Sunday, August 22, 2010

মাহে রমজানে রহমতের প্রথম দশক by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য অফুরন্ত রহমত ও বরকতময় মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের দ্বারে ফিরে আসে মহিমান্বিত রমজান মাস। ‘রমজান’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভস্ম করে দেওয়া। রমজান মাসকে রমজান এ জন্য বলা হয় যে আল্লাহ তাআলা এ মাসে এত অধিক রহমত-বরকত নাজিল করেন যে এতে বান্দার গুনাহ ও পাপ জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ মাস বিশেষভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সোপর্দ করার মাস। এ মাসটি প্রাপ্তির জন্য মুমিন মুসলমানের অন্তর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। স্বয়ং নবী করিম (সা.) এ মাসটি আসার আগেই শাবান মাসে মাহে রমজান পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে মিনতিভরা হূদয় নিয়ে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবানের মধ্যে আমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ)
রমজান মাসে আল্লাহর সব সৃষ্টি তাঁর অশেষ রহমতের পাশে ধন্য হয়। এই নিয়ামতপূর্ণ মোবারকময় মাসে পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অপার রহমতের দরজাগুলো তাঁর নেক বান্দাদের জন্য খুলে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজান মাস সমুপস্থিত। এটা অতিশয় বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের রোজা আল্লাহ তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। এ মাসে রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, আর এ মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শয়তানকে আটক করে রাখা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে লোক এই রাতের মহাকল্যাণ লাভ থেকে বঞ্চিত থাকল, সে প্রকৃতই সবকিছুই থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি।’ (বায়হাকি, আহমাদ ও নাসাঈ)
আকাশের দরজা খুলে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, রমজান মাসে আল্লাহর অসীম রহমত উম্মতের ওপর অনবরত বৃষ্টির মতো বর্ষিত হতে থাকে। সত্কাজ ও নেক আমলসমূহ মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং দোয়া কবুল হয়। আর বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়ার অর্থ এই যে মাহে রমজানে অন্য মাসের তুলনায় নেক আমল বা সত্কাজ করার বেশি তাওফিক হয়, যা দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করা সহজ হয়। যখন রোজাদার ব্যক্তি বেশি নেক আমল করবেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই বেহেশতের উপযোগী হবেন এবং দোজখ থেকে বাঁচবেন। আর যখন বান্দা রমজান মাসের বদৌলতে গুনাহর কাজ করা থেকে বেঁচে থাকবেন, তখন জাহান্নামের দরজা বন্ধই থাকবে।
মহাবরকত ও কল্যাণের মাস মাহে রমজানে বেশি বেশি দোয়া-দরুদ পাঠ, তওবা-ইস্তেগফার ও প্রার্থনা পেশের মাধ্যমে মাগফিরাত ও রহমত কামনার জন্য উত্তম। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘এ মাসে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তোমাদের দিকে শুভ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং রহমত বর্ষণ করেন, তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেন ও দোয়া কবুল করেন। তোমাদের মধ্যে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী অধিক সত্কাজ করে শীর্ষস্থান অধিকার করতে পারে, আল্লাহ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যক্ষ করতে থাকেন ও ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। তোমরা অনেক বেশি সত্কাজ করে আল্লাহকে দেখিয়ে দাও। আল্লাহর দয়া-অনুগ্রহ থেকে এ মাসে একমাত্র হতভাগ্যরাই বঞ্চিত থাকে।’
নবী করিম (সা.) মাহে রমজানকে রহমত, বরকত ও কল্যাণের মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে পরিপূর্ণ। ঝরনাধারার ন্যায় আল্লাহর আশীষধারা রোজাদারদের অন্তর-রাজ্যে লোকদৃষ্টির অলক্ষ্যে বর্ষিত হতে থাকে। রমজান মাস এমন একটি মাস, যার প্রথম ১০ দিন রহমতের দ্বারা পরিপূর্ণ, দ্বিতীয় ১০ দিন ক্ষমা ও মাগফিরাতে পরিপূর্ণ এবং শেষ ১০ দিন জাহান্নামের শাস্তি থেকে নাজাত ও মুক্তির জন্য নির্ধারিত। এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আর এটি এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে দোজখের আগুন থেকে মুক্তিলাভ রয়েছে।’ (মিশকাত)
এসব সুসংবাদ কেবল তাঁদের জন্যই, যাঁরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মাহে রমজানের পূর্ণ একটি মাস রোজা পালন করেন, নিজেদের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখেন। এ রোজাদার ব্যক্তিরাই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম। তাঁরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে লাভ করেন অসীম রহমত। কেবল অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই তা সম্যক অবলোকন করতে পারেন। প্রকৃত ও খাঁটি রোজাদারেরা তাতে অবগাহন করে ১১ মাসের পুঞ্জীভূত পাপ-পঙ্কিলতা ও কলুষ-কালিমা থেকে পরিশুদ্ধ ও পূতপবিত্র হয়ে যান। যাঁরা প্রকৃত সতর্ক ও জ্ঞানী তাঁরা এ সুবর্ণ সুযোগের পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহার করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণ করতে পারে না এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে এরপর কেউ তার উন্মুক্তকারী নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আল-ফাতির, আয়াত-২)
রোজা পালনের মধ্য দিয়ে মুমিন বান্দারা আত্মিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাই আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের জন্য পবিত্র রমজান মাসে তাঁর রহমতের দরজা অবারিত করে দেন। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাসে আমার উম্মতকে পাঁচটি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। ১. রমজানের প্রথম রাতে আল্লাহ তাদের দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন, আর আল্লাহ যার দিকে দৃষ্টি দেন, তাকে কখনো শাস্তি প্রদান করেন না। ২. সন্ধ্যার সময় তাদের মুখ থেকে যে গন্ধ বের হয় তা আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও উত্তম। ৩. রমজানের প্রতিটি দিনে ও রাতে ফেরেশতারা রোজাদারদের জন্য দোয়া করেন। ৪. আল্লাহ তাআলা তাঁর বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার বান্দার জন্য সুসজ্জিত ও প্রস্তুত হও! আমার বান্দারা অচিরেই দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট থেকে অব্যাহতি পেয়ে আমার বাড়িতে ও আমার সম্মানজনক আশ্রয়ে এসে বিশ্রাম নেবে। ৫. রমজানের শেষ রাতে আল্লাহ তাদের সব গুনাহ মাফ করে দেন। এক ব্যক্তি বলল, এটা কি লাইলাতুল কদর? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘না, তুমি দেখনি শ্রমিকেরা যখন কাজ শেষ করে তখনই পারিশ্রমিক পায়?’ (বায়হাকি)
যারা অপরিণামদর্শী তারা এসবের খুব একটা গুরুত্ব দেয় না, বিভিন্ন অজুহাতে রোজা রাখে না, অশালীনতা, বেহায়াপনা ও প্রকাশ্যে পানাহার করে—এসব অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্যকাজ। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি প্রদত্ত অবকাশ ও অসুস্থতা ব্যতীত এক দিনও রমজানের দিনের রোজা ভঙ্গ করে, জীবনভর রোজা রাখলেও তার পরিপূরক হবে না।’ (তিরমিজি)
অতএব, যে রমজান মাসকে আল্লাহ তাআলা এত অধিক মর্যাদা, রহমত, বরকত ও পুণ্যময় করেছেন, সেই মহান মাসের প্রতি সবারই যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা উচিত। আমরা যেন মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা, বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারি, আল্লাহ পাক আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। সেই সঙ্গে পরম করুণাময় আমাদের রহমত নিয়ামতে ভরপুর রমজানুল মোবারকে আত্মশুদ্ধি ও নাজাতের অছিলা হিসেবে গ্রহণ করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

চীনের পান্ডা কূটনীতি


বিরল প্রাণী পান্ডা চীনে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। চীন চাইছে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও পান্ডা ছড়িয়ে পড়ুক। দেশে দেশে গড়ে উঠুক পান্ডার সংরক্ষণাগার। পান্ডার লালনপালন ও সংরক্ষণে অভিজ্ঞতা দিতে ছয়জন দূত খুঁজছে তারা। পান্ডার সঙ্গে দূতের ইংরেজি শব্দ অ্যামবাসাডর মিলিয়ে এই ব্যতিক্রমী দূতের নাম দিয়েছে তারা ‘পামব্যাসাডর’।
আসছে অক্টোবর মাসে চেংদু পান্ডা বেসে রাখা হবে এই ছয়জন দূতকে। এটি চীনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পান্ডা সংরক্ষণাগার। সেখান থেকে দূতেরা পান্ডার তত্ত্বাবধানে থাকা লোকজনের সঙ্গে কাজ করবেন। এ সময় কয়েকটি পান্ডার শাবক প্রসবের বিরল ঘটনা দেখতে পাবেন তাঁরা। শিখতে এই পদের জন্য সফল প্রার্থীদের বয়স হবে ১৮ থেকে ৪০ বছর। বিভিন্ন সুযোগসুবিধার মধ্যে বিনা ভাড়ায় বিমানে করে চেংদুর বাইরে যেতে পারবেন তাঁরা। প্রার্থীদের জন্য আবেদন করার শেষ তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১২ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ছয়জনকে বাছাই করবে বিচারকদের একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে http:www.pandahome.com ওয়েবসাইটে দূত নির্বাচনের ফল জানানো হবে।এই কর্মসূচিতে সরকারকে সহযোগিতা করছে চীনা সংস্থা ডব্লিউডব্লিউএফ চায়না। দূত হিসেবে যাঁরা পান্ডা সংরক্ষণাগারে থাকার সুযোগ পাবেন, সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘এই কর্মসূচিতে আপনারা আলোকচিত্রী, ভিডিওচিত্র ধারক, সাংবাদিক ও বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই কোর্সটি হবে আপনাদের জীবনের সেরা মাসগুলোর একটি।’চেংদু পান্ডা বেসের প্রধান ঝাং ঝিহে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি লোক পান্ডা রক্ষা করার মিশনে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বও তারা অনুধাবন করবে।’চীনের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের বনজঙ্গলে মাত্র এক হাজার ৬০০ পান্ডা টিকে আছে। বংশবৃদ্ধি কর্মসূচির জন্য আরও ৩০০ পান্ডাকে রাখা হয়েছে আবদ্ধ স্থানে। এসব কর্মসূচির বেশির ভাগ চলছে চীনে।পারবেন পান্ডার লালনপালনের যাবতীয় বিষয়। আর এ অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে পান্ডার পৃথক সংরক্ষণাগারে কাজে লাগাতে পারবেন তাঁরা।

দাবানলে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা

বলিভিয়ার বনের দাবানল দেশের অনেক নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশবাসী বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছেন।
এদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে শহরের প্রান্তে লাগা দাবানল ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। বৃষ্টিপাতের ফলে মস্কোর তাপমাত্রা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। রাশিয়ার জরুরি অবস্থাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার অগ্নিনির্বাপণযুদ্ধে নতুন সফলতার কথা প্রকাশ করেছে।
বলিভিয়ায় দাবানলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমির গাছপালা ও ৬০টির বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দেশটির সীমানায় থাকা আমাজন বন ও পূর্বাঞ্চল। দাবানলের প্রচুর ধোঁয়ার কারণে অনেক বিমান ছাড়তে দেরি হয়েছে। বেশ কিছু বিমানবন্দর অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘প্রাকৃতিক’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, তাঁরা আগুনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। মোরালেস স্বীকার করেন, পানি নিক্ষেপকারী বিমানের অভাবে তাঁর সরকার ঠিকভাবে অগ্নিকাণ্ডকে মোকাবিলা করতে পারছেন না। এ জন্য তিনি প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান।
বলিভিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ক্লিভার রোচা বিবিসিকে বলেন, অনেক গ্রাম, ছোট শহর ও পার্ক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মানুষ বালতিতে পানি ভরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বৃষ্টির জন্য অনেক বলিভিয়ান প্রার্থনা করছেন।

মনমোহন সিং বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্রনেতা

বিখ্যাত সাময়িকী নিউজউইক-এর জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্রনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
নিউজউইক গত বুধবার বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত ১০ জন রাষ্ট্রনেতার তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে সবার ওপরে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সাময়িকীতে মনমোহনকে নেতাদের ভালোবাসায় সিক্ত একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ভারতের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর অবদানকে বেশ বড় করে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া মনমোহনকে অত্যন্ত বিনয়, নিরহংকার, সদালাপী ও মৃদুভাষী নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
নিউজউইক-এর তালিকায় আরও যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি, চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও, ব্রাজিলের প্রধানমন্ত্রী লুইজ ইনো লুলা দ্যা সিলভা, সৌদি আরবের বাদশা আবদুল আজিজ আল-সউদ।
অভিনন্দন: এদিকে মনমোহন সিং বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্রনেতা নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিত। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, জাতি এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন, যিনি বিশ্বের সব রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে সেরা। শিলা দীক্ষিত বলেন, তিনি চান প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানিত করে দিল্লি পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করুক।

ভারতে সাংসদদের ভাতা তিন গুণ হচ্ছে

ভারতের মন্ত্রিসভা গতকাল শুক্রবার সাংসদদের মাসিক ভাতা তিন গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভাতা দ্বিগুণ বাড়ানো হবে। গতকাল সরকারি সূত্রে এ কথা জানা যায়।
এখন থেকে সাংসদেরা প্রত্যেকে মাসিক ভাতা পাবেন ৫০ হাজার রুপি করে। আগে পেতেন ১৬ হাজার রুপি। মাসিক আনুষঙ্গিক ব্যয় ভাতা হবে ৪০ হাজার রুপি। আগে তা ছিল ২০ হাজার রুপি।
তবে এ ভাতা বৃদ্ধিতে সাংসদেরা খুশি হতে পারেননি। এই বৃদ্ধিকে তাঁরা ‘অপমানকর’ বলে অভিহিত করেন। এ নিয়ে গতকাল লোকসভায় প্রচণ্ড হট্টগোল করেন সাংসদেরা।
ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আইনপ্রণেতারা এখন থেকে বিনা ভাড়ায় সস্ত্রীক বিমান ও ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। বাড়ি ভাড়া দিতে হবে না। এ ছাড়া আরও কিছু গৃহস্থালি সৃবিধাও পাবেন তাঁরা।

‘মেগরাহি আরও দুই বছর বাঁচতে পারেন’

লিবিয়ার চিকিত্সকেরা লকারবি বোমা হামলাকারী আবদুল বাসেত আল মেগরাহি আরও দুই বছর বেঁচে থাকবেন বলে আশা করছেন। গতকাল শুক্রবার মেগরাহির দেশে ফেরার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এদিকে ব্রিটেন এক বিবৃতিতে লিবিয়া সরকারকে মেগরাহির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে উত্সবের আমেজে পালন না করার অনুরোধ জানিয়েছে। মেগরাহির পরিবার এ দিনে কোনো উত্সব না করার ঘোষণা দিয়েছে।
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরে একটি বিমানে বোমা হামলার ঘটনায় ২৭০ জন যাত্রী নিহত হন। ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে লিবিয়ার নাগরিক মেগরাহির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। গত বছর চিকিত্সকেরা মেগরাহি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনি আর বড়জোর তিন মাস বাঁচবেন বলে ঘোষণা দিলে স্কটল্যান্ড সরকার মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যাননি। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার গাদ্দাফি তাঁর সর্বোচ্চ চিকিত্সা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পর শীর্ষস্থানীয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের অধীনে তাঁকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিত্সকেরা বলেছেন, মেগরাহির এখন যে শারীরিক অবস্থা তাতে তিনি আরও দুই বছর বেঁচে থাকবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। মেগরাহির পরিবার বলেছে, তারা প্রত্যাবর্তন বার্ষিকী নিয়ে কোনো হইচই করবে না

বিপির বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) বিরুদ্ধে মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য লুকানোর অভিযোগ এনেছে তেল ‘রিগ’টির মালিক ট্রান্সওশেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিপি। তেল উত্তোলনের কাজে তেলক্ষেত্রটির নিয়ন্ত্রক বিপির কাছ থেকে রিগ বসানোর দায়িত্ব পায়। সাগরে তেল উত্তোলনের কাজে রিগ স্থাপন অপরিহার্য। গত এপ্রিলে ওই রিগে বিস্ফোরণ ঘটায় সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মন্ত্রিসভার তিন সদস্যের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে ট্রান্সওশেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ‘বিস্ফোরণের ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য তথ্য আমাদের কাছে হস্তান্তর করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বিপি। তথ্য হস্তান্তর বন্ধ রাখার মাধ্যমে বিপি চেষ্টা করছে, এই ঘটনায় তারা ছাড়া অন্য কোনো পক্ষ যাতে তদন্ত করতে না পারে।’
বিপির কাছে পরীক্ষাগারে পরীক্ষণের ফলাফল, সময়সূচিসহ ১৬ ধরনের তথ্য জানতে চায় ট্রান্সওশেন। ওই দুর্ঘটনার কারণে ট্রান্সওশেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে ২৪৯টি মামলা হয়েছে।
এদিকে ট্রান্সওশেনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিপি বলেছে, ‘তথ্য আটকে রাখা সংক্রান্ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যপূর্ণ চিঠি ট্রান্সওশেনের পক্ষ থেকে পাঠানোয় আমরা মর্মাহত

ব্যাংক নোট থেকে জ্ঞানেন্দ্রর ছবি সরাচ্ছে নেপাল

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় বলেছে, দেশে চালু সব নোট থেকে সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর ছবি সরিয়ে ফেলা হবে। এখন থেকে নোটগুলোয় সেই জায়গায় মাউন্ট এভারেস্টের ছবি থাকবে। আর এরই মাধ্যমে নেপালে রাজতন্ত্রের সর্বশেষ চিহ্নটিও মুছে ফেলা হবে।
কাঠমান্ডুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর ছবির পরিবর্তে এখন নোটগুলোতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ছবি থাকবে। দেশে সব নতুন নোট এখন এই ছবিযুক্ত করেই ছাপানো হবে। রাজা জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দুই বছর পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
তবে ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, রাজার ছবিসংবলিত নোটগুলো আপাতত চালু থাকবে। পর্যায়ক্রমে তা ২০১১ সালের মাঝামাঝি তুলে নেওয়া হবে।

জাপানের কাছেক্ষমা দাবি করেছেউ. কোরিয়া

কোরীয় উপদ্বীপে ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য জাপানের কাছে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। ১৯১০থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ওই উপদ্বীপে জাপানের এই শাসন ছিল। এর ১০০ বছর পূর্তিউপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়থেকে এক বিবৃতিতে এই ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোরীয়জনগণের বিরুদ্ধে এই জঘন্যঅপরাধের জন্য জাপানকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জাপান তা করতে ব্যর্থ হলে তারা কখনো আন্তর্জাতিক মহলে সসম্মানেদাঁড়াতে পারবে না।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীনাওতো কান দক্ষিণকোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ১০ আগস্ট তিনি কোরিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে দুর্ভোগের জন্য দক্ষিণকোরিয়ার কাছে ক্ষমা চান

‘যুদ্ধসেনা’ প্রত্যাহার হলেও ইরাকে অভিযান বন্ধ থাকবে না: পেন্টাগন

ইরাক থেকে সব যুদ্ধসেনা (কম্ব্যাট সোলজার) সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখানে মার্কিন বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী তত্পরতা বন্ধ হবে না। বর্তমানে যে অর্ধ লক্ষ মার্কিন সেনা সেখানে ‘পরামর্শ ও সহযোগিতা’ দেওয়ার জন্য অবস্থান করছে, তারা প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেমে পড়বে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জিওফ মোরেল সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসিকে বলেছেন, ‘আমার জানা মতে, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে বলে এখনো কেউ ঘোষণা দেননি। তাই সেখানে অভিযান চলবে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ইরাকে অবস্থানরত সেনাদের মিশনেরই অংশ।’
মোরেল জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বরের পর ইরাকে থাকা ৫০ হাজার সেনার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযানে নামার কথা নয়। তারা ইরাকের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। যদি তারা সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয় অথবা তাদের কাছে যদি সন্ত্রাসীদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো খবর আসে, তাহলে তারা পুরোমাত্রায় লড়াই শুরু করবে।
ইরাকে দায়িত্বরত মার্কিন কর্মকর্তা মেজর ক্রিস্টোফার পেরিন এএফপিকে বলেছেন, অবস্থানরত সেনাদের কাছে রোবট, মানববিহীন বিমান, ডগ স্কোয়াডসহ আধুনিক সব ধরনের অস্ত্র থাকছে। ইরাকি সেনাবাহিনী সহায়তা চাইলে তারা তাদের নিয়ে লড়াই করবে। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ইরাক অবস্থান করবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে নামেমাত্র যুদ্ধসেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যে ৫০ হাজার সেনা এখনো ইরাকে রয়েছে, তারা কার্যত যুদ্ধসেনা হিসেবেই সেখানে থাকছেন। তাদের মূলত চারটি লক্ষ্য থাকবে। এগুলো হলো: ইরাকের ছয় লাখ ৬০ হাজার সেনাকে প্রশিক্ষিত করে তোলা; ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমকে গোয়েন্দা, বিমান ও অন্যান্য সমর সহায়তা দেওয়া; গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ও ইরাকি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
জিওফ মোরেল বলেছেন, ইরাকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন বাহিনীর যা যা প্রয়োজন, তার সবই তারা করবে। তবে এককভাবে তারা কোথাও কোনো অভিযান পরিচালনা করবে না। ইরাকি বাহিনীর সহযোগী হিসেবেই তারা অভিযান পরিচালনা করবে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সরাসরি শান্তি আলোচনা ২ সেপ্টেম্বর

২০ মাস পর আগামী ২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ সম্পর্কিত ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস আলোচনায় এক বছরের সময়সীমার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার পত্রিকাটি জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে আলোচনা শুরু করার জন্য নেতানিয়াহু ও মাহমুদ আব্বাসকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তিনি বলেন, বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এখনো কাজ চলছে।
ক্রাউলি আরও বলেন, হিলারি ক্লিনটন আরব শান্তি-আলোচক জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের জুদাহ ও চার পক্ষের প্রতিনিধি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই চারটি পক্ষ হলো: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে এই চার পক্ষ একটি বিবৃতি দিতে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে আছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, চার পক্ষের প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার আলোচনার বিস্তারিত নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানায়, প্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছেন যে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে আলোচনা শুরু করা হবে।
সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা আলোচনায় উপস্থিত থাকতে পারেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এর আগে চার পক্ষের প্রতিনিধিরা বিবৃতির খসড়া নিয়ে আলোচনা করেন। বিবৃতিতে এক বছরের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
গত জুন মাসে এই চার পক্ষ বলেছিল, ২৪ মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে বলে তারা আশা করছে। কিন্তু নতুন ঘোষণায় ১২ মাসের কথা বলা হবে।

ওবামা খ্রিষ্টান, তিনি নিয়মিত প্রার্থনা করেন

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একজন খ্রিষ্টান। তিনি প্রতিদিন নিয়মিত প্রার্থনা করেন। দুটি জরিপে দেশের নাগরিকদের একটি অংশ ওবামাকে মুসলামান হিসেবে উল্লেখ করার পর হোয়াইট হাউস এ কথা জানাল।
টাইম ম্যাগাজিনের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ শতাংশ মানুষ মনে করে ওবামা মুসলমান।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পিউ রিচার্স সেন্টার ও পিউ ফোরাম অন রিলিজিওন অ্যান্ড পাবলিক লাইফের অপর এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের নাগরিকদের প্রতি পাঁচজনে প্রায় একজন ওবামাকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী বলে মনে করে। এ ছাড়া এই জরিপে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট ওবামার ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে জানে না।
পিউ রিচার্সের ২০০৯ সালের মার্চের জরিপে, ১১ শতাংশ জানুষ জানিয়েছিল ওবামা মুসলমান। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় ওবামার সমর্থনের কারণে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ ওবামার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় বেড়েছে এবং একই সঙ্গে দুটি জরিপের ফলাফল থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বিল বার্টন বলেন, ‘ওমাবা অবশ্যই একজন খ্রিষ্টান। তিনি নিয়মিত প্রার্থনা করেন।’
ওবামার বাবা ছিলেন কেনিয়ার নাগরিক এবং মুসলমান। মা মার্কিন নাগরিক। ওবামার পুরো নাম বারাক হুসেইন ওবামা। নামের হুসেইন শব্দটি প্রধানত মুসলমান নামের সঙ্গেই থাকে।

করাচিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় সাতজন নিহত

পাকিস্তানে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির বন্দরনগর করাচিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
গতকাল সকালের দিকে করাচি বিমানবন্দরের কাছে ওই নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জামিল সমুরু বলেছেন, বন্দুকধারীরা গতকাল ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। সম্ভবত এরা প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার।
এ মাসের প্রথম দিকে করাচিতে একজন রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জাতিগত সহিংসতায় ৮০ জন নিহত হওয়ার পর গতকাল ফের ওই ধরনের ঘটনা ঘটল।

সংকুচিত হচ্ছে চাঁদ!

চাঁদ সংকুচিত হয়ে আসছে বলে জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আগে চিহ্নিত হয়নি, চাঁদে এমন ভূমিকাঠামো দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। এতে ইঙ্গিত মিলছে যে, পৃথিবীর উপগ্রহটি সংকুচিত হচ্ছে। যদিও এই সংকোচনের মাত্রা খুবই সীমিত। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন জার্নাল সায়েন্স-এ প্রকাশিত নিবন্ধে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ কথা জানান।
লোবেট স্ক্র্যাপ (আঁকাবাঁকা পাহাড় চূড়া) নামে পরিচিত এই রহস্যময় ভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক ধরনের চ্যুতি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, যখন চাঁদের গলিত অন্তর্ভাগ শীতল হতে শুরু করে, তখন এই চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই চ্যুতির কারণে চাঁদের পৃষ্ঠদেশ সংকুচিত হয়। এরপর সৃষ্টি হয় ভাঁজের।
চাঁদের বয়সের তুলনায় এই সংকোচনকে সাম্প্রতিক হিসেবে অভিহিত করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মনে করা হয়, চাঁদের বয়স ৪৫০ কোটি বছর। আর এই সংকোচনের শুরু হয় ১০০ কোটি বছরেরও কম সময় আগে। এই সংকোচনের মাত্রা প্রায় ৩২৫ ফুট।

‘জিদান’ হতে চান ওজিল

ভেরডার ব্রেমেনে তাঁকে সবাই ডাকত ‘জার্মানির মেসি’ বলে। বার্সেলোনা-আর্জেন্টিনার আসল সেই মেসি আছেন স্প্যানিশ লিগে। রিয়ালে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা। মেসুত ওজিল চাইলে হালের কোনো তারকাকেই আদর্শ মানতে পারতেন। কিন্তু মেসি, রোনালদো কিংবা কাকা নন, রিয়ালের ওজিল স্বপ্ন দেখেন ‘জিদান’ হওয়ার।
ব্রেমেন থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো চুক্তিতে জার্মান তারকা সদ্যই যোগ দিয়েছেন রিয়ালে। স্প্যানিশ মিডিয়ায় এরই মধ্যে ওজিল হয়ে গেছেন ‘জার্মানির জিদান’। মিডিয়াকে দোষ দেওয়া যাবে না। কারণ ওজিলই বলেছেন, জিদানই তাঁর আদর্শ।
বিশ্বকাপের পর ফ্রান্সকে ইউরো জেতানো জিদান তিনবার জিতেছেন ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার। একবার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। বিশ্বকাপের সোনার বলও আছে নিজস্ব শো-কেসে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সেরা তারকা জিদান বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসেরও অন্যতম বড় নাম। সেদিক দিয়ে ভাবলে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে ফুটবল দুনিয়া সেভাবে চিনতই না ওজিলকে। বিশ্বকাপের নজরকাড়া পারফরম্যান্স তাঁকে তুলে এনেছে পাদপ্রদীপের আলোয়। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে এখন আরও বেশি আলোচনার পাত্র ২১ বছর বয়সী তারকা।
জিদানের মতো হতে পারা এই ওজিলের ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তবে কিংবদন্তি জিদানের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে নিজেই একটু বিব্রত বোধ করছেন, কিন্তু আবার ভালোও লাগে তাঁর, ‘তুলনা করাটা স্তাবকতাই হয়ে যায়। তবে এটা আমার ভালোও লাগে। কারণ জিদান সব সময়ই আমার আদর্শ। আমি যখন ছোট্ট শিশুটি, তখনই টিভিতে বল নিয়ে তাঁর কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হতাম এবং মাঠে গিয়ে সেটা করার চেষ্টা করতাম।’
২০০১ সালে জুভেন্টাস থেকে রিয়ালে এসেই রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন জিদান। রিয়ালের সেটাই সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। ওজিল রিয়ালে এটা আবারও ফিরিয়ে আনতে চান, হোসে মরিনহোর সংস্পর্শ তাঁকে পেয়ে বসেছে সর্বগ্রাসী ক্ষুধায়, ‘শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ কেন, সবকিছুই জিততে চাই আমরা। আমাদের শক্তিশালী একটি দল আছে। আমি সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত।’ একই সঙ্গে আরেকবার জানিয়ে দিলেন রিয়ালে আসার কারণটা, ‘আমি রিয়ালে এসেছি, কারণ মরিনহো বিশ্বসেরা কোচ। আমি তাঁর অধীনে খেলতে চাই।’
তাঁর আগে রিয়ালে এসেছেন সামি খেদিরা। জাতীয় দলের এই সতীর্থ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি আসার আগে তাকে ফোন করেছিলাম। সে রিয়াল সম্পর্কে আমাকে উত্সাহিত করেছে। সে এখানে থাকায় আমি আনন্দিত।’

আর্জেন্টিনা দলে ফিরছেন জানেত্তি

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি তাঁর। শক্ত হাতে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আগলেছেন বহুদিন। তবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ দলে ব্রাত্য ছিলেন ইন্টার মিলানকে গত মৌসুমে ট্রেবল জেতানো অধিনায়ক হাভিয়ের জানেত্তি। আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনা-যুগ শেষ হয়েছে। এবার দলে ফিরতে পারেন আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক। তাঁর সেই ফেরা সম্ভবত হচ্ছে আগামী মাসে স্পেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়েই।
শুধু জানেত্তিই নন, ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছিলেন আরেক ইন্টার মিলান তারকা এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোও। আমার ম্যাচ পরিকল্পনার সঙ্গে ঠিক মানানসই নয়—জানেত্তি-ক্যাম্বিয়াসোদের বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা এভাবেই দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব এখন ভারপ্রাপ্ত কোচ সার্জিও বাতিস্তার হাতে। ম্যারাডোনার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে জানেত্তি-ক্যাম্বিয়াসোদের দলে ফেরাতে চান বাতিস্তা।
৩৭ বছর বয়সী জানেত্তি ইন্টার মিলানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। সেই চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ পর্যন্ত। পরের বছরই ব্রাজিল বিশ্বকাপ। জানেত্তির বয়স হবে তখন ৪১। ক্লাব আর আন্তর্জাতিক ফুটবলের যৌথ ধকল এই বয়সে কি সামলাতে পারবেন জানেত্তি?
পারবেন কি না, তা পরেই দেখা যাবে, তবে আর্জেন্টিনা দলে খেলতে নাকি উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি। মূলত ২০১৪ বিশ্বকাপেই চোখ রেখেছেন জানেত্তি। এর আগে অবশ্য কোপা আমেরিকায় ভালো করতে চান

গোলে শুরু বালোতেল্লির

মারিও বালোতেল্লি আর জো কোলের জন্য নতুন ক্লাবের শুরুটা দুই রকমের অনুভূতি নিয়ে এসেছে। বালোতেল্লির যেখানে ম্যানচেস্টার সিটির অভিষেকটা হয়েছে সৌভাগ্যের ছোঁয়া নিয়ে, লিভারপুলে কোলের ‘কুফা’ যেন কাটতেই চাইছে না।
পরশু ইউরোপা লিগে গোল করে ম্যান সিটিতে অভিষেক হয়েছে বালোতেল্লির, লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকেই লাল কার্ড দেখা কোল ইউরোপা লিগে করেছেন পেনাল্টি মিস। তবে বালোতেল্লির মতো তিনিও অবশ্য মাঠ ছেড়েছেন ইউরোপা লিগে প্লে-অফ জয়ের আনন্দ নিয়ে। বালোতেল্লির গোলে রুমানিয়ার তিমিসোয়ারার বিপক্ষে সিটির অ্যাওয়ে জয়টি ১-০ গোলের। লিভারপুল নিজেদের মাঠে তুরস্কের ট্রাবজনস্পোরের বিপক্ষে জিতেছে এই একই ব্যবধানে।
ইন্টার মিলান থেকে গত সপ্তাহেই ২৯ মিলিয়ন ইউরোয় নাম লিখিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। তবে পরশু প্রথম একাদশে বালোতেল্লিকে রাখেননি সিটির ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানচিনি। ইংলিশ মিডফিল্ডার গ্যারেথ বেরির পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছেন তিনি ৫৭ মিনিটে। ইমানুয়েল আদেবায়োরের দারুণ এক পাস থেকে ৭২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন বালোতেল্লি।
এদিকে অ্যানফিল্ডে দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কোল। পেনাল্টি পেয়েছিল লিভারপুল। পেনাল্টি কিক নিয়েছিলেন কোল। কিন্তু তিনি মিস করেছেন। এ জন্য অবশ্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। পরে রায়ান বাবেলের করা গোলটির উত্স ছিলেন কোল।
এদিকে কোচ মার্টিন ও’নিলের পদত্যাগ আর জেমস মিলনারের ম্যান সিটিতে চলে যাওয়ায় ভেঙে পড়া অ্যাস্টন ভিলা ১-১ গোলে ড্র করেছে র্যাপিড ভিয়েনার সঙ্গে।

হায় রুনি, হায় গোল!

৩০ মার্চ, ২০১০; অ্যালিয়ানজ অ্যারেনা, মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ। খেলার দুই মিনিট গড়াতে না-গড়াতেই বক্সের ভেতর থেকে এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দিলেন ওয়েইন রুনি।
দৃশ্যটা দেখেছিলেন? না দেখে থাকলে সারা জীবন আফসোস করতে হতে পারে—আহা রে রুনির জীবনের ‘শেষ গোল’টা সরাসরি দেখতে পেলাম না! না, ওয়েইন রুনি অবসর নেননি। ইংল্যান্ড বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে আরও দু-চারটে গোল যে করবেন না, এমন কথাও নেই। কিন্তু আপাতত এই স্ট্রাইকার যে গোলপোস্টের চেহারাই ভুলে গেছেন বলে মনে হচ্ছে। ফলে তাঁর ‘শেষ গোল’, মানে সর্বশেষ গোল নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে গেছে।
গত ৩০ মার্চ, মানে প্রায় সাড়ে চার মাস আগে ম্যানইউর জার্সি গায়ে সর্বশেষ গোল করেছিলেন। তার পর থেকে গুনে গুনে এক হাজার ৭৬ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন ইংল্যান্ড বা ম্যানইউর হয়ে। কিন্তু হায় গোল, হায় গোল! গোলের দেখা নেই।আগের মৌসুমেই ৪৪ ম্যাচে ৩৪ গোল করে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছেন। সেই রুনি গোল না পেলে সেটি তো একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ই; তাঁর পৃষ্ঠপোষকদেরও মুষড়ে পরার কথা। মুষড়ে পড়ার কথা জাতীয় দল ও ক্লাব দলেরও। কাকতালীয় ব্যাপার, রুনির সর্বশেষ গোল করা ওই ম্যাচে হেরেছিল ম্যানইউ; পরের লেগে জিতেও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। সেই থেকে রুনিও আর গোল পান না, ম্যানইউ বা ইংল্যান্ডও আর বড় কিছু জেতেনি।ম্যানইউ অবশ্য চলতি মৌসুমের শুরুতে চেলসিকে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড জিতেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ বা এফএ কাপের মতো কিছু জিততে গেলে যে রুনির গোল পাওয়া চাই। কিন্তু গোল কীভাবে করতে হয় রুনির কি আদৌ তা মনে আছে?
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এসব রসিকতা শুনলে নিশ্চয়ই চটে যাবেন। তিনি তো রুনির গোল না পাওয়া নিয়ে ভাবেনই না! ফার্গুসন বরং অপেক্ষা করছেন পরিণত ও চূড়ান্ত ফর্মে রুনির আবির্ভাবের জন্য, ‘ওয়েইন এই বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ওর বয়স এখনো অনেক কম, এখনো ও উন্নতি করছে এবং এখনো শিখছে। একজন খেলোয়াড় যখন ২৬-২৭ বছরে পৌঁছায়, এ সময়ই সে পরিণত হয়, নিজের সেরা ফর্মে পৌঁছায়। আমি সেই রুনিকে দেখার অপেক্ষায় আছি।’অপেক্ষাটা কবে ফুরোবে, কে জানে!

মিস্টার সান্তোস নেইমার

নেইমার ডা সিলভা
কিংবদন্তি পেলে বলেছেন ‘যেয়ো না’। জাতীয় দলের কোচ মানো মেনেজেস বলেছেন ‘যেয়ো না’। জন্মদাতা বাবারও পরামর্শ ‘থেকে যাও’। সেই ১১ বছর বয়স থেকে যে ক্লাবে ফুটবলের হাতেখড়ি সেই সান্তোসও ছাড়তে চাইছিল না। অপরিণত বয়সেও নেইমার বুঝতে পেরেছেন, শ্রদ্ধেয়দের কথা অমান্য না করে থেকে যাওয়াই ভালো।
ভালোটাই করলেন নেইমার ডা সিলভা। চেলসিকে চূড়ান্ত হতাশ করে সান্তোসের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধলেন নতুন করে। দু-এক বছরের জন্য নয়, সান্তোসের সঙ্গে নেইমার নতুন চুক্তি করেছেন পাঁচ বছরের জন্য। মানে, ২০১৫ সাল পর্যন্তই সান্তোসের হয়ে রইলেন ব্রাজিল ফুটবলের নতুন বিস্ময়।
১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর প্রথম প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর চেলসির দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ২ কোটি ইউরোর। ১৮ বছর বয়সেই এমন লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলা! চুক্তিপত্রে সান্তোস বাড়িয়ে দিয়েছে পারিশ্রমিক। চেলসির মতো শিগগিরই যেন কোনো ক্লাব আবার নেইমারকে দলে নেওয়ার সাহস না দেখায়, সেজন্য সান্তোস ‘বাইআউট ক্লজ’ বাড়িয়ে নিয়েছে ১ কোটি ইউরো।
শুধু পাকা সিদ্ধান্ত নয়, কথাবার্তাতেও বেশ সপ্রতিভ ব্রাজিলের জার্সি পরে অভিষেকেই গোল করা এই তরুণ, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারটা শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়েরই। আমার বাবা সব সময় আমার ভালোটাই চান। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি এবং সান্তোসেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধুই টাকাই সুখ আনতে পারে না। আমি এখানে সুখে আছি এবং এখানেই আরও ধারাবাহিক সাফল্য চাই।’ এরপরই করেছেন সেই জ্ঞানগর্ভ উক্তিটি, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ছিল কঠিন। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের জ্ঞান দিয়েছেন এবং সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দিয়েছেন। এখন সময় শুধু সান্তোসকে নিয়ে চিন্তা করার এবং আরও শিরোপা জেতার।’
নেইমার আঁকড়ে থাকলেন পুরোনো ঠিকানাই। ব্রাজিলীয় এই তরুণের ঠিক বিপরীত কাজটা করতে যাচ্ছেন আর্সেনালের সাবেক অধিনায়ক উইলিয়াম গালাস। আর্সেনাল ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছেন টটেনহামে। ধরেই নেওয়া যায় পুরোনো ঠিকানা আর্সেনাল ছেড়ে টটেনহামের হয়ে গেছেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার। কারণ গতকাল শুক্রবারই টটেনহামে তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর কথা।
দলবদলের বাজারে পাল্টা হাওয়াও বইছে। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, রিকার্ডো কারভালহো, সামি খেদিরা এবং সর্বশেষ মেসুত ওজিলকে ঘরে টেনেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার খবর, রিয়াল থেকে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যেতে আগ্রহী ফন ডার ভার্ট। এদিকে বার্সেলোনা ছেড়ে ইব্রাহিমোভিচ এসি মিলানে পাড়ি জমাচ্ছেন বলে যে খবর বেরিয়েছিল, সেটিকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর এজেন্ট। ইব্রাহিমোভিচের এজেন্ট মিনো রাইওলা বলেছেন, ‘বার্সার সঙ্গে ইব্রাহিমোভিচের ৪ বছরের চুক্তি আছে। কাজেই সে বার্সেলোনাতেই থাকবে

কুককে ছাপিয়ে আজমল-আমির

অ্যালিস্টার কুকের ব্যাট অনেকক্ষণই এমন দর্শক বানিয়ে রাখল পাকিস্তানিদের
চা-বিরতির সময় মনে হচ্ছিল একটু ভিন্নভাবে ওভালে ফিরে আসছে ২০০৬। চার বছর আগে ঠিক কালকের দিনটিতেই বল টেম্পারিং বিতর্কে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচটিতে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। কাল বিতর্কিতভাবে নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সব ওলট-পালট করে দিলেন মোহাম্মদ আমির ও সাঈদ আজমল।
১১৯ রানের লিড ও হাতে সাত উইকেট নিয়ে চা-বিরতিতে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিরতির পর তারা দিশেহারা হয়ে গেল আমিরের রিভার্স সুইং আর আজমলের টার্ন ও দুসরায়। টানা ১৫ ওভারের স্পেলে দুজন মিলে তুলে নিলেন স্বাগতিকদের ৬ উইকেট। আমির ৭.২-৩-১০-৩ ও আজমল ৮-৩-১৬-৩—শেষ সেশনে এই হলো দুই পাকিস্তানির বোলিং বিশ্লেষণ। আলোকস্বল্পতায় খেলা আগেই শেষ হওয়ার সময় ১ উইকেট হাতে রেখে ইংল্যান্ডের লিড ১৪৬। খেলাটা ক্রিকেট এবং দলটির নাম পাকিস্তান বলেই শুধু ইংল্যান্ডের পরাজয় নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।অথচ দিনটি হতে পারত অ্যালিস্টার কুকের! ব্যাটিংয়ের ধরনে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কালকের কুককে দেখে তবু ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা ইয়ান বোথাম, নাসের হুসেইনদের মনে পড়ে গেল ২০ বছর আগের ডেভিড গাওয়ারের কথা। ১৯৯০-৯১ অ্যাশেজের ঠিক আগে রান-খরায় ভুগছিলেন গাওয়ার। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে বাদ দিয়েই অ্যাশেজে যাবে ইংল্যান্ড, শোনা যাচ্ছিল এমন গুঞ্জন। ১২ ইনিংস সেঞ্চুরিবিহীন থাকার পর এই ওভালেই ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন গাওয়ার।
এই ইনিংসটার আগের ৮ ইনিংসে কুকের সর্বোচ্চ রান ছিল ২৯। গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে তিনি ছিলেন অধিনায়ক, দেশের হয়ে দ্রুততম এক, দুই ও তিন হাজার রানের রেকর্ড তাঁর, কিন্তু ফর্মের এই অবস্থায় দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্নটা উঠছিল জোরেশোরে। এই ইনিংসটাই হয়তো ছিল শেষ সুযোগ। টেস্ট ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার টিকিটটা নিশ্চিত করে ফেললেন কুক।
গাওয়ারের সঙ্গে তুলনীয় হতেও এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে কুককে। তবে কাল এই ওপেনার কিন্তু নিজের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে খেলেছেন যথেষ্ট আক্রমণাত্মক। দিনের শুরু থেকেই ছিলেন ইতিবাচক, শট খেলেছেন উইকেটের চারপাশে। ৭৭ বলে ৯ চারে করেছেন প্রথম ফিফটি, পরের ফিফটিতে বল লেগেছে আরও কম, ৭১টি। ট্রটের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে গড়েছেন ১১৬ রানের জুটি। ট্রট খেলেছেন কুকের পুরো উল্টো। ১৩০টি বল খেলেছেন, এর ১১১টিতেই কোনো রান করতে পারেননি! চা-বিরতির পর টানা দুই ওভারে পিটারসেন ও ট্রটের বিদায়েই শুরু হয় ইংল্যান্ডের নাটকীয় পতন, ২৬ রানের মধ্যে হারায় তারা ৬ উইকেট।
২০০
অ্যালিস্টার কুকের ক্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেবে টেস্টে দুই শ ডিসমিসাল হয়ে গেল কামরান আকমলের, সামনে শুধু ওয়াসিম বারি (২২৮)।