Friday, June 24, 2011

সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর দাবির প্রতি সমর্থন হিলারির

সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকারের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, কট্টরপন্থী রাজতন্ত্রের কাছে সৌদি নারীদের এ দাবি যৌক্তিক। এই প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালানোর অধিকারের দাবিতে সৌদি নারীরা আন্দোলন করে আসছেন। গত শুক্রবারও কঠোর অনুশাসনে বাঁধা এ মুসলিম দেশের বহু নারী এ দাবিতে রাস্তায় নামেন। গত মাসে নিজের গাড়ি চালানোর দৃশ্য ভিডিও করার অপরাধে এক সৌদি নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শুক্রবার সৌদি নারীদের আন্দোলনের পর এ বিষয়ে হিলারি ক্লিনটনের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব নারী যা করছে, তা সাহসী কর্মকাণ্ড। তা ছাড়া তাদের এ দাবি যৌক্তিক। আমি এর সঙ্গে একমত পোষণ ও তাদের সমর্থন করি।’
তবে পাশাপাশি হিলারি ক্লিনটন আরব দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন না বলেও পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বিষয়ে দেশটির বাইরে থেকে কারও কিছু করার নেই। সৌদি নারীদেরই তাদের দাবি আদায় করে নিতে হবে।’ এর আগের দিনই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানিয়েছিলেন, হিলারি ক্লিনটন এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপচারিতা চালাচ্ছেন।

ইয়েমেনে কারাগার থেকে ৬০ জঙ্গির পলায়ন

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি কারাগার থেকে গতকাল বুধবার ৬০ জনের বেশি আল-কায়েদা জঙ্গি পালিয়ে গেছে। পালানোর আগে কারারক্ষীদের সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের এক সদস্য নিহত ও দুজন আহত হয়। নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা এ কথা জানান। ইয়েমেনে আল-কায়েদার শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেনের হাদরামাওত প্রদেশের রাজধানী আল-মুকাল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আল-কায়েদার জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। এর আগে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আল-কায়েদার জঙ্গিরা তাদের মুক্ত করতে ওই কারাগারে হামলা চালায়। এ সময় তারা কারারক্ষীদের কাবু করে তাদের কিছু অস্ত্র কেড়ে নেয়।
কারাগারটিতে আল-কায়েদার শতাধিক জঙ্গি বন্দী ছিল। এর মধ্যে বিচার শেষে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অপর একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ৬২ জন বন্দী পালিয়েছিল। এর মধ্যে দুজন ধরা পড়ে।

বাহরাইনে আটজনের যাবজ্জীবন

সরকার উৎখাতের চক্রান্তে লিপ্ত থাকার দায়ে বাহরাইনের একটি আদালত সে দেশের সরকারবিরোধী আন্দোলনের আটজন নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। গত বুধবার জাতীয় নিরাপত্তা আদালত এ আদেশ দেন।
বাহরাইনের সরকারি বার্তা সংস্থা বিএনএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আটজন ছাড়াও আরও ১৩ জনকে দুই থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে ১৫ বছর এবং দুজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি একজনের এক বছরের কারাদণ্ড হয়। যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিদের সবাই শিয়া সম্প্রদায়ের।
আদালত বলেছেন, বাহরাইনের ক্ষমতাসীন সুন্নি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে গণ-আন্দোলন হয়, সে সময় দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেন। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা অন্য একটি দেশের মদদ নিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছিলেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারবিরোধী শিয়াভিত্তিক দল ‘হক মুভমেন্ট’-এর প্রধান হাসান মাশাইমা ও নেতা আবদুল জলিল আল সিঙ্গাচে, শিয়াপন্থী অপর দল ‘ওয়াফা ইসলামিক মুভমেন্ট’-এর প্রধান আবদুল ওয়াহাব হুসেইন, শিয়া অধিকার আন্দোলনের কর্মী ও ড্যানিশ নাগরিক আবদুল হাদি আল খাজা, সুইডিশ পাসপোর্টধারী শিয়া নাগরিক মোহাম্মদ হাবিব আল মুকদাদ ও তাঁর চাচাতো ভাই আবদুল জলিল আল মুকদাদ। এরা দুজনই ওয়াফা আন্দোলনের কর্মী। বাকি দুজনের একজন হলেন সাইদ আবদুল নবী নামের এক শিয়া আন্দোলন-কর্মী। অপরজনের নাম পাওয়া যায়নি।

অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারও হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম গতকাল বুধবার বলেছেন, তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। সিরিয়ার বাইরের কেউ তাঁদের ওপর কোনো মতামত চাপিয়ে দিতে পারবে না। ইউরোপীয়দের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় সিরীয় মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এদিকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগসূত্র আছে, এমন চারটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুয়াল্লেম বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তার পরও আমরা নিজেরাই মতৈক্যে পৌঁছাতে পারব।’ তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাবে, তিনি তা মনে করেন না। মুয়াল্লেম অভিযোগ করেন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপে ঔপনিবেশিক মোহে আচ্ছন্ন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার মন্তব্য করেছিলেন, জনগণকে নিপীড়নের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, সেখান থেকে ফিরে আসা যায় না।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সংস্কারকামীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বাহিনীও কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরও সাতজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
ইইউ ইতিমধ্যে সিরিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় সিরিয়া সরকারের প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তাঁদের ভিসা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি তালিকা তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের তালিকায় অন্তত দুজন ইরানি নাগরিকের নাম রয়েছে, যাঁরা সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সমর্থন দিচ্ছেন। ইইউয়ের এক কূটনীতিক জানান, জোটটির ২৭ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে একটি এখনো যুক্তরাজ্যের তালিকা অনুমোদন করেনি। তবে ফ্রান্সের তালিকা সব সদস্যরাষ্ট্রেরই অনুমোদন পেয়েছে।
ইইউয়ের ওই কূটনীতিক জানান, তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সরকারবিরোধীদের দমন-পীড়নে জড়িত আর প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগসূত্র রয়েছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে।
গত মে মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ।
সরকারবিরোধীরা জানান, হোমস, হামা ও মায়াদিনে মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। মায়াদিন এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেনারা গুলি চালালে সাতজন নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় কয়েকজন।
হোমস শহরের দুজন বাসিন্দা জানান, গোপন পুলিশের সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে মিছিল বের হয়। এর জবাব দিতে সরকারবিরোধীরা সমাবেশ করতে চাইলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এদিকে দেরা শহরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক হাজার মানুষ সরকারবিরোধী মিছিল বের করলে, তা ছত্রভঙ্গ করে দিতে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।
সিরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। মহাসচিব হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বিভক্তির কারণে সিরিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না—এ কথা অস্বীকার করেন বান কি মুন।
সিরিয়ায় গত মার্চ মাস থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত এক হাজার ৬০০ জন নিহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসাদের পদত্যাগ, রাজনৈতিক স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারবিরোধীরা।

ব্যয়-সংকোচনের পথ উন্মুক্ত হলো গ্রিসের

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ঋণে জর্জরিত দেশ গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু। এর মধ্য দিয়ে সরকারের দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো ব্যয়-সংকোচনসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংস্কার আনার পথ উন্মুক্ত হলো।
গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (্আইএমএফ) কাছ থেকে সহায়তা প্যাকেজ পেতে গ্রিসকে দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো খরচ কমাতে বলা হয়। সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের মাধ্যমে খরচ কমাতে চাইলেও জনগণ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
গত মঙ্গলবার এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে হাজার হাজার জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে। তারা ব্যয়-সংকোচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী পাপানদ্রু সরকারের পক্ষে ১৫৫ ভোট পড়ে। বিপক্ষে পড়ে ১৪৩ ভোট। দুজন পার্লামেন্ট সদস্য ভোট বর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি ব্যয়-সংকোচনের জন্য গতকাল বুধবার নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক করেন পাপানদ্রু।
প্রধানমন্ত্রী পাপানদ্রু বলেন, ‘দেশে পরিবর্তন আনতে এখন আমাদের হাতে অনন্য এক সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ নষ্ট করলে ইতিহাস নিষ্ঠুরভাবে আমাদের বিচার করবে।’ তিনি বলেন, সরকার এখন ‘অতি মানবীয় কাজের’ মুখোমুখি।
ইইউ ও আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ-সহায়তা পেতে ২৮ জুনের মধ্যে ব্যয়-সংকোচনের বিষয়টি পার্লামেন্টে পাস হতে হবে। গ্রিসের উপ-অর্থমন্ত্রী পানটেলিস ইকোনোমৌ বলেন, ‘চলতি মাসের বাকি দিনগুলো গ্রিসের ইতিহাসে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অর্থমন্ত্রী ইভানজেলোস ভেনিজেলোস বলেন, ‘ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা ৩ জুলাই বৈঠকে বসবেন। এর আগেই ৩০ জুনের মধ্যে আমাদের দুটি আইন পাস করতে হবে।’
ব্যয়-সংকোচনে ইইউ ও আইএমএফের প্রস্তাবের পর থেকেই গ্রিসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-ধর্মঘট চলছে। এ প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হলে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বানের পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন পাবলিক পাওয়ার করপোরেশন (পিপিসি)।
ইইউ ও আইএমএফের সহায়তা প্যাকেজের আওতায় আগামী জুলাইয়ে গ্রিসের এক হাজার ২০০ কোটি ইউরো পাওয়ার কথা। এ লক্ষ্যে ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা ৩ জুলাই বৈঠকে বসবেন।
গ্রিস সরকারের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার সরকারের মুখপাত্র ইলিয়াস মোসিয়ালোস বলেন, ‘মধ্য জুলাইয়ের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অবসর ভাতা দেওয়ার মতো অর্থ আমাদের হাতে থাকবে না।’
ব্যয়-সংকোচন ও সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হাজার হাজার জনতা পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে অবস্থান নেয়। তারা রাজনীতিবিদদের চোর আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়।

ভারত-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু আজ

ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এই প্রথম ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বসির বৈঠকে বসছেন। সার্ক সম্মেলনের পাশাপাশি ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে চলতি বছরের শেষ দিকে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠানের বিষয়টি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা, আস্থা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাস, জম্মু ও কাশ্মিরসংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।
নয়াদিল্লির সরকারি কর্মকর্তারা জানান, শীর্ষ কূটনীতিকদের এ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ আবার শুরু হতে পারে। গত বছর জুলাইয়ে ভারত-পাকিস্তান মন্ত্র্রী পর্যায়ের সংলাপ ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের শুরুর দিকে এ দুই প্রতিবেশী দেশ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক ও সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়ায় সমন্বিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়।
স্বভাবতই এ সংলাপের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে সন্ত্রাস। ভারতের পক্ষ থেকে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের জড়িত থাকার ব্যাপারে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক দাউদ গিলানি ও ডেভিড কোলম্যান হেডলির প্রকাশ করা তথ্য তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া আজকের বৈঠকে গত মার্চের পর অনুষ্ঠিত উভয় পক্ষের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সভাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও সমুদ্রসীমা নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র জানায়, এ ধরনের সংলাপে ভারত ‘সন্তুষ্ট’।
কর্মকর্তারা জানান, ‘বাস্তবানুগ প্রত্যাশা’ নিয়েই ইসলামাবাদে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও। এ ছাড়া আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিষয়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে বর্তমান বৈঠকে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিরুপমা রাও বলেন, ভারত চায় মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য আরও তৎপর হোক পাকিস্তান। তিনি আরও বলেন, তাঁরা অবাস্তব কিছু নয় বরং ন্যায়বিচার চান।
নিরুপমা রাও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। কারণ, আলোচনাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের সবচেয়ে ভালো পথ।

১২২ বছর পর যথাস্থানে ফিরল ডারউইনের বই

বিবর্তন তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইনের ইনসেক্টিভোরাস প্ল্যান্টস বইটির প্রথম সংস্করণের একটি কপি ১২২ বছর পর যথাস্থানে ফিরে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি নগরের শহরতলিতে অবস্থিত ক্যামডেন স্কুল অব আর্টসের গ্রন্থাগার থেকে ১৮৮৯ সালে বইটি কেউ ধার নেয়। হাত ঘুরে এটি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই গ্রন্থাগারে বইটি ফেরত দিয়েছে।
বর্তমানে ওই গ্রন্থাগার ক্যামডেন পরিষদের একটি অংশ। ধার নেওয়া বইটি নির্ধারিত সময়ের বাইরে শতাধিক বছর ধরে রাখার ফলে যে জরিমানা হয়েছে, পরিষদের হিসাব অনুযায়ী তা ৩৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (৩৭ হাজার মার্কিন ডলার)। বইয়ের ইতিহাসে কোনো গ্রন্থাগার থেকে ধার নেওয়া বই এভাবে সঠিক স্থানে ফেরত দেওয়ার ঘটনা বিরল।
ক্যামডেন পরিষদের লিন্ডা ক্যাম্পবেল বলেন, ‘বইটি কোথায় কীভাবে এত দিন পড়ে ছিল, তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে যত দূর আমি বলতে পারি, তা হচ্ছে—এটি ছিল বইটির এক সফর।’
বইটি অবসরপ্রাপ্ত পশুরোগ বিশেষজ্ঞ রন হাইনের সংগৃহীত বইয়ের মধ্যে ছিল। তাঁর কাছে এটি প্রায় ৫০ বছর ধরে সংরক্ষিত থাকে। গত মাসে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কিছু বই দান করেন। এর মধ্যে এই বইটিও ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডারউইনের বইটির মধ্যে গ্রন্থাগারের টিকিট ও সিলমোহর দেখতে পায়। পরে তারা যথাস্থানে ফেরত দেয় বইটি।
হাইন বলেন, বইটি তাঁর কাছে কীভাবে এসেছে, এ ব্যাপারে কিছুই তাঁর মনে নেই। তবে তাঁর ধারণা, পঞ্চাশের দশকে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা শিক্ষাবিদ এটি তাঁকে দিতে পারেন

ভারতকে আল-কায়েদার চেয়ে বড় হুমকি মনে করে পাকিস্তানিরা

পাকিস্তানের অধিকাংশ নাগরিক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার চেয়ে ভারতকে তাদের দেশের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে। একইভাবে ভারতীয়রাও পাকিস্তানকে তাদের দেশের জন্য হুমকি বিবেচনা করে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপের ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জরিপে আরও দেখা গেছে, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন গোপন অভিযানে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানিরা। তারা এ হত্যাকাণ্ডকে খারাপ দিক হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে মাত্র ১৪ শতাংশ নাগরিক এ হত্যাকাণ্ডের পক্ষে মত দিয়ে বলেছে, এটা ভালো হয়েছে।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ভারত, আল-কায়েদা ও তালেবানের মধ্যে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কে—এই প্রশ্নের জবাবে ৫৭ শতাংশ পাকিস্তানি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের কথা বলেছে। পাকিস্তানিদের মধ্যে ভারত-বিদ্বেষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। প্রতি চারজনের তিনজন (৭৫ শতাংশ) ভারতের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে, যা পাঁচ বছর আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।
তবে একই সঙ্গে প্রতি ১০ জনের সাতজন পাকিস্তানি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ভবিষ্যতে আলোচনাকে সমর্থন করে তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিকে ভালো দিক বলে মনে করছে।
একইভাবে জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ ভারতীয় পাকিস্তানের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। পাকিস্তানকে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে ৪৫ শতাংশ ভারতীয়। তবে পাকিস্তানের মতো ভারতের নাগরিকেরাও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন দেখতে চায়। উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও সমর্থন করে বেশির ভাগ ভারতীয়।
জরিপে অংশ নেওয়া অনেক পাকিস্তানি ওসামা বিন লাদেন হত্যায় মার্কিন অভিযানকে নেতিবাচক হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এর ফলে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যকার উত্তেজনাকর সম্পর্কে আরও প্রভাব পড়বে।
জরিপে আরও দেখা যায়, ১২ শতাংশ পাকিস্তানি আল-কায়েদা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ২০১০ সালে এই হার ছিল ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া ২৭ শতাংশ লস্কর-ই-তাইয়েবা এবং পাকিস্তানভিত্তিক আরেক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান ও আফগানিস্তানভিত্তিক তালেবানকে সমর্থন করে ১২ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে হার কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে মাত্র ১২ শতাংশ পাকিস্তানি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। ৮ শতাংশ বলেছে, বিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে পাকিস্তানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের চেয়ে ওবামার জনপ্রিয়তা কম।

সোয়েটো হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতি মিশেলের শ্রদ্ধা

বিদ্যালয়ে আফ্রিকানাস ভাষা চালুর প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন সোয়েটোর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় ওই দিন নিহত হয় ১৭৪ জন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শহরেও। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে ওই ঘটনা।

প্রথম স্ত্রী ছিলেন ওসামার সবচেয়ে প্রিয়

স্ত্রীদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী নাজওয়া ছিলেন ওসামা বিন লাদেনের সবচেয়ে প্রিয়। একমাত্র তাঁকেই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আল-কায়েদার এই নেতা। অন্য স্ত্রীদের সঙ্গে সে রকম প্রেম, ভালোবাসা গড়ে ওঠেনি তাঁর। পারিবারিক আয়োজনে তাঁদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর। বিয়ের আগে একটিবারের জন্যও দেখা হয়নি কাউকে।
মার্কিন লেখক জিন স্যাসন তাঁর নতুন বইয়ে এসব কথা বলেছেন। তিনি গ্রোয়িং আপ বিন লাদেন: ওসামাস ওয়াইফ অ্যান্ড সান টেইক আস ইনসাইড দেয়ার সিক্রেট ওয়ার্ল্ড নামের বইটিতে ওসামার পারিবারিক জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তুলে ধরেছেন।
স্যাসন তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ওসামার মামাতো বোন ছিলেন নাজওয়া। ওসামাকে বিয়ে করার পর সারাটা জীবন তাঁর দুর্ভোগে কেটেছে। বিশেষ করে, আফগানিস্তানে থাকাকালে সেখানকার রুঢ় পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা তাঁকে পুড়িয়েছে সারাক্ষণ।
বইটি লিখতে গিয়ে নাজওয়া ও তাঁর ছেলে ওমর বিন লাদেনের সহায়তা নিয়েছেন লেখক। তাঁদের কয়েকটি ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ওসামার সঙ্গে নাজওয়ার ভাব-ভালোবাসার নানা গল্প তুলে ধরেছেন স্যাসন।
সানডে টাইমস ও টাইম ম্যাগাজিন এ বইটিকে ‘আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে এখানে আল-কায়েদার নেতার যৌনজীবন উঠে আসায় গত সপ্তাহে এর সমালোচনাও করা হয়েছে।
বইটিতে বলা হয়েছে, পারস্পরিক প্রেম ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই নাজওয়া ও ওসামা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে নাজওয়ার মা চাননি তাঁর মেয়ে ওসামাকে বিয়ে করুক। কেননা, বিয়ের পর মেয়ে সিরিয়া ছেড়ে সৌদি আরবে চলে যাক, তা তিনি চাননি। কিন্তু ১৫ বছরের নাজওয়া তাঁর ১৭ বছরের ফুফাতো ভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। তাই তাঁকে আটকানো যায়নি।
বিয়ের পর সৌদি আরবে গিয়ে নাজওয়াকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সিরিয়ার মতো একটি তুলনামূলক উদার সমাজ থেকে গিয়ে সেখানে নতুন অনেক কিছুর সঙ্গে তাঁকে খাপ খাওয়াতে হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন কাজটি ছিল রান্নাঘর সামলানো এবং মা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
ঘন ঘন সন্তান নেওয়ায় নাজওয়ার দুর্ভোগটা বেড়ে গিয়েছিল আরও বহু গুণ। তা ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস স্টোভসহ এ ধরনের জিনিসের ব্যবহারে তাঁর ওপর ছিল স্বামীর নিষেধাজ্ঞা। তাই বাধ্য হয়ে বিশাল একটি পরিবারের সব খাবার তাঁকে একটিমাত্র ছোট চুলায় রান্না করতে হয়েছে।
বিয়ের আগে ছবি আঁকতে ও ঘোড়ায় চড়তে পছন্দ করতেন নাজওয়া। এ ছাড়া টেনিস খেলা ও বাইসাইকেল চালানো উপভোগ করতেন। কিন্তু বিয়ের পর তাঁর এই সবকিছুই শেষ হয়ে যায়।
লেখক বলেছেন, নাজওয়া ছবি তুলতেও পছন্দ করতেন। ওসামা তাঁকে সন্তান ও পরিবারের ছবি তুলতে দিলেও অন্য কিছু ক্যামেরাবন্দী করতে ছিল মানা।
আফগানিস্তানে পাড়ি জমানোর আগে মাঝেমধ্যেই ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়েছে তাঁদের। তবু ওসামা ও নাজওয়ার দাম্পত্য-জীবন ছিল সুখময়।
স্বামীর সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় নাজওয়াকে থাকতে হয়েছে, যেখানে মাথার ওপর ছিল পাথরের ছাদ। কিছুদিন কাটে পরিত্যাক্ত একটি সামরিক ঘাঁটিতে, যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সব প্রতিকূল পরিবেশেই খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন নাজওয়া।