Showing posts with label প্যারিস. Show all posts
Showing posts with label প্যারিস. Show all posts

Tuesday, January 30, 2018

বাড়ছে নদীর পানি, ডুবছে প্যারিস

সেন নদীর পানির বাড়ার ফলে ডুবছে প্যারিসের বিভিন্ন অংশ। ব্যাহত হচ্ছে ফ্রান্সের রাজধানীর জীবনযাত্রা। গতকাল সোমবার প্যারিসজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতকাল নদীর পানির ৫ দশমিক ৮৪ মিটার (১৯ ফুট) বেড়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় চার মিটার বেশি।
এই কারণে নদীর কাছাকাছি বসবাসরত নাগরিকদের বন্যার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকা থেকে দেড় হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফ্রান্সে যাওয়া পর্যটকেরা প্যারিস নগরের বাটিউক্স মৌচিসে নৌভ্রমণ ও সৌন্দর্য অবলোকন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আজ মঙ্গলবারের আগে পানি কমতে শুরু করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী বেশির ভাগ এলাকাই প্লাবিত। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ল্যুভর জাদুঘরের একটি অংশ। প্লাবিত হয়েছে আইফেল টাওয়ারের নিচের অংশ। ২০১৬ সালে সেন নদীর পানি ৬ দশমিক ১ মিটার বেড়েছিল। তখন ল্যুভর জাদুঘরের অনেক শিল্পকর্ম অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এবার নদীর পানি ওই পরিমাণ বাড়বে না বলে ধারণা। তবে প্রস্তুত রয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া হবে বিভিন্ন শিল্পকর্ম। ১৯১০ সালের বন্যায় সেন নদীতে থাকা ভাস্কর্যের গলা পর্যন্ত পানি পৌঁছেছিল। তখন প্যারিস শহর পুরো দুই মাস পানির নিচে ছিল।

Sunday, June 5, 2016

ফুঁসে উঠেছে সিন, ডুবে যাচ্ছে প্যারিস

প্যারিসে ভারী বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে সিন নদীর পানি। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফুঁসে উঠেছে এ নদী। বন্যার পানি এই নগরের পাতালরেলের কাছাকাছি চলে এসেছে। আলমা সেতুর জুয়াভু ভাস্কর্য তলিয়ে যাচ্ছে বন্যার পানিতে।
বন্যার পানি ৬ মিটারের বেশি হওয়ায় ল্যুভর ও অরসে জাদুঘর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং জাদুঘরের কর্মীরা শিল্পকর্মগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। সিন নদীর পানি ৬ দশমিক ৫ মিটার উঁচুতে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি সপ্তাহান্তে পানি নামবে না। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্যারিসে আরও বৃষ্টিপাতের আশংকা করা হয়েছে। ফ্রান্স, ইউক্রেনসহ ইউরোপের মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে দুজন মারা গেছে। জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ জন মারা গেছে। সেখানকার বেশ কয়েকটি শহর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোমানিয়ায় দুজন ও বেলজিয়ামে একজন মারা গেছে। অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও বন্যা হয়েছে। হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্যারিসে বন্যায় ফ্রান্সের ইনস্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর ৬০ কোটি ইউরোর বেশি ক্ষতি হতে পারে।
পূর্ব সতর্কতা হিসেবে প্যারিসের ক্লুনি, লা সর্বোন ও সান শেল পাতাল রেলস্টেশনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বিভিন্ন সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সিন নদীতে জরুরী নয় এমন নৌকা চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জাদুঘর, পার্ক ও সমাধি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্যার আশংকায় ল্যুভর জাদুঘরের কর্মীরা প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার শিল্পকর্ম নিচু স্থান থেকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ একে ‘ব্যতিক্রমী বন্যা’ বলে অভিহিত করেন। ১৮৭৩ সালের পর গত মে মাসে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগে ১৯১০ সালের বন্যায় দুই মাস প্যারিস ডুবে ছিল। ওই বছর নদীর পানি ৮.৬২, ১৯৫৫ সালে ৭.১ ও ১৯৮২ সালে ৬.১৮ মিটার পানি বেড়েছিল।