Friday, July 12, 2019

নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা

দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, যমুনা, সুরমা, সুগন্ধা, বিষখালী, যমুনা, কুশিয়ারা, সারি, লোভাছড়া, কর্ণফুলী, কাচালং, মাইনী ও রাইংক্ষিয়ং নদীতে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব অঞ্চলে বন্যার পানি বেড়ে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দেশের রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এসব নদীতে ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে।

রংপুরের পীরগাছায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে অস্বাভাবিক হারে পানি বেড়েছে তিস্তা নদীতে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিতসহ দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। তিস্তা নদীর ভাঙনে পাঁচটি গ্রাম, দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং একটি ক্লিনিক হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এসব এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছে।

সরেজমিনে ওই ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন হুমকির মুখে। নদী ভাঙনের কালো থাবা হাত বাড়িয়েছে বিদ্যালয়টির দিকে। ভাঙন দূরত্ব কমতে কমতে এখন বিদ্যালয়টি নদীর মুখে। আর মাত্র ৪০ ফুট অংশ ভাঙলেই তিস্তায় তলিয়ে যাবে বিদ্যালয়টি। ওই বিদ্যালয়টি কয়েক বছর আগেও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়।

পরে স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান স্থানে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারো বিদ্যায়টি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। এই স্কুলে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এখন ভয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন বলেন, নদী ভাঙন বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যেকোন সময় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

২০১৭ সালে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের পূর্ব শিবদেব চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির দ্বিতল ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তারপর থেকেই ভাঙনকৃত বিদ্যালয়ের অদূরের বাজারে একটি টিন শেড নির্মাণ করে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় ওই বিদ্যালয়টির অস্থায়ী শেডটিও হুমকীর মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পাশের শিবদেব কমিউনিটি ক্লিনিকটিও বিলীনের আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফসলী জমিসহ বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। বারবার নদী ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন আশ্রয় হারিয়ে অন্যের ভিটায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। স্থানীয়ভাবে কাজকর্ম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পাড়ে অবস্থিত গাবুড়ার চর, শিবদের চর, কিশামত ছাওলা, পূর্ব হাগুরিয়া হাশিম, ছাওলা ও চর কাশিম গ্রাম তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতি বছর নদী পাড়ের লোকজনদের।

তারা জানান, ছাওলার ১০নং বোল্ডারের পাড় থেকে আরও ৩ কিলোমিটার বোল্ডার দিয়ে বাধঁ নির্মাণ করে নদী শাসন করলে এ গ্রামগুলো রক্ষা হতো। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ১নং ও ২নং বেড়ি বাধঁ নির্মাণ করলেও বাঁধের পূর্ব পাড়ের গ্রামগুলো বন্যা ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।

তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হাসান আলী জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে। এ অঞ্চলে গত ৫ বছরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমিসহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, বন্যার কারণে সদ্য রোপনকৃত আউশ ধান ও আমন বীজতলাসহ প্রায় ১৫ হেক্টর জমির রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সহযোগীতা করা হবে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিপাতের ফলে বগুড়ায় সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার চর এলাকার ৬টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাকসবজির খেত। তবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের তেলিগাড়ী ও শিমুলদাইড় গ্রামে নদী ভাঙ্গনে জমি জমা ও বাড়ীঘর যমুনা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।

গত ছয়দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির চারটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি, লংগদু বরকল ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্ধী হয়ে আছে।

কর্ণফুলীর শাখা কাচালং, মাইনী ও রাইংক্ষিয়ং নদীতে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ৯০ এমএসএল অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুক্রবার টানা ছয়দিনেও হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। পাহাড়ী ঢলে বিলাইছড়ি উপজেলার ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বসত বাড়ী দোকানপাট পানিতে ঢুবে গেছে এবং জমির ফসল ফসলে ক্ষতি হয়েছে। ফারুয়া ইউনিয়নের চাইন্দ, উলুছড়ি, তক্তানালা, ওরাছড়ি, গোয়াইনছড়ি,এগুজ্যাছড়ি লত্যছড়ি গ্রামসহ ফারুয়া বাজারের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা দূর্গত সকলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ভারি বষর্ণের কারণে বিলাইছড়ি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনসাধারণ ২ টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয় ও উপেজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের রাতের খাবার বিতরণ করা হয়।

সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণের কারণে লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের পিছনের বাউন্ডারি ওয়ালসহ মাটি ধসে পড়েছে। ফলে স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অচিরেই মাটি ধসের ব্যবস্থা করা না গেলে স্কুলের ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রবীর কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ধরে রাখার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষে যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় লংগদু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাইনীমুখ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ কামাল পাশা উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকে ৫ ফুট মীন সি লেভেল (এমএসএল) পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। এই পানি বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে বলে কাপ্তাই বিদ্যুত কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে। গতকাল (১১ জুলাই) রাত ১১টার সময় কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী এখন (১১ জুলাই) কাপ্তাই লেকে পানি থাকার কথা ৮৫ ফুট এমএসএল। কিন্তু লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ৯০ ফুট এমএসএলেরও বেশি। বৃষ্টি শুরুর আগে লেকে পানির পরিমাণ ছিল ৭৮ ফুট এমএসএল।

কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার প্রকৌশলী এটিএম আব্দুজ্জাহের। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে লেকে পানি কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। পানি বৃদ্ধির সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হয়। পানি বৃদ্ধির আগে প্রতিদিন একটি জেনারেটর চালানো হতো। আর একটি জেনারেটর থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পানি বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে তিনটি জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। আর এই তিনটি জেনারেটর থেকে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। যার পুরোটাই জাতীয় সঞ্চালন গ্রীডে সরবরাহ করা হয়। উজান থেকে যে হারে পানি নেমে আসছে তাতে লেকের পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছয় দিনের টানা বর্ষণে জুরাছড়ি উপজেলা মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার মিতিংগাছড়ি, ডেবাছড়া, কুসুমছড়ি, ঘিলাতলী, বারাবান্যা, শীলছড়ি, ঘিলাতলী, শুকনাছড়ি, চুমাচুমিসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ঝুঁকির মধ্যে বসবাসকারী সকল জনগনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।শুক্রবার প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাফুজুর রহমান। এসময় থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুল হাইসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা।

এদিকে বাঘাইছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে জেলা পরিষদ হতে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাঘাইছড়িতে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে নগদ ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।

টানা ৫ দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুরমার পানি দুই পাড় উপচে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংশ্লীষ্টরা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে জামারগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, দিরাই, শাল্লা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বন্যায় ৬ উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই উপজেলাগুলোর ৫০ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৯২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ধর্মপাশা ও সুনামগঞ্জ সদরের নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখন দুর্ভোগে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল, সদর উপজেলার গৌরারং, মোহনপুর ও সুরমা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সুরমা নদীর পানি কূল উপচে শহরের কাজির পয়েন্টে, নবীনগর, উত্তর আরপিন নগর, উকিলপাড়া, তেঘরিয়া সহ কয়েকটি এলাকা দিয়ে ঢুকে শহর এবং শহরতলিতেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন রুমা বলেন, উপজেলার ১০টি স্কুলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গৌরারং ইউনিয়নের বন্যার্তদের জন্য আড়াই টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস জানান, উপজেলার রঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফতেপুরের হাজী মজিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কিছু বন্যার্তরা ওখানে আশ্রয়ও নিয়েছেন। অন্যান্য এলাকার পানিবন্দি মানুষের জন্য বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ জানান, তাহিরপুর উপজেলা ৭ ইউনিয়নেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় ২ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি আংশিক-সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকে দিনে প্রায় ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ত্রাণ হিসেবে বিতরণ হয়েছে। ৩৯ টন চালের মধ্যে ১৬ টন চাল তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে বিতরণ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সব চাল বিতরণ করা হবে। বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য সেল্টার হিসেবে উচু স্কুলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আপাদত সব স্কুল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখার জন্য বলেছি।

দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর, সুরমা, ভোগলা, বাংলাবাজার, নরসিংহপুর এবং দোয়ারা সদর ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। দোয়ারাবাজার-ছাতক উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থান ডুবে যাওয়ায় এই সড়ক দিয়ে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কের মাঝেরগাঁও, মংলারগাঁও ও নৈনগাঁও এলাকায় হাটু থেকে কোমর সমান পানি।

জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার প্রধান সড়ক জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের নতুনপাড়ার মুল রাস্তায় পানি থাকায় যাত্রী ও বাসা বড়িরে লোকজন চলাচলে চরম দুর্ভো পোহাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের নিয়ামতপুর, ইচ্ছারচর, বেরাজালী, সেলমস্তপুর ও কলাইয়া অংশে হাটু থেকে কোমর সমান পানি। উপজেলার ফেনারবাঁক, ভীমখালী, বেহেলী, সাচনাবাজার, উত্তর ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে অনেক মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, সুরমা নদীর পানি বিকাল ৩ টায় বিপদ সীমার ৯৭ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টি এবং পাহাড়ী ঢল অব্যাহত থাকায় দ্রুত পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেছেন, জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের স্কুলে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার দিনভর বৃষ্টির কারণে নতুন করে সিলেট ও সুমানগঞ্জের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে এই দুই জেলার বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোলাগঞ্জ, ধলাই, বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ের কোয়ারীগুলোতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও আজ তা অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল বিপদ সীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে পানি প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ১০.৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। বন্যার পানিতে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বালাগঞ্জসহ আরো কয়েকটি উপজেলার নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ঢল ও বর্ষণে জেলার ৮ উপজেলার অন্তত ১৯৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬টি উপজেলার ৫০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়/মাদ্রাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আরো শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকলে জেলার অধিকাংশ উপজেলার প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে বন্যায় কবিলত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে জেলার সদর উপজেলায় ২২টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৩টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ৫৯টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৩০টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৭টি, দোয়াবাজার উপজেলায় ১৮টি, ছাতক উপজেলায় ১০টি এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায়। শুক্রবার সকালে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দীগলবাক এলাকায় পানির তীব্র বেগের ফলে কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে গেছে। এ জন্য ওই এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। দীগলভাগ, কোনাশালেশ্বর ও বালিঙ্গা এলাকার চলাচলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ৬০টি বিদ্যালয়ে পাঠদান। ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার গিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

অন্যদিকে ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারনে বন্যা আশংকা দেখা দিয়েছে উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়ন এলাকায়।  গোয়াইঘাট উপজেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্ত। গত দুই দিনের টানা বর্ষণের ফলে নতুন করে বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদূর্গত মানুষের মধ্যে ১৮ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল তিন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। সকল উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে ঝালকাঠির জন-জীবন। বৃষ্টি ও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে শহরের রাস্তাঘাট ও গ্রামের ফসলের ক্ষেতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট বেড়েছে। পানিতে কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিপর্যস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পানি বৃদ্ধির ফলে নলছিটি-ষাইটপাকিয়া ও কাঁঠালিয়ার আমুয়া ফেরি ঘাটে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, অফিসের সামনে বৃষ্টির পানি জমে আছে। পানি নেমে যাওয়ার কোন যায়গা নেই। অফিসে ঢুকতে হলে পানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মারাত্নক অসুবিধা হচ্ছে।

ইসরায়েলের লড়াই সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে: লিবারম্যান

সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান মন্তব্য করেছেন, তার দেশের লড়াই কেবল ফিলিস্তিন নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে। সোমবার এক নির্বাচনি প্রচারে বেইতুনু দলের এই শীর্ষনেতা বলেন, দেশের অভ্যন্তরে থাকা আরব জনগণের সঙ্গে সংকট নিরসনের আগ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে আসন্ন নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের কিরিয়াত ওনো শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারম্যান। সংবাদমাধ্যমের জন্য ওই সভা নিষিদ্ধ থাকলেও টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার ওয়েবসাইটে নিজের বক্তব্য প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছেন লিবারম্যান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আমাদের পৃথক কোনও সংঘাত নেই। যারা সেই সংঘাতের কথা বলছে, হয় তারা ভেবেচিন্তে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, নয়তো কী বলছে তা বুঝতে পারছে না।’
আরবের ২২টি দেশ ও বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম ধর্মাবলম্বীকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন,‘আমাদের লড়াই পুরো মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে, সমগ্র আরব বিশ্বের সঙ্গে’। তার ভাষ্য, ‘এই লড়াই ত্রিমাত্রিক। প্রথমত আরব দেশগুলোর সঙ্গে, দ্বিতীয়ত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এবং তৃতীয়ত ইসরায়েলি আরবদের সঙ্গে।’
লিবারম্যানের মতে, আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে লড়াইটাই সবচেয়ে কঠিন। সে কারণে যেকোনও পদক্ষেপও হতে হবে ত্রিমাত্রিক। লিবারম্যান বলেন, আলাদা করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বা ইসরায়েলের আরবদের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ আরব জনগোষ্ঠীর। সোমবার আরব আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) এমন নির্বাচিত প্রতিনিধি ইসরায়েল মেনে নেয়, যাদের অবস্থান শত্রুদের পক্ষে।

শ্রীলংকার আইজিপি ও প্রতিরক্ষাসচিবকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে

যদি বলা হয়, শ্রীলঙ্কায় শ্রীলঙ্কানরা রহস্যময় সময় অতিক্রম করছে, তবে কমই বলা হবে। দ্বীপ দেশটিতে রাজনৈতিক চক্রান্ত নিয়মেই পরিণত হয়ে গেছে। তবে ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর থেকে বিভ্রান্তির চাদর পুরো দেশকে ছেয়ে ফেলেছে, গতকাল যারা ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা আর প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিচালনার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, আজ তারা নিজেরাই কারাবন্দী।
গত সপ্তাহে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পুজিথা জয়াসুন্দরাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সাথে প্রতিরক্ষাসচিব হেমাসিরি ফারনান্ডোকেও আটক করা হয়। ইস্টার সানডে হামলার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় ২৫০ জন নিহত ও ৫ শতাধিক লোক আহত হয়। আইএসআইএয়ের ওই হামলা সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে খুনে জড়িত থাকা এবং তাদের অবহেলার কারণেই এত মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে আইজিপি ও প্রতিরক্ষাসচিবকে গ্রেফতার করা আসলে শ্রীলঙ্কার তালগোল পাকানোর রাজনৈতিক সঙ্কটের একটি সামান্য অংশমাত্র।
দেশটির প্রেসিডেন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রীর তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। হামলা তদন্তে পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট।
মজার ব্যাপার হলো, দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট এখন ২০১৭ সালের একটি ঘটনা তদন্তে নেমেছে। ওই ঘটনায় আইজিপির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে পুলিশ সদরদফতরে লিফট অপারেটর হিসেবে দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে আক্রমণ করেছিলেন এই আইজিপি। ঘটনাটি ঘটার অল্প সময়ের মধ্যেই তা চাপা পড়ে গিয়েছিল। এখন আবার তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকেরা অবশ্য অস্বীকার করছেন না যে ইস্টার সানডে হামলার আগে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে অবহেলার কারণে আইজিপি ও প্রতিরক্ষাসচিবকে আইনের আওতায় আনা উচিত, কিন্তু যে অন্তঃদ্বন্দ্ব, ইগো, দুর্নীতির কারণে ইস্টার হামলার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল, তাতে করে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ বেশিই হয়ে যায়।
পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার কারণেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন, তিনি পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটি (পিএসসি)’র সামনে হাজির হবেন না। তিনি বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড বিধান প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেদের দেশের ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাদক সমস্যাকে বিবেচনা করছেন।
ইস্টার সন্ত্রাসের মূল হোতা জারান হাশিমের সঙ্গে কথিত সংযোগের অভিযোগে কয়েকজন শীর্ষ মুসলিম রাজনীতিকের বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োজিত পিএসসি উল্লেখ করে যে হাসিশের হুমকির মুখে ছিলেন মুসলিম রাজনীতিকরা।
আইজিপি পুজিথা জয়াসুন্দরাকে ও সাবেক প্রতিরক্ষাসচিব হেমাসিরি ফারনান্ডো

দলিত ছেলেকে বিয়ে, মেয়েকে খুন করতে গুন্ডা পাঠিয়েছেন বিজেপি নেতা

মেয়ের বাবা ক্ষমতাসীন দলের নেতা। অন্যদিকে ছেলের পরিবার নিচু জাতের। কিন্তু প্রেমের টানে শ্রেণি-বৈষম্য ভুলে গিয়ে দু’জনে আবদ্ধ হয়েছেন বিয়ের বন্ধনে। কিন্তু অমতে বিয়ে করায় মেয়ে ও তার স্বামীকে মারতে গুন্ডা পাঠিয়েছেন ক্ষমতাধর বাবা। শুনতে অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো হলেও, আদতে বাস্তবেই ঘটেছে এই ঘটনা। বাবা-ভাইয়ের রোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়কের মেয়ে সাক্ষী। এ খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
খবরে বলা হয়, দলিত ছেলেকে বিয়ে করে বাবা-ভাইয়ের রোষানলে পড়েছেন ২৩ বছর বয়সী সাক্ষী। তার বাবা রাজেশ মিশ্র বিজেপি বিধায়ক।
তিনি ও তার ব্যবসায়ী স্বামী অজিতেশ কুমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন সাক্ষীর বাবা রাজেশ। এমনকি তাদের খুন করতে ভাড়াটে গুণ্ডাও পাঠিয়েছেন। ভয় দেখানো হচ্ছে অজিতেশের পরিবারকে। বাবার সাথে এসব কাজে জড়িত সাক্ষীর ভাই ভিকিও। সম্প্রতি তাদের নিস্তার দিতে বাবা, ভাইয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও পোস্ট করেছেন।
সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা যায় অজিতেশের পাশে বসে আছেন সাক্ষী। বাবা, ভাইয়ের উদ্দেশে বলছেন, বাবা, আমার বিয়ে মেনে নাও। যে গুন্ডাকে পাঠিয়েছ, আমাদের কিছু হলে সেই রাজীব রানার পুরো খানদান জেলে যাবে। পালাতে পালাতে আমি ক্লান্ত। বাবা এবং ভিকি, মাননীয় এমএলএ পাপ্পু ভারতৌলজি এবং ভিকি ভারতৌলজি, নিজেরা শান্তিতে থাকো, যত খুশি রাজনীতি করো, আমাদেরও শান্তিতে থাকতে দাও।
ভিডিওতে অজিতেশ বলেন, একটা হোটেলে উঠেছিলাম। প্রচুর লোক এসেছিল আমাদের মেরে ফেলতে। ভাগ্য ভাল, সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাই। আমি দলিত পরিবারের ছেলে। তাই নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে এই সব করছে। 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওতে সাহায্য চাওয়া ছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও আবেদন জানিয়েছেন নবদম্পতি।
অন্য একটি ভিডিওতে সাক্ষীকে বাবার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, বাবা, আমি সত্যিই বিয়ে করেছি। ফ্যাশন করে সিঁদুর পরিনি। দয়া করে মেনে নাও। অজিতেশের বাড়ির লোকজনকে ভয় দেখানো বন্ধ করো। বাবা, অজিতেশরাও মানুষ, জানোয়ার নয়। নিজের চিন্তাভাবনা বদলাও।
সাক্ষীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। এদিকে, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি দেখেছে। এই দম্পতিকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অজিতেশের বাড়ির সামনে প্রহরা বসানো হয়েছে। তবে ওই দম্পতি কোথায়, তা তারা জানে না।
এদিকে, সাক্ষীর সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা ভাই। সাংবাদিকদের কাছে তার দাবি, সব রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমি বিয়ের বিরোধী নই। একটাই চিন্তা, ছেলেটি মেয়ের থেকে ৯ বছরেরও বেশি বড়। তেমন রোজগারও করে না। আমি চাই, ওরা বাড়ি ফিরে আসুক। এখানে উল্লেখ্য, তার বির”দ্ধে ইতোমধ্যে চারটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

মোদির গো–গোঁয়ার্তুমিতে দিশেহারা কৃষক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেই বলেছিলেন, গোরক্ষা হচ্ছে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ। ব্যস, বন্ধ করে দিলেন গোহত্যা। এতে গোকুল ফুলফেঁপে অনেক হয়ে গেল। আর কৃষকের খেতখামারে গিয়ে হামলে পড়তে লাগল। চাষবাস শিকেয় ওঠার জোগাড় কৃষকদের।
যে ফসল কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগাবে, সে ফসলই যে সাবাড় করে দিচ্ছে গরু। দুই কূল রক্ষা করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে রঘুবীর সিং মিনারের মতো কৃষকদের।
এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে কৃষকের বিপুল সমর্থন পেয়েছিল মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে ক্ষমতায় এসে দলটির গরু রক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরু হিন্দুধর্মের জন্য পবিত্র বিষয়। তাই হিন্দু কৃষকেরা পড়েছেন উভয়সংকটে। গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা নির্বাচন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে নিজের মটরখেতের দিকে তাকিয়ে সেই কথাই জানালেন পশ্চিম ভারতের রাজস্থান রাজ্যের পিলানি জেলার হিন্দু কৃষক রঘুবীর সিং মিনা। তিনি বলেন, ‘সব চেষ্টাই করেছি। কাকতাড়ুয়া বসিয়েছি, কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি। কিন্তু যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো গরুগুলো আমাদের ফসল খাওয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না।’
বিজেপি সরকারকে ইঙ্গিত করে রঘুবীর সিং বলেন, ‘তারা তাদের রাজনীতির খেলা খেলছে। তারা গরিব কৃষকদের কথা ভাবে না।’ এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে লড়ছেন নরেন্দ্র মোদি।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় বসার আগেও গরু জবাই ও মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল রাজস্থানসহ আরও অনেক রাজ্যে। যদিও কাগজে-কলমে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির জনসংখ্যার বিপুলসংখ্যক মুসলিম ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। অথচ গরু রক্ষায় আইন আগের চেয়েও কঠোর হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনে সাজাও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার দেশটি জুড়ে মাংসের জন্য গরুর ব্যবসা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। তবে এই একটি বিষয়ই আটকে দেন সুপ্রিম কোর্ট।
সমালোচকদের ভাষ্য, বিজেপি ‘হিন্দুত্ববাদ’ আরোপের মিশন নিয়ে নেমেছে। ১২৫ কোটি জনসংখ্যার শক্তিশালী দেশ ভারতে প্রভুত্ব থাকবে হিন্দুদের। সমালোচকেরা সতর্ক করেছেন এই বলে যে গরুকে কেন্দ্র করে বিজেপি গ্রামের প্রান্তিক হিন্দু মাতবরদেরও সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাতে দুঃসাহসী করে তুলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালের মে মাস থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত গরুকে কেন্দ্র করে ভারতে ৪৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন রাজস্থানের।
বিজেপি বলেছে, তারা এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। কিন্তু হামলার ভয় ও কঠোর আইন গরু–বাণিজ্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এ কারণে কৃষকেরা মাংসের জন্য বিক্রি না করে বুড়ো গরুগুলোকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো গরুর সংখ্যা প্রচুর বেড়ে গেছে। এসব গরুর কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, গ্রামীণ জনপদ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভারতে ৭০ শতাংশ মানুষ বাস করে গ্রামীণ এলাকায়।
২০১২ সালে দেশটির গবাদিপশু–সংক্রান্ত জরিপে বলা হয়েছে, ছুটকো বা ভবঘুরে গরুর সংখ্যা ৫২ লাখ। প্রতি ১০ বছর পরপর এ জরিপ চালানো হয়। তাই এ সময়ে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা যায়।
মোদি ক্ষমতায় আসার পর গ্রাম ও শহরের ব্যস্ত সড়কে গরুগুলোকে অবাধে বিচরণ করতে দেখা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেগুলো প্লাস্টিক বা আবর্জনা খায় বা জাবর কাটতে থাকে।
২০১৫ সালে সরকারের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো গরুর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
রাজস্থানের চুরু জেলার সাবেক গ্রামপ্রধান সুমের সিং পুনিয়া বলেন, গরুর সুরক্ষা থাকায় কেউ সেগুলোকে ছোঁয়ারও সাহস করেন না। গরুর আশ্রয়কেন্দ্রও যথেষ্ট পরিমাণে নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোতে এত ঠাসাঠাসি করে গরু রাখা হয় যে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো গরু মরে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হিন্দু। আমরা গরুকে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু আমাদের এত সংখ্যক গরু রাখা ও খাওয়ানোর মতো সামর্থ্য নেই। আমাদের নিজেদের খাবার জোগাতেই টানাটানি চলে।’
ভোটারদের অসন্তুষ্টি গতকালের ভোটও সাক্ষ্য দিয়েছে। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মতো বড় কৃষি অঞ্চলে কংগ্রেসের কাছে হেরেছে বিজেপি।
রাজস্থানে দেশটির একমাত্র ‘গরু মন্ত্রী’ও বিতাড়িত হয়েছেন। ২০১৪ সালের পর এটাকে বড় ধরনের বাঁক পরিবর্তন বলা যায়। সেবার ২৬ কোটি ২০ লাখ কৃষক বিজেপিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষি খাতের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবার বিজেপি।
ফসল বাঁচাতে, বিশেষ করে শস্য কাটার মৌসুমে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভবঘুরে গরুর পাল রাখার জন্য গ্রামবাসীর যাঁরা অর্থ জমা দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন সেই অর্থ তুলে নিচ্ছেন। গরুর হাত থেকে ফসল রক্ষায় উত্তরাঞ্চলের রাজ্য উত্তর প্রদেশের কৃষকেরা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে জেলার স্কুলগুলোতে গড়ে তোলা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরুগুলো আটকে রাখার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন।
পিলানির সামাজিক সংগঠন গ্রাম্য ভারত জনচেতনা যাত্রার প্রধান সন্দীপ কাজলা এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অবশ্যই ভবঘুরে গরুর ইস্যুটি রাখা উচিত ছিল। একজন কৃষক একটি গরু দেখভাল করতে পারেন। কিন্তু সেখানে শত শত গরু ঘুরে বেড়ায়।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গুরপ্রিত মহাজনের ভাষায়, গরু নিয়ে বিবাদেই ধরা খেয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, প্রত্যেকের এই একটি বিশেষ বিষয় (গরু) নিয়ে কী করা যায় এবং কীভাবে সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে কোনো ভাবনা রয়েছে।’

ইসলামী পর্যটনকে বিশ্বব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসেবে বিকশিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামী পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক প্রয়াস ও রোডম্যাপের প্রয়োজন অতি জরুরি। কারণ এর বাজার বার্ষিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ তা ২৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। গতকাল সকালে রাজধানীতে ‘ঢাকা দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বলেন, আমি মনে করি মুসলিম উম্মাহর একসঙ্গে কাজ করা একান্তভাবে প্রয়োজন।
যাতে আমরা সারা বিশ্বে সকলের সঙ্গে সমপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একত্রে চলতে পারি। নিজেদের যে কোন সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। যাতে করে অন্য কেউ মুসলমানদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী আন্তঃওআইসি পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটির সদস্যভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পর্যটনকেন্দ্রিক খাতগুলোর মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ওআইসিভূক্ত দেশগুলোর মুসলিম পর্যটক এবং পাশ্চাত্য দেশগুলোর জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্রতট কক্সবাজারে পৃথক পর্যটন স্পট তৈরির প্রস্তাব করেন।
তিনি বঙ্গপোসাগরের নিকটবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নৌ-ট্যুরিজম রুট তৈরির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র.আ.ম ঔবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মন্ত্রণালয়টির সচিব এম মহিবুল হক এবং ওআইসি’র সহকারী মহাসচিব মুসা কুলাকলিকায়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ৪শ’ বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য ও নিদর্শন নিয়ে একটি অডিও ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দপ্তর ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারগণ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অনুষ্ঠানে যোগদানকারী প্রায় ৩০টি দেশের পর্যটন মন্ত্রী ও তাদের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ওআইসি’র পর্যটন মন্ত্রীদের ১০ম সম্মেলনে গৃহীত ঢাকা ঘোষণায় ঢাকাকে ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ৪ ওআইসিভূক্ত রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শীর্ষস্থান দখল করে ঢাকা। সম্মেলনে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আজারবাইজানের ’গাবালা’কে ২০২০ সালের সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঢাকাকে সিটি অব ট্যুরিজ্যম ঘোষণাকে উদযাপনের জন্য বৃহস্পতি ও শুক্রবার বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুসলিম নিদর্শনগুলো পরিদর্শন, কনসার্ট এবং হাতির ঝিলে লেজার শো এবং আতশবাজীর প্রদর্শন করা হবে। ওআইসি’র ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে মুসলিম ট্যুরিস্টের সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ‘ইসলামী অর্থনীতি’ সম্পর্কে বলেন, ‘এটি বর্তমানে নবরূপে বিকাশ লাভ করছে। হালাল ফুডস, ইসলামী ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি হচ্ছে ইসলামিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। এ খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভূক্ত রাষ্ট্রসমূহের সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্ত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশি পর্যটনের পুনর্জাগরন দেখছে দ্য ইকোনমিস্ট

তানভির আরেফিন লিঙ্কন যখন পাহাড়ঘেঁষা চা-রাজ্য শ্রীমঙ্গলের বনে শান্তি বাড়ি ইকোরিসোর্ট গড়ে তোলেন, তখন সেখানে আসা অতিথিদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশী। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সেখানে ছিল অপ্রতুল। ফলে স্থানীয়রা এতে আগ্রহী ছিলেন না। তারা বলতেন, ‘টিভি কোথায়? এসি কোথায়? কেন আমরা শুধু শুধু টাকা ঢালবো?’ লিঙ্কন জবাবে বলতেন, ’ঝোঁনাকি পোকা, খোলা আকাশের নিচে বসে চাঁদ-তারা দেখার জন্য টাকা খরচ করবেন। বিলাসী পরিবেশের জন্য খরচ করবেন। বিলাসবহুল রুমের জন্য নয়।’ এটা ছিল ৫ বছর আগের ঘটনা। আর এখন শান্তি বাড়ির বেশিরভাগ পর্যটকই বাংলাদেশি। ‘ডোমেস্টিক ট্রাভেলার্স হ্যাভ রিভাইভড বাংলাদেশি ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনের ভূমিকায় এমনটা লিখেছে প্রভাবশালী বৃটিশ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট।
এতে বলা হয়, ২০০০ সালে মাত্র ৩ লাখ বাংলাদেশি নিজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে বেরিয়েছেন। কিন্তু ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা ৭০ লাখে পৌঁছে গেছে। গত বছর ও এই বছর এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরযটন বোর্ডের প্রধান ভূবন বিশ্বাস। তার ভাষায়, ‘ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। এজন্য দায়ী রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে ২০১৬ সালে রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত সেই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তো আছেই। কিন্তু বিদেশীরা ভয়ে না আসলেও, তাদের জায়গা নিয়েছেন স্থানীয় ভ্রমণপিয়াসুরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ রাশিদুল হাসান বলেন, গত ১০ বছর আয় বেড়েছে ৩-৪ গুণ। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আগে পরিবারগুলো কিছু টাকা জমাতে পারলে ঘরের আসবাবপত্রের পেছনে ব্যয় করতো। কিন্তু আয় যেহেতু বেড়েই চলেছে, তারা এখন ছুটিতে বের হচ্ছে, বিভিন্ন সেবাখাতে অর্থ ব্যয় করছে।
শান্তি বাড়ি যাওয়ার পথেই আছে গ্রান্ড সুলতান ও প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট। মার্বেল মোড়ানো ভবন এসব রিসোর্টে। আছে সুইমিং পুল, প্লেস্টেশন সহ গেম রুম।
এমন ব্যায়বহুল হোটেল অন্যত্রও গড়ে উঠছে। বিশেষ করে ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে। কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। তবে শান্তি বাড়ির সাফল্য দেখে বোঝা যায়, পরিবেশবান্ধব ও অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। ঢাকার বাইরেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে খেলাধুলার সুযোগসুবিধা সমেত নানা রিসোর্ট।
প্রথমে স্থানীয়রা আসে, এরপর বিদেশীরাও আসবে। এভাবেই চিন্তা করছে সরকার। কক্সবাজারে বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিশেষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। ভূবন বিশ্বাস বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো বিদেশীরা যাতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তা নিশ্চিত করা। এসব জায়গায় তারা নিজেদের ইচ্ছামতো আচরণ করতে পারবেন, যেটা হয়তো অন্যত্র করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিদেশী পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের দেওয়ার আছে অনেককিছু। তবে বাংলাদেশিরা সম্ভবত এখনও বিকিনি দেখার জন্য প্রস্তুত নয়।’

সরজমিন পিপলস লিজিং: ২০৩৬ কোটি টাকা কীভাবে ফেরত আসবে কেউ জানে না by এম এম মাসুদ

বন্ধ ঘোষণা করা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)-এ ২০৩৬ কোটি টাকা আমানত রেখেছিলেন ৬০০০ গ্রাহক। এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করায় এই আমানত ফিরে পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত গ্রাহকরা। বুধবার প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও বলা হয় গ্রাহকের জমা আমানতের চেয়ে সম্পদ বেশি থাকায় সেই আমানত ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কবে কিভাবে গ্রাহক আমানত ফিরে পাবেন এর কোন তথ্যই তারা পাচ্ছেন না। বন্ধ ঘোষণার পর দিন গতকাল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সরজমিন দেখা যায় অনেক গ্রাহকের ভিড়। তাদের সবারই একই প্রশ্ন জমা রাখা আমানত কবে, কিভাবে ফেরৎ পাওয়া যাবে। মতিঝিলে সিটি সেন্টারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে দেখা যায় কয়েকজন লোক অফিসের সামনে বসে আছেন।
রিসিপশনে ছিলেন একজন কর্মী।
সামনে সোফায় বসা তিন-চারজন লোক। ভেতরের দরজা বন্ধ। রিসিপশনে থাকা কর্মী জানান, অফিসে কোনো কর্মকর্তা নেই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার অফিসে নেই। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নিচের সারির কিছু কর্মকর্তাকে পাওয়া গেলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তারা উদ্বিগ্ন।
আমানতকারীসহ পিপলস লিজিংয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এই বয়সে কোথায় চাকরি খুঁজবেন বা কিভাবে জীবনযাপন করবেন এ নিয়েই চিন্তিত অধিকাংশ কর্মচারী। এছাড়া আমানতকারীদের টাকা কিভাবে ফেরত দেয়া হবে এ বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারেননি পিপলস লিজিংয়ের কেউ।
পিপলস লিজিংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অফিসে অনেক আমানতকারী এসেছেন। আবার ফিরেও গেছেন। তাদের কিভাবে সান্তনা দেব, আমাদের অফিসেই কর্মীর সংখ্যা ২৫০ জন। আমানতকারীদের পাশাপাশি আমরাও এখন হতাশায় রয়েছি।
অফিসে অপেক্ষায় থাকা হাকিম নামের একজন আমানতকারী বলেন, আমাদের একটি সমিতির ৩০ লাখ টাকা পিপলস লিজিংয়ে ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এর মধ্যে ছয় মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। অনেকবার সময় দিয়েছে। কিন্তু টাকা দিচ্ছে না। পত্রিকায় দেখলাম, পিপলস লিজিং বন্ধ করে দেয়া হবে। তাহলে আমাদের আমানতের টাকার কী হবে? আমাদের টাকা কীভাবে দেবে। আমরাতো সব নিয়ম মেনেই আমানত রেখেছি। আমাদের কষ্টের টাকা। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে যাব। এ রকম অনেক আমানতকারী পিপলস লিজিংয়ের মতিঝিল অফিসে এসে ভিড় করছেন।
মিরপুর ১২ থেকে এসেছেন আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, আমার জীবনের শেষ সম্বল ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পিপলস লিজিংয়ে রেখেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানের টাকা রেখে এত বড় বিপদে পড়বো আমি চিন্তাও করতে পারিনি। এখন কোথায় গেলে টাকাটা ফিরে পাব, কিভাবে পাব এবং কত দিনে পাব এ নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছি। দুই বছর আগে চাকরি হারিয়ে এই টাকাটা এখন আমার একমাত্র সম্বল। টাকা ফেরত পেতে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চান আয়েশা খাতুন।
শোয়েব মিয়া নামের আরেক আমানতকারী জানান, এই প্রতিষ্ঠানে এখন আমার ৯ কোটি টাকা রয়েছে। শুধু এখানেই নয়। আমার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আরো অন্যান্য লিজিং কোম্পানিতেও আছে। কিন্তু এই রকম অবস্থা দেখে এখন হতাশ। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রাখা টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু তারাও টাকা দিতে পারছে না। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো আবার বন্ধ হয়ে যায় কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবসায়ন হতে যাওয়া এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তি আমানতকারীদের ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট ৭০০ কোটি টাকা ৬ হাজার সাধারণ গ্রাহকের। অবসায়নের কারণে এইসব ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা কবে নাগাদ আমানতের টাকা ফেরত পাবেন তা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষও বলতে পারছে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই মূলত পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন হচ্ছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের অনুমতিক্রমে এবং হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে পিপলস লিজিং অবসায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে এখনও আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি রয়েছে। ফলে আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
একটি বীমা কোম্পানির নারী কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, পুঁজিবাজারে ১৭ লাখ টাকা হারিয়েছি। তখন ভাবলাম আর শেয়ার ব্যবসা নয়। এবার ব্যাংক টাকা রাখব। এখানে এসেও ধরা খেলাম। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের শুরুতে পিপলস লিজিংয়ে ১২.৬ শতাংশ সুদে ৮ লাখ টাকা ডিপোজিট করি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এই রকম দেউলিয়া হয়ে যাবে তা কখনও ভাবিনি। স্বামীর টাকা এখানে ডিপোজিট করেছি। এখন টাকা ফেরত না পেলে আমার সংসার ভেঙে যাবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখায় আখতার কামাল চৌধুরী নামে এক ব্যাক্তি ৫২ লাখ টাকা ১২ শতাংশ সুদে ডিপোজিট করেন। প্রতিষ্ঠানটির অবসায়নের খবরে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। এখানে এসে কোনো ঊর্ধতন কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।
বন্ধের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনেক আমানতকারী পিপলস লিজিংয়ের অফিসে আসছেন। কিন্তু তথ্য জনানোর মত কোনো কর্মকর্তা অফিসে নেই। প্রতিষ্ঠানটির এমডি সামি হুদার বক্তব্য নেয়ার জন্য গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও কল রিসিভ করেননি।
পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারী বাবলা বলেন, আমি ১৪ লাখ টাকা আমানত রেখেছি। পিপলস লিজিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন খবর শোনার পর প্রথমে গুলশান শাখায় যাই। কারণ আমার ডিপোজিট ওই শাখায় করা। কিন্তু গত দুদিন ধরে তাদের অফিসে কোনো কর্মকর্তা নেই। মতিঝিল শাখায় এসে দেখি একই অবস্থা। সকালে অফিসে এসেছি কথা বলার মত কাউকে পাইনি। একজন অপারেশন ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা হলো উনি বলেন, ধৈর্য ধরেন অবশ্যই টাকা পাবেন। আমার অনেক কষ্টের টাকা জমিয়ে ডিপোজিট রেখেছি, এখন যদি ফেরত না পাই তাহলে মাঠে মারা যাব।
আরেক আমানতকারী কাদের সরকার জানান, বেশি সুদ দেয়ায় ২০১৭ সালে ৮৪ লাখ টাকা আমানত ছিল। অনেক দিন টাকা তোলা যাচ্ছে না। কিছু দিন আগে ১০ লাখ টাকা উঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর থেকে অনেকবার চেষ্টা করেও বাকি টাকা আর ফিরে পাইনি। এখন বন্ধ হয়ে গেলে টাকা ফেরত পাবো কি না আতঙ্কে আছি।
পিপলস লিজিংয়ের কর্মকর্তা শামীম রেজা জানান, আমি মাঠ লেভেলে কাজ করি। কথা বলার মত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে বড় আতঙ্কে আছি আমরাও। কারণ আমাদেরই এখন চাকরি থাকবে না। তিনি বলেন, কোম্পানির অবসায়নের বিষয়টা পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ অফিসে আসছে না।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক: আমানতকারীদের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে কারণে পানির দরে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন অনেক শেয়ারহোল্ডার। কিন্তু ক্রেতার অভাবে হতাশ হতে হচ্ছে তাদের। নামমাত্র অর্থে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছিল ৩ টাকা ৩০ পয়সা। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার ৩০ পয়সা দাম কমে ৩ টাকা লেনদেন শুরুর দাম দাঁড়ায়। তবে প্রথমে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব আসে তিন টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু এ দামে কেউ শেয়ার কিনতে চায়নি। যে কারণে কয়েক দফা দাম কমে এক পর্যায়ে ৩ টাকা দরে ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব আসে। এ দামেও কেউ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে চায়নি। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতাশূন্য থেকে গেছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবসের শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হলেন পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারহোল্ডারা।
আবদুর রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, পিপলস লিজিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ কারণে কেউ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে চাচ্ছেন না। শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শেয়ারবাজারে।
পিপলস লিজিংয়ের কারণে সার্বিক শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে অনুমোদন লাভ করে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত হয়। মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬৮ শতাংশ, উদ্যোক্তাদের ২৩ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। বাকি ৭০০ কোটি টাকা রয়েছে ৬ হাজার সাধারণ গ্রাহকদের আমানত। প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের বড় অংশই নিয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা।

নিরাপদে বেড়ান পাকিস্তান, তালিকায় বাদ ভারত!

ঘুরে বেড়াতে কে না ভালোবাসে। তাই বেড়াতে যেতে যান। পকেটে টাকাও রয়েছে। অথচ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কোথায় যাবেন তাও ঠিক করে উঠতে পারছেন না। তার সমাধান এনেছে আন্তর্জাতিক ফোর্বস ম্যাগাজিন। ১০টি সেরা জায়গার তালিকা প্রকাশ করেছে, যা কিনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও ভরপুর, আবার যথেষ্ট নিরাপদও।
তালিকায় চমকও রয়েছে। নিরাপদ জায়গা হিসাবে ভারতের জায়গা হয়নি ওই তালিকায়। তবে পাকিস্তানকে দরাজ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে একদা অবিভক্ত কাশ্মীরের অংশ গিলগিট-বাল্টিস্তান প্রদেশকে।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় প্রকাশ করা জায়গাগুলো হলো-
দ্য অ্যাজোর্স আইল্যান্ডস, পর্তুগাল: হলিউড ছবি ‘অবতার’ দেখেছেন? অ্যাজোর্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনা চলে পর্দায় দেখা প্যান্ডোরা উপগ্রহের। আটলান্টিক মহাসাগরের ওই দ্বীপপুঞ্জে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ, কালো বালির সৈকত রয়েছে। পাহাড় চড়া, স্কুবা ডাইভিং এবং তিমি দর্শনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ভুটান: গত কয়েক বছরে পর্যটকদের কাছে ভুটানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও মধ্য ভুটানের। পুনাখা জোং, দোচুলা পাস, চিমি লাখাং, তাশিচোজং এবং গাংতে গুম্ফাতে সারাবছর ভিড় থাকে পর্যটকদের।
লস কাবোস, মেক্সিকো: বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং ফাইভ স্টার হোটেলের জন্য পরিচিত দক্ষিণ মেক্সিকোর লস কাবোস। সপরিবার পিকনিক করা যাবে লাভার্স বিচে। স্নর্কেলিংয়ের শখ থাকলে তার ব্যবস্থাও রয়েছে সান্তা মারিয়া সমুদ্র সৈকতে। ওয়াইন টেস্টিংয়ের আয়োজন করা হয় বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন সেখানেও।
কলম্বিয়া: শাকিরা, ফনসেকার মতো বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের জন্ম কলম্বিয়ায়। তবে সাধারণ নাগরিকরাও যে কম যান না, কলম্বিয়ার মাটিতে পা রাখলেই তা টের পাবেন। দেয়ালে দেয়ালে চোখে পড়বে স্ট্রিট আর্ট। আর খাদ্যরসিক হলে তো কথাই নেই। নানা ঘরানার খানাপিনার জন্য প্রসিদ্ধ বোগোটা।
ইথিওপিয়া: ক্রিশ্চান, ইহুদি ও মুসলিমরা মিলেমিশে থাকেন এ দেশে। তবে নিজেদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই তাদের। বরং ইথিওপিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সেখানকার মানুষ। তাই প্রাচীনকালের বিভিন্ন স্থাপত্য আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে। যার মধ্যে কয়েকটি চতুর্থ এবং পঞ্চম শতকে নির্মিত।
মাদাগাস্কার: আরব্য রজনীতে যাযাবর বেদুইনদের গল্প পড়েছেন নিশ্চয়ই! মাদাগাস্কার তার আধুনিক সংস্করণ। গাইড নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন রাস্তাঘাটে। সেখানে যাযাবরদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ মিলে যেতে পারে। আলাপ হতে পারে ঈগল শিকারিদের সাথেও।
পাকিস্তান: আমেরিকান এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে ইদানিং পাকিস্তান নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। গিলগিট ও বাল্টিস্তানের হান্ঝা পার্বত্য উপত্যকা, শিগার এবং কারাকোরাম হাইওয়ে হয়ে খাপলু, অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ধীরে ধীরে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। রয়েছে প্রায় বরফে মোড়া আত্তাবাদ হ্রদ ও রাকিপোশির মতো এলাকাও।
রুয়ান্ডা: পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। বন-জঙ্গল যাদের পছন্দ, তাদের জন্য আদর্শ জায়গা। রয়েছে নানা অভয়ারণ্য। ভিরুঙ্গা পার্বত্য এলাকার ভলক্যানস ন্যাশনাল পার্কের স্থায়ী বাসিন্দা ৩০০ গরিলা। রয়েছে রেইন ফরেস্ট নিয়ুঙ্গওয়ে ন্যাশনাল পার্ক। এখানে প্রায় ১০৮০ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। পাখি রয়েছে ২৫০ প্রজাতির।
দ্য টার্কিশ রিভারিয়া: পড়শি দেশ সিরিয়ায় ইসলামি স্টেট জঙ্গিদের উৎপাত। মৌলবাদী প্রেসিডেন্ট এর্দোগান সরকার। এ সবের জেরে পর্যটকদের কাছে তুরস্কের জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছিল সম্প্রতি। তবে ২০১৬-তে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক তুরস্কে। ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ ইস্তানবুল, বোদরামে ইদানীং বহু সিনেমার শুটিংও হয়।
বরফে মোড়া আত্তাবাদ হ্রদ ও রাকিপোশি

ফাইনালে ইংল্যান্ড

নতুন এক চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। গতকাল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে ইংল্যান্ড। আগের দিন ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে ২৭ বছর পর ফাইনালে উঠলো ইংল্যান্ড। সবশেষ ১৯৯২ বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিল ইংলিশরা। সেবার ফাইনালে ইমরান খানের পাকিস্তানের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভাঙে তাদের। আগে আরো দু’বার ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব দেখায় ইংল্যান্ড (১৯৭৫ ও ১৯৮৭)। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার দেখে তারা।
গতকাল এজবাস্টনে ইংলিশ বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ের বিপক্ষে মাত্র ২২৩ রানে গুঁড়িয়ে যায় শিরোপাধারী অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। অজিদের সংগ্রহটা ছোট হতে পারতো আরো। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ।
অপেক্ষাকৃত ছোট টার্গেটে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে ১২৪ রানের জুটি গড়েন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে বেয়ারস্টোকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন মিচেল স্টার্ক। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন এ অজি পেসার। চলতি আসরে স্টার্কের শিকার ২৭ উইকেট। এমন আগের রেকর্ডে ২০০৭ বিশ্বকাপে ২৬ উইকেট নিয়েছিলেন অপর অজি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বাধিক ২০ উইকেট শিকার টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। বেয়ারস্টো বিদায় নিলেও সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন জেসন রয়। তবে লঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ভুল সিদ্ধান্তে কাটা পড়ে রয়ের উইকেট। রয়ের ব্যাটে বল না লাগলেও কট বিহাইন্ডের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের রিভিউয়ের সুযোগ না থাকায় সাজঘরে ফিরতে হয় রয়কে। তবে ক্রিজ ছাড়ার আগে অনেকক্ষণ আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে মাতেন তিনি। এতে ১৯.৪তম ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭/২-এ।
বার্মিংহামের এজবাস্টনে গতকাল টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন  অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাট হাতে কিছু করে দেখাতে ব্যর্থ অজি অধিনায়ক। ‘গোল্ডেন ডাক’ মারেন ফিঞ্চ। নিজের প্রথম বলেই উইকেট খোয়ান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১.১তম ওভারে ফিঞ্চকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইংল্যান্ডের বার্বাডিয়ান বংশোদ্ভূত পেসার জফরা আর্চার। তৃতীয় ওভারে উইকেট খোয়ান আসরের আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। ব্যক্তিগত ৯ রানে ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকসের বলে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দেন এ অজি ওপেনার। এতে দলকে বিপদে ফেলার সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনেও পিছিয়ে রইলেন উভয়ে। চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৬৪৮ রান সংগ্রহ ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার। মাত্র ১ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ওয়ার্নার। তালিকার তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশি তারকা সাকিব আল হাসানের সংগ্রহ ৬০৬ রান। ফিঞ্চের সংগ্রহ ৫০৭।
এদিনই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। আর তার তড়িঘড়ি বিদায়ে কাঁপন ধরে অজি শিবিরে। ৬.১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪/৩-এ। তবে চতুর্থ উইকেটে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ ও আসরে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখানো অ্যালেক্স ক্যারি।
জফরা আর্চারের বাউন্সারে থুতনিতে আঘাত নিয়েও ক্রিজে লড়াই চালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়েন এ দুজন। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ক্যারির বিদায়ে ১১৭/৪ সংগ্রহ নিয়ে ফের চাপে পড়ে অজিরা। তবে স্টিভেন স্মিথের দৃঢ়তায়  ২০০’র কোঠায় পৌছে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ।
১১৯ বলে ৮৫ রানের ইনিংসটা খেলে রান আউট হন স্মিথ। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২২ ও মিচেল স্টার্ক ২৯ রানের ইনিংস খেললেও এক ওভার বাকি রেখেই ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এবারের বিশ্বকাপে আদিল রশিদকে খুব একটা ছন্দে দেখা যাচ্ছিল না। তবে মোক্ষম সময়ে ছন্দ ফিরে পেলেন ইংল্যান্ডের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ লেগ স্পিনার। গতকাল ১০ ওভারের স্পেলে ৫৪ রানে তিন উইকেট নেন আদিল রশিদ। আর টানা তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডলঅর্ডার ব্যাটিং ধসিয়ে দেন তিন। বিধ্বংসী স্পেলে ৮ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন পেসার ক্রিস ওকসও। অপর পেসার আর্চার দুই ও মার্ক উড নেন এক উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি নিয়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পোহান স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। শাস্তি কাটিয়ে এবারের বিশ্বকাপেই দলে ফেরেন তারা। আসরে ১০ ম্যাচে চার ফিফটিতে  ৩৭৯ রান সংগ্রহ স্টিভেন স্মিথের।

সহিংসতা হ্রাস করতে সম্মত তালেবান ও আফগান সরকার

তালেবান ও আফগান কর্মকর্তারা সহিংসতা হ্রাস করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জার্মানির দূত জানিয়েছেন। কাতার সংলাপের আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ জার্মান দূত মারকাস পোটজেল।
দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর সোমবার তালেবান বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে হামলা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
দোহার এই আলোচনাকালে তালেবান জানায় তারা ধর্মীয় কেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, বাধ, কর্মস্থলে হামলা চালাবে না। ডয়চে ভেলের হাতে আসা এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
পোটজেল বলেন, আফগানিস্তানে হামলা হ্রাস করার জন্য একটি যৌথ আবেদন ও প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতি ইস্যু করা হয়।
বিবৃতিতে ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়াদিতে নারীদের অধিকার প্রদান করার আশ্বাস দেয়া হয়।
তালেবান গ্রুপটি কাবুলে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে মার্কিন ক্রীড়নক অভিহিত করে তাদেরকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে। তবে তারা দোহায় ‘ব্যক্তিগত সামর্থ্যে’ আফগান কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়।
কাতারের সন্ত্রাসদমনবিষয়ক বিশেষ দূত মোতলাক আল-কাহতানি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য খুবই কম। দুই পক্ষের আন্তরিকতায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। তারা এই সঙ্ঘাত বন্ধে খুবই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আফগানিস্তানের যুদ্ধ বন্ধ করতে তালেবান পক্ষ দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও আলোচনা করে যাচ্ছে। তবে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, শান্তিচুক্তি করতে হলে তালেবানকে অবশ্যই সরকারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি জালমি খালিলজাদ বলেছেন, তালেবানের সাথে আফগানদের সভাটি ছিল একটি বড় ধরনের সফলতা।

বিএলএকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী ঘোষণা: স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান, চীন

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গত সপ্তাহে বালুচিস্তান লিবারেশান আর্মিকে (বিএলএ) স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানে সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার চালানোর প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ২০০৬ সালে এই গ্রুপটিকে নিষিদ্ধ করে।
ওয়াশিংটন কর্তৃক এবং বিএলএ-কে সন্ত্রাসী ঘোষণা দেয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। যে সময়ে এই ঘোষণা আসলো, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফলে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার ক্ষেত্রে পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই জায়গায় নিয়ে এসেছে।
বিএলএ গঠিত হয় ২০০০ সালে। বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশ বা প্রদেশের ভেতরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কতগুলো সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বিএলএ। এর মধ্যে ২০১৮ সালের আগস্টে বালুচিস্তানে আত্মঘাতী হামলা চালায় গ্রুপটি। হামলায় তিন চীনা প্রকৌশলী আহত হয়। গত বছরের নভেম্বরে তারা করাচির চীনা কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে দুজন পুলিশ সদস্য ও দুজন পাকিস্তানী নাগরিককে হত্যা করে।
বালুচিস্তানের বাইরে এটাই ছিল বিএলএ’র প্রথম হামলা। দুই মাস আগে, গোয়াদর বন্দর এলাকার একমাত্র পাঁচতারা হোটেলটিতে হামলা করে। হামলায় পাঁচজন নিহত হয়। চীনা নাগরিকদের টার্গেট করে হামলার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। ২০০৪ সালে প্রথম চীনা কর্মীদের উপর হামলা করা হয়। গোয়াদরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে সে বার তিনজন চীনা প্রকৌশলী নিহত হয়েছিল।
২০১৫ সালে সিপিইসির যাত্রা শুরুর পর থেকে পাকিস্তান সরকার এতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, ইসলামাবাদ সেটাকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দিতে পারে না। এ কারণেই ওয়াশিংটন বিএলএকে সন্ত্রাসী ঘোষণা দেয়ায় বেইজিং ও ইসলামাবাদ একে এতটা স্বাগত জানিয়েছে। এই ঘোষণার কারণে পাকিস্তান সরকার এখন বিএলএ’র বিরুদ্ধে আরও জোরেসোরে ষাঁড়াশি অভিযান চালাতে পারবে।
গুরুত্বপূর্ণ হলো, পাকিস্তানকে অবশ্যই অক্টোবরের মধ্যেই এটা দেখাতে হবে যে, তারা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। প্যারিস ভিত্তিক ফিনান্সিয়াল অ্যাকশান টাস্ক ফোর্সের কালো তালিকাভুক্তি থেকে বাঁচতে হলে তাদেরকে এই পদক্ষেপ নিতে হবে। কালো তালিকাভুক্ত হলে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের মতো সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নেয়াটা পাকিস্তানের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পাকিস্তানের উপর চাপ আরও বেড়ে গেছে যখন চীন শেষ পর্যন্ত জয়শ-ই-মোহাম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে সম্মতি দেয়। ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছিল এই গ্রুপটি।
ওয়াশিংটন যদিও বেইজিংয়ের সাথে পাকিস্তানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে মোটেই খুশি নয়, কিন্তু খানের ওয়াশিংটন সফরে তার প্রভাব তেমন পড়বে না। পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী জানেন, তার হাতে বেশ কিছু ট্রাম্প কার্ড রয়েছে। প্রথমত, ওয়াশিংটন ভালোভাবেই জানে যে, তালেবানদের আলোচনার টেবিলে বসাতে পাকিস্তান কি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া আফগান শান্তি আলোচনার জন্যও পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর কাছে রসদ পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে শর্টকাট রাস্তাটি পাকিস্তানের উপর দিয়েই গেছে। এর বিকল্প হলো উত্তরে রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করা। কিন্তু সেই পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। ওয়াশিংটন জানে যে, দরকার হলে ইসলামাবাদ এই সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যেটা অতীতে তারা করেছে।

ওয়াটার গ্রিড কর্মসূচির মধ্যে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ

জলপথে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ভারত-বাংলাদেশ যে প্রটোকল রুট চালু করতে যাচ্ছে, সেটা একটা ওয়াটার গ্রিড কর্মসূচির সূচনা হতে পারে।
গত শুক্রবার বাজেট বক্তৃতায় ওয়াটার গ্রিড গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
১৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-১ ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটের সাথে ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ এর মাধ্যমে যুক্ত হবে। ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ এর দৈর্ঘ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন কর্মকর্তা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, “এটা ওয়াটার গ্রিড নেটওয়ার্কের সূচনা হতে পারে, এর অর্থ হলো উত্তর প্রদেশের বারানসি থেকে হালদিয়া নদী দিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত পানির অবাধ প্রবাহ। এর অধীনে ৪০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অবাধ প্রবাহ থাকবে পানির”।
সীতারামন তার প্রথম বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন যে, বিদ্যুৎ খাতের ‘ওয়ান নেশান, ওয়ান গ্রিড’-এর মতো সরকার গ্যাস গ্রিড, ওয়াটার গ্রিড এবং আই-ওয়েজ (তথ্য হাইওয়ে) গড়ে তুলবে দেশে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গোয়া ও মহারাষ্ট্রেও নদীপথের সংযোগের ব্যাপারে একই ধরনের জরিপ চলছে। এর মূল আইডিয়াটা হলো নদীপথগুলোর ভেতরে এবং চূড়ান্তভাবে সাগরের সাথে একটা সমন্বিত গ্রিড গড়ে তোলা যাতে নৌপথে বাধাহীনভাবে পণ্য পরিবহন করা যায়।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য বাণিজ্য ও ক্রুজ নৌযান চলাচল বাড়াতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় পানিপথের সংযোগ উন্নয়নের জন্য দুই দেশ একটি চুক্তি করে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য দুই দেশই চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করবে।
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো পানিপথের মাধ্যমের কলকাতা ও হালদিয়াবন্দর এবং বাংলাদেশের মংলা বন্দরের সাথে সরাসরি যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে আমদানি রফতানি কার্গো চলাচল সহজ হবে এবং পরিবহন ব্যয় কমে যাবে।
এ বছর ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (আইডাব্লিউএআই) জন্য ৪৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিবহন ও নৌ চলাচলের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর উন্নয়ন করা হবে এই অর্থ দিয়ে।
এই কর্তৃপক্ষ মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় পানিপথগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
আইডাব্লিউএআই ছাড়াও ২০১৯-২০ সালের বাজেটে অভ্যন্তরীণ নৌপথ প্রকল্পগুলোর জন্য ৬০০ কোটি রুপিরও বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এই তহবিল দিয়ে আরও কিছু প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বারানসি (উত্তর প্রদেশ), সাহিবগঞ্জ (ঝাড়খান্ড) ও হালদিয়ায় (পশ্চিমবঙ্গ) বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ এবং ফারাক্কায় নেভিগেশনাল লক নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প।

আমেথিতে রাহুল, রিভিউ মিটিংয়ে না-পালানোর বার্তা

স্মৃতি ইরানির কাছে আমেথি কেন্দ্রে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর, সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে রিভিউ মিটিংয়ে বসলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
দলের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে হারের জন্য রাহুল সেই সব স্থানীয় নেতাদের দুষেছেন যাঁরা জনতার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না এবং তিনি যে এ কেন্দ্র ছেড়ে পালাবেন না তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি নাদিম আশরফ জয়াসি এব্যাপারে রাহুলকে উদ্ধৃত করেছেন, “আমি আমেথি ছাড়ব না। এটাই আমার বাড়ি, আমার পরিবার।”
রাহুল দলীয় কর্মীদের বলেছেন, “আমেথির উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমি ওয়েনাড়ের সাংসদ কিন্তু আমার সঙ্গে আমেথির সম্পর্ক ৩ দশকের পুরনো। আমেথির জন্য আমি দিল্লিতে লড়াই চালাব।”
এদিনের রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় গৌরীগঞ্জের নির্মলা দেবী এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটে। এদিন গৌরীগঞ্জে গিয়ে দলের তিলোই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাতাপ্রসাদ বৈশের বাড়িতে যান তিনি। গত ২৫ জুন মাতাপ্রসাদের আত্মীয়বিয়োগ হয়েছে। রাহুল সেখানে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
এবারের লোকসভো ভোটে কংগ্রেসের পকেট কেন্দ্র আমেথি কেন্দ্রে স্মৃতি ইরানির কাছে ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন রাহুল। এই পরাজয়ের পরে রাহুলের প্রতিনিধি চন্দ্রকান্ত দুবে এবং জেলা সভাপতি যোগেন্দ্র মিশ্র পদত্যাগ করেছেন।
কংগ্রেসের বিপর্যয়ের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে নিয়ে রাহুল পার্টি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি এখন কেরালার ওয়েনাড় কেন্দ্রের সাংসদ।
রাহুল পদত্যাগের কথা জানানোর পর থেকে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতারা বলছেন, কোনও সিনিয়র নেতার উচিত দলের দায়িত্ব নেওয়া এবং তাঁকে সাহায্য করবেন এক বা একাধিক কার্যকরী সভাপতি। তবে দলের তরুণ নেতাদের বক্তব্য এবার কংগ্রেসের উচিত অন্য রকম কিছু করা এবং কোনও তরুণ নেতার হাতে দলের দায়িত্ব ন্যস্ত করা।

বজ্রপাতে দুই মাসেই নিহত ১২৬ জন: করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বাংলাদেশে চলতি বছরের মে এবং জুন মাসে বজ্রপাতে ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। ঝড়-বৃষ্টির এ দুই মাসে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন আরও ৫৩ জন। গত ৬ জুলাই শনিবার সেভ দা সোসাইটি অ্যান্ড থাণ্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণা সংস্থাটির হিসাব মতে, গত মে-জুন -দুই মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন মোট ১১৮ জন। নিহতদের মধ্যে ২১ জন নারী এবং ৭ জন শিশুও রয়েছে। এছাড়া জুন মাসে বজ্রাঘাতে মোট ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় গত দুই মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ১৬ জন। এছাড়া, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও সাতক্ষীরা জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বজ্রপাত বিষয়ে গবেষণারত সংস্থাটি তাদের পর্যবেক্ষণে দেখতে পেয়েছে, খোলা মাঠে  ধান কাটার সময় সবচেয়ে বেশি বজ্রাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এরপর বেশি ঘটেছে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় নদীতে বা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে। মাঠে গরু আনতে গিয়ে বা  টিনের  ঘরে অবস্থানকালেও  বজ্রাঘাতে অনেক মানুষ মারা গেছে।
তাছাড়া, অজ্ঞতাবসত বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময়  বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে অনেকে বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন। এসব বড় গাছ বজ্র-বিদ্যুতকে আকর্ষণ করায় তা  বিপদের  কারন হয়ে থাকে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন, আকাশে কালো মেঘের পরিমাণ ও মেঘে মেঘে ঘর্ষণের পরিমান বৃদ্ধির কারণে  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্র দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু  নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, লোকালয়ে যে সব উঁচু গাছ যেমন তাল, বট, কড়াই, রেন্ট্রী এসব কেটে সাফ করার ফলে আকাশের মেঘের বজ্র-বিদ্যূত এখন সড়াসড়ি বাড়ি ঘরে বা খোলা মাঠে এসে আঘাত করছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তাছাড়া, বিদ্যূত ও মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলি বজ্রপাতের সময় আকাশে বিদ্যুতকে আকর্ষণ করে বলে বজ্রাঘাতে মৃত্যুও বাড়ছে।
তবে মোবাইল ফোনের  টাওয়ারের সাথে বজ্র-নিরোধক দন্ড স্থাপিত থাকার কারনে যে সব বজ্র টাওয়ারে আঘাত করে সেগুলি সড়াসড়ি মাটিতে চলে যায় বলে টাওয়ারের কোন ক্ষতি হয় না।
এ প্রসঙ্গে, সেভ দা সোসাইটি অ্যান্ড থাণ্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম এর  গবেষণা সেলের নির্বাহী প্রধান জনাব আবদুল আলিম রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন, তারা কয়েকবছর আগেই সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল, যেন  মোবাইলফোনের টাওয়ারগুলিতে আরো শক্তিশালি বজ্র-নিরোধক দন্ড স্থাপন করা হয়,  যাতে অন্তত: চারিদিকে এক বর্গকিলেমিটার এলাকা পর্যন্ত বজ্রপাত নিরোধ করা যায়।
তাছাড়া বিশাল একা জুড়ে খোলা ফসলের মাঠ এবং হাওর বা বিলের আশেপাশে এরকম বজ্র-নিরোধক টাওয়ার স্থাপন করে মানুষের জীবন রক্ষার উদ্যাগ নেবার দাবী জানিয়েছে  সেভ দা সোসাইটি অ্যান্ড থাণ্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম।

জানেন কারা ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র দিচ্ছে মিযানমারকে?

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিপুল অস্ত্র কিনে চলেছে মিয়ানমার। সামরিক শক্তি বাড়াতে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইসাইল থেকে প্রচুর প্রাণঘাতী অস্ত্র সংগ্রহ করে চলেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও অস্ত্রের বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় ছাড়ও পাচ্ছে মিয়ানমার। এমনই দাবি ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি’র।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সামরিক-বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারে রাখাইনে ছড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা-বিদ্বেষ। ২০১৭ সালের আগস্টে অভিযান জোরদার করার আগের কয়েক মাসের সেনাপ্রচারে সেই বিদ্বেষ জোরালো হয়। এরপর শুরু হয় সেনা-নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিভাবে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মিয়ানমার। দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ত্র কিনতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে না। তারা অস্ত্র কেনা অব্যাহত রেখেছে।
অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করলেও মিয়ানমারের কাছে এখনও অস্ত্র বিক্রি করছে না আমেরিকা। তবে চীন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারকে সমর্থন করে আসছে বিইজিং। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, চীন এখন মিয়ানমারের অস্ত্রের প্রধান উৎস। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ অস্ত্রের আমদানি হয়েছে শুধু চীন থেকেই। এসআইপিআরআই-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গবেষক সিমন উইজেম্যান জানান, সাঁজোয়া যান, ভূমি থেকে আকাশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি, রাডার ও মানববিহীন ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ছিল এর মধ্যে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের অন্যতম উদ্যমী বন্ধু রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগু ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন এবং ৬টি এসইউ-৩০ বিমান বিক্রি নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তিটি ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বলে অনুমান করা হয়। ওই চুক্তির পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এই চুক্তি রোহিঙ্গা সঙ্কটকে তীব্রতর করবে। তবে এই অভিযোগে তাদের কিছু যায় আসে না বলে মন্তব্য করেছিলেন রাশিয়ার একজন মুখপাত্র।
আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে চীনের বিপরীতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ায় ভারতও। মিয়ানমারের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যেও মিয়ানমার সরকারকে পানি বিশুদ্ধকরণ সিস্টেম প্রদান করে ইসরাইল। এর আগে ২০১৫ সালে ইসরাইল সফর করেন জেনারেল মিং অং হ্লায়াং। সেই সময় হলোকস্ট জাদুঘরের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন তিনি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে ইসরাইল নির্মিত ‘সুপার ডিভোরা এমকে-৩’ পেট্রোল বোটের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছিল। একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল : ‘মিয়ানমারের পানিসীমায় সে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। মিয়ানমারের নৌবাহিনীতে স্বাগতম!’
তবে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইসরাইর অভ্যন্তরেই নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে। তাই ২০১৭ সালে একবার অস্ত্র বিক্রি বন্ধও হয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘খ্যাপাটে’ প্রার্থী

জন ম্যাকাফি
গত শতকের আশির দশকে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিক্রি করে শতকোটিপতির ঘরে নাম লেখান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ধনী জন ম্যাকাফি (৭৩)। তিনি ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে আর দশজন প্রযুক্তি কোম্পানির মালিকের মতো সোজা-সরল জীবন কাটাননি তিনি। একদিকে ডলারের বন্যা বয়ে গেছে তাঁর জীবনে, আরেক দিকে জীবনকে তিনি চড়িয়েছেন চড়াই-উতরাইয়ের নাগরদোলায়। যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির মামলায় পালিয়ে ম্যাকাফি একসময় আশ্রয় নিয়েছিলেন মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজে। সেখানে প্রতিবেশীকে খুনের ও মাদক মামলায় ফেঁসে পালান বাহামায়। সেখানেও এফবিআইয়ের তাড়া খেয়ে তিনি যান কিউবায়। ম্যাকাফি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু শিগগিরই ফিরতে পারছেন না, তাই এবার কিউবা থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি গুরু’ বলা হয় যে ম্যাকাফিকে, সেই তিনিই এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরসূরি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প ও তাঁর মধ্যে মিল—দুজনই কোটিপতি ব্যবসায়ী, বয়স্ক, প্রার্থী হওয়ার আগে রাজনীতি করেননি, দুজনের জীবনই নানা ট্যাবলয়েড ম্যাগাজিনের গুঞ্জন ও স্ক্যান্ডালে ভরা এবং দুজনই বিতর্কিত কথা বলতে ওস্তাদ। তবে বৈচিত্র্য ও ঝঞ্ঝাটপূর্ণ জীবনের দিক থেকে ম্যাকাফি যোজন যোজন ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্পকে।
ম্যাকাফি গত বৃহস্পতিবার হাভানার মারিনা হেমিংওয়ে পোতাশ্রয়ে তাঁর প্রমোদতরি থেকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি লিবার্টারিয়ান পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লিবার্টারিয়ান পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ম্যাকাফি। তবে সেবার তিনি তৃতীয় হন। ম্যাকাফি বলেন, তিনি আদপে প্রেসিডেন্ট হতে চান না। তিনি জানেন, প্রেসিডেন্ট হতে হয়তো পারবেনও না।
ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দৈনিক ২ হাজার ডলার পকেটে আসে ম্যাকাফির। টুইটারে তাঁর ১০ লাখ অনুসারীই বলে দেয়, লোকটা নেহাত ‘খ্যাপাটে’ নন। মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ম্যাকাফির নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস গত শতকে বড় অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ২০১০ সালে কোম্পানিটি তিনি ইন্টেলের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর গড়ে তোলেন ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি ‘টিম ম্যাকাফি’। ম্যাকাফি বলেন, তিনি মার্কিন সরকারকে আট বছর থেকে কোনো কর দেন না। কর দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।

নদী ‘জীবন্ত সত্তা’: রায়ের কপি যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে by উদিসা ইসলাম

নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া উচ্চ আদালতের রায়ের কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস। সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে হাতে হাতে রায়ের কপি পৌঁছে দেওয়া হবে। না হয় প্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া, রায়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু জায়গায় কপি পাঠানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ বা ‘লিগ্যাল পারসন’ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়টির পূর্ণাঙ্গ কপি ১ জুলাই প্রকাশিত হলে তাতে দেখা যায়, ‘জীবন্ত সত্তা’র এই ঘোষণা দেশের সব নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্যের কথা বলা হয়েছে। রায় ঘোষণাকালে আদালত বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বলছেন, নদ-নদীও এখন থেকে মানুষের মতোই ‘জীবন্ত সত্তা’হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবে। সেক্ষেত্রে নির্বাহী অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রায় সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টিতে আনার রেওয়াজ আছে।
রায়ের কপি পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার আমরা সার্টিফায়েড কপি তোলার ব্যবস্থা করবো। এরপর সেটি থেকে বই বানানো হবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় চাওয়া হবে। এ ধরনের রায় পাঠানোর বিষয়টি অহরহ ঘটে, এমন নয়। এটি রেয়ার কেস। সে কারণে আমরা হাতে হাতে দিতে আগ্রহী। আর যদি প্রধানমন্ত্রী সময় দিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া, আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে এর কপি পাঠানোর কথা বলা আছে। হাজার হাজার কপি বই বানানো ব্যয়সাপেক্ষ। ফলে আমরা অনেককেই ই-মেইল করার কথা ভাবছি এবং মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বই বানিয়ে পাঠানো হবে। তবে, তা বাজেট পাওয়ার পরে।’
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এটির সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে তারপর অফিস থেকেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আদালত ১৭টি নির্দেশনা দিয়েছেন। এর বেশিরভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে নানারকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় আছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই রায়টি জানানোর কথা বলা হয়েছে। তারা যেন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন থেকে নদীর একটি আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। নদী ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলে সংশ্লিষ্টরা যেন রায়ের বিষয়টি জানেন না, এমন কোনও কথা না বলতে পারেন। সে কারণে রায়ের কপি পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে।’
নদী ‘জীবন্ত সত্তা’ বলতে কী বোঝায়, এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আদালতের ঘোষণা অনুযায়ী তুরাগসহ নদ-নদীগুলো মানুষ বা প্রাণী যেমন কিছু আইনি অধিকার পায়, সেসব অধিকার দাবি করতে পারবে। নদী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মনে করলে প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে। রায়ের মধ্য দিয়ে নদীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ায় নদী কিছু আইনি অধিকার পাবে। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেসব পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত করবেন।’
এর আগে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ‘ঢাকার আশপাশের চারটি নদী রক্ষায় আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেও সেসব রায়ের নির্দেশনাগুলো সঠিক বাস্তবায়নে বিবাদীরা কোনও পদক্ষেপ নেননি। ওই সময় যদি পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তুরাগ রক্ষায় হাইকোর্টে আরেকটি মামলা করার প্রয়োজন হতো না। রায়ে বলা হয়, অবৈধ দখলদারদের দ্বারা প্রতিনিয়তই কমবেশি নদী দখল হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় নদী সংকুচিত হয়ে পড়ছে।’ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তুরাগকে লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করেন আদালত।

ফেনীর কাজিরবাগে চালু হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক by রফিকুল ইসলাম

ফেনীর ইকোপার্ক
ফেনীর কাজিরবাগ এলাকায় জেলার সামাজিক বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হলো দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক। এতে বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণীসহ অনেক কিছু। জেলা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে নির্মল পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এটি।
ইকোপার্কটিকে ঘিরে ফেনীসহ আশেপাশের মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সপরিবারে পার্কে বেড়াতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। অনেকে এখন প্রতিদিন বাইরে ভিড় জমান। অনেকেই পার্কের গেটে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুকি দিয়ে ভেতরের দৃশ্য দেখেন।
ইকোপার্কের শেষ প্রান্তে পশু-পাখির জন্য চিড়িয়াখানার আদলে আলাদা কর্নার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ছয়টি বানর লাফাচ্ছে। ছয়টি ভারতীয় ময়ূরের কর্নারের ঠিক পাশে আটটি খরগোশকে ছুটোছুটি করতে দেখা গেলো। একটি বড় খাঁচায় রয়েছে তিতির, টার্কি ও বনমোরগ। একটু দূরে আছে হরিণের একটি বড় বেষ্টনী। সেখানে চারটি হরিণ চোখে পড়বে। পাশেই বিচরণ করছে সাদা রাজহাঁস। টিয়া-ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উড়ে বেড়ায় পার্কজুড়ে।
পার্কে ঢুকলে চোখে পড়ে নানান রকম সুদৃশ্য ফুলের বাগান, হাঁটার জন্য পাকা সড়ক, পথের পাশে ও বাগানের চারপাশে বসে গল্প করার জন্য ২০টি বেঞ্চ, বিভিন্ন পশু-পাখির আদলে ডাস্টবিন। দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চের ওপর ছায়ার জন্য রয়েছে ছাতা।
ছোট্ট সোনামনিদের জন্য শিশু কর্নারে আছে মেরি গো রাউন্ড (ঘূর্ণায়মান), স্লিপার, ঢেঁকি, দোলনা, ব্যাঙের ছাতাসহ আনন্দ উপভোগের সুযোগ। এছাড়া পার্কের ভেতরেই দর্শনার্থীদের খাওয়ার সুবিধার্থে রয়েছে একটি রেস্তোরাঁ।
বিশ্রামাগারের সামনে একটি সুদৃশ্য ফোয়ারা। পাশের পুকুরে চারটি পাকা ঘাট। পুকুরে ভ্রমণপিপাসুদের বেড়ানোর জন্য রয়েছে একটি সুন্দর নৌকা। এতে একসঙ্গে ২০ জন ওঠা যাবে। পার্কে আরও আছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির আদর্শ বাগান, নার্সারি সেন্টার, বিভিন্ন বনজ, ফলদ, ঔষধি, বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির সমন্বয়ে একটি মিনি বোটানিক্যাল গার্ডেন।
পার্কের মাঝখানে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এর ওপর উঠে আশপাশের গ্রামসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। ইকোপার্কটির প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা আর শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা।
ফেনী সদর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা তপন কুমার দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কাজিরবাগ গ্রামে ৪ একর ৭৫ শতক জমির ওপর ইকোপার্কটি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে গত বছরের জুনে কাজটি শেষ হয়। প্রকল্পের বাইরে ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ইকোপার্কের অভ্যন্তরে একটি দ্বিতল বিশ্রামাগার (রেস্টহাউস) রাখা হয়েছে।
সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর কর্মকর্তা এস এম কায়সার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কাজিরবাগ ইকোপার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য কী কী উন্নয়ন করা যেতে পারে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছে।’
নবনির্মিত ইকোপার্ক চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে মনে করেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওহিদুজ্জামান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৯২৮ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট জেলা ফেনী। দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে অবদান রাখলেও এখানে কোনও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এ নিয়ে অতৃপ্তি ছিল বাসিন্দাদের। সেই আক্ষেপ ঘোচাতে পারে সদর উপজেলার এই ইকোপার্ক।’

কামান ধ্বংসকারী ‘নাগ’-এর সফল পরীক্ষা করল ভারত, ৫০০ কি.মি. পাল্লার আপগ্রেডেড ব্রহ্মস ক্ষেপনাস্ত্র প্রস্তুত: ব্রহ্মস এরোস্পেস

ব্রহ্মস ক্ষেপনাস্ত্রের ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার আপগ্রেড সংস্করণ প্রস্তত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্রহ্মস এরোস্পেসের সিইও সুধীর কুমার মিশ্র। গত রোববার দুরদর্শনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
মিশ্র বলেন, ভারত এখন মিসাইল টেকনজি কন্ট্রোল রেজিমের (এমটিসিআর) অংশ হওয়ায় ক্ষেপনাস্ত্রটির পাল্লা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ভারত সফলতার সঙ্গে ব্রহ্মস ক্ষেপনাস্ত্রের ভার্টিক্যাল ডিপ ডাইভ সংস্করণ পরীক্ষা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা প্রচলিত যুদ্ধের গতিশীলতাকেই বদলে দেবে। ক্ষেপনাস্ত্রটির ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার আপগ্রেড সংস্করণ প্রস্তুত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় বিমান বাহিনীর সুখুই ৩০ এয়ারক্রাফট থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করার পর ভারত হলো বিশ্বে একমাত্র দেশ যে কিনা জঙ্গিবিমানে দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র সংযোজন করবে।
শব্দের চেয়ে তিনগুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম ব্রহ্মস ক্ষেপনাস্ত্র হবে সু-৩০ জঙ্গিবিমানে মোতায়েন করা সবচেয়ে ভারি অস্ত্র।
মিশ্র বলেন, আমরা সাগরে থাকা কোন জাহাজকে ৩০০-৪০০ কিলোমিটার এমনকি তারচেয়েও বেশি দূর থেকে আঘাত হানতে পারবো। আমরা শত শত কিলোমিটার দূর থেকে স্থলভাগের টার্গেটে আঘাত করতে পারবো।
তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সবার পছন্দের অস্ত্র হলো ব্রহ্মস। এর ৯০-ডিগ্রি সংস্করণ চূড়ান্তভাবে বিমানবাহী রণতরী ঘাতকে পরিণত হয়েছে। ব্রহ্মস এরোস্পেস যে প্রযুক্তি হাসিল করেছে তা এর আগে ভারত বা রাশিয়া কারো কাছেই ছিলো না।
ভারত ও রাশিয়া সরকারের একটি যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি হলো ব্রহ্মস এরোস্পেস। এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক উপ-প্রধান লে. জেনারেল সুব্রত সাহা বলেন, এই ক্ষেপনাস্ত্রের স্টিপ ডাইভ ভার্সন (কারগিরল যুদ্ধক্ষেত্রের মতো) পার্বত্য এলাকার যুদ্ধের জন্য একটি গেম চেঞ্জার।
ভোর রাতে কামান ধ্বংসকারী ‘নাগ’-এর সফল পরীক্ষা করল ভারত
শীঘ্র ভারতের হাতে উঠছে কামান ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র ‘নাগ’। গত রবিবার রাজস্থানের পোখরান ফায়ারিং রেঞ্জে এই ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি সফল পরীক্ষা করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এই তিনটি পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে ডিআরডিও-র তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এ দিন ডিআরডিও-র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাতের অন্ধকারে এবং দিনের আলোয় এই পরীক্ষা করা হয়েছে রবিবার। তিনটি পরীক্ষাই সফল হয়েছে।’ সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নাগের অন্তর্ভুক্তি একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা যাচাই করে দেখতে সোমবারও একদফা পরীক্ষার কথা ছিল, তবে সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য দেয়নি ডিআরডিও।
গত বছর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কেনাবেচার দায়িত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল সেনাবাহিনীতে নাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির(নেমিস)অন্তর্ভুক্তিতে সায় দেয়। ডিআরডিও-ই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা এবং নির্মাণ করে। তাতে লঞ্চপ্যাড থেকে প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্কে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যান রয়েছে। সেগুলি হাতে পেতে খরচ পড়ছে ৫২৪ কোটি টাকা। দিনের আলোয় হোক বা রাতের অন্ধকারে, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
১৯৮০ নাগাদ ইন্টেগ্রেটেড মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, নাগ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্পের আওতায় বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হল অগ্নি, পৃথ্বী, আকাশ এবং ত্রিশূল। যার মধ্যে অগ্নি, পৃথ্বী এবং আকাশ ইতিমধ্যেই সেনার হাতে পৌঁছেছে। মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় ত্রিশূল ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণ।
সফল পরীক্ষা নাগের। ছবি: প্রসার ভারতীর টুইটার হ্যান্ডল থেকে সংগৃহীত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ৯ খাতে বাণিজ্য জড়িত যারা by জাবেদ রহিম বিজন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মূলে রয়েছেন জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারসহ আরো কয়েকজন। তাদের সহযোগী ২৭ কারারক্ষী। এর মধ্যে ২৬ জনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। আরেকজনকে করা হয়েছে বরখাস্ত। তবে বহাল রয়েছেন জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারসহ অন্য কর্মকর্তারা। সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শেষে দায়ী কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে এই কারাগারে বন্দি বেচাকেনা, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য, পিসি বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য, কারা অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ মালামাল প্রবেশ এবং জামিন বাণিজ্যসহ সকল অপকর্মের সঙ্গে জেল সুপার নূরন্নবী ভূঁইয়া, জেলার এজি মাহমুদ, ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, হিসাবরক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন সরাসরি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। ২৮শে এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর মে মাসেই ওই ২৬ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
তার আগে বরখাস্ত করা হয় সর্বপ্রধান কারারক্ষীকে। কিন্তু কর্মকর্তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জেল সুপার নূরন্নবী ভূইয়া ৪ বছর ধরে এই কারাগারে রয়েছেন। ২০১৫ সালের ১৮ই মে এখানে যোগদান করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সবই সত্য উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় ধারাবাহিকভাবে এসকল অনিয়ম ডেপুটি জেলার, জেলার এবং জেল সুপারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের নাম উল্লেখ করা হয়। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মাঝে নিম্নমানের দুধ সরবরাহ এবং অন্য কোনো খাবার শিশুদের মাঝে সরবরাহ না করার অমানবিক ও নির্মম আচরণ প্রদর্শনসহ দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে সর্বপ্রধান কারারক্ষী মো. আব্দুল ওয়াহেদ সরাসরি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয় এতে। একাজে হাসপাতালের ডিপ্লোমা নার্স মো. নাজিরুল ইসলামও জড়িত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এছাড়া নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সঙ্গে ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, জেলার এজি মাহমুদ এবং জেল সুপার নুরুন্নবী ভূঁইয়া সরাসরি জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কারা হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে কারারক্ষী শরিফ উদ্দিন, সহকারী সার্জন মো. হুমায়ুন কবির রেজা ও ডিপ্লোমা নার্স মো. নাজিরুল ইসলাম সরাসরি জড়িত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। জেলা কারাগারের ক্যান্টিনের বিপরীতে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সঙ্গে কারারক্ষী রনি দে, হাবিবুর রহমান, আল আমিন এবং হিসাবরক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন, ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, জেলার এজি মাহমুদ এবং জেল সুপার নূরন্নবী ভূঁইয়া সরাসরি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া কারাগারে বন্দি বেচাকেনা ও সিট বাণিজ্যের অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে সর্বপ্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদ, সহকারী প্রধান কাররক্ষী মো. নাছির উদ্দিন, মো. মন্তাজ মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, বাদল মিয়া, কারারক্ষী মফিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন (নং ২২৮৫৬), নাজমুল হোসেন (নং২২৫৯৭), আল আমিন, হাবিবুর রহমান ও ফজলুল হক, সাক্ষাৎ বাণিজ্যের সঙ্গে সর্বপ্রধান কাররক্ষী আবদুল ওয়াহেদ, প্রধান কারারক্ষী নজরুল ইসলাম, এনায়েত উল্লাহ, সুব্রত মৎসুদ্দী, ইকবাল হোসেন, গেট অর্ডার সহকারী প্রধান কারারক্ষী হুমায়ুন কবির, কারারক্ষী জহিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান, কারা অভ্যন্তরে মাদকসহ নিষিদ্ধ মালামাল প্রবেশ ও ব্যবহার সংক্রান্ত অনিয়ম দুর্নীতিতে সর্ব প্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদ, সিআইডি সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. নাছির উদ্দিন, সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. মন্তাজ মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, বাদল মিয়া, সিআইডি কারারক্ষী মফিজুর রহমান, কারারক্ষী নাজমুল হোসেন, আল আমিন, নাজমুল হোসেন, হাবিবুর রহমান, ফজলুল হক, জহিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, গেট অর্ডার সহকারী প্রধান কারারক্ষী হুমায়ুন কবির, প্রধান কারারক্ষী নজরুল ইসলাম, এনায়েত উল্লাহ, জামিন বানিজ্যের সাথে কারারক্ষী হেলাল উদ্দিন, পিসি বাণিজ্যের সাথে সর্বপ্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদ, প্রধান কারারক্ষী নজরুল ইসলাম, এনায়েত উল্লাহ, সুব্রত মৎসুদ্দী, ইকবাল হোসেন, কারারক্ষী নূর মোহাম্মদ, মো. ইমাম হোসেন, রিয়াদ মাহমুদ, হেলাল উদ্দিন ও রাসেল খান জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, জেলার এজি মাহমুদ এবং জেল সুপার নুরুন্নবী ভূঁইয়ার সরাসরি জড়িত থাকার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে কারারক্ষীদের নিকট থেকে হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে জেলার এবং জেল সুপার অর্থ আদায় করে থাকেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জেল সুপার নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন-বেনামী অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হয়েছে। একটা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী থাকতে হবে, সাক্ষী লাগবে, ঘটনার স্থান থাকতে হবে। হাওয়ার ওপরে বলে দিলাম অমুকে এই কাজ করেছে তাহলেতো হলো না। আমরা এর জবাব দেব। জেল সুপার এজি মাহমুদ বলেন- কারাগার নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তিনি সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এই কমিটি গত ৬ই এপ্রিল ৫১ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। যাতে কারাগারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠিত অনিয়ম-দূর্নীতির বিস্তারিত বিবরন তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন দাখিলের পরই মে মাসে কারা মহা পরিদর্শক ২৬ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
যে ২৬ কারারক্ষী বদলি: প্রধান কারারক্ষী সুব্রত মৎসুদ্দী (নং২১৫৪৬), ইকবাল হোসেন (নং২১১৩৬), নজরুল ইসলাম (০২৫৬৩), এনায়েত উল্লা্যাহ (০২৫৬৫), সহকারী প্রধান কাররক্ষী মো: মন্তাজ মিয়া(২১২৬০), মো: সেলিম মিয়া (২১২৬৮), বাদল মিয়া (২১৬১১), হুমায়ুন কবির (২১৬৪৯), মো: নাছির উদ্দিন (২১২৫২), কারারক্ষী হেলাল উদ্দিন (২২২৬৬), রাসেল খান (২২৮৬৯), নূর মোহাম্মদ (২২২৪৭), মো: ইমাম হোসেন (২২৩৪৪), রিয়াদ মাহমুদ (২২০৭৩), জহিরুল ইসলাম (২২০৪৭), হাবিবুর রহমান (২২২৬৮), আবুল হাসান (২২৪৩৭), মাইন উদ্দিন মজুমদার (২১৮২৭), রনি দে (২২৮২৭), হাবিবুর রহমান (২২২৭৩), আল আমিন (২২৮৭২), মফিজুর রহমান (২২৬১৩), নাজমুল হোসেন (২২৮৫৬), নাজমুল হোসেন (২২৫৯৭), ফজলুল হক (২২১৩৭), মো: শরীফ উদ্দিন (২২৪৭০)। এর আগে সর্ব প্রধান কাররক্ষী আবদুল ওয়াহেদকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

পারস্য উপসাগরে সামরিক জোট গঠন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

পারস্য উপসাগরে ইরান ও ইয়েমেনের কাছে পানিসীমার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এর চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, তিনি ওই অঞ্চলে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত’ করতে চান।
মে মাসে ওমান উপসাগরে চারটি ট্যাংকারে হামলার পর গত মাসে ওই এলাকায় আরও দুইটি ট্যাংকারে হামলা হয়। মে ও জুন মাসে তেল ট্যাংকারের ওপর হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জুন মাসে ট্যাংকারে হামলার কয়েকদিনের মাথায় একটি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। ইরানের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় পৌঁছে গিয়েছিলো। আর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল।
পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় উত্তেজনা চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড জানান, ওই এলাকায় পানিসীমার সুরক্ষা দিতে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা চলছে। এ পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জোট গঠন করা সম্ভব হলে হরমুজ ও বাবুল মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ হবে।  আমি মনে করি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার হবে যে, কোন কোন দেশ এ জোটে যোগ দিতে ইচ্ছুক। এরপর আমরা সরাসরি সামরিক বাহিনীকে নিয়ে কাজ করব যাতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।’
জেনারেল ডানফোর্ড জানান, উদ্যোগের আকার কেমন হবে তা নির্ভর করবে কতটি দেশ এতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অংশীদারদের সংখ্যা যদি কম হয়, তবে আমাদের মিশনও ছোট হবে।’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল’ জাহাজ সরবরাহ করবে আর কাছাকাছি এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে নৌকা চাওয়া হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে পিটিএ চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ ও ভুটান

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভুটান একটি প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) চূড়ান্ত করছে।
ভুটানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সোনম তবদেন রাবগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সংসদ ভবন অফিসে সাক্ষাত করতে গিয়ে এ কথা বলেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এসহানুল করিম এ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাউল্লেখ করেন এবং বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরো বলেন যে, ভুটান তাদের দেশের যেকোন স্থানে একটি ওয়্যারহাউজ তৈরি করতে পারে যেখানে বিবিআইএন সুবিধা গ্রহণকারী যানবাহনগুলো পণ্য জমা করতে পারবে।
দুই দেশের মধ্যে কানেকটিভি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান যে ভুটান চাইলে বাংলাদেশের বিমান ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের হৃদয়ে ভুটানবাসীর জন্য বিশেষ দরদ রয়েছে। কারণ ১৯৭১ সালে তারাই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো।
ভুটান সফরের কথা স্মরণ করে হাসিনা বলেন, তিনি যেকোন দেশ সফরে যান না কেন সেখানে ভুটানের পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত রাবগে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি এখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য।
বাংলাদেশের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ভুটানের দূত। শিগগিরই ভুটান থেকে এক লাখ মেট্রিক টন পাথর বাংলাদেশে এসে পৌছাবে বলে জানান তিনি।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিংয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে দূত বলেন, তিনি বাংলাদেশে পহেলা বৈশখ উদযাপন খুবই উপভোগ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভুটানিজ প্রতিপক্ষ ড. লোটে শেরিং