Friday, February 11, 2011

এই মার্চে একজন একাত্তরের যাত্রীর প্রত্যাশা by আবদুল মান্নান

গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী একটি দেশে যে দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়, সে দলই সরকার গঠন করে। এর ব্যত্যয় হলে সংঘাত অনিবার্য, ঠিক যেমনটি হয়েছিল একাত্তরের অখণ্ড পাকিস্তানে। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ৩১৩টি (মহিলা আসনসহ) আসনের মধ্যে এককভাবে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়। সুতরাং পাকিস্তানের পরবর্তী সরকার বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠন করা হবে, সেটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বিরোধী দলের আসনে বসতে অস্বীকার করলে পুরো পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অবশ্য ভুট্টো যে একক ক্ষমতাবলে সেই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন তা নয়, তাঁর পেছনে মদদ জুগিয়েছিলেন জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। তাদের কাছে এটি একটি অচিন্তনীয় বিষয় ছিল, বাঙালিরা ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে শাসন করবে, তা-ও আবার আওয়ামী লীগ প্রণীত ছয় দফার ভিত্তিতে রচিত একটি সংবিধানের আওতায়। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারই রচিত হয়েছিল বাঙালির মুক্তিসনদ ছয় দফার ভিত্তিতে। ছয় দফার অন্যতম দফা ছিল, পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। এতে কেন্দ্রে পাঞ্জাব প্রদেশের আধিপত্য বেশ বড় আকারে খর্ব হতো। ভুট্টো নিজে যদিও সিন্ধি ছিলেন, তথাপি তিনি সব সময় পাঞ্জাবি সামরিক-বেসামরিক আমলাদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন। কারণ তারা জানত, ভুট্টো নিজ প্রদেশ সিন্ধুর চেয়ে পাঞ্জাবের স্বার্থকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। শুরু থেকেই ভুট্টো ছয় দফাভিত্তিক পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের বিরোধিতা করে আসছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা নিয়ে তাঁর অবস্থানে অনড় থাকলেও তিনি বারবার বলে আসছিলেন, জাতীয় পরিষদে এসে কেউ যদি ন্যায্য কথা বলেন, তিনি যদি একজনও হন, তাহলেও তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু ভুট্টো তো ঘোষণাই দিয়েছেন, তিনি বিরোধী দলে বসবেন না। এর সহজ অর্থ দাঁড়াল, ইচ্ছা করেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক অক্ষশক্তির সহায়তায় পাকিস্তানের কফিনে একটির পর একটি পেরেক ঠুকছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেওয়া অথবা শপথ গ্রহণের পূর্বক্ষণে পুরোনো মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয় অথবা আপনাআপনি তা ভেঙে যায়। কিন্তু এক দুরভিসন্ধিমূলক সিদ্ধান্ত মাথায় রেখে ২২ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে প্রাদেশিক গভর্নর ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। বৈঠক শেষে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে ইয়াহিয়া খান তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করে দেন। পরে জানা যায়, এই কাজটি তিনি করেছিলেন পিপলস পার্টির পরামর্শে। এর অর্থ দাঁড়াল, যদিও আওয়ামী লীগ হচ্ছে পাকিস্তানের নবনির্বাচিত গণপরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, কিন্তু শুরু থেকেই ইয়াহিয়া খান গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছিলেন সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের নেতা ভুট্টো ও তাঁর দলের পরামর্শে। এটি ছিল এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। তার পরও বঙ্গবন্ধু আশা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তি, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশার বিজয় হবে। কিন্তু সব প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দিলেন ইয়াহিয়া খান, যখন ১ মার্চ দুপুরে এক বেতার ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় নতুন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে মুলতবি ঘোষণা করেন। এই অপকর্মটিও করা হয়েছিল ভুট্টোর জেদের কারণে। তিনি শুরু থেকেই বলে আসছিলেন, তিনি বিরোধী দলে বসবেন না এবং সংবিধান বিষয়ে মৌলিক বিষয়গুলো (ছয় দফাকেন্দ্রিক) সংসদের বাইরেই নিষ্পত্তি হতে হবে। তিনি এও হুমকি দিয়েছিলেন, ৩ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কেউ অংশ নিতে ঢাকায় গেলে তাঁদের পা ভেঙে দেওয়া হবে। আবারও ইয়াহিয়া খান জাতীয় পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিলেন ভুট্টোর স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল চরম আত্মঘাতী এবং অখণ্ড পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক।
মজার বিষয় হচ্ছে, ভুট্টো, ইয়াহিয়া খান এবং পাঞ্জাবি সামরিক-বেসামরিক আমলারা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছয় দফাভিত্তিক পাকিস্তানের নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগকে পাকিস্তানের অন্য রাজনীতিবিদেরা স্বাগত জানান, এমনকি পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন ২৮ ফেব্রুয়ারি এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এই মত প্রকাশ করা হয়, যেহেতু পাকিস্তানের উভয় অংশের মধ্যে এক হাজার ২০০ মাইলের একটি বিশাল দূরত্ব আছে এবং যেহেতু দেশটি মোট জনসংখ্যার ৫৪ ভাগ মানুষ তার পূর্ব অংশে বাস করে, সেহেতু ছয় দফাভিত্তিক একটি সংবিধান পাকিস্তানের জন্য কল্যাণকর হবে। প্রতিবেদনটি শেষ হয়েছে এই মন্তব্য দিয়ে, ‘The position, therefore, that emerges is that Bangla Desh, which was in the vanguard of the Pakistan movement, has given its verdict that Pakistan should exist as a federation based on the Six-point programme.’ কিন্তু এসব হচ্ছে যুক্তির কথা, আর ষড়যন্ত্রই যাঁদের রাজনীতির পুঁজি, তাঁরা যুক্তি শুনবেন কেন?
১ মার্চ যখন বেতারের মাধ্যমে ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চে অনুষ্ঠেয় গণপরিষদের সভা স্থগিত করেন, ঠিক একই সময় সমগ্র পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থারও তিনি পুনর্বিন্যাস করেন। তিনি নিজের একান্ত আস্থাভাজন সামরিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর ও সামরিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। আসলে ইয়াহিয়া খান এসবের আড়ালে বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ইয়াহিয়া-ভুট্টো গংয়ের ধারণা ছিল, একবার বাঙালির সঙ্গে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলতে পারলে তারা চিরদিনের জন্য শায়েস্তা হয়ে যাবে, আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এটি ছিল ইয়াহিয়া খানের একটি গুরুতর ঐতিহাসিক ভুল।
২ মার্চ থেকে শুরু হলো বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন। তিনি ঘোষণা করলেন, ২ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত হরতাল পালন করা হবে এবং ৭ মার্চ রমনা রেসকোর্স ময়দানে তিনি এক জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যা হয়েছে, তা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা, যিনি সরকারের কেউ নন, ৩১৩ জন গণপরিষদ সদস্যের মধ্যে একজন; তাঁর হুকুম আর নির্দেশে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চলছে। তিনি বলছেন, ব্যাংক খুলবে, তো ব্যাংক খুলছে। তিনি বলছেন, রাস্তায় গাড়ি চলবে, তো রাস্তায় গাড়ি চলছে। তিনি বলছেন, আদালত বসবে, তো আদালত বসছে। এককথায় তাঁর নির্দেশেই পূর্ববঙ্গে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রশাসন শুধু সেনানিবাসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সাতই মার্চ। লাখ লাখ মানুষের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সাতই মার্চের ঘোষণা ছিল বাংলা আর বাঙালির ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট। আজকের প্রজন্মকে এটি বোঝানো সত্যিই কঠিন, সাতই মার্চ-পরবর্তী সময়টা কেমন ছিল। বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর মতো এমন দূরদর্শী নেতার আবির্ভাব সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল। ইংরেজিতে যাকে বলে, he was larger than a life size leader। তিনি অনেকটা দিব্যদৃষ্টি দিয়ে ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, আগামী দিনগুলোতে এ দেশে কী ঘটতে যাচ্ছে। সম্ভবত সে কারণেই তাঁর সাতই মার্চের ভাষণটিও ছিল অনেকটা দিকনির্দেশনামূলক। তিনি ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যখন চূড়ান্ত লড়াই শুরু হবে, তখন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সামনে তাঁর বিষয়ে দুটি পথ খোলা থাকবে। প্রথমটি হচ্ছে, তাঁকে হত্যা করা আর দ্বিতীয়টি তাঁকে গ্রেপ্তার করা। তারা ধারণা করেছিল, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বাংলার জনগণ তাদের স্বাধিকার আন্দোলন বেশি দূর নিয়ে যেতে পারবে না। আবারও একটি মারাত্মক ভুল; কারণ তত দিনে মনে হচ্ছিল, বাংলার প্রত্যেকটি মানুষই যেন একেকজন শেখ মুজিব। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা গ্রেপ্তার করেছিল ঠিকই, কিন্তু লাখো-কোটি বাঙালির হূদয় থেকে তাঁকে তারা ছিনিয়ে নিতে পারেনি। তাঁর সাতই মার্চের ভাষণ, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বীরত্বগাথা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, তাঁর সম্মোহনী শক্তি—সবকিছু মিলিয়ে প্রত্যেক বাঙালিকে নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
পৃথিবীর অনেক দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো দেশের মানুষ এত কম সময়ে নিজের দেশকে স্বাধীন করার জন্য এত রক্ত দিয়েছে, এর দ্বিতীয় কোনো নজির নেই। আমরা যাঁরা একাত্তরের যাত্রী, তাঁদের মনে এই প্রশ্নটা জাগা স্বাভাবিক যে দেশটির জন্মের পেছনে এত মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করল, সে দেশটি কি তার চলার পথ ঠিক রাখতে পেরেছে? এককথায় এর উত্তর হচ্ছে—না, পারেনি। এই না পারার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে যাঁদের অবদান ছিল বা যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশটি খুব বেশি দিন তাঁদের হাতে থাকেনি। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর খুব দ্রুততম সময়ে দেশটি বেহাত হয়ে গিয়েছিল। চলে গিয়েছিল এমন সব মানুষের হাতে, যারা শুরু থেকেই একটি স্বাধীন বাংলাদেশের ধারণাই শুধু অবিশ্বাস করেনি, বরং সে দেশটির যাতে জন্মই না হয়, এর জন্য পাকিস্তানের হয়ে লড়াই করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে শুধু বর্তমান প্রজন্মই উত্তরণ ঘটাতে পারে, যাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একাত্তরের যাত্রীরা তাঁদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছিলেন।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা।

গল্প- স্বপ্নের মধ্যে কারাগারে by মারিও বেনেদেত্তি

লাতিন আমেরিকার খ্যাতনামা লেখক মারিও বেনেদেত্তির জন্ম ১৯২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উরুগুয়েতে। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার, সমালোচক, সাংবাদিক, নাট্যকার, গীতিকার ও চলচ্চিত্রের কাহিনিকার ছিলেন। ৯০টিরও বেশি গ্রন্থের প্রণেতা বেনেদেত্তির লেখা ৬০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৭ মে তিনি মন্টেভিডিওতে মারা যান। কয়েদিটি স্বপ্নে দেখল সে কারাগারে আছে। স্বভাবতই স্বপ্নের নানা পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাপার আর রকম-সকম থাকে।

গল্পিতিহাস- কাঁথা সিলাই হইসে, নিশ্চিন্ত by রণেশ দাশগুপ্ত

’৪৮ সালের প্রথম ভাষা আন্দোলনের পরে তখনকার মুক্তিসংগ্রামী রাজনৈতিক কর্মীদের যে ধরপাকড় শুরু হয়, তার ধারাটা ’৭১ পর্যন্ত প্রায় একই রকম ছিল। একবার ঢোকালে আর বের করার নাম নেই। দরকার হয়েছে বড় বড় ঠেলার। তবে জেলের দরজা খুলেছে। যেমন ’৫২র ২১ ফেব্রুয়ারির ঠেলা, ’৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়ের ঠেলা, ’৬২ সালের এনডিএফের ঠেলা,

শওকত আলীর সাক্ষাৎকারঃ ‘এখন প্রাধান্য পাচ্ছে রম্যলেখা’

পনার জন্ম তো ওপার বাংলার দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। শৈশবের কথা কিছু বলুন। দেশভাগের আগে যে অখণ্ড দিনাজপুর ছিল, তারই একটা থানা শহর রায়গঞ্জ। সেখানেই আমার জন্ম। পূর্ববঙ্গে চলে আসার পেছনে কিছু কারণ ছিল। আমাদের জমি যারা আবাদ করত, তারা ঠিকঠাক ফসল দিত না। আমার দাদা ছিলেন জোতদার। তাঁকে অনেকে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। বাবা ছিলেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। তিনি মুসলিম লীগবিরোধী ছিলেন।

অকথিত যোদ্ধা by কাজল রশীদ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ নারী(প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীর বিবরণ)\ সংকলন-সম্পাদনা: সুকুমার বিশ্বাস\মূল্য: ৩০০ টাকা (প্রতিখন্ড) \ মার্চ ২০০৭\ প্রচ্ছদ: সমর মজুমদার\ ২৫৬ পৃষ্ঠা ১. মেঘনা গুহঠাকুরতা তখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা ও মাকে ঘিরে সুখী একটা পরিবার। একাত্তরের মার্চের কালো রাত তাঁদের জীবনটাকে উল্টে-পাল্টে দিল।

জাহাজডুবিতে চার রুশ নাবিকের মৃত্যু

দক্ষিণ কোরিয়ায় কম্বোডিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে রাশিয়ার চার নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড এ কথা জানিয়েছে।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উলসান বন্দরের প্রায় ১৬ মাইল দূরে রাশিয়ার ১২ নাবিকসহ আলেকজান্দ্রা নামের জাহাজটি ডুবে যায়। তিনি বলেন, ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বড় কোনো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষেই আলেকজান্দ্রা ডুবে গেছে।
মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার টহল নৌযানগুলোর নাবিকেরা রুশ একজন নাবিককে একটি লাইফ বোট থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাঁরা চারটি লাশ শনাক্ত করেছেন। বাকি সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টার ও সাতটি নৌযান পাঠানোর কথা তিনি জানিয়েছেন।

ইন্দিরা গান্ধীর রান্না করতেন প্রতিভা পাতিল

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রান্নাবান্না ও থালাবাসন ধোয়ার কারণেই প্রতিভা পাতিল প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজস্থানের পঞ্চায়েত রাজ ও ওয়াক্ফবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আমিন খান। তিনি বলেছেন, ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হওয়ার পর তাঁর রান্নাবান্না ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিল।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের পালি জেলা কমিটির এক বৈঠকে আমিন খান এসব কথা বলেন। জেলার মনপুরা-ভাখারি গ্রামে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আমিন খান বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে সেবাযত্নের বিনিময়ে প্রতিভা পাতিল কিছুই চাননি। তবে প্রতিভা পাতিলকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে সোনিয়া গান্ধী এর প্রতিদান দিলেন।
আমিন খানের এই বক্তব্যে চটেছে বিজেপি। দলটির রাজ্য সভাপতি অরুণ চতুর্বেদি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে অবমাননা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উচিত মন্ত্রীকে ছাঁটাই করা।’
তবে নিজের বক্তব্যে অটল রয়েছেন আমিন খান। তিনি গতকাল বুধবার টাইমস অব ইন্ডয়াকে বলেছেন, ‘আমি কাউকে হেয় করতে চাইনি। দলের কর্মীদের নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে উৎসাহ দিতেই ঘটনাটি উল্লেখ করেছি।’

তাঁর ও বুশের মেয়েদের হত্যায় পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন সাদ্দাম

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দুই মেয়ে ও সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের দুই মেয়েকে হত্যার জন্য ছয় কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। গতকাল বুধবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসির ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন রামসফেল্ড। চার বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এটাই ছিল রামসফেল্ডের সরাসরি সম্প্রচার করা প্রথম টিভি সাক্ষাৎকার।
রামসফেল্ডের সাক্ষাৎকারটি ছিল তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই নোন অ্যান্ড আননোন-এর প্রচারের অংশ। বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। রামসফেল্ড বলেন, ২০০৩ সালে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক এক বৈঠকে সাদ্দামের ষড়যন্ত্রের কথা তাঁরা জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ ছিল। কিন্তু আমার পরিবারের জন্য সেই সুযোগ ছিল না। এ জন্য বৈঠকের ওই মুহূর্তটি আমার জন্য ছিল বিব্রতকর।’
দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা রামসফেল্ড আরও বলেন, বুশ তাঁকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলেন। কারণ মার্কিন সেনারা সাদ্দামের ছেলে উদয় ও কুশে এবং নাতি মুস্তফাকে হত্যা করেছিল।

বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র লুট

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে গতকাল বুধবার বনেধর প্রথম দিনে বিভিন্ন স্থানে সরকারি যানবাহন ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া যান চলাচল বন্ধ থাকায় দার্জিলিংয়ের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে দুই কর্মী নিহত হওয়ার পর জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ্ ডাকা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয় ৩০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল কালিম্পংয়ের বিভাগীয় বন দপ্তর অফিসসহ জলঢাকা বন দপ্তরের রেস্ট হাউস, ডুয়ার্সের চাপড়ামারির বন বাংলো, কালিম্পংয়ের মহকুমা শাসকের বাংলো, দার্জিলিংয়ের গোর্খা পার্বত্য পরিষদের পর্যটন দপ্তর জ্বালিয়ে দেন মোর্চার সমর্থকেরা। এ ছাড়া সিংলা, লেবং, সিংমারি ও পেদংয়ের পুলিশ ফাঁড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সিংলা পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগের সময় একটি রাইফেল ও ৩০টি গুলি লুট করেন মোর্চার সমর্থকেরা।
গতকাল সকালে ডুয়ার্সের সিবচুতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জনমুক্তি মোর্চার মহিলা সংগঠনের ডাকে প্রায় ৫০০ নারী কর্মী সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মোর্চার দুই কর্মী নিহত হন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোর্চার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা যানবাহনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন।

ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী ভেনেজুয়েলার কারাগারে

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত একটি প্রতিবেদনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক এল আইসামি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আইসামি উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে কারাবন্দীর সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৫২০ জন। তবে তিনি কারাগারগুলোতে বন্দী ধারণক্ষমতার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাননি।
তবে বেসরকারি পর্যবেক্ষক গ্রুপ ভেনেজুয়েলান ভায়োলেন্স অবজারভেটরি (ওভিপি) জানায়, দেশটির কারাগারগুলোতে বন্দী ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার।
বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা আলফ্রেডো ওসোরিও জানান, কারাবন্দীদের ৯০ শতাংশই দণ্ডাদেশের অপেক্ষায় আছেন। তিনি কারাব্যবস্থা সংস্কারের জোরালো দাবি জানান।

বিনায়কের মুক্তির দাবি ৪০ নোবেলজয়ীর

ভারতের মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসক বিনায়ক সেনের (৬১) মুক্তি দাবি করেছেন ১২টি দেশের ৪০ জন নোবেল পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি। মাওবাদী বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করার দায়ে গত ডিসেম্বরে বিনায়ক সেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের একটি আদালত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানবাধিকারকর্মী ও চিকিৎসক বিনায়ক সেনকে অন্যায়ভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা বিস্মিত ও হতাশ।’ বিবৃতিতে বিনায়ক সেনকে ‘ব্যতিক্রমী সাহসী এক মানুষ ও নিঃস্বার্থ সহকর্মী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিনায়ক ভারতের অসহায় লোকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করেছেন।
বিনায়কের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেওয়া ওই ৪০ জনের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ভেঙ্কটরমন রামকৃষ্ণানও রয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ৪০ জনের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে আছেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী ৯৪ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কোয়িস জ্যাকব। ১৯৬৫ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। আরও আছেন জোসেফ মারে ও স্যামুয়েল ব্লুমবার্গের মতো নোবেল বিজয়ীরা।
এই বিবৃতি বিনায়ক সেন ডট নেট ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। বিনায়কের সমর্থকেরা ওয়েবসাইটটি চালু করেছে।
প্রসঙ্গত, সরকারের বিরুদ্ধে মাওবাদীদের সংঘবদ্ধ করতে ছত্তিশগড় রাজ্যে শহরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করছেন—এই অভিযোগে বিনায়ক সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসেম্বরে বিনায়কসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আন্তসীমান্ত আলোচনা পণ্ড

উত্তেজনা প্রশমনে দুই কোরিয়ার মধ্যকার সামরিক আলোচনা ভেস্তে গেছে। গতকাল বুধবার কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা থেকে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিরা বেরিয়ে যাওয়ায় আলোচনা পণ্ড হয়ে যায়। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হলো। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। গত নভেম্বরে দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলা বিনিময়ের ঘটনার পর এটাই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তসীমান্ত আলোচনা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আলোচনা শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদল আলোচনার টেবিল ছেড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যায়। এমনকি ফের কবে আলোচনায় বসা যেতে পারে, সে বিষয়টি নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি, প্রাথমিক আলোচনা ভেস্তে গেছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঠিক কী কারণে আলোচনা ভেস্তে গেছে, সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শীর্ষ পর্যায়ের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় এ আলোচনা ভেস্তে গেছে।
স্থানীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া গত বছর সিউলের বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। ওই দুটি হামলায় ৫০ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক মারা যায়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া এ ব্যাপারে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়েও আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে উত্তর কোরিয়ার গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় চারজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক নিহত হয়। এ ছাড়া মার্চে দক্ষিণ কোরীয় যুদ্ধজাহাজে উত্তর কোরিয়া টর্পেডো হামলা চালায়। এতে মারা যায় ৪৬ জন। তবে পিয়ংইয়ং টর্পেডো নিক্ষেপের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে কর্মকর্তা পর্যায়ের এ আলোচনা শুরু হয়। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও পরবর্তী শীর্ষ পর্যায়ের আলোচ্যসূচি ও দিনক্ষণ নির্ধারণই ছিল এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল দিনের শুরুতে বলেছিল, উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন মানবিক বিষয় নিয়ে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে তারা নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কোরীয় যুদ্ধের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর পুনর্মিলন, যৌথ পর্যটন বাণিজ্য ও শিল্প প্রকল্প।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় বলেছে, তবে এখন আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও এসব বিষয় নিয়ে আর আলোচনা হবে না।
সিউল বলেছে, ২০১০ সালের ওই দুটি হামলার ঘটনায় উত্তর কোরিয়া দুঃখ প্রকাশ করলে এবং এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দিলেই দুই কোরিয়ার মধ্যে ফের সুসম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে। তবে পিয়ংইয়ং বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হতে হবে।

আজ নয়াদিল্লিতে আলোচনায় বসছেন উলফার নেতারা

উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)’র সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার আজ বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসছে। নয়াদিল্লিতে এই আলোচনা শুরু হবে। উলফা এই আলোচনাকে ‘শর্তহীন শান্তি আলোচনা’ বলে অভিহিত করেছে।
আসামের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি আশা করছে, আলোচনার মধ্য দিয়ে তাদের তিন দশকের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
গত ১৮ জানুয়ারি উলফার কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেনারেল কাউন্সিলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উলফার নেতাদের সঙ্গে আজকের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই, আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পি সি হালদার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করবেন। আগামী মে মাসে আসাম বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে এটাই হবে দুই পক্ষের মধ্যে একমাত্র আনুষ্ঠানিক বৈঠক। পরবর্তী বৈঠকের আগে দুই পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকবে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, উলফার নেতাদের দাবি ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০০৯ সালের শেষদিকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চিত্রবন হাজারিকা, পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদক শশধর চৌধুরী, সামরিক শাখার উপপ্রধান রাজু বড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা সবাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বিশ্বকাপ ভাগ্যের বদল চান স্ট্রাউস

ক্রিকেটের জনক তারা, এক দিনের ক্রিকেটেরও আবাহন তাদের হাত ধরে। কিন্তু বিশ্বকাপ মানে যে এক দিনের ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, সেখানে বরাবরই ব্যর্থ, দুর্ভাগা। তিনবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা হাতে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড।
গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে অবশ্য ইংল্যান্ড প্রমাণ করেছে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাদের সামর্থ্য। টেস্টের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর অস্ট্রেলিয়ায় এসে অ্যাশেজ জয় এবারের বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের আশার পালে দিয়েছিল হাওয়া। বিশ্বকাপ-দুর্ভাগ্য ঘোচানোর স্বপ্নও দেখা শুরু করেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ পরাজয় সেই স্বপ্নের সামনে এঁকে দিয়েছে প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
তবে অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস এতে বিচলিত নন, তাঁর আশা বিশ্বকাপ-ভাগ্যের এবার বদলাবে। নতুন ভাগ্য গড়ে দেবেন মূলত তাঁর বোলাররাই। গত মঙ্গলবার সাড়ে তিন মাস লম্বা অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে জানিয়েছেন, তাঁর দলের প্রথম সারির বোলারদের পাওয়া গেলে যেকোনো দলকেই হারিয়ে দেওয়া সম্ভব। জেমস অ্যান্ডারসন, গ্রায়েম সোয়ান, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড ও আজমল শেহজাদকে নিয়ে সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপ স্কোয়াড। বিকল্প হিসেবে আছেন ক্রিস ট্রেমলেটও। এঁরা সবাই আংশিক অথবা পুরো ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারেননি। কিন্তু স্ট্রাউসের প্রত্যাশা, এরা সবাই বিশ্বকাপে খেলবেন এবং জ্বলে উঠবেন আপন মহিমায়। ‘গত ১২ অথবা ১৮ মাসে এই বোলিং আক্রমণই ছিল আমাদের অনেক ওয়ানডে জয়ের মূল ভিত্তি’—দেশে ফিরেই বলেছেন স্ট্রাউস। ২২ ফেব্রুয়ারি নাগপুরে হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন। ‘বি’ গ্রুপে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ অন্য দলগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। আগামী শনিবারই বাংলাদেশে উড়ে আসছে ইংল্যান্ড। শিরোপা-যুদ্ধে নামার আগে বাংলাদেশে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্ট্রাউসের দল।

এবারও ইডেনকে ‘না’ আইসিসির

প্রস্তাবটা নাকচ করে দিল আইসিসি। ফলে ইডেন গার্ডেনে ভারতের কোনো ম্যাচ দেখার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না কলকাতাবাসীর। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভারতের একটি ম্যাচ ইডেনে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল সিএবি।
নির্ধারিত সময়ে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় ২৭ মার্চের ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুতে। এই স্টেডিয়ামে ভারতের কোনো ম্যাচ না থাকায় হতাশ কলকাতার মানুষ। হতাশা দূর করতে ৬ মার্চ নির্ধারিত বেঙ্গালুরুর ভারত-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি সরিয়ে ইডেনে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল সিএবি। কিন্তু সাড়া মেলেনি সে প্রস্তাবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত বলেছেন, ‘স্থানান্তর করতে হলে সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন করতে হবে, যা এই স্বল্প সময়ে করা অসম্ভব।’

পাওয়ার প্লের কুশীলব

যখন ব্যাটিং করেন, রানরেট বাড়ানোর তাড়া থাকে তাঁর ওপর। তাই মাহমুদউল্লাহকে বারবার উত্তর দিতে হলো একটা প্রশ্নের, ‘পাওয়ার প্লে নিয়ে কী ভাবছেন?’ ব্যাটিং পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর চালেঞ্জটা যে বেশির ভাগ সময় তাঁকেই নিতে হয়।
‘পাওয়ার প্লে নিয়ে অনুশীলন করছি। দেখা যাক কী হয়’—এক টেবিলে সংক্ষিপ্ত এই উত্তর দিলেন মাহমুদউল্লাহ। আরেক টেবিলে আরেকটু বিস্তারিত, ‘গত কয়েকটা সিরিজে আমাদের টপ-অর্ডার ভালো করেছে। আমি যেহেতু ৭ নম্বরে ব্যাট করি, তাই হয়তো শেষ ১০-১২ ওভার পাব। প্র্যাকটিসে নিজেকে ওভাবেই তৈরি করছি।’
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে যেন মানিকজোড় বানিয়ে দিয়েছে মাহমুদউল্লাহ ও নাঈম ইসলামকে। বেশির ভাগ সময় যে তাঁদের একজন, কখনো বা দুজনই এ সময়ে উইকেটে থাকেন। নাঈম সম্পর্কেও তাই বলতে হলো মাহমুদউল্লাহকে। তিনি প্রশংসায় ভেজালেন সতীর্থকে, ‘আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। আমার সঙ্গে ওর পার্টনারশিপটা তাই ভালো হয়।’
শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও দুজনের প্রায় একই ভূমিকা। সেটি কী, মাহমুদউল্লাহ তা ভালোই জানেন, ‘নাঈম আর আমাকে হয়তো শর্ট স্পেল করতে হতে পারে। রানটা চেক দেওয়াই লক্ষ্য।’ তাহলে কি আপনারা ধরে নিয়েছেন, ১০ ওভার বোলিং করবেন না? ‘না, না, আমি ১০ ওভার বল করতে
প্রস্তুত করেছি নিজেকে। এটা নির্ভর করবে দলের প্রয়োজনের ওপর’—বললেন মাহমুদউল্লাহ।
‘কোচ তো আপনাকে জেনুইন বোলার হিসেবে ভাবছেন’—মনে করিয়ে দিলে নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবেই তুলে ধরলেন, ‘আমার মনে হয়, ব্যাটিংটাই আমার শক্তিশালী দিক। আমি নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডারই ভাবি। মাঝে কিছুদিন খারাপ সময় গেলেও এখন ছন্দে আছি। এটা কাজে লাগিয়ে দলের যখন যা প্রয়োজন, সেটাই ভালোভাবে করতে হবে আমাকে।’
মাহমুদউল্লাহর চোখেমুখে খেলা করে যায় আত্মবিশ্বাসের ছায়া। ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছাড়িয়ে বলতে হয় দলের লক্ষ্য নিয়েও, ‘জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে দারুণ হবে। এটা দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ উঠে আসে মাশরাফির না থাকার বিষয়টাও, ‘মাশরাফি ভাইকে মিস করব। তিনি শুধু আমাদের নন, বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। আশা করি, মাশরাফি ভাইয়ের অভাব পুষিয়ে দেবে নাজমুল, রুবেল, শফিউলরা।’

এবার ব্যাটেও কিছু

আবদুর রাজ্জাকের আর তর সইছে না। চারদিকে বিশ্বকাপময় পরিবেশ দেখে তিনি এতটাই রোমাঞ্চিত যে, কথাটা বলেও ফেললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি যতটুকু হয়েছে যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই। এখন শুধু ম্যাচের অপেক্ষা।’
প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রামে গিয়ে বাংলাদেশ দল কাল রাতেই হোটেলে উঠেছে। রাজ্জাকের তাই মনে হচ্ছে, ‘মূল রোমাঞ্চের সময়টা শুরু হয়ে গেছে। অফিশিয়াল ট্যুর তো আজ থেকেই শুরু হয়ে গেল! দলের আত্মবিশ্বাস খুবই ভালো, অনুশীলন ভালো চলছে। কোনো ইনজুরিও নেই। আমাদের বোঝাপড়াও অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ভালো।’ বাকিটা রাজ্জাক বলেননি, তবে বোঝা গেল, বিশ্বকাপে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
প্রস্তুত রাজ্জাকও। শুধু বোলিংয়েরই প্রস্তুতি নয়, ‘ব্যাটিং নিয়ে অনেক বেশি কাজ করছি এবার। আশা করি, বিশ্বকাপ থেকেই ভালো ব্যাটিং শুরু করতে পারব।’ স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বটা রাজ্জাকের ওপরই থাকবে। তার ওপর সাকিব গত কিছুদিন খুব ভালো বোলিং করছেন না। রাজ্জাক অবশ্য নিশ্চিত বিশ্বকাপই ফিরিয়ে দেবে বোলার সাকিবকে, ‘একটি-দুটি সিরিজে একটু খারাপ হতেই পারে।’ স্পিনারদের ভালো করার একটা পূর্বশর্ত অবশ্য দিয়ে রাখলেন, ‘উইকেট বেশি শক্ত হলে স্পিনারদের জন্য কঠিন হয়। তবে বেশি শক্ত হলে অবশ্য অনেক সময় ফেটে-টেটে যায়। এমন হলে টার্ন পাওয়া যাবে।’
প্রিয় বন্ধু মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্য হাহাকার আছে রাজ্জাকের মনে। তবে দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তো আর শুধু বন্ধুবাৎসল্য দেখালেই চলে না, কিছু দায়িত্বও আছে। ‘মাশরাফি সুস্থ থাকলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হতো। আমরা তার জন্য দোয়া করব, আশা করব ও যেন খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পারে।্রতবে আমাদের এখন যা আছে তা নিয়েই সামনে এগোতে হবে। যারা আছে তাদেরও খারাপ বলব না। ওরাও কিন্তু অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলছে।’
পরিস্থিতি দাবি করলে স্পিন দিয়েও শুরু হতে পারে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। সে ক্ষেত্রে অধিনায়ক সাকিব হয়তো রাজ্জাকের হাতেই তুলে দেবেন নতুন বল। রাজ্জাক সেটির জন্য তো প্রস্তুতই, এর সুবিধাও দেখছেন একটা, ‘নতুন বলে ভালো বাউন্স পাওয়া যায়।’
বল নতুন হোক বা পুরোনো—রাজ্জাকের ঘূর্ণিজাদুর আশায় ঠিকই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

তবু আত্মবিশ্বাসী সাঙ্গাকারা

শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ভেন্যু তিনটি। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় এর দুটিতেই অনুশীলনের সুযোগ পায়নি কুমার সাঙ্গাকারার দল। স্বাগতিক হয়েও তাই নবনির্মিত পাল্লেকেলে ও হাম্বানটোটার মাঠ-উইকেট শ্রীলঙ্কানদের কাছে অজানা রহস্য। বিগত বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতিতেও তাই ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে অনুশীলনের এই ঘাটতি সত্ত্বেও অধিনায়ক সাঙ্গাকারা লক্ষ্যে অবিচল। দেশের মাটির বিশ্বকাপে নামবেন আশাবাদী হয়েই।
মাঠের যুদ্ধে শ্রীলঙ্কা প্রথম নামবে ২০ ফেব্রুয়ারি। হাম্বানটোটায় প্রতিপক্ষ কানাডা। তবে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে গতকাল থেকেই, অন্যতম স্বাগতিক হিসেবে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সাঙ্গাকারার বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। সংবাদ সম্মেলনেই সাঙ্গাকারা জানিয়ে দিয়েছেন দলের লক্ষ্যের কথা, দেশবাসীকে উপহার দিতে চান দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
১৯৯৬ সালে অর্জুনা রানাতুঙ্গার দলের বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পর ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সাঙ্গাকারার। ওই বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি তাই তাঁর কাছে আর দশজন সাধারণ শ্রীলঙ্কানের মতোই। শুধু সাঙ্গাকারাই নন, তাঁর ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলের ১৪ জনের কাছেই ওই বিশ্বকাপ জয়ের উপলব্ধি এমন সাধারণ। ওই বিশ্বকাপ জয়ের মাঠের সাক্ষী একমাত্র মুত্তিয়া মুরালিধরন।
গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপেও সনাৎ জয়াসুরিয়া, চামিন্ডা ভাসের মতো অভিজ্ঞরা ছিলেন। সময়ের স্রোতে এবার দলে তাঁদের ঠাঁই হয়নি। ১৫ সদস্যের দলের অনেকেই খেলতে নামছেন প্রথম বিশ্বকাপ। সাঙ্গাকারার কণ্ঠে জয়াসুরিয়া-ভাসদের জন্য একটা আফসোস ঝরেছে। তবে তরুণদের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা, ‘দীর্ঘদিনের কিংবদন্তিরা এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে নেই। দলের অধিকাংশই নবীন মুখ। আশা করছি, এই সময়ে এটাই আমাদের সাহায্য করবে।’
সাঙ্গাকারার তারুণ্যে আস্থাটা তৈরি করে দিয়েছে সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব বলে এই সিরিজে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দলের ১৫ সদস্যকেই মাঠে নামিয়েছেন। বিভিন্ন সমন্বয়ে দল গড়ে সফলও হয়েছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমরা চেষ্টা করেছি কয়েকটি কম্বিনেশনে খেলতে। দলের বোলিং আক্রমণের বড় অংশ বাইরে রেখেও আমরা জিততে সক্ষম হয়েছি। এই সিদ্ধান্তটা আমাদের আগেই নেওয়া ছিল। আপনি যখন ১৫ জন বাছাই করবেন, যেকোনো কম্বিনেশনেই সেই ১৫ জন আমাদের জয় এনে দিতে সক্ষম হবে।’
নতুন দুটি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে না পারায় উইকেট সম্পর্কে ধারণা হয়নি। তবে প্রস্তুতি যা নিয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট সাঙ্গাকারা। কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতেই তাঁর দল তৈরি বলে মনে করেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক।

এখনো তাঁদের অনুশোচনা নেই

হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন তাঁরা। তবুও বুক ফুলিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছিলেন পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার। কৃতকর্মের জন্য ছিটেফোঁটা অনুশোচনাও দেখা যায়নি তাঁদের মধ্যে। শাস্তিও পেয়েছেন, আর এই শাস্তির পেছনে অনুশোচনার অভাবও বিরাট ভূমিকা রেখেছে। গত শনিবার মাইকেল বেলফের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আইসিসি ট্রাইব্যুনাল সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরকে যথাক্রমে দশ, সাত ও পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে রায় দেয়। যেখানে বাটের পাঁচ বছর ও আসিফের দুই বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে তাঁরা অনুশোচনা প্রকাশ না করায় স্থগিত নিষেধাজ্ঞাও ভোগ করতে হতে পারে।
অন্যদিকে পিসিবির বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও মোহাম্মদ আমির আইসিসির দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা দলকে কোনো সহযোগিতা করতে রাজি হননি। পিসিবির কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেও সফল হননি আমিরকে বোঝাতে।
আমির রাজি হলে এটা তাঁর শাস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারত। পাঁচ বছর পর ক্রিকেটে ফিরতে হলে বাট ও আসিফকে কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। যার অন্যতম হচ্ছে তাঁদের ক্রিকেটে দুর্নীতির বিপদ নিয়ে ভাষণ দেওয়া এবং তাঁদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করা। কিন্তু অনুশোচনার কোনো লক্ষণই নেই এই দুজনের, যা তাঁদের ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনায় কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট-তারকা জাভেদ মিয়াঁদাদ এই তিন ক্রিকেটারকে সবকিছু খুলে বলতে অনুরোধ করেছেন। শুধু ওই তিনজনই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে মনে করেন পিসিবির মহাব্যবস্থাপক মিয়াঁদাদ, ‘তারাই যে শুধু মাজহার মজিদের সঙ্গে জড়িত, এটা হতে পারে না।’ তিনি ক্রিকেট দুর্নীতিতে জড়িত সবার নাম ফাঁস করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাটদের প্রতি।

আবারও রোনালদোকে হারালেন মেসি

স্প্যানিশ লিগে জোর লড়াই চলছে মেসি-রোনালদোর। ক্রমাগতই হাতবদল হচ্ছে সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষস্থানটা। কিন্তু মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন মেসিই। শেষ ‘এল ক্লাসিকো’তে রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলের লজ্জায় ডুবিয়েছিল মেসির বার্সেলোনা। এবার আরেকটি মুখোমুখি লড়াইয়েও জয় হলো মেসিরই। গোল করেও পর্তুগালকে জেতাতে পারলেন না রোনালদো। খেলা শেষের আগ মুহূর্তে মেসির গোলেই জয় ছিনিয়ে নিল আর্জেন্টিনা। গতকাল জেনেভাতে একটি প্রীতি ম্যাচে পর্তুগালকে বাতিস্তা-শিষ্যরা হারিয়েছে ২-১ গোলে।
এ সময়ের সেরা দুই ফুটবলারের এই দ্বৈরথ দেখতে জেনেভা স্টেডিয়ামে গতকাল হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল দর্শকেরা। আর এ দর্শকদের একেবারেই হতাশ করেননি মেসি-রোনালদো। টানটান উত্তেজনা তৈরি করেছেন গোটা খেলায়। ১৪ মিনিটের মাথায় স্বভাবসুলভ দ্রুতগতির এক দৌড় থেকে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে ফেলেন মেসি। পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রাউল মেরিলেসকে ফাঁকি দিয়ে বল বাড়ান ডি মারিয়ার দিকে। চমত্কার এই পাস থেকে গোল করতে একটুও ভুল করেননি ডি মারিয়া। তবে এ ব্যবধানটা খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ছয় মিনিট পরেই খেলায় সমতা ফেরান রোনালদো। ১-১-এ সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই পেয়েছিল বেশ কিছু গোলের সুযোগ। পর্তুগিজ স্ট্রাইকার আলমেইদা নষ্ট করেছেন মোক্ষম তিনটি গোলের সুযোগ। ৬০ মিনিটের মাথায় রোনালদো নিজেও পেয়ে যেতে পারতেন তাঁর দ্বিতীয় গোলটা। আচমকা পাল্টা আক্রমণে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল করার মতো জোরালো শট নিতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে কাঙ্ক্ষিত জয়টা এনে দেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানটা ব্যর্থ হলেও তারপর থেকে বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে অসাধারণ খেলেছেন মেসি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকেও আর্জেন্টিনা হারিয়েছিল তাঁর গোলেই। গতকালও দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ভালো খেলতে পারেন না— এ সমালোচনাটা আরও একটু ফিকে করে দিলেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।

সুযোগের অপেক্ষায়

মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেলে সাংবাদিকদের কিছু অবধারিত প্রশ্ন থাকবেই। আবার দলে জায়গা পাকা করতে পারবেন কি না, একাদশে থাকা না-থাকা নিয়ে তাঁর চিন্তা কী?
আশরাফুল এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু যেন বিব্রত বোধ করেন। বাংলাদেশের এই দলে একমাত্র তিনিই তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন, আর এখন কিনা একাদশে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন শুনতে হয়!
কাল সাংবাদিকদের সামনে এসে আশরাফুল অবশ্য সময়ের চাকাটাকে পেছনের দিকে ঘোরালেন। বাংলাদেশের সর্বশেষ ১৪টি ম্যাচের মাত্র তিনটিতে খেলার তথ্যটা দিলেন নিজেই। আশরাফুল যে বিশ্বকাপকেই ফিরে আসার সিঁড়ি হিসেবে নেবেন, না বললেও চলছে। তাঁর প্রেরণা আসলে অতীত। বারবারই ফিরে গেলেন গত বিশ্বকাপের দিকে, ‘২০০৭ বিশ্বকাপে আমার দুটি ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স ছিল। সেটা এবার আবার ফিরিয়ে আনতে চাইব।’
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ উইনার তিনি। অথচ সেই আশরাফুল এই বিশ্বকাপে একাদশে থাকার ব্যাপারেই নিশ্চিত নন। অধিনায়ক না থাকুন, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অভিভাবক হওয়ার উচিত ছিল তাঁরই। অথচ সেই আশরাফুলকে অসহায়ভাবে বলতে হচ্ছে, ‘দলে এখন আমি অটোমেটিক চয়েস বলতে পারব না।’ পরক্ষণেই নিজের ফিরে আসার জন্য বিশ্বকাপে চোখ রাখেন, ‘বিশ্বকাপে আমাকে জায়গাটা পাকা করতে হবে।’
আশরাফুলের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটও সেটিই চায়। আশরাফুল আছেন সুযোগেরই অপেক্ষায়, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগানোই হবে আমার মূল লক্ষ্য। আমার শুধু একটা বড় ইনিংস চাই। তাহলে আত্মবিশ্বাস এবং দলে জায়গা স্থায়ী করতে পারব আশা করি।’
এক টেবিলে আশরাফুলের কাছে গেল অন্য রকম প্রশ্ন। আপনি নাকি মেডিটেশন করছেন, কেন? আশরাফুল বললেন, ‘এটা তো টেন্ডুলকারও করে। হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো খেলার জন্যই এটা আমি করছি। রানে ফিরতে যা যা করা সম্ভব, সবই করছি। যদি সফল হই, তাতে উপকার হবে দলেরই।’
মাঝখানে পথ হারিয়ে নিজের খেলাও ভুলে গিয়েছিলেন আশরাফুল। পুরোনো সেই আশরাফুলকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যটাও আছে তাঁর মনে, ‘এমনিতে আমার স্ট্রাইক রেট সত্তরের মতো। কিন্তু গত এক-দেড় বছরে এটা ষাটে নেমে গেছে। আমি স্ট্রাইক রেটটাকে আবার আগের জায়গায় নিতে চাই।’
চার-ছয়ের সেই আশরাফুল কি সত্যিই ফিরবেন?

বেনজেমার গোলে ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

রিয়াল মাদ্রিদের মূল একাদশের জায়গাটা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে করিম বেনজেমার। মাঝে কয়েকদিন মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন তিনি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ম্যাচে রিয়াল রক্ষা পেয়েছিল বেনজেমার গোল থেকেই। এবার জাতীয় দলের জার্সি গায়েও নিজেকে নতুন করে চেনালেন এই ফরাসী স্ট্রাইকার। গতকাল ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে বেনজেমার গোল থেকেই ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।
স্টেড ডি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে গতকাল বেনজেমা যেন ফিরিয়ে এনেছিলেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালটা। সেবার ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে গতকাল ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার হার্নানেসকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে না হলে ফলাফল শেষপর্যন্ত কী হতো তা বলা যায় না। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটের মাথায় বেনজেমাকে বাজেভাবে ফাউল করার দায়ে লালকার্ড দেখেন হার্নানেস। ব্রাজিল পরিণত হয় দশ জনের দলে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন ফরাসী স্ট্রাইকাররা। ৫৪ মিনিটে জেরেমি মেনেজের ক্রস থেকে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে যান বেনজেমা। আগে কয়েকটি ফরাসী গোল প্রচেষ্টা রুখে দিলেও এবার আর গোল আটকাতে পারেন নি গোলরক্ষক জুলিও সিজার। ফ্রান্স এগিয়ে যায় ১-০ তে। শেষপর্যন্ত এটিই থেকে গেল ম্যাচের একমাত্র ফলাফল নির্ধারণী গোল হিসেবে।

মীমাংসা হয়নি ইতালি-জার্মানি ম্যাচে

১৯৯৫ সালের পর থেকে ইতালির বিপক্ষে জয়ের দেখা পায় নি জার্মানি। গতকাল নিজেদের মাটিতে সেই রেকর্ডটা ভেঙ্গেই দিতে চেয়েছিল জোয়াকিম লোর তরুণ তুর্কিরা। ১৬ মিনিটে জার্মান গোলমেশিন মিরোস্লাভ ক্লোসার গোল থেকে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষপর্যন্ত জার্মানদের এই স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ান ইতালিয়ান স্ট্রাইকার গিউসেপ্পে রসি। দ্বিতীয়ার্ধের ৮১ মিনিটে করেন সমতাসূচক গোল। ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় জার্মানিকে।
প্রথমার্ধটা ভালো খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে যেন কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন জার্মান ফুটবলাররা। কোচ জোয়াকিম লোর কণ্ঠ থেকে তাই কিছুটা হতাশাই ঝড়ে পড়ল। ম্যাচ শেষে এআরডি টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা শুরুতে বেশ ভালোই খেলেছিলাম। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিট আমরা এই ফর্মটা ধরে রাখতে পারি নি। আমরা জানতাম যে, ইতালিকে হারাতে হলে পুরো সময়টাই আমাদের ভালো খেলতে হবে। তো, আমি আসলে আজকের এই ফলাফলটা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছি না।’

স্পেনের কষ্টের জয় কলম্বিয়ার বিপক্ষে

বিশ্বকাপের পর কিছুটা যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিল বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন। শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচের দুটিতে আর্জেন্টিনা আর পর্তুগালের কাছে হেরেছিল বড় ব্যবধানে। মেক্সিকোর সঙ্গে ড্র করেছিল ১-১ গোলে। গতকাল কলম্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচেও একই পরিণতি ঘটতে যাচ্ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনকে জয় উদযাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ডেভিড সিলভা। ৮৬ মিনিটে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের গোলেই কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে স্পেন।
গতকাল স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়ার সামনে ছিল বড় একটা রেকর্ডের হাতছানি। মাত্র একটা গোল করলেই হয়ে যেতে পারতেন স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিয়া এ মুহূর্তে ৪৪ গোল নিয়ে রাউলের সঙ্গে শীর্ষস্থানটা ভাগাভাগি করছেন। বেশ কিছু ভালো সুযোগও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে তাঁর জোরালো শট ফিরে এসেছিল বারে লেগে। পরে আরেকবার গোলমুখের সামনে কিছুটা ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। গোল-শূন্য সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৬ মিনিটে জাবি আলোনসোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ডেভিড সিলভা। আর ১০ মিনিট পরেই গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে দেন কলম্বিয়ার জালে। ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বিশ্বকাপ জয়ীরা।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে এ জয়টা পেতে অনেক কষ্ট করতে হলেও ম্যাচ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। বলেছেন, ‘কলম্বিয়ানরা খুবই সংগঠিতভাবে খেলেছে। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষত প্রথমার্ধে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা যেভাবে খেলতে পেরেছি, তাতে আমি খুশি।

স্বপ্ন হঠাত্ই বাস্তব জুনায়েদের!

বপ্নটা হঠাত্ই বাস্তব হয়ে গেল জুনায়েদের জন্য। নিজেকে ইনজুরিমুক্ত করতে না পারায় পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না সোহেল তানভিরের। আর এতেই বিশ্বকাপের দ্বার খুলে গেছে তরুণ বাঁহাতি পেসার জুনায়েদ খানের জন্য। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে জুনায়েদ এখন অধীর প্রতিক্ষায় রয়েছেন শচীন টেন্ডুলকারকে বল করে তাঁকে আউট করার জন্য।
‘হঠাত্ই বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যাওয়াটা আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই একটি ব্যাপার। সেখানে যদি আমরা ভারতের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাই, তাহলে আমি অবশ্যই চাইব শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করতে। ওটা যে আমার অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন।’ জুনায়েদের কণ্ঠে ঝরে পড়ল তাঁর অভিপ্রায়।
জুনায়েদ খান তরুণ প্রতিভার চারণভূমি পাকিস্তানের নতুন এক আবিষ্কার। তিনি এর আগে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন। জুনায়েদ শচীন টেন্ডুলকারকে তাঁর অন্যতম প্রিয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘যেকোনো বোলারের জন্যই শচীন টেন্ডুলকারের উইকেট হচ্ছে পরম এক পাওয়া।’
এবোটাবাদে জন্ম নেওয়া এই তরুণ পেসার তাঁর জন্মস্থানের হয়েই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে থাকেন। তিনি ৩৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত ১৬৭টি উইকেট শিকার করেছেন। সম্প্রতি তিনি পাকিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। জুনায়েদ বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনের সঙ্গে আমার পরিচিতি রয়েছে। যদি সুযোগ পাই, তাহলে নিজেকে উজাড় করে দিতে সচেষ্ট থাকব।’
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে তিনি বারবারই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অসীম রহমতে আমি আজ বিশ্বকাপ দলে। জানি না, ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব কি না। যদি পাই, তাহলে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব ভালো খেলার। আমি চাই আমার প্রতি রাখা আস্থার প্রতিদান দিতে।’
এ মুহূর্তে জুনায়েদকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফাস্ট বোলার হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি বিশ্বকাপে উমর গুল, শোয়েব আকতার, ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে লড়াইয়ে নামবেন। উমর গুল ও ওয়াহাব রিয়াজের জায়গা পাকিস্তানের একাদশে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ায় জুনায়েদের মূল লড়াইটা হবে নিজের ফর্ম ও ফিটনেসের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অভিজ্ঞ পেসার শোয়েব আকতারের সঙ্গেই।