Showing posts with label মসজিদ. Show all posts
Showing posts with label মসজিদ. Show all posts

Monday, July 27, 2026

পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নাবলুস ও তুলকারেম এলাকার দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, আগুনে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মাণকাজও। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি মসজিদে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেনারা কুসরার উপকণ্ঠে যান। তবে তাঁদের পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আগুন দেওয়ার আলামত এবং দেয়ালে লেখা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে যায়।

গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। সেনাবাহিনীর দাবি, এটি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর অংশ।

গতকাল নাবলুস শহরে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বলে জানিয়েছে এএফপির একজন সংবাদদাতা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তখন থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সশস্ত্র যোদ্ধারাও রয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি তথ্য বলছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৮ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে।

পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ বসতিতে কয়েকজন সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী
পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ বসতিতে কয়েকজন সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী। ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনের দুটি মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় উসকানিমূলক স্লোগানও লিখে রাখা হয়। রোববার (২৬ জুলাই) ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

এর আগে শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরায়েলি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। নিহত ইসরায়েলিদের একজন পাশের একটি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী ছিলেন। ওই ঘটনার পরপরই নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবারের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামের কাউন্সিলপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, নতুন নির্মিত একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মসজিদটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছিল এবং নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। ভেতরে আসবাবপত্রও রাখা হয়েছিল। হামলাকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়।

দেয়ালে লেখা স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল ‘ইহুদিদের প্রতিশোধ’ এবং তাল গ্রামের ঘটনায় নিহত এক ইসরায়েলির নাম।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ হামলা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর সহিংসতার অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস এখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে পরিকল্পিত গণহামলার রূপ নিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুসরা গ্রামে গিয়ে তারা অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ পেয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশও কাজ করছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলাসহ এ ধরনের সব ঘটনা আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই। এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, তুলকারম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে রামাল্লার কাছে কাফর মালিক শহরের একটি পাথর কাটার কারখানায় কর্মরত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

কুর গ্রামের কাউন্সিল সদস্য ফরিদ জিয়ুসি বলেন, ভোরে তিনজন বসতি স্থাপনকারী মসজিদে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় মূল নামাজঘর রক্ষা পায়।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে এ ধরনের হামলা এই প্রথম। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে গেছে।

ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, সশস্ত্র কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তাল গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দিতে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি একজন বসতি স্থাপনকারীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরাই প্রথমে হামলা চালিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, উভয় পক্ষ থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কথিত সন্ত্রাসী হামলামোকাবিলায় পশ্চিম তীরে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর সরকারের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচসহ কয়েকজন মন্ত্রী ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় দখল করা পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরজুড়ে নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত থেকে প্রায় ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী বলে জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব, যারা ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের তথ্য সংরক্ষণ করে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের অধিকাংশ সংস্থা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করে। যদিও ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড হিসেবে পশ্চিম তীরকে দাবি করে। অন্যদিকে ইসরায়েল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ওই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি তুলে ধরে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী নেতানিয়াহু সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুতগতিতে নতুন বসতি সম্প্রসারণ করছে।

এদিকে রোববার পোপ লিও পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আলোচনার আহ্বান জানান এবং সব ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ও প্রচলিত অবস্থান লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। 

ফিলিস্তিনের মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের মসজিদে ইসরায়েলিদের অগ্নিসংযোগ। ছবি : সংগৃহীত

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ভাঙা কিংবা মসজিদের মধ্যে মন্দিরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিয়তই বিদ্বেষ বাড়ছে। দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবিকে আরো তীব্র করেছে। তাদের দাবি আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথের প্রাচীন শিবমন্দির—আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে মসজিদটির কাছাকাছি এলাকায় শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।

স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।

ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।

Friday, July 24, 2026

আল আকসা প্রাঙ্গণে ৩ সহস্রাধিক ইসরায়েলির প্রবেশের অভিযোগ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার ৩,২০০-এর বেশি ইসরায়েলি প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। ইহুদি ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে এসব প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১,৩০০ জন ইসরায়েলি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে দিনের মধ্যে মোট সংখ্যা ৩,২০০ ছাড়িয়ে যায় বলে তারা দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি পুলিশ প্রতিটি দলে প্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ জন পর্যন্ত অনুমতি দেয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

গভর্নরেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথ ও পুরোনো জেরুজালেম শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়। এছাড়া ভোরের নামাজে অংশ নিতে আসা কয়েকজন মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দার ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।

জেরুজালেম গভর্নরেট আরও দাবি করেছে, প্রাঙ্গণে প্রবেশকারী কিছু ইসরায়েলি তালমুদ-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আচার পালন করেছেন, যার মধ্যে টেফিলিন পরা, পূর্বাংশে সিজদা করা এবং উচ্চস্বরে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ছিল।

এছাড়া, আল-আকসা প্রাঙ্গণে একটি ইহুদি মন্দির নির্মাণের পক্ষে থাকা কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এদিন সেখানে ৫,০০০ জন ইসরায়েলিকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বলেও দাবি করা হয়েছে। 

আল আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
আল আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

Monday, July 13, 2026

কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা, কী কারণ বলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার এই মসজিদে নামাজ পড়া হলেও গত শনিবার মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ফটক হলো বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পথ, যা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে মসজিদটি স্থানান্তর করতে মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত একটি জায়গা দেওয়া হবে বলেও অতীতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, মসজিদটি তার ভেতরে অবস্থিত। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) নামে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে অঞ্চলটি। ভারতে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সিআইএসএফ। তারাও এই স্থাপন নিয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এখনো পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের কোনো মসজিদ বন্ধ করা হয়নি বা সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম শনিবার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সমস্যা হলো, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছে ১৯২৪ সালে আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। অর্থাৎ বিমানবন্দর তৈরির ৩৪ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ অঞ্চল সে সময় অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল এবং গ্রামের মানুষের টাকায় মসজিদটি বানানো হয়।

আজ যেখানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, একসময় সেখানকার গ্রাম থেকেও মানুষ এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, যেমন আসতেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষও। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রবন্ধে মসজিদটির যে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই এ তথ্য পাওয়া যায়।

ওই সময় মসজিদটির নাম ছিল ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ এবং বর্তমানে এটির নাম ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’। বাংলাদেশ–লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করেন।

এ ঘটনায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয় সব সামাজিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু এ নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমরা বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া চাই না। আমরা চাই যেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক কাজ হয়নি।’

বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন যেমন দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি

Thursday, July 2, 2026

ভারতে নতুন করে ভাঙা হলো আরো তিন মসজিদ

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের এ অভিযানের পর ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ দেশটির মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা।

তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওর্য়াল্ড প্রকাশিত এক ভিডিওতেও মসজিদ ভেঙে ফেলার বিষয়টি দেখা যায়।

ঘটনার পর জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জমিয়তের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি।

ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদের খাদেম জানান, হঠাৎ করেই সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এর নান্দনিক নির্মাণশৈলীর কারণে এটি এলাকায় পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হতো।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার এবং মসজিদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতে নতুন করে ভাঙা হলো আরো তিন মসজিদ

Monday, June 29, 2026

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে যে রাম মন্দির দাঁড়িয়ে আছে, সেই স্থানেই একসময় ছিল ষোড়শ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনা গোটা ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্ম দেয়। সেই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।

পরবর্তীতে ওই স্থানকে কেন্দ্র করেই বিজেপি-সমর্থিত হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এ স্থানই ভগবান রামের জন্মভূমি।

তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইতিহাসের পর ভক্তদের কাছে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠা এই মন্দির এখন বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।

ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।

রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি পরিচালনা করে স্বাধীন সংস্থা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। যদিও ট্রাস্টটি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নয়, এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।

চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলেও আল জাজিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

এদিকে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। বিরোধীদের চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও রয়েছেন।

শুধু তাই নয়, আরও অনেক ভক্ত দাবি করেছেন, তারা ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া রুপার ইট, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপহারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুক্রবার ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ট্রাস্টি পদত্যাগ করেন। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হওয়ায় চম্পত রায়ের পদত্যাগ ঘটনাটিকে আরও অভিযোগগুলো আরো শক্তিশালী করে তুলেছে।

তবে পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। হাজারো ভক্তের পাশাপাশি বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

Wednesday, June 24, 2026

হামলা-ভাঙচুর-উচ্ছেদ: ভারতের মুসলিমরা আন্দোলনে নামতে চায়

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিয়মিত ও ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিকীকরণের বিরুদ্ধে তারা শিগগির দেশব্যাপী আন্দোলনে নামবে।

সম্প্রতি বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, ভারতে মুসলিমদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি তুলে ধরতে বোর্ড একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বা নথি প্রকাশ করবে।

বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে বিজেপি–শাসিত রাজ্যগুলোয় মুসলিমদের নিশানা করে গণপিটুনি, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে নির্দিষ্ট স্লোগান বাধ্যতামূলক করা, মাদ্রাসাগুলোর ওপর আক্রমণ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর চেষ্টার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বোর্ড আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হবে বলে জানান মুখপাত্র ইলিয়াস। এরপর রাজ্য স্তরের কমিটি এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন তৈরি করা হবে।

বাড়ছে নিয়মিত আক্রমণ

ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধ ও নাবালকদের ওপর শারীরিক হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক ধর্মীয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং সে দৃশ্য ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের পাশাপাশি উন্নয়নের নামে মুসলিমপ্রধান এলাকাগুলোয় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথের সরকার উত্তর প্রদেশের বেনারসের একটি প্রাচীন মসজিদ উচ্ছেদ করার নোটিশ দিয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বাজেট কমানোর অভিযোগও উঠেছে। গত মঙ্গলবার এক খবরে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে এই খাতের বাজেট প্রায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। পার্সোনাল ল বোর্ডের মতে, মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান ও ধর্মীয় বিশ্বাস এখন চরম হুমকির মুখে।

সব রাজনৈতিক দলের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখপাত্র ইলিয়াস বলেন, ‘কংগ্রেসসহ সব দলের ওপরই আমরা অসন্তুষ্ট। মুসলিমদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখন কেউই আর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে না।’

তবে এসব খবর মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং কেবল মুসলিমদের পরিচালিত কিছু সংবাদমাধ্যমেই তা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কামাল মাওলা মসজিদের প্রসঙ্গ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদের প্রসঙ্গ নিয়েও ল বোর্ডের বিশেষ অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পঞ্চম শতকের প্রাচীন মসজিদটি নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি রায় দিয়েছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, মসজিদটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ওই মসজিদের নিচে দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে। সে আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত মসজিদটির জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করে তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ রায়ের বিষয়ে ল বোর্ডের মুখপাত্র এসকিউআর ইলিয়াস বলেন, ‘এ মামলায় ঐতিহাসিক প্রমাণ, রাজস্ব নথি ও ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি দলিলপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এরপরও মসজিদটি সরাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর এখন আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও ইউসিসি চালুর তোড়জোড় চলছে। এ বিধি চালু হলে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলো বাতিল হয়ে যাবে এবং সব নাগরিকের জন্য একটি একক আইনব্যবস্থা কার্যকর হবে।

মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এর ফলে বহুবিবাহের মতো ধর্মীয় রীতিগুলো নিষিদ্ধ বা সীমিত হয়ে যাবে। তবে ভারতের তফসিলি উপজাতিদের এ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড মনে করে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংবিধানে কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি ও ধর্মপালনের অধিকার রক্ষায় বোর্ড একটি ‘অ্যাকশন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে সম্প্রতি বৈঠকে বসেন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্যরা
ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে সম্প্রতি বৈঠকে বসেন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্যরা। ছবি: মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

Friday, March 20, 2026

যশোরে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেড় হাজারেরও বেশি মুসল্লি

যশোরের সদর উপজেলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক মিলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লির অংশগ্রহণে এক বিশাল ইতিকাফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকায় অবস্থিত ‘আশরাফুল মাদারিস’ কম্পাউন্ডের মসজিদে এ সম্মিলন ঘটেছে।

এতে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামাসহ বিভিন্ন দেশের ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন।

সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতিকাফ শুরু হলেও এই মসজিদে প্রথম রমজান থেকেই অনেকে নফল ইতিকাফ শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যাও বেড়েছে। ২২ রমজান পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্নত ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন মুসল্লি। চারতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে সহস্রাধিক মুসল্লির অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির আয়োজন করা হচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দিনরাত কাজ করছেন।

আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষা সচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরা মূলত এখানে সমবেত হয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এ সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানে অবস্থান করেন, দেশ-বিদেশের অনুসারীরা সেখানে ছুটে আসেন। এবার তিনি যশোরে অবস্থান করায় দেশি-বিদেশি বহু আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ইতিকাফে যোগ দিয়েছেন।

মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, ২০২৩ সাল থেকে এখানে বৃহৎ পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর থেকে প্রতিবছরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বড় জমায়েত হলেও এবার যশোরের এই মাদারিস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের পদচারণায়। 

যশোরের সদর উপজেলায় এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি। ছবি : কালবেলা
যশোরের সদর উপজেলায় এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি। ছবি : কালবেলা

Thursday, March 12, 2026

আল–আকসা মসজিদে ১২ দিন ধরে মুসল্লিদের ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল, ৮ দেশের নিন্দা

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন ধরে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য আল–আকসা মসজিদের দুয়ার বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে মুসলিম বিশ্বের এই আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং এর উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা, উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের নীতিসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

বিবৃতিতে ইসলায়েলের প্রতি ফিলিস্তিনিদের জন্য পবিত্র আল–আকসা মসজিদের দরজা বন্ধ রাখার নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এ আট মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে যাতায়াতে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে যেকোনো বাধা অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যমান ‘আইন লঙ্ঘনের’ বিষয়গুলো বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আট পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মুসল্লিদের জন্য জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নিরাপত্তার’ স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছি দেশটি।

তবে গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টানা বন্ধ রাখার এ ঘটনা এটাই স্পষ্ট করেছে যে এসব নীতি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

নিন্দা জানিয়েছে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও। গত মঙ্গলবার হামাস বলেছে, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ঐতিহাসিক নজির’ এবং মানুষের প্রার্থনার স্বাধীনতার ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

জেরুজালেমে ‘আল–আকসা’ নামে বেশি প্রসিদ্ধ সোনালি গম্বুজের এ স্থাপনার নাম কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক
জেরুজালেমে ‘আল–আকসা’ নামে বেশি প্রসিদ্ধ সোনালি গম্বুজের এ স্থাপনার নাম কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক ফাইল। ছবি: এএফপি

Wednesday, February 25, 2026

পবিত্র রমজানে পশ্চিম তীরের মসজিদে আগুন দিল অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা

পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। গতকাল সোমবার তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে আগুন দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে এ হামলা চালানো হয়।

এপির খবর অনুযায়ী, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন দেখতে পান।

মসজিদের পাশেই মুনির রামদানের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ও দরজা ভাঙা ছিল।’

মুনির আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে।

হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে যায়। গাজা উপত্যকার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অব্যাহত সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এসব কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে অগ্নিসংযোগের পর এটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশদ্বার পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে অগ্নিসংযোগের পর এটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশদ্বার পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: এএফপি

Wednesday, January 14, 2026

জম্মু–কাশ্মীরের মসজিদের খুঁটিনাটি পুলিশকে জানাতে হবে, নতুন আদেশ

জম্মু–কাশ্মীরের মসজিদগুলোর খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহে পুলিশি তৎপরতা বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করেছে। এমন তৎপরতা এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আগে দেখা যায়নি।

সমালোচনা শুরু হয়েছে কারণ, পুলিশ এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মসজিদগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগী হয়েছে। তারা জানতে চায়, কোন মসজিদ কবে তৈরি হয়েছে, কাঠামোর বিবরণ, মসজিদ তৈরিতে কত খরচ হয়েছে, কারা টাকা দিয়েছে, মসজিদ চালাতে কত খরচ অথবা বার্ষিক আয়ই–বা কত। শুধু এটুকুই নয়, জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মসজিদের সঙ্গে কারা যুক্ত, তাঁদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেমন, পাসপোর্ট, ব্যাংক খাতা, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ডের বিবরণও।

পুলিশের এই অতি তৎপরতা উপত্যকায় ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। প্রশাসনও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিভিন্ন মহলে এই পদক্ষেপের সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মিরওয়াইজ উমর ফারুখের সংগঠন মুত্তাহিদা মজলিস উলেমা (এমএমইউ) এই পুলিশি তৎপরতাকে ‘আক্রমণাত্মক তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি’ বলে বর্ণনা করেছে। জম্মু–কাশ্মীরের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আগা রুহুল্লাহ মেহেদি বলেছেন, দক্ষিণপন্থী যে আদর্শ এখন দেশ চালাচ্ছে তা এখন ধর্মকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দক্ষিণপন্থী আদর্শের সঙ্গে যারা সহমত নয় তাদেরকেও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

এই উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ জানিয়ে রুহুল্লাহর প্রশ্ন, নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর কাছে সব তথ্য যখন রয়েছে তখন এই বাড়তি তৎপরতার প্রয়োজন কোথায়? তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে প্রশাসন ভিন ধর্মাবলম্বীদের ভয় দেখাতে চাইছে। এর পর হয়তো দেখা যাবে, আরএসএস ও বিজেপি মসজিদের ইমামদের হুকুম করবে, প্রতি শুক্রবার তাদের লিখে দেওয়া ধর্মোপদেশই পাঠ করতে হবে।

সমালোচনা করেছে আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টিও (এআইপি)। এই দলের ব্যানারে গত লোকসভা ভোটে জিতেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রশিদ। জেলে বন্দী থেকেও নির্বাচনে জিতে তিনি সংসদ সদস্য হন। এআইপি বলেছে, পুলিশ যা যা জানতে চাইছে তাতে স্পষ্ট তারা ধর্মাচরণকেও নজরবন্দি করতে চায়। দলের প্রধান মুখপাত্র ইনাম উন নবি গণমাধ্যমকে বলেছেন, যা হচ্ছে তা প্রশাসন নয়, নিরাপত্তা রক্ষাও নয়। মানুষকে স্রেফ ভয় দেখানো হচ্ছে। প্রশাসন যদি প্রতিটি ধর্মস্থলকে বিপদ বলে চিহ্নিত করে তাহলে ক্ষোভ বেড়ে যাবে। মানুষের আস্থাও হারাবে।

বিভিন্ন সংগঠন অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। প্রত্যেকেই মনে করে, এতে সর্বত্র ভুল বার্তা যাবে। প্রশাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হবে। ভয় বাসা বাঁধবে মনে। সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হবে।

এমএমইউ মনে করে, নির্বাচিত সরকারের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। তারা উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহাকে অনুরোধ করেছে, দেরি না করে এই পুলিশি উদ্যোগ বন্ধ করতে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেনি। যদিও পুলিশের এক সূত্র তাদের জানিয়েছে, এই কাজ কিছুদিন ধরেই চলছে। প্রতিটি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ফর্ম ভর্তি করে জমা দিতে বলা হয়েছে।

জম্মু–কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। সেখানকার নির্বাচিত সরকার পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী নয়। বিশেষ করে পুলিশ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে। কেন্দ্রের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন উপরাজ্যপাল। তাঁর সম্মতি ছাড়া নির্বাচিত সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বলবৎ হয় না।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2022-12%2Fca564205-757b-4376-aac6-e0b35d23fd99%2FUntitled_5.jpg?rect=0%2C0%2C1296%2C864&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

Sunday, January 11, 2026

জামালপুরে দৃষ্টিনন্দন ‘মসজিদে নূর’ দেখতে মানুষের ভিড়

চারদিকে ফসলের মাঠ। এর আশপাশে মিতালি গড়েছে গাছগাছালি। এমন মনোরম আবহের মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে ‘মসজিদে নূর’ জামে মসজিদ। তিন দরজাবিশিষ্ট দুই তলা মসজিদটি মার্বেল পাথরের অবকাঠামোর তৈরি। ছাদের চারপাশে পিলারের ওপর সাতটি গম্বুজসহ চারটি বড় মিনার। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রবেশপথে চোখে পড়বে মসজিদটি।

তুরস্কের আদলে কারুকার্যমণ্ডিত এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। জামালপুর-বকশীগঞ্জ সড়ক–সংলগ্ন বকশীগঞ্জ শহরের দড়িপাড়া এলাকায় আধুনিক স্থাপত্যে গড়ে তোলা হয়েছে এই মসজিদ। মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দেখতে সেখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী।

প্রকৃতির সঙ্গে মিশে একাকার ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী মসজিদে নূর জামে মসজিদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী। সম্প্রতি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরের দড়িপাড়া এলাকায়
প্রকৃতির সঙ্গে মিশে একাকার ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী মসজিদে নূর জামে মসজিদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী। সম্প্রতি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরের দড়িপাড়া এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

সম্প্রতি মসজিদে নূর–সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা শহরগামী প্রধান সড়কের ডান পাশে আরেকটি পাকা সড়ক চলে গেছে। সেটি ধরে ৫০০ মিটার এগোলেই চোখে পড়ে নয়নাভিরাম মসজিদটি। এর চারপাশে সবুজ সমারোহ। আঙিনায় সারিবদ্ধ ঝাউগাছসহ মসজিদের চারপাশে আছে হরেক ফুলের বাগান। ডান পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন অজুখানা আছে। এর ঠিক সামনেই বিশাল একটি মাঠ। সেখানে নিয়মিত খেলাধুলা করে স্থানীয় কিশোর, তরুণ ও যুবকেরা।

মসজিদের ভেতরে ঢুকতেই নজর কাড়ে কারুকাজ। মেঝেতে ব্যবহৃত হয়েছে মার্বেল পাথর। সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দ্বিতল মসজিদের সিলিংয়ে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি। এ ছাড়া মসজিদের মূল চত্বরের পবিত্রতা রক্ষার্থে চারপাশে নির্মিত হয়েছে দেয়াল।

নির্মাতা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ মে জুমার নামাজের মাধ্যমে মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাঁচ একর জায়গাজুড়ে এটি নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাহবুবুল হক নামের এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন।

তুরস্কের আদলে কারুকার্যমণ্ডিত এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন
তুরস্কের আদলে কারুকার্যমণ্ডিত এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ছবি: প্রথম আলো

জামালপুর শহরের জিগাতলা এলাকা থেকে মসজিদটি দেখতে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ কালাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘অনেকের কাছেই এ মসজিদের সৌন্দর্যের কথা শুনেছি। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগল মসজিদের মিনারগুলো।’

মসজিদের প্রাঙ্গণে কথা হয় বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরের রমজান আলীর সঙ্গে। তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে এটি দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এত বড় জায়গা নিয়ে সুন্দর মসজিদটি জামালপুরের আর কোথাও নাই। মূলত এর স্থাপত্যশৈলী দেখতেই প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহে এর মতো সুন্দর মসজিদ আর নেই।’

মসজিদের ইমাম মো.বেলাল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদের ভেতরে, নিচে ও দোতলায় প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ফুলের বাগানে ঘেরা এই মসজিদের পাশে বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও মাদ্রাসা আছে। এখন মুসল্লিদের মুখে মুখে মসজিদটির নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

আঙিনায় সারিবদ্ধ ঝাউগাছসহ মসজিদের চারপাশে আছে হরেক ফুলের বাগান। ডান পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন অজুখানা আছে। এর ঠিক সামনেই বিশাল একটি মাঠ
আঙিনায় সারিবদ্ধ ঝাউগাছসহ মসজিদের চারপাশে আছে হরেক ফুলের বাগান। ডান পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন অজুখানা আছে। এর ঠিক সামনেই বিশাল একটি মাঠ। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, January 8, 2026

এক বছরে বাংলাদেশে ২৫৬টি মসজিদ নির্মাণ করেছে কাতার চ্যারিটি

এক বছরে বাংলাদেশে ২৫৬টি মসজিদ নির্মাণ করেছে কাতার চ্যারিটি। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দেয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সরঞ্জাম। এর ফলে দেশের গ্রামীণ ও উপশহরগুলোতে মুসলিমদের জন্য নামাজ আদায়ের নিরাপদ স্থান সংকুলান করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে শান্তির আবহ ও ধর্মীয় স্বস্তি। এ খবর দিয়ে অনলাইন গালফ টাইমস বলেছে, রোববার কাতার চ্যারিটি এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে।

তারা বলেছে টার্গেট করা এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদগুলো। সেখানে আগে মুসল্লিরা টিন অথবা কাদামাটি দিয়ে তৈরি অবকাঠামোতে নামাজ আদায় করতেন। তাতে তাদের মৌলিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি থাকতো না। বর্ষার সময় বৃষ্টিতে সয়লাব হয়ে যেত মেঝে। অন্যদিকে গ্রীষ্মে ফ্যানের অভাবে গাদাগাদি করে নামাজ আদায় করাও হয়ে উঠতো মারাত্মক কঠিন। তাই ৫ বছর ধরে কাতার চ্যারিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৬০০ মসজিদ নির্মাণ করেছে।

mzamin

Tuesday, December 9, 2025

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণে কোটি রুপির বেশি অনুদান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য রাখা অনুদান বাক্সগুলোতে জমা পড়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এখন পর্যন্ত চারটি বাক্স ও অনলাইন অনুদান মিলিয়ে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৩০ লাখ রুপির বেশি। বাকি সাতটি বাক্সের টাকা গণনা এখনো চলছে।

গত শনিবার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানস্থলে অনুদান সংগ্রহের জন্য ১১টি স্টিলের বাক্স রাখা হয়েছিল। হাজারো মানুষ সেদিন মসজিদ নির্মাণের জন্য মুক্তহস্তে দান করেন।

রোববার ১১টি বাক্সের মধ্যে চারটি খোলা হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সারা দিন গণনা শেষে এই চারটি বাক্স থেকে ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার রুপি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনলাইন ও কিউআর কোড স্ক্যান করে পাওয়া গেছে আরও ৯৩ লাখ রুপি। গণনার কাজে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোমবার বিকেল থেকে বাকি সাতটি বাক্স খোলা ও গণনার কাজ শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাক্সগুলো থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এই বাবরি মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে।’ এ জন্য অর্থের অভাব হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দূরদূরান্তের হাজারো ভক্ত এই বাবরি মসজিদের জন্য উদার হস্তে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একজন ভক্ত একাই ৮০ কোটি রুপি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।’

মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা ও রেজিনগরের সংযোগস্থলে জাতীয় সড়কের পাশে। এর নির্মাণকাজ বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা হলেও আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেননি। আইনি বাধা কেটে যাওয়ার পরই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, মূল মসজিদটি তিন কাঠা জমির ওপর নির্মিত হবে। এ ছাড়া মসজিদ চত্বরের ২৫ কাঠা জমিতে একটি হাসপাতাল ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সৌদি আরব থেকে কয়েকজন আলেম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আসা প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির জন্য শাহি বিরিয়ানির আয়োজন করা হয়। মূল নির্মাণস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে ভার্চ্যুয়ালি এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর কিছুদিন আগেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর গত শুক্রবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রোববার হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। যদিও এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১৭ ডিসেম্বর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ২২ ডিসেম্বর নতুন দল গড়বেন। এখন তিনি বলছেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি টানা হয়েছে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে ফেলে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সমর্থকেরা। ষোড়শ শতকে নির্মিত মসজিদটি ধ্বংস করার সময় সেখানে সেদিন বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাবরি মসজিদের জন্য রাখা অনুদান বাক্সের টাকা গণনা চলছে। মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; ৮ ডিসেম্বর
বাবরি মসজিদের জন্য রাখা অনুদান বাক্সের টাকা গণনা চলছে। মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; ৮ ডিসেম্বর। ছবি: ভাস্কর মুখার্জী

Saturday, December 6, 2025

৩৩ বছর পর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শনিবার

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে একই নামের মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ গড়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ কোনো হস্তক্ষেপ না করায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে এখন কোনো আইনি বাধা নেই।

শনিবার দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। হুমায়ুন কবীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্যোগকে বিভিন্ন মহল থেকে সংখ্যালঘু আবেগের সঙ্গে রাজনৈতিক খেলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামীকাল রেজিনগরে প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হুমায়ুন কবীর বলেছেন, এই মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে। অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত অবস্থার কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, তাঁর নিজস্ব প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকও অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন।

হুমায়ুন কবীর বর্তমানে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। হুমায়ুনের এই ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এখানকার অনেকেই চাইছেন না বাবরি মসজিদ গড়ার নামে এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক।  

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গভর্নর সি ভি আনন্দ বোস এর আগে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে এই মসজিদ নির্মাণ ঘিরে এই রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। বিজেপি বলেছে, তৃণমূল বিধায়ক মসজিদ নির্মাণের নামে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল বলেছে, সংখ্যালঘুদের আবেগ নিয়ে হুমায়ুন কবীর ছিনিমিনি খেলছে। মানুষ হুমায়ুনের কথায় পাত্তা দেবে না।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উন্মোচন করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

হুমায়ুন কবীর আরও ঘোষণা দেন, ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে আয়োজিত একটি গণসমাবেশ থেকে তিনি একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন। এই নতুন দল নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হবেন বলে জানান।

হুমায়ুন কবীর
হুমায়ুন কবীর। ছবি: প্রথম আলো

Monday, December 1, 2025

প্রথমবারের মতো মসজিদ পরিদর্শনে গেলেন পোপ লিও

পোপ লিও চতুর্দশ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তুরস্কের একটি মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে জুতা খুলে তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে প্রার্থনা করেননি।

গতকাল শনিবার পোপ লিও ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক নীল মসজিদ (ব্লু মস্ক) বা সুলতান আহমেদ মসজিদে যান। সপ্তদশ শতাব্দীর অটোমান স্থাপত্যের এ অনন্য নিদর্শনের দেয়াল ও গম্বুজ ফিরোজা রঙের সিরামিক টাইলস দিয়ে সজ্জিত।

স্থানীয় মুসলিম নেতাদের সঙ্গে পোপ লিও মসজিদের আঙিনা দিয়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জুতা খুলে পুরো মসজিদ ঘুরে দেখেন।

মসজিদের মুয়াজ্জিন আশগিন তুনকা জানান, তিনি পোপকে প্রার্থনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তুনকা বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, পোপ এখানে প্রার্থনা করবেন। তাই আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি প্রার্থনা করতে চান কি না। তবে তিনি বলেছিলেন, “না, আমি শুধু ঘুরে দেখব”।’

এ সফরের পর ভ্যাটিকান প্রেস অফিস একটি ভুল বিবৃতি পাঠিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পোপ মসজিদে প্রার্থনা করেছেন এবং তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত ধর্মীয় সংস্থার প্রধান তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও এর কোনোটিই ঘটেনি। ভ্যাটিকান পরে স্বীকার করে যে প্রার্থনার কথা উল্লেখ করা বিবৃতিটি ভুলবশত পাঠানো হয়েছিল।

পোপ লিও হলেন নীল মসজিদ পরিদর্শনকারী তৃতীয় পোপ। এর আগে ২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস ওই মসজিদে দুই মিনিট নীরবে প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর আগে ২০০৬ সালে পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ সেখানে কিছুক্ষণ প্রার্থনা করেছিলেন। এটিকে অনেকে প্রথম কোনো পোপের মসজিদে প্রার্থনা করার ঘটনা হিসেবে দেখেন।

প্রথম পোপ হিসেবে জন পল দ্বিতীয় ২০০১ সালে সিরিয়ার একটি মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। ৬০ বছর ধরে ক্যাথলিক চার্চ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সক্রিয় সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল বিকেলে পোপ লিও তুরস্কের স্থানীয় খ্রিষ্টান চার্চগুলোর নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি ইস্টার্ন অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের আধ্যাত্মিক নেতা প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ প্রথমের সঙ্গে সেন্ট জর্জের প্যাট্রিয়ার্কাল চার্চে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে এক গণমিছিলে পোপ লিও অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধন গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নীল মসজিদ পরিদর্শন করছেন পোপ লিও
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নীল মসজিদ পরিদর্শন করছেন পোপ লিও। ছবি: রয়টার্স

Monday, November 17, 2025

পশ্চিম তীরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বসম্প্রদায়ের নিন্দা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আগুন দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা অনবরত বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আল–জাজিরাকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সালফিত এলাকার কাছে দেইর ইস্তিয়া গ্রামের হাজ্জা হামিদা মসজিদে আগুন দেন।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, মসজিদের দেয়ালে স্প্রে ব্যবহার করে বর্ণবিদ্বেষী ও ফিলিস্তিনবিরোধী স্লোগান লেখা হয়েছে। আগুনে মসজিদের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের কিছু কপিও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, এর মধ্য দিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত জায়গাগুলোতেও ইসরায়েলি বর্বরতার কথা সামনে এসেছে।

ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ওই ঘটনার বাইরে পশ্চিম তীরের দক্ষিণে হেবরনের কাছে বেইত উম্মার শহরে গতকাল এক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালালে দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়।

এসব সহিংসতার ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন কিনা চলতি বছর পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের হামলার সংখ্যা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। এসব হামলার বড় অংশই ঘটছে ২০২৫ সালের জলপাই চাষের মৌসুমকে ঘিরে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে জলপাই চাষকে কেন্দ্র করে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো কমপক্ষে ১৬৭টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব হামলায় ১৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত ও ৫ হাজার ৭০০টির বেশি গাছ নষ্ট হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধের আড়ালে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি হামলা বেড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইতিমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র দক্ষিণপন্থী সরকারের সদস্যরা পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দেশের অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ দিচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েল এখনই পশ্চিম তীরকে কার্যত নিজেদের অংশ বলে বিবেচনা করছে এবং বর্ণবিদ্বেষী আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গত জুলাই মাসে সতর্ক করে বলেছিল, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর ‘মৌন সম্মতি, সমর্থন ও কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের’ মাধ্যমে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা সহিংসতা চালাচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর আরও বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরকে আরও ব্যাপকভাবে দখল করার জন্য ইসরায়েলের বৃহত্তর ও সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে বসতি স্থাপনকারীরা ও সামরিক বাহিনী এ হামলাগুলো চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর বৈষম্য, দমন–পীড়ন ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে আরও জোরাল করা হচ্ছে।

‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’

দেইর ইস্তিয়ার মসজিদে বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জাতিসংঘ এ ঘটনাটি নিয়ে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপাসনালয়ে এমন হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

ডুজারিক আরও বলেন, ‘আমরা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাঁদের সম্পদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলার নিন্দা জানিয়েছি এবং জানিয়ে যাব। দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের উচিত বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মসজিদে হামলা ও দেয়ালে স্প্রে করে নোংরা কথা লেখার মতো ঘটনাগুলোয় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।’

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলছে, জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ সহিংসতাকে ইসরায়েল সরকারের উগ্র নীতি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উগ্রতা উসকে দিচ্ছে।

গাজায় যুদ্ধের পরও ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সমালোচনার মুখে থাকা জার্মানিও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

একইভাবে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ‘অগ্রহণযোগ্য’। এক বিবৃতিতে দেশটি আরও বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

ফিলিস্তিনিরা বিশ্বনেতাদের শুধু নিন্দা নয়, বরং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংসতার মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করাসহ আরও কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি।

আগুনে পুড়ে যাওয়া মসজিদের ভেতর ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি দেখছে দুই শিশু–কিশোর। ১৩ নভেম্বর ২০২৫
আগুনে পুড়ে যাওয়া মসজিদের ভেতর ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি দেখছে দুই শিশু–কিশোর। ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: এএফপি

Sunday, November 16, 2025

পশ্চিম তীরের ইব্রাহিমি মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা ইহুদিরা তাঁদের একটি ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করছেন। এ কারণে হেবরনের ওল্ড সিটিতে ফিলিস্তিনিদের জন্য কারফিউ জারি করেছে ইসরায়েল। এমনকি ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় সমাজকর্মীরা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানান।

ওল্ড সিটি অব হেবরনের বাসিন্দা আরেফ জাবের হেবরন ডিফেন্স কমিটির একজন সদস্য। তিনি তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, গত শুক্রবার সকাল থেকে ইসরায়েলি সেনারা হেবরনের ওল্ড সিটির বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে রেখেছেন।

আরেফ জাবের আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওল্ড সিটিতে যাওয়ার সব সামরিক তল্লাশিচৌকি বন্ধ করে দিয়েছে। সেখান থেকে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছে না। ফলে সেখানকার বাসিন্দা অনেক ফিলিস্তিনি নিজ বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে হেবরনের অন্যান্য অংশে থাকা স্বজনদের বাড়িতে থাকছেন তাঁরা।

জাবের আরও বলেন, অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী কয়েক শ ইহুদি শুক্রবার রাতে শোভাযাত্রা করে ওল্ড সিটিতে প্রবেশ করেন। গতকাল রাতে আবার তাঁরা একইভাবে শোভাযাত্রা নিয়ে ওল্ড সিটিতে যান। ইসরায়েলি বাহিনী এ শোভাযাত্রাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে। হেবরনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রা থেকে নানা উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।

জাবেরের আশঙ্কা, ইসরায়েল কারফিউ জারি করে ইব্রাহিমি মসজিদের সম্পূর্ণটা দখল করে সেটিকে সিনাগগে রূপান্তর করতে চাইছে। এ চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা কারফিউ জারি করে সেখানে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

শুক্র ও শনিবার ইহুদিরা ‘সারা’স ডে’ উদ্‌যাপন করেছেন। প্রতিবছর হেবরনে এ উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাচীন হেবরনে একসময় ইহুদিদের আবাস থাকার বিষয়টি তাঁরা স্মরণ করেন।

ইব্রাহিমি মসজিদ ওল্ড সিটিতে। হেবরন নগরীর এ অংশ পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে প্রায় ৪০০ ইহুদি পরিবার অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন আছেন।

১৯৯৪ সালে ইসরায়েল মসজিদ কমপ্লেক্সটি ভাগ করে। এটির ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের জন্য ও ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় একজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ২০ ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করেছিলেন।

ইসরায়েল বছরে ১০ দিন মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখে। এ সময়ে ইহুদিরা ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-16%2F1onh87b2%2FIbrahimi-Mosque.jpg?rect=0%2C0%2C1200%2C800&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইব্রাহিমি মসজিদের সামনে পাহারা দিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Friday, November 14, 2025

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলি সেটলাররা

ইসরায়েলের দখলে থাকা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলার)। এদিকে জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আল-কুবেইবা শহরে বুলডোজার দিয়ে একটি পার্ক গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ অভিযানে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল সালফিত শহরের কাছে একটি মসজিদে প্রবেশ করে। স্থানীয় এক অধিকারকর্মীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদটির প্রবেশদ্বারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেয় এবং দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে যায়।

তবে আগুন মসজিদের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। ফিলিস্তিনের পবিত্র স্থানগুলোয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এ ধরনের হামলা সম্প্রতি বেড়েছে।

পৃথক এক ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আল-কুবেইবা শহরে অভিযান চালায়। সেখানে তারা বুলডোজার দিয়ে একটি পার্ক ও খেলার মাঠ গুঁড়িয়ে দেয়। ওয়াফার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খেলার মাঠের সরঞ্জামসহ পার্কটিকে ধ্বংস করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি প্রিজনারস সোসাইটি (পিপিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কারাবন্দীও রয়েছেন।

সংগঠনটি জানায়, হেবরন, নাবলুস, তুলকারেম ও রামাল্লা এলাকায় এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। পিপিএস অভিযোগ করেছে, অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে জিনিসপত্রের ক্ষতি করে।

পিপিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে দখল করা পশ্চিম তীরে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে নিয়মিত এ ধরনের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-13%2Fxqttp30v%2FIsraeli-settlers.JPG?rect=0%2C0%2C3515%2C2343&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মসজিদের পুড়িয়ে দেওয়া অংশ দেখছেন এক ফিলিস্তিনি। দেইর ইস্তিয়া, সালফিত, পশ্চিম তীর; ১৩ নভেম্বর ২০২৫। ছবি: রয়টার্স