মিয়া ও অজয় কুন্ডু

স্নাতকোত্তর করে কয়েক বছর চাকরির চেষ্টা করেও কিছু হলো না। শেষে কুলপদ্দী বাজারে আমার বাবার মুদিদোকানে সময় দিতে শুরু করলাম। পড়াশোনা করেও জীবনটা এভাবে আটকে যাবে, মেনে নিতে পারতাম না। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো না। বড় ছেলে হিসেবে সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখতাম। আমাদের এলাকার অনেকেই বিদেশ থাকে। আমিও ওয়ার্ক পারমিট জোগাড়ের চেষ্টায় নেমে পড়লাম। কোনোভাবেই যখন পারলাম না, তখন আমার এক মামার মাধ্যমে দালাল বোম্বাই রিপনের (সরদার) সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি মরক্কোর ওয়ার্ক পারমিট জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। সে দেশে কিছুদিন থেকে সুযোগ বুঝে ইউরোপের স্পেন বা ইতালিতে পাড়ি জমাতে পারব।

আমার সঙ্গে এলাকার আজাদ হোসেনও যোগ দিল। আমরা দুজন সমবয়সী। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছি। মামার মাধ্যমে আমরা দুজন দালালের সঙ্গে চুক্তি করলাম। ১৭ লাখ টাকায় স্পেন বা ইতালি পৌঁছে দেবে। কথামতো পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজ তাঁর লোকজনকে দেওয়া হলো। নগদ অর্থ নিল সাড়ে চার লাখ। দিনকয়েক পর আমাদের যাত্রার তারিখ জানানো হলো।

মিসরের বিমানবন্দরে ২৩ ঘণ্টা

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আমাদের যাত্রার দিন। ঢাকায় আমাদের হাতে শ্রীলঙ্কার টিকিট আর কিছু ডলার ধরিয়ে দিয়ে রিপন জানালেন, সব বিমানবন্দরে তাঁর লোকজন আছে। আমাদের কোনো চিন্তা নেই।

ঢাকা থেকে প্রথমে ভারতের চেন্নাইয়ে নিল। সেখানে ১৬ ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে পরদিন পৌঁছালাম শ্রীলঙ্কা। একদিন শ্রীলঙ্কায় রাখল। তারপর দুবাই হয়ে গেলাম মিসর। এখান থেকে সরাসরি মরক্কো যাওয়ার কথা। মিসরের বিমানবন্দরে আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হলো। ভাবলাম, ভিসা করার জন্য নিয়েছে। সেখানে আমাদের মতো আরও ৪০-৫০ জন বাংলাদেশিকে পেলাম। তাদেরও বিভিন্ন দেশে যাওয়ার কথা। ২৩ ঘণ্টা পর পাসপোর্ট হাতে পেয়েই বুঝতে পারলাম, প্রতারণার শিকার হয়েছি। কারণ, আমাদের লিবিয়ার ভিসা দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই দেশে আমাদের যাওয়ারই কথা না। দালালদের একজন আমাদের কাছে এসে জানাল, চিন্তার কিছু নেই, আমাদের লিবিয়া থেকে আলজেরিয়া হয়ে মরক্কোতে নেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে লিবিয়ার বিমানে চড়ে বসলাম।

দফায় দফায় বিক্রি

লিবিয়ার বেনগাজিতে দালালের স্থানীয় লোকজন ছিল। তাদের সঙ্গে ত্রিপোলি পৌঁছালাম ১৯ অক্টোবর। তত দিনে আমাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের বাড়িও মাদারীপুর। সবাইকে ৫ কি ৬ দিন ত্রিপোলির একটা রুমে রাখল তারা। তারপর একদিন সকালে আমাদের একটা গাড়িতে তোলা হলো। এই গাড়িই আলজেরিয়ার সীমান্তে পৌঁছে দেবে। এক অজানা শঙ্কা নিয়ে চলতে থাকলাম। ৪-৫ ঘণ্টা পর একটা জায়গায় গাড়ি থামল। ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে যেতেই কিছু পুলিশ এসে আমাদের ধরল। সবার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিল। কাছাকাছি একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো। বুঝতে পারলাম, দালাল চক্র আমাদের পুলিশের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। একদিন পর পুলিশের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মামাকে কল দিলাম। উচ্ছ্বাস নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘কেমন আছস, মামা? মরক্কোতে পৌঁছে গেছস?’

রাগে-ক্ষোভে তাঁকে গালিগালাজ করতে লাগলাম। বললাম, আমরা পুলিশের কাছে বন্দী। তাঁর সঙ্গে কথা বলা শেষ করে বাড়িতে কল দিয়ে জানলাম, দালাল চক্র জানিয়েছে, আমরা মরক্কো যাচ্ছি তাই মোবাইল সঙ্গে নেই। চুক্তি অনুযায়ী বাদবাকি টাকাও তারা নিয়ে গেছে।

দালাল চক্রের সঙ্গে কথা হলো। তারা জানাল, এক হাজার ডলার দিলে পুলিশ ছেড়ে দেবে। দালাল চক্রকে দেওয়া হলো সেই টাকা। পুলিশ এবার আমাদের লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে তুলে দিল। জেলখানার মতো জায়গায় আমাদের রাখা হলো। রুমে রুমে আমাদের মতো ৬০ জনের বেশি মানুষ। সবাই বাংলাদেশি। পাঁচ দিন সেখানেই কেটে গেল। আমাদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে জনপ্রতি ৫ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করল তারা। এত টাকা কীভাবে দেবে আমার পরিবার?

আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলো। গামছা আর লুঙ্গি দিয়ে চোখ, নাক, মুখ বেঁধে উলঙ্গ করে পেটাল একদিন। সেই দৃশ্য ভিডিও করে বাড়িতে পাঠাল। শারীরিকভাবে যত নির্যাতন করা যায়, সবই তারা করতে থাকল। কোনো কোনো দিন মনে হতো বোধ হয় মরেই যাব। এ সময় দুপুরে অল্প একটু নুডলস খেতে দিত। রাতে দিত এক পিস রুটি বা সামান্য নুডলস। এই খেয়ে কি পেট ভরে? খাবারের জন্য কিছু বললে আরও বেশি বেশি মারত।

অমানুষিক নির্যাতন ভোগ করে কয়েক দিন পর তাদের কাছ থেকে মুক্তি পাই। পরে বাড়িতে কথা বলে জানতে পারি, এর মধ্যে আরেকজন দালালের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা করে দিয়ে আমাদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৮ কি ১৯ নভেম্বর থেকে ফরহাদ নামের সেই দালালের তত্ত্বাবধানেই দিন কাটতে থাকে।

স্থানীয় থানায় জিডি করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমাদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলতে থাকে। এর মধ্যেই একদিন ফরহাদ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তওবা কেটে বললাম, আমরা দেশে ফিরতে চাই।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ২৬ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসি আমরা।

পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে

পরিবারে আমার মা–বাবাসহ ছোট দুই ভাই ও স্ত্রী। সবাইকে ভালো রাখতেই এই পথে পা বাড়িয়েছিলাম। আমাকে বাঁচাতে আমার পরিবার জমিজমা, সোনাদানা, হালের গরু-ছাগল বিক্রি করে দিয়েছে। বাড়িটাও বন্ধক রেখে সুদে টাকা নিয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকেও টাকা ধার নিয়েছে। আমাকে ছাড়িয়ে আনতে ধাপে ধাপে সব মিলিয়ে ৩৩ লাখ টাকা গেছে। এত ধার-দেনা এখন কীভাবে শোধ করব, জানি না।

আপাতত বাবার মুদিদোকানে সময় দিচ্ছি। ওখানে যে আয়রোজগার হয় তা দিয়ে পুরো পরিবারটা চলে না। নতুন করে নিজে কিছু করব, তারও উপায় নেই। পরিবারের জন্য এখন একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। নতুন করে আর কোনো কিছুই ভাবতে পারছি না। স্বপ্নগুলো এখন দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধেয়ে আসছে গ্রহাণু, ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ঢাকাও!

নাসা সম্প্রতি এক নতুন গ্রহাণু আবিষ্কার করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘২০২৪ওয়াইআর৪’। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর গ্রহাণুটি বিজ্ঞানীদের চোখে প্রথম পড়ে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহাণু ক্রমশ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে এবং ২০৩২ সালে এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। তবে এর বিপদ ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম, প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবুও বিজ্ঞানীরা একে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে, তবে গোটা একটি শহর নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। এই বিপদ-তালিকায় কলকাতা, মুম্বাই, ঢাকার মতো জনবহুল শহরগুলোও রয়েছে। নাসা জানায়, গ্রহাণুটির গতিপথ পূর্ব প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকা, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশ, আফ্রিকা, আরব সাগর ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।

গ্রহাণুটির আকার আনুমানিক ১৩০-৩০০ ফুট চওড়া, যা বিশাল। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসার আগেই মাঝপথে ফেটে যেতে পারে, যার ফলে ৮ মেগাটন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান শক্তি উৎপন্ন হবে। এই শক্তি এতটাই বিপুল যে এটি একটি শহরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘সিটি-কিলার’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে নাসা আশাবাদী, কারণ এরকম অনেক মহাজাগতিক বস্তু আগে পৃথিবীকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিপদ তৈরি করতে পারেনি। গ্রহাণুটিকে প্রথমে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্টেরয়েড ওয়ার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা যাবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত, তারপর এটি দৃষ্টির বাইরে চলে যাবে এবং ২০২৮ সালে আবার দেখা যাবে। তথ্য: আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

ছবি : সংগৃহীত

শিকলে বাঁধা মেহেরুলের জীবন

প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তার পাশে টিনের ছাউনি দিয়ে এক চিলতে জীর্ণ একটি ছাপড়া ঘর। যার এক পাশে টিনের বেড়া দেয়া থাকলেও তিনদিকে নেই কোনো আবরণ। সেই ঘরের খুঁটির সঙ্গে দুই হাত আর পায়ে শিকলে বাঁধা অবস্থায় লেপ কাঁথার স্তূপের উপর বসে আছে মানসিক ভারসাম্যহীন মেহেরুল (৩৬)। খাওয়া-দাওয়া সব সেখানেই। বছরকালের অধিক সময় ধরে এভাবেই চলছে তার জীবন। শত কষ্ট আর যন্ত্রণায় মুক্তির জন্য চিৎকার করলেও মুক্তি মিলে না তার। এ নিয়ে চারপাশের কারও মনে নেই কোনো অনুভূতি। আর এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে চলছে তার শিকলে বাঁধা অসহায় জীবন। মেহেরুল উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের ধরঞ্জী (মাস্টারপাড়া) গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুল আলিমের ৭ ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় সন্তান। সরজমিন জানা যায়, জন্মের পর দরিদ্র পিতার সংসারে ভালোই চলছিল তার জীবন। মেহেরুলের কৈশোর জীবনের শেষ সময়ে তার মা মেরিনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। অনেক চিকিৎসা করার পর সুস্থ না হওয়াতে সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মেহেরুলের বাবা আব্দুল আলিম। মেরিনা বেগমের ঠাঁই হয় তার বাবার বাড়ি। এদিকে, প্রথম পক্ষের সন্তানদের আপন সন্তানের মতো আগলে সংসারের হাল ধরেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেরা বেগম। এমন অবস্থায় মেহেরুলও তার মা মেরিনা বেগমের মতোই হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দিনমজুর বাবা সাধ্যমতো চিকিৎসা করেও কোনো ফল হয়নি। একপর্যায়ে মেহেরুলের পাগলামিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। ফলে  শিকলে বাঁধা পড়ে তার জীবন। এরপরও দরিদ্র পিতা সহায় সম্বল বন্ধক রেখে ও ধার-দেনা করে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করান। চিকিৎসার পরে একটু সুস্থ হয়ে উঠলেও কিছুদিন পর আবারো অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেহেরুলের চিকিৎসা করাতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন  আব্দুল আলিম। একসময় কিছুটা সুস্থ হলে মেহেরুলকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর বেশ ভালোই ছিল মেহেরুল। এ সময় তার একটা পুত্র সন্তানও হয়। সন্তান বায়োজিদের বয়স যখন আট বছর তখন আবারো তার মাঝে দেখা দেয় মানসিক সমস্যা। ফলে নেমে আসে মেহেরুলের সংসারে অশান্তি। এবার আট বছর বয়সী শিশু সন্তান বায়েজিদকে রেখে সংসার ছেড়ে চলে যায় তার স্ত্রী। আবারো দরিদ্র পিতা আব্দুল আলিম ও তার সৎমার সংসারে চাপে মানসিক ভারসাম্যহীন মেহেরুল ও তার পুত্রের ভার। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে তার তেমন চিকিৎসা করতে পারেন না আর। এ সময় দিন দিন মেহেরুলের আচরণ হয়ে পড়ে মারমুখী। প্রতিবেশীরা হয় অতিষ্ঠ। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে গত প্রায় এক বছরের অধিক কাল ধরে তাকে শিকলে বেঁধে রেখেছে তার পরিবার। মেহেরুলের বাবা বলেন, চোখের সামনে আদরের সন্তানের এমন অবস্থা দেখে কোন পিতা সহ্য করতে পারে? ডাক্তার বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করালে সুস্থ হতে পারে। এজন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আমি তো তার চিকিৎসা ও অন্যান্য ছেলে-মেয়ের পেছনে খরচ করে এখন নিঃস্ব। কোথা থেকে আর চিকিৎসা করাবো। তাই শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।

মেহেরুলের সৎমা শাহেরা বেগম বলেন, মেহেরুল সৎ ছেলে হলেও নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করেছি। কখনো সৎ ছেলে ভাবিনি। শিকলে বাঁধা সন্তানকে দেখে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু উপায় নেই। প্রতিদিনই প্রস্রাব-পায়খানা যুক্ত কাপড় পরিষ্কার করতে কষ্ট হলেও যখন ছেলেকে গরু ছাগলের মতো খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখি তখন বুকটা ছিঁড়ে যায়। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না। উপযুক্ত চিকিৎসা করালে মেহেরুল সুস্থ হতে পারতো। এজন্য সমাজের বিত্তবানরা কেউ সাহায্য করলে আমাদের ছেলেকে সুস্থ করতে পারতাম। তার প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য নুর ইসলাম বলেন, তার চিকিৎসা করতে করতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তারা ছেলেকে শিকলে বেঁধে রেখেছেন। তার সুচিকিৎসার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

mzamin

যে কারণে আমেরিকানরা গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করলেন by এন্ড্রু মিত্রভিকা

কয়েক দিন আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে একটি রহস্যময় বার্তা পোস্ট করেছেন। বার্তায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশকে রক্ষা করে, সে কোনো আইন লঙ্ঘন করে না। ‘এটি অনেকটা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি বিখ্যাত উক্তির মতো শোনায়। তবে জনশ্রুতি আছে যে ট্রাম্প বই পড়েন না, সিনেমাও দেখেন না। হয়তো তাঁর সহযোগী ইলন মাস্ক বা অন্য কেউ এই কথা জোগান দিয়েছেন।

ট্রাম্প সব সময় বিশ্বাস করেন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে। তাঁর মনে হয়, ঈশ্বর তাঁকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছেন, তাই তিনি কোনো শাস্তি পাবেন না। তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুইয়ের বিখ্যাত উক্তিটি বেশি মানানসই—‘আমিই রাষ্ট্র।’ ট্রাম্পের কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চান।

ট্রাম্প কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষা করতে চাননি; বরং দেশটির দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—কংগ্রেস ও আদালতকে তিনি অবজ্ঞা করেন। এখন তিনি প্রেসিডেন্ট নয়, একজন স্বৈরশাসকের মতো আচরণ করছেন। যা খুশি তা–ই করছেন, ভয় বা পরিণতির পরোয়া না করেই।

যদি জনমত জরিপকে নির্ভরযোগ্য ধরে নেওয়া হয়, তাহলে বলা যায় যে বেশির ভাগ মার্কিন খুশিমনেই গণতন্ত্রের ক্ষয়ে যাওয়া অবশিষ্ট অংশকে ছুড়ে ফেলতে রাজি। তাঁরা মনে করেন, দাপুটে শক্তিমান নেতা ট্রাম্প তাঁদের রক্ষা করবেন। দেশের ভেতরে ও বাইরের শত্রুদের কবল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি বাঁচাবেন, সেটা বাস্তবে হোক বা কল্পনায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত মার্কিন ট্রাম্পের মতো একজন বেপরোয়া প্রতারকের পেছনে ছুটছেন? কেন তাঁরা এমন উৎসাহ নিয়ে একজন এমন ব্যক্তিকে সমর্থন দিচ্ছেন, যিনি সমতার আদর্শকে অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর বলে মনে করেন। অথচ এই আদর্শ একসময় বিপ্লবের জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

আমার বিশ্বাস, বেশির ভাগ মার্কিন গণতন্ত্রকে পরিত্যাগ করেছেন; কারণ, গণতন্ত্রই তাঁদের পরিত্যাগ করেছে। হাওয়ায় উড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, বুকে হাত রেখে নেওয়া শপথ—এগুলো পুরোনো বিশ্বাস আর ধরে রাখতে পারছে না। দেশের ক্ষমতাশালী ধনীরা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেন—এই বিশ্বাস আজ মৃত যেন।

অন্তত চারটি বড় ঘটনা একসঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ভেতরের ফাঁপা বাস্তবতা প্রকাশ করে দিয়েছে। এ ঘটনাগুলো মানুষের মনে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। এই হতাশা ট্রাম্পকে শুধু রাজনৈতিক নয়; বরং সাংস্কৃতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমনকি বহু বুদ্ধিদীপ্ত নাগরিকও গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস হারিয়েছেন।

এই মিথ্যার ভিত্তি আসলে বহু আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাঁর সমর্থক হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস এবং যুদ্ধ-উন্মাদ মিডিয়া নির্লজ্জভাবে প্রচার করেছিল যে ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুত আছে। এই ভিত্তিহীন দাবির ওপর দাঁড়িয়ে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করল, একটি স্বাধীন দেশকে ধ্বংস করে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করল। সচেতন নাগরিকেরা এই যুদ্ধের বিপক্ষে প্রতিবাদ করলেন। ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী তাঁদের অগ্রাহ্য তো করলই, সেই সঙ্গে তাঁদের বিশ্বাসঘাতক তকমা দিল।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার ব্যবস্থা। তখন তা ব্যর্থ হলো। গণতন্ত্রের এই কাঠামো রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ঠেকানোর জন্য তৈরি হয়েছিল। সেটিই কাজে লাগানো হলো যুদ্ধবিরোধীদের দমন করতে। এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকা বুশ ও তাঁর কয়েকজন অপরাধবোধহীন সহযোগী আজও দিব্যি আরামদায়ক অবসর উপভোগ করছেন।

অন্যদিকে যেসব মার্কিন সেনা ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, লড়াই করেছিলেন, হত্যা করেছিলেন এবং নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁরা আজ বিস্মৃতপ্রায়। সাধারণ মানুষকে বলি দেওয়া হলো কয়েকজন ক্ষমতাশালীর সাম্রাজ্যবাদী স্বপ্ন পূরণের জন্য।

সরকার ও জনগণের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ল ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার আঘাতে। বন্যায় হাজার হাজার বাড়ি ডুবে গেল। প্রাণ হারালেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। যাঁরা বেঁচে রইলেন, তাঁরা নিজেরাই আশ্রয়, খাবার ও পানির সন্ধানে দিশাহারা হয়ে গেলেন।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট বুশ নিজের ব্যর্থ প্রশাসনের প্রশংসা করলেন। তিনি তখন হেলিকপ্টারে করে ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের ছবি যুক্তরাষ্ট্রের মনে গেঁথে গেল—একজন গর্বিত, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি অসহায় নাগরিকদের কষ্ট বোঝার প্রয়োজনও বোধ করলেন না।

কিন্তু ২০০৮ সালে যখন ওয়াল স্ট্রিটের ধনী ব্যাংকাররা নিজেদের লোভের কারণে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করলেন, তখন বুশ তড়িঘড়ি করে তাঁদের রক্ষায় এগিয়ে এলেন। এই সংকটের কারণ ছিল সাবপ্রাইম মর্টগেজ প্রতারণা—একধরনের জালিয়াতি। যখন সেই প্রতারণার ফল ভোগ করার সময় এলো, তখন সাধারণ মার্কিনদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সেটি পুষিয়ে দিতে হলো। দেশের ভঙ্গুর আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে গেল।

করদাতাদের মোট ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে জরুরি ঋণ দেওয়া হলো, যাতে বড় ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে না যায়। অথচ সাধারণ মানুষ তখন ঋণের দুশ্চিন্তায় দৈনন্দিন খরচ চালাতেও হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই সংকটকে বলা হয় ‘গ্রেট রিসেশন’। দুই বছর ধরে মার্কিনরা ভয়ানক অর্থনৈতিক দুর্দশায় কাটিয়েছিলেন।

সমাজের শীর্ষ ধনী শ্রেণির বুশ আবারও প্রমাণ করলেন যে তাঁর দায়িত্ব আসলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা নয়; বরং তাঁর প্রধান লক্ষ্য বিত্তবান বন্ধুদের ও ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেওয়া। এর জন্য যত কষ্ট, তা সাধারণ মানুষই সহ্য করুক।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আশায় বুক বাঁধল বারাক ওবামাকে নিয়ে। তিনি বললেন, তিনি সাধারণ ঘরের ছেলে। তাঁর শিকড় শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বুঝতে পারেন সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট। এসব কথা তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলল। তিনি হয়ে উঠলেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গণতন্ত্রের প্রতীক; কিন্তু ওবামাও বুঝতে পেরেছিলেন যে বুশের মতোই তাঁর আসল দায়িত্ব হলো ক্ষমতাবান ও ধনিকশ্রেণিকে খুশি রাখা। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ‘হ্যাঁ, আমরা পারি’ আসলে ছিল একধরনের ধোঁকা। তিনি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি তাঁদের পাশে আছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন সেই ধনী অভিজাতদের বন্ধু, যাঁরা তাঁকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলেন।

এই ভানও পুরোপুরি উন্মোচিত হলো। দেখা গেল, ওবামার প্রশাসন ব্যাংক জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। লাখো শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মার্কিনদের সর্বনাশ করেছিল যে ব্যাংক জালিয়াতেরা, তাঁরা কেউ বিচারের মুখোমুখি হননি।

ওবামার এই ব্যর্থতা প্রমাণ করল যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আসলে দ্বিস্তরবিশিষ্ট। এখানে গরিবদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। অপর দিকে সুরক্ষিত রাখা হয় ধনীদের।

এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এক প্রতারকের কাছে মুক্তির আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন। ট্রাম্প সহজ সমাধানের আশ্বাস দেন; কিন্তু কঠিন সমস্যাগুলোর গভীরে যেতে চান না।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের আবার আশাহত হওয়াটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

* এন্ড্রু মিত্রভিকা আল–জাজিরার কলাম লেখক

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া ইংরেজির বাংলা অনুবাদ জাভেদ হুসেন 

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ: চারদিকে উদ্বেগ, আতঙ্ক by ফাহিমা আক্তার সুমি

বেপরোয়া ছিনতাই। রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে খোদ রাজধানীতে। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যাচ্ছে ভীতিকর দৃশ্য। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগে তৈরি করেছে নতুন মাত্রা। ঢাকায় খুন হয়েছেন চীনা নাগরিক। সবমিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে চারদিকে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে অপরাধ দমাতে গেলে হামলার শিকার হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধীদের দমানো না গেলে অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্রিয়তা জরুরি। কঠোর হতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। পুলিশের উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ
সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও দুই নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছাড়ার কিছু সময় পরেই আট থেকে ১০ জন ডাকাত চাকু, ছুরি ও পিস্তল নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় তারা দুই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই বাসের যাত্রীরা। বাসের চালক ও তার সহযোগীরা ডাকাতদের সহায়তা করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই:
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আবু রায়হান ইভান (২২) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। ইভান মালিবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টেকনোলজি (বিআইএসটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ‘গোলাগুলি’র সময় দুই ব্যক্তি নিহত
ঢাকার মোহাম্মদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গোলাগুলিতে তারা নিহত হয়েছে। এ সময় অস্ত্র-গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একটি গলির দুই পাশে ঘেরাও করলে সন্ত্রাসীরা একটি একতলা ভবনের ছাদ থেকে আভিযানিক দলটির ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। আভিযানিক দলটি আত্মরক্ষার্থে তৎক্ষণাৎ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাঁচজন সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ছাদের ওপর থেকে দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

প্রকাশ্যে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা: সোমবার রাত ৯টায় উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডে বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন মেহেবুল হাসান ও নাসরিন আক্তার ইপ্তি। পথিমধ্যে কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে রিকশা আরোহীদের ঝামেলা দেখে সমঝোতার জন্য তারা এগিয়ে যান। যাদের সঙ্গে কিশোরদের ঝামেলা ছিল তারা সেখান থেকে দ্রুতই চলে যান। কিন্তু ওই কিশোররা উল্টো তাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কিশোররা রামদা দিয়ে কোপাতে থাকেন তাদেরকে। ওই নারী পাশে থাকা পুরুষকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। কিন্তু নৃশংসভাবে নারীসহ ওই পুরুষকে কোপান কিশোররা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আদাবরে চাপাতি হামলা: মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবরে প্রকাশ্যে চাপাতি নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিন-চারজনের একটি দল রাসেল নামে এক যুবককে কুপিয়ে চলে যায়। জখম অবস্থায় ওই যুবক দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। হামাগুড়ি দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন তিনি। বাঁচার জন্য সাহায্য চাইছিলেন মানুষের কাছে। একপর্যায়ে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ বলছেন, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

অপরাধে লুটের অস্ত্র: গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রায় ৪৬০টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ফাঁড়িতে একই ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। লুটপাটের সময় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির পাশাপাশি লুট করা হয় সরকারি অস্ত্র। এসব অস্ত্র লুট করে কেউ কেউ নিজের কাছে রেখেছে, আবার কেউ সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। সেগুলো ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা চরমপন্থি, উগ্রপন্থি, দাগি আসামি, সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধীদের হাতে। লুট হওয়ার সাত মাস পরেও পুলিশ এসব অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার করতে পারেনি।

লুট হওয়া ১৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি: সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লে. জে আব্দুল হাফিজ বলেছেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুট হওয়া ১৪০০ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া আড়াই লাখ বিভিন্ন বোনেটের গুলিও উদ্ধার হয়নি। সন্ত্রাসীদের হাতে সেগুলো পড়তে পারে এবং তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। ফলে এগুলো উদ্ধার করতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা চালিয়ে ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৪ হাজার ৩৬৬টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩৮৪টি অস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়েছে।

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা মানবজমিনকে বলেন, এসকল অপরাধকে দমাতে প্রতিরোধ-প্রতিকার জরুরি। যে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে সেগুলোকে তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অস্ত্র লুট হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের বিষয়। জননিরাপত্তা রক্ষায় এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে জোর দিতে হবে এবং অভিযান চলমান রাখতে হবে। এগুলো অপরাধীদের হাতে থাকা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি, ক্ষতি। লুট হওয়া অস্ত্র আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। মারাত্মক, সেটি দুষ্কৃতিকারীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক বড় একটা ঝামেলার মধ্যদিয়ে গেছে, তাদের সেটি কাটিয়ে আরও কঠোর হতে হবে অপরাধ দমনে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মুনীরুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, যখনই সরকারি অস্ত্র বা অন্য কোনো সরঞ্জাম হারিয়ে যায় তখন আর সেটি ফেরত পাওয়া যায় না। সেগুলো ভুল হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নিরাপত্তার জন্য বড় শঙ্কা তৈরি করে। এগুলো আমাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি থাকবে। আর যতদিন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার করা না যাবে সেই ঝুঁকি থেকে যাবে। অস্ত্র উদ্ধারে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেটিতে পুরোপুরি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তাই আরও জোরদার অভিযান চালাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ প্রবণতা, ডাকাতি, অপহরণ, সহিংসতা, সংঘাত, খুন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এই ধরনের অপরাধগুলো অনেক কমে আসার কথা- এটাই আমরা প্রত্যাশা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। একটি রাজনৈতিক দলের সরকারের পতনের পর নতুন যে অরাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন তাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পরিপূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি। দেশে একটি চক্রই তৈরি হয়েছে যারা অপরাধটি তার আয়-উপাজর্নের উৎস মনে করছে। তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরাই বলছেন তারা এখনো পরিপূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারছে না; তবে আগের থেকে মাত্রা বেড়েছে। দেশে সামান্যতম পরিস্থিতি তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে আমরা যতই আলোচনা-সমালোচনা করি না কেন, তাদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। সেই নির্ভরতার জায়গা থেকে তাদের যে জুলাই বিপ্লবের পরে পূর্ব-প্রস্তুতি, অবস্থান-মর্যাদা, নৈতিক মনোবল বা সংকটকে দূরীভূত করার প্রস্তুতি বা এই অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করার জন্য যে ব্যবস্থা, মাঠ পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায়ের যে সমন্বয়টা এই জায়গাতে ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো ঘটনা নেই। ল’ অ্যান্ড অর্ডার ভেরি গুড। আমি মনে করি বিচ্ছিন্ন একটি-দু’টি, মেইনলি মোবাইল ছিনতাই ব্যতীত কোনো অপরাধ নেই। এভরিথিং ইজ নরমাল। তিনি বলেন, দু’দিন আগে উত্তরার ঘটনার পাঁচজনকেই অ্যারেস্ট করা হয়েছে। আমরা সাকসেসফুললি ওইটা হ্যান্ডেল করছি। আমার অফিসার, ফোর্স সবাই আমরা মনোবল ফিরে পেয়েছি এবং চমৎকারভাবে কাজ করছি।

আইনজীবী কে এম মাহফুজ মিশু মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি নিঃসন্দেহে অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে- এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যেদিকে তাকাচ্ছি সেদিকে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে পুলিশও সহযোগিতা করছে না। কারণ তাদের মধ্যে এখনো ভীতি রয়েছে। যেসকল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের আদালতে পাঠানোর পরে তারা যেন জামিন না পায় সেই বিষয়ে কোনো আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিদের একটু সজাগ থাকা উচিত। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে তাহলে মানুষ আরও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাবে। অপরাধের তুলনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উন্নতি এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা যেন কোনোভাবে জামিন না পায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এটি সংখ্যায় কখনো কমে আবার কখনো বাড়ে। দেশে সকল অপরাধের মাত্রা যাতে কমিয়ে আনা যায় এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

mzamin

রড ও সিমেন্টের দাম কমায় শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা by আরিফুল ইসলাম

৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। থমকে আছে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা। এই হাওয়া লেগেছে রড-সিমেন্ট শিল্পেও। বিগত সরকারের সময়ে নেয়া একাধিক মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রমরমা ব্যবসা করতেন রড-সিমেন্ট শিল্পের ব্যবসায়ীরা। পট পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে গেছে বিগত সরকারের নেয়া অনেক প্রকল্প। এছাড়া ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনব্যবস্থার ফলে দেশের মধ্যে সরকার সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করতেন। বর্তমানে সে সবের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন রড-সিমেন্ট শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। নির্মাণশিল্পের ভরা মৌসুমেও ক্রেতাদের কাছ থেকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। এতে চাহিদা ও উৎপাদন দু’টোই নিম্নমুখী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি বড় এবং মাঝারি নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ থাকা, নতুন করে প্রকল্প শুরু না করার প্রভাব পড়েছে এ খাতে। অবস্থা এমন চলতে থাকলে চরম সংকটে পড়বে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরজমিন রাজধানীর গ্রীন রোড, কাওরান বাজার, কাঁঠালবাগান এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গ্রীন রোডে আমিন এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বপন বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রড-সিমেন্টের বাজারে প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতেন। রড-সিমেন্টেরও বড় একটা অংশ সরকারি প্রকল্পের কাজেই ব্যবহার হয়। এজন্য আগের থেকে বিক্রি এখন অনেক কম। জননী এন্টারপ্রাইজের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, স্থায়ী কোনো সরকার না আসা পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বা পরিবর্তন হবে না। আগের থেকে বিক্রি কমেছে। নতুন কোনো নির্বাচিত সরকার এলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

জানা গেছে, সিমেন্ট খাতের উৎপাদন সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দেশের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। যেসব প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সেগুলো গত ৫ই আগস্টের পর বন্ধ রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট খাতে। এ ছাড়া রডের দাম টনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা কমেছে। রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। চাহিদা না বাড়লে রড-সিমেন্টের দাম আরও কমবে বলে আশঙ্কা মিলমালিকদের। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অবকাঠামো খাত সবচেয়ে নাজুক সময় পার করছে। চলমান প্রকল্পের কাজে ধীরগতির পাশাপাশি বিগত ছয় মাসে নতুন কোনো মেগা প্রকল্পের অনুমোদন হয়নি। আগের প্রকল্পগুলোয় বিক্রি করা পণ্যের দামও মেটাতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলছে না। আবার সরকারি প্রকল্পের বিল আটকে থাকায় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকে। এদিকে গত এক বছর ডলারের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বাড়তি দামে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অথচ দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন উৎপাদকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত ইস্পাত শিল্পকে নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া না হলে এর সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই মাসে কোম্পানি ভেদে ইস্পাতের বিক্রি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। পাশাপাশি সিমেন্টের বিক্রি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করছেন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ থাকাকে। কারণ, দেশের মোট ১ লাখ ২০ হাজার টন উৎপাদিত ইস্পাতের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয় সরকারি প্রকল্পে। সামপ্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় সিমেন্টের চাহিদা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। সিমেন্ট খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা কম থাকায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দাম আরও নিম্নমুখী হতে পারে। সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সরকারের বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন শিল্পেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, দেশের কোম্পানিগুলোর রড উৎপাদনে সক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ টন। বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ৬৫ লাখ টন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে। বাকি ৪০ শতাংশ বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হয়। বর্তমানে চাহিদা কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা কমেছে সরকারি প্রকল্পে। এখানে রডের চাহিদা ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় দামও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. শামসুল আলম খান বলেন, আমাদের স্টিল শিল্পের ভৌত অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের উপর বড় ধরনের চাহিদা থাকে রড শিল্পে। প্রকল্পগুলোর কাজের মন্থরগতি ও স্থবিরতা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আগের তুলনায় ব্যবসা- বাণিজ্য অনেকটা কমেছে।

mzamin

ছাত্রদল-শিবির দ্বন্দ্ব প্রকট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। কোথাও কোথাও অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে দেখা গেছে এই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের। ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনাও। চলছে দোষারোপের রাজনীতি। ছাত্রদল দায়ী করছে শিবিরকে, আর শিবির দায়ী করছে ছাত্রদলকে। সংগঠন দু’টির কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এই সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ছাত্রদলের সভাপতি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদককে বলছেন, ‘শিবিরের ওপর দায় দিয়ে দাও’। ছাত্রদলের সভাপতির এই বক্তব্যকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা ও বন্ধুভাবাপন্ন ছাত্র রাজনীতির পথে অন্তরায় বলে মনে করছে শিবির। সংগঠনটি বলছে, নিজেদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দেয়ার যে প্রবণতা ছাত্রলীগের ছিল, তা আজ ছাত্রদলের মধ্যেও বিদ্যমান। এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এবং সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিপন্থি।

ওদিকে, ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে আসে ছাত্রশিবির। কয়েকটি বাম সংগঠন এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এ নিয়ে ছাত্রদলও প্রশ্ন তুলেছে। পরবর্তীতে ৭ই নভেম্বর ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ উপলক্ষে বিএনপি’র দলীয় পোস্টার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সাঁটিয়ে দেয় ছাত্রদল। পোস্টার লাগানোর পর ছাত্রদের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা এর বিরুদ্ধে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে।
ঢাকা এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ এবং ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সিলেটের এমসি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড সভাপতির ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনারও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। আর ছাত্রদল সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ অনুরোধ- ছাত্রশিবিরের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ছাত্রশিবির কোনো ব্যক্তি বা দলের পূজা করে না। এক আল্লাহর গোলাম হিসেবে শুধুমাত্র রবের কাছেই মাথানত করে। আর ছাত্রদলকে আমরা শত্রু মনে করি না। আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তাদেরকে সরাসরি কিংবা কৌশলে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি- অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতির ধারায় ফিরে আসুন। কিন্তু বন্ধুপ্রতিম সংগঠনটি আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট ও তাদের শাহবাগী দোসরদের পরামর্শে অগ্রসর হচ্ছে। যার প্রতিফলন কুয়েটে প্রমাণিত হলো। আজকের ঘটনা আর জুলাই-আগস্টে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

এদিকে, টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড সভাপতির ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড সভাপতি ফজলে রাব্বিকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনা জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা মামুন নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। মূলত কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করার কারণে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়।

mzamin