Saturday, August 26, 2023

মাদার তেরেসা’র বিরুদ্ধে যত অভিযোগ! by নাফিস নাদভী

আমাদের ইতিহাসে মাদার তেরেসা এক কিংবদন্তীর নাম। আমরা তাকে জানি মানবতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে, সেবা ও মমতার দৃষ্টান্ত হিসেবে। মাদার তেরেসার গল্প শুনতে শুনতে আমাদের মনে তার পরিশুদ্ধ রুপের এক স্থায়ী চিত্র আঁকা হয়ে গিয়েছে সেই ছোটবেলা থেকেই।
আমাদের এই স্থায়ী ভাবনায় যদি কেউ আঘাত করে? যদি কেউ এসে বলে, না, আমরা যা দেখছি তার পুরোটা সত্য নয় অথবা পুরোটা সত্য আমরা দেখছি না? পর্দার আড়ালে কিছু গল্প লুকিয়ে আছে, যা মাদার তেরেসার ভাবমূর্তির মত এতটা উজ্জ্বল নয়? পাঠক, আজকে আমরা এমনই কিছু কথা তুলে ধরব।
মাদার তেরেসার মূল নাম ছিল আনিয়েজ গঞ্জে বয়াজিউ। তিনি ১৯১০ সালের ২৬শে আগস্ট বর্তমান ম্যাসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি মিশনারী হবার উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করে “সিস্টার অফ লরেটো” নামক একটি সংস্থায় যোগ দেন। সংস্থার কাজে ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতায় আসেন। ১৯৫০ সালে রোগাক্রান্ত ও দরিদ্র মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেন “মিশনারিজ অফ চ্যারিটি” নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৯ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার এবং ১৯৮০ সালের ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান “ভারতরত্ন” লাভ করেন।
মাদার তেরেসা আজীবন দুঃস্থ মানুষের সেবা করেছেন, এই কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে অভিযোগটা আরেকটু গভীরে। মাদার তেরেসার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তার সেবাদানের উদ্দেশ্য ও প্রণালী খালি চোখে যতটা মনে হয়, ঠিক ততটা মানবতাবাদী নয়।
ডাক্তার-লেখক অরুপ চট্যোপাধ্যায় এর লেখা “Mother Teresa: The Final Verdict” নামে বইটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়, যাতে মাদার তেরেসার সেবা-পদ্ধতি ও আরও নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুরুতর কিছু অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একইভাবে, তার কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ক্রিস্টোফার হিচেন্স (লেখক-কলামিস্ট), মাইকেল প্যারেন্টি (রাষ্ট্রবিজ্ঞানী), বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত ব্যক্তি ও সংস্থা।
শৈশবে মাদার তেরেসা।
মাদার তেরেসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি সেবা গ্রহণ করতে আসা অসহায় দুঃস্থ মানুষদের খৃস্টধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ দিতেন। ডঃ অরুপ চট্যোপাধ্যায় বলেছেন, ১৯৯২ সালে মাদার তেরেসা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রায় ২৯ হাজার লোককে মৃত্যুকালে তাদের না জানিয়ে খৃস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তারা দাবী করে, মাদার তেরেসা হিন্দুধর্মকে শয়তানের ধর্ম বলে চিহ্নিত করেন। যদিও একজন মানুষের অজান্তে কিভাবে তাকে “ধর্মান্তরিত” করা যায়- এ ব্যাপারটিই প্রশ্নবিদ্ধ।
মিশনারিজ অফ চ্যারিটি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে। এ ব্যাপারে মাদার তেরেসার মুখপাত্র ও সহকর্মী সুনিতা কুমারের উদ্ধৃতি তুলে দিচ্ছি-
  • *“তিনি ধর্মের অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন – ফলে তার কাউকে ধর্মান্তরিত করার প্রশ্নও ওঠে না। সেটা কখনোই তার উদ্দেশ্য ছিল না, আর তাই যদি হত আমার তো মনে হয় গোটা ভারত এতদিনে খ্রিষ্টান হয়ে যেত।”
মাদার তেরেসার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে, তিনি শারীরিক কষ্টকে ঈশ্বরের নৈকট্যলাভের পথ বলে বিশ্বাস করতেন বলে অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করতেন না। বরং তিনি রোগমুক্তির জন্য রোগীকে যিশুর কাছে প্রার্থনা করার উপদেশ দিতেন।
ব্যাপারটা সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি। ধরুন, একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রেসক্রাইবড ওষুধ আপনার কাছে আছে। কিন্তু আপনি তাকে ওষুধ না খাইয়ে কেবল সেবা করে গেলেন, সারারাত জেগে তার পাশে বসে রইলেন, মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিলেন এই ভেবে যে, অসুখ ভালো করার মালিক আল্লাহ- আপনার সেবাপদ্ধতি কি ঠিক?
অভিযোগগুলো তলিয়ে দেখলে, মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মানবতার মোড়কের আড়ালে ধর্ম বিক্রি করে গেছেন মাদার তেরেসা- এমন একটা দৃশ্যই আঁকা হয়ে যায়। মাদার তেরেসার “নিরাময় কেন্দ্র” এর পরিবেশ নিয়েছে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। বলা হয়, এর পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগের প্রকোপ কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যেত, আর সহজেই ছড়িয়ে পড়ত ছোঁয়াচে রোগগুলো। একাধিক ব্যক্তির জন্য একই সিরিঞ্জ ও অন্যান্য স্পর্শকাতর সরঞ্জাম ব্যবহার করা হত।

শুনে মনে হতে পারে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্যই হয়তো সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা সম্ভব হত না। ব্যাপারটা তেমন না। মাদার তেরেসা বিভিন্ন উৎস থেকে যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক অনুদান পেতেন সেবাকর্মের জন্য। বিখ্যাত পত্রিকা গার্ডিয়ান সুজান শিল্ডের (মিশনারিজের তৎকালীন কর্মী) উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশ করে যে, অনুদানের অধিকাংশ টাকা দুঃস্থদের সেবায় ব্যয় হবার পরিবর্তে ব্যাংকেই পড়ে থাকত। এখানে অভিযোগটা অসততার নয়, অবহেলার।
এই অনুদান সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগ হল, তিনি কিছু অসৎ ও অনৈতিক উৎস থেকে অনুদান গ্রহণ করেছেন। যেমন, হাইতির কুখ্যাত স্বৈরশাসক ডুভালিয়ার পরিবার,  লিংকন সেভিংস অ্যান্ড লোন কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত চার্লস কীটিং।
মাদার তেরেসা ছিলেন গর্ভপাত ও জন্মনিরোধকের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ। গর্ভপাত ও জন্মনিরোধকের ব্যবহারকে তিনি অনৈতিক ও অমঙ্গলজনক বলে মনে করতেন। গর্ভপাত নারীর জন্মগত অধিকার, নানা পারিপার্শ্বিক কারণে সে গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের মত জনবহুল অঞ্চলে নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। অথচ, এই দু’টিকে মাদার তেরেসা ঈশ্বরের ইচ্ছার পরিপন্থী বলে বিশ্বাস করতেন এবং এদের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করতেন, এমনই ঘোর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। নোবেল শান্তি পুরষ্কার গ্রহণের সময় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন,
  • *“গর্ভপাত হচ্ছে পৃথিবীর শান্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।”
এ ভাষণে তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন “জন্ম না নেওয়া মানবশিশুর প্রতি সহিংসতা” হিসেবে। তবে জন্ম নেওয়া একটি শিশু মানবেতর জীবন যাপন করলে সে ব্যাপারে কি করণীয় সে ব্যাপারে তেমন বাস্তবিক কোন দিকনির্দেশনা দেননি তিনি, বরং পুরো বিষয়টি ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
ক্রিস্টোফার হিচেন্স তার “The Missionary Position: Mother Teresa in Theory and Practice” প্রবন্ধে মাদার তেরেসা সম্পর্কে বলেছেন-
  • *“একজন ধর্মীয় মৌলবাদী, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তি, সেকেলে ধর্মোপদেশ দানকারী এবং পার্থিব ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির অনুচর।”
মাদার তেরেসা সাধুও হতে পারেন, শয়তানও হতে পারেন। একেকজন হয়তো একেকভাবে ব্যাখ্যা করবেন।  তবে, আমরা সাদা চোখে যা দেখি, তা সবসময় পুরোপুরি সত্য না-ও হতে পারে, এই বিষয়টি স্মরণে রাখাও বাঞ্চনীয়।

Thursday, August 24, 2023

বাইপাস সার্জারির বিকল্প : চিলেশন থেরাপি by ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

সাধারণত, এই চিলেশন থেরাপিতে রোগীকে সপ্তাহে দুদিন ডাক্তারের কাছে যেতে হয় এবং সর্বমোট ৩০টির মতো সেশনের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি সেশনে লাগে ঘণ্টা দুই করে। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই চিকিৎসা গ্রহণের ফলে রোগীর ধাপে ধাপে উন্নতির বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিলেশন থেরাপির ফলে হৃৎপিণ্ডে এবং দেহের অন্যান্য অংশে অর্থাৎ মাথা থেকে পা পর্যন্ত রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়- প্রদাহ হ্রাস পায় এবং অনেক ক্ষুদ্র ধমণী চালু হয়ে যায়।

বহির্বিশ্বে বহু রোগী এখন এই থেরাপি গ্রহণ করেন। শুধু দেহের বাড়তি দূষণ পদার্থ, যেমন হেভি মেটাল কমানোর জন্য। আমাদের প্রত্যেকের দেহেই এই ভারি ধাতব জমা হয় এবং কখনো কখনো তা বিষক্রিয়া ঘটায়। ফলে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। বহু অশনাক্ত রোগের উপশম ঘটানোয়ও এই চিলেশন থেরাপির অবদান রয়েছে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারিতে যথেষ্ট ঝুঁকি আছে, এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে- এসব জেনেও মানুষ কেন অপারেশনের দিকে ঝোকেন? এর সহজ উত্তর হলো, বস্তুগত বিচারের ফলাফল বিবেচনার চাইতে এর তাৎক্ষণিক কার্যকারিতার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেন তারা। তা ছাড়া এই চিলেশন থেরাপি সম্পর্কে তারা জানতে পারেন না বলেই উপায়হীনভাবে অপারেশন করান। ইডিটিএ চিলেশন থেরাপি বিনা অপারেশনের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যা মেটাবলিকের উন্নতি ঘটায় এবং নানাভাবে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখে। একইসাথে দেহে ধাতব আয়নে সামঞ্জস্য নিয়ে আসে, ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়। ইডিটিএ ও এমিনো এসিডের এই থেরাপির জন্য ব্যয়বহুল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে না, ডাক্তারের চেম্বারেই গ্রহণ করা সম্ভব। অনেকটা সেলাইন নেয়ার মতোই।

চিলেশন থেরাপি প্রয়োগকারী সন্তুষ্টি প্রকাশের বদলে অবাক হয়েছেন একাধিক রোগের লক্ষণ প্রকাশের পরও সেগুলোর উন্নতি ঘটতে দেখে। এগুলোর ভেতর রয়েছে : এনজিনা, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর, আর্থেরাইটিস, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। একবার ইডিটিএ রক্তধারায় মিশে গেলে তা রক্তে অতিরিক্ত মৌলিক পদার্থ জমতে বাধা দেয়, দেহকোষ ও প্রত্যঙ্গকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। দেহে পুষ্টিজাতীয় উপাদানের পাশাপাশি ধাতব উপাদানের ক্ষেত্রেও একটা সামঞ্জস্য নিয়ে আসে। ফলে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

বিজ্ঞানীরা এক পর্যায়ে এই থেরাপির ফলে ভিটামিন সি ও ই, সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, বেটা ক্যারোটিনসহ অন্যান্য উপাদানের সংযুক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেন- তখন এসবের বায়োলজিক্যাল এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিষয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করলেন। এসব গবেষণার ফল এলো ইতিবাচক এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট সংক্রান্ত বিবেচনায় চিলেশন থেরাপির গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হলো। আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই থেরাপি কেবল হৃদযন্ত্রের আশেপাশের ধমনীর জন্যই কার্যকর ভূমিকা রাখে না; দেহের অন্যান্য অংশের ধমনী, এমনকি হাত-পায়ের আঙুল এবং মস্তিষ্কের ধমনীর জন্যও উপকার বয়ে আনে।

প্রতি বছর ৬০ হাজারের মতো মানুষ তাদের পা হারায় গ্যাঙগ্রিনে, ধমনীতে ব্লকেজ সৃষ্টি হয়ে। স্ট্রোক করে মারা হায় বহু লোক। ঘাড়-মাথা-পায়ের ধমনীতে বাইপাস সার্জারি এখন সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। অথচ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিহীনভাবে চিকিৎসা করতে পারে চীলেশন থেরাপি।

তেমন কোনো লক্ষণই নেই কোনো মারাত্মক ব্যাধির, কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয়, বংশানুক্রমে পাওয়া রোগ, ধূমপান, অতিভোজন, এবং জীবনধারার কারণে প্রৌঢ়ত্বে। এসে কোনো একটা ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধতেও পারে। তাই সাবধান থাকা জরুরি। জৈবিক কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা না থাকলে আপনিও নিজেকে ভয়ঙ্কর কিছু রোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন এই আগাম থেরাপি গ্রহণের মাধ্যমেই। রোগগুলো হলো : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আর্থিরাইটিস, পারকিনসন্স, আলঝাইমার, অ্যাথেরোসক্লেরোসিস, এমনকি ক্যান্সার। বার্ধক্যজনিত রোগ আলঝাইমারে ভোগেন মধ্য আশির ব্যক্তিরা। বড় ক্ষতির আগে প্রতিরোধ গ্রহণই কি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়? তাই নির্দ্বিধায় গ্রহণ করা যায় চিলেশন থেরাপি।

চীলেশন একটি যুগান্তকারী দীর্ঘায়ু দানকারী চিকিৎসা পদ্ধতি যা অনেকগুলো বার্ধক্যজনিত ব্যাধির বিরুদ্ধে আগেভাগেই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। চীলেশন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘চিলে’ থেকে, যার অর্থ হলো ‘থাবা’। চিলেটিং এজেন্টস এক ধরনের পদার্থ যা শরীরের বিষাক্ত খনিজ, ধাতব ও রাসায়নিক পদার্থের সাথে মিলে রাসায়নিক যৌগ গঠন করতে পারে। এ যৌগগুলো দেহের অনাকাক্সিক্ষত পদার্থকে ঘিরে ফেলে এবং পরে সেগুলিকে মল-মূত্রের সাথে করে দেহ থেকে বের করে দেয়। ১৯১৩ সালে ওয়ার্নার তার এ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং চিলেশন রসায়নের এই বিজ্ঞানটিকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ এগিয়ে নেন।

অন্যান্য মেডিক্যাল চিকিৎসার তুলনায় চিলেশন থেরাপি একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা। এতে কোনো ব্যথাবেদনা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগী কোনো অসুবিধা বোধ করেন না। চেয়ারে হেলান দিয়ে বই পড়তে পড়তে কিংবা টিভি দেখতে দেখতে অনেকটা স্যালাইন গ্রহণের মতো এটি গ্রহণ করা যায়। দরকার হলে রোগী এটি গ্রহণ করতে করতে রুমের ভেতর হাঁটাচলাও করতে পারেন। শিরার সাথে সংযুক্ত নিডলটি সরে না গেলে রোগী ফোনে কথা চালিয়ে যেতে পারেন, অথবা পানাহারও করতে পারেন। বহির্বিশ্বে অনেক রোগী চিলেশন থেরাপি গ্রহণ করতে করতে কম্পিউটারে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কাজকর্মও চালিয়ে যান।

সত্যি বলতে কি, অন্যান্য চিকিৎসাপদ্ধতির সাথে তুলনা করলে বলতেই হবে যে, সাধারণভাবে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীন চিকিৎসা। আধুনিক বিশ্বে রোগীরা চিলেশন থেরাপি নেয়ার পর দিব্যি গাড়ি চালিয়ে ঘরে চলে যাচ্ছেন। বাইপাস সার্জারিতে যেখানে ১০০ জনের ভেতর তিনজনের মৃত্যু হয় বলে পরিসংখ্যানে জানা যায়, সেখানে দশ হাজার রোগীর ভেতর মাত্র একজনের ক্ষেত্রে চিলেশন থেরাপি গ্রহণের জন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে মৃত্যুর ঘটনা নয়। তাই বলা হয়ে থাকে, চিলেশন থেরাপি বাইপাস সার্জারির তুলনায় তিন শ’ শতাংশ নিরাপদ। তবে যে কোনো ব্যাপারেই অতিডোজ ক্ষতিকর। চিলেশন থেরাপির ক্ষেত্রেও মাত্রাতিরিক্ত ডোজ বিপদ ডেকে আনতে পারে। সেজন্যেই আমেরিকায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিলেশন থেরাপি দিলে ঝুঁকির মাত্রা একেবারে নিম্নপর্যায়ে চলে আসে।

একবার রাষ্ট্র করে দেয়া হলো যে, চিলেশন থেরাপি কিডনি বিকল করে ফেলে। পরে ৩৮৩ জন রোগীর ওপর গবেষণায় চিলেশন থেরাপি গ্রহণের আগে ও পরে পরীক্ষা করে ঠিক তার উল্টো ফল পাওয়া যায়। প্রত্যেকেরই কিডনি ফাংশানে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। কিডনির জন্য ওভারলোড হয়ে যাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিষয়টি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণে সক্ষম। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, জটিল কিডনি সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের চিলেশন থেরাপি নেয়া উচিত নয়।

চিলেশন থেরাপি কিন্তু নতুন চিকিৎসা নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা অন্য ধরনের চিলেশন এজেন্ট ব্যবহার করত। তার নাম ব্রিটিশ অ্যান্টি-লিউসাইট এটি বিষাক্ত গ্যাসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এখনো বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। আমেরিকায় ১৯৪৮ সালে ব্যাটারি কারখানার লিড-বিষে। আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসায় প্রথম এটি ব্যবহৃত হয়। এরপর আক্রান্ত রঙ-কারিগরদের ওপরেও একই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়। ১৯৫৫ সালে আমেরিকার মেডিক্যাল জার্নালে এ বিষয়ে প্রবন্ধ বের হয়। আথ্রোসক্লেরোসিস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্যের কারণেই ওইসব প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রথম দিকে, চিকিৎসকেরা এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাটকীয় সাফল্যে বিস্মিত হয়ে যেতেন। এমনকি ডায়াবেটিক আলসার ও গ্যাঙগ্রিনে আক্রান্ত পায়ের উন্নতি হতো মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে।

বর্তমানে আমেরিকার এক হাজার ৫০০ এর অধিক ডাক্তার এবং অন্যান্য দেশে বহু ডাক্তার এই চিলেশন থেরাপি চিকিৎসা দিয়ে আসছেন নিয়মিতভাবে। আনন্দের সংবাদ এই যে আমাদের বাংলাদেশেও এই চিলেশন থেরাপির কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে ৫৭/১৫ পশ্চিম পান্থপথস্থ করোনারি আর্টারি ডিজিস প্রিভেনশন অ্যান্ড রিগ্রেশান (সিএডি পিআর) সেন্টারে। আমেরিকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিলেশন থেরাপিতে সফল হলে তা হবে আমাদের দেশের জন্য একটি বিস্ময়কর ঘটনা।

>>>লেখক : অধ্যাপক, ইমুনোলজি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা। চেম্বার : হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, ৫৭/১৫ পান্থপথ, ঢাকা। ফোন : ০১৭১১৫৯৪২২৮

কম ঘুমে আয়ু কমে

যদি আপনার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করার আগ্রহ থাকে তবে আপনাকে রাতের ভাল ঘুমের জন্য বিনিয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক ম্যাথিঊ ওয়াকার। 
একশো বছর আগে মানুষ যতটা ঘুমাতো এখন মানুষ ঘুমায় তার চেয়ে কম। তিনি মনে করেন উন্নত বিশ্বে যে সমস্ত রোগ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে আলজেইমার্স, ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যা-এ সবকিছুর সাথে ঘুমহীনতার গভীর সম্পর্ক আছে।
তবে ঘুম হতে হবে স্বাভাবিক, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুম নয়। ঘুমের ওষুধ হতে পারে ক্যান্সার, সংক্রমণের কারণ। এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক কম ঘুমায়। মানুষের সময় কম। সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন ব্যক্তির সাধারণভাবে সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এটা সৃজনশীল কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি।
সাতঘন্টা কম সময় ঘুমালে নিজের শরীর ও মস্তিস্তে তার প্রভাব নিজে অনুভব করতে পারবেন।  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কর্মক্ষমতায় প্রভাব পড়বে। প্রচুর বৈজ্ঞানিক উপাত্ত আছে যা প্রমাণ করছে যে, পর্যাপ্ত এবং ভালো ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে কত নিবিড়ভাবে জড়িত।
এখনো আমাদের অনেকেই জানিনা কিভাবে এবং কেন আমরা চাইলেই ঘুমাতে পারিনা। এবং ভালো ঘুমের জন্য কী করতে পারি? ঘুম কিন্তু কেবল বালিশে মাথা রাখার ব্যাপার নয়। ঘুমাতে পারছেন না- এমন মানুষের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
প্রফেসর ওয়াকার "হোয়াই উই স্লিপ" বা কেন আমরা ঘুমাই" শিরোনামে বই লিখেছেন, তিনি বলেছেন, বিশ্বের একটা বিশাল অংশ অন্ধকারে জেগে থাকে। যে ঘুম তাদের নষ্ট হচ্ছে, সেটা যে পূরণ করা দরকার, সেটা তারা ভাবে না। তারা মনে করে, 'যা গেছে তা গেছে'।
কিন্তু কীভাবে আরও ভালোভাবে ঘুমানো যায়, সেটা কিন্তু আপনি শিখতে পারেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি নিজের অভ্যাসকে পাল্টে ফেলতে পারেন, তাহলে আপনি সাথে-সাথেই এর সুফল পাবেন।
সূত্র-বিবিসি

Saturday, August 19, 2023

কিডনি রোগী কী খাবেন by তামান্না চৌধুরী

কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত ওজন ছাড়া আরো নানা কারণে কিডনি রোগ হতে দেখা যায়। যে কারণেই কিডনির সমস্যা হোক না কেন দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসায় একমাত্র উপায় হলো সঠিক পথ্য। অন্যান্য রোগের চেয়েও খুব হিসাব-নিকাশ করে কিডনি রোগীর চিকিৎসার পথ্য নির্ধারণ করতে হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধিকে ধীরগতিতে চালোনার ক্ষেত্রে সঠিক পথ্য দারুণভাবে কার্যকরী। কিছু ক্ষেত্রে সঠিক পথ্য মেনে চললে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাকে অনেকটা নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে রোগী ভেদে কিডনির পথ্য নির্ধারণে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। কেননা রক্তে ইলেকট্রোলাইটসের পরিমাণ, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ইউরিয়া ও ইউরিক এসিডের পরিমাণ, রক্ত ও ইউরিনে এলবুমিনের পরিমাণ এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ভেদে পথ্যটিকে সাজাতে হয়। সে ক্ষেত্রে একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নেয়া একান্ত জরুরি। তার পরও সাধারণভাবে যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো :
১. ক্যালরি
কিডনি রোগীদের সাধারণত ক্যালরির চাহিদা অন্যান্য রোগীর তুলনায় বাড়ানো হয়। যথাযথ শক্তি প্রদান করার মাধ্যমে রোগীর সঠিক মাংসপেশিকে বজায় রাখতে ক্যালরি সাহায্য করে। সাধারণত প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোগী ভেদে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এই ক্যালরি রোগীকে শক্তি দেয়া ছাড়াও সচল এবং কর্মক্ষম রাখে। যা রোগীকে এই রোগ মোকাবেলায় দারুণভাবে সাহায্য করে।
২. কার্বোহাইড্রেট
কিডনি রোগী মোট ক্যালোরি চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়। কার্বোহাইড্রেট কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে বন্ধুবৎসল। খাবারে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বলে কার্বোহাইড্রেটকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শর্করার মাত্রা বিবেচনা করে কার্বোহাইড্রেট হিসাব করা হয়। ভাত, ময়দা, রুটি, চিঁড়া, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের রুটি, সাগু, সেমাই ইত্যাদি কিডনি রোগীর জন্য উত্তম কার্বোহাইড্রেট।
৩. প্রোটিন
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগে প্রতি কেজি ওজনের জন্য পয়েন্ট পাঁচ থেকে পয়েন্ট আট গ্রাম প্রোটিন বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদিও এই হিসাব নির্ভর করবে রোগীর অবস্থা ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর। সাধারণত ডাল, বাদাম, কাঁঠালের বীচি, সিমের বীচি ইত্যাদি রোগীকে বর্জন করতে হয়। প্রতিদিনের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির গোশত ও দুধ বা দই ইত্যাদি থেকে হিসাব করে বরাদ্দ করা হয়। গরু, খাসির গোশত, কলিজা, মগজ ইত্যাদি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে বলা হয়।
৪. চর্বি
বেশির ভাগ কিডনির রোগীই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগে। এ ছাড়া কিডনি রোগীদের যাতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে না যায়, প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে তাই চর্বির হিসাব যথাযথভাবে করতে হয়। সাধারণত স্যাচুরেটেট বা সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্ট ফুড, ডিমের কুসুম এড়িয়ে যেতে হয়। রান্নার তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ তেল, সূর্যমুখী, কর্ন অয়েল, ক্যানোলা অয়েল ইত্যাদি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। অনেক কিডনি রোগীকে ভয়ে তেল খাওয়া বন্ধ করতে দেখা যায়। যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রতিদিনের রান্নায় চার চা চামচ (২০ এমএল) তেল ব্যবহার করলে ভালো।
৫. সবজি
রক্তে পটাশিয়াম, ইউরিক এসিডের মাত্রা, ফসফরাস ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সবজি হিসাব করা হয়। অতিরিক্ত পিউরিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শাকসবজি, পিচ্ছিল ও গাড় লাল রঙের শাক সবজি এড়িয়ে যেতে হবে। তবে কিডনি রোগীদের জন্য চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিংগা ইত্যাদি পানীয় সবজি উপকারী। উপকারী হলেও এগুলোর পরিমাণ মেনে চলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা সবজির সালাদ, সবজি স্যুপ ইত্যাদি কিডনি রোগীদের এড়িয়ে চলতে হয়।
৬. ফল
কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সতর্ক হতে হয়। অক্সালিক এসিড, ইউরিক এসিড, পটাশিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরো অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়। তিন-চারটি ফল রোগী ভেদে সীমিত আকারে দেয়া হয়। যেমন : আপেল, পাকা পেঁপে, পেয়ারা ইত্যাদি। অনেকই কিডনি রোগ হলে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেয়, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করতে হবে।
৭. লবণ
লবণ বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রিত পথ্য কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। রক্তচাপ, রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা, ইডিমা বা শরীরের পানির পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে লবণের পরিমাপ করা হয়। সাধারণত দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ নির্ধারণ করা হয়, যা নির্ভর করবে আপনার শারীরিক অবস্থা ও ডায়েটেশিয়ানের ওপর। তবে আলাদা লবণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন : চিপস, পাপর, চানাচুর, আচার ইত্যাদি। যা শুধু কিডনি রোগীর চিকিৎসায় নয়, কিডনি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
৮. তরল/পানি
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তরল নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে তরলের হিসাব করা হয়। কোন রোগীকে কতটুকু তরল বরাদ্দ করা হবে তা নির্ভর করবে রোগীর অবস্থার ওপর। শরীরের ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর- এসবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনো কখনো দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ হয়। অনেকেই অসুস্থ কিডনিকে সুস্থ করার জন্য অতিরিক্ত পানি খায়, এটি ভুল।
দীর্ঘ মেয়াদি ক্রনিক কিডনি রোগী এ ধরনের খাবার মেনে চললে কিডনিকে মারাত্মক জটিলতা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। কিছুটা একঘেয়েমি হলেও ধৈর্যের সাথে সঠিক পথ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলা প্রত্যেক কিডনি রোগীর জন্য একান্ত জরুরি।
বি: দ্র: ডায়ালাইসিসের আগ পর্যন্ত রোগাক্রান্ত কিডনি সুরক্ষার জন্য এই খাবারগুলো মেনে চলা যায়।
>>>লেখক : প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল।

Thursday, August 17, 2023

ভ্রুণের মধ্যে অ্যালকোহল সিনড্রোম

ভ্রুণের মধ্যে অ্যালকোহল সিনড্রোম-বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার শিশুদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি বলে দেখা গেছে।
আর দেশটির ওয়েস্টার্ন কেপ এলাকায় অভাব আর বেকারত্বের শিকার বেশিরভাগ দম্পতির মধ্যে মদ্যপানের সংস্কৃতি একটি দেখা যায়।
এই ধরনের সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের প্রায়ই মস্তিস্কের ক্ষতি এবং বেড়ে ওঠার সময় বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
কোনও কোনও সম্প্রদায়ের মাঝে ভ্রুণের এই অ্যালকোহল সিনড্রোম এত মারাত্মক রূপ নেয় যে, তা এইচআইভির চেয়েও ভয়াবহ।
কেপটাউনের সমুদ্র উপকূলবর্তী গ্রাম ভ্রেডেনবার্গের এক হাজার শিশুর মধ্যে ৬৫ জন শিশু ভ্রুনের অ্যালকোহল সিনড্রোম সমস্যায় ভুগছে।
চার সন্তানের মা ৩২ বছর বয়সী ম্যারির দশ বছর বয়সী মেয়ের মধ্যে এই সমস্যা প্রথম প্রকাশ পায় যখন সে স্কেুলে যেতে শুরু করে।
যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় মদ্যপান করেন তাদের সন্তানদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি।
"সে যখন একেবারে ছোট ছিল তখন প্রচুর কান্নাকাটি করতো। এরপর যখন একটু বড় হতে শুরু করলো তখন সে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে হাসতে থাকতো। সে খুবই ভুলোমনা। কিন্তু আমার দুই বছর বয়সী আরেকটি শিশুরও এই সমস্যা আছে বলে সন্দেহ হচ্ছে"-বলছিলেন ম্যারি।
ম্যারি স্বীকার করেন, সন্তান গর্ভে থাকাকালীন সে প্রচুর মদ্যপান করতো।
"আমি যখন গর্ভবতী ছিলাম সে সময় বাচ্চাদের বাবার দ্বারা খুব নির্যাতনের শিকার হতাম। আমি জানতাম না যে, মদ্যপান করলে আমার বাচ্চাদের ব্রেনের স্থায়ী ক্ষতি হবে। নিজের কষ্ট ভুলে থাকার জন্য আমি মদ্যপান করতাম আর মাদক নিতাম। তখন আমি মদ পান করতাম বাচ্চাদের বাবার সাথেই। কিন্তু এখন দায়-দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে আমাকে একাই"।
এই অঞ্চলে ম্যারির ঘটনার মত আরও বহু ঘটনা রয়েছে।
অনেক সম্প্রদায়ে ১৩ শতাংশের বেশি শিশুর জন্মানোর সময় এর প্রভাব দেখা যায়।
অ্যালকোহল সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক লিওনা অলিভিয়ের বলেন, "যেসব গর্ভবর্তী নারীরা অ্যালকোহল খান তারা অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্ম দিচ্ছেন। এই সমস্যা কখনো খুব বেশি আবার কখনো সামান্য হতে পারে। এটি মস্তিস্কের অপরিবর্তনযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ। কোনও কোন সম্প্রদায়ের মাঝে এর প্রাদুর্ভাবের হার এইচআইভির চেয়েও বেশি"।
হাজার হাজার শিশুর এবং তাদের পরিবারের জন্য এই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা ভয়ানক অভিজ্ঞতা। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা বা সহায়তা পেলে এই শিশুরাও অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে।
ভিভিয়ান লরেন্স ষোল বছর ধরে একশোর বেশি শিশুকে প্রতিপালন করেছেন।
তাদের বেশিরভাগেরই অ্যালকোহল সিনড্রোম ছিল। এরকম দুটো শিশুকে তিনি দত্তক নিয়েছেন।
মিসেস লরেন্সের এই দুজন পালিত সন্তানের একজন তিমা। এখন তার বয়স ২০ বছর। মিসেস লরেন্স স্থানীয় একটি কাপ কেক তৈরির কোম্পানিকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন লরাকে কাজে লাগানোর জন্য। এখন সেখানেই সে কাজ করছে।
নারীদের অ্যালকোহল পানের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।
কিন্তু ভ্রুণের অ্যালকোহল সিনড্রোম সমস্যাটি দূর করা যে এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সরকারও তা স্বীকার করছে।
বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ।

Tuesday, August 15, 2023

পেট ব্যথা কেন ঝুঁকিপূর্ণ? পেটে ব্যথা হলে কী করবেন?

হঠাৎ পেটে ব্যথা। বুঝতে পারছেন না এটি গ্যাস্ট্রিক নাকি অন্য কিছু। কী ওষুধ খাবেন, কার কাছে যাবেন, তা-ও বুঝতে পারছেন না। পেটে ব্যথার সঠিক স্থান, ধরন-ধারণ, আনুষঙ্গিক উপসর্গ ইত্যাদি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো আছেই। প্রথমেই খেয়াল করতে হবে ওপর পেটে ব্যথা হচ্ছে, না তলপেটে। ওপরে হলে ব্যথা এক আঙুল দিয়ে নির্দেশ করলে সেটা কোন জায়গায় ওপর ডান, নাকি ওপর বাম? ব্যথাটা কোন দিকে ছড়াচ্ছে? কামড়ে ধরে আছে নাকি চিনচিন করছে, না জ্বালা করছে? সঙ্গে বমি, অরুচি, পায়খানার সমস্যা ইত্যাদি আছে কি না। কোনো কিছু খেলে বাড়ে নাকি খালি পেটে বাড়ে?

১. পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত পেটের ওপর দিকে মাঝখানে শুরু হয়। এটি খালি পেটে বাড়ে, কখনো চিনচিনে, কখনো জ্বালাপোড়ার মতো মনে হয়। এর সঙ্গে বমিভাব, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা ইত্যাদি থাকতে পারে। অ্যান্টাসিড বা অন্য গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে বেশ উপশম মেলে।

২. একই জায়গায় বা একটু বাঁ দিকে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। কিন্তু এই ব্যথা প্রচণ্ড তীব্র, পেছন দিকেও অনুভূত হয়। রোগী ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। সামনে ঝুঁকে থাকলে আরাম মেলে। সঙ্গে বমি থাকতে পারে।

৩. ওপরের পেটের ডান দিকে ব্যথা হতে পারে পিত্তথলিতে প্রদাহ বা পাথর থাকলে। এই ব্যথাও ডান দিকে পেছন পর্যন্ত ছড়ায়, সঙ্গে বমি হতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খেলে এটি বাড়ে। যকৃতের প্রদাহেও একই জায়গায় ব্যথা হয়। চিনচিন করে ব্যথা, সঙ্গে জ্বর, জন্ডিস, অরুচি ইত্যাদি হেপাটাইটিস বা যকৃতে প্রদাহ নির্দেশ করে। যকৃতে ফোঁড়া হলে এই ব্যথা তীব্র হয়, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।

৪. পেটের ওপরের দিকে ডান অথবা বাঁ কিডনিতে পাথর, প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে সেই পাশে ও পেছনে ব্যথা হয়। এই ব্যথা ক্রমেই নিচে নেমে তলপেটেও ছড়ায়। কিডনির ব্যথা প্রচণ্ড তীব্র হয়, একটু পরপর ছাড়ে, আবার আসে। সঙ্গে বমি, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর থাকতে পারে।

৫. নাভির মাঝখান থেকে ব্যথা যদি ক্রমেই তলপেটের ডান দিকে ছড়িয়ে যায়, সেখানে হাত দিলেই ব্যথা হয়, ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়তে থাকে, তাহলে তা অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি না, ভাবতে হবে।

৬. তলপেটে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও জ্বর প্রস্রাবের সংক্রমণ নির্দেশ করে। মেয়েদের জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের নানা সমস্যায় ব্যথা হতে পারে।

৭. সাধারণ আমাশয়, ফুড পয়জনিং ও বদহজম থেকে ব্যথা পেটজুড়ে থাকে। বমি বমি ভাব, পেটে শব্দ, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হয়। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও পেটে ব্যথা হয়।

৮. দীর্ঘদিনের পেটের ব্যথার সঙ্গে ওজন হ্রাস, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা ইত্যাদি সতর্কসংকেত। অন্ত্রে ক্যানসার বা টিবিরও লক্ষণ এই পেটে ব্যথা। তাই পেটের ব্যথাকে ছোট করে দেখবেন না।

পেটে ব্যথা হলে কী করণীয়?

যদি গ্যাসের কারণে পেটে ব্যথা মনে করেন এবং এর সঙ্গে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণগুলো প্রকাশ না হয়, তাহলে গ্যাসের ওষুধ দিতে পারেন। সিরাপ দিতে পারেন। ব্যথা কমানোর জন্য অনেক ওষুধ আছে সেগুলো দিতে পারেন। তবে নিশ্চিত হতে হবে আপনার ঝুঁকির বিষয়গুলো হয়নি। হঠাৎ করে সমস্যা হয়েছে কি না, বমি হয়েছে কি না, জ্বর আছে কি না—এই বিষয়গুলো সঙ্গে না থাকলে খুব চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করলেই হয়।[১]

পেটে ব্যথা কখন ঝুঁকিপূর্ণ?
বিভিন্ন কারণে পেটে ব্যথা হয়। এটি সাধারণ থেকে গুরুতর কারণেও হতে পারে।
প্রশ্ন : অনেক কারণ রয়েছে পেটে ব্যথার। জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে, কোনো না কোনো সময়ে, এই পেটে ব্যথাগুলো সবারই হয়। একটু জানতে চাইব পেটে ব্যথার প্রধান কারণগুলো কী ?

উত্তর : আমাদের কাছে সাধারণত যত রোগী আসে, এর এক তৃতীয়াংশ রোগী পেটের ব্যথা নিয়ে আসে। আর এই পেটের ব্যথা সাধারণ থেকে শুরু করে ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। সবটাই নির্ভর করে রোগীর বয়স, ব্যথার সময়, অন্যান্য সমস্যা- যেমন জ্বর হচ্ছে কি না, বমি হচ্ছে কি না, পায়খানা কেমন হচ্ছে, এই সবই মিলে আমরা ধারণা করি পেটের ব্যথা সাধারণ না কি ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশ্ন : পেটের ব্যথা হলে অনেকেই মনে করেন গ্যাসট্রিকের ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা। আপনাদের কাছে যখন আসে তখন কী কী সমস্যা নিয়ে আসে?
উত্তর : অনেকে পেট ব্যথা হলেই ভাবে গ্যাসের কারণে ব্যথা। তবে এটি ভুল। পেটের ব্যথায় যদি রোগী গ্যাসের কারণে ব্যথা ভেবে ওষুধ খেয়ে ফেলে তখন আমাদের কাছে এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন : একজন রোগী বলছে আমার পেটে গ্যাস আটকে গেছে। আমার কাছে যখন এলো, তখন সে রীতিমতো তিন চার মাস দেরি করে ফেলছে। আমি তার পেটে হাত দিয়ে দেখলাম চাপ দিলে কোনো ব্যথা পাচ্ছে না। কিন্তু তার শরীরটা ঘেমে গেছে, ভিজে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে তার কোনো পদ্ধতিগত সমস্যা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে রোগীর জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের হার্টের নিচের সীমায় যদি সংক্রমণ হয়ে যায়, তখন পেটের ব্যথা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে যদি রোগী গ্যাস মনে করে বাড়িতে অপেক্ষা করে তবে ক্ষতি হতে পারে। কাজেই যদি কখনো কারো এ রকম একটি অবস্থা হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

প্রশ্ন : ঝুঁকিপূর্ণ পেটের ব্যথা আমরা কীভাবে বুঝব?
উত্তর : শুধু পেটের ব্যথা নয়, যেকোনো ব্যথায়, বিশেষ করে পেট ও বুকের কথা বলছি, সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিন্তা করতে হবে আমার এর সাথে আর কী কী রয়েছে। আমার শরীরটা ঘেমে গেল আমি অস্থির হয়ে গেলাম, দুর্বল হয়ে গেলাম। অথবা আমার পেট ব্যথা রয়েছে। এর সাথে আমার জ্বর আসছে। অথবা এর সাথে পাতলা পায়খানা হয়েছে। এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। এগুলো দিয়ে আমরা বুঝব এটি সাধারণ নয়। যখন তাদের এই অবস্থা হচ্ছে তখন দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকরাও কিন্তু প্রথম পর্যায়ে জানবে না তার কী হয়েছে। তখন তাকে পর্যালোচনা করবে। তার বয়স দেখবে, তার ইতিহাস নেবে, তার কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাবে। তার শারীরিক পরীক্ষা করাবে। এরপর ধরা হবে তার কী কারণে পেট ব্যথা হয়েছে।

হয়তো তরুণ একটি মেয়ে এসেছে, তার হয়তো দুই তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে, সে ভালোই আছে। হঠাৎ করে সে প্রচুর তলপেটে ব্যথা নিয়ে এলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে পড়ে গেল। এখন সে যদি সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে না আসে কী হতে পারে? চিকিৎসকের কাছে আসার পর দেখা গেল তার রক্তচাপ কমে গেছে এবং সে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ইতিহাস নিয়ে দেখা গেল, তার গত মাসে ঋতুস্রাব হয়নি। তার মানে তার পেটে টিউমার হয়েছে সেটি ফেটে গিয়ে হয়তো পেটের মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে, পেট ব্যথা করছে।

জরুরি অবস্থা তখনই বুঝতে পারবে যখন তার পেট ব্যথা হলো সাথে তার আরো অনেক লক্ষণ বা সমস্যা হলো। আসলে একটি ব্যথার সাথে আরো যেই শারীরিক বিষয়গুলো হচ্ছে সেগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : কোন কারণে পেটে ব্যথা হচ্ছে সেটি নির্ণয়ে কী কী ধরনের পরীক্ষা –নিরীক্ষা করা হয়?
উত্তর : এটি নির্ভর করে রোগীর ইতিহাসের ওপর। যদি একটি রোগী এসে বলে আমার পেটে ব্যথা হয়েছে সাথে একবার দুইবার বমি হয়েছে, একটু একটু জ্বর হচ্ছে- তাকে আমরা একটু পরীক্ষা করে দেখব তার অ্যাপেনডিসাইটিক্স হয়েছে কি না, তার প্যানক্রিয়াটিটস হয়েছে কি না। অথবা কেবল গ্যাসট্রিকের ব্যথা কি না। সাধারণ গ্যাসট্রিকের ব্যথায় তার জ্বর হতে পারে, বমি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা করার পর আমরা তার একটি রক্ত পরীক্ষা করাব। সিবিসি, সিরাম ইলেকট্রোলাইট, সিরাম এমএল, লিভার ফাংশন টেস্ট এগুলো দিতে পারি এবং ইউরিন পরীক্ষাও করতে পারি এর সাথে। কারণ পেটের মধ্যে কিডনিও আছে সেখানে সংক্রমণ হয়ে ব্যথা হতে পারে। এর সাথে একটি আলট্রাসোনোগ্রাম করি, কখনো কখনো পেটের এক্সরেও করি। যেগুলো দ্রুত করতে হয়, সেগুলো হলো, পেটের এক্সরে, কিছু রক্তের পরীক্ষা ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম। এগুলো করলে ৯৫ ভাগ আমরা ধরে ফেলতে পারব তার কী কারণে ব্যথা হয়েছে। আর কারণের ওপর নির্ভর করবে চিকিৎসা।

প্রশ্ন : কোন কোন কারণের ক্ষেত্রে কী কী ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন?
উত্তর : যদি শুধু গ্যাসের জন্য সমস্যা হচ্ছে মনে করি তাহলে আর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে না। হয়তো দ্রুত কিছু চিকিৎসা করলাম। বাকি ওষুধগুলো চিকিৎসাপত্রে লিখে তাকে ছেড়ে দিলাম। পাশাপাশি তাকে কিছু পরামর্শ দিয়ে দিলাম।

যদি দেখি তার বিলিয়ারিতে ব্যথা হচ্ছে , দেখতে হবে পাথরের জন্য ব্যথা হচ্ছে কি না। পাথর কোথায় হয়েছে, কোথাও আটকে গেছে কি না এবং সেটিতে সার্জারির প্রয়োজন হবে কি না, সেটিও আমরা পরীক্ষার মাধ্যমে ধরে ফেলতে পারব। আর যদি প্যানক্রিয়াটাটিস হয়, এই ক্ষেত্রে রোগীকে ভর্তি করতে হবে।

প্রশ্ন : পেটে ব্যথা নিয়ে কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?
উত্তর : সাধারণত একজন বৃদ্ধ মানুষের যদি পেটে ব্যথা হয়, সে যদি বমি করে এবং ঘেমে যায়, তখন তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একটি বাচ্চা যদি প্রচুর চিৎকার করে বমি করে এবং তার জ্বর আসে, তখন তাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে প্রাপ্ত বয়স্করা হয়তো একটু দেরি করতে পারে।

প্রশ্ন : তাহলে এই যে গ্যাসের ব্যথা মনে করা হচ্ছে এবং ওষুধ খেয়ে নেওয়া হচ্ছে, একে কতটুকু যৌক্তিক মনে করেন? কখন আসলে এটি খাওয়া উচিত?
উত্তর : যদি কারো ব্যথা হয়, তবে ব্যথাটি অতো তীব্র না হয়, হঠাৎ করে ব্যথাটি শুরু না হয়, ওষুধ খাওয়ার পর আস্তে আস্তে যদি তার ব্যথাটা কমে যায়, বমি, জ্বর, পাতলা পায়খানা, শরীর ঘামা- এসব সমস্যা না হয়, তখন সে ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করতে পারে।

প্রশ্ন : পেটে ব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে কী করণীয়?
উত্তর : যদি আপনি গ্যাসের কারণে পেটে ব্যথা মনে করেন এবং এর সাথে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণগুলো প্রকাশ না হয়, তাহলে গ্যাসের ওষুধ দিতে পারেন। সিরাপ দিতে পারেন। ব্যথা কমানোর জন্য অনেক ওষুধ আছে সেগুলো দিতে পারেন। তবে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনার ঝুঁকির বিষয়গুলো হয়নি।
বয়স কত, হঠাৎ করে সমস্যা হয়েছে কি না, তার বমি হয়েছে কি না, জ্বর এসছে কি না-এই বিষয়গুলো সাথে না থাকলে খুব চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করলেই হয়।[২]

পেট ব্যাথার ৫ প্রাকৃতিক সমাধান
পেটে ব্যাথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। এ ব্যাথা নানান রকম হতে পারে। সমাধানের জন্য ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে। এগুলো হলো,

১. হজম সমস্যা এবং অরুচিজনিত পেটে ব্যাথায় আদা স্লাইস করে কেটে নিয়ে লেবুর রসে লবন মিশিয়ে তাতে ওই আদা ডুবিয়ে রাখতে হবে খানিকক্ষণ। এরপর আদা রোদে শুকিয়ে প্রতিবেলা খাবার পর খেতে হবে। এতে করে পেট ব্যথা দূর হবে চিরকালের মতো।

২. অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের জ্বালাপোড়ার ব্যথায় ২০ টি কিশমিশ এক গ্লাস পানিতে সরারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে উঠে কিশমিশগুলো পিষে খালি পেটে খেলে পেট ঠাণ্ডা হবে এবং অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের জ্বালাপোড়ার ব্যাথা থেকে উপশম পাওয়া যাবে।

৩. নারীদের মাসিকজনিত পেটে ব্যাথায় সমাধানে এক মুঠো তুলসি পাতা ছেঁচে রস বের করে নিন এবং দুই চা চামচ তুলসি পাতার রস এক কাপ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে তিন বার পান করতে হবে। এতে এ ব্যাথা উপশম হবে।

৪. ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রিজনিত ব্যাথায় এক কাপ পরিমাণে বেদানার রস প্রতিদিন দুইবার পান করতে হবে। এতে পেটে ব্যাথা তো দূর হবেই একই সঙ্গে ডায়রিয়ার সমস্যাও দূর হবে।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার কারণে পেটে ব্যাথায় এক চা চামচ ত্রিফলা কুসুম গরম পানিতে মিলিয়ে প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে পান করতে হবে।এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে। এবং পেটে ব্যাথার সমস্যা এমনকি গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।[৩]

[১] ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায়,সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
[২] অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান, মেডিসিন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল।
[৩] অনলাইন ডেস্ক

Friday, August 11, 2023

পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করছে ভয়ংকর ডেথ স্কোয়াড by রাহিম নাসার

বেলুচিস্তানের ভাড়াটে সশস্ত্র বাহিনীগুলো ওই অঞ্চলের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বেলুচিস্তান প্রদেশের নিরাপত্তানীতির এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাধাহীন ও বেপরোয়া ক্ষমতাচর্চার সমালোচনা যাঁরা করেন, তাঁরাই এই বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

সম্প্রতি মীর শফিক মেঙ্গলের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সেখানকার শীর্ষ বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতা ও বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পাটির (বিএনপি) প্রধান সরদার আখতার জান মেঙ্গলের লোকদের সংঘর্ষ হয়েছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম এ ঘটনাকে মেঙ্গল উপজাতির দুই গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘর্ষ বলে বর্ণনা করেছে। বেলুচিস্তানে এখন যে বাস্তবতা, তাতে এটা বলা ভুল।

২০০৫ সাল থেকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ বেলুচিস্তান বেশ কয়েকটি বেলুচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কবলে জর্জরিত। এই সব গোষ্ঠীকে মোকাবিলা করতে ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সেখানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছে প্রান্তিক হওয়ার এবং অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাস রয়েছে বেলুচিস্তানের। এসবের প্রতিক্রিয়ায় বেলুচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিকাশ হয়েছে। তারা আরও স্বায়ত্তশাসন ও নিজেদের সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছেন।
বেলুচ নেতা নওয়াব আকবর খান বুগতি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সেখানে বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ গতি পায়। এই বিদ্রোহীদের দমাতে অনেকগুলো ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে।

ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ‘ডেথ স্কোয়াড’ বলে পরিচিত। বেলুচ ভিন্নমতাবলম্বীদের গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য এই ভাড়াটে বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়। রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে, অর্থাৎ বেআইনিভাবে এই বাহিনীগুলো পরিচালিত হয়। তাদের এ কর্মকাণ্ডের জন্য খুব কমই জবাবদিহি করতে হয়।

অস্ত্রের প্রাচুর্য এবং সেগুলোর সহজপ্রাপ্যতার কারণে বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উত্থান সহজ হয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে বেলুচিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
ফাঁকফোকরযুক্ত সীমান্তের কারণে বেলুচিস্তানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবাধে প্রবেশ করে। ফলে বেলুচিস্তানের পশতুন ও বালুচ দুই অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে সহজেই অত্যাধুনিক অস্ত্র চলে আসে। এসব অস্ত্র সেখানে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে।

এসব ভাড়াটে বাহিনীর কারণে স্থানীয় জনসাধারণের জীবনযাত্রায় যে প্রভাব পড়ছে, সেটা উপেক্ষণীয় নয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ডেথ স্কোয়াড ও বেলুচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে। দুই পক্ষ থেকেই নির্বিচার বলপ্রয়োগের ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ হতাহত ও গুম হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

ভাড়াটে বাহিনীগুলোর উপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রের সঙ্গে স্থানীয়দের বিশ্বাসের জায়গাটা ফাটল ধরেছে। ফলে চলমান বঞ্চনাগুলোর সমাধান এবং সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন বেলুচ বিদ্রোহীরা। পাকিস্তান বেলুচ জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে ডেথ স্কোয়াডখ্যাত ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলেছে। ভিন্নমতাবলম্বী বেলুচদের বিরুদ্ধে নানা উপায়ে সহিংসতা ঘটিয়ে চলেছে। এর মধ্যে অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, নিবর্তনমূলক গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা রয়েছে।

বেলুচিস্তানে ডেথ স্কোয়াডের ভূমিকা এককথায় ভয়ংকর। বেলুচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানায় তারা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ডেথ স্কোয়াডের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা গুরুতর উদ্বেগ জন্ম দিচ্ছে।
বেলুচিস্তানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও বেলুচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনের মতো কৌশলগত কাজে এসব ভাড়াটে বাহিনীকে ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।

আন্দোলনের মূল সংগঠকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র বেলুচ বিদ্রোহকে দুর্বল করতে চায়। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে অন্যদের যুক্ত হতে বাধা তৈরি করতেই এ কৌশল।

কিন্তু এ কৌশল উল্টো ফল নিয়ে আসছে। বেলুচ জনগোষ্ঠী ক্রমশই পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং সেখানে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ডেথ স্কোয়াডকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তাদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে না। কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

এ সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেলুচিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে যাঁরা সেখানকার সহিংসতা ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলতে সাহস দেখান, তাঁদের নানা ধরনের হেনস্তা, ভীতি প্রদর্শন, এমনকি শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। এতে অনেকের মৃত্যুও হয়।

এটা সেলফ-সেন্সরশিপের একটা পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য কাউকে প্রতিশোধের মুখে পড়তে হবে কি না, সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তাহলে উপায় কী?

এই বিদ্রোহের অবসানের জন্য ফলপ্রসূ সংলাপ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, পুনরেকত্রীকরণের মতো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার—কেউই এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে তাদের সদিচ্ছা ও অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সুশাসন, আইনের শাসন, বেলুচিস্তানসহ দেশের সব জায়গার মানুষের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সংবিধানের প্রতি মান্যতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বেলুচ জনতার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বঞ্চনাগুলোর সমাধান করতে হবে।
বেলুচিস্তানের জনগণকে সরকারে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া গেলে সংঘাতের মূল কারণ উপড়ে ফেলা সম্ভব।

* রাহিম নাসার, ইসলামাবাদভিত্তিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ‘ডেথ স্কোয়াড’ বলে পরিচিত। বেলুচ ভিন্নমতাবলম্বীদের গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য এই ভাড়াটে বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়।
ভাড়াটে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ‘ডেথ স্কোয়াড’ বলে পরিচিত। বেলুচ ভিন্নমতাবলম্বীদের গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য এই ভাড়াটে বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়। ফাইল ছবি : এএফপি

Thursday, August 10, 2023

রসুনের চিকিৎসা ও গুণ by ডা: এম এ রাজ্জাক

রসুন শুধু আমাদের দেশেই মশলা বা ওষুধ হিসেবে পরিচিত নয়, প্রায় সারা বিশ্বেই এর সুদূর প্রসারী ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন কাল থেকেই এর অনেক নাম রয়েছে যেমন- সুকন্দক, অমৃত, রসুন আরো অনেক। এর জন্ম ইতিহাস এ রূপ যে, ইন্দ্র এবং তার পত্নী শচীদেবী একসময় নিঃসন্তান ছিলেন। তাদের বংশধারা বজায় রাখার জন্য কোনো এক ঋষীর পরামর্শে ইন্দ্র অমৃত সংগ্রহ করে আনলেন। খেতে দিলেন শচীদেবীকে সে অমৃত খাওয়ার সময় শচীদেবীর উদগার হয়, তাতে অমৃতের কিছু অংশ পড়ে যায়, সেই পতিত অমৃত থেকে জন্ম হয় এই রসুনের। তাই তাকে অমৃতও বলে। খাদ্য হিসেবে রসুন : মুখরোচক খাবার তৈরিতে এর জুড়ি নেই। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ,বি,সি ও ডি। তা ছাড়া আছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, আয়োডিন।
উগ্রশক্তির জীবাণুনাশক হিসেবে আছে- আ্যক্রোলিন, ক্রোটোলিন, ক্রোটোনিক, অ্যালডিহাইড,অ্যালাইল স্যালফাইড ও ভোলাটাইল টারপেনিস প্রভৃতি।
রসুনের সুদূরপ্রসারী ইতিহাস রয়েছে- জানা যায় হজরত ঈশা (আ:)-এর জন্মের ও অনেক আগে ব্যাবলিন বাসিন্দারা রসুনের ব্যবহার জানত। ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ নির্মাণকালেও নাকি শ্রমিকদের খাদ্যেও সাথে রসুন খাওয়ানো হতো। আদিকালেই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী হিপোক্রেট ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এ চিকিৎসা বিজ্ঞানী আরো বলেন আমাদের বনৌষধির মধ্যে রোগ প্রতিকারে রসুনের স্থান প্রথম।
কয়েক বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় রসুন প্রেমিকদের নিয়ে হয়ে গেল সিম্পোজিয়াম যা থেকে বেরিয়ে এলো রসুনের অনেক সুনাম। রসুনের মধ্যে এলাইল সালফেড থাকায় সব ধরনের জীবানু নাশ করার শক্তি আছে এতে।
রসুনের ব্যবহার : একটা রসুন থেতো করে ঘরে রাখলে ঘর জীবাণু মুক্ত থাকে। গত মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ চিকিৎসক আহত সৈনিকদের চিকিৎসায় রসুন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রয়োগ করতেন।
বিভিন্ন ধরনের বদ হজম, পাকস্থলীর বায়ু নিঃসরনে, খাদ্য হজমের ব্যাপারে রসুন সাহায্য করে। মেয়েদের রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে রসুন তা পুনরায় প্রবাহিত করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন রকম আওয়াজ অনুভূতিতে,কম শোনাতে, সমপরিমাণ আদার রস রসুন রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহারে ভালো ফল দেয়। আযুর্বেদের মতে রসুন বল, মেধা, স্মৃতি ও আয়ুর্বধক। পৌরুষ প্রবৃত্তির ধারক ও বাহক, নারীর পক্ষে সন্তানপ্রদ যুবতীর অঙ্গ সৌঠের সমতা রক্ষক। কিশোরের পক্ষে শরীর ও মনের সার্বিক উন্নতিকর। যে শিশুর/ব্যক্তির শরীরে তেমন কোনো রোগের সন্ধান পাওয়া যায় না অথচ শীর্ণকায় তাদের ১ কোয়া রসুন বেটে ২০০ গ্রাম দুধের সাথে জাল করে নিয়মিত সেবনে উন্নতি আসে। রসুন অস্থির ক্ষয় বন্ধ করে, প্রাত্যহিক ক্ষয় রোধ করে, বল বৃদ্ধি করে।
২/৩ কোয়া রসুন রস আমলকীর রসের সাথে মিশিয়ে খেলে যৌবন অটুট থাকে। রসুনের রস নিয়মিত মাথায় দিলে চুল পাকে, প্রলেপ দিলে টাক পড়ে না। যক্ষ্মা প্রতিরোধ করে। ফুসফুসের পচনসহ অন্যান্য গোলযোগ প্রতিহত করে। রসুন ছেচে সরিষার তেলের সাথে গরম করে মালিশ করলে গ্রন্থি ফুলা, সায়েটিকা, স্নায়বিক বেদনা, পক্ষাঘাত,বাত প্রভৃতির ব্যথা সেরে যায় পায়ের তলায় কড়া ও আম বাতের ভালো ওষুধ।
হোমিওপ্যাথিতে ব্যবহার :- হোমিওপ্যাথিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে রসুন থেকে তৈরি হয়েছে মেডিসিন। হোমিওপ্যাথিতে এর নাম এলিয়াম স্যাটাইভা। পরীক্ষায় যেসব লক্ষণ পাওয়া গেছে :- মানসিক উৎকণ্ঠা, জিবে চুল লেগে থাকার অনুভূতি। আবহাওয়ার পরিবর্তনে, খোলা বাতাসে, বিকেলে, রাতে ও সকালে ঘুম ভাঙার পর রোগের বৃদ্ধি ঘটে।
হোমিওপ্যাথি পরীক্ষায় ব্রঙ্কাইটিস : পুরনো কাশি, ঠাণ্ডায়, আবহাওয়া পরিবর্তনে বেড়ে যায়। বুকে ব্যথা হয়, প্রচুর শ্লেমা উঠে।
হাঁপানি : শ্বাস টানতে কষ্ট হয়। এলিয়াম সেটাইভা সেবনে ফুসফুসের কোষের মধ্যস্থিত জমাট কফকে তরল করে বাইরে বের করে দেয় এবং প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে।
যক্ষ্মা : ঘুষঘুষে জ্বর, কাশি,বুকে ব্যথা, ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি, রক্ত কাশি, শরীর ক্ষয়, তাপমাত্রা হ্রাস, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, খোলা বাতাসে, বিকেলে, রাতে, সকালে,অনিন্দ্রায় বৃদ্ধি পেলে ৩ শক্তি ৩ ঘণ্টা পরপর সেবনে রোগী স্বাভাবিক হয়।
শরীর ক্ষয় :- যাদের খাওয়ার কমতি নেই অথচ শরীর শীর্ণকায় তাদের নিয়মাফিক সেবনে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
যৌবন রক্ষায় : নিয়মিত এলিয়াম স্যাটাইভা প্রয়োগে নারী, পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় ও ধরে রাখা সম্ভব হয়।
উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে ক্রিয়া করে।
মেধা হ্রাস : যেসব ছাত্রছাত্রীর স্মৃতিশক্তির হ্রাস আছে তাদের বৃদ্ধিকারক। শুধু স্মৃতিশক্তির বর্ধকই নয়, শরীর ও মনের সার্বিক উন্নতি করে।
কৃমি : ১ ফোঁটা এলিয়াম স্যাট শোয়ার সময় সেবন করে শোলে এতে গোলও গুড়া কৃমি বের হয়ে যায়।
পেট ফাঁপা : যাদের সামান্যতেই পেটের গোলযোগ, ফাঁপা, অজীর্ণ, জ্বালাযুক্ত উদগার হয়।
বাত- বেদনাদি : বাতের ব্যথা, সায়েটিকা স্নায়ুবিক বেদনা গ্রন্থিস্ফীতি, স্তনগ্রন্থির স্ফীতি, পক্ষাঘাত ব্যথা আছে, ৬ শক্তি প্রয়োগে সেরে যায়।
মেদ বৃদ্ধিতে : মেদ বৃদ্ধিতে অনেকে রসুন খান হোমিওপ্যাথি পরীক্ষায় এর রেজাল্ট আসেনি, আরো পরীক্ষা দরকার (এতে মাশরুম ও সয়াপুটিন নিতে পারেন)।
স্ত্রীরোগ : রসুন নারীর পক্ষে সন্তানপ্রদ। আয়ুবর্ধক, যুবতির জীবনের অঙ্গসৌঠের সমতা রক্ষা করে। মাসিকস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এটি ব্যবহারে তা পুনরায় প্রবাহিত হয়। স্তনস্ফীতিতে এর ভালো ফল হয়।
মূত্র রোধ : কোনো কারণে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এলিয়াম স্যাট ভালো করে।
ক্ষতাদি : সর্বপ্রকার ফোঁড়া, বিষফোঁড়া, গলক্ষত, ডিপথেরিয়া, আঘাতজনিত ক্ষত, কাটাক্ষত, ফুসফুসের ক্ষত, আন্ত্রিক ক্ষতে এলিয়াম স্যাট।
এ ছাড়া ও স্বরযন্ত্রের জড়তা, কানে কটমট করা, দৃষ্টিহীনতা, রাতকানা, হিষ্টিরিয়া, ভ্রমরোগ, অস্থিভঙ্গে, পুরনো জ্বর, জীর্ণজ্বর, শরীরের জড়তা, চর্মরোগ, দুর্বলতা ও কাঁপুনি, শরীর কাঁপুনিতে ব্যবহার হয়। এলিয়াম স্যাটিভার ব্যবহারে শীতকালে শরীর গরম থাকে। শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এর সঠিক ব্যবহার ডায়াগনোসিস, মাত্রা, শক্তি একজন ভালো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকই নির্ধারণ করতে পারেন।
>>>লেখক : অ্যাসো: প্রফেসার, তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ। চেম্বার : সিটি হোমিও ইন্টারন্যাশনাল ২৩, জয়কালি মন্দির, ঢাকা। ফোন : ০১৯১২৮৪২৫৮৮

Thursday, August 3, 2023

কোন বয়সে মানুষ সবচেয়ে সৃজনশীল হয়?

আপনার বয়স যদি ২০ বছর বা তার আশেপাশে হয়, তাহলে ধরে নিন যে আপনার মগজ এখন নতুন সব ধারণার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। যারা ওই বয়স ফেলে এসেছেন, তারাও যদি পেছনে ফিরে তাকান তাহলে পার্থক্য ধরতে পারবেন।
এটা ভেবে ভেবে আপনি হয়তো অবাকও হবেন।
আসলে ওই বয়সে হয়তো আপনি আপনার সৃজনশীলতার যে দুটি শিখর রয়েছে তার প্রথমটি অতিক্রম করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০-এর আশেপাশের বয়সে অর্থাৎ ২০-২৬ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমবারের মতো উদ্ভাবনের জন্য উর্বর স্থল হয়ে ওঠে।
অর্থনীতিতে আগে যারা নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন তাদের ওপর আলোকপাত করেন গবেষকরা।
সেখানে দেখা যায় যে যারা তাদের ২০-এর আশেপাশের বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ করতে পেরেছেন, পরে তারাই নতুন ধারণার উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।
বলা যেতে পারে যে সেটি তাদের জীবনে বাতি জ্বলে ওঠার মুহূর্ত ছিল এবং তারা সেই হিসেবেই কাজ করে গেছেন।
কিন্তু আপনি যদি কোনো নতুন ধারণার উদ্ভাবন ছাড়াই ২০-এর মাঝামাঝি সেই বয়স ফেলে আসেন, তাহলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
আমাদের মধ্যে আবার এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স পঞ্চাশের কোটায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কিছুই অনুপ্রেরণায় আঘাত করে না।
'আমি সবচেয়েসৃজনশীল হয়েছি আমার ২০-এর দশকে'
২৪ বছর বয়সী নানা জোন্স ডার্কো একটি ভ্রাম্যমাণ চুল কাটার ব্যবসা চালান। অর্থাৎ তার এই চুলকাটার স্যালন চার চাকার ভ্যানের ভেতরে। যেটা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার ব্যবসার জন্য এখন তার মাথায় সবসময় নতুন সব ধারণা আসে।
২০ দশকের মাঝামাঝি এই বয়সে এসে তিনি মনে করেন যে তার সৃজনশীল সবচেয়ে শিখরে রয়েছে।
"আমি প্রযুক্তি এবং নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে আরো শিখছি।"
"আমার মনে হয় যখন মানুষের বয়স বাড়ে তখন লোকজনও তাকে আরও গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে - এতে সব বাধাগুলো ভেঙ্গে যায় - যা আপনার সৃজনশীল মস্তিষ্কের প্রবাহকে গতিশীল রাখে এবং নতুন ধারণা আরও বেশি হারে জন্মায়।"
ঠিক যেমন- নানা মনে করে যে, ২০-এর দশকে সফল হওয়ার ব্যাপারে বাবা মা এবং সহকর্মীদের থেকে আমাদের ওপর অনেক চাপ থাকে।
বিশেষ করে যদি আপনি "স্বাভাবিক" ক্যারিয়ারের পথ বেছে না নেন।
তিনি বলেন, এই চাপটা টিভি দেখা থেকেও আসতে পারে।
"যখন আপনি টিভিতে দেখেন যে ফুটবল খেলোয়াড়রা তাদের ২০-এর দশকে সপ্তাহে দুই লাখ পাউন্ড আয় করছে, তখন নিজের ওপরেও চাপ অনুভব হয়।"
"আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে ২০-এর দশকের মাঝামাঝি ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য একটি বড় চাপ থাকে।"
"কারণ আক্ষরিক অর্থে ওই বয়সটাতে পরিবেশ এমন থাকে যেটা আমাদের অর্থোপার্জনের জন্য এবং আর্থিকভাবে সফল হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যেন আমরা ২৫ বছর বয়সের মধ্যে সব অর্জন করতে পারি।
"কিন্তু ২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে গড়ে তোলার সময় হলেও আমি মনে করিনা যে এই বয়সটাই আপনার সৃজনশীলতার শিখর হবে।"
"সৃজনশীল হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি এখনও বুড়ো হয়ে যাননি"
আপনি জীবনের শুরুর দিতে যা চেয়েছিলেন তার যদি পুরোটা এই ২০ এর দশকে অর্জন করতে না পারেন তাহলে আপনি দ্বিতীয় সৃজনশীল শিখরের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। যেটা আসে ৫০-এর দশকে।
গবেষণাটির লেখক ওয়েইনবার্গ বলেছেন, " বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের সেরা কাজটি করেছেন অনেক দেরিতে।"
"যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ২০-এর দশকে তেমন কোন বৈপ্লবিক কাজ করতে পারেননি। তার মানে এই নয় যে আপনি পরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারবেন না।"
প্রফেসর ওয়েইনবার্গ বলেছেন, "তরুণরা যদি মনে করে যে তাদের আরো অনেক কিছু অর্জন করার আছে তাহলে তাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।"
"যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নিয়মিত কোন না কোন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করে তাহলে তাদের কখনোই চেষ্টা ছেড়ে দেয়া উচিত না।"
"আমি বলতে চাচ্ছি যে তারা কতটা বিশিষ্ট হবে এবং তাদের অর্জন কীভাবে হবে তা অবশ্যই আমরা জানি না।
"তবে এই ধরণের মানুষগুলো তাদের জীবনের সেরা কাজটি - অন্তত তাদের সেরা উদ্ভাবনী কাজটি করে ক্যারিয়ারের শেষের দিকে- তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।"
নানা জানান, তার মা'ও ঠিক এমনই একজন। যিনি তার বয়সের ৫০-এর দশকে এসে ফ্যাশন স্কুল খুলে নিজের ব্যবসা শুরু করছেন।
সূত্র : বিবিসি

লাল শাকের ৭ আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ

লাল শাক যে কোনও সবজির বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। লাল শাক খেতে ভালবাসেন অনেকেই।এই শাক দিয়ে ভাত মাখলে তার রং লাল হয়ে যায় বলে অনেক শিশুই এটি খেতে ভালবাসে।
তবে শুধু রঙে বা স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী এই লাল শাক। আসুন লাল শাকের আশ্চর্য কয়েকটি স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১) লাল শাক রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২) লাল শাকে ক্যালরি থাকে নামমাত্র। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য লাল শাক খুবই উপকারী।
৩) শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে প্লেটে রাখুন লাল শাক। কারণ, লাল শাকে ক্যালরি আর ফ্যাট নেই বললেই চলে। তাই দ্রুত ওজন কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
৪) লাল শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৫) লাল শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-‘এ’ যা দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভাল রাখতে সাহায্য করে।
৬) লাল শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার জাতীয় উপাদান যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৭) লাল শাকে প্রচুর পরিমাণে থাকা বিটা-ক্যারোটিন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: জি নিউজ