Wednesday, May 3, 2017

বিমানের মধ্যে দুই যাত্রীর মারামারি

জাপানি একটি বিমানের মধ্যেই দুই যাত্রীর মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারধরের ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে অল নিপ্পন এয়ারলাইন্সে। এঘটনায় অভিযুক্ত এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। ওই ঘটনাটি ভিডিও করেন কয়েক সারির পেছনের যাত্রী কোরে আওয়ার। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন লাল শার্ট পরিহিত যাত্রী ধূসর শার্ট পরিহিত অপর যাত্রীকে মারতে যাচ্ছে। লাল শার্টের যাত্রী বলছে আমি তোমাকে হত্যা করবো।
এরপর ধূসর শার্টের যাত্রীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে সে। তাকে অবশ্য কয়েক ঘা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ধূসর শার্ট ওয়ালা। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর অন্য যাত্রীরা তাদের নিবৃত্ত করে। প্রধান অভিযুক্ত লাল শার্ট পরিহিত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। হামলার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান বিমানের এক কর্মচারী। কিন্তু কেনো তাদের মধ্যে এই ঝগড়া তা অবশ্য জানাতে পারেনি ভিডিও ধারক কোরে আওয়ার। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করতে ছিল। এঘটনায় বিমানটি ছাড়তে দেড় ঘণ্টা দেরি হয়। এজন্য দু:খ প্রকাশ করে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বাবা-মার সামনে ধর্ষিতাকে নগ্ন করে ‘পরীক্ষা’

ধর্ষকদের শাস্তি চাইতে থানায় গিয়েছিলেন ১৪ বছরের এক কিশোরী। কিন্তু থানা থেকে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন তা হয়তো তার জীবনে এক বিভীষিকা হয়ে থাকবে। থানায় যাওয়ার পর ধর্ষণের প্রমাণ দেখতে চাইলেন এক পুরুষ পুলিশকর্মী! শুধু দেখতে চেয়েই ক্ষান্ত হলেন না, ওই কিশোরীকে নগ্ন হয়ে দাঁড়াতে বললেন। পুলিশের সেই হুকুম তামিল করতে না চাওয়ায়, বাবা-মায়ের সামনেই জোর করে তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এতেই থামেনি পুলিশের ‘প্রমাণ’ নেয়ার পালা। আদৌ ধর্ষণ করা হয়েছে কি না তা ‘পরীক্ষা’ করে দেখতে এরপর কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন ওই পুলিশকর্মী। আর সবটাই করা হয় থানার ভেতরে,
অন্য কয়েকজন পুলিশ কর্মীর সামনে! গোটা ঘটনাটির কথা জানিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন ওই কিশোরীর বাবা। থানায় ওই দিন ঠিক কী হয়েছিল, তা অবিলম্বে জানাতে সোমবার হরিয়ানা পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এরপর মঙ্গলবার রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। গত বছরের ২০ নভেম্বর হরিয়ানার কৈথল থানায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। তার বেশ কিছু দিন আগে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ধর্ষণের পর মানসিক যন্ত্রণা ও প্রকাশ্যে আসার লজ্জা নিয়ে কিছুদিন নিজেকে সে গৃহবন্দি রেখেছিল। এ সব ধকল কাটিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন ধর্ষকদের বিচার চাইতে। এরপরেই তার কপালে জোটে পুলিশ কর্মীদের চরম অবহেলা এবং বাঁকা দৃষ্টি। তারপর ওই ভয়ানক অভিজ্ঞতা। আপাতত আদালতের ভরসাতেই রয়েছে ওই পরিবার। ভক্ষকের পাশাপাশি তাদের দাবি, রক্ষকের শাস্তিও।

দেশেই বিনোদনের ব্যবস্থা করবে সৌদি

নিজের দেশে বিনোদনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে সৌদি আরব। দেশটি মনে করছে, দেশের ভেতরে বিনোদন এবং অবকাশ যাপনের শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এটি গড়ে তুলতে পারলে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। বিশ্বের তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব। তেল বিক্রির অর্থে সৌদি আরবে যে বিলাসবহুল জীবন সেটি হয়তো আর বেশি দিন টিকবে না। এ ধারণা এখন ধীরে-ধীরে জোরালো হচ্ছে। সৌদি আরবের সরকারও সে বিষয়টি বুঝতে পারছে। শুধু তেল বিক্রি করে যে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না সেটি এখন পরিষ্কার। সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের ভেতরে বিনোদন এবং অবকাশ যাপনের শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এটি গড়ে তুলতে পারলে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। আল আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সালমান বলেন, দেশের ভেতরে অবকাশ যাপনের এবং বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সৌদি আরবের নাগরিকরা বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে। এ অর্থ দেশের ভেতরে রাখতে পারলে তেল বিক্রির উপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং শিগগিরই এ দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবার পর দেশটিও এখন তেলের বাজারে এসেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের যোগান আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সালমান বলেছেন, তেলের যাই হোক না কেন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে যেতেই হবে। তিনি বলেন, 'তেলের দামের সঙ্গে অর্থনৈতিক ভিশনের কোন সম্পর্ক নেই। তেলের দাম যদি বাড়ে তাহলে সেটি আমাদের জন্য ভালো হবে। তেলের দাম যদি কম থাকে সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক ভিশনের মূল লক্ষ্য পরিচালিত হচ্ছে।' সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ২০২০ সালে যদি তেল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও সৌদি আরব চলতে পারবে। সালমান বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে বর্তমানে সৌদি আরবের মানুষের জীবনযাত্রা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জীবনের মধ্যে অন্যতম। 'সমস্যা হচ্ছে মানুষের হাতে অর্থ থাকলেও সেগুলো খরচ করার কোনো জায়গা দেশের ভেতরে নেই। পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের উপার্জন সৌদি আরবের চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও তাদের জীবনযাত্রার মান ভালো।
কারণ সেসব দেশে বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা আছে। সেসব দেশের নাগরিকদের উপার্জন কম হলেও তারা সে অর্থ খরচ করতে পারে এবং উপভোগ করতে পারে,' বলছিলেন সালমান। তিনি মনে করেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামিক জাদুঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষের। এ জাদুঘর যাতে ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করবে তারা। সালমান বলেন, 'পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক দেশে একটি ইসলামিক জাদুঘর নেই। এটা কীভাবে সম্ভব? যখন কোন অমুসলিম সৌদি আরবে আসে তখন সে ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনা । কারণ সে কোন জায়গা খুঁজে পায়না যেখানে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে।' তিন জানান, সৌদি আরব সরকার বর্তমানে দু'ভাবে তাদের আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একটি হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অপরটি হচ্ছে তেল বিক্রির বাইরে অন্য খাত থেকে আয় করা। সৌদি আরব সরকার 'গ্রিন কার্ড' ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি ভাবছে বলে জানান ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স। 'আমাদের দেশে দেশে অনেক বিদেশী বসবাস করে। এরা মুসলিম অথবা আরব। অনেকে দশ-বিশ বছর ধরে বসবাস করছে। অনেকে সৌদি আরবে স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু তারা দেশের বাইরে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছে। তারা সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং সমাজের অংশীদার হতে চায়। কিন্তু তারা পারছে না। আমরা যদি তাদের সে সুযোগ দেই তাহলে আমাদের দেশে বিনিয়োগ বাড়বে,' বলছিলেন সালমান। তিনি বলেন, এর অর্থ বিদেশীদের সৌদি আরবে নাগরিকত্ব প্রদান নয়, বরং তারা যাতে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটি চালু হবে বলে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স আশা করেন।

আত্মরক্ষার কৌশল

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় যে কোনো মুহূর্তেই বোমা হামলা হতে পারে। এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে সিরীয় শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল শিক্ষা দিচ্ছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী দা হোয়াইট হেলমেট। মঙ্গলবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দামেস্কের উপকণ্ঠের হারাস্তা এলাকার একটি স্কুলে তাদের নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচি ক্লাসের একটি দৃশ্য -এএফপি

‘ইসলামবিদ্বেষী’ ট্রাম্পের উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন!

হাঙ্গেরির উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হোয়াইট হাউসের পদ ছাড়তে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা সেবাস্তিয়ান গোর্কাকে। সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে যোগ দেন ট্রাম্প প্রশাসনের উপদেষ্টা হিসেবে।
গোর্কা যেকোনো সময় পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভ টিমে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাম্পের এ উপদেষ্টা। ইসলামবিদ্বেষী নীতির কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন গোর্কা। ইসলামের ধর্মতত্ত্বের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদ নিহিত আছে বলে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন তিনি। দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, লিবিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা ছিল গোর্কার।

কিম জংয়ের সাক্ষাৎ পেলে ‘সম্মানিত হব’ : ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাক্ষাৎ পেলে সম্মানিত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোরীয় উপদ্বীপে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে সোমবার ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তার (কিম) সঙ্গে আমার সাক্ষাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অবশ্যই আমি তা করব। এটা করতে পারলে আমি সম্মানিত বোধ করব।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে কিমের সঙ্গে সাক্ষাতে রাজি আছেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসি ও সিএনএনের এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্ষমতাসীন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তাই ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা বিতর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গের সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারের পর তার ব্যাখ্যা দেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার। তিনি বলেন, ‘তাদের সাক্ষাতের আগে উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই কিছু শর্ত মানতে হবে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণু কর্মসূচির সমাপ্তি দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।’ এর আগে রোববার মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কিমকে ‘অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত’ আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২৬-২৭ বছর বয়সে তিনি (কিম) বাবাকে হারান। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই অনেক কিছু মোকাবেলা, বিশেষ করে জেনারেলদের সঙ্গে লড়াই করে তাকে নেতা হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত বহু মানুষ তার কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে চেয়েছে। হয়তো তার ফুফা তার কাছ থেকে ক্ষমতা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি তা হতে দেননি। কাজেই বোঝাই যায়, তিনি অত্যন্ত সেয়ানা লোক।’ এদিকে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেম থাড সচল হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পদ্ধতিটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক মাস লাগলেও এটি এখনই পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিতে পারবে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহে সিউলে কয়েক দিনের মধ্যেই থাড সিস্টেম মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছরের শেষ দিকের আগে এটি ব্যবহার উপযোগী হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন,
‘থাড এখন কোরিয়া প্রজাতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।’ তবে পদ্ধতিটির এখন ‘শুধুমাত্র প্রাথমিক বাধা দেয়ার সক্ষমতা’ আছে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। পদ্ধতিটির অন্যান্য অংশ যুক্ত হওয়ার পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান তিনি। টার্মিনাল হাই অ্যালটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কাউন্টি সেয়ংজুর একটি পরিত্যক্ত গলফ কোর্সে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে এটি স্থাপনের প্রতিবাদে আশপাশের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছে। স্থানীয় অনেকের ধারণা, সিস্টেমটি সম্ভাব্য একটি লক্ষ্যস্থল হওয়ায় তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ সিস্টেম বসানোর প্রতিবাদ করেছে চীনও। তাদের ধারণা, থাডের রাডারের পরিধির কারণে তাদের সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানেও হস্তক্ষেপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি-পাল্টাহুমকিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও একমাত্র ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের সংযমের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পারমাণু বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে এমন ধারণা থেকে সৃষ্ট উদ্বেগ উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা থেকে বিরত রাখতে কোরীয় উপদ্বীপের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরীসহ নৌবহর ও সাবমেরিন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রবিরোধী সিস্টেমও এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হল।

কিমের ‘নির্দেশ পেলেই’ পরমাণু বিস্ফোরণ

কোরীয় অঞ্চলের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে উত্তর কোরিয়া যে কোনো মুহূর্তে নতুন পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। সোমবার পিয়ংইয়ং জানায়, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন যে মুহূর্তে এবং যেখানে বিস্ফোরণ চাইবেন সেই মুহূর্তে সেখানেই পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটবে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু যুদ্ধের প্রান্তে ঠেলে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনীর সঙ্গে মহড়া দিতে দুটি মার্কিন বোমারু বিমান কোরীয় উপদ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার পর এ অভিযোগ করে পিয়ংইয়ং। খবর সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অগ্রাহ্য করে উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুটি সুপারসনিক বি-১বি লান্সার বোমারু বিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেম থাড সচল করা হয়েছে। সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুন সাং গিউন জানান, উত্তর কোরিয়ার উসকানি এবং আরেকটি সম্ভাব্য পরমাণু পরীক্ষা থেকে দেশটিকে বিরত রাখতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া চালায়।
এক বিবৃতিতে মার্কিন বিমানবাহিনী জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিমানবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিতে বোমারু বিমান দুটি গুয়াম দ্বীপপুঞ্জ থেকে সিউলে গেছে। উত্তর কোরিয়া বলেছে, বোমারু বিমানগুলো তাদের এলাকায় ‘বড় ধরনের স্থাপনায় পরমাণু বোমা হামলার মহড়া দিয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, বেপরোয়া এ সামরিক উসকানি কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে একটি পরমাণু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে পরবর্তী পরমাণু বিস্ফোরণের বিষয়ে ইঙ্গিত মিলেছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আমেরিকা যে পথে লড়তে চায়, উত্তর কোরিয়া ঠিক সেই পথেই জবাব দিতে প্রস্তুত। কেসিএনএ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যতক্ষণ না ওয়াশিংটন তার আগ্রাসী নীতি ত্যাগ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু হামলার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে থাকবে। নিজেদের পরমাণু অস্ত্রাগারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে উত্তর কোরিয়া এত দিন যেভাবে এগিয়েছে, এখনও সেভাবেই এগোবে। দেশের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নির্দেশ পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওই মুখপাত্র।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন ভারতের : উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় গত সপ্তাহে ভারত এ সম্পর্ক বিচ্ছেদের ঘোষণা দেয়। তবে ওষুধ ও খাদ্য এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে। এই প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত। কয়েক দশক ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে ফেরাতে চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

জামিন পেলেন সাংবাদিক আহমেদ রাজু

নিম্নমানের পণ্য ও ক্রেতাদের ভোগান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে ওয়ালটনের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক আহমেদ রাজু। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের আদালত ওই মামলায় তাকে জামিন দেন। আহমেদ রাজুর আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, রমনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে জামিনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির আরেকটি মামলায় তিনি রিমান্ডে রয়েছেন। আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রহিম মিয়া। গত রোববার রাতে রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা একটি মামলায় আহমেদ রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে এ মামলায় একদিনের রিমান্ড দেয় আদালত। এদিকে আহমেদ রাজুকে হয়রানি বন্ধ ও তার মুক্তি দাবি করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ৫৭ ধারা বাতিল ও এই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল নতুনসময়ডটকম-এ ‘ওয়ালটন মোবাইল ক্রেতাদের গলার কাঁটা’ শিরোনামে এবং ২৪ এপ্রিল ‘ওয়ালটন মোবাইলের ভোগান্তি, ক্ষোভে উত্তাল ফেসবুক’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত শনিবার রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন ওয়ালটন গ্রুপের আইন বিভাগের সহকারী পরিচালক টি এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ। এ মামলায় অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নতুনসময় ডটকমের সম্পাদক শওগাত হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ রাজু ও ডেইলি শেয়ার বিজ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেলকে আসামি করা হয়। পরদিন রোববার পল্টন থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে নতুনসময় ডটকমের শওগাত হোসেন, আহমেদ রাজু ও বিপণন কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন ওয়ালটন গ্রুপের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম।

বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা: আরও একজন গ্রেফতার

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবা-মেয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় শহীদ (৪০) নামে আরেক জনকে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে গোসিংগা ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শহীদ কর্ণপুর গ্রামের মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই মামলার প্রধান আসামি ফারুকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে নিশ্চিত করেছে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার আহমেদ।
শহীদ এ মামলার ছয় নাম্বার আসামি। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়সার আহমেদ জানান, তাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোসিংগা ইউনয়ন থেকে শহীদকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গোসিংগা ইউনয়নের কোন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। এদিকে, গ্রেফতার শহীদের স্ত্রী শেফালী আক্তার জানান, তার স্বামীকে রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে শ্রীপুর থানা পুলিশ। তাকে কেন থানায় নেয়া হচ্ছে, জিজ্ঞাসা করলে স্যার বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। পরে সকালে জানতে পারি সে হযরত আলী ও আয়েশা আত্মহত্যা মামলার আসামি।

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস নিয়ে সিদ্ধান্তে ৮ সদস্যের কমিটি

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বাস থাকবে কিনা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআরটিএ'র পরিচালক  শেখ মাহবুব ই রব্বানী। তিনি বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বাস চলাচলের অনুমোদন নেই। কিন্তু নগরে এখন প্রায় সব বাসই সিটিং সার্ভিস। আমরা তা বন্ধে অভিযানে নামার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মালিক-শ্রমিক বাস বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৫ দিন পর সিটিং সার্ভিসের বাস চলাচল নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল। বিআরটিএ'র এই কর্মকর্তা বলেন, কিন্তু বাস মালিক-শ্রমিক এবং বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। মাহবুব ই রব্বানী ওই কমিটির প্রধান তিনি নিজে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বাস থাকবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ এপ্রিলের পর থেকে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআরটিএ। এরপর ১৬ এপ্রিল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও বাস-মালিক শ্রমিকরা সড়কে বাস চলাচল কমিয়ে দেয়।
এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। এই প্রেক্ষাপটে ওই দিন তেঁজগাওয়ে পরিবহনে অনিয়ম ঠেকাতে বিআরটিএ অভিযান পরিচলনা করে। ওই অভিযান পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা হবে, যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা হবে। কিন্তু তৃতীয় দিনের মাথায়ও সড়কে যখন গাড়ি স্বল্পতা দেখা দেয়- তখন মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকরা প্রভাবশালী-তারা অনেক ক্ষমতাবান। এরপর পরদিন ১৯ এপ্রিল রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল বিষয়ে ১৫ দিন পর বিআরটিএ'র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জানানোর কথা বলা হয়। বিআরটিএ'র এ ঘোষণায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ফের রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের বাস চলাচল শুরু হয়। এদিকে আজ ১৫ দিনের মাথায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বাস থাকবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আট সদস্যের কমিটি গঠন এবং কমিটি ৩ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানাল। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীতে অঘোষিতভাবেই সিটিং সার্ভিসের বাস চলাচলে আপাতত বাধা উঠে গেল। এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান জানান, সিটিং সার্ভিস চললেও তাতে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া নিতে হবে। বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। তিনি জানান, নির্ধারিত ১৫ দিন শেষে আজ নতুন করে তিন মাসের সময় বেঁধে দিয়ে আট সদস্যের কমিটির করা হয়েছে।

খাসজমিতে ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে: প্রধানমন্ত্রী

ভূমিহীন মানুষকে খাস জমিতে ঘর করে দেয়ার মাধ্যমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গৃহহারা মানুষের ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। আপনারা ভালো থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের কাছে গৃহহীন মানুষের তালিকা চাওয়া হয়েছে। একটা ঘর দিলে তারা নিজেরাও পরে ভালো করে বাড়ি তৈরি করতে পারবে।’ শেখ হাসিনা জানান, নিঃস্ব, অসহায় মানুষের ঠিকানা দিতে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা অসহায়, পঙ্গু তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় টাকা দেয়া হচ্ছে। আমরা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে সহায়তা দিচ্ছি।’ লালমনিরহাট, ফরিদপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধাসহ সাতটি জেলার ১০টি উপজেলায় ১১টি গুচ্ছগ্রামের উদ্বোধন করেন তিনি।

৫৭ ধারা বাদ দেয়ার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ‘বিতর্কিত’ ৫৭ ধারা বাদ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাকস্বাধীনতা হরণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। মঙ্গলবার রাজধানীতে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এদিনই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পুরোপুরি কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। ভিন্নমত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে সরকার সবকিছুই করছে। ২০০৬ সালে প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেশেও রয়েছে। এই ধারাটিকে মতপ্রকাশের অধিকারের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন গণমাধ্যম ও অধিকারকর্মীরা। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, তা হবে অপরাধ।
এর শাস্তি ৭ থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা জরিমানা। সাইবার অপরাধ দমনে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। তা প্রণীত হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এতে অঙ্গীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আনিসুল হক খেলাঘর আসরের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নতুন ডিজিটাল আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে৷ এ আইনে ৫৭ ধারার বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। সেইসঙ্গে এ সরকারের যে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, তা এ আইনে প্রমাণ করে দেয়া হবে।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শিগগির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করা হবে।’ সুপ্রিমকোর্টে স্থাপিত ভাস্কর্যটি নিয়ে সরকারের বিরোধিতা আর ইসলামী গোষ্ঠীর বিরোধিতা এক নয় বলে বোঝাতে চেয়েছেন আনিসুল হক।

খালেদা জিয়ার অফিসের কাছে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অফিসের অদূরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ৮৬ নম্বর সড়কের উত্তরপ্রান্তে পরপর দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ওই রোডেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অফিস। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে খালেদা জিয়া তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ৮৬ নম্বর সড়ক এবং এর আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল আহাদ ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি। গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের আনুমানিক চারশ’ গজ উত্তরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কারা ককটেল ছুঁড়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাস্থল থেকে এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, ফাঁকা জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরিত দ্রব্য আসলে ককটেল কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। এজন্য আলামত সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে যাদের স্থান হয়নি তারা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। মঙ্গলবার দিনভর এ নিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পদবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয়েই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জাতীয় পার্টির

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি। মঙ্গলবার রাতে পার্টির সংসদীয় দলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ পার্টির বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এখনই সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, এরশাদ এবং রওশন এরশাদ কার্যকর বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এখনই সরকার থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে বক্তব্য দেন। এ সময় বেশিরভাগ সংসদ সদস্য তাদের দু’জনের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। বৈঠকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি হারিয়ে গেছে। এখন দেশের মানুষের কাছে একমাত্র ভরসার জায়গা জাতীয় পার্টি। পার্টির উচিত মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখা।
রওশন এরশাদ এ সময় এরশাদের এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকায় জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ প্রশ্ন দূর করতে সরকার থেকে জাতীয় পার্টিকে বেরিয়ে আসতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত বেশিরভাগ সংসদ সদস্য এরশাদ ও রওশন এরশাদের এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানালেও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সরকার থেকে জাতীয় পার্টির বেরিয়ে আসার সময় এখনও হয়নি। উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন : পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

এরশাদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্যজোট’

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ৭ মে ‘জাতীয় ঐক্যজোট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তিনি। সোমবার মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে দিনক্ষণ নির্ধারণ করে জাপা চেয়ারম্যান জোট গঠনের এ ঘোষণা দেন। জানা গেছে, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান শেখ সেকেন্দার আলী মনির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) এবং জাতীয় ইসলামী মহাজোট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন নয়া জোটের সঙ্গে থাকছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ইসলামী দল নতুন এ জোটে শরিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়। জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যজোট নামে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করা হবে। বিএনএ, জাতীয় ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কয়েকটি ইসলামী দল এ জোটের শরিক হিসেবে থাকছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে কারা কারা এ জোটে থাকছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে।’ বাংলাদেশ জাতীয় জোট বিএনএ’র চেয়ারম্যান শেখ সেকেন্দার আলী মনি এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন চাই। সেজন্য এরশাদের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিচ্ছি। আমরা মনে করি, এরশাদের নেতৃত্বে ৭ মে যে নতুন জোট গঠন হবে, সেই জোট এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’ জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারাও দলটির নেতৃত্বে নয়া জোট নিয়ে আশার কথা বলছেন। তারা বলছেন, এ জোট হবে আগামী দিনের ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক শক্তি। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, ‘দেশে জোটের রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আছে। কোন দলের কত ভোট আছে, সেটি মূল কথা নয়, দেশের মানুষ দেখতে চায় এরশাদের সঙ্গে কয়টি দল আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ও ১৪ দলীয় জোটের বেশিরভাগ শরিক দলের জনভিত্তি নেই। তারপরও শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া জোটের রাজনীতিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন।
দেশের সাধারণ মানুষও চান, আমাদের নেতা এরশাদের নেতৃত্বে নতুন একটি জোট হোক। তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ৭ মে আমরা নতুন জোট গঠন করতে যাচ্ছি। আর এ জোট হবে আগামী দিনের ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক শক্তি।' এর আগে ১ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে ৩৫টি ইসলামী রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় ইসলামী ঐক্যজোট নামে একটি ইসলামী জোট গঠন করা হয়। এ জোটর শরিকরা হচ্ছে- ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণ-ইসলামিক জোট, পিপলস জাস্টিস পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামিক লিবারেল পার্টি, জাতীয় শরিয়া আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ পার্টি, ইউনাইটেড ইসলামিক লীগ, জমিয়তে মুসলিমিন বাংলাদেশ, ন্যাপ- ভাসানী, খেলাফত সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, ইসলামী গণ-আন্দোলন, জাতীয় ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তুল ওলামা পার্টি, জাতীয় ইসলামিক মুভমেন্ট, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশ, ইনসানিয়াত পার্টি, খেলাফত বাস্তবায়ন পার্টি, ইসলামী আকিদা সংরক্ষণ পার্টি, ইসলামী সংরক্ষণ পার্টি, মুসলিম জনতা পার্টি, ইসলামী আকিদা সংরক্ষণ আন্দোলন, খেদমতে খালক পার্টি, ওলামা মাশায়েখ সমন্বয় পরিষদ, ইউনাইটেড ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামী পার্টি, ইসলামী সমাজকল্যাণ আন্দোলন, বাংলাদেশ ইত্তেহাদুল মুসলিমিন, বাংলাদেশ খেলাফাতুল উম্মাহ, বাংলাদেশ আকিমুদ্দিন মজলিস, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জমিয়তুল হেদায়াহ মুভমেন্ট। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন নতুন জোটে এ দলগুলো শরিক হিসেবে থাকছে। এছাড়া যুক্ত হচ্ছে সেকেন্দার আলী মনির নেতৃত্বাধীন বিএনএ জোটের আরও ২১টি রাজনৈতিক দল।

আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যাব, যেতে চাই: খালেদা জিয়া

বর্তমান সরকার নয়, ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, এদের (বর্তমান সরকার) অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আমরা বলছি, অবশ্যই আমরা নির্বাচনে যাবো, নির্বাচনে যেতে চাই। তবে সেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।' সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা অনেক নির্বাচন দেখেছি। সেগুলো কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। সেজন্য আমরা পরিষ্কারভাবে জাতিকে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি।' মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, 'এখন তারা তাদের সম্পদ গোটাতে ব্যস্ত। কাজেই তারা পালাবার জন্য তৈরি হোক আর আমরা জনগণকে নিয়ে দেশ রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।' দল ও অঙ্গসংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের সব সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে, শ্রমিক দলকেও পূণর্গঠন করতে হবে।
যতই আমাদের সংগঠন শক্তিশালী হবে ততই এই লুটেরাদের ভয় বাড়বে। তারা জানে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না।' শ্রমিক দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন। ক্ষমতাসীন দলের ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, 'তারা (ক্ষমতাসীন দল) এতোই বেপরোয়া হয়ে গেছে, তারা মানুষকে মানুষ মনে করে না। তারা মনে করে পুলিশ বাহিনী আছে আমাদের। তাদের দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করবো।' গুম, খুন, হত্যা ও নির্যাতনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি দোষারোপ না করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, 'সরকার তাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছে এই সব অন্যায় কাজ করার জন্য।' তিনি বলেন, 'র‌্যাব বা পুলিশ বাহিনী তারাও মানুষ, তারাও বুঝতে পারবে, তাদেরও পরিবার আছে, আত্মীয়-স্বজন আছে। তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) নিশ্চয় জানে যে, তাদেরকে দিয়ে এসব কাজ জোর করে করাচ্ছে। হুকুমদাতারা পালাবার পর তাদের ওপরই এই অন্যায়-অপরাধের দোষ পড়বে।'

আত্রাইয়ে গভীর নলকুপের গর্তে পড়ে শিশু নিহত

নওগাঁর আত্রাইয়ে তিলাবাদুরি জামগ্রাম গ্রামের একটি মাঠে শ্যালো মেশিনের নলকুপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে আট বছরের শিশু রাকিব আলীর মৃত্যু হয়েছে। রাকিব আলী ওই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তিন ঘন্টা অভিযান চালিয়ে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক তার ছেলে রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে ধান কাটতে যায়। বাবা ধান কাটার কাজ করছিলেন।
এসময় ছেলে রাকিব খেলা করছিল। একপর্যায়ে বাবা শিশু রাকিবকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকেন। পরে শ্যালো মেশিনের নলকুপের পরিত্যক্ত গর্তের কথা মনে পড়ে তার। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে শিশু সন্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন তিনি। এদিকে খবর পেয়ে আত্রাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তিন ঘন্টার অভিযান চালিয়ে শিশু রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ব্যাপারে কোনো মালা হয়নি।

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সংঘর্ষে চাচা খুন

ভাতিজিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দু'পক্ষের সংঘর্ষ খুন হয়েছেন এক চাচা। মঙ্গলবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পৌরসভার আলাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চাচার নাম মানজু মিয়া(৩৫)। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছে নারীসহ কমপক্ষে আরও ২০ জন। নিহতের ভাই আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, একই গ্রামের বেনু মিয়ার ছেলে সাব্বির প্রায়ই তার শিশু কন্যাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। আমার ভাই মানজু মিয়া এর প্রতিবাদ করলে মঙ্গলবার বিকালে বেনু মিয়ার লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে। স্থানীয়রা জানায়, এসময় দু'পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে আব্দুর রহিমের ভাই মানজু মিয়াসহ আরো ২১ জন আহত হয়। তাদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে মানজু মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে স্থানান্তর করে। সেখানে যাওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়। মাধবপুর থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, এ ঘটনায় এখানো কেউ অভিযোগ করেননি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

সিংড়ায় সড়কে প্রাণ গেল দুই ব্যবসায়ীর

নাটোরে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার মালিহাট গ্রামের মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫০) ও একই গ্রামের পলানের ছেলে টুকু (৪০)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের জামতলী এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যবসায়ী।
তাদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে জয়পুরহাট থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে সিংড়া উপজেলার জামতলী এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয় অপর দুই ব্যবসায়ী। তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় কলেজছাত্রী সাবরিনা আক্তার বন্যা (১৯) বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে  আত্মহত্যা করেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ষাটঘর তেওতা এলাকা থেকে ওই ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বন্যা একই এলাকার আব্দুল মোমিন মিয়ার মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অর্নাস ১ম বর্ষের ছাত্রী। শিবালয় থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্যে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ওসি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের ১৭১ গেট কিপার ছাঁটাই

ছয় মাসের বেতন বকেয়া রেখে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৭১ গেট কিপারকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিনা নোটিশে মঙ্গলবার সকালে অস্থায়ী এসব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা এ শ্রমিকরা। এদিকে ছাঁটাই হওয়ার পর বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সিটি বাইপাস রেলক্রসিংয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। ছাঁটাই হওয়া গেট কিপাররা জানান, পশ্চিম রেলের গেট কিপারসহ অন্যান্য অস্থায়ী কর্মচারীদের গত ৬ মাস ধরে বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল তারা প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী না থাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে রেলওয়ের গেট কিপাররা প্রতিটি গেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় প্রতিটি গেটে গিয়ে রেলওয়ের ওয়েম্যানরা গেট কিপারদের বলেন, পশ্চিম রেলের সব গেট কিপারকে মৌখিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন থেকে গেট কিপারদের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নগরীর সিটি বাইপাস গেটে ১৭ বছর ধরে অস্থায়ীভাবে চাকরি করছিলেন গেট কিপার দিপু মিয়া (৪৫)। ওয়েম্যানদের এমন কথা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। দিপু মিয়া বলেন, তার মতো প্রায় সব গেট কিপার বহুদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে বছরের প্রতিটি দিন তারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এখন তাদের ছাঁটাই করার ঘোষণা দেয়া হলো।
এতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। শাহাদাত হোসেন বাচ্চু (৩৫) নামে অপর এক গেট কিপার বলেন, তারা জানতে পেরেছেন রেলওয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) মৌখিক নির্দেশে পশ্চিম রেলের মোট ১৭১ গেট কিপারকেই ছাঁটাই করা হয়েছে। এ জন্য আগে থেকে তাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। এখন তাদের জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন রেললাইন মেরামতের কাজে নিয়োজিত স্থায়ী কর্মী ওয়েম্যানরা। প্রায় ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা এই শ্রমিক বলেন, তাদের সরকারি চাকরির বয়সের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন এভাবে তাদের ছাঁটাই করা হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন পার করতে হবে। তাই চাকরি ফিরিয়ে দিয়ে স্থায়ী করার দাবিতে বুধবার তারা রেলভবনে যাবেন। দাবি মানা না হলে তারা আন্দোলন করবেন। চাকরি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রয়োজনে তারা শ্রম আদালতে মামলা করবেন। অস্থায়ী কর্মীদের এভাবে ছাঁটাইয়ের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী প্রথমে কর্মীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,‘বাড়ির কাজের লোককে বেতন দিতে না পারলে কী করে? কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিষয়টি তেমনই। রেল কর্তৃপক্ষ গেট কিপারদের বেতন দিতে পারছে না। এ জন্যই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।’

শিশু রাকিব হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

খুলনার আলোচিত শিশু রাকিব হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে দুই আসামিকে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের স্বাক্ষরের পর বুধবার এ রায় প্রকাশ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল এ মামলার প্রধান আসামি মোঃ শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। এর আগে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর শিশু রাকিব (১২) হত্যার দায়ে আসামি মোঃ শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুর ফাঁসির আদেশ দেন খুলনার বিচারিক আদালত।
রায়ে এ মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায় দু'দিনের মধ্যে রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এরপর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি হাইকোর্টে শিশু রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামে মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতন করে রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরের দিন রাকিবের বাবা মোঃ নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, শরীফের সহযোগী মিন্টু খান ও মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। বহু আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলা হওয়ার ৯৬ দিন পর রায় ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রামে পুলিশের 'ব্লক রেইডে' ১১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার

চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট এলাকায় 'ব্লক রেইড' অভিযানে মাটি খুঁড়ে ১১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে 'মাদকের আখড়া' হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনিতে অভিযান পরিচালনা করে এগুলো জব্ধ করা হয়। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোঃ আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভোর রাত ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পুলিশ মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনি ঘিরে অভিযান চালায়।
এসময় কলোনির একটি স্থানের মাটি খুঁড়ে বড় বড় ড্রামে রাখা ১১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ১১ বস্তায় প্রায় ২ হাজার তিনশ' ছয়টি ফেনসিডিলের বোতল রয়েছে। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। আবদুর রউফ বলেন, নগরীর বরিশাল কলোনিতে বস্তি গড়ে উঠেছে। এই স্থানটি এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে মাদকবিরোধী অভিযানে এসে বেশ কয়েকবার পুলিশ বাধার সম্মুখিন হয়েছেন। এমনকি পুলিশের ওপর হামলাও হয়েছে। তিনি বলেন, তাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে কলোনিটিতে 'ব্লক রেইড' অভিযান পরিচালনা করা হয়।

একটি সেতুর জন্য ৮ গ্রামের মানুষের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে একটি সেতুর অভাবে আট গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এক বছর পূর্বে ওই আট গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে তাদের চলাচলের একমাত্র পথ ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের জোকনালা ও চর জোকনালা গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হুরাসাগর নদীর উপর একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছিল। এ বছর তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ওই স্থানে সেতু নির্মাণের দাবিতে আট গ্রামের ভুক্তভোগি মানুষ হুরাসাগর নদীর পাড়ে বাঁশের সেতুর উপর ও নিচে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছে। ভুক্তভোগি মানুষজন জানায়, এ স্থান দিয়ে আটটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এটিই তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতে নদী পার হতে নির্ভর করতে হয় একটি নৌকার উপর। তারা জানায়, সন্ধ্যার পর নৌকা থাকে না। মাঝি নৌকা নিয়ে চলে যায়। এরপর যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তারা যাতায়াত করতে পারে না। যুগ যুগ ধরে ওই আটটি গ্রামের মানুষ এমন যোগাযোগ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন- অথচ দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসী জানায়, বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের জোকনালা ও চর জোকনালা গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে হুরাসাগর নদী।
আর এ নদীর চর জোকনালা গ্রামের ত্রি-মোহনী নৌকা ঘাট দিয়েই পারাপার হতে হয় চর জোকনালা, ভুতিয়াপারা, ক্ষিদ্র জোকনালা, শ্যালবরিশা, গোবিন্দপুর, খাস সোনামুখী, সগুনা ও পার সগুনা গ্রামের মানুষদের। এলাকাবাসী জানায়, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও হাসপাতালসহ সবকিছুই নদীর পূর্ব পারে হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষদের কাঁচা রাস্তা পায়ে হেঁটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নৌকা পারাপারের জন্য। বেশী সমস্যা হয় রুগীদের নিয়ে। রাত হলে পাওয়া যায় না নৌকার মাঝিকে। যে কারণে এই ডিজিটাল যুগের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষগুলো একটি সেতুর অভাবে। মানববন্ধনে ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার গাজী ফজলুল হক ভাষানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ একেএম ইউসুফজী খান, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ গাজী সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান, সমাজ সেবক আবুল কাশেম মাস্টার, ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী, যুব সমাজের সদস্য সোনিয়া আকন্দ, শামীম হোসেন প্রমুখ।

কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনতাই, আহত ৪

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোস্টগার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তা ওপর হামলা চালিয়ে জব্দকৃত প্রায় ১০ লাখ চিংড়ি পোনা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় আহত হয়েছেন উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাসহ চারজন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে কোস্টগার্ড ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিবিরহাট গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন,  কোস্টগার্ড সদস্য মো. আহসান, আহসান ও নৌকার মাঝি নুর আলম। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রামগতি উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন,  মেঘনা নদী থেকে ধরা ৭০ পাতিলে প্রায় ১০ লাখ চিংড়ি পোনা ট্রাকে করে অন্যত্র নেয়া হচ্ছিল।
এমন খবরে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ চিংড়ি পোনা জব্দ করে। জব্দকৃত চিংড়ি পোনা নদীতে অবমুক্ত করার সময় দুর্বৃত্তরা ইট নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে চিংড়ি পোনাগুলো ছিনিয়ে নেয়। এসময় ছোঁড়া ইটে দুই কোস্টগার্ড সদস্য ও নৌকার মাঝিসহ আমরা চারজন আহত হই। এসময় আত্মরক্ষায় কোস্টগার্ডও গুলি চালায়। রামগতি কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার তসলিম উদ্দিন জানান, জব্দকৃত মাছ নদীতে অবমুক্ত করার সময় আমাদের ওপর হামালা চালানো হয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর রামগতি ও কমলনগরে একটি চক্র নেট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা শিকার করে। এতে চিংড়ি পোনার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে আখেরে সবাই পরাজিত হয়

একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক গত ২৯ এপ্রিল ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- বৈশ্বিক সূচকে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ ছেপেছে। এর সূচনায় লেখা হয়েছে, ‘গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যে আরও সংকুচিত হয়েছে, তা অনুধাবন করার জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষণের দিকে না তাকালেও চলে। এ দেশের গণমাধ্যমে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিক থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নাগরিক পর্যন্ত প্রত্যেকেই তা উপলব্ধি করছেন। তথাপি প্যারিসভিত্তিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) সর্বসাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান আমলে নেয়া প্রয়োজন।’ আরএসএফের প্রতিবেদন বলছে, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ গত এক বছরে দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে ভালো থেকে খারাপের দিকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪৬তম। আগের বছর আমাদের স্থান ছিল ১৪৪তম।’ গত ২-৩ দশক ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থা বিশ্বের দেশগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের সূচক প্রকাশ করে আসছে। এসব সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে বিতর্ক থাকলেও এগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। Human Development Index, Global Competitiveness Index, Cost of Doing Business Indexmn বহু রকমের সূচক প্রতি বছরই প্রকাশিত হচ্ছে। এরকম সূচক প্রকাশের রেওয়াজ আগে ছিল না। বিশ্বায়নের সর্বসাম্প্রতিক পর্ব সূচিত হওয়ার পর থেকে এ রকম সূচক প্রকাশের রেওয়াজ শুরু হয়েছে। এর একটি বড় কারণ হল বিশ্বায়িত পৃথিবীতে কোন্ দেশ কী অবস্থানে রয়েছে তা বিশ্বায়ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর জানা প্রয়োজন। এসব সূচক শুধু মানুষকে সচেতন করার জন্যই তৈরি করা হয় না, এগুলোর একটি বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তিগুলোকে পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণের জন্য ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া। কাজেই এসব সূচককে রাজনীতি কিংবা মতাদর্শমুক্ত বলা যায় না।
অনেক সূচকের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সূচক হচ্ছে Failed State Index। এ সূচকের মাধ্যমে জানান দেয়ার চেষ্টা করা হয় কোন্ রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নির্ণয়ের জন্য অনেক অনুঘটককে ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্রের অভাব, গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি, জাতিগত সংঘাত, দুর্নীতি, সুশাসনের অনুপস্থিতিসহ আরও অনেক কিছু। একটি রাষ্ট্র যখন ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগিয়ে যায় তখন এর জন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সেই রাষ্ট্রের প্রতি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর অভীপ্সা এ উভয় কারককে দায়ী করা যায়। একসময় ইরাক ও লিবিয়া উভয় রাষ্ট্র ছিল খুবই স্থিতিশীল। অবশ্য এসব রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিক স্বাধীনতা না থাকার জন্য প্রচণ্ড মনোকষ্ট ছিল। কিন্তু এ সত্ত্বেও রাষ্ট্র দুটি রাষ্ট্রের অতি মৌলিক ও প্রাথমিক দায়িত্ব অর্থাৎ জনজীবনে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বিদেশি আগ্রাসনের কবলে পড়ে দুটি রাষ্ট্রেরই মহাসর্বনাশ ঘটে। দুটি রাষ্ট্রেই ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকের পতন হয় এবং উভয়েই অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণে বাধ্য হয়। পবিত্র ঈদের দিনে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফিকে হত্যা করে অজানা মরু প্রান্তরে সমাহিত করা হয়। এতে দেশ দুটিতে গণতন্ত্রও আসেনি, শান্তিও আসেনি। দেশ দুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পাঠককে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বিশ্বায়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ধারণাও সংকুচিত হয়ে গেছে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নানা ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ও অবরোধের কবলে পড়ছে। একসময় বলা হতো, কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা নাক গলানো সেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল। অথচ এখন এরকম হস্তক্ষেপ অহরহই ঘটছে। বিশ্বায়নসৃষ্ট এ রীতি মানবজাতিকে কতটুকু স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিচ্ছে তা এক বিরাট প্রশ্ন হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। একটি রাষ্ট্র কোন্ ধরনের সমাজব্যবস্থা বেছে নেবে এবং কাদের দ্বারা শাসিত হবে সে বিষয়টি সেই দেশের জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করত। জনগণের ওপর আস্থা রাখলে অবশ্যই মেনে নিতে হবে কোনো অপ্রিয় বা স্বৈরশাসক দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকতে পারলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে তাকে বিদায় নিতে হয়। স্পেনের ফ্রাঙ্কো, পর্তুগালের সালাজর এবং ফিলিপাইনের মার্কোসকে জনরোষের মুখেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তোকেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, স্বৈরশাসন কিংবা একনায়কতান্ত্রিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তবে কখনও চিরস্থায়ী হতে পারে না। স্বৈরশাসকের দীর্ঘস্থায়ী শাসনামলে অনেক নাগরিককে দুঃখ-দুর্দশা, নিপীড়ন নির্যাতন এবং অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। এ অবস্থাকে আমরা বলতে পারি চৎরপব ড়ভ খরনবৎঃু। কিন্তু রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে এর চেয়ে বহুগুণ মূল্য দিতে হয়। নিত্যদিন ইরাকে যা ঘটছে তা আমাদের ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করছে। দেশের ভেতরে যত মতপার্থক্য কিংবা বিবাদ-বিসংবাদ কিংবা একে অপরকে হননের ঘটনা ঘটুক না কেন, এগুলো নিজেরাই শান্তিপূর্ণভাবে মিটমাট করে ফেলাই বেহেতর। অন্যথায় এর ভবিষ্যৎ পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে, যার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত নই। দেশের ভেতরকার বিরোধে বহির্দেশীয়দের জড়িত করা কখনই মঙ্গলজনক হতে পারে না। এ উপলব্ধি যত দ্রুত আসবে ততই মঙ্গল। জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবে এমনভাবে তার আসন গেড়ে বসেছেন যে সরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সেদেশে জনরোষ ধূমায়িত হচ্ছে। আফ্রিকার দেশ বলে তার ওপর আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছাড়া অন্য কোনো পাশ্চাত্য শক্তি সেখানে ছড়ি ঘুরাতে পারছে না। আফ্রিকান ইউনিয়নের সুদৃঢ় মনোভাব সত্ত্বেও আফ্রিকার কোনো কোনো দেশে আমরা ফরাসি হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত এরকম পাশ্চাত্য দেশের হস্তক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আফ্রিকার মহাদেশীয় ঐক্য অন্য মহাদেশের পরাশক্তির হস্তক্ষেপকে অনেকটাই ভোঁতা করে দিয়েছে। সংবাদপত্রে স্বাধীনতার সূচক নিয়ে এ কলামের ভূমিকায় লেখা হয়েছিল, দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নড়বড়ে হয়ে গেলে সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রও নড়বড়ে হয়ে যায়, এমনকি Illiberal Democracy-তে পরিণত হয়। আজকাল একদল মানুষকে টেলিভিশনের টকশোতে বলতে শুনি, দেশে শত শত দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে এবং দুই ডজনেরও অধিক ইলেকট্রুনিক মিডিয়া বহাল থাকতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কীভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে? এক পক্ষ অবলম্বনকারী আলোচক অন্যপক্ষ অবলম্বনকারী আলোচকের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনি তো সব কথাই বলছেন, তাহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হল কী করে?’ মাঠে-ময়দানে বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয় অনীহা জায়েজ করতে গিয়ে এরা বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ থেকে আমাদের দেশের মতো রাজপথে সমাবেশ ও মিছিল করার রেওয়াজ চলে গেছে।’ এ অজুহাত সর্বৈব সঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকায় অনেক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিত এমআইটির এমিরিটাস প্রফেসর নোম চমস্কি ডেভিড বার্সামিয়ানকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তা Class Warfare নামক গ্রন্থে গ্রন্থিত হয়েছে। এতে চমস্কি অ্যালেক্স কেরির বরাত দিয়ে বলেছেন, বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই স্বাধীন সংবাদপত্র বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ স্বাধীন সংবাদপত্র পুঁজিবাদের জন্য বিপজ্জনক। সংবাদপত্র চলে গেছে বহুজাতিক কর্পোরেশনের মালিকানায়। এরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সংবাদপত্রকে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের দেশেও বড় বড় পত্রিকাগুলো বৃহৎ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় চলে গেছে।
রণ একটি সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য যে পরিমাণ পুঁজির প্রয়োজন হয় তা অন্য কারোর পক্ষে জোগান দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে সংবাদপত্রগুলো অনেকটাই ব্যবসার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আমাদের মতো দেশে ব্যবসার স্বার্থে ক্ষমতাসীন সরকারকে তোয়াজ করে চলতে হয়। এ অবস্থায় গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হয় না। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যদি ভয়ের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটে তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আরও সীমিত হয়ে আসে।  দেশের তাবৎ রাজনৈতিক দলকে উপলব্ধি করতে হবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রত্যেকের আলোকিত স্বার্থেই অক্ষুণ্ণ থাকা প্রয়োজন। কারণ আজ হোক, কাল হোক কিংবা এক দশকের ব্যবধানে হোক, প্রত্যেক ক্ষমতাসীন দলকে বিরোধী দলে যেতে হবে। তখন অনুভূত হবে সংবাদপত্রের বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কত জরুরি। গণতন্ত্র মানলে সব পক্ষকেই এ নিয়তির কথা ভাবতে হবে। কালাকানুন প্রয়োগ করে কিংবা কারও কণ্ঠরোধ করে আখেরে কারোরই মঙ্গল হয় না। এ দেশে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের ইতিহাস কখনই কণ্টকমুক্ত ছিল না। এমন বাধা এসেছে চরমপন্থী জঙ্গিদের পক্ষ থেকে অথবা ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। বরং এ কথা মেনে নেয়াই শ্রেয়, আমার সমালোচক আমার বড় বন্ধু। এ উক্তিটি করেছিলেন বর্ষীয়ান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তারও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে। তদসত্ত্বেও তিনি সমালোচনা শুনতে উদগ্রীব। আমরা কেন সবাই তার এ যৌক্তিক নির্দেশনা মানব না? এর সঙ্গে প্রয়োজন আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এড়িয়ে খোলামন নিয়ে নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলা এবং একে অপরের জন্য গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টি করা। দেশের সর্বময় মঙ্গলের জন্য এটাই সময়ের দাবি।
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই হোক রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য

বর্তমান সংবিধান মোতাবেক ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে পরবর্তী (একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন একটি রোডম্যাপ তৈরি করছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। বলা হয়েছে, এতে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেগুলো হল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান। এসব বিষয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হবে রোডম্যাপে। ১৬ মার্চ যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবহৃত চেকলিস্টের আদলে রোডম্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে। এতে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আইন ও বিধিমালায় সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধন শেষ করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে রোডম্যাপে। এছাড়া চলতি বছরেই নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও থাকছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও রুটিন কাজ করবে কমিশন। ওই বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে অথবা ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও একজন কমিশনারের বরাত দিয়ে ৩০ এপ্রিল প্রথম আলোর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিগত দুটি কমিশনের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে রোডম্যাপ করা হয়েছে। সাবেক সচিব ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সময় পেয়েছিল ১ বছর সাড়ে ১০ মাস। তারা একটি রোডম্যাপ করে কাজগুলো শেষ করেছিল। ফলে নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সব কাজ যেমন শেষ হয়েছিল, তেমনি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ওই কমিশনকে তেমন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। এরপর কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের সময় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কোনো রোডম্যাপ ছিল না। বড় দুটি দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কমিশনের রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান অংশীজন হল রাজনৈতিক দল।
তাই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে দলগুলোর নির্বাচনী ভাবনা ও ইসির কাজের বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া সম্ভব। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল সংকট সমাধানে আলোচনায় বিশ্বাস করে। সংলাপ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও এর বিকাশে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই- সে নির্বাচন জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক। সাধারণ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে জনগণ ভয়ভীতি ছাড়া এবং প্রভাবমুক্ত থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ফলে গঠিত সংসদে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। তা না হলে যে সংসদ গঠিত হয় তাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিগত চার দশকের বেশি সময়কালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচন ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজিত হওয়ার কোনো নজির নেই। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে অনেকটা ওই দলের একক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই বর্তমান কমিশনকে একটি অংশগ্রহণমূলক,
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত গণতন্ত্রকে সুস্থ ও সবল করে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সেদিক থেকে কমিশনের নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে আরপিও সংশোধনসহ নির্ধারিত কাজগুলো সম্পন্ন করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আরপিওর অধিকতর সংশোধনসহ বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ওই কমিশন নিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ পদ্ধতি) আইন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ও বিধিমালা এবং নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় (জনতহবিল) আইন। আরপিও অধিকতর সংশোধনসহ উল্লিখিত আইনগুলোর খসড়ার ওপর মতামত প্রদানের জন্য কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে এসব বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যোগদানের সুযোগ হয়েছিল আমার। কমিশন ওইসব আলোচনার আলোকে আইনগুলোর খসড়া তৈরি করলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত প্রণীত হয়নি। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ পদ্ধতি) আইন এবং নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় (জনতহবিল) আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তখনও ছিল, এখনও আছে। কমিশন সম্প্রতি পুনর্গঠিত হওয়ায় ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ পদ্ধতি) আইন’টির প্রণয়ন আগামী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে কালো টাকার প্রভাব থেকে নির্বাচনকে মুক্ত করতে এবং নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে ‘নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় আইন’ প্রণয়ন করা দরকার।
রোডম্যাপে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় (জনতহবিল) আইনও রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি কমিশন বিবেচনা করতে পারে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতের আলোকে এটির খসড়া চূড়ান্ত করা যেতে পারে। বর্তমান কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল জনগণের আস্থা অর্জন করা। এতে তারা ইতিমধ্যে কিছুটা সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের পরবর্তী এজেন্ডা হবে মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে আনার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এজন্য কমিশনের কাজ হবে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। এ কাজটি হবে কমিশনের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কারণ তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট এবং জোটের বাইরের ৯টি সমমনা দল দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে অনেকটা একদলীয় নির্বাচনে স্বল্পসংখ্যক কয়েকটি আসন বাদে বাকি সব আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। বিশ্বে সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নজির না থাকলেও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসক দল আওয়ামী লীগ সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করেছে। ফলে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের মোট আসনের কমবেশি ৯০ ভাগ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা (তাদের মধ্যে অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন) ক্ষমতায় থাকবেন। তাছাড়া কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত/ মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেন। তারা দলীয় নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে যে পিছপা হবেন না, তা অনেকটা জোর দিয়েই বলা যায়। এসব বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে কমিশনকে সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির এজেন্ডায় জয়ী হতে হবে। তাহলেই বিএনপিসহ সব নিবন্ধিত দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে কমিশনের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য,
নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগে শুরু হওয়া প্রশাসনে দলীয়করণ বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানেন, যে সরকার ক্ষমতায় আসবে সে সরকারই তাদের রক্ষা করাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে। তাই নির্বাচন কমিশন কোনো শাস্তি দিলেও শেষমেশ তা কার্যকর করতে পারবে না। সঙ্গত কারণে প্রশাসনের যারা বেনিফিশিয়ারি তারা নিজেদের স্বার্থেই সরকারের পরিবর্তন চাইবেন না। তাই কমিশনের কাজ হবে মাঠ প্রশাসনকে দলনিরপেক্ষ থাকতে উদ্বুদ্ধ করা। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করে মাঠ প্রশাসন যে সুনাম অর্জন করেছিল, তা তাদের স্মরণ করে দিতে হবে। তাদের সে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে অনুপ্রেরণা দিতে হবে। এটা করতে পারলে কমিশনের পক্ষে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে কোনো দলবাজ কর্মকর্তা বাধা হয়ে দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার যে প্রতিশ্রুতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিয়েছেন, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সব শেষে যা বলতে চাই তা হল, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন নিরপেক্ষভাবে তাদের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলে সফলতা অনিবার্য। এজন্য ক্ষমতাসীন দল এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যসব দলের পূর্ণ সহযোগিতা কমিশনের দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে শাসক দলের সহযোগিতা কমিশনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে এবং জনগণের আশা সরকার তা কমিশনকে দেবে। সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com

অকার্যকর আইনে আয়কর আদায় করছে এনবিআর!

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল হওয়ার পর সামরিক সরকারের সব অধ্যাদেশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ অন্যতম। উচ্চ আদালতের রায়ে এই অধ্যাদেশ এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর (ভয়েড অব ইনিশিও)। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের তোয়াক্কা করছে না। অকার্যকর অধ্যাদেশেই নজিরবিহীনভাবে আয়কর আদায়, এসেসমেন্ট এবং কর ফাঁকির মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের আয়কর আদায় কার্যক্রমের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে নতুন একটি আয়কর আইন তৈরির প্রস্তাব করেছে এনবিআর, যা গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এতে আয়কর আইনকে ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই থেকে অর্থাৎ প্রায় ৩৩ বছর আগে থেকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ভেটিংয়ের জন্য আইনের খসড়া এখন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনের সারসংক্ষেপে এনবিআর স্বীকার করেছে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ১ জুলাই ১৯৮৪ থেকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ কারণে সৃষ্ট আইনি শূন্যতা পূরণ করতে ৮১টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা দিয়ে ২০১৩ সালে ২ নম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে একই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই সময়ের জন্য ‘কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩’ জারি করা হয়। ‘দি ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪’ এই অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত। যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা বিভিন্ন রিট মামলায় বিশেষ বিধান আইনটির কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর কার্যকারিতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সারসংক্ষেপে বলা হয়, প্রস্তাবিত অর্থ বিলটি হবে আয়কর আইনকে ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই থেকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা সংক্রান্ত। তবে সরকার ২০১৮ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বাংলায় যে নতুন আয়কর আইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে প্রস্তাবিত আয়কর আইন-২০১৭ এর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। বাংলায় নতুন আয়কর আইনটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
নজিরবিহীন ও আত্মঘাতী : এদিকে এখন থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বিতর্কিত আয়কর অধ্যাদেশে নেয়া সব কার্যক্রমকে প্রস্তাবিত আইনে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়ার আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রচেষ্টা আইন ও সংবিধানসম্মত নয় এবং নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক বিশিষ্ট আইনজীবী। তারা বলছেন, এতে আইনি জটিলতা আরও বাড়বে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন পদক্ষেপ হবে আত্মঘাতী। ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই থেকে ভূতাপেক্ষ বৈধতা দেয়ার এনবিআরের প্রস্তাবের সমালোচনা করে আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন করেছেন, তাহলে কি বর্তমানে দেশে কোনো আয়কর আইন নেই? এতদিন আয়কর আইনে যেসব কার্যক্রম নেয়া হয়েছে তা অবৈধ ছিল? কারণ আইন কার্যকর না থাকলেই বিশেষ বিবেচনায় আইনের ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যায়। এনবিআরের এই তড়িঘড়ি উদ্যোগ সেই আশঙ্কাকেই সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করছে। এতদিন নেয়া কার্যক্রম যদি আইন বা বিধিসম্মত না হয় তাহলেই কেবল ভূতাপেক্ষ বৈধতা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত তা আইনসিদ্ধ হবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশকে বৈধতা দেয়ার জন্য আরেকটি অধ্যাদেশ বা আইন জারি সংবিধানপরিপন্থী এবং আইনগত ভিত্তিহীন। এ কারণে বারবার তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ১৯৮৪ সালের অকার্যকর অধ্যাদেশে এনবিআরের দায়ের করা একাধিক বিতর্কিত কর ফাঁকির মামলার কার্যক্রমও আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে নতুন করে একটি রিট পিটিশনের মাধ্যমে ২০১৩ সালে পুনঃস্থাপিত/তর্কিত অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এসব মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হওয়ায় এনবিআর দ্রুত নতুন একটি আইন তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন একাধিক আইনজীবী। এনবিআরের সারসংক্ষেপে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল তার পরামর্শে বলেছেন, আয়কর অধ্যাদেশকে ২০১৩ সালের আইনের অন্তর্ভুক্ত না রেখে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর বিধান ওই সালের ১ জুলাই ও তার পরবর্তী বিভিন্ন বছরে যখন যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় কার্যকারিতা দিয়ে একটি আলাদা অর্থ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা সমীচীন হবে। এ কারণে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ সংশোধন করে ওই আইনের তফসিল থেকে বাদ দিতে হবে।
ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতায় উদ্বেগ : দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, অকার্যকর অধ্যাদেশকে আরেকটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া যায় না। এ জন্যই ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশে আয়কর সংক্রান্ত মামলা বারবার আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রমাণ করে এনবিআর এখন যে আইনে আয়কর আদায় করছে তা বৈধ নয়। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে এনবিআরের এসব কার্যক্রম অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট। এছাড়া সর্বোচ্চ আদালত যে সময়ের অধ্যাদেশ বা আইনকে বেআইনি ঘোষণা করেছে তারই কিছু অংশকে ২০১৩ সালে নতুন করে অধ্যাদেশ জারির মাধমে বৈধতা দেয়া হয়েছে। এভাবে ৮১টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অকার্যকর আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫/১৬৬ ধারায় অতি সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি কর ফাঁকির মামলার কার্যক্রম সর্বোচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। কর ফাঁকির মামলাটি ছিল একতরফা ও বিদ্বেষপ্রসূত। করদাতাকে আয়কর আইনে কোনো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সরাসরি মামলাটি করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত আগ্রহে আয়কর বিভাগ এই মামলা করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কিন্তু তা আদালতের রায়ে স্থগিত হওয়ার পর চেয়ারম্যানের টনক নড়ে। তিনি আয়কর কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে অবহিত করা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর আওতায় দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। কেউ যদি রিট করে তাহলে সরকারের আয়কর আদায় কার্যক্রমও বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বে। এরপরই এনবিআর চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন একটি আয়কর আইন তৈরির উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, এর কয়েকদিনের মধ্যেই আইনের খসড়া তৈরি করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এতে ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন বছরে যখন যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় কার্যকারিতা দিয়ে দি ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট-২০১৭ নামে আলাদা একটি অর্থ বিল তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
জটিলতা আরও বাড়বে : সংশ্লিষ্ট সূত্র স্বীকার করেছে, আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিতর্কিত অধ্যাদেশে আয়কর আদায় করা হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে সরাসরি আদালতে কর ফাঁকির মামলা দায়ের করছে আয়কর বিভাগ। এনবিআরের এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেআইনি পদক্ষেপ উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে আলাদা একটি আইন তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি নতুন আইন তৈরি করতে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মতামত ও পর্যালোচনা করতে হয়। এরপর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু এনবিআর বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব কিছু না করেই দ্রুত আইনটি কার্যকর করতে চায়। একজন ব্যক্তির খামখেয়ালিপনায় এ ধরনের আইন তড়িঘড়ি করে তৈরি করা হলে তা ক্রটিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে জটিলতা না কমে আরও বাড়বে বলেও সংশ্লিষ্টরা গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালের পর জরুরি অবস্থা চলাকালে বেশ কিছু রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ ব্যবহার করে আদালতে সরাসরি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এ আইনের ১৬৪/১৬৫/১৬৬ ধারাসহ বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করা হয়। এতে করদাতার সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। করদাতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে এ সময়কালে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই আদালতে স্থগিত হয়ে পড়ে আছে।
বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের বক্তব্য : আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী একটা অধ্যাদেশকে আরেকটা অধ্যাদেশ দিয়ে কার্যকারিতা দেয়ার সুযোগ নেই। বিলুপ্ত অধ্যাদেশকে সরকার আইনের মাধ্যমে কার্যকারিতা দিয়েছে। এটাও করা যায় না। আইন করে কোনোভাবেই বিলুপ্ত অধ্যাদেশকে বৈধতা দেয়া যায় না। ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে নতুন আইন তৈরির ব্যাপারে ড. শাহদীন মালিক বলেন, এটা নজিরবিহীন। সংশ্লিষ্টরা মেনে নিচ্ছেন, এ সময়কালে আইনের কার্যকারিতা ছিল না। তিনি বলেন, এতে বড় ধরনের আইনগত জটিলতা তৈরি হবে। যার মুখোমুখি আমরা কখনও হইনি। এতে যেসব আইনি প্রশ্নের উদ্ভব হবে, সেগুলো হবে খুবই জটিল এবং বৈধতা নিয়ে মামলা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, অকার্যকর আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কাউকে যদি শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে এবং পরে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে ওই শাস্তি সঠিক ছিল- এটা বলা যাবে না। শাস্তিটা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতার মাধ্যমে জায়েজ করা যাবে না। আর যদি জায়েজ করা যেত তাহলে ৫ম ও ৭ম সংশোধনীই বা বাতিল করা হল কোন যুক্তিতে? অসাংবিধানিক কিছুকে তো পরে সাংবিধানিক বলার সুযোগই নেই। এখন আয়কর আইনের ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিলে সেটা হবে ওই ৫ম, ৭ম সংশোধনীর মতোই। সিনিয়র আইনজীবী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, একটি অধ্যাদেশকে আরেকটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বৈধতা দেয়া যায় না। সংবিধানের ৯৩(১)(খ) অনুচ্ছেদে এটা স্পষ্টভাবে বলা আছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ বাতিল করে দেয়ার পর তা আর পুনরুজ্জীবিত করার বা কার্যকারিতা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে এ অধ্যাদেশটিসহ সামরিক শাসনামলে জারি করা বেশ কিছু অধ্যাদেশের বৈধতা দিয়ে ২০১৩ সালে জারি করা আইনের বৈধতাও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে জটিলতা আরও প্রকট হবে। বর্তমানে আয়কর যেভাবে আদায় হচ্ছে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন সম্ভাবনা থাকলে সেক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যাবে না। এদিকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, আইনের ভেতরে যদি বলা থাকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যাবে, তাহলে দিতে কোনো বাধা নেই। এছাড়া সব আইনই পাস হওয়ার পর থেকে কার্যকর হয়। ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়ার ফলে তৎকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত যেসব কার্যক্রম হয়েছে (যেমন কর আরোপ, কর আদায়) সেগুলোর বৈধতা পাবে। তিনি স্বীকার করেন, নির্দিষ্ট সময়ে যদি কোনো আইন না থেকে থাকে, তাহলে সে সময়ে যেসব কার্যক্রম হয়েছে সেগুলোর বৈধতা দেয়ার উদ্দেশ্যেই ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যেসব আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে গেছে তা পুনরায় বৈধতা দেয়ার উদ্দেশ্যে যদি অধ্যাদেশ জারি করা হয় তা হবে কার্যত আদালতের রায়কে অকার্যকর করার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে আদালতের রায়ে বাতিল ঘোষিত অধ্যাদেশ বা আইনের প্রয়োগ দেখিয়ে যদি কোনো মামলা দায়ের করা হয় তাও কার্যত বাতিল বলে গণ্য হবে।

এক বছরে ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার

অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে টাকা পাচার। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২৫৭ কোটি ডলার (১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পাচার হওয়া এই অর্থের পরিমাণ দেশের মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় সমান। আর এই অর্থ দিয়ে ৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪টি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও অন্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা। জিএফআইর তথ্য মতে, গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দেশের মোট জাতীয় বাজেটের দ্বিগুণ। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। প্রতি বছরই এই পাচারের হার বাড়ছে। এর মধ্যে শুধু ২০১৩ সালে পাচার হয়েছে ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থ পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতিবেদনে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৪৯টি দেশের অর্থ পাচারের তথ্য উঠেছে। আলোচ্য সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার বেড়েছে। এছাড়া দুর্নীতিও টাকা পাচারের অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে। বিপরীতে ২ বছর ধরে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে। অর্থাৎ যন্ত্রপাতির মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ একবার বিদেশে টাকা গেলে, তা ফেরত আনা খুব কঠিন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, জিএফআই বিশ্বের সব দেশের রিপোর্ট করে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও নাম এসেছে। এক্ষেত্রে রিপোর্টের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পাচার করা কিছু অর্থ ফেরতও এনেছি। তিনি বলেন, জিএফআইর তথ্যের সূত্রের ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য পাওয়া গেলে আমরা পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) আছে। ফলে টাকা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। টাকার অংকে যা ৮২ লাখ কোটি টাকা। আর ২০১৩ সালে পাচার হয়েছে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ৮৮ লাখ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ৮২ টাকা ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। জিএফআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে ৬৫১ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে। ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ডলার অর্থ পাচার হয়েছিল। তিন বছরের ব্যবধানে এই অর্থ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৬ কোটি ডলারে। গত দশ বছরে ৬ হাজার ৫১০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। জিএফআই এবার অর্থ পাচারের হিসাবে একটু পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে উঠে এসেছে। পণ্য বা সেবা আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং এবং রফতানিতে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ পাচার হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ডলার, ২০০৬ সালে ৩৩৭ কোটি, পরের বছর ৪০৯ কোটি ডলার পাচার হয়। ২০০৮ সালে পাচারের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০০৯ সাল থেকে পরবর্তী দু’বছর অর্থ পাচার কিছুটা কমে আসে। ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি, ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়। ২০১২ সালে ৭২২ কোটি। ২০১৩ সালে এই পাচার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬৬ কোটি ডলার এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এর আগের বছরের চেয়ে পাচার বেড়েছে ২৯১ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থ পাচারে ভারতের পরের অবস্থানে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে দেশটি থেকে টাকা পাচারের পরিমাণ ১০ হাজার ১১৬ কোটি ডলার। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। পাকিস্তান ১ হাজার ১৪৮ কোটি, শ্রীলংকা ৫৪০ কোটি এবং নেপাল ১৩১ কোটি ডলার। জিএফআইর রিপোর্ট অনুসারে ২০১৪ সালে চীন থেকে পাচার হয়েছে ৮৫ হাজার ৩১৬ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়া ১৯ হাজার ৮৫৪ কোটি ডলার, মেক্সিকো ১২ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার, ভারত ১০ হাজার ১১৬ কোটি ডলার, মালয়েশিয়া ৫ হাজার ৫৪২ ডলার, ব্রাজিল ৫ হাজার ৩৬ কোটি ডলার, থাইল্যান্ড ৪ হাজার ৬৫৮ কোটি ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৪ হাজার ৮০৭ কোটি ডলার এবং নাইজেরিয়া ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার। শিল্প বিনিয়োগে মন্দার মধ্যেও শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির নামে দেশ থেকে টাকা পাচার করা হচ্ছে। কেননা যেভাবে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি হয়েছে, সেভাবে শিল্পের উৎপাদন বাড়েনি। তাহলে আমদানি করা ওইসব শিল্প উপকরণ কোথায় গেল? কৃষিতে কয়েক বছর ধরে বাম্পার ফলন হওয়ার পরও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি বেড়েছে।
সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তারপরও কেন চাল আমদানি হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে দেখা গেছে, শিল্পের যন্ত্রপাতি ভর্তি কনটেইনারে পাওয়া গেছে ছাই, ইট, বালি, পাথর ও সিমেন্টের বক। এতে শিল্পের কোনো যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়নি। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের তদন্তে খালি কনটেইনার আমদানির ঘটনাও ধরা পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া রফতানি এলসি (ঋণপত্র) এবং ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে। গত তিন বছরে মালয়েশিয়া সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বিদেশির জন্য মালয়েশিয়ান সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী দেশ। এর আগে মালয়েশিয়া সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ বাংলাদেশ। যদিও দেশ থেকে বিদেশে কোনো টাকা নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। জানা গেছে, গত ১০ বছরে মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাউকে কোনো অনুমোদন দেয়নি। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন- এরপরও বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় কিভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী দেশ হল। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল হোসেন জানান, নিশ্চিত ওইসব টাকা পাচার করা হয়েছে। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো অনুমোদন নেই মালয়েশিয়ায় টাকা নেয়ার। তারপরও টাকা গেছে। বুঝতে অসুবিধা নেই যে, এই টাকা পাচার হয়েছে। কানাডায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন এমন একটি এলাকার নাম হয়েছে বেগমপাড়া। বিশেষ দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতারা ওখানে টাকা পাচার করে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হংকংয়ে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর অফিস রয়েছে। সেখানে তারা পুঁজি পাচার করে নিয়মিত ব্যবসা করছেন। প্রসঙ্গত, জিএফআই হল ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। যারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে থাকে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে অর্থ পাচার রোধে বিভিন্ন রকম পরামর্শ ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে প্রতি বছর তারা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

ঝাল মরিচে বাড়ে আয়ু!

ঝাল লাল মরিচ শুধু খাবারের রং ও স্বাদ বাড়ায় না, এটা রোগ প্রতিরোধ করে আপনার আয়ু বাড়াতেও সাহায্য করে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ১৬ হাজার মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন মরিচ খান, তাদের আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১৮ বছর বেড়ে যায়। খবর বোল্ডস্কাই। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত, ১৮ বছর বয়সীদের ওপর চলা এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা কয়েক মাস ঝাল মরিচ খেলে হৃদরোগের উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে বাকি লাইফস্টাইল ডিজিজ- যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে গবেষক মুস্তাফা চপেন এবং বেঞ্জামিন লিটেনবার্গ সম্প্রতি "প্লোস ওয়ান" পত্রিকায় তাদের স্টাডিটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ক্যাপসিকাম প্লান্টের অন্তর্ভুক্ত লাল মরিচ নাইটশেড পরিবারের অংশ।
এদের নানা প্রজাতি রয়েছে। এক একটা প্রজাতির ঝালের মাত্রা একেক রকম। যে মরিচগুলো খুব ঝাল, সেগুলো যদি খাওয়া যায়, তাহলেই সব থেকে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কারণ এ ধরনের মরিচে ক্যাপসাইসিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা নানাভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যাপসাইসিন ব্রেস্ট এবং কলোরেকটাল ক্যানসার প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। গত কয়েক দশকে সারা বিশ্বে মোট যত জন মারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ লাইফস্টাইল ডিজিজ। গবেষকরা মনে করেন, লঙ্কায় উপস্থিত ক্যাপসাইসিনই এক্ষেত্রে আসল কাজটি করে থাকে। এ উপাদানটি আমাদের শরীরে এমন কিছু বিক্রিয়া ঘটায়, যা শরীরে চর্বি জমতে দেয় না। সেই সঙ্গে নানাবিধ লাইফস্টাইল ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও কমে যায়। তাই সব শেষে বলতেই হয় যে, মরিচ বাস্তবিকই আমাদের সুস্থ রাখার মধ্যে দিয়ে আয়ু বৃদ্ধি করে।

একটি জাতীয় লজ্জা by সাজেদুল হক

এটা কোনো সিনেমার কাহিনী নয়। লেখকের কষ্ট-কল্পনাও নয়। এ বাংলাদেশেই ঘটে যাওয়া ঘটনা। রাজধানীর এই তো একটু দূরে, গাজীপুরের শ্রীপুরে রচিত হয়েছে এ আখ্যান। নিজ কন্যার অপমান আর সহায়-সম্বল নিয়ে হয়রানির বিচার চেয়েছিলেন হজরত আলী। দ্বারস্থ হয়েছিলেন সমাজপতিদের। গিয়েছিলেন থানায়ও। কিন্তু কোথাও তিনি বিচার পাননি। এ বিচারহীনতা সহ্য করতে পারেননি হজরত আলী। প্রতিবাদের নিদারুণ পথ বেছে নেন তিনি। কন্যাকে নিয়ে ঝাঁপ দেন ট্রেনের নিচে। এ কথা হলফ করেই বলা প্রয়োজন, এমন মৃত্যু আমরা কখনো সমর্থন করি না। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে। শুরুতে সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ রিপোর্ট অনেকের মনেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু সরজমিন পরিদর্শন শেষে মানবাধিকার কমিশন জানাচ্ছে, ঘটনা সত্য।
নিঃসন্তান দম্পতি হজরত আলী এবং হালিমা বেগম মাত্র একদিন বয়স থেকে আয়েশা আক্তারকে নিজেদের কাছে নিয়ে লালন-পালন করতেন। মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো। হালিমা বেগম অভিযোগ করেছেন, মেয়ের অপমানের বিচার চেয়ে না পেয়ে হজরত আলী মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়ার পথ বেছে নেন। শনিবার স্বামী-কন্যার এ আত্মাহুতি হালিমা বেগমকে দিয়ে গেছে নরক-যন্ত্রণা। স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে তার সামনে এখন এক ঘোর অন্ধকার। পৃথিবীতে তার আপন বলতেও এখন আর কেউ নেই। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এখন থাকার মতো আপন  আর কেউ রইলো না। আমি দুনিয়াতে এখন একেবারেই একা।’ হালিমা বেগমকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমাদের নেই। এই পৃথিবীর কারো আছে কি না তা আমরা জানি না। কিন্তু হজরত আলীর এ আত্মাহুতি ব্যক্তিগত দুঃখ আর যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে পরিণত হয়েছে এক জাতীয় লজ্জায়। আমরা যারা প্রতিদিন ‘আইনের শাসন, আইনের শাসন’ বলে চিৎকার দিই, তাদের জন্য কী পরিহাস হিসেবেই না এসেছে এ মৃত্যু। ক্ষমতাবাজরা প্রায়ই বলে থাকেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখন আর নেই। বিচারবিদ আর শৃঙ্খলাবিদরাও একই কথা বলে থাকেন। এসব নিয়ে বলাও মুশকিল। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এখন কবুল করছেন যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি। সোমবার তিনি গিয়েছিলেন হজরত আলীর বাড়িতে। কথা বলেছেন, হালিমা এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে। পরে কাজী রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, একধরনের স্বার্থান্বেষী মহল যারা দীর্ঘদিন ধরে হজরত আলীর জমি দখলের চেষ্টা করেছিল, যারা তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছে, তারা এ আত্মহত্যার জন্য দায়ী। যাদের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব ছিল, তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেনি। ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যাদের কাছে সালিশ চেয়েছেন, সেই জনপ্রতিনিধিরা এ দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। পুলিশ প্রশাসন এ ঘটনার পর কোনো অ্যাকশনে যায়নি। তারাও দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে না। এজন্য আমি মনে করি, এখানে যে অবহেলা হয়েছে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধ। তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক হারুন উর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, হজরত আলীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা সম্পর্কে একটি অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল। অন্য কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান তিনি। এর পরও ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কন্যাকে নিয়ে হজরত আলীর আত্মাহুতির ঘটনা বাংলাদেশের সমাজে খুব বেশি আলোড়ন তুলতে পারেনি। তার মৃত্যুর মতোই এটি আরেকটি লজ্জাজনক ঘটনা। সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরি অথবা শাকিব খানের বিয়ে নিয়ে এ রাষ্ট্র-সমাজে যতটা তোলপাড় হয়, হজরত আলীকে নিয়ে অতটা তোলপাড় এখনো চোখে পড়েনি। যে বিকল্প গণমাধ্যমের কথা বলা হচ্ছে, সে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে তেমন কোনো আহাজারি নেই। মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের তবুও ধন্যবাদ প্রাপ্য, অনেক সমালোচনা থাকলেও এক্ষেত্রে অন্তত তিনি ছুটে গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি কোনো দলের রাজনীতিবিদদেরই এ নিয়ে আহাজারি করতে দেখা যায়নি। এ সমাজ কি তবে সবকিছু সয়ে নেয়ার নীতিতে চলে গেছে। বিচার না পেয়ে কেউ আত্মহত্যা করবেন, সেটাও কি তবে মেনে নিতে হবে? হজরত আলীর মতো বিচার চেয়ে না পাওয়ার ঘটনা অবশ্য বাংলাদেশে ঘটছে হরহামেশাই। কত আলীরা নীরবে-নিভৃতে সয়ে যাচ্ছেন নিষ্পেষণ। বিচার পাওয়ার অধিকার যেন এখনো সোনার হরিণ। আইনের শাসন ছাড়া, উন্নয়ন যে অর্থহীন সে কথা কবুল করার মতো মানুষ বাংলাদেশে এখনো খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। হজরত আলীর অসহায় স্ত্রীর ফরিয়াদ যেন এ রাষ্ট্রব্যবস্থা শোনে- এখন সেটাই আমাদের কামনা।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ

১৯৯১ সালে আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুকে জড়ো হন মহাদেশটির তাবৎ সব সাংবাদিক। ইউনেস্কোর এক সেমিনারে তারা ঘোষণা করেন মুক্ত গণমাধ্যম নীতিমালা। পরবর্তীতে ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনে ‘উইন্ডহুক ঘোষণাপত্রে’র প্রতি সমর্থন জানানো হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের দিনটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে থেকে ৩রা মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে, ‘ক্রিটিক্যাল মাইন্ডস ফর ক্রিটিক্যাল টাইমস: মিডিয়া’স রোল ইন অ্যাডভান্সিং পিসফুল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সোসাইটিজ’ (শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজের অগ্রগতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা)। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস দিবসটি উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় ভুল তথ্য মোকাবিলায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। আবেদন জানিয়েছেন বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর হুমকি অবসানের। গুতেরেস বলেন, ‘মুক্ত গণমাধ্যম সকলের জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচারের অগ্রগতি ঘটায়।’
এদিকে দিবসটিকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে মানবাধিকার সংস্থাটির কর্মকর্তারা রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কেবল ভিন্নমতধারীদের সুরক্ষিত করতে বা হুমকিদাতা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই ব্যর্থ হয়নি। সরকার বিভিন্ন নির্যাতনমূলক কৌশল ও নতুন বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাক-স্বাধীনতার কণ্ঠ রোধ করেছে।
অপরদিকে কয়েকদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের (আরএসএফ) ‘বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৭’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আগে কখনো এমন হুমকিতে পড়েনি।’ একনায়ক, অপপ্রচার ও ভুয়া সংবাদের (ফেক নিউজ) এই যুগে সাংবাদিকতা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে এতে মন্তব্য করা হয়। গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী রয়েছে এমন সব দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় আরএসএফ’র রিপোর্টে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে জনতোষণবাদীদের (পপুলিস্ট) উত্থানে সংবাদমাধ্যম হুমকির সম্মুখীন বলেও উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিফলন দেখা গেছে সূচকেও। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের মতো দেশ এ বছরের সূচকে পিছিয়ে গেছে। পিছিয়েছে বাংলাদেশও। ১৮০টি দেশের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছরের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে ১৪৬তম।
দেশভিত্তিক বিবরণে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঘরোয়া সহিংসতা ও দোষীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়মুক্তি উপভোগ করায় মিডিয়ায় সেলফ সেন্সরশিপ বাড়ছে। ২০১৬ সালে সরকার তার সমালোচকদের প্রতি বিশেষ করে মিডিয়ার প্রতি কঠোরতর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে মিডিয়ার প্রতি বৈরী বক্তব্য প্রদান, কয়েক ডজন ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া এবং অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে এ বিষয়টি সপষ্ট হয়েছে।
প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রয়েছে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের সুরক্ষা দিতে ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতেই কেবল সরকার ব্যর্থ হয়নি। সরকার বিভিন্ন নির্যাতনমূলক কৌশল ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মানুষের বাক-স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করেছে। এসবের ফলে বাংলাদেশের একসময়কার প্রাণবন্ত সমাজ এখন সেলফ সেন্সরশিপের কবলে পড়েছে। এখনকার নিপীড়নকে ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রে পদার্পণের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন সাংবাদিকরা। বলা হয়েছে, কিছু রেড লাইন সাংবাদিকরা কখনই অতিক্রম করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া বা বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে। ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) সমালোচনা করা হয়। এ আইনে অসপষ্টভাবে বর্ণিত বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে মানুষকে আটক করার ক্ষমতা পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। নাজমুল হুদা সহ সাংবাদিকদের এ আইন ব্যবহার করে আটক করার বিষয়টিও তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি।
বলা হয়েছে, একই আইন ব্যবহার করে চার ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়। কয়েকজন হাই প্রোফাইল সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা দায়ের ও মৌচাকে ঢিল সাপ্তাহিকের সম্পাদক শফিক রহমানকে আটক করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, সমালোচক সাংবাদিকদের স্তব্ধ করতে সরকার বিভিন্ন উপনিবেশিক আমলের মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ব্যবহার করেছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও লিবারেশন ওয়্যার ডিনায়্যাল ক্রাইমস অ্যাক্ট নিয়েও সমালোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ১লা মে আইসিটি আইনে দায়ের করা মামলায় আটক হয়েছেন সাংবাদিক আহমেদ রাজু।