Sunday, June 18, 2017

কেন কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক?

গত কয়েক বছরে কাতার ও তুরস্কের সম্পর্কে যে উন্নতি হয়েছে তার প্রকাশ ঘটেছে কাতারের এই গাড়িটিতে লাগানো স্টিকারে, এখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও কাতারের আমিরের ছবি দেখা যাচ্ছে।
"দুধের জন্য ধন্যবাদ তুরস্ক!" কয়দিন আগে টুইটারে এমন একটি মন্তব্য করেন কাতারের এক নাগরিক।
এই মন্তব্যের সাথে একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি, যে ছবিতে দেখা যায় কাতারের সুপার মার্কেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তুরস্কের ব্র্যান্ডের সব দুধের বোতল।
গত সপ্তাহের তুরস্ক থেকে দুধ, ডিম, দুই, মুরগির গোশত এবং জুসের সব খাদ্যপণ্য বিমানযোগে পাঠানো হয় কাতারে।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপের ফলে দেশটিতে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেই প্রচেষ্টাতেই দুগ্ধজাত পণ্যসামগ্রী পাঠাচ্ছে তুরস্ক।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান বলেছিলেন, কাতারের ওপর আরবদেশগুলোর এমন অবরোধ অমানবিক এবং অনৈসলামিক।
"কাতারের ক্ষেত্রে এক গুরুতর ভুল করা হচ্ছে। তাদের বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা অমানবিক এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধী। এটা কাতারকে মৃত্যুদণ্ড দেবার সামিল"-বলেছিলেন মি: এরদোয়ান।
কাতারকে অবরোধ থেকে বাঁচাতে খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়াও সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগানের প্রশাসন।
কিন্তু কাতারকে রক্ষায় কেন এত আগ্রহ তুরস্কের?
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশ 'সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার' অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্কের প্রতিক্রিয়া ছিল, কোনো পক্ষ না নেয়া এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপের মধ্যস্থতা করা। কিন্তু দুদিনের মধ্যেই নাটকীয়ভাবেই কাতারের পক্ষ নেয় আঙ্কারা।
প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান এই অবরোধের সমালোচনা করেছেন খুবই কড়া ভাষায় ।
কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন -তুরস্ক যেভাবে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, কাতারের অবস্থানও তাই। কাজেই মানুষকে বোকা বানানো বন্ধ করা উচিত।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই বক্তব্যের পরের দিন বুধবার কাতারে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোলু। সেখানে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল নির সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০১৫ সালে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। এ ছাড়া কাতারে সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে তুরস্ক। সেখানে বর্তমানে কয়েকশো তুর্কি সেনা মোতায়েন থাকলেও এটি পাঁচ হাজারে উন্নীত করা যাবে।
কাতার সংকট সৃষ্টির কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটিতে আরো সেনা মোতায়েনের একটি বিল পার্লামেন্টের মাধ্যমে অনুমোদন করিয়ে নেয় আঙ্কারা প্রশাসন।
সামরিক ঘাঁটিতে ভবিষ্যত মোতায়েনের বিষয়টি সমন্বয় করতে সোমবার তিন কর্মকর্তাকে কাতারেও পাঠিয়েছে তুরস্ক।
কয়েকটি প্রতিবেদন এটাও বলা হয়েছে যে কাতার শুরুতে পদাতিক সেনা, পরে নৌবাহিনীর সদস্য এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরববিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দোহাকে অন্যতম মিত্র হিসেবে আঙ্কারার অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
গত বছর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনা সদস্যদের একাংশের অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার সময় প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।
অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের বিশেষ বাহিনীর ১৫০ সদস্যের একটি ইউনিট তুরস্ক পাঠানো হয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।
২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপের আগে দেশটিতে বিনিয়োগের চিন্তা করছেন তুরস্কের ব্যবসায়ীরা।
তাছাড়া দুই দেশের সরকারের মধ্যে আদর্শিক ঐক্যও রয়েছে।
মিসরভিত্তিক ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে মনে করে না দুই দেশই।
তাছাড়া, মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাতে ২০১৩ সালের সেনা অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানিয়েছিল দুদেশই।
আবার সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো ইসলামপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে কাতার ও তুরস্ক।
ইরানের প্রতিও দেশ দুটির দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। দুই পক্ষই স্বীকার করে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি হলো ইরান।
আর ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অব্যাহত বিষোদ্গারের রাজনীতি থেকে সরে এসে উভয়পক্ষই সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে, চলতি সংকটে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইরানও।
তুরস্কের মতোই ইরানও কাতারে খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে।
পাশাপাশি কাতারে বিপুল বিনিয়োগও করেছে তুরস্ক। দোহায় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের অবস্থান সপ্তম।
২০১৫ সালে দেশটিতে ৪২ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি করে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে কাতারে ১২৬ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে তুরস্ক।
২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপের আগে দেশটিতে বিনিয়োগের চিন্তা করছেন তুরস্কের ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে তুরস্কের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বেশ কিছু অস্ত্র চুক্তি করার কথা ভাবছে কাতার। এসব কারণে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কাতারের পাশে তুরস্ক কেন এসে দাঁড়িয়েছে।
অবিলম্বে কাতার সংকটের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান।
সৌদি আরবকে সরাসরি সমালোচনা না করলেও প্রেসিডেন্ট এরদোযগান এই সংকটের সমাধানে বাদশাহ সালমানকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি

সরকারি দল, বিরোধী দল ও মরার দল by ফারুক ওয়াসিফ

বিরোধী দল নারকেলগাছের মতো। সরকারি দল হলো পানের বরজ। আর জনগণ? আমরা তো পিপীলিকাসম। কীভাবে, সেটাই বলা যাক।
নারকেলগাছের ডাল সময়-সময় কেটে দিতে হয়, নাহলে ফল ধরে না, গাছ বাঁচে না। যত তাদের ওপর দমন-পীড়ন চলে, তত তারা জনমন থেকে সহানুভূতি পায়। সেটাই তো ক্ষমতাহীন অবস্থায় তাদের টিকে থাকবার পুষ্টি। পাহাড়ধসে শতাধিক মৃত্যুর চার দিন পর রাঙামাটির দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে রওনা হয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর যাত্রা শেষ হতে পারল না। পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গাড়িবহরে হামলা হয়। পরের ঘটনা অনুমেয়। মির্জা ফখরুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আহত হয়েছেন। গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ফিরে এসেছেন চট্টগ্রামে। দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে। সরকারি অবহেলার কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নয়, পাহাড় ধ্বংস করে বিপজ্জনক আবাসন চালাতে দেওয়ার জন্যও নয়, তাঁদের প্রতিবাদ দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে।
রাঙামাটি যেতে না পারলেও তাঁরা ব্যর্থ নন। সরকার-সমর্থকদের বলপ্রয়োগের রাজনীতির গোমর আবার ফাঁস করা গেল। মির্জা ফখরুল হেরেও জিতে গেলেন। তাঁর প্রথম হার হয়েছে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস। তিনি মির্জা ফখরুলের আগেই হেলিকপ্টারে করে এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন। আওয়ামী লীগের আর কোনো বড় নেতার যাওয়ার খবর পত্রিকায় আসেনি। সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ কাছাকাছি এলাকার সাংসদ। তাঁর মন্ত্রী থাকাকালেই পার্বত্য এলাকার বন ও পাহাড় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ আছে। তিনিও যাননি। যা হোক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে রাঙামাটিতে জবাবদিহি করতে হয়নি। সরকারের পরিবেশ-বিধ্বংসী কার্যকলাপের সমালোচনাও শুনতে হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের দায়টা তিনি সহজেই সেরে আসতে পেরেছেন।
কিন্তু তাঁর জন্য যা সহজ, বিরোধী দলের জন্য তেমনটা হওয়ার জো নেই। সোজা কাজটা বিরোধীদের জন্য কঠিন করে তোলাই তো সরকারি দলের ‘অবদান’। তাই হামলা-ভাঙচুর করে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর ফেরত পাঠানো হলো। বিএনপি যদি আরেকটু গতিশীল হতো, ঘটনার পরদিনই রাঙামাটির দিকে ছুটত। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত। অন্তত দেশব্যাপী সে রকম আওয়াজ তোলার চেষ্টা করত। তাহলে সম্ভবত এ রকম হামলা তাঁরা এড়াতে পারতেন। বিরাট আকারে পাহাড় ধসের ঘটনার আকস্মিকতায় আওয়ামী লীগ দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতো। দেড় শ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু, গণমাধ্যমের সমালোচনা, আন্তর্জাতিক নজর, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর মিলিয়ে পাহাড়ধসের প্রথম ২-৩ দিনে তাঁদের আচরণ তেমনটাই ছিল। ও রকম অবস্থায় ঝটিকা সফর করলে বিএনপি দৌড়ে ও মিডিয়া চমকে এগিয়েই থাকত।
তাতে কী পেত? এক দিনের মিডিয়া কভারেজ। সম্ভবত তাদের চাওয়া ছিল আরও বেশি কিছু। তাই তারা রয়ে সয়ে মাঠে নেমেছেন। যে বিরোধী দলকে সংসদ ও রাজপথে গায়ের জোরে ‘নাই’ করে দেওয়া গেছে, তাদের পাঁচটি গাড়ির বহর রাঙামাটি শহরে ঢুকলে তা তেমন কোনো ‘ঘটনা’ হতে পারত না। এসব সফর আসলে রুটিন কাজের বেশি কিছু না। বিএনপিকে রুটিন পালন করতে দিলে তাই সরকারের কোনো ক্ষতিই হতো না। কিন্তু বিএনপির এখন দরকার ছিল একটি বড় ‘ঘটনা’। একটা হামলা, বাধা দেওয়া, নেতাদের আহত হওয়ার চাইতে নাটকীয় আর কী হতে পারে? আমাদের রাজনীতি এক চলমান মেগাসিরিয়াল। সেই সিরিয়ালের প্রতিটি পর্বে যে পক্ষ বেশি মনোযোগ কাড়তে পারবে, অনলাইন-ফেসবুকে তারা তত এগিয়ে থাকবে। রাজনীতি তো এখন এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ তাই না? সে রকম এক করুণ নাটক বিএনপি পেয়ে গেছে।
বিএনপির কোনো নেতা ১৯৭০ সালে দক্ষিণের ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকা থেকে ফিরে মাওলানা ভাসানীর মতো পল্টনে জনসভা ডেকে জলদগম্ভীর কণ্ঠে বলতে পারতেন, ‘ওরা কেউ আসেনি!’ প্রধানমন্ত্রী তখন সুইডেন সফরে রওনা হয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া কিংবা মির্জা ফখরুলের তরফে তাই অভিযোগ ওঠানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু তাতে খুব বেশি লাভ হতো কি? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কথা আছে, জগতে যোগ্য লোক আছে কিন্তু তাকে দেখাবার যোগ্য মঞ্চ সব সময় পাওয়া যায় না। মির্জা ফখরুল নিশ্চয়ই বড় নেতা, অনেক নির্যাতনও তাঁকে সইতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর দলের মঞ্চটা এখন বড্ডই ছোট। সে রকম মঞ্চ থেকে হুংকার দেওয়া যায় না, অনুযোগ-অভিযোগ করা যায় কেবল। ফলে সেটাই করেছেন, অভিযোগ করেছেন সরকারকে আর ফরিয়াদ জানিয়েছেন জনগণের প্রতি।
অগুরুত্বপূর্ণ একটি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার জন্য আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানাতে পারে বিএনপি। রোজার মৌসুমে সহানুভূতি আদায়ের বড় একটা সুযোগ পাওয়া গেল। এই বা কম কী? বিএনপি এখন বোঝাতে পারবে, ‘দ্যাখো, সরকার আমাদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দিল না!’
দৃশ্যত রাঙামাটি সফরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ঝামেলায় পড়েছে। হামলাটা অবশ্যই নিন্দনীয়। সেই নিন্দা মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগের কম গুরুত্বপূর্ণ নেতারা সাফাই গাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। এলাকাটি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদের। তাঁর লোকজনই এ হামলা করেছে। হাছান মাহমুদের উত্তর, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিএনপি নেতাদের গাড়িবহর দুজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। এরপর সেখানে উত্তেজিত লোকজন কিছু একটা করেছে।’
ফেসবুক-ভিডিওর যুগে হামলাকারীদের পরিচয় পাওয়া কঠিন না। কিন্তু সেই যে, সহজ কাজটা সরকারি ক্ষমতায় কঠিন হয়ে যাবে। কারো টিকিটি ছোঁয়া হবে না। দেশের রাজনৈতিক মেগাসিরিয়ালে এটাই তো চলে আসছে। সেই সিরিয়ালের পর্বে পর্বে অকাতরে মানুষ মরছে। নারী-পুরুষ-শিশু, হিন্দু-মুসলিম, বাঙালি, অবাঙালি। কে বিপন্ন নয় বাংলাদেশে? রাষ্ট্রীয় অবহেলা, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর অন্যায়ে অজস্র মানুষের মৃত্যু এখন স্বাভাবিক। জনগণ হলো মহাশয়, যাদের সবই সয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বলয়ের বাইরে পড়ে থাকা মানুষেরা ভোগে ও মরে। আমাদের রক্ষার কোনো বাঁধ, আশ্রয় নেই।
সরকারি দল হলো পানের বরজের মতো। চারদিকে বেড়া, মাচা, খুঁটি-লাঠির আশ্রয়ে পানের লতা বড় হয়। বেশি রোদে সমস্যা, বেশি বৃষ্টিতে সমস্যা; এতই নাজুক। সরকারি দলের যে প্রতাপ রাঙামাটিতে দেখা গেল, তা ওই মাচার গুণ। মাস্তানের লাঠি, বাহিনীর বন্দুক, প্রশাসনের মাচা আর টাকার ছাতায় তারা সুরক্ষিত। এতটাই সুরক্ষিত যে শত শত মানুষের লাশের ভার ঝেড়ে ফেলে তাঁরা নেমে পড়লেন বিরোধী দল পেটাতে।
আর জনগণ? জনগণ হলো পিঁপড়ার মতো, নিজের চেয়ে দশ গুণ ওজন বহন করতে পারে বলেই দেশটা টিকে আছে। স্বজন হারানোর অমানুষিক শোক বহন করেও তারা জীবন চালিয়ে যায়। তাজরীনের পর, রানা প্লাজার পর, রাঙামাটির পরও তারা জীবন চালিয়ে যাবে। তারা বাঁচে যে যার মতো, মরে দলে দলে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের বাইরে এই আমাদের আরেক দল, মরার দল। এই দলের সদস্যসংখ্যাই এখন সবচেয়ে বেশি।

কাতার-সৌদি বিরোধ ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে গ্রেট গেম by স্যামসন সিমন শারাফ

পশ্চিম এশিয়া কয়েক শ’ বছর ধরে সঙ্ঘাত ও প্রক্সিযুদ্ধের নাট্যমঞ্চে পরিণত হয়ে আসছে। ইতিহাস, রাজতন্ত্র বা বংশীয় শাসন এবং ধর্মীয় কারণে বেশির ভাগ দেশ এসব সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে। উত্তর আফ্রিকান, রুমান, বাইজেন্টাইন, পার্সিয়ান, তুর্কি, ফরাসি, জার্মান ও অ্যাংলো-মার্কিন বাহিনী এসব এলাকায় আগ্রাসন চালাতে প্রলুব্ধ হয়েছিল। ১৯৩০-এর দশক থেকে পেট্রোডলারের কারণে সঙ্ঘাত ও আগ্রাসন আরো বেড়ে যায়।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ও কতই না কৌতুকোদ্দীপক বিষয়, ইয়েমেনÑ যে দেশটি সৌদি আরবের সশস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে তারাই নাকি সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সৌদি আরব ও মিসরের সাথে কাতার, তুরস্ক ও ইরানের বিরোধের প্রধান কারণ হচ্ছে ইয়েমেন। ইয়েমেনের মাধ্যমেই তিক্ততা শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট কারণ হচ্ছে ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ইয়েমেন সিরিয়ার মতো নয়- দেশটি অধিকতর স্বচ্ছ এবং যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবে- হু ইজ হু। ইউরেশিয়ার প্রভাব রোধ করার নীতি কখনো সত্যিকারের সঙ্ঘাতের কারণ ছিল না। আমেরিকান কৌশলবিদ অ্যাডমিরাল মাহেন সেন্ট্রাল এশিয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করে সেখানকার গ্রেট গেমে মধ্যপ্রাচ্যের ধারণা চালু করেন। তিনি রাশিয়ানদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পারস্য উপসাগরের গুরুত্ব কী, তার সমর্থনে কথা বলেন। এটি পরবর্তী ব্রেজেনেস্কির সমন্বিত ইউরো এশিয়ান জিও-স্ট্র্যাটেজি বা ভৌগোলিক কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়- এবং সেটাকে সাউদার্ন ফ্রন্ট নামে অভিহিত করা হয়। এতে ধর্ম, অর্থ, প্রক্সি এবং সন্ত্রাসবাদকে উপাদান হিসেবে নেয়া হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পেট্রোডলারের দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক দেশগুলো, ইসরাইল ও মিসর তাদের অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সিসিজে দেশগুলো, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সমর্থনেই ধ্বংসলীলা চলছে। মিসরে সিসির সামরিক অভ্যুত্থানের সাথেও তারা সুসংহত রয়েছে। প্যান-ইসলামিক শক্তি অর্থাৎ মুসলিম ব্রাদারহুড এবং একই ধরনের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হামাস তুরস্ক ও ইরানই তাদের একমাত্র প্রতিবন্ধক।
প্যান-ইসলামিজম ওসমানীয় খেলাফতকে সমর্থন করে এবং তারা শিয়া ইরানের নাগালের বাইরে। একজন ওসমানীয় আক্রমণকারী ১৮১৮ সালে ইয়েমেনের মধ্য দিয়ে প্রথম সৌদি কিংডমকে পরাজিত করে। ব্রিটিশ ও আমেরিকানরা পরবর্তী সময়ে সৌদি কিংডমকে পুনরুজ্জীবিত করে। তুর্কিরা স্মরণ করে উত্তর ইয়েমেন ওসমানী সাম্রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল এবং তারা মক্কা ও মদিনার ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র স্থানগুলো সংস্কার সাধন করেছিল। ১৮০২ সালে সৌদিরা কারবালায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়েছিল ইরানের শিয়ারা তা কখনো ভুলবে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী পার্সিয়ান-তুর্কি এবং সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাংলো-মার্কিন সমন্বিত ইউরো এশিয়ান জিও-স্ট্র্যাটেজির উন্মেষ ঘটে। সৌদি আরব ও ইসরাইল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা যে রেডলাইন দিয়েছিলেনÑ তা প্রতিরোধ করার জন্য প্ররোচিত করে। এরপর সৌদি আরব কাতারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী মিসর ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ইয়েমেনের কাছ থেকে যে মার খেয়েছিল তা স্মরণ করে ইসরাইলি ঐতিহাসিক মাইকেল ওয়েনকে মন্তব্য করতে বাধ্য করা হয় যে, আকস্মিক দুর্বিপাকে পড়া মিসর ইয়েমেনে হামলা চালাবে যেটাকে ভিয়েতনামে আমেরিকা যে আগ্রাসন চালিয়েছিল তার সাথে অতি সহজেই তুলনা করা যাবে। সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রেসিডেন্ট সিসি উত্তর আমেরিকান-মুসলিম বিজেতাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ নিতে চান।
এসব ব্যাখ্যার কারণে বর্তমান সৌদি-কাতার বিরোধ যেকোনো পক্ষে বুঝতে সহজ হবে ইরান কেন শত্রুতে পরিণত হলো এবং তুরস্ক কেন কাতারের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিতে প্রস্তুত। রাশিয়া প্রবেশ করে বিশ্ব সাউদার্ন ফ্রন্টে একটি নতুন পরিবর্তন দেখতে পাবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টের সাথে কাতারের সমুদ্রপথের যোগাযোগ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে স্থল যোগাযোগে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি আবিষ্কৃত তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের ওপর তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রভাব বিবেচনায় সিরিয়াসহ গোটা এলাকার ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ইসরাইল সিরিয়ান করিডোরের প্রতি গভীরভাবে নজর রাখছে এবং সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অন্যান্য দেশের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতার হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক।
জনসংখ্যা ও সম্পদের আনুপাতিক বিবেচনায় কাতার ভৌগোলিক পরিবর্তনে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বলবৎ রয়েছে। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানদের (যারা আইসিস বিরোধী) মধ্যকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা পালন করে এসেছে। মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস, নুসরা ফ্রন্ট এবং হয়তো আফগান তালেবানদের মোকাবেলা করার জন্যই সাউদার্ন ফ্রন্টের ব্রেনচাইল্ড হচ্ছে আইসিস।
সাউদার্ন ফ্রন্টের কোয়ালিশন কাতারের দরজায় কড়া নাড়তে পারে। এই সাউদার্ন ফ্রন্টের কোয়ালিশন ‘আরব বসন্তের’ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। তারা অবশ্য বহু বছর ধরে সশস্ত্র গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। কাতার তার আরব প্রতিবেশীদের জ্বালাতনে বিরক্ত। দেশটি তাদের নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার সাধনের পরিচর্যা করে। কাতার একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশটি নারীদের ওপর থেকে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। একইভাবে কাতার আল উদাইদ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এটা এখন মার্কিন কোয়ালিশনের সমন্বিত এয়ার অপারেশনস সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। এখানে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে- এটার মাধ্যমে ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের এয়ার স্পেশ মনিটর করা যায়। দেশটি ইরান তুরস্ক এবং প্যান-ইসলামিজমের প্রতিও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সাথে কূটনৈতিক অচলাবস্থার সময় চাক হেগেল এবং জন কেরি যে তৎপরতা চালিয়েছিলেন তাতে অচলাবস্থা নিরসনে কাতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, ‘ওবামা ইরানের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন তাতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং কাতারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির উপস্থিতির অর্থ হচ্ছে দোহা আমেরিকান প্রোটেকশনে রয়েছে। কাতারকে শাস্তি প্রদান এবং ইরানকে বিচ্ছিন্ন বা একঘরে করে রাখা হচ্ছে ইসরাইল সরকারের স্বার্থের সাথে মিল রেখে। কারণ ইসরাইল তার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও গাজায় হামাসের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।’
গত মে মাসে ইসরাইল ও ইরান নিয়ে কাতারের আমিরকে সম্পৃক্ত করে ভুয়া খবর প্রচার করায় কাতার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব আলজাজিরা নেটওয়ার্ক এবং কাতারের মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেনি। আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবার হ্যাক করা ই-মেইল সম্পর্কে আলজাজিরা রিপোর্ট করলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই ই-মেইলের মাধ্যমে কাতারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালানো হয়। ওই ই-মেইলে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের যোগাযোগ ও আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। ই-মেইল ফাঁস হওয়ায় নিওকনজারভেটিভ থিংকট্যাংক, ইসরাইলপন্থী কোটিপতি শেলডন এডেলসন এবং আরব আমিরাতের যৌথ অর্থসহায়তায় দি ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসির (এফডিডি) তৎপরতা ফাঁস হয়ে যায়। রিয়াদে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের পর বেসরকারি পর্যায়ের বৈঠকে কাতারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু ট্রাম্প ইরাকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতো সন্দেহজনক সিগন্যাল পাঠান। এতে সৌদিরা খুবই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং এটা তাদের পক্ষে গেছে বলে মনে করে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি যখন তাকে অভিনন্দন জানান, সৌদি আরব মনে করে কাতার তখন তার রেডলাইন অতিক্রম করে ফেলেছে। সৌদি পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরই কাতারকে প্রতিরোধ করার জন্য সঙ্ঘাত বাধিয়ে দেয়া হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ৪০ বছরের মর্যাদা বলবৎ রাখা- অর্থাৎ ৪০ বছর ধরে চলে আসা বর্তমান অবস্থা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কাতারকে দণ্ড দেয়া হচ্ছে। আর তেহরানকে সজোরে আঘাত করার প্রচলিত ও বিচক্ষণতাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখানো, সামরিক স্ট্রংম্যানদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং এই অঞ্চলের সঠিক পথ রাজনৈতিক ইসলামকে দাবিয়ে রাখার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার কারণে কাতারকে শায়েস্তা করা হচ্ছে। কিন্তু ১৯৩৮ সালে যে অবস্থা বা পদমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, ১৯৭৩ সালের পর তা আরো শক্তিশালী হয়। পেট্রোডলারের কারণে সৌদি আরবের চতুর্দিকের অন্যান্য দেশের ওপর সৌদিদের এক ধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সঙ্কটে পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান ১৯৫২-৭০ সাল পর্যন্ত বাগদাদ চুক্তি বা সেন্টোর অংশ ছিল। দেশটি তখন মিসরের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছিল। পরে তাদের সৈন্যরা জর্ডানে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা পবিত্র কাবা শরীফে দখলদার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ঝটিকা হামলায় অংশ নিয়েছিল। পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবী পাইলটই হচ্ছেন একমাত্র পাইলট- যিনি ১৯৭৩ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সফল এয়ার মিশন পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে পবিত্র স্থানগুলো এবং সউদের বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৌদি আরবে পাকিস্তানি সামরিক কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে প্রথম ইরাক যুদ্ধে পাকিস্তান নিরপেক্ষ ছিল। বরং পাকিস্তানের সাথে সৌদি সরকারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। সৌদি আরবের ফোরেক্স রিজার্ভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সেখানে পাকিস্তানের একটি অত্যন্ত বড় কর্মীবাহিনী রয়েছে। পাকিস্তানের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এখন সৌদি কোয়ালিশন আইএমএটির প্রধান। কাতার ও তুরস্কের মতো পাকিস্তানও একই ধরনের শক্তি প্রদর্শন করে কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের দুর্বল নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অত্যধিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে দেশটি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিউ সাউদার্ন ফ্রন্টের এই খেলায় পাকিস্তানের কিছু বিকল্প আছে। তবে পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এই অঞ্চলে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। আগামীতে বিআরআই, সিপিইসি এবং ওবিওআর (ওবোর) এর ক্ষেত্রে আরো খোলামেলা বিকল্প রয়েছে। চীন, ইরান এবং তুরস্কের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও টিভি উপস্থাপক।
দ্য নিউনেশন থেকে ভাষান্তর : মুহাম্মদ খায়রুল বাশার

আর কত পিতা-মাতাকে গালি by শামীমুল হক

অসহায় বাস যাত্রীরা। স্টার্ট বন্ধ করে বসে আছেন চালক। এক মিনিট দুই মিনিট করে কমপক্ষে বিশ মিনিট। দুটি বড় হাসপাতালের রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও কাঁদছে চিৎকার করে। না কিছুতেই সিগন্যাল ছাড়ছে না দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কিংবা সার্জেন্ট। শাহবাগের দিক থেকে আসা শেরাটন সিগন্যালের নিত্যদিনের চিত্র এটি। পক্ষান্তরে ওই সময় দেখা গেছে ভিআইপি রোডের সিগন্যাল ছাড়া হয়েছে কমপক্ষে তিন বার। এরপর বাংলামোটর দিক থেকে শাহবাগ যাওয়া গাড়িগুলোও ছাড়া হচ্ছে একইভাবে। বাংলামোটর দিক থেকে যাওয়া অনেক গাড়ি শেরাটন সিগন্যালে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। এ কারণে আটকে রাখা হয় শাহবাগের দিক থেকে আসা গাড়িগুলো। ফলে সচল থাকে দুটি সিগন্যাল। আর অপর সিগন্যালের জ্যাম গিয়ে ঠেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত। কখনো কখনো প্রেস ক্লাব পর্যন্ত। এখানকার গাড়িগুলো আটকে রাখার প্রধান কারণ এসব গাড়ি জনসাধারণের। আর তিনবার যে সিগন্যাগ ছাড়া হয় ওই রোডে চলে ভিআইপিদের গাড়ি। তাদের আটকে রাখলে সমস্যা আছে। কিন্তু আজ যা দেখলাম না লিখে পারলাম না। প্রতিটি যাত্রীবাহী বাস থেকে গালাগাল করা হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের পিতা-মাতাকে। বাসের চালক ও হেলপাররাও সমানতালে বিশ্রি ভাষায় গালাগাল করছেন। শেরাটন সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টরা যদি এসব গালি শুনতেন তাহলে হয়তো নিজেই লাজে মরে যেতেন। তাদের বলছি, দয়া করে আর আপনার পিতা-মাতাকে গালি শুনাবেন না। একচোখা নীতিতে দায়িত্ব পালন ছাড়–ন। পিতা-মাতাকে গালি থেকে রক্ষা করুন।

রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, আটক ৫

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। মিছিল থেকে বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ মিছিল করে দলের নেতারা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন- ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। পুলিশ মিছিল থেকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। আটকের বিষয়টি স্বীকার করে পল্টন থানার ওসি রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মিছিল থেকে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি। এর আগে, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার শিকার হয় বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহর। রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী হাসপাতালের সামনে সংগঠিত এ হামলায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয় নেতা আহত হন। হামলায় আহতরা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম।

ছাত্রলীগ নেতার ওপর ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতন!

চাঁদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে সাহাদাত হাওলাদার নামে ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতাকে অমানুষিক নির্যাতন চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তফা কামাল নিজেই তাকে বেদম পিটিয়েছেন। নির্দয়ভাবে তাকে পিটিয়ে তার পুরো পশ্চাদ্দেশ কালো ও বিবর্ণ করে ফেলেছেন।নির্যাতনে সাহাদাতের বাম হাতের কনুইয়ের উপরিভাগও কালো হয়ে গেছে। এমন অমানুষিক নির্যাতনের পরও তাকে চিকিৎসা না করিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি যখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায় তখন শনিবার তাকে আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাহাদাত বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে কারারক্ষীর প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ডিবির ওসি মোস্তফা কামাল সাহাদাতের ওপর শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাহাদাত হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ক'জন ডিবি পুলিশ তাদের গুয়াখোলাস্থ বাসায় গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন। পরে তাদের সঙ্গে সাহাদাতকে ডিবি অফিসে যেতে বললে প্রথমে তিনি কেন যাবেন, কী কারণে যাবেন বললেও পরে তিনি যেতে বাধ্য হন। সাহাদাত বলেন, আমাকে এসপি স্যারের কথা বলে ডিবি অফিসে নেয়া হলেও আমি সেখানে গিয়ে এসপি স্যারকে দেখিনি। পরে ডিবির ওসি মোস্তফা কামাল নিজে এসে তাকে বেদম মারধর শুরু করেন। তিনি আরও জানান, তাকে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে একজন ডিবি পুলিশ তার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকেন আর ডিবির ওসি তার পশ্চাদ্দেশে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন।
লাঠি ভেঙ্গে যাওয়ার পর হকিস্টিক দিয়ে তাকে মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায়ই পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। কী কারণে তাকে আটক করা হলো এবং মারা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে সাহাদাত জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গোবিন্দিয়া এলাকায় একটি মাছের ঝিল নিয়ে একই এলাকার জহিরদের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে।কিন্তু এ নিয়ে কোনো মামলা নেই। তার ধারণা তারাই ডিবি পুলিশ দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি পুলিশ)-এর অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, সাহাদাতের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা রয়েছে।মামলার বাদী হচ্ছেন গোবিন্দিয়া গ্রামের মজিবুর রহমান (জহিরের ভাই)। এ মামলা ডিবির কাছে আসলে তাকে ডিবি পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। তিনি সাহাদাতের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও এসপি স্যারের নজরে বিষয়টি আসায় তিনি আমাকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি বিষয়টি দেখছি। চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ওপর ডিবি পুলিশের র্ববর নির্যাতনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

চালের দাম নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য চায় জাপা

চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। আজ রোববার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সাংসদ রুহুল আমিন হাওলাদার এই দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উদ্দেশে হাওলাদার প্রশ্ন রাখেন, রমজানে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাজারে ছেড়ে দিলেন কেন? নির্বাচন সামনে কী করে চালের দাম বাড়ল? কখন থামবে? এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে তিনি খাদ্যমন্ত্রীকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানান। ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাবের বিষয়ে রুহুল আমিন বলেন, বাজেটে ভ্যাটের বোঝা চাপানো হয়েছে। এটা অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত। আগামী নির্বাচন ঘিরে অপশক্তি সোচ্চার। এই অবস্থায় বাজেটে ভ্যাটের এই প্রস্তাব আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত। এই কৌশল প্রণয়ন করেছেন যাঁরা, বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত তাঁরা। হয়তো অর্থমন্ত্রী সেটা জানেনও না। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যেহেতু আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি, তাই তাদের কষ্ট হয়, এমন কিছু করা উচিত নয়।’ বিরোধীদলীয় এই সাংসদ বলেন, ‘পাহাড় এখন মৃত্যুর উপত্যকা। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, মানুষ জানতে চায়। একদিন ক্ষমতার বাইরে আসতে হবে। সেদিন কী জবাব দেবেন?’ তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা চুরি হয়েছে। কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানা যায়নি। সরকারদলীয় সাংসদ ফারুক খান বলেন, বিএনপি যখন বলে পকেট কাটার বাজেট, তখন সন্দেহ হয়। তাদের আমলে বাংলাদেশ তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিএনপি যদি বাজেট বুঝত, তাদের উচিত ছিল ফোকাসগুলো নিয়ে কথা বলা। কিন্তু তারা বাজেট নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। কারণ, তারা বাজেট বোঝে না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের অশুভ শক্তি অতীতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যাহত করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। তিনি নির্বাচন সামনে রেখে অশুভ শক্তির পাঁয়তারা লক্ষ করছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া বলেন, ‘যারা কর দেন, তাঁদের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। নৈতিকভাবে হোক বা যুক্তি দিয়ে হোক, এটা মেনে নিতে পারছি না।’

অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি: প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

রাজধানীর গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদের সময় ছাত্রলীগের দুই নেতার অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার মামলায় আগামী ২৪ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পুলিশ তা না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ তারিখ ধার্য করেন। গত বছরের ২৭ অক্টোবর গুলিস্তান পাতাল মার্কেট এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগের দুই নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এ মামলা করেন। ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন, ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ছাত্রলীগের ওই দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই জামিনে আছেন। আজ দুজনই আদালতে হাজির ছিলেন।

ব্রেক্সিট-বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে কাল

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নে গত বছরের জুন মাসে গণভোট হওয়ার এক বছর পর, আগামীকাল সোমবার বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াবিষয়ক চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ব্রাসেলসে ইইউর সদর দপ্তরে জোট ত্যাগের প্রক্রিয়ার জটিল বিষয়গুলো নিয়ে ব্রিটিশ ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস ও ইইউর পক্ষে মিশেল ব্রানিয়ার এই আলোচনায় অংশ নেবেন। ১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলেও ৪৪ বছর পর ব্রিটিশ জনগণ গণভোটের মাধ্যমে এই জোট ত্যাগের পক্ষে রায় দেয়। ব্রিটেনে গত বছর গণভোট হওয়ার পর গত ২৯ মার্চ ব্রাসেলসে জোটের বিধি অনুযায়ী থেরেসা মের সরকার জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার চিঠি দাখিল করেছিলেন। ইউরোপীয় জোটের নিয়ম অনুযায়ী, আগামী দুই বছর (২০১৯ সালের মার্চ) মধ্যে দুই পক্ষের দেনা-পাওনা মিটিয়ে ফেলতে হবে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় আপাতত বিচ্ছেদবিষয়ক মূল কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। জোটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র জোট ছাড়ার ক্ষেত্রে ২০ হাজার শব্দের যে আইনবিষয়ক বিধি আছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। যেমন: ইউরোপীয় ইউনিয়নে কর্মরত এক হাজার ৮০০ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের পেনশনের দায়িত্ব কারা বহন করবেন; ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের অবস্থান এবং চাকরির বিষয়। বর্তমান সময়ে ইউনিয়নভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রায় ৩২ লাখ নাগরিক যুক্তরাজ্যে, অন্যদিকে ১২ লাখ যুক্তরাজ্যের নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাস করছেন। এই নাগরিকদের বাস ও চাকরির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া ইউরোপীয় মুক্তবাজারে যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে দর-কষাকষি হবে এবং উভয় পক্ষের লেনদেন নিয়ে কথা হবে। গত ৩১ মার্চ ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের সভাপতিত্বে সদস্য দেশগুলো ব্রাসেলসে ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতার খসড়া রূপরেখা অনুমোদন করতে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছেন। ব্রেক্সিট-বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ৪৪ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার ব্যাপারটিতে আগে উভয় পক্ষই শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার খবরকে উড়িয়ে দিলেন সুষমা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাঁর থাকার খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দলগুলোর মতৈক্য না হলে আগামী ১৭ জুলাই ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সর্বশেষ উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নাম। কিন্তু গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘এগুলো গুজব।
আমি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর আপনারা আমাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করছেন, যা অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ ১৭ জুলাই নির্বাচনের পর ভোট গণনা হবে ২০ জুলাই। প্রার্থী মনোনয়নের শেষ তারিখ ২৮ জুন। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ১ জুলাই পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও গতকাল পর্যন্ত সরকারি কিংবা বিরোধী দল কেউই তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলে মতৈক্যে পৌঁছানোর চেষ্টায় গত সোমবার ক্ষমতাসীন বিজেপি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

‘ইউরোপের সেরা নেতা কোল’

জার্মান তথা ইউরোপীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা হেলমুট কোল বিশ্ব রাজনীতিতে চির অম্লান হয়ে থাকবেন—তাঁর মৃত্যুতে এমন মন্তব্যই করেছেন কয়েকজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ হেলমুট কোলের প্রশংসা করে বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের সেরা নেতা’ তিনি। জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোল (৮৭) গত শুক্রবার মারা যান। তিনি ১৯৮২ সালে পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর হন এবং ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। সমকালীন ইউরোপের রাজনীতিতে অন্যতম মহিরুহ ভাবা হয় তাঁকে। এক বিবৃতিতে জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেন, ‘হেলমুট যুদ্ধ ঘৃণা করতেন—কিন্তু তিনি তার চেয়েও অনেক বেশি ঘৃণা করতেন একনায়কতন্ত্র।’ প্রয়াত জার্মান নেতাকে ‘কাছের বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব জার্মানি ও গোটা ইউরোপকে একবিংশ শতাব্দীর জন্য প্রস্তুত করেছিল। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিনি কেবল দুই জার্মানির একত্রীকরণের জনকই নন, তিনি হলেন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের একজন প্রবক্তা।’

মার্কিন জাহাজটিতে মিলল নিখোঁজ নাবিকদের লাশ

পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ সাত নাবিকের লাশ মিলেছে। সংঘর্ষে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউএসএস ফিটজেরাল্ড নামের এই যুদ্ধজাহাজে লাশগুলো মেলে। মার্কিন নৌবাহিনী ও জাপানের গণমাধ্যম এ তথ্য জানায় বলে বিবিসির খবরে বলা হয়। জাপান উপকূলের অদূরে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দুই জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে ইউএসএস ফিটজেরাল্ড নামের মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ারটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু অংশে পানি ওঠে। আর ফিটজেরাল্ডের সঙ্গে যে পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কা লেগেছে, সেটি ফিলিপাইনের। নাম এসিএক্স ক্রিস্টাল। মার্কিন নৌবাহিনী জানায়, উদ্ধারকর্মীরা জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢুকে সাত নাবিকের সন্ধান পান। তাঁদের শনাক্ত করার জন্য জাপানের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, সপ্তম নৌবহরের ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী জাহাজটির কমান্ডিং অফিসার ব্রাইস বেনসন এবং দুই নাবিক আহত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের জাপানের ইয়োকোসুকায় অবস্থিত ইউএস নেভাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় পণ্যবাহী জাহাজটির ২০ জন নাবিকের কেউই আহত হননি। দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ এখনো অস্পষ্ট। মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি। সে কারণে এটি কীভাবে ৭৩০ ফুট দীর্ঘ বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে পারল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৫০৫ ফুট দীর্ঘ ডেস্ট্রয়ার ফিটজেরাল্ড ১৯৯৫ সালে প্রথম সাগরে নামে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন কর্তৃপক্ষ এটি মোতায়েন করেছিল। বর্তমানে এটি জাপানের ইয়োকোসুকা থেকে প্রশান্ত মহাসাগর এবং জাপান সাগরে (পূর্ব সাগর) টহল দেয়। শুক্রবার এতে কয়েকজন নাবিকের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। অন্যদিকে এসিএক্স ক্রিস্টাল একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ। ফিটজেরাল্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের আগে এটি টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ফিলিপাইনের পতাকাবাহী হলেও এসিএক্স ক্রিস্টালের মালিকানা জাপানি প্রতিষ্ঠান এনওয়াইকে লাইনের। জাপানের ইয়োকোসুকা বন্দরনগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে। এ বহরে আছে প্রায় ৮০টি ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন এবং জাহাজ। দুর্ঘটনার পর ইউএসএস ফিটজেরাল্ড ধীরগতিতে চলে ইয়োকোসুকায় ফিরেছে।জাপানি কোস্টগার্ড বলেছে, দুর্ঘটনার সময় এসিএক্স ক্রিস্টালের ওজন ছিল প্রায় ৩০ হাজার টন, যা ইউএসএস ফিটজেরাল্ডের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। ধাক্কা লাগার ফলে পণ্যবাহী জাহাজটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তা মার্কিন জাহাজটির তুলনায় অনেক কম।

৪ ঘণ্টা পর ফটক খুললেন সিটি করপোরেশন কর্মীরা

সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর রাজশাহী সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের প্রধান ফটক খুলে দিয়েছেন কর্মচারীরা। বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকে ফটক বন্ধ করে আন্দোলন করেন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন চলে। এ সময় কর্মচারীরা ফটকে ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দেন। প্রধান ফটক বন্ধ করে রাখায় পকেট গেট দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের ভেতরে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারেনি। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দুপুর সাড়ে ১২টার পর কর্মচারীরা ফটক খুলে দেন। তাঁরা কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন বলে জানা গেছে। আন্দোলন চলাকালে কার্যালয়ে মেয়র আসেননি। বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, সকাল নয়টার আগে থেকেই তাঁরা বিক্ষোভস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

যাত্রীর হাতব্যাগ থেকে ৫ কেজি সোনা উদ্ধার

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি সোনাসহ এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাঁর নাম আবদুর রাজ্জাক। পেশায়  ব্যবসায়ী। মালয়েশিয়াফেরত এই যাত্রীর হাতব্যাগে ছিল এসব সোনা। ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের প্রধান ঢাকা কাস্টম হাইজের সহকারী কমিশনার আহসানুল কবীর জানান, রাত ১২টার দিকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাজ্জাক কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসেন। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁর হাতে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে তারা ৫ কেজি ৪০০ গ্রাম সোনা পান। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটক করা সোনার মধ্যে এক কেজি ওজনের পাঁচটি বার ও ১০০ গ্রাম ওজনের চারটি বার। আটক সোনার দাম আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ভারী বর্ষণে টিলাধসে মা-মেয়ের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ভারী বর্ষণে টিলার মাটি ধসে ঘরচাপায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে বড়লেখা উপজেলার সদর (বড়লেখা) ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ডিমাই গ্রামের আছিয়া বেগম (৪০) ও তাঁর মেয়ে ফাহমিদা বেগম (১৩)। বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সুয়েব আহমদ আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে।
এতে রাতে টিলার মাটি ধসে নিচে ঘরের ওপর পড়ে। ওই ঘরচাপায় মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, টিলার মধ্যে টিন ও বেড়ার ঘর ছিল। টিলার মাটি ধসে ঘরের নিচে চাপা পড়ায় ঘটনাস্থলে ওই দুজনের মৃত্যু হয়। লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল ভোরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম কালাইরাগ গ্রামে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে শিশুসহ দুজন মারা গেছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও এক শিশু।

সড়কে প্রাণ গেল আরও ৬ জনের

মাদারীপুরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আর সিরাজগঞ্জে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে দুজন ও ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ রোববার ও গতকাল শনিবার বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে ১২৫ দিনে ১ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন।
মাদারীপুর: রাজৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বরিশাল থেকে বিআরটিসির একটি বাস রংপুর যাচ্ছিল। আর আমবোঝাই ট্রাকটি রাজশাহী থেকে বরিশাল যাচ্ছিল। আজ রোববার সকাল সাতটার দিকে উপজেলায় কামালদীর ভারত নামক এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাক দুটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাদারীপুর ও রাজৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং ভাঙা হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নিহতেরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার স্বপন ঘোষের ছেলে শুভ ঘোষ (২০), বরিশাল পশ্চিম মল্লিককান্দি এলাকার ফজর আলী হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন হাওলাদার (৩০) ও গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় গ্রামের মহিউদ্দিন খানের ছেলে সাইদুর রহমান (৪০)।
সিরাজগঞ্জ: বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ জানান, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বগুড়া থেকে মুরগিবোঝাই ছোট একটি ট্রাক ঢাকায় যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুতে সামনে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে অপর একটি মালবোঝাই ট্রাক মুরগিবোঝাই ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মুরগিবোঝাই ট্রাকের চালক মিরু মিয়া, তাঁর সহকারী আশিক ও মুরগির দুই ব্যবসায়ী আলমগীর ও শুকুর আলী সেতুর ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ চারজনকে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে মিরু মিয়া (২৪) ও শুকুর আলী (২৬) মারা যান। এ ছাড়া গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার ১৬ মাইল নামক স্থানে একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন। তাঁকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতেই তিনি মারা যান। এ দুটি ঘটনায় বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও রায়গঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রেন কাটা পড়ে নিহত এক
সিরাজগঞ্জে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে পৌরসভার এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম শরিফুল ইসলাম (২৪)। সিরাজগঞ্জ বাজার-জামতৈল-ঈশ্বরদী রেল লাইনের রায়পুর রেল স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল রায়পুর রেলওয়ে কলোনির সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শরিফুল নেশাগ্রস্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই রেললাইনের ওপরে সে পড়ে ছিল। রাজশাহী মেইল নামের ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী যাওয়ার সময় কাটা পড়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জোড়াতালির ঘাটে ঈদযাত্রা!

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা পার হওয়াটা নির্বিঘ্নে হবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রকৃতির মর্জির ওপর। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পরিত্যক্ত ঘাটে জোড়াতালি দিয়ে ঈদের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টি বা বাতাসসহ বৃষ্টি হলেই ভাঙনে সমস্ত জোড়াতালি ধুয়েমুছে যাওয়ার শঙ্কাটাকেই বড় করে দেখছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ঘাট তদারকির দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মার দৌলতদিয়া প্রান্তে চারটি ঘাটের মধ্যে দুটি গত বছরই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ঘাট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখনো নতুন ঘাটের সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘাটেই জোড়াতালি দিয়ে এবার ঈদে যানবাহন পারাপার চলবে। তবে ভারী বৃষ্টি বা ভাঙনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এদিকে পাটুরিয়া প্রান্তের কর্মকর্তারা আশার বাণী শুনিয়ে বলছেন, এবার পাটুরিয়ার চারটি ঘাটই সচল, ফেরিও পর্যাপ্ত। গতকাল শনিবার দুই ঘাটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে গতকাল পর্যন্ত ঘাটের পরিস্থিতিকে ভালো বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাসের চাপ ছিল মাঝারি, ট্রাকের চাপ একেবারেই কম। অল্প সময়ের মধ্যেই যানবাহনগুলো পারাপার হচ্ছিল। ঘাটে অপেক্ষমাণ রাজবাড়ীগামী রাবেয়া পরিবহনের চালক মো. সেলিম বলেন, ‘এখন তো ঘাটে অনেক কম সময় লাগছে। আসামাত্রই পার হচ্ছি।’ সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটের পাশ দিয়ে নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘাট এলাকার বেশির ভাগ লোকজন সরে গেছেন, বাকিরাও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। টিকে আছে শুধু ঘাটটি। যেকোনো সময় এটিও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ৩ নম্বর ঘাটটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, পাটুরিয়া প্রান্তে চারটি ঘাটই সচল রয়েছে। তবে ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তের চারটি ঘাটের মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট গত বছরই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখনই দৌলতদিয়ায় দুটি নতুন ঘাট তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এখন পর্যন্ত দুই ঘাটের সংযোগ সড়ক তৈরি করতে না পারায় এগুলো এই ঈদেও চালু করা যাচ্ছে না। এখন ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল রেখে ঈদের পারাপার করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে পাইলিং করা হয়েছে, জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘাটে পানি এখন মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থা বহাল থাকলে ঈদের বাড়তি চাপেও পারাপারে তেমন সমস্যা হবে না। তবে কোনো দুর্যোগ ঘটলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। রাস্তা তৈরির কাজ সওজ অধিদপ্তরের। যোগাযোগ করা হলে সওজ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদার কাজ করছেন। তাঁর পেছনে কর্মকর্তারা লেগে আছেন, ঠিকাদারকে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন। সবাই প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। রাস্তায় বালু ভরাটের কাজ চলছে। এটি শেষ হলেই অন্য কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে। ইট দেখা আছে। রোলার রেডি আছে। সওজ কর্মকর্তারা বলছেন, কাজ কোনোভাবেই ঈদের আগে শেষ করা সম্ভব নয়। দৌলতদিয়া প্রান্ত শঙ্কায় থাকলেও আরিচা প্রান্তের কর্মকর্তারা বলছেন পরিস্থিতি ভালো। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পাটুরিয়ার চারটি ঘাটই পূর্ণমাত্রায় সচল রয়েছে। ঈদে এই চার ঘাটে তাঁদের ১৯টি ফেরি চলাচল করবে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তাহলে তেমন একটা ভোগান্তির আশঙ্কা নেই। বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে কর্মরত লোকজন বলেন, সাধারণত ঘাটে ১৩ থেকে ১৫টি ফেরি সেবা দিয়ে যায়। এই ফেরি দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে দুই থেকে সোয়া দুই হাজার যানবাহন পারাপার করা যায়। ঈদের সময় চার ঘাটে ১৯টি ফেরি চলাচল করবে। এর মধ্যে রো রো (বড়) ফেরি ১০টি, ইউটিলিটি ফেরি ৬টি ও কে টাইপ ফেরি রয়েছে ৩টি। কর্মকর্তারা বলেন, এখন পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করতে একটি ফেরির সময় লাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। এ অবস্থা বহাল থাকলে ঈদের যানবাহন পারাপারে তেমন একটা সমস্যা হবে না। তবে ভারী বৃষ্টি হলে ঘাট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বৃষ্টি হলে স্রোতের গতিবেগ বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পারাপারে সময় বেশি লাগবে। পাটুরিয়া ঘাটে কর্মরত মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের চাপ সামলাতে পুলিশের ভালো প্রস্তুতি রয়েছে। সে সময় ঘাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

‘গুলিস্তান’ নেই, তবু আছে ৬৪ বছর ধরে

গুলিস্তান। নাম শুনলেই ঢাকার ব্যস্ততম একটি জায়গার ছবি ভেসে ওঠে। একসময় এটিই ছিলই ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ঢাকা সিটি করপোরেশনের হোল্ডিংয়ের তালিকায় গুলিস্তান নামের কোনো স্থান নেই। আছে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। পাকিস্তান আমলে ছিল জিন্নাহ অ্যাভিনিউ। কীভাবে জায়গাটির নাম গুলিস্তান হলো? শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ঢাকাকোষ বলছে, গুলিস্তান সিনেমা হলের নাম অনুসারে এই জায়গার নাম হয়ে যায় গুলিস্তান। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রমনার ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের উত্তরে ঢাকা জেলা ক্রীড়া মিলনায়তন এবং পল্টন মাঠের পাশে ১৯৫৩ সালে গুলিস্তান নামের এই সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঢাকায় দীর্ঘদিন যাঁরা বাস করেছেন, তাঁদের সবার স্মৃতিতেই গুলিস্তান সিনেমা হল আছে কোনো না কোনোভাবে। বিখ্যাত এই সিনেমা হলকে কেন্দ্র করে ১৯৫৪ সালের গুলিস্তানের একটি ছবি পাওয়া গেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পুরান ঢাকার ছবি নিয়ে গ্রুপ ‘ঢাকা: ৪০০ ইয়ারস হিস্ট্রি ইন ফটোগ্রাফস’-এ। ছবিটি দেখলেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। আশপাশে ফাঁকা। পুরান ঢাকার স্মৃতি নিয়ে লেখা ঢাকাপুরানগ্রন্থ-এ মিজানুর রহমান লিখেছেন, ‘গুলিস্তান সিনেমার উল্টোদিকে, ওই যেখানে সাধারণ বীমা সদন, সেখানে ছিল ব্রিটানিয়া হল। তখন তো পুরো এলাকাটাই ছিল ন্যাড়া। ঘরবাড়ি বলতে তেমন কিছু ছিল না। কিছু ক্লাবঘর, এসএ গ্রাউন্ড আর বাকিটা সবুজ। এই সবুজের পটে ওই একরত্তি সিনেমা হল।’ এখন সবুজ হয়ে গেছে একরত্তি। চলচ্চিত্রবিষয়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক অনুপম হায়াৎ লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজল আহমেদ দোশানি ঢাকায় চলে আসেন এবং এই প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। ১৯৫৩ সালে আগা খান এই হলের উদ্বোধন করেন। এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ। প্রথমে হলটির নাম ছিল লিবার্টি। পরে গুলিস্তান করা হয়। এখানে দেশি-বিদেশি সব সিনেমা দেখানো হতো। গুলিস্তান শব্দের অর্থ ফুলের বাগান। সিনেমা হল ছাড়াও মোগল আমলের একটি কামানের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত ছিল। ১৯৫৫ সালে গুলিস্তান হলের ওপর তলায় নাজ নামে আরেকটি সিনেমা হল চালু হয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চলচ্চিত্র এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য গুলিস্তান খুব বিখ্যাত ছিল। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গুলিস্তানের মালিক পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং ১৯৭২ সালে তা দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে। ২০০৫ সালে তারা পুরোনো ভবনটি ভেঙে একটি নতুন শপিং কমপ্লেক্স স্থাপন করে। তবে ঢাকার মানুষের স্মৃতিতে এখনো রয়ে গেছে এই সিনেমা হল।
লেখা: শরিফুলহাসান। ছবি: হাসানরাজা

খিলক্ষেতবাসী পানিবন্দী

এক সপ্তাহ আগের বৃষ্টির পানিই আটকে আছে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানসহ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার বিকেলের বৃষ্টি ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে খিলক্ষেতের বেপারীপাড়া, বটতলা, নামাপাড়া, খাঁপাড়া, মধ্যপাড়াসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খিলক্ষেতের আশপাশের জলাধার ভরাট এবং পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে পুরো এলাকা। রাস্তায় জমে থাকা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দী অবস্থায় দুর্বিষহ দিন যাপন করতে হচ্ছে খিলক্ষেতবাসীকে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বরুয়া এলাকায় পুলিশের আবাসন প্রকল্পের জন্য বোয়ালিয়া খাল ভরাটের কারণে খিলক্ষেত এলাকার পানি নামতে পারছে না।  সরেজমিনে দেখা যায়, খিলক্ষেত বাজার, মধ্যপাড়া, বটতলা, বেপারীপাড়া, আমতলাসহ গোটা এলাকার বাসিন্দাদের হাঁটুসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এসব এলাকায় বাসাবাড়ির ভেতরেও জমে আছে ময়লা পানি। বিশেষ করে প্রায় প্রতিটি টিনশেড ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। পচা পানিতেই ঠায় দাঁড়িয়ে চলছে বাসনকোসন ধোয়ামোছা ও রান্নাবাড়ার কাজ। খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার দুলাল বলেন, খিলক্ষেত এলাকার পানি নামার তিনটি পথ ছিল। নামাপাড়ায় পুলিশের আবাসন প্রকল্পের পাশের খাল, ৩০০ ফুট রাস্তার পার্শ্ববর্তী খাল ও খিলক্ষেত এলাকার রেললাইনের পাশের নিম্নাঞ্চল। গত কয়েক বছরে ৩০০ ফুটের পাশের জলাধার ভরাট করে ভবন নির্মাণ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, খিলক্ষেত মধ্যপাড়া, নামাপাড়া, বটতলা, বালুর মাঠের বিভিন্ন এলাকার পানিনিষ্কাশন নালাগুলো সংস্কার করা হলেও মূল সড়কের নালার কোনো রকম সংস্কার করা হয়নি। তাই পানি নামতে সমস্যা হচ্ছে। এই নালাগুলো অন্তত জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় নালাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। দেখা যায়, পানির কারণে খিলক্ষেত মূল সড়কের দুই পাশের দোকানগুলোর অধিকাংশই বন্ধ। খিলক্ষেত সুপার মার্কেটের ভেতরেও পানি। ঈদ সামনে হলেও মার্কেটে ক্রেতা কম। সারা দিন দোকান খোলা রেখেও হাজার দুয়েক টাকা বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। খিলক্ষেত বাজারের ইউনুস অপটিক্সের স্বত্বাধিকারী মামুন খান বলেন, দোকানের সামনে পানি, মার্কেটের ভেতরে পানি। গত এক সপ্তাহে কোনো বেচাবিক্রি নেই। তিনি আরও বলেন, দোকানের সামনে এক-দুই ফুট দেয়াল তুলেও পানি ঠেকানো যায় না। অনেক দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঈদের ছুটির নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খিলক্ষেতের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সড়কে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানি জমে থাকায় একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না, অন্যদিকে পানিভর্তি কক্ষেও পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যপাড়া এলাকার ইউরোশিয়া স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির ছয়টি কক্ষের পাঁচটিতেই পানি জমে আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল অধিকারী বলেন, ঈদের ছুটি তো দেওয়া হয়নি। পানির কারণে বাধ্য হয়েই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে বাসাবাড়িতে ও রাস্তায় পানি জমে থাকায় মশার উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বেপারীপাড়ার বাসিন্দারা। তা ছাড়া, রাস্তায় জমে থাকা হাঁটুসমান নোংরা পানি শরীরে লেগে শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে বলে তাঁরা জানান। বেপারীপাড়ার গৃহিণী আকলিমা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে পানিবাহিত রোগগুলো মহামারি আকার ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে এলেই শরীর চুলকাচ্ছে। মনে হয় পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। খিলক্ষেতের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খিলক্ষেত থেকে বরুয়া এবং বেপারীপাড়া থেকে খাঁপাড়া হয়ে বনরূপা পর্যন্ত রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ২৬ কোটি টাকার বাজেট পাস করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারব। তখন জলাবদ্ধতা থাকবে না।’ পানিপ্রবাহের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ১০০ ফুট খাল সংস্কারের সময় অন্য খালগুলোও সংস্কার করা হবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই খিলক্ষেতের প্রধান সড়কের সমস্ত ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে কাউন্সিলর বলেন, বৃষ্টির আগেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু যেখান দিয়ে পানি নামবে সেখানের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। তবু জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ম্যানহোলের মুখ পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।

সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি ফেলে দিন

শনিবার সকাল ১০টা! পুরান ঢাকার মিটফোর্ড রোডের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন অ্যাপ্রোন পরা মেডিকেল কলেজের একদল শিক্ষার্থী। অনেকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তাঁদের দিকে। দুপুর ১২টার দিকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়েও একই রকম কর্মসূচি দেখা গেল। শুধু এই দুটি স্থানই নয়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গতকাল এমন দৃশ্য দেখেছে নগরবাসী। সাদা অ্যাপ্রোন পরা তরুণ-তরুণীর দল সবাইকে নিজের বাড়ি এবং বাড়ির চারপাশ মশামুক্ত রেখে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা নিজেরাও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করেছেন। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে গিয়ে তাঁরা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাও দিয়েছেন। কর্মসূচি চলাকালে বাড়ি বাড়ি যাওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা ‘সপ্তাহে এক দিন, জমে থাকা পানি ফেলে দিন’ স্লোগান দিয়ে মানুষকে সচেতন করেন। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে গতকাল ঢাকার পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ, ২২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, তিনটি নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ ঢাকার ৯২টি ওয়ার্ডের ৭৫০টি স্থানে এমন কর্মসূচি পালিত হয়। চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী, নার্সসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ২০৫টি দলে বিভক্ত হয়ে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে সহযোগী হিসেবে ছিল জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কর্মসূচি দেখেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই কর্মসূচি প্রতীকী। এক দিনে ঢাকা মহানগরীর সব মশা মারা যাবে না। তবে এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, যখন কোনো রোগ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা একা সরকারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। জনগণকেও তখন রোগ প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকা উত্তরের মহাখালীর জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান-নিপসমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহমেদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নিপসমের পরিচালক বায়জীদ খুরশীদ। ঢাকা দক্ষিণে একই রকম একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সিরাজুল ইসলাম। কর্মসূচি চলাকালে স্বেচ্ছাসেবীরা লোকজনকে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে লোকজনকে ধারণা দেন। এরপর তাঁরা এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি অপসারণ, ডাবের খোসা ও ক্যান অপসারণ করেন। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বায়জীদ খুরশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে এই দুই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে ১৪০টি এলাকার ১ হাজার ৪৮০টি বাড়ি থেকে তথ্য নেওয়া হয়। এসব বাড়ি থেকে চিকুনগুনিয়ার ২ হাজার ৯৫৬ জন রোগী শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। কর্মসূচির সফলতা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক সানিয়া তহমিনা গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনগণের কাছ থেকে আমরা অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। লোকজন আমাদের এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন। ৯২টি ওয়ার্ডের এসব কর্মসূচিতে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আমরা এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।’

ফটক বন্ধ করে আন্দোলনে সিটি করপোরেশন কর্মীরা

বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে আন্দোলন করছেন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। ফটকে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। প্রধান ফটক বন্ধ করে রাখায় পকেট গেট দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে ঢুকছেন। ভেতরে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারছে না। বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র কার্যালয়ে যাননি।

মসজিদ থেকে বাসায় ইফতারি!

১৬ তলা ভবনের ওপরে লিফটের দরজা খুলতেই চোখ জুড়িয়ে গেল! প্রায় পুরো ফ্লোরে একটি মসজিদ। স্বচ্ছ কাচের দরজার সামনে দাঁড়ালে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। মসজিদে নানা আকৃতির ঝাড়বাতি, নান্দনিক কারুকাজ। আবাসিক ভবনের ওপরে ব্যক্তি উদ্যোগে করা এই মসজিদের নাম বায়তুল ফালাহ্ ফকির বানু জামে মসজিদ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মসজিদে চলছিল ইফতারের আয়োজন। মসজিদের বারান্দায় লম্বা সারিতে কয়েক শ মানুষ। পুরান ঢাকার প্রচলিত ইফতারির নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি আছে কয়েক রকমের ফল। এর আগে মসজিদ থেকে ভবনটির ৯৬টি ফ্ল্যাটে ইফতারি পাঠানো হয়। রোজায় প্রতিদিনই চলে এই আয়োজন। মসজিদ চালুর প্রথম রমজান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয় ভবনের চিলেকোঠায় থাকা আলাদা রান্নাঘরে। ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার ঘরে যথেষ্ট ইফতারির ব্যবস্থা থাকে। তবু আমার পাঁচ বছরের মেয়ে এশা প্রতিদিন মসজিদ থেকে পাঠানো ইফতারি নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে।’ এ ছাড়া রাজধানী মার্কেটের সামনে অবস্থিত মসজিদসহ সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইফতারি পাঠানো হয় এই মসজিদ থেকে। রমজানের শুরু থেকে ইফতারি বানানোর জন্য কয়েকজন বাবুর্চিকে এক মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরি, পেঁয়াজি, আলুর চপের মতো নিয়মিত অনুষঙ্গ ছাড়াও মাঝে মাঝে খিচুড়ি, তেহারির ব্যবস্থা থাকে। এলাকার একজন দোকানি বেলাল হোসেন বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকেই আসি। এখানে লোকজনের সঙ্গে ঠান্ডার মধ্যে বসে ইফতার করতে ভালো লাগে।’ হাটখোলার শহীদ নজরুল ইসলাম সড়কে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের পাশেই ফকির বানু ভবনের অবস্থান। মূল সড়কের পাশে হলেও এলাকাটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। পেছনের এলাকাটির নাম ভগবত ব্যানার্জি রোড। কাছাকাছি মসজিদ নেই। এখানকার বাসিন্দাদের নামাজ আদায় করতে বড় রাস্তা পার হয়ে টিকাটুলী জামে মসজিদ কিংবা ওয়ারী এলাকার মসজিদগুলোতে যেতে হয়। ঝড়-বাদলের দিনে দুর্ভোগে পড়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে পুরান ঢাকার দক্ষিণ মৈশুণ্ডী এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা হাজি সালাহউদ্দীন নিজের উদ্যোগে তাঁর বাবা-মায়ের নামাঙ্কিত ভবনের ১২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরের পুরোটাই দেন মসজিদের জন্য।
মসজিদের খতিব মাওলানা মুফাজ্জল হোসাইন জানান, ২০১১ সালে মসজিদটি চালু হয়। মসজিদের উদ্যোক্তা হাজি সালাউদ্দীন সাহেব এটি ওয়াক্ফ করে দেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই মসজিদে ১ হাজার ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। ফকির বানু ভবনের ব্যবস্থাপক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ১৬ তলা এই ভবনের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য আলাদা চারটি লিফট আছে। মসজিদের লিফটটি অন্য কোনো ফ্লোরে থামে না। রমজানে তারাবি নামাজ পড়ানোর জন্য মসজিদের নিয়মিত খতিব, ইমাম ছাড়াও এক মাসের জন্য একজন হাফেজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। ওয়ারী এলাকা থেকে আসা তারাবির নিয়মিত মুসল্লি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার বাসা থেকে এই মসজিদে আসতে রিকশা লাগে। তবু প্রতি জুমা এবং তারাবি আদায়ের জন্য এখানে চলে আসি। এ মসজিদের পরিবেশটা এত ভালো লাগে যে আমার বৃদ্ধ বাবা প্রতিবছর ২০ রমজান থেকে এখানে ইতিকাফে বসেন।’ টিকাটুলী কে এম দাস লেনের মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, এখানকার শীতল এবং নীরব পরিবেশটায় মন জুড়িয়ে যায়। মসজিদের খাদেম আবদুর রউফ জানান, গত শুক্রবার ২০তম রমজানে মসজিদে ইতিকাফের জন্য অনেক দূর থেকে মুসল্লিরা এসেছেন। মসজিদের ভেতর পর্দা দিয়ে তাদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইফতার এবং সাহ্‌রির ব্যবস্থাও আছে। মসজিদ এবং ইফতারির কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গেলে হাজি সালাউদ্দীন খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না। বললেন, ‘আমি কখনো রাজনীতি করিনি। নিজের প্রচারেরও কোনো উদ্দেশ্য আমার নেই। আমার উদ্যোগে যদি মানুষের ন্যূনতম উপকার হয়, তাহলেই আমার শান্তি।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কার্যত বাড়েনি

প্রথম আলো : এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন? অর্থমন্ত্রীর দাবি, শিক্ষা খাতে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
রাশেদা কে চৌধূরী : হ্যাঁ, আমাদের কাছেও প্রথমে মনে হয়েছিল শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেছি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়—এ দুই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এভাবে বরাদ্দ কমার ফলে শিক্ষায় আমাদের অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এবার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। এতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে বরাদ্দ অনেক বেশি। কিন্তু সঠিক চিত্র তা নয়।
প্রথম আলো : শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি ছিল। কিন্তু বরাদ্দ করা হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ মালয়েশিয়ায় জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ হয়ে থাকে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
রাশেদা কে চৌধূরী : বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, অর্থাৎ এসডিজির লক্ষ্য পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। যেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ন্যূনতম ৪ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। অথচ সেখানে জিডিপির ৩ শতাংশও বরাদ্দ করা হয়নি।  বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটা জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ নয়। যেখানে বলা হয়েছিল, ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষায় বিনিয়োগ জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
প্রথম আলো : শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ হয়, তার বেশির ভাগই ব্যয় হয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে, এটা সরকারের শিক্ষাবিরোধী নীতি কি না?
রাশেদা কে চৌধূরী : না, এটাকে আমি শিক্ষাবিরোধী নীতি বলব না। শিক্ষকদের যথোপযুক্ত বেতন-ভাতা-মর্যাদা অবশ্যই চাই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মানসম্মত শিক্ষক ও অবকাঠামো দরকার। আমাদের দেশে যেদিকটা বেশ দুর্বল সেটা হচ্ছে শিক্ষকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। আমাদের শিক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। অথবা দেওয়া হলেও শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন না। অনেক সময় প্রশিক্ষণের জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ থাকে না। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অবশ্যই শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো দরকার। পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়ানো দরকার। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, আমাদের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যপুস্তকের নিয়মিত পরিমার্জন করা উচিত। কিন্তু দেখা যায়, যাঁরা পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের অনেক সময় যথোপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। এসবের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর থাকা প্রয়োজন।
প্রথম আলো : শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই, বরং অবনতি হয়েছে। কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?
রাশেদা কে চৌধূরী : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একধরনের জটিলতা আছে। এটি প্রধানত তিন ধারায় বিভক্ত। প্রথমটি হচ্ছে মূলধারা, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইংরেজি মাধ্যম এবং তৃতীয়টি হচ্ছে মাদ্রাসাশিক্ষা। মূলধারার শিক্ষা দুই ভাগে বিভক্ত। একটা সরকারি, আরেকটি বেসরকারি। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যবস্থাপনার দিকটি মোটামুটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলে। শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি মোটামুটি নিয়মমাফিক হয়ে থাকে। কিন্তু মাধ্যমিকে ঠিক এর উল্টো। এ ক্ষেত্রে ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডার-বাণিজ্য ইত্যাদি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ আছে। পর্যাপ্ত আইনি কাঠামো না থাকায় এসব দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য আমরা স্বতন্ত্র একটি ‘সমন্বিত শিক্ষা আইন’ চেয়েছিলাম। সরকার এ ব্যাপারে কিছুটা এগিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত একটি যুগোপযোগী শিক্ষা আইন প্রণীত হবে।
প্রথম আলো : ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাত বছর পর আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
রাশেদা কে চৌধূরী : ২০১০ সালে আমরা খুব ভালো একটি শিক্ষানীতি পেয়েছিলাম। ২০১৮ সালের মধ্যে এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল। সাত বছর পর এ ব্যাপারে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না। জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ করার কথা ছিল। আগেই বলেছি, তা পূরণ হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা ছিল, হয়নি। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টাডিজসহ ন্যূনতম কতগুলো পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। হয়নি। সম্প্রতি আদালতের একটি নির্দেশনার মাধ্যমে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে বাংলাদেশ স্টাডিজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা পারলে ধর্মীয় মাধ্যমে অসুবিধা কোথায়? একটি দেশে নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে অথচ তাদের সব কটির ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিয়মতান্ত্রিকতা থাকবে না—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রথম আলো : সম্প্রতি হেফাজতের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যবই থেকে অনেক রচনা বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কি মৌলবাদী শক্তির কাছে সরকারের আত্মসমর্পণ নয়?
রাশেদা কে চৌধূরী : হেফাজতের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রকাশ্যভাবে হেফাজত যেসব দাবি জানিয়েছিল, পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। যে রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের পরিচালিত সরকার এই পরিবর্তন আনল—এটা খুবই দুঃখজনক। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়নি, তাদের প্রতি সরকারের নমনীয়তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
রাশেদা কে চৌধূরী : ধন্যবাদ।

এই শিশুরা কার কাছে যাবে?

‘অহন এই দুইডা বাচ্চারে নিয়া আমি কই যামু, বলতে পারেন?’—হাহাকারের মতো শোনাল বিধবা ছালেহা খাতুনের গলা। রাকিব (৬) আর তার ছোট বোন ফারিয়া (২) পরম নির্ভরতায় বসে আছে দাদির কোল ঘেঁষে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়স তাদের হয়নি। কিন্তু ছালেহা বেগমের চোখে এখন ঘোর অন্ধকার। পিতৃহীন আর নিরুর্দ্দিষ্ট মায়ের এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন তিনি। তাদের খেতে দেবেন কী, নিজেরই-বা ভরণপোষণ চলবে কী করে! রাঙামাটি সরকারি কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে আপাতত ঠাঁই মিলেছে। কিন্তু এই ঠিকানা যে ক্ষণস্থায়ী, এ কথা তো আর কাউকে বলে দিতে হয় না। ভয়াবহ দুর্যোগের দিন এক প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন ছালেহা খাতুনের ছেলে দরবেশ আলী (৩০)। কিন্তু সেই বাড়িটিই যখন ভেঙে পড়ল হুড়মুড় করে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দরবেশ আলীও হারিয়ে গেছেন খাদের অতলে। ছেলের লাশটি অন্তত উদ্ধার হোক, এটুকু চান ছালেহা। দরবেশ আলীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়েছিল এক বছর আগে। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। এত বড় দুর্ঘটনার পর ছেলেমেয়ের টানে হলেও তিনি একবার আসবেন, এই ক্ষীণ আশা ছাড়া আর কোনো আলো নেই ছালেহা বেগমের চোখে। আরও কম বয়সী দুটি শিশুকে নিয়ে একই আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন রীনা আক্তার। মাত্র কদিন আগে ভাই সালাহউদ্দিনের বাড়িতে নাইয়র এসেছিলেন রীনা। ভাইয়ের দুই মেয়ে মিম (৭) ও সুমাইয়াকে (১৭ মাস) নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন রাঙামাটিরই আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে। পরদিন ফিরে আসার আগেই খবর পেলেন, পাহাড়চাপা পড়েছে ভাইয়ের বাড়িটি। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভাই সালাহউদ্দিন আর ভাবি রহিমা বেগমের (২৪) লাশ। আশ্রয়কেন্দ্রের অপরিচিত পরিবেশে মিম আর সুমাইয়া ফুফুকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে সারাক্ষণ। কিন্তু নিজেরই টানাটানির সংসার, এই দুটি অনাথ-অবোধ শিশুকে কী করে লালন-পালন করবেন ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রীনা। মা-বাবা আর ছোট বোনকে হারিয়ে প্রায় নির্বাক মাঈনুদ্দিন জিহাদ (১৪)। সেদিনের বিভীষিকা বর্ণনা করার মতো শারীরিক-মানসিক শক্তি এই কিশোরের নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও নেই তার। তবু ক্লান্ত-বিমর্ষ ছেলেটি সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে যা বলল, তা অনেকটা এ রকম—১৩ জুন ভোর থেকে প্রবল বর্ষণের কারণে ঘর থেকে বেরোনোর কোনো উপায় ছিল না। পাশের ঘরে ছিলেন বাবা জিয়াউর রহমান, মা কাজল বেগম আর ছোট বোন বৃষ্টি (৭)। বাইরের দুর্যোগের অবস্থা একবার উঁকি দিয়ে দেখার জন্য দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল সে। তখনই কিছু বুঝে ওঠার আগে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাড়িটি। লাফ দিয়ে সম্ভবত দরজার বাইরে গিয়ে পড়ে সে। এরপর আর কিছু মনে নেই। একসময় জ্ঞান ফিরে এলে চারপাশে লোকজনের কোলাহল শুনে বুঝতে পারল, বেঁচে আছে সে।
তখন চিৎকার করে সবাইকে তার আটকে থাকার কথা জানিয়েছে। চারপাশের মানুষ এসে বুক পর্যন্ত মাটিতে আটকে থাকা জিহাদকে উদ্ধার করে ভর্তি করেন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে। তার হাত, পা, বুক, গলা—সর্বত্র ছিল আঘাতের চিহ্ন, নিশ্বাস নিতে পারছিল না। চার দিন হাসপাতালে থাকার পর শনিবার ছাড়া পেয়েছে। কিন্তু বাড়ি নেই, মা-বাবা নেই, কার কাছে ফিরে যাবে জিহাদ? শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবিড়ম্বিত এই ছেলেটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তার সহপাঠী নাজিবুলের মা-বাবা। তাঁরা তাকে নিয়ে গেছেনরাঙামাটি শহরের রসুলপুর কলোনির বাসায়। নাজিবুলের মা রুমা আক্তার বললেন, ‘এই ছেলে এখন থেকে আমাদের সঙ্গে আমাদের ছেলের মতোই থাকবে।’ দুর্যোগ-দুঃসময়ে মানুষ আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। রুমা আক্তারের এই আবেগ কত দিন স্থায়ী হবে কে জানে! কিশোর জিহাদ পিতা-মাতা হারানোর শোক ও নির্মম বাস্তবতা জীবনে কোনো দিন ভুলতে পারবে কি? শহরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে সাময়িক ঠাঁই জুটেছে খাদিজা বেগমের (৩৯)। ছেলে সোহেলের (২৩) দুই ছেলে (৯ ও ৭) ও এক মেয়েকে (৬) নিয়ে দুঃস্বপ্নের দিন কাটছে তাঁর। বাড়ি ধসে পড়ে ছেলের বউ কমলা আক্তার মারা গেছেন। সোহেল রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আছেন জীবন-মরণের টানাটানিতে। ছেলে বাঁচবে কি না, বাঁচলেও আয়-রোজগার করার মতো শারীরিক সামর্থ্য ফিরে পাবে কি না, এই দুশ্চিন্তায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে খাদিজার। নিজের স্বামী মারা গিয়েছিলেন সোহেলের আড়াই বছর বয়সে। দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে গিয়ে ছেলেকে বড় করে তুলেছেন অনেক কষ্টে। এখন ছেলের তিন সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবেন, ভাবতেই পারছেন না খাদিজা বেগম। রাঙামাটির আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে স্বজন হারানোর ঘটনা, ঘরবাড়ি-সম্পদ বিলীন হয়ে যাওয়ার মর্মস্পর্শী বিবরণ। এই দুর্যোগের ভয়াবহতা হয়তো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন তাঁরা, আবার নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁইও হয়তো জোটাতে পারবেন। কিন্তু যে শিশুগুলো পিতা-মাতা হারিয়ে স্বজনদের আশ্রয়ে আপাতত আছে, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে আচ্ছন্ন। শিশুদের যাঁরা আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের কেউই অর্থনৈতিকভাবে তেমন সচ্ছল নন। সামর্থ্য না থাকলে মায়া-মমতার স্রোতেও যে ভাটার টান লাগে!
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com

আবগারি শুল্ক নামটাই পাল্টাতে চান অর্থমন্ত্রী

এবার আবগারি শুল্কের নাম পাল্টে ফেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘এর নাম আবগারি শুল্ক কোনোমতেই হওয়া উচিত না। নামটা পাল্টানো দরকার। আবগারি শুল্ক বহু বছর ধরেই আছে। সবাই দিয়েও যাচ্ছেন। এবারের বাজেটে হারটা একটু বেড়েছে। তবে সুযোগও বেড়েছে।’ আজ রোববার সচিবালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বার্ষিক পারফরমেন্স চুক্তি (এপিএ) শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে সমালোচনার জন্য যখন বেশি কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন তো কিছু বের করতে হয়।
এবার সবচেয়ে বেশি সমালোচনা এসেছে আবগারি শুল্ক নিয়ে। আমি তো আগেই বলেছি, বাজেট তো হলো প্রস্তাব। যখন এটা পাস হয়, তখন অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। এই বিষয়ে চিৎকার যা আছে, তা পরিবর্তন হবে। বাজেট তো পাস হবে ঈদের পরে, তাই এখনই বলে দিচ্ছি যাতে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন।’ টাকা পাচার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাচার তো হয় কালোটাকা আছে বলে। কালোটাকার সুযোগ যাতে বন্ধ হয়, সে জন্য আমরা অভিযান শুরু করব।’ জমি নিবন্ধন কালোটাকা উৎপাদনের একটি বড় উৎস—এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে দামে জমি বিক্রি হয় প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে তার দশ গুন পার্থক্য। সুতরাং নয় গুণ কালোটাকা হয়ে যায়।’ এই ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

২ ঘণ্টা হ্যাকারদের দখলে ছিল আইসিটি বিভাগের ওয়েবসাইট

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ওয়েবসাইটে হামলা চালিয়েছিল হ্যাকাররা। গতকাল শনিবার দুপুরে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য সাইটটি হ্যাকারদের দখলে ছিল। বেলা দুইটার কিছু পরে আইসিটি বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে (www.ictd.gov.bd) ঢুকে দেখা যায়, সেখানে কালো পটভূমির ওপরে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘হ্যাকড বাই রাহু/ডিড ইট ফর ইন্ডিয়া/ইওর ওয়েবসাইট ইজ ওনড বাই আস’। সাইটের কোনো কিছুতেই তখন ঢোকা যায়নি। আইসিটি বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, বেলা তিনটার দিকে হ্যাকড হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সাইটটি আবার চালু হয়। ভারত ও বাংলাদেশের কিছু হ্যাকার পাল্টাপাল্টি কিছু ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করেছে বলে আইসিটি বিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে। ভারতীয় হ্যাকাররা আইসিটি বিভাগের সাইটে হামলা করেছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। দ্রুত সাইটটি ঠিক করে তা সচল করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় আইসিটি বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছেরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের হ্যাকড হওয়া ওয়েবসাইটটি মাত্র দুই ঘণ্টায় হ্যাকারের কবল থেকে মুক্ত করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদেশি রাষ্ট্র থেকে এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট আক্রমণটি চিহ্নিত করতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এই আক্রমণের ফলে ওয়েবসাইটটিকে আরও বেশি সুরক্ষিত রাখতে এখন থেকে আরও বেশি সচেষ্ট থাকবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ।

নতুন ভ্যাট প্রত্যাহার চান অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ীরা

উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। তবে বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি পায় এই খাত। কিন্তু ১ জুলাই থেকে নতুন আইন কার্যকর হলে উৎপাদন পর্যায়েও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এমন অবস্থায় এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ দাবি জানান বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবায়দুর রহমান। ওবায়দুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যালুমিনিয়ামের শতভাগ চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তবে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট দিতে হলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। অ্যালুমিনিয়াম পণ্য এখন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এর দাম বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে ভারতের অ্যালুমিনিয়াম পণ্য আমাদের বাজারে ঢুকবে। তাই এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মোস্তাফা হিন্দাল, অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী আবদুল মালেক শিকদার প্রমুখ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা রয়ে

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির পথে দেশ?

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। এখন যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, তা মূলত সরকারি বিনিয়োগ-নির্ভর। বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙা না হওয়ায় কর্মসংস্থানও বাড়ছে না। গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণসংক্রান্ত সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর লেক শোর হোটেলে এই সংলাপ হয়। সংলাপে সিপিডির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বাড়তি ৬৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বেসরকারি বিনিয়োগ লাগবে। অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগ দরকার ৫০ হাজার কোটি টাকা। সিপিডি আরও বলেছে, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পাওয়ায় কর্মসংস্থানের গতি কমেছে। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী প্রতিবছর গড়ে এখন ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। রেহমান সোবহান এ সময় বলেন, ‘আমাদের কোনো কর্মসংস্থান নীতি নেই। অথচ এই দেশে মানবসম্পদ হলো বড় শক্তি।’ তাঁর মতে, সরকারি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। রেহমান সোবহান আরও বলেন, বাজেট কত বড়, বাস্তবায়ন কতটা হলো—এসব সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুশীলন ছাড়া আর কিছুই নয়। বাজেট থেকে মানুষ কতটা সুবিধা পেল, সেটাই বড় কথা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, এর সুবিধা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে টাকার অঙ্কে কোনো বছরই বেসরকারি বিনিয়োগ কমেনি। আমাদের চেয়ে কম বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত নিয়ে অনেক দেশ এগিয়েছে। আগামী ৫ বছরে ১ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে আসবে, ওই পাঁচ বছরে আমরা ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করব।’ বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন,  সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু বাজেটে থাকবে না। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে, আমরা তা দেখছি না। কৃষক যে ট্রাক্টর কিনছে, তা-ও একধরনের বিনিয়োগ।’ বাজেটের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিবাজ সরকার। হিসাব করেই বাজেটের লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।’ সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেই। এ দেশে ব্যবসায় খরচ বেশি, আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী নন। বর্তমান সরকার মানবসম্পদে বিনিয়োগ না করে মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের সুবিধা হলো ৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ২৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। এটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, দুর্নীতিকেও উৎসাহিত করে। অর্থনীতিতে তিন ধরনের সমস্যা আছে বলে মনে করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের উদ্ধৃতিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি ইঞ্জিন দিয়ে উড়োজাহাজ চলার মতো অবস্থায় আছে। সরকারি বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ছে না। কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির একটি পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি কি না, সেটা দেখতে হবে। অপর দুটি সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও নীতি সংস্কারের অভাব এবং বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা কম।’ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট সেবা, রেস্তোরাঁ, ব্র্যান্ডের পোশাক কিনতে খরচ বাড়তে পারে। আমদানি পর্যায়ে জ্বালানি তেল, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা ভোক্তার ওপর পড়বে। নতুন মূসক আইন সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ভ্যাট হলো অত্যন্ত হিসাবনির্ভর ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশের বহু কারখানা অশিক্ষিত লোকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাঁদের ভ্যাটের হিসাব রাখার সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী আবগারি শুল্ক থাকলে ভ্যাট থাকবে না। বাংলাদেশে দুটোই আছে। সরকার আবগারি শুল্ক উঠিয়ে  ব্যাংক সেবার ওপর ভ্যাট বসাতে পারে। বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতির সমালোচনা করে এই সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাজেট তৈরি হয়। সেখানে সাংসদদের কোনো ভূমিকা থাকে না। এটি বাজেটের বড় দুর্বলতা। বাজেট নিয়েও সাংসদেরা খুব বেশি আলোচনা করেন না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, বিলুপ্ত বেসরকারীকরণ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, মেঘনা ব্যাংকের এমডি নুরুল আমিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রমুখ।

ঘোষিত সময়ে ঈদ বোনাস পাননি পোশাকশ্রমিকেরা

২০ রমজানের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ঈদ বোনাস বা উৎসব ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত শুক্রবার সেই সময়সীমা পার হয়েছে। তবে হাতে গোনা কিছু কারখানা ছাড়া কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ভাতা দেয়নি। বিজিএমইএ, শ্রমিক সংগঠন ও শিল্প পুলিশ জানায়, বড় কিছু কারখানা পোশাকশ্রমিকদের উৎসব ভাতা দিয়েছে। তবে সংখ্যাটি এত নগণ্য যে এখন পর্যন্ত তা বলার মতো নয়। তা ছাড়া, কোনো কারখানা চলতি মাসের বেতন দিয়েছে, তেমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। গত ২৯ মে পোশাকশিল্পের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটির ৩৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রতিশ্রুতি দেন, ২০ রমজানের মধ্যে শ্রমিকদের উৎসব ভাতা দেবেন কারখানার মালিকেরা। তবে গতকাল ২১ রমজান পার হলেও অধিকাংশ পোশাকশ্রমিকই ভাতা পাননি। জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাছির গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক কারখানার মালিক শ্রমিকদের ভাতা দেওয়া শুরু করতে পারেননি। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে (আজ রোববার ও কাল সোমবার) অধিকাংশ কারখানা ভাতা পরিশোধ করে দেবে। এ ছাড়া ২২ জুনের মধ্যে চলতি মাসের ১০-১৫ দিনের মজুরি শ্রমিকেরা পেয়ে যাবেন বলে দাবি করেন তিনি। বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলে দাবি করেন মোহাম্মদ নাছির। তিনি বলেন, ‘বেতন-ভাতা সবাই পরিশোধ করছে কি না, সেটি আমরা তদারকি করছি। সমস্যা হতে পারে এমন ১০-১২টি কারখানাকে আমরা নজরদারিতে রেখেছি। আশা করছি, ঝামেলা মিটে যাবে।’ জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের কোনো কারখানা এখনো বোনাস দেয়নি। আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের অল্প কিছু বড় পোশাক কারখানা বোনাস দিয়েছে। তবে সংখ্যাটি এত কম যে এখনো বলার পর্যায়ে নেই। মালিকেরা কবে থেকে বোনাস দেওয়া শুরু করবেন, সেটি আমাদের কাছে এখনো পরিষ্কার না।’ সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এবারের ঈদ হবে মাসের শেষ সপ্তাহে। ঈদের আগে চলতি মাসের অর্ধেকের বেশি বেতন দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। ফলে অনেক কারখানার মালিক ঈদের পর বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাই আমাদের শঙ্কা, বেতন পরিশোধ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ হতে পারে। এ ছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য নয়, এমন কারখানায় প্রতিবছরই কিছু না কিছু সমস্যা হয়। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

ফ্ল্যাটের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে

আগামী জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হলে ফ্ল্যাটের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো ফ্ল্যাটের দাম বর্তমানে ১ কোটি টাকা হলে ভবিষ্যতে দাম বেড়ে তা ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হতে পারে। এমন আশঙ্কা করছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। ফ্ল্যাটের দাম যাতে বেড়ে না যায় সে জন্য আবাসন খাতকে নতুন ভ্যাট আইনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন রিহ্যাব নেতারা। তাঁরা বলছেন, নির্মাণ ও আবাসন খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে ফ্ল্যাটের দাম কোনোভাবেই আর নিম্ন মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন রিহ্যাব নেতারা। এ ছাড়া আবাসন খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন, সেকেন্ডারি মার্কেট সৃষ্টির দাবি করেছেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন এবং সাংসদ ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক আল আমিন, কামাল মাহমুদ, জহির আহমেদ প্রমুখ। আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, অর্থমন্ত্রী এবার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নির্মাণ ও আবাসন খাত। বর্তমানে ফ্ল্যাট কেনাবেচায় দেড় থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এটি ১৫ শতাংশ হয়ে গেলে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, এখন ৫০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাটে ৭৫ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে সেটি সাড়ে সাত লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। তা ছাড়া বাজেটে রড, সিমেন্ট, ইট, পাথর, বালুর ওপরও ভ্যাটসহ অন্যান্য কর আরোপ করা হয়েছে। এ জন্য নির্মাণ খরচ অনেক বেড়ে যাবে। শেষবিচারে এই বাড়তি খরচ ক্রেতার ঘাড়ে গিয়েই পড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। সব মিলিয়ে রডের দাম টনপ্রতি ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়বে। সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বালুর ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, রড, সিমেন্ট, ইট, পাথর ও বালুর দাম বাড়লে আবাসন খাত ভয়াবহ অবস্থায় পড়বে। প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের ব্যয় কমবেশি ৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, নির্মাণ ও আবাসন খাতকে ভ্যাট আইনের আওতামুক্ত রাখার দাবিটি কেবল রিহ্যাবের নয়, গণমানুষের। সত্যিই আশ্চর্য হতে হয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গণমুখী সরকার কিনা মানুষের ওপর এত বেশি কর আরোপ করছে। আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে নিরাপত্তার ব্যাপারও। তাই আবাসন খাত নিয়ে ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা করতে হবে। আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমাতে গিয়ে লোকবল ছাঁটাই করছে। তাই এই মুহূর্তে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আবাসন খাতে নীতিসহায়তা দিতে হবে। আবাসন খাতে নিঃশর্তভাবে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইনের মধ্যে মারপ্যাঁচ রয়েছে। আগে শুধু মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার হতো, এখন ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার হচ্ছে। বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করতে হলে আয়কর অধ্যাদেশ সংশোধন করতে হবে।’ ঘোষিত বাজেটকে আবাসন খাতবান্ধব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আবারও কি কেদারের কীর্তি?

বলতে গেলে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল মঞ্চেই তাঁর আবির্ভাব। কিন্তু ক্ষণিকের আবির্ভাবেই আলো কেড়ে নিয়েছেন কেদার যাদব। ম্যাচসেরার পুরস্কার সেদিন এই অফ স্পিনারের হাতে ওঠেনি। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির জন্য সেটি পেয়েছেন রোহিত শর্মা। তবে রোহিত, জসপ্রিত বুমরা, বিরাট কোহলিদের সঙ্গে আলোচিত নাম এখন যাদব। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালেও কি আলো ছড়াবেন ভারতের এই মিনি অলরাউন্ডার? বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ১৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। এর ১১টিতেই অধিনায়ক তাঁর হাতে বলই দেননি। পুরো ১০ ওভার বল করেননি কোনো ম্যাচেই। প্রাপ্তির খাতায় ছিল ৬টি মাত্র উইকেট। এই যাদবই বাংলাদেশের বিপক্ষে হয়ে গিয়েছিলেন ভারতের গোপন অস্ত্র। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে রেখেছেন দারুণ ভূমিকা। তৃতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিমের জুটিকে অপ্রতিরোধ্য লাগছিল। ভুবনেশ্বর কুমার, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, বুমরাদের মতো তারকা বোলাররা তামিম-মুশফিককে থামানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এমন সময়ই কোহলির যেন মনে পড়ে গেল, তাঁর তো একটি গোপন অস্ত্র আছে! বল তুলে দিলেন যাদবের হাতে। যাদবও দিয়েছেন এর প্রতিদান। অল্প সময়ের মধ্যে তুলে নিয়েছেন তামিম ও মুশফিককে। তরতর করে এগিয়ে চলা বাংলাদেশও খেই হারিয়ে ফেলে তাতে। তিন শ রানের বেশি করার স্বপ্ন দেখা মাশরাফিরা শেষ পর্যন্ত টেনেটুনে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলতে পারেন। উইকেটকিপার মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে বোঝাপড়াটা ভালো। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে যাদব বলেছিলেন, ধোনির চোখের ইশারা বুঝতে পারেন। তেমন এক ইশারাতেই গতির তারতম্যে ধোঁকা খাইয়ে দিয়েছিলেন তামিমকে। আর মুশফিককে ফেরাতে কাজে লাগান বলের ফ্লাইট। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদেরও একটি হুমকি দিয়ে রেখেছেন যাদব, ‘ব্যাটসম্যানরা যদি আমার বিপক্ষে বড় শট খেলতে যায় তাহলে তারা ভুগবে।’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কেদার যাদব
ম্যাচ   ওভার    মেডেন     উইকেট       গড়          ইকোনমি
৪      ৯.০         ০       ২            ২০.০০      ৪.৪৪

বাবার সঙ্গ পায় না অর্ধেকের বেশি শিশু

বিশ্বের ৫৫ শতাংশ শিশু খেলা বা শিশুকালের নানা শিক্ষণীয় কাজে বাবার সঙ্গ পায় না। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের নতুন এক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে। মা-বাবার আচরণ বিশ্লেষণে ইউনিসেফ বহুনির্দেশক গুচ্ছ জরিপের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (এমআইসিএস) উপাত্ত ব্যবহার করেছে। তারা ৭৪টি দেশের তিন থেকে চার বছরের শিশুর সঙ্গে তাদের বাবারা খেলাধুলা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে কতটা জড়িত হন, সে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে শিশুদের পড়ে শোনানো, গল্প শোনানো বা শিশুকে নিয়ে গান করা, শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়া, খেলা করা, বিভিন্ন জিনিসের নাম ও গুনতে শেখানো এবং ছবি আঁকা। বিশ্বের মা-বাবার আচরণের ওপর তূলনাযোগ্য তথ্যের বৃহত্তম ভান্ডার হলো এমআইসিএস। ইউনিসেফের তথ্য, গবেষণা ও নীতিবিষয়ক পরিচালক লরেন্স চ্যান্ডি বলেন, ‘এই সংখ্যা আমাদের এটাই দেখিয়েছে যে শিশুদের সঙ্গে বাবারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছেন না। যেসব বাধার কারণে বাবারা শিশুদের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারছেন না, সেসব বাধাকে আমাদের অবশ্যই উতরাতে হবে।’ তিনি বলেন, ভালোবাসা, খেলাধুলা, নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ দিতে হবে।
শিশুদের বিকাশে সব মা-বাবাকে যাতে পর্যাপ্ত সময়, প্রয়োজনীয় অর্থ, জ্ঞানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করা এবং শিশুর মানসিক বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালনে বাবাদের উৎসাহিত করতে এবং শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকর বিকাশে ভালোবাসা, খেলাধুলা, নিরাপত্তা এবং ভালো পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউনিসেফ চলতি মাসে ‘সুপার ড্যাডস’ হওয়ার জন্য ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে ‘আর্লিমোমেন্সম্যাটার’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে পরিবারগুলোকে ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ‘সুপার ড্যাডদের’ মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করতে ইউনিসেফের ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এই প্রচার অভিযানের সঙ্গে জড়িত সংস্থাটির দূতদের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রচার অভিযানের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসংবলিত একটি গ্যালারি করা হয়েছে। শৈশব উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও ব্যয় বাড়ানোর জন্য ইউনিসেফ দেশগুলোর সরকার ও বেসরকারি খাতকে আহ্বান জানিয়েছে। নীতিমালায় শিশুদের যত্ন নিতে মা-বাবাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে শিশুরা যখন তাদের শৈশবকালে যত্ন ও উদ্দীপনাময় পরিবেশে কাটায়, তখন তাদের মস্তিষ্কে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নতুন নতুন স্নায়বিক সংযোগ ঘটে। এই সংযোগ শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা গ্রহণ ও মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা বলেছেন, সহিংস পরিবেশ এবং যত্ন ও উদ্দীপনার অভাব শিশুদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগকে বাধাগ্রস্ত করে। শিশুরা যখন তাদের বাবাদের ইতিবাচক সংস্পর্শে আসে, তখন দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ ও জীবনের পরিতৃপ্তিবোধ জাগ্রত হয়।
সূত্র: ইউনিসেফের ওয়েবসাইটের নিউজ নোট। ভাষান্তর: কৌশিক আহমেদ।

কেন এত ‘টেস্ট’ দেন চিকিৎসক?

চিকিৎসা নিতে গেলে প্রায়ই চিকিৎসকেরা আমাদের নানা শারীরিক পরীক্ষা (টেস্ট) করতে দেন। আমরা বুঝি না কেন এসব পরীক্ষা করা হচ্ছে? রোগের চিকিৎসায় এটি কতটা কাজে লাগবে? গুরুত্ব না বুঝে অনেক রোগী হয়তো ঠিকভাবে সব পরীক্ষা করেন না। কিন্তু সঠিক চিকিৎসার জন্য এসব শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগের দিনে কেবল রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখেই চিকিৎসকদের রোগনির্ণয় করতে হতো। এখন উন্নত প্রযুক্তি ও নানা পরীক্ষার সুযোগ থাকায় অনেক সহজে ও নিখুঁতভাবে রোগনির্ণয় করা যায়। প্রাথমিকভাবে সংক্রমিত রোগে রক্তকণিকাগুলোর পরিবর্তন, ইএসআর, প্রস্রাবের রুটিন মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা বা সাধারণ এক্স-রে চিকিৎসককে অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করে। বারবার পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর মনে হতে পারে কেন একবারেই সব পরীক্ষার কথা তাঁকে বলা হয়নি। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে চিকিৎসকের কাছে অনেকটা তদন্ত করার মতো। একেকটি ক্লু পরের পদক্ষেপ নিতে চিকিৎসককে সাহায্য করে। ধরা যাক, ঠান্ডাজনিত কোনো সংক্রমণ নিয়ে একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলেন। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রথমেই রক্তকণিকার পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে দিতে পারেন। রিপোর্টে সন্দেহজনক কিছু থাকলে কফ পরীক্ষা দেওয়া যায়। জ্বরের কতদিন পর বা কততম দিনে পরীক্ষা করতে হবে, দিনের কোন সময় রক্ত বা কফের মতো নমুনা দিতে হবে, কতখানি দিতে হবে এসবের ওপর নির্ভর করে রিপোর্টটি কতটা সঠিক হবে। পরীক্ষার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খেয়ে ফেললে জীবাণু নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক আগে খেয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানানো জরুরি। কিছু পরীক্ষা আছে যা রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। কিন্তু অনেক সময় যে চিকিৎসা দেওয়া হবে সে জন্য এমন পরীক্ষা করাটা জরুরি। যেমন-ডায়বেটিস থাকলে অনেক ওষুধ কাজ করে না। তাই ডায়বেটিসের পরীক্ষা দিতে হয়। দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়ার আগে কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হয়। অনেক সময় কোনো ওষুধ খেলে নির্দিষ্ট সময় পর কিডনির পরীক্ষা করতে হয়।
হিমোগ্লোবিন বা রক্তকণিকাও পরীক্ষা করা হয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে। ইদানীং রুটিন কিছু পরীক্ষাও দরকার হয়। বেশির ভাগই অসংক্রামক রোগনির্ণয় করতে। ৪০ এর ওপর যাদের বয়স তাঁদের জন্য নিয়মিত (যেমন-বছরে বা দুই বছরে একবার) রক্তে শর্করা, চর্বি ইত্যাদি পরীক্ষা করা দরকার। নারীদের ম্যামোগ্রাফি, জরায়ু রস পরীক্ষা নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে। বিদেশে কলোনোস্কপি ধরনের পরীক্ষাও নিয়মিতভাবে করা হয়। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার ইত্যাদি নির্ণয় করতে এসব পরীক্ষার বিরাট ভূমিকা আছে। কোনো পরীক্ষা করার আগে কিছু বিষয় ভালোভাবে জেনে নেওয়া ভালো। যেমন-কখন পরীক্ষাটি করতে হবে? সকালে খালি পেটে, না খাওয়ার কতক্ষণ পর? কোনো ওষুধ খেয়ে যেতে হবে কি না। শারীরিক পরীক্ষার কোনো প্রস্তুতি আছে কি না সেটা জেনে নেওয়াটাও জরুরি। যেমন-কলোনোস্কপি, আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি আগের দিন থেকেই নিতে হয়। শরীরে কোনো ধাতব পদার্থ থাকলে চিকিৎসককে জানানো জরুরি। এমআরআই জাতীয় পরীক্ষার আগে দেহে কোনো স্ক্রু, পেসমেকার থাকলে জানাতে হবে। বিভিন্ন হরমোন পরীক্ষারও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নারীদের মাসিকের দিনের সঙ্গে হিসেব করে এসব পরীক্ষা করতে হতে পারে। বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা একাধিক ল্যাবরেটরিতে করা ভালো। এতে পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ থাকে না।