Saturday, January 17, 2026

জ্বালানি খাত: সংকট কাটাতে এলপিজি আমদানি করতে চায় বিপিসি by সুজয় চৌধুরী

সংকট কাটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। চিঠিতে বলা হয়েছে, এলপিজির পুরো বাজার বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।

এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান। চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি বাজারে সরবরাহ–ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তাতে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার স্থিতিশীল করার সরকারি কোনো হাতিয়ার নেই। এ বাস্তবতায় নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলপিজির বাজারটা কার্যত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে। সরকারিভাবে কিছু আমদানি করা গেলে বাজারে ভারসাম্য আসবে। তাই আমরা আমদানির অনুমতি চেয়েছি।’ মো. আমিন উল আহসান জানান, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা জটিলতায় এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বিপিসি আমদানি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করতে চায়। এতে সংকট দূর হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, বেসরকারি খাতকে সরবরাহ করলে একই পরিস্থিতি থাকবে। বেসরকারি খাতে এলপিজির দাম প্রতি মাসে নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। তবে সেই দামে এলপিজি বিক্রি হয় না বাজারে। তাই আমদানি করে বিপিসি সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি না করলে বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। আগেও এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘দেশে সরকারিভাবে এখনো এলপিজি আমদানি হয় না। তবে আমরা সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। আমদানি করা গেলে বাজারে ভারসাম্য আসবে। সংকট দূর হবে। ভবিষ্যতে গ্রাহকেরা জিম্মি হবেন না। তবে এখন সরকার কেবল আমদানি করবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে আপাতত জড়িত হবে না।’

বিপিসির চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি আমদানির জন্য বিপিসির নিজস্ব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এ মুহূর্তে নেই। তবে বেসরকারি অপারেটররা কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র এলাকায় এলপিজিবাহী বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করে নিজেদের টার্মিনালে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ ও বিতরণ করে থাকে। বিপিসিও একই পদ্ধতিতে বেসরকারি অপারেটরদের সুবিধা ব্যবহার করে আমদানি করা এলপিজি খালাস ও বণ্টন করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সঙ্গে আলোচনা করে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের তালিকা, আমদানির পরিমাণ, মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি, খালাস ও বণ্টনপ্রক্রিয়া—এসব নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে চিঠিতে।

বিপিসির আমদানির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নানা কারণে এলপিজিখাতে সংকট চলছে। এখন বিপিসি আমদানি করে পরিস্থিতি ভালো করতে পারলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন।

সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি

দেশে সরকারি ও বেসরকারি—দুভাবে এলপিজি বাজারে আসে। সরকারি পর্যায়ে সীমিত এলপিজি সরবরাহ করে বিপিসির তিনটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারিভাবে এলপিজি বিক্রি হয়েছে ১৯ হাজার টন।

সরকারি এই বিক্রির বিপরীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই চাহিদার বড় অংশ জোগান দেয়। লোয়াব ও বিপিসি সূত্র বলছে, দেশে ২৩টি কোম্পানির আমদানি সক্ষমতা আছে। তবে বড় পরিসরে আমদানি করে মূলত পাঁচ–ছয়টি কোম্পানি। গত বছর আমদানি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টন। বেসরকারি পর্যায়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের ঘোষিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। তবে বাজারে এ দামে সিলিন্ডার বিক্রি হয় না। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংকট ও সরবরাহের চাপে বাজারে সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন। ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় রান্নায়, বাকি ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে। প্রতিবছর এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। সরকারি উৎস থেকে জোগান দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিগত সরকারগুলো এলপিজি খাতকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক করে ফেলেছে। তাই ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত দরকার। প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করে সরবরাহ বাড়াতে হবে।

এলপিজি
এলপিজি। প্রতীকী ছবি

ইরানকে একবার ‘সুযোগ দিতে’ ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি, কাতার ও ওমান

ইরানে মার্কিন হামলা ঠেকাতে দেশটিকে আরও একবার ‘সুযোগ দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে ‘ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব’ পড়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় এই তিন দেশ সম্মিলিতভাবে এ প্রচেষ্টা চালায়।

গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যাতে তার সদিচ্ছা প্রদর্শন করার সুযোগ পায়, সে জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে দীর্ঘ সময় ধরে শেষ মুহূর্তের মরিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে এ তিন দেশ।’ তিনি আরও বলেন, এই আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইতিমধ্যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত বুধবার কাতারের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরানে সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ব্যাপারে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলছিল, হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজে আঘাত হানবে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে।

তবে বেশ কয়েকবার কড়া হুমকির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি জানান, ‘অন্য পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ মাধ্যমে তিনি এ নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না।

অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি এড়াতেই উপসাগরীয় দেশগুলো এ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান সৌদি আরবের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিলাম যে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এ অঞ্চলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার পথ খুলে যাবে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের আরও কিছু বড় বিপদ সামাল দিতে আমাদের একটি নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। তৈরি হওয়া আস্থা এবং বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে এখনো যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় কোনো হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদনের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের নির্দেশে দেশটির বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং এর সঙ্গে থাকা ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আট মাস যেভাবে পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন ৮ মাস। ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল ফোনের সিম বদলিয়েছেন ৬ বার। চেহারায়ও এসেছে আমূল পরিবর্তন। রেখেছেন দাড়িও। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। এক বছরের অধিক সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন। খোঁজ-খবর কেউ জানতেন না। সম্প্রতি তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে হাজির হয়েছেন। স্বভাব ভঙ্গিতেই জানিয়েছেন দেশে পালিয়ে থাকার ঘটনা। তবে কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র্রে পৌঁছালেন সেটি বলেননি। নিজেই জানিয়েছেন; এখনো সে ঘটনা বলার সময় আসেনি। এ নিয়ে রহস্যও জিইয়ে রাখলেন। যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় কথা বলেন। ওই ইন্টারভিউতে ড. মোমেন বলেছেন; গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছিলো কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন। সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। তার আগে দেশের ভেতরে পালিয়ে থাকার কিছুটা বর্ণনা দিয়েছেন। বলেন- ‘এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে কোনোদিন জেলে পাঠাইনি। কোনো চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বললেন; স্যার উই উইল প্রটেক্ট ইউ। তখন আমার সবাই বললো- স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।’ ড. একে মোমেন জানান- ‘আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে। এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম; আপনার এগুলো তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম। উনি এসে বললেন; আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোনো বায়ার আসতেছে না, কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।’ পালিয়ে থাকা বিবরণ তুলে ধরে ড. মোমেন জানান- ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে মব’র জ্বালায় সেজন্য চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি। যখন নাপিতের কাছে গেলাম। এক বাসায় গেলাম সার্টেন টাইমে। ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে পারে না কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না।  সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট। দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্‌ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’ প্রশ্ন করা হয়েছিলো বাই এয়ারে সরাসরি শাহ্‌জালাল থেকে এসেছেন না অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে? জবাবে ড. মোমেন জানান- ‘না না বিমানবন্দর তো আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। এটা পালাইয়া আসছি। কীভাবে বিভিন্ন ভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ- সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।’ কথা শেষে ডক্টর মোমেন জানান- ‘আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেয়া দরকার।’
mzamin

দম্পতির শোবার ঘরের ঝগড়া গড়াল আদালতে

গালফ নিউজঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করা একটি ছোট্ট পরিবারের সকাল অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। পরিবারের সদস্য বলতে স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানেরা। কিন্তু হঠাৎই সেদিন সকালবেলা এ পরিবারের শয়নকক্ষে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনই দ্বারস্থ হন আদালতের।

দুবাইয়ের সংবাদপত্র আমিরাত আল ইউম–এর খবর অনুযায়ী, ঘটনার মূল দুই চরিত্রের একজন ইউরোপীয় স্ত্রী ও অন্যজন তাঁর আরব স্বামী। ঘটনার দিন সকালে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শয়নকক্ষে ঢোকেন। সে সময় স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বিরক্ত স্বামী স্ত্রীকে বাচ্চাদের নিয়ে কক্ষটি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

কিছুক্ষণ পর স্ত্রী তাঁর পোশাক পরিবর্তন করতে আবারও শোবার ঘরে ঢোকেন। স্বামী আবার বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়া থেকে হাতাহাতি-মারামারি। এরপর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন দুজনই। ফলে শোবার ঘরের বিবাদ আদালতে ফৌজদারি মামলায় গড়ায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুজন দুই রকম বয়ান দেন। স্বামীর দাবি, স্ত্রী তাঁকে একটি বেল্ট দিয়ে আঘাত করলে এই বিবাদের শুরু। তিনি আরও দাবি করেন, এরপর স্ত্রী নিজে নিজে মাটিতে পড়ে যান এবং চিৎকার করে আহত হওয়ার অভিনয় করতে থাকেন।

অন্যদিকে স্ত্রী তদন্তকারীদের বলেছেন, তাঁর স্বামীই তাঁকে আক্রমণ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝগড়ার সময় তিনি ভীষণ আতঙ্কিত এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং পারিবারিক পরিবেশ বিবেচনা করে আদালত স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই দোষী সাব্যস্ত করেন। দুজনকেই করেন সমান ২ হাজার দিরহাম জরিমানা। রায়ে বলা হয়, বাড়ির ভেতরে শুরু হওয়ায় পারিবারিক বিবাদ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যাওয়াকে আটকানো জরুরি। আদালত পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের মধ্যে সহনশীলতা ও আলোচনার পরিবেশ বাড়ানো প্রয়োজন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-11%2F7pfkofap%2FCapture.PNG?rect=0%2C39%2C868%2C579&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
প্রতীকী ছবি

‘ছেলেটা পরিবারসহ চলে গেল, কিছুই করতে পারিনি’ by আহমেদ উল্যা ইউসুফ

ছেলে, তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ছেলে ও তাঁর স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী। ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা যাওয়া হয় না। তাই গতকাল যখন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় বসবাসরত বাবার সঙ্গে মুঠোফোনের ছেলের কথা হচ্ছিল, তখন তাঁকে স্ত্রী–সন্তান নিয়ে এক সপ্তাহের জন্য বাড়িতে যেতে বলেছিলেন বাবা। কিন্তু ব্যস্ততার জন্য তাতে রাজি হননি ছেলে।

সেই ছেলে, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর আজ শুক্রবার সকালে পেয়ে ঢাকায় ছুটে এসেছেন বাবা সত্তরোর্ধ্ব খোরশেদুল আলম। রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের তিনজন একই পরিবারের। তাঁরা হলেন খোরশেদুল আলমের ছেলে ফজলে রাব্বি, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও তাঁদের আড়াই বছরের ছেলে মো. রিশান।

ফজলে রাব্বি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কাজ করতেন। আর আফরোজা কাজ করতেন স্কয়ার গ্রুপে। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে আটটার দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের যে বাড়িতে আগুন লাগে, সেই বাড়ির পঞ্চম তলায় থাকতেন ফজলে রাব্বি তাঁর স্ত্রী সন্তান নিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রথমে আগুন লেগেছিল ভবনের দোতলায়। দ্রুত আগুন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তৃতীয় তলাতেও আগুন জ্বলতে থাকে। এই দুই তলার বাসিন্দারা বেঁচে গেছেন। কিন্তু আগুনের ধোঁয়া ওপরের দিকে উঠে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য না জানা গেলেও পুলিশের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে।

আগুনে ছেলে, পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতির মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকায় এসেছেন বলে জানান খোরশেদুল আলম। বিকেলে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর বড় মসজিদে তিনজনের জানাজা হয়। এরপর তাঁদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর নিজে সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন খোরশেদুল আলম।

কাঁদতে কাঁদতে খোরশেদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেটা পরিবারসহ চলে গেল। আমি কিছুই করতে পারলাম না।’

খোরশেদুল আলম জানান, তাঁর একমাত্র ছেলে ফজলে রাব্বি। আর এক মেয়ে আছে, তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

ছেলে–নাতি দুজনই মারা যাওয়ায় খোরশেদুলের পরিবারে ‘আলো জ্বালানোর’ মতো আর কেউ রইল না। স্বজন হারানোর বেদনায় মুষড়ে পড়া প্রবীণ এই ব্যক্তি বলেন, গতকাল যখন ফজলে রাব্বির সঙ্গে কথা হয়, তখন বলেছিলেন এক সপ্তাহ কুমিল্লায় গিয়ে থেকে আসার জন্য। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যস্ততা থাকায় ছেলে যেতে রাজি হননি।

‘কুমিল্লায় গেলে হয়তো পরিবারসহ সন্তানের মৃত্যুর সংবাদটা শুনতে হতো না,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন তিনি।

এ সময় সেখানে উপস্থিত জিয়াদ নামে ফজলে রাব্বির এক আত্মীয় জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ফজলে রাব্বির মা শোকে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে পরিবারের অন্যদেরও একই অবস্থা।

ফজলে রাব্বির স্ত্রী আফরোজার পরিবারও উত্তরা এলাকায় থাকে। এ ঘটনার পর আফরোজার বাবা ও মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না বলে আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানিয়েছেন।

খোরশেদুল আলম জানান, নিহত ফজলে রাব্বি, তাঁর সন্তান ও স্ত্রীকে তাঁদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চিওড়ায় আগামীকাল দাফন করা হবে।

এই আগুনের ঘটনায় ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকা অপর একটি পরিবারের আরও তিনজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন মো. হারিস (৫২), তাঁর ছেলে মো. রাহাব (১৭) ও ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৭)।

রাজধানীর উত্তরায় ভবনে আগুনে মৃতদের স্বজনের আহাজারি। আজ শুক্রবার বিকেলে উত্তরা ১১ সেক্টরে 
রাজধানীর উত্তরায় ভবনে আগুনে মৃতদের স্বজনের আহাজারি। শুক্রবার বিকেলে উত্তরা ১১ সেক্টরে। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ