Monday, August 1, 2016

ট্রাম্প-হিলারির আসল লড়াই শুরু

দুই সপ্তাহ ধরে বক্তৃতা, গান আর বেলুনের উৎসবে দুই দলের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে মূল পর্বের লড়াই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। আগামী ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন হোয়াইট হাউসের অধিপতি। গত পাঁচ মাসে দলীয় সদস্যদের মধ্যে প্রাইমারি নির্বাচনের প্রচারণা এবার গড়াচ্ছে আম জনতার ভোটারের কাছে। দলীয় সম্মেলন শেষে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকানের ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। শুরু হয়েছে বাগযুদ্ধ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হবে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক। শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিভেদমূলক প্রচারণা চলছে এবারের নির্বাচনে। বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেট সম্মেলনের শেষ দিনে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। ফিলাডেলফিয়ার ওই সম্মেলন শেষে শুক্রবারই সেখানে প্রচারণায় নামেন তিনি। পেনসিলভানিয়া ও ওহাইও রাজ্যের উদ্দেশে নির্বাচনী বাসযাত্রা শুরু করেছেন তিনি।
ফিলাডেলফিয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে এক ভাষণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন হিলারি। ৬৮ বছর বয়সী হিলারি বলেন, আমার জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কথা চিন্তা করিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। আমাদের দেশকে তিনি একটি নেতিবাচক, বিভেদমূলক ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পথের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চান। আমি শুধু আপনাদের বলতে চাই, আমরা উন্নত হয়েছি, আরও এগিয়ে যেতে কাজ করতে চাই।’ অন্যদিকে, কলারোডায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইনশৃংখলা রক্ষার প্রতীক’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবৈধ অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার পক্ষে প্রচারণা চালান। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে শ্বেতাঙ্গ কর্মজীবী শ্রেণী বেশ আহ্লাদিত বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তিনি আবারও ঘোষণা করেন, আমরা কখনোই সিরীয় শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেব না।
এর আগে এবিসি নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারি জানেন না, কীভাবে জয়লাভ করতে হয়।’ পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল প্রার্থী জোশ শাপ্রিও বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক দল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন। এটা তাদের জয়ের জন্য ইতিবাচক।’ রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনি বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রচারণা মূলধারায় নেই।’ অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক দলকে আক্রমণ করে ট্রাম্পের প্রচারণা কমিটির চেয়ারম্যান পল মানাফর্ট বলেন, ‘আমেরিকা যদি এখন আঁধারে পড়ে থাকে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী ডেমোক্রেট দলের গত সাত বছরের শাসন।’ এদিকে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হবে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক। এরপর ৪ অক্টোবর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিতর্ক। ৯ অক্টোবর ও ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের নীতি ও কর্মসূচি স্পষ্ট করবেন।

গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিমসহ পাঁচ জঙ্গি ভারতে

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর র‌্যাবের করা নিখোঁজ তালিকার অন্তত পাঁচজন সন্দেহভাজন জঙ্গি ভারতে আত্মগোপন করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটিকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম আহমেদ চৌধুরীও রয়েছে। নয়াদিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। বৈঠকে এই বিষয়ক আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল বলেও পত্রিকাটি জানায়।
পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গির মধ্যে তামিম চৌধুরী ছাড়া অন্য চারজন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইফুল্লাহ ওজাকি, লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারী ও কুমিল্লার জুন্নুন শিকদার। এসব জঙ্গি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে- এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা ভারতকে অবহিত করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওই সফরে ছিলেন পুলিশের এমন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পাঁচজন নয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাতজন পলাতক জঙ্গির বিষয়ে ভারতকে তথ্য দেয়া হয়।
নয়াদিল্লি সফর শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার দেশে ফিরেছেন। বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দেশের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ঘুরেফিরে পুরনো অনেক ইস্যু এসেছে। সীমান্ত হত্যা, ফেনসিডিলসহ মাদক চোরাচালান বন্ধ ও জঙ্গি নির্মূলে দুই দেশ একযোগে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পাঁচ জঙ্গির বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও দেশটিতে গ্রেফতার সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নুরুল হক মণ্ডল ওরফে নাইমকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পক্ষ থেকে জঙ্গিদের ওই তালিকাটি ভারতের গোয়েন্দাদের দেয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচজনই জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এ জঙ্গিরা কি বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে না কি অন্য দেশ হয়ে ভারতে গেছে, তা স্পষ্ট নয় টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।
পাঁচ জঙ্গির মধ্যে সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী একজন কানাডিয়ান বাংলাদেশী যাকে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তামিম চৌধুরী আবু ইব্রাহিম আল হানিফ চৌধুরী নামেও পরিচিত। গোয়েন্দারা তাকে জেএমবি নেতা বলে দাবি করলেও আইএসের ম্যাগাজিন ‘দাবিক’-এর বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসে, তামিম আইএসের বাংলাদেশ শাখার প্রধান। কানাডার উইন্ডসরের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী তামিম ২০১৩ সালে দেশটি থেকে নিখোঁজ হয় বলে বলা হচ্ছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের প্রয়াত আবদুল মজিদ চৌধুরীর ছেলে শফি আহমদ চৌধুরীর ছেলে তামিম। মজিদ চৌধুরী একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। তামিমের বাবা শফি আহমদ জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি ওরফে সুজিত দেবনাথ জাপানি বাংলাদেশী। ২০০২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যায় সাইফুল্লাহ ওজাকি। সেখানেই সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ২০১১ সালে পিএইচডি শেষ করে কিয়োটোর রিৎসুমিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ইন্টারন্যাশনালে শিক্ষকতা শুরু করে। তার স্ত্রী একজন জাপানি নাগরিক। ২০১৫ সালে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায় সাইফুল্লাহ। এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছে না। রিৎসুমিকান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, গত জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়াই সে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল। এ কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বাবা কাপড় ব্যবসায়ী জনার্দন দেবনাথ সাইফুল্লাহর নিখোঁজের বিষয়ে নবীনগর থানায় একটি জিডি করেন।
আরেক সন্দেহভাজন লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনারত অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া থেকে নিখোঁজ হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশ স্টেশনে তাকেও নিখোঁজ দেখিয়ে জিডি করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা নাজিবুল্লাহ আনসারী মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করতে মালয়েশিয়া গিয়েছিল। গত বছর আইএসে যোগ দিতে ইরাকে যাওয়ার কথা জানিয়ে ভাইকে চিঠি লেখার পর চট্টগ্রাম পুলিশ স্টেশনে তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে জিডি দায়ের করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। জুনুন শিকদারের বাড়ি কুমিল্লায়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ২০০৯ সালে জুনুন গ্রেফতার হয়। পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০১৩ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হয় সে। পরে জামিন নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যায় জুনুন।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণ-যুবকদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর আইনশৃংখলা বাহিনী নিখোঁজ ১০ জনের যে প্রথম তালিকা দিয়েছিল, তাতে এই পাঁচজনের নাম ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে আরও বলা হয়, সম্প্রতি নিখোঁজ বাংলাদেশীদের সংশোধিত ৬৮ জনের একটি তালিকা তৈরি করে র‌্যাব, যাদের সবার বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এদের অন্তত পাঁচজন গুলশান হামলার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। পত্রিকাটির খবরে আরও বলা হয়, দুই মাস আগে আসাম পুলিশ রাজ্যের চিরাং জেলায় একটি জেএমবি ঘাঁটির সন্ধান পায়, যেখানে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। দুই বাংলাদেশী জঙ্গিকে তুরস্কে যেতে সহায়তা করেছিল সাইফুল্লাহ ওজাকি : সন্দেহভাজন জঙ্গি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাপানের নাগরিক সাইফুল্লাহ ওজাকি বাংলাদেশ থেকে দুই জঙ্গিকে তুরস্কে যেতে সহায়তা করেছিল বলে সন্দেহ করছে জাপানের পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জাপানের সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস জানায়, ওজাকি তাদের জাপান হয়ে তুরস্কে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। এর আগে এক প্রতিবেদনে অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে সাইফুল্লাহ ওজাকির তুরস্কে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার কথা জানিয়েছিল দেশটি। জাপান টাইমসের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর দুই জঙ্গি সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে যোগ দিতে জাপানকে স্টপিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা করছে জাপানের পুলিশ। বাংলাদেশ থেকে জাপান, এরপর তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল তারা। আর এ কাজে ওজাকির সহযোগিতা ছিল বলে মনে করছেন তারা। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওজাকিসহ তিন ব্যক্তি বাংলাদেশের জঙ্গি ও দেশের বাইরের সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজ করত।

ফুটবলের কারিগর ওয়াজেদ গাজীর খোঁজ রাখে না কেউ

স্মৃতিশক্তি অনেকটাই লোপ পেয়েছে। প্রশ্ন করলে কিছুক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। অভাব তার আজ নিত্যসঙ্গী। ওষুধ কেনার পয়সাও তার নেই। তিনি আর কেউ নন। ফুটবলাঙ্গনের ‘ওস্তাদ’ খ্যাত ওয়াজেদ গাজী। কারও কাছে ‘ওস্তাদ’, আবার কারও কাছে ‘গাজী ভাই’ নামেই পরিচিত। এই দুই নামের আড়ালে তার ‘ওয়াজেদ’ নামটাই যেন হারিয়ে গেছে। মাসতিনেক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আরামবাগ ক্লাবে পড়েছিলেন। দু’দিন পর এক ফুটবলার ওয়াজেদ গাজীর নাতিকে ফোন করে তার নানার অবস্থা জানান। পরে ক্লাব থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে ওস্তাদকে পাঠিয়ে দেয়া হয় যশোরে তার বড় ছেলে হাসান গাজী দুলুর কাছে। দিনদশেক পর দুলু বাবাকে দিয়ে আসেন একমাত্র বোনের বাসায়। তারপর থেকে মেয়ের বাসাতেই আশ্রয় হয়েছে বাংলাদেশে অসংখ্য ফুটবলার তৈরির কারিগর ওয়াজেদ গাজীর। গত বছর স্ত্রীকে হারিয়ে এমনিতেই মুষড়ে পড়েছিলেন। তারও আগে নিজের অসুস্থতাকালীন সময়ে পণ্ডিত পুকুরের হালদা রোডের বাড়িটি বিক্রি করতে হয়। কপর্দকশূন্য ওয়াজেদ গাজীর খোঁজ নেয়ার আজ আর কেউ নেই। ফুটবলার, কোচ ওয়াজেদ গাজী খেলার মাঠকে ভালোবেসে সারা জীবন ক্লাব পাড়াতেই কাটিয়ে দিয়েছেন।
২০১২ সালের শুরুতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে দিনপনেরো পর আবার মাঠে ঠিকই ফিরে এসেছিলেন। ২০১৩ সালে বিজেএমসি কিংস কাপ খেলতে ভুটান সফর করেন। শত বারণ সত্ত্বেও অসুস্থ গাজীকে দলের বাইরে রাখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ২৩০০ মিটার উচ্চতার থিম্পুতে গিয়ে ঠিকই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পাঁচতলা টিম হোটেলের সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করায় আবার হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। ৮৫ বছর পার করেও ওয়াজেদ গাজী স্বপ্ন দেখেন মাঠে ফেরার। মাঠেই যেন তার মৃত্যু হয়- সেই কামনা করেন। আদি নিবাস সাতক্ষীরার ধলবাড়ীয়া। ১৯৬৩ সালে যশোরে বাড়ি করেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ছিল তার সংসার। ছেলেমেয়েরা সবাই বিবাহিত। বছরখানেক আগে সহধর্মিণীকে হারিয়েছেন ওয়াজেদ গাজী। তার বাবা সোলেমান গাজী কলকাতার বিখ্যাত জোসেফ কোম্পানিতে চাকরি করেতেন। পশ্চিমবাংলার চব্বিশ পরগনার বারাসাতে জন্ম তার। শৈশবে কলকাতায় ছিলেন। সেখানে থাকাকালীন ওয়াজেদ গাজী চাকরি করতেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ডে। এ বোর্ডের হয়ে অফিস লীগেও খেলতেন সেখানে। পরে ঢাকায় এসে চাকরি পান বিজি প্রেসে। সেই চাকরির সামান্য বেতনে মা-ভাইবোন, স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরন-পোষণ করেছেন। বর্ণাঢ্য জীবনের পরিক্রমা শেষে পেছনে তাকালে ওয়াজেদ গাজীর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে একটি নাম তিনি রমণী সরকার। ১৯৫৮ সালে তার কাছেই হাতেখড়ি হয়।
১৯৫৮ সালে স্পোর্টিং ইউনিয়নের হয়ে কলকাতা লীগে অভিষেক হয় ছোট্ট এক কিশোরের। কলকাতা স্পোর্টিং ইউনিয়নের হয়ে জুনিয়র ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিতেন রমণী সরকার। গাজী তার নিজের ওস্তাদকে কৃতজ্ঞভরা চিত্তে স্মরণ করে বলেন, ‘উনার বদৌলতেই তো ফুটবলার হয়েছি।’ ১৯৬৩ সালে কলকাতা মোহামেডানে খেলেছিলেন। তারপর ফিরে আসেন দেশে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিজি প্রেসে প্রথম নাম লেখান। তারপর ওয়ান্ডারার্স, ইপিআইডিসি (পরে বিজেএমসি), মোহামেডানে খেলে ’৭৬-এ ফিরে আসেন ওয়ান্ডারার্সে। পাঁচবার ছিলেন ঢাকা লীগ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য। তবে ’৭৭ সালে ঢাকার মাঠ ছাড়লেও যশোর জেলা দলের হয়ে খেলেছেন আশির দশকের শেষ অবধি। ১৯৭৮ সালে কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় তার। তখন যশোর ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন ইউনিট টিমকে অনুশীলন করান। রহমতগঞ্জের মোহাম্মদ আমিন ওয়াজেদ গাজীর জীবনের বাঁক বদলে দেন। রহমতগঞ্জের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ’৮৩ পর্যন্ত কাটিয়ে দেন। পরের দু’মৌসুম ছিলেন আরামবাগে। ১৯৮৬ থেকে ’৮৮ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার কোচ ছিলেন। ১৯৮৭ সালে জাতীয় দলের কোচও হয়েছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। পরের বছর তার ঠিকানা হয় ফরাশগঞ্জে।
১৯৯০ সালে আরামবাগে ফিরেন। ’৯৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ছিলেন আরামবাগের কোচ। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের প্রায় অর্ধেকটাই আরামবাগে কাটানোর পর ২০০৩ সালে যোগ দেন শেখ রাসেলে। তারপর ব্রাদার্স, বিজেএমসি হয়ে আবারও আরামবাগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ওস্তাদ ওয়াজেদ গাজী। ৬০ বছর কাটিয়েছেন ক্লাব পাড়ায়। প্রত্যেক বছরেই দলগুলো তাকে কোচিং করানোর প্রস্তাব দিত। তিনি কখনোই কারও মুখাপেক্ষী হতেন না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাকে মূল্যায়ন না করলেও ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা তাকে সেরা কোচের পুরস্কার দিয়েছিল। এক ক্লাবের কোচ হয়েও ওয়াজেদ গাজী কখনোই বসে থাকতেন না। সময় পেলেই ছুটে যেতেন বিভিন্ন ক্লাবের অনুশীলনে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের খেলাও মাঠে গিয়ে দেখতেন। জাতীয় দলের কোচদের অনুশীলন দেখতেন দূর থেকে দাঁড়িয়ে। চেষ্টা করতেন কোচিংয়ের নতুন নতুন পদ্ধতি শেখার। ফুটবল জীবনে অনেক নামকরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলেছেন। তাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন। কোচিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই ওয়াজেদ গাজীর। এএফসির ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স সম্পর্কে জানা ছিল না তার। জানতেও চাননি কখনও।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক কোচ আনোয়ার হোসেনকেই দীক্ষাগুরু মানতেন তিনি। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ওস্তাদ বলেন, ‘ভারতের সুকুমার সমাজপতি, পিনাক ব্যানার্জি, অরুণ ঘোষ, চুনী গোস্বামী, বাংলাদেশের গোলাম সারোয়ার টিপু, কায়কোবাদের সঙ্গে খেলেছি এবং শেখার চেষ্টা করেছি। বলতে দ্বিধা নেই, পদ্ধতিগত কোনো সমস্যায় পড়লে টিপুর কাছে (গোলাম সরোয়ার) সাহয্য চাইতাম। দিল্লি এশিয়াডের আগে ১৯৮২ সালে স্মিথ নামে এক জার্মান ফুটবল কোচের প্রশিক্ষণ কৌশল আমার এখনও চোখে লেগে আছে।’ কোচিংয়ে আমার বীজমন্ত্র ছিল ফিটনেস উইথ দ্য বল।’ তার কথা, ‘প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিনিয়র সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতাম। সেখান থেকে বড়জোর ম্যানেজার হতে পারতাম। কিন্তু কে চিনত আমাকে? আজ আমাকে সবাই চেনেন। জীবনে অনেক ফুটবলার তৈরি করেছি। একসময় কোচদের তেমন কেনা সুযোগ-সুবিধা ছিল না। অনুশীলনের জন্য দশটা বলও পেতাম না। এখন তো অনেক সুযোগ পাচ্ছেন কোচরা।’ আশিষ ভদ্র, কায়সার হামিদ, অলক, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, আলফাজদের মতো সাবেক তারকা খেলোয়াড়রাও কোচ হিসেবে তাকে পেয়েছেন। তৈরি করেছেন শত শত ফুটবলার। কিন্তু জীবন সায়াহ্নে এসে পাননি কোনো স্বীকৃতি। এখন পাচ্ছেন না তিনবেলা ভালো-মন্দ খাবার। অসুখে জোটে না ওষুধ।

আরশিতে মেহ্জাবিন

প্রতি ঈদেই দর্শকদের সামনে একাধিক নাটক নিয়ে হাজির হন লাক্স তারকা মেহ্জাবিন চৌধুরী। গেল ঈদেও তার অভিনীত সাতটি নাটক ও টেলিফিল্ম বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। ঈদ ব্যস্ততার পর বেশ ক’দিন অবসর কাটাবেন বলে জানিয়েছিলেন এ তারকা। অবসরের ওই সময়টা পরিবার আর বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। অবশেষে অবসর শেষে ফের ঈদুল আজহার জন্য নতুন নাটকে অভিনয় শুরু করেছেন মেহ্জাবিন।
নাটকের নাম ‘আরশি’। এটি পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। গতকাল থেকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। এ নাটকে তিনি অভিনয় করছেন আরশি চরিত্রে। ঈদের পর আবারও অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে মেহ্জাবিন বলেন, ‘গেল ঈদে কাজের অনেক চাপ ছিল। যে কারণে ঈদ ছুটিটা ভালোভাবেই পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছি। বেশ লম্বা সময় বিরতি নিয়ে আবারও কাজে ফিরলাম। এবারই প্রথম চয়নিকা দিদির নির্দেশনায় কাজ করছি। বেশ ভালো লাগছে। গল্পটা খুব চমৎকার।’ নাটকে মেহ্জাবিনের বিপরীতে অভিনয় করছেন আবদুন নূর সজল। নাটকটি আসছে ঈদে আরটিভিতে প্রচার হবে।