Friday, December 12, 2014

সুন্দরবন বিপর্যয়- তেল সরানোর কাজে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব বৃটিশ কোম্পানির

বৃটিশ একটি প্রতিষ্ঠান তেল সরানোর কাজে বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এ কথা জানিয়েছেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে তিনি বলেন, লন্ডনভিত্তিক একটি দল আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা রোববার ঢাকায় এসে পৌঁছুবে বলে আশা করছি। আমরা তাদের নিয়ে বৈঠক করব। আশা করি, এ বৈঠকে আমরা ভাল একটা ফল পাবো। তারা তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কি ধরনের সাহায্য করতে পারবে আমাদের সে প্রস্তাব দেবে। আমরা যদি দেখি সেটা উপযোগী আমরা সেই কাজটি করার জন্য তাদের সুযোগ করে দেবো। ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বা এ কাজে তাদের অভিজ্ঞতা আছে কিনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র একটা প্রস্তাব তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টা রোববারের সভায় আমরা জানতে পারবো। প্রতিষ্ঠানটি নিজেরাই এ প্রস্তাব দিয়েছে এবং তারা এ কাজ করে থাকে জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেছে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, মূলত তাদের কাছে খবরই দেরিতে এসেছে। সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেছে এটা সঠিক নয়। বনের ভেতর বাণিজ্যক নৌযান চলাচল বন্ধে ইউএনডিপি যে আহ্বান জানিয়েছে সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর বিকল্প একটি যাত্রাপথ তৈরির কাজ চলছে যা এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবেশ মন্ত্রনালয়ে বিশেষজ্ঞরা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে তেল অপসারণের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো হলে আরও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান বন সংরক্ষক ইউনূস আলী বলেছেন, কেমিস্টদের একটি দল ঢাকা থেকে আজ ঘটনাস্থলে যাবেন। ঘটনার চার দিনের মাথায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সে দলের একজন সদস্য এবং খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিষয়ক শিক্ষক দিলিপ কুমার দত্ত বলেছেন, ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে। এখন সেটাকে বাদ দিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। গ্রামবাসী আর জেলেদের উদ্বুদ্ধ করে পুরোনো পদ্ধতিতে নদী থেকে তেল সরানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে ছোট ছোট নৌকায় করে স্থানীয়রা বালতি আর হাড়ি পাতিল নিয়ে ফোম দিয়ে তেল তুলছেন। স্থানীয় নিবাসীদের সহায়তায় তেল সরানোর কাজ এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে, উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকার ‘ওটি সাউদার্ন স্টার ৭'-কে দুর্ঘটনার দু'দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে৷ কিন্তু ট্যাংকার থেকে ৭০ কিলোমটিার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পড়েছে চরম হুমকির মুখে৷ পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শেলা নদীতে মঙ্গলবার ভোরে মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় তেলসহ ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন' নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়৷ দুর্ঘটনা কবলিত ওই তেলবাহী ট্যাংকার থেকে আশেপাশের প্রায় ৭০ কিলোমিটার অঞ্চলে তেল ছড়িয়ে পড়ে৷ বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে৷ ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল৷ এ ঘটনায় ট্যাংকারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন৷ ট্যাংকার ফেটে ডুবে যাওয়ার কারণে তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায়, মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য৷ বিশেষ করে ইরাবতী ডলফিন অধ্যুষিত এলাকায় এখন ডলফিনের বিচরণ দেখা যাচ্ছে না৷ এছাড়া জোয়ারে তেলযুক্ত পানি বনে প্রবেশ করায় গাছের গোড়ায় ও শ্বাসমূলে তেলের আবরণ লেগে তা ক্ষতির মুখে পড়ছে৷ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘এত পরিমাণ তেল পানিতে ভেসে থাকায় উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর এর মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে৷'' তিনি বলেন, ‘‘সুন্দরবনের মতো শ্বাসমূলীয় বনের গাছপালা শ্বাসমূল দিয়ে অক্সিজেন নেয়৷ এই তেলের আস্তর জোয়ারের সময় মাটির ওপরে বিস্তৃত হলে গাছের শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত করবে৷ ফলে গাছ মারা যাবে৷' পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকলে শিগগিরই ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য' থেকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যে'-র তালিকায় নাম লেখাবে সুন্দরবন৷ নিয়মিত অবহেলার মুখে ইতোমধ্যে সুন্দরবন থেকে ২ প্রজাতির পাখি, ৫ প্রজাতির মাছ এবং ৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী হারিয়ে গেছে৷ বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ২ প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী৷ জাতিসংঘের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা বিভাগ ইউনেস্কো-র বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি পলিন টেমেসিস এক বিবৃতিতে জানান যে, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-যান চলাচল করলে তা জীববৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে৷ সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য৷ এই বনে অনেক বিপন্ন এবং বিশ্বের দুর্লভ জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে৷ তাই অনতিবিলম্বে সুন্দবনের ভেতর দিয়ে নৌ-যান চলাচল বন্ধে আবারও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷ তেল ছড়িয়ে পড়ার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরো জানান, জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল সুন্দরবন পরিদর্শন করবে শীঘ্রই৷ নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান অবশ্য জানিয়েছেন, পানির ওপর থেকে তেল দূর করতে উদ্ধারকারী জাহাজ কাণ্ডারী-১০ থেকে রাসায়নিক ছিটানো হবে৷ এতে ভেসে থাকা তেল পানির নীচে চলে যাবে এবং পানির অক্সিজেন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে৷ এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের হার্বার মাস্টার আকতারুজ্জামান জানান, দ্রুতই তেল অপসারণের কাজ শুরু হবে৷ ট্যাংকার দুর্ঘটনায় তেল নিঃসরণের পর সুন্দরবনে শেলা নদী রুটে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার৷ নৌ-মন্ত্রণালয় জানায়, এক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শেলা নদী রুটে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ ওদিকে, তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুই জাহাজ মালিকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বনবিভাগ৷- ডিডব্লিউ।

সুন্দরবনে তেলের ট্যাংকার-ডুবি মরছে হাঁস-গুইসাপ, ভারী তেলে জড়াচ্ছে গুল্ম-শ্বাসমূল

তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সুন্দরবন এলাকায়। ট্যাংকার-ডুবির তিন দিন পর শুক্রবার ওই এলাকায় কয়েকটি হাঁস ও গুইসাপ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুল্ম ও শ্বাসমূলে জড়াচ্ছে ভারী ফার্নেস অয়েল। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপকূলে মাইকিং করে জনসাধারণকে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালের তেল তুলে নেয়ার যে আহ্বান জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ, তাতে বেশ সাড়া মিলেছে। সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল অপসারণে স্বতঃর্ফূতভাবে এগিয়ে এসেছে জেলে, বাওয়ালীসহ জনসাধারণ। শুক্রবার সকালে তারা দলবেঁধে নেমে পড়েছে সুন্দরবনের নদী ও খালে। হাতের কাছে সুবিধাজনক যা পেয়েছে, তা-ই নিয়ে তারা তেল অপসারণে কাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতিতে তেল অপসারণে তারা ব্যবহার করছে থালা-বাসন, চট, কলাপাতা, ফোম ইত্যাদি। আর সংগ্রহ করছে ঘটি-বালতি-পলিথিনে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পদ্মা অয়েল কোং লিমিটেড দুটি অস্থায়ী ডিপোতে স্থানীয় জনসাধারণের সংগ্রহ করা ফার্নেস অয়েল  কিনছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ভাসমান তেলের ওপর রাসায়নিক পাউডার না ছিটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ।
আর সুন্দরবনে শেলা নদীতে ফার্নেস অয়েলের ওপর রাসায়নিক পাউডার ছিটানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে আনা কান্ডারী-১০ জাহাজটি বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে জয়মনির ঘোল এলাকায় নোঙর করে রয়েছে। রাসায়নিক পাউডার ছিটানোর ছাড়পত্র দেয়নি পরিবেশ অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নয় সদস্যের তদন্ত  কমিটি শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। কমিটি সাংবাদিকদের জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা দেখেছে। পরে সিদ্ধান্ত জানাবে।
মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’-এর নিখোঁজ মাস্টার মোকলেসুর রহমানের (৫০) এখনো কোনো হদিস মেলেনি।
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিনের অভয়াশ্রমের মধ্যে অয়েল ট্যাংকার ডুবি ও তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ, ইউনেসকো, বন বিভাগসহ পরিবেশবিদরা।
গত চার দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন শাখানদী ও খালে পরিবেশ ও প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর যে পরিমাণ কালো ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছে, তা ভাবিয়ে তুলেছে বন বিভাগকে।
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের কারণে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। আর জোয়ার-ভাটার প্রভাবে ফার্নেস অয়েল পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস পেয়ে সেখানকার  জলজ প্রাণীর জীবন সংকাটপূর্ণ করে তুলেছে।
ইতিমধ্যে ছয়টি হাঁস, একটি গুইসাপ মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া নদী-তীরবর্তী এলাকায় গুল্ম ও উদ্ভিদের শ্বাসমূল ভারী ফার্নেস অয়েলে জড়িয়ে যাচ্ছে।
যদিও ঠিক এ মুহূর্তে  উদ্ভিদ জগতের ক্ষতির বিষয়টি চোখে পড়ছে না, তবে আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে গুল্মগুচ্ছ ও উদ্ভিদের রং বিবর্ণ হয়ে মারা যেতে পারে বলে  পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন ।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উদ্ভিদবিদ প্রফেসর শেখ বুলবুল কবির সাংবাদিকদের বলেন,  সুন্দরবনের ব্যাপক এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ায় (ডিও) পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়ায় ডলফিনসহ অন্যান্য প্রাণিকুলের ক্ষতি হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানকার নদীতে থাকা ডলফিন যদি অন্যত্র সরে গিয়ে থাকতে পারে, তবে এ ধরনের হুমকি থেকে নিজেরাই তাদের রক্ষার করতে সক্ষম হবে। তবে ছড়িয়ে পড়া তেলের প্রভাবে সুন্দরবনের জ্বলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা  রয়েছে।
প্রফেসর শেখ বুলবুল  বলেন, যেহেতু প্রকৃতিগতভাবেই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠে, তাই নিয়মিত জোয়ার-ভাটা অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনও এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।
এদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে নয় সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে।
ভাসমান তেল সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া রোধে ও তেল তোলার সুবিধার্থে জোয়ারের সময় খালগুলোতে ফার্নেস অয়েল যাতে ঢুকতে না পারে সে জন্য বৃহস্পতিবারই  খালগুলোর মুখে নেট দিয়ে প্রতিবন্ধক  দেয়া হয়।
এদিকে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বাগেরহাট জেলা শাখার সদস্যসচীব ফররুক হাসান জুয়েল তাদের জাতীয় কমিটির বরাত দিয়ে দাবি করেন, “একটি অয়েল ট্যাংকারের তেলে যদি সুন্দরবনের এ অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে  তাহলে সুন্দরবনের পাশে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে কী হুমকির সৃষ্টি হবে তা বলাই বাহুল্য।” তিনি বলেন, “সরকারের এ হটকারী সিদ্ধান্তের ফলে বনটি একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা সরকারকে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অবিলম্বে সুন্দরবনের পাশে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র  নির্মাণ বন্ধের দাবি জানাই।” 

দিনাজপুরে সংঘর্ষে বিএনপির সভা পণ্ড, গাড়ি ভাঙচুর

(তিন পক্ষের মঞ্চ দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির যৌথ কর্মিসভা পণ্ড হয়ে যায়। ছবিটি শহরের লোকভবন মিলনায়তন থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে তিন পক্ষের মঞ্চ দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর জেলা বিএনপির যৌথ কর্মিসভা পণ্ড হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহরের লোকভবন মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্রও করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুরো ঘটনার জন্য দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, বিভক্তি, নেতৃত্বের কোন্দল এবং সরকারি দলের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন নেতারা। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা কমিটি আজ ওই যৌথ সভার আয়োজন করেছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সভা শুরুর আগে সভার প্রধান অতিথি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মো. মিজানুর রহমানসহ অপর অতিথিরা সভাস্থলে আসেন। এর আগেই জেলার ১৩ উপজেলা ও ৮টি পৌরসভা কমিটির নেতা-কর্মীরা যৌথসভায় উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় কার্যালয় বা সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিলেন না। কিন্তু আজ সভা শুরুর আগেই বেলা পৌনে ১১টার দিকে কয়েক শ কর্মী-সমর্থকসহ মুকুর চৌধুরী মিলনায়তনে আসেন। এ সময় সভা শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। মুকুরের সমর্থকেরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁকে দিয়ে সভা পরিচালনা করার দাবি জানান। মুকুর চৌধুরী নিজেও সভা পরিচালনা করবেন বলে ঘোষণা দেন। এ সময় জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মুকুর চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মঞ্চে টাঙানো ব্যানারে কেন্দ্রীয় নেতাদের নামের পাশে মুকুর চৌধুরীর না থাকায় তাঁর সমর্থকেরা মঞ্চের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তফা কামাল ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে মুকুর চৌধুরীর সমর্থকদের হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় মাহবুবুর রহমান ও মিজানুর রহমান উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। বেলা ১১টার দিকে মুকুর চৌধুরী ও জেলা নেতৃত্বের পক্ষের সমর্থকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে যান।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাবেক মন্ত্রী খুরশিদ জাহান হক ও তাঁর বড় ছেলে শাহরিয়ার আকতার হক ওরফে ডনের ছবিসহ হাতে ফেস্টুন ও মাথায় পট্টি বেঁধে জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল আলম ও যুবদলের সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক শ কর্মী-সমর্থক মিলনায়তনে আসেন। দলের এ অংশটি কোন্দল ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানায়। এরপরই হাতাহাতি ও বিভিন্ন পক্ষের দাবির মুখে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সহসভাপতি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, সাবেক সংসাদ মো. আকতারুজ্জামান মিয়া ও সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম উপস্থিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে যান।
মিলনায়তন চত্বরে আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, দিনাজপুর জেলা বিএনপি বর্তমানে তিন ভাগে বিভক্ত। ভেতরে ঘা রেখে ওপরে প্রলেপ বা জোড়াতালি দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন করে কমিটি গঠন করা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। মো. আশরাফুল আলম বলেন, জেলার বর্তমান কমিটি দল পরিচালনায় ব্যর্থ। ফলে অনেক বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীদের ওপর নেতাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে সব পক্ষকে নিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার দাবি জানান তিনি। অপরদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বিরোধী দলের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিভেদ-বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজন ঐক্যের। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে সেই ঐক্য সম্ভব নয়।
বিএনপি মামা-ভাগিনার দল নয়
এদিকে যৌথ কর্মিসভা পণ্ড হওয়ার পর বেলা তিনটার দিকে দিনাজপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমানের বাসায় প্রেস ব্রিফিং করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় মাথায় পট্টি বাঁধা ডন লেখা (প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক ও তাঁর ছেলে শাহরিয়ার আকতার হক) ছবি বহনকারীদের দায়ী করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তস্করের মতো হলে প্রবেশ করে তাঁরা মঞ্চ দখল করে নিল। এদের বেশির ভাগ অচেনা মুখ। দলের কর্মকাণ্ডের সাথে কোনো কালেই তাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিল না।’ তিনি বলেন, বিএনপি কোনো মামা-ভাগিনার দল নয়। জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসীদের দল। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। মিজানুর রহমান বলেন, দিনাজপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে জেলায় দলের অনৈক্যের সংকট প্রকট। নেতৃত্বে দুর্বলতা এবং কোন্দল রয়েছে। সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলাপ আলোচনা ছাড়া এ সংকট উত্তরণ সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফুর রহমানসহ জেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর
বিকেলে প্রেস ব্রিফিং শেষ করে যাওয়ার সময় শহরের লিলি সিনেমা মোড়ে একটি পক্ষের কর্মীরা মাহবুবুর রহমানকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেন। কর্মীরা ইট দিয়ে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় অনেককে জুতা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় মাহবুবুর রহমানের কোনো ক্ষতি হয়নি।

ত্বকীকে হত্যা করে পরিবেশ বিষাক্ত করা হয়েছে: কামাল লোহানী

(আজ নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা উদীচীর দশম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কামাল লোহানী ও রওনক রেহানা। ছবি: পাপ্পু ভট্টাচার্য্য) উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি কামাল লোহানী বলেছেন, ‘গণতন্ত্র বলে এ দেশে কোনো কিছু নেই। মানুষ কথা বলতে পারছে না। কেউ প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁর প্রতিপক্ষ সহিংসতায়, হিংস্রতায় তাঁকে দমনের চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জ তাঁর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। একটি মাত্র পরিবারের ঘৃণ্য চক্রান্ত এ শহরের মানুষের মন থেকে শান্তিকে বিতাড়িত করেছে। ত্বকীকে হত্যা করে এই শহরে একটা বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’ আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা উদীচীর দশম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল লোহানী এসব কথা বলেন।
উদীচীর জেলা শাখার সভাপতি জাহিদুল হক দিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকীর মা রওনক রেহানা। বক্তব্য দেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পিন্টু সাহা। উপস্থিত ছিলেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, উদীচীর সংগঠক জিয়াউল ইসলাম কাজল প্রমুখ।
কামাল লোহানী আরও বলেন, ত্বকী হত্যার প্রতিবাদ শুধু নারায়ণগঞ্জে না, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্সসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বীর জনতা এই অবিচারের বিরুদ্ধে বীরোচিত লড়াই করে চলেছেন। এ দেশের মানুষ ও যাঁরা বিশ্বের মুক্তি সংগ্রামী, তাঁরা নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে রয়েছেন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
অনুষ্ঠানে ত্বকীর মা রওনক রেহানা বলেন, ‘আজকে দেশ সংকটে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। মানুষের জেগে ওঠার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করার জন্য হত্যা, গুম, নির্যাতন, সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আতঙ্ক। আর এসবই হচ্ছে সরকারের সহায়তায়। নারায়ণগঞ্জে চরম অশান্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে জনগণ প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে হতাশ করেছেন। তিনি বিশেষ পক্ষ অবলম্বন করায় জনগণের স্বপ্ন, স্বার্থ, আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আর সে কারণে সংকট এখানে আরও ঘনীভূত হয়েছে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে।

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গুগল নিউজ

অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুগল স্পেনে তাদের সংবাদ পরিবেশ পরিষেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। কপিরাইট সংক্রান্ত এক নতুন আইন স্পেনে বলবৎ হওয়ায় গুগল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পেনে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন এ আইন কার্যকর হবে। তার আগে ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্পেনে গুগল নিউজ সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হবে।   স্পেনের নতুন কপিরাইট আইনে বলা হয়েছে, গুগল নিউজসহ অন্যান্য সাইটগুলো স্পেনের পত্র-পত্রিকা ও প্রকাশনার যেকোনো ‘কন্টেন্ট’ নিজেদের সাইটে আপলোড করলে, বিনিময়ে তাদের অর্থমূল্য দিতে হবে। আর গুগল এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে।   গুগলের দাবি, তাদের ‘নিউজ সার্ভিস’ থেকে কোনো অর্থ আমদানি হয় না। গুগল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পরিষেবা দেয়। সুতরাং গুগলও এর জন্য কাউকে কোনো অর্থমূল্য দিতে পারবে না। গুগল নিউজের প্রধান কার্যনির্বাহী রিচার্ড গিনগ্রাস এক ব্লগ পোস্টে গত বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করেন।   তিনি স্পেনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের আইন টিকবে না। কারণ প্রকাশকরা গুগল নিউজে তাদের ‘কন্টেন্ট’ প্রকাশ করে বরং লাভবান হতো। নিজেদের কন্টেন্ট গুগল নিউজে প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বেড়ে যেতো। যা থেকে প্রকাশকদেরই  বাড়তি আয় হতো। সূত্র: বিবিসি

মানবাধিকার নাকি মানবিক ‘প্রহসন’ দিবস? -মাহফুজ আনাম

মানবাধিকার দিবসটা একটা প্রহসন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দেশে লজ্জাজনকভাবে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, আশংকাজনক মাত্রায় মানুষ গুম হচ্ছে, এর চাইতেও বিরক্তিকর হচ্ছে- যার সরকারের ভাবটা ‘কুছ পরওয়া নেহি’ কিংবা এসব কর্মকাণ্ডকে মৌন সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে তাতে ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’কে ‘প্রহসন দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে। একটা সময় ছিল যখন দারিদ্র্যের জন্য আমরা পরিচিত ছিলাম। সেদিনগুলো সৌভাগ্যবশত এখন আমরা অনেকটা পেছনে ফেলে এসেছি। উপরন্তু আমরা এখন একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করছি। ক্ষমতাসীন দলের পেশিশক্তির দ্বারা এসব কাজে কর্তৃত্ব আরোপ হচ্ছে এবং এর চাইতেও বিরক্তিকর হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তাতে ভূমিকা রাখছে। প্রসিদ্ধ ও স্বনামধন্য মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রর তথ্যমতে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ২৫০ জন লোক অপহরণের শিকার হয়েছেন। গত বছরই পুলিশ, র্যা ব কিংবা তাদের সহযোগীদের দ্বারা ৬৯ জন লোককে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়। গত বছরের প্রথম দশ মাসে যাদেরকে অপহরণ করা হয় তাদের ও পুলিশের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ১১৮ জন। গত বছর বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণে।ডর ঘটনা ঘটেছে ২০৮টি। আটকাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের দ্বারা মৃত্যু কিংবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মর্মান্তিকভাবে একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এসব ঘটনা আমাদের সরকারের মনেও কোনো প্রভাব সৃষ্টি করছে না। সবচাইতে অবাক করা কাণ্ড হচ্ছে, এসব ঘটনায় অভিভাবক হিসেবে সরকার ন্যূনতম দায়িত্ববোধও অনুভব করছে না। ভাবছে না নাগরিকদের সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে। বর্তমান বিশ্বের মানবাধিকারের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখতে পাবো সেখানে সরকারের সঙ্গে জনণের সম্পর্কের বিষয়টা পরিপূরক। তাদের সামষ্টিক ও স্বাতন্ত্র্য দুটি দিকই রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতেও যেটা দেখে গেছে গণতন্ত্র প্রতিটি মানুষের মধ্যে শিকড় গেঁড়েছে। এর গুরুত্ব ও অবস্থান মানুষের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল। সরকার প্রতিটি জণগণের নিশ্চয়তায় কাজ করে। প্রতিটি মানুষের সমর্থন নিয়ে তৈরি হতো সরকারের ক্ষমতার উৎস। একক ব্যক্তির দ্বারা একটি দেশ পরিচালনা সম্ভব হয় না, তাই আমরা সরকার নির্বাচিত করি। একই সময়ে সরকারকে দেশ পরিচালনার জন্য আমরা সংবিধানের পোশাক পরিয়ে দিই। এছাড়া রয়েছে আইন ও অন্যান্য নিয়ম-নীতি যাতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পথে দেশ চালাতে পারে। সরকার অধিক ক্ষমতাধর হলেও তাকে এ আইন দ্বারা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু সমস্যাটা তখনই তৈরি হয় যখন সরকার আইনের সীমাকে লঙ্ঘন করা শুরু করে। আর ভাবটা এমন যে, তারা আইনেরও ঊর্ধ্বের একটা বস্তু। এ ধরনের চিন্তাভাবনা সংসদের সঙ্গে সরকারের শক্তির বিষয়টির তুলনা সামনাসামনি চলে আসে। এবং এটি ‘যা করছি তা সঠিক’ এ ধরনের ভাবনা তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সরকারের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। আমরা সহজেই এটা অনুমান করতে পারি যখন কোনো সরকার যখন সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এ জায়গায় থেকেই আমাদের গল্পের মূল শুরুটা করতে চাচ্ছি। আমরা মনে করি, সরকার নিজেকে কেবল আইনের ঊর্ধ্বের একটা বস্তু মনে করছে না, তারা মনে করছে তারাই ‘আইন’। যখন কোনো সংসদে নামকাওয়াস্তে বিরোধী দল থাকে, আর এ দলটিই যখন সরকারেও থাকে আবার বিরোধী পক্ষেও থাকে, একটি জোট থেকে যখন সংসদের অর্ধেক আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায়- তখন বিষয়টা এ জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায় যে, কেউ ব্যালটে একটা ভোট না দিলেও সরকার গঠন করতে পারবে তারা। তখন সরকার নিজেদেরকে ‘আইন’ এর সমতুল্য মনে করবে এটাই স্বাভাবিক। আর এ জন্যই আমাদের সমাজব্যবস্থাটা ‘ঠগ নিয়ন্ত্রিত’ হয়ে যাচ্ছে। আর দায়মুক্তি সংস্কৃতির আশির্বাদে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংস্থাগুলো জনগণের কাছে কোনো ধরনের জবাব দিতে বাধ্য নয়। অথচ জনগণের সেবাই তাদের দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার শাহনূর আলমের ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। গত ২৯ এপ্রিল তাকে তোলে নিয়ে যায় র্যা ব সদস্যরা। ৩০ এপ্রিল তাকে নবীনগর পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়। ১ মে কোর্টে হাজার করা হলে তাকে স্থানীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ৪ মে তাকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আটকের পর প্রথম দেখা হয় শাহনূরের। সে তাদের কাছে কারাগারের নির্যাতনের নির্মম কষ্টের কথা জানায়। এর পরদিনই মারা যান তিনি। র্যা ব ও পুলিশ উভয়েই দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, আইনের আওতায় তাদের জবাবদিহিতার সুযোগ রয়েছে। আদালত জনগণের অধিকার রক্ষায় এ ক্ষেত্রে কাজ করবে। কেন শাহনূরের মামলায় ধীর গতি অবলম্বন হচ্ছে? গত ৪ ডিসেম্বর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মারা যাওয়া শাহনূরের দুই মেয়ে চার বছর বযসী আরওয়া ও দশ বছর বয়সী রাইতা। সংবাদ সম্মেলনে তারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বাবাকে কেন র্যা ব ধরে নিয়ে গিয়েছিল সে বিষয়ে জানতে চায়। একই জায়গায় আরো সাত অভিযোগকারী জানতে চান, তাদের প্রিয়জনরা এখন কোথায়, কিভাবে রয়েছে। তাদেরকে আইনশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তোলে নিয়ে আসে। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কাছে আরো ভয়ঙ্কর সব ঘটনার খবর রয়েছে। এসব বিষয়ে একই দিন বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইন প্র্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমি র্যা বকেও জিজ্ঞাসা করেছি, পুলিশকেও জিজ্ঞাসা করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, তারা কিছু জানে না।” বিষয়টির যেন এখানেই সমাপ্তি। কেউ এর জন্য দায়ী নয়, আইন, আদালত ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের কাছে কেউ জবাবদিহির মুখোমুখি নয়। এছাড়া আরো অনেক কথা রয়েছে।  এগুলো তখনই করার সাহস পায় যখন নির্বাচিত সরকার তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কারো কাছে দায়বদ্ধ নয় এ পরিবেশ সৃষ্টি করে। দায়মুক্তির এ সংস্কৃতির জন্যই ‘ঠগ নিয়ন্ত্রিত’ সমাজ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করতে পারি। আর এর ফলে বিষয়টা এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সরকারি দলের হলে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারবে। সে যা মন চায় তাই করতে পারবে এবং আক্ষরিক অর্থে চাইলে খুনও করতে পারবে। এর সবকিছু তখনই শুরু হলো যখন আওয়ামী লীগ তাদের আগের শাসনামলে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটের মতো মামলায় অভিযুক্তদের মামলা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তুলে নেয়া শুরু করলো। একই কায়দার আশ্রয় নেয়া হলো ক্ষমতাসীন দলটির ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীদের ক্ষেত্রে।   যত বেশি দায়মুক্তি, তত বেশি সন্ত্রাসের বৃদ্ধি, গভীরতা ও প্রসার ঘটছে। যখন জনগণকে এটা বুঝানো যাচ্ছিল না যে, এগুলো সরকারের নেতা-কর্মীদের কাণ্ড, তখনই বলা হলো- দলের নাম ভাঙিয়ে একটি পক্ষ সন্ত্রাস চালাচ্ছে। শিগগির পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। যখন মিডিয়া চলমান সন্ত্রাসের ওপর দৃষ্টিপাত করলো, তারা দেখাল যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যক্তি কিংবা অন্যদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।   দায়মুক্তির সংস্কৃতি বের হয়ে আশার ক্ষেত্রে আমরা সম্ভবত একমাত্র আশার আলো দেখতে পেলাম র‌্যাবের সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে দেখানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২১ সদস্য জড়িত। এক্ষেত্রে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে পারি, প্রথম দিকে খুনের ঘটনায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল র‌্যাব। হাইকোর্টের একটি রুলের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত করতে বাধ্য হয় তারা। আর এ রুলে চরম অখুশি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রকাশ্যে নির্বাহী কাজে আদালতের হস্তক্ষেপের জন্য নিন্দা জানান।   মানবাধিকার দিবসে জোর করে জানতে ইচ্ছে করে, আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা কতটা স্বাধীন, আমাদের মত প্রকাশ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা কতটুকু? ক্ষমতাবান মানুষদের বিপক্ষে নিজের মতামত ব্যক্ত করার জন্য কেন মানুষদের জেল খাটতে হবে? কেন নিয়মবর্হিভূতভাবে মানুষকে আটক করা হবে আর জেলে দেয়া হবে? কেন পত্রিকার অফিসে পুলিশ অভিযান চালাবে? তথাকথিত ‘উসকানিমূলক সংবাদ’ প্রকাশের দোষ দিয়ে সাংবাদিকদের জোর করে আটক করে নিয়ে আসবে? মিডিয়ার জবাবদিহিতার জন্য তো প্রতিষ্ঠিত অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে।   নিঃসন্দেহে বাতাসে স্বৈরাচারী শাসনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই ‘ঠগ নিয়ন্ত্রিত’ ব্যবস্থা বিরোধী মত দমনের জন্য একটি অস্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ের দায়মুক্তির এ সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা না গেলে এবং সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে আমাদের গণতন্ত্র শিগগির একটি নাম মাত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। [ডেইলি স্টার থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন: গোলাম ইউসুফ সাগর]

জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাই বেশি জরুরি by মইনুল হোসেন

শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে এগিয়ে এসে-ছেন। দেশের অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি এবং দুই নেত্রীর সাংঘর্ষিক রাজনীতি দেখতে দেখতে তারাও ক্লান্ত ও বিরক্ত। যে কোনো দেশে ব্যবসায়ীদের শক্তিকে বড় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রাজনীতিতেও সহযোগিতা জুগিয়ে এসেছেন। এখন যে রাজনীতিকে তারা অসুস্থ রাজনীতি বলে স্বীকার করছেন। তাদের অধিকাংশই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং এই অসুস্থ রাজনীতি চালিয়ে অসুস্থ সরকার পেতে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। আমাদের অদূরদর্শিতার জন্যই দেশ ও জনগণ আজ চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সম্মিলিত ও বলিষ্ঠভাবে একথা বলেছেন যে, দুই নেত্রী যদি অচলাবস্থার ইতি না ঘটান তাহলে তাদের উচিত হবে পদত্যাগ করা। সন্দেহ নেই, তাদের এই পরিষ্কার বার্তা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করবে, তথাপিও তাদের সংকল্প বাস্তবায়নে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। দীর্ঘকাল ধরে ব্যক্তিস্বার্থান্ধ কতিপয় ব্যক্তির ক্ষমতার ক্ষুধা মেটাতে জাতিকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। দুঃখের কথা, দেশকে আজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য জীবন-মরণ লড়াই প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে। নির্বাচনে বিজয় লাভের এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য শাসনতন্ত্র পরিবর্তনসহ সবকিছু করেছে সরকার। যেটা অধিকতর বিরক্তিকর তা হল, নির্বাচনে বিজয় অর্জনের পূর্বপরিকল্পনা জাতিকে পরিষ্কারভাবে দ্বিধাবিভক্ত করেছে। আওয়ামী লীগ অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সর্বদলীয় সরকার গঠন করার ধোঁকাপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো বিকল্প রাখা হয়নি এবং গোটা ব্যাপারটা অবাস্তব ও স্ববিরোধী। ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা আছে এমন কোনো রাজনৈতিক দল সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিতে পারে না। এই পরিকল্পনার সঙ্গে দেশে বিরোধী রাজনীতি না রাখার নীলনকশার মিল রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭৫ সালে সব দলকে নিয়ে ঠিক একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল একদলীয় বাকশাল সরকার গঠনের সময়। এখনকার মতো তখনও শাসনতন্ত্র এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল যাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শাসক জোট তাদের ইচ্ছামতো ক্ষমতায় থাকতে পারে। তখন কোনো নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাও মানা হয়নি। এক্ষেত্রে যেটা বোধগম্য নয় তা হল, আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে শাসনতন্ত্র পরিবর্তন করতে পারে তাহলে অন্যরা কেন সম্মিলিতভাবে শাসনতন্ত্রে যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তন আনার দাবি তুলতে পারবে না?
সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদ ভেঙে না দিয়ে কোথাও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। কারণ, এছাড়া সংসদের আসন শূন্য হয় না। যে কথা আমি বারবার বলে এসেছি তা হল, সংসদ ভেঙে দেয়ার পর নির্বাচনকালে কোনো সরকারই নির্বাচিত থাকতে পারে না। কিন্তু শাসনতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সরকার ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ পদে থেকেই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোনো সংসদীয় ব্যবস্থায় নেই। শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনকে সরকার-পরিবর্তনের জন্য অকার্যকর করা হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতায় রাখার ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হচ্ছে। শাসনতন্ত্র পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ প্রকারান্তরে ক্ষমতা দখলের ‘সিভিলিয়ান ক্যু’ করেছে।
যেটা আমাদের কাছে বিপজ্জনক মনে হচ্ছে তা হল, আওয়ামী লীগের ভেতরে কিছু লোক আসন্ন নির্বাচনকে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিগত দিনে ভারতে থেকে তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, এবার তারা বাংলাদেশে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ করবেন। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি দখলদার সেনা নেই। তাই এরূপ যুদ্ধ হবে তাদের পছন্দমতো এদেশের জনগণের এক বা একাধিক অংশের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে আমাদের ভারতের সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা শুধু নিজেদের শক্তিবলে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে পারেননি।
আশা করি এবার মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করবেন বাইরের সাহায্য না নিয়ে। এর একটাই অর্থ হতে পারে যে, এদেশের লোকেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে লড়বেন। এ ধরনের ধারণার অর্থ হচ্ছে গৃহযুদ্ধ ডেকে আনা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা জানেন যুদ্ধ বলতে কী বোঝায়। তাই তাদের মাথা থেকে এ ধারণা আসতে পারে না। তাছাড়া হাতেগোনা কিছু লোক কখনও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হতে পারে না।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের মুক্তিযুদ্ধ। এই সত্য কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অস্বীকার করতে পারেন না এবং এজন্যই তিনি গর্ববোধ করেন। একমাত্র পুলিশি তৎপরতা ছাড়া অন্য সব বিবেচনায় সরকারের সব কার্যক্রমকে অচল করে দিয়েছে দেশব্যাপী অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আন্দোলন। দেশের রাজধানী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের অন্যতম প্রবীণ সাংবাদিক জনাব এবিএম মূসা, মনেপ্রাণে যিনি একজন আওয়ামী লীগের সমর্থক, তিনি এক টেলিভিশন টকে বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন ঢাকার প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য এ কথার মধ্যে তার হতাশাই ব্যক্ত হয়েছে, কারণ সরকার দেশের অস্বস্তিকর অবস্থার প্রতি উদাসীন। জনগণের মুক্তিযুদ্ধের অখণ্ড চেতনাকে খণ্ডিত করে যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভঙ্গিতে নিজেদের কর্তৃত্ব (অকুপেশান) মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, তাদের সর্বপ্রথম কর্তব্য হচ্ছে এই চেতনা বলতে কী বোঝায় তার একটা ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা।
জনগণ মুক্তিযুদ্ধে এজন্য রক্ত দিয়েছে যে, তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা পাবে। তারা নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই বাংলাদেশের জনগণের মাথাব্যথা, অন্য কোনো মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের অন্য কোনো উদ্দেশ্যের কথা তাদের অজানা। নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেদের অপারগতা যে একটা স্বাধীন জাতির জন্য কত লজ্জাজনক তাও আমাদের নেতারা বুঝতে চাচ্ছেন না। পাকিস্তান ছেড়ে এসেছি পাকিস্তানি আমলের স্বৈরশাসকদের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার মনমানসিকতা ধারণ করার জন্য নয়। দেশের মানুষ আর জীবনহানি, দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী আন্দোলন দেখতে চায় না। তাদের প্রার্থনা, এই ভয়াবহ সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটুক এবং দেশে শান্তি-শৃংখলা ফিরে আসুক। দেশের এখন শান্তিতে থাকা দরকার। সরকার এখন নিজের নির্বাচন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সামনে অগ্রসর হতে চাচ্ছে বলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। আগেই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনার আভাস দিয়েছে।
আমরা শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, পরিস্থিতি ভয়াবহ। তারপরও আমরা আশার কথা বলতে পারি না। কারণ আমরা জানি, আমাদের ক্ষমতাসীন নেতাদের একথা বোঝানো যাবে না যে অযথা দেরি না করে রাজনীতিতে ক্ষমতা ত্যাগ করার মধ্যে মহানুভবতা বিদ্যমান। নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতির পিতা হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলা একবারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় থাকাকে বিজ্ঞচিত কাজ মনে না করে নিজের জীবদ্দশায় নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেন এবং পরিবর্তনকে স্বাগত জানান। আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ এবং তথাপিও তারা এর নাম দিয়েছেন গণতন্ত্র। রাজনীতিকদের কাছে অসহায় থাকাও স্বাধীন দেশের নাগরিকের কথা হতে পারে না। যে কোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করাই যে সবচেয়ে জরুরি তা বুঝতে হবে। রাজনীতিকদের ক্ষমতার লড়াইয়ের কাছে সমগ্র জাতি অসহায় থাকতে পারে না।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

তেল অপসারণে রাসায়নিক ছিটানো স্থগিত

সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কার থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো স্থগিত রেখেছে কান্ডারি-১০। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ হাজার লিটার অয়েল স্পিলড ডিসপারসেন্ট নামের ওই রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কান্ডারি-১০ নামের টাগবোটটি শ্যালা নদীতে পেঁৗছায়। এরপর বিকেল থেকে এক দফা ওই টাগবোটটি থেকে রাসায়নিক ছিটানো শুরু হয়। কিন্তু সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বন বিভাগের আপত্তিতে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে কান্ডারি চাক্তাই রেঞ্জের কাছে নোঙর করে আছে।
আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় টাগবোটে অবস্থানরত পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে জানান, এই অয়েল স্পিলড ডিসপারসেন্ট কোন দেশ থেকে আমদানি করা, এটি তৈরি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ, এর আমদানি কোড এবং রাসায়নিক নাম ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই এটি ছিটানো শুরু হবে।
টাগবোটের ভেতরেই খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আসা একজন কেমিস্ট রাসায়নিকটি পরীক্ষা করছেন জানিয়ে মল্লিক আনোয়ার আরও জানান, এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে এক দিনেই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কোন কোন রুটে এই রাসায়নিকটি ছিটানো হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে চ্যানেলে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে সেই চ্যানেলেই রাসায়নিকটি ছিটানো হবে। তিনি আরও বলেন, ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহের জন্য আজ সকাল থেকেই জেলে ও গ্রামবাসী কাজ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির লোকজন ওই সংগৃহীত তেল কিনে নিচ্ছেন।
মংলা বন্দর কতৃ‌র্পক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর হাবিবুর রহমান ভূইয়া প্রথম আলোকে জানান, আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তেল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
যদিও গত মঙ্গলবার ভোরে জাহাজডুবির পর থেকেই নদী তীরবর্তী গ্রামবাসীকে নিজ উদ্যোগেই তেল অপসারণের কাজ করতে দেখা গেছে।

খাল বন্ধ করে নালা! by সাইফুর রহমান

(বরিশালের বাকেরগঞ্জে জেলা পরিষদের খাল বন্ধ করে নালা নির্মাণ করছে পৌরসভা। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় পুরোনো খাল বন্ধ করে নির্মাণ করা হচ্ছে নালা। খালটি জেলা পরিষদের হলেও তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে বাকেরগঞ্জ পৌরসভা। তবে পৌর মেয়র লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে জানান, খালটি জেলা পরিষদের হলেও পৌরসভার মধ্যে তারা উন্নয়নকাজ করে না। উন্নয়ন না করায় ৩০-৩৫ ফুট চওড়া খালের অনেকাংশ দখল হয়ে গেছে। নালা নির্মাণের মাধ্যমে বাকি অংশ রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটাকে খাল দখল বলা যায় না। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের সদর রোড এলাকায় জেল খালের একটা অংশে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। নির্মাণশ্রমিকেরা জানান, পৌর মেয়র ওই নির্মাণকাজ করাচ্ছেন।
বাকেরগঞ্জ পৌরসভা সূত্র জানা যায়, জেল খালটির সঙ্গে নদীর সংযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় এটি জেলা পরিষদের থাকলেও বর্তমানে পৌরসভাই দেখভাল করে। জেল খালের একটা অংশে নালা নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত মার্চ মাসে শুরু হয় নালা নির্মাণকাজ। ৫৯ লাখ পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৫ সালের ৩০ জুন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার তুলাতলা নদী ও শ্রীমন্ত নদীর সংযোগ জেল খালটি জেলা পরিষদের রেকর্ডকৃত। ৩৫ থেকে ৪০ ফুট চওড়া ছিল এটি। খালের দুই পাশের কয়েক শ পরিবার খালের পানি ব্যবহার করত। নালা নির্মাণে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
খালের পাড়ের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মো. ফুল শরীফ অভিযোগ করে প্রথম আলোকে জানান, বাকেরগঞ্জ জেল খালটি প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা। একসময় এই খালে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। সেই খাল অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। বাকি অংশ ভরাট করে পৌরসভা ড্রেন (নালা) নির্মাণ করছে। এখন আর কেউ খালের পানি ব্যবহার করতে পারবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কাউন্সিলর প্রথম আলোকে জানান, খালটি মূলত জেলা পরিষদের। সেই খালে ড্রেন নির্মাণ করছেন পৌর মেয়র। খালে জোয়ার-ভাটার পানি এলে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার হতো। এখন নালা নির্মাণ করায় সেই পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে মেয়রের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না।
জেলা পরিষদ বরিশালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাকেরগঞ্জের জেল খালটির অনেকটা দখল হয়ে গেছে। অবশিষ্ট খালের একাংশে নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। নালা নির্মাণের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে জানানো হয়নি।

কৃত্রিম প্রজননে এল সাফল্য by নেয়ামতউল্যাহ

(কৃত্রিম প্রজননপদ্ধতিতে গত বুধবার জন্ম নেওয়া একটি মহিষের শাবক। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুরের আবুল বাশারের পারিবারিক খামার থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো) ভোলার চারপাশে শতাধিক চর। আর এসব চর ঘিরে গড়ে উঠেছে বাথানভিত্তিক মহিষ পালন। মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি কাঁচা দই, ঘি ও মিষ্টি ভোলার মানুষের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু ঘোষ-ময়রা প্রায়ই পড়ছেন দুধের সংকটে। তা ছাড়া সারা দেশেই রয়েছে দুধের চাহিদা। সে অনুযায়ী উৎপাদন যথেষ্ট নয়।  এ সংকট কাটাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ভোলায় গত বছর কৃত্রিম প্রজননপদ্ধতিতে শুরু করেছিল মহিষ উৎপাদনের কার্যক্রম। দেশে প্রথমবারের এ পদ্ধতিতে সাফল্য এসেছে। গত ২৫ নভেম্বর একটি বাছুর জন্ম দিয়েছে মা-মহিষ। ৩০ নভেম্বর ও সর্বশেষ গতকাল সফলভাবে আরও দুটি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে এ পদ্ধতিতে। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নগড় ইউনিয়নের কাজী আবদুল লতিফের খামারে প্রথম মা-মহিষ বাছুর প্রসব করে। আর আসলামপুর ইউনিয়নের মো. শাহাবুদ্দিনের খামারে প্রসব হয় দ্বিতীয় বাছুরটির। দুজনেই জানান, বাছুরগুলো দ্রুত বাড়ছে। এক সপ্তাহ পর এগুলোর ওজন ৩৫ কেজি ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ মহিষ বাচ্চার জন্ম নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে আসলামপুরের আবুল বাশারের খামারে।
বাশার বলেন, তাঁর ছয়টি মহিষ। গত বছর মহিষ পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর মহিষের কৃত্রিম প্রজনন ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই বছরই একটি মা-মহিষকে এ পদ্ধতিতে বিদেশি উন্নত জাতের মহিষের ইনজেকশন (বীজ) দেওয়া হয়। প্রথম প্রচেষ্টাতেই গর্ভধারণ করেছে মা-মহিষটি। ১১ মাস পর গতকাল ২৩ কেজি ওজনের বাছুর প্রসব করেছে সেটি। বাছুর দেখতে গ্রামের অনেকেই এখন ভিড় করছেন তাঁর বাড়িতে। মা ও বাচ্চা দুটিই ভালো আছে। তবে একটু চিন্তা, বাছুরটিকে দুধ কম খাওয়াচ্ছে মা-মহিষ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, গত বছরের এপ্রিলে ভোলার দৌলতখানে দেশে প্রথম মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যন্ত ১৫৯টি মহিষকে প্রজনন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩৬টি মহিষ গর্ভধারণ করেছে। ইতিমধ্যে তিনটি বাছুর হয়েছে। আরও ১২টি মা-মহিষ চলতি মাসেই প্রসব করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১৮০ জন খামারিকে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোলায় দুধের চাহিদা প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু এখান থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৩১০ মেট্রিক টন। একটি দেশি মহিষ দৈনিক আধা কেজি থেকে এক কেজি দুধ দেয়। কৃত্রিম প্রজননে জন্ম নেওয়া উন্নত জাতের মহিষ ১০-১২ কেজি দুধ দিতে সক্ষম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিরণ্ময় বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় মহিষ রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। প্রায় ২০ হাজার মহিষকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গাভিন করা সম্ভব। তবে চরগুলোর বাথানে প্রতিটি মহিষ পালেই পুরুষ মহিষ থাকায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের মহিষ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার।
বাংলাদেশ মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তকাব্বর হোসেন জানান, ‘ভারত ও পাকিস্তানের অধিবাসীরা চাহিদার ৬০ ভাগ দুধই পান মহিষ থেকে। আমরাও আমাদের দেশে দুধ ও মাংসের চাহিদা মেটাতে ২০০৯ সালে শুরু করেছি ওই প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রজননের বীজ ও প্রসব-পরবর্তী ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’
তকাব্বর হোসেন বলেন, ভোলা মহিষ পালনের উত্তম স্থান হওয়ায় সেখানেই প্রথম কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে বাছুর জন্মদানের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে কার্যক্রম।

পেটে গুলি নিয়ে ৪৩ বছর! by খলিল রহমান

নদীর তীরে হাত বেঁধে অন্যদের সঙ্গে দাঁড় করানো হয়েছিল কৃষক ব্রজেন্দ্র দাসকে। এরপর একজন একজন করে গুলি করে রাজাকাররা। লাশ ফেলে দেওয়া হয় নদীতে। পেটে গুলিবিদ্ধ হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। রাজাকারদের ছোড়া গুলিটি এখনো ব্রজেন্দ্র দাসের শরীরে বিঁধে রয়েছে। মাঝেমধ্যেই যন্ত্রণা হয়। ৪৩ বছর ধরে এই যন্ত্রণা ভোগ করছেন তিনি। তাঁর পেটের ডান পাশে রয়েছে একটি কাটা দাগ। ওই স্থান দিয়েই গুলিটি ঢুকেছিল। সেখানে হাত দিলেই চামড়ার নিচে গুলিটির অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। ব্রজেন্দ্র দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তিনি গ্রামের রামকুমার রায় নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ৬ ডিসেম্বর সকালে ওই গ্রামে হামলা চালায় রাজাকাররা। তারা বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে ব্রজেন্দ্র দাসসহ পেরুয়া ও আশপাশের গ্রাম থেকে ২৬ জনকে ধরে নিয়ে গ্রামের পাশে মরা সুরমা নদীর ঘাটে পাশাপাশি দাঁড় করানো হয়। এরপর রাজাকাররা পর্যায়ক্রমে সবাইকে গুলি করে। ব্রজেন্দ্র দাসের পাশেই ছিলেন গ্রামের শিক্ষক উপেন্দ্র চন্দ্র রায়। উপেন্দ্রকে যখন গুলি করা হয়, তখন ব্রজেন্দ্র দাস ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। কোনো রকমে দুই পা দিয়ে সাঁতরানোর চেষ্টা করেন। ওই অবস্থাতেই তাঁর ওপর গুলি চালায় রাজাকাররা। একপর্যায়ে হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন তিনি। এরপর সাঁতরে তিনি নদীর পশ্চিম পাড়ে উঠে দেখেন পেট থেকে রক্ত ঝরছে। সেখান থাকে কাছেই তাঁর বাড়িতে দৌড়ে চলে যান। এরপর বাড়ির লোকজন ক্ষতস্থানে লতাপাতা ও কাপড় দিয়ে চেপে ধরেন। স্থানীয় এক পিল্লচিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। ওই ওষুধ সেবন করে তাঁর পেটের ক্ষত ভালো হয়। কয়েক দিন পর অনুভব করেন, তাঁর পেটের এক পাশে চামড়ার নিচে গুলি আটকে রয়েছে। এরপর দরিদ্র কৃষিশ্রমিক ব্রজেন্দ্র আর কোনো চিকিৎসকের কাছে যাননি। ব্রজেন্দ্র দাস বলেন, ‘মাঝে মাঝে যন্ত্রণা হয়। আমি গরিব মানুষ। কোথায় কী করতে হবে জানি না। কেউ কখনো বলেনি, এই গুলি পেট থেকে বের করা যাবে।’

সীমান্ত বিল নিয়ে বৈঠক- ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসনের দায় সরকারের by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সীমান্ত বিল পাস হওয়ার পর ছিটমহল বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের যাবতীয় দায় ভারত সরকারের। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের কোনো অবকাশ কোনো রাজ্যেরই থাকবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।  সীমান্ত বিল কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যত ছিটমহল বিনিময় হবে, সেগুলোর প্রতিটিই পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়।
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, ইউপিএ আমলে আনা এই সীমান্ত বিলের বিরোধিতা করেছিল। কেন্দ্রে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসেরও মন বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই চুক্তিকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেসব ভারতীয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল থেকে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চলে আসবে, তাদের পুনর্বাসনে কোনো ত্রুটি রাখা চলবে না। এর যাবতীয় দায়-দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে। মমতা চেয়েছেন, সীমান্ত বিল সংসদে পাস হওয়ার আগেই এ বিষয়ে রাজ্যকে যেন নিশ্চিত করা হয়। সে জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন।
তিন বছর আগে ২০১১ সালে সীমান্ত চুক্তি সই হওয়ার সময় পর্যন্ত ছিটমহলে যে মাথা-গুনতি করা হয়েছিল, তাতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জন বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিন বছর পর সেই সংখ্যা সামান্য কমবেশি হতে পারে। বৈঠকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেওয়া হয়, ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব দেওয়াসহ পুনর্বাসনে রাজ্য সরকারের কোনো সুপারিশ থাকলে কেন্দ্র তা-ও বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি মেনেই গতকালের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। সে জন্য কলকাতা থেকে রাজ্যের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র, স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের পরিচালক জিএমপি রেড্ডি বুধবার রাতে দিল্লি আসেন। গতকাল বিকেল পাঁচটায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোস্বামীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ বিভাগীয় কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর মহাপরিচালক ডি কে পাঠক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সচিব স্নেহলতা কুমার এবং কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন জমি অধিকর্তা বিভাগের সচিব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বিভাগের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথনসহ কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শুরুর আগে মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছিটমহল নিয়েই এ বৈঠক, শুধু এটুকু বলতে পারি। এর বাইরে এখনই কিছু বলার নেই।’ পুনর্বাসন নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তাঁর জবাব, ‘আর কিছু বলার নেই।’

হৃতিক-কঙ্গনার খোলামেলা ডেটিং

এক বছর ধরে আলাদা থাকার পর গত মাসেই হৃতিক রোশনের সঙ্গে ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে সুজানের। তবে এই ডিভোর্সের এক মাস যেতে না যেতেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন এই শীর্ষ অভিনয় তারকা। আর তার নতুন প্রেমিকা আর কেউ নন, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। তাদের মধ্যে অনেক দিন ধরেই সম্পর্ক চলে আসছে। তবে দু’মাস ধরে নিয়মিতই খোলামেলা ডেটিং করছেন তারা। সম্প্রতি একটি রেস্টুরেন্টেও ডেটিং করতে দেখা গেছে তাদের। আর এই ডেটিংয়ের খবরটি ফলাও করে প্রকাশ করেছে বেশ কিছু ভারতীয় মিডিয়া। এদিকে কঙ্গনা ক’দিন আগেই জানিয়েছেন, আমার জীবনে ভালবাসা এসে গেছে। আর আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই আনন্দিত। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ এখন। তবে কে তার এই ভালবাসা সেই বিষয়ে তখন কোন কিছুই জানাননি কঙ্গনা। এদিকে তাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গত দুই মাস ধরেই ডেটিং করছেন তারা। এই সময়ে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছেন দু’জন। আর বিষয়টি কাছের অনেকেই জানেন। সুজানও তাদের এ সম্পর্কের বিষয়টি আগেই জেনেছেন। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও একদমই মুখ খুলতে রাজি নন হৃতিক। ‘নো কমেন্টস’ বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি। ‘কৃষ-৩’ ছবির শুটিং চলাকালীনই ভাল বন্ধুতে পরিণত হন হৃতিক-কঙ্গনা। এরপর নিয়মিতই দেখা করেছেন তারা। এভাবেই একে অপরের ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। বর্তমানে তাদের সম্পর্ক বেশ গভীর ও মজবুত। খুব শিগগিরই হয়তো বিয়ের ঘোষণাও আসতে পারে। হৃতিকের সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে কঙ্গনা বলেন, হৃতিক আমার অনেক ভাল বন্ধু। বলতে পারেন বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু। আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি। সামনে কোন কিছু হলে অবশ্যই সবাইকে জানাবো।

সিদ্ধান্তটা সময় নিয়ে করলে ভাল হতো -বাদলের শাস্তি প্রসঙ্গে খালেদ মাসুদ

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরনো। এক সময়ে আবাহনী-মোহামেডান দুই দলেরই অভিযোগের তীর ছুটতো তাদের দিকে। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে ওই দুই জনপ্রিয় ক্লাবের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং দর্শকদের আগ্রহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঝুঁকে পড়ায় অভিযোগকারীদের কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে গেছে। তবে এবার নতুন করে এ অভিযোগ জোরালোভাবে উঠিয়েছেন গত আসরের চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের সবচেয়ে তারকাখচিত দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের প্রধান লুৎফর রহমান বাদল। তার অভিযোগ ছিল খেলার মাঠ নির্ধারণ নিয়েও। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেঁসে গেছেন। একতরফা সিদ্ধান্তে তাকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। গতকাল এই নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাড়াজাগানো দল কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির কোচ খালেদ মাসুদ পাইলটও একই অভিযোগ তুললেন। খালেদ মাসুদ বলেন, ‘আসলে ক্লাব ক্রিকেটের অনেক কর্মকর্তাই আছেন যারা বিসিবি’র পরিচালক। স্বাভাবিকভাবে তারা প্রত্যেকেই চান নিজেদের দল জিতুক। এখানে আম্পায়ারিং নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা আমার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। আমরা জানি আম্পায়ারিং বিভাগ অত্যন্ত স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এখানে কারও হস্তক্ষেপ চলে না। বাংলাদেশে অনেক ভাল ভাল আম্পায়ার আছেন। কিন্তু যদি পিছন থেকে দড়ি ধরে রাখেন তাহলে তাদের পক্ষে স্বচ্ছ আম্পায়ারিং করা কঠিন। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি বোর্ডকে আরও নিরপেক্ষ হতে হবে। প্রত্যেক বিভাগের কাজটা স্বাধীন ভাবে করতে দেয়া উচিত। তাহলে এমন ঘটনা হবে না। আমার মনে হয় মাঠের ক্রিকেট মাঠেই হওয়া উচিত। তা না হলে ক্লাব ক্রিকেটে প্রভাব থাকবেই।’
বেশ কয়েকটি দল আম্পায়ারিং নিয়ে অভিযোগ তুললেও খালেদ মাসুদ পাইলটের দল কলাবাগান  সিএ’র সঙ্গে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে অন্যান্য দলের অভিযোগের সূত্র ধরেই তিনি আম্পায়ারদের স্বাধীন ভাবে কাজ করার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমার দলের সঙ্গে এমনটি হয়নি। তবে আমি শুনেছি অন্যান্য দল ভুক্তভোগী। দেখুন, বাংলাদেশের ট্রাফিক পুলিশ কিন্তু ঘুষ খেত না। কিন্তু তাদেরকে এই সিস্টেম বাধ্য করেছে ঘুষ খেতে। আমরা সৎ মানুষগুলোকে অসৎ বানাচ্ছি। আম্পায়ারিংয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুল হয়। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃত ভুল হয় তখন মনে হয় যে কারও চাপে এটা করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্র থেকে বলছি আম্পায়ারদের স্বাধীন করে দিলে এই ভুলগুলো হতো না।’
অন্যদিকে কোন মাঠে কোন দলের খেলা হবে সেটা নিয়ে সিসিডিএম’র ভূমিকা আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত বলে মনে করেন খালেদ মাসুদ। তিনি বলেন, ‘যদি আমি খালেদ মাসুদ একজন ক্রিকেটার আর আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় মেডিকেল কলেজের তাহলে কিন্তু আমি কাজটা ঠিকভাবে করতে পারবো না। আমি বলতে চাইছি, সিসিডিএমেও ক্রিকেট এক্সপার্ট লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। তারা বুঝবে যে কেমন ক্যালেন্ডার হবে। আর মাঠ ও ফিক্সচার সমস্যা সমাধানে আমার মনে হয় লটারি পদ্ধতি করে দেয়া প্রয়োজন। তাহলে এখানে স্বচ্ছতা থাকবে। নয়তো এই সব নিয়ে বিতর্ক  থেকেই যাবে।’
লুৎফর রহমান বাদলকে নিয়ে বিসিবি’র কঠিন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে সব চেয়ে বড় বিষয় হলো সবাইকে জানতে হবে যে কোন জায়গাতে কি কথা বলতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। আবার বিসিবি অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। তাদেরও আরও উদার হতে হবে। অনেকেই অন্যায় করেন সেই অন্যায়ের শাস্তিটা সুন্দর একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়। বিসিবি যে বিষয়গুলো বলবে বা যে সিদ্ধান্তগুলো হবে সেটি আরও সুন্দর ও স্বচ্ছ হতে হবে। তাহলে সব ফেডারেশন মনে করবে যে সেখান থেকে শেখার কিছু আছে। তবে আমি বলবো সিসিডিএম যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ভাল কিন্তু আরও সময় নিয়ে সিদ্ধান্তটা নিলে আরও ভাল হতো। যেমন আমাদের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু একটি কথা বলেছেন যে, তাকে (বাদল) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন ছিল। তার কথা গুলোও শোনা উচিত ছিল। আমিও মনে করি এটি হলে খুব ভাল হতো।’

মিরপুরে বাস আটকে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি

চাঁদা না দিয়ে রাজধানীর মিরপুরের বাঙলা কলেজের সামনে দিয়ে বাস চলাচলে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। কলেজের সামনে দিয়ে বাস চালাতে হলে ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। না হলে বিভিন্ন অজুহাতে বাস ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে পুলিশে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয় না। উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে বাস মালিকদের বলা হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে। এ কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে কোন কোন বাস কোম্পানির মালিক বাঙলা কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারিকে মাসিক হারে, কোন কোন কোম্পানি দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা পরিশোধ করে। চাঁদার পরিমাণ কম হওয়ায় গত বুধবার গাবতলী-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের ৮টি বাস কলেজ প্রাঙ্গণে আটকে রাখা হয়। দুপুরে আটকানোর পর সন্ধ্যায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বাসগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এ ঘটনাতেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে থানা পুলিশ। মামলা না নিয়ে উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, চাঁদা ছাড়া বাস চলাচলে অঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা জারির প্রধান দুই হোতা বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম জাহিদ মাহমুদ ও মজিবুর রহমান ওরফে অনিক। দিদার নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে চাঁদার টাকা তোলা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে জাহিদ ও অনিক সভাপতি-সেক্রেটারি হয়েছেন। এরপর থেকেই তারা বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন, আগের সভাপতি-সেক্রেটারি এত বেপরোয়া ছিল না। বাস মালিকরা বলছেন, বাঙলা কলেজের সামনে দিয়ে সিটিং সার্ভিসেরই প্রায় দুই শতাধিক বাস চলে। এছাড়া লোকাল বাস তো আছেই। প্রতিটি বাসের কাছ থেকেই চাঁদা আদায় করা হয়। তবে কোন কোন বাস মালিক মাসিক হারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে থাকেন। একাধিক বাস মালিক ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারিকে নিয়মিত চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন। তাদের ভাষ্য, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা অজুহাতে কলেজের সামনে বাস আটকানো ও ভাঙচুর শুরু করবে। একজন মালিক বলেন, একটি বাসের সামনের গ্লাস লাগাতে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। সাইড গ্লাস লাগাতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। ওই মালিক বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চাঁদা আদায় করে। নিজেরাই হাতে বা মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে কোন একটি পরিবহন সার্ভিসের বাস দুর্ঘটনায় সে আহত হয়েছে- মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পরে ওই সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ি আটকিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর আটকে রাখে। মালিককে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাস ছাড়িয়ে আনতে বলে।
সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে বাঙলা কলেজের সামনে দিয়ে যে বাসগুলো চলাচল করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- রফরফ পরিবহন, বসুমতি পরিবহন, পল্লবী সুপার সার্ভিস, প্রজাপতি পরিবহন, নিউ পল্লবী এক্সপ্রেস ও জাবালে নূর পরিবহন। প্রায় প্রত্যেক বাস মালিকই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে নিয়মিত চাঁদা দিলেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের পরিচালক (অর্থ) সিরাজুল হক জানান, গত অক্টোবর মাসে তারা গাবতলী-আবদুল্লাহপুর রুটে ৩০টি বাস নামান। বাস চলাচল শুরুর কয়েক দিন পরেই বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাসপ্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। তা না হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে বলেন। তারা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ, এমপি ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের এক নেতাকে জানান। তারাও হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি সুরাহা করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে বাসপ্রতি ২০০ টাকা হারে প্রতিদিন ৬০০০ এবং মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দেয়া শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি সভাপতি ও সেক্রেটারি বাসপ্রতি ৩০০ টাকা করে দাবি করে। তারা এতে রাজি না হলে মোবাইলে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ বিষয়ে গত মাসের ২২ তারিখ পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ২৬৮০) করেন। সেখানেও থানা পুলিশ তাকে পরামর্শ দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম উহ্য রাখতে।
সিরাজুল হক বলেন, গত বুধবার দুপুরে হঠাৎ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আটটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১ সিরিয়ালের-৭১৫৭, ৭০১৯, ৭১০৯, ৭১১৮, ৭০৩৮, ৭১৭৩, ৭০৬৮ ও ৭১৪৯) কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আটকে রাখে। পরে বিষয়টি মিরপুরের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাখাওয়াতকে জানালে তিনি থানা পুলিশকে বাসগুলো উদ্ধারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। কিন্তু সন্ধ্যায় বাস উদ্ধারের পর থানায় গিয়ে কয়েক ঘণ্টা বসে থাকলেও পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। দারুসসালাম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও সেকেন্ড অফিসার এমরানুল কবির তাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পারবেন না। যেভাবে পারেন ম্যানেজ করে চলেন।’ সিরাজুল হক বলেন, তার লিখিত একটি অভিযোগ থানার সেকেন্ড অফিসার হাতে নিয়েছেন কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তা নথিভুক্ত করেননি। দারুসসালাম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়নি। মামলা না নেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপ-কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, আমি আমার এডিসি’র মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে মামলা নিতে নির্দেশনা দিয়েছি। যদি থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে থাকে তাহলে আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বকেয়া আদায় হ্রাস ৪৯৫ কোটি টাকা

কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রদত্ত পুনঃঅর্থায়ন আদায় প্রক্রিয়া থমকে গেছে। বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে কোন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ছাড় করা হয়নি। যদিও চলতি অর্থবছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ কর্তৃক সমপ্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বকেয়া ৯০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৫২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বকেয়া আদায় কমেছে ৪৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ৯৪%। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস তথা সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ছাড় করেনি, তবে এ মাসে আদায় হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে ছিল ৩০০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ২,৭৫০ কোটি ৪১ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭,৬৯%। এর আগের বছরের একই সময় বিতরণের পরিমাণ ছিল ২,৮৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা লক্ষ্যমাত্রার ১৯.৬১%। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে কৃষিতে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে ১১১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বা ৩.৮৮%। যদিও অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩০ কোটি টাকা বা ৮.১৫% বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, কৃষি খাতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময় ৩,২৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বকেয়া আদায় করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৩,১০৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বকেয়া ঋণ আদায় বেড়েছে ১৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর শুধু সেপ্টেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ১,১৫৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগস্ট মাসে ছিল ১,০৮৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ১,৩০৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে আয় বাড়ার উৎপাদনশীল খাতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৪,৫৪১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, টিএমএসএস, আরডিআরএস, কারিতাস, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, এসএসএস, শক্তি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ৯,৪১৬টি শাখার মাধ্যমে দেশের ২ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার সদস্যকে ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণের ৮৭.৮০% বিতরণ করা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশার মাধ্যমে। এ ছাড়া পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উদ্যোগে এর সদস্য এনজিওদের মাধ্যমে জুলাই মাসে ১১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এ মাসে বকেয়া আদায় হয়েছে ১৩৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। বর্তমানে পিকেএসএফের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩,৬৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও বকেয়া দাঁড়িয়েছে ২১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

নারায়ণগঞ্জের জনসভায় বাধা দেয়ার অভিযোগ বিএনপির

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নারায়ণগঞ্জের জনসভায় বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার জনসভার কথা শুনলেই ক্ষমতাসীনরা মূর্ছা যান, তাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আওয়ামী দ্বর্ুৃত্তরা বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নারীদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। জনসভায় যাতে না আসে সেজন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আজ সন্ধ্যায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী আহমেদ বলেন, সকল বাধা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়ার জনসভায় আশপাশের জেলাগুলো থেকে মানুষ কাতারে কাতারে সমাবেশে যোগ দেবে।  জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ভাঙা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা বিএনপি নেতা ইব্রাহিম, যুবদল নেতা দেলয়োর, তারা মিয়া ও আনোয়ারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া রূপগঞ্জ থানা মহিলা দলের সভানেত্রী ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হাওয়া বেগম ও জাসাস নেতা আলমগীরের বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাদের  বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তারা দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তার হওয়া  নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। রিজভী আহমেদ বলেন, দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য সরকারকে মহামাশুল দিতে হবে। তাদের কা-জ্ঞান যদি ফিরে না আসে, তবে অধিকারহারা জনগণ প্রবল প্রতিরোধে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাবেই।

সারদা কেলেঙ্কারিতে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ মন্ত্রী গ্রেফতার

সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে এবার গ্রেফতার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ মন্ত্রী মদন মিত্রকে। ভারতে বহুল আলোচিত এ কেলেঙ্কারিতে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলো। গতকাল তাকে গ্রেফতার করার আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই গ্রেফতারের ঘটনা মমতা সরকারের জন্য ভীষণ এক বিব্রতকর অবস্থা। তার সরকার এতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হবে। এখানে উল্লেখ্য, সারদা কেলেঙ্কারিতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস জড়িত এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। এ অভিযোগে এ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বড় মাপের তিনজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো। কিন্তু মদন মিত্র তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও তৃণমূল পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই মদন মিত্র। গত বছর দলীয় সভায় মমতা তার দলের যে তিনজন নেতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা সবাই এখন আটক। তাদেরকে জেলে পাঠানো হয়েছে। ওই সময় মমতা বলেছিলেন- তারা কি চোর? আমি কি চোর? এ কেলেঙ্কারিতে এর আগে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের এমপি সৃঞ্জয় বোস ও কুনাল ঘোষকে। আগস্টে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রজত মজুমদারকে। গত মাসে মদন মিত্রকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। তারপর তিনি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। যোগাযোগ মন্ত্রী মদন মিত্রকে সারদা গ্রুপের চেয়ারম্যানন সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে সারদা গ্রুপের এজেন্টদের এক মিটিংয়ে দেখা ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা গেছে একটি ভিডিও ক্লিপে। অভিযোগ আছে, তিনি এই গ্রুপের কাছ থেকে গাড়ি, জ্বালানি ও ড্রাইভারের সুবিধা নিয়েছেন। তার এসব খরচ বহন করেছে সারদা গ্রুপ। একটি মন্দিরের জন্য সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে ডোনেশন পাইয়ে দিয়েছেন। তবে তৃণমূল নেতাদের দাবি, কলকাতায় কয়েকদিন আগে বিজেপির স্থানীয় সভাপতি অমিত শাহ যে প্রতিশোধ পরায়ণ বক্তব্য রেখেছেন তার পরেই মদন মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দল কেন্দ্রে বিজেপিকে দায়ী করছে। তারা বলছে, কংগ্রেস আয়োজিত জওয়াহার লাল নেহরুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সম্প্রতি যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রতিশোধ নিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি তৃণমূলকে টার্গেট করেছেছ। তবে এর জবাবে অমিত শাহ বলেছেন, যা করছে তা সিবিআই করছে। উল্লেখ্য, সারদা গ্রুপ পঞ্জি নামে একটি স্কিম চালু করে। তাতে গরিবদের অর্থ জমা করতে বলা হয়। বলা হয়, বিনিময়ে তারা শতকরা ৪০ ভাগ হারে সুদ পাবেন। কিন্তু সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গে ও ওড়িশায় ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়। এ জন্য গত বছর সংস্থাটি ভেঙে যায়।

মৌলবাদের চেয়ে সীমিত গণতন্ত্র ভাল: গাফফার চৌধুরী

আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ড্রোন হামলার চেয়ে সীমিত গণতন্ত্র ভাল বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত খারাপ কাজ করুক আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন দিয়ে যাবো। ৮০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে গাফফার চৌধুরীকে সংবর্ধনা প্রদান করেন জাতীয় সংবর্ধনা কমিটি। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থেকে মৌলবাদি গোষ্ঠী হেফাজত, জামায়াত শেষ না বলে ততদিন গণজাগরণমঞ্চের মতো শক্তিকে সমর্থন দিয়ে যাবো। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে একটি জাতীয় দৈনিক নিরপেক্ষতার নামে মৌলবাদ ছড়াচ্ছেন। এদেরকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ওই সময়ে এলিট একটি শ্রেণী হিটলারকে সমর্থন করেছিল। এলিট শ্রেণী যুগে যুগে মৌলবাদকে আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে রাজনীতি ভীত শক্ত না হওয়ার কারণে এদেশে মেধাবীরা বিদেশে চলে যাচ্ছে। আর দেশে থাকছেন মাদরাসা পড়ুয়ারা। যারা সব সময় পেছনে দিকে যেতে চায়।

ধর্মান্তকরণ করতে চাঁদা তুলছে আরএসএস

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মান্তকরণের জন্য এবার চাঁদা তোলার তোড়জোড় শুরু করেছে ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী আরএসএস-এর শাখা সংগঠন। বড়দিনে প্রস্তাবিত ধর্মান্তকরণ অনুষ্ঠানের খরচ তুলতে ইতিমধ্যে সংগঠনের তরফ থেকে প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। সম্প্রতি আগ্রায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিরুদ্ধে কয়েকটি মুসলিম পরিবারকে জোর করে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায় তীব্র বিক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতজুড়ে নানা মহলে এই ঘটনার সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু তাতে যে উগ্র হিন্দুবাদীদের বিশেষ হেলদোল দেখা যায়নি, আলিগড়ে প্রস্তাবিত ধর্মান্তকরণ সূচীই তার প্রমাণ। আরএসএস-এর শাখা সংগঠন ধর্ম জাগরণ সমিতির পক্ষ থেকে প্রচারপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর শহরের মাহেশ্বরী কলেজে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০০০ মুসলিম ও ১০০০ খ্রিস্টানকে হিন্দুধর্মে দীক্ষিত করা হবে। গোরখপুরের বিজেপি এমপি যোগী আদিত্যনাথ এই অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন বলে জানা গিয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিপুল খরচ তুলতে চাঁদা চেয়ে ধর্ম জাগরণ সমিতির পশ্চিম ক্ষেত্র (পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ব্রজপ্রান্ত, মীরাট ও উত্তরাখন্ড) শাখার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক মুসলিমকে ধর্মান্তকরণের খরচ পড়ে ৫ লাখ রুপি এবং প্রত্যেক খ্রিস্টানকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার খরচ পড়ে ২ লাখ রুপি। এই কারণে ‘ঘর ওয়াপসি’ অনুষ্ঠানের জন্য ‘বন্ধুবর’দের মুক্তহস্তে দান করার আর্জি জানানো হয়েছে প্রচারপত্রে। শুধু তাই নয়, প্রচারপত্রের বয়ান অনুসারে মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ‘সমস্যা’ বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কাঁসিনাথ বনসল জানিয়েছেন, ‘যেহেতু মুসলিম ও খ্রিস্টানরা মূর্তিমান সমস্যা, তাই তার সমাধানে বিপুল খরচ করার প্রয়োজন হয়।’
তবে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করার কথা যার, সেই যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, ‘প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। মানুষ স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। যখন হিন্দুদের ভিন্ন ধর্মে দীক্ষিত করা হয়, তা নিয়ে কোনো মহল থেকেই আপত্তি ওঠে না।’
তবে আদিত্যনাথ যা-ই বলুন না কেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় জেলা প্রশাসন। আলিগড়ের এসএসপি জে রবীন্দ্র গৌড় জানিয়েছেন, ‘মাহেশ্বরী কলেজে প্রস্তাবিত ঘর ওয়াপসি অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেয়ার প্রশ্ন নেই। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিষেধ সত্ত্বেও অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হলে যথাযোগ্য ব্যবস্থা করা হবে।’
উল্লেখ্য, বছরের শেষে ধর্মান্তকরণ অনুষ্ঠানের খবরে স্থানীয় মুসলিম এবং খ্রিস্টান সমাজের সদস্যরা প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছেন।

শনিবার সোনারগাঁওয়ে খালেদা জিয়ার জনসভা- আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শিগগিরই : আমান

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরের বালুর মাঠে আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টায় ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন। জনসভা উপলক্ষে আজ শুক্রবার দুপুরে জনসভাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএপির। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহাসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী আমান উল্লাহ আমান। সংবাদ সম্মেলনে আমান উল্লাহ আমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সব বিবেধ ভুলে এক কাতারে এসে কাজ করেছেন স্থানীয় ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন, অত্যাচার, লুটপাট, খুন, গুম ও হত্যার হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে আন্দোলনের ঘোষণা দিবেন বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও একদলীয় শাসনের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করতে নবতর আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এখান থেকে। বর্তমানে দেশে ভোটের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচিত সংসদ নেই। সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন। তিনি গণতান্ত্রিক চর্চা ভুলে গেছেন। রাস্তাঘাটে মানুষের লাশ পড়ে থাকে সেদিকে ওনার খেয়াল নেই। এখন দেশে মানবধিকার ভুলুন্ঠিত, গণতন্ত্র নির্বাসিত এবং সাংবাদিকদের কাজ করার স্বাধীনতা নেই। এমনকি মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা কেউ বর্তমানে নিরাপদে নেই। সরকার রাষ্ট্র অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে মানুষ খুন করছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন এরই জ্বলন্ত প্রমাণ।
তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকার ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ শত শত মানুষকে গুম করেছে। এ সমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া জনস্বার্থ পরিপন্থী সব কার্যকলাপ ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠিনতর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, র্নিদলীয়, নিরপেক্ষ সরকার পদ্ধতি পুর্নবহাল করতে এবং নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। কাঁচপুর থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো: শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সোনারগাঁও বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, জাতীয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা অলিউর রহমান আপেল, এটিএম কামাল, হাজী সেলিম হক প্রমুখ।

প্লাস্টিক স্তরের নিচে ধুঁকছে সাগর

বিশ্ব যত উন্নত হচ্ছে, পরিবেশও তত বিপর্যস্ত হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে বাতাস, পানি। উন্নয়নের পরিপাটি কাঠামোগুলোই প্রকৃতির টুটি চেপে ধরেছে। আমরা অনেকে জানিও না, সাগরে ভাসছে কি পরিমান প্লাস্টিক সামগ্রি। বিজ্ঞানী এরিকসনের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল সাগরে প্লাস্টিকের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে অবাক হন। তারা হিসেব করে দেখেছেন সাগর, মহাসাগরগুলোর ওপর দুই লাখ ৭৬ টন প্লাস্টিক জমা হয়েছে। পানির ওপর তৈরি হয়েছে পাতলা প্লাস্টিকের চাদর। প্লাস্টিক ভেসে চলেছে গ্রিনল্যান্ড থেকে প্রশান্ত মহাসাগর, ব্রাজিল থেকে দণি আফ্রিকার মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে। একরকম বলা যায়, সাগরুগুলো এখন প্লাস্টিকের ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে বছরের পর বছর ধরে জমা হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। সেখানে তৈরি হয়েছে পঞ্চাশ ফুট লম্বা এক প্লাস্টিক দ্বীপ।
এর আগে ফ্র্যান্সের এক গবেষক দল জানিয়েছিলেন, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরও প্লাস্টিকের মহা ডাস্টবিন। দলের প্রকৌশলী ইয়ান জেফ্রিয়াড বলেন, আমরা যখন আটলান্টিকের মাঝামাঝি তখনো প্রতি পাঁচ মিনিটে ১০ থেকে ২০টি আবর্জনাকে পাশ কেটে যেতে দেখেছি। এগুলোর ৯৫ শতাংশই প্লাস্টিক। এসবের মধ্যে রয়েছে টুথপেস্টের টিউব, অ্যারোসলের কৌটা ও পানির বোতল। তিনি বলেন, এগুলোর বেশিরভাগই ঝড় ও বৃষ্টির সাথে স্থলভাগ থেকে ভেসে আসা।
গত বছরের শেষের দিকে প্লাস্টিকের কারণে এক তিমির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। নেদারল্যান্ডসের উত্তর এলাকার দ্বীপ তেরলেশিংয়ের সৈকতে ৪৪ ফুট লম্বা একটি স্পার্ম তিমি আটকে যায়। উদ্ধারকারী দল এটিকে মুক্ত করার চেষ্টা করলেও ওটা হঠাৎই মারা যায়।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটার পেট চেঁড়া হলে বেরিয়ে আসে গাদা গাদা প্লাস্টিক ব্যাগ। পাকস্থলিতে এ ব্যাগগুলো জমা হওয়ার কারণেই ওটার মৃত্যু হয়েছে।
প্লাস্টিকের কারণে প্রায়ই তিমির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৮৯ সালে একটি স্পার্ম তিরি মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেটির পাকস্থলি থেকে বেরিয়ে আসে ১০০ ফুট লম্বা একটি প্লাস্টিকের চাদর।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট রেইস উপক’লে উদ্ধার হওয়া একটি তিমির পেট থেকেও পাওয়া যায় প্লাস্টিকের ব্যাগ। ২০১০ সালে  একই দেশের পশ্চিম সিয়াটল সৈকতে ভেসে আসা একটি মৃত তিমির পেট থেকে ২০টি প্লাস্টিকের ব্যাগ, ছোট তোয়ালে, ডাক্তারি দস্তানা, গল্ফ বল ও মোটা সেলোটেপ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্পার্ম ও বিক তিমিদের সাধারণ খাবার হলো স্কুইড নামের এক ধরণের সামুদ্রিক প্রাণী। তিমিরা প্রায় সময়ই স্কুইড ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে।
এ ছাড়া বারিন তিমিরা খাওয়ার সময় একসাথে অনেক পরিমাণ পানিও পেটে নিয়ে নেয়। এসব পানির সাথে তিমিদের অজান্তেই পেটে ঢোকে যাচ্ছে প্লাস্টিক।
তিমিদের পাকস্থলিতে প্লাস্টিক জমা হতে হতে শেষ পর্যন্ত তাদের খাদ্যের স্বাভাবিক গতিপথ আটকে যায়। মৃত্যুর আগের দিনগুলোও কাটে প্রচণ্ডরকম যন্ত্রণায়।
শুধু সাগরেই নয়, প্লাস্টিকের কারণে দূষিত হচ্ছে বন। হুমকির মুখে পড়েছে বন্য প্রাণীরা। আর সাগর, বন দূষিত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে মানুষের ওপর।
সুতরাং মানুষদের তৈরি এ সমস্যার সমাধান করতে হবে মানুষদেরই। নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য হলেও কমাতে হবে প্লাস্টিকের ব্যবহার।
সূত্র: ইন্টারনেট

ইসরাইলের ক্ষতি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি

ইসরাইল তার সেনাবাহিনীতে ৫০০ পঙ্গু সৈনিকের উপস্থিতির কথা স্বীকার করায় এটাই প্রমাণ হয় যে, গাজা উপত্যাকায় সাম্প্রতিক হামলায় তারা যে হিসাব প্রকাশ করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। গাজার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এ মন্তব্য করেছে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বুধবার বলেন, ইসরাইল সরকারিভাবে যে হিসাব দিয়েছে, তাদের ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ইসরাইল সংবাদপত্র মারিভ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধের সময় ১,৬২০ ইসরাইলি সৈন্য আহত হয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, এই সংখ্যাটি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিশেষ যোগ্যতার কথা প্রমাণ করছে। এতে বলা হয়, গাজা হামলার সময় যে আঘাত পেয়েছিল, তাতে ৫০০ সৈন্য পঙ্গু হয়ে গেছে বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে। আর এর জন্য সেনাবাহিনীর পুনর্বাসন বাজেট করতে হবে ৩.৩ বিলিয়ন শেকেল (০.৮৪ বিলিয়ন ডলার)।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর।

চলতি বছর লাখ লোককে হিন্দু বানানো হবে!

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল সংগঠন আরএসএস উত্তর প্রদেশে চলতি বছর এক লাখ  লোককে হিন্দুতে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার মুসলমানসহ ৪০ হাজার লোককে হিন্দুতে দীক্ষিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে ভারতের এনডিটিভি-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, আগ্রায় ৫৭টি মুসলিম পরিবারকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিতকারী জনৈক কিশোর বাল্মিকিকে পুলিশ খুঁজছে। ওই ধর্মান্তর নিয়ে ভারতজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এনডিটিভিতে আরএসএসের অঙ্গ সংগঠন ধরম জাগরন সমন্বয় বিভাগের স্থানীয় প্রধান রাজেশ্বর সিংয়ের একটি চিঠিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, তারা উত্তর প্রদেশের ২০ জেলায় ইতোমধ্যে ৪০ হাজার লোককে ইতোমধ্যেই হিন্দু ধর্মে ‘ফিরিয়ে এনেছে।’ চিঠিতে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে দুই হাজার ছিল মুসলমান। আর চলতি বছর টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ লোককে হিন্দুতে ধর্মান্তর।
এতে বলা হয়, গ্রুপটি খ্রিস্টানদের ধর্মান্তরিত করতে প্রায় দুই লাখ এবং মুসলমানদের জন্য পাঁচ লাখ রুপি করে খরচ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আরো অর্থ প্রয়োজন বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিদিন ৩ লিটার পানি খান : বয়স কমান ১০ বছর

প্রতিদিন ৩ লিটার করে পানি খান। বয়স কমান ১০ বছর।  তবে যারা অল্পবয়সী তাদের বয়স ঠিক ১০ বছর কমবে না। কিন্তু কম বয়স থেকেই পানি খাওয়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারলে আপনার চেহারা থাকবে সমবয়সীদের চেয়ে উজ্জ্বল।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা সারাহ স্মিথ পানি খাওয়ার এ অভ্যাসটি শুরু করেন। দেখা গেছে মাত্র ২৮ দিনের মাথায় তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ৪২ বছর বয়সি এ নারী প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও হজমের দুর্বলতায় ভোগছিলেন। পরে স্নায়ু বিশেষজ্ঞ এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞর সাথে পরামর্শ করে পানি খাওয়ার অভ্যাসটি গড়ে তুলেন। দুই সন্তানের জননী সারাহ স্মিথ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেন, আমার দুই চোখের নিচে কালশিটে দাগ পড়েছিলো। ত্বকে একদম দীপ্তি  ছিলো না। দেখলে মনে হতো মৃত মানুষের ত্বক। কিন্তু ২৮ দিন পানি খাওয়ার পরই আমি দারুণ ফলাফল পেলাম। মনে হলো আমার বয়স ১০ বছর কমে গেছে।
তিনি বলেন, এক গবেষণায় জানানো হয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচজনের একজন প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি খায়। অথচ আমাদের শরীরের অঙ্গগুলোর শৃঙ্খলা পানির ওপরই নির্ভর করে। পানি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থেকে বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে নেয়। কোষে পুষ্টি জোগায়। নাক, কান ও গলার টিস্যুকে আর্দ্র রাখে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরের অঙ্গগুলো কাজ করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই আমি নিয়মিত তিন লিটার করে পানি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে অভিনেত্রীকে চড়

মুম্বইয়ের জুহুর ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছে একটি গাড়ি। সময় আন্দাজ সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা। বাধ সাধল যানজট। চালকের আসনে এক সুন্দরী মহিলা। ঘন ঘন ঘড়ি দেখছেন। হঠাত্ই সামনে দাড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি থেকে দুজন যুবক নেমে এলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি থেকে ওই মহিলাকে নামিয়ে সপাটে একটি চড় কষিয়ে দিলেন। এর পর চড়ের পর চড়। সেই সঙ্গে অশ্রাব্য গালিগালাজ। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলল এই কাণ্ড। তবে থেমে থাকেননি ওই মহিলাও। নিজেকে বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবকদের কলার টেনে ধরে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টাও করেন তিনি। ততক্ষণে নাটক দেখতে রাস্তায় শতাধিক লোকের ভিড়। পৌঁছে গিয়েছে পুলিশও। লোকজনের ভিড় ঠেলে ওই মহিলার কাছে পৌঁছে পুলিশ তো হতবাক। আরে! ইনি যে অভিনেত্রী যোগিতা দান্ডেকর। পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকরের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ট্রাফিক সিগন্যাল-এ অভিনয় করেছেন তিনি। তবে কি না মুম্বইয়ের এই ট্রাফিক-ই শেষমেশ কাল হল ট্রাফিক সিগন্যাল খ্যাত মরাঠি অভিনেত্রী যোগিতার। চড় মেরে রাতারাতি খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন ওই দুই নিগ্রহকারী যুবক। এক জন ব্যবসায়ী হংসরাজ সুরানা এবং অন্য জন তাঁর গাড়িক চালক কৃষ্ণ কুমার বিদ্যানাথ। তবে আপাতত তাঁরা পুলিশ হেফাজতে।
ঠিক কী হয়েছিল ওই দিন?
অভিনেত্রী জানান, গত মঙ্গলবার সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির থেকে ফিরছিলেন তিনি। মাঝপথে তাঁর গাড়িটি যানজটে আটকে পড়ে। তখনই সামনের একটি গাড়ি থেকে দুজন নেমে এসে তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন। চিত্কার করলেও তাঁকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। অথচ সামনে তখন শতাধিক লোক। তিনি নিজেই নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। পরে পুলিশ এসে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই দিনই মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ থানায় নিগ্রহকারীদের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সুরানা ও কৃষ্ণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর পিঠে মারাত্মক ভাবে আঘাত করেছেন সুরানা। তবে থেমে থাকেননি তিনিও। কলার টেনে পাল্টা আঘাত শানিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতার পরিচয় আগেও মিলেছে। ২০১১-এ অণ্ণা হজারের সমর্থনে সারা গায়ে জাতীয় পতাকা এঁকে নিজের টপলেস ছবি প্রদর্শন করেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরানা মুম্বইয়ে একটি বহুজাতিক সংস্থার অধিকর্তা। তবে ওই অভিনেত্রীর উপর তাঁর এই আক্রোশের কারণ অবশ্য জানা যায়নি। মুম্বই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন ৯) সত্যনারায়ণ চৌধুরী বলেন, অভিনেত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই সুরানা ও তাঁর গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জামিন না পাওয়া অবধি তাঁরা পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় (হেনস্থা, অশালীন আচরণ এবং জোরজবরদস্তি আঘাত করা) মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রীদের উপর বারংবার এই অশালীন আচরণে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। চলতি মাসেই খাটো পোশাক পরার অপরাধে একটিরিয়্যালিটি শো-এর সঞ্চালক তথা অভিনেত্রীকে সপাটে চড় কষিয়েছিলেন এক জুনিয়র আর্টিস্ট। তার পর ফের এই ঘটনা। আপাতত দোষীদের উপযুক্ত শাস্তিই চাইছেন ট্রাফিক সিগন্যাল-এর যোগিতা।
- আনন্দবাজার

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার নির্দেশ খালেদার

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত যুবদলকে রাজপথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুবদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে নেতাদের এ নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনের ডাক দেবেন খালেদা জিয়া। ওই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যুবদলের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার নির্দেশনা দেন। যুবদলের নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, কোন ধরনের গুজবে কান দেবেন না। দলের মধ্যে কারও সঙ্গে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। সর্বাত্মক আন্দোলন প্রস্তুতি নিন এবং নিজেদের ঐক্য গড়ে তুলুন। বৈঠকে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হামিদুর হামিদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনুসহ ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনে জাহাজডুবি- বড় বনে বড় বিপর্যয় by ইফতেখার মাহমুদ

(ডুবে যাওয়া ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ উদ্ধার করে রাখা হয়েছে শ্যালা নদীর জয়মনিঘোল এলাকায়। গতকাল দুপুরে ছবিটি তুলেছেন এহসান-উদ-দৌলা) সুন্দরবনে প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনের ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের ঘটনা। এর আগে ইন্দোনেশিয়া, পানামা, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পুয়ের্তোরিকোতে এ রকম তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে এসব দুর্ঘটনার কোনোটাতেই পাঁচ-ছয় হাজার হেক্টরের বেশি এলাকায় তেল ছড়ায়নি। আর গত তিন দিনে সুন্দরবনের প্রায় আট হাজার হেক্টর (৮০ বর্গকিলোমিটার) জায়গায় ফার্নেস তেল ছড়িয়ে পড়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এর আগে যেসব দেশের শ্বাসমূলীয় বনে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার সবখানেই প্রথম দিন থেকেই তেল নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। তার পরও ওই দেশগুলোতে বনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো যায়নি। সুন্দরবনের আগে কাছাকাছি মাত্রার দুর্ঘটনা ঘটেছিল নাইজেরিয়ার উপকূলবর্তী নাইজার ব-দ্বীপে। ২০০৮ সালে সেখানে শেল কোম্পানির পাইপ থেকে তেল নিঃসরণের ফলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে ধ্বংস হয় এক হাজার হেক্টর শ্বাসমূলীয় বন। আর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হয় পাঁচ হাজার হেক্টর বনভূমি, যেটাকে লন্ডনভিত্তিক আইনি সংস্থা লেই ডে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করে।
২০১৩ সালের মধ্যে বিশ্বে যতগুলো এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর উল্লেখ করে গত বছর একাধিক প্রতিবেদন ছেপেছে হাফিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ান পত্রিকা। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা গত মঙ্গলবারের সুন্দরবনের বিপর্যয়ের তুলনায় কম। বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের পশুর, শ্যালা, রূপসা ও বলেশ্বর নদের ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকার চাঁদপাই, জয়মনি, তাম্বুলবুনিয়া, হরিণটানা এলাকায় প্রায় তিন ধরনের বনজীবী বসবাস করেন। বন থেকে মাছ ও রেণু পোনা ধরা, মধু ও গোলপাতা আহরণ তাঁদের প্রধান জীবিকা। বনে তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক প্রতিবেশবিষয়ক গবেষক তানজীমউদ্দিন খান সুন্দরবনের তেল বিপর্যয়ের ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিপর্যয়টি বিশ্বের শ্বাসমূলীয় বনগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ ধরনের বিপর্যয়ের পর বনের ক্ষতি যত দ্রুত কমিয়ে আনা যেত, ততই শ্বাসমূলীয় বনের জন্য মঙ্গলজনক হতো। কিন্তু বাস্তবে আমরা সে রকম কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করেছে কয়েকটি সাধারণ জাহাজ। আর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সত্ত্বেও তেল অপসারণে খালি হাতে কাজ করছে গ্রামের সাধারণ মানুষ।’
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য ডুবে যাওয়া জাহাজ উত্তোলনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকার বিষয়টাকে দায়ী করেছে। তারা বলছে, ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী বড় জাহাজ, তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে রাবার বুম (একধরনের ভাসমান বাধা, যাতে তেল ছড়িয়ে পড়তে না পারে), স্কিমার, সরবেন্ট ম্যাটারিয়ালসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তাদের নেই। যে কারণে প্রথম দিন থেকেই তারা তাদের তৎপরতা শুরু করতে পারেনি।
এ বিষয়ে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মংলা বন্দর বন্ধ ছিল। ছয় বছর হলো এটা চালু হয়েছে। ফলে আমাদের যন্ত্রপাতিগুলো নেই। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যন্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেব।’
এ ব্যাপারে শ্বাসমূলীয় বনবিশেষজ্ঞ এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের গবেষণা ফেলো আবু সাইদ প্রথম আলোকে বলেন, এ তেল বনের বৃক্ষের শ্বাসমূলে আটকে থাকবে। ফলে গাছ নিঃশ্বাস নিতে পারবে না এবং আক্রান্ত গাছগুলো মারা যাবে। গাছের পাতা খেয়ে বনের হরিণ বাঁচে। তেল লেগে যাওয়া পাতা কোনো হরিণ খেলে সেটি কিডনি অকার্যকর হয়ে মারা যেতে পারে। আক্রান্ত এলাকার ডলফিন, উদবিড়াল, গুঁইসাপ এবং সব ধরনের ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী আস্তে আস্তে মারা যাবে। ফলে এ বিপর্যয়ের ফলে পুরো এলাকার বনজীবী এবং প্রাণীর জীবন বিপন্ন হবে।
আগের বিপর্যয়: ১৯৮৬ সালে পানামার বাহিয়া লাস মিনাস অয়েল স্পিলের ঘটনাকে গবেষকেরা মহাবিপর্যয়কর হিসেবে চিহ্নিত করেন। ঘটনার পাঁচ বছর পরও গবেষকেরা বনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত শ্বাসমূলের অস্তিত্ব দেখতে পান এবং লক্ষ করেন, বনের চারাগাছের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৯২ সালের ইরা স্পিল ঘটনার চার বছর পরও বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাননি গবেষকেরা।
১৯৮৪ সালে পানামায় ট্রপিকস স্পিল নামের একটি পরীক্ষামূলক তেল নিঃসরণ ঘটানো হয়। ঘটনার সাত মাস পর গবেষকেরা দেখতে পান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ম্যানগ্রোভ বৃক্ষের মৃত্যুর হার ১৭ শতাংশ। ১০ বছর পর দেখা যায়, আক্রান্ত এলাকার অর্ধেক গাছই মৃত্যুবরণ করেছে।
তেল ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে কাজটি প্রথমেই করা জরুরি, তা হলো রাবার বুমের মাধ্যমে ভাসমান বাধা তৈরি করা, যাতে করে তেল ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং স্কিমার, সরবেন্ট ম্যাটারিয়ালসহ বিভিন্ন উপায়ে যত দ্রুত সম্ভব পানি থেকে তেল তুলে নেওয়া। যদি এ কাজগুলো দ্রুত শুরু করা না হয়, তাহলে একসময় ম্যানগ্রোভ বনের নদী-খালে তেল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন বিপন্ন করবে।

বেড়েছে শীত, কমেছে কুয়াশা

আগের দিনের চেয়ে কুয়াশার দাপট আজ শুক্রবার কিছুটা কম। তাই সূর্য যেন মুখ তুলে চেয়েছে। কিন্তু সূর্যের কাছে কাবু নয় শীত। আজ ঈশ্বরদীতে এ মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকাতেও চলছে শীতের দাপট। সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, বাতাসের কারণে কুয়াশা কমে গেছে। তবে কুয়াশার ভাব কেটে যেতে আরও দুই থেকে তিন দিন লাগবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এ মাসের ২০ তারিখের দিকে দেশে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

১০ বছরে ৩৭ নারীকে হত্যা!

মানুষ খুন করাই তাঁর নেশা, বিশেষ করে নারীদের। আর নারী যদি শ্বেতাঙ্গ হয়, সে ক্ষেত্রে বেছে নেন গলা টিপে শ্বাসরোধ করার কৌশল। গত ১০ বছরে এ রকম ৩৭ জন নারীকে হত্যা করার দাবি করেছেন সেইলসন হোসে দাস গ্রাকাস। দুই বছরের মেয়েশিশুকেও হত্যা করেছেন তিনি। গত বুধবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কাছে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার পর পুলিশের কাছে ধরা পড়েন গ্রাকাস। (১০ বছরে ৪২ জনকে হত্যা করার দাবি করেছেন সেইলসন জোস দাস গ্রাকাস। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জনই নারী। ছবি: এএফপি)বিবিসির এক খবরে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অকপটে সব স্বীকার করেন গ্রাকাস। জেল থেকে কখনো মুক্তি পেলে আবার তিনি মানুষ খুন করবেন বলে জানান। পুলিশের সঙ্গে গ্রাকাসের সাক্ষাৎকার ব্রাজিলের গ্লবো টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গ্রাকাসের ভাষ্য, গত ১০ বছরে তিনি মোট ৪২ জনকে হত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন নারী। পুরুষদের তিনি স্বেচ্ছায় খুন করেননি। তাঁদের হত্যার জন্য তাঁকে ভাড়া করা হয়েছিল।
গ্রাকাস পুলিশকে জানান, কাউকে খুন করার আগে তিনি ছয় মাস ধরে তাঁকে পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর তাঁর বাড়িতে ঢোকার সুযোগ খোঁজেন। সুযোগ পেলে বাড়িতে ঢুকে হত্যা করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রাকাস মানসিক বিকারগ্রস্ত। গণমাধ্যমের নজরে আসার জন্যই তিনি এসব কাজ করেছেন। গ্রাকাসের বক্তব্য সতর্কভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রাকাসের স্বীকারোক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন চারজনকে খুঁজে পাওয়া গেছে। অক্টোবর মাসে ব্রাজিলের গোয়ানিয়া শহরে আরও একজন ক্রমিক খুনি খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী। তিনি ৩৯ জনকে হত্যা করেছেন।

ট্রাক-নছিমন সংঘর্ষে ছাত্রসহ নিহত ৩, প্রতিবাদে অবরোধ

(শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ট্রাকে। এই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে নছিমনে থাকা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা যশোর-চৌগাছা সড়কে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ছবি: প্রথম আলো) যশোর-চৌগাছা সড়কের ফুলতাডাঙ্গা গ্রামে ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নছিমনের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবাদে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু হানিফ (২৪), চৌগাছা উপজেলার আছরা গ্রামের আনিসুর রহমান (২৮) ও একই গ্রামের খাদিজা বেগম (৪৫)।
দুর্ঘটনার সময় সড়কের পাশে আলুখেতে কাজ করছিলেন কৃষক আলী আক্তার। তাঁর ভাষ্য, ইঞ্জিনচালিত নছিমনটি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠির দিকে যাচ্ছিল। নছিমনটিতে ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী ছিলেন। এটি একটি বাসের পেছনে ছিল। উল্টোদিক থেকে একটি ট্রাক বাসটিকে অতিক্রম করার সময় নছিমনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নছিমনটি ট্রাকের সঙ্গে আটকে যায়। এভাবে নছিমনটিকে প্রায় ৫০ হাত দূরে নিয়ে যায় ট্রাকটি। এতে নছিমনে থাকা তিন যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। অন্যরা আহত হন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হকের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী মাথায় আঘাত পান। তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের আগুন নিভিয়েছে।
ওসি ইনামুল জানান, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যশোর-চৌগাছা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যান।