Friday, September 21, 2012

হিরোইনের জন্মদিনে পর্দায় এলো ‘হিরোইন’ by কামরুজ্জামান মিলু

হিরোইনের মুক্তির দিন শুরুতে ঠিক করা হয়েছিলো এক সপ্তাহ আগেই। পরে তা পিছিয়ে কারিনার জন্মদিনের তারিখটিই বেছে নেওয়া হয়। এদিকে একই দিনে বলিউডে মুক্তি পাচ্ছে আরো দুটি নারীপ্রধান সিনেমা-  শ্রীদেবী অভিনীত ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ এবং প্রীতি জিনতা অভিনীত ও প্রযোজিত ‘ইশক ইন প্যারিস’। সুতরাং নিজের জন্মদিনে এবারে এ দুই অভিনেত্রীর সিনেমার সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়েরই মুখোমুখি হচ্ছেন মাধুর ভাণ্ডারকার এবং তার ‘হিরোইন’ কারিনা।

চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, নেপথ্যে ২ কোটি টাকার টেন্ডার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: বিএডিসি’র প্রায় দুই কোটি টাকার পরিবহন টেন্ডারকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, হাবিবুর রহমান লাভলু এবং কোষাধ্যক্ষ বজলুর রহমানের বাড়িতে  হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বিকাল পৌনে চারটায় দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলায় ঘরবাড়ি ও আসবাব ভাঙচুর হলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা চেম্বারের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক  হাবিবুর রহমান লাভলু জানান, বিএডিসি’র টেন্ডারে অংশগ্রহণের কারণে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন এ ই হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে তিনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জুকে চিনতে পেরেছেন। তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন। অপরদিকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু এই হামলার ঘটনায় তাকে জড়িয়ে চেম্বার সভাপতির বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন। টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, প্রায় দুই কোটি টাকার পরিবহন টেন্ডারের বিপরীতে ১৩২টি শিডিউল বিক্রি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় বাক্স খোলার কথা থাকলেও  টেন্ডার ড্রপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় তা আগামী রোববার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেন্ডার কমিটি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল কবীর চৌধুরী হামলা ও ভাঙরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

ধর্মপাশায় ৬ পুলিশ বরখাস্ত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা কোর্ট হাজত থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও দেশে অনুপ্রবেশ মামলার  ২ আসামি পালানোর ঘটনায় কোর্ট জিআরও, ডিএসবির এএসআই ও ৪  কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দিরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একেএম গণিউজ্জামান লস্কর ঘটনা সরজমিনে তদন্তের পর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন। বরখাস্তকৃতরা হলো, কোর্টের জিআরও আবদুল মোতালেব, ডিএসবি’র এএসআই জিয়াউর রহমান, কনস্টেবল মামুন, সিরাজ, ছাত্তার ও ইদ্রিছ। ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েছ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ধর্মপাশা থানার ওসি আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হরেশ মারাক নামক এক আসামিকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকা থেকে অপর আসামি খারাক মারাককে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বারহাট্রা থেকে আটক করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জে চঞ্চল হত্যাকাণ্ড ঘাতক সন্দেহে আরও এক বন্ধু আটক

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে: তরুণ নাট্যকার দিদারুল ইসলাম চঞ্চল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বন্ধু রাকিব হোসেনকে (২২) আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাবের দাবি, নাট্যকার দিদারুল আলম চঞ্চল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাকিবের জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। গতকাল সকালে র‌্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে শহরের দেওভোগ এলাকা থেকে প্রয়াত বিএনপি নেতা নাজির হোসেন প্রধানের ভাতিজা প্রয়াত হোসেন প্রধানের ছেলে মিম প্রধানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। মিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি থেকে রাকিব হোসেনকে আটক করে। রাকিবের বাড়িও শহরের দেওভোগ এলাকায়। গত ১৬ই জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকার দেড় দিন পর ১৮ই জুলাই বন্দর থানার কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ি অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

মমতার সম্মতি ছাড়া চুক্তি করা হবে ভারত সরকারের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা



মানবজমিন ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি ব্যতিরেকেই তিস্তাচুক্তির দিকে এগোতে পারে। কিন্তু তেমন পদক্ষেপকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে সরকার তাদের চলমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এমন পথে ধাবিত করবে বলে তেমন ইঙ্গিত মিলছে না। গতকাল অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত ‘দিদিস পুলআউট ডিলস ব্লো টু ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ টাইস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। এর লেখক ইন্দ্রাণী বাগচী। এতে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপড়েনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সরাসরি আঘাত লাগবে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কার্যক্রমের বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে দু’টি বড় পদক্ষেপ- তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বড় ধরনের আঘাত লাগতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে এ চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তখন মমতা বলেছেন, এ চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। তাই তিনি ওই চুক্তিতে সম্মতি দেননি। বলাবলি আছে যে, তাকে এড়িয়েই ওই সমঝোতা করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ চুক্তিটি যাচাই বাছাই করতে কল্যাণ ভদ্রকে নিয়ে এক সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কিন্তু ওই কমিটি এখনও রিপোর্ট দেয়নি। তবে এ চুক্তি হতে রাজনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি জরুরি। কিন্তু তাকে রাজি না করিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ চুক্তি করলে তা হবে তাদের রাজনৈতিক আত্মহত্যা। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে তিস্তাচুক্তি অত বড় সমস্যা নয়। বাংলাদেশ এ নদীর পানি এমনিতেই অধিক পরিমাণে পাচ্ছে। তা বন্ধ করা হয়নি। তবে এই চুক্তিকে নয়া দিল্লির সঙ্গে পরিবর্তিত সম্পর্কের একটি প্রতীক হিসেবে দেখেন বাংলাদেশের নেতারা। সমপ্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা বিপুল। আমি মনে করি ভারত যদি ওই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারে তাহলে আমাদের সম্পর্কে তাতে বড় ধরনের আঘাত লাগবে। আমি নিশ্চিত নই যে, আমাদের সম্পর্ক তা বহন করতে পারবে কিনা। ওদিকে সীমান্ত চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থতাও ভারতের একটি বড় সমস্যা। এ নিয়ে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে যে চুক্তি হয় তা ছিল ঐতিহাসিক। এতে প্রথমবারের মতো, ছিটমহল ও অপদখলীয় সম্পত্তি নিয়ে সমস্যার সমাধান ছিল তাতে। ইউপিএ সরকার সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তাতে নতুন সীমান্তরেখা আনুষ্ঠানিকতা পাবে। গত তিনটি অধিবেশনে ইউপিএ সরকার এ বিষয়টি পার্লামেন্টে তুলতে পারে নি। বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে, প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত বিলটি পাস হওয়া নিয়ে অধিক আস্থাশীল ছিলেন। তিনি সংশোধনীর বিষয়ে রাজনৈতিক মতৈক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেন। পার্লামেন্টের বর্তমান সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন এ সংশোধনী পাস করাতে। এ সংশোধনী রাজ্যসভাগুলোতেও অনুমোদিত হতে হবে। সীমান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে বেরুবাড়ী রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, এতে রাজ্যগুলোর সমর্থন জরুরি না-ও হতে পারে। সীমান্ত চুক্তি পাস করানোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই বাধা নন, একই রকম অবস্থা প্রধান বিরোধী দল বিজেপিরও। ফলে এখন একা হয়ে পড়া সরকারের পক্ষে এ ধরনের চুক্তি করা বেশ কঠিন।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ছাড়ায় বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়লো

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাংলাদেশের মন্ত্রী ও বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদদের ভারতে আসা-যাওয়া এবং আগামী দিনে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। আর সেই সম্পর্কেই প্রবল আঘাত লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারতে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে, সেটা সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কও অনেকটাই প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু ভারতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার ফলে বাংলাদেশের নেতাদেরই কপালে সবচেয়ে বেশি ভাঁজ পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।  ইউপিএ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি নিয়ে আশ্বাসের পর আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের নেতৃবৃন্দ তার সলিলসমাধি একরকম নিশ্চিত। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভিকে তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রবলভাবে আশ্বস্ত করেছিল ভারত। তিস্তার চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবল আপত্তি করাতেই সেটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় হতে পারেনি। মমতা অবশ্য নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু কল্যাণ রুদ্র প্রায় ছয় মাস হতে চললো, সেই রিপোর্ট এখনও চূড়ান্ত করতে পারেননি। ফলে মমতা তিস্তা নিয়ে এতদিন চুপ করেছিলেন। সীমান্ত চুক্তি নিয়েও মমতা প্রথম দিকে আপত্তি করলেও পরে খানিকটা নমনীয় মনোভাব নিয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশা কম বলেই মনে করেন কলকাতার একটি সরকারি কলেজের রাষ্ট্রনীতির এক অধ্যাপক। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বেরিয়ে আসার পর মমতার দায়বদ্ধতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন  পর থেকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে তার যে প্রবল আগ্রহ ছিল, তাতে ভাটার টান দেখা গিয়েছে। আর তাই কলকাতায় প্রায় ৫ মাস আগে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপদূত আবিদা ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার সময় পাননি। অবশ্য উপদূত দাবি করেছেন, নানা অনুষ্ঠানে মমতার সঙ্গে দেখা হলে তিনি ভালভাবেই সৌজন্য বিনিময় করেন। এমনকি সময় পেলেই তাকে ডেকে নেবেন বলে মমতাও তাকে বলে থাকেন। তবে আনুষ্ঠানিকতার সেই ডাক এত দিনেও আসেনি। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ সরকার থেকে বেরিয়ে আসার ফলে ইউপিএর স্থায়িত্বের যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে মনোযোগ দেয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ রাজনৈতিক মহল। ইউপিএ সরকার এখন যেভাবে সংখ্যালঘু সরকারে পরিণত হয়েছে, সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রধান কাজই হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকে স্থায়িত্ব দিতে সমর্থনকারী দলগুলোর সঙ্গে দেনদরবার করা। ইতিমধ্যেই সেই কাজটি শুরু হয়ে গেছে। আবার সরকার ছাড়ার হুমকি এখনও রয়ে গেছে। শিবু সোরেনের ঝাড়খণ্ড পার্টি ছোট দল হলেও তারাও সরকার থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়েছে। এ অবস্থায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গভীর মনোযোগ দেয়ার অবস্থায় নেই ইউপিএ সরকারের নেতৃস্থানীয়রা। আর সেটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভারত সফরে এসে নিশ্চিতভাবেই টের পেয়ে যাবেন।

বিএনপির লুটপাটের কারণে তিস্তা সড়ক সেতু হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে খুন, হত্যা, লুটপাট করে তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। একে একে তারা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করে দেশকে মৃত্যুকূপে পরিণত করেছিল। তারা দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছিল। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকার জন্য মহাজোট সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। গতকাল লালমনিরহাট জেলা কালেক্টর মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ এক সময় মঙ্গায় ছিল। মহাজোট সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম অঞ্চলে নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করে মঙ্গা মুক্ত করেছে। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য রংপুরকে বিভাগ করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনা পয়সায় প্রথম শ্রেণী থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বই বিতরণ করা হয়েছে। ৩০ লাখ টন খাদ্যঘাটতি নিয়ে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে দেশে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। চালের দাম কমিয়ে দেশের মানুষ যেন খেয়েপরে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসে আমরা মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তিনি বলেন, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে। এ বিচার কার্য সমাপ্ত করা হবে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ১৯৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেই। তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি করতে দেয়া হবে না। গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলা খেলতে দেয়া হবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। আমি এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি, সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। ৭৫০ মিটার দীর্ঘ তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ, ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেল লাইন পুনঃস্থাপন, স্টেশন পুনঃ নির্মাণসহ ৪টি দ্রুতগামী ট্রেন চালু, উন্নত স্বাস্থ্য সেবার জন্য ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডায়াবেটিক হাসপাতালের বহুতল ভবন নির্মাণ, ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর ভিত্তি স্থাপন, ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তার বাম তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নার্সিং ট্রেনিং কলেজের ভিত্তিস্থাপন, ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাইমারি টিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণসহ লালমনিরহাটে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল স্থাপন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, জেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্য সেবা কেন্দ্র চালুকরণ, বুড়িমারী স্থলবন্দর সংস্কার ও অধুনিকীকরণ এবং দহগ্রাম আঙ্গোরপোতাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত দাবি তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থাকরণসহ জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুর উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে লুটপাটের কারণে তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ শেষ হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধনের কারণে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার খুলে গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জাফর আলী এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, সাবেক এমপি আলহাজ আবুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল হক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মতিয়ার রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজু, আশরাফ হোসেন বাদল, মোফাজ্জল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এডভোকেট সফুরা বেগম রুমী, কৃষক লীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান কাজল, আবদুল আহাদ লুলু, গোলাম মোস্তফা স্বপন, রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু নুর মোহাম্মদ আক্তারজ্জামান প্রমুখ। রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, প্রধানমন্ত্রী বেলা ২টা ৬ মিনিটে কাউনিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাড়ে সভামঞ্চে এসে পৌঁছান। এ সময় ওবায়দুল কাদের ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুর ফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টা ৩০ মিনিটে হেলিপ্যাডে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে অবতরণ করেন। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে রংপুর থেকে মহাসড়কে তিস্তার উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মহাসড়কের দু’ধারে দুই শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। সড়কগুলো সাজানো হয় বিভিন্ন রঙের ফেস্টুন ও পতাকা দিয়ে। রাস্তার দু’ধারে হাজার মানুষ হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরশাদ বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলেন না রংপুরের সভামঞ্চে মহাজোটের আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ থাকলেও বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলেন না রংপুরের সন্তান এরশাদ। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুস সুবহানকে গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) লোকজন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে গতকাল সকালে আটক করেছে। এর ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর পাবনা সদর থানার একটি মামলায়  গ্রেপ্তার দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় সোপর্দ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ইউনুছ আলী মিয়া জানান, ২০০৩ সালে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের একটি মামলায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গতকাল ভোরে মাওলানা আবদুস সোবহান ঢাকা থেকে পাবনা যাচ্ছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজায় অবস্থান নেয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) লোকজন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে বহনকারী খয়েরি কালারের প্রাডো ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-০১৬৩ গাড়িটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজায় পৌঁছলে তার গতিরোধ করে এবং গাড়িসহ তাকে টোলপ্লাজার দক্ষিণে লিংক রোডে নিয়ে রাখা হয়। এসময় মাওলানা আবদুস সোবহান ছাড়াও গাড়িতে ছিলেন তার চতুর্থ ছেলে মিশন গ্রুপের পরিচালক নেসার আহম্মেদ নান্নু,  ছোট ছেলে মুজাহিদ ও গাড়িচালক।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় মাওলানা আবদুস সোবহানকে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে আটক করা হলেও তাকে বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত টোলপ্লাজার দক্ষিণ লিংক রোডে গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় ওই গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা তার নিরাপত্তা দেন। মাওলানা আবদুস সোবহান ও তার দুই ছেলে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজায় জোহরের নামাজ আদায় করেন। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে ও তার দুই ছেলেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় সোপর্দ করে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা থেকে তার ছোট ছেলে মুজাহিদসহ তাকে বহনকারী গাড়িটি ছেড়ে দিলে তারা ঢাকার দিকে চলে যান। মাওলানা আবদুস সোবহান ও তার ছেলে নেসার আহম্মেদ নান্নুকে ২ ঘণ্টা থানায় রাখা হয়। পরে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশের দু’টি পিকআপ ভ্যানে উঠিয়ে নিয়ে মাওলানা আবদুস সোবহান ও তার ছেলেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পাড়ে পাবনা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পাবনায় পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষ: আহত ২০
স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে জানান, পাবনায় জামায়াত-শিবির  নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত  হয়েছে। এ সময় পুলিশ শিবিরকর্মীসহ ১০ জনকে আটক করে। জামায়াতের নায়েবে আমীর পাবনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহানকে আটকের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে গতকাল দুপুরে এ ঘটনা  ঘটে।
গতকাল ঢাকা থেকে পাবনা আসার পথে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে গোয়েন্দা পুলিশ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে মাওলানা আবদুস সুবহানকে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে। পরে তাকে কালিহাতী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই আটকের খবর পাবনায় ছড়িয়ে পড়লে বেলা ২টার দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের দইবাজার মোড়ে পথসভার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত কর্মীদের বেধড়ক লাঠিপেটা করলে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা দই বাজারস্থ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আশ্রয়  নেয়। পরে সংগঠিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যে সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন ও দুই কনস্টেবল, সময় টিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন, দিগন্ত টিভির পাবনা প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিকের বার্তা সম্পাদক ও পথচারীসহ ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ঘটনার সময় পুলিশ শিবির ক্যাডার একরাম হোসেনসহ কয়েকজন জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে পুলিশের পক্ষে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিজেদের ছোট ভাবতে নারাজ মুশফিক

ইশতিয়াক পারভেজ, ক্যান্ডি, (শ্রীলঙ্কা) থেকে: ২০০৭ সালে একবারই বাংলাদেশ খেলতে পেরেছে সুপার এইট-এ। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে আশার আলো জাগিয়েছিল পরে ২০০৯ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তার ছিটে-ফোঁটাও ধরে রাখতে পারেনি। তবে এবার চতুর্থ বিশ্বকাপে আবারো স্বপ্ন দেখাচ্ছে টাইগার বাহিনী। আজ নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে সেই স্বপ্নের কাছাকছি থাবকবে বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখনও ছোট দল বলেই বিবেচিত। কিন্তু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ফরমেটে ছোট দল আর বড় দল বলে কিছু নেই। যে দিন যে দল নিজেদের  সেরাটা খেলতে পারবে সেদিন তারাই পরবে জয়ের মালা। তাই ৫৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৫টি জয় তুলে নেয়া নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্নই দেখছে বাংলাদেশ। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা কিছু করে দেখাবোই। অন্যদিকে নিউজাল্যান্ডের অধিনায়ক রস টেইলরও  ছেড়ে কথা বলতে রাজি নন। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের প্রস্তুত রেখেছি। যে  কোনভাবে জয় পেতে চাই। আর সুপার এইট-এ জায়গা করে নিতে চাই।’ বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটায় শুরু হবে খেলাটি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক অবশ্য প্রতিপক্ষকে কোনভাবেই খাটো করে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না ওরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আমাদের চেয়ে বেশি খেলেছে। ওরা আমাদের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। আমরা যেমন গত তিন মাস ধরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছি। ওরাও কিন্তু সম্প্রতি ভারতকে হারিয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে।’ বাংলাদেশ এই পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ২৪টি  আর জয় পেয়েছে ৮টি ম্যাচে। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ এই পর্যন্ত খেলেছে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২০১০ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ৭৮ রানের  রেকর্ডটি সেই ম্যাচেই। বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরেছিল ১০ উইকেটে।
তবুও বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক স্বপ্ন দেখছেন। কারণ এবারের দলটি আগের যে কোন দলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দলে রয়েছেন তামিম ইকবালের মতো ব্যাটসম্যান। আর তার সঙ্গে ওপেনার হিসেবে নতুন ভূমিকায় ফর্মে ফিরেছেন মোহাম্মদ আশরাফুলও। তার পরেই আছেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার পর নামবেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। তবে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বাংলাদেশের বোলিং শক্তিকেই বেশি ভয় নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনাররাই রস টেইলরের আতঙ্কের কারণ। ভয় থাকলেও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক প্রস্তুত এই ঘূর্ণি মোকাবিলায়। তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের ভালভাবেই খেলবো। আর আমাদের দলেও ভাল স্পিনার আছেন।’ আর নিউজিল্যান্ডের  আরেক তারকা গাপটিল তো বলেছেনই, ভারতের স্পিনাদের যেভাবে আমরা  মোকাবিলা করেছি সেভাবে খেলতে পারলেই বাংলাদেশকে হারানো খুব ভালভাবেই সম্ভব।
অন্যদিকে ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামও হাতছানি দিচ্ছে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের। গতকাল বিকালে বৃষ্টি হওয়ায় এখনও উইকেট রয়েছে রহস্যময় হয়ে। তাই বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক আজ কেমন দল নিয়ে মাঠে নামবেন তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা এখনও ঠিক করিনি কেমনভাবে দল সাজাবো। স্পিনার বেশি নিবো না পেসার তা- আমরা কাল (আজ) সকালেই ঠিক করবো।’ তিনি স্পিনারদের পাশাপাশি দলের পেসারদের উপরও ভরসা রাখছেন। বিশেষ করে ইনজুরি কাটিয়ে দলের ফিরেছেন বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের মূল শক্তি মাশরাফি বিন মতুর্জা। সঙ্গে আছেন শফিউল ইসলাম আর তরুণ আবুল হোসেন। আর ব্যাটের সঙ্গে পেসটাও করতে পারেন নবাগত জিয়া। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কও দল গঠন নিয়ে আছেন চিন্তায়। আর সে কারণেই আজ দুই দলের জন্যই ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের পিচ হতে পারে  সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য। আর আজ দুই দলের মাঠের লড়াই প্রমাণ করে দিবে সুপার এইট-এর লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে কে।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লো, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

স্টাফ রিপোর্টার: আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দেয়া হলেও বর্ধিত এই দাম কার্যকর হবে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এনিয়ে সপ্তমবারের মতো দাম বাড়ানো হলো। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম ১৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি দাম বাড়ানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে গণশুনানি করে বিইআরসি দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিলেও খুচরা দাম বাড়ানো হয়েছে গণশুনানি ছাড়াই। দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে গড় খুচরা মূল্য ৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। পাইকারি দাম ৪ টাকা দুই পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ালো ৪ টাকা ৭০ পয়সা। বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তি কমাতে দাম বাড়ানোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের ছয়টি স্লাব নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) ইউনিটপ্রতি তিন টাকা ৬৬ পয়সা এবং অন্য সব সংস্থার ক্ষেত্রে তিন টাকা ৩৩ পয়সা। দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত আরইবি’র ক্ষেত্রে দাম পড়বে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা, অন্যান্য সংস্থায় পড়বে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আরইবিতে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ৪ টাকা ৫১ পয়সা, অন্য সব সংস্থায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আরইবিতে দাম পড়বে ৭ টাকা ১০ পয়সা, অন্য সংস্থার ক্ষেত্রে ৪ টাকা ৯৩ পয়সা। পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের আরইবি’র ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৪০ পয়সা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৯৮ পয়সা করে দিতে হবে। ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের আরইবিসহ সব সংস্থায় গড়ে দাম পড়বে ৯ টাকা ৩৮ পয়সা। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ছয় টাকা তিন পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা তা প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে চার টাকা দুই পয়সা থেকে চার টাকা ৭০ পয়সা করেছি। পাইকারিতে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৩৮৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি’র সদস্য প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, ড. সেলিম মাহমুদ ও মো. দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। গত জুন মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫০ শতাংশ এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ৫৬ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৬ই জুলাই শুধু পাইকারি দাম বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিইআরসি’র মূল্যায়ন কমিটি গণশুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ২২ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। আগের দামে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম ৩ টাকা ৫ পয়সা, ১০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৪ টাকা ২৯ পয়সা এবং ৪০০-এর বেশি ইউনিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৮৯ পয়সা হারে বিল আদায় করা হচ্ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্য ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এরপর ২০১০ সালের মার্চে আরইবি ছাড়া অন্যান্য সব সংস্থার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হয় গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। তৃতীয় দফায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ ভাগ খুচরা দাম বাড়ায় বিইআরসি। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে চতুর্থ দফায় ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পঞ্চম দফায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সর্বশেষ ষষ্ঠ দফায় ১লা মার্চ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ খুচরা দাম বাড়ানো হয়।

সরকারদলীয় নেতাদের দখলে হাটের টেন্ডার

কাজী সোহাগ: এবার টেন্ডার আমরাই পাবো। নিশ্চিত। যে ৪ জন জমা দিয়েছেন সবাই আমাদের দলের। যুবদলের কয়েকজন জমা দিতে চেয়েছিল। বড় ভাই তাদের ঠেকিয়ে দিয়েছে। যদি না পান? এটার কোন সম্ভাবনা নেই। আপা (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন) আগেই বলে দিয়েছেন। তাই সবকিছু ঠিক হয়েই আছে। গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোরবানি পশুর হাটের টেন্ডার জমা দিয়ে এ মন্তব্য করলেন তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফয়জুল ইসলাম টুক্কু। তিনি এসেছিলেন তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি এমডি হালিমের সঙ্গে। উত্তরার ১১ নং সেক্টরের সোনারগাঁ-জনপথ মাঠের হাটের জন্য টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন ওই নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ওই নেতা সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন। একই ভাবে উত্তরার আরেকটি হাটের টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন উত্তরখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করপোরেশনের সবগুলো হাটের টেন্ডার এবার দখলে নিয়েছেন সরকার দলীয় নেতারা। বিএনপির কোন নেতা এসব টেন্ডারে অংশ নিতে পারেননি। গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী কমিউনিটি সেন্টার কার্যালয়ে ৯টি হাটের জন্য টেন্ডার খোলা হয়। এর মধ্যে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল খেলার মাঠের হাটের টেন্ডার তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই টেন্ডারে অংশ নেয়া তিনজনের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা কামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স পে-অর্ডার জমা দেয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টেন্ডারের নামে অনেকটা কাজ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সরকারদলীয় নেতারা। এ কারণে বেশির ভাগ হাটের দর উঠেছে অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক কম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সিটি করপোরেশন। তারা বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবেন। ৯টি হাটের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম উঠেছে আগারগাঁও বস্তি এলাকার মাঠের জন্য। এছাড়া, অন্যান্য হাটের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম উঠেছে বনানী-কাকলী রেলওয়ে হাটের জন্য ৪৫ লাখ, খিলক্ষেত-বনরূপা আবাসিক প্রকল্প মাঠের জন্য ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৪২০ টাকা, তালতলা বাসস্ট্যান্ডের হাটের জন্য ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৭ টাকা, উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের জন্য ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বারিধারা জে ব্লকের হাটের জন্য ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা, উত্তরা-১১ নং হাটের জন্য ৮ লাখ ৫০ হাজার ও মিরপুর-৬ নং হাটের জন্য ২ লাখ ২১ হাজার টাকা। এর আগে বুধবার করপোরেশন ৯টি হাটের জন্য ৯৪টি টেন্ডার শিডিউল বিক্রি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১টি শিডিউল বিক্রি হয়েছে বনানী-কাকলী হাটের জন্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি আগামী রোববার সকাল ১০টায় টেন্ডার নিয়ে বৈঠক করবে। এরপরই চূড়ান্ত দরদাতাদের নাম ঘোষণা করা হবে। ৮ সদস্যের মূল্যায়ন কমিটির প্রধান করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। সাধারণত পূর্ববর্তী তিন বছরের টেন্ডারের গড় দেখে কমিটি এবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য টেন্ডারের জন্য করপোরেশন আবারও দরপত্র আহ্বান করবে। এজন্য দরপত্রের ফরম বিক্রির শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬শে সেপ্টেম্বর। দরপত্র দাখিল ও খাম খোলা হবে ২৭শে সেপ্টেম্বর। এদিকে হাটের টেন্ডার দিয়ে সিটি করপোরেশন এবার আগের তুলনায় বেশি টাকা আয় করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করপোরেশনের। গতবার ৬টি হাট ইজারা দিয়ে করপোরেশন আয় করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী আগের বছরের তুলনায় ইজারা বাণিজ্যে ১০ ভাগ বেশি আয় হয়ে থাকে।

বাহুবল মডেল থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে ধর্ষণ ৩ দিন ধরে ১৪৪ ধারা

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে: হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ও আত্মহননের ঘটনায় ওসির অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে বাহুবলের দু’টি স্থানে ৩ দিন যাবৎ ১৪৪ ধারা বলবত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮ থেকে  বাহুবল সদর ও পার্শ্ববর্তী মিরপুর এলাকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি এখনও শান্ত না হওয়ায় ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, থানার ওসির অপসারণের দাবিতে সোমবার রাতে বাহুবল নাগরিক পরিষদ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগও একই সময় একই স্থানে সমাবেশ ডাক দেয়ায় ১৪৪ ধার জারি করা হয়। ১৪৪ ধারা জারি পর থেকে সভাস্থল এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, সমপ্রতি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী মারজানা আক্তার তার চাচা বাহুবল মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলামের বাসায় বেড়াতে আসে। সেখানে পরিচয় হয় একই থানার কনস্টেবল রুহুল আমিনের পুত্র ফরহাদের সঙ্গে। এরই সূত্র ধরে ১৫ই সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় ফরহাদ কৌশলে মারজানাকে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানির ভয়ে মারজানা আত্মহননের পথ বেছে নেয় এবং বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। সঙ্গে সঙ্গে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা মারজানা মৃত্যুবরণ করে। ঘটনার পরপরই বাহুবল থানা পুলিশ ঘাতক ফরহাদকে আটক করে। এ ব্যাপারে নিহতের চাচী কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ফরহাদকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদকে প্রধান করে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে বাহুবল মডেল থানা অফিসার্স কোয়ার্টারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর আত্মাহুতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই থানার ওসি আজিজুর রহমান সরকারকে তদন্ত থেকে অব্যহতি দিয়ে সার্কেল এএসপি মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে বাহুবল উপজেলা সদরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে থানা কম্পাউন্ডে যেখানে স্কুলছাত্রী নিরাপদ নেই সেখানে উপজেলাবাসীর নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের কতটুকু দায়িত্ব রয়েছে তা সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার সকালে হবিগঞ্জের এসপি কামরুল আমিন ঘটনাটি তদন্তের জন্য প্রথমে ওসি আজিজুর রহমান সরকারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু ওসির ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা উঠলে ওইদিন রাতেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সার্কেল এএসপি মোজাম্মেল হককে তদন্ত ভার অর্পণ করেন। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

টঙ্গিবাড়ীতে শিক্ষক সমিতির সমাবেশ পণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে: প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল দুপুর ১টার দিকে সোনারং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাবেশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও শিক্ষকরা সমাবেশ করতে পারেনি। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষক- কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা শিক্ষক সমিতি এ সমাবেশের আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির টঙ্গিবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন আল মামুন জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পরই গতকাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে বুধবার রাতে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলফোনের মাধ্যমে গতকাল আহ্বান করা সভা স্থগিত করার নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ কারণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সমাবেশ করতে পারেনি। একই স্থানে সভা আহ্বান করেছে এমন অজুহাতে তাদের সমাবেশ পণ্ড করা হলেও যুবলীগ একই স্থানে সভা আহ্বান করেছে এমন কোন আলামত দেখা যায়নি।

ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে, খুন হলেন বাবা

অনলাইন ডেস্ক : ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এটা মেনে নিতে পারেনি তার শ্বাশুর বাড়ির লোকজন। সেই অপরাধে প্রথম স্ত্রীর ভাইরা পিটিয়ে হত্যা করেছে ছেলের বাবাকে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে খাউলিয়া গ্রামে আজ ভোরে এঘটনা ঘটে।  নিহত ব্যক্তির নাম রফিজ উদ্দিন শেখ (৫৫)। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, রফিজ উদ্দিনের ছেলে মোস্তফা শেখের (৩২) সঙ্গে একই উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের রহমান শেখের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মোস্তফা স্ত্রীকে নিয়ে ভারতের দিল্লীতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি মোস্তফা দেশে ফিরে আরেকটি বিয়ে করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার শ্যালক সোবহান শেখ আজ ভোরে লাঠিসোটাসহ লোকজন নিয়ে রফিজ উদ্দিনের বাড়িতে চড়াও হয়। এ সময় তারা মোস্তফাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রফিজ উদ্দিন বাধা দেন। বাধা পেয়ে সোবহানের সহযোগীরা লাঠি দিয়ে রফিজ উদ্দিনকে পেটাতে থাকলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার বুকে ও পিঠে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। সোবহানের লোকজন পরে মোস্তফাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ওসি জানান, মোস্তফাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

রাবির ভর্তি পরীক্ষা দু’দিন এগিয়ে আনা হয়েছে

রাজশাহী থেকে সংবাদদাতা: পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারীত ৬ অক্টোবর থেকে দু’দিন এগিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভর্তি পরীক্ষার উপ-কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-নিবন্ধক এ এইচ এম আসলাম হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করার জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবন গুলোতেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী বেড়ে যাওয়ার কারণে এবার এ-৩, বি, সি-১, ডি, ই, এইচ, ইউনিটের পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে দুই শিফটে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ। বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ প্রশাসক প্রফেসর চিত্তরঞ্জন মিশ্র জানান, ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য অতিদ্রুত বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যেমে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট www.ru.ac.bd/admission তে জানিয়ে দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার ভর্তি পরীক্ষার্থীরর প্রতি আসনের বিপরীতে ৬৭ শিার্থী প্রতিযোগিতা করবে। গত বছের তুলনায় এবার প্রতিযোগী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ টি অনুষদভুক্ত ৪৯ টি বিভাগের ৩ হাজার ৬১৫ টি আসনের বিপরীতে চলতি শিাবর্ষে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ২৬৪টি।

‘পরবর্তী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে এগিয়ে নেয়াই সরকারের দায়িত্ব’

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ পুনর্বিবেচনার বিষয়টিতে বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ইতিবাচক সমঝোতা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এ বিষয়ে মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমঝোতা হয়েছে এটি সুসংবাদ। তবে এখনও কিছুটা পথ বাকি। সমঝোতার জায়গাটি ধরে রেখে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো যতো দ্রুত সমাধান করা যাবে ততো মঙ্গল। বাকি প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নিতে এখন আমাদের পরিস্কারভাবে মনস্থির করে এগোতে হবে। স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর একটি পক্রিয়াগত কাঠামো সমঝোতার মধ্যে আছে বলেই মনে হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা দৃশ্যমান থাকলেই কাজে অগ্রগতি হবে।বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ বলেন, অভ্যন্তরীন রাজনীতির কারণে একভাবে কথা বলা আর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কুটনৈতির জন্য অন্য ভঙ্গিতে কথা বলা, কাজেকর্মে এ ধরনের বিভ্রান্তি ও অসঙ্গতি দুর করতে পারলে একদিকে যেমন আমাদের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হবে তেমনি সেতু বাস্তবায়নও দ্রুত এবং সহজ হবে। তিনি বলেন, সমঝোতায় আসার ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হয়েছে। ঋণচুক্তিটি বাতিল করা বিশ্বব্যাংকের জন্য যেমন অতিরিক্ত কঠিন ছিল এই উপলব্ধিও তারা করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে তাদের সহানুভুতি ছিল এটিও বলা যায়। এর কারণ এ ধরনের বড় প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিল করার পর তা পুনরুজ্জীবিত করার নজির খুব বেশি নেই।তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়াটি যার দোষেই হোক থমকে গিয়েছিল। এখন আবার আরও পিছন থেকে শুরু করতে হবে। কারণ ঋণ চুক্তিটি নতুন করে অনুমোদন করার প্রয়োজন হবে। সেতু কখন কার সময়ে হবে এ ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে সরকারের দায়িত্ব।

পদ্মা সেতু: আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বিশ্বব্যাংক বোর্ড

কাউসার মুমিন, নিউ ইয়র্ক থেকে : পদ্মা সেতু প্রকল্প পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের বেঁধে দেয়া চারটি শর্ত পূরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে বিশ্বব্যাংক। এখন শুধু একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন সফররত বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার পর করণীয় নির্ধারণে গতকাল সকাল এগারোটায় অনুষ্টিত বোর্ডের নিয়মিত বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, দিনের শেষ কর্মঘন্টায় আরেকটি বৈঠক অনুষ্টিত হবে এবং এ বৈঠকে পদ্মাসেতু বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান চূড়ান্ত হবে বলে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বরাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে অবশেষে অর্থায়নে রাজী বিশ্ব ব্যাংক’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কম্যুনিকেশন্স ম্যানেজার এঞ্জেলা ওয়াকার এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্যাংকের কোনো আনুষ্টানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আজ দিনের শেষ বৈঠকের পর বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে সার্চ কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সিলেকশন কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন করা হয়েছে। গতকাল গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ড. সামসুল বারীকে। তিনি জাতিসংঘের সোমালিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক বাকী খলিলী, সাবেক আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট শিরিন আকতার মইনুদ্দিন, বেসরকারি ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহ আলম সরওয়ার এবং গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য তাহসিনা খাতুন। সংশোধিত আইনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয় বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। এরপরই চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক নির্বাচন কমিটি গঠন করেন। নির্বাচন কমিটি আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনজনের একটি প্যানেল মনোনীত করে তা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জমা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এর মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দেবে পরিচালনা পর্ষদ।

‘সমঝোতায় আসুন’- আওয়ামী লীগকে ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে আওয়ামী লীগকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট বৃটিশ ল স্টুডেন্ট এলায়েন্স’ আয়োজিত হিউম্যান রাইটস সলিউশন অ্যান্ড কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে বিচারপতি খায়রুল হক যে রায় দিয়েছেন এর ফলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। দেশ একটি নিশ্চিত সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত দেশে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করবে। দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে আলোচনায় আসুন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার পথ বের হবে। তাই সংঘাতের পরিস্থিতি এড়াতে সমঝোতায় আসুন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আর না হলে জনগণ ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠবে দেশকে রক্ষা করার জন্য। তখন আর পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা আগামী সংসদ অধিবেশনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জাবেদুল্লাহ জাবেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘আগে ব্যবস্থা নিলে ১০ মাস সময় নষ্ট হতো না’

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণে ঋণ সহায়তা দিতে আবারও সম্মত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিএনপি। অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে আবার ফিরে আসায় স্বাগত জানিয়েছে তারা। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরাও চাই সেতু হোক। তবে সরকারকে সেতু নিয়ে দুনীতিতে কারা জড়িত তাদের নাম-পরিচয় অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্ভব হবে না। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে ফিরে আসলে আমরা খুশি হব। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যশা করি, আগামীতে সরকার এ প্রকল্পে দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দেবে না। সকালে নয়া পল্টনের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এটা স্বীকার করতে হবে যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে ১০ মাস সময় নষ্ট হতো না। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেয়ার পরও কী কারণে সরকার আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়নি? ওই সময় তারা ব্যবস্থা নিলে তারা অর্থায়ন বাতিল করত না। নতুন কমিটি ছাত্রদলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, ছাত্র সমাজের গৌরবময় ঐহিত্যকে সমুন্নত রেখে ছাত্রদল সামনের দিকে গিয়ে যাবে।
ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল করীম চৌধুরী শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মহিদুল হাসান হিরু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে ৬ ডাকাত আটক

অনলাইন ডেস্ক : ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজধানী থেকে ৬জনকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি বিভিন্ন সময়ে তাদের আটক করে। এরা হলো রুবেল (২৬), সাইদ ((৩২), মিলন (৩২), আদিল (২১), শুভঅনলাইন ডেস্ক : ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজধানী থেকে ৬জনকে আটক করেছে পুলিশ। মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি বিভিন্ন সময়ে তাদের আটক করে। এরা হলো রুবেল (২৬), সাইদ ((৩২), মিলন (৩২), আদিল (২১), শুভ (২৬) ও মাসুম (২২)। আজ বেলা ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এদের সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মসিউর রহমান জানান, মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি বাড়িতে ৬ই সেপ্টেম্বর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় সাইদ নামের এক ডাকাতকে আটকাতে সক্ষম হয় স্থানীয় লোকজন। অন্যরা বাড়ির মালিকসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। আটককৃতের তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুন আদিল ও মামা মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার ও এদের জিম্মা থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বরগুনায় চার জামায়েত নেতা আটক

বরগুনা প্রতিনিধি :  বরগুনা পৌরসভা থেকে চার জামায়েত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো বরগুনা জেলা জামায়েত সেক্রেটারী আফজালুর রহমান, সদস্য হাবিবুল্লাহ,রেজাউল করিম ও জালাল আহমেদ। গতকাল শুক্রবার সকালে বরগুনা থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমানের  নের্তৃত্বে অভিযান চালিয়ে জামায়েতের বিভিন্ন বাসায় থেকেএদেরকে আটক করা হয়। বরগুনা থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান বলেন, আটককৃতরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনার প্রস্তুতি নিতেছিল। বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন ফকির বলেন, জামায়েত নেতা হাবিবুল্লাহকে ইতোপূর্বে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জরিত থাকার কারনে একাধিকবার আটক করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার একই কাজে লিপ্ত হয়।

ঢাকা-রাজশাহী রুটে যান চলাচল শুরু



রাজশাহী সংবাদদাতা : হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ডাকাতি ও তার জের ধরে কাউন্টারে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাস চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। বাস শ্রমিক ও পুলিশের ফলপ্রসু বৈঠকের পর যান চলাচল শুরু হয়। তবে বিকেলের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেয়া হয়। এনিয়ে বিকেলে শ্রমিকদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে বসবে পুলিশ। এর আগে বাস শ্রমিকরা আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে এই রুটে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহীগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী একটি বাস নাটোরের বনপাড়ায় ডাকাতদের কবলে পড়ে। এতে ডাকাতরা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। এরপর বাসটি রাজশাহী বাস টার্মিনালে এসে পৌঁছালে উত্তেজিত যাত্রীরা ওই ডাকাতির সঙ্গে হানিফ এন্টারপ্রাইজের যোগসাজশ থাকতে পারে এমন অভিযোগ এনে কাউন্টারে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা হানিফ কাউন্টারের ম্যানেজার সোহেলকে মারধর করে। ঢাকা কোচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ও হানিফ পরিবহনের রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মঞ্জুর রহমান খোকন জানান, হানিফের কর্মীরাসহ অন্যান্য বাস ও পরিবহনের শ্রমিকরা এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়।ডাকাতদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি মোকাররম হোসেন খান জানান, এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় মামলা করেনি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।


২১ মাস পর ২০ বাংলাদেশি পা রাখলেন দেশের মাটিতে

স্টাফ রিপোর্টার : আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার কারাগারে ২১ মাস আটক থাকা পর ২০ বাংলাদেশি  অবশেষে দেশে ফিরেছেন। দালালদের প্রতারণার শিকার হয়ে তারা দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর দেশে ফেরেন। আজ ভোর সাড়ে ৪ টায় তার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৬০৪ নামের একটি বিমানে করে তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সন্ধ্যা থেকেই তাদের স্বজনারা বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন। সরকারের পক্ষে এসময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের য্গ্মু সচিব সন্তোষ কুমার অধিকারী উপস্থিত থেকে তাদের গ্রহণ করেন। দেশে ফেরা বাংলাদেশিরা হলেন, সিলেট বিয়ানীবাজারের শাহীদ আহমদ, নরসিংদী সদরের কাবিল মিয়া, রমজান মিয়া, ফজলুল হক, বিল্লাল, একই জেলার পলাশ থানার মাসুম মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার আলী নুর, কুমিল্লা তিতাসের আনিস খান, গাজীপুর কাপাসিয়ার রাসেল, মানিকগঞ্জ সাটুরিয়ার কালা চাঁন ও বিল্টু মিয়া, সদর থানার জাহিনুর রহমান, টংগী বাড়ির অহিদ হাওলাদার, নোয়াখালী সদরের আলা উদ্দিন,একই জেলার সেনবাগের আবু নাসের আরজু, শরীয়তপুর সদরের ফারুক হাওলাদার, বরগুনার আমতলীর মো. জামাল হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরের এনামুল হক, আব্দুল মালেক ও হেলাল উদ্দিন। এর মধ্যে হেলাল উদ্দিন দালালদের নেতা হওয়ায় তাকে বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে যুগ্ম সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। দালালরা ২০১১ সালের ১৮ই জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাদেরকে উগান্ডায় নিয়ে যায়। কিন্তু উগান্ডা থেকে পায়ে হেঁটে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে কেনিয়া ও তানজানিয়ার সীমান্তে পৌঁছলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এরপর তানজানিয়ার দারুস সালাম ও মাতোয়ারা জেলে তাদেরকে আটক রাখা হয়। এদের মধ্যে একজন হলেন মানিক গঞ্জের জাহিনুর রহমান। তিনি এক পাকিস্তানের মাধ্যম পরিবারের সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন কার্যক্রম নামের একটি সংগঠনের তাদের মানব প্রচার প্রতিরোধ কর্মসূচীর আওতায় আটকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারকে সহযোগিতা করে। জানান, সংগঠনটির প্রকল্প পরিচালক আল আমিন জানান। সকাল ৫টায় তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদেরকে গ্রহণ করতে ঢাকার বিমানবন্দরে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজশাহীতে রাতভর অভিযান, ১৬ শিবির কর্মী আটক

রাজশাহী সংবাদদাতা : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে বাস পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর মতিহার থানার বিভিন্ন্ এলাকা থেকে ১৬ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত সোমবার গভীর রাতে একটি বাস পুড়িয়ায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান শুরু করে। এর আগে গত বুধবারও একই ঘটনায় ২১ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। মতিহার থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক হলে রিমান্ডেও নেয়া হতে পারে।

তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকগুলোকে উদ্ধারে সংস্কার কর্মসূচি

গোলাম মওলা: দেশে আর্থিক খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে। একইভাবে অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের অবস্থাও ভালো নেই। নানা অজুহাতে ব্যাংকগুলোতে খরচ বাড়লেও তেমন কোন উন্নতি নেই। একটিরও ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের গুণগত মানের পরিবর্তন হচ্ছে না। বাড়ছে মন্দ ও ক্ষতিকারক ঋণ। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি এবং অর্থ আÍসাতের ঘটনাও বাড়ছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সেবা প্রদান, পরিচালন ব্যয়, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য পরিস্থিতি- কোন দিক থেকেই উন্নতি করতে পারেনি এ ব্যাংকগুলো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারির ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। এ কারণে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকও বিব্রত। এমনকি সরকারি চার ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চরম অসন্তুষ্ট। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্যাংকগুলোর সংস্কারের কথা ভাবা হচ্ছে। আর এ সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সভায় ব্যাংক চারটির পরিচালনা পর্ষদের সংস্কার, পরিচালক নিয়োগ, পরিচালকদের করণীয় ও ব্যাংকের নিয়মিত বিভিন্ন কাজে তাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারি এ চারটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বৈঠকে ব্যাংক চারটির দুর্বলতা ও উত্তরণে একটি দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মাসে অডিট করার নির্দেশনা থাকবে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে ছয় মাস মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেয়ার কথা বলা হবে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃংখলা রক্ষা করতে এবং অনিয়ম রোধে মোট ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান বাড়ানোর জন্য ১৫ দিনের মধ্যে একটি ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ইউনিট গঠন করবে। সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে উদ্ঘাটন হওয়া হলমার্কসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চার হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় গোটা ব্যাংকিং খাতে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এছাড়া এ চার ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি ব্যাংকেরই প্রয়োজনীয় মূলধনের ঘাটতি রয়েছে। রয়েছে ব্যাপক পরিমাণে মন্দ ও কু ঋণ। এছাড়া বিতরণকৃত ঋণও কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। যা সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর উপার্জন ক্ষমতায় কোন পরিবর্তন হয়নি। বাড়েনি সেবার মান। এ ব্যাংকগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার একটি বড় কারণ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়াকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত এ পর্ষদ প্রায়ই তাদের খেয়াল-খুশিমতো ঋণ প্রদানে বাধ্য করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের। খেলাপি ঋণ হবে জেনেও ঋণ দেয়া হয় পর্ষদ সদস্যদের তদবিরে। তাছাড়া সুদ মওকুফের নামে কোন কোন পরিচালক হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি চার ব্যাংকের যে লক্ষ্য ছিল তার কোনটাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, লক্ষ্য ছিল এ ব্যাংক থেকে গরিব মানুষ ঋণ পাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গরিব মানুষের পরিবর্তে সরকারের বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতাসীন বিত্তবান মানুষ ঋণ পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমি আগেও বলেছি সরকারের নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যাংক থাকা উচিত নয়। সব ব্যাংক বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়া উচিত। তা না হলে সরকারের লোকসান বাড়তেই থাকবে। আর জনগণের টাকা অপচয় হতেই থাকবে। ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪০ বছরেও কোন সরকার এসব ব্যাংকের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর কোন প্রচেষ্টা চালায়নি। জানা গেছে, রূপালী ব্যাংক কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে ১৯৮৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে। সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংককে কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর। কোম্পানিতে রূপান্তরিত করার পর প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সংকটের বলয় থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি এ ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের ভারে ন্যূব্জ হয়ে পড়েছে। গত জুন পর্যন্ত এ চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অথচ সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ৬ শতাংশের মতো। এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ও আশাব্যঞ্জক নয়। গত বছর শীর্ষ ২০ খেলাপি থেকে ঋণ আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয়েছিল, রূপালী ব্যাংক তার মাত্র শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ আদায় করেছে। সোনালী ব্যাংক আদায় করেছে লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর অগ্রণী ব্যাংক ৫৭ শতাংশ এবং জনতা ব্যাংক আদায় করেছে ৯২ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভায় প্রতিবারই খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এরপরও কাক্সিক্ষত উন্নতি করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করার সময় বলা হয়েছিল, এ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করা হবে। অথচ সেবা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। ব্যাংক চারটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে অভিযোগের পাহাড়। গত বছর সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগের প্রায় ২৬ শতাংশই এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের (সিআইপিসি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া সর্বশেষ ক্যামেলস রেটিংয়েও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পিছিয়ে রয়েছে অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায়। ক্যামেলস রেটিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন-পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, উপার্জন ক্ষমতা, তারল্য এবং বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতা পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। এ রেটিংয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকেরই অবস্থান তৃতীয় পর্যায়ে। কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো তাদের খুব ভালো ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তারল্য পরিস্থিতির দিক থেকে সরকারি এ ব্যাংকগুলোর অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। এক সময় কলমানি মার্কেটে (স্বল্প সময়ের জন্য টাকা ধার করার প্রক্রিয়া) প্রতিনিয়ত অর্থ ধার দিত এ ব্যাংকগুলো। আর এখন অব্যাহতভাবে ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে। গত এক বছর ধরে এ ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে গত বছরের শেষ দিকে ঋণ বিতরণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। তাছাড়া কলমানি মার্কেট থেকেও প্রচুর পরিমাণে ঋণ করতে হয়। অগ্রণী ব্যাংক প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬শ’ কোটি টাকা পর্যন্ত কলমানি মার্কেট থেকে ঋণ করতে থাকে। এ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলেও এখনও প্রায় প্রতিদিনই ঋণ করে চলতে হচ্ছে এ ব্যাংকগুলোকে।রূপালী ব্যাংক এদিক থেকে কিছুটা ভালো  অবস্থানে রয়েছে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করার সময় প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এ ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে লোকসানি শাখার সংখ্যা এখনও কমেনি, বরং বেড়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে চার ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ছিল ১৩৬টি। বর্তমানে লোকসানি শাখা ৫২টি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮৮টি। খেলাপি ঋণ আদায়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পরিচালন ব্যয়, মূলধন পর্যাপ্ততা, লোকসানি শাখা কমানোসহ সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতি বছর এ ব্যাংকগুলোর সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হয়। এতে ব্যাংকগুলোকে এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়। এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই প্রতি তিন মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রায় প্রতি বৈঠকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এদিকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করার সময় যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখনও পূরণ না হলেও কোম্পানি ঘোষণার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বেতন এক লাফে হাজারের ঘর পেরিয়ে লাখের ঘরে উঠে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে বিরাট অংকের বেতন দেয়া হচ্ছে। অথচ এদের কার্যত কোন অবদান নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না দিয়েই কোম্পানিতে রূপান্তরিত করায় সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া প্রাইভেট কোম্পানির মতো কাজের ক্ষেত্রে পুরস্কার ও শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন ছিল। কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে কখনোই সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জনগণকে উত্তম সেবা দিতে পারবে না। এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবির যুগান্তরকে বলেন, যে উদ্দেশ্যে সরকারি ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড করা হয়েছে, তার অনেকাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত জোট সরকারের আমলে এসব ব্যাংকে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে ৩০ বছরের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা শূন্য শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। তবে তার দায়িত্ব নেয়ার পর এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
সোনালী ব্যাংক : সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ইতিহাসে চাঞ্চল্যকর নজিরবিহীন ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটে এ ব্যাংকটিতে। ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখায় হলমার্ক গ্র“পসহ ছয়টি ব্যবসায়ী গ্র“প তিন হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। একইভাবে গুলশান শাখায় ব্যাংক নীতিমালা অনুসরণ না করে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ২৮২ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। তাছাড়া আগারগাঁও শাখায় ১৪১ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বের হয়ে আসে। এ ব্যাংকটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদেরও অভিযোগের শেষ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগ আসার দিক থেকে সোনালী ব্যাংকের অবস্থান দ্বিতীয়। এ ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের নিষ্পত্তিও হয়েছে কম। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতিও ভালো নেই। এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ধার করে চলতে হচ্ছে ব্যাংকটিকে। আমানতের নিরাপত্তা হিসেবে বিধিবদ্ধ জমার যে নগদ অংশ (সিআরআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়, তা-ও ঠিকভাবে রাখতে পারছে না ব্যাংকটি। অর্থ সংকটে পড়ে প্রতিদিনই বিশেষ রেপো ও তারল্য সুবিধার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ধার নিচ্ছে। আগস্ট ও চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত কলমানি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্পেশাল রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি নিয়েছে সোনালী ব্যাংক। হলমার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভুয়া ঋণসহ নানা কারণে ব্যাংকটি এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাদেও খেলাপি ঋণও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৬ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন (ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকিং খাতে বেশিরভাগ ব্যাংকের কোন প্রভিশন ঘাটতি নেই। এদিকে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণ অবলোপনের হার বেশ উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের মার্চ নাগাদ সোনালী ব্যাংক ২ হাজার ৮৪৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে। ব্যাংকটি রেমিটেন্স আহরণের দিক থেকে বেশ অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোতে যখন রেমিটেন্স আহরণের পরিমাণ বাড়ছে, সেখানে এ ব্যাংকটিতে তা অনেক কমে গেছে। ২০১১ সালে ব্যাংকটির রেমিটেন্স আহরণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমে ১০ হাজার ১৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অগ্রণী ব্যাংক : অগ্রণী ব্যাংক এক সময় কলমানি মার্কেটে ঋণদাতা হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ এক বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই বড় অংকের ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে ব্যাংকটিকে। তারল্য সংকট তীব্র থাকায় এ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে স্বীকার করে ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিপিসি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের ঋণ দিতে গিয়ে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কলমানি মার্কেট থেকে বড় অংকের ঋণ করতে হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের এ ব্যাংকটির সেবার মান নিয়েও গ্রাহকদের রয়েছে অনেক অভিযোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগ আসার ভিত্তিতে এ ব্যাংকের অবস্থান ৫ম। অভিযোগ নিষ্পত্তির হারও খুব বেশি নয়। চলতি বছরের মার্চ শেষে অগ্রণী ব্যাংকে ৩৭০ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ। খেলাপি ঋণ অবলোপনের পরিমাণ এ ব্যাংকটিতেও অনেক বেশি। মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক : এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা। এ ব্যাংকটিরও খেলাপি ঋণ অবলোপনের পরিমাণ বেশ উদ্বেগজনক। মার্চ পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক ৮৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে। ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ২৮টি। এ ব্যাংকটির সেবা নিয়েও গ্রাহকদের অভিযোগ কম নয়। গত বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ আসার দিক থেকে এ ব্যাংকটির অবস্থান নবম। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার খুবই কম। তাই গ্রাহকদের সেবা প্রদানের দিক থেকে ব্যাংকটি বেশ পিছিয়ে। তাছাড়া ব্যাংকটির নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং অটোমেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। জনতা ব্যাংক : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশনও রাখতে পারছে না ব্যাংকটি। ৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ব্যাংকটিতে। মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে ২ হাজার ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মার্চ পর্যন্ত এ ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৬৫টি।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাবর্তন

মানবজমিন ডেস্ক: নানা নাটকীয়তা আর জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১শ’ ২০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২৯শে জুন তা বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে কানাডীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কতিপয় নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উত্থাপন করেছিল বিশ্ব ঋণদাতা এ সংস্থাটি। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর ঋণচুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার সে পদক্ষেপগুলো নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের বেঁধে দেয়া শর্তসমূহের মধ্যে ছিল: ১) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে সন্দেহভাজন সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটিতে পাঠানো ২) বাংলাদেশের দুর্নীতি-দমন কমিশনের আওতায় একটি বিশেষ তদন্ত ও বিচার কমিটি নিয়োগ ৩) তদন্তে প্রাপ্ত সব ধরনের তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের গঠিত একটি প্যানেলের কাছে পেশ করা যাতে তারা বিশ্বব্যাংক ও অর্থ সহযোগিতা দেয়া সহ-প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদন্তের অগ্রগতি, পর্যাপ্ততা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, ৪) প্রকল্পের জন্য কিছু নতুন ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হওয়া যা বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী অর্থ-লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকল্পের ক্রয়-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেবে। তবে ঋণচুক্তিটি বাতিল করে দেয়ার পর সরকার এখন বিশ্বব্যাংক আনীত দুর্নীতির প্রমাণসমূহ নিয়ে কাজ করা শুরু করেছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে অর্থায়নে রাজি হলেও এতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে যে কোন দুর্নীতির ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি থাকবে বিশ্বব্যাংকের। ভবিষ্যতেও যে কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঋণদাতা সংস্থাটি। এদিকে বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নির্ধারিত শর্তগুলোর সন্তোষজনক বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে প্রকল্পে যোগ দেয়ার ব্যাপারে কোন আপত্তি থাকবে না বিশ্বব্যাংকের। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মাচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে ও একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কাজ এখন শুরু হয়েছে বলেও মনে করছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।

নরসিংদীতে লোকমান সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, ৫ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ, ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আহবান

মোর্শেদ শাহরিয়ার,নরসিংদী থেকে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর নরসিংদী সফরকে কেন্দ্র করে লোকমান সংগ্রাম পরিষদের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশ পুলিশের বাঁধার মুখে পন্ড হয়ে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে  লোকমান সমর্থকদের সংঘর্ষে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার ও সোমবার জেলা সদরে হরতাল আহবান করেছে লোকমান সমর্থকরা। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। বিআরটিসিসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। কর্মসূচীর প্রথম দিন আজ মেয়র লোকমান হোসেনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর সফরে নাশকতার আশংকায় প্রশাসন থেকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। শুক্রবার সকালে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শহর জুড়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দেয়। সকাল দশটার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লোকমানের ছোট ভাই পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলের বিক্ষোভ সমাবেশের গণসংযোগে পুলিশ বাঁধা দেয়। এর ফলে তিনি আর গণসংযোগ করতে পারেননি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর জুড়ে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়। একাধিক স্থানে বসানো হয় পুলিশের চেকপোষ্ট, বন্ধ করে দেয়া হয় সকল যানবাহন চলাচল। বেলা পৌনে তিনটার দিকে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলের নেতৃত্বে শহরের বাসাইল মার্কাস মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশস্থল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে রওনা দেয়। মিছিলটি কিছুটা এগুতেই পুলিশের বাঁধার মুখে পড়ে। এই সময় পৌর মেয়রসহ লোকমান সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ লোকমান সমর্থকদের উপর লাঠিচার্জ করে ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। জবাবে লোকমান সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান, নাজিম উদ্দিন, জামান মিয়া, নূর এ আলম, শরীফসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওই সময় দায়িত্বপালনকালে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সঞ্জিত সাহার মাথায় পুলিশ আঘাত করে। ওই সময় মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলকে র‌্যাবের সদস্যরা ঘিরে রাখে। বিকাল পাঁচটার দিকে মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলীসহ বাসাইলের লোকমানের সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জেলা হাসপাতালের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সৃষ্টি করেন। ওই সময় বিক্ষোভকারীরা বিআরটিসিসহ দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই এলাকায় পুলিশ ও লোকমান সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি ও দুইশ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। পাশাপাশি লোকমান সমর্থকদের ছোড়া ইটপাটকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল জিয়াউল হক ও সোহেল মিয়া আহত হন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ে। রাত আটটার দিকে আগুনে পোড়া গাড়ি রাস্তা থেকে সরালে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, মেয়র লোকমান হোসেনের খুনিদের বিচারের দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ কমসূচীতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের সমর্থকদের শুধু লাঠিপেটাই করেনি গুলি ও টিয়ারসেলও নিক্ষেপ করছে। এতে আমিসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। নরসিংদীবাসী এই নিশংস হামলার প্রতিবাদে গর্জে উঠবে। পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। মেয়রের সমর্থকদের হামলায় ১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। সন্ধ্যার পর থেকে মেয়রের লোকজন পুলিশের উপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। এদিকে সাংবাদিকদের  উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা হয়েছে নরসিংদী প্রেসকাবে। সভা থেকে সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এবং দোষী পুলিশের শাস্তির দাবি জানান।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায়-রেহমান মালিকসহ ১২ আইনপ্রণেতা অযোগ্য

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিকসহ পার্লামেন্টের ১১ আইনপ্রণেতাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, যেসব আইনপ্রণেতার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে, তাঁরা কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে by বিকাশ দত্ত

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকারীদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিরাপত্তার বলয়ে আনা হচ্ছে। বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পুরো ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বিএনপি না এলেও নির্বাচন করব ॥ এরশাদ

‘মহাজোটের আর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। আগামী নির্বাচনে মহাজোট হারবে। মহাজোটে থাকলে জাতীয় পার্টিও কম আসন পাবে। তাই আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জাতীয় পার্টি। সকল দলকে এক টেবিলে বসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধান করতে হবে।

বিদ্যুতের দাম পাইকারি ১৭ ও খুচরা ১৫ ভাগ বাড়ল

পাইকারি এবং খুচরা উভয় ধরনের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন।

সংবিধান সংশোধনীতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে লালমনিরহাটে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী by জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ও আব্দুর রউফ সরকার

লালমনিরহাট থেকে ॥ বর্তমান সরকারের আমলেই ’৭১-এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে। দেশে যেন আর কোনদিন জঙ্গীবাদ মাথা তুলতে না পারে। তাই সরকার জঙ্গীবাদ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গীবাদ কঠোরহস্তে দমন করা হয়েছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সুবহান গ্রেফতার- পাবনায় শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির মওলানা আব্দুস সুবহানকে গ্রেফতার করা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় দিকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্ত গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে প্রথমে একটি গোয়েন্দা সংস্থা আটক করে।

বিচারপতি খায়রুল হকের রায় ॥ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এতে নির্বাচন হলে প্রতিহত করব -সাংবাদিকদের খালেদা জিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, এ রায়ের আলোকে কোন নির্বাচন হলে তাতে আমরা অংশ নেব না এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।

ফিরেছে বিশ্বব্যাংক- পদ্মা সেতু- ০ চুক্তি পুনর্বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সম্মতি- ০ এডিবি ও জাইকাকে জানিয়ে দিয়েছে- ০ বাংলাদেশকে সম্মতিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়ার জন্য নির্দেশ- ০ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে চিঠি পাওয়া যাবে- ০ বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে এটাই প্রথম by হামিদ-উদ-জামান মামুন

অবশেষে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে অন্য দাতাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটল। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পপকর্ন তৈরির খেসারত ৭২ লাখ ডলার!

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েন ওয়াটসন পপকর্ন খেতে বড় ভালোবাসেন। তাঁর রোজকার জীবনে এ এক অপরিহার্য অনুসঙ্গ। কিন্তু পপকর্নে মেশানো মাখনের মতো গন্ধের এক রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে তাঁর শরীরে বাসা বাঁধে 'পপকর্ন লাঙ' নামে শ্বাসকষ্টজনিত একটি ব্যাধি।

গোলানে ইসরায়েলের বড় ধরনের মহড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গোলান মালভূমিতে গত বুধবার থেকে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এ মহড়ায় হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে থাকা উত্তেজনা এবং প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েল এ মহড়া শুরু করেছে।

সামরিক পথে সিরিয়া সংকটের সমাধান আসবে না : মুন

সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ ধরে সংঘাতের অবসান হবে না সিরিয়ায়। বরং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন হতে পারে বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি সিরীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সত্যিকার প্রতিফলন ঘটবে- এমন রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিতর্কিত চলচ্চিত্র-পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা অভিনেত্রীর

বিতর্কিত চলচ্চিত্র 'ইনোসেন্স অব মুসলিমস'-এর অভিনেত্রী প্রতারণার অভিযোগ এনে ছবির পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সিন্ডি লি গার্সিয়া নামের ওই অভিনেত্রী জানান, ছবির মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাঁকে অন্ধকারে রেখেই কাজ করিয়ে নিয়েছেন পরিচালক। লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে গত বুধবার মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

ওয়াশিংটন সফরে হিনা-আফগান সমস্যা সমাধানে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

আফগানিস্তানে বিদ্যমান সমস্যার জন্য আংশিকভাবে পাকিস্তান দায়ী_এ ভুল ধারণাকে শোধরানোর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার। ওয়াশিংটনে মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে গত বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

কংগ্রেসের স্বর্ণপদক নিলেন সু চি

মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চি গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল গ্রহণ করেছেন। ২০০৮ সালে পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। সে সময় তিনি গৃহবন্দি ছিলেন।

রণাঙ্গন যখন আঁতুড়ঘর-আফগানিস্তানে ব্রিটিশ নারী সৈনিকের সন্তান প্রসব

আফগানিস্তানের রণাঙ্গনে সন্তান প্রসব করে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন এক ব্রিটিশ নারী সৈনিক। মঙ্গলবার সন্তান প্রসবের পর তিনি জানান, গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি নিজেই জানতেন না। তিনি বিস্মিত। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অবহিত, তবে তারা ওই নারী সৈনিকের নাম প্রকাশ করেনি।

শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিভক্তি

শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতের তদন্তে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদে। গত বুধবার প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হয়। পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১ সদস্য প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিলেও বিরত থেকেছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও আজারবাইজান।

আল্লাহর স্মরণে সময় কাটুক by মো. গোলাম কিবরিয়া

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। মহান আল্লাহপাকের ঘোষণা_ 'সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানবজাতি ক্ষতির মধ্যে ডুবে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া_ যারা ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর ও ভালো কাজ করেছে আর যারা একে অন্যকে সত্য ও ধৈর্যের কথা বলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত নয়।

কানাডার মুসলমানদের হালচাল by জহির উদ্দিন বাবর

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডাতেও রয়েছে মুসলমানদের বর্ণাঢ্য অতীত। কানাডায় বর্তমানে ৯ লাখ ৪০ হাজার মুসলমান বাস করেন। কানাডার মোট জনসংখ্যার ৬.৬ শতাংশ মুসলমান। কানাডায় আগামী ২০ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হতে পারে। কানাডায় মুসলমানদের আগমন প্রায় দেড়শ' বছর আগে।

ইসলাম অবমাননা বিশ্বে অশান্তিই বয়ে আনবে by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

ইসলামবিরোধী চলচ্চিত্র 'দ্য ইনোসেন্স অব মুসলিমসে'র প্রতিবাদে সারাবিশ্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কিত এই সিনেমা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত না হতেই গত বুধবার ফরাসি ম্যাগাজিন 'শার্লি হেবদো' মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র ছাপিয়েছে।

রূপালি ইলিশের ডাক by সোহেল নওরোজ

বহির্বিশ্বে উন্নয়নশীল একটা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো যে কয়টা হাতেগোনা উপাদান আমাদের রয়েছে, তার মধ্যে ইলিশ অন্যতম। কিন্তু সেই ইলিশ দামে ও প্রতুলতায় ক্রমশ আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ খুব বেশি দিন নয়; ইলিশের মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত।

ভারত-তৃণমূল কংগ্রেস (মার্কসিস্ট)! by সুব্রত নাগ চৌধুরী

স্বভাবসুলভ স্বরগ্রাম উচ্চকিত করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন তিনি ইউপিএ (কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট_ ইউনাইটেড পিপলস এলায়েন্স) সরকারে তার সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এ সরকারে ছিল তিন বছর।

বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে by মহম্মদ শহীদুল ইসলাম

বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ পাট নিয়ে আমার আগ্রহ সৃষ্টির পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হাসিনা খানের অবদান অপরিসীম। আমার পিএইচডির বিষয় ছিল পাটের গুরুত্বপূর্ণ জিন সন্ধান ও ব্যবহার সংশ্লিষ্ট। লবণাক্তসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের প্রতি ছিল বিশেষ মনোযোগ।

সোনালি সম্ভাবনা সোনালি আঁশে by হাসিনা খান

বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাটের জীবননকশা তৈরি করা কেন সম্ভব হবে না, প্রশ্ন ছিল অনেক বছর? ধানের জিনরহস্য উন্মোচিত করার ফলে উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। পাটের ক্ষেত্রে তা হতে সমস্যা কোথায়? আমরা এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি এবং এটাও বলতে পারি গর্বের সঙ্গে যে সোনালি আঁশ পাটের দেশ বাংলাদেশেই রহস্যভেদ হয়েছে এ প্রাকৃতিক তন্তুর জিনরহস্য।

শেয়ারবাজার-নিয়মনীতি মানতেই হবে

শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের পরিচালকদের নূ্যনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা মান্য করাতে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ব্যর্থ পরিচালকদের পরিচালনা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া ও পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করার জন্য কোম্পানিগুলোকে ১৫ নভেম্বর সময়সীমা বেঁধে

ছত্রাকের জীবনরহস্য উদ্ভাবন-গবেষক দলকে অভিনন্দন

পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের পর আমাদের একদল বিজ্ঞানী ফসল ও উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর একটি ছত্রাকের জিনরহস্য আবিষ্কার করে একই ধরনের সাফল্য অর্জন করেছেন_ এ আমাদের জাতীয় গৌরব। কমবেশি পাঁচশ' উদ্ভিদের শত্রু এই ছত্রাক; বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের ক্ষেত্রে এর প্রাসঙ্গিকতা আমাদের জন্য সম্ভাবনা

ধর্মঘটে মিশ্র প্রভাব ভারতে আটক কয়েক শ

ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, খুচরা বাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি ও ভর্তুকি দেওয়া গ্যাস সিলিন্ডারের (এলপিজি) সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব-গবেষণায় নতুন সাফল্য জাতির গর্ব

দুর্নীতি, অনিয়মের নানা অপবাদ আর অলংকার মাথায় নিয়ে আমাদের চিত্ত যখন অতি সংকুচিত এক বৃত্তে বাঁধা পড়ে যাচ্ছে, তখন দেশের দু-একটি সাফল্য মনে আশা জাগায়, গর্বে বুক ফোলানোর সাহস জোগায়। তেমনি আরেকটি সাফল্য এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের কৃতী জিনবিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম ও তাঁর দল।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব-নতুন সংকটের আশঙ্কা

নবম সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী দিনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবার নতুন এক প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

চরাচর-বিশ্ব শান্তি দিবস by মাহবুব জামান

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মিশন হচ্ছে শান্তি অন্বেষণ। একটি যুদ্ধহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৩৬/৬৭ নম্বর প্রস্তাবে প্রতিবছরের সেপ্টেম্বরের তৃতীয় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুরু হওয়ায় এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা by ইফতেখার আহমেদ টিপু

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ হলো আইন অনুযায়ী চলা। আইনানুগভাবে দায়িত্ব পালন করে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তবে আমাদের দেশে এ প্রত্যয়টির অভাব প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেই দেখা যায়। অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসার কারণে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

খাদ্যে ভেজাল ও আমাদের গড় আয়ু by ড. মো. গিয়াস উদ্দিন

ভেজাল আমাদের জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তেল, মসলা, লবণ, মুড়ি, চিনি, মাছ, দুধ, ফলমূল, সবজি, গুঁড়াদুধ, কেশতেল, কসমেটিকস_সর্বত্রই ভেজাল। ফলের জুস, কোমল পানীয়_এসবের বেশির ভাগই কৃত্রিম কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফল প্রথমে ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয়, পরে ফরমালিন দিয়ে প্রিজারভ করা হয়।

গুলাগে কেন? by মোফাজ্জল করিম

(শুরুতেই একটি সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে রাখি : পাঠক, আজকের লেখাটির শিরোনামটি একটু সাবধানে পাঠ করবেন, বিশেষ করে শিরোনামের প্রথম শব্দটি। তা না হলে শুচিতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।)জানি, কোনো কোনো পাঠক হয়তো বলতে শুরু করেছেন : ওই দ্যাখো, ভদ্রলোক আবারও হেঁয়ালি শুরু করেছেন।