Tuesday, April 30, 2019

মোমেন-ল্যাভরভ বৈঠক: রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে রাশিয়া মানবিক সহায়তাসহ দেশটির সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে। মস্কো সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ আশ্বাস দেন। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার মোমেন-ল্যাভরভ বৈঠক হয়। বৈঠকে মন্ত্রী মোমেন তার কাউন্টার পার্টকে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থা ব্রিফ করেন। তিনি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী ৫ সদস্যের অন্যতম রাশিয়ার সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন। মন্ত্রী বিশেষভাবে রাশিয়ার কাছে একটি বিষয় চান তা হল- রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে যেন মস্কো উৎসাহিত করে। মিস্টার ল্যাভরভের সঙ্গে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আসিয়ান জোটের অন্যান্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও অবহিত করেন।
জবাবে ল্যাভরভ সংম্পৃক্তকরণে ঢাকার ওই আইডিয়াকে স্বাগত জানান। অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে দুই মন্ত্রীর আলোচনা হয় জানিয়ে সেগুনবাগিচার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মোমেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম মস্কো সফর। তবে দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণে সফরের বিবেচনায় এটি তার তৃতীয় বিদেশ সফর। মন্ত্রী মোমেন এর আগে জানুয়ারিতে তার প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে এবং দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় সফরে চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে ওয়াশিংটন যান।
বিজ্ঞপ্তি মতে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে মোমেনের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট রিজিওনাল এবং বহুপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুও ছিল। বৈঠকে মন্ত্রী একাত্তরের দুর্দিনে বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার যে অকুন্ঠ সমর্থন ছিল সেটি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পূণর্গঠন এবং পূনর্বাসন প্রক্রিয়ায় দেশটির যে উদ্যোগ ছিল তা স্মরণ করে দুই দেশের সম্পর্কের বিদ্যমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ড. মোমেন রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য  সম্পর্ক প্রত্যাশিত লেভেলে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নব প্রতিষ্ঠিত হাইটেক পার্কসহ বিশেষ ১০০টি অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। জবাবে ল্যাভরভ বলেন, সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক সম্মেলনই হতে পারে রাশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করার উপযুক্ত মাধ্যম (প্লাটফর্ম)।
ড. মোমেন ইউরোশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য হিসাবে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের কোটা ও শুল্ক মুক্ত সুবিধা চালুর অনুরোধ জানান। মন্ত্রী এ-ও বলেন, ওই ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশ শিগগির একটি সমঝোতা সই করতে যাচ্ছে। দুই মন্ত্রী রাশিয়ার সহায়তায় বাংলাদেশে হতে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সিগনেচার ইনশিয়েটিভ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের শান্তিপূর্ণ অগ্রগতিতে উভয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই মন্ত্রী বাংলাদেশে গ্যাজপ্রমের কার্যক্রমেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুই সরকারের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্পর্কিত বৈঠকগুলো নিয়মিত হওয়ার প্রশংসা করেন। তারা দুই দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়েরও তাগিদ দেন। তারা দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে সহায়তামূলক সম্পর্ক তাতেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রীদ্বয় আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম অবস্থানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে মন্ত্রী মোমেনের বৈঠক হয় বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় কার্যত বোরকা নিষিদ্ধ

মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শ্রীলঙ্কা। এতে কার্যত নেকাবের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। ইস্টার সানডে’তে সন্ত্রাসী হামলায় আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পরে ‘ইমার্জেন্সি রেগুলেশনস’-এর অধীনে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার অফিস থেকে বলা হয়েছে, মুখ ঢাকা পোশাকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে সোমবার থেকে। এটা করা হয়েছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
ওদিকে হামলার পর প্রথম রোববার অতিক্রম হয়েছে দেশটিতে। কিন্তু এদিন সেখানে কোনো চার্চেই বড় কোনো প্রার্থনাসভা হয় নি নিরাপত্তার কারণে। লোকজন চার্চের বাইরে অথবা যার যার ঘরে প্রার্থনা সভার কাজ সেরেছে।
কালমুনাই, সম্মানথুরাই ও চালাভালাকাড়ে ছাড়া সব স্থান থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, যে দুই ভাই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল তাদের অন্য এক ভাইকে আটক করেছে শ্রীলঙ্কার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইফরান। রাজধানী কলম্বোর দেমাতাগোড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে এসটিএফ। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনশেকারা। তিনি বলেছেন, দেমাতাগোড়ায় মহাবিলা স্কিমের একটি বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়েছে তাকে। ওদিকে সারা দেশে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের। জব্দ করা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসী’ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি। এ অভিযানে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইফরানের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জার্মানিতে তৈরি একটি এয়ারগান ও দুটি ছোরা। 
ইস্টার সানডে’র হামলার পর পরই পুলিশ ইব্রাহিম ইফরানের পিতা, বিলিয়ানিয়ার মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে। তার দুই ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইনসাফ আহমেদ ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইলহাম আহমেদ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের অন্যতম, এটা জানার পরই শত কোটি টাকার মালিক ও মসলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া তার আরো দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অন্যজন পলাতক রয়েছে। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মোট ৯ টি সন্তান রয়েছে।
রুয়ান গুনশেকারা বলেছেন, শুক্রবার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আমপাড়ার শাহিনদামারুদু থেকে একজন নারী ও একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা হামলার মূল হোতা জাহরান হাশিমের স্ত্রী ওই নারী। আর শিশুটি তাদের সন্তান। তারা হলো আবদুল কাদের ফাতিমা সাদিয়া ও তার চার বছরের শিশু মোহাম্মদ জাহরান রুহাইনা। বন্দুকযুদ্ধের সময় তারা আহত হয়েছে। বর্তমানে আমপাড়া বেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারা। ওই নারী জাহরান হাশিমের স্ত্রী ও শিশুটি তাদের সন্তান বলে শনাক্ত করেছেন জাহরানের বোন ও বোনের স্বামী।

দর্শকশূন্যতার বড় কারণ হলের বাজে পরিবেশ by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল। দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে সিনেমা হলের সংখ্যা বেড়ে চলা, এসবের উন্নয়ন, আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে দেশজুড়ে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর চতুর্থ পর্ব ‘দর্শকশূন্যতার বড় কারণ হলের বাজে পরিবেশ’
শুরুতেই কয়েক দশক আগের কথা বলতে হয়। মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম তখনও ছিল চলচ্চিত্র বা সিনেমা। তরুণ ছেলেদের একসঙ্গে হয়ে সিনেমা হলের সামনে আড্ডা দেয়া, সেখানকার দেয়ালে লাগানো নতুন ছবির পোস্টার দেখে নানারকম আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হওয়া কিংবা সিনেমা দেখায় মেতে ওঠায় কতই না আনন্দ ছিল তখন। শুধু তরুণই নয়, সব বয়সের দর্শকই সিনেমা হলে গিয়ে এ কাজগুলো করতো নির্ভয়ে।
সে সময়টাতে সিনেমা হলে বিভিন্ন শোয়ের পাশাপাশি নাইট শো-ও হতো। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সানন্দচিত্তে সেসব শো দেখতে যেত।
সারা দেশের সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই দারুণ আনন্দে এসব করা যেত। কিন্তু একটা সময়ে এসে হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। সারা দেশেই ক্রমশ সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হতে থাকে। একশ্রেণির দর্শককে দেখা যায় ভাসমান পতিতাদের নিয়ে সিনেমা হলে ঢুকতে। অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেট ব্যবস্থা নোংরা হয়ে পড়ে। সে সঙ্গে সিনেমা হলের পর্দা, শব্দের মানও ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে।
এসব কারণে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা ছেড়ে দেন অনেক দর্শক। নারী দর্শক তো দূরে থাক অনেক পুরুষ দর্শকও একা সিনেমা হলে আসতে ভয় পেতে থাকেন তখন থেকে। এর ফলে ক্রমশ দর্শকশূন্য হতে থাকে সিনেমা হলগুলো। যে অবস্থা এ সময়ে সারা দেশের অনেক সিনেমা হলেই বিদ্যমান। এ প্রসঙ্গে দর্শকপ্রিয় নির্মাতা ইস্পাহানী আরিফ জাহান বলেন, সমাজ ব্যবস্থার কথা একবার চিন্তা করে দেখুন। আগে দিনের শোর পাশাপাশি নাইট শো দেখে দর্শকরা সিনেমা হল থেকে বের হতো। আর পরিবারের সকলে মিলে সিনেমা হলে ছবি দেখে আনন্দে বাড়ি ফিরতো।
মানুষ একটা ভালো সময় কাটাতেই সিনেমা হলে যেত। আর সেই সিনেমা হলের পরিবেশই যদি ভালো না থাকে তাহলে কেন মানুষ সেখানে যাবে? ছবির ব্যবসায়িক ব্যর্থতার অনেকগুলো কারণের মধ্যে সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হয়ে যাওয়া অন্যতম। এখন গ্রামেও অনেক ঘরে ড্রইংরুমে সোফাসেট আছে, রঙিন টিভি এবং ডিশ লাইন সংযোগ আছে। যা আগের সময়ে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সবকিছু উন্নত হলেও সারা দেশেই সিনেমা হলের পরিবেশ খুব একটা ভালো হয়নি। হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সিনেমা হলে ভালো পরিবেশের অভাবে দর্শকরা যাচ্ছে না।
তাই প্রায়শই দর্শকশূন্য থাকছে সিনেমা হল। এর সমাধান জরুরি। এদিকে সরজমিন খবর নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ও দেশের নানা জায়গায় অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেটে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই, দুর্গন্ধে দর্শকরা অসুস্থ হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সিনেমা হলে এখনো পুরনো অশ্লীল সিনেমা চালানো হয়। আর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বেশকিছু সিনেমা হলের সামনেই পতিতা, তাদের খদ্দের, হিজড়া এবং এমন বিভিন্ন ধরনের লোকজন দেখা যায়, যারা সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের জন্য নানা বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ছাড়া সিনেমা হলের আশেপাশে বিচরণ করা ছিনতাইকারী এবং প্রতারকচক্র তো আছেই। এদের ভয়েও সিনেমা হলে যেতে চায় না অনেকেই।
কারণ অনেক সময়ই সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা পড়ে যায় এসব নোংরা পরিবেশের ঝামেলায়। চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন দিলু বলেন, দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলের পরিবেশ এখন ভালো না। অনেক সিনেমা হলে এখনো ছারপোকা মারতে হয়, সিট থেকে নারিকেলের ছোবড়া বেরিয়ে থাকে, সিট ভাঙ্গা পাওয়া যায়, ঠিকমতো ফ্যান চলে না, দর্শকদের ঘামে ভিজে সিনেমা দেখতে হয়। তাই এসব সিনেমা হল থেকেও লাভ নেই। হলের পরিবেশ যদি সুন্দর না হয় তাহলে দর্শকরা কখনোই সিনেমা হলে যাবে না।
মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। স্বল্প টাকার ইন্টারনেট ব্যবহার করে যার মাধ্যমে সহজেই যে কোনো ভাষার সিনেমা পাওয়া যায় বোতাম টিপলেই। তাহলে মানুষ কেন টাকা খরচ করে বাজে পরিবেশের সিনেমা হলে যাবে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিতে। তাই সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট সকলের এগিয়ে আসতে হবে নিঃস্বার্থভাবে। আর হলের পরিবেশের পাশাপাশি সিনেমার মান ভালো হলেই সিনেমা হলে দর্শকরা আবার যাওয়া শুরু করবে বলে বিশ্বাস করি আমি।

বিল নেই কাজ বন্ধ by দীন ইসলাম

টাকা নেই তাই বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। তিন-চার বছর আগে কাজ শেষ করেও বিল পাচ্ছেন না কেউ কেউ। এভাবে ঠিকাদারদের পাওনার পাহাড় জমা হচ্ছে। বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কোনো কোনো প্রকল্পে। সরকারের দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ করেও দিনের পর দিন ঘুরছেন ঠিকাদাররা। সরকারের দপ্তরগুলোর তহবিলে অর্থ না থাকায় দেন-দরবার করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কাজ করে বিল না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদাররা। পুঁজি কম থাকায় তারা একটি কাজের বিল তুলে আরেকটি কাজে হাত দেয়ার প্রস্তুতি নেন।
পুঁজি আটকে যাওয়ায় সেই সুযোগও তাদের বন্ধ হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর , গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা এমন সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় বেশি হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ ছাড় করা হয়েছে। তাই ঠিকাদারদের মোটা অঙ্কের বিল আটকে গেছে। বিল না পাওয়ায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও রাজউক বলছে, প্রকল্প প্রস্তাব রিভাইস হওয়ার কারণে বিল দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিল না পেয়ে প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার কষ্টে আছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, বিল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বচসা হচ্ছে। মূলত ডিএসসিসির আয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাজস্ব আদায়ে ধস নামে। কারণ, ৭৫ শতাংশ রাজস্বই পাওয়া যেত বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে। ভাগ হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে রাজস্ব আদায় হয়, তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার কাজ চলে। উন্নয়নকাজ করা কঠিন হয়ে যায়। দুই বছর আগেও কর্মচারীদের সঞ্চিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দেয়ার নজির রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেও ফান্ডে টাকা নেই। তবুও প্রশাসকরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যখন চালাতেন তখন প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন। এর মধ্যে সাবেক সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের আমলে ২৫০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়া প্রশাসক নজরুল ইসলামের সময় ১১২ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসকদের সময় দরকার না হলেও টেন্ডার আহ্বান করে কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন খেয়ে বসে আছেন। এখন বিল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর মূলত ডিএনসিসি’র লাভ হয়েছে। উন্নয়ন খাতে তাদের বাজেট দিন দিন বাড়ছে। বিপরীতে ঠিকাদারদের বকেয়া পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজস্ব আয় বেশি থাকায় ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা উন্নয়ন কাজ বেশি করতে পারছেন। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ দুই সিটি কর্পোরেশনে আগের মেয়াদে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দায়িত্ব পালনের কারণে খুব বেশি উন্নয়ন কাজ করা যায়নি। যেসব উন্নয়ন কাজ করা গেছে ওই সব কাজের বিল এখনও বকেয়া পড়ে আছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের বাইরে সরকারি অর্থায়নে যেসব কাজ হয় ওই সব কাজের বিল পেতে গেলে ঠিকাদারদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদাররা বেশ কষ্টের মধ্যে আছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টের পর যেসব ঠিকাদার কাজ করেছেন তারা এখনও বিল পাননি। আগামী বাজেটের দিকে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে। বাজেট অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে যে অর্থ ছাড় হবে তা থেকেই দেন দরবার করে বিল নিতে হবে। এরপর নতুন করে কোন কাজ করলে তা বাকি পড়ে থাকবে। গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির একজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, বাবার আমল থেকে ঠিকাদারি করি তাই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আকড়ে ধরে আছি। কাজ করলে বিল পাই না। বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। কিভাবে চলি বলেন। পরিবার নিয়ে টেকা দায় হয়ে গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, মেরামত কাজের বাজেট সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ছাড় হয়। তখন রীতিমতো কামড়াকামড়ি চলে। নিজেদের মতো তদবির করে বিল নিয়ে যান তারা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে নির্মাণ ও মেরামত খাতে গেল অর্থ বছরের চেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মেগা প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। তাই এ অর্থ বছরে বরাদ্দ কম ছাড় হবে।

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ by আসাদুজ্জামান বাবুল

গত ২০শে এপ্রিল গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের শরীফ পাড়ার সৌদি প্রবাসী নিজাম উদ্দিন শরীফের মেয়ে স্কুলছাত্রী আরজু মনি। পুলিশ জানায়, দশম শেণীর ছাত্রী আরজু মনি তার শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। তবে এটি শুধুই একটি আত্মহত্যা নয়। এর পেছনে রয়েছে- প্রেম-বিচ্ছেদ, মান-অভিমান, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এক জটিল অঙ্ক। রয়েছে কিশোরী মনের অব্যক্ত আবেগ। 
পুলিশ বলছে, স্কুলছাত্রী আরজু মনি পালিয়ে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে এলাকার রাহাত নামে এক যুবকের সঙ্গে। পরে তাদের আবারও বিয়ে দেয়া হবে- এমন আশ্বাসে ফিরে আসে তারা। কিন্তু ফিরে আসার পরই মত পাল্টায় আরজুর পরিবার।
যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় আরজু নিজেও। তার মা রাহাতকে জানিয়ে দেন, তার মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দেবেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দু’চার কথা শুনিয়েও দেয় রাহাত।
ঘটনার দিনে আরজুকে তার মা ঘরে আটকে রেখে বাইরে যান। ফিরে এসে দেখেন মেয়ের লাশ ঝুলছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে। অনেকে এ ঘটনাকে বাড়াবাড়ি বলছেন। তবে আরজুর মা বলছেন, ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, তার মেয়ে নিজ হাতে ৫ পৃষ্টার একটি চিরকুট লিখে গেছে। তাতেই উল্লেখ আছে, কে তার মৃত্যুর জন্য দায়ি।
আরজু মনির মা লতিফা বেগম জানান, সে স্কুলে যাওয়া-আসার সময় গোপীনাথপুর গ্রামের শরীফপাড়ার রেজাউল শরীফের বখাটে ছেলে রাহাত শরীফ ও তার বন্ধুবান্ধব বেশকিছু দিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। শুধু তাই নয়, স্কুলে যাওয়া আসার সময় তারা  মেয়ের পথরোধ করে নানান প্রকার বাজে কথাও বলতো। ওদের ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। আমার মেয়েকে ওরা বাজে ইঙ্গিত করে কথা বলতো।
লতিফা বেগম জানান, চিরকুটে সে লিখেছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ও মা, তুমি আমাকে মাফ করে দিও। আমি চাই না আমার মা-বাবার সম্মান নষ্ট হোক। আমি আগেই এখানে (বাড়িতে) না থাকার জন্য তোমাদের বলেছিলাম। কিন্তু তোমরা আমার কথা রাখো নি। আমার মৃত্যুর পর তোমরা আর এখানে থেকো না। কারণ এখানে থাকলে আর কেউ লেখাপাড়া শিখতে পারবে না। তাই তোমাদের কষ্ট হলেও এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যেও। মা, সত্যি কথা বলছি, রাহাতের সঙ্গে আমার কোন খারাপ সম্পর্ক ছিলো না। তবে রাহাত এবং অন্যরা আমার নামে যে মিথ্যা কথা বলে অপবাদ দিয়েছে তার বিচার আল্লাহ করবে। আমি আল্লার কাছে বিচার দিয়ে গেলাম, দেখো আল্লা একদিন ওর বিচার করবেই। আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও।’
আরজু মনির মা লতিফা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাহাত এবং তার বন্ধুবান্ধব আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়ার পর আমি বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের জানাই। এরপর গ্রামবাসী এক শালিস বৈঠকের মাধ্যমে রাহাতকে শাসিয়ে দেয়ার পরেও সে থেমে থাকেনি। একের পর এক হুমকি-ধামকি দিয়ে বেড়িয়েছে। ওদের ভয়ে আমি মেয়েকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।
ঘটনার দিন গত ২০শে এপ্রিল আনুমানিক বেলা ১১টার সময় আমি মেয়ের জন্য নোটবুক কিনতে বাজারে যাই। প্রায় এক ঘন্টা পর ফিরে এসে দেখি আমার মেয়ে আরজু মনি তার শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সময় তার হাতের লেখা একটি চিরকুটও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. আউয়াল হোসেন রানা জানিয়েছেন, স্কুলছাত্রী আরজু মনির আত্মহত্যার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
গোপিনাথপুর গ্রামের রাহাত নামে এক যুবকের উত্ত্যক্তের কারণে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে পরিবারে এমন অভিযোগের প্রেক্সিতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, স্কুলছাত্রী আরজু মনির ময়নাতদন্তের পর ঘটনা তদন্তকালীন এলাকার একাধিক মানুষ সুত্রে জানা গেছে, রাহাতের সঙ্গে আরজু মনির দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গেলো উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে আদালতে গিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেছিল। এরপর উভয়পক্ষের লোকজন তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় কথা হয়, কিছুদিনের মধ্যেই তাদের বিয়ে দেয়া হবে। কিন্ত সেটা আর হয়ে ওঠে না।
এসআই মো. আউয়াল হোসেন রানা জানান, মেয়ের মা লতিফা বেগম মেয়েকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে সবসময় চোখের নজরে রাখতে শুরু করে। এক সময় রাহাতের  সঙ্গে আরজু মনির যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমন ঘটনার পর রাহাত তার বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরে পেতে আরজু মনির বাড়ির সামনে গিয়ে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্ত তার মা লতিফা রাহাতকে একসময় সোজাসুজি জানিয়ে দেয়- তোমার সঙ্গে আমার মেয়ে বিয়ে দেবো না। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আরজু মনির মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সে।
ঘটনার দিন গত ২০শে এপ্রিল আনুমানিক বেলা ১১ টার সময় আরজু মনির মা লতিফা বেগম মেয়ের জন্য একটি নোট বুক কিনতে বাজারে যাওয়ার সময় আরজু মনিকে ঘরের ভেতরে আটকিয়ে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে বাজারে যায়। প্রায় ১ ঘন্টা পর বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দরজা খুলে লতিফা বেগম তার মেয়ের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয়। উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তাহলে আরজু মনির মৃত্যুর জন্য কে দায়ি? এমন প্রশ্নের উত্তরে এসআই আওয়াল রানা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর জন্য তার মা লতিফা বেগম, রাহাত ও সমাজ দায়ি। কারণ সমাজ এবং তার মা লতিফা বেগম তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়ার কথা বলে বিয়ে না দেয়ায় রাহাত মেয়ের মাকে বকাবকি করেছে। এ কারণেই সে আত্বহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে রাহাত ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

খালেদার সিগন্যালে তারেকের সিদ্ধান্ত

শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি। ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করা গণফোরামের দুই এমপি শপথ নেন আগেই। বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন শপথ নেবেন কিনা এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল নানা জল্পনা, হিসাব-নিকাষ। দল এবং জোটেও ছিল এ নিয়ে টানাপড়েন। এর মধ্যে বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ সংসদে যোগ দিয়ে নতুন আলোচনার জন্মদেন। দলটির নির্বাচিত অন্য পাঁচজনও শপথ নিচ্ছেন এমন আলোচনা চাউর হয় রাজনৈতিক ময়দানে। রাজনৈতিক জটিল সমীকরণটি অনেকটা সহজ করে দিয়ে গতকাল সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন চার এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন। সন্ধ্যায় তাদের শপথ পড়ান স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। পরে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় সিদ্ধান্তেই এমপিরা শপথ নিয়েছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নিজেও দ্রুত সময়ের মধ্যেই শপথ নিচ্ছেন এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্মতিতেই সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এর আগে নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেন তারেক রহমান।
এদিকে শপথ নেয়ার পরই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন চার এমপি। তাদের মধ্যে হারুনুর রশিদ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদে তাদের কথা বলার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তোলেন। এর আগে শপথ নিয়ে বের হয়ে সংসদ ভবনের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকের এই দিনটির জন্য গোটা জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনে মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়নি। তাই আমাদের দল ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সংসদে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমরাও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এতোদিন শপথ গ্রহণ করিনি। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমতি ও নির্দেশক্রমেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছি। ১৭ কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলতে চাই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কারো কারো উপর শপথ নেয়ার জন্য চাপ ছিল। সাদা পোশাকধারী ও অন্যান্য এজেন্সির লোকেরা আমাদের কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে শপথ গ্রহণের জন্য চাপ দিয়েছিল।
পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ। তাই সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,  বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন ছিল একটি কলঙ্কজনক প্রহসনের নির্বাচন। যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলও প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। দল মত নির্বিশেষে সকল ভোটারকেই জোর পূর্বক এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যা ক্ষমতাসীন মহলের কারো কারো মুখ থেকেও স্বীকারোক্তি হিসাবে বেরিয়ে এসেছে। নজিরবিহীন সন্ত্রাস, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সর্বপরি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ভোটের দিনের আগের রাতেই ভোটের ফলাফল একতরফাভাবে তাদের পক্ষে সাজিয়েছে সরকার। আমরা সংগত কারণেই ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং জাতীয় সংসদে আমাদের মনোনীত বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ না করার জন্য আহ্বান করেছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের দল একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনই ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আজ এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে, গোটা নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান আজ ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার জন্য সকল পদ্ধতিও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে এই সরকার তার গ্রহণযোগ্যতার জন্য ভোটারবিহীন এই সংসদকে সচল দেখাতে চায়। এইটুকুই কেবল আজ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার নূন্যতম সুযোগ হিসাবে বিরোধী জনমতের জন্য অবশিষ্ট আছে।
আমরা বরাবরের মতোই দাবী করছি, দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জনগণের সংসদ নির্বাচন করাই এই সংকট সমাধান করার একমাত্র পথ। তাই একদিকে নতুন নির্বাচনের দাবী ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের অব্যাহত দাবী অন্যদিকে দেশের চলমান অর্থনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক চরম সংকট যথাক্রমে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকলুট, নারী নির্যাতন, গুম-খুন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী ও জোরালো গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আমাদেরকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত হতে হবে।
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল প্রেক্ষিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমদের দল সংসদে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় অবিলম্বে একটি অবাধ জাতীয় নির্বাচন আদায় করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রীসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করে আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ঘোষিত জাতীয় ঐক্যমতের বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন, ফখরুলের উত্তর
বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, তাহলে এখন বিএনপি কিভাবে শপথ নিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর লিখিত বক্তব্যের কাগজটি দেখিয়ে বলেন, এখানে সব তো ব্যাখ্যা করেছি। মানুষ যেহেতু ভোট দিতে পারেনি সেহেতু অবৈধ সংসদ বলেছেন, এখন কিভাবে সে সংসদে যাবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্র চর্চার সবগুলো পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা সংসদে গণতন্ত্র চর্চার স্পেসটুকু ব্যবহার করার জন্য সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শেষমুহুর্তে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেতৃত্বের অদূরদর্শীতাকে প্রকাশ করে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা এটা গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য যাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি ও কর্মীদের মতামত নিয়েছি। দলের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাকর্মীরা কিভাবে নেবেন বলে মনে করেন- জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আশাকরি ভালোভাবেই নেবেন। এই সিদ্ধান্ত দলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কথা আপনি বলতে পারেন, ভবিষ্যৎ বলতে পারে, আমি তো এখন বলতে পারবো না। তবে আমি আশা করি না।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি সংসদে যাচ্ছে- এ ব্যাপারে মির্জা আলমগীর বলেন, এটা গুঞ্জনই। শপথ নেয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এইগুলো এক নয়। সংসদে যাওয়ার মধ্যে সরকারের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমঝোতা পেলেন কোথায়? আমরা বলেছি, সংসদে এবং সংসদের বাইরে দুই জায়গাতেই আমরা লড়াইটা করতে চাই। এটা (সংসদ) একটি জায়গা। আমরা আমাদের কথাগুলো বলার জন্যই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
শপথের জন্য কোন চাপ আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের উপর এখন কোন চাপ নেই। মহাসচিব, তাহলে কি আপনি কোন চাপে নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি? আমি তো মহাচাপে আছি। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা, আমাদের নেত্রী এখন জেলে। আজ (সোমবার) বিকালেই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার সংসদে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ ব্যাপারে মির্জা আলমগীর বলেন, এটা সিদ্ধান্তের আগের বক্তব্য। বিএনপি মহাসচিব শপথ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় আসুক জানতে পারবেন। তিনি শপথের জন্য আবেদন করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বলেছি তো- সময় হয়েই জানতে পারবেন। তিনি সময়ের জন্য আবেদন করেছেন কিনা- জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, আমি কি করেছি না করেছি সময় হলেই জানতে পারবেন।
দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নেয়া হলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমানকে যে বহিষ্কার করা হলো তার কি হবে- এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সময় মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ২০ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বিএনপির এমপিদের শপথগ্রহণকে হঠকারি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন, এই ব্যাপারে মির্জা আলমগীর বলেন- এটা উনার  বক্তব্য। বিএনপি নেতারা প্রথমে শপথ নেয়া জোটের দুই নেতাকে জাতীয় বেঈমান আখ্যায়িত করেছে, এখন বিএনপির এমপিদের জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত করা হবে বলে মনে করেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, পলিটিক্সে কালকে যেটা হবে সেটা আজকে বলা যাবে না তো। আমরা আজকে যেটা বলছি, কালকে অবস্থার প্রেক্ষিতে সেটা আমাদের পরিবর্তনও করতে হতে পারে। প্র্যাকটিক্যাল পলিটিক্স এটা। আমাদের যেটা প্রয়োজন দলের জন্য, রাজনীতির জন্য, দেশের জন্য সেটাই করেছি।

রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর: স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান আহত শ্রমিকরা by হাফিজ উদ্দিন

সাভারে ভয়াবহ রানা প্লাজা ভবন ধসের ছয় বছর পূর্তি হলো। এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি রানা প্লাজায় আহতরা। ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ধসে পড়ে ৯ তলাবিশিষ্ট বহুতল ভবন রানা প্লাজা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন দুমড়ে মুচড়ে এক হয়ে যায়। ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। প্রথমে চারদিকে ছুটোছুটি, তার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় লাশের মিছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান  তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ ১১শ’ ৩৬ মানুষ। আর আহত হয় আরো অন্তত ২ হাজার ৪ শ’ ৩৮ জন হতভাগা শ্রমিক।
ভবন ধসের ৬ বছর পার হলেও এখনো অনেক নিহত শ্রমিকের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতিপূরণ। ফলে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে না পারায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি তারা। এমনই হতভাগা শ্রমিকের নাম সালমা বেগম (৩৮), রানা প্লাজার ৮ম তলার নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড কারখানার শ্রমিক।
অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে স্বামীর সঙ্গে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে কাজ নেন তৈরি পোশাক কারখানায়। চাকরি করে নিজের সন্তানদের খাওয়ানোর পাশাপাশি তাদের লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেন সালমা। কিন্তু তার সে আশা বেশিদূর এগোতে পারেনি। ২০১৩ সালে ২৪শে এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টায় হঠাৎ বিকট শব্দে ধসে পড়ে তার কর্মস্থল রানা প্লাজা। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা পর ধসে পড়া ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়ে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজেকে আবিস্কার করেন এই নারী শ্রমিক। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেয়ার পর স্থানান্তর হন পক্ষাঘাতগ্রস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে। মেরুদণ্ডের হাড় থেকে জেলি বের হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা বেশি ভালো নেই। কোনো রকমে ওষুধ খেয়ে এবং থেরাপি দিয়ে কিছুটা ভালো থাকলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক। এ সমস্যার কারণে তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এবং ঝুঁকেও কাজ করতে পারেন না। সমস্যা আর অভাবের সংসারে দু’সন্তানকে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে তাদেরকে ছেড়ে গেছেন পাষণ্ড স্বামী বাক্কার মিয়া।
এখন দু’সন্তান নিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন সালমা বেগম। এগারো বছরের মেয়ে জলি আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে ৫ শ্রেণিতে পড়লেও অর্থাভাবে তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া দু’বছরের ছেলেকে দুধ খাওয়ানোর জন্য হাত পাততে হচ্ছে অন্যের কাছে। কোনো রকমে চেয়েচিন্তে একটি দুধের পট কিনে সপ্তাহখানেক খাওয়াতে পারেন ছেলেকে। সেটাও সব সময় সম্ভব না হলে না খেয়েই থাকতে হয় ওই শিশুটিকে। সবকিছু মিলিয়ে তিনি বলেন, নিজেই যেখানে অর্থের জন্য চিকিৎসা করাতে পারছি না সেখানে  ছেলেমেয়ের যত্ন নেবো কীভাবে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা মিলেনি তার ভাগ্যে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলো যা অনেক আগেই চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে গেছে। এখন দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে আমি কি করবো, আর কি খাবো? এদিকে আমার মাও অসুস্থ। তাকেও আমার দেখতে হয়। চিকিৎসক  মোস্তফা কামাল বলেন, সালমা আক্তারের আঘাত শতভাগ ভালো হওয়া সম্ভব নয়। তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলাফেরা করলে এটাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অনেক সময় ব্যথা অসহনীয় মনে হলে অপারেশন করা হয়। কিন্তু সেখানেও ঝুঁকি থেকে যায়। তাই এ আঘাতের জন্য নিয়মিত ব্যথার ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিও থেরাপি নিতে হবে।  পারুল আক্তার (২৮), সে রানা প্লাজার ৫ম তলার প্যান্টম টেক্স লিমিটেড কারখানার সুইং অপারেটর ছিলেন।
ভবন ধসের সময় দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর কি হয়েছে আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি। মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার ধামসোরা গ্রামের মো. ইয়াসিন মিয়ার স্ত্রী পারুল আক্তার। স্বামীর সঙ্গে সাভারে ভাড়া বাসায় থেকে সংসারে সচ্ছলতা আনতে রানা প্লাজায় কাজ করতো বলে সে জানায়। ৬ বছর পার হতে চললেও এখনো পুরো সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি পারুল আক্তার। বর্তমানে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত পারুল হঠাৎ ভালো হঠাৎ খারাপ। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় কিছুই মনে থাকে না তার। মাথা এবং মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ খেয়েও তার  কোনো উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ চিকিৎসকের পরামর্শে এক্সরে করে জানতে পারেন তার কিডনিতে পাথর হয়ে গেছে। সেগুলো এমন আকার ধারণ করেছে যে অপারেশনের মাধ্যমে পেট কেটে বের করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না। তবুও অনেক কষ্ট করে সুস্থ হওয়ার আশায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে বেড়ান।
পারুলের স্বামী মো. ইয়াছিনও রানা প্লাজা ধসে গুরুতর আহত হয়ে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ায় এবং মাথায় আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে ছিলেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে বেঁচে থাকার জন্য ঘরে বসে না থেকে একটি  পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। একজনের আয়ে কোনো রকমে একবেলা খেয়ে বেঁচে রয়েছেন তারা। ভবন ধসের ঘটনায় মাত্র এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান পেয়েছিলেন পারুল। যার পুরোটাই ব্যয় করেছে নিজের এবং স্বামীর চিকিৎসার পেছনে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন এ নারী শ্রমিক। বর্তমানে তিনি দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি সহায়তা কামনা করেন। আরেক শ্রমিক ধসে পড়া রানা প্লাজার ৮ম তলার নিউ ওয়েভ স্টাইল কারখানার লিপি আক্তার (৪০) ভবন ধসের ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এখনো সঠিক চিকিৎসার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। তবে টাকার অভাবে তিনি ওষুধ কিংবা পথ্য কিনে খেতে পারছেন না। লিপি আক্তার বলেন,  মেরুদণ্ডে ব্যথার কারণে অনেক জ্বালাপোড়া করে। এজন্য ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না, আবার বেশিক্ষণ বসেও থাকতে পারি না। অসুস্থতার কারণে মুখে রুচি না থাকায় খাইতেও পারি না। তবুও বাঁচার তাগিদে জোর করে কিছু খাওয়ার চেষ্টা করি। তাতেও রক্ষা নাই, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বমি হয়ে যায়। সাভারের সিআরপি এলাকায় কথা হয় লিপি আক্তারের সঙ্গে। বর্তমানে সাভার পৌর এলাকার আড়াপাড়া রশিদ মেম্বারের মোড় এলাকায় রিকশাচালক স্বামীর সঙ্গে ভাড়া থাকেন তিনি। কষ্টের সঙ্গে বলেন, সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী আমার স্বামী।
সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাদের। এর মধ্যে প্রতি মাসে শুধু ঘর ভাড়াই দিতে হয় তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বামীর সামান্য আয়ে তার সংসার চলে না। এরপরও কোনো রকমে দু’মুঠো খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তাই দুঃখের সঙ্গে তিনি বলেন, টাকার অভাবে ঠিকমতো ওষুধই খেতে পারছি না। আবার পথ্য খাবো কীভাবে। শুধু ওষুধ খেলেই তো সুস্থ হওয়া যায় না। এর পাশাপাশি অন্য কিছু খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।  বর্তমানে আহত শ্রমিকদের একটাই চাওয়া, সুস্থ হয়ে কাজ করে হলেও দু’বেলা খেয়ে পড়ে বাঁচতে চান তারা। কিন্তু সঠিক চিকিৎসার অভাবে তাদের সে আশার কোনো ফল দেখতে পারছে না। তাই সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভবন ধসের ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত বিচারের দাবি করেছেন রানা প্লাজার আহত শ্রমিকরা।

মন্ত্রণালয়ের সামারি লিখছেন কারা, নানা প্রশ্ন by দীন ইসলাম

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সামারি (সার সংক্ষেপ) লিখছেন কারা? এমন প্রশ্ন এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন সামারি লিখতে চান না। মেধা শুন্যতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এ কাজে নিয়োজিত করছেন। এর বাইরে সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সামারি তৈরির জন্য ডেকে আনা হচ্ছে। ‘বাইরের’ লোক দিয়ে সামারি তৈরির কারণে এগুলো থাকছে ভুলে ভরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  মন্ত্রিসভা, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো তাদের এজেন্ডার উপস্থাপন করে থাকে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা তাদের এজেন্ডা সার সংক্ষেপ পড়ে শোনান।
এসব সামারি বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া হয়। সামারিতে ভুল থাকায় অনেক সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের সার সংক্ষেপ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলো তৈরি করে দিচ্ছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপিত সার সংক্ষেপেও মন্ত্রণালয় হাত না দেয়ার নজির রয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অধিকাংশই দাপ্তরিক কাজের চেয়ে নিজের পদ-পদবি ঠিক রাখতে ব্যস্ত। রুলস অব বিজনেসসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সার-সংক্ষেপগুলোতে প্রায়ই নানা ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ছে। সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো সচিবের দক্ষতা ও উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ দেখে কখনও কখনও খোদ প্রধানমন্ত্রীই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সংকটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে সচিবদের সতর্ক করে এর আগেও একাধিক বার চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে এ পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সারসংক্ষেপে ব্যাপক ভুল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি নির্ভুলভাবে সারসংক্ষেপ পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়। ১৪ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) দেওয়ান ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। কিছু সারসংক্ষেপ ক্রটিপূর্ণ হওয়ায় তা নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় সার-সংক্ষেপ প্রস্তুতকালে এ সংক্রান্ত সচিবালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এর আগে ২০১৩ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই সময়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে ইতালীতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত) আবদুস সোবহান সিকদার কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে সতর্ক থেকে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছিলেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল বেশিরভাগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তসহ সুস্পষ্ট ও  যৌক্তিক মতামত থাকে না। প্রস্তাবের ফরোয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংযুক্ত থাকে না। প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোর হালনাগাদ কপি পাঠানো হয় না। পদ সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও স্থায়ীকরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত শর্তাদি যথারীতি প্রতিপালন করা হয় না। এমনকি প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সিনিয়র সচিবের স্বাক্ষর থাকে না। এছাড়া ২০১২ সালের ১১ই নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের এক সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এজন্য সারসংক্ষেপ তৈরিতে আরও সতর্কতা এবং পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে নথি পাঠানোর অনুরোধ করে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে ভুল-ভ্রান্তি থাকায় তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর ঘটনা অহরহই ঘটছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিজেরা সামারি তৈরি না করার কারণে একই ভুল বার বার থেকে যাচ্ছে। কারণ যারা সামারি তৈরি করছে তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এজন্য একই ভুল থেকে যাচ্ছে।