Saturday, January 3, 2015

দলপতি ও রাজনৈতিক নেতা এক নয়

আমাদের রাষ্ট্রীয় নেতারা জানেন শুধু ক্ষমতা ভোগ করতে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য যাদের খুশি রাখা দরকার তাদের খুশি রাখতেও তাদের আগ্রহের শেষ নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থের অপচয় করতে হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন নেই। জনসম্পদের কতটা জনগণ পেল তা কোনো বিবেচনার বিষয় নয়। যত অসুবিধা নির্বাচনের প্রশ্নে। শিশু জিহাদের নির্মম মৃত্যু থেকে যাদের শেখার, তারা কিছুই শিখলেন না। সরকারি অব্যবস্থাপনার চরম মূল্য জনগণকে বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবেই দিতে হচ্ছে। পুলিশকে ব্যস্ত হতে দেখা গেল শিশুটির পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিথ্যা ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করার কাজে।
গণতান্ত্রিক সুশাসন বা জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে
সরকারকে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না। তারা এখন উন্নয়নের রাজনীতির কথা জনগণকে শোনাচ্ছেন। কিন্তু উন্নয়ন দেখতে হলে তো জানতে হবে কারা কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে রাজকীয় হালে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
স্বাভাবিক কারণেই নতুন করে হিংসা, হরতাল ও ক্ষমতার জন্য রক্তক্ষয়ী লড়াই এ দেশের অসহায় জনগণকে দেখতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের কোনো চিন্তা সরকারের মধ্যে নেই। কারণ ক্ষমতার দুর্ভেদ্য দুর্গে তারা নিজেদের বেশ নিরাপদ মনে করছেন। জনমতের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার অথবা সরে দাঁড়ানোর চিন্তা তাদের মধ্যে নেই। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে সবাই, এমনকি আমাদের বিদেশী বন্ধুরাও এটা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছেন যে, জনবিচ্ছিন্ন ব্যর্থ সরকারের ভবিষ্যৎ কত অনিশ্চিত। সরকারের গণতান্ত্রিক বৈধতার কথা কেউ ভুলে থাকলেও তারা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না।
যে বিষয়টিতে উপলব্ধির ঘাটতি রয়েছে তা হল, যে সরকার শাসন পরিচালনায় পুলিশের শক্তির ওপর নির্ভরশীল, সেই সরকার আত্মরক্ষায়ও সক্ষম নয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে এই শিক্ষা আমাদের হয়েছে। তবে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তাদের সে শিক্ষা জানা না থাকারই কথা।
বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন পর্যন্ত এখন অস্বস্তিতে ভুগছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সংকট সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছে। চীনের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ‘যদি কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়ে থাকে, চীন আশা করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পথে তার সমাধান করাই বাঞ্ছনীয়।’ এটা পরিষ্কার যে, চীনও বাংলাদেশে বিনিয়োগ ঝুঁকির ব্যাপারে খুবই সতর্ক। যাতে গণ্ডগোল, বিশৃংখলার মধ্যে তার আর্থিক স্বার্থ বিপন্ন না হয়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার মতো অনুকূল অবস্থা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। কারণ, রাজনৈতিক সংলাপের বিষয়টি সরকারের কাছে খুবই স্পর্শকাতর। এ ব্যাপারে সরকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কি-না সেটাই হবে দেখার বিষয়। আগে দেখেছি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোনো উপদেশ সরকার সহজভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। আওয়ামী লীগ যেহেতু প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে সমস্যার সমাধান করতে চায়, সে কারণে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা বা সংলাপের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা ফলপ্রসূ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। সরকার যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সম্মত থাকে, তাহলে তো বিরোধী দলের আর রাস্তায় লড়াই করার কোনো যুক্তি থাকে না।
যদিও আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত না করে কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠান গণতন্ত্রকে কার্যকর করে তুলতে কোনো ভূমিকা রাখবে না। একই ধরনের লুটপাটের দুঃশাসন চলবে এবং তা আমাদের জীবনকে একইভাবে দুর্বিষহ করে তুলবে।
রাজনৈতিক নেতারা যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাসুলভ আচরণ করতে না শিখবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান নিজেদের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ কথার অর্থ এই নয় যে, সমস্যাটির যুক্তিসঙ্গত সমাধান নেই।
এটা সহজেই বোধগম্য যে, সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখতে পুলিশসহ সমগ্র প্রশাসনকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সেই প্রশাসনের পক্ষে জনস্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সময় দেয়া বা আগ্রহ দেখানোর কিছু থাকতে পারে না। সরকারি প্রশাসন জনপ্রশাসন হতে পারছে না। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীও ব্যস্ত থাকছেন। আর যারা বিবেকের তাড়নায় তা পারছেন না তারা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতিপরায়ণরাও বসে নেই। বস্তুত এ কারণেই আমরা একটা সম্ভাব্য ধ্বংসের ছবি দেখছি।
অস্ত্র যে অনেকের হাতেই আছে তা তো সবাই দেখতে পাচ্ছি। হিংসা, হানাহানির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি উভয় পক্ষেরই রয়েছে। ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য যে লড়াই, সেখানে বিচার-বিবেচনা ও সংযম থাকতে পারে না।
আমাদের গভীর সংকটের সমাধান আসতে পারে কেবল সময়ের সাহসী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে। জনপ্রিয় ইচ্ছার ভিত্তিতে একটা সমাধান আমাদের পেতেই হবে। রাজনৈতিক নেতারা যখন কোনো সমাধান দিতে পারেন না, তখন শুধু নির্বাচনের কথা বলাই যথেষ্ট নয়। শুধুই একজনের পর অপরজনকে ক্ষমতায় বসানো কোনো রাজনীতি হতে পারে না। তাই এক ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা অপরিহার্য। সরকার যেহেতু জনগণের ভোটের নয়, তেমনি যে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাই গ্রহণীয় হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দলীয় রাজনীতির পুনর্গঠন দরকার হবে যাতে নির্বাচন হতে পারে শাসনতন্ত্রসম্মতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। অতীতে অর্থবহ নির্বাচন হতে পারেনি বলেই নির্বাচনের মৃত্যু ঘটানো সহজ হয়েছে। রাজনৈতিক জোটগুলোর দিকনির্দেশনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। আন্দোলনের জন্য বিএনপি জোটই যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্বের কথা গুরুত্বসহ ভাবতে হবে। একই নেতৃত্ব, একই চিন্তাভাবনা বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনতে পারে না। সেটা সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথও দেখাতে পারে না।
একটি স্বাধীন দেশকে স্বাধীন রাখার জন্য সত্যিকারের দেশপ্রেমী সাহসী লোকদের ভূমিকা থাকতেই হবে। পাকিস্তান আমলে আমাদের যখন রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক বঞ্চনার অবসানকল্পে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল, তখন সাহসী ব্যক্তির কোনো অভাব ছিল না। সব শ্রেণীর লাখ লাখ মানুষ আপস না করে সাহসের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছিলেন এই আশায় যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে সেখানে কেবল সুবিধাভোগীরা নয়, সবাই গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার সুযোগ এবং আইনের সুরক্ষা ভোগ করতে পারবেন। তাই সৎ ও সাহসী লোকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমলাতান্ত্রিক রাজনীতি দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণে আসতে পারে না।
দুর্জনের কাছ থেকে ধার করা জ্ঞান রাজনৈতিক নেতার বিজ্ঞতা বলে বিবেচিত হতে পারে না। রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক জ্ঞান আসতে হবে জনগণের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস থেকে। দলপতি আর রাজনৈতিক নেতা এক নয়। বর্তমানে রাজনীতির নামে দলীয় লোকদের স্বার্থে একেকজন দলপতি হয়ে বসে আছেন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

‘৫ই জানুয়ারি বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবেনা’ -মায়া, ‘খালেদার ৭ দফা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ -তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির জন্য তারেক জিয়ার পক্ষে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে বললেন-ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর ১৪ দলের বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ কর্মসূচি সফল করতে এ সভার আয়োজন করা হয়। মায়া বলেন, খালেদা পুত্র অনেক অন্যায় করেছেন। ছেলের পক্ষ থেকে মা ক্ষমা চাইলে বাংলার জনগণ ক্ষমা করে দিতে পারে। তাহলে তাদের সভা সমাবেশও করতে দেয়া হতে পারে। অন্যথায় জনগণ তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। খালেদা জিয়াকে জামায়াতের ‘আমির’ আখ্যা দিয়ে মায়া বলেন, ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকাবাসী রাজধানীর ১৬ টি পয়েন্টে অবস্থান নেবে। এদিন কাউকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না। মাঠ থাকবে আমাদের দখলে। কোন দফায় কাজ হবেনা। দফা একটাই, সেটা আপনি (খালেদা) ভালো হয়ে যান। এ ছাড়া আপনার কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ১৪ দলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আগামী ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করবো। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দয়া করে ৫ই জানুয়ারি মাঠে নামার চেষ্টা করবেন না। সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। কোন ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হলে এর দায় আপনাদেরই নিতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। কোনো নাশকতা করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিবে। সভায় ঢাকা মহানগর ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘খালেদার ৭ দফা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ -তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, খালেদা জিয়ার ৭ দফার ভেতরে জঙ্গীবাদ ও রাজাকারদের সঙ্গে দোস্তির রাজনীতি ছাড়ার আর কিছু নেই। তিনি জঙ্গী-তাণ্ডব, নাশকতা ও আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের জন্য দেশবাসীর কাছে মাফ চাননি, তওবা করেনি, ভুল স্বীকার করেননি। উল্টো যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গী অপরাধী ও অসৎ সাংবাদিকদের মুক্তির পক্ষে ওকালতি করেছেন। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও জঙ্গীবাদ গণতন্ত্র ও নির্বাচনে হালাল করা যায় না। তিনি ৭ দফার মাধ্যমে আবারও সেই অপচেষ্টা করেছেন, যা গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য হুমকি স্বরূপ। শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা জাসদের সম্মেলনের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। শহরের শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে জেলা জাসদের সভাপতি গাজী আব্দুল হাই তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সহ-সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন , প্রচার সম্পাদক আইয়ুব আলী খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদের চৌধুরী, জেলা জাসদের সহ-সভাপতি এড. সুকুমার চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম মুকুল বক্তব্য রাখেন।

‘কখনো ডাস্টবিন ছাড়া ময়লা ফেলব না’

(৩১ ডিসেম্বর ‘দেশটাকে পরিস্কার করি দিবস’ হিসেবে পালন করেছে পরিবর্তন চাই নামের সংগঠন। এই উপলক্ষ্যে ওসমানী উদ্যানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ছবি— আবদুস সালাম।) ‘আমি শপথ করছি যে, জীবনে কখনো ডাস্টবিন ছাড়া অন্য কোথাও ময়লা ফেলব না, বিশেষ করে রাস্তা এবং খোলা জায়গায়। অন্যদেরও ময়লা না ফেলতে উৎসাহিত করব। আমি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিচ্ছি।’ এভাবেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে দেশকে পরিষ্কার করার শপথ নিলেন কয়েক শ তরুণ। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ঢাকা অঞ্চলের জমায়েতে স্বেচ্ছাসেবকেরা এ শপথ নেন। অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘এটি এক দিনের বিষয় নয়। এ আন্দোলন প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে করতে হবে।’
সামাজিক সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’ প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর এ দিবসটিকে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ বছর হরতালের কারণে আজ দেশব্যাপী দিনটি পালন করছে ‘পরিবর্তন চাই’। দেশের ৪০টি জেলা শহর এবং ঢাকা শহরকে ছয়টি এলাকায় ভাগ করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এ দিনে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাস্তা, পার্ক ও খোলা জায়গা থেকে আবর্জনা তুলে নগর কতৃ‌র্পক্ষের হাতে তুলে দেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত ঢাকার মূল জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, অ্যাকশন এইডের এ-দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির, ব্রতীর চেয়ারম্যান শারমিন মুরশিদ, অবসকিউর ব্যান্ডের গায়ক টিপু, আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন ‘পরিবর্তন চাই’-এর চেয়ারপারসন ফিদা হক।

ডিএমপির সাড়া পায়নি বিএনপি, সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না-দেওয়া পুলিশের ব্যাপার : স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

৫ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এখনো সাড়া পায়নি বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের না পেয়ে ফিরে যায়। বিএনপি বলছে, অনুমতি না পেলেও ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করবে। আজ শনিবার দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ও সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ। জয়নুল আবদীন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার দেখা পাননি। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাঁদের জানিয়েছেন, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই। তিনি আরও বলেন, ৫ জানুয়ারির সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তাঁরা গত ২২ ডিসেম্বর আবেদন করেছেন। বারবার তাঁরা এর অগ্রগতি জানতে গেলেও তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবদীন বলেন, তাঁরা ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করবেন। কোথায় এই সমাবেশ হবে, তা দলের নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবেন। খালেদা জিয়া গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এই দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ওই দিন সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ, কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। আর কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় সমাবেশ করা হবে। এই কর্মসূচিতে বাধা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালনের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না-দেওয়া পুলিশের ব্যাপার : স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ৫ জানুয়ারি বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না-দেওয়া পুলিশের ব্যাপার। বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেবে কি না, পুলিশই বলতে পারবে। আজ শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক অফিস প্রাঙ্গণে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে ৫ জানুয়ারি সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী সোমবার অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
সভায় স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক, পুলিশের আইজি এ কে এম শহিদুল হক, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি সাবেক সচিব মো. বদিউর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লার রহমান, স্থানীয় সাংসদ জাহিদ আহসান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে যাঁরা বর্তমানে কর্মরত আছেন, তাঁদের অধিকাংশই বহুবার বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করেছেন। যার জন্য ইজতেমায় নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে বেগ পেতে হবে না। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার প্রতি পর্বে পাঁচ হাজারের অধিক পুলিশ থাকবে। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থার লোকজন মোতায়েন থাকবে।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি ও ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি দুই পর্বে এবারও ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অন্য বছরের মতো এবারও সফলভাবে বিশ্ব ইজেতমা সম্পন্ন হবে।

পায়রা সেতুর কাজ শুরু হয়নি

(পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ লেবুখালী এলাকায় পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকের ছবিটি সম্প্রতি তোলা l প্রথম আলো) নকশা চূড়ান্ত না হওয়ায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকায় পায়রা নদের ওপর ‘পায়রা সেতুর’ নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না। এতে নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী সফরে আসেন। এ সময় তিনি লেবুখালীতে পায়রা নদের দক্ষিণ পাড়ে ফেরিঘাট এলাকায় চার লেনের এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটি নির্মিত হলে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) পটুয়াখালী কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের লেবুখালী ফেরিঘাটের পায়রা নদের ওপর ‘পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু)’ নির্মাণে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের (কেএফএইডি) অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করা হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোগাবে ৭৭ কোটি ৩ লাখ টাকা ও কেএফএইডি দেবে ৩৩৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে এক হাজার ৪৭০ মিটার ও প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি। ২০১৬ সালে ডিসেম্বর মাসে এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পটুয়াখালী চেম্বারের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান জানান, নদের ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় উন্নয়ন অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেতুটি হলে সড়কপথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় সহজে পৌঁছানো যাবে। পটুয়াখালী সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম জানান, চার লেনের পায়রা সেতুর নকশা করতে আইসিটি নামের একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যৌথভাবে নকশা চূড়ান্ত করার দায়িত্বে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি সেতুটির একটি খসড়া নকশা দিয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত নকশা পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত নকশা পাওয়ার পর সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে মূলত সেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ কারণে সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত, দরপত্র আহ্বান ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দাতা সংস্থার কাছ থেকে পূর্ব অনুমোদন নিতে হচ্ছে। তাই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

হিন্দুদের সর্বশক্তি দিয়ে আ’লীগকে সর্মথন করার আহ্বান বিজেপি নেতার

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের একজোট হয়ে আওয়ামী লীগকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কেন্দ্রীয় নেতা তথাগত রায়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মাল্টিপারপাস হলরুমে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বেদান্ত সংস্কৃত মঞ্চ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন ‘পূজা পুনর্মিলনী, বিশ্বজুড়ে বিশ্বময়ী’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তথাগত রায় বলেন, আমি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এটা বলতে পারি না। আমরা একটি দেশের সঙ্গে দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করি। তবে বাংলাদেশের বিষয়টা ভিন্ন। আপনাদের (উপস্থিতদের উদ্দেশে) বোঝার জন্য বলছি। ভারত সরকার আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ভারত সরকার উপলব্ধি করেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো কোন সরকার হতে পারে না। এখানকার হিন্দুদের জন্যও এর চেয়ে ভালো সরকার কি হতে পারে?’ তথাগত রায় বলেন, আমরা এটা মনে করি। আপনারা কি মনে করেন এ দেশের হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন সরকারের ওপর ভরসা করা যায়? ভাবুন, যদি অন্যদের ওপর ভরসা করা না যায়, তাহলে পুরো সমর্থন আওয়ামী লীগকে দিন। প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলে আওয়ামী লীগ আপনাদের ব্যাপারে পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক এই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের পাওনা ভারত বুঝিয়ে দেবে। তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি হবে, এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি। তবে বাংলাদেশ কী পরিমাণ পানি পাবে, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জন হিন্দু ও ২০ জন মুসলমান ছিল। কিন্তু এখন হিন্দু ৭২ জন আর মুসলমান ২৮ জন। বাংলাদেশে হিন্দু কমার কারণ আছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন? এর কারণ, অনুপ্রবেশ ও হিন্দুদের কম প্রজনন। তার আশঙ্কা, একদিন বাঙালি হিন্দু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল মনে করি না। হিন্দুত্ববাদী তাদের রাজনৈতিক কৌশল মনে করি। বেদান্ত সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি বিশ্বজিৎ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহসভাপতি সুভাষ সরকার, বিজেপির  কেন্দ্রীয় গবেষণা শাখার সদস্য ধনঞ্জয় কুমার সিং, সাক্ষী গোপাল ঘোষ, বাংলাদেশের সাংসদ সুকুমার রঞ্জন, পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ।

৫ই জানুয়ারি মিছিল-সমাবেশ করবে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা

৫ই জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। শনিবার সকালে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় নেতারা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ ও ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশের সাধারণ মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত ৫ জানুয়ারি ২০১৪ একটি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিজেদেরকে পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। নিজেদেরই এক অংশকে বিরোধী দল বানিয়ে এবং সেই দলেরই আরেক অংশকে সরকারে নিয়ে তারা গণতন্ত্রের নামে একটা তামাশা মঞ্চস্থ করে। এবং এর মাধ্যমে দেশে শাসকরা নিজেদের মধ্যে যে তথাকথিত গণতন্ত্র চালু রেখেছিলো সেটাও বাতিল হয়ে একটা স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা তার সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। সরকারের এই ধরনের ক্ষমতার এক বছর অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও তার বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই আস্থার সাথে দাবি করেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতো। দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন চলছে এটা যেন স্বতঃসিদ্ধ সত্য। এর জন্য কোনো যুক্তি প্রমাণের দরকার নাই! অথচ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভোটাররা হাতে গোনা সংখ্যায় ভোট দিতে গিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভোট কেন্দ্রগুলো ছিল পুরোপুরিই ফাঁকা। আর ১৫৩ আসনে ভোট দেবারই কোনো দরকার হয় নি, সেখানে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধানে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য ও সরকার নির্বাচিত হবার বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই নির্বাচন দেখিয়ে দিয়েছে এমনকি জনগণের ভোট ছাড়াই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ সম্ভব। অর্থাৎ নির্বাচনের নামে এক তামাশার মঞ্চায়নের মাধ্যমেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অথচ এখন সেই তামাশাকেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভবিষ্যতের নির্বাচনের মডেল হিসেবে দাবি করছে সরকার ও তার সমর্থকরা। আসলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন নামের যে লেবাসকে গণতন্ত্রের একমাত্র স্মারক হিসাবে এখানকার শাসকরা প্রতিষ্ঠা করেছে তারও অপসারণ ঘটেছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ জনপ্রতিনিধিত্বহীন, স্বৈরতান্ত্রিক যে শাসন বাংলাদেশে চলছে তা প্রায়ই তার নখ-দাঁত লুকিয়ে রাখতে পারছে না। ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী, দেশবিরোধী, ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশিত হয়েছে এবং ধীরে ধীরে আরও বেশি করে সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ‘স্বৈরতান্ত্রিক একতরফা নির্বাচন জনগণ মানে না, নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন’- আহ্বান নিয়ে আগামী ৫ই জানুয়ারি বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছে।

ভারতে জাপানী তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ

এক জাপানী তরুণীকে অপহরণের পর এক মাস ধরে আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের কলকাতার পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। কলকাতার সহকারী পুলিশ কমিশনার পল্লব কান্তি ঘোষ জানান, আটক পাঁচ জনের মধ্যে দুজন এই জাপানী তরুণীকে ট্যুরিষ্ট গাইড হিসেবে সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়। এরপর তারা ভারতের কয়েকটি শহরে নিয়ে এই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র তীর্থ বলে পরিচিত বিহার রাজ্যের বুদ্ধ গয়াতে নিয়েও তাকে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি বেনারস শহরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে জাপানী কনস্যুলেটের সাহায্য নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতে একা বেড়াতে আসা মহিলারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এরকম হামলার শিকার হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ করছে।

স্কুলে কেরানি, কলেজে অধ্যক্ষ! by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাসের সনদ দিয়ে কেরানির চাকরি নেন আলতাফ হোসেন। ২৩ বছর একটানা চাকরি করেছেন। হঠাৎ নিজেই কলেজ খুলে বসেছেন। হয়েছেন অধ্যক্ষ। এরই মধ্যে বানিয়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, নাটোরের লালপুরে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের নেপথ্য নায়ক তিনিই।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলতাফ ১৯৯১ সালের ৬ জুলাই লালপুর থানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কেরানি হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর সবশেষ বেতন স্কেল ছিল ৪ হাজার ৯০০ টাকা। বিদ্যালয়ে আটজন ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী বাদী হয়ে নাটোরের লালপুর থানায় সাতটি মামলা করেছেন। দুদকের কাছে আটজন ভুয়া শিক্ষক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, তাঁরা আলতাফ হোসেনের মাধ্যমেই শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালপুরের একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালপুরে এই ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে আলতাফ হোসেনের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন। গত নভেম্বর প্রথম আলোয় ‘লালপুরে ১২ বিদ্যালয়ের ৪৫ ভুয়া শিক্ষক এমপিওভুক্ত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে আলতাফ হোসেন আর বিদ্যালয়ে যাননি। ছয়-সাত মাস আগে থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর তাঁর বেতন বিল তৈরি করেনি।
এদিকে বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময় আলতাফ লালপুরের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে ‘গোপালপুর পৌর মহিলা বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে অধ্যক্ষ হয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। সেখানে শিক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা খাতুন জানান, ২০১০ সালে বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় আলতাফ নিজ হাতে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ফরমে এইচএসসি পাস উল্লেখ করেছেন।
গত ১ ডিসেম্বর আলতাফের ওই কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজে কোনো ছাত্রছাত্রী নেই। দুজন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলের ওপরে আলতাফ হোসেনের একটি নামফলক রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে অধ্যক্ষ গোপালপুর পৌর মহিলা বিএম কলেজ। তিনটি শ্রেণিকক্ষের একটিতেও কোনো বেঞ্চ নেই।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের দুই শিক্ষক জানান, ২০১০ সালে কলেজটি চালু হয়। ইতিমধ্যেই দুটি ব্যাচ এইচএসসি (বিএম) পাস করেছে। কলেজে দুটি ট্রেড রয়েছে—কম্পিউটার ও সাচিবিক বিদ্যা। কলেজের কম্পিউটার কোথায় জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, নিরাপত্তার জন্য অধ্যক্ষের বাসায় রাখা হয়েছে।
কলেজের পাশেই অধ্যক্ষের দুই তলা বাড়ি। ওপরের তলায় আলতাফ থাকেন। সেখানে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বক্তব্য নেওয়ার জন্য গত কয়েক দিনে কয়েক দফায় ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। অন্য একটি মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি দেখা করতে রাজি হননি।

‘বিনা সিগন্যালে যানজটে আছি’

‘মিছিল যাইতেছে। তাই বিনা সিগন্যালে যানজটে আছি। কখন ছাড়ব, কে জানে?’—কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর শাহবাগে দাঁড়িয়ে থাকা এক বাস চালক। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকেই যানজটের কবলে পড়ে রাজধানীবাসী। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে একের পর ট্রাকে করে শাহবাগে সমবেশ হতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বাস, ট্রাক, মিনিবাস, পিকআপে করে তাঁরা আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জড়ো হতে থাকেন। বেলা দুইটায় সময়ও মৎ​স্যভবন-ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘেষে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল বিপুলসংখ্যক বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। শীত উবে গিয়ে হঠাৎ​ গরম পড়ায় মানুষের মধ্যে তৈরি হয় হাঁসপাস অবস্থা। উপায় না দেখে দীর্ঘক্ষণ বাসে থাকার পর অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন। গাড়ি থেকে নেমে মৎ​স্য ভবনের সামনে হাঁ​টছিলেন হোসাইন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ​ সুপারভাইজার কইলো গাড়ি চলব না। সামনে ছাত্রলীগ মিছিল করতাছে। এ জন্য হেঁটেই রওনা দিছি।’ অন্য আরেক জন বললেন, ‘এই শহরে জ্যাম নতুন কিছু না। হাঁটা ভাল।’
বেলা পৌনে দুইটার দিকে ট্রাফিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মহাখালী থেকে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ফার্মগেট, শাহবাগ, কাকরাইল, নাইটেঙ্গেল মোড়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশের এলাকায় যানজটের কথা জানায়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, পল্টন, প্রেসক্লাব, মগবাজার, বাংলামোটর, রূপসী বাংলা মোড়, ধানমন্ডি এলাকায় যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, ছাত্রলীগের র‌্যালির জন্য যানজট হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। দুপুরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
হিন্দি গান: শোভাযাত্রার আগে সমাবেশের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে বেলা একটার দিকে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে ছাত্রলীগের শোভাযাত্রা শুরু হয়। লক্ষাধিক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর এই শোভাযাত্রায় বাজতে থাকে গ্যাংনাম স্টাইল, কিক, হুককা বার, নাগিনসহ নানা রকমের হিন্দি গান। তবে কয়েকটি পিকআপে শাফিন আহমেদের জন্মদিন গানটিও বাজানো হয়। এ ছাড়া মটর সাইকেলের শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো হয়।
বেলা দেড়টার সময় কয়েকটি পিকআপ থেকে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মেয়েদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষা ও অশালীন ইঙ্গিতের মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ওই পিকআপের ব্যানারে লেখা ছিল পারভেজ হোসেন, কামরাঙ্গীচর থানা ছাত্রলীগ। এ ছাড়া দক্ষিণ খান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি খায়রুল আলম মোটর সাইকেলে হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণ তৈরি করেন। এ সময় পথচারীরা বিরক্ত হন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা চাকুরিজীবী ইউনুস আলী বলেন, ‘রাস্তা-বন্ধ করে তারা নাচতেছে। মনে হয় বিয়ে বাড়ি। জনগণের দুর্ভোগের কথা তাদের মাথায় নেই।’
আগামীকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) ছাত্রলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওইদিন সরকারি ছুটি থাকায় আজকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করে দলটি। এ ছাড়া আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

লাল মখমল দোলনার মেয়ে

সেকালের দুনিয়া ইভলিন নেস্টবিটকে ডাকত ‘আমেরিকান ইভ’। শত বছর আগেই মডেল হিসেবে খ্যাতির শিখর স্পর্শ করেছিলেন তিনি। বলা হয়, ইভলিনই আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী সুপার মডেল। এই সুন্দরীকে ঘিরে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে ঘটেছে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। সেই হত্যার বিচার ঘিরে আদালত বিব্রত হয়েছে, সমাজ বিভক্ত হয়ে গেছে। সেই প্রেমকাহিনি লোকগল্প হয়ে ছড়িয়ে গেছে নাট্যমঞ্চে, গল্পে, কবিতায়, চলচ্চিত্রে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম তাঁরই প্রেমকাহিনি থেকে তাঁকে নাম দিয়েছে ‘লাল মখমল দোলানার মেয়ে’। বিবিসি অবলম্বনে এই প্রতিবেদনে জানুন বিশ্বের প্রথম নারী সুপার মডেল ইভলিন নেস্টবিটের কথা। সুন্দরের প্রতিমা হয়ে তিনি সবার হৃদয় জয় করেছেন। শিল্পীরা তাঁর ছবি এঁকেছেন। আলোকচিত্রীরা তাঁর ছবি তুলেছেন। ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাঁকে মডেল বানিয়েছেন। তামাটে চুলের কিশোরী ইভলিন নেস্টবিটের গ্ল্যামার জগতে পা রাখার কাহিনি অনেকটা ধ্রুপদি গল্পের মতোই। ফিলাডেলফিয়ার এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইভলিন। কিন্তু অর্থনৈতিক রূপান্তরের টালমাটাল সময়ে ঋণের বোঝা রেখে আকস্মিকভাবে মারা যান ইভলিনের বাবা। সংসার সামলাতে হিমশিম খাওয়া মায়ের পাশে দাঁড়াতে কিশোরী বয়সেই ইভলিনকেও রোজগারের পথে পা বাড়াতে হয়।
(ছবি:১ পোশাক যা-ই হোক ইভলিনের মধ্যে যেন সব সময়ই প্রতিমার মতো সৌন্দর্যের সঙ্গে এক প্রচ্ছন্ন যৌন আবেদন মিলেমিশে থাকত। ছবি: উইকিপিডিয়া ছবি:২ ইভলিন নেস্টবিট। জন্ম: ২৫ ডিসেম্বর ১৮৮৪। মৃত্যু: ১৭ জানুয়ারি ১৯৬৭। ছবি: উইকিপিডিয়া ছবি:৩ বনপরী, জিপসি নারী, জাপানি গেইশা থেকে শুরু করে গ্রিক দেবী পর্যন্ত বহু চরিত্রেরই মডেল হয়েছেন ইভলিন নেস্টবিট। ছবি: উইকিপিডিয়া)
ইভলিন এমন এক সময় বেড়ে ওঠেন যখন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রূপান্তরের কাল। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আমেরিকার বেড়ে ওঠার সোনালি যুগ সেটা। কিন্তু একই সঙ্গে ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যায় অভিবাসী আসা এবং দারিদ্র্য বিস্তারেরও সময় সেটা। অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং অকালে পিতৃহীন হওয়ায় অল্প বয়সেই জীবনের দুই দিকই দেখতে হয়েছিল ইভলিনকে। ইভলিন প্রথমে কাজ শুরু করেন উদীয়মান শিল্পীদের ছবি আঁকার মডেল হিসেবে। তবে ভদ্রঘরের মেয়ে ইভলিনকে শিল্পীদের জন্য নগ্ন হয়ে মডেল দিতে হয়নি। তাঁর জীবনীকারের ভাষায় ‘এর পরও অসম্ভব সুন্দর মুখশ্রীর ইভলিনের কদর ছিল অনেক।’
১৯০০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্কে চলে আসেন ইভলিন। নতুন শতাব্দীর শুরুতে ইভলিনের নতুন যাত্রা কেবল তাঁর জীবনকেই পাল্টে দেয়নি, বরং শিল্পাঙ্গনসহ বিকাশমান গ্ল্যামার জগতকেও পাল্টে দিয়েছিল। নিউইয়র্কে নিজেকে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ইভলিনকে সহায়তা করেছিলেন তাঁর শুরুর দিককার পথপ্রদর্শক-পৃষ্ঠপোষক জেমস ক্যারল বেকউইথ। এ সময় খ্যাতনামা বহু শিল্পীর মডেল হয়েছেন তিনি। এখন নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের সংগ্রহে থাকা ‘ইনোসেন্স’ নামে ভাস্কর জর্জ গ্রে বার্নার্ডের বিখ্যাত ভাস্কর্যের মডেলও তিনি। চার্লস ডানা গিবসনের ‘উইমেন: দ্য ইটারনাল কোয়েশ্চন’ ছবিটির মডেলও তিনি। শিল্পীদের ছবি, ভাস্কর্য থেকে শুরু করে সাময়িকীর প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ আর অগণিত বিজ্ঞাপনে ছাপা হতে থাকে ইভলিনের মুখ। সে সময়কার বিখ্যাত সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার, হার্পার্স বাজারের একাধিক প্রচ্ছদের মডেল হয়েছেন তিনি। টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে মুখের ক্রিমের বহু বিজ্ঞাপনের মডেল ছিলেন ইভলিন।
বনপরী, জিপসি নারী, জাপানি গেইশা থেকে শুরু করে গ্রিক দেবী পর্যন্ত বহু চরিত্রেরই মডেল হয়েছেন এই সুন্দরী তরুণী। গ্ল্যামার মডেল হিসেবেও সব সময় শালীন পোশাকেই দর্শকের সামনে হাজির হতেন ইভলিন। কিন্তু পোশাক যা-ই হোক, ইভলিনের মধ্যে যেন সব সময়ই প্রতিমার মতো সৌন্দর্যের সঙ্গে এক প্রচ্ছন্ন যৌন আবেদন মিলেমিশে থাকত। ইভলিনের রূপের এই প্রচ্ছন্ন আবেদনময়তাই হয়তো সেকালে ইভলিনের তুমুল জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ। নতুন মাধ্যম হিসেবে ফ্যাশন ফটোগ্রাফির বিকাশের এই সময়েই দুনিয়াজুড়ে সুপার মডেলের খ্যাতি অর্জন করেন ইভলিন। আঁকা ছবির অলঙ্করণের জায়গায় আলোকচিত্রের স্থান করে নেওয়ার সে সময়টায় দ্রুত মানুষের চোখে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। এ এমন এক সময় যখন তাঁর ছবি ছাপা হলে পত্রিকার বিক্রি বেড়ে যায়। নগরের পানশালা আর অভিজাতদের আড্ডায় একই সময়ে যুবা-পুরুষরা মদিরা হাতে পানপাত্র ঠোকে ইভলিনের নামে। শিগগিরই নিউইয়র্কের ব্রডওয়ে থিয়েটার বা মঞ্চনাটকে স্থান করে নেন ইভলিন। বুনো গোলাপ নামের একটা নাটকে প্রথম স্বতন্ত্র চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ সময়ই পত্র-পত্রিকার মুখরোচক কলামগুলোতে ইভলিনের নামে নানা কিসসা-কাহিনি ছাপা হতে শুরু করে। সাফল্যের শিখরে থাকার সময়ই করুণ পরিণতির প্রেমকাহিনি আরও আলোচিত-সমালোচিত করে তোলে ইভলিন নেস্টবিটকে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, ওয়াশিংটন স্কয়ার আর্চসহ বহু বিখ্যাত স্থাপনার স্থপতি স্ট্যানফোর্ড হোয়াইটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ইভলিন। সুন্দরী মডেল ইভলিনের প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকা ধনী স্থপতি স্ট্যানফোর্ড প্রেমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেমিকাকে একটা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট উপহার দেন। কিন্তু বছর না গড়াতেই বিচ্ছেদ ঘটে দুজনের। শিগগিরই কয়লা ও রেল ব্যবসায়ী ধনকুবের হ্যারি কে থ-কে বিয়ে করেন ইভলিন। সাবেক প্রেমিক আর বর্তমান স্বামী বিবাদে জড়িয়ে পড়েন ইভলিনকে নিয়ে। এক সন্ধ্যায় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এক অনুষ্ঠান চলাকালে উত্তেজিত হয়ে স্থপতি স্ট্যানফোর্ডকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেন ধনকুবের হ্যারি। এই হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় পুরো আমেরিকায়। আদালতে বিচার চলাকালে প্রত্যক্ষদর্শী এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে ইভলিনের বক্তব্য শুনতে উদগ্রীব হয়ে থাকে সবাই। আদালতে নিজের প্রেম এবং দাম্পত্য নিয়ে ইভলিন যে বিশদ সাক্ষ্য দেন, ছাপার হরফে সেসব পড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়ে জনগণ। পত্রিকার কাটতি বাড়তে থাকে। রক্ষণশীল খ্রিষ্টানরা আদালতকে অনুরোধ করে এই সাক্ষ্য পত্রিকায় ছাপা বন্ধ করতে। বিচারকেরা বিব্রত হয়ে পড়েন। এমনকি আদালতে অভিযোগ ওঠে যে, ইভলিনের মা তাঁর মেয়েকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করেছেন। মামলার রায়ে ইভলিনের স্বামী ধনকুবের হ্যারির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং একটা হাসপাতালে অন্তরীণ অবস্থাতেই মারা যান তিনি। সংবাদমাধ্যমসহ জনগণের ব্যাপক আগ্রহ এবং নাটকীয় হত্যাকাণ্ডের নাটকীয় বিচারকাজের জন্য এই বিচারকে আমেরিকার ইতিহাসে শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত বিচারকাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আদালতে নিজের জবানিতে প্রেমিকের উপহার দেওয়া একটা ‘লাল মখমলের দোলনা’ নিয়ে ইভলিনের প্রেমকাহিনি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে ইভলিন পরিচিতি পান ‘লাল মখমল দোলনার মেয়ে’ হিসেবে। পরে ইভলিনের জীবদ্দশাতেই ১৯৫৫ সালে লাল মখমল দোলনার মেয়ে নামে একটা সিনেমাও মুক্তি পায় হলিউড থেকে। ইভলিন নিজে সেই সিনেমার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তামাটে চুলের এক কিশোরীর মডেল হয়ে ওঠা, তাঁর জীবনসংগ্রাম এবং ট্র্যাজিক প্রেমকাহিনি নিয়ে সে সময় থেকেই অনেক গল্প-কবিতা-নাটক রচিত হয়েছে। এমনকি ২০১০ সালেও এইচবিও টিভি সিরিজ ব্রডওয়াক এমপায়ারের গিলিয়ান চরিত্রটিও ইভলিনের ছায়া অবলম্বনেই রচিত। উনিশ শতক থেকে বিশ শতকে রূপান্তরের পর্বে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের টালমাটাল সময়ের ছবিতে চিরদিনের জন্যই রয়ে যাবে ইভলিন নেস্টবিটের নাম। প্রথম যুগের সুপার মডেল হিসেবে ইভলিন যে পথে হেঁটেছিলেন, তা পেরিয়ে যাওয়া হয়তো তাঁর উত্তরসূরি আজকের অনেক সুপার মডেলের পক্ষেও সম্ভব না। ইভলিনের জীবনীকার পাওলা উরুবুরু যেমন মন্তব্য করেছেন—‘করুণ হলেও সত্য যে, তারকা হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকার প্রথম সুপারমডেল, যৌনতার দেবী এবং সুবিধাভোগী এই সেলিব্রেটি সে সংস্কৃতিরই শিকার হয়েছেন, যে সংস্কৃতি নিজেই তাঁকে তৈরি করেছে এবং তাঁকে ভোগ করেছে।’

সাগরে বিমানের বড় দুটি অংশের সন্ধান

জাভা সাগরে ডুবে যাওয়া এয়ার এশিয়ার ৮৫০১ ফ্লাইটটির বড় দুটি অংশ খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন উদ্ধার-কর্মীরা। আজ শনিবার ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী দলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এ কথা জানান।  গত সপ্তাহে ১৬২ আরোহী নিয়ে বিমানটি জাভা সাগরে গিয়ে পড়ে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিমানের ৩০ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে বোর্নিও দ্বীপের কাছাকাছি জাভা সাগরে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর সময় সাগরের তলদেশে বস্তুর সন্ধান মিলেছে। সেখানে বিমানের নিহত আরও যাত্রীর লাশ ও ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান মিলতে পারে। ব্ল্যাক বক্স পাওয়া গেলে বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানা যাবে। বিমান সন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান বামবাং সোয়েলিসতিও বলেন, ‘আমরা তেল ছিটানো এবং বিমানের বড় দুটি অংশের সন্ধান পেয়েছি। আমি নিশ্চিত করতে পারি, এটি বিধ্বস্ত এয়ার এশিয়া বিমানের অংশ।’ তিনি জানান, যেখানে বিমানের অংশ পাওয়া গেছে, সেখানে লাশ উদ্ধারে ডুবুরি পাঠানো হয়েছে।

তবুও থামেননি বোরহান by মুহাম্মদ জাকির হোসেন

(বোরহান উদ্দিন ছোটবেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারান। এরপর পড়ালেখা শেষ করে গ্রামে ফিরে মুরগির খামার ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করেন। বোরহানকে খামারে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে l ছবি: প্রথম আলো) ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পা ভেঙে যায়। একপর্যায়ে চিকিৎসায় তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়। তখন তিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্র। এর পর থেকে লাঠিতে ভর দিয়েই চলাফেরা করছেন। এভাবেই স্কুল-কলেজের পড়াশেখা শেষ করেন। নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজ থেকে শেষ করেন স্নাতক ডিগ্রি। চাকরির চিন্তা না করে ফিরে আসেন বাড়িতে। এক প্রতিবেশীর সহায়তায় নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন মুরগির খামার। স্থাপন করেন দুটি বায়োগ্যাস প্লান্ট। খামার ও বায়োগ্যাসের আয়ে তিনি আজ স্বাবলম্বী। তাঁর উৎপাদিত বায়োগ্যাসে আলো ও জ্বালানি-সুবিধা পাচ্ছে গ্রামের ৩০টি পরিবার। ওই ব্যক্তির নাম মো. বোরহান উদ্দিন (৩৮)। বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম পুটিয়ারপাড় গ্রামে। সম্প্রতি খামারবাড়িতে গেলে তিনি জানান, ১৯৮১ সালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় বাঁ পা। চিকিৎসায় পা কেটে ফেলতে হয়। এর পরও চালিয়ে যান লেখাপড়া। ১৯৯১ সালে দাউদকান্দি আদর্শ হাইস্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে গজারিয়া সরকারি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাসের পর ১৯৯৮ সালে নারায়ণগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক (পাস) পাস করেন।
বাড়িতে এসে ২০০৪ সালে প্রতিবেশী ছালাম সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৮ শতক জায়গার ওপর ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করেন একটি মুরগির খামার। মুরগির বিষ্ঠা কাজে লাগিয়ে ২০০৬ সালে আরও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন দুটি বায়োগ্যাস প্লান্ট। ওই প্লান্ট থেকে স্বল্প খরচে গ্রামের ৩০টি পরিবার পাচ্ছে বিদ্যুৎসুবিধা। খামার ও বায়োগ্যাস থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। ওই টাকাতেই চলে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। সহজশর্তে ঋণও জোটে না। সরকারি-বেসরকারি সহায়তাও পাওয়া যায় না। এভাবে আরও বায়োগ্যাস প্লান্ট করে নিজ গ্রাম ও আশপাশের গ্রামে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে হচ্ছে না। আল-আমিন নামের গ্রামের এক তরুণ বলেন, ‘পা ভাঙলেও বোরহানের মন ভাঙেনি। মনের জোরেই এগিয়ে চলেছেন।’ বোরহানের স্ত্রী রুনিয়া বেগম বলেন, ‘তিনি কাজপাগল মানুষ। এক পা নাই—এ কথা কখনোই মনে আনেন না।’ মতলব উত্তরের ইউএনও মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি গ্রামের মানুষের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এই দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।

মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা- পকেট কাটা হচ্ছে যাত্রীদের by আনোয়ার হোসেন

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলরত প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশাই এখন কার্যত অবৈধ। কারণ, গত ৩১ ডিসেম্বর এগুলোর বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এ অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা দুই মহানগরে চলাচলকারী মোট অটোরিকশার ৭৪ শতাংশ। অটোরিকশার ভাড়া ও মালিকের জমা নির্ধারণ করা হয় এর বয়সসীমার ওপর। শুরুতে অটোরিকশার বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল নয় বছর। সেই অনুসারেই এর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। ঢাকা জেলা অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির চাপে ২০১০ সালে মেয়াদ বৃদ্ধি করে ১১ বছর করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ আবার চার বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ালে হাইকোর্ট তা স্থগিত করেন। এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল ২০০১ ও ২০০২ সালে। নিয়মানুযায়ী, অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হলে তার চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সরকার এর মেয়াদ বৃদ্ধি করলে ভাড়া ও জমা কমানো হবে। কিন্তু দুই মহানগরের কোথাও ভাড়া কমানো হয়নি। সেই সুবিধা ভোগ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এই বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা আগের মতোই যাত্রীদের পকেট কাটছে। এখন মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশার বয়স বৃদ্ধি করা হবে, নাকি এর স্থলে নতুন অটোরিকশা বরাদ্দ দেওয়া হবে—এই নিয়ে দর-কষাকষি চলছে।
২০০১ সালে চালুর পর থেকেই অটোরিকশার চালক-মালিকেরা সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া ভাড়া মানেননি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও এটা মানানোর কোনো চেষ্টা করেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দেশের প্রধান দুই শহরের যাত্রীরা অটোরিকশার চালকদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। রাস্তায় বের হয়ে যানবাহনসংকটে নাকাল যাত্রীরা মিটারের বদলে কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় চুক্তিতে যেতে বাধ্য হচ্ছে। মালিক ও আমদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে একটি নতুন অটোরিকশার দাম চার লাখ টাকা। কিন্তু ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় কেনা মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশার মালিকানা হাতবদল হচ্ছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায়। এর মূল কারণ, ২০০৩ সাল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে অটোরিকশার নতুন নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ফলে যে অটোরিকশাগুলো রাস্তায় আছে, সেগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করছে। আর এ গাড়িগুলো পুরোনো হলেও বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে। অটোরিকশার খাতের রমরমা মুনাফার একটা হিসাব দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি সংগঠন। তাদের হিসাবে, ২০০১ সালে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় কেনা একটি অটোরিকশা দিয়ে ১১ বছরে চালক-মালিকেরা ৯২ লাখ টাকা আয় করেছেন। একাধিক অটোরিকশার মালিক এ প্রতিবেদককে জানান, ঢাকায় কারও দুটি অটোরিকশা থাকলে তাঁর অন্য কোনো কাজ করার দরকার হয় না। তবে ঢাকা অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ বলেন, ‘শুধু আয় দেখলে হবে না, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক।’
অটোরিকশা খাতে নৈরাজ্যের বিষয়ে বরকত উল্লাহ বলেন, ‘এটা সত্য, আমরা সেবা দিতে পারিনি। আমাকেই রাজধানীর কমলাপুর থেকে এলেনবাড়ি যেতে ২০০ টাকা গুনতে হয়। এই পথে মিটারে গেলে ভাড়া আসে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অটোরিকশার স্বল্পতা ও চালকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই এমন হয়েছে।’ অবশ্য ঢাকা জেলা অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন দাবি করেন, মালিকেরা বাড়তি জমা চাপিয়ে দেন বলেই যাত্রীদের কাছ থেকে তা তুলতে হচ্ছে চালকদের। তিনি বলেন, অটোরিকশার তুলনায় চালক বেশি বলে মালিকেরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে পড়েছেন। বিআরটিএর হিসাবে, ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ১২ হাজার ৭১৫টি। চট্টগ্রামেও প্রায় ১৩ হাজার। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় সাড়ে ১১ হাজার এবং চট্টগ্রামে আট হাজার অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেরামত নাকি প্রতিস্থাপন: বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০১০ সালে মালিক সমিতির চাপে সরকার নতি স্বীকার করার ফলে আবার মেয়াদ বৃদ্ধির আন্দোলন শুরু করে তারা। একাধিক বৈঠক করার পর গত ৪ জুন ছয় শর্তে মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশার মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ১৫ বছর করার সিদ্ধান্ত দেয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। ছয় শর্তের মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিন ওভারহলিং করা, হুড-বডি পরিবর্তন করে নতুন রং করা, সিএনজি সিলিন্ডার পরীক্ষা করা এবং অন্যান্য মেরামত করা। এসব করে বুয়েট ও চুয়েট থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মালিকদের অনেকে এই প্রক্রিয়ায় যেতে আগ্রহ দেখাননি। কারণ, এই শর্ত পূরণ করতে হলে প্রতিটি অটোরিকশার পেছনে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে। এ ছাড়া যথাযথভাবে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা দেখে ছাড়পত্র দেওয়ার যে সক্ষমতা বুয়েটের রয়েছে, তাতে এক বছরে বড়জোর তিন হাজার অটোরিকশা ছাড় পাবে। এ অবস্থায় ১৭৫ জন সাধারণ মালিক ঝক্কিতে না গিয়ে পুরোনো অটোরিকশা ঢাকার বাইরে বিক্রি করে দিয়ে এর স্থলে নতুন অটোরিকশা নামানোর অনুমতি চেয়ে বিআরটিএতে আবেদন করেন। এগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য বিআরটিএর সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটিও হয়েছে। কমিটি পরীক্ষা করে ৪৫টি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করে। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদন আর দেয়নি সংস্থাটি। এরপর ১৭ জন মালিক বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উকিল নোটিশও দিয়েছেন।
এ অবস্থায় সাধারণ মালিকদের একটা অংশ মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে নীতিমালাবহির্ভূত দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে। আদালত গত মাসে মেয়াদ বৃদ্ধির কার্যক্রমের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায়, মালিকদের দাবি আর অটোরিকশার স্বল্পতা—সব মিলিয়ে জটিল অবস্থা চলছে। তবে খুব শিগগির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার শুধু চালক-মালিকদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত—এমন অভিযোগের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। ভাড়া ও জমা অমান্য করার দায়ে অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গোলপাতা ছাড়া অন্য গাছ না কাটার পরামর্শ by ইফতেখার মাহমুদ

চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারী খাল ধরে সামনে এগোতেই খালের দুই পাশে গোলপাতার সারির ঘনত্ব বাড়তে থাকল। দেখা গেল, সারি সারি গোলপাতা আর গাছের গায়ে কালো তেলের প্রলেপ কোথাও কোথাও রোদের তাপে গলতে শুরু করেছে। শ্যালা নদী ও পশুর নদের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হালকা তেলের প্রলেপ ভাসতে দেখা গেল। তবে কয়েকজন বনজীবী বলছেন, খাল ও নদীর পাড়ে কাদার ভাঁজে ভাঁজে তেল ঢুকে পড়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনে তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ১৮ দিন পরও ওই তেল সরেনি। যেন আঠার মতো বনের গায়ে লেপ্টে আছে। সরকার সুন্দরবনে শ্যালা নদী ও পশুর নদ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২০০ লিটার তেল সংগ্রহ করেছে। বাকি ২ লাখ ৬০ হাজার লিটার তেল এখনো সুন্দরবনের শরীরে রয়ে গেছে। সেই তেল কীভাবে অপসারণ করা হবে বা আদৌ অপসারণ করা যাবে কি না, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছে জাতিসংঘ ও সরকারের যৌথ বিশেষজ্ঞ দল। তবে জাতিসংঘ দলের সঙ্গে আসা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগই গোলপাতা ছাড়া অন্য কোনো গাছ না কাটার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, গোলপাতায় বেশি তেল লেগেছে। এ ছাড়া গোলপাতা কাটলে বনের তেমন ক্ষতি হয় না। এদিকে বনে লেগে থাকা তেল আগামী বর্ষায় ধুয়ে নদীর পানির সঙ্গে মিশে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে সুন্দরবন প্রাকৃতিকভাবেই তার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করছেন বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ।
বন বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার গোলপাতায় তেল লেগেছে। তবে কতটি গাছে তেল লেগে আছে, তার কোনো হিসাব এখনো তারা চূড়ান্ত করতে পারেনি। জাতিসংঘ দলের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত শুধু তেল লেগেছে এমন গোলপাতা সংগ্রহ করে তা ধ্বংস করা হবে। গাছ ও দুই পাড়ে লেগে থাকা তেল আপাতত অপসারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, তারা বনজীবীদের প্রতি ১০০ কেজি গোলপাতা সুন্দরবন থেকে সংগ্রহের জন্য ২৫ টাকা করে নেয়। সে ক্ষেত্রে তেল লাগানো গোলপাতা জমা দিলে বনজীবীদের উল্টো পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথম বন সংরক্ষক ইউনুস আলী প্রথম আলোকে জানান, দুই পাড়ের কাদা আর গাছ থেকে তেল অপসারণ করতে গেলে সুন্দরবনের আরও ক্ষতি হতে পারে। কারণ, এতে করে বনের পাড় ভেঙে যেতে পারে। জাতিসংঘ দলের পরামর্শ অনুযায়ী, সংগ্রহ করা গোলপাতা ও তেল লেগে থাকা সামগ্রী সংগ্রহ করে কোনো একটি স্থানে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলা যেতে পারে। এ জন্য কোনো ইটভাটায় সামগ্রীগুলো পোড়ানো এবং গোলপাতাগুলো আশপাশে নদী নেই, এমন কোনো এলাকায় পুঁতে ফেলা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো জাতিসংঘ ও সরকারের যৌথ বিশেষজ্ঞ দলটি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সুপারিশ করেনি। বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ পেলেই বন বিভাগ এ ব্যাপারে কাজ শুরু করবে।

ফরিদপুর সদরের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়- ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান by পান্না বালা

(ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর নরসিংহদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পড়াশোনা। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) ফরিদপুর সদরের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। যেকোনো মুহূর্তে জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ ধসে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ওই তিনটি বিদ্যালয়ে ৬২১ জন শিক্ষার্থীকে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে। এদিকে গত ৪ সেপ্টম্বর ফরিদপুর সদরের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকদার সদরের পূর্ব ভাষাণচর আমিন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়কালী হাজী বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর নরসিংহদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খালেক চেয়ারম্যান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ‘অতীব জরুরি’ চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ কোমলমতি শিশুদের জীবননাশের কারণ হতে পারে। তাই চিঠিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্যত্র পড়াতে বলা হয়। এর পরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি (প্রধান শিক্ষক) ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে সতর্ক করা হয় চিঠিতে। ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর খালেক চেয়ারম্যান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিকল্পভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করে। বাকি তিনটি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান অব্যাহত রেখেছে।
সম্প্রতি ভবানীপুর নরসিংহদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ১৮০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে। এ সময় ওই ভবনের বিমে ফাটল দেখা যায়। এ ছাড়া ভবনের পলেস্তারাও খসে পড়তে দেখা যায়। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চমশ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘ক্লাস করতে ভয় লাগে। কিন্তু স্যাররা ক্লাস করতে বলে তাই ক্লাস করি।’ একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘স্যারদের জন্য ক্লাস করছি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্যাররাই দায়ী থাকবেন।’
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। পূর্ব ভাষাণচর আমিনউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৭ জন। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘বিকল্প না থাকায় আমরা জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র ভবনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দেখে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের অন্য স্কুলে নিয়ে গেছেন।’
রায়কালী হাজী বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫৪ জন। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক মৃধা বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলাপ করেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রেখেছি।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চার প্রধান শিক্ষককে যে চিঠি দিয়েছেন সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে স্কুল সংস্কারের কাজ উপজেলা প্রশাসন করে থাকে। আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ভবনগুলো পাঠদানের উপযোগী করে তুলতে উদ্যোগ নেব।’
ওই চারটি বিদ্যালয়ে চিঠি দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকদার গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা ওই চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছেন।

কর্মসূচি পূরণ করতে পারবেন ওবামা?

‘গত ছয় বছরে আমাকে নিজের “ভেটো কলম” ব্যবহার
করতে হয়নি। অনুমান করি, এখন হয়তো কখনো
কখনো সে কলম আমাকে হাতে নিতে হতে পারে।’
বারাক ওবামা, প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যে ১১৪তম কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে আইন পরিষদের উভয় কক্ষই থাকবে রিপাবলিকান পার্টির দখলে। নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদে মোট ৪৩৫ আসনের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির মোট সদস্যসংখ্যা হবে ২৩৪; প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের থাকবে ২০১। অন্যদিকে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের দখলে ৫৪, ডেমোক্র্যাটদের ৪৪। যে দুজন সিনেটর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোট বাঁধলেও কংগ্রেসের এই উচ্চ কক্ষ রিপাবলিকানদেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ছয় বছর আগে বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, সে সময়েই রিপাবলিকান নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল, ওবামা যাতে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত না হতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্য তাঁরা অর্জন করতে পারেননি বটে, কিন্তু গত ছয় বছর তাঁরা কাটিয়েছেন প্রতি পদে ওবামার রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রতিহত করতে। আগামী দুই বছর অর্থাৎ ওবামার শেষ দুই বছর এ নিয়মের ব্যতিক্রম হবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নির্বাহী প্রধানের সঙ্গে আইনসভার এ অহিনকুল সম্পর্ক এড়িয়ে ওবামার পক্ষে তাঁর রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ কি আদৌ সম্ভব? ওবামা বলেছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নির্মাণে তিনি আগ্রহী, কিন্তু রিপাবলিকানরা যদি তাঁদের বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন, তাহলে তিনি একদিকে নিজের ‘ভেটো কলম’ ব্যবহারে দ্বিধা করবেন না, অন্যদিকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিজের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যাবেন। গত সপ্তাহে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ওবামা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন এভাবে: ‘গত ছয় বছরে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, আমি তা রক্ষা করে যাব। স্বাস্থ্যবিমা, পরিবেশ, শুদ্ধ বাতাস ও শুদ্ধ পানি রক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছে, আমি তা রক্ষা করব। গত ছয় বছরে আমাকে নিজের “ভেটো কলম” ব্যবহার করতে হয়নি। অনুমান করি, এখন হয়তো কখনো কখনো সে কলম আমাকে হাতে নিতে হতে পারে।’ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ওবামাকে রিপাবলিকান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধতা হজম করতে হয়েছে। প্রথম দুই বছর তিনি চেষ্টা করেছিলেন ছাড় দিয়ে দিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে একটি সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্ক নির্মাণে। সে চেষ্টায় তিনি সফল হননি। তৃণমূল পর্যায়ে শ্বেতাঙ্গনির্ভর রিপাবলিকান পার্টি ওবামাকে মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী একজন রাজনীতিক হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করে। সে চেষ্টায় তারা বহুলাংশে সফলও হয়। এই দেশের শ্বেতকায়দের দুই-তৃতীয়াংশ এখনো ওবামাকে সন্দেহপূর্ণ চোখে দেখে।
২০১৪ সালের শেষ তিন মাসে ওবামা তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে রিপাবলিকান বিরোধিতা সত্ত্বেও জলবায়ু-সংকট, বহিরাগমন ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করেন। ১১৪তম কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এর প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। সম্ভবত প্রথম যে খসড়া আইনটি তাঁরা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠাবেন, তা হলো কিস্টোন পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে কানাডা থেকে বিতর্কিত ফ্র্যাকিং পদ্ধতিতে আহরিত তেল সরবরাহের কথা। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই যুক্তিতে ওবামা প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই পাইপলাইন নির্মাণ আটকে রেখেছে। ওবামার স্বাস্থ্যবিমা আইন বাতিলের একাধিক চেষ্টা রিপাবলিকানরা করেছে, হয়তো আবারও করবে। সে ক্ষেত্রে ওবামার ভেটো প্রয়োগ নিশ্চিত। তবে নতুন কংগ্রেস বরাদ্দ বাতিল, কাটছাঁট বা বিলম্বিত করে চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। ওবামা অভিবাসন প্রশ্নে সম্প্রতি যে নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও রিপাবলিকানদের ক্ষিপ্ত করেছে। একাধিক রিপাবলিকান সিনেটর ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা ওবামার নির্বাহী আদেশ যাতে কার্যকর না হয়, তার জন্য সম্ভব সবকিছুই করবেন। নিদেনপক্ষে তাঁরা এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ আটকে দিতে পারেন। অর্থনীতির কোন কোন ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকানদের অবস্থান অভিন্ন। যেমন চলতি কর আইন সংস্কার। দুটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারেও তাঁদের সম্মতি রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে মতের মিল আছে এমন ক্ষেত্র খুবই কম। ওবামা বলেছেন, যেসব ক্ষেত্রে সম্মতি অর্জিত হবে না, বিশেষত নীতিগত প্রশ্নে, তাতে তিনি ছাড় দিতে প্রস্তুত নন। যেমন, স্বাস্থ্যবিমা আইন রদের যেকোনো চেষ্টায় তিনি ভেটো দেবেন। তিনি অবশ্য এ কথাও বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও সিনেটের নতুন প্রধান—উভয়েই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সমস্যা হলো, নতুন বছর শুরু না-হতেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রার্থীরা ওবামার প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখানো রাজনৈতিকভাবে লাভজনক বিবেচনা করবেন না। এই পরিস্থিতিতে আগামী দুই বছর যদি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্টের ঠোকাঠুকি অব্যাহত থাকে, তাতে কোনো পক্ষই বিস্মিত হবে না।

নাচ–গান আতশবাজিতে বর্ণিল বর্ষবরণ

আকাশে চলছে চোখধাঁধানো আতশবাজির খেলা। তা উপভোগ
করতে জড়ো হয়েছেন উৎসাহীরা। রাশিয়ার মস্কোর রেড
স্কয়ারে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদ্‌যাপনের দৃশ্য। ছবি: এএফপি
বিশ্বজুড়ে নাচ, গান, বর্ণিল আতশবাজির খেলাসহ নানা আয়োজনে স্বাগত জানানো হলো খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে। তবে চীনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বিষাদে পরিণত হয়েছে। সাংহাইয়ের চেনি স্কয়ারে বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দিতে গিয়ে ভিড়ে চাপা পড়ে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির। সাংহাইয়ের চেনি স্কয়ারে ২০১৪ সালকে বিদায় ও হুয়াংপু নদীর তীরে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার মাধ্যমে ২০১৫ সালকে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, একটি নৈশক্লাবের বারান্দা থেকে জাল টাকা ছড়ানো হচ্ছিল। তা কুড়িয়ে নিতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। এঁদের মধ্যে ২৫ জনই নারী আছেন। এদিকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার, মস্কোর সেন্ট বাস্তিল ক্যাথেড্রাল, বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজিত বর্ষবরণের আয়োজন বরাবরের মতোই আলাদাভাবে নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। এ ছাড়া লন্ডন, এডিনবরা, প্যারিস, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, হংকং, রিও ডি জেনিরোসহ বিশ্বের বিভিন্ন নগরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে ২০১৫ সালকে।

আইসিসির সদস্য হতে উদ্যোগ

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সংক্রান্ত রোম সংবিধিসহ ২০টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছেন। ইসরায়েলি দখলদারি অবসানে ফিলিস্তিনের প্রস্তাবটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটিতে নাকচ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ পদক্ষেপ নিলেন। ফিলিস্তিনিদের এ উদ্যোগের ফলে যুদ্ধাপরাধসহ নানা অন্যায়ের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিসিতে অভিযোগ আনার পথ প্রশস্ত হলো। জাতিসংঘে তোলা প্রস্তাবটি নাকচ হলে ফিলিস্তিন এ পথে হাঁটবে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার। মাহমুদ আব্বাস বুধবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় এক বৈঠকে চুক্তিগুলোতে সই করেন। আইসিসিতে ফিলিস্তিনের যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটাকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাক্ষরের পর প্রেসিডেন্ট আব্বাস ফিলিস্তিনি নেতাদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দেন, তা ফিলিস্তিনের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়। এতে আব্বাস বলেন, ‘তারা (ইসরায়েলিরা) আমাদের ওপর আক্রমণ করছে। প্রতিদিনই আমাদের জমির ওপর আঘাত আসছে। আমরা কার কাছে অভিযোগ করব? নিরাপত্তা পরিষদও আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব?’ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষক মিশন প্রাথমিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা বুধবারই স্বাক্ষরিত নথিগুলো জাতিসংঘে জমা দেবে। তবে পরে তারা জানায়, নথিগুলো আজ শুক্রবার জমা দেওয়া হতে পারে।
রোম সংবিধি অনুসারে সই করা নথি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে জমা দেওয়ার পর তিনি আবেদনটি বিবেচনা করবেন। মহাসচিব অনুমোদন দিলে ফিলিস্তিন ৬০ দিনের অপেক্ষার পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর যে মাস আসবে, সেই মাসের প্রথম দিন থেকেই তারা আইসিসির একটি পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফিলিস্তিন সদস্যপদ পাবেই এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্রক্রিয়ায় তারা আইসিসির সদস্যপদ পেতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন আইনবিশারদেরা। জাতিসংঘে নাকচ হওয়া ফিলিস্তিনি প্রস্তাবটিতে এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি করা এবং ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়েছিল। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে সেটি মঙ্গলবার নাকচ হয়ে যায়। এর পরপরই ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্যপদ পাওয়ার উদ্যোগ নিল। মাহমুদ আব্বাস অন্য যে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে সই করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র সংঘাতের ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত জেনেভা চুক্তি, আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধ-সংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তি, কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চুক্তি ইত্যাদি। আব্বাসের এ পদক্ষেপের পরপরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষা’র জন্য তিনি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। পাশাপাশি ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় ইসরায়েলে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেলআবিব। যুক্তরাষ্ট্রও আব্বাসের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের এ উদ্যোগ পুরোপুরিই উল্টো ফল বয়ে আনবে। এটা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পক্ষে কোনো সুফল দেবে না।

সাগরেই জরুরি অবতরণ করেছিলেন পাইলট?

খারাপ আবহাওয়ার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবারও এয়ারএশিয়ার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ এগোয়নি। তবে উদ্ধারকারীরা এক সপ্তাহের মধ্যে উড়োজাহাজটির ব্ল্যাক বক্স (যাতে ফ্লাইটের তথ্য থাকে) পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, হয়তো উড়োজাহাজটিকে অক্ষত অবস্থায়ই সাগরে অবতরণ করাতে পেরেছিলেন। খবর বিবিসি ও এএফপির। ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সিয়াহালা আলমশিয়াহ বলেন, খারাপ আবহাওয়ার জন্য গত বুধবার রাতে ৫০ জনের একটি ডুবুরি দল কাজ করতে পারেনি। গতকাল সকালে সাগর শান্ত এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে আশা জাগে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই আবহাওয়া আবারও খারাপ হয়ে যায়। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে দুজন চালক, পাঁচজন ক্রু সদস্য এবং শিশুসহ ১৫৫ জন যাত্রী ছিল। এ পর্যন্ত মাত্র সাতটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এয়ারবাস এ ৩২০-২১৬ উড়োজাহাজটি ওড়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঝড়ের মধ্যে জাভা সাগরের আকাশে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ভেঙে পড়লে বা পানিতে ডুবে গেলে সাধারণত যে সংকেত দেওয়ার কথা তা পাঠায়নি। এএফপিকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন,
এর অর্থ হচ্ছে বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট অভিজ্ঞ চালক ইরিইয়ান্তো সাগরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এতে করে উড়োজাহাজটিকে প্রচণ্ড আঘাত সইতে হয়নি। এ কারণে ইমার্জেন্সি লোকেটর ট্র্যান্সমিটার (ইএলটি) নামে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রটি কোন সংকেতও পাঠায়নি। তদন্তকারীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়া এড়াতে উড়োজাহাজটি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ওপরে উঠে যায়। এ কারণেই তা নিচে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। বিমানের মূল অংশটি খুঁজতে ডুবুরি দল সম্ভাব্য দুর্ঘটনার স্থানে সাগরতলে নামার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। গত মঙ্গলবার একটি উড়োজাহাজ সেখানে সাগরতলে একটি ‘ছায়া’ দেখতে পায়। ওই ছায়া এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১-এর ধ্বংসাবশেষের বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, উড়োজাহাজটির ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করতে এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। কম দামি টিকিটের শীর্ষ আঞ্চলিক বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১ গত রোববার ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়।

সরকারের মানসিক ও কানের চিকিৎসা দরকার -ড. কামাল হোসেন

গণফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে যে, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে কোন শাসকগোষ্ঠী জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারেনি। সময়ের ব্যবধানে নিপীড়িত জনতার পিট যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে তখন তারা ওই অত্যাচারী শাসকদের লজ্জাজনকভাবে বিদায় দিয়ে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে। বর্তমান সরকার যেসব কর্মকাণ্ড করছে মনে হচ্ছে তাদের মানসিক ও কানের চিকিৎসা করাতে হবে। এদের মানবতাবোধ হারিয়ে গেছে।  গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদ আয়োজিত ‘৪৩তম বিজয় দিবস এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, ৫ই জানুয়ারির একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার মনে করে, যে  কোন মূল্যেই হোক ক্ষমতায় থাকতে হবে। নইলে শেয়ার বাজার লুটপাট করা যাবে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা ডাকাতি করা যাবে না। সন্ত্রাস  ও নৈরাজ্য করে দখলদারিত্ব ও মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তবে সরকারকে এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে যে, একদিন তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। এটাই নিয়ম। যদি ভেবে থাকে যে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে তবে তারা পাগলের স্বর্গে বাসবাস করছে। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার হচ্ছে বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা। সরকারকে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা শুনতে হবে। কিন্তু, তারা কথা শোনার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে। জনগণের সবার কথা শুনতে হবে। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে শাহজাহানপুরে একটি পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের করুণ মৃত্যুর পর তার বাবাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে মানসিক নির্যাতন করলো। রাষ্ট্র কতো নিষ্ঠুর হলে এ কাজ করে। এ বিষয়ে আদালতে মানবাধিকার অবমাননার একটি আবেদন করা হবে। আমি ওই অবমাননার শুনানিতে অংশ নেব। শুধু এটা না আরও যত অবমাননার শুনানি  হবে আমি সবগুলোতে যাবো। যারা এই অবমাননাকারীদের আশ্রয় দিয়েছে তাদেরও বিচারের জন্য আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার মালিক জনগণ। মালিক এমনিতেই  হয়নি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই মালিকানা পেয়েছে। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের কাজ। রাষ্ট্র যদি এখানে ব্যর্থ হয় তাহলে ’৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে। ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন দাঁড়াতে হবে। রাষ্ট্রের মালিকানা রক্ষার জন্য তিনি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাষ্ট্র আজ অমানবিক হয়ে গেছে। একজন পিতা তার ছেলে হারিয়ে যখন পাগলপ্রায় তখন তাকে ধরে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার গায়ে প্রহারের দাগ দেখিয়েছে। মানসিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছে। কত বড় অমানবিক হলে এটা সম্ভব! তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র তার সমস্ত মেধা খাটিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। সেখানে গিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন যে, এখানে টিকটিকি এবং পলিথিন ছাড়া কিছুই নেই। পরে কিছু উদ্যমী যুবক তাদের মেধা খাটিয়ে ওই পাইপ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করলো। মান্না বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় জিহাদের বাবা যখন থানায় মামলা করতে গিয়েছেন তখন কার কার নামে মামলা হয়েছে তা তিনি জানেন না। পুলিশ তাদের ইচ্ছামতো মামলার এজাহারে আসামিদের নাম দিয়েছে। এই রাষ্ট্রের কাছে কি আশা করা যায়? রাষ্ট্রতো মানবিকতা হারিয়ে ফেলেছে। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে গিয়ে নিরাপত্তা চাইতে জনগণ শঙ্কা প্রকাশ করছে। বিপদকে নিজের মধ্যে চেপে রাখার চেষ্টা করছে। যাদের কাছে নিরাপত্তা চাইতে যাবে তাদের দিয়েইতো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাই কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি নুরুল হুদা মিলু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের উপদেষ্টা কাজী সিরাজ, বিএইচ আরএমসির পরিচালক মেজর (অব.) সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মনিরুজ্জামান মনির  প্রমুখ।

৫ই জানুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা- ঢাকার ১৬ স্পটে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ, যে কোন মূল্যে সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

৫ই জানুয়ারি। আলোচিত নির্বাচনের এক বছর। এ নির্বাচন ঘিরে গত বছরের এই দিনে দেশজুড়ে ছিল সংঘাতময় পরিস্থিতি। নির্বাচনের পর ঠিক এই দিনটি ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে ফের উত্তেজনা। সংঘাত, সংঘর্ষের শঙ্কা। পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবির মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করতে এদিন সারা দেশে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে এ দিনে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট। ইতিমধ্যে ৫ই জানুয়ারি যে কোন মূল্যে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের নেতারা। যদিও এ দিনে সরকারের তরফে বিরোধী জোটকে রাজধানীতে সমাবেশ করতে দেয়া হবে কিনা এ নিয়ে স্পষ্ট কোন ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। গতকাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বিরোধী জোটের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিশ্চয়তা পেলেই কেবল তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হতে পারে। তিনি এও বলেছেন, নাশকতার আশঙ্কা হলে অনুমতি দেয়া হবে না সমাবেশের। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এ দিন বিএনপি’র কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৫ই জানুয়ারি নিজ নিজ কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগরের নেতা এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে যৌথ সভা করেছে আওয়ামী লীগ। বৈঠক সূত্র জানায়, ৫ই জানুয়ারি বিরোধী জোটের কর্মসূচি ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুপুরে দেশজুড়ে হবে বিজয় র‌্যালি। বিকালে নগরীর ১৬টি স্পটে হবে জনসভা। বৈঠক সূত্র জানায়, ৫ই জানুয়ারি ঢাকার রাজপথ দখলে রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দলের তরফে। এদিকে বিএনপি ও ২০ দলের পক্ষ থেকে জোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে ৫ই জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করার। সমাবেশের অনুমতি না দিলে বা বাধা দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে এ জোটের।
১৬ স্পটে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ
৫ই জানুয়ারিকে ঘিরে বিএনপি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, হুমকি-ধমকি দিলেও ৫ই জানুয়ারি বিএনপি’র ‘কাগুজে বাঘদের’ খুঁজে পাওয়া যাবে না। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আগামী ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও ঢাকার সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। বিএনপি’র ‘যে কোন মূল্যে’ সমাবেশ করার ঘোষণার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, বিএনপি’র উস্কানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। জনসভা করার সিদ্ধান্ত দেবে কি দেবে না সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়। ৫ই জানুয়ারি কোন সংঘাতের আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারি আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো। এদিন অনেক কিছু করে ফেলবে বলে যারা (বিএনপি) হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন ওইদিন সেই কাগুজে বাঘদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। বিএনপি নেতারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মানে কি? দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি নেতারা যখন যা খুশি বক্তব্য দিচ্ছেন। আর গাজীপুরে জনসভায় আওয়ামী লীগ কোন বাধা দেয়নি। ছাত্রলীগ তারেক রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিল। তারেক রহমান তার বক্তব্যের জন্য যদি ক্ষমা না চান তাহলে ভবিষ্যতে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের জনগণ কোথাও সমাবেশ করতে দেবে কি-না তা ভাবনার বিষয়। সংবাদ সম্মেলনে হানিফ জানান, ৫ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ সারা দেশে দুপুর আড়াইটা থেকে বিজয় র‌্যালি করবে। বিকালে ঢাকার ১৬টি স্পটে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করবে। এতে কেন্দ্রীয় নেতারা পৃথক পৃথকভাবে সমাবেশে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানেও জনসভা  অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১০ই জানুয়ারি একই স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন- আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে যৌথসভায় অংশ নেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, এডভোকেট আবদুল মান্নান,  দলের খাদ্য ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় সদস্য এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। 
সমাবেশ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপি: এদিকে ৫ই জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যায়িত করে ওইদিন রাজধানীতে সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বিএনপি। রাজধানীর তিনটি স্পটকে সম্ভাব্য ভেন্যু উল্লেখ করে ২২শে ডিসেম্বর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ডিএমপি’র কাছে লিখিত আবেদন করে দলটি। সাড়া না পেয়ে বৃহস্পতিবার বিএনপি’র একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কার্যালয়ে গেলেও ইতিবাচক কোন ফল আসেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে, সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। তবে সরকার অনুমতি না দিলেও ওইদিন সমাবেশ করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃহস্পতিবার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের পর গতকাল স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সে ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ৫ই জানুয়ারি হবে শেষ খেলা। সেদিন থেকেই শুরু হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নতুন অভিযাত্রা। এদিকে ৫ই জানুয়ারি সমাবেশের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, ২০দলীয় জোটের শরিক দল ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির অঙ্গন। তৈরি হয়েছে যে কোন মুহূর্তে সংঘাতের আশঙ্কা। তবে সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে এমন অঙ্গীকার করে দলটি সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল দলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, শান্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেইসঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ই জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি করবোই। আমাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। 
‘৫ই জানুয়ারি আমরা কর্মসুচি করবোই’: ওদিকে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে যে কোন মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দৃঢ়তার সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ই জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি পালন করবোই। আমাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। শান্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে রিজভী বলেন, আমরা বার বার অঙ্গীকার করছি, ৫ই জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের জনসভা হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আমরা এই জনসভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, অতীতেও আমরা আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি। আমাদের এবারের কর্মসূচিও হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আমরা এ সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। সরকার সমাবেশের অনুমতি না দিলে বিএনপি কি পদক্ষেপ নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, অনুমতি না দিলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি দিতেই হবে। এজন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে। সমাবেশ করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ডিএমপি’র কাছে আবেদন করেছে বিএনপি। গণপূর্ত বলেছে, পুলিশ মাইক ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা দিলে তারা সমাবেশের জন্য মাঠ দেবে। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে এখনও কোন অনুমতি বা আশ্বাস পাওয়া যায়নি। রিজভী বলেন, তাদের কি মতিগতি জানি না। শাসকদল কি যুদ্ধ ঘোষণা করতে চান? বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বক্তব্যের নিন্দা জানান রিজভী। তিনি এরশাদকে গুজবের ‘মহানায়ক’ ও ‘অন্যতম জঘন্য রাজাকার’ আখ্যা দেন। রিজভী দাবি করেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন, তাঁদের বিচারের চেয়ারম্যান ছিলেন এরশাদ। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম ও আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
যেসব স্পটে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ: মিরপুর পূরবী সিনেমা হলের সামনে জনসভায় উপস্থিত থাকবেন ড. আবদুর রাজ্জাক, এস এম কামাল হোসেন, ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ। শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেট এলাকায় সমাবেশে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, এনামুল হক শামীম, সানজিদা খানম অংশ নেবেন। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মাঠে সমাবেশে থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতা মতিয়া চৌধুরী, নূরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবুর রহমান মোল্লা। বাড্ডা-রামপুরা পেট্রল পাম্প এলাকায় থাকবেন ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, এ কে এম রহমত উল্লাহ, ধানমণ্ডি ৩২নং রোড এলাকায় সমাবেশ করবেন মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। মিরপুর-১ (গোলচত্বর) এলাকায় সমাবেশে অংশ নেবেন আমির হোসেন আমু, আখতারুজ্জামান, আসলামুল হক। লালবাগ এলাকায় সমাবেশ করবেন তোফায়েল আহমেদ, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মৃণাল কান্তি দাস। গুলশান এলাকায় শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আমিনুল ইসলাম আমিন। সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থান করবেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সুজিত রায় নন্দী। তেজগাঁও  এলাকায় অবস্থান করবেন কাজী জাফর উল্লাহ, ড. হাছান মাহমুদ, আবদুস ছাত্তার, সবুজবাগ-খিলগাঁও এলাকায় সমাবেশ করবেন নূহ-উল-আলম লেনিন, আবদুর রহমান, আবদুল মান্নান খান। উত্তরা এলাকায় সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন সাহারা খাতুন, কর্নেল (অব.) ফারুক খান। কামরাঙ্গীর চর এলাকায় অবস্থান করবেন সতীশ চন্দ্র রায়, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, কামরুল ইসলাম। মোহাম্মদপুর এলাকায় সমাবেশ করবেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফরিদুন্নাহার লাইলী, মির্জা আজম। কাফরুল এলাকায় সমাবেশে অংশ নেবেন ডা. দিপু মনি, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বি.এম মোজাম্মেল হক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে ওবায়দুল কাদের, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অসীম কুমার উকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।
‘নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বিএনপিকে অনুমতি নয়’
পরিস্থিতি বুঝে বিএনপির ৫ই জানুয়ারির সমাবেশের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলেছেন, নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৮ম হজ ও ওমরাহ মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এখন পর্যন্ত নাশকতার কোন তথ্য নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৫ই জানুয়ারি আসতে এখনও দুই-তিন দিন বাকি। বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যদি কোন ধরনের নাশকতার আশঙ্কা থাকে তাহলে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। তবে যদি নাশকতার বিষয়টি না থাকে এবং শা?ন্তিপূর্ণ সমাবেশের বিষয় হয় তাহলে আমরা ব্যাপারটি ভেবে দেখবো। বিএনপির সমাবেশ আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাপলা চত্বর বা নয়া পল্টন এই তিন জায়গার যে কোন একটিতে ৫ই জানুয়ারি সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ২২শে ডিসেম্বর আবেদন করেছিল বিএনপি। তবে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করা হবে -ড. আবদুল মঈন খান

৫ই জানুয়ারি অনুমতি না পেলেও বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। বলেছেন, আমরা ৫ই জানুয়ারি ঢাকায় গণগন্ত্র হত্যা দিবসের সমাবেশ করবো। অনুমতি দেবে কি দেবে না, তা সরকারের বিষয়। আমাদের যা করণীয়, তা আমরা করবো। ছাত্রদলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই ঘোষণা দেন দলটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। ড. মঈন খান বলেন, গত বছর ৫ই জানুয়ারি একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এ দিনটিকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করতে চাই। এরই মধ্যে ঢাকায় জনসভা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছি। এখনও অনুমতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত যদি অনুমতি না মেলে, তার পরও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ওই দিন রাজপথে থাকবে। সব ধরনের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণের দাবি আদায়ে সচেষ্ট হবে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রস্তাবিত সাত দফা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মঈন খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারকে সংলাপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করলো, না গ্রহণ করলো, তা দিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে না। বিএনপি রাজনীতি করে আদর্শের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা। এ প্রস্তাব গ্রহণ না করলে আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের দাবি আদায় করা হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অতীতের মতো এবারও ছাত্রদল মাঠে থাকবে- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজপথে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কোন বাধাবিপত্তি তাদের দমাতে পারবে না। এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সক্রিয় তিন সিন্ডিকেট by নুর মোহাম্মদ

১লা জানুয়ারি ঢাকঢোল পিটিয়ে সারা দেশে স্কুলে স্কুলে বই উৎসব উৎযাপন করে সরকার। অথচ এর এক দিন পরই কালোবাজারে উচ্চমূল্যে বিত্রিু হচ্ছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই। রাজধানী বাংলাবাজার, নীলক্ষেত, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকার লাইব্রেরি ঘুরে বই বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে। আর এর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে তিন সিন্ডিকেট। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও স্কুলের কিছু অসাধু শিক্ষক মিলে চলছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির ব্যবসা। তবে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোসতাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, কালোবাজারে বই বিক্রি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আমাদের একটি ভিজিটিং টিম তৎপর রয়েছে। যারাই এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালোবাজারে প্রতিটি বই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে চড়া দামে বই কিনছেন ইংলিশ ভার্সন, কিন্ডারগার্টেন ও বাংলা স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কিছু অভিভাবক। এই শ্রেণীর প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে বিনামূল্যে বই পায় না। অথচ সরকারি কারিকুলামে তারা পাঠদান করে। শিক্ষার্থীরাও পেয়ে যায় সরকারি টাকায় ছাপা বই। এর পুরোটাই যায় কালোবাজার থেকে। ওই সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা কালোবাজার থেকে বই কিনেন। কিন্ডারগার্টেনসহ কিছু প্রতিষ্ঠান ভর্তি মওসুমে সিলেবাসের পুরো বই ফ্রি দেয়া হয় এ রকম বিজ্ঞাপনও দিয়ে থাকে। যদিও বিনামূল্যের বই তারা চড়া মূল্যে বিতরণ করে শিক্ষার্থীর কাছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ঘেষা লাইব্রেরিতে এখন মিলছে সরকারি বই। বৃহস্পতিবার সরজমিন রাজধানী আইডিয়াল স্কুলের পাশে ফেনী লাইব্রেরিতে এসব বই বিত্রিু হতে দেখা গেছে। র‌্যাব বলছে, ত্রেুতা সেজে মোহাম্মদপুরে ইসলামিয়া লাইব্রেরীতে বই চাইলে দোকানের বিক্রেতা প্রতিটি বই ১২০ টাকা ধরে দাম চান। এর আগে তিনি নানা ধরনের প্রশ্ন করেন আমাদের। আমরা কি আসলে ক্রেতা নাকি গোয়েন্দা সংস্থার লোক তা নিশ্চিত হয়েই তিনি বই বিক্রি করতে রাজি হন এবং দাম চান। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিবছর বাফার স্টক বা আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ৫ শতাংশ বই অতিরিক্ত ছাপা হয়েছে। এবার ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭,৬৭৪ কপি চাপাচ্ছে সরকার। সে অনুয়ায়ী এবার প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ বেশি চাপানো হচ্ছে। আর এসব বই প্রয়োজন অনুয়ায়ী জেলা ও উপজেলায় স্টকে রাখা হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে চাহিদার চেয়ে বেশি বই প্রয়োজন হয় তখন বাফার স্টক থেকে দেয়া হয়। এছাড়া নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিশেষকালীন চাহিদা মেটানো হয় সেখান থেকে। এই বাফার স্টক থেকে বেশি বই কালো বাজারে যায় বলে সূত্র জানিয়েছে। এনসিটিবি সূত্র বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর নূর জাহান রোডে কয়েকটি লাইব্রেরিতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিত্রিু করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযোন চালানো হয়। র‌্যাব-২ এর একটি টিম নিয়ে মঙ্গলবার এই অভিযান পরিচালনা করেন এনসিটিবি গবেষণা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। দলটি সেখানে থেকে সাড়ে ৫ হাজার সরকারি বইসহ ইসলামিয়া লাইব্রেরির ম্যানেজার নজরুল ইসলামসহ ১০ জনকে আটক করে। এ সময় পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও লাইব্রেরি থেকে বিক্রি নিষিদ্ধ এরকম আরও ২,৭৭১টি গাইড ও নোট বই জব্দ করে। এদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি জানান, বিনা মূল্যের এসব বই খোলাবাজারে বিত্রিু নিষিদ্ধ। তারপরও এসব বই কিভাবে সেখানে গেল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের শুভ উদ্যোগকে ম্লান করতেই কালোবাজারি চক্রটি এসব বই খোলাবাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধার করা বইয়ের মধ্যে কিছু লাইব্রেরিতে রাখা হলেও বেশির ভাগই ওই গুদামে লুকিয়ে রাখা ছিল। র‌্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার মারুফ হাসান লাইব্রেরির ম্যানেজারের বরাত দিয়ে জানান, বাংলাবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ও ছাপাখানা থেকে এসব বই কেনা হয়। পরে তারা উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য তা দোকানে ও গুদামে রাখেন। র‌্যাবের কর্মকর্তা জানান, বাংলাবাজারে বিনামূল্যে বিতরণের বই কালোবাজারে ছাড়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এনসিটিবি, প্রেস এবং লাইব্রেরিয়ান এই তিনটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব বই কালোবাজারি হয়। প্রেস মালিকরা টেন্ডারের প্রাপ্ত বই চেয়ে বেশি বই চাপিয়ে এগুলো খোলাবাজারের বিত্রিু করে। কত প্লেট বই চাপানো হয়, এর খতিয়ান এনসিটিবি জমা দেয়া কথা থাকলেও বেশিভাগ প্রেস মালিকরা তা দেন না। আর তাদের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের জোগান দেন এনসিটিবির বিতরণ শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এই বইগুলো চাহিদা দেয়া লাইব্রেরিতে পৌঁছে দেন প্রেস মালিকরাই।