Monday, January 4, 2016

এক ভুতুড়ে শহরের গল্প

পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, ঝাঁপ বন্ধ
করা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো দেখে বিশ্বাস
করা কঠিন যে দুই লাখ মানুষের আনাগোনায়
মুখরিত ছিল নাইজেরিয়ার বাগা।
এখানে প্রাণ ছিল। ছিল হাজারো মানুষের আনাগোনা। হাসিকান্না, নানা ঘটনায় ভরা ছিল জীবন। এখন এসবের কিছুই নেই। চারপাশে কেমন যেন গা ছমছমে ভাব, ভুতুড়ে পরিবেশ।
এটা নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাগা এলাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রাণবন্ত বাগা ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায়।
গত বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে বোকো হারাম বাগায় সহিংসতা শুরু করে। হাজার হাজার মানুষকে তারা জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। হত্যা করে শত শত বাসিন্দাকে। ওই সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে এখানকার দুই হাজারের বেশি বাসিন্দার মৃত্যু হয় বলে গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া বিধ্বস্ত বাগার ছবি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এখানকার পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, ঝাঁপ বন্ধ করা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো দেখে বিশ্বাস করা কঠিন যে দুই লাখ মানুষের আনাগোনায় মুখরিত ছিল এই বাগা। গবাদিপশু, চামড়ার পণ্য আর উৎপাদিত টাটকা জিনিসের জন্য এখানে ভিড় জমাতেন ব্যবসায়ীরা।
বাগা বোকো হারামের দখলে ছিল দুই মাসের মতো। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী গত বছরের মার্চে এখান থেকে বোকো হারামকে হটিয়েছে বলে দাবি করে। সেই থেকে এখনো ধুলোয় ভরা রাস্তায় টহল দিয়ে যাচ্ছে সেনাসদস্যরা। তার পরও চারপাশে কেমন যেন চাপা আতঙ্ক, শূন্যতা।
সেনা টহলের পর কিছুসংখ্যক বাসিন্দা এখানে ফিরে আসে। তবে সেই সংখ্যাটা খুব কম। এক হাজারও হবে না। গত জুন থেকে বাগার এসব নিঃস্ব বাসিন্দা জীবনের প্রয়োজনে আশপাশের গ্রামে গিয়ে মাছ শিকার শুরু করে। মাছ বিক্রি করার জন্য যায় পাশের শহর মাইদুগুরিতে। বাগা থেকে পালিয়ে এই মাইদুগুরিতে অনেকে আশ্রয় নিয়েছিল।
মাছ বিক্রি করতে আসা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা খবর শুনে জুলাই মাসের দিকে পাঁচ হাজারের মতো বাসিন্দা বাগায় ফিরে গিয়েছিল। তবে সেই শান্তি তাদের কপালে সয়নি। লরিতে করে বাগায় ফেরার পথে বোকো হারামের হামলায় আটজন প্রাণ হারায়। এর কয়েক দিন পর জঙ্গিরা কয়েকজন মৎস্যশিকারি ও কৃষককে গলা কেটে হত্যা করে। আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসিন্দাদের মনে। তারা পালিয়ে যায় অন্যত্র।
বাগা থেকে বাস্তুচ্যুত এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলছিলেন, ‘বাগা এখনো মরূদ্যান হয়ে আছে। আমরা এখনো মাইদুগুরির বিভিন্ন তাঁবু, বন্ধু বা স্বজনের বাড়িতে থাকি। আতঙ্কে বাড়ি ফিরতে পারি না।’
প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সহায়তায় নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী বোকো হারামের জঙ্গিদের কিছু কিছু এলাকা থেকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হলেও আকস্মিক হামলা থেকে তাদের রক্ষা করতে পারছে না। ফলে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে, এমন ভয়ে বাসিন্দারা আর বাগায় ফিরতে চায় না।
বাগার বণিক ইউনিয়নের প্রধান বুকার কোরি বলেন, ‘আমরা এখনো বাগায় ফিরতে পারিনি। বোকো হারামের সদস্যরা আশপাশের দ্বীপে থাকায় এটা এখনো আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’
বোকো হারাম স্বাধীন একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই চাওয়া থেকেই শুরু তাদের সশস্ত্র সহিংসতার। গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ইউএসএআইডির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোকো হারামের নানা সহিংস কর্মকাণ্ডে নাইজেরিয়ার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যম বলছে, সংগঠনটির সহিংসতায় নাইজেরিয়ায় অন্তত ১৭ হাজার মানুষ মারা গেছে। লাখ লাখ ডলারের অবকাঠামোগত স্থাপনা ধ্বংস করেছে তারা।
এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেনি নাইজেরিয়ার সরকার। যদিও নতুন বছরের বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহামাদু বুহারি বলেছেন, এখানকার মানুষের নিরাপত্তায় এখনো অনেক কিছু করার আছে। এই জঙ্গিদের নির্মূল না করা পর্যন্ত সরকার থামবে না।

দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত : শফিউল আলম প্রধান

২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ৫ জানুয়ারি ঘোষিত বিরোধী দলের সভা সমাবেশে বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, ওই দিনের নির্বাচন দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৫ জানুয়ারি, ২৮ এপ্রিল ও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের কলঙ্ক বঙ্গোপসাগরের পানি দিয়েও মুছা যাবে না। এ সরকার দেশকে বিরোধী দলশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। দেশের একদলীয় বাকশালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। গণতন্ত্র এখন নির্বাসিত।
আজ সোমবার রাজধানীর আসাদ গেট জিইউপি মিলনায়তনে জাগপা ছাত্রলীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢাকা মহানগর জাগপা ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
শফিউল আলম প্রধান বলেন, বিরোধী দল দমনে অংশ হিসেবে হামলা-মামলা, গুম-খুন, হত্যা, অপহরণ করে দেশে এক চরম ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে এ অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
অতীতের মতো ছাত্রদের সাহসী ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখবেন ব্যক্তি পরাজিত হয় কিন্তু জাতি কখনো পরাজিত হয় না। শাসকরা যাই ভাবুন না কেন, নিরব গণজাগরণ শুরু হয়েছে। এখন ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই একমাত্র ভরসা।
জাগপা ছাত্রলীগের নগর সভাপতি জুবায়ের রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা জাগপা সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান। বক্তব্য রাখেন জাগপার ঢাকা মহানগর সভাপতি আসাদুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক আওলাদ হোসেন শিল্পী, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রুবেল, সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান, মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী, যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র সরকার, মিনহাজ প্রধান রাব্বী, নগর সহ-সভাপতি আমীর হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক নূর হোসেন প্রমুখ।

আর নয় সাংঘর্ষিক রাজনীতি by তারেক শামসুর রেহমান

আগামী ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের সিদ্ধান্তের পর একই স্থানে একই দিন সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল এদেশে আস্থাহীনতার যে রাজনীতি এবং যে রাজনীতি বারবার সংকটের জন্ম দিচ্ছে, সেই রাজনীতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি। ৫ জানুয়ারি এ দেশের ‘নির্বাচনী রাজনীতি’র জন্য একটি কলঙ্কময় দিন। ২০১৪ সালে এই দিনে এ দেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে যেখানে বলা হয়েছে ‘প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে’, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি সেদিন লঙ্ঘিত হয়েছিল যখন আমরা দেখেছি ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে ‘জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত হয়নি। ১৫টি জেলায় মাত্র ১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর শতকরা ৫২ ভাগ মানুষ সেখানে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বটে, কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে একটা আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। এমনকি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে এদেশে যে সহিংস রাজনীতির জন্ম হয়েছিল, তা এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। ২০১৫ সালে বিএনপি প্রায় তিন মাস অবরোধ অব্যাহত রাখে। দীর্ঘ এই ‘অবরোধ’ আর সহিংস ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি। বরং শত শত মামলা-মোকদ্দমার দায়ভার বহন করে বিএনপির অনেক নেতা ও কর্মী এখনও জেলে।
৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি বড় দলের মাঝে যে আস্থাহীনতার জন্ম হয়েছিল, সেই আস্থাহীনতা আজও বজায় রয়েছে, যা মাঝে-মধ্যে সহিংসরূপ ধারণ করে। ৫ জানুয়ারির পর এ দেশে নতুন এক ‘নির্বাচনী সংস্কৃতি’র জন্ম হয়েছে, যেখানে ‘ভোট কেন্দ্র দখল’ আর ‘সিলমারা সংস্কৃতি’র জন্ম হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও, পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচন ও সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যে প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তা হয়নি। এবং পরস্পরবিরোধী এক ঘৃণ্য রাজনীতির জন্ম হয়েছে। আর এরই প্রতিফলন ঘটেছে ৫ জানুয়ারি (২০১৫) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একই স্থানে ও একই সময় সমাবেশের আহ্বানে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে আওয়ামী লীগের সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে বিএনপিকে আস্থায় নিয়ে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি যে সম্ভাবনা, তাতে আসবে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিএনপি দলীয়ভাবে পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে ‘ব্যাপক কারচুপি’ হলেও বিএনপি ‘কারচুপি’র প্রতিবাদে কোনো বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়নি। বিএনপির এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
বড় দলগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক না থাকলে গণতন্ত্রকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে এবং গণতন্ত্র ক্রমেই হয়ে উঠবে একদলীয়। গণতন্ত্রের স্বার্থেই শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ‘শক্তিশালী বিরোধী দলের’ অভাব অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে উৎসাহ জোগাবে মাত্র। বাংলাদেশে বিএনপির আবির্ভাব একটি বাস্তবতা। এ দেশের জনগোষ্ঠীর ৩২ থেকে ৩৩ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে বিএনপি। সুতরাং এ দলটিকে বাদ দেয়া যাবে না। বিএনপি ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচনে অংশ না নিয়ে কতটুকু ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে কিংবা তাদের ‘নির্বাচন বয়কটের’ সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক ছিল, তা ইতিহাস একদিন বিচার করবে। কিন্তু মূলধারার রাজনীতিতে বিএনপি ফিরে আসায়, সরকারের উচিত ছিল বিএনপির এই ‘অবস্থান’কে সমর্থন করা। কিন্তু আওয়ামী লীগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার সিদ্ধান্ত রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে মাত্র। এই উত্তাপ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য কোনো ভালো খবর নয়।
তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সবাইকেই সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাল্টাপাল্টি যে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটার আশংকা থেকেই যায়। গত বছরও রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করেই দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার সূত্রপাত যাতে না হয় এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলকেই বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনীতিতে পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা বাড়াতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি বাধার মুখে পড়তে পারে।
সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনের পর বিএনপি হরতালের কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এর মধ্য দিয়ে দলটির নেতৃবৃন্দ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় অনাকাক্সিক্ষত বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটে, এটি নতুন নয়। তবে সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনকে ঘিরে যে ধরনের সহিংসতার আশংকা করা হয়েছিল, তেমন সহিংসতা হয়নি। এবারের পৌর নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে এটিও একটি ইতিবাচক দিক। এসব পর্যবেক্ষণ করে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে হয়েছিল, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি হবে; রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাত সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়ায় আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ধারা সৃষ্টির সম্ভাবনা ম্লান হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে দু’দলকেই সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যেহেতু ক্ষমতায় রয়েছে; সেজন্য দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয় সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিশেষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিএনপিকেও সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে হবে।
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে ধারণ করে এটা স্পষ্ট করার জন্য জামায়াতের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে হবে। বিএনপিকে জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করলে এ দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস চর্চায় যে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে এটা ইতিবাচক।
পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে। নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় কাজ যে গতিতে এগিয়ে চলছে, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুন মাত্রা পেল। আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যাতে সহিষ্ণুতার নতুন মাত্রা যোগ হয়, সেজন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দকে বিশেষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের মতো কর্মকাণ্ড থেকে দু’দলকেই দূরে থাকতে হবে। বিএনপি যদি গত বছরের মতো সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করে তাহলে তাদের জনসমর্থন দ্রুত কমতে থাকবে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা-বিবৃতি কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় উদরতার পরিচয় না দিলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহিষ্ণুতার নতুন মাত্রা যোগ হবে না।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : লেখক, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন বছরের অর্থনীতিটা কেমন হবে? by ড. আর এম দেবনাথ

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
প্রথম তিন মাস বাদে ২০১৫ সালটি ভালোয় ভালোয়ই গেছে- রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে। ইতিমধ্যেই ২০১৬ সালের তিনদিন বিগত। এই মুহূর্তে আলোচনা করলে দুই বছরের আলোচনা করতে হয়- কেমন গেল ২০১৫, আর কেমন যাবে ২০১৬ সাল। বিশাল আলোচনা, সন্দেহ নেই। তবে আলোচনা আর কী করব! তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাই না। মনে হয় এক রকম, কাগজে দেখি আরেক রকম। বোঝাতে হলে বিষয়টি ব্যাংক দিয়ে শুরু করতে হয়। সবাই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার দেখলাম ব্যাংকের ব্যবসা ভালো নয়, প্রচুর টাকা অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ ব্যাংকই বলছে অক্টোবর শেষে ২০১৫ সালে ব্যাংক আমানত বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯ ভাগ। আর একই সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৫ ভাগ। অর্থাৎ আমানত বেশি, ঋণ মানুষ নিচ্ছে কম। অর্থাৎ ঋণের চাহিদা কম। ঋণ ব্যবহার করার মতো অবস্থা পুরোপুরি দেশে নেই। আবার ঋণের ওপর সুদের হার বেশ কমেছে। ব্যবসায়ীদের প্রচণ্ড দাবির মুখে ব্যাংকগুলো তা করেছে। অবশ্য ঋণের ওপর সুদ কমাতে গিয়ে আমানতের ওপরও সুদের হার কমাতে হয়েছে। দুইয়ের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ‘স্প্রেড’ হ্রাস পেয়েছে। ‘স্প্রেড’ মানে ঋণের ওপর সুদ এবং আমানতের ওপর সুদের পার্থক্য। খুবই ভালো খবর ‘স্প্রেড’ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হার হচ্ছে ৫ শতাংশ। অথচ তা এখন ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থাও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে সুবিধাজনক নয়। শোনা যায়, মোট ১১টি ব্যাংকে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবজারভার’ (পুলিশ) বসানো হয়েছে পুলিশিং করার জন্য। তারা ব্যাংকের দেখভাল করবে। এত কথা কেন বললাম প্রারম্ভেই। বললাম, দেখা যাচ্ছে এরপরও ব্যাংকগুলোর লাভের কমতি নেই। প্রায় সবারই লাভ বেড়েছে। মজা হচ্ছে এতদসত্ত্বেও অনেক ব্যাংক বহু মধ্যবয়স্ক লোককে নানা ‘অপবাদে’ চাকরিচ্যুত করেছে। প্রশ্ন, ব্যবসায়ীদের কথা হচ্ছে ব্যবসা করা যাচ্ছে না, বিনিয়োগ হচ্ছে না, বেচাকেনা কম। মধ্যবিত্তের হাতে টাকা নেই। তাহলে ব্যাংকের মুনাফা কোত্থেকে এল? কীভাবে তারা মন্দা বাজারে গেল বছরের তুলনায় বেশি মুনাফা করে। এসব বোঝা আমার পক্ষে খুবই কঠিন। হয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন নতুবা ব্যাংকের মুনাফার হিসাব ভিত্তিহীন। এখন কোনটা যে সত্যি বলা কঠিন।
যাই বলি না কেন, সরকারের তথ্য অস্বীকার করার মতো তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে নেই। তবে বাস্তব বলে একটা কথা আছে। তালগাছকে বেলগাছ বলা যাবে না। সত্যের মধ্যেই, তথ্যেই মধ্যেই ফাঁকফোকর থাকে। গোমড় ওখানেই। আমাদের ‘জিডিপি’ বাড়ছে। বিগত পাঁচ বছর ধরে ৬ শতাংশের ওপরে বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেড়েছে ৬ দশমিক ৫১ হারে। এটা সরকারি তথ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য। আবার এও সত্য আমরা এক ফাঁকে জিডিপি ‘ক্যালকুলেশন’ পদ্ধতি পরিবর্তন করেছি। এই পরিবর্তনের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে কী প্রভাব পড়েছে তা তো বলা হচ্ছে না। এমন সব অনেক কথা আছে। বেফাঁস কথা আছে। উত্তেজনার মুহূর্তে আমরা এসব আলোচনা করি না। ২০১৫ সালে আমরা ‘মধ্যম আয়ের’ দেশ হয়েছি। কিন্তু খবর তো এখানে শেষ নয়। এখন জাপানসহ ‘দানবীররা’ (লেন্ডাররা) বলছে ঋণের ওপর সুদের হার বেশি দিতে হবে না। অনেক শর্ত আরও কঠিন হবে। এর প্রভাব অর্থনীতিতে কী হবে তা তো আমাদেরকে বলা দরকার। আনন্দ করলাম, পরের দিনের দুঃখের কথা জানলাম না, এটা তো হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে ‘বিচক্ষণ মুদ্রানীতি’ দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই হার মাত্র ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এই আনন্দের সংবাদের সঙ্গে দুটো দিক জড়িত। মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশের ওপরে। ব্যাংক আমানতের ওপরে সুদের হার কত? ব্যাংক আমানতের ওপর সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতি পাশাপাশি দেখলে বোঝা যাবে সঞ্চয়কারীদের ‘খুন’ করা হচ্ছে। নিুবিত্ত, মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী, বিধবা মহিলা, সাধারণ মহিলা, অবসরপ্রাপ্ত- যারা সুদের ওপর চলেন তাদের কী অবস্থা হল? অবস্থা খুব সহজ : ব্যাংক আমানতের ওপর কোনো সুদ দিচ্ছে না। এটা জাপান নয় যে ব্যাংক আমানতকারীদের সুদ না দিয়ে বরং উল্টো সার্ভিস চার্জ কাটবে। এই গেল আনন্দের খবরের ভেতরে দুঃখের একটু খোঁচা। তারপরও কথা আছে। আমদানিনির্ভর দেশ আমরা। পৃথিবীতে জিনিসপত্রে দাম এখন কম। জ্বালানি তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিু। এমতাবস্থায় আমদানিজাত মূল্যস্ফীতি তো শূন্য। তাহলে কৃতিত্ব কাকে দেব? বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টাদের যারা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর জন্য ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশের ‘এলিট বয়’ হিসাবে ডলারে কাজ করছেন। যেমন কয়দিন আগে অমর্ত্য সেন কথিত ভারতীয় এক ‘এলিট বয়’ আমাদের পিঠ চাপড়ে গেছেন (জানি না তিনি নকশালী ছিলেন কীনা)। প্রশ্ন তো আছে। এই যে উন্নতি, বাজার অর্থনীতি, ৬ শতাংশ গ্রোথ-সবই সত্য। কিন্তু ফলটা তো তারা নিয়ে নিচ্ছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে কোন দেশে? যে দেশের ‘বোসরা’ এসে বলছে ‘অপূর্ব’, আগামী দিনের এমার্জিং টাইগার (পাঠক এমার্জিং টাইগার মালয়েশিয়ার কথা একটু মনে রাখবেন)। ২০১৫ সালে ব্যাংকের ঋণ বৃদ্ধির হার বাড়ল না। আগের বছরের তুলনায় কম। আমানতের প্রবৃদ্ধির তুলনায়ও কম। স্বাভাবিকভাবেই দেখা যাচ্ছে ‘ঋণপত্র সেটেলমেন্ট’-এর পরিমাণ কম। বিনিয়োগকারীদের বিদেশ থেকে ঋণ করতে দেয়া হচ্ছে। ঋণ ওখানে সস্তা। এই টাকা বিনিয়োগে লাগার কথা। অথচ ‘সেটেলমেন্ট’ কম। যদিও ঋণপত্র খোলার হার অনেক বেশি। খোলার হার ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। একটু অস্বাভাবিক নয় কি? ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ এলসি খোলার হার বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ এলসি সেটেলমেন্ট হচ্ছে কম। এর অর্থ কী? রয়েছে আরেক সমস্যা। শিল্পপতিরা প্রতিদিন বলছেন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। ব্যাংকের সুদের হার বেশি। এমতাবস্থায় তারা এত বেশি হারে বছরের শেষে এসে হঠাৎ করে বিপুল এলসি খুলছেন- এর অর্থ কী? নানা সন্দেহ, সন্দেহ আমার নয়। সরকারের এজেন্সিগুলোই প্রায়ই বলছে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ করে টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। হিসাবে কিন্তু মিলে। সারা বিশ্বে সব জিনিসের দাম কম বললে ভুল নয়। মালের ক্রেতা নেই। চীনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্ডার নিচ্ছে। জিনিসের দাম যদি বাড়া নয়, কমে থাকে তাহলে এত বড় অংকের ‘এলসি’ কেন? এত টাকার মাল দিয়ে কী তৈরি হবে দেশে? ২০১৫ সালের অর্থনীতিতে এসব প্রশ্ন উঠছে, উঠছে মানে তুলে রাখলাম।
দেখা যাচ্ছে, রফতানির পারফরম্যান্স ২০১৫ সালে ভালোই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আলোচিত বিষয়টি হচ্ছে আমদানি ও রফতানির পার্থক্য। আমরা রফতানির কথাই বেশি বলি। কিন্তু রফতানির বিপরীতে যে ‘হিউজ’ আমদানি হয় এবং আমাদের ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্ট’ অবস্থা যে খারাপ তা আলোচনায় আসছে। রেমিটেন্সের পরিমাণ কিন্তু স্থবির। এটা দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ ‘এক পুতের’ মায়ের এই দুশ্চিন্তা হয়ই। মোটের ওপর সত্যিকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হচ্ছে রেমিটেন্স- অর্থাৎ এক পুত। এই অবস্থায় এখানে গণ্ডগোল হলে সর্বত্র গণ্ডগোল বাধবে। এত সবের পর একটা কথা বলতেই হবে ২০১৫ সালে আমরা খেয়ে-পরে ছিলাম। উপসের খবর নেই। খাদ্যাভাবের খবর নেই। ফসলহানির খবর নেই। চালের দামের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের খবর নেই। ডাইভার সাহেবরাও এখন নাজিরশাইল চাল খায়। এসব আনন্দের খবর। শাকসবজির দাম আয়ত্তের মধ্যে। বাজারে জিনিসপত্রের অভাব নেই। ব্যাংকারদের তো পোয়াবারো। সরকারি ব্যাংকের সবাই দিনে ২০০ টাকা পায় ‘লাঞ্চ’ করার জন্য। এই টাকা দিয়ে ঢাকায় কমপক্ষে ৫ কেজি সবজি পাওয়া যায়। দুধের দামটা একটু বেশি। মাছ আমাদের বেড়েছে। চাষের মাছ, ক্ষতি কী? মানুষ তা পাচ্ছে। ২০১৫ সালের সরকারের এটা বড় পারফরম্যান্স। আর ব্যর্থতা যা, তা রোজই আলোচিত হয়। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। ব্যবসার পরিবেশ নেই। সুদের হার বেশি। এতদসত্ত্বেও কিন্তু সাড়ে ছয় শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে লক্ষ সমালোচনা হতে পারে। এটা দোষণীয় কিছু নয়। তবে ২০১৬ সালটি কিন্তু হতে পারে একটি ক্রিটিক্যাল ইয়ার।
আমরা জানি বেতন বৃদ্ধির কথা। বাজেট ঘোষিত হয়েছে অনেক আগেই। যে লক্ষ্যমাত্রা ধরে বাজেট করা হয়েছে সেই অনুপাতে কাজ না হলে কিন্তু বিপদ হতে পারে। ইকোনমিক মিনিস্ট্রিগুলো সম্বন্ধে ভাবা দরকার। সার্ভিসের লোক হলেই যাকে-তাকে যেখানে-সেখানে বসানো উচিত নয়। পরিসংখ্যান জানেন না, তিনি যদি হন পরিসংখ্যান প্রধান, পরিকল্পনা জানেন না তিনি যদি হন পরিকল্পনা প্রধান, ফিন্যান্স জানেন না তিনি যদি হন অর্থ প্রধান, ব্যাংকিং জানেন না তিনি যদি হন ব্যাংকিং প্রধান- তাহলে বিপদ হওয়ার আশংকা আছে। কোর এরিয়া ফেলে নিয়োগ দেয়া দরকার। বাজেট অঙ্ক নয়। কম্পিউটার লাগিয়ে যোগ-বিয়োগ করে দিলাম আর হয়ে গেল তা নয়। অর্থনীতির মৌলিক দিকগুলো শক্তিশালী আছে। পাটাতন এখনও শক্ত। যদি রেভেনিউ ঠিক না থাকে তাহলে সব চুরমার হয়ে যেতে পারে। কাগজে দেখলাম ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘মিসম্যাচ’। ‘মিসম্যাচ’ হতে পারে। এর জন্য ‘রিকনসিলিয়েশন’ করতে হয় নিয়মিতভাবে। এটা না হলে বিপদ। আশা করি সরকার তার রাজস্ব আয়ের বিষয়টি নিয়ে ভাববে। পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনা নিয়েই ঝামেলা আছে শোনা যায়। অনেক মন্ত্রীই টার্গেট ঠিক নেই বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন- কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে। ইকোনমিক মিনিস্ট্রিজের মধ্যে গ্রেটার কোপারেশন দরকার। যে ভিত গড়ে উঠেছে, বেশি খরচের জন্য সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে তা হয় না। এত বড় বেতন বৃদ্ধি অথচ কেউ খুশি নয়। এর কারণ খুঁজে বের করা দরকার। কেউ ভেতর থেকে সর্বনাশের বীজ বপন করছে কিনা। সরকার সাবধান থাকলে ভালো করবে।
ড. আরএম দেবনাথ : ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিস্ট ও সাবেক শিক্ষক, ঢাবি

পৌর নির্বাচনের পর সংকট আরও গভীর হল by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর দেশ যে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছিল, সে সংকটটি ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের পর আরও গভীর হয়েছে। রাজনৈতিক সংকটটির সূত্রপাত হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে। এ সংশোধনীতে মহাজোট সরকার প্রায় সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল ও নাগরিক সমাজের পরামর্শ উপেক্ষা করে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে সে ব্যবস্থা বিচারপতি খায়রুল হকের একটি রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের একাংশ ব্যবহার করে এককভাবে বাতিল করে দিয়ে দলীয় ব্যবস্থাধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে। অথচ মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের কোনো প্রতিশ্র“তি ছিল না। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সংস্কার না করে, বিচারপতি হকের রায়ে আরও দু’বার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাধীন সংসদ নির্বাচনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার স্বার্থে এ ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। উল্লেখ্য, এ কাজটি করার আগে সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দলীয় সরকারাধীনে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ওই সময়ের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে এক বিরল ও অভিনব বৈচিত্র্য নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
সরকারি দলের সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ সমর্থকরা ভেবেছিলেন সরকার হয়তো নিজেদের অধীনে ভালো এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে বিএনপির ৫ জানুয়ারি তারিখে দলীয় সরকারাধীনে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এ প্রক্রিয়ায় তারা হয়তো প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অবিতর্কিত ও দুর্নীতি-কারচুপিমুক্তভাবে করে নাগরিক মনে এ বিশ্বাস আনবে যে দলীয় সরকারাধীনে তারা ভালো নির্বাচন করতে সক্ষম। কিন্তু না, সরকারি দলের সমর্থকদের সে ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, দশম সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে পাঁচ পর্বে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং সবশেষে সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচন দেখার পর তারা বুঝতে পেরেছেন যে, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতি যতটা মনোযোগী, তার চেয়ে বেশি মনোযোগী যে কোনো উপায়ে নির্বাচনে জিততে। নির্বাচনে জিততে তারা নির্বাচনী সুষ্ঠুতা জলাঞ্জলি দিতেও প্রস্তুত। দশম সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত তিন তিনটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনুষ্ঠান ভঙ্গিমা দেখে তাদের এ ধারণা হয়েছে। এখন তারা বুঝতে পেরেছে, এ সরকারের অধীনে দলীয়করণকৃত প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং সরকারে শরিক এরশাদের ভাষায় ‘মেরুদণ্ডহীন’ এবং হুকুমবরদার কাজী রকিব নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন হলে ওই নির্বাচনে সরকারি দল প্রশাসন ও পোশাকধারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে অধিকতর শক্তি প্রয়োগ করবে। কারণ, যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হেরে গেলেও তাদের কোনো ক্ষতি হতো না, ক্ষমতা ছাড়তে হতো না, সেই নির্বাচনে জিততেই যখন সরকারি দল এতটা মরিয়া হতে পারে, তখন সরকারে থাকা না থাকার সংসদ নির্বাচনে তারা কতটা বেপরোয়া হয়ে নির্বাচনে জিততে চাইবে তা নাগরিক সমাজ অনুধাবন করতে পেরেছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানে কাজী রকিব কমিশন মোটেও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে পারেনি। অবশ্য ‘নুন খাব যার, গুণ গাব তার’ নীতি অবলম্বন করা কিছু দেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষক রকিব ইসির কিছুটা প্রশংসা করলেও নাগরিক সমাজের বিবেচনায় এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশনের চরিত্রে নিরপেক্ষ রেফারির পরিবর্তে হুকুমবরদারি চরিত্র প্রতিফলিত হয়। সাংগঠনিকভাবে এলোমেলো অবস্থায় থাকায় নির্বাচনের তারিখ দু’সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ার বিএনপির অনুরোধ ইসি আমলে নেয়নি। বিবেচনায় নেয়নি আইন-শৃংখলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধও। নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাস-সহিংসতায় যারা নিহত এবং আহত হলেন সে দায় কি নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে না? পৌরসভা নির্বাচনের সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর থেকে নাশকতা দমনের নামে শত শত বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলেও ইসি সে ব্যাপারে নীরব ছিল। পত্রিকার হিসাব অনুযায়ী নভেম্বর মাসের প্রথম দু’সপ্তাহে ৮ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং এ গ্রেফতার প্রক্রিয়া ডিসেম্বর মাসেও অব্যাহত ছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগীদের অংশগ্রহণ করতে দিলে নির্বাচন মুক্ত ও অবাধ হয় না জেনেও নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ইসির পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার দু’জনই সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে নিজেদের হুকুমবরদারি চরিত্র উন্মোচন করেন।
পৌর নির্বাচনের প্রাক্কালে এ নির্বাচনকে লক্ষ করে খালেদা জিয়া একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চাইলে কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেল তা প্রচারে সাহস করেনি বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খালেদা জিয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের বাধা দূর করে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারত। কিন্তু কমিশন এ ব্যাপারটি না শোনার ভান করে স্বচ্ছন্দবোধ করেছে। তাছাড়া নিজস্ব লোকবল থাকা সত্ত্বেও ইসি সরকারি কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সমালোচিত হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গকারী সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের প্রতি কঠোর মনোভাব না দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে অনুরোধ করে ইসির স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতা ভূলুণ্ঠিত করেন। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ এবং তিন সিটি নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ব্যর্থ হয়।
স্বীকার্য, সব বড় দল অংশগ্রহণ করায় পৌর নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হয়ে নতুন মাত্রা পায় এবং ভোটাররা এ সরকারামলের পূর্ববর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর চেয়ে এ নির্বাচনটিতে অধিক হারে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনের আগেই প্রার্থী না থাকায় সাতজন মেয়র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৯ পৌরসভার ভোট গ্রহণ স্থগিত এবং একটি পৌরসভার ভোট বাতিল করা হয়। ২০৭ পৌরসভার মেয়র পদে ভোট কাস্ট হয় ৭৩.৯২ ভাগ। এর মধ্যে পাঁচ পৌরসভায় ৯০ ভাগের বেশি এবং ৭৪ পৌরসভায় ৮০ ভাগের বেশি ভোট পড়াকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সন্দেহজনক বিবেচনা করেন। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে একজন ভোটারকে তিন ধরনের ব্যালটে সিল দিতে হয়। এর জন্য অন্তত তিন মিনিট লাগার কথা, যে কারণে ৯০ ভাগের বেশি ভোট পড়াটা অবিশ্বাস্য।’ বেশি ভোট পড়ার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, যেসব ভোট কেন্দ্র সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারতে পেরেছে, বা যেসব কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিল না, অথবা থাকলেও হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে, ওই কেন্দ্রগুলোতে অনেক বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। তা ছাড়া দুই দলের মধ্যে যেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা, সেখানে এ নির্বাচনের ফলাফলে যুগপৎ আসন এবং ভোটের ব্যবধান দেখেও দুর্নীতি-কারচুপির মাত্রা অনুধাবন করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ের ২০৭ মেয়র আসনের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের ১৬৮ এবং বিএনপির ১৯টি আসন পাওয়া নাগরিক সমাজের ধারণার সঙ্গে মেলে না। একইভাবে বিজয়ী ও বিজিতদের ভোটপ্রাপ্তির উচ্চ ব্যবধানেও এ অসঙ্গতি বিধৃত। যেমন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এবং রাজশাহীর কেশরহাটে যেখানে সরকারি দলের মেয়রপ্রার্থী পান যথাক্রমে ২০ হাজার ৬৯০ এবং ৭ হাজার ৩৪৩ ভোট, সেখানে ওই দুই পৌরসভায় বিরোধীদলীয় মেয়র প্রার্থী পান যথাক্রমে ৪৬৪ এবং ৯৯ ভোট। এ কেমন হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নমুনা!
নির্বাচন দিনের ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ, সন্ত্রাস-সহিংসতা, দুর্নীতি-কারচুপি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, পৌর নির্বাচনটি কালিমাযুক্ত নির্বাচনের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল, কিছু কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারদের আয়ত্তে নিয়ে ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া, প্রার্থী ও ভোটারদের হুমকি-ধমকি করা, জাল ভোটের উৎসব করা, বিরোধীদলীয় সমর্থকদের প্রকাশ্যে ভোটদানে বাধ্য করা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের মারধর করা, সন্ত্রাসজনিত কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়াসহ এ নির্বাচনে আরও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। এ নির্বাচনের ওপর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এভাবে ভোট ডাকাতি করে বিজয়ী হওয়ার মধ্যে আনন্দ নেই। কারণ তারা নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। তাই হাসিনা-রকিবের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’ পৌর নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ এ ফল মানে না, অন্য কোনো দলও মানছে না। কেবল যারা চুরি করে জিতে এসেছে তারাই বেশি করে ঢোল পেটাচ্ছে, নানা রকম উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছে।’ পৌর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আর একবার প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে এখনও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি হয়নি। নাগরিক মনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে শংকা ছিল, পৌর নির্বাচন সে শংকাকে আরও গভীর করেছে।
হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত পরপর তিনটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্রমবর্ধমানভাবে দুর্নীতি-কারচুপি হয়েছে। এসব নির্বাচনে যারা সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষে দুর্নীতি-কারচুপি করেছে তাদের শাস্তি না দিয়ে আশকারা দেয়া হয়েছে। কাজেই নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের আন্তরিকতা (!) প্রসঙ্গে নাগরিক সমাজ একটি ধারণা পেয়েছে। এখন সরকার কোন মুখে বলবে যে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ হবে? সরকার যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ তা বিশ্বাস করবে না। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচন কেমন সরকারের অধীনে হবে সে বিষয়টি নিয়ে যে সংকট চলমান ছিল দুর্নীতি-কারচুপি ও কালিমাযুক্ত পৌরসভা নির্বাচন সে সংকটটিকে আরও গভীর করল।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
akhtermy@gmail.com

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কারও নয় by আবদুল্লাহ আল মামুন ও হাবিবুর রহমান খান

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি কাল মঙ্গলবার। গত বছর থেকে পাঁচ জানুয়ারিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ এবং বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এবার আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় দল একই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু কাউকেই অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রথম বছর এ দিনকে ঘিরে দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিদগ্ধ মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। টানা তিন মাস অবরোধের কবলে পড়ে দেশ। গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকায় এবার শুরু থেকেই সাবধান সরকার।
রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখবে আ’লীগ
ঢাকার ১৮ স্পটে সমাবেশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে রাজপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে আওয়ামী লীগ। শুধু কর্মসূচি পালন নয়, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না। গত বছর টানা তিন মাসের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আলোকে ক্ষমতাসীনরা এমন পরিকল্পনা করেছে।
আওয়ামী লীগ আগামীকাল রাজধানীর ১৮ স্পটে র‌্যালি ও সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে। মূলত এই ১৮টি স্পট থেকে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনোভাবেই তাদের সহিংসতার সুযোগ দেয়া হবে না। সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না তারা (বিএনপি) রাজপথে থাকবে। আন্দোলন করতে হলে তো নেতাকর্মী থাকতে হবে। তাদের নেতাকর্মী কোথায়? তারা অসংগঠিত। তারা আন্দোলন গড়ে তুলবে এটা দুরাশা। আষাঢ় মাসের গর্জনের মতোই মনে হয়েছে তাদের আন্দোলনের ঘোষণা। বিএনপির আন্দোলন করার কোনো প্রস্তুতি নেই। এ মুহূর্তে জনগণও আন্দোলনের মুডে নেই বা পছন্দ করছে না। তাছাড়া সরকারবিরোধী কোনো জনপ্রিয় ইস্যুও তাদের হাতে নেই।’
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের এ নীতিনির্ধারক বলেন, পুলিশ কী ভাবছে আমি জানি না। তবে পুলিশ নিরাপত্তাজনিত কারণে এখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুমতি দেয়নি। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই নয়াপল্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আগামীকাল ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তা স্বীকার করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। রোববার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুশিয়ার করে বলেন, বিএনপি যদি আন্দোলনের নামে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে জনগণ ও আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের আরও কঠিন শিক্ষা দেবে। হানিফ বলেন, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা করার অধিকার বিএনপির নেই। তাদের উচিত ৫ জানুয়ারি ‘অনুতপ্ত দিবস’ পালন করা।
আগামীকাল ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন শাসক দলের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কাল সারা দেশে জেলা-উপজেলায় আনন্দ র‌্যালি ও সমাবেশের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার ১৮টি স্পটে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচির বিষয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘শুনেছি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই দিন কাউকে সমাবেশের অনুমতি দেবে না ডিএমপি। যদি না দেয় তবে আমরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে (বঙ্গবন্ধু এভিনিউ) সমাবেশ করব।’
দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপিকে ‘ফ্রি’ রাখা হয়। কার্যত তাদের ব্যাপারে সরকারের আগের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ চলমান মামলাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশকেও আগের অবস্থানেই থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আগামীকাল ৫ জানুয়ারি দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা থাকলে কোনো দলকেই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ কর্মসূচি ছাড়াও শাসক দল আওয়ামী লীগ রাজধানীর মিরপুর ১২ পূরবী সিনেমা হল, শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেট, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মাঠ, বাড্ডা-রামপুরা পেট্রলপাম্প, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়ক, মিরপুর ১ (গোলচত্বর), লালবাগ, গুলশান, সূত্রাপুর, তেজগাঁও, সবুজবাগ-খিলগাঁও, উত্তরা, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর-টাউন হল, কাফরুল, গুলিস্তান-বঙ্গবন্ধু স্কয়ার এবং বনানী ও মহাখালী এলাকায় বেলা আড়াইটার আগে অবস্থান নেবে। মূলত এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের চলাচল সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দলটির নেতাকর্মীরা।
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বিএনপি
সোহরাওয়ার্দীর পর নয়াপল্টন চায়
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পর এবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি। রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলটির নেতারা অপেক্ষা করবেন। সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকার জন্য কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে গতবারের মতো কঠোর আন্দোলনের বিষয়েও অনেকেই মত দিচ্ছেন। তবে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। এদিন উপলক্ষে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চেয়ে ডিএমপি’র কাছে আবেদন করে। বিকল্প হিসেবে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছেন দলটির নেতারা।
নয়াপল্টনেও অনুমতি না দিলে কী করবেন জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘কী করব সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনও সময় আছে। অনেক সময় দেখা গেছে, জনসভার আগের রাতেও কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি। গতবারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করবেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম আলাপ-আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। শনিবার দলের যৌথসভায় ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। অঙ্গসংগঠনগুলোকেও পৃথকভাবে প্রস্তুতির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে সমাবেশ না হলেও ঢাকার বাইরে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হবে।
ঢাকায় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও প্রকাশ্যে তেমন প্রস্তুতি নেই। ঢাকা মহানগরের কোনো নেতাকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। সোহরাওয়ার্দী বা নয়াপল্টন কোথাও অনুমতি না পেলে রাজপথে নামার মতো অবস্থায় নেই ঢাকা মহানগর বিএনপি। গত বছর ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বাদে সারা দেশে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। শুধু ঢাকায় নেতাকর্মীরা রাজপথে নামতে পারেননি। এতে ঢাকা মহানগর নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়েন দলের হাইকমান্ড। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
ঢাকায় সমাবেশ করতে দেয়া না হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হতে পারে। রাজধানীর থানা বা ওয়ার্ডে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়ার পক্ষে কেউ কেউ পরামর্শ দিলেও সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলের কেউ কেউ মনে করেন, সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে উল্টো উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকারের উসকানিতে পা দেয়া ঠিক হবে না। তাদের মতে, সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের পর সরকার দেশে বিদেশে নানা সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। কারচুপির অভিযোগ থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে নিতে তারা নতুন কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হলে এতে সংঘাত সৃষ্টি করে এর দায় বিএনপির ওপর চাপাতে পারেন। সংঘাত-সংঘর্ষ হলে নেতাকর্মীদের নামে দেয়া হতে পারে নতুন মামলা। গ্রেফতার করা হতে পারে সক্রিয় নেতাদের। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আপাতত কোনো ঝামেলায় না যাওয়াই ভালো বলে মনে করেন দলের ওই অংশের নেতারা।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে। তারা যদি সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেবে। আওয়ামী লীগ যদি ১৮ স্থানে সমাবেশ করতে পারে বিএনপি কেন এক স্থানে পারবে না।
এদিকে সোমবার বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি রোববার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার অনুমতি চেয়েছি। এবার দেখব আপনারা (সরকার) কতটুকু শান্তির পক্ষে, আপনারা কতটুকু স্বস্তি, কতটুকু গণতন্ত্রের পক্ষে। নোংরামি করে অপরাজনীতি দিয়ে নিজেদের চেহারা ঢাকা যাবে না। আমরা বলব, আপনারা (সরকার) গণতন্ত্র, ন্যায় ও সত্যের পথে আসুন। মানুষের স্বাধীনতা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির জন্য, জনগণের স্বস্তির জন্য সংঘাত-সংঘর্ষ এড়াতে আবারও সরকারকে বলতে চাই, শান্তিপূর্ণ জনসভার জন্য অনুমতি দিন। এটি গণতন্ত্রের একটি অংশ। এই জায়গা বাধা দেবেন না। আপনারা যদি মনে করেন, ওই জায়গা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) না দিয়ে পার্টি অফিসের সামনে দেবেন, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই।
বিএনপির পর একই স্থানে আওয়ামী লীগও জনসভার পাল্টা ঘোষণার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হঠাৎ কর্মসূচি ঘোষণা অত্যন্ত হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা দেশবাসী সহজে বুঝতে পারে ও জানে। পায়ে পাড়া দিয়ে বিএনপির কর্মসূচি বানচাল করায় আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্ব ফুটে উঠেছে। কারণ এই কর্মসূচি দিয়ে তারা নিজেরাই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এরা জনগণের কণ্ঠের আওয়াজে চমকে উঠছে। আতংকিত হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বিএনপির কর্মসূচিকে বানচাল করতে চাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন সৌদি আরবের

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর গতকাল
রোববার রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। ছবি: এএফপি
সৌদি আরব গতকাল রোববার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিয়া নেতা শেখ নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জেরে তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলার পর রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর গতকাল রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।
আল-জুবেইর বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে সৌদি আরব। ইরানের কূটনৈতিক মিশনের সব সদস্যকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’
তেহরান আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় বলে অভিযোগ করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আরব বিষয়ে ইরানের ইতিহাস নেতিবাচক হস্তক্ষেপ ও বৈরিতায় ভরপুর। বিনাশই তাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী।’
আল-জুবেইর বলেন, তেহরানে সৌদি দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছিল রিয়াদ। কিন্তু তেহরান সহযোগিতা করেনি। তারা দূতাবাস রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
গত শনিবার নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শনিবার দিবাগত রাতে ইরানে সৌদি আরবের দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভবনে হামলা করে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা।
ইরান বলেছে, সৌদি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হামলাকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তাঁর ভাষ্য, হামলায় অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা উগ্র ছিল।
শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, শেখ নিমরকে ‘হত্যা করার’ ফল হিসেবে অচিরেই সৌদি রাজনীতিকদের ওপর ‘খোদার গজব’ নেমে আসবে।
গতকাল রাজধানী তেহরানে ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে খামেনি শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের ‘রাজনৈতিক ভুল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবে না। এটা তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে।’
এর আগে এক টুইট বার্তায় খামেনি বলেন, ‘এই শহীদের (শেখ নিমর) বেইনসাফি রক্তপাতের ফল শিগগিরই দেখা যাবে। সৌদি রাজনীতিকদের ওপর অচিরেই খোদায়ী গজব নেমে আসবে।’
শনিবার দিবাগত রাতে তেহরানে সৌদি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা হামলা চালায়। পেট্রলবোমা ছুড়ে ভবনের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর মাশাদে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রচণ্ড বিক্ষোভ হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন চাদ ও একজন মিসরের নাগরিক। অন্যরা সৌদি নাগরিক। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সৌদি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ওই ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদ কি ফিরে এল? by রবার্ট ও. প্যাক্সটন

গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মম্ভরি বাগাড়ম্বর
নতুন বছর কেমন কাটবে বিশ্ববাসীর? পৃথিবীর প্রথম সারির নেতা ও ভাবুকেরা তুলে ধরেছেন তার এক আগাম ছবি। বাংলাদেশে শুধু প্রথম আলোকে দেওয়া প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের নিবন্ধ নিয়ে চার দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন। আজ ছাপা হলো শেষ দুটি লেখা।
২০১৫ সালে ‘ফ্যাসিবাদ’ আবারও সাধারণভাবে সর্বাধিক ব্যবহৃত রাজনৈতিক অভিধায় পরিণত হয়েছে। যখন আমরা এমন ভাষা ও আচরণের সামনে পড়ি, ভাসা-ভাসাভাবে যা হিটলার ও মুসোলিনির সঙ্গে মিলে যায়, তখন ফ্যাসিবাদের তকমা ব্যবহারের প্ররোচনা এড়ানো কঠিন। হাল আমলে খাপছাড়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, টি পার্টি, ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্ট ও জঙ্গি ইসলামি ঘাতকদের বেলায় গড়পড়তাভাবে এই শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের শক্তিগুলোকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে আখ্যায়িত করার ঝোঁকটা বোধগম্য হলেও এ প্রবণতা বন্ধ করা উচিত।
১৯৩০-এর দশকে ফ্যাসিবাদের জন্মের সময় (প্রথমে ইতালিতে, পরে জার্মানিতে) তা ছিল (তাদের ধারণায়) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিক্রিয়া। মুসোলিনি ও হিটলার দাবি করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালি তিরস্কার আর জার্মানি পরাজয়ের শিকার হয়েছিল। কারণ গণতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য দেশ দুটির জাতীয় ঐক্য ও ইচ্ছাশক্তি নিঃশেষ করে দিয়েছিল।
তাই এ দুই নেতা তাঁদের অনুসারীদের উর্দি পরালেন এবং তাঁদের কাজ ও চিন্তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চেষ্টা করলেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তাঁরা জনগণের জীবনের সব দিকের ওপর চরম কর্তৃত্ব প্রসারিত করতে চাইলেন। এমনকি মুসোলিনির অধীনে খেলার আয়োজন এবং তা তদারক করত ‘ইল দোপোলাভারো’ নামের রাষ্ট্রীয় সংস্থা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে অন্য এক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান ঘটছিল: সাম্যবাদ।
ফ্যাসিবাদীরা এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবন্ধক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছিল (এবং এলিটদের সমর্থন পেয়েছিল)। আন্তর্জাতিকতাবাদী সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ফ্যাসিবাদীরা হাজির করেছিল জাতীয় সমাজতন্ত্রের রূপরেখা। যখন তারা ধ্বংস করছিল সমাজতন্ত্রী দলগুলোকে, উঠিয়ে দিচ্ছিল স্বাধীন শ্রমিক ইউনিয়ন, তখন একবারও তারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামাজিক কল্যাণের দায়বদ্ধতাকে প্রশ্ন করেনি (অবশ্য অভ্যন্তরীণ শত্রু, যেমন ইহুদিরা এর বাইরে ছিল)।
আজ যে আন্দোলন নিজেদের নাম দিয়েছে ‘ইসলামিক স্টেট’, দৃশ্যত তারা এই ছাঁচে ভালোভাবেই মিলে যায়। এর অনুসারীদের ইচ্ছা ও ব্যক্তিগত পরিচয় আন্দোলনের প্রতি সমর্পিত। এরই চূড়ান্ত রূপ হলো চরম আত্মদান: সুইসাইড বা আত্মঘাত। কিন্তু তা হলেও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য আছে। ইসলামিক স্টেট যতটা না রাষ্ট্র, তার চেয়ে বেশি খেলাফত হতে ইচ্ছুক। এটা ধর্মের কর্তৃত্বের প্রতি এমনভাবে নিবেদিত যে তা বিদ্যমান জাতিরাষ্ট্রের সীমা অমান্য তো করেই, এমনকি সেসবকে হুমকিতেও ফেলে। এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে যায় লোকচক্ষুর অগোচরে এবং স্থানীয় শাখাগুলোর ওপর কৌশল ও কর্মসূচিগত উদ্যোগের ভার বণ্টন করা থাকে। কোনো ভৌগোলিক কেন্দ্রের প্রয়োজন তাদের নেই।
ফ্যাসিবাদীরা ছিল জাতীয়তাবাদী। তাদের শিকড় ছিল জাতিরাষ্ট্রের মধ্যে, সেই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী এবং আরও বর্ধিত করাই ছিল তাদের আরাধ্য। ফ্যাসিবাদী নেতারা ও সরকারগুলো ধর্মকে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের অধীনস্থ করতে যথাসম্ভব সবকিছু্ করেছিল। ইসলামিক স্টেটকে আমরা বড়জোর ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদের একটি ধরন বলতে পারি। কিন্তু এটা চিরায়ত ফ্যাসিবাদের কেন্দ্রীকৃত ধর্মনিরপেক্ষ একনায়কতন্ত্র এবং সেগুলোর চটকদার নেতাদের থেকে মৌলিকভাবেই আলাদা।
যুক্তরাষ্ট্রের টি পার্টির অবস্থান ফ্যাসিবাদের রাষ্ট্রবাদিতার থেকে অনেক দূরে। সব ধরনের সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা এবং অন্যের প্রতি দায়দায়িত্বের তীব্র বিরোধিতার বৈশিষ্ট্যের কারণে টি পার্টিকে বরং ডানপন্থী নৈরাজ্যবাদ বলাই সঠিক হয়। এটা হলো লাগামছাড়া ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ। সমাজের প্রতি কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা মানতে না চাওয়া তো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর সামাজিক দায়বদ্ধতার শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী ফ্যাসিবাদী চিন্তার একেবারে বিপরীত।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্টের শিকড় অবশ্যই রোপিত আছে ভিচি ফ্রান্সে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান দখলদারির অধীনস্থ ফ্রান্সকে বলা হয় ভিচি ফ্রান্স। তখন প্যারিসের বদলে ভিচি শহরে ছিল এই সরকারের সদর দপ্তর)। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জ্যঁ মারি ল্য পেন গোড়া থেকেই ফ্রান্সের রিপাবলিকান ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে আসছেন। ল্য পেনের মেয়ে মারিনের নেতৃত্বে এই দলের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কারণ আর কিছু নয়, রাস্তার বিক্ষোভ এবং হলোকস্ট অস্বীকার থেকে সরে আসার প্রচেষ্টা।
সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়টা স্বতন্ত্র। দৃশ্যত মনে হয়, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নের জন্য তিনি বেশ কিছু ফ্যাসিবাদী ধ্যানধারণা ধার করেছেন। যেমন: জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবাদী দম্ভ, জাতীয় পতন ও দুর্বলতার ভয়, আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, তথাকথিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের শাসন বাতিল করার ব্যগ্রতা। তাঁর তর্জন-গর্জন, জনসভা মাতানোর শৈলী এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের দক্ষতাও মুসোলিনি ও হিটলারের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এসব লক্ষণ ফ্যাসিবাদী ভাব ও ভঙ্গির খুব কাছাকাছি হলেও উভয়ের অন্তর্লীন মতাদর্শগত সারবস্তু খুবই আলাদা। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় সাধারণত সম্পদের যতটা মালিকানা মেনে নেওয়া হয়, এদের বেলায় সম্পদের ভূমিকা তার থেকেও বেশি। ট্রাম্প ফ্যাসিবাদের ভাব ও ভঙ্গি বরণ করেছেন যতটা না এসবের কুৎসিত ইতিহাস বিষয়ে সজ্ঞান থেকে, খুব সম্ভব তার চেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধার জন্য।
স্পষ্টতই ট্রাম্পের ভাষা ও বক্তব্যের ধরন যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, সে ব্যাপারে তিনি আগাগোড়াই দায়িত্বহীন। এতে অবাক হওয়া উচিত নয়। কেননা, তিনি যে ঘৃণা ছড়ান, তার প্রভাবের বিষয়েও তিনি একই রকম দায়িত্বহীন। এটা খুবই খারাপ ব্যাপার যে ঘৃণাজীবী এসব মানুষ ও আন্দোলনকে বর্ণনা করার জন্য ফ্যাসিবাদের মতো তেজস্ক্রিয় আর কোনো অভিধা আমরা তৈরি করতে পারিনি।
এর বদলে আরও সাধারণ শব্দ দিয়ে আমাদের কাজ চালিয়ে নিতে হবে, যেমন: ইসলামিক স্টেটের জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদ, টি পার্টির জন্য প্রতিক্রিয়াশীল নৈরাজ্যবাদ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থে আত্মম্ভরি বাগাড়ম্বর। এর বাইরে কিছু প্রান্তিক আন্দোলনও দেখা যাচ্ছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ‘এরিয়ান নেশন’ এবং গ্রিসে ‘গোল্ডেন ডন’ আন্দোলন। এগুলো সরাসরি নাৎসি প্রতীক এবং শারীরিক সহিংসতার ব্যবহার ঘটায়। ফ্যাসিবাদ অভিধাটি এদের জন্যই বরাদ্দ করা ভালো।
রবার্ট ও. প্যাক্সটন
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: ফারুক ওয়াসিফ
রবার্ট ও. প্যাক্সটন: যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রফেসর ইমেরিটাস, অ্যানাটমি অব ফ্যাসিজম গ্রন্থের লেখক।

সৌদিতে শিয়া নেতাসহ ৪৭ জনের শিরশ্ছেদ

শেখ নিমর আল নিমর
সৌদি আরবে গতকাল শনিবার শিরশ্ছেদ করে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দেশটির শিয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরও রয়েছেন। আল নিমরের শিরশ্ছেদ করায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। ইরান বলেছে, সৌদি আরবকে অচিরেই এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে একজন চাদ এবং একজন মিসরের নাগরিক। বাকি ৪৫ জনের সবাই সৌদি নাগরিক। খবর বিবিসির। সৌদি আরব গত বছর ১৫৭ জনের শিরশ্ছেদ করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবমতে, ২০ বছরের মধ্যে এটাই ছিল এক বছরে সর্বোচ্চসংখ্যক লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তে জড়িত থাকার দায়ে তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা জানায়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন জাবের আনসারি গতকাল বলেন, ‘সৌদি সরকার বরাবরই সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন এবং উগ্রপন্থীদের মদদ দিয়ে আসছে, আর নিজের দেশের সমালোচকদের নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে দামিয়ে রাখছে।...এই নীতি অনুসরণের জন্য সৌদি আরবকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’ শিয়া নেতা শেখ নিমরকে দুই বছর আগে বিক্ষোভ করার সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছিল।
২০১১ সালে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করে, তাতে শেখ নিমর প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন। সৌদি আরবে শিয়ারা দীর্ঘদিন থেকে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ করে আসছে। গত অক্টোবরে শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ও শিয়া মুসলিমপ্রধান দেশ ইরান শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে সৌদি আরবকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। শেখ নিমরের এক ভাই গতকাল বিবিসিকে বলেন, তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে সৌদি রাজত্বে বিদেশিদের ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটাতে চাওয়া; শাসকদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে ‘আরব বসন্ত’ শুরু হলে সৌদির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা বিক্ষোভ শুরু করে। শেখ নিমরের সমর্থকেরা বলেছেন, নিমর শুধু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমর্থন করেছিলেন এবং সরকারবিরোধী সব ধরনের সহিংস বিক্ষোভের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সৌদি আরব বরাবরই শিয়াদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এই বিক্ষোভের পেছনে ইরানের হাত আছে বলে অভিযোগ করেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে আল-কায়েদার হামলায় বহু লোক নিহত হয়। এর জের ধরে দেশটি কয়েক হাজার জঙ্গিকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে কয়েক শ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিয়া বিক্ষোভ চলাকালে দেশটির বেশ কিছু এলাকায় বন্দুক ও বোমা হামলা হয়। এসব হামলায় কয়েকজন পুলিশসহ বহু বেসামরিক লোক নিহত হয়।

কংগ্রেস সভাপতি হচ্ছেন রাহুল?

রাহুল গান্ধী
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী শিগগিরই দলটির সভাপতি হচ্ছেন বলে গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ সফরে থাকা রাহুল আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরার পর কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচনে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাহুল কংগ্রেস সভাপতি হতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। এ ব্যাপারে কয়েক দিন আগে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাহুলের মা ও কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে সোনিয়া তাঁদের পরামর্শ দেন, বিষয়টি রাহুলকেই জিজ্ঞেস করতে। গত ২৭ ডিসেম্বর রাহুল গান্ধী টুইট করেন, কিছুদিনের জন্য তিনি ইউরোপ যাচ্ছেন। নিজের বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে এই প্রথম তিনি জনগণকে প্রকাশ্যে জানালেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ৮ জানুয়ারির পর রাহুল দেশে ফিরবেন। ওই সময় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভাও হবে। ওই সভাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দলের জ্যেষ্ঠ একজন নেতা বলেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে রাহুল প্রস্তুত। তিনি সভাপতি হতে চান না, এটা ভুল।
তবে এ জন্য তিনি আসামের নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এই নেতা বলেন, ঘটনাটি শিগগিরই ঘটবে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা দিগ্বিজয় সিং বলেন, কয়েক মাস আগে কংগ্রেসের তৃণমূলের নেতারা রাহুলকে সভাপতি হিসেবে চেয়ে নিজেদের মূল্যায়ন জানিয়েছেন এবং দ্রুতই এর বাস্তবায়ন চেয়েছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত এখন পুরোটাই নির্ভর করছে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর ওপর। কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে সোনিয়া গান্ধীর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতি পাঁচ বছর পরপর সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির সভাপতি নির্বাচন করা হয়। কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে ১৯৯৮ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। ১২৯ বছরের পুরোনো এই সংগঠনটির প্রধান হিসেবে সোনিয়াই সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করছেন। রাহুল ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাধীনতার নায়ককে বিদায়

হোসাইন আইত-আহমেদ
ফ্রান্সের দখলদারত্বের বিরুদ্ধে প্রথম দিকে যাঁরা বিদ্রোহ করেছিলেন, তাঁদের একজন তিনি। অথচ তাঁকেই কিনা স্বাধীনতার কয়েক বছরের মাথায় নির্বাসনে পাঠানো হয়! সেই স্বাধীনতার নায়ক হোসাইন আইত-আহমেদকে গত শুক্রবার শেষবিদায় জানাল আলজেরিয়াবাসী। খবর বিবিসির। আইত-আহমেদ গত ২৩ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডে মারা যান। আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। আর শুক্রবার তাঁর দাফনে অংশ নেয় হাজারো শোকাহত আলজেরীয়। আলজেরিয়ায় ফরাসি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ১৯৫৪ সালে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন হোসাইন আইত-আহমেদসহ হাতেগোনা কিছু মানুষ। ওই বিদ্রোহই পরে স্বাধীনতাযুদ্ধে মোড় নেয়। রক্তাক্ত লড়াইয়ের পর ১৯৬২ সালে স্বাধীন হয় আলজেরিয়া। স্বাধীনতার পর সামরিক বাহিনী দেশের রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তার কড়া সমালোচনা করেন আইত-আহমেদ। পরে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে তিনি ১৯৬৩ সালে সোশ্যালিস্ট ফোর্সেস ফ্রন্ট (এসএফএফ) গঠন করেন।
এরপর গ্রেপ্তার-কারাবরণসহ নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হন তিনি। ১৯৬৬ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। এরপর ১৯৮৮ সালে দেশে ফিরলেও ১৯৯২ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বৌদিয়াফ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর আবার সুইজারল্যান্ডে চলে যান। এরপর মাঝেমধ্যে আলজেরিয়ায় এলেও আর স্থায়ীভাবে থাকেননি তিনি। যে নয়জনকে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে, তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে আইত-আহমেদ মারা গেলেন। আলজেরীয় সরকার তাঁকে স্বাধীনতার অন্য নায়কদের পাশে দাফন করতে চেয়েছিল। তবে পরিবার তাতে আপত্তি জানায়। এরপর রাজধানী থেকে ১১০ কিলোমিটার পূর্বে নিজ গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এ সময় জনতা ‘আলজেরিয়া মুক্ত ও গণতান্ত্রিক’ বলে স্লোগান দেয়। এটি আইত-আহমেদের গড়া দল এসএফএফ-এর স্লোগান। দলটি এখনো বিরোধী দল হিসেবে আলজেরিয়ায় সক্রিয় রয়েছে।

ট্রাম্পের ৯ বিতর্কিত মন্তব্য

ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প (৬৯)। ছয় মাস আগেও জনমত জরিপে ছিলেন পেছনের সারিতে। সেই তিনিই এখন মনোনয়ন দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রাম্প। তার মধ্যে নির্বাচিত নয়টি:
১. মেক্সিকো যখন লোকজন পাঠায়, তখন তারা তাদের ভালো লোকগুলো পাঠায় না।...তারা মাদকসামগ্রী নিয়ে আসছে। তারা অপরাধ নিয়ে আসছে। তারা ধর্ষক। এর বাইরে গুটি কয়েক ভালো লোক আসছে বলে আমি মনে করি। ১৬ জুন, প্রচারণা শুরুর সময়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বেড়া নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে
২. তিনি একজন যুদ্ধবীর নন।...তিনি ধরা পড়েছিলেন বলে যুদ্ধবীর বনে গেলেন। যাঁরা ধরা পড়েন না, আমি কেবল তাঁদেরই পছন্দ করি। ১৮ জুলাই, আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ফ্যামিলি লিডারশিপ সামিটে, প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন সম্পর্কে
৩. আপনারা দেখতে পারেন, তাঁর চোখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে। তাঁর সবখান দিয়েই রক্ত বেরিয়ে আসছে। ৭ আগস্ট, রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রথম বিতর্কে, নারী মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজিন কেলির উদ্দেশে
৪. দেখামাত্রই আমাকে আক্রমণ করা তাঁদের পক্ষে খুবই কঠিন। কারণ আমি খুবই সুদর্শন। ৭ আগস্ট, মেজিন কেলির বিষয়ে নিজের নারীবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে সমালোচনাকারীদের ব্যাপারে
৫. সেই মুখের দিকে তাকাও! একে কি কেউ ভোট দেবেন? এই মুখটাকে আমাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেউ ভাবতে পারেন? ৯ সেপ্টেম্বর, রোলিং স্টোন সাময়িকীতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লি ফায়োরিনার চেহারার প্রতি উপহাস করে
৬. এই দৌড়ে বড় ধরনের ধস নামবে, টেলিভিশনের রেটিংয়ের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধরনের ধস নামবে।...টেলিভিশনে এটা একটা বিষাদে পরিণত হবে। ৫ অক্টোবর, তিনি মনোনয়ন দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালে টেলিভিশনগুলোর জনপ্রিয়তাও কমে যাবে মন্তব্য করে
৭. আরে, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধসে পড়ার দৃশ্য আমি দেখেছি। তখন আমি জার্সি সিটি ও নিউজার্সির দৃশ্যও দেখেছি। ভবনটা ধসে পড়ার সময় ওই শহরগুলোর হাজার হাজার লোক আনন্দে মেতে ছিল। ২২ নভেম্বর, মুসলিমপ্রধান শহর দুটির বাসিন্দারা ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা উদ্যাপন করেছিল, এমন বিরূপ মন্তব্য করে
৮. ডোনাল্ড জুনিয়র ট্রাম্প আহ্বান জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দাও ৭ ডিসেম্বর, ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নাদিনোতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে
৯. (ভ্লাদিমির পুতিন) একজন শক্ত নেতা।... তিনি আমাদের প্রেসিডেন্টকে দিয়ে মাংসের কিমা বানাচ্ছেন। ২০ ডিসেম্বর, ট্রাম্প একজন ‘উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান ব্যক্তি’—পুতিনের এমন প্রশংসার জবাবে