Sunday, October 3, 2010

ভারতে ১০০ ধনীর তালিকায় পাঁচ নারী

ভারতে এ বছর শীর্ষস্থানীয় ১০০ ধনীর মধ্যে পাঁচ নারী স্থান করে নিয়েছেন। প্রসিদ্ধ সাময়িকী ফোর্বস ম্যাগাজিন ইন্ডিয়ার এক জরিপ ফলাফলে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী যে পাঁচজন নারী তালিকায় উঠে এসেছেন, তাঁরা হলেন ও পি জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিত্রী জিন্দাল, বেনেট কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানির চেয়ারপারসন ইন্দু জৈন, থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারপারসন অনু আগা, বিকন গ্রুপের চেয়ারপারসন কিরণ মজুমদার ও ডেইলি হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার স্বত্বাধিকারী শোভানা ভারতী।

ভারতে পুলিশের চার সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে মাওবাদীরা

ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহীরা গত বৃহস্পতিবার অপহূত হওয়া পুলিশের চার সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ছত্তিশগড় রাজ্য থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়। কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা এসআরপি কাল্লুড়ি জানান, ছত্তিশগড় রাজ্যের রাজধানী রায়পুর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি জঙ্গল থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের চার সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। গতকাল তাঁরা সবাই পুলিশ কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, তাঁদের ওপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি। তবে তাঁদের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। গভীর জঙ্গলে বেশ কয়েকবার তাঁদের স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভারতে কয়েক দশক ধরে মাওবাদীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন করছে। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী ও ভূমিহীন লোকজন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মাওবাদীদের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত এপ্রিলে ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলায় ৭৬ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা পশ্চিমাদের

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাশ্চিমা বিশ্ব। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকেরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ব্যারোনেস অ্যাশটন গতকাল শুক্রবার সকালে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর সেখান থেকে জেরুজালেমে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার কথা।
এর আগের দিন ইসরায়েলে পৌঁছানো মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ মিটশেল গতকাল সকালে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রামাল্লায় গিয়ে দুপুরের দিকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের তাঁর আলোচনার কথা ছিল। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও তিনি আব্বাসের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
শান্তি আলোচনায় ২০ মাসের বিরতির পর চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নেতাদের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু পশ্চিম তীরে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ওপর স্থগিতাবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গত রোববার ওই স্থগিতাবস্থার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েল স্থগিতাবস্থার মেয়াদ না বাড়ালে তারা শান্তি আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসবে।
বৃহস্পতিবার আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন প্রতিনিধি মিটশেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বসতি স্থাপনের ওপর স্থগিতাবস্থা দুই মাস বাড়ানোর বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার একটি প্রস্তাব দিয়ে নেতানিয়াহুকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাব ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও এ ধরনের কোনো চিঠি দেওয়ার বিষয়টি হোয়াইট হাউস স্বীকার করেনি।
স্থগিতাবস্থা বাড়াতে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আব্বাসকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন মিটশেল ও অ্যাশটন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বুধবার কায়রোয় আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই তাঁরা শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিদ্রোহীদের ক্ষমা করবেন না প্রেসিডেন্ট করেয়া

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল করেয়া বলেছেন, বিদ্রোহীদের ক্ষমা করবেন না তিনি। সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার সে দেশে পুলিশি বিদ্রোহ হয়। বিদ্রোহী পুলিশ সদস্যদের অবরোধ থেকে সেনাসদস্যদের সহায়তায় মুক্ত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট করেয়া বলেন, জাতীয় পুলিশ বাহিনীতে কঠিন পরিশুদ্ধি অভিযান চালানো হবে। যা ঘটেছে তা তিনি ভুলে যাবেন না, ক্ষমাও করবেন না। গতকাল শুক্রবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার নেতারাও বিদ্রোহে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তেল ও গ্যাসসহ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ইকুয়েডর ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিকভাবেই অস্থিতিশীল। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের ক্ষুদ্রতম সদস্য তারা। পুলিশ বাহিনী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বৃহস্পতিবারের গোলাগুলির ঘটনা ইকুয়েডরের সাধারণ মানুষকে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এর আগে ইকুয়েডরে এ ধরনের সংঘাত বা বিদ্রোহে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও এবার তেমনটি হয়নি। প্রেসিডেন্ট কয়েরা একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
বামপন্থী নেতা করেয়া যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৫ সালে তিনি সাময়িকভাবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ২০০৬ সালে ইকুয়েডরের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন নতুন মুখ হিসেবে তিনি আবির্ভূত হন। নির্বাচনে জিতে ২০০৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ২০০৮ সালে দেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন।

উইকিলিকসকে ধ্বংস করতে চায় পেন্টাগন

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের দাবি করেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন তাঁদের ওয়েবসাইটটি ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে এক সভায় এ দাবি করেন তিনি। এ বছর পেন্টাগনের আফগান যুদ্ধসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক গোপন নথি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় চলে আসে এই ওয়েবসাইট।
অ্যাসাঞ্জে বলেন, ‘এই সংবাদ সংস্থাটির বিরুদ্ধে যে ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এর গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই আপনাদের সামনে। পেন্টাগনের দাবি, আমরা যেন আফগানিস্তান যুদ্ধসংক্রান্ত নথিসহ আগে প্রকাশ করা সব নথি ধ্বংস করে ফেলি। পেন্টাগন আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করা যায়।’
উইকিলিকসের প্রকাশ করা তথ্য নিরীহ মানুষের জীবনকে শঙ্কায় ফেলছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাসানজে। আফগান যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রকাশের পর থেকে পেন্টাগন ও অ্যাসাঞ্জের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ চলে আসছে।

ফনসেকার সাজার মেয়াদ বিবেচনা করা হতে পারে

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান শরৎ ফনসেকার কারাদণ্ডের মেয়াদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে রাজি হয়েছেন। তবে এ জন্য ফনসেকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। ফনসেকা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সরকারের কাছে কোনো আবেদন করবেন না। সে দেশের একটি পত্রিকায় গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে গত বুধবার সাবেক সেনাপ্রধানের ৩০ মাসের কারাদণ্ড অনুমোদন করেন। দুর্নীতির অভিযোগে সামরিক আদালতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফনসেকার এ সাজা হয়। গত এপ্রিলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে তাঁর সাজা কার্যকর হয়েছে।
বেসরকারি মালিকানাধীন পত্রিকা আয়ল্যান্ড প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা গোতাভাইয়া রাজাপক্ষের বরাত দিয়ে বলেছে, ফনসেকা প্রেসিডেন্ট বরাবর আবেদন করলে রাজাপক্ষে তাঁর সাজার মেয়াদের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে দেখতে রাজি আছেন।
ফনসেকা সরকারের কাছে আবেদন করতে রাজি না হলেও তাঁর রাজনৈতিক জোট ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, কোর্ট মার্শালের বিরুদ্ধে তাঁরা বেসামরিক আদালতে আবেদন করবেন।
ফনসেকা বলেন, নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশোধ হিসেবে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকার চায় না, তিনি পার্লামেন্টে অংশ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।

নাইজেরিয়ায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে বোমা, নিহত ১০

নাইজেরিয়ার রাজধানীতে স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি পালনকালে গতকাল শুক্রবার প্যারেডস্থলের কাছে দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
‘মুভমেন্ট ফর দ্য এমানসিপেশন অব দ্য নাইজার ডেলটা’ (এমইএনডি) নামের নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী মিলিশিয়া গোষ্ঠী ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার এক ঘণ্টা পরই বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।
প্রথম গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা গাড়ির আগুন নেভানোর চেষ্টার সময় দ্বিতীয় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে তিনটি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
আবুজা পুলিশের মুখপাত্র মশহুদ জিমোহ দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র জানান, রাজধানী আবুজার ইগল স্কয়ারের কাছে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বোমা হামলা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবকে পণ্ড করতে ব্যর্থ হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারাসহ বিদেশি নেতারা যোগ দেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন বলেন, এটি একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড। যারা এটা ঘটিয়েছে, তারা নাইজেরিয়ার ভালো চায় না।
এর আগে এমইএনডির মুখপাত্র জোমো জিওমোর সই করা ই-মেইল বার্তায় স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডস্থলের আশপাশে কয়েকটি বোমা পেতে রাখা হয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়ে লোকজনকে এলাকা থেকে সরে যেতে বলেছিল।
হামলা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান (সামরিক ব্যান্ড, শিশুদের নৃত্যানুষ্ঠান এবং বিশেষ প্রদর্শনী চলেছে পরিকল্পনামাফিক। টেলিভিশন চিত্রে অনুষ্ঠানে কোনো বিঘ্ন ঘটতে দেখা যায়নি।
ই-মেইলে হুমকি পাঠানোর কারণে এ ঘটনায় এমইএনডিকেই পুরোপুরি দায়ী করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়া। তেল রাজস্বের একাংশ পাওয়ার জন্য এমইএনডি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।
অপহূত শিশুরা মুক্ত: নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে গত সোমবার স্কুল বাস থেকে অপহূত ১৬ শিশুকে মুক্তিপণ ছাড়াই গতকাল শুক্রবার মুক্ত করা হয়েছে। আবিয়া রাজ্যের পুলিশের মুখপাত্র এ কথা জানান। মুখপাত্র জিওফ্রে ওগবোন্না জানান, ‘শিশুদের মুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ১৫ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের মুক্ত করা হয়। তারা সবাই সুস্থ আছে।’
জিওফ্রে জানান, সামরিক বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শুক্রবার সকালে শিশুদের মুক্ত করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো কিছু জানানো হয়নি।

ভারত শান্ত, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা থাকবে

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ও রামমন্দির বিরোধে বিতর্কিত সেই জমি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রায়ের পর সারা দেশ শান্ত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অযোধ্যাসহ উত্তর প্রদেশের প্রধান শহরগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত সেই জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বহাল থাকবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গতকাল নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রায়ের প্রতি জনগণ সম্মান দেখানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রায়ের প্রতি জনগণের সাড়ায় আমরা সন্তুষ্ট। সারা দেশের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।’
অযোধ্যায় গতকাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, বিপণিবিতানসহ সবকিছু খোলা ছিল। বিভিন্ন সড়কে লোকজন কম দেখা গেলেও গাড়ি চলাচল প্রায় স্বাভাবিক ছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। উত্তর প্রদেশের বেনারস, লক্ষেৗসহ অন্য শহরগুলোতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
রাজ্যের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার আর কে এস রাঠোর বলেন, রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
রায় ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত সারা দেশের পরিস্থিতিতে সেই উৎকণ্ঠা অনেকটাই কেটে গেছে। দুই পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার ঘোষণা দিলেও কোথাও রায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেনি। সভা-সমাবেশ বা বিক্ষোভ মিছিল হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা সাধারণ অধিকার। যেকোনো পক্ষই এটা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো রায় নয়, সে বিষয়টি সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।
দ্য হিন্দু পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই রায়ে কোনো পক্ষের জয় বা হার হয়নি। বরং এই রায় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ মীমাংসায় সহায়তা করবে।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, রায়ের পর রাজনৈতিক দলগুলো দারুণ বিচক্ষণতার সঙ্গে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রায়ে একটি বিষয় প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দির ছিল। এই রায়ে কোনো পক্ষের পরাজয় হয়নি।
নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকালও নয়াদিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ, পাটনা, এলাহাবাদ, কানপুর, কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কাবস্থায় ছিলেন।
কলকাতায় গতকাল সভা-সমাবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কোথায়ও সভা-সমাবেশ বা মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়: ভারতের লোকসভার সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ধর্ম নিয়ে আর রাজনীতি নয়। রায়ের পর গত বৃহস্পতিবার শান্তিনিকেতনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সোমনাথ বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। আর ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে এক করে দেখাও ঠিক নয়। এতে সংঘাত বাড়ে। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় যা-ই হোক না কেন, আমাদের তা মেনে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমানকে নিয়ে আমাদের ভারতবর্ষ। আমার অনুরোধ, ধর্ম ও রাজনীতিকে নিয়ে হিংসা ছড়াবেন না।’
উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট গত বৃহস্পতিবার এক রায়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিটি ভাগাভাগি করার নির্দেশ দেন। রায় অনুযায়ী মুসলিম সম্প্রদায়ের সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড এক-তৃতীয়াংশ এবং নির্মোহী আখড়া ও রামলালা গোষ্ঠী নামে হিন্দুত্ববাদী দুটি সংগঠন বাকি অংশ পাবে। দুই পক্ষই এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার কথা জানিয়েছে।

নেদারল্যান্ডেও নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে বোরকা

সরকার গঠনে ইসলামবিরোধী ফ্রিডম পার্টির সমর্থন লাভের জন্য গত বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডের দুটি মধ্য-ডান দল দেশটিতে বোরকা নিষিদ্ধ করতে রাজি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বোরকা নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ড।
জোট গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত খসড়া চুক্তি অনুযায়ী দেশটিতে অভিবাসন আইন কঠোর করা হবে।
এসব সিদ্ধান্তের বিনিময়ে ফ্রিডম পার্টির নেতা সিয়েথ ভিল্ডার্স নতুন জোটের বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানাবেন।
চুক্তি সম্পাদনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভিল্ডার্স বলেন, ‘আমরা ইসলামীকরণ বন্ধ করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে অপশ্চিমা অভিবাসনের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
গত জুনের নির্বাচনে ভিল্ডার্সের ফ্রিডম পার্টি ভালো ফলাফল করে। এ কারণে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট ও উদারপন্থী ভিভিডি দল সরকার গঠনের জন্য ভিল্ডার্সের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়। নেদারল্যান্ডের অনেক নাগরিকই ফ্রিডম পার্টিকে বর্ণবাদী হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
সম্পাদিত চুক্তিটি আজ শনিবার ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট (সিডিএ) দলের কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। সরকার গঠনে ফ্রিডম পার্টির সমর্থনের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে কি না—গত বুধবার দীর্ঘ আলোচনার পরও এ নিয়ে দলের মধ্যকার বিভক্তি নিরসন করতে ব্যর্থ হয় সিডিএ।

কঙ্গোর গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ জাতিসংঘের

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নব্বইয়ের দশকে চালানো গণহত্যাসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রতিবেদন গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের প্রকাশ করার কথা। গত আগস্টে ওই প্রতিবেদনের খসড়া ফাঁস হয়ে যায়। এতে রুয়ান্ডার সেনাবাহিনী ও উগান্ডার বিদ্রোহী গেরিলারা কঙ্গোতে হুতু শরণার্থীদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে রুয়ান্ডা সরকার জাতিসংঘের শান্তি মিশন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে বলে হুমকি দেয়। গতকাল রুয়ান্ডা ওই প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও ভয়ংকর’ এবং ‘ইতিহাসের জন্য অপমানজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করতে পারে।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিবেদনের খসড়া আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর রুয়ান্ডা যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভাষায় কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কঙ্গোতে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এর তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ৬০০ ঘটনার বিবরণ রয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, জায়ার নামে পরিচিত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নেওয়া রুয়ান্ডার ১০ লাখের বেশি হুতুর ওপর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রুয়ান্ডার তুতসি সেনাবাহিনী গণহত্যা চালায়। তুতসিদের নিয়ে সেনাবাহিনী জায়ারে ঢুকে লক্ষাধিক হুতুকে ভোজালি দিয়ে জবাই করে। অনেককে তারা জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলে। নারী ও কন্যাশিশুদের তারা নির্বিচারে ধর্ষণ এবং কিশোরদের বলাৎকার করে। তাদের নির্যাতনের হাত থেকে দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে বৃদ্ধ, কেউ রেহাই পায়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এ প্রতিবেদন তৈরি করেন।
রুয়ান্ডা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে তারা জাতিসংঘে সাত দফা আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে ওই এলাকার আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। এতে জাতিসংঘের শান্তি মিশনকে খাটো করা হবে।
গত আগস্টে প্রতিবেদনের খসড়া ফাঁস হওয়ার পর রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে হুমকি দিয়েছিলেন, এটি প্রকাশ করা হলে সুদানে শান্তি মিশনে থাকা তাঁদের সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
রুয়ান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুশিকিয়াবো বলেন, ওই প্রতিবেদন ভুলে ভরা এবং ‘ইতিহাসের জন্য তা অপমানজনক’।
রুয়ান্ডা বরাবরই বলে আসছে, সে দেশে গণহত্যা চালিয়ে যেসব হুতু জায়ারে পালিয়ে গিয়েছিল, কেবল তাদের ধাওয়া করতেই সেনাবাহিনী সেখানে গিয়েছিল। রুয়ান্ডার দাবি, তারা সেখানে কোনো বেসামরিক লোকের ওপর হামলা চালায়নি।
উগান্ডাও ওই প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছে। উগান্ডার কর্মকর্তারা বলেন, যাঁরা ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, তাঁরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো রকম কথা না বলে একতরফাভাবে তাঁদের অভিযুক্ত করেছেন।

আর্জেন্টিনা-মেসি তাতে কী?

এমন একজন কোচই তো খুঁজছিল জাপান। যিনি হবেন অকুতোভয়। প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, যত কঠিনই হোক; বুক চিতিয়ে লড়বেন তিনি, লড়াই করবেন তাঁর খেলোয়াড়েরা। জাপানের নতুন কোচ আলবার্তো জাকেরনি ঠিক যেন সে রকমই। না হলে আর্জেন্টিনা আর লিওনেল মেসির মতো প্রতিপক্ষকে ভয় না পাওয়ার মতো সাহস করেন!
এ মাসের ৮ তারিখ আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ জাপানের। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে জাপানের নতুন কোচ জাকেরনি বলেছেন, ‘আমাদের আর্জেন্টিনাকে ভয় পেলে চলবে না।’ এরপর বলেছেন মেসি, হিগুয়েইন আর ডি মারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত আক্রমণভাগকেও এতটুকু ভয় নেই তাঁর, ‘রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামাটাও ভুল হবে।’
জাপানের ইতালিয়ান কোচ আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের যে ২৫ সদস্যের দল দিয়েছেন, তাতে আক্রমণাত্মক ফুটবলারই বেশি।
জাকেরনির ফরোয়ার্ড লাইনআপে তিনজন মিডফিল্ডার—কেইসুকে হোন্ডা, টম টমস্কের নতুন খেলোয়াড় দাইসুকে মাতসুই ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের গোল-মেশিন শিনজি কাগোয়া। এই তিনজনের সামনে হয়তো খেলবেন কাতানিয়ার স্ট্রাইকার তাকায়ুকি মরিমতো ও সিমিজু এস-পালসের ফরোয়ার্ড শিনজি ওকাজাকি।
জাপানের কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিই জাকেরনির অভিষেক ম্যাচ। বিশ্বকাপের পর থেকেই কোচ খুঁজছিল জাপান। প্রায় দুই মাস খুঁজে জাকেরনির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে তারা। যিনি ইতালিয়ান লিগের ৬টি ক্লাবকে কোচিং করালেও এর আগে কখনো জাতীয় দলের কোচ ছিলেন না। সাবেক এসি মিলান কোচ ইতালির বাইরের কোনো ক্লাবেও কাজ করেননি।

‘জুভ’দের হারাতে পারেনি ম্যান সিটি

ম্যানচেস্টার সিটি একরকম উতরেই গেল। পরশু নিজেদের মাঠে জুভ-পরীক্ষা ছিল ইংল্যান্ডের এই দলটির। পরীক্ষাটা পাস করল তারা ১-১ গোলে ড্র করে। বুঝিয়ে দিল ইউরোপের অভিজাত ক্লাবগুলোর সঙ্গে পায়ে পা রেখে চলার সামর্থ্য অর্জন করতে পেরেছে ম্যান সিটি।
ইউরোপা লিগে পরশু ড্র করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুলও। বিশ্বকাপের সোনার বলজয়ী ডিয়েগো ফোরলানের অ্যাটলেটিকো ১-১ গোলে ড্র করেছে বেয়ার লেভারকুসেনের সঙ্গে। লিভারপুল-উটরেখট ম্যাচ হয়েছে গোলশূন্য ড্র।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ১১ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল ম্যান সিটি। ভিসেঞ্জো ইয়াকুইন্তার দূরপাল্লার একটি শট কোলো তোরের গায়ে লেগে জো হার্টকে ফাঁকি দিয়ে ঢুকে যায় সিটির জালে। ম্যান সিটি সমতায় ফেরে ইংলিশ উইঙ্গার অ্যাডাম জনসনের দুর্দান্ত এক গোলে, ৩৭ মিনিটে।
গোল শোধ করে স্কোরশিটে জনসন নিজের নামটি তুলে নিলেও পরশু সিটির প্রাণকেন্দ্র ছিলেন তোরে ভাইদের ছোটজন ইয়াইয়া। জনসনের গোলটিও হয়েছে তিন ডিফেন্ডারের মধ্যখান দিয়ে দেওয়া ইয়াইয়া তোরের দুর্দান্ত পাসে।
তবে আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর ৮৫ মিনিটের ফ্রি-কিক বারে লেগে ফিরে না এলে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত। ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ সিটিও পেয়েছে। কিন্তু জনসন-তেভেজরা তার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি।

আফ্রিদির আবার টেস্ট-বিরাগ

মানুষের মন নাকি প্রতিনিয়তই বদলায়। কিন্তু সেটিরও তো একটা সীমা আছে! শহীদ আফ্রিদি সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। নিজের মনের নাগাল নিজেই পাচ্ছেন না পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। চার বছর পর টেস্টে ফিরে বিদায় বলে দিলেন এক টেস্ট খেলেই। ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আবার ইঙ্গিত দিলেন ফেরার। এখন বলছেন, টেস্ট খেলার আগ্রহই নাকি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি!
আগ্রহ হারিয়ে ফেলার দায় আফ্রিদি দিচ্ছেন নির্বাচকদের, ‘আমি টেস্টে ফেরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি, কারণ আমাকে টেস্টে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন অবশ্য আমার সূচি খুব ব্যস্ত, টেস্ট খেলার সময়ই নেই।’ টেস্ট ফিরতে না চাইলেও শিগগিরই ক্রিকেট ছাড়ার ইচ্ছে নেই পাকিস্তান অলরাউন্ডারের। আবদুল রাজ্জাক, শোয়েব আখতার ও মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করেছেন চারজনই আরও বছর দু-তিন ক্রিকেট খেলবেন। পাকিস্তান দলটাকে একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে তবেই বিদায় বলবেন।
পাকিস্তান ক্রিকেটের এই দুরবস্থার দায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেট সম্প্রদায়কেও দিয়েছেন আফ্রিদি, ‘ভারত কখন পাকিস্তান ক্রিকেটকে সাহায্য করেছে? সত্যিটা হলো আমরা সব সময়ই ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি। কিন্তু আমাদের যখন সমর্থন প্রয়োজন, কেউ দেয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় আমরা বুঝেছি, শুধু ভারত বা শ্রীলঙ্কা নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই আমাদের খুব বেশি বন্ধু নেই। সময় হয়েছে অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করার।’
টেস্টে না ফিরুন, সংক্ষিপ্ত ওভারের ক্রিকেটেই আফ্রিদির অধিনায়কত্বে মুগ্ধ ওয়াসিম আকরাম, রমিজ রাজাদের মতো সাবেকদের থেকে শুরু করে শোয়েব আখতারও। আকরাম অবশ্য বলছেন, পাকিস্তান দলে নয়, ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন পাকিস্তান বোর্ডে!

অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান মুরালি

পুরো ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিল অম্লমধুর। এই অস্ট্রেলিয়াতেই সর্বপ্রথম তাঁর বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। এই অস্ট্রেলিয়াতেই তিনি পরীক্ষা দিয়ে ‘শুদ্ধ’ হয়েছেন। দর্শকদের বিদ্রূপের পাল্টা জবাবে বর্জন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়া সফর।
সেই মুত্তিয়া মুরালিধরন চান, অস্ট্রেলিয়ায় একটা বিদায়ী সফর করতে। আগামী মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় তিন ওয়ানডের একটি সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কা। ওই সিরিজের দলে থাকতে আগ্রহী মুরালিধরন। গত জুলাইয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া এই স্পিন-জাদুকর ওয়ানডেও খেলছেন বেছে বেছে। তবে আগামী বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় জানানোর পরিকল্পনা নেওয়া মুরালি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া সফরটা তাঁর করা উচিত। এই বিদায়ী সফরে নিশ্চয়ই অস্ট্রেলীয় দর্শকেরা উষ্ণ অভ্যর্থনাই জানাবে টেস্ট-ওয়ানডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিকে।

মেসির মুকুটে আরেক পালক

দলের হয়ে তো বটেই, ব্যক্তিগত পুরস্কারও তিনি কম জেতেননি। বড়-ছোট মিলে গোটা পঞ্চাশেক ট্রফি তো জিতেছেনই। তার পরও পরশু ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু ট্রফিটা অন্যরকম মাহাত্ম্যই বয়ে আনল লিওনেল মেসির জন্য।
এর আগে ফিফা বর্ষসেরা আর ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার জিতলেন এই ‘বোটা ডি ওরো’। পেশাদার ফুটবলারদের তিনটি প্রধান ব্যক্তিগত পুরস্কারই জমা পড়ল আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শো-কেসে। মেসির আগে এই কৃতিত্ব ছিল মার্কো ফন বাস্তেন, রোনালদো আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। শীর্ষ লিগগুলোয় খেলা ফুটবলাররা প্রতিটা গোলের জন্য পান ২ পয়েন্ট, মানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা লিগগুলোয় প্রতিটা গোলের জন্য পয়েন্ট থাকে দেড়। এ কারণে ডাচ লিগে আয়াক্সের হয়ে ৩৫ গোল করেও পয়েন্টের হিসাবে পিছিয়ে থাকলেন উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ। আর গত মৌসুমে লিগে ৩৪ গোল করে মেসি পেলেন ৬৮ পয়েন্ট। এটাই তাঁকে এনে দিল এই পুরস্কার।
৬৮ পয়েন্টই এই পুরস্কারের সর্বোচ্চ রেকর্ড, যা মেসির আগে পেয়েছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো আর গ্রিসের নিকস মাচলাস। রোনালদোও ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে এই পুরস্কার জিতেছিলেন বার্সেলোনার হয়ে। বার্সেলোনার মতো আর্জেন্টিনারও দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এবার জিতলেন মেসি। তাঁর পূর্বসূরি আর্জেন্টাইন হেক্টর ইয়াজালদে জিতেছিলেন ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে।
এই পুরস্কারটি যে মেসি পাবেন সেটি আসলে ঠিক হয়ে গিয়েছিল গত মৌসুম শেষেই। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চেলসির দিদিয়ের দ্রগবা আর উদিনেসের আন্তনিও ডি নাতালের (দুজনই করেছেন ২৯টি করে গোল) চেয়ে পরিষ্কার ব্যবধানেই এগিয়ে ছিলেন। পরশু সম্পন্ন করা হলো আনুষ্ঠানিকতা। বার্সেলোনায় এক অনুষ্ঠানে গোল্ডেন বুটটি তুলে দেওয়া হলো মেসির হাতে।
অনেক দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই পুরস্কার হাতে নিয়ে মেসি তাঁর স্বভাবসুলভ প্রতিক্রিয়াটিই দিলেন, ‘প্রতিটি পুরস্কারই গুরুত্বপূর্ণ। দলের সতীর্থদের কৃতজ্ঞতা জানাই। ওদের সাহায্যের কারণেই আজ আমি এই পুরস্কার পেলাম। আমি আসলে সব সময়ই দল আর কোচের জন্য সবটুকু ঢেলে দিয়ে চেষ্টা করি।

প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য হাহাকার

দুই বছর আগের স্মৃতি কি ফিরে আসছে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের মনে? সেবার বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটা। এবার হয়তো এ কারণেই একটু আগে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু কপাল নাকি বঙ্গে এলেও সঙ্গে থাকে! বৃষ্টিতে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল হয়ে গেছে। আগামীকালের দ্বিতীয় ম্যাচটিও অনিশ্চিত।
বিসিবির কর্মকর্তারা কাল একরকম বলেই দিলেন, আজ খুব রোদ ঝলমলে দিন না হলে বিকেএসপির এই ম্যাচটিও হবে না। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা মনে মনে কী বলছেন কে জানে। তবে সহ-অধিনায়ক রস টেলর আবহাওয়া-নিয়তিকে মেনেই নিলেন, ‘আবহাওয়াটা তো আর আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা যেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেটা ভালোভাবে করার চেষ্টা করছি। আজ ট্রেনিং খুব ভালো হয়েছে।’
সেই ‘ট্রেনিং’-এ একটু বাড়তি সুবিধা দাবি করছে নিউজিল্যান্ড। সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করতে দেওয়ার অনুরোধ নাকি বিসিবি মেনেও নিয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটা বিকেএসপির বদলে অন্য কোনো মাঠে আয়োজন করা যায় কি না, সেই অনুরোধও করা হয়েছিল। বিকল্প কোনো ভেন্যু হাতে নেই জানিয়ে সেই অনুরোধ রক্ষা করতে অপারগতার কথা জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি।

ফিরে এল ভারত

হতাশায় মাথায় হাত দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন জহির খান। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি ছেড়ে দিয়েছিলেন মার্কাস নর্থ। রিভার্স সুইং করে ভেতরে ঢুকে স্টাম্পের ওপরের দিকের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটকিপারের হাতে। জহির ভেবেছিলেন, বল স্টাম্প ছুঁলেও বেল পড়েনি। কিন্তু সতীর্থদের উল্লাস দেখে একটু পরই বুঝতে পারলেন কী ঘটেছে। একটা মাত্র বেল পড়েছে একটু দেরিতেই। জহিরের হতাশামাখা চেহারায় হঠাৎ হাসি—দৃশ্যটা ছিল দেখার মতো।
এই দৃশ্যটাতেই পেয়ে যাবেন কালকের পুরো দিনের ছবি। মোহালির প্রথম দিনটিকে পরিষ্কার দুটি ভাগে আলাদা করা যায়। প্রথম ভাগটা অস্ট্রেলিয়ার, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনটাকে নিজেদের করে নেওয়ার পথে এগোচ্ছিল রিকি পন্টিংয়ের দল। কিন্তু প্রথমভাগের হতাশা মুছে ভারত এমনভাবেই ফিরে এসেছে যে দ্বিতীয় ভাগটা তো বটেই, দিন শেষেও কিছুটা এগিয়ে রাখতে হচ্ছে তাদেরকেই।
কিছুটা এগিয়ে না বলে বলা যেত ‘দিনটা ভারতেরই’, যদি শেষ বিকেলে জহিরের বলে টিম পেইনের সহজ ক্যাচটি না ছাড়তেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দিন শেষে অবশ্য ধোনির কাছে এই আক্ষেপের চেয়েও বড় হয়ে থাকবে ম্যাচে ফিরতে পারার স্বস্তি। ক্যাচ ছাড়ার যে ‘দক্ষতা’ দেখিয়েছেন ভারত অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক, দিনটা তাঁদের জন্য হতে পারত পুরোপুরিই আক্ষেপময়। দিনের দ্বিতীয় বলেই জহিরের বলে গালিতে ওয়াটসনের ক্যাচ ছাড়েন বীরেন্দর শেবাগ। পরে প্রজ্ঞান ওঝার বলে এই ওয়াটসনেরই আরও সহজ ক্যাচ ফেলেছেন ধোনি। ০ ও ৩৭ রানে ‘জীবন’ পাওয়া ওয়াটসন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করে ভারতের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে এখনো উইকেটে। তবে আরেক প্রান্তে অন্তত ভারত ফিরিয়ে দিতে পেরেছে পাঁচ অস্ট্রেলিয়ানকে। ভারতের কৃতিত্বটা বেড়ে যাচ্ছে আরেকটা কারণে। চোট পেয়ে ইশান্ত শর্মা বাইরে চলে যাওয়ায় দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ভারতকে খেলতে হয়েছে তিন স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে।
ভারতের দুর্দান্ত ‘ফিরে আসা’ একটু আড়াল করে দিয়েছে, না হলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকার কথা ওয়াটসনের। এমনিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান, তবে কাল সহজাত প্রবৃত্তিটাকে দমিয়েই রেখেছিলেন। ধৈর্যের চূড়ান্ত প্রদর্শনী দেখিয়ে দিন শেষ করেছেন ১০১ রানে অপরাজিত থেকে। পন্টিংয়ের সঙ্গে তাঁর জুটিটার অসহায় মনে হচ্ছিল ভারতকেই। দলীয় ১৩ রানে সাইমন ক্যাটিচ আউট হওয়ার পর ১৪১ রানের জুটি। ভারতের মাটিতে রান না পাওয়ার আক্ষেপ মুছে দেওয়ার মিশনে আসা অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক খেলেছেন দুর্দান্ত, কিন্তু সুরেশ রায়নার নিখুঁত থ্রো শেষ করে দেয় তাঁর সম্ভাবনাময় ইনিংস। ইশান্তের বলে একবার উইকেটের পেছনে ধরা পড়েও অবশ্য বেঁচে গেছেন নো বল হওয়ায়।
অধিনায়ককে হারানোর পর নিয়ন্ত্রণটাও হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। সেই দায়ও নিজেদেরই নিতে হবে তাঁদের। অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানরা হঠাৎ করেই নিজেদের এতটাই গুটিয়ে নিলেন যে, মন্থর হতে হতে একপর্যায়ে প্রায় থেমেই গেল রানের গতি। প্রথম সেশনে যেখানে ২৮ ওভারে রান এসেছিল ১০১, পরের সেশনে সেখানে ২৯ ওভারে ৭৮, শেষ সেশনে ৩৩ ওভারে ৪৫! তাতে লাভ কিছু হয়নি। রানও ওঠেনি, উইকেটও পড়েছে। জহিরের রিভার্স সুইংয়ে শেষ বিকেলে হারিয়েছে তারা দুই বাঁহাতি মাইক হাসি ও নর্থকে।
‘জীবন’ পাওয়া ওয়াটসন আজ এলোমেলো ইনিংসটা গোছাতে চাইবেন ‘জীবন’ পাওয়া আরেক ব্যাটসম্যান পেইনকে নিয়ে।

টেলরের স্মৃতিতে সেই সেঞ্চুরি

ওয়ানডেতে সর্বশেষ ১০ ইনিংসে ৫টি ফিফটি। খারাপ ফর্মে আছেন, নিন্দুকেরাও বলতে পারবে না। রস টেলর তার পরও ঠিক স্বস্তিতে নেই। তিন অঙ্কের দেখা নেই যে বছর দুই হতে চলল! বাংলাদেশে এসে ব্যথাটা বুকে বাজছে বেশি করে। আবার বাংলাদেশ বলেই দেখছেন আশার আলোও!
নিউজিল্যান্ডের গত বাংলাদেশ সফরে এই টেলরের ব্যাটেই পিষ্ট হয়েছিল বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। মাশরাফি-জুনায়েদ-আশরাফুলের বীরত্বে প্রথম ম্যাচজয়ী বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছিল ৭৫ রানে। তৃতীয় ম্যাচে ১৩ রানের মধ্যেই প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা কিউইদের দুই ওপেনারকে তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টেলরের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি (১১৯ বলে ১০৩) নিউজিল্যান্ডকে এনে দেয় ম্যাচ জয়ের মতো স্কোর। ২৪৯ রান তোলা নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জেতে ৭৯ রানে।
ওই ম্যাচটি ছিল টেলরের ৪৮তম ওয়ানডে। এরপর খেলে ফেলেছেন আরও ৩৬টি ম্যাচ, ৩৫.৩০ গড়ে রান করেছেন ১০৫৯। কিন্তু সেঞ্চুরি থেমে আছে ওই তিনটিতেই। এই সময়ে ফিফটি অবশ্য পেয়েছেন ১০টি, আছে দলকে জেতানো ইনিংসও। কিন্তু তাতে কি সেঞ্চুরি না পাওয়ার দুঃখ ঘোচে! সেঞ্চুরি-তৃষ্ণা ইদানীং বড় বেশি অনুভব করছেন। যে তৃষ্ণা মেটানোর ভরসা পাচ্ছেন বাংলাদেশে এসে, ‘গত বাংলাদেশে সফরে চট্টগ্রামে করা সেঞ্চুরিটা ওয়ানডেতে আমার সর্বশেষ সেঞ্চুরি। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। একটা সেঞ্চুরি এখন বড্ড প্রয়োজন। আশা করি, গত সফরের স্মৃতিটা এবারও ফিরিয়ে আনতে পারব।’
সর্বশেষ যে টুর্নামেন্টটা খেলেছেন, তাতে অবশ্য খুব ভালো করতে পারেননি। চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ৫ ম্যাচে করেছেন ৬৪। তবে টি-টোয়েন্টি বলেই এটিকে পাত্তা দিতে চান না, ‘টি-টোয়েন্টি দিয়ে আসলে ফর্মের বিচার করা যায় না। টি-টোয়েন্টিতে বেশির ভাগ সময়ই উইকেটে গিয়ে ভাবনা-চিন্তার কোনো অবকাশ থাকে না। কিন্তু ওয়ানডেতে ইনিংস গড়ে তোলার সময় পাওয়া যায়। ওয়ানডেতে ভালো ফর্মেই আছি, আশা করি এই সিরিজেও ভালো করব।’
শুধু নিজেকে নিয়েই নয়, টেলরকে ভাবতে হয় এখন দল নিয়েও। বয়স মাত্রই ২৬, কিন্তু এই বয়সেই শুধু সিনিয়র ব্যাটসম্যানই নন, দলের সহ-অধিনায়কও। এটাকে অবশ্য মোটেই চাপ মনে করছেন না, বরং দায়িত্বকে মনে করছেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি, ‘সহ-অধিনায়কের দায়িত্বটা পেয়েছি মাস ছয়েক আগে, খুব উপভোগ করছি। শ্রীলঙ্কায় তো ক্যাপ্টেনসিও করলাম, সব মিলিয়ে ভালো লাগছে। দায়িত্ব আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করে, উৎসাহ পাই। খুব বেশি অবশ্য ভাবি না, শুধু জানি রান করতে হবে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
মনে কী আছে কে জানে, মুখে অন্তত ড্যানিয়েল ভেট্টোরির মতো বাংলাদেশকে সমীহ দেখাচ্ছেন টেলর। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানছেন স্পিনারদের, ‘স্পিন উপমহাদেশের সব দেশের জন্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। উইকেট নিশ্চিতভাবেই স্লো হবে আর বাংলাদেশের স্পিনাররাও আমাদের কাজ কঠিন করে তুলবে। গত ১২ মাসে বাংলাদেশ অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ঘরের মাঠে তারা শক্ত প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশকে আমরা যথেষ্টই সমীহ করি। লড়াইটা কঠিনই হবে।’
মাশরাফি-সাকিবরা নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের কথার মান রাখলে হয়!