Friday, November 3, 2017

সাতকানিয়ায় ওবায়দুল কাদের আসছেন শনিবার



বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সাতকানিয়ায় আসছেন শনিবার। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যেগে বিকাল তিনটার সময় কেরানীহাট চত্বরে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যেগে আয়োজিত গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
সাতকানিয়া আওয়ামীলীগ সভাপতি এম এ মোতালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণ সমাবেশে আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ,সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে এম এনামুল হক শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাধারণ মফিজুর রহমান,চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী,চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে আজকের গণ সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্ধরা।
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজকের গণ সমাবেশ সফল করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্তত পক্ষে ১০/১২ হাজার লোক সমাগম হবে বলে আমাদের আশা। উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সাতকানিয়া পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমরা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করেছি। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদকের গন সমাবেশে ব্যাপক জন সমাগম হবে। আমরা ব্যাপক জন সমাগম ঘটনোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।

ব্যবসায় নারী-পুরুষের সমতা প্রয়োজন

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমঃ বাংলাদেশে ১০ শতাংশ নারী ব্যবসায় জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এ হার ৫০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৫০ শতাংশের বেশি নারী।
তিনি বলেন, নারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে বসবাস করছি। এক সময় ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যবসা করলে সমাজ সমালোচনা করতো। সে ভয়ে অনেকেই যোগ্যতা থাকার পরও ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে। আগের সেই সোশ্যাল ট্যাবু এখন আর নেই।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত আন্তর্জাতিক উইম্যান্স এসএমই এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে।
গ্রামের নারীরাও এখন ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারা তৈরি আছে। তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য গ্রামের ৪৮০টি হাট-বাজারে ভবন তৈরি করা হবে। ভবনের নিচ তলায় বাজার বসবে। দ্বিতীয় তলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দোকান করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্ধ্বে প্রায় ৬ কোটি শ্রম শক্তি রয়েছে। বিশাল এ শ্রম শক্তির প্রায় এক তৃতীয়াংশই নারী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি করতে হলে বিশাল সংখ্যক নারীকে অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
বেশিরভাগ কর্মক্ষম নারী অনুৎপাদনশীল কাজে যুক্ত মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দেশের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্য পূরণে বিশাল এ শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো জরুরি। কর্মক্ষেত্র অপ্রতুল হওয়ায় আমরা বিশাল শ্রমশক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না।
নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে এ থেকে উত্তরণ সম্ভব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করলে বিশাল জনসংখ্যা কর্মক্ষম হয়ে দেশের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখতে পারবে।
চট্টগ্রাম মহিলা চেম্বারের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল, ওয়াসিকা আয়শা খান, সাবিহা নাহার, মাহজাবিন মোরশেদ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, মহিলা চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মুস্তফা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাদুর কাঠি আছে

ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ফলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।
কারণ এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। খালেদা জিয়া বলেন, আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। তবে আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও বলতাম না মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করতাম। ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ৩৪২ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে ১৯শে অক্টোবর ও ২৬শে অক্টোবর দুইদিন আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার এবং বিচার বিভাগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার নিরলস প্রয়াসে কখনো বিরতি দেইনি। আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছি। আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে আমি এসব কথা বলছি না। আমার এই অবস্থান, ভূমিকা ও অবদানের বিনিময়ে বাড়তি কোনো সুবিধা বা মর্যাদা দাবি করার কোনো অভিপ্রায়ও আমার নেই। আমি নিজেকে আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বেও মনে করি না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও আরেকজন নেত্রী যে সব সুবিধা ভোগ করেছেন, আমি কখনো আদালতের কাছে তেমন সুবিধা দাবি করিনি। আমি দেশের একজন সাধারণ সিনিয়র সিটিজেনের প্রাপ্য অধিকারটুকু পেলেই খুশি। আইনসম্মতভাবে ন্যায়বিচার ছাড়া মাননীয় আদালতের কাছে আমার চাইবার আর কিছু নেই। আজ আমার প্রতি যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা আমার অবস্থান ও ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং এর মাধ্যমে আমার প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে কিনা- সেটাও আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আমি মনে করি। খালেদা জিয়া বলেন, মাননীয় আদালত- আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল বা খারিজ হয়ে গেল। আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো জাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতি পেয়েছে। হয়েছে নতুন নতুন আরো মামলা। দেশে কতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতো মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগিরই শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন? কোন্‌ উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এতো তাড়াহুড়ো? এই তাড়াহুড়োয় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায় বিচারের কবর রচিত হবে? আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও আমরা বলতাম না, মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতাম। এখনো আদালতের কাছে কেবল ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করছি। আশা করি সকল প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রতি আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হবে। ন্যায়বিচারের কথা জোর দিয়ে আমি বারবার বলছি, এর কারণ আছে। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত। খালেদা জিয়া বলেন, আপনি জানেন- এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যয়বিচারকেই প্রভাবিত করে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়, মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলেও ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরাতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ক্ষমতাসীনরা একটি নীলনকশা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট, মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের উচ্চ মহলের কার্যকলাপ, তৎপরতা এবং বক্তব্য-বিবৃতি থেকে তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর এসব কারণেই দেশবাসীর মনে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার হবে না। 
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গতকাল সকাল সোয়া এগারটার দিকে আদালতে যান খালেদা জিয়া। পরে ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর দেড়টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আদালতকে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন। ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হলেও তিনি আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনবার ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি। তিনি বয়স্ক ও অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, এটি আদালতকে আমরা অবহিত করেছি। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিদেশে তিনি (খালেদা জিয়া) পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারেননি। চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই আদালতের প্রতি সম্মান রেখে দেশে এসেছেন। খালেদার আইনজীবী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কক্সবাজার সফরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন। তিনি অসুস্থ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারাতেও অসুস্থ নারীদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধার কথা বলা আছে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা তার স্থায়ী জামিনের আবেদন করছি। এসময় আদালতের বিচারক বলেন, তিনি যে বিদেশে থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসলেন এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আপনারা আদালতে দাখিল করেননি। দিয়েছেন কি? এ সময় খালেদার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, লন্ডন থেকে চিকিৎসার কোনো সনদ আনা কঠিন। সেখানে এ ধরনের সনদ কেউ পায় না। আদালতকে তিনি বলেন, মামলায় দুটি আবেদন (১১ সাক্ষীকে রিকল করে জেরা ও মামলা বাতিলের আবেদন হাইকোর্টে খারিজ) আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। আগামী রোববার তা শুনানি হতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য মুলতবি করার আবেদন করেন তিনি। খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এর আগেও তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর অপব্যবহার করেছেন। উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) দুটি ইস্যুতে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো রুল আনতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়া, তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (লন্ডনে অবস্থানরত) সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। এরা দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এখনো পলাতক। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।