Tuesday, October 7, 2014

সিনেমা হলে বিছানা, সোফা!

বাড়িতে প্রথম টিভি আগমনের দিনগুলো মনে পড়ে? শোয়ার ঘরে খাটে গড়িয়ে গড়িয়ে সাদা-কালো স্ক্রিনে সিনেমা আর চিত্রহার-টেস্ট ম্যাচ দেখার দিনগুলো আজ ইতিহাস। তবে বালিশে হেলান দিয়ে তারিয়ে তারিয়ে সিনেমা উপভোগ করার বিলাস হয়তো এদেশে ফিরে আসছে শিগগিরই। তা-ও আবার একেবারে মাল্টিপ্লেক্সের অন্দরে!
বছর কয়েক আগে গ্রিসের অলিম্পিয়া মিউজিক হলে এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছিল সুইডিশ আসবাব সংস্থা ‘আইকিয়া’। এক সন্ধ্যায় প্রেক্ষাগৃহের চিরাচরিত আসন ব্যবস্থা পাল্টে ফেলে স্রেফ কয়েক সারি খাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। সেই খাটের উপর পাতা হয়েছিল সুদৃশ্য আরামদায়ক বিছানা। সীমিত সংখ্যক আমন্ত্রিত ছাড়া অবশ্য সেখানে প্রবেশাধিকার মেলেনি কারো। কারণ এটা ছিল আইকিয়া-র বিজ্ঞাপনের অংশ বিশেষ।

তবে বাস্তবে বিছানায় শুয়ে সিনেমা উপভোগ করার চমক ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে বিশ্বের কয়েকটি দেশে। এদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্রিটেন। ইংল্যান্ডের ‘ইলেকট্রিক সিনেমা’ প্রেক্ষাগৃহের আসন ব্যবস্থা সত্যিই তাক লাগানোর মতো। এখানে সোফা, আরামকেদারার পাশাপাশি রয়েছে নরম গদিমোড়া খাটও। বিলাসবহুল ডাবল বেড বহরে যথেষ্ট চওড়া।

এখানে দুজন অনায়াসে হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করতে পারেন। তবে খাটগুলো রাখা হয়েছে পর্দার সবচেয়ে কাছাকাছি। তবে হলের প্রথম সারির আসনে বসলে সাধারণত যেভাবে ঘাড়া উঁচিয়ে পর্দার ছবি দেখতে হয়, এখানে সে যন্ত্রণা নেই। দিব্যি গা এলিয়ে বিনা শারীরিক কসরতে সিনেমা উপভোগ করার জন্যই এই বন্দোবস্ত।

সিনেমা হলের বিছানা-বিলাসে পিছিয়ে নেই ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তার সিনেমা চেইন ব্রিৎজ মেগাপ্লেক্সে রয়েছে ‘ভেলভেট সিটিং’ ব্যবস্থা। এগুলো আসলে সোফা-কাম-বেড। খাটের সঙ্গেই জোড়া ছোট্ট টেবিল, যার উপরে রাখা যায় সুখাদ্যের প্লেট। সঙ্গীর সঙ্গে মনের মতো খানা আর সিনেমা দেখার অনাবিল আনন্দ পেতে হলে অবশ্য পকেটের ভ্রুকুটিকে পাত্তা দিলে চলবে না। এই রকম সোফা-কাম-বেডের ভাড়া সাধারণ টিকিটের প্রায় চারগুণ।

প্রতিবেশী মালয়েশিয়াও কম যায় না। এদেশে বিনি চেইন অফ সিনেমায় মেলে আরামের নয়া সংস্থান। আস্ত খাট না হলেও এইসব প্রেক্ষাগৃহে রেখা হয়েছে আরামদায়ক বিন ব্যাগের বিছানা। তুলতুলে গদিতে ডুবে হলিউডের স্বপ্নরাজ্যে ভেসে যেতে কার না ভালো লাগে! টিকিটমূল্য স্বাভাবিক ভাবেই চড়া। দর্শক টানতে প্রেক্ষাগৃহের বিজ্ঞাপনে অবশ্যই প্রধান নিশানায় রয়েছেন কপোত-কপোতীরা।

পর্যটনই থাইল্যান্ডের মূল উপার্জন। তাই এদেশের মুভি থিয়েটারে পাওয়া যায় আরামের হরেক ব্যবস্থা। এখানে প্যারাগন সিনেমাপ্লেক্সে মেলে এমনই নরম গদিমোড়া বিছানা যা এই গোত্রের আসনের মধ্যে সম্ভবত সেরা। তবে তাতেও যদি দর্শক না মজে, তাই এই আসনের টিকিট কাটলে বিনামূল্যে মেলে এক গ্লাস মদিরা, এক বাক্স পপকর্ন ও মুখ চালানোর মতো সুস্ব^াদু স্ন্যাক্স।

শুধু তাই নয়, খাদ্য-পানীয় ফুরিয়ে গেলে অতিরিক্ত মূল্যের বিনিময়ে সঙ্গে সঙ্গে তা আনিয়েও নেয়া যায় সহজেই। এজন্য সর্বদা মোতায়েন করা রয়েছে বিশেষ একদল কর্মী। সিনেমা দেখার এই স্বর্গসুখ চেখে দেখতে হলে খসাতে হবে মাথাপিছু মাত্র ৯১ মার্কিন ডলার।

মোগল আমলে ভারতবর্ষ ছিল বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম ধনী দেশ -ফরচুন

মোগল আমলে ভারত ছিল বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম ধনী দেশ। আমেরিকার বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুন এ তথ্য জানিয়েছে। ফরচুনের হিসাবমতে, ১৭০০ সালের দিকে মোগল ভারতবর্ষে বিশ্বের মোট সম্পদের ২৫ শতাংশ সঞ্চিত ছিল। এর ফলে সর্বকালের অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের তালিকায় ভারতবর্ষের স্থান দাঁড়াচ্ছে ৩-এ।
ম্যাগাজিনটির ভাষ্যমতে, মোগল আমলে ভারতবর্ষের অর্থনীতি ছিল সবচেয়ে গতিশীল অর্থনীতির অন্যতম। ওই সময়ে ভারতবর্ষের জাতীয় আয় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের প্রায় সমান ছিল।

ফরচুনের তালিকায় অন্য যেসব দেশ বা সা¤্রাজের নাম স্থান পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ১০০ শতকের রোমান সা¤্রাজ্য (১ নম্বরে সম্পদ ছিল ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ), ১২ শতকের চীনের সঙ রাজবংশ (২ নম্বর স্থানে, তাদের সম্পদ ছিল ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ), ১৮৭০ শতকের দিকে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্য (৩ নম্বর স্থানে, তাদের সম্পদ ছিল ২১ শতাংশ)। আর ১৯৫০-এর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ছিল বিশ্বের মোট সম্পদের প্রায় ৫০ শতাংশ।
সূত্র : এনডিটিভি।

ধেয়ে আসছে হুদহুদ॥ বাংলাদেশ নিরাপদ!

বঙ্গোপসাগর উপকূলে আসতে চলেছে ‘হুদহুদ’ নামক ঘূর্ণিঝড়। সূত্রের খবর, ১২ অক্টোবরের মধ্যে ওড়িশা উপকূল আছড়ে পড়বে এই বিধ্বংসী ঝড়। ওমানের অ্যাফ্রো-ইউরেসিয়ান এক পাখির নামে ‘হুদহুদে’র নামকরণ হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর থেকে জানা যাচ্ছে, সোমবার থেকে দক্ষিণ মিয়ানমার উপকূল সংলগ্ন নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আন্দামান সাগরের কাছে সরে শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে দুই তিন দিনের মধ্যে ঘন্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে হুদহুদ আছড়ে পড়বে ওড়িশা উপকূলে।

আবহাওয়া দফতরের ভবিষ্যতবাণী যদি সত্যি হয়, তাহলে ‘হুদহুদ’ ঘূর্ণিঝড় এই প্রথম বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়েেব।  প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের বেশ কিছু জায়গায় ও বিশাখাপত্তনম সংলগ্ন। তবে ‘হুদহুদে’র হাতছানি থেকে বেঁচে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশও রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই কয়েক দিন মেঘলা আকাশ ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

জয়ললিতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর

ভারতের তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে কর্নাটকের হাইকোর্ট। ফলে তিনি এখন মুক্তি পাচ্ছেন না। আজ আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে বলেছেন যে দুর্নীতির ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে কৌঁসুলির উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল যে জয়ললিতার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন মামলায় অভিযুক্ত হন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত সে দিন তার চার বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশের পাশাপাশি একশো কোটি রুপি জরিমানা করে। আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানিশেষে রায় হয়।
‘আম্মা’র জামিনের আবেদন গ্রাহ্য হবে কি না এ দিন সকাল থেকে সেই জল্পনা উড়ে বেড়াচ্ছিল বেঙ্গালুরু জুড়ে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সকাল থেকেই নিñিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেল। জেলের কাছাকাছি যাতে কোনো রকম উত্তেজনা তৈরি না হয় সেই ব্যবস্থাও করে প্রশাসন। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, যদি কোনোভাবে জয়ললিতার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি তারা। পারপান্না জেল ও কর্নাটক হাইকোর্টের এক কিলোমিটার চৌহদ্দির মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এ দিন সকালেই যাতে ‘আম্মা’র মামলাটির শুনানি হয়, সেই বিষয়ে আদালতে আবেদন জানান তার আইনজীবী রাম জেঠমালানি। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

গত মাসে আম্মাকে গ্রেফতারের পর থেকেই  তার ঠিকানা হয় বেঙ্গালুরুর পারাপান্না জেল। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জয় দাবি করেছিলেন, তার সঞ্চিত সম্পত্তি বৈধ উপায়েই অর্জন করা। সেখানে লুকোচুরির কোনো প্রশ্ন নেই। এর পর আম্মার জামিন ও শাস্তি রদের জন্য দুটি পিটিশন দাখিল করেন তার আইনজীবীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতের অবসর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দশেরা উপলক্ষে আদালতে ছুটি থাকার কারণে সেই শুনানির উপর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। জয়ললিতার কৌঁসুলি জেঠমালানি ফের ১ অক্টোবর জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু সে দিন তার বিরোধিতা করেন সরকারের বিশেষ আইনজীবী ভবানী সিংহ।

তাদের প্রিয় ‘আম্মা’ অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই গোটা তামিলনাড়ুতে বিক্ষোভ-আন্দোলনের ঝড় বয়ে যায়। সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জয়ললিতার সমর্থকরা অনশনে বসেন। কিন্তু এ দিন জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পাল্টে যায় গোটা পরিস্থিতি। তামিলনাড়ুর চার দিকে উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। রাস্তায় নেমে পড়েন অসংখ্য মানুষ। বাজি পুড়িয়ে, দলীয় পতাকা উড়িয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে মানুষ তাদের প্রিয় আম্মার আপাত ‘মুক্তি’তে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন -রিজভী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসঙ্ঘে গিয়েও বাংলায় কথা বলেন এবং তা নিয়ে গর্ব করেন। কিন্তু সরকার কি বাংলা বোঝে না, আমরা কি চাই?
সংলাপ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে সরকারের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসাচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়ারও আহ্বান জানান রিজভী। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, কারো ভেতরে যদি আন্তরিকতার অভাব থাকে তাহলে তিনি বুঝবেন কিভাবে?

তিনি বলেন, এ সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। তাদের হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

রিজভী বলেন, দেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিথ্যাচার করেছেন শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে থাকা বাছাই করা যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর নির্ভর করে চলছে।

বিএনপি নেতা অপহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর নভেম্বর মাসে কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর হিরু ও হুমায়ুন কবিরকে গুমের ঘটনায় পুলিশ হাস্যকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নিখোঁজ উক্ত দুইজন হয়তো বা দুষ্কৃতিকারীদের হাতে অপহরণ হয়েছে’। অথচ মামলার সাক্ষীরা বলছেন অপহরণ করেছে ৠাব। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও বলেছেন, এইতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি বিপদে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্রানজিট পেতে ভারত অনেক দিন ধরে উৎসুক -অর্থমন্ত্রী by শওকত ওসমান রচি

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ট্রানজিট পেতে ভারত অনেক দিন ধরে উৎসুক। চীন- মিয়ানমারও ট্রানজিট ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, তবে ট্রানজিট দেয়ার সামর্থ আমাদের নেই। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে বৈঠকে আমরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ট্রানজিটে জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে বলেছি। ট্রানজিটের জন্য রেল খাত হবে সহজ বিনিয়োগ। ট্রানজিট সিলেট  দিয়েই যেতে হবে। সিলেটের রেললাইনকে ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। 
নিউইয়র্কে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি হোটেলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ইনক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। 
তিনি বলেন, বিগত আওয়াম লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড। ট্রানজিট কান্ট্রি হিসেবে এটা সম্ভব হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, ট্রানজিট হবে কি হবে না তা ৪০ বছরেও সিদ্ধান্ত হয়নি। 
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্ল¬াইট আবারো চালুর জন্য প্রবাসীদের দাবি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমানের বহরকে শক্তিশালী করছি। নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নেয়া হয়েছে, যা ২০২১ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তারা এটা ভালো পরিকল্পনা নিয়েছিল। বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির দুর্বলতার কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু হচ্ছে না উল্লেখ করে আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, সিভিল এভিয়েশন বিমান বাহিনী পরিচালনা করে। তারা ব্যবসা বোঝে না। তাদের পরিবর্তন করা না হলে এ রুটে বিমান চলাচল শুরু হবে না। এ রুটে বিমান চালু কত দিনে হবে আমরা জানি না। এটা আমাদের দুর্বলতা। 
রান্নার কাজে গ্যাস সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রবাসীদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রান্নার জন্য গ্যাসেরব ব্যবহার এ দেশ থেকে তুলে দিতে হবে। প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা চুলার জন্য নয়, ইন্ডাস্ট্রির জন্য গ্যাস দাবি করেন। চুলা জ্বালানো মানে গ্যাস ধ্বংস করা।  বালাদেশের রাজনীতিবিদদের সবার চিন্তা ‘আমার বাড়ির পাশে রাস্তা হবে’- উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার মহাসড়ক আর না বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সিলেটে অর্থেও প্রচুর অপচয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজীবাজার ব্রিজ সিলেটের একটি অভিশাপ। এটা শুধু সুদৃশ্য হিসেবেই থাকবে। এ ব্রিজের কাজ শুরুর আগে কোনো পরিকল্পনা নেই। ব্রিজটি কোনো উপকারে আসবে না। এ খাতে ১৫০ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। 
প্রবাসীরা সিলেটে বিনিয়োগ করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে প্রচুর সঞ্চয় রয়েছে, বিনিয়োগ নেই। কৃষিতে পিছিয়ে আছে। এক-তৃতীয়াংশ পতিত জমি রয়েছে। সিলেটবাসীদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা খুব ধনী ও আয়েশী। আমি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে খুবই লজ্জিত। আমি তার কাছে কোনো জবাব দিতে পারি না। 
অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরুর আগে প্রবাসীরা দুটি বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সিলেটে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুটের বিমান অবতরণ এবং রেল খাতের উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম(রহিম) বলেন, ব্রিটিশ আমলে সিলেট অঞ্চলে স্থাপিত রেললাইন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে সাবাসপুর থেকে কুলউয়াড়া পর্যন্ত লাইনটি প্রায় অচল। তিনি বলেন, সিলেটের রেললাইনটি বেশ অবহেলিত। তিনি রেললাইন ও রেল সার্ভিসের উন্নয়নের দাবি জানান। 
এসব দাবির প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিমান বন্দরে রি-ফুয়েলিংয়ের সমস্ত ব্যবস্থা মাস খানেকের মধ্যে হয়ে যাবে। বিমানের উঠানামার সমস্ত কাজ শেষ হয়েছে। সিলেটের পুরানো জেলখানা এলাকাকে পার্কে রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমার প্রকল্প। বিদ্যমান তিনটি পুকুর সহ এ পার্ক নির্মাণ হবে। সিটি করপোরেশনকে এ পার্ক স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দেয়া হলে সেখানে তারা দোকান বানাবে।

পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

পদার্থবিদ্যায় চলতি বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন জাপানের ইসামু আকাসাকি ও হিরোশি আমানো এবং আমেরিকার শুজি নাকামুরা। জ্বালানি সাশ্রয়ী উজ্জ্বল আলো তৈরি করতে পারে এমন নীল এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) উদ্ভাবনের জন্য তাদেরকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে জানিয়েছে রয়্যাল সুইস একাডেমি।
৮৫ বছর বয়স্ক আকাসাকি মেইজো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ৫৪ বছর বয়স্ক আমানো নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আর ৬০ বছর বয়স্ক নাকামুরা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তারা প্রথম নীল এলইডি তৈরি করেন, যার সাথে সবুজ ও লাল এলইডি যুক্ত করে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী নতুন ধরনের এলইডি বাতি তৈরি করা সম্ভব হয়।  বিজ্ঞানীরা ক্রম উন্নয়নের মাধ্যমে এলইডি বাতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যাতে একটি এলইডি বাতি ১৬টি সাধারণ বাতি অথবা ৭০টি ফ্লুরোসেন্ট বাতির সমান আলো দিতে পারে। 

নোবেল কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রতিদিন খরচ হয়, তার এক চতুর্থাংশ যায় পৃথিবীকে আলোকিত করতে। এই এলইডি বাতি জ্বালানির পাশাপাশি কাঁচামালের চাহিদাও কমিয়ে আনতে পারে, কারণ একটি সাধারণ বাতি যেখানে গড়ে ১ হাজার ঘণ্টা আলো দেয়, সেখানে এলইডি বাতি এক লাখ ঘণ্টা আলো দিতে পারে। এই তিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন বিপ্লব ঘটিয়েছে। সাধারণ লাইট বাল্ব ২০ শতকের পৃথিবীকে আলোকিত করেছে। আর একুশ শতকের পৃথিবীকে আলোকিত করবে এলইডি বাতি।

রীতি অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নোবেল পুরস্কারের ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

গতকাল মেডিসিনে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তাতেও তিনজন পুরস্কার পেয়েছিলেন।

মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে মারা নেপথ্যে বিয়েতে রাজি না হওয়া! by শামীম সুমন

সন্ত্রাসীদের ছোড়া পেট্রোল ও আগুনে পুড়ে মা এবং তিন মেয়েসহ চারজন মারা গেছেন। সোমবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতরা হচ্ছেন মালেশিয়া প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম (৩০), তার কন্যা নবম শ্রেণীর ছাত্রী মনিরা (১৫), বাক প্রতিবন্ধি মেয়ে মীম (১১) শিশুকন্যা মলি (৪)। 
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মূলহোতা জাহাঙ্গীরের চাচী নাসিমা বেগম (৫০) এবং পেট্রোল কন্টেইনার বহনকারী রিকসাচালক মোহাম্মদ আলীকে (৩৪) পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শত শত লোকজন বাড়িতে ভিড় জমিয়েছে। 
মৃত নাসিমা বেগমের পিতা আলাল উদ্দিন (৫৬) অভিযোগ করেন, সোহাগপাড়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নাতনী মনিরার বিয়ে নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল । তার কথামতো বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় এ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার রাতে নাসিমা তিন মেয়ে নিয়ে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার দিকে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগিরা মিলে নাসিমার ঘরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুনে পুড়ে মা ও তিন মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।  
এ দিকে ঘটনার পর পরই  সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ তানবীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। মূলহোতা জাহাঙ্গীর পলাতক। থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

দুই ছেলেকে খুন করে আত্মঘাতী বাবা

নিজের দুই সন্তানকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন বাবা। শনিবার বিকেলে ভারতের হায়দরাবাদের এক কলেজের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর এ আর গুরুমূর্তি তার দুই ছেলে ৯ বছরের ভিত্তল ও ৫ বছরের নন্দকে নিয়ে ঘুরতে বেরোয়। এরপর আর ফেরেনি তারা। আত্মহত্যা করার আগে গুরুপ্রসাদ দুই ছেলেকে খুন করে বলে অনুমান পুলিশের।
গত বছর স্ত্রী সুহাসিনির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় গুরুমূর্তির। সপ্তাহে একদিন ছেলেদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেয়েছিল গুরুপ্রসাদ। শনিবার সকালে ৪৪ বছরের গুরুপ্রসাদ দুই ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সন্ধে পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় গুরুমূর্তির মোবাইলে ফোন করেন সুহাসিনি। ফোন ধরে পুলিশ জানায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে গুরুমূর্তির। তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে অনুমানের কথাও সুহাসিনিকে জানায় পুলিশ।

কিন্তু ছেলেদের ব্যাপারে কোনো খবর দিতে পারেনি পুলিশ। গুরুমূর্তির আলওয়ালের বাড়ি থেকে পাওয়া সুইসাইড নোটেও ছেলেদের কোনও উল্লেখ পায়নি পুলিশ। সুইসাইড নোট থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে বিবাহবিচ্ছেদের কারণেই আত্মহননের পথ নিয়েছে গুরুমূর্তি। তবে গুরুমূর্তির মোবাইলে একটি না পাঠানো এসএমএস খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। যাতে লেখা ছিল, আত্মহত্যা করার আগে দুই ছেলেকে খুন করে রঙ্গা রেড্ডি জেলার কাছে মেডচালে একটি মাঠে তাদের পুঁতে দিয়েছে গুরুমূর্তি। রেললাইনের ধার থেকে পুলিশ উদ্ধার করে গুরুমূর্তির দেহ। পাশেই পড়ে ছিল তার মোবাইল। পুলিস জানতে পেরেছে আত্মহত্যা করার কয়েক ঘণ্টা আগে সুহাসিনির সঙ্গে দেখা করতে যায় গুরুমূর্তি। সুহাসিনিকে ফিরে আসার অনুরোধ জানায়, কিন্তু সুহাসিনি রাজি হননি।

সোমবার বিকেলে মেডচাল থেকে সুহাসিনি-গুরুমূর্তির দুই সন্তানের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। পুলিশের অনুমান তাদের বিষ দিয়ে বা ছুরির আঘাতে খুন করা হয়েছে। তাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের লাশ হস্তান্তর -পরিবার বলছে হত্যা করা হয়েছে

খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১৩ জনের স্বজনেরা দাবি করেছেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নয়, গুলি করে তাঁদের স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার নিহত একাধিক ব্যক্তির স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ দাবি করেন। তাঁরা বলছেন, ‘তাঁদের এভাবে না মেরে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে পারত পুলিশ।’

গতকাল রোববার ভোরে এবং দুপুরে পাইকগাছা উপজেলার জিরবুনিয়া ও গাংরক্ষীর লক্ষ্মীরচর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই ১৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন বলে দাবি পুলিশের।

আজ দুপুরের পর নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনেরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ নিয়ে যান।

আজ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আখিরুল শেখ ও নাসরুল শেখের লাশ নিতে এসেছিলেন তাঁদের মামাতো ভাই মো. আল-আমিন। তিনি দাবি করেন, ‘তাঁরা খারাপ ছিল না। সঙ্গ দোষে হয়তো খারাপ কাজে যোগ দিয়েছিল।’

নিহত রুবেল শেখের চাচাতো ভাই মহসীন শেখ জানান, রুবেলের হাত-পা ভাঙা রয়েছে। বাঁ চোখের নিচে খোঁচানো দাগ। তাঁর গায়ে কোথাও গুলির চিহ্ন নেই। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধরে পিটিয়ে আধমারা করেছে, পরে পুলিশ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে বাকি কাজ শেষ করেছে।’

নাম প্রকাশ না করে নিহত একজনের ভাই বলেন, ‘আমার ভাই ডাকাত হতেই পারে। কিন্তু দেশে তো আইন আছে। আইনে তাঁদের বিচার করা যেত।’ তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেল, কাশেম বাহিনী পুলিশের ওপর আক্রমণ করল, তখন ওই ১১ জন নিহত হলো। কাশেম বাহিনীর আর কেউ নিহত বা আহত হলো না, পুলিশেরও কিছু হলো না। আসলে পুলিশ “বন্দুকযুদ্ধের” নাটক করে ঠান্ডা মাথায় তাদের হত্যা করেছে।’

আজ ঘটনাস্থল লক্ষ্মীরচর ও জিরবুনিয়া গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনদস্যুরা স্থানীয় বারআড়িয়া কলেজের জীববিজ্ঞানের শিক্ষক প্রশান্ত কুমার ঢালীকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী ওই ১৩ জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাঁদের নিয়ে সুন্দরবনে অস্ত্র উদ্ধারে যায়। সুন্দরবনের কয়েকটি স্থানে তারা তল্লাশি চালায়। বিকেলের দিকে তাঁদের লাশ ট্রালারে করে নিয়ে পুলিশ পাইকগাছা থানায় ফিরে যায়। তাঁরা এর বেশি কিছু দেখেনি, কেবল গুলির শব্দ শুনেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গড়ইখালী এলাকার এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘আমরা দেখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আটক ব্যক্তিদের নিয়ে বনের মধ্যে ঢুকে গেলে আর কিছু দেখা যায়নি। দেশে এর আগে “বন্দুকযুদ্ধে” এত প্রাণহানির কথা কখনো শুনিনি। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ হতভম্ব হয়ে গেছে। ’

পাইকগাছা বেলুটি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) কর্মকর্তা মো. জলিল বলেন, কাশেম বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাঁরা সবাই মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবি নাকচ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। খুলনার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার মাগুরা দেলুটির সবুর মোড়ল (৪০), দাকোপ কালাবগীর মো. হানিফ গাজী (৩৪), মংলার চিকনের দেওয়ান এলাকার আলিম মোল্লা (২৭), ডুমুরিয়ার টিপনা এলাকার আখিরুল শেখ (২৬) ও আফজাল শেখ (২৫), একই উপজেলার স্বরাপপুর এলাকার মাহাবুব মোল্লা (৩০) ও মফিজুল মোল্লা (৪১), টিপনা এলাকার শফিকুল শেখ (২১), নাসরুল শেখ (২৪), গোলনা গ্রামের রুবেল শেখ (২৩), জুনায়েদ খান (৩৫), ডুমুরিয়া থানার পার্শ্ববর্তী এলাকার কারিমুল (৪৫) ও তেলিখালী গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০)।

ভারতের সবচেয়ে ধনী মন্ত্রী অরুণ জেটলি

ভারতের মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলির। ভারতীয় মুদ্রায় তাঁর ৭২ কোটি ১০ লাখ রুপির সম্পদ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ রুপির সম্পদ।
দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। ওয়েবসাইটটিতে মন্ত্রীদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অপশনে সম্পদ ও ঋণের হিসাব দেওয়া আছে।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, মোদি সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে কম ২০ লাখ ৪৫ হাজার রুপির সম্পদ রয়েছে নগর উন্নয়নমন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডুর।
মোদির সম্পদের মধ্যে ৩৮ হাজার ৭০০ রুপি নগদ, ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ রুপি এবং ডিপোজিট ১৭ লাখ ৯২৭ রুপি আছে। তাঁর ২০ হাজার রুপির বন্ড, ভারতের জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর এনএসসিতে ২ লাখ ৩৫ হাজার রুপি, ইনস্যুরেন্স পলিসিতে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩১ রুপি এবং গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী বাবদ এক লাখ ২০ হাজার ৯৮০ রুপির অর্থ আছে। এ ছাড়া মোদির গান্ধীনগরে একটি বাড়ি আছে, যার দাম এক কোটি রুপি।
সম্পদের হিসাবে স্ত্রী যশোদাবেনের সম্পদের কোনো উল্লেখ করেননি মোদি। ওই অপশনে ‘জানা নেই’ লিখেছেন তিনি।
সম্পদের হিসাব থেকে জানা গেছে, মোদির মন্ত্রিপরিষদের ২২ সদস্যের ১৭ জনই কোটিপতি। কোটিপতি নন এমন পাঁচজনের মধ্যে ভেঙ্কাইয়া নাইডু বাদে খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ানের ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার রুপি, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমারের ৪৪ লাখ ৯০ হাজার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার, রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী অনন্ত কুমারের ৬০ লাখ ৬২ হাজার রুপির সমমূল্যের সম্পদ রয়েছে।

রোনালদোই আবার ফিফা বর্ষসেরা!

একটি–দুটি নয়। টানা চার–চারটি। লিওনেল মেসি একের পর এক ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। আর দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। অথচ তিনিও সে সময় খেলছিলেন দুর্দান্ত। এবার কি মেসির দর্শক হওয়ার পালা? কার্লো আনচেলত্তি কিন্তু তেমনটাই মনে করেন। রিয়াল মাদ্রিদ কোচের মনে কোনো সংশয় নেই, গতবারের মতো এবারও ব্যালন ডি’অর জিততে চলেছেন রোনালদোই।

লিগে টানা চার ম্যাচে রোনালদো তৃতীয় হ্যাটট্রিক করার পর আনচেলত্তি বলেছেন, ‘রোনালদো যে এ বছরও ব্যালন ডি’অর জিততে চলেছে এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। এটা নিয়ে বাজি ধরারও কিছু নেই।’
২০০৮ সালে রোনালদো প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন। তখন অবশ্য ফিফা বর্ষসেরা আর ব্যালন ডি’অর আলাদা দুটো পুরস্কার ছিল। এরপর মেসি টানা চারবার এই পুরস্কার পান। গত বছর আবারও বর্ষসেরা হন রোনালদো। এই পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। বোঝা গিয়েছিল, এত দুর্দান্ত খেলেও মেসির আলোতে ম্লান হয়ে থাকাটা তাঁর জন্য কতটা অসহনীয় বেদনার ছিল। যদিও মেসি–ভক্তদের অভিযোগ, গতবারও ভোটাভুটিতে মেসিই জিতেছিলেন। কিন্তু সমালোচনার ভয়ে ফিফা ভোটের সময়সূচি আরেক দফা বাড়িয়েই শুধু দেয়নি, আগে কেউ ভোট দিয়ে ফেললে সেটি পরিবর্তনের সুযোগও করে দিয়েছিল। ফিফা বর্ষসেরার ভোটাভুটি নিয়ে রোনালদো আর সেপ ব্ল্যাটার কথার লড়াইয়েও জড়িয়ে পড়েছিলেন।
তবে এবার নিজের আলোতে রোনালদো যেন ম্লান করে দিচ্ছেন মেসিকে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৭ গোল করেছেন। সব মিলিয়ে ৪৭ ম্যাচে করেছেন ৫১ গোল। টানা চার মৌসুমে গোলের ফিফটি। যদিও বিশ্বকাপটা ভালো যায়নি তাঁর। তবে এক যুগ পর রিয়ালকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। অন্যদিকে বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে ৪৬ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন মেসি। গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন। মেসি বিশ্বকাপটা জিতলে হয়তো অন্য রকম কিছু হতো। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতায় রোনালদোই এদিক দিয়ে এগিয়ে আছেন।
তার ওপর এই মৌসুমের শুরু থেকে যেভাবে গোল করছেন, ব্যালন ডি’অরের ভোটাররা রোনালদোতে প্রভাবিত হতেই পারেন। ফিফার সদস্য দেশগুলোর জাতীয় দলের কোচ–অধিনায়ক ও একজন সাংবাদিক বর্ষসেরা নির্বাচনের ভোট দিয়ে থাকেন।

ফেসবুক পাইয়ে দিল তিন বছরের জানভিকে

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে হারিয়ে গিয়েছিল তিন বছরের মেয়েশিশু জানভি আহুজা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ফলাও করে প্রচারণার পর গতকাল রোববার ছোট্ট সেই শিশুটিকে পাওয়া গেছে। এর আগে জানভি হারানোর পরই তাকে শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবি ব্যাপক সাড়া জাগায়। নয়াদিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসবিএস তিয়াগী বলেন, ‘এটি মুক্তিপণ চাওয়ার বিনিময়ে কোনো অপহরণ নয়...কোনো সন্তানহীন দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারে...আমি মনে করি, যখনই ফেসবুকে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হলো, তখন তারা (জানভিকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা) বিচলিত হয়ে এটা করেছে (তাঁকে ফেরত দিয়েছে)। এ ছাড়া জানভির মা-বাবা ও স্বজনেরা তাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে গত শনিবার রাতে বিক্ষোভ করে।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গতকাল জানভিকে ন্যাড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথার ওপর একটি প্ল্যাকার্ডে তার নাম লেখা।গতকাল রাতে মেয়েকে পাওয়ার পর বাবা রাজেশ আহুজা বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমার মেয়ের পুনর্জন্ম হয়েছে।’ খবরে জানানো হয়, ওই দিন ইন্ডিয়া গেট মেমোরিয়াল-সংলগ্ন একটি জনাকীর্ণ সবুজ চত্বরে পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিল জানভি। সেখানে খেলা করার সময় হঠাৎ সে হারিয়ে যায়।
পুলিশ বর্তমানে ইন্ডিয়া গেটে থাকা ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরার একটিতে ধারণ করা জানভির একটি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক নয়টা ২০ মিনিটে সাদা ড্রেস পরা শিশুটি একাকী ঘুরছে। পুলিশের ভাষ্য, জানভির বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দিল্লিতে একটি গুরুদুয়ারার সামনে জানভিকে চিহ্নিত করে একজন পথিক। পরে পশ্চিম দিল্লির মায়াপুরী থানায় তার চাচা তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়ার পর জানভিকে বিচলিত মনে হয়নি। তাকে একটি গাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল—এটুকুই শুধু তার মনে আছে।
জানভির পরিবারের সন্দেহ, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে গত সাত দিনে তাদের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে কোনো কল আসেনি।
এদিকে জানভির হারিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির জনপ্রিয় স্থানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে, যেখানে বাতি অনেক সময়ই ঠিকমতো জ্বলে না এবং সপ্তাহান্তে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

ফেসবুক পাইয়ে দিল তিন বছরের জানভিকে

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে হারিয়ে গিয়েছিল তিন বছরের মেয়েশিশু জানভি আহুজা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ফলাও করে প্রচারণার পর গতকাল রোববার ছোট্ট সেই শিশুটিকে পাওয়া গেছে। এর আগে জানভি হারানোর পরই তাকে শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবি ব্যাপক সাড়া জাগায়। নয়াদিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসবিএস তিয়াগী বলেন, ‘এটি মুক্তিপণ চাওয়ার বিনিময়ে কোনো অপহরণ নয়...কোনো সন্তানহীন দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারে...আমি মনে করি, যখনই ফেসবুকে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হলো, তখন তারা (জানভিকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা) বিচলিত হয়ে এটা করেছে (তাঁকে ফেরত দিয়েছে)। এ ছাড়া জানভির মা-বাবা ও স্বজনেরা তাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে গত শনিবার রাতে বিক্ষোভ করে।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গতকাল জানভিকে ন্যাড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথার ওপর একটি প্ল্যাকার্ডে তার নাম লেখা।গতকাল রাতে মেয়েকে পাওয়ার পর বাবা রাজেশ আহুজা বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমার মেয়ের পুনর্জন্ম হয়েছে।’ খবরে জানানো হয়, ওই দিন ইন্ডিয়া গেট মেমোরিয়াল-সংলগ্ন একটি জনাকীর্ণ সবুজ চত্বরে পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিল জানভি। সেখানে খেলা করার সময় হঠাৎ সে হারিয়ে যায়।
পুলিশ বর্তমানে ইন্ডিয়া গেটে থাকা ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরার একটিতে ধারণ করা জানভির একটি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক নয়টা ২০ মিনিটে সাদা ড্রেস পরা শিশুটি একাকী ঘুরছে। পুলিশের ভাষ্য, জানভির বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দিল্লিতে একটি গুরুদুয়ারার সামনে জানভিকে চিহ্নিত করে একজন পথিক। পরে পশ্চিম দিল্লির মায়াপুরী থানায় তার চাচা তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়ার পর জানভিকে বিচলিত মনে হয়নি। তাকে একটি গাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল—এটুকুই শুধু তার মনে আছে।
জানভির পরিবারের সন্দেহ, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে গত সাত দিনে তাদের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে কোনো কল আসেনি।
এদিকে জানভির হারিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির জনপ্রিয় স্থানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে, যেখানে বাতি অনেক সময়ই ঠিকমতো জ্বলে না এবং সপ্তাহান্তে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।