Saturday, October 11, 2014

ইবোলায় মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে -ডব্লিউএইচও’র তথ্য

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে মারাত্মক ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে নিশ্চিত ও অনুমিত মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ২৪ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।

>> সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনের এক হাসপাতালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা সিয়েরালিওনের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তামূলক পোশাক পরা শিখিয়ে দিচ্ছেন : ইন্টারনেট
সবচেয়ে বেশি ইবোলা আক্রান্ত দেশ লাইবেরিয়া। দেশটিতে মারা গেছে দুই হাজার ৩১৬ জন। রক্তক্ষরণজনিত মারাত্মক এই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নাইজেরিয়ায় আটজন ও যুক্তরাষ্ট্রে একজন মারা গেছেন। বিশ্বব্যাপী রোগটিতে আট হাজার ৩৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে শুক্রবার জানিয়েছে বিবিসি।
এ দিকে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত মতা দিতে অস্বীকার করেছেন লাইবেরীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন সের্লিফ ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, এতে দেশের যেকোনো স্থানকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘোষণা করার মতা পেয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট এর চেয়ে বেশি মতা পেলে লাইবেরিয়া একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে বলে সতর্ক করেছেন পার্লামেন্টের সদস্য ভোফাল চেম্বার্স। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকায় কর্মরত ছিলেন এমন ২৩৩ স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ওদিকে, লাইবেরিয়া থেকে ফেরত আসা এক ইবোলা রোগীর সেবা দিতে গিয়ে স্পেনে একজন সেবিকা ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে পরীা শুরু
এদিকে মারণঘাতী এবোলা ভাইরাস ঠেকাতে নিউ ইয়র্ক শহরের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীা শুরু হয়েছে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা আক্রান্ত প্রথম রোগী টমাস ডানকানের মৃত্যুর পর গতকাল শনিবার থেকে জেএফকে বিমানবন্দরে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকার এবোলা আক্রান্ত সিয়েরালিয়ন, লাইবেরিয়া ও ঘানা থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের সতর্কতার সাথে পরীা করা হচ্ছে। তাদের শরীরে এবোলা ভাইরাস রয়েছে কি না তা শনাক্ত করার জন্যই এই পরীা চালু করেছে কর্তৃপ। বিমানবন্দরের চিকিৎসাকর্মীরা যাত্রীদের তাপমাত্রা নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে প্রতিটি যাত্রীর কাছে প্রশ্নপত্র বিলি করা হচ্ছে, যেখানে হ্যাঁ বা না ঘরে টিক দিয়ে উত্তর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিকাগোর ওহেরি এবং ওয়াশিংটনের ডালাস ও আটলান্টা বিমানবন্দরেও একই ধরনের পরীা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার এবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত টেক্সাসের বাসিন্দা ডানকান মারা যাওয়ার পর ইবোলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চারটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীার এই ব্যবস্থা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

আইএসের দখলে কোবানির কুর্দি সদর দফতর

ব্যাপক মার্কিন বিমান হামলা সত্ত্বেও তুরস্ক সীমান্তবর্তী  সিরিয়ার শহর কোবানিতে কুর্দি যোদ্ধাদের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত ভবনগুলো গতকাল শুক্রবার দখল করে নিয়েছে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা। ব্রিটেনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ খবর জানিয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, কুর্দি সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত সদর দফতর ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইএস যোদ্ধারা।

>> সিরিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্দি শহর কোবানি বা আইন আল-আরাব শহরে কুর্দি যোদ্ধা ও আইএস জঙ্গিদের মধ্যে যুদ্ধ এবং মার্কিন বিমান হামলায় শহরটি থেকে ব্যাপক ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় : এএফপি
বৃহস্পতিবার আইএস যোদ্ধারা কুর্দির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত ভবনগুলোর একাংশ দখল করে নেয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকে সেখানে প্রচণ্ড লড়াই চলছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানায়, সোমবার শহরটির পূর্বাঞ্চলে ঢুকে পড়ার এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে হামলা চালানোর পর এখন শহরটির শতকরা ৪০ ভাগ দখলে নিয়েছে আইএস। অবজারভেটরির পরিচালক রামি আবদুর রহমান বলেন, কুর্দি সদর দফতর দখলে নেয়ার ফলে আইএস এখন শহরের উত্তরে তুর্কি সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে পারবে। তিনি আরো বলেন, আইএস যদি তা পারে, তাহলে কোবানির মধ্যে অবস্থানরত কুর্দি বাহিনী পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এ দিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, গতকাল তারা কোবানির আইএস অবস্থানের ওপর অন্তত ২০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে আইএসের অগ্রযাত্রা ঠেকানো যাবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাত্মক ধর্মঘট ঘোষণা

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাত্মক ধর্মঘট আহবান করেছে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা। কোন ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না করেই একযোগে শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলের সমস্ত আবাসিক ছাত্রদের বৈধ সিটগুলো বাতিল করায় এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শাহ আমানত হল বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ রাখার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল খুলে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তবে শাহ আমানত হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথে কোন ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না করেই একযোগে শাহ আমানত হলের সমস্ত আবাসিক ছাত্রদের বৈধ সিটগুলো বাতিল করার নজিরবিহীন প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হয় প্রশাসন।
আমানত হলের বৈধ ছাত্রদের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবীতে হলের আবাসিক ছাত্ররা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন শুরু করে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ করেই ২৪ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী হলকে কেন্দ্র করে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি ছাত্রসংগঠন। কিন্তু এবারো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার কোন সুষ্ঠু সমাধান না দিয়ে উল্টো হলের সমস্ত আবাসিক ছাত্রকে বের করে দিয়ে হল বন্ধ করে দেয়।
এমতাবস্থায় শাহজালাল, শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্ররা বন্ধ হলগুলো খুলে দিয়ে তাতে বৈধ ছাত্রদের তুলে দেয়ার দাবীতে গত ২৫ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টা সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু প্রশাসন দাবী পূরণ না করায় ৩১ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক ছাত্রধর্মঘটের কর্মসূচি দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষার্থে আগামী ১২ ই অক্টোবর (রোববার) থেকে লাগাতার সর্বাত্বক ধর্মঘটের ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাস পরীক্ষা সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম কর্মসূচীর আওতাভূক্ত থাকবে।

বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাংক ডাকাতি হয়

বাংলাদেশে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংক ডাকাতির হিড়িক পড়েছে। এসব ডাকাত বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটে নিচ্ছে। তবে তাদের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে আরেক শ্রেণির লোকজন। তারা এ কাজ করছে, ব্যাংকেরই প্রশ্রয়ে, প্রকাশ্য দিবালোকে। তাদেরকেই প্রতিরোধ করার দিকে বেশি মনোযোগী হতে হবে। শুক্রবার প্রভাবশালী নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতামত পাতায় এ কথাই বলা হয়েছে। তাহমিমা আনাম ‘ বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাংক ডাকাতি হয়’ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশ করেছেন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে হুজুগে অনেক কিছু চলে। ১৯৯০-এর দশকে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ২০০০-এর দশকে শপিং মল ও হাই-রাইজ ভবন। এখন হচ্ছে হলিউড স্টাইলে ব্যাংক ডাকাতি। গত জানুয়ারিতে কিশোরগঞ্জে সোহেল ও তার সঙ্গী ইদ্রিস মুন্সী সুড়ঙ্ক খুঁড়ে একটি ব্যাংক থেকে ১৬৯ মিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে ‘দ্য ব্যাংক জব’-এর মতো হলিউড মুভির সাথে তুলনা করতে থাকে।
ইদ্রিস মুন্সী একটি ধারা সূচনা করেছেন বলেই পরবর্তী ঘটনাবলীতে দেখা যায়। মার্চে বগুড়ায় সোনালী ব্যাংকের আদমদিঘি শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা চুরি করেন। এখানেও সুড়ঙ্গ পদ্ধতির আশ্রয় নেয়া হয়। সুড়ঙ্গটি এখানে খোঁড়া হয়েছিল একটি ফার্নিচারের দোকানের নিচ থেকে। আর গত মাসে দুর্বৃত্তরা জয়পুরহাটে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা থেকে দুই কোটি টাকা চুরি করে। দুর্বৃত্তরা এই অপকর্মটি করার জন্য ব্যাংকটির পাশেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল।
তবে ইদ্রিস মুন্সীরা হলিউড স্টাইলে ডাকাতি করলেও আসল ব্যাংক ডাকাত কিন্তু তারা নয়। তাদের চেয়ে অনেক বড় চোর রয়েছে এবং তাদের সহজেই চেনা যায়। ব্যাংকগুলোই তাদের সুবিধা করে দিয়েছে। তারা হলেন ঋণ খেলাফি। এসব লোক এবং ব্যবসায়ী ব্যাংকগুলো থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তবে ফেরত দেয়ার কোনো ইচ্ছাই তাদের নেই।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যেভাবে গঠিত হয়েছে, তার মধ্যেই এই সমস্যার বীজ লুকিয়ে আছে। বাংলাদেশে দুই ধরনের ব্যাংক রয়েছে : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে পরিচালিত বেসরকারি ব্যাংক, এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, দুই থেকে তিন শতাংশ ঋণ গ্রহণকারী খেলাপি হতে পারে। বাংলাদেশে তা ১২ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখেছে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে ঋণ অনাদায়ীর হার প্রায় ২৯ শতাংশ।
পরিস্থিতি অবনতিই হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৩ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-এ বলা হয়েছে, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অকিঞ্চিত করপোরেট নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ প্রদানের মানদণ্ড অনুসরণ না করার ফলে ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের সৃষ্টি হয়। এতে করে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ঋণকে অনাদায়ী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করতে হয়। গত ছয় বছরে চারটি প্রধান রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলারে করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে কিন্তু আগেই শ্রেণিভুক্ত করে রাখা ২ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়নি।
এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ মুলধন সরিয়ে নেয়া হচ্ছে, আর ব্যাংকগুলোকে এর ফলে সুদের হার উচ্চ রেখে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদ হার ৯ থেকে ১৬ শতাংশ। আমানতকারীরা পায় ৬ থেকে ১২ শতাংশ হারে।
ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার। তাকে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপির তালিকায় রাখা হয়েছে। ব্যাংক কিছু কুঋণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটা বলা যায় ব্যর্থ হয়েছে। মামলাজটের কারণে আইনগতভাবেও অগ্রগতি হচ্ছে সামান্য। বর্তমানে ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে আট লাখ মামলা রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের একমাত্র পন্থা হতে পারে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে পুরোপুরি একক সংস্থার নিয়ন্ত্রণে এগুলোকে প্রদান করা। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হলে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ থাকলে দুর্নীতিমূলক ব্যবস্থার সৃষ্টি হতে বাধ্য।
সুড়ঙ্গ খুঁেড় ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যাংকগুলোকে আরো সুরক্ষিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে যারা প্রকাশ্যে দিবালোকে ব্যাংকগুলোতে হানা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

হুদ হুদের পরের ঘুর্ণিঝড়টির নাম নিলুফার by হামিম উল কবির

হুদ হুদের পরের ঘুর্ণিঝড়টির নাম হবে নিলুফার। এটা পাকিস্তানের দেয়া নাম। নিলুফার নামটি বাংলাদেশেও সমান জনপ্রিয়। অনেক বাবা-মা তাদের মেয়ের নাম নিলুফার রেখে গর্ববোধ করেন। হুদ হুদ নামটি ওমানের দেয়া। এটি মাথায় জুটিযুক্ত একটি পাখি। খুব সুন্দর এ পাখিটি বাংলাদেশেও দেখতে পাওয়া যায়।

নিলূফারের পরের নামটি হবে ‘প্রিয়া’ শ্রীলঙ্কার প্রস্তাব অনুসারে, এরপর থাইল্যান্ডের নাম ‘কোমেন’। কোমেনের পর যে ঝড় হবে এর নাম হবে বাংলাদেশের দেয়া ‘চপলা’।
২০০৪ সালের আগে উত্তর ভারত মহাসাগর তথা বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর এলাকায় ঝড়ের কোনো নাম ছিলনা। ১৯৫৩ সাল থেকে আটলান্টিক মহাসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঝড়ের নাম দেয়া শুরু হয়।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর এলাকায় সৃষ্ট ঝড়গুলো সাংকেতিক নাম্বার হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তাও আবহাওয়াবিদ জলবায়ুবিদদের কাছেই তা পরিচিত ছিল। সন অনুযায়ী এবং যে এলাকায় সর্বাধিক আঘাত করেছে সে এলাকার নামানুসারে ঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে। যেমন ১৯৯১ সালের চট্টগ্রামের ঝড়, ১৯৭০ সালের ঝড় ইত্যাদি।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ওমান এক সাথে বসে ৬৪টি নাম স্থির করে। প্রত্যেকটি দেশ ৮টি করে নাম প্রস্তাব করে। ইংরেজী অক্ষর অনুযায়ী যে দেশের নাম আগে আসবে সে দেশের প্রস্তাব করা নাম রাখা হবে সৃষ্ট ঝড়ের। গত জুনে শেষ ঝড়টির নাম দেয়া হয়েছিল ন্যানউক এবং এটা মিয়ানমারের দেয়া নাম।
সব ঝড়ের নাম আমরা জানিনা তার কারণ কোনো কোনো ঝড় সাগরে সৃষ্টি হয়ে সাগরেই নিম্নচাপ থেকে লঘুচাপে রূপান্তরিত হয়ে শেষ হয়ে যায়। এগুলো আর স্থলে আঘাত করতে পারে না। ফলে ঝড়ের কোনো কোনো নাম অপরিচিতই থেকে যায়। বাংলাদেশে প্রথম ‘সিডর’ নামটি পরিচিত হয়ে উঠে মানুষের কাছে ২০০৭ সালে। এটি সে বছর ১৫ নভেম্বর আঘাত করে। এর পর ২০০৯ সালের ২৬ মে বাংলাদেশে আইলা নামক ঝড়টি আঘাত করে। হুদহুদের আগে ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশে পাইলিন আঘাত করে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর।
হুদ হুদ নামটি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরী হয়েছে। নামটি ওমানের দেয়া হলেও এটা ইহুদী দেশ ইসরাইলের জাতীয় পাখির নাম। কেন এ নামটির রাখার প্রস্তাব দিল মুসলমানদের দেশ ওমান তা বাংলাদেশের মানুষকে বিষ্মিত করেছে। নামটি প্রস্তাব করার সময় ওমান কি জানতোনা পাখিটি ইসরাইলের জাতীয় পাখি হিসেবে পরিচিত ?

আন্দোলন মোকাবেলায় নতুন কৌশল by জাকির হোসেন লিটন

মাঠ দখলের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের - বিএনপি জোটকে বিভ্রান্ত করতে ডিসিসি নির্বাচনের পরিকল্পনা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঈদ-পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবেলায় নতুন ছক কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সহিংসতা দমনের নামে সারা দেশে কয়েক দফা গণগ্রেফতার সেরে ফেলেছে প্রশাসন। বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পুরনো মামলা সক্রিয় করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। আন্দোলন চাঙ্গা হলে এসব মামলায় আবারো গ্রেফতার অভিযান শুরু হবে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের পাশাপাশি রাজপথও দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীনেরা। সেই লক্ষ্যে শিগগিরই তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করা হবে। সরকারি দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, বিএনপিকে বিভ্রান্ত করতে সরকার ভিন্ন উপায়ও গ্রহণ করতে পারে। সেই লক্ষ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই অংশের নির্বাচনের বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। পরিস্থিতি বুঝে এ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপিকে আন্দোলনে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এতে আবারো রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ২০ দলীয় জোট নেতারা বলছেন, আন্দোলনে কোনো ধরনের বাধা দেয়ার চেষ্টা হলে পাল্টা আঘাত করা হবে। প্রয়োজনে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে। বিরোধী জোটের আন্দোলনের হুমকির বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা। সে জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় ঈদের পর তৃণমূল সম্মেলনের তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামীকাল রোববার আবারো বসছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের বিষয় ছাড়াও বিএনপি জোটের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলের শরিকদের এক বৈঠকে ঈদের পর ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের হুমকির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলায় শরিক সংগঠনগুলোর মতামতও জানতে চাওয়া হয়। এ সময় বলা হয় শিগগিরই ১৪ দলের বৈঠক ডেকে আন্দোলন মোকাবেলার ছক তৈরি করা হবে।
আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবেলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের সাথে রাজপথে তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি থাকবে। বিএনপি জোট যাতে কোনোভাবেই রাজপথ দখলে নিতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকবে তারা। পাশাপাশি ঢাকায় যাতে কোনোভাবে আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে সে জন্য বিভক্ত ডিসিসির দুই অংশের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও নতুন করে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ কারণে ডিসিসিতে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। সরকারবিরোধী সম্ভাব্য কঠোর আন্দোলনের সময় ডিসিসির নির্বাচনের হুজুগ তুলে সেই আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই এ কৌশল নেয়া হতে পারে। সম্প্রতি ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের এক বৈঠক থেকে নেতাকর্মীদের সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগের পরিস্থিতিতে দেশ ফিরে যাক মতাসীনেরা তা কোনোভাবেই চান না। সম্প্রতি দলের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অস্থিরতার আগেই তা সামাল দিয়েছে সরকার। লতিফ সিদ্দিকীকে সরকার ও দলের সব পদ থকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণায় আপাতত সরকারবিরোধী আন্দোলনের বড় একটি ইস্যু শেষ করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের সহিংস হয়ে উঠতে দেয়া হবে না। তাই বিএনপির প থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঘোষণা আসার পরপরই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তারা আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত এবং তারও আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থারও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গত কয়েক বছরে সারা দেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজারের মতো মামলা করা হয়। নির্বাচনের আগে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার সাত শতাধিক মামলা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় এক শ’র কাছাকাছি মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মামলার খড়গ রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর। এসব মামলার অর্ধেকের তদন্ত শেষে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। এখন আন্দোলনের ঘোষণার পর বাকি মামলা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলায় পুলিশের মামলা তদন্তের এ মিশন মূলত বিরোধীদের শক্তি সঞ্চয়ে বাধা দেয়ারই কৌশল। একই সাথে যুক্ত হবে নতুন নতুন আরো অনেক মামলা।
এ দিকে আন্দোলনের নামে সব ধরনের নাশকতা বা জ্বালাও-পোড়াও রোধে পুলিশ, র‌্যাব এবং সব ক’টি গোয়েন্দা সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি তারা আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জামও মজুদ করছে। বিরোধী নেতাকর্মীরা রাজপথে সহিংস হয়ে উঠলে প্রশাসনিকভাবে তা দমন করার নির্দেশ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর ওপর।
অন্য দিকে রাজধানীতে বিরোধী দলকে মোকাবেলায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে শিগগিরই মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। নতুন নেতৃত্ব পেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ স্থবিরতা কাটিয়ে গতিশীল হবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকেরা। একই সাথে সারা দেশে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হবে।
ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যত আন্দোলনই হোক, লাভ নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মতায় এসেছেন।
দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নূহ উল আলম লেনিন বলেন, বিএনপি শুধু লাফালাফি করতে পারে, আন্দোলন করতে পারে না। তাদের আন্দোলন হচ্ছে খুনোখুনি আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাক হত্যার টার্গেট; কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেঁচে থাকতে তা হতে দেয়া হবে না। তারা কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তাদের বাধা নেই। তবে যদি কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করা হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী তা দমন করবে।
দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি এমপি বলেন, তাদের হুমকি-ধমকির কোনো অর্থ নেই। কারণ আন্দোলন মানুষ ছাড়া হয় না; কিন্তু তাদের আন্দোলনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সে জন্য অতীতে তারা সফল হতে পারেনি আর ভবিষ্যতেও পারবে না। আসলে তারা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাওয়ার নিরলস প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কারণ তারা তো এ দেশটাকেই চায়নি। তবে শান্ত এ দেশে নতুন করে অস্থিরতার চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাবকের সাথে বেবুন মায়ের মানবখেলা

অবুঝ সন্তানকে নিয়ে কত না খেলায় মা-বাবা মেতে উঠেন। তাদের খুশি করতে সদা ব্যস্ত থাকেন। ছোট্ট বাবুটাকে কখনো শুয়ে পায়ের ভাঁজের ওপর তুলে গানের তালে তালে উঠা-নামা করান। কখনো সন্তানকে দুই হাতের মুঠোয় তুলে নিয়ে উপরে তুলে ধরেন, আবার মাটিতে নামিয়ে আনেন। সন্তান খিল খিলিয়ে হেসে উঠলে একই খেলার পুনরাবৃত্তিও ঘটান। কিন্তু এই একই খেলা যদি কোনো মা বেবুন খেলে তার সন্তানের সাথে তখন কেমন লাগবে? নিশ্চিয়ই আশ্চর্য হবেন। এমনই এক ঘটনার স্বাক্ষী ৫৪ বছর বয়সী মারিয়ানা দে কার্ক। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ররুগার ন্যাশনাল পার্কে চমৎকার এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

শিক্ষকতা পেশায় থাকা এই নারী জানান, অমি যখন যাই তখন পার্কটিতে অনেক বেবুর শাবক মায়ের সাথে খেলছিল। তার ভাষ্য মতে, দেখতে দেখতে আমার চোখ আাটকে গেল এক মা বেবুন ও তার সন্তানের ওপর। মা বেবুনটি প্রথমে সন্তানটিকে মাটি থেকে দুই হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তুলে ধরল, তারপর আবার নিচে নামিয়ে নিলো। ঠিক আমরা যেভাবে সন্তানদের নিয়ে খেলি। একবার খেললে হয়ত ওতটা আশ্চর্য হতাম না। কিন্তু মা বেবুনটি বার বার এভাবেই খেলে যাচ্ছিল। খুব আশ্চর্য হলাম, বেবুন মায়ের এই মানবখেলা দেখে। তিনি বলেন, আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেবুনের খেলা দেখেছি কিন্তু এমন কখনও দেখিনি। আমি সাথে সাথে ওই চমৎকার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করি।

সূত্র : ডেইলি মেইল

রাতের আঁধারে পদ্মায় ইলিশ শিকার

‘মা’ ইলিশ রক্ষায় কয়েক দিন ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাতের আঁধারে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার চলছে। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিস ইলিশ ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শীলা রায় প্রথম আলোকে বলেন, মা ইলিশ মাছ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া, ঢল্লাপাড়া, কুশাহাটা, রাখালগাছি, অন্তার মোড় ও দেবগ্রাম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গতকাল রাত ১১টা থেকে আজ ভোর চারটা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে প্রায় তিন মণ ইলিশ মাছ এবং ৫০ হাজার মিটারের বেশি ২৭টি বড় কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য নয় লাখ টাকা। সকাল আটটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কারেন্ট জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং মাছগুলো পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া মাদ্রাসার এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে।
১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষেধ থাকলেও ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জের দোহারে পদ্মা নদীতে অবাধে চলছে ইলিশ শিকার। রাতের অন্ধকারেই টর্চলাইটের আলোয় কর্মব্যস্ত স্থানীয় মৈনট ট্রলার ঘাটের মাছের আড়তগুলো। ঘাটের আড়তদার আবদুল আজিজ এক ঝুঁড়িতে অন্তত ডিমওয়ালা ৮০টি ছোট-বড় ইলিশ নিয়ে বসেছেন। পাইকারেরা ডাক তুলছেন, সঙ্গে আড়তের মালিক আজিজ, মনি খাঁ, নূর মৃধাসহ ১৬ জন মাছের পাইকার ডাক হাঁকছেন। সব আড়তে ঝুঁড়িতে ঝুঁড়িতে ডিমওয়ালা ইলিশ। জেলেরা ব্যস্ত নৌকা থেকে মাছ আড়তে তুলতে। ক্রেতা ও দোহার নবাবগঞ্জের বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের ভিড় জমে উঠেছে। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দোহার থানার মোহাম্মদপুর ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় আড়ত এলাকা থেকে প্রায় এক মণ ইলিশ মাছ জব্দ করলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি। মাছগুলো পরে স্থানীয় কয়েকটি মাদ্রাসায় বিলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন খানের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রতিদিন রাত তিনটা থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ইলিশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের লোকজনকেও এখানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। মাছের ট্রলারচালক শেখ আদিলের দাবি, গত রাতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় পুলিশের একটি দল নদীতে গেলেও কিছু মাছ নিয়ে চলে আসে। দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ বি এম জাকারিয়া বলেন, বাজারগুলোতে প্রতিদিন অভিযান চলছে। অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে এ কয়দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো যায়নি।

এবার সফল হয়েছেন সোনাক্ষি সিনহা

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন শত্রুঘন সিনহা কন্যা সোনাক্ষি সিনহা। ভাল অভিনয়ের পাশাপাশি তার পারফরমেন্স ও আবেদনও নজর কাড়ে সবার। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ভাল অবস্থানও তৈরি করেন এই অভিনেত্রী। তবে ওজন নিয়ে আরও একটু সচেতন হওয়ার জন্য বলিউডের অনেকেই তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের ওজন নিয়ে শংকার মধ্যে ছিলেন খোদ সোনাক্ষিও। আর তাই তো শুরু থেকেই তিনি ডায়েট ও ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ফলাফল মিলেছে গড়পড়তাই। তেমন একটা ওজন কমাতে সক্ষম হননি। তবে সম্প্রতি যেন জাদুই দেখালেন সোনাক্ষি। এবার সফল হয়েছেন তিনি। গত দুই মাসে ওজন কমিয়েছেন ১০ কেজি। ‘অ্যাকশন জ্যাকসন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যই তিনি এই ওজন কমালেন। ছবির আগেই সোনাক্ষিকে পরিচালক প্রভুদেবা নির্দেশনা দিয়েছিলেন ওজন কমানোর। আর তার জন্য একজন জিম ইন্সট্রাকটরও ঠিক করে দেন প্রভুদেবা। এরপর থেকেই শুরু হয়ে যায় সোনাক্ষির ওজন কমানোর মিশন। ওজন কমানোর পর আরও অনেক বেশি আবেদনময়ী মনে হচ্ছে এ অভিনেত্রীকে। আর নিজের এই নতুনরূপেই সম্প্রতি অস্ট্রিয়ায় ‘অ্যাকশন জ্যাকসন’ ছবির শুটিং করার সময় ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন সোনাক্ষি। এ ছবিতে ছিপছিপে সোনাক্ষিকেই আবিষ্কার করতে পারবেন দর্শক। ছবিতে সোনাক্ষির চরিত্রটি দারুণ গ্ল্যামারনির্ভর। খোলামেলা হয়ে কিছু নাচনির্ভর গানে পারফর্ম করতে দেখা যাবে তাকে। প্রভুদেবা সোনাক্ষির এই পরিবর্তনে দারুণ খুশি। তার ওজন কমানো উপলক্ষে এরই মধ্যে একটি পার্টিও দিয়েছেন তিনি। নিজের ছিপছিপে গড়নের নতুনরূপ প্রসঙ্গে সোনাক্ষি বলেন, সবকিছুর জন্য প্রভুদেবাকে অনেক ধন্যবাদ। কারণ, তিনি শর্ত না দিলে মনে হয় ওজন কমানোই সম্ভব হতো না আমার। বলিউডের অনেক অভিনেত্রীকেই বিকিনি পরতে দেখে আমারও এমন দৃশ্যে কাজ করতে ইচ্ছে হতো। কিন্তু ওজনের কারণে সেটি হয়নি। এখন আমি বিকিনির জন্য উপযুক্ত। অনেক হ্যাপি আমি।

আল বাগদাদির খেলাফত by ড. মাহফুজ পারভেজ

সারা আরবে এখন উচ্চকিত  স্লোগান: ‘জমহুরিয়াত মা আল ইসলাম’ অর্থাৎ ইসলাম ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসন চাই। আরব বসন্তের উপসংহারহীন দুঃখজনক পরিসমাপ্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের রক্তাক্ত রাজনৈতিক রণাঙ্গনে উড়ছে প্যান-ইসলামিক খেলাফতের সবুজ পতাকা। ইসলামের নামে শেষ খেলাফত তুরস্কের উসমানিয়াদের পতনের এক শ’ বছর পর ইরাকের খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি উড়িয়েছেন সেই ঝাণ্ডা। তাঁর ডাকে রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে উন্মাতাল তাবৎ আরব দুনিয়া। খেলাফতের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভক্ত আরব জনমত ও রাষ্ট্রসমূহ। ইরাকের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের ৮০০ কিলোমিটারব্যাপী সীমান্তে ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। সৌদি বাদশাহ এতটাই রুষ্ট যে, তিনি তাঁর সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে কঠিনতম পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। জর্ডান থেকে সালাফি নেতা আবু মুহম্মদ আল মাকসুদি সৌদি সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। খেলাফতপন্থি, প্যান-ইসলামিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘হিযবুত তাহ্‌রির’ কটাক্ষ করে বলেছে, ‘আবুবকর আল বাগদাদিকে খেলাফত প্রতিষ্ঠার এ অধিকার দিয়েছে কে? তাঁর ঘোষণা শূন্য কলসির আওয়াজ মাত্র।’ খেলাফতের বিরুদ্ধে সোচ্চার ইরানও। ইরাকি উপজাতির স্বঘোষিত খলিফাকে দমনের জন্য সামরিক শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। প্রবল বিরোধিতার পরেও পরিস্থিতির অনেকটুকুই নিয়ন্ত্রণ করছেন আল বাগদাদি। ফলে এখন সবার সামনে একটিই প্রশ্ন: কে এই খলিফা বাগদাদি আর কেমন তাঁর খেলাফত?

খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি মূলত একজন আরব কবি। বয়স ৪৩। শক্তপোক্ত, ভারিক্কি চেহারার দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ। জন্ম ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারায় এক সাধারণ আরব উপজাতি পরিবারে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের পড়াশোনা নিজের শহরে। তারপর আরবি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা বাগদাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই ধর্মশাস্ত্রে পিএইচডি। স্বল্পভাষী, আপাত শান্ত বাগদাদি ২০০৩ সাল পর্যন্ত নিজের শহরেই তাঁর দিনযাপন সীমাবদ্ধ রাখেন। মসজিদের ইমাম পদে থেকে ধর্মকর্ম ও সাংসারিক কাজেই ব্যস্ত থাকেন। ছিলেন জাতীয়তাবাদী-জনপ্রিয়-স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের ভক্ত; কিন্তু কখনওই তাঁর অন্ধ-অনুসারী হন নি। অবসর সময়ে কবিতা রচনা করতেন। শব্দচয়ন ও কবিতার ভাষা ছিল পুরোদস্তুর আধুনিক। যদিও বাগদাদির কবিতার প্রতীক, বাকপ্রতিমা, উপমা ইসলামি ঐতিহ্য ও পুরাণঘেঁষা।
প্রসঙ্গত স্মরণ করতে হবে তৎকালীন ইরাকের চরম অনিশ্চিত ও আক্রান্ত রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও। ২০০৩ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। গভীর সুড়ঙ্গে ধরা পড়ে গেলেন সাদ্দাম হোসেন। নবগঠিত সরকার তাঁর বিচার শুরু করলো ৩০শে জুন, ২০০৪। আড়াই বছরের প্রহসন বিচারের পর ২০০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ফাঁসি হয় সাদ্দামের। দণ্ডাদেশের আগে, আদালতে দাঁড়িয়ে অগ্নিবর্ষী আরবিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জাতির উদ্দেশে এবং আরবদের লক্ষ্য করে যে ভাষণ দিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন, সে ভাষণের বয়ান এখনও বহু আরবের কানে বাজছে: ‘... আমি কোন অন্যায় করি নি। যা করেছি সবই দেশের জন্য, জাতির জন্য। মৃত্যুকে ভয় করি না। নিজেকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিচ্ছি। আমি যখন থাকবো না, তখনো আমার জাতি, আমার ইরাকি জনগণ, আমার আরব ভাইয়েরা মুক্তির জন্য ধর্মযুদ্ধ/জিহাদ চালিয়ে যাবে।’
অবাক হওয়ার মতোই চমকপ্রদ আরেক ঘটনা হলো, সেই ২০০৬ সাল থেকেই বদলে যেতে শুরু করলেন তরুণ আরব কবি আবুবকর আল বাগদাদি। নিজের এলাকা ছেড়ে ঘুরে বেড়ালেন দেশের নানা প্রান্তর। তারপর ফালুজায় এসে জড়ো করলেন ১০০ সশস্ত্র আরব তরুণকে। তখনও তিনি অপরিচিত। তাঁর সশস্ত্র তৎপরতা সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাকের সাধারণ প্রতিরোধের প্রচেষ্টার বাইরের কোন বিষয় হিসেবে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্ব কেউ অনুভব করেন নি। কিন্তু বাগদাদি সেখানেই থেমে থাকেন নি। বারবার নাম বদল করে, নানা বেশে ও ছদ্মবেশে, ইরাক, সিরিয়ার নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মিলিশিয়া সংগ্রহ করতে লাগলেন। তখনও ‘ক্যাম্প বুক্কা’ তাঁর অন্যতম ঠিকানা। মার্কিন সেনা কমান্ডার কর্নেল ক্যান কিং প্রচলিত অভিযান চালিয়ে পশ্চিমাবিরোধী অনেকের সঙ্গে বাগদাদিকে গ্রেপ্তার ও ‘ক্যাম্প বুক্কা’ ধ্বংস করেন। বাগদাদির জীবনে শুরু হয় প্রায় চার বছরের মতো সময় মার্কিন কারাগারে থাকার কষ্টকর অধ্যায়।
২০০৯ সালে মার্কিন দখলদার বাহিনীর গোপন সেলে আটক বাগদাদিকে ইরাকের পশ্চিমানুগত প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলে তিনি গর্জে ওঠেন: ‘আমি তোমাদের দেখে নেবো- প্রতিশোধ নেবো নিউ ইয়র্কে।’ রেকর্ড হিসেবে কাগজপত্রে লিপিবদ্ধ রাখা হলেও বাগদাদির হুমকিকে গুরুত্ব দেয় নি মার্কিন প্রশাসন কিংবা ইরাকের নূর আল মালিকির সরকার। এরই মধ্যে রুশ-ইরাক চুক্তি অনুসারে অন্যান্য কিছু বন্দির সঙ্গে মুক্তি পেলেন বাগদাদি। অবশ্য এ সময় আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, নাম তাঁর আবু ওমর আল বাগদাদি, যিনি আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠজন ও গেরিলাযুদ্ধের দক্ষ নেতা। তাঁর কাছেই আবুবকর আল বাগদাদি নিয়েছিলেন অস্ত্র প্রশিক্ষণ আর শিখেছিলেন গেরিলা পদ্ধতিতে প্রতিরোধযুদ্ধ কৌশল। তাঁর পরামর্শেই আল বাগদাদি গড়ে তোলেন সশস্ত্র যোদ্ধৃদল: লড়াকু ‘জাঁনেসাঁর’ বা জীবন-বাজি-রাখা বাহিনী। ওমরের মৃত্যুতে মরিয়া হয়ে উঠলেন আল বাগদাদি। কবিতার পুরুষ এবার হয়ে গেলেন ‘সিরিয়া-ইরাকি ইসলামী রাষ্ট্রে’র স্বঘোষিত খলিফা: সামরিক-অসামরিক সর্বেসর্বা।
১৬ই ডিসেম্বর ২০১০। ঘোষিত হলো প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো আর মানচিত্র। সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যখন গণ-অভ্যুত্থান দেখা দেয়, যখন আরব বসন্ত ভস্ম আর মরুভূমিতে মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে অসংখ্য রাজনৈতিক কাঁটা ও বিঘ্ন, তখন হাতে শাণিত অস্ত্র আর কণ্ঠে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খেলাফতের স্লোগান নিয়ে ইরাক থেকে, তুরস্কের উত্তরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা সিরিয়ায় প্রবেশ করে। আর তখনই নাম শোনা যায় ‘আইএসআইএস’-এর। আইএসআইএস একক কোন সংগঠন নয়। ক্ষুদ্র গ্রুপও নয়। বিভিন্ন যোদ্ধা ও বিপ্লবী গ্রুপের মোর্চা, পশ্চিমা দুনিয়ায় যাদের অনেককেই সন্ত্রাসবাদী বা জঙ্গিবাদী নামে চিহ্নিত করা হয়। এ জোট বা মোর্চাই এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল বাগদাদির নেতৃত্বে লড়ছে আরবের নানা প্রান্তে। লেবানন, ফিলিস্তিন, ইজরাইল, সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক ও সাইপ্রাসের একাংশ নিয়ে তারা বৃহত্তর ইসলামী খেলাফত-রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে এবং এ জন্য সশস্ত্র যুদ্ধও শুরু করে দিয়েছে। সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো থেকে তাঁর দলে লোক যোগ দিচ্ছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দারা দাবি করেছে। যদিও গোয়েন্দারা লাদেন বা জাওয়াহিরির সঙ্গে সরাসরি আল বাগদাদির দেখা হওয়ার খবর দিতে পারে নি, তথাপি এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে, ২০১১ সালের ২রা মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন মেরিন সেনাকর্তৃক লাদেনকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গেই আরব সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে কবি ও বিপ্লবী আল বাগদাদি বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ শিগগিরই।’ ঠিক তিন দিন পর বাগদাদ শহরে গাড়িবোমায় মারা যায় ২৪ পুলিশ। ক্রমেই সেই প্রতিশোধ ছড়িয়ে পড়ে আরব জগৎময় আর দিনে দিনে সেটা বাড়তেও থাকে। তার পর আসে চলতি ২০১৪ সালের বহু আলোচিত ২৯শে জুন তারিখটি।
২৯শে জুন তারিখে দিনটি ছিল রোববার। রাজধানী বাগদাদ শহর থেকে ১০০ দূরে মসুলে প্রহরী রক্ষিত নিশ্ছিদ্র ক্যাম্প থেকে সপরিষদ বেরিয়ে এলেন আবুবকর আল বাগদাদি। হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। গায়ে ফৌজি পোশাক। মাথায় কালো পাগড়ি। মুখভর্তি কাঁচা-পাকা দাড়ি। তাঁরই মুখপাত্রের আহ্বানে হাজির দেশ-বিদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের শ’ শ’ প্রতিনিধি। সবার সামনে সামরীয় আরবি উপভাষিক উচ্চারণে আল বাগদাদির বয়ান শুনে চমকে উঠলেন সাংবাদিকরা। মাত্র কুড়ি মিনিটের ভাষণ বদলে দিলো মধ্যপ্রাচ্যের আরব জগতের রাজনৈতিক হিসাবপত্র। আবুবকর আল বাগদাদি ডাক দিলেন দেশবাসী ও বিশ্ববাসী উম্মাহ বা কওমকে। সম্বোধন করলেন ‘ইয়া আইয়ুহাল এরাক, ইয়া কওমি, ইয়া মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত’। তারপর বললেন, ‘ইরাকের বাসিন্দা, আমার জাতি, মুসলমান পুরুষ ও নারী, আমার অনুগামীগণ নিঃসঙ্কোচে আমার ওপর খলিফার দায়িত্ব অর্পণ করে জনপ্রতিনিধিত্বশীভাবে দেশ শাসনের অধিকার দিয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। সবার, বিশেষ করে, মজলিসাতুস শূরার (উপদেষ্টামণ্ডলী) পক্ষ থেকে আমি খেলাফতে প্রত্যাবর্তন ঘোষণা করছি। ইরাকে বিস্তৃত অঞ্চল এখন আমাদের দখলে। সম্মুখে ‘ফাতহুন কারিব’ (চূড়ান্ত বিজয়)। অতএব, হাতে অস্ত্র নাও, মধ্য আফ্রিকা থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত আমাদের ওপর যে অন্যায়, যে অবিচার হয়েছে, প্রতিশোধ নিতে হবে। বিশ্বকে বুঝিয়ে দাও সন্ত্রাসবাদ কাকে বলে। জাতিবাদ আর গণতন্ত্রের ঈশ্বরকে গুঁড়িয়ে দিতে আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত।’
আবুবকর আল বাগদাদি যে কেবল কথার কথাই বলেন নি, প্রতিদিন সেটার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রত্যহ টিভি চ্যানেলের পর্দায় ভাসছে মারাত্মক অস্ত্র হাতে আইএসআইএস বাহিনীর ছবি। সামরিক ভ্যান বা জাপানি টয়োটা গাড়িতে তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আরব মরুর প্রান্তর। তাঁদের হাতে অর্ধচন্দ্র বা ইসলামী ক্রিসেন্ট অঙ্কিত পতাকা। পতাকায় বড় বড় আরবি হরফে লেখা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।
আরব জাতীয়তাবাদ থেকে বিকশিত হয়ে ইসলাম ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসনের দাবি, সেই দাবি বাস্তবায়নের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম বা জিহাদ এবং আবুবকর আল বাগদাদির খেলাফত প্রতিষ্ঠাকে পশ্চিমা দুনিয়া ও তাদের মধ্যপ্রাচ্যের তাঁবেদাররা এক কথায় সন্ত্রাসবাদ/জঙ্গিবাদ বা আল-কায়েদার ষড়যন্ত্র বললেও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন অন্য কথা। তারা মনে করেন, ‘শহিদ সাদ্দাম হোসেন কবরে আবার উদ্দাম হয়ে উঠেছেন।’ এ কথার ব্যাখ্যায় বলা যায়, ইরাকসহ আরব জগতে বাথ পার্টি নিষিদ্ধ বা ছত্রভঙ্গ হলেও একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। এখনও জীবিত বহু বাথ সদস্য, সাদ্দাম-ভক্ত ফৌজ। এত দিন যারা আত্মগোপন করেছিল তিকরিতে, মসুলে, ফোরাত বা ইউফ্রেতিস নদীর দুই তীরে, তারা ক্রমেই ফালুজায় সক্রিয় হয়েছে। তারা সঙ্গে পেয়েছে ক্ষুব্ধ, বিরক্ত, অত্যাচারে অতিষ্ঠ ইরাকি জনতাকে। ইরাকের অব্যবস্থা ও কুশাসন প্রমাণ করেছে, পশ্চিমের তাঁবেদারদের দ্বারা শুধু শিয়াদের দিয়ে রাষ্ট্র চালানো যায় না। কুর্দরা আছে, সুন্নি আরবরা আছে, আছে অসংখ্য আরব খ্রিস্টানও। সরকার, প্রশাসন আর রাজনীতিতে তাদের হিস্যা কোথায়? ১১ বছর ধরে তাঁবেদার মালিকি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে ইরাক শাসন করছেন। রাশিয়া, ইরান প্রভৃতি দেশের সাহায্য ছাড়া এক কদমও চলতে পারছে না মালিকির পুতুল সরকার। ইরাকিরা বিশ্বাস করেন, বিদেশী এজেন্টরা সরকার চালাচ্ছে এবং দেশ লুট করছে।
ইরাকের শাসনগত সঙ্কটের সঙ্গে এসে মিশেছে লিবিয়ায় গাদ্দাফি-পরবর্তী অরাজকতা, লুটপাট ও নির্যাতন। সিরিয়ায় লাগাতার গোষ্ঠীগত গৃহযুদ্ধ, অমানবিক হত্যাকাণ্ড। মিশরের গণতন্ত্রহীনতা ও সামরিক স্বৈরাচারীর অত্যাচারের নির্মমতা। কুশাসন-সৃষ্ট উৎপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ঘৃণা, ক্ষোভ আর নীরব প্রতিবাদই আরব বিশ্বের বর্তমান বাস্তবতা। আরবে বিদ্যমান সব সঙ্কটের ক্ষেত্রেই পশ্চিমা বিশ্বের কালো হাত দেখা যাচ্ছে, যে আগ্রাসনী হাতের কবল থেকে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে বিক্ষুব্ধ আরব জাতিসত্তা। কিন্তু সুরাহার রাস্তা কোথায়? পদলেহী সরকারগুলোর শাসনে? পশ্চিমা আগ্রাসনে? নাকি আবুবকর আল বাগদাদির নেতৃত্বাধীন খেলাফতের ‘জমহুরিয়াত মা আল ইসলাম’ স্লোগানে? গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে সামনে রেখে এ প্রশ্নের উত্তর এখনই কেউ দিতে পারবে না।

অর্থ কেলেঙ্কারির ত্বরান্বিত বিচার by আলী ইদরিস

সমাজে যত অপরাধ সংঘটিত হয় তার বেশির ভাগের পেছনে অন্তর্নিহিত কারণ থাকে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন। যেমন চুরি-চামারি, পকেটমারা, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ইত্যাদি। অভাবের তাড়নায় হোক বা লোভে হোক এরা সবাই অর্থের জন্যই অপরাধগুলো ঘটায়। এরা হলো ছোট বা খুচরা চোর বা ক্ষুদ্র অপরাধী। সাধারণত দণ্ডবিধির আওতায় তাদের বিচার হয়। আর বড় চোর হলো যারা বিভিন্ন অসৎ উপায়ে ব্যাংকের বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বা জনসাধারণের বড় অংকের  অর্থ আত্মসাৎ করে অথবা বিদেশে পাচার করে- এরাও অপরাধী, কিন্তু বড় অংকের পাইকারি চোর। তাদের বিচারও দণ্ডবিধির আওতায় হয়। এখানে আমার বিনীত প্রস্তাব হলো যেহেতু বড় অর্থ আত্মসাতে বা কেলেঙ্কারিতে জাতীয় বা জনসাধারণের অর্থ ও স্বার্থ  জড়িত, রাষ্ট্রীয় সুশাসনের প্রশ্ন জড়িত, দণ্ডবিধির আওতায় বিচার কার্যক্রমে সাক্ষী-সাবুদ দিয়ে প্রমাণ করার ব্যাপারে দীর্ঘ সময়ের প্রশ্ন জড়িত, সেহেতু দ্রুত বিচার আদালত বা অন্যান্য  ট্রাইব্যুনালের মতো অর্থ কেলেঙ্কারি বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের অধীনে তাদের বিচার হওয়া উচিত। তাতে বড় বড় দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনাও কমে আসতো। চার বছর আগে সংঘটিত শেয়ারবাজার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ  লুটের বিচার, ডেসটিনি কর্তৃক নিরীহ মানুষের অর্থ আত্মসাতের বিচার, সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিচার আরও অনেক অপরাধের বিচার এখনও হয়নি। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান যেমন মানুষের বাঁচার জন্য অপরিহার্য, তেমনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ত্বরান্বিত বিচারও অপরিহার্য। অর্থ লোভ যেমন সর্বনাশ করে, অর্থ হারানোর ব্যথাও তেমনি অসহনীয়। শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দু’ একজন  অর্থ হারিয়ে আত্মহত্যা করেছে, ডেসটিনির কোন কোন বিনিয়োগকারী  সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিচার পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। দু’ চার দিন কিছু না খেয়েও মানুষ বাঁচতে পারে, অপরাধের বিচার না পেলে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তাই যুগে যুগে সমাজ ও রাষ্ট্র অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কাজী, পঞ্চায়েত, আদালত, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা করেছে। আজ দেশে বড় অংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে  ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকেই  অর্থের লোভে অর্থ আত্মসাতের  দুর্নীতিতে মত্ত  হয়ে উঠেছে। সবশেষে বেসিক  ব্যাংকের  অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হলো কিন্তু তাকে আইনের আওতায় বিচার করা হয়নি। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকের মূলধন জনগণের করের অর্থ থেকে পরিশোধিত। শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হলো, সেটা সাধারণ নিরীহ জনগণের টাকা, সোনালী ব্যাংকের লুণ্ঠিত  টাকা জনসাধারণের করের টাকা, ডেসটিনি কর্তৃক লুণ্ঠিত অর্থ নিরপরাধ জনগণের টাকা, এ রকম আরও অনেক পুরানো অপরাধের বিচার হয়নি, হয়তো কোন কোনটার বিচার চলছে। কিন্তু অর্থ হারিয়ে যারা আত্মহত্যা করলো তারা বিচার দেখে যেতে পারে নি, এখন যারা অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তারা কি বিচার দেখতে পারবে? অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব সময়মতো বিচার সম্পন্ন করে ভুক্তভোগীর অর্থ ফিরিয়ে দেয়া। যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুট বা আত্মসাৎ করেছে তারা দেশের সর্বনাশ করেছে। এ অর্থ দিয়ে সরকার উন্নয়ন কর্ম করতে পারতো, বেকারত্ব, দারিদ্র্য দূর করতে পারতো, তাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতো। তাই এখন সময় এসেছে যারা জনসাধারণের বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ অবৈধ উপায়ে আত্মসাৎ করবে তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। অর্থ ঋণ আদালত  ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে, তারপরও ঋণ আদায় হয় না। বর্তমানে দেশের ব্যাংকসমূহের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০,০০০ কোটি টাকায়। অর্থ ঋণ আদালতের  ব্যর্থতার  কারণেই অর্থ কেলেঙ্কারির  অপরাধীদের জন্য আরও ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। যে সরকারই ক্ষমতায়  অধিষ্ঠিত থাকুক, আইনের শাসন ছাড়া অর্থ কেলেঙ্কারি,  দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন-খারাবি দমন করা সম্ভব হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ত্বরান্বিত বিচার দ্বারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও  বিচার বিভাগের হাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ দু’টি বিভাগই মানুষের সুখ-শান্তি, জান-মালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি ইত্যাদি অর্থাৎ সত্যিকারের সুশাসন দিতে পারে। মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেন সুশাসন পেতে পারি সে কামনায় সরকারের কাছে নিবেদন থাকবে অর্থ কেলেঙ্কারি সহ সমস্ত  অপরাধের বিচার পদ্ধতি আরও ত্বরান্বিত করুন, তাহলে অপরাধ নির্মূল না হোক, অন্তত নিয়ন্ত্রিত হবে।
০৯-১০-২০১৪

ভাষাসেনাপতির বিদায় by সাযযাদ কাদির

ভাষাসৈনিক বলা হয় তাঁকে, আসলে তিনি ভাষাসেনাপতি। অন্যান্য সৈনিকের ভূমিকা, প্রচার প্রভৃতি দেখে শুনে জেনে এবং অন্য সকল বিষয় বিবেচনায় রেখে আমার মনে হয় বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের সৈনাপত্য তাঁরই ছিল। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলনকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে তিনিই সৃষ্টি করেছিলেন ছাত্র-জনতার ভাষার লড়াই। এ লড়াইয়ের সূত্র ধরেই কালক্রমে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, স্বাধিকারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার লড়াই ও মহান মুক্তিযুদ্ধ। সবখানেই তাই দেখি ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা। বৃহত্তর জনসমাজকে আন্দোলন-সংগ্রামে এ রকম সম্পৃক্ত করার প্রেরণা ২৬ বছরের যুবক আবদুল মতিন পেয়েছিলেন অবশ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই।
প্রাথমিক বিপর্যয়ের ফলে ১৯৪৮ সালে স্থগিত হয়েছিল ভাষা আন্দোলন। এরপর নতুন ভাবে, নতুন উদ্যোগে, নতুন নেতৃত্বে এ আন্দোলনের যাত্রা শুরু ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ। এ যাত্রাই পরিণতি পেয়েছিল ১৯৫০-৫২ সালের কষ্টসাধ্য প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। শেষে ১৪৪ ধারা অমান্য করার মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পালন, গুলিবর্ষণ ও মৃত্যুর প্রতিবাদে ২২শে ফেব্রুয়ারি গায়েবি জানাজা আহ্বান ও পালন এবং তার ফলে ২৩শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত হয় ভাষা আন্দোলনের মহান বিজয়।
কি ঘটেছিল ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ? সেদিন ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চের আন্দোলন-সমাবেশের বার্ষিকী পালন উপলক্ষে ছাত্রসমাবেশ ঘটেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানেই আবদুল মতিন বলেছিলেন, ‘গতানুগতিক বার্ষিকী উদযাপনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষ ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে যা চিন্তাভাবনা করে ও যা করতে বলে সেটা করাই হবে এই মুহূর্তের ভাষা আন্দোলনের জন্য সঠিক করণীয়। এই কাজটা ছাত্ররা করতে পারে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষাকামী ভাষাসংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এই সংগ্রাম কমিটি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুরূপ সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলবে এবং ছাত্রদের সংগঠিত শক্তির মাধ্যমে আন্দোলনকে এমন ভাবে এগিয়ে নেবে যাতে জনগণ ধাপে-ধাপে শামিল হতে পারে এবং এই ভাবে ছাত্র ও জনগণের মিলিত শক্তিতে আন্দোলন এমন দুর্বার হয়ে উঠবে, যার কাছে শাসকরা মাথা নত করতে বাধ্য হবে। জনগণ, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ ছাত্ররা এটাই চায়, সুতরাং তাদের সে ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে এই ভাবে সংগঠিত করলে যে শক্তির উদ্ভব ঘটবে, তা হবে অপ্রতিরোধ্য ও অজেয়।
সেদিনের এ বক্তব্য সম্পর্কে পরে আবদুল মতিন লিখেছেন, ‘... সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাবের প্রেরণা ও সূত্র আমি পেয়েছিলাম ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চের কয়েক দিন আগে পুরাতন জাদুঘরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নিম্ন বেতনভুক সরকারি কর্মচারীদের ব্যারাকগুলোর পার্শ্বস্থ এক চায়ের দোকানে কয়েকজন সেক্রেটারিয়েট কর্মচারীর একান্ত নিজেদের মধ্যকার কথাবার্তার মধ্যে। সকালবেলার ওই চায়ের দোকানের এক টেবিলে তাঁরা আলোচনা করছিলেন ভাষা আন্দোলন নিয়ে। তাঁদের মধ্যে একজন ছাত্ররা বাংলা ভাষার আন্দোলন অব্যাহত না রাখায় বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার জন্য সংগ্রাম শুরু করলেই তাঁরা ওই দাবিকে সমর্থন করে আন্দোলনে শামিল হতে পারেন। তাঁর কথাকে সমর্থন করে আর একজন বলছিলেন, বাংলা রাষ্ট্রভাষা হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ।... তাঁদের এই রকম ঘরোয়া কথাবার্তার মধ্য দিয়ে আমি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনের দিকনির্দেশ পেয়েছিলাম। তাঁদের কথাবার্তায় আমি ভালভাবে উপলব্ধি করেছিলাম যে, মানুষ কেবল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবেই চায় না, তারা তার জন্য আন্দোলনও করতে চায়। সে আন্দোলন কারা সূচনা করবে, কারা নেতৃত্বে দেবে সে সম্পর্কেও তাদের কথাবার্তায় ছিল সুস্পষ্ট আভাস।’
বস্তুত সেদিন আবদুল মতিনের প্রস্তাবমূলক বক্তব্যে সমবেত ছাত্ররা বিরাট সম্ভাবনা দেখতে পান ভাষা আন্দোলনের। তিনি লিখেছেন, ‘এইভাবে সাধারণ ছাত্রদের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, উত্থাপিত প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে সমর্থনের ভিত্তিতে, সকল ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির সমন্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা কমিটি গঠিত হয়েছিল।’ এর পরের ঘটনা আজ বাংলা ও বাঙালির গর্বিত ইতিহাস।
আজ এই ভাষাসেনাপতি বিদায় নিয়েছেন তাঁর স্বপ্নসাধের প্রিয়ভূমি থেকে। বায়ান্ন’র রণাঙ্গনে বিজয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু রাজনীতির লড়াই নিয়ে যেতে পারেন নি রাজধানীতে। ছিলেন জনমানুষের সঙ্গে, তাই সিংহাসন তাঁর পাতা হয়েছিল আমজনতার দরবারে। আজ সেই দরবার থেকে তাঁকে জানাই বিপ্লবী অভিবাদন, কোটি-কোটি সালাম।
০৮.০৯.২০১৪

ভিডিও পাইরেসি ও নকলের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই by মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে ভিডিও পাইরেসি এবং নকল গল্পের ছবি নির্মাণ। বলা যায়, সাম্প্রতিক ভিডিও পাইরেসি ও নকলের দৌরাত্ম্য ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। একটি ছবি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযোজকদের হাতে চলে যাচ্ছে পাইরেটেড সিডি কিংবা টেলিফোন। দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। প্রযোজকরা ভিডিও পাইরেসি ঠেকিয়ে রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিকে টাকা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নিজের ছবিকে রক্ষা করতে পারছেন না। যেসব প্রভাবশালী প্রযোজক পরিবেশক ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে লালন-পালন করেছেন, রক্ষা করেছেন, সেসব প্রযোজকের ছবিও পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে। পথে বসে যাচ্ছেন প্রযোজকরা। ডিজিটাল সিনেমা কিংবা প্রজেক্টরে পেন ড্রাইভ দিয়ে ছবি প্রদর্শনের কারণে ভিডিও পাইরেসি অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। একজন ব্যস্ত চিত্রসম্পাদক ও তার সহকারীরা এই ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে জড়িত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিচালক জানিয়েছেন। পরিচালক আরও জানান, একটি বড় প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধারকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তার হাবভাব দেখে বোঝা গেছে, বিষয়টি তিনি জানেন। বড় বড় প্রযোজনা সংস্থার মালিকদের এই রহস্যজনক আচরণের কারণে ভিডিও পাইরেসির আগ্রাসন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি এক শ্রেণীর কাহিনীকার ও পরিচালক তামিল, তেলেগু ছবির হুবহু নকল করে ছবি নির্মাণ করে দর্শকদের বিরক্ত করছেন। নির্লজ্জ নকলের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভূমিকাও রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি ঈদের একটি ছবি হুবহু নকলের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও একদিন পরে সেটা সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে যায়। এতে বিস্মিত হন চলচ্চিত্র শিল্পের অনেকেই। এর আগে হুবহু নকল ছবির বিষয়ে গণমাধ্যম সক্রিয় থাকলেও সেন্সর বোর্ডের টনক নড়েনি। অথচ সেন্সর বোর্ডের বিধি অনুসারে ছবি সেন্সরের সময় কাহিনীকার এবং পরিচালককে মুচলেকা দিতে হয়। কাহিনীকার নির্বিকারভাবে কাহিনী মৌলিক বলে লিখিত মুচলেকা দিচ্ছেন। অথচ দেখা যাচ্ছে ছবির গল্প শুধু নকল নয়, প্রতিটি দৃশ্যই হুবহু নকল। এসব ধরিয়ে দেয়ার জন্য একটি মহল আসল ছবির ডিভিডিও পাঠিয়ে দিচ্ছে সেন্সর বোর্ডে। তার পরও ছবিগুলো অবলীলায় সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছে এবং অবাধে প্রদর্শন হচ্ছে। চলচ্চিত্রে দর্শক সঙ্কট, শিল্পী সঙ্কট, মেধা সঙ্কটের পাশাপাশি ভিডিও পাইরেসির আগ্রাসন এবং নির্লজ্জ নকলের দৌরাত্ম্য দেখে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা শঙ্কিত হয়ে উঠছেন। এদিকে আবার একটি মহল বাংলাদেশে ভারতীয় ছবির বাজার তৈরির অপচেষ্টায় ব্যস্ত। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রের চারপাশে গভীর অন্ধকার। দেশীয় সংস্কৃতিও আজ ধ্বংসের পথে। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সক্রিয় না হলে ভিডিও পাইরেসি, নকল, অশ্লীলতা, সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা আশঙ্কা করছেন।

‘ইউটার্ন’ ছাড়লেন পিয়া

আলভি আহমেদের ‘ইউটার্ন’ ছবি থেকে সরে দাঁড়ালেন চলতি প্রজন্মের আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। গত রোজার ঈদের পরপরই এ ছবির অন্যতম প্রধান নায়িকা চরিত্রের জন্য কথা পাকাপাকি হয় পিয়ার। কিন্তু এরপর চীন সফরে যান তিনি। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দেশে এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন পড়াশোনা নিয়ে। কথা ছিল চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এ ছবির শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘ইউটার্ন’ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন পিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত কারণে এ ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে অন্য কলাকুশলীদের নিয়ে এরই মধ্যে ‘ইউটার্ন’র প্রথম দিনের শুটিং করেছেন পরিচালক আলভী আহমেদ। ছবি থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া জানান, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি বিরক্ত। শুধু ব্যক্তিগত কিছু কারণেই ছবি থেকে সরে এসেছি আমি। এছাড়া অন্য কোন কারণ নেই। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় র‌্যাম্পের মঞ্চ দাপটের সঙ্গে শাসন করে বেড়ানো পিয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। প্রথম ছবিতে নিজের অভিনয়-পারফরমেন্সের বদৌলতে দর্শকমহলে প্রশংসিত হন তিনি। এরই মধ্যে পিয়া কাজ শেষ করেছেন ‘স্টোরি অব সামারা’, ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ ও ‘প্রবাসিনীর প্রেম’ চলচ্চিত্রের। এসব ছবি বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্বে প্রতিভাধর সাইবার অপরাধীর সংখ্যা ১০০

বিশ্বে বড় ধরনের যতো সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়, তার পেছনে মাথার সংখ্যাটা খুব বেশি নয়। সারা বিশ্বে এ ধরনের সাইবার অপরাধীর সংখ্যা মাত্র ১০০। ইউরোপোল’স সাইবারক্রাইম সেন্টার এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ট্রোয়েলস ওয়েরটিং বলছিলেন, সীমিত সংখ্যক প্রোগ্রামারের গ্রুপকে টার্গেট করতে হবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের।  তিনি বলেন, মোটামুটিভাবে আমরা তাদের জানি। আমরা যদি তাদের সমীকরণ থেকে বাদ দিতে পারি, তাহলে বাকিদেরও পতন হবে। সাইবার অপরাধ দমন এখনও দুরূহ লড়াই হিসেবেই পরিগণিত। তিনি বলেন, আমরা এখনও পেরে উঠতে সক্ষম। কিন্তু, অপরাধীদের কাছে আরও উপায় আছে এবং তাদের কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। তারা লোভ ও লাভের দ্বারা পরিচালিত এবং তারা এতো দ্রুত ম্যালওয়্যার তৈরি করে যে আমরা সে গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে সমস্যায় পড়ি। তিনি বলেন, অপরাধীরা আর আমাদের দেশগুলোতে আসে না। তারা বেশ দূর থেকে অপরাধ সংঘটিত করে এবং এ কারণেই সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে আমি তাদের পাকড়াও করতে পারি না।

জাহাঙ্গীরের ‘মূল্য’ লাখ টাকা





টাঙ্গাইলে নৃশংসতা: ঘাতক জাহাঙ্গীর এখনও নিখোঁজ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মির্জাপুর থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। এদিকে সকালে এজাহারভুক্ত আরেক আসামি বদরউদ্দিনকে  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ই অক্টোবর উপজেলার সোহাগপুর উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে ঘরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয় হাসনা বেগম (৩৫) ও তার তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), বাকপ্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১১) ও মলি আক্তারকে (৭)।







সীমান্তে আকাশপথে শক্তি বৃদ্ধি করবে ভারত

বাংলাদেশ সীমান্তে আকাশপথে শক্তি বৃদ্ধি করবে ভারত। এ জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে অতিরিক্ত হেলিকপ্টার ও এয়ারক্রাফট। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্তেও একই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়েছে, জজঙ্গি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফকে সহায়তা করতে এই শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিএসএফ প্রধান ডি কে পাঠকের সঙ্গে শুক্রবার আলোচনা করেছেছন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বাড়তি হেলিকপ্টর ও নতুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন  ডি কে পাঠক।  সম্প্রতি পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে। তাই তারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ৬৩৮৬ কিলোমিটার সীমান্তে স্থল অভিযানে নিয়োজিত বিএস্এফকে আকাশপথে সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এর অধীনে বিএসএফকে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পরিবহনে সহায়তা করা হবে। ডি কে পাঠক বলেছেন, আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছিছ। শিগগিরই আকাশপথে সহায়তার ক্ষেত্র বিস্তৃত করা হবে। তবে  বাড়তি কোন ব্যাটালিয়ন যোগ করা হবে কিনা সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয় নি।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিএসএফের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে এতে রয়েছে ১৭৫টি ব্যাটালিয়ন। ১৯৬৯ সালে একটি কুইন এয়ার সি-৮০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে প্রথম এর বিমান বা আকাশপথের শাখা উদ্বোধন করা হয়। বিএসএফের এয়ার উইং বা বিমান শাখা রয়েছে নয়া দিল্লি, রায়পুর, রাচি, আগরতলা ও শ্রীনগরে। তবু তারা অপারেশন পরিচালনা করে শুধু দিল্লি থেকে। বিএসএয়ের বিমান শাখার ফিক্সড উইংয়ে রয়েছে এমব্রায়ের-১৩৫ জে, অভরো-এইচস-৭৪৮, সুপার কিং বি-২০০। এছাড়া রোটারি উইংয়ে রয়েছে এএলএইচ (ধ্রুব), চিতা ও মি-১৭-ফোর। ২০১১ সালের ১৯শে অক্টোবর রাটিতে পাহাড়ি এলাকায় একটি ধ্রুব (এএলএইচ) হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ৩ জনের সবাই নিহত হন।

স্বপ্ন নয় লাশ হয়ে ফিরছেন রফিকুল

উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশ থেকে ৩ বছর আগে কানাডা পাড়ি জমিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম (২৭)। এ মাসের শেষের দিকে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। মা তার ছেলের ফিরে আসার পথের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছিলেন। কিন্তু পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে তাকে প্রচ- জোরে আঘাত করে একটি কালো ফোর্ড এসকেপ। সঙ্গে সঙ্গে তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রফিকুল ইসলাম। কানাডার রেজিনা এলাকায় এ ঘটনায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশে তার মা অহরাত্র কান্না করছেন। তার দাবি- আমি আর কিছুই চাই না। আমি অর্থ চাই না। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফেরত চাই। তার সেই আর্তি পৌঁছেছে কানাডায় রফিকুল ইসলামের দু’ বন্ধু মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ হাসানের কানে। তারা মায়ের এই ইচ্ছা পূরণে পথে নেমেছেন। অর্থ সংগ্রহ করছেন রফিকুল ইসলামের মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য। হাসান বলেন, আমরা এর মাধ্যমে তার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। রফিকুল ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। বিদেশ থেকে দেশে পিতামাতার কাছে অর্থ পাঠাতেন। সেই অর্থে পিতামাতা ও ভাইবোনের খরচ চলত। রফিকুল ইসলাম বসবাস করতেন রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তারা দেশে স্কুল জীবন থেকেই বন্ধু। এখন তিনিই এগিয়ে এসেছেন। আরেক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ অনুদান তুলছেন। তারা আশা করছেন এভাবে ১৫০০০ থেকে ২০০০০ ডলার সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে বেশি সাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। পুলিশ এখন কালো রঙের ফোর্ড এসকেপ খুঁজছে।

‘মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ না, জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ না। তবে বড় ভাই হিসেবে তার বক্তব্যের জন্য আমি জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি। লতিফ সিদ্দিকীকেও তার বক্তব্যের জন্য আল্লাহ এবং জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করতে হবে। না করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে এবং যা শাস্তি হওয়ার তাই হবে। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর মতো একজন প্রবীণ ব্যক্তির পবিত্র ধর্ম ইসলাম নিয়ে এমন আপত্তিকর বক্তব্য শুধু তার একার হতে পারে না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনে করে এটি আওয়ামী লীগ ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আসা সরকারের বক্তব্য। সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজ থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়ার এটি কৌশল। তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান। লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে ভাই হিসেবে তিনি মর্মাহত। সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী ও দুই মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে জাতি মর্মাহত। মুসলিম সম্প্রদায় ব্যতিত। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মর্মাহত। আমি এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। একজন মুসলমান হিসেবে আমি এই বক্তব্যে নিন্দা জানাই। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ না। তবে তিনি আমার ভাই।

কালোমেঘ by মো. নজরুল ইসলাম

দেশীয় চিরতা হিসেবে সমধিক পরিচিত ও ‘বিকল্প কুইনাইন’ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত কালোমেঘ বণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলার কৃষকরা এই ভেষজ গাছটির চাষ করে লাভবান হচ্ছে। ইউনানি আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও এখন ঘাটাইলে কালোমোঘ ব্যবহার হচ্ছে। চিকিৎসা  বিজ্ঞানের মতে, কালোমেঘ জ্বর থেকে শুরু করে অজীন, যকৃতের গোলযোগসহ অনেক জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) বর্ষজীবী বীরুৎ কালোমেঘের বৈজ্ঞানিক নাম এন্ড্রোগ্রাফিস প্যানিকুলাটা  নিস উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে একেনথেসী পরিবারভুক্ত কালোমেঘ গাছ আধামিটার থেকে এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কান্ড শাখা-প্রশাখা চারকোণাকৃতি, নরম ও সবুজ। মরিচ পাতার সদৃশ কালোমেঘ পাতার অগ্রভাগ ও বোঁটার দিকে ক্রমশ সরু এবং বর্ণ গাঢ় সবুজ। আবহাওয়াগত আনুকূল্যে বাংলাদেশের সর্বত্র কালোমেঘ জন্মে। বর্ষার শেষে পত্রকলা থেকে লম্বা পুষ্পদণ্ড বের হয় এবং এ পুষ্পদণ্ডে হালকা সাদার মাঝে বেগুনি ফোঁটাযুক্ত ১ সেন্টিমিটার লন্বা ফুলগুলো সাজানো থাকে । পরে লম্বালম্বিভাবে দুই অংশে ৪-৫টি করে মোট ৮-১০টি বীজ থাকে। পাকা বীজের রং হালকা খয়েরি। বর্ষার পর থেকে শীতকাল পর্যন্ত ফুল ও ফল হয়। সাধারণত জুন-জুলাই মাস চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে পরিপক্ব বীজ মাটিতে পড়ে আপনা আপনি কালোমেঘ গাছ জন্মে। তুলনামূলকভাবে এটি ছায়াযুক্ত জায়গাতে বেশি জন্মায় বলে অন্য গাছের নিচে এবং সাথী ফসল হিসেবেও এর চাষ করা যায়। সামান্য মাটি খুঁড়ে বীজ বপন করলে ফলন বাড়ে। কালোমেঘ অঞ্চলভেদে কল্পনাথ হিসেবেও পরিচিত। অনেকে অত্যধিক তেতো স্বাদের এ গাছ শুকিয়ে চিরতা বলে বিক্রি করে থাকে। দু’যুগের ব্যবধানে ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কালোমেঘের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। চাষিরা দিন দিন কালোমেঘ চাষের প্রয়োজনীয়তা অবগত হচ্ছেন। সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের গৌরিশ্বর ও কুশারিয়া গ্রামে প্রায় ১২ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কালোমেঘের চাষ করা হয়। এছাড়া এ ঔষধি গাছের চাষ হচ্ছে সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এর অগ্রপথিক চাষি গৌরিশ্বর গ্রামের হুরমুজ আলী (৫৫)। তিনি ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম যশোর থেকে পলিথিনে ভরে দুই তোলা পরিমাণে বীজ এনে বাড়ির পাশে ছিটিয়ে রাখেন। ভালো ফলন হলে বিষয়টি অন্যদের  নজরে আসে। তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে অন্যরাও এর চাষ শুরু করেন। এ কালোমেঘের চাষ গ্রামের অনেকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। হুরমুজ আলী আগে অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতেন। বিভিন্ন গাছের ছাল বাকলের ব্যবসা করে কোনরকমে দিন চালাতো। সংসারে তখন নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো অবস্থা। এখন কালোমেঘ চাষ করে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এ কালোমেঘ চাষে আলাদা কোন যত্ন নেয়ার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে বীজ ছিটিয়ে রাখলেই চলে। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিতে কোন সমস্যা হয় না। সাথী ফসল হিসেবে কোন রকম খরচ ছাড়াই প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ কালোমেঘ উৎপাদন করা হয়। যার বজারমূল্য মণপ্রতি চার হাজার টাকা। ভরা মওসুমে এ মূল্য দাঁড়ায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা মণ। কৃষকরা জানান, সাধারণত বৈশাখ মাসে এ বীজ বপন করা হয়। পরিপক্ব হয় কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। এ কালোমেঘ কেনার জন্য ঢাকার কাওরানবাজার  থেকে মহাজনরা ঘাটাইলের গৌরিশ্বর ও কুশারিয়া গ্রামে আসেন। গৌরিশ্বর গ্রামের হায়দার আলী, মজিবর রহমান; কুশারিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, নলমা গ্রামের রুস্তম আলী, মুসলিম উদ্দিন ও শাহেদ আলী এ কালোমেঘের আবাদ করে বছরে অতিরিক্ত ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। বহুমাত্রিক ব্যবহার: চিরতার মতো তিতা স্বাদের কালোমেঘের পুরো গাছটিই। ঔষধি গুণে ভরা। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কালোমেঘে রয়েছে রজন জাতীয় উপাদান কালোমেঘিন, তিক্ত কেলাসিত ডাইটারপেন ল্যাকটোন, ডাইটারপেন গ্লকোসাইড ডি অক্সিএন্ড্রোগাফোলয়েডস, ইপি জেনিল ইথার, অন্যান্য ফ্লাডোনয়েড ও ফেনলসহ বহু  উপাদান। পাতায় রয়েছে বেট সিটোস্টেরল গ্লকোসাইড, প্যানিকোলাইড ইত্যাদি। মূলে রয়েছে এন্ডোগ্রাফিন ও প্যানিকোলিন আলপাসিটোস্টেরল ইত্যাদি। বিদেশে কুইনাইনের বিকল্প হিসেবে কালোমেঘের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশে স্মরণাতীতকাল থেকেই লোকজ চিকিৎসা ক্ষেত্রে কালোমেঘ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গ্রাম্য কবিরাজ হাকীম ও হোমিওপ্যাথিক জিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগ চিকিৎসায় এটি অনেক ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে যকৃতের বিভিন্ন রোগের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান হিসেবে কালোমেঘের ব্যবহার অনেক। এছাড়া কালোমেঘ রক্ত পরিষ্কার পাকস্থলীর শক্তির্বধক, রেচক, কৃমিনাশক, জ্বর ও পেটের যাবতীয় রোগ যেমন: অজীন, অতিসার বা উদরাময়, রক্ত আমাশায়, ঘা ও খোস-পাঁচড়া নিবারক। সমপ্রতি প্রমাণ পাওয়া গেছে কলোমেঘ টাইফয়েড রোগেও এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। মধুপুর কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ জানান, কালোমেঘ বা চিরতার মধ্যে বহু মূল্যবান ক্যাফেইন। প্যারাসিটামলসহ অর্ধশতাধিক এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ও হারবাল ওষুধ তৈরিতে ক্যাফেইন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, তার সংস্থা কালোমেঘ চাষিদের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. হযরত আলি জানান, বাণিজ্যিকভিত্তিতে কালোমেঘ চাষ একটি ভাল উদ্যোগ। চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বেইজিংয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

জিকো চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন রোনালদো—দ্য ফেনোমেননও। ‘সম্ভাবনার সূত্র’, ‘মন্টে কার্লো সিমুলেশন’—এমন আরও কত কঠিন তত্ত্ব মিলিয়ে-টিলিয়ে ‘গোল্ডেন স্যাকস’ নামে ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম প্রভাবশালী বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকও বলে দিয়েছিল, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনালই হবে বিশ্বকাপে! সেটা হলে দারুণ হবে—বলেছিলেন নেইমারও। আর সবার মতো তাঁর কাছেও এটা স্বপ্নের ফাইনাল। ক্লাব-সতীর্থ ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন। মেসি-নেইমাররা তখনো জানতেন না জোয়াকিম লোয়ের দল এমন ‘নিষ্ঠুর’ পরিকল্পনা এঁটে রেখেছে তাঁদের জন্য। সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ওদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লজ্জা দিয়ে আর ফাইনালে মেসিদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতল জার্মানি। স্বপ্নের ফাইনাল স্বপ্নই রয়ে গেল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার কাছে।

না, বেইজিংয়ের ‘বার্ডস নেস্টে’ আজ সন্ধ্যার ম্যাচটা সেই স্বপ্নপূরণ করবে না। বিশ্বকাপের ফাইনালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের তুলনা হয় নাকি! এটা মেসি-নেইমাররা যেমন জানেন, তেমনি জানেন দুদলের সমর্থকেরাও। তাই বলে উন্মাদনাটা কি কম? ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ বলে কথা! যে দুটি দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলভক্তের রক্তে উন্মাদনার আগুন জ্বলে ওঠা। সেটা বিশ্বকাপেই হোক বা প্রীতি ম্যাচে। বুয়েনস এইরেস, রিও ডি জেনিরোতে হোক কিংবা বেইজিংয়ে। প্রতিবেশী দুদেশের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব তো আছেই, সঙ্গে আলাদা মাত্রা যোগ করা পেলে-ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে চিরন্তন বিতর্ক। সম্প্রতি যোগ হয়েছে সময়ের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলার মেসি-নেইমারকে মুখোমুখি হতে দেখার বাড়তি আকর্ষণও। এরপর ম্যাচটা শুধুই ‘প্রীতি ম্যাচ’ থাকে কী করে! আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনো তো বলেই দিয়েছেন, ‘জাতীয় দলের দ্বৈরথগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল লড়াইটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোথায় হচ্ছে সেটা বড় নয়, বড় কথা হচ্ছে দুদেশের ইতিহাস। খেলোয়াড়দেরও এটা ভালোই জানা।’
চিরন্তন এই দ্বন্দ্ব ছাড়াও এই ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ দুই দলের দুই নতুন কোচ মার্টিনো আর কার্লোস দুঙ্গার জন্য। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়া দুই কোচের সামনেই আপাতত লক্ষ্য আগামী বছরের কোপা আমেরিকা। তার জন্য দলকে ঠিক রাস্তাটা দেখানোর কাজটা এখন থেকেই শুরু করে দিতে চান দুঙ্গা আর মার্টিনো। বিশ্বকাপের পর গত মাসে ডুসেলডর্ফের প্রীতি ম্যাচে জার্মানিকে ৪-২ হারিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষেও সেই একই কৌশল ধরে রাখতে চান আর্জেন্টিনার কোচ, ‘জার্মানির সঙ্গে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই এ ম্যাচে খেলার চেষ্টা করব।’ বিশ্বকাপের পর কলম্বিয়া আর ইকুয়েডর দুই দলকেই ১-০ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে দুঙ্গার ব্রাজিলও। স্কলারির বিশ্বকাপ দলে উপেক্ষিত কাকা ডাক পেয়েছেন দুঙ্গার দলে। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান মিডফিল্ডারও বলে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে বুঝিয়ে দেবেন তিনি ফুরিয়ে যাননি। শেষ পর্যন্ত ৩২ বছর বয়সী ব্রাজিল মিডফিল্ডার খেললে ডি মারিয়া-ফার্নান্দো গ্যাগোদের সঙ্গে মাঝ মাঠে বল দখলের লড়াইটা আরও জমবে বলেই আশা করা যায়।
তবে ফুটবল-বিশ্ব আদতে তাকিয়ে আছে মেসি-নেইমারের লড়াই দেখার জন্যই। যে লড়াইয়ের আগে নেইমারও রসিকতা করে বলেছেন, ‘মেসির মুখোমুখি হওয়াটা সব সময়ই দারুণ। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে সে বল না পায়।’ আর মেসি? আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড শুধু বলেছেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে নামতে আমি তৈরি।’
মেসি তৈরি, তৈরি নেইমারও।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা তৈরি তো? গোল ডটকম, এএফপি।

মধুটিলা ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়

নালিতাবাড়ী ‘মধুটিলা ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী এই বিনোদন পার্কের চারপাশে উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা আর সবুজের সমারোহ দেখতে ঈদ পরবর্তী সময়ে ইকোপার্কটিতে এখন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে পোড়াগাঁও ইউনিয়নে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মধুটিলা ইকোপার্ক। সমেশ্চুড়া বন বিটের আওতায় ৩শ’ ৮০ একর বনভূমিতে ২০০০ সালে নির্মাণ হয় ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’ পিকনিক স্পট।
এই পার্কটির প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারি সারি গাছ। রাস্তার ডানপাশে খোলা প্রান্তর আর দু-পাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ি ঢালু রাস্তা। এরপরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ ও পাখির ভাস্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। তারপর স্টার ব্রিজ পেরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের উঁচু নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইকোপার্কে ঢুকতে জনপ্রতি দশ টাকায় টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আলাদা আলাদা ফি দিয়ে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠা, শিশুপার্কে প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। শুধু দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য রয়েছে ভ্যাটসহ চার হাজার ৭শ’ ২ টাকার বিনিময়ে পাহাড়ের চূড়ায় চার কক্ষবিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সুসজ্জিত মহুয়া নামের রেস্ট হাউজ। এ রেস্ট হাউজ ব্যবহার করতে চাইলে মধুটিলা রেঞ্জ অফিস, ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিসে বুকিং দিতে হয়।
এছাড়াও এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা, বন্য প্রাণীর বিরল প্রজাতির পশু-পাখির ভাস্কর্য। আরও আছে ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির বৃক্ষ। ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রকৃতির অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে বারবার এ পার্কে  ছুটে আসেন। বিনোদন ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য পার্কটির বিশাল ভূমিকা রেখেছে। ইকোপার্কটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখান থেকে ভারতের দূরত্ব ১ কিলোমিটার। যুগ যুগ ধরে সীমান্তবর্তী এ পাহাড়ে গারো আদিবাসীরা বসবাস করে আসছেন। এখান থেকে খুব সহজে আদিবাসী গারোদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি দেখারও সুযোগ রয়েছে।
রাজধানী ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২শ’ কিলোমিটার। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়াও শেরপুর থেকে ভাড়ায় সিএনজি অথবা মোটরসাইকেলযোগে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যায়। অথবা নিজস্ব গাড়িতে সরাসরি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর পৌঁছানোর আগে নকলা উপজেলা থেকে নালিতাবাড়ী সদর হয়ে ইকোপার্কে আসা সহজ।

শব্দহীন তাঁতপল্লী

ব্যস্ত দোহার উপজেলার তাঁতপল্লী এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। কাঁক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত খুটখাট তাঁতের শব্দ এখন আর নেই। আধো ঘুমে কাজ করছেন তাঁতিরা এই দৃশ্য চোখে পড়ে না। ঈদে দোহারের জয়পাড়ার লুঙ্গির চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দিগুণ। যার ফলে এই সময়টায় কঠোর পরিশ্রম করেন তাঁতি পরিবার। ইকরাশী সড়ক পাড় গ্রামের তাঁতি আনোয়ার হোসেন জানান, পরিশ্রম অনুযায়ী সারা বছর তেমন একটা লাভ না হলেও ঈদে লুঙ্গির চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভ হয় বেশি। তাঁতিপল্লীর নারী কারিগররা জানান, শিশুকাল থেকে বাবার বাড়িতে কাজ শিখে এসে স্বামী সংসারের উন্নয়নে নিজেরাও তাঁতের ঘরোয়া কাজ করছেন। নিজেদের কাজ শেষে পরের বাড়ির তাঁতের কাজ করে নিজেদের হাত খরচও চালাচ্ছেন তাঁতপল্লীর গৃহিণীরা। উত্তর জয়পাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন, ‘ব্যস্ততার মাঝে ঠিকমতো রান্নাবান্নার সময়ও পাই না।’ ঈদের পর এমনটি আর নেই। যারা তাঁতের কাজ করেন স্থানীয় ভাষায় এদের বলা হয় ‘কারিকর’। মূলত ‘কারিগর’ শব্দটি মৌখিক ভাষায় বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ‘কারিকর’-এ রূপান্তরিত হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুতার মূল্য বৃদ্ধি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, পাওয়ার লুম যন্ত্র স্থাপনের ফলে জয়পাড়া এলাকার অনেক তাঁতি পরিবারই তাঁতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। যারা এখনও বাপ-দাদার এ পেশা ধরে রেখেছেন তাদের এই একটি মাসই বসন্তকাল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার জয়পাড়ার লুঙ্গি দেশ-বিদেশে সমানভাবে জনপ্রিয়। জয়পাড়ার লুঙ্গির চাহিদা ও সুনাম বিশ্বজুড়ে। জয়পাড়ার লুঙ্গির বৃহৎ বাজার ঢাকা জেলার নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইল। সেখান থেকে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জয়পাড়ার লুঙ্গি ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। এছাড়া দোহার উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ কর্মজীবী মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করায় জয়পাড়ার লুঙ্গির কদর দেশের সীমানা ছাড়িয়েছে বহু দিন আগেই। প্রায় চার দিন ৮০ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তৈরি হয় এক ভিম (ছয়টি) লুঙ্গি। এরপর ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া হাটে ও স্থানীয় মহাজনদের মাধ্যমে তবুও ন্যায্যমূল্য লুঙ্গি বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁতিরা। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দোহার উপজেলার চর-জয়পাড়া, উত্তর জয়পাড়া, খালপাড়, বৌ-বাজার, লটাখোলা, আন্তা বাহ্রা, ধোয়াইর, ইকরাশী, মেঘুলা, নারিশা গ্রামের তাঁতি সম্প্রদায় মহাব্যস্ত লুঙ্গি তৈরির কাজে। পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চারাও বাবা-মাকে লুঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করছেন। স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, সুতার মূল্য ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। সে হিসেবে বাড়েনি লুঙ্গির দাম। ফলে ঈদের এই একটি দিন ছাড়া এ ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তাঁতশিল্প মালিকরা।

বিলুপ্তির পথে তাঁতশিল্প

আগের মতো আর কর্মব্যস্ততা নেই গাংনী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তাঁতপল্লীতে। একাত্তর পরবর্তী সময়ে এখানকার তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দেশজোড়া কদর থাকলেও আধুনিক পোশাকের ভিড়ে এ জৌলুস হারাতে বসেছে। সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয় উপযোগী পোশাক তৈরির কারিগরদের খোঁজ রাখে না কেউ। অভিভাবকহীনতায় আজ বিলুপ্ত হতে বসেছে রাজাপুরের তাঁতশিল্প। গাংনী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটির পূর্ব দিকে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত রাজাপুর গ্রাম। এখানে প্রায় ২৫০টি তাঁতি পরিবারের বাস। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এক সময় এখানে তৈরি হতো উন্নতমানের লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা। কদরও ছিল বেশ। ১০-১৫ বছর আগেও তাঁতপল্লী ঘিরে ছিল চরম ব্যস্ততা। দেশের বড় বড় কাপড়ের মার্কেটসহ কুষ্টিয়ার পোড়াদহ বাজারের সিংহভাগ দখলে ছিল রাজাপুরের তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতিতে তৈরি চিকন সুতার শাড়ি, লুঙ্গির কাছে হার মেনেছে। এখন অনেকেই শুধু গামছা তৈরি করে টিকিয়ে রেখেছেন বাপ-দাদার পৈতৃক এ পেশা কিন্তু সুতাসহ পোশাক তৈরির সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি পেলেও তাঁতিদের তৈরি পোশাকের তেমন দাম না বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরির কারিগরদের অনেকেই এখন ঋণগ্রস্ত। তাই রুটি-রুজির তাগিদে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছেন তারা। মধ্য বয়সী কারিগর রহিদুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকে যে কাজ করে আসছি তা চাইলেই পরিবর্তন করা যায় না। দিনমজুরি কিংবা ক্ষেতের কাজে অভ্যস্ত নয় তাঁতিরা। কাপড় তৈরি কাজে তেমন আয়-উপার্জন নেই আবার অন্য পেশায় গিয়েও তেমন সুবিধা করতে পারছি না। এ কারণে অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যাদের পুঁজি আছে তারা কিছুটা লাভ করতে পারলেও যারা শুধু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তাদের কষ্টের অন্ত নেই। তাঁত শ্রমিক ইসমত আরা জানান, স্বামী ডিভোর্স দেয়ার পর পিতার বাড়িতে শিশু ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছি। প্রতিদিন তিনি ৪-৬টি গাছমা তৈরি করেন। কিন্তু মজুরি পান প্রতি পিসে মাত্র ১০ টাকা। কারিগর বজলুর রহমান ও আলমগীর হোসেন জানান, এক সময় রাজাপুরের শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছা মেহেরপুর জেলার পোশাকের চাহিদা পূরণ করেছে। তখন কারিগরদের যেমনি কদর ছিল তেমনি ছিল পোশাকের জৌলুস। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের পোশাক নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু এখন সেই সুদিন আর নেই। পোশাকের কদর হারানোর পাশাপাশি কারিগররাও অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। ব্যাংক ঋণও যেন তাদের কাছে অধরা। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঋণ কিংবা অর্থ সহযোগিতা দিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা গেলে আবার সুদিন ফিরে আসা সম্ভব। তবে তাঁতিদের আশ্বস্ত করলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন। তিনি জানান, পোশাক কারিগরদের সহযোগিতার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

গাজায় আহত শিশুদের জন্য এক মহৎ প্রাণের সংগ্রাম

মহৎ এক মিশনে নেমেছেন ড. ইজ্জেলদিন আবুয়েলাইশ। গাজায় ইসরাইলি বর্বরতায় আহত ১০০ শিশুকে চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়ে যেতে চান কানাডায়। কিছুদিন আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ বিভীষিকার চিত্র টেলিভিশনে দেখতে গিয়ে আর দশটা বিবেকবান মানুষের মতো তারও হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। তখনই এ পরিকল্পনা মাথায় আসে। নৃশংসতার এসব দৃশ্য আবারও ফিরিয়ে আনে তার দুঃসহ অতীত স্মৃতি। গাজায় এর আগের যুদ্ধে ইজ্জেলদিন তার তিন কন্যা আর এক ভাইঝিকে হারিয়েছিলেন। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এই শিশুদের মধ্যে আমি আমার মেয়েদের দেখতে পাই।’ তিনি আরও বলেন, ওদেরকে সারিয়ে তোলার জন্য আমাদের অবশ্যই সাহায্য করতে হবে, যেন তারা পঙ্গুত্ব না বরণ করে। আমি চাই এসব শিশুর কথা যেন সবাই শুনতে পায়। ইজ্জেলদিনের নিজের কাহিনী একদিকে যেমন হৃদয়বিদারক অন্যদিকে তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক। গাজার জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে তার জন্ম। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। কঠোর পরিশ্রম করে মেডিকেল স্কুল পাস করেছেন। অধ্যুষিত এলাকা, ইসরাইল ও অন্যান্য দেশে গাইলোকোলোজিস্ট হিসেবে কয়েক বছর কাজ করেছেন। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। ইজ্জেলদিনের ওপর প্রথম বিশ্বের নজর পড়ে ২০০৮-০৯ সালে গাজায় ইসরাইলি হামলার সময়। ১৬ই জানুয়ারির দুপুরে ইসরাইলের একটি বিমান হামলা আঘাত হানে তার বাসায়। তার সন্তানদের শোয়ার ঘরের ওপর বিধ্বস্ত হয় বোমা। তিন সন্তান বেসান (২১), মায়ার (১৫), আয়া (১৪) ও ১৭ বছরের ভাইঝি নুরের জীবনাবসান হয় মুহূর্তেই। ওই ট্র্যাজেডির বিবরণ তিনি দিয়েছেন- ‘আই শ্যাল নট হেট: এ গাজা ডক্টরস্‌ জার্নি’ শীর্ষক তার হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিকথায়। ‘বিকট এক বিস্ফোরণ হলো... বুঝতে পারলাম বিস্ফোরণের শব্দটা আসছে আমার মেয়েদের ঘর থেকে... আমার সামনে যে দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল, আমি আশা করবো দ্বিতীয় কোন ব্যক্তিকে যেন তা প্রত্যক্ষ করতে না হয়... আমার মেয়েদের আর ভাইঝির শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ।’ ক্রোধ আর তীব্র শোকের তাড়নায় সে তার বন্ধু শোমি এল্ডারকে ফোন করে। এল্ডার ছিলেন ইসরাইলের চ্যানেল ১০-এ কর্মরত একজন সাংবাদিক। ঘটনাক্রমে তিনি তখন স্টুডিওতে খবর সম্প্রচার করছিলেন। ইজ্জেলদিনের কলটি সম্প্রচার চলাআলে সরাসরি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এল্ডার। স্পষ্টত হতবিহ্বল, ক্রন্দনরত ইজ্জেলদিনের কণ্ঠে ছিল সাহায্যের আকুল আহ্বান। তার সেই আর্তচিৎকার ইথার তরঙ্গ প্রবাহে সঞ্চারিত হলো সর্বত্র। হঠাৎই ইসরাইলি দর্শকেরা যুদ্ধের প্রাণঘাতী মূল্য নিয়ে একজন ফিলিস্তিনির কণ্ঠ শুনতে পেলো। এরপর অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। ইজ্জেলদিন এখন গাজা উপত্যকা থেকে অনেক দূরে। কানাডার টরোন্টোতে তার কার্যালয়। সেখানের দেয়ালগুলোতে তার সন্তানদের ছবি আর অসংখ্য সম্মাননা পুরস্কার। ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর দাল্লা লানা স্কুল অব পাবলিক হেলথে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। তিনি নিজে একটি ফাউন্ডেশন স্থাপন করেছেন। সন্তানদের স্মৃতিতে নাম দিয়েছেন ডটারস্‌ ফর লাইফ। তার এ ফাউন্ডেশন মধ্যপ্রাচ্যের মেয়ে ও নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে থাকে। আর এখানে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা কোন ধর্মের অনুসারী সেটা বিবেচ্য নয়। গত মাসে গাজায় সাম্প্রতিক লড়াই দেখে সহায়তায় এগিয়ে আসার তাগিদ বোধ করেন তিনি। প্রায় রাতারাতি একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। চালু করেন ‘হিল ১০০ কিডস’ নামে একটি প্রকল্প। এ উদ্যোগের অধীনে আহত ১০০ ফিলিস্তিনি শিশুকে চিকিৎসার জন্য কানাডায় নিয়ে আসতে চান তিনি। অনেক দেশ ইতিমধ্যে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক ও ভেনিজুয়েলা। তার এ পরিকল্পনায় দ্রুতই সহায়তায় এগিয়ে আসে ওন্টারিও প্রদেশের একাধিক নামীদামি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এগিয়ে এসেছেন ওন্টারিওর প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এরিক হসকিন্স। মহতী এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এখনও সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাকি। সেটা হলো প্রয়োজনীয় ভিজিট ভিসা প্রদানে কানাডা সরকারের সম্মতি পাওয়া।

লক্ষ্মীপুরে পুলিশের এএসআই জলিলকে গুলি করে হত্যা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার সামনে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রায়পুরা থানার ওসির দাবি করেছেন, নিজ গুলিতে আবদুল জলিল নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজ গুলিতে নয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনা তদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি  গঠন করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার আগের দিন থেকে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ ও ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের বাসাবাড়ি থেকে রাখালিয়া বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সড়ক অবরোধ করে শত শত মানুষ। এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ সময় রায়পুর থানা পুলিশের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর গোয়েন্দা পুলিশ এবং জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অন্যান্য পুলিশের সঙ্গে (এএসআই) উপ-সহকারী পরিদর্শক মো. আবদুল জলিলসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে। এক পর্যায়ে পুলিশ সড়ক থেকে গাছ ও লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করে। পরে ওই রাত সাড়ে বারোটার দিকে রায়পুর থানার সামনে একটি চা দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন এএসআই আবদুল জলিল। চা খাওয়া অবস্থায় গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা এগিয়ে আসে জলিলের কাছে। এতে আবদুল জলিল বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে  লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ দিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জরুল হক আখন্দ সাংবাদিকদের জানান, আবদুল জলিল নিজ বন্দুকের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।  তবে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, থানার সামনে বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতি ছিল। হঠাৎ একটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই এএসআই আবদুল জলিল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কার গুলিতে আবদুল জলিল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। অপর দিকে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে জেলা পুলিশ লাইন মাঠে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাতে অংশ নেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমানসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও নিহতের বড় ভাই আবদুল মতিনসহ পরিবারের লোকজন। জানাজা শেষে বড় ভাই আবদুল মতিনের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার। নিহতের ভাই আবদুল মতিন জানান, বিকাল ৩টায় নোয়খালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের হরিবল্লভপুর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুপার এক প্রেসব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। তিনি জানান, ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল জলিলের শরীরে যে গুলি পাওয়া গেছে, ওই গুলি আবদুল জলিলের ব্যবহৃত এসএমজির গুলি নয়। এটা ছিল শটগানের গুলি। বিদ্যুতের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার পর রাতে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে তাকে গুলি করতে পারে এবং অন্য পুলিশ ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব শটগানের গুলি ব্যবহার করে মূলত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেনকে তদন্ত টিমের প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন এএসপি সার্কেল মো. সৈকত শাহীন ও রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. মঞ্জুরুল হক আখন্দ। প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো.  সৈকত শাহীন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাসিম মিয়া ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ। নিহত আবদুল জলিলের গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার হরিভল্লবপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে।

ওমরাহ্ ভিসা দেবে সৌদি বেসরকারি কোম্পানি

ওমরাহ্‌ পালনের ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিদ্যমান রীতি-নীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসছে। সার্বিকভাবে যথেষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করছে সৌদি সরকার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশ থেকে ওমরাহ্‌ ভিসা প্রদানের কাজ আর কেবল সৌদি দূতাবাসগুলো করবে না। টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি কোম্পানি ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করে দেবে। তারাই এখন থেকে একজন ওমরাহ্‌ যাত্রী কখন সৌদিতে প্রবেশ ও প্রস্থান করবেন তা নির্দিষ্ট করে দেবেন।
নতুন আইনের আওতায় ওমরাহ্‌ হজ ব্যবস্থা চালু হলে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ্‌ হজ পালনের ওপর একটি বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ওমরাহ্‌ ভিসার অপব্যবহার করে সৌদি শ্রমবাজারে ঢুকে পড়ার দরোজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ওমরাহ্‌ ভিসার অপব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
নতুন আনা বিধান যা শিগগরিই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ওমরাহ্‌ ভিসা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কেউ অবস্থান করলে ঢাকার যে এজেন্ট পাঠিয়েছে, তাকে জরিমানা দিতে হবে। ঢাকা থেকে সৌদিতে গমন এবং প্রস্থানের তারিখ একবার চূড়ান্ত হওয়ার পরে সর্বাধিক ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এই টাকা আগে থেকেই সৌদি সরকারের কাছে গচ্ছিত থাকবে, যা থেকে আপনা আপনি কর্তন হবে। তাছাড়া প্রত্যেক ওমরাহ্‌ হজযাত্রীর সৌদি আগমন এবং তিনি বা তারা যে হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্টে উঠবেন তারও ইলেকট্রনিক তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। একটি ওমরাহ্‌ হজ ইলেকট্রনিক ওয়েব পোর্টাল থাকবে। যাতে ঢাকার বেসরকারি এজেন্ট এবং ঢাকার সৌদি ভিসা যে ব্যক্তির নামে ওমরাহ্‌ ভিসা ইস্যু করবে সে সংক্রান্ত সকল তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কম্পিউটারে আপনা আপনি সংরক্ষিত হবে। এজন্য সামনের দিনগুলোতে ওমরাহ্‌ পালনের ব্যয় বাড়তে পারে। কারণ সৌদি আরবভিত্তিক ওমরাহ্‌ কোম্পানিগুলোকে ২০ লাখ ডলারের ব্যাংক গ্যারান্টি সংবলিত চেক সৌদি সরকারকে দিতে হবে। বর্তমানে ওমরাহ্‌ হজ পালনের জন্য  উল্লেখ্য, সৌদি সরকারের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে সম্প্রতি কিছু বাংলাদেশী ট্রাভেল এজেন্টকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই এজেন্টদের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী ওমরাহ্‌ পালন করতে গিয়ে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আর ফিরেআসেননি।
গতকাল সৌদি আরবের সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-সুলায়মি লিখেছেন, সকল ওমরাহ্‌ কোম্পানিকে এখন থেকে বিশ লাখ সৌদি রিয়ালের ব্যাংক গ্যারান্টির চেক দিতে হবে। যদি তারা সৌদি আরবে বসে ওমরাহ্‌ হজ পরিচালনা করতে চায়। এটা সরকারের সাম্প্রতিক নতুন বিধি-বিধানের আওতায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওমরাহ্‌ ফার্মগুলোকে সর্বপ্রথম সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ব্যাংক নিশ্চয়তা সংক্রান্ত চেক সরবরাহ করতে হবে। যে মেয়াদে তাদেরকে লাইসেন্স দেয়া হবে। সে একই  মেয়াদে তাদের ব্যাংক গ্যারান্টি থাকতে হবে।
হজ মন্ত্রণালয় লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে ওই তহবিল থেকে অর্থ তুলে নিতে সক্ষম থাকবে। ব্যাংক গ্যারান্টি হজ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কখনও বাতিল করা যাবে না। এটা আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। কি ধরনের শর্ত সাপেক্ষে লাইসেন্স সরবরাহ করা হবে তার যাবতীয় নিয়ম-কানুন নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং হজ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। যে সব বিষয় বিবেচনা করে লাইসেন্স দেয়া হবে তার মধ্যে থাকবে ওমরাহ্‌ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং ওমরাহ্‌ হজের ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা। এবং বিশেষ করে ওমরাহ্‌ করতে আসা হজযাত্রীরা কতটা বিলম্বে তাদের দেশে ফিরে গেছে এবং ফার্মগুলো এর আগে এ কারণে কোন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে কিনা। যদি দেশে ফিরে যেতে কোন বিলম্ব ঘটে তাহলে সৌদি সরকার সংশ্লিষ্ট ফার্মের একাউন্ট থেকে পরিবহন খরচ কর্তন করে নেবে। কিংবা ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে অর্থ নিয়ে নেয়া হবে।
নতুন রেগুলেশনের আওতায় একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এই কোম্পানি সৌদি আরবে প্রবেশ এবং প্রস্থান সংত্রুান্ত হজযাত্রীদের সকল নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে-ওমরাহ্‌ কোম্পানিগুলোর উপর অর্পিত দায়িত্ব লাঘব করা। এই প্রস্তাবিত কোম্পানিগুলোকে তাদের সেবার জন্য কিছু সার্ভিস-ফি দেয়া হবে। যা ওমরাহ্‌ ফার্মগুলোর কাছ থেকেই ফি-হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। এই প্রস্তাবিত কোম্পানির কার্যক্রম দেখভাল করবে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কাজে তারা অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও সাহায্য নেবে। উপরন্তু যে সব কোম্পানি নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী তাদের হজযাত্রীকে দেশে ফেরাতে ব্যর্থ হবে, তারা পরে আর কখনও হোটেল বা কোন এপার্টমেন্টের স্বয়ংক্রিয় বুকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিশ্চিত করবে যে সব ওমরাহ্‌ হজযাত্রী ওমরাহ্‌ হজের ভিসা নিয়ে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে, তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবে। হজ মন্ত্রণালয় এটা নিশ্চিত করবে যে, সকল ওমরাহ্‌ ফার্ম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তা পারমিট গ্রহণ করেছে। তারা এটাও নিশ্চিত করবে যে, সৌদি দূতাবাসগুলো থেকে জারি করা সকল ভিসা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রেরণ করবে।
নতুন রেগুলেশনের আওতায় ওমরাহ্‌ ফার্মগুলো হজযাত্রীর আগমনের নির্ধারিত সময়সূচি সর্বোচ্চ ৩০ দিন বৃদ্ধি করতে পারবে।
ভিসা প্রদানের আগে সৌদি সরকার এটা নিশ্চিত করবে যে, ওমরাহ্‌ ফার্মগুলো সকল প্রয়োজনীয় তথ্য,  যেমন- হজযাত্রীর বাসস্থান, তাদের থাকার রুম নাম্বার এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সব ধরনের রিজার্ভেশন তথ্য ওমরাহ্‌ ইলেক্ট্রনিক পোর্টালে সরবরাহ করবে। এই পোর্টাল সংশ্লিষ্ট হোটেল এবং এপার্টমেন্টের ইলেক্ট্রনিক রিজার্ভেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সিলেটে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক, মাজারের ভিড় উপচে পড়লো রাস্তায় by ওয়েছ খছরু

উরসের ভিড় শুক্রবার দেখা গেল ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহ্‌জালাল (র.) দরগাহে। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না দরগাহে। শুক্রবার জুমার আজানের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ ৫ তলার মসজিদ। প্রখর রোদেও মহিলাদের ঠাসা ভিড়। আর আজান হতেই লোকারণ্য হয়ে উঠে পুরো মাজার এলাকা। জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল উপচে পড়ে রাস্তায়ও। এতো মানুষের লোক সমাগমের কারণ একটাই। ঈদের ছুটিতে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সিলেটে এসেছেন। বুধবার থেকে দূর- দূরান্ত থেকে গাড়ি নিয়ে সিলেটে আসেন পর্যটকরা। আর এই ঢল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিলেটবাসীকে। পর্যটন এলাকা জাফলং পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। সিলেটে চা বাগানগুলোতে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল নেমেছে। প্রতি বৃহস্পতিবারে সাপ্তাহিক ভিড় বাড়ে দরগাহে হযরত শাহ্‌জালালে। কিন্তু ঈদে যারাই সিলেটে বেড়াতে এসেছেন তারা মাজার করতে ভিড় করে দরগাহে। এ কারণে বৃহস্পতিবার থেকে দরগাহ্‌ এলাকায় ভিড় বেশি। রাতে মাজার আঙ্গিনায় অনেকেই রাত কাটান। ইবাদত বন্দেগির পর ফজরের নামাজ পড়ে তারা সিলেট ঘুরতে বের হন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা থেকে আসা কয়েকজন ভক্ত জানিয়েছেন, তারা সিলেটে বেড়াতে এলেও মাজার জিয়ারতই মুখ্য উদ্দেশ্য। এ কারণে তারা রাতে হোটেলে থেকে সকালেই মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এবং জুমার নামাজ আদায় করে তারা ঘুরতে বের হন। ওদিকে, এবারের ঈদে জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই ও বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা পর্যটকদের স্মরণকালের বৃহত্তম মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভারতের মেঘালয় পাহাড়  ঘেষা অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি আর বিশ্বের অন্যতম সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুলকে এক নজর দেখতে উপচে পড়েন দর্শকরা। আর এজন্য চা-বাগানবেষ্টিত সাদা-কালো, রঙ- বেরঙের পাথর ঘেসা জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন নানা বয়সের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশুকিশোর। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলা  থেকে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ বিভিন্ন রকম যানবাহন নিয়ে এবং নানা রকম  পোশাক পরে জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় এসে এক মিলনমেলার সৃষ্টি করেন। সিলেট শহর  থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে ভারতের আসাম রাজ্যের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্ত ঘেষা এলাকায় জাফলং পর্যটন স্পট। এখানে রয়েছে জেলা পরিষদ নির্মিত জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, তামাবিল জিরো পয়েন্ট, পার্বত্য অঞ্চলের আঁকাবাঁকা মনোরম সড়ক পথ, ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, জাফলং পিকনিক সেন্টার, জাফলং গ্রীন পার্ক, জাফলং পাথর কোয়ারী, জাফলং চা-বাগান, খাসিয়া আদিবাসীদের প্রকৃতিবান্ধব বসতবাড়ি, পুঞ্জি এলাকায় জুমচাষ, সাতকরা জুম, কমলা বাগান এবং ভিন্ন রকম পাক-পাখালীর অপরূপ সমাবেশ। সীমান্তের কাছে থেকে দেখা যাচ্ছিল সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড়ের গায়ে মনোরম ঝর্ণা। পাহাড়ের গা বেয়ে  আসা বৃষ্টির পানিতে ঝর্ণাগুলো ফুলেফেঁপে হয়ে উঠেছে চঞ্চলা। এইসব কারণে কয়েক যুগ ধরে জাফলং এলাকা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন স্পট হিসেবে দেশ ও বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে পরিচিত। এসব পর্যটকের আদর-আপ্যায়ন করতে গড়ে উঠেছে জাফলং এলাকায় দেশী-বিদেশী ভিন্ন রকম ব্যবসা-বাণিজ্য। গত চারদিন ধরে বিছনাকান্দি, জাফলং ও পান্তুমাই এলাকায় প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটকদের পদচারণায় পর্যটন এরিয়া জাফলং মুখরিত। জাফলংয়ের মামার দোকান  থেকে শুরু করে বল্লাঘাট পর্যন্ত সহস্রাধিক পর্যটকবাহী গাড়ির সমাবেশ ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম বন রাতারগুল  সোয়াম ফরেস্ট দেখতেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। সেখানে প্রতিদিন  দেশী-বিদেশী পর্যটক ঘুরে বেড়ান। প্রকৃতি কন্যা পান্তুমাই বড়হিল ঝর্ণা  দেখতেও সকল বয়সের প্রকৃতিপ্রেমী  লোকজন ভিড় জমান পান্তুমাই। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। তাছাড়া উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারী বিছনাকান্দি এলাকায়ও পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে সিলেটের  গোয়াইনঘাট এখন পর্যটন নগরীতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যেভাবে পর্যটন নগরীকে  দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে একইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকলে আরও এলাকাটি আরও উন্নতি লাভ করবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার পর্যটকদের সংখ্যা বেশি, ব্যবসা মোটামুটি ভাল হচ্ছে। পর্যটকদের সেবা দিতে আমরা প্রস্তত রয়েছি।

লতিফ সিদ্দিকী কি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন?

আজ-কালের মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ছেন তিনি। হারাচ্ছেন দলীয় পদও। কিন্তু তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের ক্ষেত্রে সংবিধান কি অনুসরণ করা হচ্ছে? লতিফ সিদ্দিকীকে পদত্যাগের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি তাকে কোন ধরনের অনুরোধ করেছেন? অনুরোধ করা হয়ে থাকলে লতিফ সিদ্দিকী কি সে অনুরোধ প্রত্যাখান করেছেন? সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী কোন মন্ত্রী পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ প্রত্যাখান করলেই কেবল তার অপসারণের প্রশ্ন আসে। সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যে কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শ দান করিতে পারিবেন। এ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করলে ওই মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। যদি ওই মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ পালন না করেন সেক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ওই মন্ত্রীকে অপসারণ করবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোন অনুরোধ করেছেন কি-না সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। এদিকে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে। কয়েকজন মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এছাড়া, কয়েকজন মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ও পরিবর্তন হতে পারে। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং হজ নিয়ে কটুক্তি করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তিনি। এ বক্তব্যে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে এক পর্যায়ে তাকে মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগ থেকে অপসারণের কথা জানানো হয়। এরআগে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে লতিফ সিদ্দিকী তার বক্তব্যে অনঢ় থাকার কথা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে বোঝা মনে করলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে পারেন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বললেই তিনি তার বক্তব্য অপসারণ করবেন।

ঈদের পর অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

একদিকে ঈদের ছুটির কারণে প্রচুর কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে নষ্ট হওয়া পণ্যের গচ্চা আদায়ে উচ্চ দাম হাঁকছে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সে কারণে ঈদের পর নিত্যপণ্যের বাজার অনেকটা অস্থির। এর মধ্যে ৬টি পণ্যের দাম বেসামাল দেখা গেছে। এগুলো হচ্ছে- চাল, ডাল, আদা, আলু, কাঁচামরিচ ও লাউ। এসব পণ্যের দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যেও প্রায় ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি মসলার বাজারের ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। ঈদের পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচা বাজারে এসব চিত্র পরিলক্ষিত হয়। গতকাল এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভাল মানের কাঁচামরিচের পাল্লা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ঈদের আগে ছিল ২৫০ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে কাঁচামরিচের দাম পাল্লাপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যা ঈদের আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাওরান বাজারের কাঁচা পণ্য বিক্রেতা সোহেল মানবজমিনকে জানান, ঈদের ছুটির কারণে মজুদ থাকা অনেক কাঁচামরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। তা পুষিয়ে তুলতে দাম একটু বেড়েছে। আবার ছুটির কারণে ট্রাক আসা বন্ধ ছিল। সেটাও দাম বৃদ্ধির কারণ বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ভাল মানের চাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, ডাল ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা, আলু ৭ টাকা বেড়ে ২৭ টাকা, আদা ৭০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা ও ছোট আকারের লাউ ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। ক্রেতা নূর জানান, প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, যে আলু ঈদের আগে ২০ টাকায় কিনেছি তা ঈদের পর ২৭ টাকা দিয়ে কিনলাম। বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিকেজি একদানা রসুন ১৪০ থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা, দেশী রসুন ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা ও বিদেশী রসুন ৮০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, জিরা ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহের মতোই ভারতীয় পিয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা ও দেশী পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৫ টাকা দরে। কাওরান বাজার মসলা ব্যবসায়ী আলম জানান, সব ধরনের মসলায় ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষত জিরায় ২০ টাকা বেড়েছে। তবে এটা ধীরে ধীরে আরও কমবে বলে জানান তিনি। খুচরা বিক্রেতা জাহেদুল ইসলাম বলেন, কোরবানি ঈদের সময় আদা রসুনের চাহিদা বেশি থাকে। এ চাহিদাকে সামনে রেখে পাইকারি বাজারে আদা রসুনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামেই এসব পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ও পূজা সামনে রেখে আদা-রসুনের চাহিদা থাকে বেশি। তাই বাড়তি দামের সুবিধা নিতে অনেকে পণ্য দু’টি মজুদ করেছিল। ঈদ চলে গেছে। এবার দামও কমবে। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, টমেটো ১২০-১৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, কচুর মুখী ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, দেশী গাজর ৫০-৬০ টাকা, পটোল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকা, পাতাকপি ৩০-৩৫ টাকা, সবুজ শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ২০-২৫ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, মুলা শাক ৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ৩০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকা, খাসির মাংস ৩৮০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৭ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা ও আটা ৩২ টাকা দরে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১০৫-১১০ টাকা ও পামলিন ৯০ টাকা। ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি হালি ৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রতি কেজি রুই ২৫০-৩৮০ টাকা, নলা ৪৫০-৫০০ টাকা, দেশী পুঁটি ৪০০-৪৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-২০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৯০০ টাকা, বড় টেংরা ৬০০-৭৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, মাঝারি তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকা, কাতল ২৬০-৪০০ টাকা, দেশী মাগুর ৬০০-৯০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০-৮০০ টাকা ও আকারভেদে ইলিশ প্রতিজোড়া ১১০০-১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি পারিজা ৪০-৪২ টাকা, বিআর-আটাশ ৪২-৪৪ টাকা, বিআর-ঊনত্রিশ ৪২-৪৩ টাকা, জিরা নাজিরশাইল ৫৮-৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৪৪-৪৫ টাকা, ভাল মানের মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকা ও মোটা চাল ৩৭-৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি নেই, তদন্তে অনীহা -বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন তদন্তে চরম অনীহা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ সংক্রান্ত কমিটি করেছে ৫ বছর পর। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় এ সংত্রুান্ত কমিটি করেছে। ইউজিসি তথ্যমতে, দেশে ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখনও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় কোন কমিটি করতে পারেনি। যারা করছে তাদেরও কোন কার্যত্রুম নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি করতে হাইকোর্টে নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা মানতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বারবার তাগাদা দিয়েও বেশির ভাগ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এই কমিটি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। কমিটি করেছে অথচ গত পাঁচ বছরে একটি মিটিং পর্যন্ত করতে পারেনি এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অন্য কারও যৌন হয়রানির শিকার হয়েও প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। সমপ্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বিভাগের একজন ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের কত ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। গত পাঁচ বছরে ২০টির বেশি ঘটনা ঘটলেও একটি সঠিক বিচার করতে পারেনি ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষক কর্তৃৃৃৃক শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। হাইকোর্ট সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৫ সদস্যের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি করতে বলা হয়। ইউজিসি বলছে, যৌন নিপীড়ন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাববার চিঠিও দিলেও সাড়া দেয়নি বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছে ১৬টি। আংশিক করেছে ৪টি। বাকি ১৪টি এখন পর্যন্ত কোন কমিটি করতে পারেনি। যৌন নিপীড়নের শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই কমিটি গঠন করেনি। কমিটির বিষয়ে ইউজিসি ঢাবি কর্তৃপক্ষকে পাঁচবার চিঠি দিলেও প্রতিষ্ঠানটি এর কোন জবাব দেয়নি। তবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, চার বছর আগে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়েছে। ঢাবি’র গঠিত কমিটি অভিযুক্তদের শাস্তি দেয়া তো দূরে থাক এখন পর্যন্ত একটি মিটিংও করতে পারেনি। আর এই সময়ের মধ্যে ঢাবিতে ২০টির বেশি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি এ সংত্রুান্ত কমিটি গঠন করেছে। তারমধ্যে পূর্ণাঙ্গ নিয়ম মেনে করেছে ১৭টি। বাকি ১৭টি কমিটি শর্ত না মেনে দায়সারা কমিটি গঠন করে ইউজিসিতে জমা দিয়েছে। বাকি ৪৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত কমিটি করতে পারেনি। ইউজিসি সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট সেত্রেুটারি (লিগ্যাল) মৌলি আজাদ মানবজমিনকে বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট যারা এ কমিটি গঠন করেছে তারাও নিয়মিত মিটিং করতে ব্যর্থ। কমিটি করেও গত পাঁচ বছরে একটি মিটিংও করতে পারেনি এমন রিপোর্টও আমাদের কাছে আছে। ২০১০ সালে হাইকোর্টের নিদের্শনাযায়ী যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি করে দেয়া দায়িত্ব দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে। কমিটি গঠনের ব্যাপারে রায়ে বলা হয়, ন্যূনতম ৫ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কমিটির প্রধান/আহ্বায়ক হবেন একজন নারী। এছাড়া কমিটিতে একাধিক নারী সদস্য থাকবেন। জেন্ডার এবং যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন এমন প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ২ জন সদস্য এই কমিটিতে থাকতে হবে। কমিটি কোন অভিযোগ পেলে তার তদন্ত করবে এবং অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্তকে আইনের কাছে সোপর্দ করবে। এরপর প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে শাস্ত্তি দিতে আদালতের কাছে সুপারিশ করবে। যৌন নির্যাতনের সংজ্ঞা সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেন, শারীরিক ও মানসিক যে কোন ধরনের নির্যাতনই যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোন বিড়ম্বনা, পর্নোগ্রাফির যে কোন ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণ সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির মধ্যে পড়বে। এটি বাস্তবায়ন করতে আইন সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা সচিব, শ্রম সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ইউজিসি, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বার কাউন্সিল, পুলিশ, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে নারীর প্রতি যৌন নিপীড়ন বন্ধে হাইকোর্টের নীতিমালা তৈরির প্রায় পাঁচ বছর হতে চললেও তা এখনও উপেক্ষিত।
খসড়া আইনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির শিকার হলে অভিযুক্ত ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত আকারে কমিটি বা কেন্দ্রকে জানাবেন। তবে যুক্তিযুক্ত কারণ থাকলে পরবর্তীকালেও অভিযোগ জানানো যাবে। কমিটি তদন্ত করে যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তাহলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ব্যক্তি আদালতে আপিল করতে পারবে। এই আইন কেবল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভিক্টিম আলাদা করে আদালতেও মামলা করতে পারবেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে। এ প্রসঙ্গে  হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী এডভোকেট ফৌজিয়া করিম বলেন, আমরা শুনেছি কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ে যৌন হয়রানি রোধের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগই তো এখন পর্যন্ত করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্টের রায়কে আইন হিসেবে গণ্য করার কথা। রায় ঘোষণার পরের দিন থেকেই তা কার্যকরও করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই তা করা হয়নি।