Wednesday, June 10, 2015

আইসিসের সঙ্গে আলোচনায় চাই মধ্যস্থতাকারী by রবার্ট ফিস্ক

আহা! এই গলাকাটা ‘ইসলামিক স্টেটের’ খুনিদের তুলনায় তিনি কতই-না নরমপন্থী ছিলেন। কালো ব্যানারধারী এই খুনিরা রামাদি ও পালমেইরায় ফিরে এসেছে। আর তারপরও সেই বুড়ো বিন লাদেনের যেন পুনর্জন্ম হয়েছে। শেষবারের মতো আবির্ভূত করানোর লক্ষ্যে তাঁকে যেন ভারত মহাসাগরে (যদি তিনি কখনো সেখানে থেকে থাকেন) জাল ফেলে টেনে তোলা হয়েছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ভালোবাসেন। তিনি চান, তাঁর ছেলে পুরো আল-কায়েদার দায়িত্ব নিক। আর যদি তিনি ইংরেজি পড়তে পারেন, তাহলে তিনি নোয়াম চমস্কিও পড়েন।
নিশ্চিতভাবেই তাঁর সঙ্গে ব্যবসা করা যায়। আমরা যে ‘মধ্যপন্থীর’ খোঁজে আছি, তিনি সেই মানুষ। যখন আমরা শত্রু বিনাশ করতে পারি না, তখন আমরা এমন মানুষের খোঁজ করি। আইসিসের (আইএসআইএস) মতো অবাধ্য শক্তির সঙ্গে ‘আলোচনা’ করার জন্য আমাদের ‘মধ্যস্থতাকারীর’ দরকার হয়। কিন্তু ফরাসিরা এফএলএনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারীর খোঁজ করতে গিয়ে দেখেছিল, সম্ভাব্য সব মানুষকেই তারা মেরে ফেলেছে। আর লাদেনকে মেরে ফেলায় আমাদের অবস্থাও ঠিক তা-ই হয়েছে। বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের পুরোধা ব্যক্তিকে ২০১১ সালে মেরে ফেলার কারণে আজ ২০১৫ সালে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের নতুন নেতার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের আর কোনো মধ্যস্থতাকারীই নেই।
কিন্তু। আমার মনে সন্দেহ আছে, আমাদের বোকা বানানো হয়েছিল। অ্যাবোটাবাদের বুড়ো মানুষটির বিষয়ে সিআইএ সম্প্রতি যে অনুসন্ধান চালিয়েছে, সে বিষয়ে আমার কথা নেই, আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এখন কেন, বিন লাদেন ও তাঁর ইয়েমেনি শিষ্যদের মধ্যকার মনোমুগ্ধকর ও সময় সময় বিরক্তিকর আঁতাতের কাহিনির প্রথম কিস্তি প্রকাশের এত বছর পর কি এখনো বিন লাদেনের জাঙ্ক মেইল আসে? কারণ, সিমোর হার্শ বিন লাদেন রূপকথার আরও বিশৃঙ্খল এক ভাষ্য পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সেই কর্মকর্তাকে মার্কিন খুনিরা টুকরো টুকরো করে ফেলেছিল, আর সেই খণ্ডের কিছু নাকি হিন্দুকুশ পর্বতমালায় ফেলে দিয়েছিল তারা? (সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটি মিথ্যা, হার্শের মতে)
নিশ্চিতভাবেই এর আগের মেইলগুলো পড়ে বোঝা যায়, বুড়ো মানুষটি ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার কথা ভাবছিলেন। সর্বশেষ সংগ্রহে তেমন কিছু নেই। আমাদের পশ্চিম ঘৃণ্য আইএসের মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু মধ্যপন্থী আবিষ্কার করবে, সে ক্ষেত্রে কি তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারতেন না?
বিন লাদেনের নতুন ভিডিও বার্তাগুলো নীরব কেন? আর আগের মতো এসব নথিপত্রের কিছু কিছু অংশ সেন্সর করা হয়েছে কেন? এর জন্য সিআইয়ের প্যাঁচানো শব্দবন্ধ ‘সম্পাদিত’ পড়ুন। সিআইএ মনে করে, ওসামা বিন লাদেনকে সেন্সর করা গুরুত্বপূর্ণ? অস্বাভাবিক ব্যাপার হচ্ছে, কেউই এর কারণ জিজ্ঞেস করেনি। সাংবাদিকেরা সম্পদ নিয়ে বাগাড়ম্বর করেছেন। আমি এতটা নিশ্চিত নই। কী এমন ব্যাপার যে সিআইএ ও বিন লাদেন জানত, যা আমাদের জানা অবশ্যই বারণ?
বিন লাদেনের সঙ্গে বহু আগে সেই ১৯৯৩, ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে আমি দেখা করেছিলাম। এটা আমার ক্ষেত্রে অ্যালবাট্রস হয়ে আছে, তা যেন এক প্রতিবেদকের সিভির ওজন বাড়িয়েছে। ব্যাপারটা যেন এমন যে আমি এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি, যিনি নাইন–ইলেভেনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অনুমোদন (যদি তিনি সেটার পরিকল্পনা না করে থাকেন) করেছেন। এতে বরং ইতিহাস আরও পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু আমার মনে আছে, আমাদের দ্বিতীয় বৈঠকে তিনি সৌদি আরবের দুর্নীতির ব্যাপারে আচ্ছন্ন ছিলেন, কীভাবে দেশটির রাজপরিবার ইসলামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। পরবর্তী সময়ে আমি জানলাম, তিনি সে দেশে ফিরে গেলে সৌদি আরব তাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেবে, তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দেবে। এক কূটনীতিকের মাধ্যমে দেশটি তাঁকে এ প্রস্তাব দিয়েছিল।
হার্শের ভাষ্যে এক কৌতূহলোদ্দীপক প্যারা রয়েছে। আমার সহকর্মীরা বলেন, এটা হচ্ছে ‘পাল্টা আখ্যান’। তাতে দেখা যায়, হার্শের ‘অবসরপ্রাপ্ত উৎস’ তাঁকে বলেছেন, বিন লাদেনের খোঁজ করার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ, পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ার পর এই রাজ্য ‘তাঁকে টাকাপয়সা দিয়ে যাচ্ছিল’। হার্শের সেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে, সৌদি আরব ভয় পাচ্ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে চাপ দিয়ে বিন লাদেনের সঙ্গে কথা বলে আল-কায়েদার সঙ্গে সৌদি আরবের যোগসাজশের বিষয়ে জেনে ফেলবে। আর তারা টাকাও ঢালছিল, প্রচুর পরিমাণে।
বিন লাদেনের সর্বশেষ মেইলের বিষয়ে আমার মনে প্রচুর প্রশ্ন আছে। এটা কে অনুবাদ করেছে তা আমরা জানি না, আর কে-ইবা তা সেন্সর করেছে, তার কথা না হয় বাদই দিলাম। এর কিছু প্যারা নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। তাঁর এক স্ত্রী খাইরিয়াহ সাবেরকে লেখা চিঠিতে লাদেনের আবেগ ঝরে পড়েছে। সেই চিঠিতে তিনি এই নারীর সঙ্গে মৃত্যুর পরও মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন, সেখানেও তিনি তঁার স্বামী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন (এমনকি এই জগতের তাঁর ‘শাহাদতবরণের’ পর তিনি যদি অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তা-ও)। তিনি চেয়েছিলেন, খাইরিয়াহর ছেলে হামজাই আল-কায়েদার পরবর্তী নেতা হোক। কিন্তু মার্কিন ড্রোন হামলার আশঙ্কা, বিপ্লবের জন্য শিক্ষা প্রয়োজন—শেষ সময়ের এই বোধোদয় ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পুতুলরাষ্ট্রে হামলা না চালিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর সংকল্প—এসব থেকে এটা বোঝা যায় না যে তিনি অ্যাবোটাবাদের নির্জনবাসে বসে ‘সন্ত্রাস’ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র পরিচালনা করছিলেন।
তাহলে সবকিছু ভেঙে ভেঙে আসছে কেন? গত সপ্তাহে বের হওয়া ১০৩টি চিঠি, ভিডিও প্রতিবেদন প্রভৃতি বেরিয়েছে ওয়েস্ট পয়েন্টের ‘কমব্যাটিং টেররিজম সেন্টার’ প্রকাশিত বিন লাদেনের কথোপকথনের ১৭৫ পৃষ্ঠা রেকর্ড বেরোনোর তিন বছর পর। সেটাও ছিল একইভাবে ভাঙা ভাঙা, এর অনুবাদও ছিল অদ্ভুত। যেমন: বিন লাদেনের একজন ইয়েমেনি এজেন্ট যখন তাঁকে আমার এক নিবন্ধের কপি পাঠান, যেখানে আমি আল-কায়েদাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলাম। এর দ্বিতীয় অংশটি মার্কিনরা আবার আরবি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এ আমি যে ইংরেজি লিখেছিলাম, সেটা থেকে এটার বিচ্যুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এর প্রথম অংশটি একদম দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে মেরে দেওয়া, সেটা আরবি থেকে অনুবাদের চেষ্টা করা হয়নি।
অ্যাবোটাবাদে নাকি পর্নোগ্রাফির স্তূপ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে আমি মাথা ঘামাব না। আর এটা প্রকাশ করার আগে সিআইএকে চার বছর ধরে তা দেখতে হয়েছে। যে সংস্থাটি বন্দীদের পানিতে চুবিয়ে রাখে ও পায়ুপথে খাবার ঢোকায়, তারা কি আসলেই এতটা নাদান? এরপর সেখানে নোয়াম চমস্কি থেকে শুরু করে বব উডওয়ার্ডের বই পাওয়া গিয়েছে। ইশ্! বিন লাদেন যদি ইংরেজি পড়তে পারতেন। তাঁর কি অ্যাবোটাবাদে ভাষাশিক্ষক ছিল? তিনি আরবি বই পড়তেন। তঁার কোনটি মার্কিনরা সেখানে পেয়েছে? নাকি সেখানে সৌদি আরববিষয়ক অনেক কিছু ছিল?
নিশ্চিতভাবেই এর আগের মেইলগুলো পড়ে বোঝা যায়, বুড়ো মানুষটি ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার কথা ভাবছিলেন। সর্বশেষ সংগ্রহে তেমন কিছু নেই। আমাদের পশ্চিম ঘৃণ্য আইএসের মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু মধ্যপন্থী আবিষ্কার করবে, সে ক্ষেত্রে কি তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারতেন না? আর আমরা যদি ‘ইসলামিক স্টেট’-এর অভিলেখাগারে ঢুকতে পারতাম। কিন্তু হয়তো সেটাও সেন্সর করার প্রয়োজন হতে পারে। সে কারণে আমি আইসিসের সঙ্গে আলোচনার জন্য একজনকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রাখার পরামর্শ দেব, সৌদি আরব, যদিও বিন লাদেন মারা পড়েছে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা।

১৮৫ কোটি টাকা জরিমানার মুখে মেসি, হতে পারে জেলও!

আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে মেসিকে: ফাইল ছবি
ট্রেবল জয়ের আনন্দে বাগড়া দিচ্ছে ‘ট্রাবল’! বার্সেলোনার হয়ে সদ্যই শিরোপাত্রয়ী জিতে চিলিতে উড়ে গেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা খেলবেন বলে। কিন্তু লিওনেল মেসির পিছু তাড়া করল একটা দুঃসংবাদ। কর ফাঁকির মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল, স্পেনের আদালত তা নাকচ করে দিয়েছে। মেসির বিরুদ্ধে ৪১ লাখ ইউরো কর ফাঁকির অভিযোগ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যেটি ৩৬ কোটি টাকার সমান।
আজ বার্সেলোনার প্রাদেশিক উচ্চ আদালত মেসির আইনজীবীদের করা আবেদনটি খারিজ করে দেন। মেসির বিরুদ্ধে স্পেনের কর বিভাগ অভিযোগ এনেছে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশাল পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছেন মেসি। এর দায় বর্তায় মেসির এজেন্টের ভূমিকা পালন করা তাঁর বাবা হোর্হে মেসিরও ওপর। উরুগুয়ে, বেলিজ, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের কিছু নামকাওয়াস্তে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে বার্সেলোনার ফুটবল তারকার ছবি স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে এই কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে আদালতে হাজিরাও দিতে হয়েছে মেসি ও তাঁর বাবাকে।
মেসি এবং তাঁর বাবা দুজনই জেনে বুঝে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কর ফাঁকি দেওয়ার সপক্ষে কর বিভাগ বেশ শক্ত প্রমাণ হাজির করেছে। তবে মেসির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মেসি নিজে এর সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। মেসি নিজেও বলেছেন, করের আইন কানুন তিনি বোঝেন না। এসব দেখভাল করার জন্য তাঁর আইনজীবীরাই রয়েছেন। তিনি নিজে কখনো কোনো কিছু পড়ে কোনো চুক্তিতে সই করেননি। আইনজীবীদের পরামর্শ মেনে চলেছেন।
মেসির বাবাও পুরো দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বলেছেন, ‘সব সময়ই বলে এসেছি, এর সঙ্গে ওর কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। এর সঙ্গে আমি জড়িত, ওর এতে কোনো সম্পর্ক নেই।’
আদালত অবশ্য এই যুক্তি মেনেই নিয়েছেন। আজ আদালত বলেছেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন মেসি নিজে কখনো তাঁর আর্থিক ব্যাপার-স্যাপার সামলান না। কিন্তু এ ব্যাপারে তাঁর কোনো ধারণা না থাকলেও মেসি দায়মুক্তি পাবেন না। মেসি এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, সেটি নির্ধারণ করার মতো অবস্থায় আদালত নেই।
২০১৩ সালে স্পেনের একটি আদালতে প্রথম বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়। এর পর মেসি ৫০ লাখ ইউরোর বেশি করও পরিশোধ করেন। কিন্তু তাতেও মুক্তি মেলেনি। আদালতের বাইরে বিষয়টির একটা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত সর​কারি আইনজীবী সমঝোতার বদলে মামলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেই অটল। অপরাধ প্রমাণিত হলে ২ কোটি ১০ লাখ ইউরো (১৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা) জরিমানা হতে পারে মেসি ও মেসির বাবার। পাশাপাশি এক বছরের স্থগিত কারাবাসেরও (সাসপেন্ডেড প্রিজন সে​নটেন্স) শাস্তি দেওয়া হতে পারে। সূত্র: গার্ডিয়ান ও ইএসপিএন।

বাংলাদেশে মোদির বক্তব্যে পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ঢাকা সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনা এসেছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কাজী এম খলিলুল্লাহ গতকাল বলেন, এতে করে সার্বভৌম একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতের নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিশ্চিত হলো। এটা দুঃখজনক যে, জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ডেই শুধু ভারতীয় রাজনীতিকরা নিবৃত্ত হন তা নয়, বরং তারা অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কথা স্মরণ করে গর্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তব্যে মোদির পাকিস্তানবিরোধী মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেছেন, পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নুইসেন্স’ বলে যে আখ্যা দিয়েছেন তা দুঃখজনক। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শুধু ধর্মীয় ঐক্যের শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ তাই নয় বরং দেশ দুটি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে তাদের ইতিহাসের দ্বারা আবদ্ধ। ভ্রাতৃপ্রতিম দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধের বীজ বপন করার ভারতীয় চেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি যে ভারত স্বীকার করেছে তা আমলে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। ওদিকে পাকিস্তান অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ভারতের আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে। তিনি দুঃসাহসী এক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে পাকিস্তান ভাগ করতে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। প্রত্যেক ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর পাশে লড়াই করা ভারতীয় বাহিনীর আকাঙ্ক্ষা ছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার। এটা নতুন কোন গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে তা নয়, কেননা প্রত্যেক পাকিস্তানি ও  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিচক্ষণ সদস্যদের কাছে এটা স্পষ্ট যে, ঢাকা পতনে কে কোন ভূমিকা পালন করেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের ট্র্যাজেডিকে গর্ব করে ১০০০ বছরের প্রতিশোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

‘মা, মুই তোর কাছে যাইম’ -ভারতের আশ্রমে বন্দী রনি

অতিদরিদ্র বাবা-মা পাঁচ বছর আগে ছয় মাসের রনিকে নিয়ে ভারতে যান। সেখানে দিল্লির ঝরঝর জেলার শনিপথ থানার খরগোদা গ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ নেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দুই মাস আগে বাবা-মা রনিকে দাদার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুরুসা ফেরুসা গ্রামে পাঠান। দালালের মাধ্যমে দেশে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা (বিএসএফ) শিশুটিকে আটক করে। এ নিয়ে বিএসএফ-বিজিবি তিন দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু রনিকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।
গত রোববার দুপুর ১২টায় কুরুসা ফেরুসা গ্রামে রনির দাদাবাড়িতে গেলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শিশুটির বাবা-মা ওই দিন আসামের ধুবড়ি জেলা শহরের এক দালালের মাধ্যমে রনির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পান। মুঠোফোনের স্পিকার চালু করতেই ওপাশ থেকে রনি বলে ওঠে, ‘মা, মুই তোর কাছে যাইম। মোক বাড়িত নিয়া যাও।’ ছেলের আকুতিতে মা রুনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা জয়নাল আবেদীন (৩০) চোখের পানি মুছে বলেন, রনি আসামের এক আশ্রমে বন্দী।
৪৫ বিজিবির অধীন কুড়িগ্রাম সদরের দইখাওয়া ক্যাম্পের হাবিলদার আলী আহম্মেদ বলেন, ‘রনিকে ফেরত চেয়ে বিএসএফকে পত্র দিয়েছি। তিন দিন পতাকা বৈঠক করেও লাভ হয়নি। তবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

বন্ধুদের নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা!

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার চরজালালপুর এলাকায় রিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার মেঘনা নদীর তীরবর্তী টেকপাড় খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী কাদের সরদারের (২৫) বাবা ও এক বন্ধুকে পুলিশ আটক করেছে। রিনা কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
কাদেরের বন্ধুর বরাত দিয়ে গোসাইরহাট থানা-পুলিশ জানায়, কাদের সরদার জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া মাস্টারকান্দি গ্রামের জালাল সরদারের ছেলে। সে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করত। একই কারখানায় কাজ করতেন রিনা আক্তার (১৮)। তাঁরা গত জানুয়ারিতে বিয়ে করেন। দুই মাস আগে কাদের স্ত্রীকে নিয়ে গোসাইরহাটের চরজালালপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, গত রোববার ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে কাদের স্ত্রীকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। রাতে কাদের ও তার তিন বন্ধু রিনাকে মেঘনা নদীর তীরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে রিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
কাদের ও তার বন্ধুদের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে সোমবার গ্রামের মানুষ রিনার নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। টের পেয়ে তারা এলাকা ছাড়ে। পালিয়ে যাওয়ার সময় কাদেরের বন্ধু রুবেল সরদারকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলুর বাজার ফেরিঘাট থেকে আটক করে পুলিশ। রুবেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল দুপুরে গোসাইরহাট থানার মেঘনা নদীর তীরবর্তী টেকপাড় খাল থেকে রিনার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শরীয়তপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিনাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে কাদেরের বন্ধু রুবেল। লাশ গুম করার জন্য শরীরের বিভিন্ন স্থান কুপিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাদেরের বাবা জালাল সরদারকে আটক করা হয়েছে। অন্য অপরাধীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য রিনার লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বাবার বাড়ির ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, কাদেরের প্রথম স্ত্রী ভেদরগঞ্জে থাকেন। কাদের ঢাকায় চাকরির সময় প্রেম করে রিনাকে বিয়ে করে। রিনার টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়ে কয়েক মাস আগে কাদের ভেদরগঞ্জে আসে। খোঁজ নিয়ে রিনাও চলে আসেন। এ অবস্থায় কাদের কৌশলে রিনাকে নিয়ে গোসাইরহাটের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে এসেও রিনাকে বিচ্ছিন্ন করতে না পেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে কাদের।

সাংবাদিকদের পেটালেন নির্বাহী প্রকৌশলী

নড়াইল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর কার্যালয়ে
সাংবাদিকদের লাঠি দিয়ে পেটান l ছবি: প্রথম আলো
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নড়াইল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকেরা। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী টিভির নড়াইল প্রতিনিধি মিরাজ খান লোহাগড়া উপজেলার ফায়ার স্টেশনের ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম জালাল উদ্দিন সাক্ষাৎকার আনতে যান। এ সময় জালাল উদ্দিন সাংবাদিক মিরাজের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি অন্য সাংবাদিকেরা জানতে পেরে তাঁরা ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর কাছে থাকা লাঠি দিয়ে সাংবাদিকদের পেটান এবং টেবিলের ওপরে থাকা পেপারওয়েট, কলমদানিসহ বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে মারেন। এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মিরাজ হোসেন বলেন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নবনির্মিত ফায়ার স্টেশন চালু সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার নিতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই কর্মকর্তার দপ্তরে যান।
সংবাদ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি কাজী হাফিজ বলেন, পিটুনিকে বাধা দিতে গিয়ে তিনিও নির্বাহী প্রকৌশলীর লাঠির আঘাত পেয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়ে তাঁর কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ যাওয়া যায়।
পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনন্দ কুমার বিশ্বাস এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

কাঠগড়ায় থেকে দণ্ড ভোগ করলেন জাফরুল্লাহ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে বেরিয়ে
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের
প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সাজিদ হোসেন
এক ঘণ্টা আসামির কাঠগড়ায় থেকে আদালত অবমাননার দায়ে একটি দণ্ড ভোগ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাফরুল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে এসব দণ্ডাদেশ দেন। একই আদেশে আদালত অবমাননার অভিযোগ থাকা অন্য ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেন, ২২ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিবৃতি আদালতের জন্য অবমাননাকর হলেও প্রথমবার বিবেচনায় তাঁদের ক্ষমা করা হলো। তবে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আগেও আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম চলেছে। তাই তাঁকে দণ্ড দেওয়া হলো।
বাংলাদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ২৩ বিবৃতিদাতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ মে শুনানি শেষে আজ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা ১২টা ৪৯ মিনিটে স্বেচ্ছায় কাঠগড়ায় ওঠেন জাফরুল্লাহ। ১টা ৫০ মিনিটে কাঠগড়া থেকে নেমে আসেন তিনি।
এজলাসে উপস্থিত ট্রাইব্যুনালের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আদেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল উঠে যাওয়ার পর আসামির কাঠগড়ায় যেতে রাজি হননি জাফরুল্লাহ। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জাফরুল্লাহকে আসামির কাঠগড়ায় উঠতে বললেও তিনি তা করেননি। পরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার গিয়ে তাঁকে আদালতের আদেশের কথা বলেন। আদেশ পড়ে তারপর তা পালন করবেন বলে জানান তিনি। বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে জাফরুল্লাহকে আদেশের লিখিত অনুলিপি পড়তে দেওয়া হয়। ১২টা ৪৯ মিনিটে তিনি স্বেচ্ছায় কাঠগড়ায় ওঠেন। সেখানে এক ঘণ্টা থাকেন।
কাঠগড়া থেকে নামার পর জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তবে এর মধ্যেই উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তিনি।
জাফরুল্লাহর দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। সমালোচনা করা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। দেশের যেকোনো বিষয়ে সমালোচনা করার অধিকার তাঁর রয়েছে।
বিলম্ব করে আসামির কাঠগড়ায় যাওয়ার বিষয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, পুরো আদেশ পড়ে তারপর তা পালন করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। অনুলিপি দিতে আদালতের দেরি হয়েছে।
আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নিউ এজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ নাগরিক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন। মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির পরে বিবৃতি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ৪৯ বিবৃতিদাতার কাছে তাঁদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। পরে বিবৃতির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় ২৬ বিবৃতিদাতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার রুল দেন।

যোসাকে নিয়ে একটি বৃহৎ বই

মারিও বার্গাস যোসাকে নিয়ে লেখা বইয়ের
প্রকাশনা উৎ​সবে বক্তৃতা করছেন
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান l প্রথম আলো
বই নিয়ে কথার শুরুটা করলেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সোমবার রাতে তাঁর হাতে পৌঁছেছিল বইটি। লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক মারিয়ো বার্গাস যোসাকে নিয়ে বইটির নাম মারিয়ো বার্গাস যোসার জীবন ও মিথ্যার সত্য।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহবাগের পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাক্ষাৎ প্রকাশনী ও বইনিউজ টোয়েন্টিফোর। সভাপতি ছিলেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। বইটি নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফ।
আলোচনায় সাজ্জাদ শরিফ জানান, লাতিন আমেরিকার জনগণ তাদের সাহিত্যিক ও শিল্পীদের দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত। এমনটা সারা বিশ্বে দেখা যায় না। যোসা লাতিন আমেরিকান অন্য সাহিত্যিকদের থেকে আলাদা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বইটিতে রয়েছে যোসার এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার।
প্রকাশক আনিসুজ্জামান জানালেন, স্প্যানিশ ভাষাটা জানা থাকায় সেটি প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এটিই তাঁর প্রকাশনীর প্রথম বই।
সংকলক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন স্প্যানিশ ভাষা থেকে বইটি অনুবাদের নেপথ্যের কিছু কারণ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি আনিসুজ্জামান অবশ্য এ বইয়ের মুদ্রণত্রুটি নিয়ে সামান্য নিরাশা ব্যক্ত করেছেন।

নির্জন কারাকক্ষে দুঃসহ যন্ত্রণার ৪৩টি বছর, মিললো মুক্তি

সুদীর্ঘ প্রায় ৪৩টি বছর নির্জন কারাকক্ষে দন্ড ভোগের পর মুক্তি পেলেন তিনি। নির্জন সেলে দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় জেলে কাটিয়েছেন। ৬৮ বছর বয়স্ক অ্যালবার্ট উডফক্স বিভিন্ন সময়ে লুইজিয়ানা স্টেট পেনিটেনশারি কারাগার এবং অন্য কয়েকটি কারাগারের নির্জন সেলে বন্দি ছিলেন। দুঃসহ যন্ত্রণার এতোগুলো বছর পেরিয়ে আজ তিনি মুক্ত। ১৯৭২ সালে জেলে দাঙ্গার ঘটনায় এক কারারক্ষীকে হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটক হয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ে গতকাল দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদন্ড ভোগ করা কয়েদী অ্যালবার্ট উডফক্সকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক জেমস ব্র্যাডি আসামী উডফক্সকে নিঃশর্ত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যার যে অভিযোগসমূহ রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে মামলা কোন আদালতে না গড়ায়, সে নির্দেশও দিয়েছেন। উডফক্স দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। এক সাক্ষীর উদ্ধৃতি দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন। শুধু তাই নয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাতেও অপরাধ সংঘটনের স্থান থেকে সংগৃহীত আলামতে তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। ওই পরীক্ষাতে তাকে হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পক্ততার অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে। এমনকি অত্যাধুনিক ‘পলিগ্রাফ পরীক্ষা’ অর্থাৎ, লাই-ডিটেক্টর বা মিথ্যা শনাক্তকারী ডিভাইসের পরীক্ষাতেও উৎরে গেছেন তিনি। লাই-ডিটেক্টর মেশিনও বলছে উডফক্স হত্যাকন্ডে জড়িত থাকার ঘটনাটি যে অস্বীকার করছেন, তাতে কোন মিথ্যা নেই। গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ সার্কিটের একটি আপিল আদালত উডফক্সের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করে। কিন্তু, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ গঠন করা হয়।

অকালে চুল পাকা রোধে করণীয়

অনেকের অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। যদিও চুল পাকার সঙ্গে বয়সের খুব একটা সম্পর্ক নেই। নানা কারণে চুল পাকতে পারে। তবে অল্প বয়সে চুল পাকলে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতে পারে। তবে কিছু কার্যাবলী আপনাকে অকালে চুল পাকার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক এমনই কিছু টিপস।
পুষ্টিকর খাবার: চুলের স্বাভাবিক কালো রং ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। শরীরে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা দিলে চুল পাকতে শুরু করে। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ খাদ্য খেতে বলেন বিশেষজ্ঞরা, যেমন- গমের আটা থেকে তৈরি খাবার, দই, সবুজ শাকসবজি।
মেডিটেশন: অকালে চুল পাকার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ। ঘরে, বাইরে অতিরিক্ত টেনশন বাড়লে অকালে চুল পেকে যেতে পারে। বেশি চিন্তাভাবনা করলেও চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন সময় ধরে যোগব্যায়াম করুন। মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। মনকে শান্ত রাখার সবচেয়ে উপকারী দাওয়াই মেডিটেশন। নিয়মিত ১০ মিনিট ধ্যান করুন।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে সুস্থ শরীর লাভ করা যায়। পাশাপাশি চুল পাকার হাত থেকেও মুক্তি মেলে। শারীরিক কসরতের কারণে মাথার স্কাল্পে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। চুলের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয়। চুল পড়া, চুল পাকা থেমে যায়। তাই চুলের স্বার্থে প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম প্রয়োজন।
সঠিক পরিচর্যা: অকালে চুল পাকা প্রতিরোধে চুলের সঠিক পরিচর্যা জরুরি। চুলের যত্ন না নিলে চুল ঝরবে তো বটেই, সাদাও হয়ে যাবে। তাই চুলের সঠিক দেখভালের জন্য নিয়মিত মাথায় তেল লাগানো উচিত।
পানি পান: এসবের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান প্রয়োজন। সঠিক পরিমাণে পানি খেলে শরীরে টক্সিনের মাত্রা ঠিক থাকে। সুস্থ শরীর লাভ করা যায়। এগুলো মেনে চললে অকালে চুল পাকার হাত থেকেও নিস্তার মেলে।

মোদি দক্ষ সেলসম্যান

নরেন্দ্র মোদি একজন দক্ষ সেলসম্যান, ইভেন্ট ম্যানেজারও বটে! গতকাল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের এক বৈঠকে একথা বলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি উদাত্ত কণ্ঠে স্বীকার করেন মোদি তার থেকে এ বিষয়ে অনেক গুণ এগিয়ে। তিনি একজন ভাল সংযোগ স্থাপক হিসেবে মোদির প্রশংসা করেন মনমোহন সিং। তার এমন কথার কারণ কি! এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। এসব বিষয়ে মনমোহন নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ইউপিএ আমলে তৈরি হওয়া প্রকল্প ও উদ্যোগগুলোকে নতুন মোড়কে চালাচ্ছে মোদি সরকার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আনন্দবাজার পত্রিকা, অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, গতকাল কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীদের ওই সভায় মনমোহন সিং বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিষয়ে তাদের অবশ্যই আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, তাদের অনেক পদক্ষেপই এনডিএ সরকার নতুন করে প্যাকেটজাত করছে। মনমোহন সিং তার বক্তব্যে আরও বলেন, ভাল কিছু ঘটছে। আর সেটা হলো আবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে। তবে সরকারের ভেতর ও বাইরে নতুন জিডিপির বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, পক্ষান্তরে ইউপিএ সরকার ৭.৫ ভাগ বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। এটা সম্ভব হয়েছে সামাজিক খাতে ইউপিএ সরকারের চমৎকার পারফরম্যান্সে। মনমোহন সিং বলেন, বর্তমানে পণ্য ও সার্ভিস খাতে ট্যাক্স (জিএসটি) বিলের যে ফরমেট আছে তা কেন্দ্র বা রাজ্যকে কোনভাবে সাহায্য করবে না। বাজেট অধিবেশনে বিল পাস আটকে দিয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, তারা বিজেপি যে সংশোধনী করেছে তা যাচাই করতে গঠন করতে হবে একটি পার্লামেন্টারি কমিটি। মনমোহন বলেন, জিএসটি বাস্তবতার সঙ্গে মিলাতে আমরা প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে একটি বিরোধপূর্ণ বিজেপিকে। এখন বিজেপি জিএসটির সবচেয়ে ভাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই, বর্তমানে এ খাতে আইন সর্বোত্তম পথে এগোচ্ছে কিনা। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর গতকালের ওই বৈঠক আহ্বান করেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ব্যর্থতার দিকে নজর দেয়ার কথা। কৃষকের সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ এ বিষয়টিকে এখনও প্রকাশ্যে এজেন্ডায় আনে নি কংগ্রেস।

এক সৌদি যুবরাজের বিস্ময়কর উত্থান by কাজী আরিফ আহমেদ

সৌদি রাজতন্ত্রের পূর্বাকাশে নব-অরুণোদয় ঘটেছে। রাজপরিবারের ইতিহাসে এমনটা এর আগে ঘটেনি কখনও। বাহুবলে নয়; সততায়, নিষ্ঠায়, চারিত্রক বৈশিষ্ট্য, মেধায়, দক্ষতায়, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় তিনি চিরাচরিত প্রথা ভেঙেছেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই প্রতিভা আর যোগ্যতার বলে তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতায় ঢের এগিয়ে থাকা যুবরাজদের পেছনে ফেলে সামনের কাতারে চলে এসেছেন। তিনি মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বয়সেই দেশটির সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আসীন হয়েছেন তিনি। পশ্চিমা বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত তার প্রতিভায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তার মেধার পরিচয়ে বিমোহিত হয়েছেন তিনিও। তবে যেভাবে তিনি অন্য যুবরাজদের ডিঙিয়ে সামনে এলেন, তাতে ভবিষ্যতে রাজপরিবারে বিরোধের সুর বাজবে কিনা এবং সৌদি রাজতন্ত্রের চিরাচরিত ব্যবস্থায় চিড় ধরবে কিনা, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। পক্ষে এবং বিপক্ষে রয়েছে বহু মত। তবে যুবরাজ মোহাম্মদকে সৌদি রাজতন্ত্রের আকাশের ‘উদীয়মান তারকা’ হিসেবেই ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমসে ‘সারপ্রাইজিং সাউদি রাইজেজ অ্যাজ আ প্রিন্স অ্যামং প্রিন্সেস’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডেভিড ডি. কার্কপ্যাট্রিক। সে প্রতিবেদনটিই এখানে প্রকাশ করা হলো।
বড় ৩ সৎ ভাইয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাছে বড়ই অনুজ্জ্বল ছিলেন তিনি। এক ভাই সৌদি আরবের প্রথম মহাকাশচারী, অপর ভাই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়া রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও জর্জ টাউনের সাবেক রিসার্চ ফেলো, যিনি সৌদি আরবের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির প্রতিষ্ঠাতা এবং অপরজন সৌদি আরবের জনপ্রিয় তেল বিষয়ক উপমন্ত্রী। কিন্তু, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ (৭৯) রাজসিংহাসনে আরোহণের পর রাজনৈতিক পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার বিবেচনায় যুবরাজ মোহাম্মদই এখন ‘উদীয়মান তারকা’। তাকে ঘিরে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, বিপরীতে আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে কারও কারও মনে। বড় ৩ ভাইয়ের যোগ্যতার কাছে বেশ ম্লান যুবরাজ মোহাম্মদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। পড়াশোনার জন্য সৌদি আরবের বাইরে কখনও পা রাখেননি তিনি। রাজধানী রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে  স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি।
দ্রুতই তিনি অন্য যে কোন সময়ের যুবরাজদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন। রাজপরিবারে পদমর্যাদা বিন্যাস ও বন্টনে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিকে উল্টে দিয়েই তিনি অগ্রগণ্য হয়ে উঠেছেন। রাজপরিবারের ঐক্য সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সচেষ্ট তিনি। সম্প্রতি সৌদি আরব আঞ্চলিকভাবে নিজের যে কর্তৃত্বপূর্ণ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছে, ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে ওঠার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক মধ্যস্থতাও তার মধ্যে একটি। অনেকেই আশা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নানাবিধ সঙ্কট মোকাবিলায় ও বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৌদি আরব নব-চেহারা নিয়ে উদ্ভাসিত হবে, আর সেটা হবে ভবিষ্যত এ উত্তরাধিকারীর হাত ধরেই।
যুবরাজ মোহাম্মদের বড় ৩ সৎ ভাই তার পিতার প্রথম স্ত্রী সুলতানা বিনতে তুর্কি আল সুদাইরির সন্তান। ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিন ভাই বেশ যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ায় তাদের সরকারি শীর্ষ পদগুলোর ভূমিকায় দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। যুবরাজ সুলতান বিন সালমান আল সৌদ (৫৮) সৌদি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্নেল। সাবেক এ মহাকাশচারী ১৯৮৫ সালে ‘স্পেস শাটল ডিসকভারি’ নভোযানের মহাকাশ যাত্রায় ছিলেন। বর্তমানে তিনি পর্যটন ও পুরাতত্ত্ব কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান (৫৫) ডেপুটি তেলমন্ত্রী। জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। যুবরাজ ফয়সাল বিন সালমান (৪৪) অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী। জর্জটাউনে রিসার্ট ফেলো ছিলেন তিনি। সৌদি আরবের বৃহত্তম বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘জাদওয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি এবং মদিনার গভর্নরের দায়িত্বে রয়েছেন।
অথচ, রাজনীতিতে তাদেরকে ছাপিয়ে গেছেন ছোট ভাই মোহাম্মদ। সৌদি রাজসিংহাসনে আরোহণের ৪ মাসে বাদশাহ সালমান যোগ্যতার নিরীখে যুবরাজ মোহাম্মদকে রাষ্ট্রের তেল বাণিজ্য, সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি বা শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত ফোর্ড এম. ফ্রেকার বলেছেন, স্পষ্টতই, বাদশাহ তার পুত্রকে নতুন দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনে অবিশ্বাস্যভাবে শিক্ষালাভের খাড়া একটি গ্রাফে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, বাদশাহ অবশ্যই উপলব্ধি করেছেন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত যুবরাজ।
ইয়েমেনে দুই মাসব্যাপী যে যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে সৌদি আরবের সবচেয়ে দৃশ্যমান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মোহাম্মদ এবং তার পিতা তাকে ‘ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স’ বা উপ-যুবরাজের উপাধিতে ভূষিত করেছেন। সিংহাসনে আরোহণের ক্ষেত্রে ডজনেরও বেশি উত্তরাধি যুবরাজকে পেছনে ঠেলে সামনের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন মোহাম্মদ। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সারির যুবরাজের মর্যাদা দেয়া হয়েছে তাকে। এদিকে বাদশাহ সালমান তার কনিষ্ঠ সৎ ভাই যুবরাজ মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে (৬৯) সিংহাসন থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিতে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন। জনপ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপ-যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ (৫৫) তার স্থলে নতুন যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। সিংহাসনে আরোহণের ক্ষেত্রে বাদশাহ সালমানের ভাইয়ের পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী নেই। আর তাই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী।  
কিন্তু, পশ্চিমা কয়েক কূটনীতিক আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। যুবরাজের ক্রমেই বেড়ে চলা প্রভাব তাদের উদ্বেগের কারণ। একজন তো যুবরাজকে ‘অপরিণামদর্শী’ ও ‘আবেগতাড়িত’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কয়েকটি সাক্ষাৎকারে রাজপরিবারের মুখ্য সারিতে থাকা কমপক্ষে দুই যুবরাজ জানিয়েছেন, রাজবংশের প্রবীণ কয়েক সদস্যের মনেও সংশয় ও সন্দেহ রয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ ইয়েমেন হামলায় সামনে থেকে যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে হামলা সংক্রান্ত ব্যয় ও সুফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে ভূমধ্যসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলনে উভয় যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, প্রিন্স মোহাম্মদ ‘অত্যন্ত জ্ঞানসম্পন্ন এবং বেশ চটপটে’। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-অ্যারাবিয়া নেটওয়ার্ককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেছেন, আমার মনে হয় তিনি তার বয়সের তুলনায় বিচক্ষণ। কিন্তু, বোদ্ধারা বলছেন, রাজপরিবারের একটি শাখার হাতে এতো দায়িত্ব হস্তানন্তর পরিবারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বন্টন বা ভাগাভাগির প্রচলিত ব্যবস্থার লঙ্ঘন। ৮ দশক আগে  আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রব্যবস্থা  ক্ষমতা বন্টনের এ ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। নতুন এ ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর রাজপরিবারে দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সহিংসতার অবসান হয় এবং এরপর থেকেই রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য সুসংহত হয়।
যুবরাজরা আগে নিজেদের রাজসভা পরিচালনা করতেন। সামরিক, ন্যাশনাল গার্ড ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব যুবরাজদের ওপর ন্যস্ত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ তেল ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তারা পেতেন না। তার দায়িত্ব থাকতো রাজপরিবারের বাইরে টেকনোক্র্যাটদের হাতে।
কিন্তু, বাদশাহ সালমান সে প্রথাকে উল্টে দিলেন। যুবরাজ মোহাম্মদকেই তিনি তার রাজসভার প্রথম প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করলেন। তিনিই রাজতন্ত্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তেল মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে দিয়ে তা মোহাম্মদের অধীনে করে দিলেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত কাউন্সিল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণও ন্যস্ত করলেন তার হাতেই। এর আগে বাদশাহ সালমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। চাচাতো ভাই যুবরাজ মুতালিব বিন আবদুল্লাহর কাছ থেকে ন্যাশনাল গার্ডের দায়িত্বও বুঝে নেবেন যুবরাজ মোহাম্মদ, এমনটা আশা করা হচ্ছে।
বাদশাহ সালমানের তৃতীয় ও সর্বশেষ স্ত্রী ফাহদা বিনতে ফালাহ বিন সুলতানের প্রথম সন্তান মোহাম্মদ। পশ্চিমা কূটনীতিক যারা রাজপরিবার, পরিবারের কয়েক সদস্য ও সহযোগীদের সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাদের মতে স্বামীর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে সন্তানকে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি।
অল্প বয়স থেকেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলেছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। তার প্রজন্মের অন্য যুবরাজদের মতো যুবরাজ মোহাম্মদ কখনও ধূমপান করেননি, মদ্যপান করেননি বা রাত জাগেননি। একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। নিজের ভাবমূর্তির বিষয়ে অল্প বয়স থেকেই বেশ সজাগ ছিলেন তিনি। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীদের মতে, পিতার পাশে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ছিল যুবরাজ মোহাম্মদের। পিতার কাছ থেকে রাজনীতির বহু কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন। অবশেষে, আনুষ্ঠানিকভাবে পিতার উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন যুবরাজ মোহাম্মদ। সে সময় তিনি রাজধানী রিয়াদের গভর্নর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সৌদি আরবের বর্তমান এবং সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, যুবরাজ মোহাম্মদকে তারা প্রায় চেনেনই না। কদাচিৎ হয়তো সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি, এমনকি রাজপরিবারের একনিষ্ঠ সমর্থক গণমাধ্যমের কাছেও।
যুবরাজ মোহাম্মদের জীবন-বৃত্তান্তে লেখা তিনি ‘আত্মকর্মসংস্থান’ করেছেন এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা হিসেবে কয়েকটি ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয় উল্লেখ করেছেন। ব্যস! আইফোন ও অ্যাপলের অন্যান্য গ্যাজেটের দারুণ ভক্ত তিনি। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ফাউন্ডেশন পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মূলত, সৌদি আরবের তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে টুইটার ও ইউটিউবের ব্যবহার নিয়ে এবং আরবের সংস্কৃতি তুলে ধরতে জাপানের ‘ম্যাঙ্গা’ ধাঁচের কার্টুন তৈরির ব্যাপারে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
জাপান যুবরাজ মোহাম্মদের পছন্দের দেশ। বেশ আগে থেকেই জাপানের প্রতি টান রয়েছে তার। যুবরাজ প্রথম বিয়ে করার পর স্ত্রীকে নিয়ে জাপান ও মালদ্বীপে ২ মাসের জন্য মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে গিয়েছিলেন।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিফলন দেখা গেলো জনমত জরিপেও। সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের রাস্তাঘাটে এ ধরনের একটি জরিপ পরিচালিত হয়। রাজবংশের প্রতিনিধি হিসেবে যুবরাজ মোহাম্মদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সৌদি আরবের ৩০ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই।
সৌদিরা সাধারণভাবে ভিন্নমত পোষণে আগ্রহী নন। তবে কয়েকজন যুবরাজ মোহাম্মদের এ উত্থানে তাদের উদ্বেগ চাপা রাখলেন না। তারা সরকার পরিচালনায় যুবরাজের অসামান্য প্রতিভা, দক্ষতা ও পারদর্শিতা থাকার পরও তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। খেসারত হিসেবে নানা সমস্যায় পড়তে হবে বলে তাদের আশঙ্কা। আবু সালাহ এক মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি বললেন, আমরা ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। এক ব্যবসায়ী আবু ফাহাদ বিলাসবহুল একটি হোটেলে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে বলছিলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ হয়ে উঠেছেন ‘সবজান্তা’। কিন্তু, তার বয়স মাত্র ২৯ বছর- তিনি কিইবা জানেন? তবে স্বীয় মেধা, যোগ্যতা, সততা, পরিশ্রম ও প্রজ্ঞার বলেই যে তিনি এতোদূর অগ্রসর হয়েছেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারও।

ডিএনএর সম্পাদকীয় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভাব নিয়ে মোদির নীরবতা

বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের সফররত প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি দেশের বৃহৎ বিরোধীদলীয় নেতা গণতন্ত্রহীনতার কথা বলছেন- এমনটা সচরাচর ঘটে না। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ঠিক এসবই বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এ বিষয়টি নিশ্চিতভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক শ্রেণীর আস্থা অর্জন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। পার্লামেন্টে বাংলাদেশ-ভারতের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করানোর সফলতাই মোদির এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি অর্জনের প্রাথমিক কারণ। এমনকি বাংলাদেশের ডানপন্থি  জামায়াতে ইসলামীও মোদির সফর ও ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। হাস্যকরভাবে, দলটির একমাত্র হতাশার কারণ হলো, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভাব নিয়ে মোদির নীরবতা। এক সমপাদকীয়তে এমনটিই লিখেছে ভারতের পত্রিকা ডিএনএ। সেখানে বলা হয়েছে, মোদির সফর নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দীপনার আরেকটি কারণ হলো ব্যবসা। জানা কথা, মোদি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পেতে আগ্রহী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ভারতের মাঝে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। সেটি হলো, ভারত বর্তমানে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অনড় অবস্থানকে পেছনে ফেলে সামনে আগানোর দিকে মনোযোগী। যাই হোক, প্রকাশ্যে উদ্দীপনা প্রদর্শনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করাটাও সাধারণ হতাশার অনুভূতি জন্ম দেয়। তিস্তা ও মুহুরি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় এটাই ঘটেছে। ভারতের কথা যদি বলি, দেশটি লাভবান হয়েছে। ২২টি সমঝোতা স্মারক ও ২০০ কোটি ডলারের ঋণ থেকে ভারতের বাণিজ্য খাত লাভবান হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে প্রবেশও করতে পারবে দেশটি। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারেরও অনুমতি পেয়েছে ভারত। ঢাকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপরীতে বাংলাদেশ তেমন লাভবান হয়নি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে এখন অবশ্যই কাজ করতে হবে ভারতের ব্যবসা খাতকে। খোলা মনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে ঢাকা। তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করার দায়িত্ব ভারতের। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সফল সফরে মোদি পাকিস্তানকে একটি বার্তা দিয়েছেন। সেটি হলো, দীর্ঘ দিনের দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করলে পাকিস্তানও লাভবান হবে, যেমনটি হয়েছে বাংলাদেশের। ঢাকায় নিজের এক বক্তৃতায় এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন মোদি। এমনকি মোদি বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতির সুরে বলেছেন যে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী আচরণের কারণে বাংলাদেশকেও প্রায়ই ভুগতে হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পাকিস্তান খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেবে, তার সম্ভাবনা কম। কেননা, ইসলামাবাদ মনে করে, তারা কৌশলগতভাবে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন এমনকি রাশিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের সামর্থ্যও তাদের আছে। এটি নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে সমপর্ক শক্তিশালী করতে চান। ঠিক যেভাবে তিনি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে করেছেন। এ প্রচেষ্টার কারণ হচ্ছে, পাকিস্তানকে দেখানো যে, সার্কের বাকি সদস্যরাষ্ট্রসমূহ ভারতের সঙ্গে লেনদেন করতে রাজি। তাই ইসলামাবাদের উচিত হবে না, এতদিন ধরে যেভাবে সবকিছুতে তারা বাধ সেদেছে, সেটি অব্যাহত রাখার আশা করা। একটি কৌশল হিসেবে এটি সফল হতে পারে। কিন্তু নয়া দিল্লির জন্য আরও ভালো হবে, যদি ভারত পাকিস্তানকে অপদস্থ করার জন্য ঢাকা, থিমপু ও কাঠমান্ডুর সঙ্গে সমপর্কোন্নয়ন না করে, দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থে করে। কোনো সন্দেহ নেই যে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতবেশী দেশটি উপেক্ষিত হয়েছে। কেবলমাত্র পাকিস্তানের দিকেই এতদিন মাত্রাতিরিক্ত মনোযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো। ঢাকায় মোদি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পশ্চিমাঞ্চলীয় বিরোধপূর্ণ প্রতিবেশী দেশটির সমান বা তারও বেশি মনোযোগ অন্য দেশগুলোর দিকে তিনি দেবেন। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মনোতাপে পুড়ছে জাপানের চল্লিশোর্ধ্ব ব্যাচেলররা

হাস্যোজ্জ্বল স্বাস্থ্যবান তরতাজা পুরুষ তাকাসি সাকাই। বয়স ৪১ বছর। নারীদের প্রতি রয়েছে প্রবল আকর্ষণ। কিন্তু কারও সঙ্গে কখনও শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। তাকাসির মতো বিশালসংখ্যক চল্লিশোর্ধ্ব ব্যাচেলররা জাপানে বছরের পর বছর ধরে এমন চাপা মনোতাপে পুড়ছেন। হলিউডের কমেডি সিনেমার মতো শোনালেও জাপানের ‘সামাজিক অব্যবস্থাপনা’ এ পর্যায়ে ঠেকেছে। ২০০৫ সালের স্টিভ সেলের চলচ্চিত্র ‘৪০ বছরের ব্যাচেলর’ জাপানি মধ্যবয়স্কদেরই প্রতিচ্ছবি। আর্থিক অসচ্ছলতা আর বেকারত্বের ঘেরাটোপে বন্দি আবেগ-অনুভূতি। পথে পথে ঘোরা বাউণ্ডুলে ছেলেদের কাছে বিয়ে দিতে রাজি হয় না পাত্রীপক্ষ। শূন্য পকেটের বেকারদের পাত্তা দেয় না সুন্দরীরাও। তাদেরই একজন যেন তাকাসি সাকাই।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকাসি আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারেনি। এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাও নেই। তার ভাষায়, ‘আমার কখনও কোনো গালফ্রেন্ড ছিল না। এমন না যে, এসবে আমার আগ্রহ নেই। আমি মেয়েদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি জানি না কীভাবে সম্পর্কে যেতে হয়।’ আবেগ-অনুভূতিকে অবদমন করে তীব্র মনোকষ্টে রয়েছেন জাপানের পুরুষরা। ৪৯ বছর বয়সী এক স্থপতি বলেন, ‘একজন নারীর সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অক্ষমতা যে কত বেদনার তা বলে বোঝানো যাবে না।’ জাপানের জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী, অবিবাহিত জাপানি পুরুষদের এক-চতুর্থাংশের বয়স ত্রিশের বেশি। বিবাহবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়োকো ইটামোটো বলেন, আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় জাপানি পুরুষরা অবিবাহিত থেকে যাচ্ছে। একটি নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ চাকরির জন্য তাদের কঠিন সংগ্রাম করতে হয়। গত দুই দশকে পরিস্থিতি আরও জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা নিষ্ক্রিয়

গত দুই মাস ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হলেও এখনো প্রকাশ্যে আসছেন না বিএনপির বেশির ভাগ শীর্ষস্থানীয় নেতা। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একটি বড় অংশ দৃশ্যত নিষ্ক্রিয়।
হাতে গোনা কয়েকজনকে মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। বাকিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে অথবা চুপচাপ আছেন। আর কেউ কেউ আছেন কারাগারে।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। ৫ জানুয়ারি ও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। তখন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন বিএনপির বেশির ভাগ নেতা। গত ৫ এপ্রিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন, বিনা বাধায় নিজের বাসভবনে ফিরে যাওয়া এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
এ সময়ের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকে নতুন করে আটক করা হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ জামিন পেয়েছেন। কিন্তু দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, নেতাদের একটি অংশ এখনো গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন। যে কারণে তাঁরা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেভাবে আসছেন না।
বিএনপির নেতাদের আত্মগোপনে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক এমাজউদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, আত্মগোপনে যাওয়া সম্মানজনক নয়। তবে অনেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ, তাঁদের আট-দশ রকমের ওষুধ খেতে হয়। তাঁদের আত্মগোপনে যাওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্র তাঁদের বাধ্য করেছে।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটি ১৯ সদস্যের। এর মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাগারে আছেন সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী। দুর্নীতির মামলায় কারাগারে আটক আছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কারাগারে আটক আছেন আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আর এ গণি, শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, সরোয়ারি রহমান অসুস্থ। মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া, তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে। অবশ্য তরিকুল ইসলামকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা গেছে। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। গত রোববার আদালত রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ ২৮ নেতা-কর্মীর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও মঈন খানকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায়। সিটি নির্বাচনের আগে সমন্বয়কের দায়িত্ব নিয়ে সক্রিয় ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও আ স ম হান্নান শাহ। নির্বাচনের পর থেকে তাঁরাও অনেকটা নীরব। মাঝে মধ্যে তাঁদের দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়। আর জমির উদ্দিন সরকার ও নজরুল ইসলাম খানও মাঝে মধ্যে সক্রিয় হন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তারেক রহমান লন্ডনে। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির ১৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সেলিমা রহমানকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে। বাকিদের প্রায় সবাই দৃশ্যত নিষ্ক্রিয়। এঁদের মধ্যে শমসের মবিন চৌধুরী অবশ্য দীর্ঘ দিন কারাগারে ছিলেন। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন সাদেক হোসেন খোকা। আর দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন আব্দুস সালাম পিন্টু। বাকিদের কাউকে প্রকাশ্য কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায় না।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৬ জানুয়ারি থেকে কারাগারে। দলটির সাত যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা রুহুল কবির রিজভী কারাগারে, আর ভারতের শিলংয়ে জামিনে আছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। আর আমান উল্লাহ, বরকত উল্লাহ ও মিজানুর রহমান মিনু আছেন আত্মগোপনে। সালাহ উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বরকত উল্লাহর নামে দলের বিবৃতি পাঠানো হতো। কিন্তু তখনো তিনি ছিলেন আত্মগোপনে। এত দিন সক্রিয় ছিলেন শুধু মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনিও এখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মাহবুব উদ্দিনকে মামলা সংক্রান্ত কাজে দেখা গেলেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে খুব একটা দেখা যায় না।

মাহমুদ আলীর কূটনীতি!

এ এইচ মাহমুদ আলী। একজন পেশাদার কূটনীতিক। হালে রাজনীতিক। কথা বলেন কম। শুনেন বেশি। এটাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সাম্প্রতিককালে তার কিছু মন্তব্য বাংলাদেশকেই এক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। তার একটি মন্তব্য বাংলাদেশ শুধু নয়, ভারতকেও এক অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেয়। ৫ই জুন সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আলী বলেন, সংসদের বাইরের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হবে না। অথচ এর দেড়ঘণ্টার মাথায় দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর বলেন, অবশ্যই খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। বাস্তবে তা-ই হলো। বিশ মিনিটের সাক্ষাৎ ৪৫ মিনিটে গড়ালো। এর মধ্যে ১৫ মিনিট একান্ত। এতে করে মাহমুদ আলী লজ্জা পেয়েছেন কিনা জানা নেই। তবে বাংলাদেশে কূটনীতির দৈন্যতা যে প্রকাশ পেয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। নরেন্দ্র মোদি যাতে খালেদার সঙ্গে দেখা করতে না পারেন সে জন্য সরকার লবিং করেছে কয়েক সপ্তাহ। সেটা ছিল পর্দার আড়ালে। নিম্নমানের কূটনীতি হলেও তা না হয় মেনে নেয়া যায়। একেবারে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে মাহমুদ আলী কী অর্জন করলেন? কাউকে খুশি করতে গিয়ে মাহমুদ আলী যে তার সারা জনমের কূটনীতির সাফল্য বিসর্জন দিলেন তা বোধকরি বলতে হবে না। দিল্লিতে লবিং হয়েছিল প্রচণ্ড। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল ঢাকার কূটনীতি হয়তো সফল হয়ে যাবে। সম্ভবত এ খবর রয়েছিল তার কাছে। এ খবর থেকেই মাহমুদ আলী মিডিয়াকে বলতে কসুর করেননি। রাজনীতিতে যেমন শেষ কথা বলতে কিছু নেই, তেমনি কূটনীতিতেও। তাছাড়া দেশটি ভারত। এরমধ্যে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী। অনেক হিসাব নিকাশ করে চলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং খালি খালি তো বলেননি মোদি হচ্ছেন একজন দক্ষ সেলসম্যান। মিষ্টিকথায় সবাইকে ভুলিয়ে সবকিছু নিয়ে গেছেন। আমরা টের পেয়েছি। কিন্তু করতে পারিনি কিছুই। কেন পারিনি তা হয়তো একদিন খোলাসা হবে। এটা ঠিক, দিল্লিতে নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে খালেদার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কথা হয়েছিল। তখন নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বলেন, মোদি ঢাকা সফর করতে যাচ্ছেন, কোন বিশেষ দলকে নয়, তাই অবশ্যই সব দলের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। সংলাপ জারি রাখতে হবে। মোদি নিজেও এই মত ব্যক্ত করেন। আখেরে তা-ই হয়। মোদি তার স্বভাবসুলভ কূটনীতি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন কূটনৈতিক খেলা খেলে যান, তাতে করে বিবদমান দুই শিবির উচ্চবাচ্য করতে পারেনি। বরং নজিরবিহীন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ভারতবিরোধী রাজনীতির ইতি ঘটিয়েছেন। কিছু না দিয়েও যে সবকিছু নিয়ে যাওয়া যায় এমন কূটনীতি কখনো কেউ কি দেখেছেন। মাহমুদ আলী সাহেবরা এই কূটনীতি বুঝতে পেরেছেন কি? মমতা কেন্দ্রিক কূটনীতির হাল যে এমন হয় তা সেগুনবাগিচার কূটনীতিকদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ডা. দীপু মনি পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন না। তার পক্ষে ভুল করা স্বাভাবিক। কিন্তু মাহমুদ আলীর তো এমন হওয়ার কথা নয়।

‘ভারতকেই হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে’ by মিজানুর রহমান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর তার সফরের অর্জনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। দুই  ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খাতা মিলাচ্ছেন দেশীয় সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক  বিশ্লেষকরা। সফরের ‘ফল’ বিশ্লেষণে ভিন্নমত থাকলেও ৩৬ ঘণ্টার ওই সফরে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে সে বিষয়ে মোটামুটি অভিন্ন মত বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, মোদির সফরে ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কের আগামী দিনের পথ চলায় যেসব বিষয়ে যে ঐকমত্য ঘোষণা, দলিল, চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক হয়েছে তাতে নেতিবাচক কিছু নেই। উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন ঢাকার কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা। এখন তারা জোর দিচ্ছেন দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওই অঙ্গীকার, সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়। সেখানে আরও তীক্ষ্ন আলোচনা এবং দরকষাকষির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কিভাবে তার স্বার্থ সুরক্ষা করতে পারে এবং সেখানে আঞ্চলিক যোগাযোগ, ট্রানজিট-কানেটিভিটিসহ যেসব সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তাতে বাংলাদেশ কিভাবে লাভবান হতে পারে সেটি নিশ্চিত করার ওপর। কেউ কেউ বলছেন, ভারত বড় দেশ হিসাবে সেখানে বেশি  লাভবান হবে, প্রতিবেশী বাংলাদেশ যেন তার ন্যায্য হিস্যা পায় সেটি ভারতকেই নিশ্চিত করতে হবে।
ওয়াশিংটন ও কলকাতায় বাংলাদেশের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এম. হুমায়ুন কবির বলেন, মোদির সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে বড় কিছু অর্জন হয়েছে, তেমনটি মনে হয় না। চার বছর আগে ইউপিএ সরকারপ্রধান মনমোহন সিং যে প্রক্রিয়া শুরু করে গিয়েছিলেন, কোন ক্ষেত্রে মোদি সেটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারেননি। ট্রানজিট-কানেক্টিভিটিসহ ঢাকা-দিল্লি বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশ কিভাবে ‘সমভাবে’ লাভবান হতে পারে সেই প্রচেষ্টা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল- কানেক্টিভিটি বা সংযোগ। এই সংযোগে দুই দেশই সমভাবে লাভবান হতে পারবে কি না সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনার দাবি রাখে। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ট্রানজিট চুক্তি তিন বছর পর পর নবায়ন হতো। এখন থেকে চুক্তিটি পাঁচবছর পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে চুক্তি পর্যালোচনার ও মূল্যায়নের কোন সুযোগ রাখা হয়নি। এ সফরে দুটি সড়কে বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দুই  দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লেও অধিক সুবিধা পাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ। এতদিন তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে হতো। এখন তারা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাবে। ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রচুর মানুষ বাংলাদেশে বেড়াতে আসবে। এতে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প লাভবান হবে। তবে এই পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ভাড়া ও মাশুল হিসেবে কী সুবিধা পাবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার। উপকূলীয় পরিবহন দুইদেশের জন্যই লাভজনক হবে এমন ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় কমবে। কিন্তু চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তার বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ মাশুল পাবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। ভারত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে নৌ ও সড়ক দুটি পরিবহনই ব্যবহার করতে চাইবে। ইতিমধ্যে সাবরুমে সেতু বানানো হচ্ছে। আমাদেরও দিতে আপত্তি নেই। কিন্তু এর জন্য উপযুক্ত মাশুল দিতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতে আগে ঘুরাপথে পণ্য পরিবহনে যে বাড়তি খরচ হতো, তার একটা অংশ বাংলাদেশ পেতে পারে। একইভাবে নেপাল ও ভুটান যাতে নেপাল বন্দর ব্যবহার করতে পারে, সেই নিশ্চয়তা ভারতকে দিতে হবে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, মোদির বিবৃতিতে তিনি তিস্তার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের মোটেই আশান্বিত করে না। তিনি বলেছেন, ‘আমি আস্থাশীল যে, রাজ্য সরকারগুলোর সমর্থনে ফেনী ও তিস্তা সমস্যার ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।’ কবে সমাধান হবে তা তিনি বলেননি। দ্বিতীয়ত, তিস্তা ও ফেনীর পানি বণ্টনের বিষয়টি আলাদা হলেও তিনি একসঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন। এতে কিছুটা হলেও সংবেদনশীলতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি বরাবরই ভারত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরাও মনে করি, এ ব্যাপারে আমাদেরও মনোযোগ বাড়াতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর আমেনা মহসিনের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট টাইমফ্রেমের ঘোষণা আশা করেছিল ঢাকা। যদিও ওই সফরে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে না মর্মে আগেই দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতে মোদির স্পষ্ট বক্তব্য এবং অঙ্গীকারের বিষয়টি স্মরণ করে ওই  বিশ্লেষক বলেন, তিস্তার পানির বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকার প্রধানের সফরে মানুষের প্রত্যাশা একটি বেশি ছিল। এ নিয়ে ‘সুনির্দিষ্ট’ বক্তব্য না আসার বিষয়টি হতাশাজনক। বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখলে ‘আস্থা’ এবং ‘গুড উইল’ দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রফেসর আমেনা মহসিন মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেখা হওয়ার কোন সুযোগ আছে বলে মনে করেন না তিনি। সেখানে মোদি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় ১৫ মিনিট তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক করার মধ্য দিয়ে মোদি একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করেন ওই বিশ্লেষক। বাংলাদেশকে নিয়ে চলতে চাওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সব অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। ট্রানজিট-কানেকটিভিটির যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা হয়েছে বিশেষ করে বাণিজ্য চুক্তি ৫ বছর অন্তত অটো নবায়নের বিষয়ে যে ঘোষণা এসেছে সেখানে বাংলাদেশের দিক থেকে একটি ক্লোজ থাকা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। আঞ্চলিক যোগাযোগের ওই উদ্যোগে কেবল বাংলাদেশ-ভারত নয়, নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করার যে ঘোষণা এসেছে তার প্রশংসা করেন তিনি। খাতওয়ারি বিশ্লেষণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক বলেন, ভারতের সরকার প্রধানের ওই সফরে আঞ্চলিক যোগাযোগসহ উন্নয়নের যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে আমি নেতিবাচক কিছু দেখি না। এগুলোর বাস্তবায়নের মডালিটিজ নির্ধারণে আমরা কিভাবে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে পারি তা নিয়ে চলমান আলোচনা আরও জোরদার হওয়া উচিত।
ভারতের যে কোন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের চেয়ে নরেন্দ্র মোদির  এবারের সফর ‘ব্যতিক্রম’ ছিল বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান। সদ্য সমাপ্ত ওই সফরটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে ওই বিশ্লেষক বলেন, এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অঙ্গীকার করে গেছেন ভারতের সরকার প্রধান। আমি মনে করি এখন বড় বিষয় হচ্ছে সেসবের পূর্ণ বাস্তবায়ন। ভারত তার অঙ্গীকার রক্ষা করবে এবং বাংলাদেশকে সম-মর্যাদা ও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক শামসুর রেহমান মনে করেন বাংলাদেশের প্রত্যাশাগুলো যৌক্তিক ছিল। সেখানে ছিল তিস্তার পানি বণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আঞ্চলিক কানেকটিভিটির সঙ্গে চীনকে যুক্ত করা। ভারতের ৭টি রাজ্যে পণ্য পরিবহনে ওয়্যার হাউজ স্থাপন, এলসি ওপেন করার ক্ষেত্রে বাজার নিরসন, ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে আইনি বাধা নিরসন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ভিসা সহজীকরণ ইত্যাদি। মোদি-হাসিনা ৬৫ দফা যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে এমন অনেক বিষয় রয়েছে। ২৫ নং ধারায় বলা হয়েছে, একতরফাভাবে ভারত টিপাইমুখ প্রকল্প এগিয়ে নেবে না। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, এতদিন সেখানে ভারত যে বিনিয়োগ করেছে তার কি হবে? দ্বিতীয় যে বিষয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ভারত একতরফাভাবে এগিয়ে না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এটি ভাল সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। ওই বিশ্লেষক বলেন, ব্লু ইকোনোমি ও উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল, মংলায় ভারতের জন্য স্পেপাল ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠাসহ বিদ্যুৎ ও পরিবেশ উন্নয়নে অনেক ভাল উদ্যোগ রয়েছে। এখানে ট্রানজিট কানেকটিভিটিতে ভুটান ও নেপালকে যুক্ত করে চতুর্দেশীয় যান চলাচলের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটি মূলত ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইকে গুজরালের উদ্যোগ। এটি দীর্ঘদিন চাপা পড়েছিল এখন আবার চাঙ্গা হলো। আমি মনে করি, আঞ্চলিক ওই সংযোগ ও সহযোগিতায় ভারত বড় রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বেশি সুবিধা হবে। কিন্তু বাংলাদেশকেও তার স্বার্থ আদায় করে নিতে হবে।

বাম কিডনি থেকে ৪২০টি পাথর অপসারণ

চীনে এক রোগীর কিডনি থেকে ৪২০টি পাথর অপসারণ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ডংইয়াং সিটি পিপল’স হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত মে মাসে হো নামে ৫৫ বছর বয়সী এক রোগী তাদের কাছে গিয়ে তীব্র পেটব্যথার কথা বলেন। তার বাম কিডনিতে সিটি স্ক্যানে ৪২০টি পাথর ধরা পড়ে। পাথর শনাক্তের পর দ্রুত হোর কিডনিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (ইউপিআই)। চিকিৎসক ওয়েই ইয়ুবিন কুইয়ানজিয়াং ইভনিং পোস্ট সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তোফু নামে এক ধরনের খাবারের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে কম পানি পানের সমস্যাও রয়েছে। সয়া জাতীয় খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে জিপসাম তোফুতে বেশ উচ্চমাত্রায় ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা বর্জ্য হিসেবে শরীর থেকে বের হতে পারে না। বর্জ্যগুলো জমতে জমতে এক পর্যায়ে সেগুলো পাথরে পরিণত হয়। অর্থাৎ, ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণেই এ পরিণতি। চিকিৎসকরা বলছেন, হোয়ের কিডনি থেকে ২০ বছর আগেও একবার পাথর অপসারণ করা হয়েছিল। সেবার তার কিডনিতে ১০টি পাথর পাওয়া গিয়েছিল। চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে আরও দেরি করলে, কিডনিটিই হয়তো হারিয়ে বসতেন হো। তবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এর চেয়েও ভয়াবহ তথ্য আছে। ভারতে ২০০৯ সালে এক রোগীর বাম কিডনি থেকে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫৫টি পাথর অপসারণ করা হয়েছিল।